Blog

  • আইপিএলে দুশ্চিন্তা: আকাশপথ অনিশ্চয়তা ও বিদেশি তারকাদের চোট

    আইপিএলে দুশ্চিন্তা: আকাশপথ অনিশ্চয়তা ও বিদেশি তারকাদের চোট

    আইপিএলের শুরু (২৮ মার্চ) ঘিরে এখন দুই ধরনের সমস্যা ফ্র্য়াঞ্চাইজিগুলোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছে — মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিমান পথে যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিদেশি খেলোয়াড়দের সময় মতো আনা-নেওয়া জটিল হচ্ছে, এবং একের পর এক ক্রিকেটারের চোট দলগুলোর পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এবারের টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকজন বিদেশি তারকা বা তো পুরো আসর মিস করছেন, বা শুরুর কয়েকটি ম্যাচে থাকবেন না। নিচে প্রধান কয়েকটি আপডেট দিলাম।

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়কত্ব করার কথা থাকলেও পিঠে চোটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যায় ভুগছেন। পরিণামে হায়দরাবাদ শুরুতেই নেতৃত্ব ইশান কিষাণের কাঁধে তুলে দিয়েছে। কামিন্স হয়ত টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেবেন — তবে সেটি নিশ্চিত হবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ফিটনেস আপডেটের পরেই।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক বর্তমানে সরাসরি কোনো ইনজুরিতে না থাকলেও অতিরিক্ত কাজের চাপ ও সাম্প্রতিক সিরিজগুলো খেলানোর ফলে তাঁর ফিটনেস নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার পেস বিভাগ সামলানোর পরে তিনি বিশ্রামে ছিলেন। দিল্লি ক্যাপিটালসও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইতিবাচক ফিটনেস রিপোর্ট পেলেই মাত্র তাকে দলে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।

    জশ হ্যাজলউড: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য গতবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হ্যাজলউড এবার শুরুর কয়েকটি ম্যাচ মিস করতে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিসের চোটে তিনি অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মকালীন সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন পর্যায়ে আছেন; ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হলে আইপিএলে যোগ দেওয়ার অনুমতি পাবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাথান এলিস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে পুরো আইপিএল থেকেই বাইরে। চেন্নাই সুপার কিংসের পেস আক্রমণে তাঁর না থাকা বড় ধাক্কা হতে পারে, ফলে দল বিকল্প বোলার খুঁজছে।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে রাজস্থান রয়্যালস ট্রেডের মাধ্যমে পেয়েছে — কিন্তু গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে তিনি সম্ভবত পুরো মৌসুম মিস করবেন। এতে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকল্পনাও প্রভাবিত হবে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দলে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অস্ট্রেলিয়ান পেসার জ্যাক এডওয়ার্ডস পায়ের চোটে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। এর ফলে হায়দরাবাদের বোলিং অপশনেও বড় ফাঁক পড়েছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের শুরুটা মিস করবেন — সম্প্রতি তিনি বাবা হয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি টুর্নামেন্টের শেষ দিকেই দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    মোটকথা, এই সব অনিশ্চয়তা ও চোটের খবর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বড় মাথাব্যথা। দলের শুরুর একাদশে পরিবর্তন, বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজা এবং জরুরি কভার প্ল্যান তৈরি করতে এখনই তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে দলগুলিকে। একই সঙ্গে আকাশপথে চলমান নিরাপত্তাজটিলতা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সময়মতো পৌঁছে দেওয়া নিয়ে অতিরিক্ত রীতিনীতি ও ব্যাবস্থাপনা দাবি করছে।

  • পিএসএলে খেলতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পিএসএলে খেলতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাঁচ ক্রিকেটারকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) জারি করেছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে তারা অংশ নিতে পারবেন, তবে এনওসি সীমিত করে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সূত্র ও ঢাকাপোস্টকে বিসিবির এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন যে—মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শরিফুল ইসলাম সবাইকে এনওসি দেওয়া হয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরকে সামলে নিতে বোর্ড তাদের ছাড়পত্র সীমিত সময়ের জন্য দিয়েছে।

    পিএসএলে সরাসরি চুক্তিতে লাহোর কালান্দার্সে গিয়েছেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। নিলামে নামতে পারার পর রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ ইমনকে দল পায়। সর্বশেষ পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে কয়েক দিন আগে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। যদি সবকিছু ঠিক থাকে, নাহিদ রানাকে দেখা যাবে পেশোয়ার জালমির জার্সিতে।

    লাহোরে মুস্তাফিজের সঙ্গে একাই থাকবেন না—পারভেজ ইমনও লাহোর কালান্দার্সের খেলোয়াড়। রিশাদ হোসেনকে ক্যাম্পে পাওয়া যাবে রাওয়ালপিন্ডির (পিন্ডিজ) হয়ে। ফলে একাধিক ম্যাচে জাতীয় দলের সতীর্থরা একে অপরের বিরুদ্ধে নামতে পারেন।

    টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ২৬ মার্চ লাহোর কালান্দার্স মুখোমুখি হবে হায়রাবাদ হিউস্টনের সঙ্গে; অর্থাৎ প্রথম দিনেই মাঠে নামার সুযোগ আছে মুস্তাফিজ ও ইমনের। আর ২৮ মার্চের ম্যাচে নামবেন রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুল—যদি তিনজনই একাদশে থাকেন, তাহলে পেশোয়ার জালমি (নাহিদ ও শরিফুল) রাওয়ালপিন্ডির বিপক্ষে লড়বে, যেখানে রিশাদ থাকতে পারেন।

    বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও এ বিষয়ে কয়েক দিন আগে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়ানডে সিরিজে দলের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার; যেখানে একজন খেললে তার টি-টোয়েন্টি উন্নতির জন্য উপকার হবে এবং পাশাপাশি আমাদের উপযুক্ত বিকল্প থাকলে সেই খেলোয়াড়কে ছাড় দেওয়া হবে। অর্থাৎ দেশের প্রতিনিধিত্ব ও সিরিজ কর্তৃক বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নিউজিল্যান্ড দলের বাংলাদেশে আসা তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে—তাই পিএসএল থেকে ফিরে আগে স্থানীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার জন্য মুস্তাফিজ, রিশাদ ও অন্যরা বাংলাদেশে ফিরবেন।

    সংক্ষেপে, পিএসএলে খেলতে বিসিবি থেকে সীমিত মেয়াদের এনওসি পাওয়া গেলেও জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ও জাতীয় সিরিজের গুরুত্ব সবার আগে রাখা হয়েছে।

  • ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি, কনসার্টে তৈরি হলো বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম

    ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি, কনসার্টে তৈরি হলো বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম

    কনসার্ট শুধু গান আর আলো-ঝলক নয়—এটা এখন বড় একটা অর্থনীতির নাম। সেই বাস্তবতাই প্রমাণ করলেন পপ তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। ১৪টি শোতে ১৩টি শহরে অনুষ্ঠিত ডিল-লুমিনাটি ট্যুর থেকে মোট আয় দাঁড়ালো প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকা।

    এই আয়গুলো বিভিন্ন উৎস থেকে এসেছে। টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ২২১ কোটি, স্পনসরশিপ থেকে ৩৩ কোটি এবং সরাসরি কর ও ফিসহ সরকারি রাজস্ব হয়েছে ১১৪ কোটি টাকারও বেশি। প্রতিটি শো একেকটি মিনি-অর্থনীতির মতো কাজ করেছে—শিল্পকলা ও বিনোদন থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসা-ব্যবসায় পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে।

    কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব। ভ্রমণ, হোটেল, খাবার, শপিং ও স্থানীয় সেবাসমূহ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। জরিপ অনুযায়ী দর্শকদের প্রমাণিত প্রায় ৩৮% অন্য শহর থেকে এসে কয়েক দিন অতিরিক্ত থেকেছেন, ফলে কনসার্ট শহুগুলোতে পর্যটন ও ব্যবসায় তফাৎ পরিমিত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ভক্তপ্রবাহও অভূতপূর্ব—১৪টি শোতেই মোট দর্শকসংখ্যা ৩,২০,০০০-এর ওপরে, আর দিল্লির এক কনসার্টে ছিল প্রায় ৫৫,০০০ দর্শক। প্রতিটি শো আগেই হাউসফুল ঘোষণা করা হয়েছিল। যদিও বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তারকাদের সঙ্গেও তুলনা করলে এখনও কিছুটা পথ বাকি, তবু এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

    শুধু আয় নয়, এই ট্যুর নতুন কর্মসংস্থানের দরজা খুলেছে। প্রায় ১,১৮,০০০ কর্মঘণ্টার কাজ সৃষ্টির মাধ্যমে লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট দাঁড়িয়েছে সরব। অর্থাৎ একেকটি কনসার্ট এখন কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়—এটি সম্পূর্ণ এক অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যে শহরগুলোতে গিয়েছে সেগুলোর স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন করে স্তিমিত করেছে।

    সংক্ষেপে, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ডিল-লুমিনাটি ট্যুর দেখিয়েছে—লাইভ মিউজিক শুধুই বিনোদন নয়, এটি কর্মসংস্থান, রাজস্ব ও স্থানীয় বাণিজ্যের শক্তিশালী উৎস।

  • আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সকল মুসলমানের প্রতি আন্তরিক ঈদ মোবারক। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান ঈদের আনন্দ দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে, যাতে এই উৎসবের রং সবার জীবনেই ছড়িয়ে পড়ে।

    শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। মাসব্যাপী রোজা, সিয়াম সাধনা ও আত্মসংযমের পর এ উৎসব আমাদেরকে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেয়। রমজান মাস ভগবানভক্তি, ত্যাগ এবং পরোপকারের অনন্য শিক্ষা দেয়; এ শিক্ষা আমাদেরকে সহমর্মিতা এবং সমাজের অসহায়দের কষ্ট বুঝতে শেখায়।

    তিনি বলেন, রোজার শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে প্রতিফলিত না হলে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য পূর্ণ হবে না। তাই ঈদকে হাতিয়ার করে সকল ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধনকে শক্তিশালী করতে হবে।

    ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পরামর্শ দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘‘এই আনন্দোর দিনে আমরা যেন দরিদ্র, অস্বচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগ করে নিই—এই প্রত্যয়ই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতাকে আরও দৃঢ় করে তুলবে। পাশাপাশি তিনি সবাইকে মিলেমিশে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করার আহ্বান জানান।

    শেষে তিনি ঈদের আনন্দ, রহমত ও বরকত সবার জীবনে বর্ষিত হওয়া এবং দেশ-জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া জানান।

  • জামালপুরে ভাঙা ড্রাম ব্রিজে পড়ে শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত

    জামালপুরে ভাঙা ড্রাম ব্রিজে পড়ে শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে একটি ড্রাম ব্রিজ ভেঙে পড়ে ব্রহ্মপুত্র নদে শতাধিক মানুষ ছিটকে পড়েছেন। ঈদের দিন বিকেলে ঘুরতে আসা ভিড় ও ব্রিজের দুর্বলতা মিলিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    ঘটনায় তিন শিশু নিহত হয়েছেন এবং আরও দুই শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা। নিহত শিশুরা হলো— কালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), একই এলাকায় শের আলীর মেয়ে খাদিজা (১২) এবং ডাকাতিয়াপাড়ার জয়নালের মেয়ে মায়ামনি (১০)।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঈদের সকালে ও বিকেলে ব্রিজ ও তার আশপাশে মানুষের চাপ ছিল বেশি। অতিরিক্ত সংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে থাকায় হঠাৎ করে ব্রিজ ভেঙে গেলে অনেকে স্রোতে ভাসতে শুরু করে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই সাঁতার কেটেই তীরে উঠতে সক্ষম হন, তবে কিছু শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বলেন, উদ্ধার কাজ চলমান আছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা এখনও ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

    স্থানীয়রা আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছে এবং তদন্ত করে দায়িত্বশীলদের এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করছে। উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের খোঁজ অব্যাহত রয়েছে।

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন জানার পর থেকে নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনা ও সমালোচনার মুখে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সবসময়ের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কথা ভাইরাল হওয়ায় তিনি জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কেও জড়ান।

    আজ বুধবার সকালে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, যদি তার কোনো বক্তব্য বা কাজ অনিচ্ছাকৃতভাবেই কারো কষ্টের কারণ হয়ে থাকে তবে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। সবার কাছ থেকেই আমি সুন্দর ও যত্নশীল দিকনির্দেশনা পেয়েছি—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।’’

    তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং bundan পর আরো শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা চালাব। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।’’

    পাটওয়ারী তার পোস্টে বলেন, ‘‘আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালবাসা ও পরামর্শই আমার পথচলার শক্তি।’’

    তিনি জানালেন, ‘‘গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে এই আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন—এই দোয়া করি।’’

    পাঠক ও সমর্থকদের প্রতি তার আহ্বান ছিল—সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গণসেবা ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সক্রিয় থাকতে।

  • জামায়াত–এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত–এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

    রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে খোঁজখবরমূলক মন্তব্য করেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও একটা মেধাবী অংশ গঠন করেছিল জাসদ; পরে কিছু বাড়াবাড়ির ফলে দেশ ও জাতি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যায় না। এমন সময়ে আমাদের সকলের জন্য তিনি এক অন্তর্যামী কামনা জানান—‘‘আল্লাহ আমাদের যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক দেন।’’

    মনিরুল হক চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি নিজে তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর অবস্থান সত্বেও কখনো দলগত রাজনীতি ছেড়ে দেননি। তিনি দলের অভ্যন্তরে যারা প্রশ্ন করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে যেন ১৫-২০ বছর বিএনপির অবস্থা ছিল না—এই মনোভাব ঠিক নয়; দেশনেত্রীর সেই নীতি ও অবদানের কথাও অনুধাবন করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো ভয় হয় বলে অনুভব করেন—আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম; আজকের বিরোধীদের কেউ কেউ এখনও চিনিনা। তারেক রহমানের কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘‘আমাদের নেতা বলেছিলেন—কঠিন নির্বাচন। তখন অনেকে বোঝেনি, পরে নির্বাচন করে আমরা বুঝেছি কতটা কঠিন পরিবেশ পেরোতে হয়েছে।’’

    এছাড়া তিনি দাবি করেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনের কথাও মনে রাখা। কিন্তু আজ চারপাশে তাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন ওঠছে—কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এমনকি মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে এক কাতারে আনা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    শেষে তিনি বলেন, ‘‘যদি কোনো সময় ফ্যাসিস্ট শাসনামলে বিচারের নামে অন্যায় করা হয়ে থাকে, সেটা আলাদা বিষয়।’’ মহান সংসদকে এই প্রশ্ন রেখে তিনি জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কে একটি ব্যক্তিগত মতও জানান—স্বাধীনতার পরে বা এনসিপির মতো কিছু সংগঠনের নেতা-প্রতিনিধির বয়স কম হলেও তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কারণ তারা সাহসী এবং বর্তমান যুগের দাবি মেটায়।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক অনুসন্ধান শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক অনুসন্ধান শুরু

    দুর্নীতি ও নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের একাধিক প্রকল্প নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হিসেবে রাখা হয়েছে উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে।

    দুদক সূত্রে রোববার (১৫ মার্চ) জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের আভাস মেলে। বিশেষত তিনি যখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বাজেটে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবে কেনা হয় মাত্র চারটি জাহাজ। এ ঘটনায় প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি দেখা গেছে বলে দুদকের প্রাথমিক নিরীক্ষায় জানা গেছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের ‘‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’’ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের তত্ত্বাবধানে মানুষছে।

    দুদক বলেছে, গঠিত কমিটিগুলো প্রকল্পের নির্ধারণকৃত বাজেট, ঠিকাদারি চুক্তি, অর্থপ্রদানের বিবরণ, নিয়োগ ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় হলে مزید তদন্ত, নোটিশ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। অনুসন্ধানের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার এ বিষয়ে তথ্য জানিয়ে ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করা।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহন এড়িয়ে নগদবিহীন লেনদেন হিসেবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবহারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় খাতে যে জটিলতা ও সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে সেগুলো কমাতে এবং নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করতে পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করা প্রয়োজন পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে, গ্রাহকের অধিকার ও গোপনীয়তা সংরক্ষণকে কেন্দ্রীয় করা হয়েছে এবং দায়িত্বশীল ঋণপ্রদানে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমের বিস্তৃত দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে — প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি।

    গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণসীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি মোকাবিলা, কার্ড-ভিত্তিক লেনদেনের চূড়ান্তকরণ ও পরিশোধে যে জটিলতা দেখা দিচ্ছিল— সেগুলো মোকাবিলার জন্য বিরোধ নিষ্পত্তি ও নজরদারি প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। গাইডলাইনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হবে, যাতে গ্রাহক তথ্য ও লেনদেন নিরাপদ থাকে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই নির্দেশনা গ্রাহককে অধিক স্বচ্ছতা ও অধিক সুরক্ষা দেবে এবং ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থাপনাকে আরো দায়িত্বশীল করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে কার্ড সেবার মান উন্নয়ন ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আরও উদ্যোগী হতে বলেছে।

    কাওকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক কার্ডভিত্তিক অর্থপ্রণালী গড়ে তোলাই গাইডলাইনের মূল উদ্দেশ্য। গ্রাহক এবং ব্যাংক উভয়ের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ, যা জেরুসালেমের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ন স্থান, রমজানের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো ১৯৬৭ সালের পর এভাবে জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ রাখা হলো। ঈদুল ফিতরের দিনে মসজিদে প্রবেশ বন্ধ থাকায় বহু মুসল্লি নামাজ আদায় করতে না পেরে মসজিদের কাছাকাছি উন্মুক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন।

    স্থানীয়সংবাদমাধ্যম জানায়, আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুসালেমের বাইরে শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে নামাজ আদায় করেছেন। ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদে প্রবেশের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এনে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে পুরো রমজান জুড়ে বেশিরভাগ মুসল্লির জন্য মসজিদ এলাকা কার্যত সীমিত রাখা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিরা এটিকে কেবল ‘নিরাপত্তা’ বলে দেখেন না। তাদের অভিযোগ, উত্তেজনার অজুহাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি কৌশল চলছে এবং আল-আকসা কমপ্লেক্সে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    আল-হারাম আল-শরিফ বা টেম্‌পল মাউন্ট—এই নামেই মুসলিম ও ইহুদিদের কাছে পরিচিত ঐ এলাকা—ডোম অফ দ্য রকসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে গঠিত। সেই এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় জেরুসালেমের মুসলিমদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    ৪৮ বছর বয়সী জেরুসালেমবাসী হাজেন বুলবুল বলেন, “এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন হবে।” তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি খারাপ নজির তৈরি করেছে — ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা বেড়ে যেতে পারে।” তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে জেরুসালেমে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ অনেক বেড়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরোনো শহরে বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বসতকারীরা বারবার মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ করছে এবং নামাজের সময়ও অনেককে আটক করে মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটি জেরুসালেমে ভিড় থাকলেও এবার পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা ছিল; দোকানপাটও প্রায় বন্ধ ছিল—শুধু ওষুধ ও প্রয়োজনীয় খাবারের দোকান খোলা ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে তাদের বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ইক্রিমা (একরিমা) সাবরি মুসলিমদের আহ্বান জানিয়েছেন—যদি মসজিদে ঢুকতে না পারেন তা হলে কাছাকাছি নিরাপদ কোনো স্থানে যতটা সম্ভব ঈদের নামাজ আদায় করুন। তবে পুরোনো শহরের ভিতরে কড়া নিরাপত্তা, তল্লাশি ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের কারণে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত। একইভাবে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনও এই পদক্ষেপ নিন্দা জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছেন, এমন চলতে থাকলে সহিংসতা বাড়তে পারে ও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্সিয়াল মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি এই পরিস্থিতিকে ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, অনেক তরুণ আল-আকসার কাছে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে এবং নামাজরত অবস্থাতেই তাদের জায়গা থেকে তুলে দেয়।

    অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় জীবন যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের ছায়ায় কেটে যাচ্ছে। রমজান শেষে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমাণরা ঈদ উদযাপন করছেন, তখন গাজায় বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত। বোমাবর্ষণ থেমে না যাওয়ায় বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    ৩২ বছর বয়সী সদিকা ওমর, যিনি উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেইর আল-বালায় আশ্রয় নিয়েছেন, বলেন, “ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ। প্রত্যেকেরই কষ্ট আছে—কেউ বাড়ি হারিয়েছে, কেউ পরিবার। আমার স্বামী দূরে থাকায় গাজায় ফিরতে পারেনি। তবু আমরা চেষ্টা করি ধর্মীয় নিয়ম মেনে ঈদে কিছু আনন্দ দেখানোর।” খান ইউনিসে আশ্রয় নেয়া ৪৯ বছর বয়সী আলা আল-ফাররা বলেন, “যুদ্ধের প্রথম বছর রমজানে আমরা আল-ক্বারারা থেকে বিতাড়িত হয়েছি। চলমান হামলার কারণে চলাফেরা সীমিত, তাই ঈদ এবারও খুব সীমিত।”

    যুদ্ধের মধ্যেও কিছু ঐতিহ্য সীমিতভাবে ফিরছে—ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে ছোট চুলায় কায়েক-ও মামুলের গন্ধ মিশে যায়; বাজারে রঙিন মিষ্টি দেখা গেলেও অনেকের কাছে পৌঁছায় না। অনেকেই সামান্য জিনিসও হাতে পেয়ে সন্তুষ্ট থাকে; বাবা-মা ছোটখাটো কিছু কিনে শিশুর মুখে সামান্য হাসি ফুটানোর চেষ্টা করেন।

    গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাফা সীমান্ত ক্রসিং কিছুদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় খোলা হয়। ওই সময় একটি জাতিসংঘ কনভয় গাজায় প্রবেশ করে—যা ইস্যুটির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবুও ধ্বংস ও সংকটের কারণে ঈদের আনন্দ অসমভাবে ছড়িয়েছে। গাজা সিটি থেকে ৪২ বছর বয়সী খলুদ বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর আপাতত কিছুটা নিরাপত্তা ফিরে এসেছে, কিন্তু যথেষ্ট নয়। গত সপ্তাহেই আমাদের এলাকায় বিমান হামলার প্রস্তুতিতে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—ইফতারের কাছে আমরা দ্রুত ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছি।”

    সবমিলিয়ে, আল-আকসা মসজিদের প্রবেশ নিষেধ ও গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনিদের জন্য এবারের ঈদ দুঃখ, অনিশ্চয়তা ও শোক দিয়ে ভরা ছিল। (দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে সংকলিত)