Blog

  • চাঁদরাতে পরিবারের সঙ্গে জাহিদ নিরবের প্রথম গান — মুক্তি পাচ্ছে ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    চাঁদরাতে পরিবারের সঙ্গে জাহিদ নিরবের প্রথম গান — মুক্তি পাচ্ছে ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    দেশের পরিচিত কণ্ঠশিল্পীদের অংশগ্রহণে সাজানো হয়েছে জাহিদ নিরবের নতুন কাওয়ালী গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’ — যা ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। এই গানে বিশেষ বিষয়টি হলো, দীর্ঘদিন পর পরিবারকে নিয়ে প্রথমবার একজন শিল্পীর মতো পুরো পরিবেশনায় অংশ নিয়েছে নিরব নিজে, তার বাবা ও ভাইরাও।

    গানটি হবে জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে। পাশাপাশি গানটির ভিডিওও প্রকাশ করা হবে প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলে — কারণ এটি প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত একটি কাজ।

    জাহিদ নিরব বলেন, “বাড়িতে আমরা সব সময়ই একসঙ্গে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই — এভাবেই আমার সংগীতজীবন শুরু। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার, আর মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাব বাজিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের অনুভূতি এবার গান হিসেবে প্রকাশ করছি।” তাঁর কথায় স্পষ্ট—এই গানটা তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি ও ঘরের পরিবেশনারই একটা সম্প্রসারিত রূপ।

    গানটি সাজিয়েছেন মঞ্জুর এলাহী, তিনি বলেন, “কথাগুলো অসাধারণ। আমরা প্রতিদিন সৃষ্টিকর্তার অসংখ্য অনুগ্রহের মধ্যেই বেঁচে আছি, তার কতটুকু কৃতজ্ঞতা জানাই—সেই উপলব্ধিই এই গানের উৎস।”

    জাহিদ আরও জানান, “এটি মূলত প্রাইম ব্যাংকের ‘হাসানাহ’ জিঙ্গেলের একটি ধারনা থেকে জন্ম নিয়েছিল। ভাবনা ও কথাগুলো আমার খুব ভালো লেগেছিল, তাই অনুমতি নিয়ে পুরো গান হিসেবে তৈরি করেছি। ভিডিওর দিক থেকেও কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তার টিম অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন।”

    পেশাগতভাবেও এবার ঈদটি নিরবের জন্য আলাদা — কারণ গত বছর তিনি দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেছেন, এবং এটাই বিয়ের পর প্রথম ঈদ। তিনি বলেন, “এবারের ঈদ আমার জন্য বিশেষ; অনেক কিছুই নতুন অনুভূত হচ্ছে।” তবুও বিশ্রামের সময় নেই, ঈদের জন্য নানা কাজ নিয়ে ব্যস্ততাই বেশি।

    ঈদের ছবির কাজের মধ্যে রয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’ ছবির পুরো সংগীত পরিচালনা, যেখানে তানিম নূর তার সহযোগী ছিলেন। পাশাপাশি রায়হান রাফী পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় একটি গান রয়েছে — গানটি গেয়েছেন অঙ্কন কুমার; কথাও ও সুরও তার। নাটকের জগতে ও তিনি ব্যস্ত: ‘তবুও মন’ নাটকের জন্য ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ গানটি লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত করেছেন নিরব, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান, কথা লিখেছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব অপ্রতাহিত ছিলেন না — প্রকাশ পেয়েছে ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’র ‘কেন এমন হয়’ ও শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’। তিনি প্রবাসীদের নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের একটি মিউজিক ভিডিওও করেছেন; তার আনপ্লাগড ভার্সন শিগগিরই মুক্তি পাওয়ার কথা।

    চলমান কাজের তালিকায় আরও উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর ভূমিকা। ঈদে ধারাবাহিকটির বিশেষ এপিসোডও আসছে। সব মিলিয়ে গান, চলচ্চিত্র, নাটক ও কনটেন্ট—প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যস্ততা থাকার কারণে এ বারকার ঈদটা জাহিদ নিরবের কাছে আনন্দ ও সাফল্যের মিশেলে পরিণত হয়েছে।

  • ১৪টি কনসার্টে দিলজিৎ আয় করলেন প্রায় ৯৪৩ কোটি

    ১৪টি কনসার্টে দিলজিৎ আয় করলেন প্রায় ৯৪৩ কোটি

    কনসার্ট মানেই কেবল গান-শো নয়—এটা বড় একটি অর্থনৈতিক পদচিহ্নও তৈরি করে। সেই বাস্তবতাই ফের প্রমাণ করলেন বলি ও পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ। মাত্র ১৪টি শো ও ১৩টি শহরে তাঁর ‘ডিল-লুমিনাটি’ ট্যুর থেকে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকার আশেপাশে।

    টিকিট বিক্রি থেকেই এসেছে সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ২২১ কোটি টাকা। স্পনসরশিপ থেকে হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটির বেশি। টিকিট ও স্পনসরশিপ ছাড়াও মিডিয়া ও আনুষঙ্গিক উৎস থেকে আয় যোগ হয়েছে, ফলে প্রতিটি শো একেকটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।

    তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব — ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল, খাবার ও কেনাকাটা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার সম্পূরক অর্থনীতি। স্ট্যাটিসটিক অনুযায়ী দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশই অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন অতিরিক্ত রয়েছেন, ফলে কনসার্টগুলোর আশপাশের পর্যটন ও ব্যবসায় অপেক্ষিত চাহিদা বেড়েছে।

    দর্শক উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো ছিল। ১৪টি শোতে মোট দর্শকসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি; বিশেষ করে দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। প্রতিটি শো আগেভাগেই হাউসফুল হয়েছে। বিশ্বমঞ্চের বড় তারকাদের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা গেলে এখনও কিছু জায়গায় পিছিয়ে থাকতে পারে, তবু এই ট্যুর দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে শানিত করেছে।

    ট্যুরটি শুধু বিনোদন নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করেছে—লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ নানা ক্ষেত্রে এই আয়োজন সরাসরি ও পারোক্ষে কাজের সৃষ্টি করেছে; মোট মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টার কর্মসংস্থান।

    সংক্ষেপে, দিলজিৎের এই ট্যুর দেখিয়েছে যে আধুনিক কনসার্ট artık শুধু স্টেজ ও সাউন্ড সিস্টেম নয়—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যা স্থানীয় ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানকে গতানুগতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

  • জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ে শতাধিক, ৩ শিশু নিহত, ২ নিখোঁজ

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ে শতাধিক, ৩ শিশু নিহত, ২ নিখোঁজ

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে শনিবার বিকেলে ঈদে ঘুরতে এসেছিল অনেক মানুষ; সেই সময় এক ড্রাম (বাঁশের) ব্রিজ ভেঙে পড়লে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রায় শতাধিক মানুষ পড়ে যান। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিন শিশু নিহত হয়েছেন এবং দুই শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    দূর্ঘটনা শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার ভবনের সামনে নির্মিত ওই ড্রাম ব্রিজে ঘটে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর ঈদের দিনে ওই এলাকার ব্রিজ ও আশপাশে মানুষের ঢল নামে; এ বছরও বিকেলে সেখানে অনেকে ভিড় করেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল; অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়ে।

    নিহত তিন শিশুর মধ্যে রয়েছেন: কালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), একই এলাকার মেয়ে খাদিজা (১২) এবং ডাকাতিয়াপাড়ার জয়নালের মেয়ে মায়ামনি (১০)। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ব্রিজ ভাঙার পরে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পেরেছেন, তবে কয়েকজন—বিশেষ করে শিশুরা—পানির বেগে ভেসে গিয়েছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার ও অনুসন্ধান তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত করে দুর্যোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান

    আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে ঈদের আনন্দ গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ঈদুল ফিতর হল মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। মাসব্যাপী রোজা ও নিয়ামত সাধনার পর এ উৎসব আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।

    তিনি আরও বলেন, রমজান মাস সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এক মাসের এই সাধনা আমাদের লোকের কষ্ট বোঝার, সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনার এবং পরস্পরের প্রতি সহানুভূতির মনোভাব তৈরি করার অনুপ্রেরণা যোগায়।

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রমজানের শিক্ষা যদি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত হয়—তাহলেই ঈদের প্রকৃত মাহাত্ম্য সচল থাকে। ঈদ আমাদের ধনী-গরিব, বড়-ছোট সব ভেদভার ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভাইত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেয়।

    ঈদে আনন্দ ভাগাভাগি করার呼াহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের এই দিনে আমরা যেন সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াই। সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা—এই প্রতিজ্ঞাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

    তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও শক্তকরে তুলবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ঈদের মহান আদর্শের ভিত্তিতে সবাই মিলেমিশে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করতে হবে।

    বার্তার শেষাংশে তিনি দোয়া করেন যে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ, রহমত ও বরকত সবার জীবনে বর্ষিত হোক এবং দেশ-জাতি শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক। পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

  • কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরিচিতি বাড়ানো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    বুধবার সকালটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরে নানা প্রসঙ্গে তিনি আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন এবং কিছু মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। এসব আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি নিজেকে পুনর্বিচার করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।

    পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘‘গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। সবার কাছ থেকেই অনেক মূল্যবান দিকনির্দেশনা পেয়েছি—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করব। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।’’

    পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘‘আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি কষ্ট পান, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আপনারা দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ দিলে আমি শক্তি পাই।’’

    তিনি জানিয়ে দেন, ‘‘গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে আমার এই আত্মিক যাত্রা এক নিরিবিলি সূচনায় শুরু করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’’

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত ও এনসিপিকে নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর একটি মেধাবী তরুণশ্রেণি এসেছিল যারা জাসদ গঠন করেছিলেন, কিন্তু পরে অতিরিক্তভাবে এগোতে গিয়ে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সবাইকে সবকিছু সহ্য করার তৌফিক দেয়ারও আবেদন জানান।

    অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মনিরুল হক চৌধুরী বঙ্গবন্ধু যুগ পরবর্তী রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিরোধী দল cuando প্রশ্ন করলে মনে হয় দেশে বিএনপি যেন অপ্রতিষ্ঠিত ছিল—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতনেত্রী বহু বিরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং যারা আজ রাজনীতিতে আসছেন তাদের পেছনে দলের বহু তৎপরতা রয়েছে, সেটাও স্মরণ করা উচিত।

    তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, কখনো কখনো বুঝতে কষ্ট হয় যে কার বিরুদ্ধে কথা বলব; আগে যারা বিরোধী ছিল তাদেরকে চিনতাম, কিন্তু আজকের কিছু বিরোধীকে তিনি এখনও চিনে উঠতে পারেননি। মনিরুল হক বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানই কঠোর নির্বাচন নিয়ে সতর্ক করেছিলেন—সেই সতর্কতা অনেকেই তখন বুঝতে পারেননি, পরে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় তারা কী কঠিন পরীক্ষা পেরোতে হয়েছে তা বোঝা গেছে।

    তিনি আরো বলেন, এতসংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর যাদের জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত, গতকালে তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশও ছিল, কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে প্রশ্ন উঠে থাকে। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন করা হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো সময়ের ঘটনার সঙ্গে সমান করে দেখা হচ্ছে—এটি উদ্বেগের বিষয়। যদি ফ্যাসিস্টদের আমলে বিচারের নাম করে অন্যায় করা হয়ে থাকে তা অবশ্য আলাদা বিষয়।

    শেষে মনিরুল হক সংসদে একটুকু কথা রেখে জামায়াতকে বলেন, স্বাধীনতার পর বা এনসিপির মতো দলের নেতারা বয়সে ছোটও হতে পারেন, তবু তাদের তিনি শ্রদ্ধা করেন। কারণ তারা সাহসী কণ্ঠস্বর, আর এ যুগের দাবি এমন সাহস।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদকের তদন্ত শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদকের তদন্ত শুরু

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুসন্ধানের জন্য উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত তিনি যখন শিপিং করপোরেশনের এমডি ছিলেন, তখন ২,৪৮৬ কোটি টাকায় ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি জাহাজ কেনা হয়; এতে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মেরও সম্ভবনা রয়েছে বলে দুদক বলছে। তদন্তকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নথিপত্র জমা দেওয়ার তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেয়া হবে, এমনটাই জানিয়েছে দুদক।

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বেড়েছে। কার্ডের ব্যবহার ও সেবার পরিধি সম্প্রসারিত হওয়ায় বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন করা প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন নির্দেশনায় বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে সংযোজিত হয়েছে।

    গাইডলাইনের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল ঋণপ্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করা। একই সঙ্গে গ্রাহক অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নীতিতে ক্রেডিট কার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কিত বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যেটার মধ্যে রয়েছে প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন কৌশল, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে—আগে যেখানে সর্বোচ্চ ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। অনিরাপদ (আনসিকিওরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডভিত্তিক লেনদেন পরিশোধে যে জটিলতা দেখা দিচ্ছিল এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া—এসব পর্যবেক্ষণ করে গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নির্দেশনা যোগ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে নতুন গাইডলাইন ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে গ্রাহক আস্থা ও সেবা মান উন্নত করবে।

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ জেরুসালেমে মুসলিমদের সবচেয়ে সংবেদনশীল ধর্মীয় কেন্দ্র। কিন্তু ১৯৬৭ সালের পর বসে এমন পরিস্থিতি বিরল—রমজানের শেষ দিকে এ মসজিদ প্রথমবারের মতো কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ঈদুল ফিতরের দিন হাজারো মুসল্লি মসজিদের বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হন, কাছাকাছি উন্মুক্ত স্থানে সংক্ষিপ্ত নামাজ আদায় করেন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুসালেমের বাইরে শত শত মানুষ ঈদের জামাত করতে হয় যখন ইসরাইলি পুলিশ মসজিদে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই যুক্তি দেখিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানের সময় মসজিদ এলাকা অনেক সময় সাধারণ মুসল্লিদের জন্য নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে এবং অনেকে গেটের বাইরে নামাজ আদায়ে সীমাবদ্ধ ছিলেন।

    ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা বলছেন, এটি শুধু নিরাপত্তার বিবেচনা নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কৌশল। তাদের অভিযোগ—উত্তেজনা বা সংঘাতকে অজুহাত করে আল-আকসা কমপ্লেক্সে ইসরাইলি দখল ও নজর আরও জোরদার করা হচ্ছে। মুসলমানদের কাছে এই এলাকাটি ‘আল-হারাম আল-শরিফ’ নামে পরিচিত; এখানে ডোম অব দ্য রকসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। ইহুদিদের কাছে এটি ‘টেম্পল মাউন্ট’, যেখানে প্রাচীন কালের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আছে।

    জেরুসালেমের মুসলিম অধিবাসীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ চোখে পড়ে। ৪৮ বছর বয়সী হাজেন বুলবুল বলেন, ‘এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন হতে যাচ্ছে।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এটা একটি খারাপ নজির গড়ে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা বাড়তে পারে। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে জেরুসালেমে ইসরাইলি হস্তক্ষেপ বেড়ে গেছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরানো শহরে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীদের গ্রেফতার বাড়েছে। একই সঙ্গে কিছু ইসরাইলি বসতি থেকে মানুষ মসজিদ এলাকায় ঢোকে; নামাজজিজ্ঞাসায় অনেককে আটক করা হয়েছে বা মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটিতে লোকসমাগম থাকে, কিন্তু এবার এলাকাটি তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ছিল—দোকানপাট বন্ধ রাখার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনি মুসলিমদের আহ্বান জানিয়েছেন—মসজিদে ঢুকতে না পারলে কাছাকাছি জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করুন। তবে পুরনো শহরের ভেতরে কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন। তারা বলেছে, এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাত। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো সতর্ক করে দিয়েছে—এভাবে চললে সহিংসতা বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি হুমকির মুখে পড়বে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অফিসের মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি এই পদক্ষেপকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য বড় বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অনেক তরুণ মসজিদের কাছাকাছি নামাজ করতে গেলে ইসরাইলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে নামাজরত অবস্থায়ই সরিয়ে দেয়।

    অন্য দিকে গাজার মানুষদের জীবন এখন যুদ্ধ এবং তীব্র মানবিক সংকটের ছায়ায় কাটছে। রমজানের শেষে অনেক শহর ধ্বংসস্তূপে ছেয়ে আছে; বহু মানুষ ধ্বংসাবশেষের মাঝে সীমিতভাবে ঈদ পালন করছেন। উত্তর গাজার বাস্তুচ্যুত সাদিকা ওমর বললেন, ‘ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ—বাড়ি হারানো বা পরিবারের সদস্য হারানোর দুঃখ থেকে উদ্ধার মেলে না।’ খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া আলা আল-ফাররা বলছেন, চলমান হামলার কারণে চলাফেরা সীমিত, তাই তাদের ঈদও সীমিত হয়েছে।

    যুদ্ধের মাঝেও কিছু বাক্যে ঐতিহ্য ফিরে আসছে—চলাচল বন্ধ শিবিরে ছোট চুলায় কায়েক ও মামুলের সুগন্ধ থিতিয়ে দেয়, কিন্তু বহু পরিবার মিষ্টি-পালানোর সামর্থ্য পায় না। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেয়া হয় এবং জাতিসংঘের একটি কনভয় সেখানে ঢুকতে পারে—এটাই কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। তবু অনেকেই বলছেন, নিরাপত্তা অসম্পূর্ণ এবং ঘরবাড়ি ফিরে পাওয়ার আশায় ভরা উদ্বেগ যেন ছাড়ছে না।

    এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বহু সংগঠন ও পর্যবক্ষক বলছে, ধর্মীয় স্থানগুলোতে বাধা আর সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় ধাক্কা দিতে পারে। (সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান)

  • তেল সংকট নিয়ন্ত্রণে ইরানের তেল কেনার অনুমতি দিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন

    তেল সংকট নিয়ন্ত্রণে ইরানের তেল কেনার অনুমতি দিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি গুরুতর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালু থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনও অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে—ঘোর শত্রু ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে তেল কেনাবেচার সুযোগ করে দেওয়া।

    আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার (২০ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়ায় আমেরিকাসহ বহু দেশে পেট্রলের গড় দাম এখন গ্যালনে প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি, যা সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে যে, সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সূত্রটি বলছে, পূর্বে চীন এই তেল ক্রয় করতে চেয়েছিল নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই; এখন ওয়াশিংটন নিজে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ভারত, জাপান বা ভিয়েতনাম জাতীয় মিত্র দেশগুলোকে ক্রয়ের সুযোগ করে দিতে চাইছে।

    বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর। কারণ তিনি নিজে যখন বারাক ওবামার পরমাণু চুক্তিকে কড়া সমালোচনা করেছিলেন, তখন ওবামার সময় ইরানকে অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হয়েছিল—এখন ট্রাম্প প্রশাসন একই ধরনের ছাড়ের পথে হাঁটছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার বলেন, ‘এটি তেল বাজারের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য বিপর্যয়। বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত মজুদ বা বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের হাতে নেই।’ অন্যদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, যদি তেল বিক্রি করা হয় তবু ইরান সরাসরি সেখান থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না এবং তাদের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অব্যাহত থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের অনুধাবন মতো, ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ব চাহিদার মাত্র দেড় দিনের সামগ্রীও হতে পারে না। তাই এই একবারের সরবরাহ কতটা টেকসইভাবে তেলের দাম কমাবে—তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়ে গেছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে—তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত দিন হরমুজ প্রণালী অবরোধী থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বজায় থাকবে, তত দিন তেলের বাজারে চাপ থাকবে। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র টেলর রজার্স নিরাশা কমাতে চেষ্টা করে বলেছেন, ‘যদি সামরিক লক্ষ্য সফল হয় তাতে তেলের দাম আরও কমে যাবে,’ কিন্তু সেই লক্ষ্য কখন অর্জিত হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

    সংক্ষেপে বলা যায়, অস্ত্রধ্বনির চেয়েও এখন তেলের বাজারের অস্থিরতা হোয়াইট হাউসের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তথ্যসূত্র: সিএনএন