Category: বিশ্ব

  • হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    ইরান তেহরানকে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চাওয়ার নীতিতে অনড় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবর গত সোমবার ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট: ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতকে সাময়িকভাবে নয়, স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বিরোধিতার মুখে টিকেই আছে; ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা বিতর্কিত মন্তব্যও এ প্রেক্ষিতেই এসেছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি খোলার দাবি জানালে প্রথমে বলপ্রয়োগের হুমকি দিলেও কূটনৈতিক বিকল্পও খোলা রেখেছিল। তবে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার দিক থেকে এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত তারা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ সঙ্কটের গুরুত্ব অর্থনৈতিক: এই প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এবং বর্তমানে বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে।

    তেহরান মার্কিন ১৫ দফার বদলে নিজস্ব ১০ দফার প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার মেনে নেওয়া, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিসহ অনান্য বিষয়। সবচেয়ে মূল দাবি হচ্ছে—হরমুজ প্রণালির ওপর স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে হরমুজ এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চোক পয়েন্ট’। প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার এবং ভূগোলগত নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের—ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান বেশ কয়েকবার জাহাজ-ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত করে এবং চলাচল সীমিত করে দেয়, ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বাড়ে এবং জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়।

    পরে গোপন আলোচনার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়; এর বিনিময়ে ইরান ‘টোল’ ধার্য করেছে—প্রতি জাহাজে প্রায় ১–২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (কিছু কনজারভেটিভ হিসাব ১০–১৫ লাখ ডলার ধরে থাকে), যেগুলোর বেশিরভাগই চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। এমন নিয়ম চালু হলে ইরানের জন্য রাজস্ব ও স্বার্থ দ্বিগুণ হবে: কনজারভেটিভ হিসাব ধরলে শুধু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর উপর হারে মাসিক প্রবাহ থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার) আয় হতে পারে। গ্যাসবাহী জাহাজে একইভাবে টোল আরোপ করলে তা থেকে আরও প্রায় ৮০ কোটি ডলার মাসিক আয় আসতে পারে।

    এই পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। অবরোধ ও তেল-অবকাঠামোর ওপর হামলার খবরের প্রেক্ষিতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে—২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় জ্বালানি মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—যুদ্ধ শেষ হলে সরবরাহ পুনরায় স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে এবং দাম ধীরে নামার সুযোগ আছে। কিন্তু যদি শান্তি-চুক্তির শর্তে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে ‘টোল’ কস্ট আমদানিতে যোগ হবে এবং পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে—ফলশ্রুতিতে জ্বালানির দাম পুনরায় বাড়তে পারে। কতটা বাড়বে তা অনিশ্চিত; বিশেষ করে যদি বড় আমদানিকারক দেশগুলো (যেমন ভারত) বিশেষ ছাড় বা বিকল্প পথ খোঁজে।

    আর্থিক সংস্থাগুলোর অনুমান ভিন্ন: গোল্ডম্যান স্যাচস বলেছে, সরবরাহ ব্যাহত হলে প্রতি ব্যারেলে ৪–১৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত হতে পারে; অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এই ঝুঁকি প্রিমিয়ামকে ২৫ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য মনে করেছে।

    দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ থেকে অর্জিত টোল আয়কে টেকসই বলে দেখা সহজ নয়—এমন রাজস্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং তাতে প্রাপ্ত অর্থ পুনরায় ইরানকে সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করার আশঙ্কাও আছে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিল যুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহ বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে।

    বর্তমানে তেহরান নির্দিষ্ট কিছু দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়ে রেখেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ। যদি শান্তির পরও এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকে, তা নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে ও সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারবে।

    সমাপ্তিতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব তাকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রহরী বা গেটকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তেহরানের نفوذ বাড়াবে এবং ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। এই সম্ভাব্য ফলাফলকে নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ও বিশ্লেষকরা সতর্কতা জাহির করেছেন—যদি যুদ্ধ এইভাবে শেষ হয়, তবে বিশ্ববাজার ও অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘ সময়ের প্রভাব পড়বে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশ রক্ষার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বেসামরিক ইরানি অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া এবং জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত। তিনি এই কথা মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছেন।

    পেজেশকিয়ান পোস্টে লিখেছেন, “১ কোটি ৪০ লাখের বেশি সাহসী ইরানি এখন পর্যন্ত দেশ রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন।” নিজের প্রতিশ্রুতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, আমি আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

    পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাব হিসেবে এসেছে বলে সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগণকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আনার ব্যাপক আহ্বান জানিয়েছে। ওই আহ্বানের জবাবে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সৈন্যরাও ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার ইরানে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সামরিক কর্মী এবং প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। ইরানে মূলত দুটি আলাদা বাহিনী কার্যকর—নিয়মিত সামরিক বাহিনী ‘আরতেশ’ এবং প্রভাবশালী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। আইআরজিসির আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ নিয়মিত সদস্য এবং কয়েক লাখ রিজার্ভ সদস্য আছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি সোমবার ভোরে এই মন্তব্য করেছেন, যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেরি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। খবরটি খবর সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে।

    লিখিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, খাদেরি নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক দশক ধরে নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি খাদেরির ত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা করে বলেন, এমন যোদ্ধাদের অব্যাহত সারি ও আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী এমন শক্তিশালী ও গভীর প্রতিরোধ তৈরি করেছে, যা সন্ত্রাস ও অপরাধের মাধ্যমে ভাঙা যাবে না।

    খামেনির বক্তব্য তার লেখা বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্রে বলা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধে ঝোঁক দেওয়া থেকে ইসরায়েল ইরানের বহু শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

    মাজিদ খাদেরির হত্যা বিষয়টি নিয়ে তেহরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, খাদেরি ‘‘ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী’’ এবং তিনি আইআরজিসির তিন শীর্ষ ব্যক্তির একজন ছিলেন।

    একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী আইআরজিসি কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে ‘নির্মূল’ করেছে। বাঘেরি ২০১৯ সাল থেকে ওই দায়িত্বে ছিলেন। তেহরান এখনও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ঘটনাগুলো ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং খামেনির কড়া মন্তব্যে অঞ্চলটিতে পরিস্থিতি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।

  • হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    ইরান গত সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা তারা গ্রহণ করেনি। তেহরানের দাবিটি স্পষ্ট — ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে স্থায়ীভাবে শেষ করতে হবে, সাময়িকভাবে নয়। একই সঙ্গে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর মন্তব্য ও কূটনৈতিক চাপেও প্রতিরোধ গড়েছে; সম্প্রতি ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যও তেহরানের বিরোধিতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী খোলার আবেদন রেখেছিল এবং প্রয়োজন হলে যেখানে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিল; তবু কূটনৈতিক পথও খোলা ছিল। কিন্তু ইরানের ওপর পশ্চিমা—বিশেষত মার্কিন ও ইসরায়েলি—চাপের মধ্যে তেহরান নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থান থেকে সীমান্তগত নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করেছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানির আনুমানিক ২০ শতাংশ পরিবহন করে; যুদ্ধের আগে এখানে দিনে প্রায় ১০০–১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, যা প্রতিদিন আনুমানিক ২০–২৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করত।

    এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটির প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, এবং ভৌগোলিকভাবে এর নিয়ন্ত্রণই আছে ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হতেই তেহরান প্রথমদিকে ঘোষণা করে যে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না; পরে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে এই হুমকি বাস্তবায়ন করা হয়। হামলার ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়।

    কয়েক দফা গোপন আলোচনা ও দরকষাকষির পরে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের সম্প্রসারণ করা হয়; তার বিনিময়ে প্রায়শই ‘টোল’ দাবি করা হয়েছে—কিছু রিপোর্ট বলছে প্রতি জাহাজে প্রায় ১.৫–২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত টোল নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব ১০ দফার একটি তালিকা দিয়েছে; সে তালিকায় রয়েছে—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার নিশ্চিত করা, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি দাবি।

    যদি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে তা বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। কনজার্ভেটিভ হিসাব ধরলে, যদি প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ১ থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলার টোল নেওয়া হয় এবং দৈনন্দিন চলাচল আগের মতো হয় (প্রতিদিন ১০০–১৩৫ জাহাজ), তাহলে কেবল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ইরানের সম্ভাব্য মাসিক আয় পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে। তদুপরি, গ্যাসবাহী জাহাজের ওপর একই ধরনের টোল আরোপ হলে সেখানে থেকে আলাদা করে মাসিক প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ থাকতে পারে—যদি চলাচল ও টোলের হার একই রকমেই ধার্য রাখা হয়।

    বর্তমান সংঘাত ও অবরোধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে; ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন—যদি সরবরাহ ব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি ব্যারেলে বাড়তি ঝুঁকি প্রিমিয়াম হিসেবে গোল্ডম্যান স্যাচ প্রাথমিকভাবে ৪–১৫ ডলার বলেছে, আর অক্সফোর্ড ইকোনমিকস তা ২৫ ডলার পর্যন্ত দেখেছে।

    তবে এই টোলভিত্তিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা অন্য প্রশ্ন। এশিয়ার বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে তেল আমদানিবেশগুলো—এমন অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সহ্য করতে পারবে কি না সন্দেহজনক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে টোল আদায় করে পাওয়া অর্থ যদি পুনরায় সামরিক শক্তি বিকাশে বা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হয়, তাহলে তা নতুন সঙ্কটের জন্মও দিতে পারে—এমনটাই ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

    সংঘাত চলাকালীন তেহরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান) জাহাজকে পারাপার নিশ্চিত করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে প্রায় পুরোপুরি আটকে দিয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পরও যদি এই নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে নতুনভাবে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে তেহরান ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ পরিচালনা করে ঝুঁকি কমাতে পারে এবং সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

    ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে হরমুজে আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ইরানকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহের ‘গেটকিপার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে—এবারকার সংঘাতই দেখিয়েছে ইরান কেবল হরমুজেই প্রভাব বিস্তার করছে না, ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান ইরানের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা, প্রতিরক্ষা ইশতেহার ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে দিতে পারে—তবে তা একই সঙ্গে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও জাগাবে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ সোমবার (৬ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে আইআরজিসি উল্লেখ করেছে যে মেজর জেনারেল খাদেমি দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ইসলামী মাতৃভূমির সুরক্ষায় নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বিবৃতিতে তাকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন, স্থায়ী ও শিক্ষণীয় অবদানকারী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

    আইআরজিসি আরও বলেছে, মজিদ খাদেমির অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর জন্য বহু বছর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে, বিশেষত কৌশলগত পর্যায়ে বিদেশি শত্রুদের মোকাবিলা এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে।

    বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে অবস্থানকৃত কয়েকজন উচ্চস্তরের নেতৃবৃন্দ এবং বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার পর থেকে ইয়ারা বিরোধী বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ওই অভিযানের রেসপন্সে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে—এটি তাদের বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

    তার জবাবে, বিবৃতির দাবি অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অধিকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।

    এই খবরটি তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।

  • মঙ্গলবার সময়সীমা চূড়ান্ত, ইরানের প্রস্তাব ‘যথেষ্ট নয়’ জানিয়েছেন ট্রাম্প

    মঙ্গলবার সময়সীমা চূড়ান্ত, ইরানের প্রস্তাব ‘যথেষ্ট নয়’ জানিয়েছেন ট্রাম্প

    মঙ্গলবার পর্যন্ত করা সময়সীমা চূড়ান্ত—এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের পাঠানো প্রস্তাব যুদ্ধ থামাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও তা ‘যথেষ্ট নয়’। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প; কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি আগেও একাধিকবার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন এবং তা পরে বাড়িয়েছেন। তবে এইবারের মঙ্গলবারের সময়সীমাকে তিনি চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

    ইরানের প্রদত্ত প্রস্তাব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘‘তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। তারা যদি যা করা উচিত তা করে, তবে এই যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তাদের নির্দিষ্ট কিছু কাজ আছে, যেগুলো তারা ভালো করেই জানে।’’ তিনি বিশ্বাস করেন ইরান ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে আলোচনায় এসেছে।

    যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নে ট্রাম্প বললেন, তার কাছে ‘‘অনেক বিকল্প’’ রয়েছে। কড়া ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘আমরা এখনই চলে গেলেই তাদের যা ছিল তা পুনর্নির্মাণ করতে ১৫ বছর লাগবে। আমি এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমি এর শেষ দেখতে চাই।’’

    ট্রাম্প আবার জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কাউকেই বিশ্বাস দেন না যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে—এ বিষয়ে তার অবস্থান বদলায়নি। ইরান অবশ্য বারবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তার প্রশাসন গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তার জন্য কিছু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন এসব অস্ত্র জনগণের আত্মরক্ষার লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল, তবে কোন গোষ্ঠী এখনও সেগুলো হাতে রেখেছে তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

    ইরানের তেলসম্পদ নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমেরিকানরা চায় আমরা বাড়ি ফিরি। কিন্তু আমার ওপর ছেড়ে দিলে আমি সব তেল দখল করে রাখতাম—এতে অনেক অর্থ উপার্জন হত।’’

    ট্রাম্প দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে; যদিও তিনি বলেন তিনি এটি করতে চান না। তবে হুমকি দিয়ে যোগ করেছেন, ‘‘তাদের কোনও সেতু থাকবে না, কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর চেয়েও খারাপ কিছু করতে পারি, যা এখন বলছি না।’’

    আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ট্রাম্প যারা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তাদের তিনি ‘নির্বোধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এই যুদ্ধে একমাত্র লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখা।

  • আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত: আইআরজিসি দাবি

    আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত: আইআরজিসি দাবি

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ সোমবার (৬ এপ্রিল) এই তথ্য ঘোষণা করেছে।

    বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে ‘‘মার্কিন-জায়নিস্ট শত্রু’’ নাম উল্লেখ করে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ভোরে খাদেমি শহীদ হন। আইআরজিসি খাদেমিকে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করা একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অবদানকে স্থায়ী ও শিক্ষণীয় বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, মজিদ খাদেমির নেতৃত্ব ও কার্যক্রম দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর জন্য বহু বছর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে, বিশেষত কৌশলগত স্তরে বিদেশি শত্রুদের অনুপ্রবেশ, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে।

    আইআরজিসি একই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘটেছে- এমন একটি বড় ঘটনার পর থেকে তাদের ওপর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে এবং এসব হামলায় ইরানের আনেক সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে; এতে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে—এমনও দাবি করা হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অধিকৃত অঞ্চলে ও আঞ্চলিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিহিংসামূলক অভিযান চালিয়েছে, বলেই বিবৃতিতে উল্লেখ আছে।

    এই তথ্য ও দাবিগুলো আইআরজিসি’র অফিসিয়াল ঘোষণা ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাধীন সূত্র দ্বারা এই ঘটনার বিস্তারিত ও সব দাবি যাচাই করা হয়নি।

  • পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠালো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; আজই বিরতি কার্যকর হতে পারে

    পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠালো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; আজই বিরতি কার্যকর হতে পারে

    রয়টার্স জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলা সংঘাত থামিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ব্যাপক সমঝোতা বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠিয়েছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে—দুই পক্ষই প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে আজই (সোমবার) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে আনা যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

    পাকিস্তান এই রূপরেখাটি তৈরি করে রোববার রাতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করে। এতে একটি দ্বি-স্তরীয় পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে—এক তরফে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে এবং দ্বিতীয় স্তরে একটি বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত করা হবে। এক সূত্র জানিয়েছে, ‘আজই সব বিষয়ে একমত হতে হবে’—এমন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাথমিক বোঝাপড়া একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হিসেবে তৈরি হবে এবং চূড়ান্তকরণ ইলেকট্রনিকভাবে, পাকিস্তানের মাধ্যমেই করা হবে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস আগে জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দ্বি-স্তরীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন—যা পরবর্তীতে স্থায়ী অবসানে পরিণত হতে পারে।

    রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ‘রাতভর’ যোগাযোগে ছিলেন—যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে। এরপর বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য ১৫–২০ দিনের সময়সীমা রাখা হবে। ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং চূড় finales আলোচনা ইসলামাবাদে সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে।

    এ বিষয়ে তৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়কর্তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। চীনের কর্মকর্তাদের থেকেও রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ইরানি কর্মকর্তারা পূর্বে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইছে, যেখানে নিশ্চিত করা হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে হামলা চালাবে না। তারা বলেছেন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে বার্তা আসছে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমঝোতায় তেহরানের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবে।

    তবে পাকিস্তানের দুটি সূত্র জানায়, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেননি। ‘ইরান এখনও কোনো জবাব দেয়নি’—একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। একই সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোর পক্ষে এখনও কোনো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি আসেনি।

    এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন সময় উঠল যখন ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে কড়াকড়ি ফলাফলের হুমকিও দিয়েছেন। (সূত্র: রয়টার্স)

  • হাইফার আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ২ নিহত, ১১ আহত

    হাইফার আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ২ নিহত, ১১ আহত

    ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হাইফার (উত্তর ইসরায়েল) শহরের একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। রোববার বিকেলে ঘটনার ফলে কমপক্ষে ২ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন, আর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন আরও কয়েকজন।

    প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাইফার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে হাইফা ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস আগুন নেভানো এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের স্থানীয় মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) হেলথ সেন্টারে পাঠিয়েছেন।

    আরোয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর উদ্ধারকাজ চলাকালে ধ্বংসস্তূপের ভেতর চারজনকে চাপা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোববার রাতভর চালানো অভিযান শেষে তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে; বাকি দুইজনকে এখনও খুঁজছে উদ্ধারকর্মীরা, তাই নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেডের ওজন আনুমানিক ৪৫০ কেজি ছিল। এ সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা।

  • মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ সোমবার (৬ এপ্রিল) জানিয়েছে যে আইআরজিসি’র গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ভোরে নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে তাকে শহীদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    আইআরজিসি বলেছে, মজিদ খাদেমি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব, দেশ ও ইসলামী মাতৃভূমির নিরাপত্তা রক্ষায় নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। বিবৃতিতে তার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী, গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে খাদেমির কৃতিত্ব দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে বহু বছর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে, বিশেষ করে কৌশলগত স্তরে বিদেশি প্রতিপক্ষদের মোকাবিলা এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ‘অশুভ ও কুটিল’ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে। আইআরজিসি তার ঘোষণায় হামলাকারীদের ‘মার্কিন-জায়নিস্ট শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে — শনাক্ত করা ঘটনাসমূহের পর — যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎপরিসরের হামলা শুরু করে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। এই হামলায় দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা নিশানা হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, এমনটাই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    যার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অধিকৃত ভূখণ্ড ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থানগুলোর দিকে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে, জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এই প্রতিবেদনটিকে উৎস হিসেবে তাসনিম নিউজ এজেন্সির বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।