Category: বিশ্ব

  • চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারী

    চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারী

    নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে অভিবাসন করেছেন। গত দশ দিনের অভিযান শেষে তাঁরা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবতরণ করে এবং নাসার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে উত্তরণ করেন।

    আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা থেকে চাঁদভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মিশনে ছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) ও জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। এই দলে প্রথম তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

    নাসা জানিয়েছে, অভিযানে আর্টেমিস-২ পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে এবং চাঁদের কাছাকাছি যাওয়ার চূড়ান্ত ফ্লাইবাইয়ে পৌঁছানোর সময় প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝানো হয় মহাকাশযান যখন কোনো গ্রহের খুব কাছে থেকে মায়াজনিত গতিবেগ বদল করে চলে যায় — কক্ষপথে আটকে না থেকে কেবল পাশ কাটিয়ে যাওয়া।

    পৃথিবীতে পুনঃপ্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে খুব দ্রুত গরম হয়ে ওঠে; ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা প্রায় ২,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। প্রবেশের পরের গুরুত্বপূর্ণ ১৩ মিনিটের মধ্যে এসব তাপ এবং বায়ুমণ্ডলের শক্ত ঘর্ষণের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ক্যাপসুল তখন এক ধরনের ‘অগ্নিগোল’র মধ্যে দেখা গিয়েছিল। তাই সাগরে অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুলটি পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

    খবর নিশ্চিত করেছে নাসা, বায়ুদাহচাপ ও তাপ ক্যাপসুলের ভিতরে থাকা নভোচারীদের স্পর্শ করেনি। সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং দ্রুততর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তারা নৌবাহিনীর জাহাজে রাত কাটিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার তাঁরা টেক্সাসের হিউস্টনে তাঁদের পরিবার ও মিশন দলের সঙ্গে মিলিত হবেন।

    নাসার ইউটিউব চ্যানেলে অভিযানকালের ও অবতরণের সরাসরি চিত্র ও ফুটেজ দেখেছে প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকারী ও সহায়তা তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

    আর্টেমিস-২ শুধুই একটি পরীক্ষামূলক সফরই নয়—এটি নাসার ধরে নেয়া ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক মিশন। মিশনটি অ্যাপোলো যুগের পর থেকে চন্দ্রাভিযানের ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশিষ্ট একটি দিক হলো, আর্টেমিস-২ পূর্বের অ্যাপোলো-১৩ এর রেকর্ড ভেঙে মোট ২৫২,৭৫৬ মাইল ভ্রমণ করে নতুন দূরত্বরেকর্ড গড়ে দিয়েছে (অ্যাপোলো-১৩ ছিল প্রায় ২৪৮,০০০ মাইল)।

    অভিযানের শেষ দিকে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, ‘‘আমরা আমাদের ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদের একটি অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি—গতকালের তুলনায় একটু ছোট মনে হলো। মনে হচ্ছে ফিরে যেতে হবে।’’

    সূত্র : রয়টার্স

  • যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে রাজি: ইরানি কর্মকর্তা

    যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে রাজি: ইরানি কর্মকর্তা

    কাতার ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—শনিবার (১১ এপ্রিল) রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তটি আলোচনার আগে তাদের ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি এটি ইঙ্গিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, এই কর্মকর্তা আরও বলেছেন যে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হওয়া উচিত হরমুজ জলসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ইরান হরমুজ সাগরে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না রাখে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদ ছেড়ে দেয়।

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের ঘালিবাফ মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য مذاکرات তারা শুরু করবেন না যতক্ষণ লেবানে ইসরায়েল হামলা বন্ধ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করবে।

    রয়টার্স অনুসারে, মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পণ্য বিক্রির বহু বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন দেশে আটকে আছে।

    রয়টার্সের আরও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে উত্তেজনা ও সংঘাতের খবর প্রকাশ পায় এবং কিছু অবধিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে; তবে সেই বিরতিকে ভঙ্গুর বলে beskr করা হয়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয় তাহলে আরেকটু শক্ত কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে—এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • পাকিস্তানকে আলাদা করে ফেলতে চেয়েছিলেন মোদি, শেষমেষ ভারতই বিচ্ছিন্ন—বিশ্লেষকরা

    পাকিস্তানকে আলাদা করে ফেলতে চেয়েছিলেন মোদি, শেষমেষ ভারতই বিচ্ছিন্ন—বিশ্লেষকরা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কোনোভাবে উল্লেখ করেনি। ভারতের জারি করা নোটে পাকিস্তানের নাম নেই এবং ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে বিবৃতিতে নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।

    বিশ্ব নেতারা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রশংসা করলেও ভারতীয় বিবৃতির নীরবতা উল্লেখযোগ্য। MEA-র সরল ভাষার বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি, সংলাপ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির জন্য অপরিহার্য, এবং সংঘাতের ধ্বংসাত্মক রূপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি তুলে এনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাধীন ও নিরাপদ চলাচলের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।

    তারপরও মন্ত্রক পাকিস্তানের ভূমিকাকে বাদ দিল কেন—এই প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন। পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল, তখনই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো এটাকে ভারতের কূটনীতিতে বড় ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও বলেছিলেন, ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ বা মিডলম্যান হতে চায় না।

    বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটি ভারতের করা উচিত ছিল; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদির ইসরায়েল-সমর্থক অবস্থানের কারণে এমনটা সম্ভব হয়নি।

    সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তান এখানে আর্কিটেক্ট নয়—বরং মাধ্যম বা অনুঘটকের মতো কাজ করেছে। তারা বার্তা আদান-প্রদান সহজ করেছে, সময়সীমা শিথিল করেছে এবং একটি সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। এটা প্রচলিত অর্থে মধ্যস্থতা না হলেও, তা অস্বীকার করা যায় না। তার মতে, এখন যা দেখা যাচ্ছে তা সংঘাত সমাধান নয়, বরং অবস্থানের পুনর্বিন্যাস—যেখানে বলপ্রয়োগ ও আলোচনা একসঙ্গে চলছে। তিনি যোগ করেছেন, ভারতের উচিত স্পষ্ট ও পরিমিত কণ্ঠে নিজের অবস্থান জানান; উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশন রক্ষা করা এবং সংঘাতের কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্মতা থেকে বিরত থাকা দরকার।

    বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের ‘বিজয়’ এবং পাকিস্তানের জন্য ‘সম্মানের’ ঘটনা আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতা প্রমাণ করে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আস্থাভাজন, পাশাপাশি চীনেরও প্রতি বিশ্বাসযোগ্য। সোয়াইনের মন্তব্য, মোদি যদি পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন, তাহলে উল্টোদিকেই ঘটেছে—ভারতই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    অন্য বিশ্লেষক অভিনব সিং বলেছেন, বর্তমানে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার সম্পর্ক রয়েছে তিনটি মহাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া—এবং আঞ্চলিক উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরানের সঙ্গে। তিনি তুলনা করেছেন যে মোদির কাছে রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে নেতানিয়াহুর মতো নেতাদের সঙ্গে, কিন্তু সেই সম্পর্ক কূটনৈতিক ফলপ্রসূতা হারিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

    গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর লিখেছেন, যুদ্ধের চরম পরিস্থিতিতেও পাকিস্তান কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ করেনি এবং সময়সীমা শেষের কয়েক ঘণ্টা আগে তারা আলোচনার পথ সাফল্যের সঙ্গে তৈরি করতে পেরেছে—যা বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

    সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ কেউ বলছেন, মোদির কূটনীতির ব্যর্থতার ফলেই পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে গুরুত্ব পেয়েছে; কেউ দাবি করছেন যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রেখেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরানের তেল ভারতে যাচ্ছে এবং তেলের একটি ট্যাংক চলতি সপ্তাহেই পৌঁছবে—একটি তথ্য যা অঞ্চলীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

    সাংবাদিক অঙ্কুর ভারদ্বাজ মনে করান, তুচ্ছ তিক্ততা ও বিভাজনের বদলে আমাদের উচিত স্বীকার করা যে এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এবং ভারতের কূটনীতিতে কোথায় ভুল হয়েছে—সেটা নিয়ে গভীর আত্মসমীক্ষা করা।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা।

  • আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হতেই পারে: ট্রাম্প — রণতরি ‘রিসেট’-এ প্রস্তুত

    আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হতেই পারে: ট্রাম্প — রণতরি ‘রিসেট’-এ প্রস্তুত

    ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় যদি কোনো চূড়ান্ত সমাধান না পাওয়া যায়, তাহলে ইরানের ওপর পুনরায় বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেই হামলার ক্ষমতা রাখার জন্য মার্কিন রণতরিগুলোকে নতুন করে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে।

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বর্তমান সামরিক প্রস্তুতিকে তিনি একটি ‘রিসেট’ বা নতুন বিন্যাস হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি রিসেট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জাহাজগুলোকে আমরা এখন পর্যন্ত তৈরি করা বিশ্বের সেরা সব গোলাবারুদ এবং সেরা অস্ত্র দিয়ে বোঝাই করছি। আগে যা ব্যবহার করে তচনছ করে দিয়েছিলাম, এগুলো তার চেয়েও উন্নত।”

    ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আলোচনা থেকে কোনো চুক্তি না হয়, আমরা এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করব এবং অত্যন্ত কার্যকরভাবে তা প্রয়োগ করব।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ইসলামাবাদে আলোচনা সফল হবে ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    যাওয়ার আগে জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘উন্মুক্ত মনে’ এবং ইতিবাচক প্রত্যাশা নিয়েই আলোচনায় যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই কড়া হুমকি আলোচনার টেবিলে নতুন করে উত্তেজনা ও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

    ইতিমধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করা এবং ইরানের জব্দ করে রাখা অর্থ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত কোনো কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়—এমন শর্ত তিনি আজ তুলেছেন।

  • বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে প্রশংসা করা হয়েছে এবং এটাকে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আনার সম্ভাবনার কড়া হিসেবে দেখা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাতের ধ্বংসাত্মক প্রভাব স্পষ্ট এবং এটি বিশ্বব্যাপী তেল, জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে; বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে সে আশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

    তবে একটাই জিনিস—পাকিস্তানের ভূমিকা—এই সরকারি বিবৃতিতে পুরোপুরি উপেক্ষিত ছিল। বিশ্ব নেতারা যখন পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রশংসা করছিলেন, তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের নামই উল্লেখ করেনি এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনাক্রম সম্পর্কেও কিছু বলেনি।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে অনেকে বিশ্বমঞ্চে সফল বলে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেছেন, এমন ভূমিকা ভারতের করা উচিত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলকে বিশেষ মর্যাদা দিলে তিনি কীভাবে যুদ্ধবিরতির কথা বলতে পারবেন? অন্যপক্ষে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় না।

    দীর্ঘ অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তানের ভূমিকা সরল অর্থে মধ্যস্থতা বললে ভুল হবে—বরং তারা মেসেজ আদান-প্রদান, সময়সীমা শিথিল এবং সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়ে পরিস্থিতি մեղন করেছে। তিনি বলেন, এটা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নয়; বরং অবস্থানগুলোর পুনর্বিন্যাস, যেখানে বলপ্রয়োগ ও আলোচনা একসঙ্গে চলছে। তাই ভারতের উচিত স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানানো—উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশন রক্ষা করা এবং সংঘাতকারীদের বিবৃতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার থেকে বিরত থাকা। তিনি উল্লেখ করেন, নীরব থাকা ঠিক নেই; বদলে পরিমিত কণ্ঠে বক্তব্য রাখা জরুরি।

    বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের জয় ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, বিশ্বমঞ্চে মোদি যখন পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন উলটে ভারতই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অতীতেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করে এসেছে—এবং এখনও তারা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের মধ্যকার আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

    অপর বিশ্লেষক অভিনব সিং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরানেরও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের কূটনীতি ও নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু টুইট ও মন্তব্য তােমনি গুরুত্ব পেয়েছে—কেউ কেউ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ বলছেন, আবার অনেকে বলছেন ভারতের কূটনীতি ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন। সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর ও কয়েকজন লেখকও প্রকাশ্যভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার তাৎপর্য স্বীকার করেছেন।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরান থেকে তেল ভারত পৌঁছাতে পারে—এই সপ্তাহেই একটি তেল ট্যাংকো এসে পৌঁছাবে।

    নাগরিক-শ্রেণি ও মন্তব্যকারীরা এখন ভারতের কূটনীতি, মতামত প্রকাশের সময় এবং ভুবনীয় সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তানের যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ এবার কার্যকর হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভারতকে আত্মসমীক্ষা করতে হবে—কী কারণে আমরা সে জায়গায় ছিলাম না, আর ভবিষ্যতে কিভাবে আমাদের অবস্থান সুসংহত করা যাবে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান

    লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান

    ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকবে। এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ইসরায়েলি জেরুজালেম পোস্ট।

    তাসনিমের বরাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি হলো পাকিস্তানের প্রস্তাবিত শান্তি সমঝোতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে এবং জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তাহলে আলোচনা স্থগিত থাকবে। বাঘাইয়ের ভাষ্য, ‘‘ইরান ও লেবাননের জনগণের প্রতি সহানুভূতি এখন পূর্বের যে কোনও সময়ের চেয়েও বেশি। যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রাখবে না, ততদিন আলোচনার কোনো অর্থ নেই।’’

    একই সময়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে এসে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে; এই আমন্ত্রণ ও আলোচনার সময়সূচি এখনো পর্যালোচনার এবং পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে। ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে ইরান কোন প্রতিনিধিদল পাঠাবে—তার তালিকাও পরে ঘোষণা করা হবে, যোগ করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান মার্কিন পক্ষের সঙ্গে ইসলামাবাদে যে কোনও শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না। ফার্স নিউজ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে, যাতে বলা হয় ইরানি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—ফার্স সেটিকে মিথ্যা বলেছে।

    পূর্বে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছিলেন যে ইরানি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে; পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও এখনো ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ, ফার্স নিউজ, জেরুজালেম পোস্ট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (প্রতিবেদনের উল্লেখ ও ফার্সের প্রত্যাখ্যান)

  • ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দিয়েছে, যা প্রায় ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নজিরবিহীনভাবে বন্ধ ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করেন বেশী করে বলা যায় ৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি। অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে মসজিদের গেট খুলতেই সিংহভাগ মানুষ অঙ্গিনায় ঢুকছে, দীর্ঘদিন পরে আল-আকসায় ফিরে এসে খুশি ও облегчতাবোধ করছে।

    কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে, মসজিদ এবং মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময় আল-আকসা বন্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়ও মসজিদ বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বললেও ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল অন্যান্য জায়গায় বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশকে অনুমতি দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    অনেকে বলছেন, যুদ্ধে উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে—যার মধ্যে আছে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি নির্ধারণ এবং অনুমোদিত কার্যক্রম সীমিত করা।

    পুরনো জেরুজালেমের আল-আকসা দীর্ঘকাল ধরে ‘স্ট্যাটাস কো’ নামে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আওতায় চালিত হয়ে আসে—অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার কথা। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছেন ইসরায়েল বহু বছর ধরে এই ব্যবস্থাকে লঙ্ঘন করে আসছে, বিশেষ করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রবেশ ও প্রার্থনার অনুমতি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের সম্মতি উলঙ্গ করে।

    এই এলাকার ওপর ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অনৈতিক বা অবৈধ বিবেচিত হয়; অংশবিশেষে বলা হয়—দখলকারী শক্তির ওই ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব নেই এবং সেখানে স্থায়ী পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

    মসজিদ পুনরায় খোলার পরই উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং তাদের সেখানে থাকা সময়ও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফজরের নামাজের পর মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢোকে; তাদের মধ্যে অনেককে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রার্থনা ও নাচ করতে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের আগে এই ধরনের ইহুদি অনুপ্রবেশ সাধারণত কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ ছিল—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত। এই পদ্ধতি প্রথম চালু হয় ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় এবং ২০০৮ সালে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ করে নেওয়া হয়; তখন সকালে সীমিতসংখ্যক দলে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সময় ও শিফট দুটোই ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছিল।

    ইরান যুদ্ধের আগে যে নতুন সময়সূচি অনুমোদিত হয়েছিল, তাতে এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬টা ৩০ থেকে ১১টা ৩০ এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টার মতো সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বাড়াকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন স্ট্যাটাস কোকে দুর্বল করার এবং সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নির্দেশ করে—বিশেষ করে ৪০ দিন পর মসজিদ খোলার এই প্রেক্ষাপটে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    কয়েকটি মিডিয়া ও অনলাইন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—ইরানের সামরিক কمان্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গভীর ভাঙন তৈরি করবে। তবে উল্লেখ্য, এই দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে যাচাই যোগ্যতা পাননি এবং সরকারিভি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

    ক্ষমতার কেন্দ্রকে আঘাত—দাবি ও অনিশ্চয়তা

    কিছু রিপোর্টে তালিকার শীর্ষেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যত্র বলা হয় শীর্ষ পর্যায়ের আরও একাধিক রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন—যেমন আলী লারিজানি, আলী শামখানি ইত্যাদি। তবে এসব সংবাদের সত্যতা নিয়ে নানামুখী দাবি-প্রতিমত চলছে এবং স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ ধরনের রিপোর্টে সরাসরি কৃতকার্য বলে ঘোষণা না করে ‘দাবি করা হয়েছে’ বা ‘সূত্র বলছে’ বলে উপস্থাপন করা জরুরি।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি—প্রতিবাদের প্রভাব

    রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, গঠনতান্ত্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে একের পর এক শীর্ষ ব্যক্তি হত্যা হওয়ায় সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে вакুম তৈরি হয়েছে। যেমন চিফ অব স্টাফ, উচ্চ র‌্যাঙ্কিং কমান্ডার এবং অপারেশন প্রধানদের দাবিকৃত হত্যাকাণ্ড ইরানের সামরিক সমন্বয়কে দুর্বল করেছে—যদি এই দাবিগুলো সত্যি হয়। ধারাবাহিক নেতৃত্বক্ষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও оператив নির্দেশনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে, ফলে সামরিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ে।

    আইআরজিসি এবং আঞ্চলিক শক্তি

    রিপোর্টে বলা হয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও তিনটি প্রধান শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—লক্ষ্যবিহিতভাবে আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ বাহিনী বা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রোগ্রামের প্রধানদের ওপর হামলা হলে এসব কর্মসূচি কার্যকারিতাহীন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। নৌ বাহিনীর শীর্ষ সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতি ও অপারেশনাল ক্ষমতা সীমিত হবে, যা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    গোয়েন্দা কাঠামোতে টেকনিক্যাল আঘাত

    রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বা আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার একাধিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের হত্যার দাবি উঠেছে। এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নির্দেশ করে যে হামলাকারীরা গভীর গোয়েন্দা-infiltration ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণের মাধ্যমে উচ্চস্তরের বৈঠক পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হয়েছে—যা দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে। আবারও বলছি, এসব দাবির স্বাধীন যাচাই বহুলাংশে অনুপস্থিত।

    পারমাণবিক কর্মসূচি ও কুদস ফোর্সে প্রভাব

    কয়েকটি আলাদা ও পুরনো ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে রিপোর্টগুলো বলছে, পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের ওপরও লক্ষ্যবস্তু অবস্থান করছিল—যেমন মোহসেন ফাখরিজাদেহর হত্যাকাণ্ড (যা কয়েক বছর আগে ঘটেছিল)। কুদস ফোর্সের উচ্চপদস্থদের হত্যার ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক—সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে—ও দুর্বল হয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কাসেম সোলাইমানির ২০২০ সালের হত্যাকাণ্ডই ছিল এ ধরনের নেটওয়ার্কে বড় আঘাতের একটি পূর্বসূরী।

    অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব

    রিপোর্টে বলা হয়েছে বাসিজ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও আঘাত হয়েছে, যা ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদিভাবে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশন দুর্বল নেতৃত্ব, ভীতি এবং অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাস বাড়াতে পারে—যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    কৌশলগত মূল্যায়ন

    এই আক্রমণ/নির্ধারণগুলো যদি যাচাইযোগ্য হয়, তাহলে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হবে: একটি, হামলাগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর ছিল; দুই, শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়কে দুর্বল করেছে; তিন, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, এসব দাবি যাচাই না হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে কেবল অনুমানেই সীমাবদ্ধ থাকা ছাড়া উপায় নেই।

    ভবিষ্যৎ चुन challenge

    ইরানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—নতুন দক্ষ নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ-আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তাত্ত্বিকভাবে এসব করাই সম্ভব হলে দেশটি ধীরে ধীরে সমন্বয় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে; কিন্তু ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ থাকলে তা সহজ হবে না।

    নোট: এই প্রতিবেদনে যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত বা আহত বলে দাবি করা হয়েছে, সেগুলো প্রধানত তৃতীয় পক্ষের উৎস ও অনলাইন রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব খবর সরকারি বা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাস্তবতা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

  • ৪০ দিন পর নামাজের জন্য খুলল আল-আকসা মসজিদ

    ৪০ দিন পর নামাজের জন্য খুলল আল-আকসা মসজিদ

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পুনরায় খুলে দেয়। প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর এই প্রথম সেখানকার ফজরের নামাজে অংশ নেন তিন হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি মুসল্লি — যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর ঘটে।

    অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পর ভিড় করে মানুষ আঙিনায় ঢুকছে এবং দীর্ঘদিন পর ফিরে আসায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। আরও কিছু ক্লিপে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে এবং মুসল্লিদের ব্যবস্থা করছে।

    ইসরায়েল পূর্বে মসজিদটি বন্ধ করে দিয়ে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এই যুক্তি প্রশ্ন করে বলেছেন যে যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে। একই সময়ে অন্যত্র বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

    সমালোচকরা বলছেন, এই সময়কে ব্যবহার করে আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা হচ্ছে—যেখানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি ও অনুমোদিত কার্যক্রম নির্ধারণের মাধ্যমে বাস্তবতা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছে।

    পুরোনো জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে স্থাপিত ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুসারে পরিচালিত হতে বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মসজিদের প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা উচিত। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এই নিয়ম লঙ্ঘন করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের মসজিদে প্রবেশ ও প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়ে এসেছে, অনেকে তাদের সম্মতি ছাড়াই যাওয়ায় বিরক্তি বেড়েছে।

    মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়ার পরেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আবারও প্রায় প্রতিদিনের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং সেই সময়ও বাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার পরই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢুকছে; অনেককে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থনা ও নাচছে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের পূর্বে এই ধরনের প্রবেশ সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ হত—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত। এই নিয়ম ২০০৩ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়; তখন সীমিত সংখ্যক গোষ্ঠীকে সকালে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তী বছরগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

    ইরান-সংকটের আগে অনুমোদিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬:৩০ থেকে ১১:৩০ এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ৩:০০ পর্যন্ত, মোট ছয় ঘনাঘণ্টার বেশি সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বলেছে, এটি স্ট্যাটাস কোর ওপর নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ও সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার লক্ষণ, বিশেষ করে চারত্রিশ দিনের বিরতির পর মসজিদ পুনরায় খোলার পরিপ্রেক্ষিতে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তার নিহতের দাবি: পরিণতি ও প্রভাব

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তার নিহতের দাবি: পরিণতি ও প্রভাব

    বর্ণনা

    বহু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক আঘাত লেগেছে; অভিযোগ অনুযায়ী অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরিধি ও ধরন কেবল ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — বরং ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামরিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার কৌশলে গভীর ইঙ্গিত বহন করে। তবে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে এই ধরনের ঘটনাসমূহের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে; নীচের বর্ণনা মূলত বিভিন্ন প্রতিবেদনে থাকা দাবির সংকলন ও বিশ্লেষণ।

    ক্ষমতার কেন্দ্রেই আঘাত (প্রতিবেদনভিত্তিক)

    কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও এই হামলার শিকার হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব স্তরে শূন্যতার সৃষ্টি ঘটেছে, যা দেশীয় প্রশাসনিক ও সামরিক সমন্বয়ে বড় ধরনের জটিলতা ডেকে আনতে পারে। সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে—শীর্ষ পর্যায়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যক্তিদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ দেশটির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘাটতি তৈরি করেছে।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি

    রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড স্তরে একের পর এক বড় ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ধাক্কা সামরিক সমন্বয় ও অপারেশনাল সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রভাব পড়েছে সামরিক স্টাফ, অপারেশন প্রধান ও কৌশলগত প্ল্যানিং বিভাগে—ফলস্বরূপ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভাঙা এবং প্রতিক্রিয়া নেয়ায় সময় ও দক্ষতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আইআরজিসি ও আঞ্চলিক শক্তিতে প্রভাব

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু ছিল। আইআরজিসির কয়েকটি শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—প্রতিবেদিতভাবেই আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হলে এই কর্মসূচির গতি ও সক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে নৌবাহিনী ও সামুদ্রিক উপস্থিতি দুর্বল হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    গোয়েন্দা কাঠামোয় ধ্বস

    রিপোর্টগুলোতে ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও গুরুতর ক্ষতি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হত্যা ও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহকারীর মৃত্যু গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয়হীনতা ও আভ্যন্তরীন দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। ফলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।

    পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্যবস্তু

    কিছু রিপোর্টে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরপর হামলায় পারমাণবিক প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মূলের মাধ্যমে ওই কার্যক্রমে পরিচালকীয় স্তরে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা দেখায়—যা সুপরিকল্পিত এবং তথ্যভিত্তিক অপারেশন হওয়া নির্দেশ করে।

    কুদস ফোর্স ও প্রক্সি নেটওয়ার্কে প্রভাব

    কয়েকটি সূত্রে বলা হয়েছে কুদস ফোর্স ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করা হয়েছে; এর ফলে সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের সক্রিয়তা ও নির্দেশনামূলক ক্ষমতা ক্ষীণ হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি প্রক্সি ইউনিটগুলোর সমন্বয় ও নেতৃত্ব প্রদানে ফাঁক তৈরি করতে পারে।

    অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব

    প্রতিবেদনগুলো বলছে যে বাসিজ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষতির ফলে স্বাধিকার ও বিক্ষোভ দমন ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। এগুলো দেশের অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

    কৌশলগত মূল্যায়ন ও প্রতিকূলতা

    জরুরি বিশ্লেষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলে: প্রথমত, উচ্চস্তরের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশনগুলি ইঙ্গিত করে যে প্রতিপক্ষের কাছে তথ্য-ভিত্তিক পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল; দ্বিতীয়ত, অপারেশনগুলো অত্যন্ত নির্ভুল ও পরিকল্পিত হওয়ায় উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলের ব্যবহার পরিলক্ষিত; এবং তৃতীয়ত, ধারাবাহিক নেতৃবৃন্দের ক্ষতি ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতাকে দূরপ্রসারীভাবে দুর্বল করতে পারে।

    ভবিষ্যৎ পথ

    ইরানের সামনে এখন দুইটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—কেনা নতুন নেতৃত্ব বিকাশ করা এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কৌশল ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের প্রয়াসও জরুরি। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের নীতিনির্ধারণ ও স্থিতি পুনর্গঠন জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রদক্ষিণ হতে পারে।

    সতর্কতা

    উপরের বিশ্লেষণটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিবেদনে থাকা দাবির ভিত্তিতে পুনর্লিখন; নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যু ও ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে সরকারি বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই ঘটনাগুলো সম্পর্কিত চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও স্থির উপসংহার টানা রিপোর্টিং ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করবে।