সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের ভক্তকরো সমাবেশে জনসমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপি প্রধান তারেক রহমান নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা নিশ্চিত করে মঞ্চে উঠেন। তার উপস্থিতি মুহূর্তে পুরো এলাকাজুড়ে উচ্ছ্বাসের ঝঙ্কার উঠে আসে, করতালির মধ্যে তারেক রহমান মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং হাত নেড়ে উত্তর দেন। মঞ্চে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ছয় দিন ধরে চলমান প্রচারণা আজ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে, যা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সকাল থেকেই সিলেটের চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, মেডিকেল সড়ক, দরগা সড়কসহ আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আনাগোনা চোখে পড়ে। ছয়টি নির্বাচনি আসনের প্রার্থী এবং সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীসহ হাজারো নেতা-কর্মী এই সমাবেশে অংশ নেন, যেখানে তারা তাদের জলস্থল সমর্থকদের সঙ্গে মিলিত হন। পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়, যা এক বিশাল গণসমাবেশে পরিণত হয়।
Category: জাতীয়
-

রিট খারিজ, গফুর ভূঁইয়া কুমিল্লা-১০ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হাইকোর্টে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনে (লালমাই-নাঙ্গলকোট) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতার রায় ঘোষণা করেন। আদালত এই রিট খারিজ করে দেন, ফলে তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম এই আদেশ imagine করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, অভিযোগকারী প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি এই বিষয়ে আপিল করেছিলেন। তারপরে, ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন একাদশে আপিলের শুনানি শেষে গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২০ জানুয়ারি, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করে। তার বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন ভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা, আর মোটামুটি রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এই পরিস্থিতিতে, বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতা পেয়েছেন, যা মূলত তার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে।
-

গণতন্ত্র কেবল জাতীয় নয়, স্থানীয় পর্যায়েও কার্যকর করতে হবে : তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রের ধারণা কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় বা জাতীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নয়, সেটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থারও অঙ্গ হিসেবে কার্যকর হতে হবে। তিনি emphasize করেন যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় পর্যায়ের কমিউনিটিতে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা ছাড়া নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে ‘সিলেটে দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথ-pacedন করেন তিনি। সেখানে তরুণদের অনুভূতি ও মতামত শুনে তাদের জন্য দিকনির্দেশনা দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘হাজার বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের চর্চা করে আসছি, আর উন্নত দেশগুলো দেখলাম—ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের সক্রিয়তা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সংখ্যা দাঁড়ায় খুবই কম, যার ফলে অনেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমিত সম্পদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হয়।
তারেক রহমান বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ, বাজেট ও টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিয়ে থাকে। কিন্তু রোগীরা সেই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পায় না। তাই এই সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত গণমুখী উদ্যোগ হিসেবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন সম্ভব নয়, তবে উন্নত দেশগুলোর মতো নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা দরকার।
প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এতে ঘরে ঘরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে এবং হাসপাতালে চাপ কমবে।
বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে যায়, তাদের মধ্যে অনেকই অদক্ষ। এর ফলে তারা দেশের অর্থনীতি থেকে পর্যাপ্ত অবদান রাখতে পারেন না। তাই কারিগরী ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হবে, যেখানে ভাষা শিক্ষাও যুক্ত থাকবে, যাতে তরুণরা জাপান, ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দক্ষ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হন।
নারী ক্ষমতায়নের বিষয়েও তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে মানোন্নয়নশীল প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা শুরু হয়, যা আজ বড় অগ্রগতি দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার পরিকল্পনা করছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর, যা পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ অর্থ বা খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা অর্থ লাভ করলে তা সন্তান শিক্ষায়, পরিবারের স্বাস্থ্যে ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করে মাতৃত্ব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হয় এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেশবিদের সঙ্গে সংবাদ দিচ্ছেন, পরিবেশের সুরক্ষার সঙ্গে গণতন্ত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার থাকলে শহরের ময়লা ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মতো সমস্যা সহজে সমাধান সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ৮০ কোটি গাছের বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি নার্সারির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চারা বিতরণ করা হবে।
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি বাস্তবতা, তবে অন্যায় হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের জন্য বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা দিতে হবে যাতে তারা প্রকৃত সুবিধা পায়।
-

রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের ফ্ল্যাট সিলগালা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার প্রেক্ষিতে সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অবঃ) জিয়াউল আহসান এবং 그의 স্ত্রীর নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে জলসিঁড়ি প্রজেক্টের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত আটতলা ভবন ‘জয়িতা’-র তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটটি সিলগালা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ।
প্রশাসন জানিয়েছে, ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া থাকায় এবং সেখানে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করায় সেগুলো আপাতত সিলগালা করা হয়নি। অভিযানে পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পেছনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ এপ্রিল আদালত জিয়াউল আহসানের নামে থাকা এক বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি এবং তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার নামে থাকা নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেন, যেগুলোতে জমা থাকা অর্থের মোট পরিমাণ এক কোটি ২৮ লাখ টাকা বলে বলা হয়েছে। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ জাকির হোসেন বিভিন্ন কৃষিজমিও জব্দের আদেশ দেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের নামে একটি আটতলা বাড়ি, বরিশালে একটি বাগানবাড়ি, একটি একতলা বাড়ি ও নির্মাণাধীন আরেকটি আটতলা ভবন রয়েছে। তার তিনটি ফ্ল্যাট আছে—মিরপুর, উত্তরা ও মিরপুর ডিওএইচএসে।
দুর্নীতির অভিযোগের সূত্রে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদক জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, তার আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অর্থ স্ত্রীর সহায়তায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
দুদকের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
-

টিআইবি: ত্রয়োদশ নির্বাচনে ইসলামপন্থি প্রার্থীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ডা. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, মোট প্রার্থীর কাছাকাছি ৩৬ শতাংশের বেশি একই ধরনের দল থেকে এসেছে—গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ হার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির আয়োজিত ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি ও ধর্ম একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় সুষ্ঠু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়ছে। ‘‘ক্রমশ সুস্থ রাজনৈতিক ধারার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে; অসুস্থ রাজনীতির ধারক–বাহকরা সেই খালি জায়গা দখল করে নিচ্ছে,’’ তিনি মন্তব্য করেন।
প্রার্থী ও সম্পদ সংক্রান্ত কিছু সমস্যার ওপরও মনোনিবেশ করেন তিনি। তিনি জানান, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ৫০ একরের বেশি জমি রাখতে পারার কথা নয়; কিন্তু এই সীমা লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলের সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান এখনো আমাদের জামানত আইন বা নির্বাচনশাসনতন্ত্রে নেই। সে কারণে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে টিআইবি সীমাবদ্ধতা দেখছে। তবু তিনি অনুরোধ করেন, যে কেউ বৈধ সীমা লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, অবৈধভাবে অধিক জমির মালিক যারা হয়েছেন তাদের অতিরিক্ত সম্পদ ও জমি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করে রাজনৈতিকভাবে ভূমিহীণদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করার সুপারিশ রয়েছে।
টিআইবির দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, এ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনীতিক দল অংশ নিয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১,৯৮১ জন। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘‘প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নগণ্য। জুলাই মাসে প্রস্তাবিত পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থীর লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক দলই পূরণ করতে পারেনি।’’
অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থীর সংখ্যা নিয়েও টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুসারে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫১ জন। অন্য একটি পরিমাপে ২৭ জনকে শতকোটিপতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আনমতে দু’জন প্রার্থীর বিষয়ে টিআইবির কাছে বৈধ দ্বৈত নাগরিকতার তথ্য অনুসারে তারা বিদেশি নাগরিকত্বধারী বলে সন্দেহ আছে, কিন্তু তারা হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি; টিআইবি দাবি করেছে তারা ব্রিটিশ নাগরিক। এক প্রার্থীর নিজের বিদেশি সম্পদের তথ্য না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্যও প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলণে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুর আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক ও সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।
-

মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম
রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ক্ষতিগ্রস্ত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবিদুর রহিম (১২) শেষ পর্যন্ত ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন ২১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আবিদ এখানে চিকিৎসাধীন ছিল—মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন। ওই সময়ে তাদের ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আবিদ ছিল তাদের মধ্যে সর্বশেষ রোগী। তার দেহের প্রায় ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আঘাতের সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন, মুখ পুড়ে যাওয়া এবং দুই হাত জঘন্যভাবে পোড়ার মতো জটিলতা ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের সারির পাশে ছিল।
অধ্যাপক নাসির জানান, আবিদের অবস্থার তীব্রতা দেখে প্রথমে তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখা হয় এবং এরপর ছয় দিন হাইডি-পেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা চালানো হয়। মোট ১৭২ দিন কেবিনে থাকার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে তিনি ছাড়পত্রের যোগ্য হন। দুই হাতে গুরুতর ক্ষতির কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়েছিল—চামড়া কেটে বিভিন্ন শল্যচিকিৎসা করে হাত রক্ষা করা হয়। পুরো চিকিৎসার সময় তার শরীরে মোট ৩৫টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে; ছোট ধরনের অপারেশন ছিল ২৩টি এবং চামড়া লাগানো হয়েছে ১০বার। মূলত মুখ ও হাতের ফ্ল্যাপ কাভারেজ করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় হাসপাতালের শয্যায় থাকার কারণে সূর্যালোক ও বাড়ির পরিবেশ থেকে দূরে থাকায় শরীরে বিভিন্ন গ্রাফিক্যাল ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল; সেগুলো কাটাতে এখন নিয়মিত থেরাপি প্রয়োজন। সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি চেষ্টা করছে যেন আত্মীয়-পরিজনদের কাছে ফিরলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও থেরাপি নেওয়া চালিয়ে যেতে পারে।
পরিচালক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন—আবিদ আজ বাড়ি যাচ্ছে। এই চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন—চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী—তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অনেক সময় আমাদের ডিউটির সীমা ছিল না, সবাই স্বপ্রণোদিত ভাবে কাজ করেছেন। পরিবারের পক্ষেও অনেক ত্যাগ সহ্য করা হয়েছে; তাদের সহযোগিতাও ছিল অভিনন্দনীয়।” তিনি জানান, সরকার এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করার নির্দেশ থাকার কারণে হাসপাতাল কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান নেয়নি।
অধ্যাপক নাসির আরও বলেন, মাইলস্টোন ঘটনার মতো বড় বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এমন মানসম্পন্ন চিকিৎসা সরবরাহে প্রস্তুত থাকতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তিনি জানান, যারা এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন তাদের অন্তত দুই বছরেরও বেশি সময় নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে হতে পারে; এজন্য একটি বিশেষ সেলও খোলা হয়েছে যেন চিকিৎসার যেকোনো সমস্যা থাকলে সমাধান দেওয়া যায়।
আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম আজাদ আবেগভরে বলেন, “আমার ছেলে আজ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছে—এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আজ কেমন লাগছে?’ সে বলল, ‘বাবা, আজ আমার ঈদের মত লাগছে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় আমি অভিভূত।” তিনি আরও জানান, ছেলেটি কৃতিষ্ঠভাবে বিশেষ এক চিকিৎসককে ‘অদ্ভুত ডাক্তার’ হিসেবে ডাকত—তার নাম ফোনে সেইভাবেই সেভ আছে।
আবু কালাম সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আহত ও নিহতদের জন্য যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল তা এখনও ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। ছেলেকে বাড়ি পাঠানোর পরে আরও অনেক চিকিৎসা-বিকল্প অপেক্ষা করছে, যেগুলোর ব্যয় পরিবার বহন করতে পারবে না—সেজন্য তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আবিদ নিজেও কথা বলার চেষ্টা করেন; “আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি” বলে কেঁদে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেকে আহত হন—জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
-

ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নগদও: ওসমান হাদির পরিবার পাচ্ছে মোট ২ কোটি টাকা
সরকার শহীদ শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা ও বাসস্থানের সহায়তার জন্য মোট দুই কোটি টাকা দেবে। এর মধ্যে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য আলাদাভাবে নগদ এক কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নয়—বৈঠকে—আজ (বুধবার) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জীবনযাপনের খরচ হিসেবে আলাদাভাবে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। ফলত পরিবারের মোট সহায়তা দুই কোটি টাকা হবে।
ফ্ল্যাটটি ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ‘দোয়েল টাওয়ার’ সম্মিলিত আবাসিক ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের একটি ইউনিট। এ ফ্ল্যাট কেনার জন্য অনুদান অনুমোদনের নথিপত্র অর্থ বিভাগের তরফ থেকে গতকাল মঙ্গলবার অনুমোদন করা হয়। সূত্র জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ অনুদানের জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং অর্থ বিভাগ স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় নিশ্চিত করার শর্তে আবেদন মঞ্জুর করেছে।
পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী ঘটনার প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। গণপ্রতিরোধ চিত্রে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরপরই ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করা হয়; পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টায় তিনি মারা যান।
ওসমান হাদির হত্যার মূল অভিযুক্ত ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম বর্তমানে ভারতে পালিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন যে রাষ্ট্র তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং ঘটনার পরে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।
এদিকে ওই পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি খবর—শহীদ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদি ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ উচ্চকমিশনের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে করা হয়।
-

ফ্ল্যাটের পর নগদ ১ কোটি: ওসমান হাদির পরিবারকে দেবে সরকার
সরকার শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা নির্বাহের জন্য আরেকটি নগদ ১ কোটি টাকা দেবে, যার ফলে পরিবারটি মোট দুই কোটি টাকা পাচ্ছে। এই তথ্য বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়‑সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে অর্থ বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনতে এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। ওই অনুদান দিয়ে লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’ নামে সরকারি আবাসিক ভবনে ১,২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনা হবে; সেটি ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানরা ব্যবহার করবেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটের জন্য যে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে অর্থ বিভাগ, আরেকটি পৃথক এক কোটি টাকা এসেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে — সেটা পরিবারের দৈনন্দিন জীবিকার খরচ মেটানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে। সূত্র বলেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ফ্ল্যাট কেনার জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল এবং অর্থ বিভাগ স্ত্রীর ও সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্তে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
পটভূমি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়েছিল। পরে ঢাকায় চিকিৎসার পর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
ওসমান হাদির হত্যাকারী মামলার প্রধান আসামি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম পুলিশের তথ্যানুযায়ী ভারতে পালিয়ে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের শোক পালন করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক ভাষণে রাষ্ট্র পরিবারের দায়িত্ব নেবে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এছাড়া সংবাদে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সরকারি এই অনুদান ও আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত পরিবারকে অনিশ্চিত সময় সামলাতে সহায়তা হিসেবে এসেছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
-

মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস চিকিৎসা ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল ১২ বছরের আবিদুর রহিম
রাজধানীর উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২) ছয় মাসের চিকিৎসা ও মোট ৩৫টি অপারেশনের পর শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরেছেন। আবিদ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন এখানে চিকিৎসা সেবা নেয়েছেন। রহিম ছিলেন যেদের মধ্যে সর্বশেষ যারা এখান থেকে রিলিজ পেলেন।
পরিচালক জানান, আবিদের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শতাংশটি কম বলে মনে হলেও তার সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন ছিল, সঙ্গে ফেস ও দুই হাত দগ্ধ হওয়ায় জটিলতা আরও বেড়েছে। ঘটনার সময় সে ক্লাসরোমের সামনের অংশে অবস্থান করছিল। তার অবস্থা প্রথম দিকে ক্রিটিক্যাল ছিল; পাঁচ দিন তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, এরপর ছয় দিন হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয় এবং পরে ১৭২ দিন কেবিনে চিকিৎসা হয়েছে।
আবিদুর রহিমের দুই হাতের ক্ষত রক্ষা করতে বিশেষ অস্ত্রোপচার করা হয়—চামড়ার ক্ষতিমুক্ত অংশ কেটে শল্যচিকিৎসা করা হয়। মোট ৩৫ বার শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তন্মধ্যে ছোট ধরনের শল্যচিকিৎসা ২৩ বার এবং চামড়া লাগানো (স্কিন গ্রাফট) ১০ বার হয়েছে। মুখ ও হস্তে ফ্ল্যাপ কভারেজও করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকায় সূর্যালোক পাবার সুযোগ পায়নি, ফলে শরীর বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতির মুখে পড়ে; তার নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চলবে যাতে বাড়িতে যাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা যায়।
পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, আজ থেকে আবিদ বাড়ি ফিরছে—এটা আমাদের আনন্দের দিন। তিনি চিকিৎসা টিম, নার্স, হাসপাতালের কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধরনের চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করেছে, তাই প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও বিশেষ উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আরো উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়াল নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে ইতোমধ্যে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা ও সাংবাদিকদের সমর্থন কামনা করেন।
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, যারা এখন পর্যন্ত ছেড়ে গেছেন তাদেরও অন্তত দুই বছর নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে। রিলিজ হওয়া রোগীরা হাসপাতালে সপ্তাহে বা পনেরো দিন পর এবং মাসিকভাবে এসে থেরাপি নেবেন। হাসপাতালে একজন বিশেষ সেলও আছে, যেখানে যাদের চিকিৎসায় সমস্যা বা অতিরিক্ত সহায়তা লাগবে, তাদের জন্য সমন্বয় করা হবে।
আবিদুর বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘ছেলেটি ছয় মাস চিকিৎসা নিয়ে আজ বাড়ি ফিরছে—এ কঠিন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’’ তিনি জানান, ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলে আবিদ বলেছিল, ‘‘বাবা, আজ আমার মতো ঈদের দিন মনে হচ্ছে।’’ বাবার ভাষায়, চিকিৎসক, নার্স ও সকলের সহায়তায় তিনি অভিভূত। তিনি চিকিৎসক জহিরকে ছেলের দেওয়া বিশেষ নামে স্মরণ করেন। আবিদ আগে ক্লাসে এক থেকে পাঁচের মধ্যে রোল করত এবং নিয়ম করে মসজিদে নামাজ আদায় করত; দুর্ঘটনার ফলে গত ছয় মাস ধরে নামাজও করা হয়নি।
আবুল কালাম আজাদ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নিহত ও আহতদের যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল থেকে রিলিজের পরও যাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরকার, তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করে ওঠা তাদের পক্ষে কঠিন। তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ রি-নির্ধারণ ও দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান জানান।
রিলিজের সময় আবিদ সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে যেয়েছিলেন; তিনি ‘‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’’ বলেই আবেগে ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। এই সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান ও অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হলে বিপুল ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং বহুজন আহত ছিলেন; সর্বমোট ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
-

মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরেছেন আবিদুর রহিম
রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির leerling আবিদুর রহিম (১২)। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিলিজ পেয়েছেন, খবরটি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে।
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মোট ছয় মাস—প্রায় ১৮০ দিন—চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। রহিমের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ছিল; এ ছাড়াও তিনি ইনহেলেশান বার্নে ভুগেছেন এবং মুখ ও দুই হাতে দাগ ও পোড়া ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের দিকে বসেছিল।
রফিক জানান, তার অবস্থাও ছিল ক্রিটিক্যাল—শুষ্কভাবে বলতে গেলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল পাঁচ দিন, এরপর হাই-ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ছয় দিন এবং কেবিনে প্রায় ১৭২ দিন চালিয়ে চিকিৎসা ক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। দুই হাতের তত্পরতার কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়—অর্থাৎ নষ্ট হওয়া চামড়া অপসারণ করে হাত রক্ষা করার প্রয়াস নেয়া হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে তিনি ৩৫টি অস্ত্রোপচারের মধ্যে পড়েছেন; এর মধ্যে ২৩টি ছোট ধরনের অপারেশন এবং চামড়া প্রতিস্থাপন বা গ্রাফটিং করা হয়েছে ১০ বার। মুখ ও হাতের ফ্ল্যাক কভারেজের কাজও করা হয়েছে।
পরিচালক বলেন, এতদিন হাসপাতালের বেডে থাকার ফলে সূর্যালোক পায়নি এবং শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা এসেছে; তাই বহুমুখী থেরাপি ও নিয়মিত ফলো-আপ প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং রহিম তাদের মধ্যে সর্বশেষ রিলিজ পাওয়া রোগী। তিনি চিকিৎসা দলের, নার্সদের ও অন্যান্য কর্মীদের আত্মনিয়োগী ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান—অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করেছে, ফলে হাসপাতাল বাইরে থেকে সরাসরি আর্থিক অনুদান নেয়া হয়নি।
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং মٹریয়াল ব্যবহার করতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ঘটনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উন্নত মানের উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা মন্ত্রণালয়ের কাছে বলা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদেরও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশ্বাস দেন যে চিকিৎসা সেবা না থেমে প্রয়োজনীয় সমস্ত থেরাপি ও সাপোর্ট দেওয়া হবে।
আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছেলেকে ছয় মাস চিকিৎসার পর বাড়ি পাচ্ছি—এ কথাটি ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। ছেলে বলেছে, ‘আজকে আমার ঈদের মতো লাগছে।’ তিনি হাসপাতাল স্টাফদের সহনশীলতা ও যত্নের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সরকারের কাছে তিনি আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে বলেন, ঘোষিত ক্ষতিপূরণ এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যতে প্রচুর চিকিৎসা ব্যয় ভুগতে হতে পারে, যার দায়িত্ব তারা একা বহন করতে পারবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে আবিদ আবদারভাবে বলেন, ‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’—এই কথাই বলে তিনি কেঁদে ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর পড়ে বিধ্বস্ত হলে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং অসংখ্য আহতের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন চিকিৎসা নেন। ইনস্টিটিউট বলেছে, যারা ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছেন তাদেরও অন্তত দুই বছর নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলো-আপ প্রয়োজন হবে।
