সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের নির্বাচনের истин অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: মির্জা ফখরুল জোটের আসন সমঝোতা দু-একদিনের মধ্যে: জামায়াত আমির জামায়াতের নির্বাচন ও প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা জামায়াতের আমিরের সতর্কবার্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেকানিজম হলে পালাতে হবে বাধ্য হয়ে বিএনপি প্রার্থী আন্দালিভ পার্থের কাছে আসন ছাড়ল বিএনপি
ট্রাম্প পাকিস্তানের দিকে যেন ঝুঁকছেন, ভারত নজরে রাখছে পরিস্থিতি

ট্রাম্প পাকিস্তানের দিকে যেন ঝুঁকছেন, ভারত নজরে রাখছে পরিস্থিতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন গতি লাভ করছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মনিরের হোয়াইট হাউজ সফর এবং ট্রাম্পের প্রতি তাদের প্রশংসাসূচক বক্তব্য এই ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল আরও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো। জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে পরিবেশন করেছে এর বিস্তারিত খবর।

গত জুলাই মাসে পাকিস্তানের জন্য শুল্কহার কমানোর বিনিময়ে জ্বালানি, খনিজ এবং কৃষি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর হয়, সেই জন্য শাহবাজ শরিফ হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। ওভাল অফিসের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ। সেখানে দেখা গেছে, সেনাপ্রধান মনির ট্রাম্পকে বিরল মৃত্তিকা খনিজে ভরা একটি বাক্স উপহার হিসেবে দেন। এই বছর এটি মনিরের দ্বিতীয় মার্কিন সফর।

যদিও ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী পাকিস্তানে বিশাল তেলের মজুত থাকার কথা সন্দেহের বাইরে নয়। তবে জুলাই মাসের চুক্তির সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ভারত ‘একদিন পাকিস্তানের তেল কিনতে পারে’। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বেশ ব্যঙ্গের মোড়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি, শরিফ ট্রাম্পকে ‘শান্তির মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মিরে ভারতীয় পর্যটকদের ওপর হামলার ফলে সৃষ্ট স্বল্পকালীন সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সহজ করতে ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে, ভারত এই যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের কোনও ভূমিকা থাকার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছে। মনির তো ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ারও যোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। এমন সময়ে হোয়াইট হাউজে পাকিস্তানের এই উত্থান, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের আগোবারুত্বে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার প্রত্যাশা থাকলেও, বর্তমানে দুই নেতার মধ্যে দুরত্ব লক্ষ্যণীয়। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেও রাশিয়ার তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে ৫০ শতাংশ শুল্ক রেখেছে, তা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এতে ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে। নয়াদিলির অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রধান হর্ষ পন্ত বলেন, যদি পাকিস্তান মার্কিন কৌশলের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তবে ভারতের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঙ্গনে কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে, তা প্রভাবিত হবে। কোয়াড জোটসহ চীনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, যদি একজন দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হয়, তা উভয়ের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের এই নতুন জোট ভারতের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে, ভারতের সাবেক দূত অজয় বিসারিয়া মনে করেন, এই মুহূর্তে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা খুব বেশি চিন্তিত নন। তিনি বলছেন, পাকিস্তান নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিত বজায় রাখতে সচেষ্ট। তিনি আরও বলেছেন, এই সম্পর্কের স্থায়িত্ব থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর অস্পষ্টতার ছায়া থাকবেন।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত মীরা শঙ্কর মনে করেন, ট্রাম্প উভয় দেশের প্রতি কার্যকরীভাবে লেনদেনের দৃষ্টিভঙ্গি জলাঞ্জলি দেননি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তান নানা সুবিধা নিয়ে নিজেকে ‘প্রয়োজনীয়’ হিসেবে দেখাতে শিখেছে। তবে তাঁরা মনে করেন, মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কের এই দুর্বলতা সময়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। ভারতের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার জন্য কিছু থাকলেও, তারা মনে করেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে না।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিন অমিতাভ মাত্তু বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অনেক পুরনো। স্নায়ুযুদ্ধ থেকে শুরু করে নানা সময়ে তারা আবারও একে অপরের কাছাকাছি আসছে।’ তিনি বলছেন, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের দ্বৈতনীতি সম্পর্কে অধিক সচেতন হয়ে উঠছে এবং ভারতের প্রতি আরও নিবেদিত। তবে, এর অর্থ এই নয় যে ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে একেবারে কব্জায় নিয়েছে; বরং তারা হেজিং কৌশল অবলম্বন করছে, বিষয়টি এখনও অস্থির।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd