Blog

  • কানাডায় ফের গুলির ঘটনা, কপিল শর্মা ও ক্যাফে মালিককে হুমকি

    কানাডায় ফের গুলির ঘটনা, কপিল শর্মা ও ক্যাফে মালিককে হুমকি

    কানাডার সারে শহরে কপিল শর্মার ক্যাফের ঠিক পাশের একটি প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিতর্কিত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    ঘটনাস্থল ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের ‘চাই সুট্টা বার’ নামক ক্যাফে, যা কপিল শর্মার মালিকানাধীন ‘ক্যাপস ক্যাফে’র সোজাসুজি পাশেই অবস্থিত। একই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কপিল শর্মা এবং ক্যাফে মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি ‘টাইসন বিষ্ণোই জোরা সিন্ধু’ নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে, তাদের নির্দেশ অমান্য করলে কপিলের রেস্তোরাঁও একই পরিণতির সম্মুখীন হবে।

    তবে এই পোস্টের আইনগত সত্যতা এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনও স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারীদের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণের রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে আপাতত নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি মেলে না। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    এর আগেও কপিল শর্মার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে উদ্বোধনের কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে খলিস্তানি সমর্থকদের একটি হামলার খবর উঠে আসে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে ধারাবাহিকভাবে তিনটি ঘটনাতে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম জড়িয়ে একই ক্যাফে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনা এবং সামাজিকমাধ্যমের হুমকিসহ সব দিক আইনানুযায়ী তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন—এটাই স্থানীয়ভাবে আশঙ্কা ও দাবি।

  • এনসিপি: বিএনপি সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে — ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বাধ্যতর করতে হবে

    এনসিপি: বিএনপি সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে — ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বাধ্যতর করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে; তাই সরকারের বিরুদ্ধে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বাধ্যতর করার দাবি তুলেছে দলটি।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার।

    প্যানেলিস্ট হিসেবে মন্তব্য করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশনটি জাতীয় নারীশক্তি আহ্বায়ক মনিরা শারমিন পরিচালনা করেন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই স্পষ্ট হয়েছে যে এটি ‘‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’’. তিনি প্রতিষ্ঠার এমন আইন-কেন্দ্রিক উদাহরণ তুলে ধরেন, যেগুলো সরকারের ক্ষমতা বাড়ায় কিন্তু জবাবদিহি নিশ্চিত করা থেকে সরে যায়। তাঁর কথায়, ‘‘যেসব অধ্যাদেশ সরকারের ক্ষমতা বাড়াবে, সেগুলো তারা আইন করে ফেলেছে; আর যে সকল ব্যবস্থা সরকারকে জবাবদিহি নিশ্চিত করত, সেগুলো বাতিল বা ল্যাপস করে ফেলা হয়েছে।’’

    হান্নান একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, পূর্বে নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরাতে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করে শেষমেষ তা আইন করা হয়েছে, যার ফলে প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্বিচারে প্রয়োগ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করা যায়। তিনি বলেন, ‘‘বিরোধী দলের কাউকে অপছন্দ হলে তাকে সরিয়ে পছন্দমতো প্রশাসক বসানোর রাস্তা খুলে গেছে।’’

    ব্রিফিংয়ে বলা হয়, পুলিশ কমিশন একসময় বিএনপির প্রস্তাবনামূলক ধারায় গঠিত হলেও সরকারে গিয়ে তা বাতিলের পথে; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি থেকেও সরে এসেছে সরকার। এসব পরিবর্তনকে তারা সরকারের প্রতিশ্রুতিভঙ্গ হিসেবে দেখেছেন। এনসিপি নেতা আরো বলেন, সংবিধান সংস্কারের কথাও বিএনপি ছাড়া অন্য দিক থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে, ফলে তাদেরকে নতুন সংবিধানের দাবি করার পথে ফিরে যেতে হবে বলেও ইঙ্গিত দেন।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলো মিলে দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, ‘‘২৪-এর অভ্যুত্থানের পর আমাদের দেখা হয়েছে প্রতারণামূলক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার, যেখানে অভ্যুত্থানের পর যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি দেশের রাজনৈতিক, সিভিল ও মিলিটারি এলিট ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নয় বলেও মন্তব্য করেন।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান ‘‘জুলাই সনদ’’কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য বলে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য, সনদের মূল লক্ষ্য ছিল বিচার, শাসন ও নির্বাহী—এই তিন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, সংস্কার পরিষদের প্রাথমিক প্রস্তাবগুলোর অনেকটা র্যাডিক্যাল ছিল; উদাহরণ হিসেবে একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবে না—এমন নীতি ছিল, কিন্তু বিএনপির চাপের কারণে কিছু অংশে সমঝোতা করতে হয়েছে। তবে যেটুকু রক্ষা আছে সেটাও বড় অর্জন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘‘বিএনপি সরকার বাস্তবে সংস্কার করতে চায় না।’’ তিনি বলেন, অনেকেই বিএনপিকে কিছুটা সময় ও সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এ কথাই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সরকার সংস্কারের পথে নেই। তুষার আরও বলেন, দলীয় ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লোক বসিয়ে দলীয়করণ করে সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

    সেশন সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথাই বললেও ঐকমত্য কমিশনে মূল বিষয়ে সবাই যে একমত ছিল—তার ওপর আলোকপাত জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণভোট বা রেফারেন্ডামের যে চারটি প্রশ্নে বিএনপির আপত্তি আছে, সেগুলো স্পষ্ট করা উচিত; কারণ বহু বিষয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারের সীমার মধ্যে রয়ে বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া যাবে। আখতার বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে বেসিক স্ট্রাকচার লঙ্ঘন করা হলে তা টেকসই হবে না; তাই সংসদীয় সংশোধনী আর নতুন সংবিধানের মাঝে মধ্যপন্থা হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু বিএনপি এখন তা থেকে দূরে সরে এসেছে।

    কনভেনশনে বক্তারা সরকারের বৈরাষ্ট্রনীতিক সিদ্ধান্ত, অর্থনীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তড়িঘড়ি করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানান।

  • ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড

    ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকেকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

    রোববার (৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম এই আদেশনামা জারি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসু দোয়া সুমন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বিষয়টি তদন্ত করছেন বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন। তিনি গত বুধবার আদালতে আসামি সুদীপের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানি রোববার অনুষ্ঠিত হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে জানিয়েছে, ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা রাতে একটার দিকে একটি চ্যাট দেখার পর অভিযোগ করেছেন। তদন্তে ওই চ্যাট পরীক্ষা করলে ভিকটিম ও আসামির মধ্যে সম্পর্কের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন — তাদের আর্জি ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সুদীপের কাছে ভিকটিমের বন্ধু হানি ও অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল এবং প্রশাসন বলেছে এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপুর্ণ।

    অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তারা আদালতে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাওয়ার পক্ষে কটু প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং ডিজিটাল তথ্য কিছুও কখনো কখনো ম্যানিপুলেশনযোগ্য হতে পারে। আসামিপক্ষ পেনড্রাইভে ভিকটিমের মা ও বান্ধবীর একটি ২১ মিনিটের অডিও রেকর্ডিং জমা দেন, যার দাবী— সেখানে বান্ধবী মাকে জিজ্ঞেস করছিলেন ‘এখনো কি মিমো ব্লেড দিয়ে শরীর কাটে?’—এসব থেকে বোঝা যায় ভিকটিম মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন।

    আসামিপক্ষ আরও বলেন, ভিকটিমের আগে একটি বিয়ে ছিল এবং তিনি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িত ছিলেন; প্রায়ই জুনিয়র ছেলেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো—এসব কথোপকথন তাদের দাখিল করা অডিওতে রয়েছে। এজন্য অভিযুক্ত সুদীপ কেবল পারিবারিক অনুরোধে তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করতেন এবং নির্দেশগতভাবে আলাদা নজরদারি বা ‘সফট কর্ণার’ রাখতেন। তার পক্ষে বলা হয়, সুদীপ একজন মেধাবী শিক্ষক এবং তিনি নির্দোষ; তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তা জেলগেটে করলেই হবে, রিমান্ডের প্রয়োজন নেই—তারা বলেছিলেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মিমোর সঙ্গে সুদীপের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং ঘটনার আগে (২৬ তারিখ রোববার) মিমোর সঙ্গে একটি ভিডিও কলে কথা হয়—সেখান থেকেই আত্মহত্যার প্ররোচনার সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ড আবশ্যক বলে জানানো হয়।

    ঘটনার ভুক্তভোগী মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন। নিজের কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়; চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল— “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…”।

    বিকালে নিহতের বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সুদীপকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এখন তদন্তকারীরা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিজিটাল এবং বাকি প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার সূচনালগ্ন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের চেষ্টা করবেন।

  • তেলপাম্পে লম্বা সারি কেন উধাও হলো: প্রশ্ন তুলেছেন আখতার হোসেন

    তেলপাম্পে লম্বা সারি কেন উধাও হলো: প্রশ্ন তুলেছেন আখতার হোসেন

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর তেলপাম্পে দীর্ঘ যানবাহনের সারি হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যাওয়াকে অনুধাবনযোগ্য না বলে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

    শনিবার ঢাকার বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আখতার বলেন, দেশে দাম বাড়ার আগে তেল পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যেত, কিন্তু দাম বাড়ানোর পর সেই সারি উধাও হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করে।

    সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন গভীর রাজনৈতিক দিকগুলোতেও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের স্পষ্ট মতামত থাকা সত্ত্বেও সরকার সেই রায় অস্বীকার করেছে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার দায়িত্ব পালন করেনি। তিনি বলেন, ‘‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছে; তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল এবং দ্রুত সংস্কার আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠন হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। গণভোটের রায়কে কখনো ‘প্রতারণার দলিল’, কখনো ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’’

    আখতার আরও বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য একটি উচ্চতর ও সমন্বিত কাঠামোর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, সেই চেতনা থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের ধারণা এসেছে এবং এটি আগে কোনো কোনো পক্ষই প্রত্যাখ্যান করেনি।

    ব্যাংক খাত নিয়েও উদ্বেগ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, তাদের জন্য সামান্য অর্থ ফেরত দিলেই মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের লুটপাটের পথ প্রশস্ত হবে।’’

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার জানান, রোববার সারাদিনব্যাপী এই বিষয়ক জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। কনভেনশনে বিভিন্ন সেশনে এনসিপি নেতারা ছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

    সম্মেলনে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য নেতা এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ছাত্রদল ঘোষণা করেছে ২৯টি কমিটি

    ছাত্রদল ঘোষণা করেছে ২৯টি কমিটি

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল একযোগে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ২৯টি কমিটি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে কিছু কমিটি নতুন গঠন করা হয়েছে, আর বাকিগুলো পূর্ণাঙ্গ, আংশিক পূর্ণাঙ্গ বা বর্ধিত আকারে অনুমোদিত হয়েছে।

    শনিবার (২ মে) কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় (৭টি): বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি; রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি; রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি; কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক কমিটি; পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটিতে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি; এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত কমিটি দেওয়া হয়েছে।

    মহানগর (৯টি): ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর পশ্চিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব—চলতি চারটি মহানগর ছাত্রদলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি; জামালপুর মহানগর ছাত্রদলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি; এবং কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে।

    জেলা (৫টি): নেত্রকোনা জেলা, নরসিংদী জেলা, হবিগঞ্জ জেলা, খাগড়াছড়ি জেলা এবং মানিকগঞ্জ জেলা—এসব জেলার ছাত্রদলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে।

    কলেজ (৫টি): জয়পুরহাট সরকারি কলেজে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি; ঢাকা কলেজে বর্ধিত কমিটি; আনন্দমোহন কলেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটি; নারায়ণগঞ্জ হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজে আংশিক কমিটি; এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    মেডিকেল কলেজ (৩টি): ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ এবং জামালপুর মেডিক্যাল কলেজে আংশিক কমিটি করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব কমিটি কেন্দ্রীয় অনুমোদনপূর্বক গঠিত। দলের স্থানীয় স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা ও কার্যক্রম গতিশীল করতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: বিজয়ী ও পুরস্কারের বিবরণ

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: বিজয়ী ও পুরস্কারের বিবরণ

    ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বোচ্চ প্রথম পুরস্কার ছয় লাখ টাকা জিতেছে সিরিয়াল নম্বর ০০০১০৩৫।

    দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা জিতেছে নম্বর ০০৪৭৭৪৮। তৃতীয় পুরস্কার—প্রতি পুরস্কার এক লাখ টাকা—জিতেছে দুইটি নম্বর: ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২। চতুর্থ পুরস্কার (প্রতি পুরস্কার ৫০,০০০ টাকা) পেয়েছে দুটি নম্বর: ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

    ড্রটি অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে; অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয়।

    এবারের ড্রে প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের মধ্যে ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) এই ড্র পরিচালিত হয়। যোগ্য বলে নির্বাচিত সিরিজগুলো হলো: কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ এবং ঘচ।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে পাবেন ৪০ জন জয়ী। তাদের নম্বরগুলো হলো: ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫।

    বিস্তারিত পুরস্কারপ্রাপ্তদের চেক ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চালানো হবে। বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় অফিস থেকে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জানানো হবে।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    চলতি এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার বা ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি পৌঁছেছে। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    এ তথ্য বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এপ্রিলের প্রথম ২৯ দিনে মোট রেমিট্যান্স ছিল ৩০০ কোটি ২০ লাখ (৩.০০২ বিলিয়ন) ডলার এবং শুধুমাত্র ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময় (এপ্রিল ২০২৫) এই অনুদান ছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    একের আগে মার্চে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে। ওই মাসে ৩.৭৫৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ) রেমিট্যান্স সংগ্রহ করা হয়েছিল। বছরের শুরুর দু’মাসেও রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে — জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান সুদৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর এখন এই প্রবাহ ধরে রাখা ও আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করার দিকে রয়েছে।

  • পাকিস্তানে কোরবানির ঈদ ২৭ মে হওয়ার সম্ভাবনা

    পাকিস্তানে কোরবানির ঈদ ২৭ মে হওয়ার সম্ভাবনা

    পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ ও চাঁদ দেখা সংক্রান্ত রুয়েত-ই-হিলাল রিসার্চ কাউন্সিলের বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ সম্ভাব্যভাবে ২৭ মে পালিত হতে পারে। এই তথ্যটি শনিবার (২ মে) সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ প্রকাশ করে।

    কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চাঁদ জন্ম হবে আগামী ১৬ ও ১৭ মে মধ্যরাতে সকাল ১টা ১৫ মিনিটে। ১৭ মে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স ১৮ ঘণ্টার বেশি হবে, ফলে আবহাওয়া পরিস্কার থাকলে সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাবে। তেমন হলে ১৮ মে হবে জিলহজের প্রথম দিন এবং ১০ই জিলহজ অর্থাৎ ২৭ মে (বুধবার) পালিত হবে ঈদুল আজহা।

    রুয়েত-ই-হিলাল রিসার্চ কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল খালিদ এজাজ মুফতি জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবে একই দিনে ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ১৭ মে করাচি, পেশোয়ারসহ কয়েকটি শহরে সূর্যাস্তের পর চাঁদ দিগন্তে প্রায় ৫৫ থেকে ৬৩ মিনিট পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে, যা খালি চোখে দেখা সম্ভব হবে বলেই তারা মনে করছেন।

    তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা ১৭ মে চাঁদ দেখা না গেলে জিলকদ মাস পূর্ণ ৩০ দিন ধরে চলবে। সে ক্ষেত্রে জিলহজের শুরু হবে ১৯ মে এবং ঈদুল আজহা এক দিন পিছিয়ে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পালিত হবে।

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস থাকলেও চাঁদ দেখা সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি। স্থানীয় চাঁদ দেখা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তারা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে এশিয়া পৌঁছল ইরানি সুপারট্যাংকার

    যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে এশিয়া পৌঁছল ইরানি সুপারট্যাংকার

    ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নজরদারি ও অবরোধ সত্ত্বেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছে গেছে ইরানের একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২০ মিলিয়ন (২২ কোটি) ডলার।

    বাংলা সময় রোববার (৩ মে) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স.কম এই তথ্য নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জাহাজটি ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির ঘাইত এবং এটি একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (VLCC)। ট্যাংকারট্র্যাকার্স পোস্টে জাহাজটিকে ‘হিউজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে এটি শ্রীলঙ্কার উপকূলে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে ট্যাংকারটি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি পার হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দর ও নৌপথের ওপর অবরোধ ঘোষণা করার সময় জাহাজটি ইরানের নিকটবর্তী জলসীমায় ছিল। সূত্রের বলা অনুযায়ী, জাহাজটি ২০ মার্চ মালাক্কা প্রণালি থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকেই তার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রেখেছে, ফলে এর অবস্থান লুকানো ছিল।

    আল জাজিরা ইরানের সংবাদমাধ্যম উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৫২টি ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা প্রায় ৪১টি ইরানসংশ্লিষ্ট জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

    ওয়াশিংটন জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর ছিল এবং এতে ইরানের তেল আয়ের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তারা মনে করছে ইরান সহজে তেল রপ্তানি করতে পারছে না এবং অনেক তেল জমিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে যতক্ষণ না তাদের সক্ষমতা শেষ বা উৎপাদন বন্ধ হয়।

    এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তেলের বাণিজ্যে চলমান উত্তেজনার এক নতুন ইঙ্গিত দেয়, যেখানে নজরদারি, সনাক্তকরণ সিস্টেম বন্ধ রাখা ও পথ পরিবর্তন—এসব কৌশল দ্বিপাক্ষিক টক্কার অংশ হয়ে উঠেছে।

  • নড়াইলে ৫ মামলায় পিরোলী ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা গ্রেপ্তার

    নড়াইলে ৫ মামলায় পিরোলী ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা গ্রেপ্তার

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পিরোলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জারজিদ মোল্যা (৫০) কে নাশকতাসহ মোট পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শনিবার দিবাগত রাতে (২ মে) পিরোলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রাম থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হলে, সোমবার (৩ মে) সকালেই কালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী গ্রেপ্তার তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জারজিদ মোল্যা বিভিন্ন সময় পিরোলী ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) দায়ে দায়ের করা তিনটি মামলা এবং নাশকতার অভিযোগে দুইটি মামলা রয়েছে।

    কালিয়া থানা পুলিশ জানান, শনিবার রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে।