Blog

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি এখন পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়েতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে তারা একই সংকট ভূগেছিল এবং তখন তারা মজলুমের ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু এখন বিএনপি নিজের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে এমনভাবে এগোচ্ছে যে, এটি স্বাধীনতার আন্দোলন ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

    ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি কোনওদিন আওয়ামী লীগ হতে পারবে না — সর্বোচ্চ হলে তারা দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারবে। যে আওয়ামী লীগ একসময় জাতিকে সামনে নিয়ে নীতির প্রতিফলন হতো, আজ তাদের কীর্তি ও পরিস্থিতি আলাদা; আর বিএনপি ঠিক সেই একই পথে হাঁটছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, কিন্তু সেই দফায় আজ সেদিনকার লাঠিয়ালরা পাশে দাঁড়ায়নি।

    রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের দিতে যে মৌলিক পরিবর্তন দরকার, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিএনপি বিরোধিতা করছে—এটি জাতির সাথে প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষত বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে, যা ডা. শফিকুরের মতে নিজস্ব বোধেরও অভাব প্রকাশ করে।

    জামায়াতে আমির শহীদ পরিবারের ত্যাগের কথাও স্মরণ করান। তিনি বলেন, যদি ওই সিদ্ধান্ত ও ত্যাগ না থাকতো, যদিওবলে, বিএনপি আজকের ক্ষমতায় এসে উপভোগ করতে পারত না। শোকাহত শহীদ পরিবারদের প্রতি বিএনপির মনোভাব, আন্দোলনের পরে তাদের অবহেলা—এসবকে তিনি কড়া আক্রমণ করেন।

    তিনি একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথাও তুলে ধরেন—জেলের সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা স্মৃতি বর্ণনা করে বলেন, বহু নেতা বিদেশে ছিলেন, কিন্তু বিপ্লব না হলে তারা স্বদেশে ফিরতে পারত না। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর কিছু ঘটনা তিনি ‘খোদার দান’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, সেই দান আজ ভুলে যাওয়া হচ্ছে।

    তবু, ডা. শফিকুর বলেন, তারা কারও ন্যায্য অবদান অস্বীকার করেন না—সকলেই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু যারা সত্যিকারের ত্যাগ করেছিলেন তাদের প্রতি অসম্মান করা ঠিক নয়। তিনি জাতিকে অনুরোধ করেন, শহীদ-নায়ক, ছাত্র-শ্রমিক ও মায়েদের ত্যাগ কখনো ভুলে না যেতে।

    সংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত সংসদে প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল; তারা শপথ পালন করেছে, অন্যরা করেনি। যে আইনগুলো সংস্কার হবে না, সেগুলো বদলালে না ফ্যাসিবাদী শাসন রয়ে যাবে—এমন অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

    আজকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকাশ্যে হামলা-হানাহানি ও শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি ঝুঁকিয়ে রাখার ঘটনাকে তাঁরা উদ্বেগজনক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখনই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, তখন থেকেই বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের পথে চলা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

    ডা. শফিকুর উপসংহারে বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চান না যেখানে মানুষ নিরাপদভাবে রাস্তায় বের হতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা না দেখে, খাতা-কলম আর নিরাপত্তাই তারা প্রত্যাশা করে। যদি এমন সংস্কৃতি বন্ধ না করা যায়, তাহলে ‘‘জুলাই’’ অনিবার্যভাবে ফিরে আসবে এবং ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে—তাই জনগণের রায়কে সম্মান করতে ও ৭০ শতাংশের ভোটকে মেনে নিতে তিনি আহ্বান করেন। জনমত বাস্তবায়িত না হলে তাদের লড়াই সংসদে এবং খোলা ময়দানে চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

  • তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে ভোটের প্রস্তুতি নিন—এনসিপি পাশে থাকবে

    তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে ভোটের প্রস্তুতি নিন—এনসিপি পাশে থাকবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তরুণদের উদ্দেশ্যে সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আন্দোলনকারী ছাত্র মহিউদ্দিন রনি অনানুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। এই নির্বাচনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘লিগ্যাসি’ থেকে আলাদা করে সাধারণ ক্ষমতান্তর নির্বাচনে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংবিধানসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো ক্রমান্বয়ে বাতিল করা হচ্ছে। আবারও ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে এবং নানা ভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের শিকার হচ্ছে।’

    তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবনের কথাও তুলে ধরে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো নতুন/পুরনো স্বৈরতন্ত্র চুরে উঠলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলতেই ঐক্যবদ্ধ হবে—এই বার্তাই আমরা সব জায়গায় পাচ্ছি।’

    নাহিদ আরও জানান, এনসিপি সারাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতি সপ্তাহে যোগদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা রাজনীতি করতে চান, যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন—ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।’

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে গড়াচ্ছে। আর এই সংকটময় মুহূর্তে জনগণের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাল্লাহ।’

    অনুষ্ঠানে ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্য নবাগতরা মঞ্চে এসে দলীয় ভারসাম্যে ফুল দিয়ে বরণ গ্রহণ করেন।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, পোশাক খাতের উদ্বেগ তীব্র

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, পোশাক খাতের উদ্বেগ তীব্র

    জ্বালানি সংকট নিয়ে আশংকায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি সতর্ক করেছেন, দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাতগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বিসিআই সভাপতি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অনিশ্চয়তা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসের অনেক ক্রয়াদেশ ইতিমধ্যে ধীরগতিতে চলে গেছে। কয়েকটি বড় ক্রেতা নেগেটিভ বার্তা পাঠানো শুরু করেছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত ক্রেতা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে পিছিয়ে পড়ছেন। এর ফলে তৈরি পোশাক খাত ঝুঁকিতে পড়ছে এবং দেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।

    আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসা-বান্ধব না হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন — মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হওয়ায় তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব দেন।

    এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সূত্রে জানানো হয় যে, উৎস কর কমানোর প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীরা কর নীতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা জানাচ্ছেন।

    বিসিআই সভাপতি income tax act ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অকারণ ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং এটি ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি করেছে ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেয়া এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার। তারা করের বোঝা না বাড়িয়ে ব্যবসা-সহায়ক একটি কর কাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলেছেন।

    শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়—দুইই খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স ঢুকল ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স ঢুকল ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত আছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) পাঠিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) অনুযায়ী এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করেছে।

    গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এবারের প্রথম ২২ দিনে যে পরিমাণ এসেছে, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি—যার অর্থ প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    বছরের মধ্যে প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি এসেছে চলতি বছরের মার্চে—ওই মাসে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছে গত বছরের মার্চ (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার)। তৃতীয় ও চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চলতি বছরের জানুয়ারি (৩১৭ কোটি ডলার) মাসে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তা প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলে তা মুদ্রানীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে—তবে বহুসূত্রীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত রিজার্ভ অপরিহার্য বলে তারা মনে করেন।

  • অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে লাশ গুমের উপায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন: মার্কিন আদালতে সময়ভিত্তিক চাঞ্চল্যকর তথ্য

    অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে লাশ গুমের উপায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন: মার্কিন আদালতে সময়ভিত্তিক চাঞ্চল্যকর তথ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যা মামলায় নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহ তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখার আগে চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিভাবে কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে তা আড়াল করা যায়—এমনই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। ওপেনএআই এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

    আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল রাতেই হিশাম চ্যাটজিপিটিকে ‘কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হয়’—এমন ধরনের প্রশ্ন করেছিলেন এবং পরে ‘তদন্তকারীরা কীভাবে এটি খুঁজে পাবে’—এমনও জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তদন্তকারীরা এই কথোপকথন নথিভুক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

    নিহত লিমন ও বৃষ্টি উভয়েই ২৭ বছর বয়সি ও সম্ভাবনাময় ডক্টরাল শিক্ষার্থী ছিলেন। হিশাম—যিনি নিজেও আগে ইউএসএফ-এর ছাত্র ছিলেন—তাঁদের হত্যার অভিযোগে ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত হত্যার চার্জে অভিযুক্ত। মামলায় জমা দেওয়া তদন্ত নথি ও গণমাধ্যম রিপোর্ট অনুযায়ী ঘটনাপট ও সময়রেখা নির্দেশ করে একটি গড়িমসিহীন এবং পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য চিত্র।

    পুলিশি অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টিকে শেষবার জীবিত দেখা গিয়েছিল ১৬ এপ্রিল সকালে। ওই দিন লিমনকে টাম্পার ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে তিন ব্লক দূরের বাড়িতে দেখা যায়; আর বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক ও পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনে দেখা গিয়েছিল—ফ্লোরিডার সিএনএন এর প্রতিবেদন এই অবস্থান তথ্য প্রকাশ করে।

    ১৭ এপ্রিল হিশামের এক রুমমেট তাকে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে কিছু কাঠের বা কার্ডবোর্ড বক্স ফেলতে দেখেন; পরবর্তীতে পুলিশ সেই ডাস্টবিন তল্লাশি করে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও একটি ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করে। একই সময়ে ডাস্টবিনে পাওয়া একটি ধূসর রঙের টি-শার্টের ডিএনএ টেস্ট লিমনের সঙ্গে মিলেছে এবং একটি কিচেন ম্যাটে পাওয়া ডিএনএ বৃষ্টির জিনের সঙ্গে মিলে যায়—এমনটাই জানানো হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে একটি ভারী প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে লিমনের বিকৃত দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে যে তার শরীরে একাধিক ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একই সময়ে তদন্তকারীরা বলছেন, বৃষ্টির নিখোঁজ থাকা দেখে পুলিশের ধারণা তিনি বেঁচে নেই এবং অভিযুক্তই তার দেহ সরিয়ে ফেলেছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) তল্লাশিকালে ‘মানুষের দেহাবশেষ’ উদ্ধারের কথা জানালেও তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

    তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছে, ওই হত্যার রাতে হিশামের গাড়ি ব্রিজের কাছে দীর্ঘ সময় থেমে ছিল—এ খবরটি লিমনের ফোন লোকেশন ডেটা ও সিসিটিভি ফুটেজে উঠে এসেছে। প্রথম দিকে হিশাম দাবি করেছিলেন যে তিনি ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়েছিলেন; কিন্তু পরে যখন তার বিরুদ্ধে থাকা অবস্থানীয় প্রমাণ দেখানো হয়, তখন তার বিবৃতি পরিবর্তন করা হয়।

    পুলিশি খতিয়ান অনুযায়ী, হিশাম ওই রাত্রেই বড় ধরনের ডাস্টবিন ব্যাগ, লাইসল (পরিষ্কারের স্প্রে) ও সুগন্ধি স্প্রে (ফেব্রেজ) কেনা এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এছাড়া বৃষ্টির ব্যবহৃত গোলাপি রঙের ফোন কভারসহ কয়েকটি বস্তু তিনি ফেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। আর প্রথম জিজ্ঞাসাবাদে হিশামের বাঁ হাতে একটি আঙুলে ক্ষত ও পরে পায়েও জখমের চিহ্ন দেখা যায়; তিনি দাবি করেছিলেন সেগুলো পেঁয়াজ কাটা সময় দুর্ঘটনাবশত হয়েছে।

    হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক ও সম্প্রদায়কে নাড়া দেওয়া বলেছে। হিলসবোরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসের হোমিসাইড ব্যুরো প্রধান জেনিফার স্প্র্যাডলি বলেছেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই। হিশামের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটক, মৃত্যুর খবর না জানানো, মৃতদেহ ঠিক স্থানে না রাখা ও আলামত নষ্ট করার মতো বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই হিলসবোরো কাউন্টি জেলে আটক আছেন এবং তাঁর পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার ধার্য করা হয়েছে।

    লিমনের পরিবারও ঝড়ের মত এই ঘটনার মধ্যে ভেঙে পড়েছে; ভাই জুবায়ের আহমেদকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে—লিমন ও বৃষ্টি দুইজনই ছিলেন সম্ভাবনাময় গবেষক, বন্ধুত্ব থেকে তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং তারা ভবিষ্যতে বিবাহের কথাও ভাবছিলেন। উভয়েই গ্রীষ্মের ছুটিতে বাংলাদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

    ঘটনার সব দিক এখন তদন্তাধীন। আদালতের নথি ও সাংবাদিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওঠা এই তথ্যগুলো মামলাটিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রমাণ-ভিত্তিক অনুসন্ধান চলমান এবং প্রয়োজনীয় হলফ-নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

  • পুতিন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন

    পুতিন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে পুতিন বলেন, ইরানি জনগণ এই ‘‘কঠিন সময়’’ অতিক্রম করবে এবং সেখানে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা রাখেন।

    বৈঠকে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে—বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর উত্তেজনা কমাতে এটি দেওয়া হয়েছে। এর আগে মস্কোও ওই হামলাগুলোকে নিন্দা জানিয়েছিল। শান্তি ফেরাতে উত্তেজনা প্রশমনের উপায় হিসেবেও রাশিয়া বারবার প্রস্তাব দিয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় গচ্ছিত রাখার কথা; তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

    রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত হলে পুতিন আরো বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এমন সবকিছুই করব যাতে আপনাদের এবং এই অঞ্চলের সকল মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে দ্রুততম সময়ে শান্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, গত সপ্তাহে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং আরাগচিকে অনুরোধ করেন সেটি প্রতি তার কাছে আন্তরিক ধন্যবাদ পৌঁছে দিতে। পুতিন বলেন, রাশিয়াও তেহরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায়।

    গত বছর ইরান রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাছাড়া রাশিয়া ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহরে দুটি নতুন ইউনিট নির্মাণে যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধযোগ্য ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করে ইরান রাশিয়াকে সহায়তা করেছে, যা অবশ্য ইউক্রেনে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, আরাগচি বৈঠকে পুতিনকে বলেছেন যে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন এবং মস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    সূত্র: রয়টার্স।

  • বক্তার পরিচয়ে অস্পষ্টতা আছে — আপনি কি চান আমি পুনর্লিখন করি?

    বক্তার পরিচয়ে অস্পষ্টতা আছে — আপনি কি চান আমি পুনর্লিখন করি?

    আপনার দেওয়া মূল লেখায় বক্তা ও প্রেক্ষিত নিয়ে দ্ব্যর্থতা রয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছে ‘বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন…’, পরে লেখা হয়েছে যে ওই বক্তব্যটি যশোরে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলা হয়েছে, এবং অন্য অংশগুলোতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা আছে (খাল খনন, কলকারখানা চালু করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি)। এই বিবরণগুলো পরস্পর বিরোধী — একজন কারা বলেছিলেন তা নির্ধারণ করা জরুরি। ভালভাবে রিরাইট করার জন্য নিচের কোনো একটি বিকল্প বাছাই করে বলেন:

    1) বক্তব্যটি ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান’ হিসেবে ধরে লিখি — তখন জনসভা, সরকার বিরোধী আক্রমণ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ থাকবে; সরকারী উন্নয়ন কর্মসূচি সাধারণত এ ক্ষেত্রে থাকবে না।

    2) বক্তব্যটি ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে ধরে লিখি — তখন সরকার পরিচালিত উন্নয়ন কর্মসূচি, খাল খনন ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা থাকবে; তবে তখন জনসভা/বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানের উল্লেখ খারাপ হবে।

    3) আপনি চান আমি উভয় ভ্যারিয়েন্টের সম্পূর্ণ রিরাইট করে দুটি আলাদা সংস্করণ পাঠাই — একটি ‘তারেক রহমান’ হিসেবে এবং একটি ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে।

    আপনি কোন বিকল্পটি চান জানালে আমি সেভাবে পরিষ্কার, আকর্ষণীয় এবং ব্যাকরণগতভাবে সঠিক বাংলা সংবাদরূপ পাঠিয়ে দেব।

  • খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: মামলায় ৪ জনের নাম, রাতভর তল্লাশির পরও গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: মামলায় ৪ জনের নাম, রাতভর তল্লাশির পরও গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করা হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

    রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান নামের চারজনকে এজাহারে নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    বাদীর এজাহারে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৫ মিনিটে কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের মারধর করে। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু করা হয়।

    ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি তদন্ত করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে খুলনা থানার এসআই বিশ্বজিৎ বসুকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে মামলাটি রুজু হয়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাতভর তাদের ধরতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

    পুলিশি অভিযান এবং মামলার পরেও খুলনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেছেন, প্রেসক্লাবের মতো নিরাপদ স্থানে এ ধরনের হামলা মেনে নেয়া যায় না। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

    পুলিশ বলছে, হামলার সময় প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারকে নাম ধরে গালিগালাজ ও বাধা দিয়েছেন। এ সময় টেলিভিশন খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম পরিস্থিতি জানতে গেলে তাঁর ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

    প্রতি প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খুলনা প্রেসক্লাবে আজ দুপুর ১২টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেন, ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কারও প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি প্রেসক্লাবের জন্য ন্যক্কারজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে ধরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।’

    পুলিশ তদন্ত চালিয়ে ঘটনার কারণ ও সংঘবদ্ধতার দিকগুলো খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে আপাতত গ্রেপ্তার কাউকে করা হয়নি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশ

    হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশ

    ১৮৩ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুটা ঠিকঠাক না হলেও মাঝের ওভারগুলোতে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের ২৭ বলে অপরাজিত হাফসেঞ্চুরি ও পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির ঝড়ো ইনিংসে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা নিউজিল্যান্ডকে ২ ওভার বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

    কোয়েতে শুরুটা করেছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম, কিন্তু কিউই বোলিং একাধিক সময় তাদের ওপর চাপ বাড়ায়। উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙে নাথান স্মিথ; ৫.৩ ওভারে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে, তখন উদ্বোধনী জুটির সংগ্রহ ছিল ৪১। আউট হওয়ার আগে সাইফ করেছেন ১৬ বলের ১৭ রান, আর তানজিদ করেছেন ২৫ বলের ২০। দলের মাঝখানে লিটন দাসও ১৫ বলে ২১ রান করে কতকটা ভরসা দিলেও দ্রুত আরও উইকেট পড়ে বাংলাদেশ খানিকটা ব্যাকফুটে থাকে। ১০.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭/৩।

    ততক্ষণে দলের চাপ সামলাতে আসে তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ ইমন। এই চতুর্থ উইকেট জুটিই ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দেয়। ইমন মাত্র ১৪ বলে ঝটপট ২৮ রান করেছে এরপর আউট হন, কিন্তু তাওহীদ মাঠেই দাঁড়িয়ে যান। হৃদয় ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে দলকে জয় নিশ্চিত করেন। ডানহাতি ব্যাটারকে সঙ্গ দিতে শামীম হোসেন পাটোয়ারি ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যার ফলে হাতে করে লিড নিয়েই টাইগাররা সহজ জয় পেয়েছে।

    এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রানের তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েছে; এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ সফল তাড়া ছিল ১৩৫ রান। দেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার রেকর্ডটি এখনো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে—২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে টাইগাররা বড় জয় করেছিলেন।

    নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শুরু হয় চট্টগ্রামে, যেখানে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। কিউইরা শুরুতেই একটি উইকেট হারায়—ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে টিম রবিনসন রানআউটে ফিরে যান। এরপর কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দমবন্ধ করা পার্টনারশিপ গড়ে দলকে চালিত রাখেন; দুজন মিলে ৮৮ রানের জুটি করেন এবং দুজনই ফিফটি পূরণ করেন—ক্লার্ক ৩৭ বলে ৫১ (সাত চার ও একটি ছয়), আর ক্লেভার ২৮ বলে ৫১ (সাত চার ও একটি ছয়)।

    তবে তাদের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড ফের চাপের মুখে পড়ে। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে রানগতিও নেমে আসে; প্রথম ১০ ওভারে করা ১০০ রানের পরে পরের ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান করতে পারে তারা। এই সময়ে বেভন জ্যাকবস মাত্র ১ রানের মাথায় এবং ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন। অধিনায়ক নিক কেলি কিছুটা রান উত্তোলন করলেও তিনি শরিফুল ইসলামের বলে আউট হয়ে ২৭ বলে ৩৯ করে ফিরে যান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন করেছেন ৩০ এবং নাথান স্মিথ মাত্র ৪ রান করেন।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হাসান; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচটি শেষে টাইগারদের উল্লসিত মেজাজ দেখা গেছে—মাঝের ওভারগুলোর সংযোজিত ব্যাটিং ও শেষের দ্রুত পজিশনিং জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।

  • প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    চট্টগ্রামে টসে হারার পর আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে। দারুণ সূচনা করে কিউইরা; এক সময় ১০ ওভার শেষে তারা ছিল ১০০/২ এ।

    ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। টিম রবিনসন শূন্য রানে রানআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ক্লার্ক-ক্লিভার দ্রুত রান তুলেন। ক্লিভার ৫১ রান করে রিশাদ হোসেনের শিখানো বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর ক্লার্কও দ্রুততা বজায় রেখে ৩৭ বলেই নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন, তবে তিনি আর বেশি দূর যেতে পারেননি—তাঁরও উইকেট তুলে নেন রিশাদ।

    মাঝের ওভারগুলোতে নিউজিল্যান্ডের ছন্দ ভেঙে পড়ে। তানজিম হাসান বেভন জ্যাকবসকে ফেরান, আর মেহেদী হাসান দেবেন ফক্সক্রাফটকে বোল্ড করে বড় চাল না হওয়ার সুযোগ করে দেন। ১০০/২ থেকে ১৩০/৫ পর্যন্ত পড়ে কিউইদের আর বড় সংগ্রহ গঠনে বাধা পড়ে।

    তবে ইনিংসের শেষ অংশে অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন অনমনীয় ব্যাটিং করে আবার রান বাড়ান। কেলি ৩৯ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে তানজিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান, আর ক্লার্কসন ১৪ বলেই ২৭ রানের ঝটপট ইনিংস খেলে দলকে ভয় দেখা তুলনামূলকভাবে দৃঢ় অবস্থায় পৌঁছে দেন।

    বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। তানজিম, শরিফুল ও মেহেদী হাসান একএকটি করে উইকেট নেন। লক্ষ্য বড় হলেও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশে রান তাড়া করার সুযোগ এখনো ভালই আছে—দলের ব্যাটসম্যানদের হলে রেসে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল রয়ে গেছে।