Blog

  • অভিযোগ: ফিলিস্তিনি শিশুদের অপহরণ ও হত্যা করছে ইসরায়েল

    অভিযোগ: ফিলিস্তিনি শিশুদের অপহরণ ও হত্যা করছে ইসরায়েল

    গাজার যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিখোঁজ হওয়া এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা তাদের আটক ও স্থানান্তরের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অধিকারকর্মী বলছেন, এসব ঘটনা বিচারহীনভাবে ঘটছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

    ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা থেকে অনেক শিশুকে অভিযোগ বা বিচারের সুযোগ না দিয়েই আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে ত্রাণ শিবির থেকে — এমনই একটি মামলায় ১৬ বছর বয়সী ওমর নিজার মাহমুদ আসফুরকে একটি ত্রাণ শিবির থেকে আটক করে সামরিক কারাগারে নেওয়া ও নির্যাতন করার কথা বলা হয়েছে।

    কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে শিশুদের জিজ্ঞাসাবদীর সময় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, এমনকি পানির খোঁজে বের হওয়া শিশুদের ওপর ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আচরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত আইনভঙ্গ বলে বহু সংগঠন উল্লেখ করছে।

    সেভ দ্য চিলড্রেন-এর তথ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে — অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, কেউ কেউ গণকবরের মধ্যে, আবার অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানায়। যুদ্ধের কারণে এক বিশাল সংখ্যক শিশু তাদের অভিভাবক থেকে বিচ্ছিন্ন বা এতিম হয়েছে এবং পরিবারগুলো বন্দি বা নিখোঁজ সন্তানের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না।

    জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ থাকা দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে; মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছেন, এই ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিক ত্রাস ও মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগকে জোরালো করছে।

    অপরদিকে, ইসরায়েলের কনেসেটে (পার্লামেন্ট) একটি বিতর্কিত আইন পাসের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। ওই আইনের অধীনে অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে ধরে আনা বন্দিদের ওপর হত্যাসহ ঘনিষ্ঠ আঘাতের দায়ে আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনপ্রণেতারা, আর সমালোচকরা বলছেন এই আইন আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক নিরাপত্তা সীমিত করে।

    বিবাদিত আইনের কিছু নানা ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কারারক্ষীদের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করা যেতে পারে, বিনা জনসম্মুখে পরিচয় গোপন রাখা যেতে পারে, বন্দিদের বিশেষ কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রাখা ও সাক্ষাতের সুযোগ কড়া শর্তে সীমাবদ্ধ করার কথাও বলা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব ব্যবস্থার ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনি সুরক্ষা কমে যাবে এবং হয়ত নির্যাতন বা বিচারহীনতা আরও বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানে ও কূটনীতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। অধিকারকর্মীরা দাবি করছেন — নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, আটক শিশুদের দ্রুত ও অন্তরায়হীন বিচারবিভাগে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারগুলো তাদের সন্তানের সন্ধান কামনা করে বসে আছে, আর বিশ্ব এমন অভিযোগের প্রতি নিরব থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে।

  • ইরানের নতুন প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

    ইরানের নতুন প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

    ইরানের তিন স্তরীয় শান্তি প্রস্তাবের পারমাণবিক ইস্যু প্রথম দফায় নয়—এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাবে ‘‘সন্তুষ্ট নন’’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন একটি কর্মকর্তা। এই তথ্য মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

    রয়টার্স উদ্ধৃত ঐ কর্মকর্তার সঙ্গে, ‘তিনি (ট্রাম্প) এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন’—এরকম মন্তব্য করা হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন।

    ইরানের নতুন প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য তিনটি পর্যায় নির্ধারিত করা হয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি প্রথম পর্যায়ে নেই—এটি যুদ্ধে অবসান ও পারস্য উপসাগরে নৌপরিবহন বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির পরে তৃতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ কারণেই ওয়াশিংটনে আপত্তি তৈরি হয়েছে।

    প্রস্তাবের প্রথম পর্যায়ে দাবি করা হয়েছে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে যাতে ইরান ও লেবাননে আর আগ্রাসী হামলা না হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে, প্রথম ধাপ মেনে নেয়া হলে, হরমুজ প্রণালি (স্ট্রেইট অব হারমুজ) ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কাঠামো নিয়ে আলোচনা চালানো হবে। তৃতীয় পর্যায়ে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার সুচনা হবে।

    ইরান জানিয়েছে, যদি ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে বসতে চায়, তবে নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আলোচনা সম্ভব। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত দুই দিনে পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করেছেন। তিনি ওই দেশে গিয়ে হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি বিষয়ক তেহরানের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেছেন এবং সেগুলোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

  • খুলনায় সোনা মিয়া হত্যার সন্দেহভাজন ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেপ্তার

    খুলনায় সোনা মিয়া হত্যার সন্দেহভাজন ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেপ্তার

    র‌্যাব-৬ খুলনার খালিশপুরে তাঁতীদল নেতা সোনা মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো: রনি ওরফে ‘ন্যাটা’ রনিকে গ্রেপ্তার করেছে।

    গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন মিঠুর বিআরটিসি বাস কাউন্টার থেকে আটক করা হয়।

    র‌্যাব মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সোনা মিয়া হত্যা মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন আসামি রনি। হত্যাকারীর খোঁজে সে মামলার পর থেকে গোপনে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে পালিয়ে ছিল।

    র‌্যাব-৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পরে রনির অবস্থান বাগেরহাটে। সে তথ্যের ওপর দ্রুত কুশলতা দেখিয়ে সন্ধ্যার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত রনির বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া খালিশপুর থানার এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে খালিশপুর থানাへ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • হাম-রুবেলা টিকা প্রচারে খুলনায় জেলা পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি সভা

    হাম-রুবেলা টিকা প্রচারে খুলনায় জেলা পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি সভা

    হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলার মধ্যে খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা পর্যায়ের একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের নিচে থাকা প্রতিটি শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

    সভায় বক্তারা হাম-রুবেলার কারণে সৃষ্ট সংক্রমণকে মারাত্মক উদ্বেগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য এবং আর কোনো শিশুকে এ রোগে ভুগতে বা প্রাণ হারাতে দেখার উপায় নেই। তারা জানান, প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকাদান থেকে বঞ্চিত থাকে; তাই প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতন ও দায়িত্ববান হওয়ার আহবান জানানো হয়। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে বলেছে যে এই ক্যাম্পেইনে কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে।

    শিক্ষা ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা আহ্বান জানিয়ে সভায় ইমামদের প্রতি আবেদন করা হয়েছে—জুমার খুতবা ও অন্যান্য নামাজের আগে হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার অনুরোধ করা হয়।

    খুলনা সিভিল সার্জন মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর ও বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের উপআঞ্চলিক পরিচালক মোঃ মামুন আক্তার।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এবং টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করেন।

    অ্যাডভোকেসি সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম সমন্বয় ও প্রচারণা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

    উল্লেখ্য, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২০ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনটি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলছে। সকল অভিভাবককে অনুরোধ করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ে তাদের যোগ্য শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে, যাতে এ মহামূল্যবান প্রতিরোধী টিকা সব শিশুর কাছে পৌঁছে যায়।

  • প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে হেরে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করেছে। শুরুটা কিউইদের জন্য দারুণ ছিলো; দশ ওভারেই তারা ১০০/২ পৌঁছে গিয়েছিল।

    টিম রবিনসন শূন্য রানে রান আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান তুলতে থাকেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। ক্লিভার ৫১ রানে এলবিডব্লিউ হন রিশাদ হোসেনের বলে, আর ক্লার্কও ৩৭ বলে ফিফটি তুলে নিজের ইনিংসটা শক্ত করেন; ক্লার্ককেও পরে রিশাদই আউট করেন।

    শুরুটা শক্ত হওয়া সত্ত্বেও মাঝের ওভারগুলোতে নিউজিল্যান্ডের তালে ভাটা পড়ে। ১০০/২ থেকে তারা চাপা পড়ে ১৩০/৫ পর্যন্ত—বেভন জ্যাকবসকে ফিরিয়েছেন তানজিম, আর ডিন ফক্সক্রফটকে বোল্ড করেছেন মেহেদী। এই সময় রিশাদ, মেহেদী ও তানজিমের বলে ম্যাচে ভালোভাবে ফেরে বাংলাদেশ।

    শেষ দিকে অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসনের সংলগ্ন ঝাঁপিয়ে ওঠা বেশ কিছু রান যোগ করে কিউইদের সংগ্রহকে শক্ত করে। কেলি ৩৯ রানে আউট হন; শরিফুল ইসলামের বলে তানজিমের হাতে কেলির ক্যাচ ধরা পড়ে। ক্লার্কসন ১৪ বলেই ২৭ রানের একটি দ্রুত ইনিংস খেলেন ও দলে বড় অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ইনিংসটি ১৮২/৬-এ থামে।

    বাংলাদেশের বিপক্ষে বল চালিয়েছেন রিশাদ হোসেন; চার ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিনি দুইটি উইকেট নিয়েছেন। তানজিম, শরিফুল ও মেহেদী প্রতিই একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

    বড় সংগ্রহ হলেও ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য রান তাড়া করা কাজটা এখনও সহজেই সম্ভব। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে কিভাবে দল বিষয়টি মোকাবিলা করে, সেটাই দেখার বিষয়।

  • হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে টাইগারদের জয়

    হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে টাইগারদের জয়

    চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে দু’ওভার বাকি রেখে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের ঝড়ে উদ্বোধনী অংশটা কিঠিন হলেও মাঝের ওভারগুলোতে দলের দিকে ঝেড়ে ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাস।

    শুরুটা কিছুটা নড়বড় হলেও তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দেন। ইমন ঝড়ো ব্যাটিং করে ১৪ বলে ২৮ রান করে ফেরলেও তাওহীদ হৃদয় অপরাজিত ২৭ বল খেলতে ৫১ রানের হাফসেঞ্চুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তাদের সঙ্গে ডানহাতি ব্যাটার শামীম হোসেন পাটোয়ারি অপরাজিত ১৩ বলে ৩১ করে জয়ের পথে দলের কাজ সহজ করে দেন।

    শেষ পর্যন্ত দুই ওভার বাকি থাকতেই বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় এবং সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

    এই জয়ের সঙ্গে একটি দাগও পড়ল টাইগারদের নামের পাশে — আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। দেশের সর্বোচ্চ সফল তাড়া করার রেকর্ডটি এখনও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে—২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রান তাড়া করে বিজয়টা গ্রহন করেছিল টাইগাররা।

    রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিউই বোলারদের চাপে পড়েছিলেন ওপেনার সাইফ ও তানজিদ। ৫.৩ ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভেঙে গেলে কাগজে খেলার ছন্দে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম উইকেটটি নেন নিউজিল্যান্ডের নাথান স্মিথ; সাইফ আউট হন ১৬ বলে ১৭ রানে, আর তানজিদ হন ২৫ বলে ২০ রানে। এরপর দলের মাত্র ১৫ বলে ২১ রান করে ফিরেন অধিনায়ক লিটন দাস। ১০.১ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন ৭৭ রানে, তবে এখান থেকেই ত্রয়ী—ইমন, হৃদয় ও পরে শামীম—ব্যাট হাতে দলকে সামলে টানেন।

    নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানিয়ে চট্রগ্রামে সিরিজের প্রথম ইনিংস শুরু করেন বাংলাদেশ। কিউইরা শুরুতেই উইকেট হারায়; ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই টিম রবিনসন রান আউট হন। এরপর কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দ্বিতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। দুজনই ফিফটি পূর্ণ করেন—ক্লার্ক করেন ৩৭ বলে ৫১ (সাত চার ও এক ছক্কা), আর ক্লেভার করেন ২৮ বলে ৫১ (সাত চার ও এক ছক্কা)।

    তবে তাদের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড খানিকটা চাপের মুখে পড়ে এবং দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর ফলে রানরেটও কমে যায়। প্রথম দশ ওভারেই ১০০ করে কিউইরা, পরের পাঁচ ওভারে যোগ করে মাত্র ৩০ রান। বেভন জ্যাকবস ১ রান করে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে ফিরে যান।

    অধিনায়ক নিক কেলি কিছুটা চিন্তার গিয়ার সচল করেন, কিন্তু ইনিংস শেষ করাতে পারেননি—শরিফুল ইসলামের শিকারে তিনি ২৭ বলে ৩৯ রানে আউট হন। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে শরিফুল ইসলামের একটা গুরুত্বপূর্ণ বল ছিল কিউই অধিনায়ককে ফিরিয়ে দেয়া।

    মোটকথা, মাঝের ওভারগুলোতে আক্রমণাত্মক এবং কৌশলী ব্যাটিংয়ের ফলে বাংলাদেশ লক্ষ্যটা সহজেই দাঁড় করাতে পারে এবং সিরিজ শুরু করে আত্মীয়তার সঙ্গে জয়ের স্বাদ নিয়ে।

  • তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তমা রশিদ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।

    থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় তমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শিরোপা জিতেছেন। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে ওই মঞ্চে উঠা এবং জয় ছিনিয়ে আনা এই অর্জন দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি জগতের জন্য গর্বের বিষয়।

    তমা রশিদ বলেন, এই খেতাবটা তার ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখা যায় না—এটি বাংলাদেশের নারীদের আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা ও ইতিবাচক কাহিনী বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি সুযোগ। তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরাই তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। বিশেষ করে জামদানি শাড়ির মতো শিল্প ও ঐতিহ্যকে গ্লোবাল পর্যায়ে পরিচিত করাতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন।

    মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত তমা রশিদ পরবর্তীতে মিডিয়ার জগতে কাজ করে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে এই সফলতার দিকে নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, তমা রশিদের এই জয় ২০২৬ সালের এ যুগে দেশের নারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে। দেশবাসীও তার এই কৃতিত্বকে গর্বের সঙ্গে অভিবাদন জানাচ্ছে।

  • একই ছবিতে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরার দাবি—দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ প্রজেক্ট হতে পারে

    একই ছবিতে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরার দাবি—দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ প্রজেক্ট হতে পারে

    বলিউডের দুই আলোচিত অভিনেতা—রণবীর কাপুর এবং রণবীর সিং—একসঙ্গে যদি একই ছবিতে দেখা যান, তা হলে সিনেমা দুনিয়ায় জল্পনার শেষ থাকবে না। সম্প্রতি নামী কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা এই চর্চার তaptে ঘি ঢেলে বলেছেন, যদি এই দুজন একসঙ্গে কাজ করেন, তখন সেটা দেশীয় সিনেমার ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হবে।

    টিনসেল টাউনের মহাসড়কে এখন শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায়—কবে এই ‘দুয়েক রণবীর’ এক সঙ্গে পর্দায় আসবেন? মুকেশ ছাবরা বলছেন, দুজনের অভিনয়ের ধরন আলাদা হলেও উভয়েই প্রতিভাবান, আর তাদের একযোগে স্ক্রিন শেয়ার করা হলে দর্শকদের জন্য সেটা দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা হবে।

    মুকেশ বর্তমানে আলোচনায় বেশি, কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িত দুটি বড় প্রজেক্ট—আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ এবং বহু প্রতিক্ষিত ‘রামায়ণ’। ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির আগে নানা সমালোচনা ও বিতর্কের կենտրոնে ছিল—ভুল রিভিউ, স্ক্রিনিং বাতিলের খবরসহ নানা নেগেটিভিটি দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়ামি গৌতম পর্যন্ত পেইড নেগেটিভিটির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং বিষয়টিকে তোলাবাজির সঙ্গে তুলনা করেছেন। মুকেশের ভাষ্য, ‘‘মানুষ ছবি না দেখেই বিচার করতে শুরু করেন। এই ট্রোল সংস্কৃতি ক্রমশ বাড়ছে, কিন্তু ভালো filmmakers ও ছবিকে কেউ দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারে না।’’

    অন্যদিকে ‘রামায়ণ’ও নেটপাড়ায় বিতর্কে পিছিয়ে নেই। টিজার প্রকাশের পর থেকেই ভিএফএক্স এবং কাস্টিং নিয়ে বিশ্লেষণ তীব্র হয়েছে। কারও চোখে রণবীর কাপুর বা সাই পল্লবীর কাস্টিং প্রশ্ন তুললেও মুকেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুরের পর এই দুটি ছবিতেই সঠিক কাস্টিং করা ছিল আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত।’’

    তাঁর মতে, ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর যে নেতিবাচক সমালোচনা হয়েছিল, তা শেষমেষ ছবিকে থামাতে পারেনি—প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দর্শক চাহিদা এবং সিনেমার মান নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা তাঁকে ‘রামায়ণ’ নিয়েও আশাবাদী করে তুলেছে।

    এবার যেখানে আসল উত্তেজনা, তা হলো—দুই রণবীর একসাথে হলে সিনেমার বিস্ফোরণ কতটা জোরালো হবে? মুকেশ ছাবরা মনে করেন, ভিন্ন ধাঁচের অভিনয়শৈলী থাকলেও দুজনই তুখোড় প্রতিভা; তাদের জুটিতে ঐতিহাসিক সাফল্যের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। দর্শক অস্বীকৃতি বা তুলনা থাকলেও চলচ্চিত্র নির্মাণে সঠিক গল্প, দিকনির্দেশনা ও কাস্টিং থাকলে সব চ্যালেঞ্জ পেছনে পড়ে যায়—এটাই তাঁর বিশ্বাস।

    শেষ পর্যন্ত মুকেশের কথাতেই ভর করেই টিনসেলটাউনের জায়গায় নতুন কৌতূহল—কবে, কীভাবে এবং কোন প্রজেক্টে এই দুই মহাতারকাকে একসঙ্গে দেখা যাবে। যদি তা ঘটে, বলিউড তথা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সেটা নিঃসন্দেহেই স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে লেখা হতে পারে।

  • জেল দেখার কৌতূহলে ছুরিকাঘাত: ফতুল্লায় ১১ বছরের হোসাইনকে হত্যা, ৬ কিশোর গ্রেফতার

    জেল দেখার কৌতূহলে ছুরিকাঘাত: ফতুল্লায় ১১ বছরের হোসাইনকে হত্যা, ৬ কিশোর গ্রেফতার

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জেল খাটতে কেমন লাগে—এমন কৌতূহলে ছুরিকাঘাত করে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুকে হত্যা করার ঘটনায় ছয় কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন (১১) গত ১৮ এপ্রিল সকালে নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা রোডের ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করা হয় এবং মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা হয়।

    ইয়াসিনেরে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বরিশাল জেলাসহ অন্য স্থান থেকে আরও পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যা কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

    জেলা পুলিশ সুপার জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘কাকে হত্যা করলে জেলে যেতে হয়’—এমন কৌতূহল পূরণের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করেছিল। পরে পথ চলাকালীন হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বাকি তিন বন্ধু—রাহাত, (আরও একজন নামও হোসাইন) ও ওমর—আসছিল। সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং মরদেহ পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায়।

    পুলিশি পর্যায়ে গ্রেফতার হওয়া ছয় কিশোরই ১৮ বছরের নিচে এবং প্রত্যেকে মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছে।

    জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও একজন কিশোর এখনও পলাতক রয়েছেন; তাকে গ্রেফতারে তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • ফরিদপুরে কোদাল নিয়ে ঘরে ঢুকে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

    ফরিদপুরে কোদাল নিয়ে ঘরে ঢুকে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

    ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত প্রায় ১০টায় একজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে কোদাল দিয়ে তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

    হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা (৪০) বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তিনি একই এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে এবং ফরিদপুর যক্ষা হাসপাতালে পিয়ন পদে কর্মরত ছিলেন। নিহতরা হলেন অভিযুক্তের দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুপু সালেহা বেগম (৫৫) ও প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯)।

    ঘটনায় আরেক প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম (৩৮) আহত হয়েছেন; এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

    আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রাজ্জাক শেখ জানান, রাত প্রায় দশটার দিকে আকাশ কোদাল দিয়ে তার দাদি ও ফুপুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। প্রতিবেশীরা আহত ঠেকাতে গেলে কাবুল চৌধুরীকে বেধড়ক মারধর করে মারা ফেলা হয়।

    ওয়ার্ড সদস্য আরও জানান, আকাশ মানসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির ছিল এবং তার বিয়ে করা হয়নি। তার এক বড় আত্মীয় তাকে সরকারি হাসপাতালে চাকরি দেয়া ছিলেন। মাঝে মাঝে তার ‘মাথা খারাপ’ থাকায় অফিসেও যেত না, তবে ভালো থাকলে স্বাভাবিক আচরণ করত।

    ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। অভিযুক্ত আকাশ পালিয়ে আছে; তাকে আটক করার জন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

    ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম রাত পৌনে বারোটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশি গাড়িতে করে সরাসরি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে।