খুলনা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করা হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান নামের চারজনকে এজাহারে নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীর এজাহারে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৫ মিনিটে কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের মারধর করে। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি তদন্ত করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে খুলনা থানার এসআই বিশ্বজিৎ বসুকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে মামলাটি রুজু হয়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাতভর তাদের ধরতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশি অভিযান এবং মামলার পরেও খুলনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেছেন, প্রেসক্লাবের মতো নিরাপদ স্থানে এ ধরনের হামলা মেনে নেয়া যায় না। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, হামলার সময় প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারকে নাম ধরে গালিগালাজ ও বাধা দিয়েছেন। এ সময় টেলিভিশন খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম পরিস্থিতি জানতে গেলে তাঁর ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।
প্রতি প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খুলনা প্রেসক্লাবে আজ দুপুর ১২টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেন, ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কারও প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি প্রেসক্লাবের জন্য ন্যক্কারজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে ধরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।’
পুলিশ তদন্ত চালিয়ে ঘটনার কারণ ও সংঘবদ্ধতার দিকগুলো খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে আপাতত গ্রেপ্তার কাউকে করা হয়নি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
