Blog

  • খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: চারের নাম উল্লেখ, ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি—গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: চারের নাম উল্লেখ, ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি—গ্রেপ্তার নেই

    খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান নামীয় চারজনকে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের সাথে জড়িত অজ্ঞাতপরিচয়ের ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

    বাদীর বরাত দিয়ে পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙচুরের সরঞ্জাম নিয়ে প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে এবং কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে মারধর করে। ঘটনার পর রাতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

    মামলার তদন্তভার পাওয়া খুলনা থানার সার্ভেন্ট ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ বসু জানান, মধ্যরাতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে রাতভর তল্লাশি ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে। তখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে গিয়ে জানা গেছে, রোববার খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী ও সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করে। টিভি খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের থেকে তাকে থামাতে বলার বদলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়।

    এই ঘটনায় খুলনা প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রেসক্লাবের মতো নিরাপদ স্থানে এ ধরনের সহিংসতা প্রযোজ্য নয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তারা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেন, ঘটনাটিতে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী জড়িত থাকতে পারে যারা কারো ইন্ধনে কাজ করেছে; এটি প্রেসক্লাবের জন্য লজ্জাজনক একটি ঘটনা। তিনি সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

  • বাগেরহাটে গুরুতর আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    বাগেরহাটে গুরুতর আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    বাগেরহাটে এক পরিবারের অভিযোগ—গুরুতর আহত সদস্যকে সাধারণ আঘাতের সার্টিফিকেট দেয়ায় তারা হতাশ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংবাদপত্রকর্মী ও এলাকাবাসীর সামনে এ অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, আইজিপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    সংবাদ সম্মেলনে আহত ব্যক্তির বোন ইরানী বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২ মার্চ রাতে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাহারুল সরদার, শিফাত সরদার, নাসির উদ্দিন শেখ, আমিরুল ইসলাম কুটি ও মোনসেব শেখ নামের কয়েকজন আমাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক আমার ভাই সোহানকে টেনে-হেঁচড়া করে একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে বেধরক মারধর করে এবং ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা আমাদের পরিবারকেও মারধর করে।

    ইরানী বেগম বলেন, ঘটনার সময় আমি ৯৯৯-এ ফোন করি; পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আসামীরা আমার ভাইকে খুন করতে ব্যর্থ হয় এবং আমাদের উপর খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও সঠিক চিকিৎসা ও আন্তরিক সেবা না পেয়ে হতাশ হই। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—হাসপিটাল থেকে আসামকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের ইনজুরি সার্টিফিকেট ‘নরমাল’ বা সাধারণ আঘাত হিসেবে দেয়া হয়েছে, যা আমাদের কাছে সময়োপযোগী ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা ফকিরহাট থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি; তারা দাবি করেন, আসামীদের রাজনৈতিক প্রভাব অথবা অন্য কোনো কারণে থানায় মামলা নেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা পরে আদালতে মামলা দায়ের করি এবং মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি দায়ের করার পর থেকে আসামীরা নিয়মিত তাদের পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে—এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইরানী বেগম জানান, এলাকার এসব আসামি মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যু হিসেবে চিহ্নিত। থানায় সাধারণ ডায়েরি দিলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

    সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন—অসৎভাবে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের কারণ অনুসন্ধান করে হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে হামলাকারী সমস্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ও তাদের হামলা থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন তারা। প্রশাসন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে তারা এলাকাবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসব সন্ত্রাসী ও মাদকগোষ্ঠীকে কড়া হাতে দমন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে টাইগারদের জয়

    হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে টাইগারদের জয়

    বাংলাদেশ ১৮৩ রানের লক্ষ্যের তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের নিরাশাজনক শুরুতে মন খারাপ ছিল। তবে মাঝের ওভারগুলোতে তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন দলের মোমেন্টাম ফিরে আনেন।

    ইমন মাত্র ১৪ বল খেলে ঝড়ো ২৮ রান করে ফেরেন। এরপর মাঠে থেকে ম্যাচ নিশ্চিত করা কাজটি করেন তাওহিদ হৃদয়—২৭ বল খেলে অপরাজিত ৫১ রান করে। ডানহাতি এই ব্যাটারের সঙ্গে ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। এই জুটির দরুন তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ২ ওভার বাকি রেখে ৬ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ lead নিল।

    জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি কীর্তি গড়েছে — আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড তাদের নামে। এর আগে কিউইদের বিরুদ্ধে টাইগাররা সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল; আর দেশের সর্বোচ্চ সফল তাড়া ইনিংসটি ছিল ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রান করেই জিতেছিল বাংলাদেশ।

    রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ। উদ্বোধনী জুটিটি ৫.৩ ওভারে ৪১ রানে ভেঙে যায়; প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। সাইফ ১৬ বলে ১৭ ও তানজিদ ২৫ বলে ২০ রানে আউট হন। এরপর দলনেতা লিটন দাস ১৫ বলে ২১ রানে ফিরে দলের মেজাজ খানিকটা নেমে আসে—১০.১ ওভারে বাংলাদেশ ৭৭/৩-এ পিছিয়ে পড়ে।

    চাপে থাকা অবস্থায় দলের ভরসা জাগান তাওহিদ হৃদয় ও শামিম; তাদের ধারাবাহিক ব্যাটিংই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয়।

    প্রথমে নিউজিল্যান্ড ব্যাট করে; টস জিতে চট্টগ্রামে লিটন কুমার দাস কিউইদের ব্যাটিংতে পাঠান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার টিম রবিনসন রান আউটে ফেরার পর কেটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার মিলে ৮৮ রানের জুটি গড়ে কিউইদের গতোধারা তৈরি করেন—উভয়েই করেন ৫১ রান। ক্লার্ক ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ করে ফিরেন, আর ক্লেভার ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করে ফিরেন।

    এই দুজনের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ করা কিউইরা পরের ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান তোলে। বেভন জ্যাকবস ১ ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন। অধিনায়ক নিক কেলি শরিফুল ইসলামের বলেই আউট হওয়ার আগে ২৭ বল খেলে ৩৯ রান করেন। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিসাদ হোসেন; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট নেন। সব মিলিয়ে ব্যাট-বল উভয় দিক থেকেই কার্যকর হিসেবে উঠে আসে টাইগাররা এবং সিরিজ শুরুটা করে নিজেদের পক্ষে।

  • প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হারিয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করেছে। দুর্দান্ত শুরু করে কিউইরা, ১০ ওভারে ২ উইকেটে ১০০ রানের ঘাটে পৌঁছে গেলেও মাঝের ওভারগুলোতে তারা ছন্দ হারায় এবং বড় সংগ্রহ গড়ার পথ কিছুটা আটকে যায়।

    ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন কাটেনে, ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। টিম রবিনসন শূন্য রানে রানআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন ক্লার্ক ও ক্লিভার। ক্লিভার ৫১ রান করে রিশাদ হোসেনের বলে এলবিডব্লিউ হন। একইভাবে ক্লার্কও নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন—৩৭ বলে ৫১—তার পর তিনিও রিশাদের শিকার হন।

    শুরুতে বিধ্বংসী হওয়া ইনিংসটি মাঝপথে ছন্দ হারায়। বেভন জ্যাকবসকে ফেরান তানজিম, আর ডিন ফক্সক্রফটকে বোল্ড করেন মেহেদী। ১০০/২ থেকে দ্রুতই ধস দেখে কিউইদের স্কোর হয়ে ওঠে ১৩০/৫—এভাবে বড় সংগ্রহের দিকটা আটকায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ।

    শেষ দিকে অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। কেলি ৩৯ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে তানজিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন, আর ক্লার্কসন মাত্র ১৪ বলে ২৭ রানের ঝলক দেখিয়ে দলের স্কোরকে স্থাপন করেন। তাদের ইনিংসে নিয়োগের পর নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৮২/৬ নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

    বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩২ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন। তানজিম হাসান, শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান এক করে উইকেট নেন। লক্ষ্য বড় হলেও ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশকে রান তাড়া করার ভালো সুযোগ এখনো রয়েছে—একটি শক্তিশালী শুরুেলে তারা ম্যাচে ফিরে আসতে পারে।

  • বাবার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আমি সম্পৃক্ত নই: পূজা চেরি

    বাবার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আমি সম্পৃক্ত নই: পূজা চেরি

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি তার বাবার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ ও গ্রেপ্তার নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণভাবে অনভিজ্ঞ।

    পোস্টে পূজা বলেছেন, সম্প্রতি তার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেপ্তার ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সে নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও শুভানুধ্যায়ীদের থেকে তিনি অসংখ্য ফোন ও বার্তা পাচ্ছেন। বিভ্রান্তি এড়াতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন মনে করে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

    পূজা আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বাবা প্রসাদ রায়ের সঙ্গে তার কোনো আর্থিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। তিনি গত ১০-১২ বছর ধরে মিডিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করে নিজের ক্যারিয়ার ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় নিজেই বহন করে আসছেন।

    এই অভিনেত্রী দাবি করেন, তিনি কোনো প্রডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক নন এবং বাবার ব্যবসায় বা আর্থিক লেনদেনে অংশীদারিত্বও নেই। পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তৈরি এই পরিস্থিতি তার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    পূজা নিজের পোস্টে বলেছেন, বিষয়টি একটি আইনি বিষয় এবং মামলা ও তদন্তের প্রক্রিয়া হচ্ছে; বিষয়টি শেষ পর্যায়ে বিজ্ঞ আদালত বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে। পোস্টের শেষে তিনি অনুরোধ করেছেন যেন এই সংবেদনশীল ঘটনায় তাকে জড়ানো না হয়।

  • তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তমা রশিদ আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বভিত্তিক প্রতিযোগিতা মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।

    দেশীয় পর্যায়ে নিজের দক্ষতা তিনি আগেই প্রমাণ করলেও এবার প্রথমবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে তমা বড় এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

    থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের নানা দেশ থেকে এসে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের সঙ্গে টকটকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শিরোপা জিতে নেন তিনি।

    তমা বলেন, “এই অর্জন শুধুই আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের নারীদের আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতা ও ইতিবাচক কাহিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি সুযোগ।” তিনি আরও জানান, সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের ঐতিহ্য—বিশেষ করে জামদানি শাড়ির মতো রং-বৈচিত্র্য ও কারুশিল্প—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

    ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন তমা। পরবর্তীতে মিডিয়ায় কাজ করে তিনি নিজেকে আলাদা করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তমা রশিদের এই অর্জন ২০২৬ সালে দেশের নারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণার উৎস হবে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

  • হুমকির শঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি

    হুমকির শঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি

    পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া সতর্কতাকে খতিয়ে দেখে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশেষত শাহজালাল বিমানবন্দরের সংবেদনশীল স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    সূত্র বলছে, পুলিশ সদর দফতরের কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠির পরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা ও যাত্রী, লাগেজ এবং বিমান আগমন-প্রস্থান এলাকার তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি, তবুও পূর্বেই সতর্কতা হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ সদর দফতরের চিঠির প্রেক্ষিতেই শুধুমাত্র ব্যবস্থা নেয়া হয়নি—আমরা সময় সময় সিচুয়েশন অনুযায়ী সতর্কতা বাড়াই।’’ রাতে চলাচল কম হওয়া বিমানবন্দরগুলোকেও নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়। চিঠির তথ্যানুযায়ী, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলা পরিকল্পনা করতে পারে—এ ধরনের তথ্য মিলেছে। এ সময় গ্রেফতারকৃত এক উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামীর (আমলে নাম: আবু বক্কর/আবু মোহাম্মদ) এবং সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গোয়েন্দা পর্যায়ের বিচারে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, পুলিশের ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য ন্যূনতম ভৌত অবকাঠামো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ওই জঙ্গি গোষ্ঠী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো অন kunিত প্রতিকূল ঘটনার খবর নেই, তবে সতর্কতামূলকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে।

    সূত্র: সময় টিভি অনলাইন

  • হাইকোর্টে নির্দেশ: হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত টিকা দিতে হবে

    হাইকোর্টে নির্দেশ: হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত টিকা দিতে হবে

    হাইকোর্ট সোমবার দেশজুড়ে হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে যে তদন্ত বা তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম ও ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কিত একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশের শুনানিতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। ঘটনা সংক্রান্ত সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইন কর্মকর্তারা।

    রিটটি গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়ের করা হয়েছিল। আবেদনটিতে বলা হয়, দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যু হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। সেই রিটে আরও দাবি করা হয়, হামের প্রকোপ না কমানো পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখাসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

    রিট আবেদনে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সময়মত টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া, টিকার প্রাপ্যতা বজায় রাখতে না পারা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিক্রিয়া প্রদানে ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা এসবকে সংবিধানগত অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২১৬ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে; এদের মধ্যে ৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৩১,০২৮ জন এবং তাদের মধ্যে ৪,৬০৩ জন রোগীর হাম নিশ্চিত হয়েছে।

    হালের প্রাদুর্ভাবটি দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে শহর ও জনবহুল এলাকায় দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচ বছরের নিচের শিশু—এবং অভিযোগ করছেন ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়নি এমন শিশুদের birnäকে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা ঠিকমতো টিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    হাইকোর্টের এই নির্দেশ সরকারকে ত্বরান্বিত অবস্থায় টিকাদান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে বলা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী নির্দেশনা জারি করবেন।

  • তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন সরকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারাদেশের তরুণরা যদি সজাগ থাকে, এনসিপি তাদের পুরো সমর্থন জানাবে।

    নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, ‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’ সেই অনুষ্ঠানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন রনির মতো প্রতিষ্ঠিত ও নতুনদের এনসিপিতে যোগদানের আয়োজন করা হয়।

    বক্তৃতায় নাহিদ বলেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচনের পরে নির্বাচিত সরকার গণভোটকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে। এটা একটি গণতান্ত্রিক মর্যাদাহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে; জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী উত্তরাধিকারের ধার থেকে বের হয়ে এটি কেবল ক্ষমতার পটপরিবর্তনে স্বল্পমূলক একটি নির্বাচন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো ধাপে ধাপে বাতিল করা হচ্ছে এবং ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    নাহিদ বললেন, ‘‘দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবন লক্ষ করা যাচ্ছে—এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।’’ তিনি আশার আলো হিসেবে যোগ করেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়ায় ঐক্য গড়ে উঠবে—এই প্রতিক্রিয়াগুলো আমরা ইতিমধ্যেই সারাদেশ থেকে পাচ্ছি।’’

    দলের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘‘এনসিপি সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—সবাই মিলে দেশকে বিপথে যেতে দেবেন না। যারা রাজনীতি করতে চান, যারা পরিবর্তন চান, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন; এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’’

    অর্থনৈতিক অস্থিরতা, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা বিষয়ে দিকেই বর্তমান সরকারের ক্রমশ ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিয়েছে নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতি টালমাটাল, গণতন্ত্র সংকটে—এই অবস্থায় জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’’

    আনুষ্ঠানিক যোগদানের খবরেও তিনি উল্লিখিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ফেরসামিন (ফ্লোরা), নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা মঞ্চে যোগদান করেন এবং নাম ঘোষণার পর নাহিদ ইসলাম তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

  • জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে

    জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে আমরা একই শিকলবদ্ধ পরিস্থিতিতে ছিলাম, কিন্তু আজ তারা এমন পথ ধরেছে যা জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বিএনপিকেই সতর্ক করে বলেন—আপনারা লাখো চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগ হবেন না; সর্বোচ্চ হলে দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারবেন। আজকের মতো বিরাগ-বিদ্বেষ ও বিদ্রূপের প্রতীকগুলো বিএনপি নিজেরাই অনুসরণ করছে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য না।

    ডা. শফিকুর আরো বলেন, একসময় ক্ষমতাসীনরা সমাজে লাঠিয়াল পোষ্য বাহিনী ব্যবহার করে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল; কিন্তু আজ সেই লাঠিয়ালরা তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বর্তমান অবস্থার সঙ্গে অতীতের তুলনা টেনে সতর্ক করে বলেন, যদি একই ধরনের দাসত্ববোধ এবং হিংসাত্মক সংস্কৃতি ফিরে আসে, তাহলে দেশের গৌরব ও গণতন্ত্র বিঘ্নিত হবে।

    সমাবেশে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রকে সুসংগঠিত করার জন্য যেই মৌলিক সংস্কার দরকার, সেগুলোই বিএনপি বিরোধিতা করছে। সুশাসন ও সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলোই তারা অবরোধের চেষ্টা করছে—এটিই জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তিনি বলেন, বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা ৩১ দফার কর্মসূচিতেই বিরোধিতা করছে এবং তারা আজ সেই জ্ঞানটুকুও হারিয়ে ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।

    জামায়াত আমির শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রণীদের স্মরণ করে বলেন, যে পরিবারগুলো তাদের সন্তান-স্বামী-ভাইদের জীবন উৎসর্গ করেছিল, তাদের ত্যাগকে ভুলে গেলে চলবে না। যে দেশের জন্য অন্যরা জীবন দিয়েছেন, তাদের সম্মান করতে শেখা এবং তাদের কষ্টকে অবহেলা না করাই সামাজিক দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় ছাত্র-সমাজ, শ্রমিক ও নারী সমাজ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নামেছিল এবং সেই ত্যাগকে মলিন করা ঠিক নয়।

    তিনি আরও জানান, যারা বিদেশে ছিলেন, দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন—এটিও সেই বিপ্লবের ফল। তার জেলে থাকা সহকর্মী মামুনুল হকের কথাও উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বহু নেতা জেলে থাকার পর হতাশা প্রকাশ করতেন যে আগের অবস্থা পরিবর্তন করা কঠিন। কিন্তু পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে কেউ কেউ ‘নিজেদের পরিকল্পনা’ বলে দাবি করেন—এগুলোকে তিনি ভুয়া ঘোষণা করেন।

    সংসদীয় উদ্যোগ নিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, প্রথম দিন থেকেই জামায়াত সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল এবং তারা শপথও নিয়েছে, কিন্তু অন্যরা শপথ নেয়নি ও জনগণের সঙ্গে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তার ভাষ্য, সংশোধনী ও অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে পুরোনো স্বৈরাচারী আইনি কাঠামোই বজায় থাকবে এবং সেজন্যই বিএনপি এমন অবস্থান গ্রহণ করছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা নিন্দনীয়; বিশেষত পুলিশ আশ্রয়ে থানা উপকণ্ঠে ঢুকে কিছু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হওয়া বেদনাদায়ক। তিনি এ ঘটনাগুলোকে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায় না যেখানে ছেলে-মেয়ে, মা-বোনেরা ঘর থেকে বের হলে ভয় পাবে—একটি নিরাপদ পরিবেশে ছাত্রছাত্রীরা খাতা-কলম নিয়ে পাঠশালায় যাবে, দা-কুড়াল নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সংস্কৃতি বদলানো না যায় তাহলে ‘জুলাই’ শুধু বিশেষ বছরগুলোর ঘটনা থাকবে না—প্রতিবছর সেইJuly ফিরে আসবে এবং ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে।

    সমাবেশের শেষভাগে তিনি সবাইকে গণভোটে জনগণের রায়কে সম্মান করার আহ্বান করেন এবং বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তাদের লড়াই সংসদেই এবং খোলা ময়দানে অব্যাহত থাকবে—ইনশাআল্লাহ।