Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

    উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত ল্যাব-পরিসেবা বেশিরভাগই ঢাকা কেন্দ্রীভূত। এই কেন্দ্রীকরণ ভেঙে জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শহর ও গ্রাম অঞ্চলের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করা এবং সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কাজটি একদিনে শেষ হবে না, তবে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের পথে সরকার অগ্রসর।

    প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চিকিৎসা পেশার সমাজে বিশেষ মর্যাদা আছে। রোগে-শোকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের দায়িত্ব মানবিকতার সঙ্গে মিলিয়ে চলা উচিত। একেকটি আন্তরিক পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের থেকেও বেশি উপকার করে, তাই পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।

    স্বাস্থ্যনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতির মূলমন্ত্র হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ — অর্থাৎ Prevention is better than cure। যদি রোগের শুরুতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় তাহলে রোগের বিস্তার রোধ করা সহজ হবে। এজন্য উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে। পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগগুলোর চাপ বেড়ে চলছে, যা স্বাস্থ্যসেবায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা (UHFPO) দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দরজায় পৌঁছে দিতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা প্রথম সারির সৈনিক। হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ও হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট—এই দুই ক্ষেত্রের সমন্বয় ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

    স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে জিডিপির পাঁচ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আমেরিকান পুষ্টিবিদ জ্যাক লালেনের উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘আজকের স্বাস্থ্যসেবা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’—এই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার (GP) মডেল অনুসরণ করে ধাপে ধাপে প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন এবং সারাদেশে এক লক্ষ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশই নারী হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। হেলথ কেয়ারাররা দরজায় গিয়ে প্রাথমিক সেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিবেন।

    জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে কিছু এলাকায় শিশুরা ‘হামে’র টিকা না পাওয়ায় প্রাণহানি ঘটেছে যা একটি ভয়াবহ ব্যর্থতা। বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিনেশন দ্রুত সম্পাদনের ফলে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিহত সন্তানদের পরিবারজনের প্রতি সহানুভূতিশীল দুঃখপ্রকাশ করেন। 앞으로 এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা দিতে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতাল থেকে সহজে সেবা নেওয়া যাবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চিকিৎসা ব্যয়ের ফলে কোনো নাগরিক আর্থিকভাবে বিপন্ন না হন।

    চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে তাদের কর্মরতদের কল্যাণ নিশ্চিত করাও অত্যাবশ্যক, এ বিষয়ে যথাসম্ভব পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    সম্মেলনের অবসানে প্রধানমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকেই তাঁর এলাকায় কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন এবং নিজ কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করার চেষ্টা করবেন। সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, সরকারি নির্দেশনায় অবহিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী ওই সম্মেলনে উৎকর্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা পর্যায়ের ছয়জন চিকিৎসক—ডাঃ শোভন কুমার বশাখ, ডাঃ মনজুর আল মোর্শেদ চৌধুরী, ডাঃ মজিবুর রহমান, ডাঃ সাজিদ হাসান সিদ্দিকী, ডাঃ সুমন কান্তি সাহা এবং ডাঃ তানসিভ জুবায়ের নাদিম—কে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • একদিনে দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ

    একদিনে দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ

    শনিবার কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং লিবিয়ায় মারা যাওয়া ৩৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ আলাদা আলাদা ফ্লাইটে দেশে পৌঁছেছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ওই প্রবাসীদের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘসময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।

    পৌঁছানো মরদেহগুলোর মধ্যে কুয়েত থেকে ৩০ জন, মালয়েশিয়া থেকে দুই জন এবং লিবিয়া থেকে দুই জন রয়েছেন—এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম।

    মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রতিটি পরিবারকে দাফন ও অন্যান্য খরচ মেটানোর জন্য ৩৫ হাজার টাকা করে প্রদান করে।

    তদন্ত বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ও বিমার পাওনা থাকলে সেই অর্থও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবারগুলোকে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানির দাম বাড়ানো ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’: জামায়াত আমির

    জ্বালানির দাম বাড়ানো ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের নতুন জ্বালানি মূল্য নির্ধারণকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নাম করে দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। রোববার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন জ্বালানি মূল্যে এই ঘোষণার পরই দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই তার মন্তব্য আসে।

    ডা. শফিকুর বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমে আসছে, তখন বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’

    তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং এটি হবে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

    অপরদিকে শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় আনা প্রয়োজন।

    জ্বালানি দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যার আলোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাধারণ ভোক্তা থেকে ব্যবসায়ী—সবার কাছে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

  • জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

    জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। শনিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই কমিটিতে মোট ৫৩ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ কমিটি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ ও অনুমোদনে গঠন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    জাতীয় নারীশক্তি গত ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সেই সময় সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব হিসেবে মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠন কার্যক্রম শক্তভাবে এগিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

    শুক্রবার (বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার তারিখ উল্লেখ) প্রকাশিত কমিটির বড় পদগুলোতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সানজিদা বুশরা মিশমা। যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাফসা জাহান, নাবিলা তাসনিদ, খন্দকার খালেদা আক্তার, আশরেফা খাতুন ও মুনা হাফসাকে।

    সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে মনজিলা ঝুমা নাম রয়েছে। অন্যান্য যুগ্ম সদস্যসচিবরা হলেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি, নাহিদা বুশরা, কাজী আয়েশা আহমেদ, নীলা আফরোজ, মাহমুদা রিমি ও ইসরাত জাহান বিন্দু।

    যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন ইশরাত জাহান, উরসী মাহফিলা, সাদিয়া আফরিন, জয়ন্তী বিশ্বাস, সোনিয়া লুবনা, নাফিসা মুশতারী ও নাদিয়া ইসলাম মিম।

    এছাড়া রেহনুমা রুমা, ফারজানা আক্তার, মনি মুক্তা, সেজুতি আক্তারসহ আরও ৩০ জনকে সংগঠক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির কার্যক্রম, দায়িত্ববিভাগ ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগির জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে সহজ ঋণ

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে সহজ ঋণ

    দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে একটি পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার রিভলভিং ফান্ড এবং ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশিকা অনুসরণ করে এই উদ্যোগে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

    রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও ছোট উদ্যোগগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। ঋণের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানভেদের উপর নির্ভর করে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। কিস্তি-পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত রাখা হয়েছে এবং এর মধ্যে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, যা উদ্যোক्तাদের প্রথমে ব্যবসা চালু করে আয়ের ভিত্তিতে কিস্তি শুরু করার সুযোগ দেবে।

    আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য। তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী উদ্যোক্তা এবং নির্ধারিত শিল্প ক্লাস্টারে কাজ করা উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি খাতে তরুণ উদ্ভাবক, আমদানি-আপেক্ষিক পণ্যের বিকল্প উৎপাদনকারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

    ১০ লাখ টাকার মধ্যে দেওয়া ঋণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক জামানত বা স্থাবর সম্পত্তি প্রদানের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, ফলে নগদ বা সম্পদের সীমাবদ্ধতায় থাকা উদ্যোক্তারা সহজেই প্রয়োজনীয় মূলধন নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংক এই তহবিলকে কেবল ঋণ প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখছে না; এটিকে টেকসই শিল্পায়ন উদ্দীপ্ত করার জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালু করা, এবং বিদেশ ফেরত কর্মীদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার একটি সুযোগ হিসেবেও ধরা হচ্ছে।

    প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী উভয়েই বলেন, এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের CMSME খাতের সার্বিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। বার্তাটি স্পষ্ট—ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পেছনে আর্থিক সহায়তা বাড়ালে জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড দৃঢ় হবে।

  • প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসার পর চলতি এপ্রিলেওremittance প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে এবং দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে। একই হিসাব IMF-এর BPM-6 পদ্ধতিতে করলে রিজার্ভ ছিল ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগের, ১৬ মার্চে গ্রোস রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার এবং BPM-6 অনুযায়ী ২৯.৫২ বিলিয়ন — ফলে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের মতো বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    তবে সব রিজার্ভই ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায়-দায়িত্ব এবং কিছু নির্দিষ্ট খাত বাদ দিলে যে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ থাকে, সেটিই বাস্তবে জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করে; সেখানে IMF-এর এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং কিছু নির্দিষ্ট অন্তর্ভুক্তি বাদ দেয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না, কিন্তু ব্যাংকের সূত্র বলছে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।

    এই হিসেব ধরলে, মাসিক আমদানি ব্যয় গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি খরচ মিটানো সম্ভব। সাধারণত অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়।

    অতীতে রিজার্ভ চাপে পড়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন বিদেশি ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ। মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়েছেন এবং হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে পুনরায় শক্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার ক্রয় করছে, তাই রিজার্ভ ভালো অবস্থায় আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডলারের মূল্য অতিরিক্তভাবে সংকুচিত হলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

    পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে গিয়েছিল এবং তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৪.২০ টাকা। পরে ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ পড়ে তা কমে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে (IMF হিসাব অনুযায়ী ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার) এবং একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থির হয়ে ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে পৌঁছায়; তখন আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    এরপর বাজারভিত্তিক বিনিময় হার পুনঃপ্রবর্তন ও প্রবাসী আয় বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে — মার্চে প্রবাসীরা এক মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন; এটি দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার। চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি (গত বছর ছিল ১৪৭ কোটি)।

    রেমিট্যান্স বাড়ায় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার ক্রয় করেছে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে।

    একই সময়ে আন্তর্জাতিক কারণে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা বাজায়; যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধি সংশ্লিষ্টদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • গাজায় নিহত ৭২,৫৪৯; ধ্বংসস্তূপে এখনও শতশত আটকা

    গাজায় নিহত ৭২,৫৪৯; ধ্বংসস্তূপে এখনও শতশত আটকা

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২,৫৪৯ জনে। মন্ত্রণালয় শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    অধিকারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার ২৭৪ জন আহত হয়েছে।

    ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও আটটি মরদেহ গ্রহণ করেছে—ওইগুলোর মধ্যে সাতজন সাম্প্রতিক হামলায় নিহত এবং একজনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ২৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৭৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ১৭১ জন আহত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এ সময়ের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৭৬১টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ‘মার্টার্স অ্যাপ্রুভাল কমিটি’ কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পরে সাম্প্রতিক মৃতের তালিকায় আরও ১৯৬ জনকে যুক্ত করা হয়েছে। গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধ্বংসস্তূপের আড়ালে এবং রাস্তায় এখনো অসংখ্য ভুক্তভোগী আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইসরায়েলের স্থিতি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো অনেক অঞ্চলে পৌঁছাতে পারছে না, যা হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণকে কঠিন করে তুলেছে। (সূত্র: আলজাজিরা)

  • আমিরাতে দিনভোরে জিলকদ চাঁদ দেখা, ঈদুল আযহার সম্ভাব্য তারিখ জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

    আমিরাতে দিনভোরে জিলকদ চাঁদ দেখা, ঈদুল আযহার সম্ভাব্য তারিখ জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

    হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলকদ মাস এক অশ্রাব্য ঘটনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতে দিনভোরেই নতুন চাঁদ দেখা গেছে। এই চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণের পর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আগামী জিলহিজ্জা মাস ও পবিত্র ঈদুল আযহার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে জানিয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রি থেকে জানা গেছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় নতুন চাঁদের ছবি তোলা যায়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আওদা। দিনের আলোয় চাঁদ দেখা যাওয়ায় অবস্থা আরও বিশেষ হয়ে ওঠে—এমন পর্যবেক্ষণ সাধারণত খুবই অল্প ঘটেই।

    এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, তাদের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রথমদিন হতে পারে ২৭ মে, বুধবার। সেক্ষেত্রে আরাফাতের দিন পড়বে ২৬ মে, মঙ্গলবার। এই তারিখগুলো বর্তমানে সম্ভাব্য বলে বলা হচ্ছে।

    চাঁদ দেখার এই পর্যবেক্ষণ মধ্যপ্রাচ্যে জিলহিজ্জা ও ঈদের প্রস্তুতি শুরু করার সূচক হিসেবে গণ্য হবে। তবু চূড়ান্ত ঘোষণা সাধারণত সরকার বা ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক চাণক্য অনুসারে করা হয়—এমনকি গণনার ওপর ভিত্তিক সম্ভাব্য তারিখ দেয়া থাকলেও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে প্রকাশ পাবে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাধারণত আরাফাত ও ঈদুল আযহার জন্য চার দিনের সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত হলে এই ছুটি ৯ দিন পর্যন্ত লম্বা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে অনেক পরিবার আগে থেকেই ছুটির পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে।

    এখনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি আসেনি; তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে। তবে দিনের আলোয় চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি এইবারের চাঁদবিজ্ঞানের দিক থেকে হাতছাড়া না-করার মতো একটি নজির তৈরি করেছে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতিতে প্রথমবার ‘দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা’ চালু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতিতে প্রথমবার ‘দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা’ চালু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভব künftig পদোন্নতিতে কেবল জ্যেষ্ঠতাকেই নয়, মেধা ও বাস্তব দক্ষতাকেও মূল্যায়ন করা হবে—এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ‘দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা’ পরিচালনা করা হলো।

    আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসসি)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় প্রার্থীদের তিন ধাপে দক্ষতা যাচাই করা হয়—লিখিত পরীক্ষা, পদ সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং কম্পিউটার টাইপিং পরীক্ষা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ফল বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি মূলত জ্যেষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে দেওয়া হতো। এ প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত বলা হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সাময়িক প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং নিজের কর্মদক্ষতা উন্নয়নে তারা আরও মনোযোগী হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    পরীক্ষার সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, আইকিউএসসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ।

    উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম পরিদর্শনের সময় বলেন, এটি সময়োপযোগী ও কার্যকর একটি উদ্যোগ। আমরা চাই সরকারিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কাজের প্রতি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং দায়বদ্ধতা দেখান। এই পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিরা তাদের যোগ্যতার যথাযথ স্বীকৃতি পাবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং সার্বিকভাবে সেবার মান উন্নত হবে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ফলাফল ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া কিভাবে বাস্তবে প্রভাব ফেলবে, তা নজরদারির বিষয় হবে।

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে খুলনা কলেজছাত্রী ফাইজার জিডি

    খুলনা: খুলনা কলেজের এক ছাত্রী ফাইজা অভিযোগ করে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং-১১৪০) করেছেন, যে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল ভাইজা তার নিজ অ্যাকাউন্টে লগইন করলে দেখতে পান তার নামে অশ্লীল মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত কিছু ছবি একটি “প্রিয়সি রহমান” নামে ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। একই ধরনের পোস্ট ভয়েস অফ খুলনা নামের একটি পেজ থেকেও ছড়িয়ে দেয়া হয়।

    জিডিতে ফাইজা উল্লেখ করেছেন, এসব পোস্টের কারণে তিনি সামাজিকভাবে লজ্জিত হচ্ছেন এবং পারিবারিকভাবে ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মিথ্যা প্রচারণার ফলে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং জীবন-বৈচিত্র্যে উদ্বেগ অনুভব করছেন।

    ফাইজা অভিযোগে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাম্যিক–শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকেও নজর আকর্ষণ করেছেন।

    অভিযুক্ত হিসেবে নামাজানো ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী মুমু ঘটনার সত্যতা আংশিকভাবে স্বীকার করে বলেন, ‘‘আমরা দু’জনই পরস্পরের পরিচিত। আমার সন্দেহ ছিল যে সে (ফাইজা) পারিবারিকভাবে আমাকে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, সেই সন্দেহ থেকে আমি এ ধরনের কাজ করেছি।’’

    সোনাডাঙ্গা মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাদিম জানিয়েছেন, জিডি পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করে তদন্ত চালাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে।