Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার

    মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার

    চলতি মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানান। হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    গত বছরের একই সময়ে প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স ছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তুলনায় এবার পাঠানো অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স অংক দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা বছর ভিত্তিতে বাড়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

    মাসভিত্তিক তথ্য বলে, এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। মার্চে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার—এক মাসে এটি দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

    ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার; অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগস্টে ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স হয়েছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার — যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে ধরা হয়েছে।

  • এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী ঘোষণা

    এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী ঘোষণা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম বলেন, ‘‘আজ আমরা প্রাথমিকভাবে ১০০ জন এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি। নির্বাচনের জন্য আলাদাভাবে হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল; সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে এই তালিকা করা হয়েছে।’’ তিনি জানান, আগামী ঈদের আগেই—মে মাসের ২০ তারিখে—দল দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে এবং এই নাম ঘোষণা প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

    আরও বলেন, এনসিপিতে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন বা দায়িত্বে আছেন এবং যারা গ্রহণযোগ্য, মনোনীত হওয়ার যোগ্য—তাদের জন্য দরজা খোলা। এমনকি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও যদি প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করে আবেদন করেন এবং যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন, তারা এনসিপির প্রার্থী হিসেবে সুযোগ পাবেন। দলের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে, তিনি যোগ করেন।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৫০ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াহিয়া জিসান; নোয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবির; খুলনার চালনায় মেয়র প্রার্থী এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী সোহেল পারভেজ; মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জে পৌর মেয়র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাটে পৌর মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুরে পৌর মেয়র প্রার্থী রায়হান কবির; নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদরের পৌর মেয়র প্রার্থী মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাটের কালিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জের গোমস্তাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মাসুদ; নওগাঁর নেয়ামতপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশাল আহমেদ; বাদলগাছীতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদ মোর্শেদ আজম; ধামুরহাটে পৌর মেয়র প্রার্থী মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়ার শিবগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান; পাবনার চাটমোহর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদরে পৌর মেয়র প্রার্থী মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজারের রাজনগরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খালেদ হাসান; কুলাউড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু রুকিয়ান; সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকারিয়া; গোয়াইনঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়র প্রার্থী নূর ইসলাম; জামালপুর সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম; নেত্রকোণার খালিয়াজুড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্টায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোণা সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহের তারাকান্দায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু হেলাল; ধোবাউড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর): কিশোরগঞ্জ সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইলে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী খায়রুল কবির; ঢাকার সাভারে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আবদুল্লাহ; টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুরের কালিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ): নারায়ণগঞ্জের সেনারগাঁওয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ: ফরিদপুরের নগরকান্দায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি বলেছে, তারা ভবিষ্যতেও যাচাই-বাছাই ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা বৃদ্ধি ও বদল করতে পারে। দলের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি—যোগ্য ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে এনে স্থানীয় সরকারে অংশ নেওয়া।

  • করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে; নিত্যপণ্যের উৎসে কর রাখা হলো ০.৫০ শতাংশ

    করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে; নিত্যপণ্যের উৎসে কর রাখা হলো ০.৫০ শতাংশ

    আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে নতুন উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার তার খসড়া পর্যালোচনায় বিভিন্ন করসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়—যাতে ব্যক্তিগত করছাড় বাড়ছে, কিছু নতুন কর আরোপের ধারা চালু হচ্ছে এবং ভ্যাট-উৎসের কিছু নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের কাছে নির্ধারিত আদায়ের টার্গেট প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের লক্ষ্য পূরণে ভ্যাট, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকেই সবচেয়ে বড় অংশ আসবে; এগুলো মিলিয়ে মোট লক্ষ্যের প্রায় ৭৪ শতাংশ। আমদানি-রপ্তানিতে শুল্ক আয়ের অংশ ধরা হয়েছে ২৬ শতাংশ।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির। বর্তমানে ৩ লাখ টাকা থাকা করমুক্তসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো আগ্রিম কর/ক্যাটেজরি শুল্ক নেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এনবিআরের বৈঠকে।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর আগের মতোই ০.৫০ শতাংশ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে—অর্থাৎ চাল, ডাল, চিনি, খেজুরসহ সবধরনের নিত্যপণ্যের উপর উৎসে কর বাড়ানো হয়নি। তবে আগামী বাজেট থেকে সম্পদকর চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে; তা প্রথম বছরে ১ শতাংশ হারে ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    অনলাইন গেমিংয়ের ওপর উৎসে কর ধার্য করা হয়েছে ২৫ শতাংশ। পাশাপাশি কিছু নতুন করধারাও নিয়ে পরিকল্পনা চলছে—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং কিছু ক্ষেত্রে মদ ও নতুন পণ্যে ভ্যাট আরোপের সম্ভাব্যতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘বাংলা টেসলা’ নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো করের আওতায় আনতে চাইছে সরকার; পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বছরে আনুমানিক ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে পারে এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে। ঐ একই ধাঁচে সিসি-ভিত্তিক মোটরসাইকেলের ওপর ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনাও যোগ করা হয়েছে।

    ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কিন্তু দামি বা বিলাসবহুল গাড়ি—বিশেষত ৩,৫০০ সিসির বেশি পিসির ক্ষেত্রে—অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধি পাবে। ঐ ধরনের গাড়ির অগ্রিম আয়কর এখন ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনায় ১,৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার টাকাই থাকবে।

    ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে ভবিষ্যতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (BIN) দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে; তবে বলেছে এনবিআর, BIN পেতে ভ্যাট কর্মকর্তার অনুমোদন লাগবে না—এটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে। এছাড়া কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি মদে ও কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে ভ্যাট আরোপের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে।

    বাজেট প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এনবিআর ২০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে উপজেলা পর্যন্ত ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট রেডি করা হবে—ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য টোকেন হিসেবে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

    রাজস্ব বৃদ্ধির এসব উদ্যোগ নিয়ে আয়কর বিশ্লেষক আশরাফ হোসেন খান বলেন, সরকার যদি উন্নয়ন খরচে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, নাগরিকরা কর দিতে রাজি হবে। ‘‘সরকারি উন্নয়ন কাজে যদি সব ব্যয় পরিচ্ছন্নভাবে খরচ হয়, মানুষের আস্থা বাড়বে এবং কর দেয়ার প্রবণতাও বাড়বে,’’ তিনি বলেন।

    ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ট্যাক্স এড়িয়ে আসছে; তাদেরই এখন ভ্যাট বা আয়কর দানে আনতে এগিয়ে আসার প্রয়োজন। তিনি মনে করান, দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানো সত্ত্বেও আয় অজুহাতে কর এড়ানো চলবে না—সবাইকে কর ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

    সংক্ষেপে, আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে নতুন কর আরোপ এবং নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর অপরিবর্তিত রাখা—এসব মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব বাড়ানো। এনবিআর ও অন্যান্য ক্যাটাগরির রাজস্ব একত্রে সরকার চাইছে আগামী অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে, একই সঙ্গে কড়াকড়ি আর স্বচ্ছতার দাবি ওঠছে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে।

  • কেসিসি: মহানগরে ১৮০ দিনে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    কেসিসি: মহানগরে ১৮০ দিনে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    মহানগরীর জিআইজেড মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সকালে কেসিসি পরিচালিত বিভিন্ন জায়গা ও উন্মুক্ত জমিতে বনায়ন তৈরির লক্ষ্যে একটি পরিষদেরসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভার আয়োজন করে কেসিসি’র রাজস্ব বিভাগ; এটি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’’ কর্মসূচির স্থানীয় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অংশ।

    সভায় বিভিন্ন ব্যাংকের স্থানীয় শাখার কর্মকর্তা ও মহানগরে কর্মরত অনেকে বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কেসিসি প্রশাসক বলেন, দেশব্যাপী এই বৃহৎসবুজ অভিযানে মহানগরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে; লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব সংস্থা ও নাগরিককে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সকলের মতাম্যকে অন্তর্ভুক্ত করে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করাই সফলতার চাবিকাঠি। মশার প্রজনন রোধে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না—এ বিষয়ে নাগরিকদেরও সতর্ক ও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

    সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বন বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে সঠিক স্থানে গাছ রোপণ করা, সাধারণ জনগণকে ব্যাপকভাবে ঐ কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রচারণা চালানো এবং বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশে রোপণের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা, আসন্ন বৃক্ষমেলা বর্ণাঢ্যভাবে আয়োজন করার জন্য বন বিভাগকে সহযোগিতা অনুরোধ এবং সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থার মধ্যে যুগোপযোগী সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

    আরও ঠিক করা হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে মহানগরীতে মোট ৫০,০০০ লক্ষ্মী বৃক্ষরোপণ করা হবে। শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসহ যেখানে উন্মুক্ত জায়গা আছে সেগুলোতে গাছ রোপণ করা হবে; উন্মুক্ত জায়গা না থাকা সংস্থাগুলোর জন্য গাছের চারা অনুদান হিসেবে প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি সচিব মোঃ রেজা রফিক (রেজা রশীদ), প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, বাজেট ও একাউন্টস অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, সম্পত্তি কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন। ব্যাংক ও সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন জনতা ব্যাংক করপোরেট শাখার ডিজিএম মোঃ মেহেদী হাসান, কমিউনিটি ব্যাংক—খুলনা শাখার এসএভিপি মোঃ রোকনুজ্জামান, বেসিক ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আবু সাঈদ। নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস. এম. ইকবাল হাসান তুহিন, নিরালা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুরসহ ডাচ-বাংলা, ব্র্যাক, মিডল্যান্ড, ঢাকা, মেঘনা, ওয়ান, প্রাইম, সাউথইস্ট, আল-আরাফা, ব্যাংক এশিয়া প্রভৃতি ব্যাংক এবং রূপান্তর, ব্র্যাক, প্রদীপন, রূপায়ন, সুশীলন, নবলোক, সিয়াম, এ্যাওসেড, ফেয়ার ফাউন্ডেশন, মানবসেবা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ও অন্যান্য বেসরকারি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা সভায় যোগ দেন।

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত জানালো: ঈদুল আযহা সম্ভবত ২৭ মে

    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানালো: ঈদুল আযহা সম্ভবত ২৭ মে

    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে পবিত্র জিলহার মাসের চাঁদ গণনা অনুযায়ী সম্ভবত আগামী ১৭ মে দেখা যাবে। আবুধাবি অবস্থিত আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি) এই তথ্য জানিয়েছে।

    আইএসির গণনা অনুযায়ী ১৭ মে জিলহজের চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসেব মেনে আগামী ২৭ মে (বুধবার) বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে ঈদুল আযহা উদযাপিত হতে পারে। কেন্দ্রটি তাদের জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছে।

    আইএসি বলছে, ১৭ মে চাঁদ টেলিস্কোপের সাহায্যে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যেতে পারে। অপরদিকে মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ অংশ থেকে সেই দিন খালি চোখেও চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী যদি ১৮ মে (সোমবার) থেকে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হয়, তাহলে জিলহজের ১০ তারিখে অর্থাৎ ২৭ মে ঈদুল আযহার প্রথম দিন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকবে।

    তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে। আলেম-ওলামারা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার পরই ঈদের তারিখ ঘোষণা করবেন।

    সূত্র: গালফ নিউজ।

  • উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ে ১০৪ জন নিহত, বহু এলাকা বিধ্বস্ত

    উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ে ১০৪ জন নিহত, বহু এলাকা বিধ্বস্ত

    ভারতের অন্যতম জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে তীব্র ঝড়ে অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যু এবং ৫০-র ওপরে মানুষ আহত হয়েছেন। ঝড়ে ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের অন্তত ১২টি জেলায় ঝড়টি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

    সরকারি ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, শত শত গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে পড়েছে; অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায়াগরাজ (প্রয়াগরাজ/এলাহাবাদ) জেলা — সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা হলো: ভাদোহী ১৮, মির্জাপুর ১৫, ফতেহপুর ১০; উন্নাও ও বদায়ু জেলায় প্রতিটিতে ছয়জন; প্রতাপগড় ও বেরেলিতে চারজন করে প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া সীতাপুর, রায়বেরােলি, চাঁদৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সম্বল থেকেও বহু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    কর্মকর্তারা বলেন, প্রবল ঝড়ের কারণে কাঁচা ঘর ধসে পড়া, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতেই বেশির ভাগ প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে ছিন্নভিন্ন যোগাযোগ ও বিদ্যুৎবিভ্রাটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনমান আরও বিপর্যস্ত হয়েছে; ক্ষেতের ফসল ও গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, তীব্র বাতাসে বিশাল গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছে; কোথাও কোথাও রেল লাইনের ওপর গাছ পড়ায় ট্রেন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে একজন মানুষ টিনের চালাসহ আকাশে উড়ে গিয়ে কয়েকটি মিটার দূরে একটি মাঠে পড়ছেন।

    প্রয়াগরাজের বাসিন্দা রাম কিশোর সংবাদসংস্থা এপিকে বলেছেন, হঠাৎই ঝড় শুরু হয়; মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, টিনের চালা উড়ে যায় এবং মানুষদের চিৎকার-চেঁচামিচি শুরু হয়। তিনি জানান, সারা সন্ধ্যা শুধু গাছ ভেঙে পড়ার আওয়াজটাই শোনা গেছে।

    দুর্যোগের খবর পেয়ে পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। রাস্তা ও রেল লাইনের ধ্বংসাবশেষ সরাতে তারা চেইনসো, ক্রেন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তাত্ক্ষণিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    বহু জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে রাত জুড়েই অন্ধকার বিরাজ করেছে; প্রশাসন জানায় উদ্ধারকাজ এখনও চলমান হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং চূড়ান্ত হিসাব পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ফসলের ক্ষতি নিরূপণের জন্য রাজস্ব ও কৃষি দফতরসহ বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ঝড়ের ব্যাপকতা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শত শত ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেছেন স্থানীয়রা।

    সূত্র: এনডিটিভি, স্কাই নিউজ।

  • মাহমুদউল্লাহ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর হচ্ছেন

    মাহমুদউল্লাহ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর হচ্ছেন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রবীণ জাতীয় ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের মেন্টর পদে দেখা যেতে পারে সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

    বোর্ডের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদউল্লাহ ও বিসিবির মধ্যে আলোচনা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি ২০২৮ সালের যুব বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন — ওই আসর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    মেন্টরের দায়িত্ব নিলেও মাহমুদউল্লাহ ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন। যুব দলের ক্যাম্প ও প্রস্তুতিমূলক সময়গুলোতে তিনি দলের সঙ্গে থেকে ক্রিকেটারদের মানসিকতা গড়ায়, ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানো এবং আন্তর্জাতিক স্তরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কাজে সরাসরি সহাযোগিতা করবেন। পাশাপাশি দেশের বাইরে ও ভেতরে সিরিজ বা টুর্নামেন্টে দলের সঙ্গে থেকেও তাদের দিকনির্দেশনা দেবেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

    বিসিবি চাইছে সাবেক খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের ক্রিকেটকে আরও শক্ত ভিতে গড়া এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের জন্য প্রতিভা প্রস্তুত করা। মাহমুদউল্লাহ থাকলে তরুণ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানসিকতা ও কৌশল শিখতে পারবে বলে সূত্রগুলো মনে করছে।

  • লেবাননে ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার শুভ দাসসহ ৩ বাংলাদেশি নিহত

    লেবাননে ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার শুভ দাসসহ ৩ বাংলাদেশি নিহত

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাস (২২), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মোঃ নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২৬)।

    শীতল শোকে ভেঙে পড়েছে শুভ কুমার দাসের পরিবার। সুরঞ্জন দাস ও শিখা রানী দাস দম্পতির বড় ছেলেই ছিলেন শুভ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ও পরিবারের স্বপ্ন পুরণ করার জন্য তিন বছর আগে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি একটি পশুখামারে কাজ করতেন এবং নাবাতিয়ার মাইফাদুন এলাকায় চারতলা এক ভবনের তৃতীয় তলায় কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে বসবাস করতেন।

    স্থানীয় সময় গত সোমবার (১১ মে) রাতে তাদের থাকা ভবনে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের ফলে ভবনটি ডেনে পড়ে যায় এবং সেখানে থাকা একাধিক শ্রমিক নিহত ও আহত হন। পরে বাংলাদেশে থাকা পরিচিতদের মাধ্যমে শুভসহ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পরিবারে পৌঁছায়।

    নিহতের মা শিখা রানী দাস বললেন, ‘‘আগামী ২২ মে শুভর লেবাননে থাকতে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। রবিবার (১০ মে) সকালে তার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। সে আমাকে বলেছিল, ‘মা, আমাদের এলাকা নিরাপদ, তোমরা চিন্তা করো না।’ এক রাত পরেই এমন ঘটনা ঘটে যাবে—কারো ধারণা ছিল না।’’

    শিখা রানী বলেন, পরের দিন সকালে ভবনে হামলার খবর পেয়ে শান্ত নামে এক পরিচিত ফোন করে জানায় পুরো ভবন ধসে গেছে। পরে মোবাইলে বারবার কল দিলেও সাড়া পাননি। ‘‘আমার একটাই চাওয়া—আমার ছেলেটাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে, আমি আর একবার তার মুখ দেখতে চাই,’’ তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শোকের কিছু সময় পর তারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মরদেহ দেশে নেওয়া এবং সকল প্রকার সহযোগিতা চেয়ে সরকারি সাহায্য কামনা করেছেন। শোকগ্রস্ত মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন এবং বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, নিহত শুভর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তারপরও সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিহতের পরিবারকে সহায়তা করবে। তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয় সরকারি ও প্রবাসী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক এবং মানসিক সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয়রা এগিয়ে এসেছে।

    ঘটনার তদন্ত ও মরদেহ প্রত্যাবর্তনে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কড়া তৎপরতা দাবি করেছেন নিহতদের পরিবার। তারা দ্রুত তাদের প্রিয়জনের মরদেহ দেশে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান।

  • নাহিদ রানা পেলেন আইসিসির এপ্রিল মাসের সেরা পুরস্কার

    নাহিদ রানা পেলেন আইসিসির এপ্রিল মাসের সেরা পুরস্কার

    বাংলাদেশের উত্থানশীল পেসার নাহিদ রানা চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেলেন—এপ্রিলের জন্য আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে তার গতিশীলতা, আগ্রাসী মনোভাব ও আত্মবিশ্বাসই এই সম্মানের কারণ হিসেবে cited হয়েছে, জানিয়েছে আইসিসি যা বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে।

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নাহিদ নেন মোট ৮ উইকেট; গড় ১৬.৭৫ এবং ইকোনমি মাত্র ৪.৪৬। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরপুরে তার দিনটা ভালো কাটেনি—৬৫ রান খরচ করে মাত্র এক উইকেট পেয়েছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি ফিরে আসেন পূর্ণ বলাবলী নিয়ে; মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইভ-ল উইকেট শিকার করেন। সিরিজের শেষ ম্যাচেও ২ উইকেট নিয়ে দলের সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সিরিজসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

    এই পারফরম্যান্সের সহায়তায় ওমানের ঘণ্টিন্দর সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমারকে পেছনে ফেলে নাহিদ প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছেন। গত বছর এপ্রিলে মেহেদী হাসান মিরাজের পর এবার নাহিদের পালা।

    নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও নাহিদ নেন ৮ উইকেট এবং তখনই তিনি প্রথমবারের মতো ফাইভারের স্বাদ পেয়েছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পরে টেস্টেও মিরপুরে ফাইভারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ১০৪ রানের বড় জয়ে সাহায্য করেন, যা তার ধারাবাহিক উন্নতিরই প্রমাণ।

    পুরস্কারপ্রাপ্তির পর নাহিদ বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো খেলাটা সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। নিজেদের মাঠে এমন সাফল্য পেয়েছি—এটি আমি সারাজীবন মনে রাখব।’ তিনি সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যোগ করেন, ‘আমার সঙ্গে সবসময় বিশ্বাস রেখে সমর্থন করে যাওয়ার জন্য টিমমেটদের ধন্যবাদ। আশা করি ভবিষ্যতেও দলের জন্য আরও জয় ও স্মরণীয় মুহূর্ত এনে দিতে পারব।’

    কর্তব্যনিষ্ঠা, গতি ও ধারাবাহিকতা দেখিয়ে নাহিদ রানা এখন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন; তাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ওপর ধারণাটা আরও শক্ত হচ্ছে।

  • বয়স কমানোর ইনজেকশনের গুজব নাকচ করলেন শেফালির স্বামী পরাগ ত্যাগী

    বয়স কমানোর ইনজেকশনের গুজব নাকচ করলেন শেফালির স্বামী পরাগ ত্যাগী

    ‘কাঁটা লাগা’খ্যাত অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল—বয়স কমানোর ইনজেকশন নিতেন, সেই ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু—সেটি মিথ্যা বললেন তাঁর স্বামী পরাগ ত্যাগী। দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর এ কথা জানিয়ে তিনি গুজব দমনে অনুরোধও করেছেন।

    পরাগ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা সব কিছুই খাই। শেফালি মারা যাওয়ার আগের দিনও আমরা চাইনিজ খেয়েছিলাম। ও তো বেশ ফিট ছিল — না খেয়ে থাকলে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যেত।” তিনি আরও প্রশ্ন করেছেন, “কী ধরনের ইনজেকশন বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে? যদি এটা সত্যি হত, তাহলে রতন টাটা এখনও বেঁচে থাকতেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে পরাগ সুস্পষ্টভাবে ইনজেকশনের চর্চার অনর্থকতা তুলে ধরেছেন এবং গুজব ছড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    শেফালি গত বছর মারা যান। সংবাদে জানানো হয়, মৃত্যুর সেই দিন তিনি উপোস ছিলেন—সত্যনারায়ণ পূজার কারণে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপোস রেখেছিলেন। উপোস ভাঙার পরে ফ্রিজ থেকে সামান্য কিছু খান তিনি, কিন্তু ক্লান্ত শরীরকে যথেষ্ট বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পাননি। রাতে প্রায় সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ জ্ঞান হারান শেফালি; দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গেছেন।

    শোবিজ ক্যারিয়ারের শুরু মডেলিং থেকেই—শেফালি প্রায় ৩৫টির মতো মিউজিক ভিডিওয় কাজ করেছেন। বলিউডে অভিষেক হয় ২০০৪ সালে; ‘মুঝসে শাদি করোগে’ ছবিতে ক্যামিওর মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু হয়।

    ব্যক্তিগত জীবনেও শেফালির নাম নানা সময় বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে জড়িয়েছে। ২০০২ সালে প্রথম ঘরকর্ম শুরু করলেও সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ করে তিনি বিচ্ছেদ নেন। পরে অনেকটা আড়ালে চলে গেলেই তিনি। পরে ২০১৪ সালে বিগ বস্‌ ১৩ থেকে পরিচয় হওয়া পরাগ ত্যাগীর সঙ্গে ঘর বাঁধেন—দুজনেই ‘বিগ বস’–এ প্রতিযোগী ছিলেন এবং সংসার জীবনেও তাঁরা সুখী ছিলেন।

    পরাগের এই মন্তব্যে শেফালির দিকে গিয়ে ছড়ানো অনেক গুজবের ইতি ঘটতে পারে, তবে পরিবারের অনুরোধ—শোকের সময়ে কল্পনা ও অনুমান ছাড়াই সঠিক তথ্যেই গুরুত্ব দেওয়া হোক।