Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সংবিধান সংস্কার ঘিরে বিরোধীদলের সংসদীয় ওয়াকআউট

    সংবিধান সংস্কার ঘিরে বিরোধীদলের সংসদীয় ওয়াকআউট

    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের সদস্যরা বিরোধ প্রকাশ করে কক্ষে ত্যাগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি, তাই তারা প্রতিবাদ হিসেবে বিরতিহীনভাবে সেশন ত্যাগ করেন।

    অনির্ধারিত আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে তার পূর্বের বক্তব্য ঠিকভাবে অনুধাবন হয়নি—তবে তিনি বিশ্বাস করতে চান না যে তা ইচ্ছে করে করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করান যে গতকালের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদ আহ্বান।

    আলোচনার এক পর্যায়ে মন্ত্রীর এক প্রস্তাবের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, যদি সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। এমন কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকলে তা অধিক কার্যকর ও ফলদায়ী হবে। আমরা সংসদে এসেছে বিদ্যমান সংকট সমাধানের জন্য—নতুন সংকট তৈরির জন্য নয়।

    বিরোধীদলীয় নেতার কথ্য দাবি ছিল, এটি একটি জনগণের জীবনের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গণভোটের মতো—যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রশ্ন জড়িত। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে এর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা আশা করেছিলেন, যা তিনি এখনও পাননি।

    স্পিকার ঘটনাস্থলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, গতকালের প্রস্তাবটি একটি মুলতবি (অ্যাজর্নমেন্ট) প্রস্তাব ছিল, যা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন যে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এধরনের মুলতবি প্রস্তাব মাত্র তিনবার গৃহীত হয়েছে—একটি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের時, একটি গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত এবং আরেকটি নূরুল ইসলাম মণির কোস্টগার্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব। সাধারণত বছরের পর বছর এ ধরনের প্রস্তাব দেখা যায় না।

    স্পিকার আরও বলেন, যেসব সমস্যা কেবল আইনপ্রণয়নের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য, তাদের বিষয়ে সাধারণত মুলতবি প্রস্তাব করা হয় না; তবু সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিরোধী দলকে উদারভাবে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত আরও একটি নোটিস আজ বিবেচনায় আনা হবে এবং যারা কথা বলতে চান তাদের আজ বা আগামীকাল পর্যাপ্ত আলোচনা-সময়সহ সুযোগ দেয়া হবে।

    স্পিকার MPs-দের স্মরণ করিয়ে দেন যে এটি জনগণের সংসদ; জাতীয় গুরুত্ব সম্পন্ন যে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল মিলেই আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) মেনে আলোচনা ফলপ্রসূ করার দায়িত্বও MPs-দেরই।

    সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, সংবিধান সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনের ওপর মতবিরোধ ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তার কারণে বিরোধী দল আজ অধিবেশন ত্যাগ করেছে; স্পিকারের আশ্বাস রয়েছে যে বিষয়টি পরবর্তী আলোচনায় উন্মুক্ত করে সমাধান খোঁজা হবে।

  • সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছালো

    সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছালো

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে নির্ধারিত দিনে পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত তা ৭ মে পর্যন্ত ঝুলি করেন। এ নিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সূচি মোট ১২৫ বার পিছিয়েছে।

    এই মামলা দীর্ঘ সময় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ হাইকোর্ট একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম রুনির বন্ধু তানভীর রহমান। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ (ওরফে হুমায়ুন কবির), রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু (ওরফে বারগিরা মিন্টু/মাসুম মিন্টু), কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল এবং আবু সাঈদ। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র জামিনে রয়েছে; বাকি আসামিরা এখনও কারাগারে রয়েছেন।

    মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে সাগর সরওয়ার (মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক) ও মেহেরুন রুনি (এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক) খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমদিকে শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত শুরু করেন, পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তভার পান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম।

    তারপর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলার তদন্ত দেওয়া হয় র‌্যাবকে। বহুবছর বিভিন্ন ধাপে তদন্ত ও আদালতী কার্যক্রম চলার পরেও দীর্ঘ বিরতি ও দফায় দফায় সময় বদলে প্রতিবেদন দাখিল বাকি থাকায় পরিবার ও সাংবাদিক মহলে নিরাশা দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ মে আদালত যখন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন, তখন কেবল তখনই মামলার তদন্তকাজে অগ্রগতি কতটা হয়েছে তা জানা যাবে।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার সামনে এগোলে তা জনগণ মেনে নেবে না; ইতিহাসও এমন নেতাদের শেষ করে দিয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস দেখলে দেখা যায়—শক্তিশালী মনে হওয়া অনেক সরকারই গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে ইতিহাসের পাতায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। ‘‘আপনারা দেখেছেন, অনেকেই ছিলেন মহাপরাক্রমশালী, কিন্তু গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েই তারা হারিয়ে গেছে,’’ তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও স্মরণ করান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচ্যের বিরুদ্ধে জনআন্দোলনের ফলেই শাসন পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন স্থাপন করার চেষ্টা করা হয়, শেষ পর্যন্ত তা টেকেনি—এমনই ইতিহাস আমাদের শেখায়, বলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’’

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা এবং আহত সহযোদ্ধারারা দেখেছেন, সেটা বাস্তবায়ন করা জরুরি। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে দেশের যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছে, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।’’

    সুতরাং তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান রাখেন—জনগণের পাশে দাঁড়ান, সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অংশ হন। ‘‘যদি জনগণের বিপক্ষে যাওয়া হয়, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবারো মাঠে নামতেই হতে পারে,’’ বলেন আসিফ মাহমুদ।

  • ঢাকা দুই সিটি সহ পাঁচ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ঢাকা দুই সিটি সহ পাঁচ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে — যার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দুইটি সিটি।

    রোববার (২৯ মার্চ) রাতে বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থী হয়েছেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনে সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে লড়বেন।

    এনসিপি জানায়, চলমান এপ্রিল মাসের মধ্যে বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে দলীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে নিয়ুক্তদের মধ্যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না এবং কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা যাবে না বলে দলটির অবস্থান। নাহিদ দাবি করেন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হোক।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি মনোনীত পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর পাশাপাশি দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

  • সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ অনীহা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ অনীহা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    রাজস্ব আহরণে দীর্ঘদিন ধরে দেখা দেওয়া দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে — এমন ধারণা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থার সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এই সতর্কতা দেন। অনুষ্ঠানটি এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত হয় এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ আরও বাড়বে। রাজস্ব ঘাটতির ফলে সরকারকে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দের পরিবর্তে ব্যয় মোতাবেক কাটছাঁট করতে হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।

    তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট নির্মাণে এসব ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সতর্ক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, পূর্বের ঋণের বোঝা ও বর্তমান জ্বালানি সংকটকে সামনে রেখে সরকার নতুন করে ঋণ নিয়ে অর্থনীতি সচল রাখলে জটিলতা বাড়বে। এ সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা আছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অবস্থা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে বাস্তবসম্মত ও সংস্কারভিত্তিক করতে হবে।

    কর ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, যাদের এখনও করের আওতায় আনা হয়নি তাদের তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে করের বোঝা বাড়ানোর সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। করভিত্তি বিস্তৃত করতে কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, করচুরি নিয়ন্ত্রণ ও করভ্যাটনিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের আয় বৃদ্ধি করতে না পারে তাহলে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো, আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা ও অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানোর পন্থা নিতে হবে।

    সংক্ষিপ্তভাবে তিনি জানান, ঘাটতি মোকাবিলায় রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বাজেট বাস্তবসম্মত রাখা ও কাঠামোগত সংস্কার চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা সম্ভব। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমনই সমন্বিত উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, যাতে অস্থিরতা কমে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়া যায়।

  • করদাতারা এখন থেকে সারা বছরই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা এখন থেকে সারা বছরই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, যেসব করদাতা আগে রিটার্ন জমা দেবেন তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে চার ধাপে ভাগ করা হবে।

    চেয়ারম্যান বিস্তারিত চার ধাপ নিয়ে এখনও বললেও, এ ধরনের পরিবর্তন করদাতাদের প্রক্রিয়া সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে এনবিআর কীভাবে এই ভাগগুলো কার্যকর করবে সেই নির্দেশনাও প্রকাশ করবে বলে মনে করা যাচ্ছে।

    এছাড়া চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশাবাদী এনবিআর। চেয়ারম্যান বলেন, আগামী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর জুন শেষে পরবর্তী নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়; তবে চলতি বছরের জন্য সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দিলে চলবে।

    এনবিআর থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত নিয়ম ও নির্দেশনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ক্রিমিয়ায় সামরিক এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত, ২৯ জনের মৃত্যু

    ক্রিমিয়ায় সামরিক এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত, ২৯ জনের মৃত্যু

    রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে এই তথ্য জানানো হয়।

    বেসরকারি বার্তাসংস্থা তাসের বরাতে বলা হয়েছে, বিমানটি কৃষ্ণ সাগরের কাছেই ক্রিমিয়ার একটি পাহাড়ের চূড়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন ক্রু এবং ২৩ জন সাধারণ যাত্রী।

    রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কোর সময় অনুযায়ী ৩১ মার্চ রাত ৮টার দিকে একটি এএন-২৬ সামরিক পরিবহণ বিমান রাডার থেকে নিখোঁজ হয়। তারা বলেছে বিমানটি ক্রিমিয়ায় নির্ধারিত একটি ফ্লাইটে ছিল। তবে বিমানে কী পরিমাণ যাত্রী চূড়ান্তভাবে ছিলেন—এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ স্পষ্ট করেনি এবং কোনো বেঁচে থাকার খবরও জানানো হয়নি।

    বার্তাসংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে সম্ভবত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    এএন-২৬ মডেলের সামরিক পরিবহন বিমানগুলো ১৯৬০-এর দশক থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং সাধারণত মালবহন ও সামরিক সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। এই মডেলের বিমানগুলোর বহু আগে থেকে দুর্ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। ২০২২ সালে একটি এএন-২৬ বিধ্বস্তে একজন প্রাণ হারান। ২০২০ সালে অন্য একটি এএন-২৬ বিধ্বস্ত হলে ২৬ জন নিহত হন; ওই ঘটনাটিতে এক যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এছাড়াও দক্ষিণ সুদানে এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন রুশ নাগরিক ছিলেন। ২০১৭ সালে আইভরি কোস্টে রাশিয়ার আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হলে ১০ জন প্রাণ হারান।

    এই খবর জানিয়েছে এএফপি।

  • টিকে থাকতে প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে শিক্ষার্থীদের: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    টিকে থাকতে প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে শিক্ষার্থীদের: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বুধবার (০১ এপ্রিল) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে আকস্মিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একটি ক্লাস পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতা করেন এবং পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পাঠ্যসূচি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে জীবনীয় লক্ষ্য ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করা জরুরি। নিয়মিত পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা উচিত—এতে নেতৃত্ববান হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হতাশা কাটিয়ে ওঠতেও সাহায্য করে।

    তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বর্তমান বিশ্বকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিকল্প নেই। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হলে এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগের জন্য পর্যায়ক্রমে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

    পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরলে উপাচার্য মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে কার্যক্রম নেওয়ার আশ্বাস দেন।

  • সুন্দরবনকে যেকোনো মূল্যে বিষমুক্ত করা হবে: বন প্রতিমন্ত্রী

    সুন্দরবনকে যেকোনো মূল্যে বিষমুক্ত করা হবে: বন প্রতিমন্ত্রী

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা যেন আত্মহত্যার সামিল — এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৎস্যসম্পদ এবং জলজ-বনজ সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েই জানালেন, যেকোনো মূল্যে সুন্দরবনকে বিষমুক্ত করা হবে।

    বুধবার (১ এপ্রিল) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানান, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। প্রতিটি মৎস্যআড়তে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাছের মধ্যে বিষের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে। কোনো আড়তে বিষযুক্ত মাছ ধরা পড়লেই সেই আড়ৎদারকে গ্রেফতার করা হবে এবং যারা ওই মাছ সরবরাহ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ অভিযান তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    জেলার জনস্বার্থ ও বনবেষ্টিত এলাকায় অনিয়ম রোধে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, জানিয়ে তিনি বলেন, সুন্দরবন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন চলছে। আগামী বছর থেকে অতিরিক্ত নৌকার সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হবে—নির্দিষ্ট সংখ্যার (৫০০টির বেশি নয়) অতিরিক্ত নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যারা নিয়মভঙ্গ করবেন তাদের নামের তালিকা করা হবে এবং ভবিষ্যতে বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

    প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরো কার্যকর করতে বনবিজীবী ও বনের সঙ্গে জড়িতদের ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কেউ ভিন্ন পরিচয়ে বারবার প্রবেশ করে অপরাধ করতে না পারে।

    মধু আহরণকারীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেজালমুক্ত মধু সংগ্রহ করলে তা দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা বাড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বল্প মেয়াদে লাভের জন্য মধুতে ভেজাল মিশিয়ে নিজেদের সম্পদ নষ্ট করা উচিত নয়; দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা রাখতে হবে।

    সামাজিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, অসৎ পথে অর্জিত অর্থ কখনোই ভালো ভবিষ্যৎ এনে দেয় না। সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে সকলকে আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

    জলদস্যু ও বনদস্যুর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রকম অপরাধীরা আমাদের আশপাশেই আছে; যদি সামাজিকভাবে সবাই সচেতন থাকি এবং দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে আসি, তারা টিকতে পারবে না। তিনি বিভিন্ন স্তরে ৫০০ জনের মতো সাহসী মানুষ রয়েছে বলেও উল্লেখ করে বলেন, যারা বনদস্যুর বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন, তাদের সনাক্ত করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

    অনুষ্ঠানটি সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ, সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক ইমরান আহমেদ। প্রধান অতিথিসহ বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু প্রমুখ।

  • ফিফা বিশ্বকাপ: সব ৪৮ দল চূড়ান্ত, ঘোষণা হলো গ্রুপ ফিকশ্চার

    ফিফা বিশ্বকাপ: সব ৪৮ দল চূড়ান্ত, ঘোষণা হলো গ্রুপ ফিকশ্চার

    আড়াই মাসেরও কম সময় পর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত প্লে-অফ পর্ব শেষ হয়ে টুর্নামেন্টের শেষ দুটি স্থানীয় ও আন্তঃমহাদেশীয় সূচি চূড়ান্ত হয়েছে এবং মোট ৪৮ দল নিশ্চিত হলো। শেষমেশ লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইরাক ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফের ফাইনাল জিতে বিশ্বকাপের ৪৮তম ও চূড়ান্ত দল হিসেবে জায়গা করে নিল — এশিয়ান দেশ হিসেবে এটি তাদের প্রথমবার নয়, তবে ৪০ বছর পর তারা ফের বিশ্বকাপে খেলবে।

    গত দুই দিনেই মোট ছয় দল মূলপর্বে উঠেছে। প্লে-অফ থেকে উঠে ঘরে নেয় বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, সুইডেন ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। সেই তালিকায় জায়গা পান ইরাকও। সবচেয়ে আলোচিত দুর্ঘটনাটি ছিল কয়েকবারের শক্তিশালী দল ইতালির ব্যর্থতা — তারা প্লে-অফে বসনিয়ার কাছে হার মেনে এ বারও বিশ্বকাপের বাইরে রইল, যা তাদের জন্য টানা তিন বার বিশ্বকাপে না ওঠার ইতিহাস তৈরি করল।

    ইতালির বিপক্ষে প্লে-অফ ফাইনালে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা দলটি দ্বিতীয়ার্ধেই গোল খেয়ে ৯০ মিনিটে ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কাউকে ছাপিয়ে যেতে হয়নি, ফলে সবকিছু নির্ধারিত হলো টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শ্যুটআউটে বেনজামিন তাহিরোভিচ প্রথম শটটি গোল করে বসনিয়ার পক্ষে সুবিধা এনে দেন; এরপরই ইতালির পিও এসপোসিতো শট মিস করলে বাসনা-হার্জেগোভিনার আস্থা বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে পেনাল্টি জিতে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায়।

    পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফে সুইডেন ৩-২ গোলের গণনায় জয়ী হয়ে নেমেছে টুর্নামেন্টে। সুইডেনের এক যোগ্য অংশ হিসেবে ভিক্টর গিওকেরেসও দলের মূল ভূমিকা রেখেছেন। তুরস্ক কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৫২ বছরের বিরতির পর মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

    ডেনমার্ক-চেকের ম্যাচও নড়বড়ে লড়াইয়ে শেষ হয়; ৯০ মিনিটের শেষে স্কোরলাইন ২-২ থাকায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে চেক প্রজাতন্ত্র ৩-১ ব্যবধানে জিতে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ফের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল।

    এখন চূড়ান্ত হওয়া গ্রুপগুলো দেখে নেওয়া যাক:

    এ গ্রুপ: চেক প্রজাতন্ত্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া

    বি গ্রুপ: বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড

    সি গ্রুপ: ব্রাজিল, হাইতি, মরক্কো, স্কটল্যান্ড

    ডি গ্রুপ: অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র

    ই গ্রুপ: জার্মানি, কুরাসাও, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট

    এফ গ্রুপ: নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, তিউনিসিয়া

    জি গ্রুপ: বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড

    এইচ গ্রুপ: স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দে

    আই গ্রুপ: ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ইরাক

    জে গ্রুপ: আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান

    কে গ্রুপ: পর্তুগাল, কলম্বিয়া, জ্যামাইকা, উজবেকিস্তান

    এল গ্রুপ: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা

    ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের এই আসরে মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে। প্লে-অফ শেষে ঘোষণা করা গ্রুপিং এখন থেকে দলগুলোকে তাদের প্রস্তুতি এবং ট্যাকটিক নির্ধারণে নতুন বাস্তবতা দিয়েছে — বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।