Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আগামী ৫ দিনে বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস

    আগামী ৫ দিনে বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস

    আবহাওয়া অধিদফতরের রিপোর্ট: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে এবং তা আরও কিছুদিন স্থায়ী থাকতে পারে। একই সময়ে অনেক জায়গায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি, কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে — এমনই সতর্কতা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিনের) পূর্বাভাসে এই তথ্য দেয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আছে। এ অবস্থার প্রভাবে আভাস অনুযায়ী কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি-বজ্রসহ ভারী বাতাস বয়ে যেতে পারে।

    পূর্বাভাসের সারমর্ম:

    – বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি ও বিদ্যুৎচমক সহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আভাস রয়েছে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা থাকতে পারে; সাধারণত আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    – সাধারণত খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, ফরিদপুরসহ রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে এবং তা অব্যাহত থাকার সম্ভবনা আছে।

    – শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অধিকাংশ অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় চলতি তাপপ্রবাহ বজায় থাকবে।

    – শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশের মধ্য দিয়ে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    – রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা থেকে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। এ সময়ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা বলা হয়েছে।

    পাঁচ দিনের সম্প্রসারিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মোটমিলিয়ে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। জনসাধারণকে হঠাৎ বজ্রসহ ঝড় বা শিলাবৃষ্টির সম্ভাব্যতা নিয়ে সতর্ক থাকার এবং দরকারে বাইরে গেলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাপপ্রবাহের সময় জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

  • ভাইরাল ভিডিওতে হাইকোর্টের বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরালেন প্রধান বিচারপতি

    ভাইরাল ভিডিওতে হাইকোর্টের বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরালেন প্রধান বিচারপতি

    হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি — এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সামাজিক এক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর।

    প্রধান বিচারপতির দফতর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানিয়েছে, ওই ভাইরাল ক্লিপটি সম্পর্কিত ঘটনাটি ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় এক অনুষ্ঠানে ঘটে। সেখানে বিচারপতি আব্দুল মান্নান আচক্ষুণিকভাবে চিৎকার করেন এবং এক পর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। ঘটনাস্থলে তিনি এপেক্স ক্লাবের এক নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য বিচারপতিকে ঘিরে নিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

    ঘটনার পর প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান বিচারপতির দফতর তাকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের পুনর্গঠিত বেঞ্চ ও কজলিস্টেও তার নাম রাখা হয়নি।

    মো. আব্দুল মান্নানকে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এর আগে তিনি পিরোজপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

    প্রধান বিচারপতির দফতর ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ বা তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। ঘটনার পূর্নাঙ্গ ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যতে কি ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানাতে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অপেক্ষা করতে হবে।

  • সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সমানভাবে সোচ্চার হবেন।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে ১১ দলীয় জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আযাদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতসহ ১১ দলের কম্বাইন তালিকা জমা দেওয়ায় সেখানে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সুযোগ থাকবে না বলে আশাবাদী আমরা। এই ১৩টি আসনই ১৩টি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা, এবং আমরা আশাকরি ফলাফলও সেই মতোই হবে।

    তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে তাদের আলোচনাও হয়েছে। সংসদ ইতিমধ্যে কাজ করছে; মনোনীতরা সময়মতো পার্লামেন্টে গেলে জাতি এবং নারী সমাজের প্রতীক্ষিত নারী প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা পূরণ হবে। সে জন্য কমিশন যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা বা ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে — এটাই তাদের আশা এবং আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আযাদ।

    আযাদ বিশ্বাস করেন মনোনীত ১৩ জন সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সদস্য হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি ও স্বার্থ নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি বলেন, দেশের ও জাতির স্বার্থে এসব নারী সদস্যরা আইন প্রণয়নসহ সকল কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করবেন; সংবিধান তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতরা বিরোধীদলীয় মঞ্চে থেকে দেশের গঠন ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পার্লামেন্টে তাদের নীতি হবে ন্যায়সম্মত, জনকল্যাণমুখী এবং দেশের স্বার্থানুসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। এটি শুরু থেকেই জোট নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামের আমির ঘোষিত নীতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াতের নেতা আরও বলেন, যদি সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা জনবিরোধী কোনো কাজ করে, তখন আমাদের অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যরা যেমন সোচ্চার থাকবেন, আমাদের নারী সদস্যরাও একইভাবে বিরোধীদলের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। ৭৭ জন বিরোধী সদস্যের সঙ্গে ১৩ জন নারী সদস্য যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য একসাথে ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশা করছেন।

    গণভোট সংক্রান্ত প্রশ্নে আযাদ বলেন, এই গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল; এটি না হওয়ায় ১১ দল অভ্যন্তরীণভাবে ও বাইরে একসঙ্গে সরকারের জনমত উপেক্ষার প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তারা পার্লামেন্টে যেমন রোল প্লে করেছে, একইভাবে রাজপথেও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও সমন্বিত কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

    মনোনয়ন নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ‘এক পরিবারে দুই সংসদসদস্য’ নীতি মেনে আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি; বরং শহীদ পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিতে আবশ্যক প্রার্থীকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছরের শর্ত সম্পর্কে আযাদ বলেন, এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি আশা করেন তার মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

    শেষে মনোনয়ন, বাছাই ও ভোট সংক্রান্ত সময়সূচি সম্পর্কে জানিয়ে তিনি বলেন: মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল দাখিলের দিন ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রার্থীপ্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ নির্ধারিত আছে ১২ মে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে চারজনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। মনোনয়নপ্রাপ্ত চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা।

    দলের প্রাথমিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মনোনয়নে কেবল পার্থক্যসূচক নয়—সামাজিক প্রতিনিধিত্বকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ নজরকাড়া প্রার্থী আছেন আন্না মিঞ্জ; তিনি জনপ্রতিনিধিত্ব ও উন্নয়নক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সঙ্গে আদিবাসী ও ওরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উঠে এসেছেন। আন্না মিঞ্জ বর্তমানে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কর্মরত এবং নাটোরের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত খ্রিস্টান সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতীয় নানা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তাঁর স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সচিব হিসেবে রয়েছেন।

    সংরক্ষিত আসনে সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমাও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। সুবর্ণা শিকদার গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও একজন শিক্ষক; তিনি মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিতর্ক উঠলেও সুবর্ণা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি বিএনপির সমর্থক এবং কোনো স্থানীয় রাজনৈতিক কমিটির সদস্য নন। তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর এক সময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতেই মনোনয়ন শেষ হয়েছে।

    বিএনপি আশা করছে, এই মনোনয়ন স্থানীয় স্তরে বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্ব ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর কথা জাতীয় মঞ্চে সামনে তুলে আনবে। দল বলছে, ভবিষ্যতে অগ্রাধিকারে সমাজের বিভিন্ন দুর্বল ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর কণ্ঠ সশক্ত করা হবে।

  • সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান: বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান: বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

    রুমিন ফারহানা ওই প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণের মোট পরিমাণ কত, ঋণ পরিশোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কোনো ঋণ পরিশোধ করেছে কি না।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি জানান, সরকারিভাবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) পালন করে। প্রতি অর্থবছরে ঋণের মূল এবং সুদ বাবদ সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বাজেটে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণ করা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সারা বছর ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি জানান যে ঋণ পরিশোধ ও ব্যবস্থাপনায় সরকারি নীতিমালা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত, রপ্তানিতে উদ্বেগ বৃদ্ধি

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত, রপ্তানিতে উদ্বেগ বৃদ্ধি

    বিদেশি ক্রেতাদের জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ভয়ে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

    এই প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানিখাতগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তিনি অভিমত জানান। এসব মন্তব্য তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন।

    বিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মিলে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য যে ক্রয়াদেশগুলি আসার কথা ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে ধীরগতির হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা নেতিবাচক সিগন্যাল দিচ্ছেন এবং কিছু অর্ডার অন্য দেশ—বিশেষত ভারত—এ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের ঢাকায় থাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের শীর্ষস্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিত করার রুচি দেখাচ্ছেন। এর ফলে রপ্তানিতে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসার ওপর বোঝা বাড়াচ্ছে বলে বিসিআই সভাপতি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারেই ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ছোট-মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুতর চাপ সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, ফলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

    তিনি পরামর্শ দেন ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হোক এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান উৎস কর কমানোর প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার বিস্তৃত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এটি ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কওয়া হয়েছে, কোম্পানির ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর বর্তমান উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো উচিত এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করা হোক। সংস্থাগুলো কর কাঠামো ব্যবসা-সহায়ক করে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন—যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানির প্রতিযোগিতাযোগ্যতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। দ্রুত সমাধান না হলে রপ্তানি খাতের ওপর যে ধাক্কা পড়ছে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • অর্থপাচারের অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ককে ঘিরে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং

    অর্থপাচারের অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ককে ঘিরে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং পদত্যাগ করেছেন — তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে, যখন তিনি অর্থপাচারের মামলায় তদন্তাধীন এক বিতর্কিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বুধবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

    ফেসবুক পোস্টে গুরুং লিখেছেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নগুলোকে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তিনি পদত্যাগ করছেন, যাতে তার পদস্থান তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে না পারে বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি না হয়। তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমার কাছে পদের চেয়ে নৈতিকতাই বড়—জনআস্থার চেয়েও বড় কোনো শক্তি নেই।’’

    ৩৮ বছর বয়সী গুরুং বলেন যে, শেয়ারসহ তার বিনিয়োগ এবং দীপক ভাটার মতো বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার বিতর্কিত যোগসাজশ নিয়ে সম্প্রতি জনমনে প্রশ্ন ওঠায় তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপক ভাটা বর্তমানে অর্থপাচার মামলার তদন্তে জড়িত, এবং ভাটার সঙ্গে গুরুংয়ের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও শেয়ারবাজার বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে জনআন্দোলন সৃষ্টি হয়।

    তথ্যগুলো প্রকাশ্যে আসার পরে গুরুং জানিয়েছিলেন যে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। সোমবার তিনি আবারও ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘‘অনেক গুজব ছড়িয়েছে; অভিযোগ ও সত্য আলাদা জিনিস। সিদ্ধান্ত আবেগ নয়, প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।’’ তিনি দলের নীতিমালা মেনে চলবেন এবং তদন্তে সহায়তা করে যাবেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৫ সালে নেপালে দুর্নীতিবিরোধী ‘জেন জি’ আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী বৃহৎ এক অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলনের ছয় মাস পর ৫ মার্চ দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ বিশাল জয় পায়। জুনিয়র নেতা হিসেবে গুরুংকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়; বলেন্দ্র শাহ ২৭ মার্চ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

    এটাই বর্তমানে বলেন্দ্র শাহ সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ। এর আগে ৯ এপ্রিল শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা মন্ত্রী দীপক কুমার সাহকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

    কাঠমান্ডু পোস্টকে সূত্র ধরে খবরটি প্রথম জানানো হয়।

  • এশিয়ার জলসীমায় ইরানের তিনটি ট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন বাহিনী

    এশিয়ার জলসীমায় ইরানের তিনটি ট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন বাহিনী

    যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর একদিন পরই মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার আশেপাশের গভীর সমুদ্র থেকে ইরানের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। জব্দকৃত জাহাজগুলোর নাম—ডিপ সি, সেভিন ও দোরেনা।

    আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, তিনটি জাহাজেই পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছিল।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাহাজগুলো ঠিক কোথায় জব্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েনি। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্র্যাফিক জানিয়েছে, জাহাজগুলো ভারত মহাসাগরের কোনো এক অঞ্চলে জব্দ করা হয়েছে—যা ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ডের কাছাকাছি।

    ডিপ সি ইরানের একটি সুপারট্যাংকার; জব্দের সময় এটি আংশিকভাবে তেল ভর্তি ছিল। মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ সিকে সর্বশেষ গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

    দ্বিতীয় জাহাজ সেভিন জব্দের সময় এতে ছিল প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, যা জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতার আনুমানিক ৬৫ শতাংশ। মেরিন ট্র্যাফিক জানায়, সেভিনকে সর্বশেষ এক মাস আগে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

    তৃতীয় ট্যাংকার দোরেনা সম্পূর্ণভাবে লোডেড অবস্থায় জব্দ করা হয়; তাতে জব্দের পর পাওয়া গেছে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। দোরেনাকে সর্বশেষ তিন দিন আগে ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি দেখা হয়েছিল।

    প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হলে পরদিন ১২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারির ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলো থেকে কোনো ইরানি জাহাজ বের হতে পারবে না এবং বাইরের কোনো জাহাজ ইরানে প্রবেশও করতে পারবে না।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণা জারি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলো থেকে প্রস্থান করা ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে ফের বন্দরে ফিরিয়ে পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

    সূত্র: রয়টার্স

  • খুলনায় সুখেন চন্দ্র হত্যা মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন

    খুলনায় সুখেন চন্দ্র হত্যা মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন

    খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া ভড়েঙ্গারচক এলাকায় ভয়াবহভাবে আলোচিত সুখেন চন্দ্র সরদার হত্যা মামলায় আদালত এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    আদালত একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রকাশ সরদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন। ওই জরিমানা না দিলে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই রায় ঘোষণা করেন খুলনা সিনিয়র দায়রা জজ কোর্টের বিচারক চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজী। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পিপি চৌধুরী তৌহিদুর রহমান তুষার।

    একই মামলায় প্রকাশ সরদারের স্ত্রী রূপা সরদারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে আদালত খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি হলেন সকিনা বেগম (৬০)।

    পুলিশের মতে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়ির সামনে থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে দোকানে যান। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে জানায় যে সকিনা বাসায় রান্না না থাকায় বাইরে খেয়ে নেবেন। শহিদুল তার মাকে খোঁজ করলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে দশটার দিকে শহিদুল বাড়ি ফিরে মাকেকে না পেয়ে বাড়ি ও আশপাশ খোঁজাখুঁজি করেন। সন্দেহ হওয়ায় পরে থানায় গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। রাত সাড়ে বারটার দিকে বাড়ির সামনের অংশে একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখতে পান শহিদুল এবং তার বোন শাহিদা বেগম। তারা মৃতদেহটি সকিনা বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ঘটনার পর ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন কথাকাটাকাটি বাড়ার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ঘরের ওয়্যারড্রবে লুকিয়ে রাখেন।

    অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপরাহ আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পুলিশ বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও সম্ভাব্য সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।