Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • হুমকির শঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি

    হুমকির শঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি

    পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া সতর্কতাকে খতিয়ে দেখে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশেষত শাহজালাল বিমানবন্দরের সংবেদনশীল স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    সূত্র বলছে, পুলিশ সদর দফতরের কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠির পরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা ও যাত্রী, লাগেজ এবং বিমান আগমন-প্রস্থান এলাকার তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি, তবুও পূর্বেই সতর্কতা হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ সদর দফতরের চিঠির প্রেক্ষিতেই শুধুমাত্র ব্যবস্থা নেয়া হয়নি—আমরা সময় সময় সিচুয়েশন অনুযায়ী সতর্কতা বাড়াই।’’ রাতে চলাচল কম হওয়া বিমানবন্দরগুলোকেও নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়। চিঠির তথ্যানুযায়ী, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলা পরিকল্পনা করতে পারে—এ ধরনের তথ্য মিলেছে। এ সময় গ্রেফতারকৃত এক উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামীর (আমলে নাম: আবু বক্কর/আবু মোহাম্মদ) এবং সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গোয়েন্দা পর্যায়ের বিচারে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, পুলিশের ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য ন্যূনতম ভৌত অবকাঠামো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ওই জঙ্গি গোষ্ঠী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো অন kunিত প্রতিকূল ঘটনার খবর নেই, তবে সতর্কতামূলকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে।

    সূত্র: সময় টিভি অনলাইন

  • হাইকোর্টে নির্দেশ: হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত টিকা দিতে হবে

    হাইকোর্টে নির্দেশ: হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত টিকা দিতে হবে

    হাইকোর্ট সোমবার দেশজুড়ে হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে যে তদন্ত বা তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম ও ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কিত একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশের শুনানিতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। ঘটনা সংক্রান্ত সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইন কর্মকর্তারা।

    রিটটি গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়ের করা হয়েছিল। আবেদনটিতে বলা হয়, দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যু হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। সেই রিটে আরও দাবি করা হয়, হামের প্রকোপ না কমানো পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখাসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

    রিট আবেদনে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সময়মত টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া, টিকার প্রাপ্যতা বজায় রাখতে না পারা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিক্রিয়া প্রদানে ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা এসবকে সংবিধানগত অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২১৬ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে; এদের মধ্যে ৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৩১,০২৮ জন এবং তাদের মধ্যে ৪,৬০৩ জন রোগীর হাম নিশ্চিত হয়েছে।

    হালের প্রাদুর্ভাবটি দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে শহর ও জনবহুল এলাকায় দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচ বছরের নিচের শিশু—এবং অভিযোগ করছেন ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়নি এমন শিশুদের birnäকে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা ঠিকমতো টিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    হাইকোর্টের এই নির্দেশ সরকারকে ত্বরান্বিত অবস্থায় টিকাদান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে বলা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী নির্দেশনা জারি করবেন।

  • তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি সমর্থন দেবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন সরকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারাদেশের তরুণরা যদি সজাগ থাকে, এনসিপি তাদের পুরো সমর্থন জানাবে।

    নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, ‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’ সেই অনুষ্ঠানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন রনির মতো প্রতিষ্ঠিত ও নতুনদের এনসিপিতে যোগদানের আয়োজন করা হয়।

    বক্তৃতায় নাহিদ বলেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচনের পরে নির্বাচিত সরকার গণভোটকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে। এটা একটি গণতান্ত্রিক মর্যাদাহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে; জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী উত্তরাধিকারের ধার থেকে বের হয়ে এটি কেবল ক্ষমতার পটপরিবর্তনে স্বল্পমূলক একটি নির্বাচন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো ধাপে ধাপে বাতিল করা হচ্ছে এবং ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    নাহিদ বললেন, ‘‘দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবন লক্ষ করা যাচ্ছে—এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।’’ তিনি আশার আলো হিসেবে যোগ করেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়ায় ঐক্য গড়ে উঠবে—এই প্রতিক্রিয়াগুলো আমরা ইতিমধ্যেই সারাদেশ থেকে পাচ্ছি।’’

    দলের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘‘এনসিপি সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—সবাই মিলে দেশকে বিপথে যেতে দেবেন না। যারা রাজনীতি করতে চান, যারা পরিবর্তন চান, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন; এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’’

    অর্থনৈতিক অস্থিরতা, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা বিষয়ে দিকেই বর্তমান সরকারের ক্রমশ ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিয়েছে নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতি টালমাটাল, গণতন্ত্র সংকটে—এই অবস্থায় জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’’

    আনুষ্ঠানিক যোগদানের খবরেও তিনি উল্লিখিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ফেরসামিন (ফ্লোরা), নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা মঞ্চে যোগদান করেন এবং নাম ঘোষণার পর নাহিদ ইসলাম তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

  • জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে

    জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে আমরা একই শিকলবদ্ধ পরিস্থিতিতে ছিলাম, কিন্তু আজ তারা এমন পথ ধরেছে যা জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বিএনপিকেই সতর্ক করে বলেন—আপনারা লাখো চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগ হবেন না; সর্বোচ্চ হলে দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারবেন। আজকের মতো বিরাগ-বিদ্বেষ ও বিদ্রূপের প্রতীকগুলো বিএনপি নিজেরাই অনুসরণ করছে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য না।

    ডা. শফিকুর আরো বলেন, একসময় ক্ষমতাসীনরা সমাজে লাঠিয়াল পোষ্য বাহিনী ব্যবহার করে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল; কিন্তু আজ সেই লাঠিয়ালরা তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বর্তমান অবস্থার সঙ্গে অতীতের তুলনা টেনে সতর্ক করে বলেন, যদি একই ধরনের দাসত্ববোধ এবং হিংসাত্মক সংস্কৃতি ফিরে আসে, তাহলে দেশের গৌরব ও গণতন্ত্র বিঘ্নিত হবে।

    সমাবেশে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রকে সুসংগঠিত করার জন্য যেই মৌলিক সংস্কার দরকার, সেগুলোই বিএনপি বিরোধিতা করছে। সুশাসন ও সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলোই তারা অবরোধের চেষ্টা করছে—এটিই জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তিনি বলেন, বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা ৩১ দফার কর্মসূচিতেই বিরোধিতা করছে এবং তারা আজ সেই জ্ঞানটুকুও হারিয়ে ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।

    জামায়াত আমির শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রণীদের স্মরণ করে বলেন, যে পরিবারগুলো তাদের সন্তান-স্বামী-ভাইদের জীবন উৎসর্গ করেছিল, তাদের ত্যাগকে ভুলে গেলে চলবে না। যে দেশের জন্য অন্যরা জীবন দিয়েছেন, তাদের সম্মান করতে শেখা এবং তাদের কষ্টকে অবহেলা না করাই সামাজিক দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় ছাত্র-সমাজ, শ্রমিক ও নারী সমাজ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নামেছিল এবং সেই ত্যাগকে মলিন করা ঠিক নয়।

    তিনি আরও জানান, যারা বিদেশে ছিলেন, দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন—এটিও সেই বিপ্লবের ফল। তার জেলে থাকা সহকর্মী মামুনুল হকের কথাও উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বহু নেতা জেলে থাকার পর হতাশা প্রকাশ করতেন যে আগের অবস্থা পরিবর্তন করা কঠিন। কিন্তু পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে কেউ কেউ ‘নিজেদের পরিকল্পনা’ বলে দাবি করেন—এগুলোকে তিনি ভুয়া ঘোষণা করেন।

    সংসদীয় উদ্যোগ নিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, প্রথম দিন থেকেই জামায়াত সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল এবং তারা শপথও নিয়েছে, কিন্তু অন্যরা শপথ নেয়নি ও জনগণের সঙ্গে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তার ভাষ্য, সংশোধনী ও অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে পুরোনো স্বৈরাচারী আইনি কাঠামোই বজায় থাকবে এবং সেজন্যই বিএনপি এমন অবস্থান গ্রহণ করছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা নিন্দনীয়; বিশেষত পুলিশ আশ্রয়ে থানা উপকণ্ঠে ঢুকে কিছু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হওয়া বেদনাদায়ক। তিনি এ ঘটনাগুলোকে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায় না যেখানে ছেলে-মেয়ে, মা-বোনেরা ঘর থেকে বের হলে ভয় পাবে—একটি নিরাপদ পরিবেশে ছাত্রছাত্রীরা খাতা-কলম নিয়ে পাঠশালায় যাবে, দা-কুড়াল নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সংস্কৃতি বদলানো না যায় তাহলে ‘জুলাই’ শুধু বিশেষ বছরগুলোর ঘটনা থাকবে না—প্রতিবছর সেইJuly ফিরে আসবে এবং ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে।

    সমাবেশের শেষভাগে তিনি সবাইকে গণভোটে জনগণের রায়কে সম্মান করার আহ্বান করেন এবং বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তাদের লড়াই সংসদেই এবং খোলা ময়দানে অব্যাহত থাকবে—ইনশাআল্লাহ।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহ মার্চের সফল ধারা ধরে চলতি এপ্রিলেও ইতিবাচক রেকর্ড করে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪২ কোটি ডলার)। বর্তমান মধ্যরেঞ্জ বাজার দর ধরা হলে—প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে—এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯,৫২৪ কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান।

    দেশে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের মার্চে—ওই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তার আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারি ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

  • জ্বালানি অনিশ্চয়তায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, তৈরি পোশাক খাতের উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি অনিশ্চয়তায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, তৈরি পোশাক খাতের উদ্বেগ বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন—এমন তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দিতে অনিচ্ছুক বা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

    বিসিআই সভাপতির মতে, এ অবস্থার প্রভাব তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে মারাত্মক হতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এসব কথাই তিনি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তুলে ধরেন।

    আলোচনায় তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুত্‌ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্ভাব্য অর্ডারগুলোর বেশিমাত্রাই ধীরগতিতে চলে বা স্থগিত হয়েছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক বার্তা পাঠাতে শুরু করেছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিদেশিদের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আসছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

    একই সঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করছেন না। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। অনেক প্রতিষ্ঠানে মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের টিকে থাকার সামর্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কর যাচাইয়ের নামে ব্যবসায়ীদের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা ব্যবসার পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত হচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি জানান—ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার প্রয়োজন আছে। তারা সরকারের প্রতি করের বোঝা বাড়িয়ে নয়, বরং ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    শিল্প উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা দক্ষতা আরও দূর্বল হয়ে পড়বে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধান না আনলে তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো মারাত্মক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

  • লিমন–বৃষ্টির হত্যায় পরিকল্পনা নয়, সম্ভবত মুহূর্তীয় রাগ: সাবেক এফবিআই এজেন্ট

    লিমন–বৃষ্টির হত্যায় পরিকল্পনা নয়, সম্ভবত মুহূর্তীয় রাগ: সাবেক এফবিআই এজেন্ট

    ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ গত শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর কাছে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ তাকে হত্যার অভিযোগে একই রুমমেটে থাকা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করেছে।

    অন্য শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় লেক ফরেস্ট এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় ফোন আসে। অভিযুক্ত বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকার করলে সোয়াট দল ডাকা হয়; পরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রেফতার হন।

    পুলিশি নথিতে দেখা গেছে, আবুগারবিয়েহের বিরুদ্ধে পূর্ব에도 শুল্ক-চুরির মতো অপরাধ ও ২০২৩ সালে চুরি, মারধর এবং গৃহকর্মী সহিংসতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। ২০২৫ সালেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল।

    জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল (পিএইচডি) ছাত্র ছিলেন। নাহিদা বৃষ্টি ছিলেন রাসায়নিক প্রকৌশলে অধ্যয়নরত। দু’জনকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল একসঙ্গে দেখা যায়; পরদিন একটি পারিবারিক বন্ধু পুলিশে খবর দেয়।

    বৃষ্টির খোঁজে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের মেরিন ও ডাইভ ইউনিট হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতু এলাকায় নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় গোয়েন্দারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন জায়গায় প্রমাণ সংগ্রহ করছেন।

    ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহপরিচালক ও সাবেক এফবিআই বিশেষ এজেন্ট ডা. ব্রায়ানা ফক্স বলেছেন, প্রাপ্ত প্রমাণগুলো ট্যাম্পা বে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়নি বরং হঠাৎ রাগ বা আবেগের প্রভাবে ঘটতে পারে। তিনি যোগ করেছেন, পরিচিতদের মধ্যে সংঘটিত এমন আক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত অর্থ, ঈর্ষা বা কোনো ঝগড়াই মূল কারণ হয়ে থাকতে পারে এবং অনেক সময় কারণটি খুব ক্ষুদ্রও হতে পারে।

    হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, এই ঘটনা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং আমাদের সম্প্রদায়কে অস্থির করেছে। জামিল লিমনের মরদেহ পাওয়া শোকজাগানিয়া; তবে তদন্তকারী দল অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং দায়ীদের পুরোপুরি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

    মামলার তদন্ত চলমান; পুলিশ এখনই নাহিদা বৃষ্টির অবস্থান নিশ্চিত করতে ও ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে।

  • চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছে। ম্যাচের শুরুটা কিউইদের জন্য দারুণ হয় — ১০ ওভারের মধ্যে দুই উইকেটে তারা শতরান পৌঁছে দেয়।

    নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। দলের শুরুটা দ্রুতই সুগঠিত হয়, কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান ও তানজিম হাসান (সাকিবের উইকেট নিয়ে) ধারাভাষ্যে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরে আসে।

    ক্লিভার ৫১ রানে রিশাদের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পাশাপাশি ক্লার্কও ৩৭ বলে ৫১ রান করে রিশাদের শিকার হন — ফলে কিউইদের শুরুটা সরকারি হলেও মাঝপথে ছন্দটা ভেঙে পড়ে।

    মাঝে বেভন জ্যাকবসকে ফিরিয়ে তানজিম এবং ডিন ফক্সক্রফটকে বোল্ড করে মেহেদী জুটি ভাঙেন। ১০০/২ থেকে কিউইরা দ্রুতই ১৩০/৫-এ নেমে আসে, যা বড় সংগ্রহের রাস্তা খানিকটা বাঁধা দেয়।

    তবে শেষ দিকে অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসনের ব্যাটিংয়ে আবার গতিশীলতা আসে। কেলি ৩৯ রান করে ফেরেন, আর ক্লার্কসন ১৪ বলেই ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন; তাদের কারণে লক্ষ্যমাত্রা বড় হয়। ক্লার্কসনের কাঁধে গিয়ে ইনিংসটা ১৭৬ পর্যন্ত পৌঁছে গেল, পরিশেষে নিউজিল্যান্ড ১৮২/৬ করে ইনিংস শেষ করে।

    বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩২ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন। তানজিম, শরিফুল এবং মেহেদী প্রতিজনই একটি করে উইকেট নেন।

    যদিও লক্ষ্য বড় — ১৮৩ রান — খেলাকে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হিসেবে দেখা গেলে বাংলাদেশ এখনও ভালোভাবে রান তাড়া করে ম্যাচে ফিরতে পারে। আগামি ইনিংসে শুরুটা পেয়েই বাংলাদেশের একাধিক সুযোগ থাকবে।

  • হকিতে নতুন ইতিহাস: প্রথমবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী দল

    হকিতে নতুন ইতিহাস: প্রথমবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী দল

    বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক অর্জন। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ নারী হকি দল, যা দেশের নারী ক্রীড়ার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় খুলে দিল।

    জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বাছাই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ‘এ’ থেকে দারুণ পারফরম্যান্স করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেই এশিয়ান গেমসের টিকিট পেয়েছে তারা। এই বাছাই পর্বে ছয়টি দল থেকে গ্রুপের শীর্ষ দুই দল মূল আসরে উঠবে— সেই হিসেবেই বাংলাদেশ পুরো প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে।

    গ্রুপ পর্যায়ে প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চাইনিজ তাইপের সঙ্গে ৫-৫ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ২-1 গোলে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল দল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে হংকংয়ের সঙ্গে খেলায় শুরুতে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারে সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয় কোয়ার্টার গোলশূন্য ছিল। তৃতীয় কোয়ার্টারে কনা’র দুর্দান্ত গোল দলকে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে তারা।

    এই তিন ম্যাচ থেকে মোট সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে উঠে এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল বাংলাদেশ নারী দল। বিকেএসপির খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মান বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্পিতা পালরা ও কনা’র মতো খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা ও দলের সমন্বয় এই সফলতার মূল কাহিনী।

    এ অর্জন কেবল হকির জন্যই নয়— সমগ্র নারী ক্রীড়ার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের এই প্রথম নারী হকি দলের উপস্থিতি আগামী দিনে আরও বেশি নারী ক্রীড়াবিদকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ করে দেবে।

  • লিটন: সাকলাইনকে অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

    লিটন: সাকলাইনকে অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে বিশ্রাম পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডলের মতো তরুণ পেসাররা। দলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রধান বোলারদের বিকল্প তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের গঠন করা।

    সিরিজ শুরুর আগে এই কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে মুস্তাফিজের মতো একজন বোলারের বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়। ‘‘মুস্তাফিজ তো মুস্তাফিজই, তার শূন্যতা পূরণ করা কঠিন।’’ তবু যদি কোনো কারণে মাশরাফি-র মতো মূল পেসাররা খেলতে না পারেন বা চোট পান, তখন দলের পেছনে শক্ত বিকল্প থাকা জরুরি—এই চিন্তায় তরুণদের তুলে আনা হয়েছে, বলেছেন লিটন।

    লিটন বলেন, খেলোয়াড়রা যত বেশি ম্যাচ খেলবে, ধীরে ধীরে তারা উন্নতি করবে। হয়তো তারা মুস্তাফিজের মত হবে না, তবে নিয়মিত খেলার মাধ্যেমে তাকে কাছাকাছি নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এজন্যই তিনি সাকলাইন ও রিপন-দের মতো তরুণদের সুযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানিয়েছেন।

    সাম্প্রতিক বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে সাকলাইন ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন এবং ব্যাট হাতে ৪ ম্যাচে মোট ৫৪ রান করেছেন। এসব পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই লিটন তাঁকে অলরাউন্ডার হিসেবে সম্ভাবনাময় মনে করছেন। ‘‘সাকলাইনকে আমি আমার দৃষ্টিতে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে দেখছি,’’ বলেছেন দলের অধিনায়ক, আর আশা প্রকাশ করেছেন যে দলের সঙ্গে রেখে ধীরে ধীরে তাকে গড়ে তোলা হবে যেন ভবিষ্যতে দলের কাজে লাগানো যায়।

    ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ হারার পর পরবর্তী দুইটি জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে। টি-টোয়েন্টিতে নামার আগে লিটন নিউজিল্যান্ডকে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়েছেন যে কিউইরা গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছে; যদিও তাদের দলে অনেক তরুণ ক্রিকেটার আছে, তবু সামর্থ্যের কোন ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন লিটন।

    লিটনের মন্তব্য, ‘‘নিউজিল্যান্ড একটি বড় নাম। তারা নতুন খেলোয়াড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও সম্ভাবনা সর্বদা আছে। এই ফরম্যাটে কখনো দু’জন ব্যাটসম্যান বা দু’জন বোলার ভালো খেললেই ম্যাচ বাঁকে ফেরা সম্ভব। তাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে আগের মতোই ভালো ক্রিকেট খেলা এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়া।’’

    সংক্ষেপে, বাংলাদেশ দল তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন; একই সঙ্গে মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি মাথায় রেখে বিকল্প গঠন করাও তাদের পরিকল্পনার অংশ।