Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পূর্বাচলে গোপনে ঘোড়া জবাই, উদ্ধার ১১টি — অভিযোগ মাংস গরু বলে বিক্রি

    পূর্বাচলে গোপনে ঘোড়া জবাই, উদ্ধার ১১টি — অভিযোগ মাংস গরু বলে বিক্রি

    নরসিংদীর নয়—না, ঘটনাস্থল নরায়ণগঞ্জ: পূর্বাচল উপশহরের ১০ নম্বর সেক্টরের হারার বাড়ি এলাকায় গভীর রাতে গোপনে ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নির্জন এলাকাটি কাজে লাগিয়ে এক সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ রকম কাজ চালিয়ে আসছে।

    ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, জবাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রায় ২০টি ঘোড়াকে একটি খালি প্লটে আনানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতের অন্ধকারে একে একে ঘোড়াগুলো জবাই করা হচ্ছিল। অভিযোগ, নিউান্তরতম সময়ে ৯টি ঘোড়া জবাই হলে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্লটের মালিক ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দেখতে পান।

    অচেনা দৃশ্য দেখে তিনি দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও র‍্যাব-১। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জবাইকারীরা পালিয়ে গেলেও র‍্যাব-১ ঘটনাস্থল থেকে জীবিত ১১টি ঘোড়া উদ্ধার ও জব্দ করে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচলের বিস্তীর্ণ ও নির্জন পরিবেশকে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেছে। কম জনসমাগম ও নজরদারির অভাবে এখানে বারবার গোপন অপকর্ম চালু থাকে। পরে ওই ঘোড়ার মাংস বিভিন্ন জায়গায় গরুর মাংস বলে বিক্রি করা হয়—এমন অভিযুক্তির কথাও বলা হয়েছে।

    পূর্বে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও চক্রটির মূল সদস্যরা বারবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। মাঝে মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতারা এখনও অধরা রয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, কেবল পূর্বাচল নয়, গাজীপুর ও নরসিংদীসহ আশপাশের এলাকাতেও এই চক্রের কার্যক্রম বিস্তৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আতঙ্কিত এলাকাবাসী দ্রুত চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারীরা শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রতিরোধ না হলে এ ধরনের অপরাধ রুখে দেওয়া কঠিন হবে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র‍্যাব-১ ও স্থানীয় পুলিশ বিস্তৃত অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং উদ্ধার হওয়া ঘোড়াগুলোর স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তারেক রহমান

    ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তারেক রহমান

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্মচেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, অতীত নিয়ে অতিমাত্রায় আবদ্ধ থাকা ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করে—তবে অতীত মুছে ফেলা বা ভেঙে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। “অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ; অতীত ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ—সেই মধ্যপথ খুঁজে পাওয়া জরুরি,” তিনি বলেন।

    মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি, কিন্তু ইতিহাসের এমন ব্যাখ্যা চলতে দেওয়া যাবে না যা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে ছোট করে।

    তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, অতীতে তার ভূমিকা কমিয়ে দেখা হয়েছে, অথচ তা ছিল অনিবার্য। জিয়াউর রহমানের একটি প্রবন্ধ ২৬ মার্চ ১৯৭২-এ দৈনিক বাংলা-তে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৯৭৪ সালে তাঁর ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক প্রবন্ধটি সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ছাপা হয়েছিল—এসব প্রকাশের সময় কারো আপত্তি ছিল না।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যদিও শহীদ জিয়াকে খাটো করার প্রচেষ্টা হয়েছে, সত্যকে কখনও লুকানো যায় না। “যা সত্য, তা সত্যই,” তিনি যোগ করেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে; তারপরও সবাই একসাথে কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব। তিনি বলেন, “এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার হওয়ায় আমরা চাই সমাজের সব অংশ ভালো থাকবে—কোনো একটি অংশই নয়।” শেষ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসের প্রতিশ্রুতি হোক সবাইকে নিয়ে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

  • স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা শেষে জামায়াত আমির: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা শেষে জামায়াত আমির: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’

    ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকালে মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা একটা নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি রাষ্ট্রের এক সর্বোচ্চ আচরণ; সবার মতো আমরা শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।”

    স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বীর শহীদদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য এবং দেশের প্রতি আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক—এসবই তাঁর মোনাজাতের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে চাই। পাশাপাশি তিনি পুরো দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করলেই সরকার টিকে থাকতে পারবে না—জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস সেই উদাহরণ দিয়ে ভরপুর যে যারা শক্তিশালী বলে মনে হয়েছিল, তারা গণরায়ের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে ইতিহাস থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আপনি যে শক্তি দেখাননি, সেই শক্তিই কখনোই টিকে থাকে না।”

    তিনি ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের রায় মানা না হওয়ায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, আর ১৯৯০ সালে স্বৈরাচ্য বিরোধী গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েম করার চেষ্টা করা হয়, সেটি শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

    এনসিপি মুখপাত্র আরও বলেন, “এখনো যদি গণরায় এবং গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় ও তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ সেটি মেনে নেবে না।”

    তিনি উল্লেখ করেন যে গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং সেই ভোটের মূল্য রক্ষা করা হবে—কারণ সেই রক্তের বিনিময়ে যেসব সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার দেখেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, “যদি সেই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ, যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছে, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।”

    সভাপনার শেষ অংশে তিনি সবাইকে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণের সঙ্গে মিলেই আমরা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। যদি কেউ জনগণের বিপক্ষে যায়, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনে আমাদের আবার মাঠে নামতেই হবে।”

  • আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ মার্চ

    আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ মার্চ

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় মাত্র সাত দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, সকল করদাতাকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    সাধারণত আগে রিটার্ন জমানোর শেষ সময় ৩০ নভেম্বর ছিল, কিন্তু এ বছর সময় তিন দফায় বৃদ্ধি করে চূড়ান্তভাবে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর আরও জানিয়েছে এবারের রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ফলে করদাতারা ঘরে বসেই এনবিআরের নির্ধারিত পোর্টালে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও এই অনলাইন ব্যবস্থা চালু থাকবে।

    এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী দেশের নিয়মিত টিন (TIN)ধারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। করযোগ্য আয় থাকলে এসব ব্যক্তিরা রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য বাধ্য। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

    অনলাইনে রিটার্ন কিভাবে জমা দেবেন: প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন শেষে আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সাধারণত কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না, কেবল প্রয়োজনীয় আয়-ব্যয়ের তথ্য প্রদানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হয়।

    রিটার্ন জমার পর একই সিস্টেমের মাধ্যমে কর পরিশোধও করা যাবে। অর্থপ্রদানের জন্য ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ছাড়াও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস—বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার অনিশ্চয়তা বেড়ে যায় এবং ফলশ্রুতিতে জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তাই সবাইকে সময় নিয়ে রিটার্ন প্রস্তুত করে আগেই জমা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

    রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের করণীয়: আগে থেকেই আপনার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখুন, প্রয়োজনীয় দলিলসংগ্রহ করে নিন, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য ভালো করে যাচাই করুন এবং জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করে নিন। প্রয়োজনে পেশাদারের বা কর পরামর্শকের সাহায্য নিন।

    কর প্রশাসন মনে করিয়ে দিয়েছে—সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিলে ঝামেলা এড়ানো যাবে এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ৩১ মার্চের আগেই রিটার্ন সম্পন্ন করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গাইডলাইন: ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বেড়েছে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গাইডলাইন: ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বেড়েছে ৪০ লাখ

    ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। এতে ঋণসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কে নতুন নির্দেশনা যোগ করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

    দৈনন্দিন কেনাকাটা ও পরিষেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। কার্ড সেবার পরিধি সম্প্রসারণের সঙ্গে নানা জটিলতা বেড়েছে, তাই পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, ভোক্তা অধিকার রক্ষা, দায়বদ্ধ ও সতর্ক ঋণ প্রদানকে উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    গাইডলাইনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদেয় সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বেড়ে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি সম্পর্কিত পদক্ষেপ, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিশোধে বাধা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো, তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও সুষম কস্টিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইন কার্যকর হলে সংস্থাগুলোতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হবে, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষিত হবে ও নগদবিহীন লেনদেন আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।

  • জ্বালানি সংকটে ভারতে ‘লকডাউন’ নিয়ে জল্পনা

    জ্বালানি সংকটে ভারতে ‘লকডাউন’ নিয়ে জল্পনা

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা লেগে আছে। রাশিফলে তেলের মূল্য ওঠানামা ও এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রভাবে এই অনৈচ্ছিক চাপ ভারতের ওপরও পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ‘আংশিক জ্বালানি লকডাউন’ নেয়া হতে পারে এমন নানা জল্পনা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।

    দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এবং সরবরাহ সুষম রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কড়াকড়ি প্রক্রিয়া পরীক্ষার আওতায় আনা হতে পারে—যদি অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়। সরকারি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের ধারনায় সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিসে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত রাখা, ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, নগদ লেনদেন বা খরচে সীমাবদ্ধতা, ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলনে সীমানা নির্ধারণ, ও দোকান এবং রেস্তোরাঁর খোলা রাখার সময় কমানো। তবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অপরিহার্য পরিষেবায় ছাড় থাকবে বলে জানা গেছে।

    এই বিষয়গুলো নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা যোগেছে; ‘লকডাউন ইন ইন্ডিয়া’ কীওয়ার্ডটি গুগল ট্রেন্ডসে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকে কেন্দ্রের শনিবারের উচ্চস্তরের বৈঠককে এই জল্পনার প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন—তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা নেই।

    কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এসব জল্পনা তুলে দিয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী শুক্রবার তার এক পোস্টে বলেছেন, দেশে কোনো লকডাউন আনার কথা প্রচার ‘‘বাস্তবে ভিত্তিহীন গুজব’’; সরকার এমন কোনও প্রস্তাব বিবেচনা করছে না। তিনি সবাইকে শাসনবিধি মেনে শান্ত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান এবং অযথা প্যানিক না সৃষ্টি করার কথা বলেন।

    পুরী আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়া সত্ত্বেও সরকার নিয়মিত জোরালো নজর রাখছে—তাই তেল, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,‘‘ভারত ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।’’

    প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকও ডাকছেন মোদি; সূত্র বলছে ভিডিও কনফারেন্সে এই বৈঠক সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গসহ যে কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চলছে, সেসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সভায় অংশ নেবেন না—এমনই খবর আছে।

    অবশেষে, স্থানীয়ভাবে জ্বালানি ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের আঁটসাঁট করার আগে সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় বজায় রাখা এবং সমাজে বিভ্রান্তি না ছড়ানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি

  • ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংস

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই দাবি ইরান সমর্থিত মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি জানান, ‘পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, আর ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে পারেনি।’

    শেখারচি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি পরিবর্তন করে আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, ‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আগ্রাসন করে নি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না; তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা করে, আমরা পাল্টা আঘাত করে যতক্ষণ না ক্ষতি শোধ হয় ততক্ষণ থামব না।’

    তিনি বললেন, ইরানের কৌশল বিজয় অর্জন এবং শত্রুকে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া সরে না গেলে অনুপ্রবেশকারীকে শাস্তি দিয়ে তাড়া করা হবে বলে তিনি জানান।

    শেখারচি যুক্তরাষ্ট্রকে বললেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অজুহাতে গত কয়েক দশক ধরে তারা পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে এবং আঞ্চলিক জনগণকে শোষণ ও প্রতারণার মাধ্যমে স্থানীয় দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না’। যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান কিছু শর্ত আরোপ করেছে এবং সেই শর্তগুলো অসীমভাবে মানতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    মুখপাত্র আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় দিচ্ছে তারা তা বন্ধ করবে। তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ভাবেন ইরান পিছিয়ে যাবে, তবে তারা ভুল করছে — ইরানের সংকল্প আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

    শেখারচি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরান সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কারও ওপর জোর করে নিজেদের ইচ্ছা চাপাবে না। তবে যদি কেউ তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়, তার পরিণতি বহন করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    মুহূর্তিকভাবেই এই দাবি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি; মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃত বক্তব্যই ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের একমাত্র সূত্র হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চিটলমারীতে সংঘর্ষ পরবর্তী সন্ত্রাস: অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ৪০ ঘর-দোকান ধ্বংস, নিহত ১

    চিটলমারীতে সংঘর্ষ পরবর্তী সন্ত্রাস: অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ৪০ ঘর-দোকান ধ্বংস, নিহত ১

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ী গ্রামে জমি ও আধিপত্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস ও শেখ নামের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় অন্তত ৪০টি বসতবাড়ি ও দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন রাজিব শেখ (২৫), আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ বিকেল সাড়ে ৬টার পর চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের চিংগড়ী ও মচন্দপুর এলাকার মাঝে তখনই উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে এক যুবক আরিফ শেথকে (স্থানীয়) বিশ্বাস পরিবারের লোকজন ‘ফুলকুচি’ দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। ফুলকুচি বলতে এখানে লোকালভাবে ব্যবহৃত লোহার হ্যান্ডেলযুক্ত মাছ ধরার অস্ত্র বোঝানো হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ পাশে থাকা অবস্থায় কাজে লাগিয়ে সাইদ বিশ্বাস ও সোহাগ মেম্বরের নেতৃত্বে সয়লাব সশস্ত্র গ্রুপ সেখানে ঢুকে ২০০-র বেশি লোককে সামনে রেখে শেখ পরিবারকে লক্ষ্য করে লুটপাট, ভাঙচুর ও বনভূমি কাঁচামাল-ভিত্তিক পেট্রোল ও পিচ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একাধিক বাড়ি একে একে পুড়ে যায়; অনেক বাড়ি সম্পূর্ণ জমি ঝড়ে বিলীন হয়েছে, আবার অনেকে আংশিকভাবে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে গুমোট শব্দ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, স্থানীয়রা আবারও নতুন হামলার ভয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে শুরু করেছেন।

    ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ঝাঁঝালো পোড়ার গন্ধ, ইট-ফোটা এবং ছাই মিশ্রিত ময়লা। শহরের বাইরে থাকা অনেক মানুষ ছুটে এসে নিজেরা পুড়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখছেন; কেউ কেউ হাতের উপর মাথা তুলে বসে কাঁদছেন। নিহত রাজিব শেখের পরিবারের পাশে দুটি বড় চৌকি বসিয়ে সবাই মিলে রান্না করে খাচ্ছেন। বেশিরভাগ পরিবারের শেষ সম্বলও নষ্ট হয়েছে; ঘরে চাল-আটা, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার পুড়ে বা লুটপাটে চলে গেছে বলে অভিযোগ আসে। অনেক বাড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি পুড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন।

    ক্ষতিগ্রস্ত লিয়াকত শেখ বলেন, “আমার সব শেষ করে দিয়েছে, কী খাবো বা কী করবো জানি না। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। আমার ছেলে-কে বা আমায় কোনো কাউকে কেন এমন করার দরকার?” মনোয়ারা বেগম বলেন, “স্বামী প্যারালাইজড অবস্থায় শুয়ে আছেন। ছোট ছেলে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। ঘরে ঋণে কেনা ছয় মাসের ধানও পুড়ে গেছে।” জয়নব বেগম নামে এক নারী বলেন, ঘর ঠিক করার জন্য করা ৫০ হাজার টাকার ঋণ এখন হাতছাড়া, এক ছাগল ও কিছু হাঁস-ভরে ছিল, সেগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে; হামলাকারীদের বিচার ও ঘরাবাড়ি ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন তিনি।

    অন্যদিকে হামলাকারীর সংখ্যা ও সংগঠিত কাজের বিষয়েও ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন; মোঃ বাবলু শেখ বলেন, “ওরা অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে একযোগে এসে আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছে। পুলিশ এসআই নুরে আলম দাবি করে আমাদের লোকজনকে পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে এবং পুলিশের সামনেই আগুন ছুঁড়েছে।” এ দাবির বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে অবস্থানকারী একাধিক সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন; অভিযোগের তদন্ত চলছে।

    ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতের নাম সৌরভ বিশ্বাস (১৯), তিনি মচন্দপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের ছেলে। নিহত রাজিব শেখ চিংগড়ী গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শামীম হোসেন বলেন, অনেক বসতবাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে; নিহত রাজিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযান জোরদার করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও বাধার মুখে আগুন নেভাতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আনুমানিক ২০-২৫টি বসতঘর পুড়ে গেছে বলে তারা ধারণা করছেন; ফায়ার ইউনিট চারটি একযোগে কাজ করে প্রায় তিন ঘণ্টা লড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয়রা বলছেন, মধুমতী নদীর চরভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শেখ-মানুষ ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে; পূর্বে এই বিরোধে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ দুই পরিবারের বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে শান্তি ফেরাতে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত; স্থানীয়রা দ্রুত বিচারের দাবি করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।

  • খুলনায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক ছিনতাইকারী নিহত, ব্যবসায়ী আহত

    খুলনায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক ছিনতাইকারী নিহত, ব্যবসায়ী আহত

    খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ছিনতাইকারী দলের নিজেই ছোঁড়া গুলিতে এক ছিনতাইকারী নিহত এবং এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। নিহত ছিনতাইকারীর নাম সাগর (৩০) বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে স্টিমার ঘাট সংলগ্ন পপুলার জুটের পাটগুদাম এলাকায়। পুলিশের ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, দেয়াড়া কলোনী এলাকায় দোকান-ঘাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তৌহিদুল ইসলাম—যিনি খুলনা পাড়ে মুদি ও ফ্লাক্সিলোড ব্যবসা করেন। চার শিশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী তাকে পথরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

    ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোঁড়লে সেই গুলি লক্ষভ্রস্ত হয়ে দলের এক সদস্যের গায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ সাগরকে পাশে থাকা সহযোগীরা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। সেই সময় গুলিতে আহত হন ব্যবসায়ী তৌহিদও। এলাকাবাসীর চিৎকারে অনেকেই ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখান থেকে উভয়কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা হাসপাতালে আনার পরেই তার মৃত্যু হয়েছে। আহত তৌহিদুল ইসলাম বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, নিহত সাগরকে দেয়াড়া কলোনী এলাকার চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যরা পালিয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরিগে পাঠানো হয়েছে।

    দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন। পুলিশ পলাতক remaining সন্দেহভাজনদের ধরার চেষ্টা করছে এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চালাচ্ছে।