Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • প্রথম পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড: কৃষিমন্ত্রী

    প্রথম পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে সারাদেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ২২,০৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, নতুন বছরের পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

    আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

    কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ, কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে উৎপাদন ও বিপণনই হবে তথ্যভিত্তিক।

    তিনি বলেন, কৃষককে ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং কৃষিকাজকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এজন্য সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ঘটিয়ে দুর্নীতিমুক্ত সেবা ব্যবস্থা গঠন করা এবং কৃষকের মর্যাদা বাড়ানোই সরকারের প্রত্যাশা। কার্ডটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কার্যকর হবে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

    অপরদিকে, কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে—প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী পর্যায়। প্রাক-পাইলটের অংশ হিসেবে ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। এই ব্লকগুলো হলো:

    কমলাপুর (পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়), উথলি (শিবগঞ্জ, বগুড়া), কৃপালপুর (শৈলকুপা, ঝিনাইদহ), রাজাবাড়ি (নেসারাবাদ, পিরোজপুর), রাজারছড়া (টেকনাফ, কক্সবাজার), অরণ্যপুর (আদর্শ সদর, কুমিল্লা), সুরুজ (টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল), তেনাপঁচা (গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী), ফুলতলা (জুড়ি, মৌলভীবাজার), পাঁচপীর (গোদা, পঞ্চগড়) এবং গাইবান্ধা ব্লক (ইসলামপুর, জামালপুর)।

    প্রি-পাইলটে শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকই নয়—মৎস্যচাষী, মৎস্য আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতের খামারি, দুগ্ধ খামারি ও লবণচাষীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে মোট ২২,০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী সংখ্যা হলো: ভূমিহীন ৪৬ জন, প্রান্তিক ৯,৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র ৮৯৬ জন, মাঝারি ১,৩০৩ জন এবং বড় ৫১ জন। কার্যক্রমে নির্বাচিতদের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী ২,১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫ জন এবং লবণচাষী ৩ জন। মোট বাছাইকৃত কৃষকের মধ্যে প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৩১ জন, যা মোটের প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ।

    পাইলট পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক সরাসরি নগদ প্রণোদনা হিসেবে প্রতি জনকে ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। কৃষক কার্ড ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ডিলারের পিওএস/প্রিন্ট সেল মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত খাদ্য ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনা যাবে। এর ফলে সরবরাহশুদ্ধতা ও ট্রানজেকশন ট্রেসযোগ্য হবে।

    প্রাক-পাইলটিংয়ের জন্য বরাদ্দ বাজেট প্রাক্কলিতভাবে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। যদি প্রাক-পাইলট সফল হয়, তবে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের আরও ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম করা হবে। পাইলট থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আগামী চার বছরে সারাদেশে কার্ড বিতরণ ও সমৃদ্ধ ডাটাবেস তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

    কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদপুর মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে প্রাক-পাইলট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। কুমিল্লা জেলার অরণ্যপুর ব্লকের কার্ড বিতরণ আলাদা করে ১৭ এপ্রিল ২০২৬-এ সম্পন্ন হবে; বাকি ১০টি ব্লকে একই দিন অনুষ্ঠান হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এই কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবে এবং সময়োপযোগী নতুন সেবা সংযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের কাজ ও আয়ের নিরাপত্তা বাড়াবে। কার্ডভিত্তিক স্মার্ট ডাটাবেস তৈরি হলে সারপাচ্য রোধ, চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন ও সরকারের মাধ্যমে কৃষকের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণসহ বহু প্রশাসনিক ও বাজারসংক্রান্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।

    সূত্র: বাসস

  • দুপুরে জামিন, সন্ধ্যায় কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেলেন শিরীন শারমিন

    দুপুরে জামিন, সন্ধ্যায় কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেলেন শিরীন শারমিন

    হত্যাচেষ্টা মামলায় দুপুরে জামিন পেয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

    কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, কারাগারে জামিননামা পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে রিলিজ করা হয়েছে। মুক্তির পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন।

    শিরীন শারমিনকে গত ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডির তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একই দিনে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা চেষ্টা ও চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।

    আসামিপক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছেন, অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় কারামুক্তিতে আর কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। বর্তমানে মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • শেষ কার্যদিবসে বিরোধীদের ওয়াকআউট যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    শেষ কার্যদিবসে বিরোধীদের ওয়াকআউট যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদের শেষ কার্যদিবসে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল না। রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    তিনি জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পর ঈদসহ নানা ছুটির কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় সময় সংকট ছিল। বিধি অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করতে হয়, তাই সময়ের চাপ আরও বেড়ে যায়। এই কারণেই শুক্রবারও সংসদের অধিবেশন চালানো হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সহজ ছিল না এবং এজন্য কিছু অধ্যাদেশ আগে থেকে টেবিলে আনা সম্ভব হয়নি।

    বিরোধী দলের আচরণ নিয়ে তিনি বলেন, তারা একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে। যে ইস্যুগুলোতে তারা এসব কর্মসূচি নিয়েছে, সেখানে কিছু তথ্য সঠিক ছিল না এবং গণমাধ্যমের সামনে বিভ্রান্তিকর মন্তব্যও করেছেন। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর–সংক্রান্ত অধ্যাদেশটিকে কেন্দ্র করে তাদের ওয়াকআউটের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে পাস করা হয়েছে, ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বা সংশ্লিষ্ট বিলের মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়নি। সব মিলিয়ে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি আইন পাস হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন ও সুপ্রিম সচিবালয়–সংক্রান্ত বিল প্রস্তাবের সময় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই; যারা ভিন্ন দাবি করছেন তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

    গুম কমিশন সম্পর্কেও আইনমন্ত্রী বলেন, আইসিটি আইনে গুমের সংজ্ঞা থাকলেও গুম কমিশন সংক্রান্ত আইনে তা স্পষ্টভাবে আলাদা করা হয়নি। ফলে মানবাধিকার সংক্রান্ত অন্যান্য আইনগুলোর সঙ্গে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে—এই কারণেই বিষয়টি আরও বিশদভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

    মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমের কৌশল নিয়ে তিনি জানালেন, কমিশনের তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। কমিশন উভয় পক্ষকে ডেকেতে পারে, জরিমানা, ক্ষতিপূরণ বা আইনগত পদক্ষেপের পরামর্শ দিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারে। তবে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ নিরূপণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের বিধান নেই।

    শেষে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতেও বিভিন্ন সময় বেশ কিছু অধ্যাদেশ আইন হিসেবে গৃহীত হয়েছিল; বর্তমান সরকারের সময়ও এ পর্যন্ত অনেক অধ্যাদেশকে আইন রূপ দেওয়া হয়েছে।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই অভিযোগ করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ বলেন, এ দেশের জাতীয় ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে শ্রমিকরা এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে—শ্রমিকরাই সামনে ছিল। তিনি বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে কর্মজীবী মানুষের ভূমিকা স্মরণ করান।

    নাহিদ ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘শ্রমিকদের রক্তের ঘাম আর ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় ওঠা বিএনপি এখন এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুনভাবে গঠিত সরকার গণভোট ও গণ-রায়ের প্রতি অবজ্ঞা করছে—এগুলোই তাদের গণবিরোধী হওয়ার প্রমাণ। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তারা শ্রমজীবী মানুষের কথা ভুলে গেছে।’’

    তিনি আরও বললেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি বিএনপি ভঙ্গ করেছে। এর ফল ভালো হবে না—জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওয়াদা ভঙ্গের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণআন্দোলন করে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

    নাহিদ বলেন, ‘‘আমরা এখন একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের ব্যাক বিস্তার করছি, যেখানে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার—বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সবখানেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করা হবে।’’

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে রয়েছে এবং একযোগে কাজ করবে।

    নাহিদ শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে ডেকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে পদচারণা চালানোর জন্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল ভাবনাকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই তার আহ্বান।

    শেষে তিনি সতর্ক করেন যে এখন শুধু জাতীয় সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকা যায় না; রাজপথের প্রস্তুতির প্রয়োজন। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ দিয়ে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের সব দাবি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে—এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই তাদের আন্দোলন চলবে।

  • ৮ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছাড়াল ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি

    ৮ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছাড়াল ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি

    রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বাড়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য ধরা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি গেল ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয়ে অপ্রত্যাশিত ধীরগতি দেখা যাওয়ায় পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি আরও বাড়েছে। খাতগুলো বলছে—অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি বিধির কঠোর প্রয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়জুড়ে দেশি ব্যবসায়ীরা মোট পণ্য আমদানি করেছেন ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় চার হাজার ৬১৭ কোটি ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। তুলনায় গত অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে পাওয়া ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২.৬ শতাংশ বেশি। আমদানি ও রপ্তানির এ ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি থাকায় বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে।

    চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি হিসাব বর্তমানে সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার; আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে সামগ্রিক ব্যালান্স ভালো অবস্থায় আছে; আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের ব্যালান্স ৩৪৩ কোটি ডলার সঙ্কলিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলারের অবস্থানের তুলনায় অনেক ভালো।

    রেমিট্যান্স ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে—অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার (দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন; আগের বছরে একই সময়ে ছিল ১৮.৮৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১.৪ শতাংশ।

    পর্তুক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে; গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার, চলতি অর্থবছরে তা প্রায় ৮৭ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগও নেতিবাচক অবস্থায় রয়ে গেছে—অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) থেকে প্রায় ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরও একই রকমভাবে ছিল।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বহির্বিশ্বের মূল্যউদ্রেক ও ভোগ্যপণ্যের ভলিউম বাড়ায় আমদানির উপর নজরদারি শক্ত করলে এবং রপ্তানি বিস্তারে নীতিগত সহায়তা বাড়ালে দ্রুত ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। নতুবা জ্বালানি-সহ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দেশের অর্থনীতির সংকট আরও বাড়তে পারে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নামল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নামল

    ২০২৪ সালের আর্থিক আচড়ের ছায়ায় দেশের ব্যাংকখাত বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। চলতি বিবরণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি এবং বাকি ব্যাংকগুলোর আয়ও প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছায়নি। এর প্রকৰ্ফণে ২০২৫ সালে (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে এমনই তথ্য ধরা পড়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এটি ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা কম, যা প্রায় ৪২ শতাংশের সমান। গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; ২০১৫ সালের সর্বনিম্ন রেকর্ড ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, সেই তুলনায় এবার খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (প্রায় ৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে এটি ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসেবে ৪৫ শতাংশের বেশি।

    শাখা-প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকারদের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সূত্র ফাঁস, অনিয়ম ও অর্থপাচারের খবর প্রকাশ পেলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার তুলনায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে; খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব লোকসানও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক বড় চাপের মধ্যে পড়ে; অনেক ক্ষেত্রে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচারের প্রভাব পরিষ্কার হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য, সিএসআর ব্যয় কমার আরেকটি কারণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার দাবি থাকায় ব্যাংকগুলো প্রচণ্ড চাপ অনুভব করত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পে চাপের ফলেই অনেক সময় সিএসআর অর্থ অনুচিতভাবে ব্যবহার হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগের সরকার বদলের পর এই চাপ অনেকটাই কমেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করান, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে যদি এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, তবে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়: তার মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ শিরোনামের কাজে, শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    রিপোর্ট অনুযায়ী ওই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও অর্থ ব্যয় করেনি। সেই ব্যাংকগুলো হল: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আর ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তথ্য অনুযায়ী, এই লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে; তারা হলেন: এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, আর্থিক ক্ষত ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর CSR নীতি ও ব্যয়ের ধরনে গুরুত্বপুর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমকে পুনর্সংগঠিত করা, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রকৃত সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় নিশ্চিত করাই ভবিষ্যতে খাতের সুস্থতার জন্য জরুরি।

  • ইরানের স্পিকার: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ

    ইরানের স্পিকার: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থতার পরে। তিনি বলেন, মার্কিনিদের ওপর তাদের বিশ্বাস নেই এবং নতুন আলোচনায় তারা ইরানিদের আস্থা জিততে পারেনি।

    গালিবাফ রোববার (১২ এপ্রিল) মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় মনোভাব এবং সদিচ্ছা আছে। কিন্তু আগের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে, মার্কিনিদের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।” তিনি আরও বলছেন, “মার্কিনিরা এই পর্বের আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।”

    স্পিকার পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভাতৃপ্রতীম দেশ পাকিস্তানের ওপর কৃতজ্ঞ — এই আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য। পাকিস্তানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ সময় কথোপকথন হওয়া সত্ত্বেও দুই দেশ কোনো চুক্তি অনুসূচিতে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া এনেছে, যা তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনায় বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা জে.ডি. ভ্যান্স তার দলসহ দেশে ফিরে গেছেন।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • তেল আবিবে ইরান যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ আদালতের সীমা ছাড়ালো

    তেল আবিবে ইরান যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ আদালতের সীমা ছাড়ালো

    তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে শনিবার (১১ এপ্রিল) সরকারবিরোধী ও ইরান যুদ্ধবিরোধী একটি বৃহৎ সমাবেশে শত শত নয়, হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়—বিবিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে অন্তত ২ হাজারজন উপস্থিত ছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ১ হাজারজনের সীমা ছাড়িয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্ট জননিরাপত্তার লক্ষ্যে ওই সীমা আরোপ করেছিল—পরিবর্তিত নিরাপত্তা অবস্থা, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটকে উল্লেখ করে। তবুও সমাবেশে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক সপ্তাহের মতো তীব্রভাবে লাঠিচার্জ বা ব্যাপক গ্রেপ্তার হয়নি।

    বিক্ষোভে মূলত বামপন্থী দল ও বিভিন্ন সরকারবিরোধী সংগঠন অংশ নিয়েছিল। তাদের মুখ্য দাবি—ইরান-বিগ্রস্ত লড়াই বন্ধ করা, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচারের দাবী, এবং অতি-অর্থোডক্স ছাত্রদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির পদক্ষেপের প্রতিবাদ।

    সমাবেশের এক অন্যতম সংগঠক অ্যালন লি গ্রিন বলেন, হাবিমা থেকে শহরের রাস্তায় সমবেত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন—তিনি অভিযোগ করেন সরকার একটি দীর্ঘস্থায়ী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা দমন করছে এবং সুযোগ পেলে বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার মতো আইন পাশ করছে।

    আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হাদাশের প্রধান আয়মান ওদেহ বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ও নৈতিক কোনো বিকল্প উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন নাও হতে পারে, কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জহুদি ও আরব জনগণের ঐক্য অপরিহার্য।’’

    সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘‘শান্তি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’’ স্লোগান তুলেছেন। তেল আবিবের বাইরে জেরুজালেমের প্যারিস স্কোয়ার ও হাইফাতেও প্রতিবাদী প্রর্দশন ছিল—জেরুজালেমে পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো, পরে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবারে তেল আবিবে জমায়েতের সীমা ১ হাজার ও হাইফাতে ১৫০ জন নির্ধারণ করেছিল। গত সপ্তাহে পুলিশ অবৈধ জমায়েতের অজুহাতে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও এই সপ্তাহে তারা তুলনামূলকভাবে নমনীয় ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে সীমা ছাড়ালে পুলিশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিক্ষোভ ভাঙতে পারে না—বিশেষ করে হাবিমা স্কোয়ারটির নিচে একটি বড় বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় অনেক জায়গায়—স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে—নিয়ন্ত্রন শিথিল করা হয়েছে, তবে লেবাননের সীমান্ত হয়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের কারণে উত্তর ইসরায়েলসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো কড়া বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের প্রতিযোগিতার মতো গতির মধ্যে পড়ে ওসমান আলী (৪০) নামের এক হকারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ওসমান আলী কালীগঞ্জ পৌরসভার হেলাই গ্রামের বাসিন্দা; তার আদি বাড়ি মাহেশপুর উপজেলায়। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনে উঠে-ফেরে পণ্য বিক্রি করতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে শহরের মেইন স্ট্যান্ডে শাপলা পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে একটি দ্রুতগতিতে পাশ কাটাতে গেলে সামনের ও পিছনের বাসের ফাঁকে আটকে পড়েন ওসমান আলী। তিনি চিৎকার করলে ও সাহায্য চাইলেও বাস দুটি দ্রুতগতি কমায়নি এবং আগে যাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।

    কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ জান্নাতুল নাঈম লাজুক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওসমান আলীর মৃত্যু হয়েছে। তার বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং নাক থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্ত চলছে।

  • খুলনায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু; ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৯০

    খুলনায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু; ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৯০

    খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং সহস্রাধিক নয়, নতুন করে ৯০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজিবর রহমান।

    দপ্তরীয় তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে ৫১ জনে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং মোট ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বিভাগভিত্তিকভাবে সবচেয়ে কঠিন অবস্থার মুখে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা, যেখানে এখন পর্যন্ত ৩৯৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    অন্য জেলায় চিকিৎসাধীন শিশুদের সংখ্যা হলো: যশোর ১১০, খুলনা ৯৪, বাগেরহাট ৩৫, চুয়াডাঙ্গা ১৬, ঝিনাইদহ ৪৫, মাগুরা ৬৪, মেহেরপুর ৬৪, নড়াইল ৩০ ও সাতক্ষীরা ৫৯।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৯০ শিশুর জেলা অনুযায়ী বিভাজন—কুষ্টিয়া ২৩, যশোর ১৮, ঝিনাইদহ ১২, সাতক্ষীরা ৭, খুলনা ৭, মাগুরা ৭, বাগেরহাট ৫, নড়াইল ৪ ও চুয়াডাঙ্গা ৩। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর পরিস্থিতি লক্ষ্য রাখছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে এগিয়ে চলছে।