Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • কুষ্টিয়া-৩ এমপি মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

    কুষ্টিয়া-৩ এমপি মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) নিয়ে তীব্র অভিযোগ করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ অনুযায়ী গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়ার হাফসাই হরিপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার পূর্বে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুফতি আমির হামজা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ‘নাস্তিক’ ও ‘আপাদমস্তক ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন। অভিযোগকারীর দাবি, এসব উক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয় এবং তা মন্ত্রীর খ্যাতি ও মর্যাদাকে ভঙ্গ করেছে।

    আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আমির হামজার পরিচিতি ও বক্তৃতার জনপ্রিয়তার কারণে তার এসব বক্তব্য দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে; ফলে টুকুর পারিবারিক সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর প্রতিরোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই ১০০ কোটি টাকা মূল্যমানের সম্মানহানি দাবি করে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মামলা করে অভিযোগকারী।

    সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে মামলাটি প্রাপ্ত হয়। শুনানি শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে তা আদেশের জন্য রাখা আছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম দুলাল ও এপিপি হুমায়ুন কবীর কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযোগে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ডব্লিউ-এ) জারির অনুরোধও করা হয়েছে। মামলার дальней পদক্ষেপ ও আদালতের আদেশ সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

    রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে সাতানব্বই লাখ নয়—কমলা। আসলে, রাশিয়া থেকে অন্তত দুই মাসের জ্বালানি বা প্রায় ৬০ লাখ নয়—এখনই নয়। ঠিক করা যাক: বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (স্যাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

    সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আগে ভারতের জন্য একই ধরনের স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছে—আমরা সেটি আমল করে বাংলাদেশকেও এমনই ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে রাশিয়া থেকে যেন আমাদের অন্তত দুই মাসের জ্বালানি বা ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার অনুমতি দেয়া হয়, সেই আবেদন তুলে ধরেন।

    মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে চিঠি চেয়েছিল তা আমরা ঈদের পরেই পাঠিয়েছি এবং এখন তাদের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি এটাকেই এ বিষয়ে অগ্রগতির সূচক হিসেবে দেখাচ্ছেন।

    একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি থাকলেও যুদ্ধ-পরিস্থিতির আগে ভারত থেকে মাত্র ৫ হাজার মেট্রিক টন তেল পেয়েছি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল, তাও পূরণ হয়নি—শুরুতে মাত্র ৫ হাজার মেট্রিক টন পেয়েছিলাম। পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উচ্চপদস্থ বৈঠকের পর সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে; এ পর্যন্ত তিনটি পার্সেলে তিনবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ও একটি পার্সেলে ৭ হাজার মেট্রিক টন এসেছে—মোট করে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পেয়েছি।

    তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি কার্গো ৬০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি শিপ শিগগিরই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বিকল্প উৎস খোঁজা চলছে—সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মনীতিমালাও আলোচনা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই আশ্বাসও পেয়েছি; পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও এঙ্গোলা থেকে এলএনজি এসেছে বলে তিনি জানান।

    আন্তর্জাতিক সমুদ্রনিরাপত্তা প্রসঙ্গে যুগ্মসচিব বলেন, হরমুজ প্রণালীর সীমিতভাবে পাঁচটি দেশের—ভারত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া এবং বাংলাদেশ—নৌচলাচলের অনুমতি দেয়ার খবর এসেছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে; সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া আশা করা যাচ্ছে। তবু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত রয়েছে; বিশেষত বাংলাদেশি পতাকা ছাড়া অন্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

    জ্বালানি বিভাগ বলেন, পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও তারা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সব পথ খুঁটে দেখতে অব্যাহত রাখছে যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে খুঁত না পড়ে।

  • পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

    পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকার দুই সিটি সহ মোট পাঁচটি সিটি করপোরেশনের জন্য নিজের মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাত রাজধানীর বাংলামোটরের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াকে। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য দল মনোনয়ন দিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে।

    অন্য তিন সিটিতে এনসিপির মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন—কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনে সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী।

    এনসিপি জানায়, এপ্রিলের মধ্যে বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনেরও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিযুক্ত করে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। তিনি জানান, প্রশাসক পদে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এবং দলীয় প্রতীকে ভোটকালীন প্রতিযোগিতা হয়ে উঠবে না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। নাহিদ উপজেলা পর্যায়ের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মেয়াদভিত্তিক সমাধান চেয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার দাবি জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদসহ আরও অনেকে।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি সামনে এগোতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে এসব কথা বলেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক শক্তিশালী সরকারও ছিল; কিন্তু যখনই তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তখনই তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গিয়েছে।’ তিনি অতীত উদাহরণ তুলে ধরে সতর্ক করেছেন যে গণরায়ের বিরুদ্ধে থাকা কোনো শাসন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় মেনে নেয়া হয়নি—ফলত: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধের পথ তৈরী হয়। আবার ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের ফলে পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরে যেখানে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটিও শেষ পর্যন্ত জনআন্দোলনের মুখে টেকেনি।

    এই সাবেক উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি এখনো গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি জানান, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ দিয়েছেন—একে মূল্যায়ন করা উচিত এবং তার প্রতিফলন বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ‘আমরা তাদেরকে বলতে চাই, এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত সহযোদ্ধারা দেখেছেন, তা বাস্তবায়ন করতেই হবে,’—বলতে গিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে যদি এই জনরায়ের মূল্যায়ন করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছেন, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।

    শেষে তিনি সবাইকে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা জনগণের পক্ষে আসুন, যাতে আমরা সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে যান, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবার মাঠে নামতে আমাদের বাধ্য হতে পারে।’

  • আলফালাহ ব্যাংক বিক্রি করছে বাংলাদেশের কার্যক্রম—দাম ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার

    আলফালাহ ব্যাংক বিক্রি করছে বাংলাদেশের কার্যক্রম—দাম ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার

    পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেড তাদের বাংলাদেশের ব্যবসা বিক্রির প্রস্তাব শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পেয়েছে। ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডকে প্রায় ৫৮০ কোটি টাকায় (প্রায় ৪৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাংলাদেশে আলফালাহের সব কার্যক্রম হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    এই সিদ্ধান্ত ব্যাংক আলফালাহের ৭৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় গৃহীত হয়েছে এবং সভার কার্যবিবরণী গত শুক্রবার পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী বিক্রয়মূল্যকে ভিত্তি মূল্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ অর্থিক প্রতিদান হিসাবেই প্রদানের কথা রয়েছে।

    বিক্রয়মূল্য চূড়ান্তকরণের সময় প্রযোজ্য আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যাংক এশিয়ার সঙ্গে একীভূতকরণের সময় কিছু সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট) করা হতে পারে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ লেনদেনটি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং উভয় দেশের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

    ব্যাংক এশিয়া ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এবং পরে ব্যাংক অব নোভা স্কটিয়া ও মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এমসিবি) দেশের শাখাগুলো ক্রয়ের মাধ্যমে দ্রুত সম্প্রসারণ করে। ২০০১ সালে ব্যাংকটি স্কটিয়া ব্যাংকের দেশীয় কার্যক্রমও অধিগ্রহণ করে।

    আলফালাহ ব্যাংক পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ ব্যanked; দেশের ২০০টিরও বেশি শহরে ১ হাজার ২৪টির বেশি শাখা রয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকটির আন্তর্জাতিক উপস্থিতি আছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে। চলতি বছরের শুরুতে আলফালাহ আফগানিস্তানের বাজার থেকে তাদের কার্যক্রম থেকে ডাইভেস্টমেন্ট করেছে এবং তখন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান ও আফগানিস্তান কেন্দ্রীয় ব্যাংক গজনফর ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স (জরুরি যাচাই-বাছাই) শুরু করার অনুমোদন দিয়েছিল।

    এই প্রস্তাব কাজের ধারা অনুসারে এখন নিয়মগত অনুমোদন, চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ এবং একীভূতকরণ সংক্রান্ত সমন্বয়ের জন্য অপেক্ষা করবে। সূত্র: আজকের পত্রিকা

  • মার্চে ২৮ দিনে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    মার্চে ২৮ দিনে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি মার্চ মাসে মাত্র ২৮ দিনে দেশে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার জানান, ওই সময়েই দেশে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স—একই মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এই মাত্রা।

    এর আগে মার্চেই সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এবারের এই প্রবেশকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকারদের ধারণা, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই প্রবাসী আয় বাড়ে; তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনেকে নিরাপত্তা আবহে তাদের সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা এবার পর্যন্ত দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স—এটিও কোনো একটি অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

    তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা প্রবাসী আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতি চললে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংঘাত দ্রুত শেষ হলে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সীমিত রাখা যেতে পারে; কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একটি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যই বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় এই অঞ্চলের কোনো সংকট সরাসরি কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নীতি নির্মাতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

  • কুয়েতে ইরানি হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানিশোধনাগারে ক্ষতি, এক ভারতীয় নিহত

    কুয়েতে ইরানি হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানিশোধনাগারে ক্ষতি, এক ভারতীয় নিহত

    কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশটির একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি পানিশোধনাগারের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে এক ভারতীয় কর্মী নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলা ইরানি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে এবং ভবনটিতে উল্লেখযোগ্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে কুয়েত দ্রুত টেকনিক্যাল ও জরুরি সাড়া কর্মী ঘটনাস্থলে পাঠায়। তারা কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু রাখা ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন, বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    আল জাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব সংবাদমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে পানিশোধনাগারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উপস্থিত প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রায় এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছে। কুয়েতে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবির্ভাব এবং হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্কতা জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় কুয়েতের আকাশে ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়; এসবের মধ্যে কয়েকটি ড্রোন একটি সামরিক শিবিরে আঘাত করলে সেখানে ১০ জন সামরিক কর্মী আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

    এলাকায় সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিকটবর্তি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা নানা অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছে। আলাদা আলাদা রিপোর্টে ইরানে মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে বিভিন্ন সংখ্যাগণনা করা হয়েছে; এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    কুয়েতে সাম্প্রতিক ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষায় সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও চরমভাবে প্রভাবিত হচ্ছে এবং জরুরি কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা emphasised হচ্ছে।

  • ইরাকের জনগণকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

    ইরাকের জনগণকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

    ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইরাকের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে ইরানি গণমাধ্যম রোববার (২৯ মার্চ) জানিয়েছে; খবরটি এএফপির বরাতে এনডিটিভি প্রকাশ করেছে। খামেনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ও তেহরানের প্রতি সমর্থনের জন্য ইরাকের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    তার প্রকাশ্যে না থাকার কারণে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি এক বিমান হামলায় আহত হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

    ইরানির সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, খামেনি ইরানের বিরুদ্ধে আঘাত প্রতিরোধ করার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ায় এবং তেহরানের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর জন্য ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। বার্তায় বিশেষ করে বাগদাদের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংবাদ সংস্থা বলেছে, এই কৃতজ্ঞতা জানানো সম্পর্কিত বার্তাটি শিয়া দল ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক এবং বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মধ্যকার এক বৈঠকের পর জারি করা হয়। তবে ওই বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয় বা সঠিকভাবে কীভাবে পৌঁছানো হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    বর্তমানে খামেনির অবস্থান ও তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজানা অনেক প্রশ্ন রয়ে গেলেও ইরানি সূত্রগুলো বলছে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন—তবে বিষয়টি সংক্রান্ত স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্য আপাতত মেলে না।

  • মোংলা কোস্টগার্ডের অভিযানে সুন্দরবনে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর আস্তানা ধ্বংস, মালামাল জব্দ

    মোংলা কোস্টগার্ডের অভিযানে সুন্দরবনে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর আস্তানা ধ্বংস, মালামাল জব্দ

    মোংলা কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে। কাউকে আটক করা না গেলেও ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এই তথ্য জানান কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি বলেন, এ তথ্য তিনি আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন।

    কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে সুন্দরবনের মোংলা সীমান্তের খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট সুমন বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। সেই অনুসরণেই সোমবার ভোর ছয়টার দিকে কোস্টগার্ড বেস মোংলা ও স্টেশন হারবারিয়া মিলিয়ে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযান চালিয়ে দলটি ওই এলাকায় একটি আস্তানা শনাক্ত করে এবং তৎক্ষণাৎ সেখানে তল্লাশি চালায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুদের বাহিনী বনের গভীরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আস্তানাটি ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং তল্লাশিতে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি ওয়াকি-টকি, রান্নার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণসহ আরও অনান্য আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা জাহাজের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের সজাগ তদারকি জোরদার করা হবে।

  • সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর নিহত

    সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর নিহত

    সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাশিরামপুর গ্রামে মাছের ঘেরে পানি চষাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নয়ন মৃধা (৩৮) নামে এক কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর নিহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটে সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল sekitar ৮টার দিকে।

    নয়ন বাশিরামপুর গ্রামের শ্রী কানাই মৃধার ছেলে এবং স্থানীয় বদরতলা যাদব চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর ছিলেন।

    নিহতের প্রতিবেশী দেবদাস মন্ডল জানান, সোমবার সকালে নয়ন তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মাছের ঘের থেকে পানি তোলার উদ্দেশ্যে শ্যালো মেশিন চালু করেন। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ চলে গেলে তার বাবা মটরের সুইচ বন্ধ করে দিয়ে বৈদ্যুতিক তার গুটিয়ে আনার জন্য নয়নকে বলেন। নয়ন মটর থেকে তার খুলে গুটিয়ে আনছিলেন; এই সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ ফিরে আসলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম আহমেদ খান ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।