Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে হিরো আলম গ্রেফতার

    বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে হিরো আলম গ্রেফতার

    কনটেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন। পুলিশ বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

    বুধবার দুপুরে হিরো আলমের ফোনে কল করলে সেটি রিসিভ করেন পরিচালক রবিন খান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বগুড়ার বনানী এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। অন্য এক সূত্র জানায়, হিরো আলম নিজ এলাকার স্থানে থাকাকালে খবর পেয়ে পুলিশ তার খোঁজা শুরু করে। তিনি ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করলে গাড়ি করে ধাওয়া করে তাকে শাজাহানপুর থানার কাছাকাছি এলাকায় ধরে ফেলা হয়। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় বাদী তার জবানবন্দি দেন এবং তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অন্যান্য অভিযোগে জড়িত পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    মামলার অভিযোগে জানানো হয়, হিরো আলম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর প্রতি বারবার ধর্ষণ করেন। এরপর তিনি এক মৌলভীর মাধ্যমে নিজের বিয়ে সেরেছেন বলে বলতেন। পাশাপাশি একাধিক বাসা ভাড়া করে সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। যখন ওই নারী গর্ভবতী হন, তখন ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল তার গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল হিরো আলম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে। গুরুতর রক্তক্ষরণে তিনি শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন এবং তার গর্ভপাত হয়। এরপর তিনি ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    এছাড়া, সিনেমা নির্মাণের নামে হিরো আলম ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

  • আমাকে নানা বিষয় নিয়ে টার্গেট করা হচ্ছে: মেহজাবীন

    আমাকে নানা বিষয় নিয়ে টার্গেট করা হচ্ছে: মেহজাবীন

    নাটকের জনপ্রিয় এবং আলোচনায় থাকা অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে বেশ সক্রিয়। তিনি নিজের বিভিন্ন মুহূর্ত ক্লিপ বা ছবি শেয়ার করেন, কখনো নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। এবার তিনি একটি গুরুতর অভিযোগ জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে এক মহলের দ্বারাই ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন।

    রবিবার সকালেই ফেসবুকে এক পোস্টে মেহজাবীন লিখেছেন, কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ্য করছি আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে টার্গেট করে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকেই জানেন, কিছু দিন আগে একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। আদালত সেই মামলায় আমার পক্ষ নিতে এবং সত্য প্রকাশে সাহায্য করে অব্যাহতি প্রদান করেছে। কিন্তু যখন আমি নতুন করে কাজ শুরু করেছি, তখনই আবার আমার বিরুদ্ধে মানহানি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে তৈরি ছবি বা ভিডিওর কারণে অনেক আর্টিস্টকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যা একেবারেই কাম্য নয়। বিশেষ করে নারীদের সহজ টার্গেট করে এসব অপপ্রয়োগ চলছে, তবে কে বা কারা এর পিছনে আছে আমি তা জানি না।

    তিনি স্পষ্ট করেযেন, আমি শুধু আমার কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে চাই, ব্যর্থতা বা অন্য কিছু নয়। আমি আশা করি, সকল ভক্ত ও দর্শক আমার পাশে থাকবেন। আপনাদের সমর্থনই আমার সাহসের মূল উৎস।

    অভিনেত্রীর এই বক্তব্যের পর ভূক্তিজাত ও সমালোচকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার অনেকে বিষয়টির তদন্তের দাবি তুলছেন।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্কে জড়িয়ে আলোচনায় রয়েছেন মেহজাবীন। কয়েক মাস আগে পারিবারিক ব্যবসায়িক অংশিদার হিসেবে টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে তিনি আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবেমানে তিনি আদালত থেকে মুক্তি পান।

    অবশেষে, সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার সময় মেহজাবীন ও তার স্বামী মদসহ আটক হয়েছেন—তবে এই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি সরাসরি নিজের মানহানি সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

  • রাশমিকা ও বিজয় বিবাহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, কোথায় হবে অনুষ্ঠান

    রাশমিকা ও বিজয় বিবাহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, কোথায় হবে অনুষ্ঠান

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবারাকুন্ডার বিবাহের খবর এখন সকলের আলোচিত বিষয়। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তারা নিজেদের এই সুখবর গোপন রেখেছিলেন। অবশেষে তারা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তাদের স্বপ্নের বিয়ে আসন্ন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের মতে, জুটি জানিয়েছে, তাদের এই বিবাহের নাম হবে ‘দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ’। দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তরা তাঁদের নামের সঙ্গে এই বিশেষ নামটি জড়িয়ে ধরছিল, যা তারা সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের বিবাহের নামকরণ করছেন। এ অনুষ্ঠানটি আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে এক প্রাইভেট পারিবারিক অনুষ্ঠানে সম্পন্ন হবে।

    বিবাহের ঘোষণা দিয়ে তারা এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রিয় বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব ও ভক্তদের জন্য, আমরা যখন নিজেদের জন্য কিছু পরিকল্পনা করতে শুরু করেছিলাম, তখন থেকেই আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে এসেছি। তখন থেকেই আমরা ‘বিরোশ’ নামটি শুনে বড় হয়েছি, যা এখন আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আজ হৃদয় থেকে এই বিশেষ দিনটির নাম রাখছি—‘দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ’। আপনারা সবসময় আমাদের সঙ্গে আছেন, এই ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।”

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিবাহের পর রাশমিকা ও বিজয়ের হায়দরাবাদ ও মুম্বাইয়ে আলাদা দুটি রিসেপশন অনুষ্ঠানও পরিকল্পনা রয়েছে।

  • কলকাতায় গ্যাংস্টার লুকে শাকিব খান: প্রকাশ্যে শুটিংয়ের ছবি ভাইরাল

    কলকাতায় গ্যাংস্টার লুকে শাকিব খান: প্রকাশ্যে শুটিংয়ের ছবি ভাইরাল

    আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সুপারস্টার শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন টাইম ইন ঢাকা’। ইতোমধ্যে এ সিনেমার দৃশ্যধারণের জন্য শাকিব খানের কলকাতায় ব্যস্ত সময় কাটছে। বেশ কয়েক দিন ধরেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়—বৌবাজার, হাওড়া, আলিপুরসহ অন্যান্য স্থানে সিনেমাটির শুটিং চলেছে। সম্প্রতি সাধারণ দর্শকদের নজরে এসেছে শাকিব খানের নতুন লুকের কিছু ছবি, যা ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে।

  • কণ্ঠশিল্পী নোবেল গ্রেপ্তার

    কণ্ঠশিল্পী নোবেল গ্রেপ্তার

    বিতর্কিত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ ও আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে, যখন সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

    ডিএমপির ডেমরা থানার পাঠানবীর পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, এই ঘটনায় নোবেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটকে রেখে তার মানসম্মানের ক্ষতি করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত থেকে ওই মামলার জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ায়, ঐ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সে থানা হাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত নোবেল ভুক্তভোগী তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজস্ব স্টুডিওতে একদিনের জন্য আটকে রাখেন। এই সময় তিনি জোরপূর্বক তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরির জন্য চাপ দেন।

    পুলিশের সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট এই ঘটনায় তরুণী একলাই আদালতের কাছে অভিযোগ দেন। তখন আদালত পিবিআইকে এই বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিবিআই এসআই নুরুজ্জামান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওইদিন আদালত মাইনুল আহসান নোবেলসহ চারজনের নামে ওয়ারেন্ট জারি করে। পরে ডেমরা থানাকে নির্দেশনা দেয়, আসামিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত আদালত সম্মুখীন করার জন্য।

  • বিসিবির প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল বাশার

    বিসিবির প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল বাশার

    বর্তমান প্রধান নির্বাচনক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তি এই মাসেই শেষ হচ্ছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত বোর্ডকে আগে থেকেই জানিয়েছেন। এর ফলে বিসিবি নতুন প্রধান নির্বাচক খুঁজতে শুরু করে। অনুকূল পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকেই সিদ্ধান্তের উপর আনুষ্ঠানিকভাবে আস্থা রাখে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) হাবিবুল বাশারকে নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিশ্চিত করে। তিনি এর আগে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নারী দলের নির্বাচক হিসেবেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুরুষ দলের নির্বাচক প্যানেল থেকে অব্যাহতি নিলেও তিনি ক্রিকেট প্রশাসনে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্বে আছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেট জ্ঞানকে বিবেচনা করে বিসিবি তাকে আবারও নির্বাচক প্যানেলে ফিরিয়ে আনেছে। বোর্ড মনে করছে, তার নেতৃত্বে জাতীয় দলের নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও গতির যোগ হবে।

  • ভারতের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে

    ভারতের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে

    নারী এশিয়া কাপের রাইজিং স্টারসের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল ভারতের কাছে ৪৬ রানে হেরে গেছে। এই হার একара কারণেই বাংলাদেশের শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত, আর বাংলাদেশ হয় রানারআপ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে। এর জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সব উইকেট হারিয়ে ৮৮ রানে গুটিয়ে যায়, ফলে তারা ম্যাচটি হেরেছে।

    টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয় দিয়ে ভারত ফাইনালে উঠে যায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়।

    শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ১৩৫ রানের লক্ষ্য নিয়েছিল। শুরুটা ভালো হলেও ছন্দপতন ঘটে দ্রুত। পাওয়ার প্লে-তে এক উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান তুলতেই দল এখন শঙ্কার মধ্যে পড়ে যায়। এরপর ম্যাচের ধারাবাহিক উইকেট পতনের ফলে দলের ইনিংস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই অবস্থান থেকে আরউৎসাহ ফিরে পায়নি। ফলে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য জেতা সম্ভব হয়নি।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন ওপেনার শামিমা সুলতানা। শারমিন সুলতানা করেন ১৮ রান, ফাহিমা খাতুন করেন ১৪ রান, আর সাদিয়া আক্তার করেন ১০ রান। অন্য ব্যাটাররা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

    ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার প্রেমা রাওয়াত, যিনি তিনটি উইকেট নেওয়ার ধারাবাহিকতায় দলকে সাহায্য করেন। এছাড়া সোনিয়া ও তানুজা দুটি করে উইকেট তুলে নেন। তিনজন বোলার একেকটি করে উইকেট নেন।

    এর আগে, ব্যাংককের ম্যাচে ভারতের শুরু হয়নি ভাল। প্রথমে মাত্র ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা বেশ চাপের মুখে দাঁড়িয়েছিল। তবে দলনেতা রাধা যাদব এবং তেজাল হাসাবনি বেশ ভালো ভাবে চাপ সামলে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। এই জুটির সুবাদে দলীয় সংগ্রহ বাড়তে থাকে।

    রাধা ৩০ বলে ৩৬ রান করেন, তার থেকে এগিয়ে যান তেজাল, যিনি ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করেন এবং ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসটি ৩৪ বলেরমধ্যে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। দিনেশ ভ্রিন্দার ব্যাট থেকেও আসে ১৯ রান। বাকিরা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন, আরও দুটি করে উইকেট নেন দুইজন বোলার।

  • লঙ্কানদের ৯৫ রানে অলআউট করে ইংল্যান্ডের বড় জয়

    লঙ্কানদের ৯৫ রানে অলআউট করে ইংল্যান্ডের বড় জয়

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে ব্যাট করে শুরুতেই বেশ ভালো লাভ করতে না পারলেও ইংল্যান্ড দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় হাসিল করেছে। স্মারক হিসেবে দেখানোর জন্য ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৪৬ রান সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা তাদের ইনিংসটি শেষ করে মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ইংল্যান্ডের বড় জয় নিশ্চিত হয়। তাদের রান তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কা শুরুতেই ধাক্কা খায়। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই পাঁচজন ব্যাটার ফিরে যায়। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য উইল জ্যাকস তিন টি উইকেট, জোফরা আর্চার, লিয়াম ডুসন ও আদিল রশিদ দুইটি করে উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যায়ে ভারতের দাসুন শানাকা ৩০ ও কামিন্দু মেন্ডিস ১৩ রান করেন। অন্য ব্যাটাররা কেউই দশের মধ্যে যেতে পারেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে বোলিংয়ে জ্যাকস তিনটি এবং অন্য বোলাররা উল্লেখযোগ্য দুটি করে উইকেট লাভ করেন। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা ইংল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। শুরুতেই ইংলিশরা চাপের মধ্যে পড়ে যায়; ওপেনার জস বাটলার মাত্র ৭ ও জ্যাকব বেথেল ৩ রানে আউট হন। তবে ফিল সল্ট ৫২ রান করে দলের জন্য অনুকরণীয় অঙ্গিনী ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন। তিনি ৪০ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছয়ে খেলেন। অপর দিকে উইল জ্যাকস ২১ ও জোফরা আর্চার শূন্য। শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার দুনিথ ভেল্লালাগে, ৪ ওভারে ২৬ রানে তিন উইকেট শিকার করেন। এছাড়া দিলশান মধুশাঙ্কা ও মহেশ থিকসেনা দুজন দুটি করে উইকেট পান, অপরজন দুশমন্থ চামিরার জন্য একটি উইকেট। এই দুর্দান্ত বোলিং আর ভালো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সহজ জয় লাভ করে।

  • সাউথ আফ্রিকার কাছে হেরে বড় ধাক্কা খেল ভারত

    সাউথ আফ্রিকার কাছে হেরে বড় ধাক্কা খেল ভারত

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ভারতের প্রথম ম্যাচেই হতাশ করেনি। খেলেছেন দুর্দান্ত কৌশলে, তবে সাউথ আফ্রিকা দলের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের সামনে পরাজিত হয়েছে ভারত। প্রোটিয়ারা সোহয়ার ৭৬ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে। আগে ব্যাট করে তাদের দল ৭ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নেমে ভারতির ইনিংস ১১১ রানে থেমে যায়।

    শুরুতেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বিপর্যয়ে পড়ে। ওপেনার ইশান কিশান শূন্য রানে আউট হয়েছেন। তিলক ভার্মা রানের খাতা খোলার চেষ্টা করলেও এক রানের বেশি করতে পারেননি। অভিষেক শর্মাও অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিংয়ে সফল হননি, মাত্র ১৫ রান করে আউট হন।

    উইকেটের নিচে ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ওয়াশিংটন সুন্দর (১১ বলে ১১) ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (২২ বলে ১৮)। তবে তাদের আউটের পর ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫১ রান বা ৫ উইকেট হারিয়ে। এরপর ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ম্যাচটিকে টেনে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যান শিভম দুবে ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার মাঝে। দুবে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৩৭ বলে ৪২ রান করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্যা কাটাতে পারেননি। হার্দিকের ১৮ রানের ইনিংসও খুব কাজে আসেনি। দুঃখজনকভাবে, ভারত ম্যাচটি হেরেছে।

    সাউথ আফ্রিকার জন্য সালটা ছিল দুর্দান্ত। তাদের বোলাররা অসাধারণ পারফর্ম করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কৌশলে দুর্বল করে দেয়। কেশভ মহারাজ ৩ উইকেট নিয়ে দলের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মার্কো জানসেন ও করবিন বশ দুটি করে উইকেট নেন এবং এইডেন মার্করাম একটি উইকেট লাভ করেন।

    প্রথমে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তাদের জন্য সমস্যা তৈরি হয়। দ্বিতীয় ওভারে কুইন্টন ডি কক আউট হয়ে যান। বাঁহাতি ওপেনার উপরের দিকে বিশিষ্ট জসপ্রিত বুমরাহের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে মার খেয়ে ফিরে যান। তৃতীয় ওভারে মারকামও আউট হন। রায়ান রিকেলটন লিডিং এজে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান, এছাড়া বেশ কিছু ব্যাটসম্যানই অল্প কিছু সময় টিকতে পারেননি।

    মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়ারা ব্যাটিং বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দ্রুত রান তোলা কঠিন হয়ে উঠায়, মিলার ও ব্রেভিস ধীরস্থির থেকে খেলতে থাকেন। যখন তারা কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেন, তখনই জুটি গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে ৯৭ রানের দুর্দান্ত জুটি হয় যে সময়ে ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫ রান করে আউট হন। তাকে শর্ট ডেলিভারিতে আউট করে দেন ডুব।

    মিলার মারকামকে ছক্কা হাঁকিয়ে ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই অর্ধশতকের পরে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বরুণ চক্রবর্তীর বলে লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা মারার চেষ্টায় ৩৫ বলে ৬৩ রান করে আউট হন। এরপর জানসেন দ্রুত ফিরে যান। তবে শেষ দিকে স্টাবস ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন, যা দলকে দুর্দান্ত পুঁজি এনে দেয়। ব্রেভিস, স্টাবস ও মিলারের দারুণ ব্যাটিংয়ে সাউথ আফ্রিকা সংগ্রহ তৈরী করে ১৮৭ রান। ভারতের জন্য বল হাতে অসাধারণ পারফর্ম করেন বুমরাহ তিন উইকেট ও আর্শদীপ দো উইকেট নেন।

  • জাহানারা আলমের অভিযোগে মঞ্জুরুলকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    জাহানারা আলমের অভিযোগে মঞ্জুরুলকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় বড় এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাবেক ক্রিকেটার এবং নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের দায়ের করা চারটি অভিযোগের তদন্ত শেষে বোর্ডের স্বাধীন তদন্ত কমিটি দুটি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর ফলस्वরূপ, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর নামে পরিচিত সাবেক এই ক্রিকেটারকে দেশের সব ধরণের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যদি তিনি আইনি পথে যান, তবে বোর্ড তার পক্ষেও সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অভিযোগের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর, যখন জাহানারা আলম চীনে অবস্থানকালে একটি ইউটিউব চ্যানেলে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি হৈচৈ সৃষ্টি করে।

    এর আগে, জানুয়ারি মাসে বিসিবি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্ব দেন সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি তারিক উল হাকিম। কমিটি শুরুতে তিন সদস্যের হলেও পরে পাঁচ সদস্যে রূপান্তরিত হয় এবং তিন দফায় সময় বাড়িয়ে শেষমেশ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তের মাধ্যমে পত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বোর্ড প্রমাণ পায় যে, মঞ্জুরুলের কিছু কর্মকাণ্ড দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশিকায় বর্ণিত অসদাচরণ এবং হয়রানির সংজ্ঞায় পড়ে।

    প্রশংসার জন্য, বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঞ্জুরুলকে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, ভুক্তভোগী চাইলে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেন, আর বোর্ড তার পাশে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

    সবার এখন মূল চাওয়া হচ্ছে, বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, এটি দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দুর্নীতি ও অসদাচরণ বিরোধী জোরালো বার্তা দেবে।