Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই বজ্রসহ বৃষ্টির তাণ্ডব, চিকিৎসা ও সতর্কতা জারি

    ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই বজ্রসহ বৃষ্টির তাণ্ডব, চিকিৎসা ও সতর্কতা জারি

    ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দেশজুড়ে অব্যাহত বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব প্রসারিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবুও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনো প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি আছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর ও খুলনা অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসব তীব্র ঝড় বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোর জন্য ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    তবে দেশের অন্যান্য অংশেও পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বরে সতর্ক সংকেত জারি করতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, अगले পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের ইঙ্গিত আছে।

    আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক শুক্রবার ও শনিবারের জন্য বিস্তারিত পূর্বাভাসে বলছেন:

    – শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়; খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি ঘটতে পারে। ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আছে।

    – রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়; খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দু’এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    – সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু জায়গায়; রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর ও ময়মনসিংহের কিছু স্থানেই মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    – মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়; বরিশাল ও চট্টগ্রামের দু’এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা/ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    – বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত: রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা/ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নরসিংদীতে সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে রাজারহাট (নীলফামারী) ৩৩ মিমি, ময়মনসিংহ ২৭ মিমি, কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ২১ মিমি, রংপুর ও সিলেটে ১৬ মিমি এবং সৈয়দপুরে ৮ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

    তাপমাত্রা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা কিছু অংশে বাড়তে পারে।

    আবহাওয়া পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় মৎস্যজীবী, নাবিক ও নৌপরিবহনে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ সতর্কতা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। চলাচল কালে করণীয় নেয়া ও আপডেট সতর্কবার্তা অনুসরণ করা নাগরিকদের জন্য জরুরি।

  • ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচজনই প্রাণ হারালেন

    ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচজনই প্রাণ হারালেন

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া পরিবারের শেষজন সায়মা (৩৫) শনিবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেলে ওই ঘটনায় দগ্ধ সব পাঁচজনই একে একে প্রাণ হারালেন।

    শুক্রবার (১৫ মে) সকালেই সায়মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

    এর আগে একই ঘটনায় তার স্বামী মো. কালাম (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে কথা (১০) ও ছোট মেয়েটি মুন্নি (৭)কে চিকিৎসা চলাকালীন হাসপাতালে নেওয়া হলেও তারা সবাই মারা গেছেন। তথ্য অনুযায়ী কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ ও মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।

    প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গত রোববার সকালে গিরিধারা এলাকার নয়তলা ভবনের নিচতলায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। বদ্ধ কক্ষে গ্যাস জমে যাওয়ার কারণে ভাড়াটিয়া কালাম লাইটার দিয়ে সিগারেট জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণে তারা দগ্ধ হন।

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি, আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি, আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুলনা জেলা কমিটি ঘোষণা হওয়ার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার একটু বেশি সময়ের মধ্যে জেলা আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের কারণে খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একই সঙ্গে ওই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।

    উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার রাতেই খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে মহানগর ও জেলার এই দুটি কমিটির অনুমোদন জারি করা হয়েছিল।

    অনুমোদিত খুলনা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে ৪৩ জনকে রাখা হয়েছে; তাজিম বিশ্বাস আহ্বায়ক, আরিফুর রহমান আরিফ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, এবং হাবিবুর রহমান খান বিপ্লব সদস্য সচিব। অপর দিকে অনুমোদিত খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে ৩০ সদস্য থাকছে; সেখানে প্রথমে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

    কিন্তু কমিটি ঘোষণার মাত্র কিছু সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাল্টে জেলা আহ্বায়কের পরিবর্তন কার্যকর করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে আবু জাফর এখন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

  • নানা অভিযোগ তোলায় একযোগে পদত্যাগ এনসিপির ২২ নেতার

    নানা অভিযোগ তোলায় একযোগে পদত্যাগ এনসিপির ২২ নেতার

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদ্য ঘোষিত বিভিন্ন পদে থাকা ২২ নেতাই একযোগে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ।

    দলের কেন্দ্রীয় ঘোষণায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক ও আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্য সচিব রেখে ১৬৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই রাতেই ২২ জন নেতা পালাক্রমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    পদত্যাগী নেতারা অভিযোগ করেছেন, কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, কিছু নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি এবং মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন—এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

    রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, ‘‘দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা এই কমিটির পুনর্মূল্যায়ন চাই এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জানানো হবে।’’

    পদত্যাগ করা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, ‘‘আমরা আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার প্রত্যাশা থেকেই এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। নতুন কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে আমরা হতাশ। রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতেও আমরা জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে কাজ করবো।’’

    পদত্যাগকারী নেতাদের তালিকায় রয়েছেন: সৈয়দ এহছানুল হক (যুগ্ম আহ্বায়ক), কামরুল কায়েস (যুগ্ম আহ্বায়ক), মো. সোহরাব চৌধুরী (যুগ্ম সদস্যসচিব), হামিদুল ইসলাম (যুগ্ম সদস্যসচিব), বদিউল আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব), মোহাম্মদ সরোয়ার আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব), ইকবাল মাসুদ (যুগ্ম সদস্যসচিব), রকিবুল ইসলাম (সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক), ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সাদমানুর রহমান চৌধুরী (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ কারিওল মাওলা (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ আকরাম হোসেন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোশাররফ হোসেন রবিন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), নুরুল আবছার সাইবান (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোস্তফা রাশেদ আজগর (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ (দফতর সম্পাদক), মো. নুরুদ্দীন (সমাজকল্যাণ সম্পাদক), মোহাম্মদ বেলাল হোসেন (সহ-প্রচার ও প্রচারণা সম্পাদক), মো. ওমর সাঈদ (সদস্য) ও তাহজীব চৌধুরী (সদস্য)।

    এ বিষয়ে দলের অন্যান্য নেতা বা কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার পর আমরা আপডেট দেব।

  • দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমল

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সঙ্ঘটনটি জানায়, ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারে কাঁচামালের পতন সামনে রেখে বাজুস এসব পরিবর্তন এনেছে বলে জানানো হয়।

    নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। অন্য ক্যারেটভিত্তিক দামগুলো হচ্ছে: ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

    এর আগে বাজুস গত ৭ মে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। সেই সময় ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। ওই পরিবর্তনও সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছিল।

    এই বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে আর ২৯ দফায় দাম কমানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; তাতে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: প্লাস্টিক কার্ড মেটালে রূপান্তরের ফাঁদে পড়বেন না

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: প্লাস্টিক কার্ড মেটালে রূপান্তরের ফাঁদে পড়বেন না

    বাংলাদেশ ব্যাংক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভনে না পড়ার জন্য। সংবেদনশীল কার্ড তথ্য শেয়ার করলে জালিয়াতি ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে।

    বাক্যে বলা হয়েছে, কয়েকটি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সিভিভি (CVV) সহ সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভন দেখাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নয়, ফলে গ্রাহকদের নিম্নোক্ত ঝুঁকি হতে পারে:

    (ক) কার্ড সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে জালিয়াতির সম্ভাবনা,

    (খ) অননুমোদিত লেনদেন সংঘটিত হওয়া,

    (গ) গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতি এবং তথ্য নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটা,

    (ঘ) সামগ্রিক কার্ড ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়া।

    বাংলাদেশ ব্যাংক অনুরোধ করেছে যে, কার্ড সংক্রান্ত কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে—যেমন ব্যাংকের শাখা, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার হটলাইন। কোনো ব্যক্তিগত বা তৃতীয় পক্ষের কাছে ওটিপি (OTP), পিন, সিভিভি বা কার্ড নম্বর ইত্যাদি তথ্য দেবেন না।

    যদি কেউ সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন বা কার্ড সংক্রান্ত অননুমোদিত লেনদেনের সম্ভাবনা দেখতে পান, অবিলম্বে আপনার ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্ড ব্লক/রিপোর্ট করুন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন—যেমন পিন পরিবর্তন ও লেনদেন রিপোর্ট তদারকি করা। আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, তাই কোনো সন্দেহ হলে দ্রুত ব্যাংকের নির্দেশ অনুসরণ করুন।

  • মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালাকে সরস্বতী মন্দির ঘোষণা, নামাজে নিষেধাজ্ঞা

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালাকে সরস্বতী মন্দির ঘোষণা, নামাজে নিষেধাজ্ঞা

    মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় বির্তকিত ভোজশালাকে (Bhojshala) হাইকোর্টই সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইন্দোর বেঞ্চ শুক্রবার যেটি ঘোষণা করেছে, সেই নির্দেশ অনুযায়ী ওই স্থানটিতে কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ই পূজা-অর্চনা করতে পারবেন; মুসলিম সম্প্রদায়ের নিয়মিত নামাজ আদায়ের অধিকার আর বহাল থাকবে না।

    এই রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ—বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থি—পাঁচটি আবেদন ও তিনটি ইন্টারভেনশনের শুনানি শেষে ভোজশালা সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। আদালত জানিয়েছে যে তার সিদ্ধান্ত বানান করতে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগ (এএসআই) কর্তৃক করা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, ঐতিহাসিক দলিল ও প্রাসঙ্গিক নীতিনির্ধারণমূলক সিদ্ধান্ত (আযোধ্যা মামলার মতো) বিবেচনা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভবনের প্রশাসন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এএসআই-র কাছেই থাকবে এবং ১৯৫৮-এর বিধান অনুযায়ী এএসআই সম্পত্তিটি পরিচালনা করবে।

    আদালত উল্লেখ করেছে, ভোজশালা চত্বর ও বিতর্কিত এলাকা ‘‘ভোজশালা ও দেবী সরস্বতীর মন্দির’’ হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদা বহন করে। পাশাপাশি রায় প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, তীর্থযাত্রীদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেবীর পবিত্রতা রক্ষা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে: যদি মুসলিম সম্প্রদায় নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য অন্য কোনও জমি বরাদ্দের আবেদন করে, রাজ্য সরকার সেই আবেদন যথার্থভাবে বিবেচনা করবে এবং আইন অনুযায়ী উপযুক্ত জমি বরাদ্দ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে।

    পশ্চাতে থাকা ইতিহাস ও বিতর্ক: হিন্দু পক্ষের দাবি—রাজা ভোজের (১০১০–১০৫৫) সময়ে এখানে সরস্বতী মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল। মুসলিম পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এটিকে কামাল মওলা দরগা ও মসজিদ হিসেবেই মান্য করে আসছে। এএসআই জানিয়েছিল চতুর্দশ শতকে সুফি সাধক কামালউদ্দিনের সমাধির ওপরই পরে একটি মসজিদ গড়ে ওঠে বলে চিহ্ন পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে আদালতের নির্দেশে এএসআই ৯৮ দিন ধরে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বৈজ্ঞানিক জরিপ করেছে।

    গতকাল পর্যন্ত প্রথা ছিল—প্রশাসনের ব্যাবস্থায় মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়কে পূজার অনুমতি থাকত এবং শুক্রবার মুসলিম সম্প্রদায় নামাজ আদায় করত; বসন্ত পঞ্চমীর উৎসবের জন্যও বিশেষ অনুমতি থাকত। নতুন রায়ের ফলে ওই পুরনো নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে: নামাজের অনুমতি বাতিল হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের সামনে বিকল্প জমির দাবি ও বৈধ তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত একটি উপায় রেখে দেওয়া হয়েছে।

    আইনগত ও প্রশাসনিক প্রয়াস: আদালত রায়ের সঙ্গে লন্ডন মিউজিয়ামে থাকা সরস্বতী মূর্তির প্রত্যর্পণের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে পরীক্ষার সুপারিশ করেছে এবং আবেদনকারীরা এই বিষয়ে বহুবার আবেদন করেছেন—সরকার এই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে, বলেছে আদালত। পাশাপাশি ধার ও ইন্দোর প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি রক্ষার আবেদন জানিয়েছে ও আইন-শৃঙ্খলা জোরদারে নির্দেশ পেয়েছে।

    প্রতিক্রিয়া: হিন্দু পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা আদালতে ২৪ দিনের নিয়মিত শুনানিতে জোরদার প্রমাণ-প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং এএসআই রিপোর্ট, ঐতিহাসিক গেজেটিয়ার ও স্থাপত্যগত তথ্য আদালতের বিবেচনায় প্রাধান্য পেয়েছে বলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের আইনজীবী আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন—তারা শিগগিরই রায়ের বিস্তারিত খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার কথা বলেছেন; একই সঙ্গে তারা এএসআই-এর সমীক্ষা রিপোর্টকেও পক্ষপাতী উল্লেখ করে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছে।

    রায়ের ফলে ভবিষ্যৎ: বর্তমানে ভোজশালা ১৯৫৮ সালের আইনের অধীনে সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে রয়ে গেছে এবং এএসআই তদারকি করবে। মুসলিম পক্ষ ব্যবহার করা হয় এমন ইতিহাস, সরকারি গেজেট ও দীর্ঘদিনের ব্যবহার তুলে ধরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে; এ ব্যাপারে তারা সড়কভিত্তিক বা উচ্চ আদালতে আপিলের পথ নিতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রশাসন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে যাতে এলাকায় উত্তেজনা না ছড়ায়।

    পটভূমি-সংক্ষিপ্ত টাইমলাইনে: ১৯৯৫ সালে প্রশাসন মঙ্গলবারে পূজা ও শুক্রবারে নামাজের সংযোজনী ব্যবস্থা চালু করে; ১৯৯৭–৯৮ সালে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের ইতিহাস আছে; ২০০৩ সালে বর্তমান ব্যবস্থাটি পুনরায় প্রতিষ্ঠা পায়; ২০২২ সালে হাইকোর্টে আপিল দাখিল হয়; ২০২৪ সালে এএসআই ৯৮ দিনের জরিপ করে; আর ২০২৬ সালে এই উচ্চ আদালতের রায় আসে।

    সূত্র: বিবিসি, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি এবং স্থানীয় সংবাদসূত্রগুলোকে বিচার করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

  • মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালার অংশকে ‘সরস্বতী মন্দির’ ঘোষণা, নামাজের জন্য অন্য জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালার অংশকে ‘সরস্বতী মন্দির’ ঘোষণা, নামাজের জন্য অন্য জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ

    মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের প্রায় হাজার বছরের পুরনো ভোজশালা—যেখানে কামাল মাওলার দরগা ও মসজিদ রয়েছে—সংশ্লিষ্ট অংশকে সরস্বতী মন্দির বলে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই ভার্চুয়ালে আদালত মুসলিম পক্ষকে রাজ্য সরকারের কাছে নামাজের জন্য ভিন্ন জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    ভোজশালা-কামাল মাওলার দরগা ও মসজিদকে ঘিরে বহু বছর ধরেই তীব্র বিতর্ক চলে আসছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো দাবি করেছিল, এখানে গণরাজ্যকালের রাজা ভোজের সময় নির্মিত প্রাচীন সরস্বতী মন্দির ছিল; অপরদিকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ওই স্থাপত্যটিকে কামাল মাওলা মসজিদ বলে মর্যাদা দিয়েছেন।

    রাজ্য সরকার আগে থেকেই বিভেদ রোধে ব্যবস্থা নিয়েছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজো ও শুক্রবার মুসলিমদের নামাজের অনুমতি এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিন দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল। ২০২২ সালে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, যার মধ্যে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ রয়েছে, মসজিদে মুসলিম নামাজ থামাতে আদালতে আবেদন করে।

    এ দাবি পেশের পর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-কে ওই এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেয়। এএসআই ৯৮ দিনের সমীক্ষা করে আদালতে প্রায় দু’হাজার পাতার একটি প্রতিবেদন জমা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত অংশের নীচে ও আশপাশে পারমার বংশের আমলে নির্মিত বড় এক কাঠামোয়ের অবশেষ রয়েছে।

    শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ হিন্দু পক্ষের পক্ষে রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও ঐতিহাসিক স্রোত বিশ্লেষণে পুনরাবৃত্তভাবে দেখা গেছে যে ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও থেমে যায়নি এবং ঐতিহাসিক গ্রন্থে সেই এলাকায় রাজা ভোজের শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমের উল্লেখ আছে—এতেই অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    আদালত জানিয়েছে, ভোজশালার মন্দির ঘোষিত অংশের সংরক্ষণ ও রক্ষণের তত্ত্বাবধান করবে এএসআই এবং এই বিষয়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। হিন্দু আবেদনকারীরা লন্ডনের একটি জাদুঘর থেকে সরস্বতীর মূর্তি এনে ভোজশালায় স্থাপন করতে চেয়েছেন; কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত একাধিক আবেদন জমা পড়েছে এবং আদালত বলেছেন, কেন্দ্র সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।

    বিচারপতিরা মুসলিম পক্ষকে নামাজ পড়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনের কাছে বিকল্প স্থান চেয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—যাতে ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানো যায়। অপরদিকে মুসলিম পক্ষ এবং তাদের সমর্থকরা আদালতের রায় ও এএসআই প্রতিবেদনে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে।

    ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক তমাম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; বিচারিক সিদ্ধান্তের পর আলোচনার জোরও বেড়েছে। মামলার প্রতিবেদন ও রায়ের সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার।

  • শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে

    শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে

    খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের আহ্বানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং বাংলাদেশবিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ডাকবাংলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বক্তারা ঘটনাগুলিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তীব্র নিন্দা জানান।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নিরীহ মুসলমান জনগোষ্ঠীর জানমাল, ইবাদতঘর ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর ধারাবাহিক হামলা চলছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বাড়িঘর ভাঙচুর, মসজিদে আগুন দেয়া ও সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, শুভেন্দু অধিকারীর কিছু মন্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার উচ্চকিত ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই তারা শুভেন্দু অধিকারীকে জনসমক্ষে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানান এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদে নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ প্রস্তাব গ্রহণের দাবি তোলেন।

    সমাবেশে আরো দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; তা না হলে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও বৃহত্তর প্রতিবাদী কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন। বক্তারা বলেন, ‘‘সংখ্যালঘুদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না’’—ইতিহাসই তা প্রমাণ করে। এছাড়া তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ইসলামী বিশ্বের কাছেও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ডাকবাংলা মোড় থেকে শুরু হয়ে নিউ মার্কেট সংলগ্ন বায়তুন নূর মসজিদ কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

    অনুষ্ঠানটি খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা নূর সাঈদ জালালী, মাওলানা হেকমত আলী, শেখ মোঃ নাছির উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মুফতি আব্দুস শাকুর। নগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও এতে অংশ নেন।

    এই সমাবেশের পূর্বে বুধবার একটি জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা মাওলানা মোশতাক আহমদের সভাপতিত্বে হয় এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা গোলাম কিবরিয়া। উক্ত সভা ও সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত করা হয় এবং আলেম-উলামারা মুসলিম উম্মাহর ওপর চলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • বাগেরহাটে জমি বিবাদে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাই নিহত

    বাগেরহাটে জমি বিবাদে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাই নিহত

    বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি বাইনেবাড়ি এলাকায় গভীর রাতে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মো. আম্মার (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১টায় ঘটনাটি ঘটে।

    নিহত আম্মার ওই এলাকার এ এইচ এম তাসলিম মাহমুদের ছেলে। অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আব্দুল্লাহ (২৩) নিহতের মামাতো ভাই এবং সাহাপাড়া এলাকার মাহমুদ উন্নবীর ছেলে।

    পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল্লাহ ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে datangেন। রাতের খাবার শেষে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাই বাড়ির দোতলায় একসঙ্গে ঘুমান। গভীর রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দোতলায় ছুটে গেলে সেখানে আম্মারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়া দেখতে পান। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তার কাছ থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: শামীম হোসেন বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল—এই কারণেই ঘটনার পেছনে বিবাদ থাকতে পারে। তিনি জানান, নিহতের বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।