Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ইডেন শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: গায়ক জাহিদ অন্তুর জামিন মঞ্জুর

    ইডেন শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: গায়ক জাহিদ অন্তুর জামিন মঞ্জুর

    রাজধানীর গুলশানে ইডেন কলেজের একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে তার সাবেক প্রেমিক এবং জনপ্রিয় গায়ক জাহিদ অন্তু তাকে যৌন নিপীড়ন ও হুমকি দিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জাহিদ অন্তুর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই জামিন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার জাহিদ অন্তুকে গ্রেপ্তার করার এক দিন পরে, আদালত তাকে কারাগার থেকে কিছু সময়ের জন্য জামিনে ছেড়ে দেন। এ দিন সকালে গুলশান এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঢাকার টিএসসিতে গিটার ক্লাসের সময় জাহিদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিন্তু কিছু সময় পরে সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়।

    ২৭ মার্চ সন্ধ্যার সময় একটি পণ্যের ফটোশুটের নাম করে জাহিদ ওই শিক্ষার্থীর গুলশান বাসায় যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর, তিনি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করেন। বাধা দিলে জাহিদ তাকে মারধর করেন, যার ফলে তার মুখ, গলা ও মাথায় আঘাত লাগে। এরপর শিক্ষার্থী কৌশলে বাসা থেকে বেরিয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী গুলশান থানায় ৩০ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

    উল্লেখ্য, জাহিদ অন্তু একজন বাংলাদেশি তরুণ গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। তিনি কলকাতার পিবি একাডেমিক স্কুল ভেন্যুতে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ প্রতিযোগিতার প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অংশ নিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান। মূলত তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গান ও ভিডিও প্রকাশের জন্য জনপ্রিয়।

  • রাশমিকা দিলেন সুখবর: ২ থেকে ৩ হতে চলেছেন!

    রাশমিকা দিলেন সুখবর: ২ থেকে ৩ হতে চলেছেন!

    ভারতের জনপ্রিয় তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিবাহ হয়েছে কয়েক মাস আগে। এ নিয়ে বর্তমানে তারা সামাজিক মাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট শেয়ার করেছেন, যা দ্রুতই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভক্ত ও নেটিজেনদের ধারণা, হয়তো এই দম্পতির ঘরে নতুন অতিথি আসতে চলেছে।

    সম্প্রতি রাশমিকা তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়, মাঝখানে একজন পুরুষ এবং একটি নারীর উপস্থিতি। পাশাপাশি একটি সূর্যমুখীর মতো কার্টুন চরিত্রও দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা, ‘নাও ইটস আস থ্রি’, অর্থাৎ ‘আমরা এখন দুই থেকে তিন’। এর সাথে থাকছে একটি ভালোবাসার ইমোজি।

    এই পোস্টের পর থেকেই ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ উঠে গেছে। অনেকের ধারণা, তারা হয়তো বাবা-মা হতে যাচ্ছেন। তবে এখনো পর্যন্ত এই দম্পতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে সম্পন্ন হয় তাদের জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান। বিবাহের এক মাস পূর্ণ হওয়ার পর, তারা অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে পূজা দিয়েছেন। আর এই সময়ে রাশমিকার এই রহস্যময় পোস্ট প্রকাশ পায়।

    কিন্তু শুধুমাত্র প্রশংসা নয়, কিছু নেতিবাচক মন্তব্যও দেখা গেছে কমেন্ট সেকশনে। কিছু ভক্ত আলিয়ার ভাটের দৃশ্যের সঙ্গে রাশমিকার ব্যক্তিগত জীবন তুলনা করেন। তবে পোস্টটিতে ‘টেরিবলি টাইনি’ নামে একটি ক্রিয়েটিভ অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করার কারণে অনেকের মনে হচ্ছে, এটি তাদের নতুন প্রজেক্ট বা কাজের পদক্ষেপের অংশও হতে পারে।

  • সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ ঘোষণা

    সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ ঘোষণা

    ঈদের আনন্দের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহ প্রেমীদের জন্য সতর্কবার্তা এসেছে। রাজধানীর জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন ব্লকবাস্টার সিনেমাস ঘোষণা দিয়েছে যে, ৫ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর তাদের সব সিনেমার শো বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত অগণিত দর্শকের জন্য হতাশাজনক হলেও, এটি উচ্চতর সরকারি নির্দেশনা মেনে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জরুরি প্রতিবেদনের কারণে এই গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার পরে দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকার বিধান কার্যকর হওয়ায় সিনেমা হলের প্রধান দর্শকপ্রিয় শোগুলো আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহগুলো সন্ধ্যার পরের সময়টিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই সময়ের শো বন্ধ থাকায় দর্শকরা অনেকেই উদ্বিগ্ন ও হতাশ হচ্ছে, বিশেষ করে যারা ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা। ব্লকবাস্টার সিনেমাসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যার পরের জন্য টিকিট কাটা দর্শকদের অগ্রিম অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে এটাও জানিয়েছে, অন্যান্য সময়ের শো চালু থাকবে। একই পরিস্থিতির কারণে দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও এই সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে। তাদের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, তারা সরকার নির্দেশনা পর্যালোচনা করছেন এবং ৫ ও ৬ এপ্রিল সন্ধ্যার পর সব শো স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হবে। উল্লেখ্য, অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করায় দর্শকদের অর্থ ফেরত দুরূহ নয়। সূত্রে জানা যায়, শুধু এই দুই চেইন নয়, দেশের অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহগুলোও অনুরূপ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সিনেমা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • ‘ধুরন্ধর ২’: ১৭ দিনে কত আয়, ধরাছোঁয়ার বাইরে ব্লকবাস্টার

    ‘ধুরন্ধর ২’: ১৭ দিনে কত আয়, ধরাছোঁয়ার বাইরে ব্লকবাস্টার

    বলিউডের স্পাই থ্রিলার ছবি ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তির ১৭ দিন পার করতেই বক্স অফিসে দারুণ সফলতা দেখিয়েছে। স্যাকনিল্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি মুক্তির তৃতীয় শনিবারে প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম সপ্তাহ শেষে ছবিটির সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭४.১৭ কোটি টাকার বিশাল রেকর্ডে। এর পরের সপ্তাহগুলোতেও আয় অব্যাহত থাকায়, দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা যোগ হয়। এখন পর্যন্ত মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি, এবং ধারাবাহিক জনপ্রিয়তার কারণে মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই এটি ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করবে। এই ছবিটি এখন পর্যন্ত ‘আরআরআর’, ‘কোলকি ২৮৯৮ এডি’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’, ‘স্ত্রী ২’ ও ‘অ্যানিমেল’ এর মতো ব্লকবাস্টার ছবির লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে শীর্ষ তালিকায় ওঠার জন্য এখনও কিছু রেকর্ড ভেঙে দিতে হবে, যেমন ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ ও ‘পুষ্পা ২: দ্য রাইজ’। প্রথম পর্বে রণবীর সিং হুমাজা নামে একজন ভারতীয় গুপ্তচরের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। দ্বিতীয় কিস্তিতে পুলিশ অফিসার জাসকিরাত সিং রাঙ্গির উত্থান ও তার গল্প দেখানো হয়েছে, কী পরিস্থিতিতে সে দুর্ধর্ষ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিতে রূপান্তরিত হয়। আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং ছাড়াও অর্জুন রামপাল, মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও সারা অর্জুন। এ ছাড়া দানিশ পান্ডো ও উদয়বীর সান্ধুর মতো শিল্পীর পাশাপাশি রয়েছে অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের ক্যামিও, যা একটি বিশেষ চমক হিসেবে তৈরি।

  • কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার

    হত্যাচেষ্টা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টান্ট রাইডার আরএস ফাহিমের গ্রেপ্তারি নিশ্চিত হয়েছে। আজ সোমবার, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখান। শুনানি চলাকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ফাহিম নিজে, পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষের প্রভাবশালী আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তার গ্রেপ্তারির পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয় এবং পুলিশ প্রহরায় তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

    এর আগে, রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল চারটার সময় রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও কিছু শিক্ষার্থী তাকে আটক করে। পরে তাকে শাহ আলী থানায় নেয়া হয় এবং পরে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ গুলশান থানায় মো. ইমরান নামে এক ব্যক্তির হত্যাচেত্রের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়।

    সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের Biccha এলাকা থেকে মিছিল করছিলেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সেখানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার ফলশ্রুতিতে মাসুদ হোসাইন নামে একজন আহত হন। তিনি পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং বুকে ইনফেকশন ধরা পড়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

    অন্যদিকে, গত বছরের ২৪ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বেসরকারি টেলিভিশনের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক হত্যাচেষ্টা মামলায় জড়ানো হয়। এই ঘটনা তাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলে। গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনের সময় তার নাম বারবার আলোচনায় আসে, যেখানে তিনি বিভিন্ন স্টান্ট ও স্টাইলের মাধ্যমে জনমত গঠন করেছেন। এই আন্দোলনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসছে।

  • বোর্ড সভায় আরও এক পরিচালক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

    বোর্ড সভায় আরও এক পরিচালক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও পরিচালক পদে退াগের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শনিবার ডিপ্লোম্যাটিক ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফাইয়াজুর রহমান। তিনি বোর্ড সভা শেষে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। ফাইয়াজুর রহমান তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অন্য কোনও জটিলতা বা কারণ নেই, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অজুহাতেই তিনি পদ ছাড়ছেন। তিনি গত বছরের অক্টোবরে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন। তার এই পদত্যাগের ফলে বোর্ডে পদত্যাগকারী পরিচালকের সংখ্যা এখন চারজন। এর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল, বিসিবির পরিচালক আমজাদ হোসেন ও ইশতিয়াক সাদেক নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এবারে আরও একজন পরিচালক তার পদ থেকে প্রত্যাহার করেছেন। সব পরিচালকেরই মূল কারণ ব্যক্তিগত কারণ বললেও, বিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পদত্যাগপত্র গ্রহণের ঘোষণা দেয়নি।

  • শিরোপা জয় নিয়ে বাংলার যুবারা ঘরে ফিরল

    শিরোপা জয় নিয়ে বাংলার যুবারা ঘরে ফিরল

    উন্নত অক্ষরে বাংলাদেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিল দেশের নতুন সাহসী ফুটবল তারকা দলের জন্য। অনূর্ধ্ব-২০ দলের ইতিহাসে এক অন্যতম সাফল্য হিসেবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত থেকে তারা ফিরলেন দেশের গর্বের ম্যাচধারীরূপে। এই খেতাবের গৌরব নিয়ে তারা দেশে ফিরেছেন ছাদখোলা বাসে করে, যেখানে দেশের মানুষ তাদের স্বাগত জানাচ্ছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস এবং熱ুর সাথে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাল-সবুজ পতাকার মাঝে ট্রফিসহ চ্যাম্পিয়নরা অবতরণ করেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ—সবাই একসঙ্গে প্রস্তুত ছিলেন এই আনন্দ উদযাপনের জন্য। প্রতিমন্ত্রী ও ক্রিকেটের কিংবদন্তি আমিনুল হক নিজে উপস্থিত থেকে দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান তাঁর সাথে ছিলেন। একদিকে রাজধানীর রাজপথে শত শত ফুটবলপ্রেমী ভিড় করে থাকেন, অন্যদিকে বাঙালির মুখে এখন জয়োল্লাস। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম পুরুষ দলের জন্য ছাদখোলা বাসের সংবর্ধনা দেওয়া হলো। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হাতিরঝিলের দিকে যাত্রা শুরু করে বিজয়ী দলের ফুটবলাররা। সেখানে তারা সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পুরো এলাকা এখন আলোকসজ্জায় আচ্ছন্ন, ভিড় দেখছে রঙের ঝলক। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো পতাকায় মোড়া এবং পোস্টারে সজ্জিত, যেখানে জয়ী এই তরুণরা দেশের গৌরবের গল্প বলে যাচ্ছেন। বাফুফের আয়োজনে অ্যাম্ফিথিয়েটারে এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে, যা আরো অনেক স্মরণীয় করে রাখবে দেশের ফুটবল ইতিহাসকে।

  • আসিফ নজরুলকে নিয়ে বিসিবির বড় বিবৃতি

    আসিফ নজরুলকে নিয়ে বিসিবির বড় বিবৃতি

    বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিতর্কিত অধ্যায়ের শেষ মুহূর্তে পৌঁছানোর উপলক্ষ্যে বিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টতা জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০২৬ সালে ভারতের পরিবর্তে কোথায় খেলবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল, তবে এখন বোর্ড ও খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে একান্তই সত্য কথাগুলো বলা হলো। গতকাল শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির পরিচালকরা বললেন, ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে অংশ নিতে চেয়েছিল, কিন্তু তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত তার পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে আলোচনার সুযোগ হয়নি।

    এর আগে কল্পনাপ্রবাণ ঘটনার সূচনা হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে। আইপিএল ২০২৬-এ এই পেসারকে কেনা হলেও হঠাৎ করে তাকে রিলিজ করার সিদ্ধান্তে দেশে ও বাইরেও আলোচনা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সরকার নিরাপত্তার অজুহাতে ক্রিকেটের এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই ইস্যুতে সবচেয়ে বেশী সক্রিয় ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, যিনি প্রথমে দাবি করেছিলেন যে ক্রিকেটাররা ভারতে যেতে চায়নি। পরে বিসিবি কর্তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তাদের জানা বা আলোচনা করার সুযোগ হয়নি।

    বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমরা পরিষ্কার সিগন্যাল পেয়েছি, আলোচনা হয়নি।’ আবার নাজমুল আবেদিন ফাহিম জানান, মুস্তাফিজের ইস্যুর পর বোর্ড প্রথমে কিছু চিন্তা করেছিল। তারা আশা করছিল, ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় আশ্বাস ও সমঝোতা হবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত আসায় বোর্ডের আর কোনো বিকল্প রিসোর্স ছিল না।

    ফাহিম আরও জানান, ‘২৩ তারিখে বিপিএল ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ম্যাচগুলো দেরিতে শেষ হয়, ফলে আমাদের ঢাকায় ফিরে আসতে হয়। আমাদের সামর্থ্য ছিল আরও দুই দিন সময় নিয়ে চট্টগ্রামে খেলা চালানোর, কিন্তু সেটা করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু ছাপিয়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত অবরুদ্ধ করায় আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না। বিশ্বকাপে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের মতামত গুরুত্ব পায়নি।’

    এছাড়াও মোখসেদুল কামাল বাবু স্পষ্টভাবে বলেন, ‘বোর্ড অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে ছিল। আমাদের কেউই পরিকল্পনা করেননি যে, কেউ খেলবে না। সবাই আশা করছিলাম। তবে, বিসিবির দায়িত্বশীলরা জানিয়ে দেন, কোথাও থেকে কোনো আলোচনা বা সম্মতি আসেনি। এভাবেই সরকারের সিদ্ধান্ত জয়লাভ করে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যে ভারত থেকে অন্য কোথাও সরানোর কথা থাকলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • আসিফ মাহমুদ কেন তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি, ব্যাখ্যা দিলেন

    আসিফ মাহমুদ কেন তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি, ব্যাখ্যা দিলেন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গত মাসে গঠিত হয়েছিল একটি স্বচ্ছন্দ্য তদন্ত কমিটি, যা দেশের বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে। তবে এ বিষয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, তদন্ত কমিটির সামনে আসেননি।

    আসিফ মাহমুদ তার স্পষ্ট ব্যাখা দিয়েছেন কেন তিনি তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেননি। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আমি কেন বিসিবি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দিইনিঃ প্রথমত, এই কমিটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন কোন বিষয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে, যেখানে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের পরবর্তী বোর্ডে সদস্যপদ পাওয়ার লোভ দেখাচ্ছেন এবং লোভে রাজি না হলে intimidation করে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’

    আসিফ আরও যোগ করেন, ‘উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয়ের কারণে আমাকে তদন্তের জন্য সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। আমি নৈতিকভাবে এবং আইনি দিক থেকে এই ধরনের আদালতবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারব না। তাই আমি এই কোনও তদন্তের সাক্ষাৎকারের নোটিশে সাড়া দিইনি।’

    প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ, এক সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল এনএসসির মাধ্যমে। মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এই কমিটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দেয়, যা দেশের ক্রিকেটে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

    গত বছর ৬ অক্টোবর, ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের কিছু সংগঠক বিসিবির নির্বাচন বর্জন করে। এর ফলে দেশের ক্লাব ক্রিকেটের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। հատկապես, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনো মাঠে গড়ানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটপ্রেমীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।

  • সাফ চ্যাম্পিয়নরা পাবেন মাসে লাখ টাকা করে বেতন

    সাফ চ্যাম্পিয়নরা পাবেন মাসে লাখ টাকা করে বেতন

    বাংলাদেশের যুব ফুটবল দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করলো। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জনের পর, তারা শনিবার (৪এপ্রিল) রাতে দেশে ফিরলে তাদের জন্য অনুষ্ঠিত হয় উষ্ণ সংবর্ধনা। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে। সেখানে এক জমকালো অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তাঁদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ঘোষণা করেন, চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক ফুটবলারের জন্য যথাক্রমে ১ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকানগরীর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা আসে। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি ছিল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের মুখ থেকে। তিনি জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের বিস্তারিত ঘোষণা হবে राष्ट्रीय ক্রীড়া দিবসে, যেখানে ফুটবলাদের জন্য বিশেষ কিছু অপেক্ষা করছে। অবশেষে, আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবসে সুখবর আসলো। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ী ফুটবলারদের জন্য প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ঘোষণায় তরুণ ফুটবলাদের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা তাদের স্বপ্নের পথকে আরও উজ্জ্বল করবে।