Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত

    তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয়। এই বৈঠকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদীয় দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এর আগে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে তারেক রহমানসহ অন্য বিএনপি সংসদ সদস্যরা নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি নানা অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রথমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তৃতা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সম্পর্কে দলীয় সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। শপথ নেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন।

    শপথের পর বিএনপির সংসদীয় দল একটি বৈঠক করে। এরপর বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

    ৩ বছর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি), ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো সরকারে আরোহণ। অন্যদিকে, ৬৮টি আসনে নির্বাচিত হয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী, যাদের সংসদীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হতে চলেছেন।

    সব কিছু পরিকল্পনা মূলকভাবে এগুলো হলে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে।

  • কুমিল্লায় প্রবাসীর পরিবারের তিনজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

    কুমিল্লায় প্রবাসীর পরিবারের তিনজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

    কুমিল্লার হোমনায় এক প্রবাসীর পরিবারের তিনজনের gruesome হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ পেয়েছে। জহির নামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী, ছেলে ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকা দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ সকালে তাদের নিজ বসতঘর থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে, উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের মণিপুর এলাকায়। প্রতিবেশীরা জানান, নিহতরা হলো সুখী আক্তার (২৫), যিনি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী; তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে হোসাইন এবং জহিরুলের ভাই ছাত্তার মিয়ার ছেলে জুবায়ের (৬)। রবিবার রাতে তারা একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন বলে জানানো হয়। হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই ছাত্তার প্রবাসী। প্রবাসী স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ এই পরিবারটি শান্তিপূর্ণভাবে থাকতেন। সকালে ঘুম থেকে না উঠায় স্থানীয়রা ডাকাডাকি করে কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া না গেলে জানালা দিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে তিনজনের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ড রাতে ঘটে গেছে, তবে কী কারণে এর পেছনে এই নিষ্ঠুরতা তা তদন্তেরতো অনড়। এদিকে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটির পেছনের রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে, এবং সব দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • বিএনপি গঠন করবে নতুন ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা

    বিএনপি গঠন করবে নতুন ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা

    বিএনপি এখন নতুন একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্য থাকবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রায় বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ করবেন।

    তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ (টেকনোক্রেট), ও খলিলুর রহমান (টেকনোক্রেট)।

    অপরদিকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন— এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম ও আমিনুল হক।

    নতুন এই মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক শক্তি আরও বাড়াতে চায় এবং দেশের বিভিন্ন স্তরে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা করবে।

  • মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন যারা নির্বাচিত হন

    মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন যারা নির্বাচিত হন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পরই জাতীয় সংসদে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা। আজ সকাল থেকেই তারা শপথ গ্রহণ করেছেন, এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাদের জন্য নতুন মন্ত্রিসভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে। এর মধ্যেই জানা গেছে, কিছু ছাড়া আরও কিছু নেতাকে শপথে অংশগ্রহণের জন্য ডাক পাওয়া হয়েছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু মূলত মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন।

    অপরদিকে, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনও শপথ গ্রহণের জন্য ডাক পেয়েছেন বলে তিনি নিজেই গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    শপথের দিন, টেলিফোনের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন নেতা শপথের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ফোন পেয়েছেন।

    এছাড়া, পরবর্তী সময়ে শপথ নিতে প্রত্যাশিত বেশ কিছু নেতার নাম জানা গেছে, যেমন নুরুল হক নুর, বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম, যিনি বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী, এবং কিশোরগঞ্জ–৬ আসনের শরীফুল আলম, যিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে জানা গেছে।

    এছাড়া জামালপুর–১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন।

    সাবেক ফুটবলার ও প্রার্থী আমিনুল হকও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, যদিও তিনি ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হারেছেন।

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথের জন্য আরও ফোন পেয়েছেন পঞ্চগড়–২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন, যিনি জাতীয় নির্বাহী পরিষদের পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব।

    তিনি ছাড়া, হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন টেকনোক্রেট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

    কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদও মন্ত্রী হবেন। তিনি এই আসনে ছয় বার নির্বাচন করেছেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন।

    সিলেট-৪ আসনের বিএনপি সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীও শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।

    নবগঠিত মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের।

    অতিরিক্ত, বরিশাল–১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনও ডাক পেয়েছেন।

  • নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ শুরু করলেন নাসিমুল গনি

    নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ শুরু করলেন নাসিমুল গনি

    নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের জনস্বার্থে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানান ড. নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে কাজ করেছেন, সেভাবেই ভবিষ্যতেও কাজ করবেন। সোমবার সচিবালয়ে অপারেশনাল দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি এই কথা জানান।
    প্রথমে দুপুরে এ পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
    দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি সচিবালয়ের নতুন ভবনে এসে উপস্থিত হন। তখন গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাসিমুল গনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আনন্দিত ও গর্বিত এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পেরে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আমরা একসাথে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। আমি জানি, আমি অতীতে যেমন কাজ করেছি, তেমনি দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
    তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় যোগদান করছেন, যা আগামীকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্যের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। সোমবার সকালে দুই দফায় সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, এর পর বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তবে মূল প্রক্রিয়াটি অন্য কোনও নতুনায়নের মতো নয়।’
    উল্লেখ্য, ট্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আবদুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। তার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে আনা হয় প্রধান উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে, যিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দায়িত্বের পাশাপাশি এই নতুন দায়িত্ব পালন করবেন।
    নাসিমুল গনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তা, বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার। তার মেধা তালিকায় তিনি ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে তিনি সহকারী কমিশনার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর তিনি ভূমিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব, ইরাকের বাগদাদের বাংলাদেশের প্রথম শ্রম সচিব, বিভিন্ন জেলা প্রশাসক, উপ-পরিচালক, যুগ্ম-পরিচালক, উপসচিব, মহাপরিচালক, অতিরিক্ত সচিব এবং রাষ্ট্রপতির সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন।
    বর্তমানে, তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন এবং দেশের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের কল্যাণে অবিচল থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • বিএনপি নেতাদের বাসায় তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

    বিএনপি নেতাদের বাসায় তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

    রোববার সন্ধ্যা ৮টার পর রাজধানীর মগবাজারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নাহিদ ইসলাম নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কের বাসায় পৌঁছান। এই সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন, সারজিস আলম, বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খানসহ অন্য নেতা নেত্রীরা।

    এর আগে, একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় তিনি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরা আবাসিক কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত করেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই আগমন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। সংলাপ, দায়িত্বশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন কালো সৃষ্টির আশাবাদ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির।

    প্রথমে শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যত দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা কামনা করেন। তারেক রহমান রোববার বিকেলে নিউজ সেলে আরও বলেন, আগামীতে দেশের জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

    নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ মোর্চার সঙ্গে, যার মধ্যে রয়েছে এনসিপি। নির্বাচনে সরকার গঠন করতে ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভ করেছে বিএনপি, যা মোট ২০৯টি আসনে পৌঁছেছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও মিত্র দলগুলো ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধীদলে যাচ্ছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে।

  • নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রথম, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা দ্বিতীয়, এনসিপির শাপলা কুঁড়ি তৃতীয়

    নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রথম, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা দ্বিতীয়, এনসিপির শাপলা কুঁড়ি তৃতীয়

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে দেখা গেছে, বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে মোট ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদের মোট ২৯০টি আসনে প্রার্থী ছিল। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট, তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।

    নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, তৃতীয় স্থান দখল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ৩.০৫ শতাংশ ভোট। উল্লেখ্য, এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ঐক্যের অংশ।

    গত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে মাত্র ০.৮৯ শতাংশ ভোট। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।

    চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোট ২৫৭ আসনে প্রার্থী দেয়, তাদের ভোটের হার ২.৭০ শতাংশ। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হাতে পাখা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২.০৯ শতাংশ।

    অন্য দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, মার্কসবাদী বাসদ, গণফোরাম এবং নাগরিক ঐক্যর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে।

  • নাহিদ-সারজিসকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

    নাহিদ-সারজিসকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম ও তার সহযোগী সারজিস আলমের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকালে দেখা যায়, তারেক রহমান নাহিদ ও সারজিসকে উষ্ণভাবে আলিঙ্গন করে বুকে জড়িয়ে ধরেন। রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসায় এ মিলনমেলা হয়। মূলত, নির্বাচনের পর দেশে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির এবং দলের অন্য নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, এনসিপির পক্ষে সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক সারজিস আলমসহ আরও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে এবং দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন। নিশ্চিত করেন বিএনপির কেন্দ্রিয় মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, আজ সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার কাছে উপস্থিত হবেন।

    এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বাসায় যান। পরে তিনি পৌঁছেন বেইলি রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায়। এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সাথে এর আগে তাঁর সাক্ষাতের খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই সফরগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় কার্যক্রমের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে বলে ধারণা করছে।

  • তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়ছেন

    তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়ছেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকায় ঢাকা-১৭ আসন থেকে এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন। আইন অনুযায়ী, একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যক্তির জন্য একটি আসনই ধরে রাখা সম্ভব, আর অন্য আসনগুলো স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আইনের দৃষ্টিকোণে, একজন প্রার্থী যদি একাধিক আসনে নির্বাচিত হন, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি একটি আসন স্থির করে অন্যগুলো ছেড়ে দিতে বাধ্য। আরপো (অভ্যন্তরীণ প্রতিপত্তি আদেশ) অনুযায়ী, ধারা ১৯(১)(খ) অনুসারে, একই সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়া এবং নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। এছাড়াও, ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, নির্বাচিত হয়ে থাকলে গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে কোন আসনে তিনি থাকতে চান।

    অধিনিষ্ট সময়ে এই সিদ্ধান্ত না জানালে নির্বাচন কমিশন আইনের দৃষ্টিকোণে ব্যবস্থা নিবে এবং অবশিষ্ট আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করতে পারে।

    ঢাকা-১৭ আসনের ফলাফল অনুযায়ী, তারেক রহমান ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮,৩০০ ভোট। ফলে, তিনি ৪,৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। মোট ভোটার ছিলেন ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন, আর ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৮৮টি। বাতিল হয় ২,২১১ ভোট, ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৭৭।

    অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফলে, বিএনপি প্রধান তারেক রহমান প্রায় সাড়ে দুই লাখ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।