Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • রমজানের ছুটি শেষে পরবর্তী ১০টি শনিবার খুলবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    রমজানের ছুটি শেষে পরবর্তী ১০টি শনিবার খুলবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারিভাবে জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের ছুটি শেষ হওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে ফিরেই পরবর্তী ১০টি শনিবার বিদ্যালয় খুলে পাঠদান চালাতে হবে। এই নির্দেশনা জানিয়েছে অধিদপ্তর একটি অফিস আদেশে।

    অফিস আদেশটি মঙ্গলবার প্রাক-প্রাথমিক ও একীভূত শিক্ষাবিভাগের উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষর করেছেন। আদেশে বলা হয়েছে, রমজানে ঘোষিত ছুটির ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত শিখন ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তা পূরণ করতে এবং নির্ধারিত পাঠপরিকল্পনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অফিস আদেশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উল্লেখ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যে, ছুটি শেষে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পর পরবর্তী ১০টি শনিবার নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, পাঠপরিকল্পনা পূরণ ও লার্নিং লস কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালকদের সমন্বয়ে এই অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে হবে।

    জানানো হয়েছে, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ মার্চ থেকে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়েছিল। ছুটির পর শ্রেণি কার্যক্রম ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শুরু করার কথা রয়েছে। অতএব ওই তারিখের পর শুরু হওয়া শ্রেণিক্রমের সঙ্গে মিলিয়ে পরবর্তী ১০টি শনিবারে অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনা করবে বিদ্যালয়গুলো।

    অফিস আদেশটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও চলতি পাঠক্রম যাতে সম্প্রসারিতভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সহায়তা প্রদানের জন্য বলা হয়েছে।

  • ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি নিয়ে গেল এনআইএ

    ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি নিয়ে গেল এনআইএ

    বহুল আলোচিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার রাতেই দিল্লিতে নিয়ে গেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা—জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। কলকাতা থেকে বিমানে করে তাদের দিল্লি নেওয়া হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার সম্ভাব্যভাবে এনআইএ-র বিশেষ আদালতে উপস্থিত করা হতে পারে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনআইএ গত ২২ মার্চ কলকাতার বিধাননগর আদালতে দুই অভিযুক্তকে জেরা করার আবেদন করে। আদলত প্রথমে সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু ২৩ মার্চ সকালে এনআইএ নতুন একটি পিটিশন জমা দিয়ে জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে এবং সেখানেই অভিযুক্তদের জেরা করাতে তারা অনিচ্ছুক।

    এই নিরাপত্তা মাথায় রেখে আদালত অভিযুক্তদের দিল্লিতে নেওয়ার অনুমতি দেন। সেই সিদ্ধান্তের পর সোমবার রাস্তায় নয়—রাতেই ফয়সাল ও আলমগীরকে কলকাতার拘 থেকে বিমানে তুলে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার বিচারক নিশান মজুমদার তাদের ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    আদালত থেকে বেরোনার সময় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিকভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন যে, সিসিটিভি ফুটেজে গুলি চালানোর কোনো দৃশ্য নেই এবং ঘটনাকালে তিনি বাংলাদেশে ছিলেন—তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সিসিটিভিতে তাকে দেখা গেছে; কেন তিনি ভারতে এসেছিলেন সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

    অন্যদিকে, একই মামলায় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকেও আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে আগামী ৩ এপ্রিল পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।

    ঘটনার তদন্ত এখন এনআইএ-এর তত্ত্বাবধানে এবং দিল্লিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের কথা অনুযায়ী, তদন্তকারীরা নিরাপত্তা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

  • জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি পার্টি এবং দেশীয় রাজনীতির নানা দিক তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মনিরुल হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর এক সময় একটি মেধাবী শ্রেণি গড়ে উঠেছিল, তারা জাসদ গঠন করেছিল। কিন্তু বাড়াবাড়ি করার ফলেই দেশের ক্ষতি হয়েছে, জাতির ক্ষতি হয়েছে—তারাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখানোর প্রার্থনা করেন।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকা ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যৌথভাবে কাজ করা হয়েছিল। অনেকেই তখন জামায়াতের সঙ্গে কাজ করার বিরোধিতা করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে রাজনীতিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই আজ যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের অনুরোধ, দেশের রাজনীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানটুকু স্মরণ করাটাও জরুরি।

    সংসদীয় রাজনীতির পরিবর্তন নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এই সংসদে দাঁড়িয়ে আমি ভয় পাই—আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম। আজকের বিরোধী দলকে আমি এখনও চিনতে পারি না।’’ তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির এক নেতার, তারেক রহমানের, কথা ছিল—নির্বাচন কঠিন হবে। তখন অনেকে সেটা বুঝতে পারেননি; পরে বাস্তবে নির্বাচনে গিয়ে তিনি কষ্টটা উপলব্ধি করেছেন।

    মনিরুল আরও বলেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর যাদের কৃতিত্বের কথা বলা উচিত ছিল, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নামও ছিল। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে—কেন কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে; মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের ত্যাগকে একই কাতারে বিবেচনা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিচারের নামে অন্যায় হয়েছে, সেটাও আলাদা ভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

    শেষে তিনি জামায়াতসহ অন্যান্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘মহান সংসদে এই প্রশ্ন রেখে আমি শুধু একটা জিনিস বলব—স্বাধীনতার পরে যারা বয়সে młত কম, যেমন এনসিপির নেতা-রা, তাদেরও আমি শ্রদ্ধা করি। কারণ তারা সাহসী, এবং এ যুগের দাবি অনুযায়ী নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’’

    সংসদীয় আলোচনায় মনিরুল হকের এসব মন্তব্য রাজনৈতিক প্রবাহ ও অতীত সম্পর্ক নিয়ে তর্ক-বিতর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে নানা বিতর্ক ও আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং লোকমুখে স্থান পেয়েছে।

    বুধবার সকালে প্রকাশিত এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী–এমপি এবং ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্তরিক কথোপকথনের সুযোগ পেয়েছেন। সেখান থেকে তিনি কিছু মূল্যবান পরামর্শও পেয়েছেন।

    তিনি জানান, সবাই মিলেই বলতে বলেছেন—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, আবশ্যকতাহীন উক্তি থেকে বিরত থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় বেশি মনোযোগ দেওয়া। এসব দিকনির্দেশনা তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং নীরবতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামনে এগোবার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই। যারা আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আপনারা দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ দিয়ে আমাকে শক্তি দিন।’’

    তিনি আরও জানিয়েছেন, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে একটি আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর কাছে সবাইকে ক্ষমা ও সঠিক পথের দিক-নির্দেশনা কামনা করেছেন।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের অনুসন্ধান

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের অনুসন্ধান

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই লক্ষ্যে উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে মোট চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র তলব করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করছেন।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের মধ্যে লক্ষ্যণীয় একটি হলো—তিনি শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে থাকাকালীন সময়ে ২,৪৮৬ কোটি টাকার ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেবল চারটি জাহাজই কেনা হয়। এর ফলে ওই প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম বা অসঙ্গতির সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

    এছাড়া দুদক জানায়, মোংলা বন্দরের পশু চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নথিপত্র দাবী করেছেন এবং প্রয়োজনে আইনমত ব্যবস্থা নেবেন।

    দুদক বলছে, তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

  • ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তি পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বাড়ায় খাতে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে কার্ড সেবার পরিধি বাড়ার অংশ হিসেবে জটিলতা কমানো ও নতুন নিরাপত্তা ও সেবাগত বৈশিষ্ট্য যুক্ত করাই এই গাইডলাইনের মূল উদ্দেশ্য।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, দায়িত্বশীল ঋণপ্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত নির্দেশনা সংযোজিত হয়েছে।

    নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে — আগের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, সেটি এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকায়। একই সঙ্গে অনিরাপদ (কোল্যাটারালবিহীন) ঋণের উচ্চসীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ড দিয়ে হওয়া লেনদেনের পরিশোধে উদ্ভূত জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে সেখানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। ব্যাংক বলছে, নতুন গাইডলাইন কার্যকর হলে গ্রাহক সুরক্ষা বাড়বে, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ শক্ত হবে এবং আর্থিক লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।

  • ইরানের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করা হবে

    ইরানের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করা হবে

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের ওপর যদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে আরব উপসাগরে মোতায়েন সব মার্কিন জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন আইআরজিসির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে; তাদের উদ্ধারে বেশি সময় বাকি নেই।’’ তবে কীভাবে এবং কবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানাননি রেজায়ি।

    ঘটনাক্রমে, কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ইরান দাবি করে যে ইসফাহান প্রদেশের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ও গ্যাস উৎপাদনসংস্থায় হামলা হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি ফার্স নিউজ এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহানের একটি গ্যাস সংশ্লেষণ প্ল্যান্টে আঘাত লага এবং সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আশপাশের আবাসিক এলাকাও প্রভাবিত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতির কারণে খোরমশহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রেও সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ফার্স নিউজ আরও বলেছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

    এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ওই হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেনি এবং উভয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য মেলেনি।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, এর আগের সপ্তাহে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি জানানো হয়েছিল এবং ৪৮ ঘণ্টার একটি সময়সীমা ধরা হয়েছিল। পরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্পর্কিত আলোচনায় ফলপ্রসূ অগ্রগতি হয়েছে এবং তাই পাঁচ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত রাখা হবে। বর্তমান তথ্য ও দাবিগুলো আল জাজিরা এবং ফার্স নিউজ থেকে নেওয়া হয়েছে।

  • ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের সময় দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেন রাষ্ট্রপতি হারজগ

    ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের সময় দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেন রাষ্ট্রপতি হারজগ

    উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে সোমবার (২৩ মার্চ) সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সময়ে একটি ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগকে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আল জাজিরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিওতে দেখা যায় সংবাদ সম্মেলন শেষ হবার পর কাছাকাছি বিস্ফোরণের শব্দেই তিনি সঙ্গী নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দ্রুত সরে যাচ্ছেন এবং নিরাপদ স্থানে আনা হচ্ছেন।

    ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারজগ ওই সফরের আগে তেহরানের অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শন করেছিলেন এবং পরে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগেই বলেছেন যে ইসরায়েল আগের স্থিতাবস্থায় ফিরে যেতে পারবে না এবং লেবাননের ভেতরে কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করার অগ্রাধিকার বজায় রাখতে হবে।

    এ সময়ের ঘটনা সম্পর্কে সরকারিভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত না হলেও, প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইরানের পাল্টা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্বরূপের কারণে এ অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ও তার পরবর্তী পাল্টা হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেলআবিভি উদ্বিগ্ন বলে বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে বলা হচ্ছে।

    কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রে এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার কথাও বলা হয়েছে; তবে তা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি এবং নেতানিয়াহুকে নিয়েও ধারণা মিলছে না এমন কোন চূড়ান্ত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    সংক্ষেপে, কিরিয়াত শমোনায় সংবাদ সম্মেলনের সময় সামনে থেকে অনুভূত বিস্ফোরণ ও আঘাতের পর থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন—এটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনেই প্রতিফলিত হয়েছে। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ ও কোনো হতাহতের তথ্য থাকলে কর্তৃপক্ষ পরে তা জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • কালীগঞ্জে কৃত্রিম তেল সংকট: খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ

    কালীগঞ্জে কৃত্রিম তেল সংকট: খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবুও স্থানীয়দের অভিযোগ, একই তেল বাইরে ড্রামভর্তি করে বোতলজাত করে খোলা বাজারে অতি লাভে বিক্রি করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে তেল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের ছুটির পরে কর্মস্থলে ফিরতে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহীরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাম্পে তেল না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকান এবং গ্রামের পাইকারি বাজার থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা ড্রামভর্তি অবস্থায় বাহিরে নিয়ে আসে এবং পরে বোতলে ভরে প্রতি লিটারে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ৩০০–৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে সমস্যা ছাড়াও পরিবহন খরচ বেড়েছে।

    ঢাকাগামী এক মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম আজম বলেন, ‘‘পাম্পগুলোতে তেল নেই বলে লোকজনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু রাতে অনেকেই ড্রামভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এটা স্পষ্ট যে এক কুচক্রী চক্রই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা নিচ্ছে।’’

    পাম্প মালিকেরা বলে থাকেন, ডিপো থেকে সরবরাহ কম আসছে—এটাই তাদের পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর যুক্তি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের দাবি, দেশের কোথাও বাস্তবিক তেলের তীব্র সঙ্কট নেই; বরং কৃত্রিমভাবেই সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীরা লভ্যাংশ বাড়াচ্ছেন।

    প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহের ফলে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টা ঘন্টা অপেক্ষার পর অল্প পরিমানে তেল দেওয়া হলেও অনেকে বলছেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই মেশিন বিকল বা তেল শেষ হওয়া–এই অজুহাতে আবার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ছে এবং পরিবহণ পরীক্ষাহীনভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    অতিরিক্ত দামে তেল কেনায় পরিবহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকেও বেশি ভাড়া নিচ্ছেন, যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় নীরবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলিয়ে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘‘কোনো পাম্প মালিক যদি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ স্থানীয়রা অপেক্ষা করছেন যে কেবল ঘোষণাই নয়—বাস্তবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করা হবে।

  • খুলনায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনা মহানগরীর ৪৮ জাহিদুর রহমান ক্রস রোড এলাকায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও ঘটনাটি ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

    নিহতকের পরিচয় পাওয়া যায় কুলসুম আক্তার সাথী (২৮) হিসেবে। তিনি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গোয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। খুলনায় তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ড প্রোমোটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনাস্থলের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকবার দরজায় ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে এক ব্যক্তি দরজায় জোরে ধাক্কা দেন। আসতে রবিকে (বাড়ির মালিক) খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভাঙা দরজা দেখেন এবং ভেতরে ঢুকে কুলসুমকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন। একই সময়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, দরজার সামনে থেকে একটি অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্রুত সরে যায়—যা ঘটনাটিকে আরও অনিশ্চিত করেছে।

    খুলনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পুলিশ বলছে, প্রথম দৃষ্টিতে এটি আত্মহত্যার মতো মনে হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ выяс করার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    পুলিশ নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।