Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বিল উত্থাপনে থমকে পড়লেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    বিল উত্থাপনে থমকে পড়লেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিল উত্থাপন শুরু করতেই মুহূর্তের জন্য থেমে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুল হক নুর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ severalবার তাকে সঠিকভাবে বিল উত্থাপনের সুযোগ দেন এবং বলেন, ‘আবার বলুন’।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে, জাতীয় সংসদের বার্ষিক অধিবেশনের ১২তম দিনের সেশন চলাকালীন। প্রতিমন্ত্রী সংসদে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬’ উত্থাপন করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি পেশকৃত বক্তব্যটি খণ্ড খণ্ডভাবেই পাঠ করতে থাকলে স্পিকার Severalবার তাকে পুনরায় বলতে অনুরোধ করেন।

    প্রতিমন্ত্রী মাইক হাতে বলতে থাকেন, “আমি মোহাম্মদ নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩-এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি মহান জাতীয় সংসদে…” স্পিকার তখন শোনার অনুরোধ করে বলেন, ‘আবার বলেন—অবিলম্বে বিবেচনার জন্য।’ প্রতিমন্ত্রী পুনরায় একই ঘোষণা উচ্চারণ করে বলেন, “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬ উত্থাপিত আকারে অবিলম্বে বিবেচনা করা হোক।”

    কয়েকবারের এই প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত সেই বিল সংসদে উত্থাপিত হয়ে সংসদে পাশ হয়। ঘটনাটি সংক্ষিপ্ত ক্‌রমানুশাসনের মধ্যেই ঘটে—স্পিকার গণসংবিধানগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য পূর্ণ করাতে সহায়তা করেন এবং বিলটি গ্রহণ করা হয়।

  • জামায়াতসহ বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন

    জামায়াতসহ বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করেছে।

    বিরোধীদলের নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ওয়াকঅউট ঘোষণা করে বলেন, ‘বিরোধী দলের যৌক্তিক আপত্তি সত্ত্বেও গণবিরোধী বিলগুলো পাস করা হয়েছে। এসব বিলের দায় আমরা নিতে চাই না, তাই আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।’ তার বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একের পর এক অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

    ডেপুটি স্পিকার ওয়াকআউট ঘোষণা হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিছু বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে আইন প্রণয়নের সব রিডিং—ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং—এ বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেছে; কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টিকে দায়সারা করে বলেন, সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে এখন ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা তা বোঝার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং আশা প্রকাশ করেন যে মাগরিব নামাজের পর তারা পুনরায় অধিবেশনে যোগ দেবেন।

    এর আগে জেলা পরিষদ (সংশোধিত) বিল ও পৌরসভা (সংশোধিত) বিল কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। এ দিন মোট ১২টি বিল পাস করা হয়েছে। এদের মধ্যে নয়টি বিল পূর্বে জারি করা অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যादेशগুলো অবিকল রেখে পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে দুইটি বিল পাস করানো হয়েছে।

    বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের প্রয়োজনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস করা হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে।

    বিরোধী দল বলেছে তারা এসব ‘গণবিরোধী’ বিলের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং তাই সংসদ থেকে বেরিয়ে গেছেন; অথচ সরকার প্রতিনিধি বলছেন যে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরে বিরোধীদের পুনরায় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

  • বিভাজন ঘটাতে চায় কিছু শক্তি, সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল

    বিভাজন ঘটাতে চায় কিছু শক্তি, সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাজে নানা বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার呼 আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং সেটি রুখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।’’

    তিনি বাংলাদেশকে সমস্যাহীন না বলা ঘাড়িয়ে, বলছেন এই দেশ হলো সব ধর্মের মানুষের এক অনন্য উদাহরণ—এখানে ইসলাম ছাড়াও হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষ মিলে এই ভূমিকে সমৃদ্ধ করেছে। অতীতেও এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেছেন এবং সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, এক সময়ে ধর্মভিত্তিক বিভাজনের অপপ্রচেষ্টা হয়েছিল, সেটার দুষ্পরিণাম আমাদের প্রত্যেকেরই বুঝতে হবে এবং এ ধরনের অপচেষ্টা থেকে সবাইকে মুক্ত হতে হবে।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সেগুলো সবাইকে নিয়ে মিলিতভাবে সম্পন্ন করতে হবে।’’

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন চাপে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, সংবিধান ও গণভোট সম্পর্কিত জনগণের ম্যান্ডেটকে সরকার উপেক্ষা ও অবহেলা করছে এবং নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে গড়া ঐকমত্যকে ধীরে ধীরে নস্যাৎ করা হচ্ছে।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন সরকার একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং জনআকাঙ্ক্ষার কণ্ঠরোধ করার জন্য বিরোধিদের গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে তিনি/asserted বলেন, নব্য ফ্যাসিবাদের এই প্রবণতাকে ১১ দলীয় জোট যে কোনো মূল্যে রুখে দাঁড়াবে।

    জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ শুরু হবে। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।

    এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধীদলকে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, সংসদে কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি-র উপর অনভিপ্রেতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং গণভোট সংক্রান্ত বিএনপির আপত্তির নোটটি বাস্তবে কার্যত অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে বলে দাবি করেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন যে জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হয় না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান নেন তাদের সরকারি প্যারামিত্রে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দেয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে জামায়াতের নেতারা বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানান এবং সংগঠিতভাবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ল

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ল

    দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যবান ধাতুটির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। একই ধরনের হারে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটসম্মত দরে রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের মানে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে

    দেশের ব্যাংক খাতে অর্ডার বদল—২০২৪ সালে শুরু হওয়া আর্থিক চ্যালেঞ্জ ২০২৫ সালে আরও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে এবং এর সরাসরি দরদামে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয় শিগগিরই হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা—প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    এই ব্যয়ের পরিমাণ গত এক দশকে সর্বনিম্ন। আগের রেকর্ড নিম্ন অধ্যায় ছিল ২০১৫ সালে, তখন সিএসআর খরচ ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এবারের ব্যয় তার চেয়ে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কম—যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ধারণা করা যায় যে, গত দুই বছরে সিএসআর খাতে ধারাবাহিক পতন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা—যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে খাতে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    খাতের অভ্যন্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে নানা ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য সামনে আসায় বইয়ে দেখানো কৃত্রিম মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থার আঁচ মিলেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ব্যাংকের প্রকৃত লোকসান শেয়ার হল—বিশেষত কয়েকটি শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক বড় ধরনের চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দুর্বল কয়েকটি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিবেশ বদলাও সিএসআর ব্যয়ের সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তা দেওয়ার চাপ থাকত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যয়ের অনুরোধের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয় প্রকৃত সিএসআর লক্ষ্য থেকে সরে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ঐসব চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে কড়াকড়ি নিয়ে সিএসআর ব্যয় নির্ধারণ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করান, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ কিংবা অনিয়মমূলক হাতিয়ার হিসেবে এই অর্থ ব্যবহার হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক; সেখানে শিক্ষায় ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্যে ৩০ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ শতাংশ এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে রাখার কথা বলা আছে। তবে বাস্তবে এই অনুপাত মেনে চলা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যয়ভাগে ‘অন্যান্য’ খাতে সবচেয়ে বেশি অংশ হয়েছে ৩৬ শতাংশ, শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থই খরচ করেনি। ওই ব্যাংকগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরো উদ্বেগজনক দিক হলো, ২০২৪ সালে যে ১৭টি ব্যাংক নিটভাবে লোকসানে পড়েছিল তাদের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিআই ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এই তালিকার মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিআই ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে।

    সংক্ষেপে, ব্যাংক খাতে আর্থিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তন মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ে অবস্থাগত পরিবর্তন এনেছে। ভবিষ্যতে সিএসআর-এর উদ্দেশ্য রক্ষা করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ব্যয়ের মানসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে জনকল্যোন্বিত প্রকল্পেই অর্থ সোজাসুজি পৌঁছে যায়।

  • হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলমূল্য বেড়েছে

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলমূল্য বেড়েছে

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রফতানি পথ হরমুজ প্রণালির পুনরায় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গ্রিনিচ সময় সকাল ১০:৫৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৬৯ ডলার বা ৩.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭.৭১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ২.৯৯ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

    এর আগে বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ায় স্বল্প মেয়াদে আশার আলো দেখা গেলে উভয় বেঞ্চমার্ক একসময় ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু একই রাতেই লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানোর পর বাজার আবারও আশঙ্কায় ওঠানামা শুরু করে এবং দাম বেড়ে যেতে শুরু করে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাগ্রস্ত। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে তেলের সরবরাহ ও রফতানিতে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভান্দা ইনসাইটস-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বন্দনা হরি বলেন, ‘শিগগিরই হরমুজ প্রণালি অর্থপূর্ণভাবে পুনরায় খোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ মনে হচ্ছে; সেজন্যই বাজারে অস্থিতিশীলতা রয়েছে — নইলে দাম এখনো যুদ্ধবিরতির আগের স্তরে ফিরে আসার কথা ছিল।’

    গতকালই ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তেহরান বলেছে, যেই ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি হয়েছে তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে — লেবাননে ইসরায়েলের চালানো হামলা অব্যাহত থাকা, ইরানে ড্রোন হামলার অভিযোগ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত শর্তভঙ্গ উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলোর মধ্যে।

    ইরানের দক্ষিণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বহু দেশীয় তেলবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে যেতে হয়েছে, যা সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট — বা তো যুদ্ধবিরতি, বা তো ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ চালানো; দুইটি একসঙ্গে চলবে না। লেবাননের পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বের সামনে।’ তেহরানের বক্তব্য, ‘এখন আমেরিকার কোর্টে বল — তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, সেটার ওপর বিশ্ব অপেক্ষা করছে।’

    সূত্র: রয়টার্স

  • ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজর নামাজে ফিরেছেন ৩ হাজারের বেশি মুসল্লি

    ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজর নামাজে ফিরেছেন ৩ হাজারের বেশি মুসল্লি

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বৃহস্পতিবার ৪০ দিনেরও বেশি সময়ের সুনির্দিষ্ট বন্ধের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি বন্ধ থাকা বিরল পরিস্থিতির পর ফজরের নামাজে দাঁড়ান ৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি।

    অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে—মসজিদের মূল ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভিড় আঙিনায় প্রবেশ করছে, অনেকেই দীর্ঘদিন পর এখানে ফিরে এসে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। আরেক থিস ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে মুসল্লিদের নামাজের জন্য প্রস্তুত করছেন।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই মসজিদটি আগে বন্ধ করে রেখেছিল এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। অবরোধে এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়ও একে খোলা হয়নি। ইসরায়েল বলেছে এটি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে নিয়েছিল—বিশেষত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠায়। তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এই নিরাপত্তা-অজুহাতকে প্রশ্ন করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে যুদ্ধকে অজুহাত বানিয়ে ইসরায়েল স্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। একই সময়ে অন্যত্র ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশ উদযাপনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়ার পরই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং তাদের মসজিদে উপস্থিতির সময়ও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকালে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে; তাদের মধ্যে অনেককে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থনা ও নাচা-গান করতে দেখা গেছে।

    এ ধরনের প্রবেশ স্বতন্ত্রভাবে যুদ্ধের আগে সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে দুই ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত। এই প্রক্রিয়া মূলত ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে আরও কাঠামোবদ্ধ হয়; তখন সীমিত সংখ্যক দলকে সকালে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। এরপর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ও সময় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার আগে নতুন অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬:৩০ থেকে ১১:৩০ এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ৩:০০—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টা।

    পুরোনো জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা мног বছর ধরেই ‘স্ট্যাটাস কো’ মেনে পরিচালিত হওয়ার কথাই বলা হয়ে থাকে—অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা উচিত। তবে ফিলিস্তিনি পক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্যাটাস কো লঙ্ঘন করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের অনুমতি দিয়ে এসেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ফিলিস্তিনি সম্মতি ছাড়া তাদের প্রবেশ ও প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেট বলেছে, মসজিদের ওপর সময় বৃদ্ধি ‘‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’’ এবং স্ট্যাটাস কোকে দুর্বল করার ব্রতশীল প্রচেষ্টার অংশ—এটি আল-আকসা মসজিদে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার ও সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় খোলার পর এই পরিবর্তন আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    এই ঘটনার পর পার্থক্যপূর্ণ দাবি-প্রতিদাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রশ্নগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে—বিশেষত পূর্ব জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলের দখলকে অনেক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈধ বলে মনে করা হয় না এবং সেখানে দখলদার শক্তির সার্বভৌমত্ব নেই বলে বিবেচনা করা হয়। অচিরেই পরিস্থিতি কিভাবে উন্নীত বা অবনতি হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ওপর।

    (সূত্র: মিডল ইস্ট আই)

  • খুলনায় হামের উপসর্গে নয় মাসের শিশুর মৃত্যু

    খুলনায় হামের উপসর্গে নয় মাসের শিশুর মৃত্যু

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নয় মাস বয়সী শামীম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক আইনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য জানান।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে শামীমকে তার বাবা-মা নিয়ে এসেছে। শিশু হামের উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শিশুটি কিছুটা সুস্থ থাকায় তার পরিবার তাকে নিয়ে ফের ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

    কিন্তু পথিমধ্যে শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে পরিবার আবার শিশুটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম জানান, ‘‘হামের কারণে শামীমের মৃত্যু হয়েছে, এমনটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির টনসিল ও ব্রংকাইটিসের উপসর্গও ছিল।’’

  • নড়াইলে ৩ মাসের কন্যা শিশুকে হত্যা, মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    নড়াইলে ৩ মাসের কন্যা শিশুকে হত্যা, মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বেলায় সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে তাবাসসুম নামে তিন মাসের এক কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির মা আরিফা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সারে জরুরি সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মা আরিফাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাবাসসুমের বাবা নড়াইল সদর উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামের প্রবাসী মানিক চান মোল্যা। ওই পরিবার আগে আড়ংগাছায় ছিল; দেড় বছর আগে আরিফা খাতুনকে ওই প্রবাসীকে বিয়ে করেন। সন্তান জন্মের পর আরিফা শশুরবাড়িতেই ছিলেন। কয়েক দিন আগে আরিফা ও তার কন্যাকে নিয়ে তারা আলোকদিয়ার বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

    নিহত শিশুর চাচা শামিম মোল্যা বলেন, ‘‘গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন দিয়ে বলেছিল তারা আজ বাড়ি আসছে। কিন্তু আজ ভোরে ঘরে ফোন দিয়ে জানালেন আপনার ভাতিজিকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এসে দেখি তার গলার দুই পাশে দাগ রয়েছে।’’

    স্থানীয়রা ও পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। তদন্তকারীরা মৃতু্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছেন এবং ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।