Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের লক্ষ্যসমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে প্রতিশোধ বা অযথা বিবাদ নয়—জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।

    তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’’

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এবারে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননায় ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ভূষিত করা হয়।

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন পর্যন্ত যারা শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন—তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের সাহস আজও আমাদের প্রেরণার উৎস।’’

    ঐতিহাসিক সত্য স্বীকারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘হীন দলীয় স্বার্থের কারণে জাতীয় নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধায় কঞ্জুসতা দেখানো একটি অপমানজনক প্রবণতা। ঐতিহাসিক সত্য সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব—এ বিষয়ে দ্বিধা থাকা উচিত নয়।’’ তিনি স্মরণ করান যে, স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (উল্লেখিত ১৯৭৭ সালে)।

    এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘‘আপনাদের এই অবিস্মরণীয় কাজ আগামী প্রজন্মের জন্য মূল্যবান পাথেয় হয়ে থাকবে।’’

    দেশের বর্তমান অবস্থাকে ঘিরে তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের ফলে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসনব্যবহার থেকে বর্তমান সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমন করে জনগণের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই আমাদের অগ্রাধিকার। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’’

    শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, অতীতের অত্যাচারি শাসনামলে শিক্ষা খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা জরুরি। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে দলীয় ইশতেহার অনুযায়ী সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি-তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনদূর্ভোগ কমিয়ে আনার জন্য সরকার শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখছে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ—বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।’’ পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা ও অপব্যয়ের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে তাদের অবদান বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

  • সম্প্রচার নীতিমালা শিগগিরই সংশোধিত করে চূড়ান্ত করা হবে

    সম্প্রচার নীতিমালা শিগগিরই সংশোধিত করে চূড়ান্ত করা হবে

    সরকার শিগগিরই সম্প্রচার নীতিমালা সংশোধন করে চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। নীতিমালায় বেসরকারি টেলিভিশনগুলিকে ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে, যাতে সম্প্রচারের সেবাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করা যায়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য সচিবের সঙ্গে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন এ্যাটকো এবং ক্যাবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াবের নেতাদের বৈঠকে এই সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নীতিমালার ভাষা ও উপাদানে কিছু পরিবর্তন আনা হবে এবং দেশসাত্বর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো—মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস—নীতিতে সংযোজন করা হবে।

    একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর কার্যক্রম ধাপে ধাপে পে চ্যানেলে রূপান্তর করা হবে, অর্থাৎ গ্রাহকভিত্তিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে আয় নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। ডিজিটাইজেশন কার্যকর হলে টেলিভিশনের দর্শক রেটিং (টিআরপি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ণয় করা যাবে, যা কন্টেন্টের মান বাড়াতে এবং বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

    বৈঠকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে টেলিভিশনগুলো সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে আয় করবে এবং পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। সংশোধিত নীতিমালার খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করে প্রাসঙ্গিক আইন ও প্রযুক্তি কাঠমোড়ো তৈরির কাজে এগোনো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

  • গণভোট বাস্তবায়নের দাবি: ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    গণভোট বাস্তবায়নের দাবি: ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েন, কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় উপজেলার উদ্যোগে মহাজনমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল ঢাকা ছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে গণমিছিল হবে এবং সমাপ্তি পর্যায়ে ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল করা হবে।

    তাছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার ও গণসংযোগের কর্মসূচিও রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ‘‘এই ধাপ সফলভাবে শেষ করলে পরবর্তী পর্যায়ে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ হবে। সমাবেশসহ কর্মসূচির দিনক্ষণ পরবর্তীতে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। এরপর রাজধানীতে একটি বড় সমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকার গণরায় চোখ বন্ধ করে আছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান দাবী। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে আমরা ধাপে ধাপে কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’’

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার ও অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

    এর আগে বেলা ১১টায় একই মিলনায়তনে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের উদ্দেশ্য নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর শফিকুর রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাগপারের মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    ১১ দলের এই সিদ্ধান্ত তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি স্থির করার ক্ষেত্রে নতুন ধাপ হিসেবে প্রতিপন্ন হতে পারে বলেই মত মিলেছে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদে ভোগা বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদে ভোগা বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখার সময়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই দেশের জাতীয় ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি—শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছেন। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের একাধিক গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই শ্রমজীবী মানুষ।”

    বিএনপি ক্ষমতায় আসে শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, নতুন বাংলাদেশের প্রতি বেইমানি করেছে। গণভোটের গণরায়কে পাত্তা দেয়নি—এই সরকার গণবিরোধী।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করেন নাহিদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, “দেশের রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফল ভালো হবে না। গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।”

    নাহিদ আরও বলেন, “আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে জড়িত হয়েছি—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি যে আমাদের অঙ্গীকার ছিল, আমরা বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ব; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব; শ্রমিকদের নতুন ব্যবস্থায় অংশ নিশ্চিত করব। সেই লড়াইতে আমাদের ঐক্য বজায় রাখতে হবে।”

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের অংশ।

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, “ঐক্যবদ্ধ হোন। সবাই মিলে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের পথে—জুলাইয়ের আন্দোলনের বাংলাদেশকে—সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।”

    রাজপথে নামার প্রস্তুতিরও আহ্বান দিয়ে তিনি বলেন, “এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়, আমাদের রাজপথেও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি বাস্তবায়িত হয়।”

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

    দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার — যা প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারের সমান।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী এ রিজার্ভের পরিমাণ দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

    তুলনামূলকভাবে, গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার; আইএমএফের বিপিএম-৬ অনুসারে তখন রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে চলতি এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। একে দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করলে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর মূল্য দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

  • LG Electronics এশিয়া প্যাসিফিকের জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি কৌশল তুলে ধরল

    LG Electronics এশিয়া প্যাসিফিকের জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি কৌশল তুলে ধরল

    দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ৭-১০ এপ্রিল আয়োজিত LG InnoFest 2026 APAC এ LG Electronics এশিয়া প্যাসিফিক বাজারের উদ্দেশ্যে তাদের সাম্প্রতিক উদ্ভাবনী হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ভবিষ্যৎ কৌশল উন্মোচন করেছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রায় ২০টি দেশের ২০০ এর বেশি ব্যবসায়িক অংশিদার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি অংশ নেওয়া এই ইভেন্টটি LG-এর ২০২৬ InnoFest সিরিজের সমাপনী অঙ্গ ছিল।

    ‘Innovation, Forward Together’ থিম কাঁধে নিয়ে প্রদর্শনীতে LG তুলে ধরেছে কিভাবে স্থানীয় জীবনধারা, আবাসন বাস্তবতা ও ব্যবহারিক চাহিদা মাথায় রেখে সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর হোম সলিউশন তৈরি করা হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও K-Tech উদ্ভাবন একসঙ্গে ব্যবহার করে LG স্থানীয় বাজারে কার্যকর ও টেকসই সমাধান সরবরাহের ওপর জোর দিয়েছে।

    কনডেন্সড লন্ড্রি কেয়ার ও স্থাপন সুবিধা

    LG তাদের লন্ড্রি পোর্টফোলিওকে শক্তিশালী করতে নতুন WashTower™ লাইনআপ উন্মোচন করেছে, যা বিশেষ করে এশীয় ঘর ও অ্যাপার্টমেন্টের সংকীর্ণ জায়গায় কাজে দিবে। নতুন ২৫ ইঞ্চি মডেল ছাড়াও ২৪ ইঞ্চি ও ২৭ ইঞ্চি সংস্করণে এই সিরিজ পাওয়া যাবে—যা ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, যেমন বাংলাদেশে স্থান সাশ্রয়ের প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক।

    নতুন টপ লোড ওয়াশারগুলিতে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে, যা কাপড়ের ধরন ও ময়লার মাত্রা অনুযায়ী নিজে থেকেই ওয়াশ মুভমেন্ট সমন্বয় করে—ফলে কাপড়ের যত্ন ভালো থাকে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে সম্পূর্ণ ওয়াশ সাইকেল শেষ করা সম্ভব, যা ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের জন্য সময় সাশ্রয়ে বড় সুবিধা। স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোড অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়, ফলে অপচয় কমে।

    WashCombo™ সিরিজে LG এক ইউনিটেই ধোয়া ও শুকানো করার সুবিধা দিচ্ছে—অতিব্যস্ত পরিবারের জন্য কম জায়গায় পূর্ণ সমাধান। পাশাপাশি Inverter HeatPump™ প্রযুক্তির কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার কমে, যা বাংলাদেশসহ বিদ্যুৎ ব্যয় সংবেদনশীল বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।

    স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সমাধান

    এশীয় পরিবারের রান্নাঘরের স্থান ও ব্যবহারের ধরন বিবেচনায় রেখে LG নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইন ও Zero Clearance Hinge দরজার জন্য অতিরিক্ত জায়গা প্রয়োজন করে না—ফলে বিল্ট-ইন লুক বজায় রেখে স্টোরেজ সর্বোচ্চ করা যায়।

    LG-এর উন্নত Ice Solution চার ধরনের বরফের অপশন দেয়—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহারিক। ডিশওয়াশার সেগমেন্টে LG এক ঘণ্টার Wash & Dry সাইকেল, QuadWash™ Pro ও Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ও স্বাস্থ্যকর পরিষ্কার নিশ্চিত করছে। উল্লেখ্য, কোম্পানির কিছু প্রধান মডেলে A গ্রেড এনার্জি এফিসিয়েন্সিও অর্জিত হয়েছে, যা বিদ্যুৎ খরচ কমায়।

    AI চালিত স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা

    প্রদর্শনীতে LG তাদের AI Home Vision বাস্তব সেটআপে উপস্থাপন করে: ThinQ ON™ AI Home Hub-এর মাধ্যমে LG-এর স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর দিনচরি আরও স্বয়ংক্রিয় ও সহজ করে তোলে। এই প্ল্যাটফর্মটি ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিস্তৃত সার্ভিস ও সাবস্ক্রিপশন অপশন

    দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে LG তাদের LG Subscribe সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসও সম্প্রসারণ করছে। এ পরিষেবায় গ্রাহকরা কিস্তিভিত্তিক পেমেন্টের সুবিধা পাবে এবং নিয়মিত পণ্য রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধাও পাবেন—যা বাংলাদেশের মতো বাজারে গ্রাহক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য

    LG Electronics Asia Pacific-এর আঞ্চলিক CEO জেসুং কিম বলেন, “এশিয়া আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুতবর্ধনশীল বাজার। InnoFest 2026 আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়ার একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম। আমরা স্থানীয় জীবনধারা বিবেচনায় রেখে AI চালিত হোম সলিউশন চালু করে গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    LG Home Appliance Solution Company সম্পর্কে

    LG Home Appliance Solution Company (HS) হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনে বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কোম্পানিটি কোর প্রযুক্তি, শক্তি-সাশ্রয়ী ডিজাইন ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নত করার দিকে কাজ করছে। আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/

  • চীন ইরানকে আহ্বান: হরমুজ প্রণালী খুলে নৌচলাচল স্বাভাবিক করুন

    চীন ইরানকে আহ্বান: হরমুজ প্রণালী খুলে নৌচলাচল স্বাভাবিক করুন

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৃহস্পতিবার ইরানকে হরমুজ প্রণালী সাধারণ নেভিগেশনের জন্য খুলে দিতে আহ্বান জানান। তিনি একই দিনে টেলিফোনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাপকালে এ অনুরোধ করেন এবং আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্ব আরোপ করেন।

    ওয়াং ই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি ওই জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমানে পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় রয়েছে এবং সংঘাত ও শান্তির মাঝামাঝি একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে; এই পর্যায় থেকে শান্তির পথ তৈরি করার অন্যতম উপায় হতে পারে হরমুজ প্রণালীকে মুক্ত রাখা।

    চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং দুইপক্ষের আলোচনায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টি পূর্ণ সমর্থন করে — এমনটিই ওয়াং ইর বক্তব্যে জোর করা হয়েছে। এই কথোপকথন এবং ওয়াং ইর আহ্বানের তথ্য চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে; তবে আরাঘচির প্রতিক্রিয়া সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

    পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্বের অনেক দেশের কাছে তেল সরবরাহে সীমাবদ্ধ। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা হিসেবে বিবেচিত; রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে বেইজিং ইরানের মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কিনে। হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হওয়ায় সেখানে ব্যবধান বা অবরোধ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।

    সূত্র: বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

  • রিপোর্টে: গাজার বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের ‘সুসংগঠিত’ যৌন নির্যাতন

    রিপোর্টে: গাজার বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের ‘সুসংগঠিত’ যৌন নির্যাতন

    গাজা থেকে আটক করা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের কারাগারে পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে—এমন কঠোর অভিযোগ উঠে এসেছে একটি প্রতিবেদনে। Euro-Med (ইউরো-মেডিটেরিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর) সংগৃহীত সাবেক বন্দিদের সাক্ষ্য থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মিডল ইস্ট আইতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ দাবিই করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্যাতনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না; বরং এটি একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রীয় নীতি বা ব্যবহারের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা মনে করেন। তারা বলছেন, এই কর্মকাণ্ডে রাজনীতি, সামরিক ও বিচার বিভাগীয় স্তরের নীতিগত অনুমোদন ও সমর্থনের আশঙ্কা রয়েছে।

    সাক্ষ্যপ্রাপ্তদের বর্ণনায় নমুনা-হেতু অনেক কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে আটক করা এক ৪২ বছর বয়সী নারী বন্দি জানিয়েছেন, তাকে এসডি তেইমান নামের আটক কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নগ্ন করে ধাতব টেবিলের সঙ্গে বেঁধে মুখোশধারী সংখ্যালঘু সেনারা দুই দিন ধরে বারবার ধর্ষণ করেছে। তিনি তখন মৃত্যুই চেয়েছেন এবং এই বীভৎসতাকে ‘আরেকটি গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

    সাক্ষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় সেনারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করত এবং ওই ভিডিওগুলি দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বন্দিদের ব্ল্যাকমেইল করত। ৩৫ বছর বয়সী এক সাবেক বন্দি আমিরও বলেছেন, সেনাদের নির্দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং তার ওপর মারাত্মক শারীরিক উৎসর্গ করা হয়; তিনি এই আচরণকে চরম অবমাননাকর হিসেবেই বর্ণনা করেছেন।

    রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, নির্যাতনের কৌশলের মধ্যে প্রশিক্ষিত কুকুর, বিভিন্ন নাটকীয় বস্তু ব্যবহার করে ধর্ষণের অনুরূপ শারীরিক নির্যাতন এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের নোজল ব্যবহার করে অমানবিক নির্যাতন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বন্দিদের কমিশনের আইনজীবী খালেদ মাহাজনা একজন বন্দির ওপর নামমাত্র এ ধরনের নৌকাঠের মতো অত্যাচারের কথাও প্রকাশ করেছেন, যার ফলে ভুক্তভোগীর শরীরে গভীর অভ্যন্তরীণ ক্ষতি তৈরি হয়।

    ইউরো-মেডের মাঠকর্মী খালেদ আহমেদ বলেছেন, এসব অভিযোগ কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনার ফল নয়; বরং এটি এমন একটি পরিকল্পিত বীভৎসতার ধরণ, যা বন্দিদের মর্যাদা ও শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি চিকিৎসা কর্মী ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের আড়াল করেছে—চিকিৎসকরা নির্যাতনের চিহ্ন লুকিয়েছে এবং বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায় আনা হয়নি বা অভিযোগ বাতিল করা হয়েছে। এই বিতর্কিত বিষয়টির একটি উদাহরণ হিসেবে গত মার্চে এসডি তেইমান কারাগারে এক ফিলিস্তিনিকে গণধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অভিযোগ তুলে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সিসিটিভি ফুটেজে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে।

    ইউরো-মেড মনিটর তাদের উপসংহারে বলে যে, এসব কর্মকাণ্ড গাজার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে ব্যাপকভাবে নিপীড়ন ও ধ্বংস করার একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যের অংশ হতে পারে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা বিরোধী বিধানগুলোর লঙ্ঘনের সমতুল্য। অন্যান্যের সঙ্গে মিল রেখে জাতিসংঘের পূর্ববর্তী তদন্ত কমিটিও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছিল।

    গবেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনায় থাকা ট্রামা কেবল প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা তাদের পরিবার ও রক্ষণশীল ফিলিস্তিনি সমাজের সামাজিক কাঠামো ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও দালিলিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে নির্যাতনের অভিযোগগুলোর সঠিকতা যাচাই করা যায় এবং কোনো ধরনের নির্যাতন পুনরায় ঘটার সুযোগ না থাকে।

  • দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    সুন্দরবনের গভীরে বন্দুকধারী দস্যুদের হামলায় অপহৃত হওয়া ১০ জেলের কোনো খোঁজ মেলেনি, দুই দিন পার করেও উদ্ধার অভিযানে এখনও সাফল্য আসেনি। স্থানীয়রা বলছেন, পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা দুষ্কৃতীরা সুন্দরবনের নিরাপত্তারই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

    স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন জিউধারা স্টেশন অঞ্চলের বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে নৌকায় মৎস্য আহরণ করছিলেন একদল জেলে। তখনই প্রায় ১৫-২০ সদস্যের সশস্ত্র ‘করিম শরীফ বাহিনী’ হঠাৎ করে হামলা চালায়। দস্যুরা জেলেদের মারধর করে তাদের সামগ্রী লুটে নেয় এবং ১০ জনকে জিম্মি করে ট্রলারযোগে বনের ঘন অন্ধকারে নিয়ে যায়।

    অপহৃত ১০ জন জেলের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তাদের নাম: নাসির শেখ-এর ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল সিকদার এবং ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি পাঁচজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাঁপছেন।

    অপহৃতদের পরিবারগুলোর দাবী, দস্যুরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি না পূরণ করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়েছে; অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বন ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন, যার ফলে উপকূলীয় মাছ আহরণে বড় ধরণের ব্যাঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা) গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, অপহারের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সুন্দরবনের সম্ভাব্য পথসমূহে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। পশুর নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে সুন্দরবনের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও দস্যুদের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে উদ্ধারকাজে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের কঠোর অভিযানের ফলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টহল ও তৎপরতা কিছুটা শিথিল হলে সুযোগ নিয়ে নতুন দস্যু বাহিনী গড়ে উঠছে। তারা মনে করেন সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে আবারও সময়োপযোগী ও পরিপক্ক ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা ব্যাপক অভিযানের দরকার রয়েছে।

    সিকিউরিটি বিশ্লেষকরা জানান, এই ধরনের অপহরণ কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলে। দ্রুত এই ১০ জেলেকে উদ্ধার করে দস্যু দমন কার্যক্রম না শক্ত করলে উপকূলীয় জনজীবন ও মৎস্য আহরণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে এবং জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হবে।

    অপহৃতদের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর তদন্ত ও তৎপর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করছেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও বৈঠক জোরদারে ব্যস্ত রয়েছেন, এবং তারা আশ্বাস দিয়েছেন—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে (র্যাবিজ) আক্রান্ত ছিল—এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল র্য়াগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    ফরওয়ার্ড করা ভিডিওতে দেখা যায়, ০৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে কুমির ধলা পাহাড় ওই একটি কুকুরকে শিকার করে দিঘীতে টেনে নিয়ে যায়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগ ওঠে কুকুরটিকে ইচ্ছে করে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন; কমিটিকে নেতৃত্ব দেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন।

    তদন্ত পক্রিয়ায় ১১ এপ্রিল বিকেলে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। কুকুরটির মাথার নমুনা পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয় এবং বুধবার (১৫ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসে। রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।

    বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএলের পরীক্ষায় কুকুরের জলাতঙ্ক নিশ্চিত হয়েছে। যারা কুকুরটিকে কামড়েছিল, তারাও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই টিকা নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, কুকুরের সঙ্গে যারা সংস্পর্শে এসেছিলেন তারা টিকা নিয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে তাদের টিকা নেওয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

    কুমিরটির জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, র্যাবিজ সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায় এবং সরীসৃপের মধ্যে এই রোগ সাধারণভাবে দেখা যায় না; তাই কুমিরের মাধ্যমে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবু কামড়ানো ব্যক্তিদের দ্রুত টিকা নিতে বলা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটির প্রধান আতিয়া খাতুন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। নানা প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, আর তদন্তে কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি—কমিটির ধারণা, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং তদন্তকমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল এবং কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দিলে রাখার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

    স্থানীয়দের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত টিকা গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ও আশপাশের পশু-মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।