Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব নিয়ে আত্মসমালোচনায় তাসনিম জারা

    সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব নিয়ে আত্মসমালোচনায় তাসনিম জারা

    তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে অনেক তরুণ নারী নেতৃত্ব তাদের স্থান পেয়েছেন। তবে এই আসনের জন্য প্রস্তাব পানেও তা ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। মঙ্গলবার বিকেল ৭টা ২৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি একটি পোস্টে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। পোস্টে তিনি কোনও দল থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করেননি।

    তাসনিম জারা বলেন, আজ ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী দুঃখ প্রকাশ করে, সহানুভূতি জানিয়ে মনে করেছে আমি সংসদে থাকছি না। তিনি বলেন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছি।

    তিনি যুক্ত করেন, সংসদে গিয়ে মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার এই সুযোগ আমি সহজে ছেড়ে দিতে পারিনি। তবে আমি ঐকমত্যে জানিয়েছিলাম যে, সংরক্ষিত নারী আসন থাকা উচিত, তবে সেটি সরকারি দার্থে ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। এর পক্ষে আমি যুক্তি দিয়েছি, ক্যাম্পেইন করেছি এবং স্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছি। তবে এমপি হওয়ার কোনও প্রস্তাব তার পর পরিবর্তিত অবস্থানে যাওয়াটা আমার জন্য সম্ভব হয়নি। আমি যে প্রার্থীরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য আমি শুভকামনা জানাই।

    তাসনিম জারা বলেন, আমি মূলত সিস্টেম নিয়ে কথা বলি। যিনি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন, তিনি তার ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধেও মুখ খোলার অধিকার থাকে। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে যাওয়া প্রার্থীদের কোনও নির্বাচনী এলাকা বা ভোটার থাকেন না। এটি কোনও ব্যক্তির সততার প্রশ্ন নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতা। একজন সংসদ সদস্যই শেষ পর্যন্ত মানুষের আস্থা ও স্বার্থ রক্ষা করেন। বাংলাদেশে নারী জনসংখ্যা অর্ধেকের বেশি। তাদের পারদর্শিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থাকা উচিত। সংরক্ষিত আসনগুলোও যেন জনমত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, সেই দাবি তিনি তুলেছেন।

    আবার তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মাত্র ১৯ দিন প্রচারণায়, পোস্টার ছাড়াই, মিছিল বা প্রচারমূলক খরচ সীমিত রেখেই ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের সময় যে অসঙ্গতিগুলো ঘটেছিল, তার জন্য তিনি দলিলসহ সব কিছু রেখেছেন এবং ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি সংসদে যেতে চান, তা জনগণের ভোটে হবেন। বাইরেও সমাজের কাজে তিনি অব্যাহত থাকবেন।

    প্রসঙ্গত, ডা. তাসনিম জারা ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ওই দলের হয়ে প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের কারণে তিনি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ওই আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

  • ১৪ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, সতর্কতা জারি

    ১৪ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, সতর্কতা জারি

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের চারteen জেলায় চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে ছয় জেলা এবং রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ যা এখনো অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের প্রকাশিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ ঝোড়ো বাতাস চলতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য সব জেলাতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বৃহস্পিতবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশের আবহাওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুষ্ক থাকবে, তবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এর করণে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে।

    শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থান এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    এছাড়াও, শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে সোমবার (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। অপরপ্রান্তে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রায়শই শুষ্ক থাকবে। তাপমাত্রা কিছুটা কমবে, বিশেষ করে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সামগ্রিক তাপমাত্রাও আরও কমতে পারে।

  • পদ্মায় টহলরত পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ

    পদ্মায় টহলরত পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ

    পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের ওপর অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়া জেলার হরিপুর এলাকায় পদ্মা নদীর উপকূলে টহলদুটির সময়।

    ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে।

    অহতরা হলেন লক্ষীকুন্ডা নৌফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান এবং মানিক মিয়া। সবাই একই কর্মস্থলে কাজ করেন।

    আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে জ্বরের কারণে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত টহলের সময় নৌফাঁড়ির একটি দল হরিপুরের দিকে যাওয়ার সময়ে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন এই ঘটনা, তিনি বলছেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত মোতায়েন হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেবে সরকার

    প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেবে সরকার

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশীয় পণ্যপ্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগের আওতায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে আগামী জুলাই মাস থেকে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে এ পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রত্যাশা রয়েছে, মোট এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন তিনি।

    মাহদী আমিন বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে চালু করা হবে প্রতি মাসে দুটি করে উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশসম্মত পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের উৎপাদিত পণ্যগুলোর গৌরব প্রশংসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং দেশের সমাজে সমতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। এতে ধনী- দরিদ্রের মধ্যে পার্থক্যের অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এই ধরনের পোশাক, ব্যাগ ও অন্যান্য পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের ভিশন বাস্তবায়িত হবে, যেখানে বাংলাদেশের সম্পদ ও উৎপাদিত পণ্যগুলো দেশের বাইরে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে।

    অতিরিক্তভাবে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের জন্য ভালো এমন পাটজাত পণ্য ব্যবহারে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। পাটের গৌরব ফিরে আনার এতে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে। পাটজাত ব্যাগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাসের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব জ্ঞান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পাটের ঐতিহ্যেও নতুন করে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে।

  • সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পাঁচ বিভাগের শিলাবৃষ্টির আভাস

    সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পাঁচ বিভাগের শিলাবৃষ্টির আভাস

    সারাদেশে সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা সহ ৯টি জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহ চলমান রয়েছে। একইসাথে দেশের পাঁচটি বিভাগের ওপর দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়াবিদ ড. মোঃ ওমর ফারুকের সই করা এই পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়, প্রথম দিনে (মঙ্গলবার) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মধ্য থেকে উচ্চমাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একইসাথে চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    তৃতীয় ও চতুর্থ দিন (২৩ ও ২৪ এপ্রিল) পূর্বাভাসে জানানো হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২৪ এপ্রিল থেকে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

    অন্যদিকে পঞ্চম দিনে (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে রাজশাহী বিভাগেও কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই পাঁচ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন: আগের গাঢ় নীল ও জলপাই রং ফেরানো হচ্ছে

    পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন: আগের গাঢ় নীল ও জলপাই রং ফেরানো হচ্ছে

    বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রং পুনঃনির্ধারণ নিয়ে পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে চলা আলোচনা-সমালোচনার পর পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর কিছু বিধি সংশোধনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে পুলিশের পুরনো রং — গাঢ় নীল ও হালকা অলিভ (জলপাই) — ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতেই এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগে জারি করা একটি এসআরও অনুযায়ী পুলিশের শার্ট ছিল গাঢ় ধূসর এবং প্যান্ট গাঢ় নীল না রেখে শার্ট লৌহ রং ও প্যান্ট কফি রঙে পরিবর্তন করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ে সেই পরিবর্তন নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং বাহিনীর ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা দেখা দেয়।

    নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত অনুযায়ী, সব মেট্রোপলিটন (মহানগর) পুলিশের শার্ট হবে হালকা অলিভ/জলপাই রঙের। এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের শার্টে গাঢ় নীল রং ফিরিয়ে আনা হবে। উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রঙ হিসেবে টিসি টুইল খাকিকে প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এই পরিবর্তন কার্যকর করতে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর একাধিক বিধি সংশোধনের ধারাক্রম প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পোশাক সরবরাহযোগ্যতার ভিত্তিতেই রং নির্ধারণ করা হবে, তাই সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না।

    প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা চূড়ান্ত করা হবে; অনুমোদন হলে নতুন রং প্রয়োগ শুরু হবে। পুলিশ ইউনিফর্মের রং নিয়ে চলা বিতর্কের পরবর্তীতে কবে ও কীভাবে পরিবর্তন কার্যকর হবে সে বিষয়ের চূড়ান্ত তথ্য মন্ত্রণালয় বা পুলিশের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতেই পাওয়া যাবে।

  • অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশ করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬

    অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশ করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে কারো অনুমতি ছাড়া মোবাইল বা ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান।

    প্রশ্নটি করেছেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অনানুমানিক ভিডিও ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে হুমকি-চাঁদাও সম্পৃক্ত হচ্ছে—এটির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় কী প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে তা জানতে চান।

    জবাবে মন্ত্রী জানান, সংসদে গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে তথ্য, ভিডিও বা চিত্র প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচারণা একটি অপরাধ হিসেবে নির্ধারিত। এ ধারা (২৫) অনুযায়ী সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড, আর ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা বিশ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। চাঁদাদির বিষয়টি সাইবার স্পেসে প্রতারণা (ধারা ২২) হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে কঠোর সাজা—সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড—নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত ও কার্যকর প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও ন্যাশনাল সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লকের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করতে পারবেন (ধারা ৮, ৯)। জরুরি ক্ষেত্রে পরোয়ানা ব্যতীত তল্লাশি, কম্পিউটার ও অন্যান্য উপকরণ জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও আইন দিয়েছে (ধারা ৩৫)।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে আইনগত কাঠামো আরও শক্ত করা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফায়েড বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির ক্ষমতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো শক্ত করা রয়েছে। ব্লক বা অপসারণকৃত কন্টেন্ট সম্পর্কে স্বচ্ছতার স্বার্থে তৎক্ষণাৎ ট্রাইব্যুনাল অনুমতি নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

    তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে এজেন্সির অধীনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে, যাতে ভিডিওর উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও ডিভাইস দ্রুত নির্ণয় করা সম্ভব হবে। আইন অনুসারে তদন্তের সময়সীমা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত থাকায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে (ধারা ৩২)। বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধ শনাক্ত ও বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানো হবে; প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সহায়তা আইন প্রয়োগ করে অপরাধীকে সনাক্ত করে দায়ের আওতায় আনা হবে (ধারা ৪৮ ও ৪(২))।

    মন্ত্রী লিখিত জবায়ে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ ও প্রচার রোধে আইনি, প্রযুক্তিগত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মিলিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এসব অপরাধ রোধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নজরদারি ও দ্রুততর তদন্ত ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

  • সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    আযাদ বলেন যে জোটভিত্তিক ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যে সম্মিলিত তালিকা তারা জমা দিয়েছেন, সেখানে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার কথা নেই। এই ১৩টি আসনই প্রত্যেকটিতে তালিকা ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে তাঁরা নির্বাচিত হওয়ার আশা রাখেন। তিনি কমিশনের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা হয়েছে এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সংসদ এখন কার্যক্রমে রয়েছে; মনোনীতরা যদি সময়মতো পার্লামেন্টে যোগ দিতে পারেন, তাহলে নারীর অংশগ্রহণসংক্রান্ত জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ হবে। এজন্য কমিশন যেন ভিন্ন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে তারা আশাবাদী এবং কমিশনও আশ্বস্ত করেছে।

    আযাদ আশা প্রকাশ করেন যে মনোনীত ১৩ জন নারী সংসদ সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। দেশের ও জাতির স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ সব বিষয়ে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের সকল প্রিভিলেজ ও কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করবেন, এবং সংবিধান তাঁদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    তিনি বলেন, নিয়মানুগ অবস্থান থেকে বিরোধীদলের কাতারে বসে এই নারী সদস্যরাও দেশ গঠনে ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পার্লামেন্টে বিরোধীর ভূমিকা ও নীতিবাদী অবস্থান প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা সেটাই অনুসরণ করবেন ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

    আযাদ আরও বলেন, ‘‘যদি সরকার ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদের অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যরা যেমন সোচ্চার থাকবেন, আমাদের নারী সদস্যরাও একইভাবে বিরোধীদলের সাথে যুক্ত হয়ে আন্দোলনে অংশ নেবেন। ৭৭ জনের সাথে ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’

    গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায়ে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকা সত্ত্বেও তা গঠিত হয়নি। এই অনুশাসন না থাকায় আমরা ১১ দলীয় ঐক্য হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রায় উপেক্ষা ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছি এবং সামনে ও করব।’’

    মনোনয়ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতে পরিবারের মধ্যে একে অধিক দুজন সংসদ সদস্য রাখার নীতি না থাকার কারণে দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর বদলে শহীদ পরিবারের এক মাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’’

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূরণের বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন।

    নির্বাচন তফসিল সম্পর্কে তিনি জানান—মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চারটি মনোনয়ন দিলো বিএনপি

    সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চারটি মনোনয়ন দিলো বিএনপি

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মোট চার নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে এ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়ন পাওয়া চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ও মাধবী মারমা। দলের বিবৃতি অনুযায়ী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আওয়াস পার্লামেন্টে পৌঁছাতে পারে।

    নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। তিনি দীর্ঘদিন উন্নয়ন খাতে কাজ করছেন এবং আদিবাসী ও ওরাও সম্প্রদায়সহ সুবিধাবঞ্চিত খ্রিস্টান ও অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। আন্নার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা সিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনীত হয়েছেন। তিনি শিক্ষক ও মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। তার মনোনয়ন প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক কমিটি নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ায়। এসব সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমি বিএনপির একজন সমর্থক; কোনো স্থানীয় কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর এক সময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    দলীয় শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বহুজাতিক ও বহুজাতিক অংশগ্রহণের রাজনৈতিক পরিবেশ গড়াই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই মনোনয়নগুলি পার্লামেন্টে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করবে।

  • রেমিট্যান্সের ঢলে উত্থান: ১৯ দিনে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে

    রেমিট্যান্সের ঢলে উত্থান: ১৯ দিনে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

    মুখপাত্র জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ব্যাংকটির প্রকাশ করা তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    এর আগে গত মার্চে একক মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে highest রেকর্ড ছিল। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার ও ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রা মার্কেটেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপক্ষে ডলারের বিনিময়হার বেড়ে গেছে, ফলে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠালে তুলনামূলকভাবে বেশি টাকার পাবার সুযোগ পাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হয় তবে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখা ও তদারকি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।