Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা: ২২ পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা: ২২ পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিকভাবে অসুস্থ তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৮জনের বিরুদ্ধে পিবিআই দায়ের করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মহানগর হাকিম জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক থাকা ২২জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    আসামিদের মধ্যে রয়েছে জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ (বিপুল) শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান (ইয়াম), ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন (শাফি), আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।

    তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ (বিপুল) ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছেন। জালাল মিয়া, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ২২জন পলাতক আছে বলে জানানো হয়।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানিয়েছেন, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রে ‘নারাজি’ জানাবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন; তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তা تقديم করেননি।

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ২১ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছিল। এর আগে হলের প্রাক্তন প্রভোস্ট ও ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা করা হলেও তা যথারীতি স্থগিত ছিল। প্রসিকিউশন টিম অভিযোগপত্রে প্রতিফলিত প্রসঙ্গের জবাবে দেরির কারণ সম্পর্কে উল্লেখ করেনি।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফজলুল হক মুসলিম হলে আহত ও মানসিক ভারসাম্যহীন প্রদেশের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা করা হয়। হামলাকারীরা তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। তোফাজ্জলের চাচা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁকে ক্রিকেটের স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।

    হত্যাকাণ্ডটি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হয়; অভিযোগপত্রে এই বিবরণ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এখন আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর জিআইজ প্রক্রিয়া ও তদন্ত সীমার মধ্যে আসামিদের খুঁজে বের করে আইনী প্রক্রিয়া পালনের চেষ্টা করা হবে। মামলার আগামী কার্যক্রম সম্পর্কে আদালত পরে নির্দেশ দেবেন।

  • বিপিসি বাড়াল রাইডশেয়ার মোটরসাইকেলের দৈনিক তেলের সীমা—সর্বোচ্চ ৫ লিটার

    বিপিসি বাড়াল রাইডশেয়ার মোটরসাইকেলের দৈনিক তেলের সীমা—সর্বোচ্চ ৫ লিটার

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) রাইডশেয়ারিং সেবায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদক্ষেপটি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেনাকাটায় নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চললে রাইডশেয়ারিং চালকদের প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার তেল দেওয়া হবে।

    এর আগে গত শুক্রবার সাধারণ মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক জ্বালানির সীমা ২ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছিল। পেশাগত প্রয়োজনে রাইডশেয়ারিং চালকদের ওপর এই বিধান কড়াকড়ি হওয়ায় চার দিন পর তাদের জন্য সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

    নতুন নির্দেশনায় ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় বেশ কিছু শর্ত পালন করতে হবে। তেল নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের ব্যক্তিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং অ্যাপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া তেল কিনলে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুনরায় তেল নিতে গেলে আগের ক্রয়ের রসিদের মূল কপি ফিলিং স্টেশনে জমা দিতে হবে; তা না হলে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।

    বিপিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিদেশ থেকে নিয়মিত জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। প্রধান স্থাপনাগুলো থেকে সারাদেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেলওয়ে ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

    তাদের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের জন্য দৈনিক ১০ লিটার, এসইউভি বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার এবং ডিজেলচালিত বাসের জন্য ৭০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত আলাদা সীমা পূর্বেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ইরান-যুক্ত সংঘাতের পর তেল সংকটের আশঙ্কায় শেষ কয়েক দিনে রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে লম্বা সারি দেখা যায়। তাই তেল সরবরাহ সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু চালকের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও রাইডশেয়ারিং চালকদের পক্ষ থেকে সীমা বাড়ানোর দাবি ছিল।

    বিপিসি আশা করছে, রাইডশেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে যারা প্রকৃত পেশাদার চালক, শুধুমাত্র তাদেরই এই সুবিধা মিলবে। এতে জ্বালানির উপর চাপ কমবে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগও কমে যাবে।

  • জামায়াত আমিরের চিঠি: উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীসদৃশ নিয়োগের অনুরোধ

    জামায়াত আমিরের চিঠি: উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীসদৃশ নিয়োগের অনুরোধ

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে একটি চিঠি লিখে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পদায়নের জন্য অনুরোধ করেছেন। চিঠিটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলীয় নেতার দফতর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বিরোধী দলীয় নেতার এ অনুরোধের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জামায়াত আমিরের বিবেচনায়, তার উপদেষ্টাকে মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কোনো পদে বা মন্ত্রীর সমমানের দায়িত্বে নেওয়ার মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারের কাছে তাদের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

    তবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও পেশাদার কূটনীতিকদের একাংশের বক্তব্য মনে করিয়ে দেয় যে বাংলাদেশে এ ধরনের পদায়ন আগে দেখা যায়নি এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও এমন নজিরের তথ্য কমই আছে। তারা জানান, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা কিছু দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা ধরনের কাঠামো থাকলেও ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে বড় সংকট বা বিশেষ প্রয়োজনের সময় সব দল মিলে কাজ করার আলাদা পরিস্থিতি দেখা যায়।

    সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবেদনশীল ও সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল মন্ত্রণালয়। বিদেশি দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সময় দেশের স্বার্থ, সরকারি অগ্রাধিকার এবং ক্ষমতাসীন দলের নীতিকে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ ধরনের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রণালয়ে আনলে জটিলতা, ভুল বোঝাবুঝি বা কার্যকর সমন্বয়ের অভাব দেখা দিতে পারে—এমন আশংকাও তারা প্রকাশ করেছেন।

    জামায়াত আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, চিঠির বিষয়ে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান আমিরকে অবহিত করেছিলেন এবং আমির মৌখিকভাবে সম্মত ছিলেন। তবে মন্ত্রীর সমমান বা পদমর্যাদা প্রদানের অংশটিতে আমিরের পূর্ণ সম্মতি ছিল না।

    নজরুল ইসলাম আরও জানান, বিষয়টি জানার পর শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরবর্তীতে মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবকে জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, অধ্যাপক হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দলের পক্ষে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সক্ষম হয়েছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, মাহমুদুল হাসানকে পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয়দের পররাষ্ট্রনীতিসমূহ সরকারের কাছে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    চিঠির সিদ্ধান্তে জামায়াত আমির আরও লিখেছেন যে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনশীলতার মধ্যে দেশের পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনে এ পদায়ন বিবেচনার জন্য তিনি সরকারকে সুপারিশ করছেন।

    এই প্রস্তাব ও তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্ত্রণালয় এবং কূটনীতিক মহলেই নানা স্তরের প্রশ্ন ও মতবিনিময় আছে—বিশেষত যখন মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীলতা ও সমন্বয়ের কথাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান অবস্থায় বিষয়টি কিভাবে সামনের দিকে এগোবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ব: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ব: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগোবে তারা। নাহিদ সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপি আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে কাজেই এই প্রতিশ্রুতি দেন এবং সংসদেও একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সমস্ত অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার নির্ঝঞ্ঝাটভাবে গড়ে ওঠেনি। তারা কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের বৈধতার ভিত্তি হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সেই গণঅভ্যুত্থানের ফলেই যে জুলাই সনদ বা আদেশ হয়েছে, সেটিই তাদের বৈধতার সূত্রবাক্য। এ কথা কেউ ভুলে যাবে না, এমন দাবি তিনি জানান।

    তিনি কথিত পুরনো সংবিধানের আড়ালে যদি সংস্কার কাজ আটকে দেওয়া হয় বা julio সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হয়, তাহলে সেটিকে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শাহাদাত ও হাজারো মানুষের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে পদোদ্গম ও শপথগ্রহণ থেকে ফিরে গেলে নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা—এসব প্রশ্ন উত্থিত হবে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, আজকের এই ঐক্যবদ্ধ মুহূর্ত গড়ে উঠেছে সেইসব মানুষদের ত্যাগের কারণে। হাজার হাজার ভাই-বোনের শাহাদাতের কারণেই তারা রাজপথে ছিলেন এবং সেই শক্তির ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছিল, ফলে এই রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে পারছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

  • ঈদের ছুটিতে নির্দিষ্ট শাখা সীমিতভাবে খোলা রাখার নতুন নির্দেশনা

    ঈদের ছুটিতে নির্দিষ্ট শাখা সীমিতভাবে খোলা রাখার নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আসন্ন ঈদের সরকারি ছুটির মধ্যে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) ও ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) কয়েকটি এলাকায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং পরিষেবা চালু থাকবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের পূর্ব নির্ধারিত ছুটির প্রেক্ষিতে ১৮ মার্চ সরকার কর্তৃক объявিত ছুটির কারণে সাধারণ নিয়মে তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা বন্ধ থাকবে। তবু তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতনে ব্যাঘাত এড়াতে এবং রফতানি বিল ক্রয়ের প্রয়োজন মেটাতে বিশেষভাবে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাক শিল্পের লেনদেন সংক্রান্ত শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামী ১৮ ও ১৯ মার্চ বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুদিন সীমিত সংখ্যক কর্মী উপস্থিত রেখে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।

    এই দুই দিনে ব্যাংক অফিস সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। যোহরের নামাজের বিরতিতে দুপুর সোয়া একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, আর সরাসরি লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

    আগে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোকে প্রয়োজনে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সুবিধা আছে; এ সংক্রান্ত প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোকে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) আমদানি-রফতানি বিষয়ক সীমিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী ভাতা পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জারি করেছে এবং দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

  • বাজুস জানাল—প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো ৩,২৬৬ টাকা

    বাজুস জানাল—প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো ৩,২৬৬ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে, প্রতি ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরির দাম দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।

    বাজুস সোমবার (০৯ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সমিতি জানিয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য হ্রাস করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম রাখা হয়েছে ২64,948 টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে 252,876 টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি 216,775 টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে 176,943 টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন 6,357 টাকা; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা 6,065 টাকা; ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি 5,190 টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম 3,907 টাকা।

    আন্তর্জাতিক পটভূমিতে বলা হয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনার কারণে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বগামী ছিল; তারপর আজ দর নেমে এসেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্যমতে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে 5,090 ডলার, যেখানে গতকাল এটি ছিল 5,170 ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ছিল 5,200 ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি এক পর্যায়ে 5,550 ডলারে উঠেছিল।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের হঠাৎ উত্থানের কারণে দেশের বাজারেও রেকর্ড বাড়তি মূল্য দেখা গিয়েছিল। ২৯ জানুয়ারিতে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি 16,213 টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম নিয়ে গিয়েছিল ২৮৬,০০০ টাকায়—যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বর্তমানে সেই চূড়ান্ত মূল্য কমে নতুন এই দরেই বাজার চলবে।

  • ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবার বাবা-মা ও স্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন নিহত

    ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবার বাবা-মা ও স্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন নিহত

    ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। মোজতবা ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং আলি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে পরিচিত।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ইরানি সূত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় মোজতবার পরিবারের অন্তত আট জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানি মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, তার স্ত্রী জাহরা হাদাদ-আদেল এবং তাদের এক সন্তানও সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময় তার মা মনসুরে খোজাস্তেজ বাঘেরজাদেহও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    কয়েকটি রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে মোজতবার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয় — তার বোন, ভাগ্নি-ভাগ্নে ও এক শ্যালকসহ অন্তত চারজনও নিহত হয়েছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, তারা এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে, এসব হামলা শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আকস্মিক যৌথ অভিযানের ঘোষণা দেয়। প্রথম ধাপে তারা ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার হত্যার দাবি করে।

    আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে এই সিরিজ হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা এক হাজারের ওপরে। যদিও বিভিন্ন সূত্রে casualty সংক্রান্ত তথ্য ভিন্নভাবে এসেছে এবং সব দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এ Konfliktের মধ্যে মোজতবার পরিবারের বড় ক্ষতি এবং নেতৃত্বের হঠাৎ পরিবর্তন ইরানীয় রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং ভবিষ্যতে সংঘর্ষের পরিধি ও মানবিক প্রভাব কেমন থাকবে তা এখনই বলা কঠিন।

  • ইরান নিশ্চিত: বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালে বাধা পাবে না

    ইরান নিশ্চিত: বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালে বাধা পাবে না

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে ইরান আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়েই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে—শর্ত শুধু আগাম অবহিত করা।

    জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি বাড়ায় বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের জানালে ওই ধরনের জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চলতে থাকা তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরে সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে। এ সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে আসা পাঁচ চালান মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছলে তা জাতীয় চাহিদার প্রায় ১৬ দিন পূরণে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

    সরকার জানায়, এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে—এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    স্বাভাবিক সময় দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন হলেও বর্তমানে সরকারি সরবরাহ প্রায় দৈনিক ৯ হাজার টনে নামিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত আমদানি ও চালান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

    এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন ও ভারতের পক্ষ থেকে সহায়তার আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বর্তমানে সংকটের তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বলেছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতায় প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে।

    সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করেছে এবং মজুদদারি ও অনিয়ম আটকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি এ প্রস্তুতি ও আন্তঃসরকারিক যোগাযোগ থেকেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জরুরি তহবিল ও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে জনগণের জ্বালানি ব্যবস্থায় তাত্ক্ষণিক বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

  • চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সংঘর্ষে আহত জামায়াত আমির মফিজুর রহমানের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সংঘর্ষে আহত জামায়াত আমির মফিজুর রহমানের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মারা গেছেন। তিনি ঢাকার কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান বলে জানায় জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার।

    আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার জানান, ‘গতকাল থেকে মফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা সংকটপূর্ণ ছিল। আজ দুপুরে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির রুহুল আমিন ঢাকা যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন; তিনি ঢাকায় পৌঁছালে লাশ নেওয়া হবে কীভাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগ ও হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর মধ্যে বিরোধ নিয়ে। বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদাহ বাজারে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের বিবাদ বেঁধে উঠে এবং তা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।

    সংঘর্ষে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান, তাঁর বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগ আহত হন। আহতদের মধ্যে প্রথমে যশোরে নেওয়া হয়েছিল; পরে মফিজুরকে অবস্থা সন্দিগ্ধ হওয়ার কারণে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেই রাতেই দুপুর দুইটার দিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু ঘটে এবং আজ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুরেরও মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে সংঘর্ষে বিএনপির তিনজনও আহত হন—নতুন করে বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০), তাঁর বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫) এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০)।

    ঘটনায় হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আটজনকে নাম দিয়ে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা জসীম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    এ ঘটনায় স্থানীয় নেতারা আহতদের চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কিত ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

  • খুলনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত

    খুলনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত

    “দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদ্‌যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প থেকে আত্মরক্ষার জন্য মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনসচেতনতা হল দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে যে কোনো দুর্ঘটনাকে বড় বিপর্যয়ে পরিণত হওয়া থেকে প্রতিহত করা যায় এবং জীবিত ও সম্পত্তির ক্ষতি অনেকাংশেই কমে আসে। বাংলাদেশ ভৌগোলিক কারণে দুর্যোগপ্রবণ—তাই সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে, এমন বার্তা দেন তিনি।

    প্রধান অতিথি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাহস আর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা দুর্যোগ মোকাবিলে সফল হতে পারব। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং ঝুঁকিমুক্ত, নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাসুদ সরদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    দিবস উপলক্ষে খুলনা কালেক্টরেট চত্বরে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প থেকে আত্মরক্ষার্থে করণীয় বিষয়ক মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়ায় আগুন নেভানো, নিরাপদ জায়গায় সরানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তৎপরতা বাড়ানোর নানা কৌশল প্রদর্শিত হয়, যা সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য উপযোগী নির্দেশনা হিসেবে গ্রহনযোগ্য ছিল।

    অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার শহিদ হাদিস পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয় এবং এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে দুর্যোগ সচেতনতায় এক যৌথ বার্তা প্রদান করে।