Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদললেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অপরিবর্তিত থাকবে: শামা ওবায়েদ

    পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদললেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অপরিবর্তিত থাকবে: শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলেছে বলেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বদলাবে না। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্বাচন তাদের নিজস্ব বিষয়; বাংলাদেশ তার ফরেন পলিসি সব ক্ষেত্রেই একইভাবে পরিচালনা করবে।

    আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই ফরেন পলিসি থাকবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আমাদের নীতি পরিবর্তন হবে না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতেই সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব।”

    ডিসি সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধ ও মানুষকে দালাল চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করাই প্রধান অগ্রাধিকার। বহু বাংলাদেশি বিদেশে যাওয়ার সময় প্রতারণার শিকার হয়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন; অনেকের প্রাণও হারাচ্ছেন। এসব রোধ করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের বড় ভূমিকা আছে—জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্থানীয়ভাবে সামাজিক জাগরণ তৈরি করা এবং সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে মানুষকে জানানো।

    প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভোকেশনাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপনে ডিসিরা কাজ করতে পারবেন। এতে দক্ষ ও অর্ধ-দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো সহজ হবে, ফলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অন্যদিকে অবৈধ মাইগ্রেশন কমানো সম্ভব হবে।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সরকারের মেনিফেস্টোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—স্কিলড ও সেমি-স্কিলড লেবার বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেশের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা হবে। জেলা প্রশাসকদের কাজ হবে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে কার্যকর করে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কর্মজীবনে প্রস্তুত করা।

    শামা ওবায়েদ আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঠোর প্রভাব ফেলছে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশু সম্প্রদায়ের ওপর এর প্রভাব গুরুভাবে পড়ছে। কোন অঞ্চলে কী পরিস্থিতি আছে তা পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিসিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে এসব দিক নিয়েও ব্যাপক কথা হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের যে কোনো পরামর্শ গ্রহণে উন্মুক্ত আছে বলেও তিনি জানান। “জেলা প্রশাসকরা যেকোনো সময় আমাদের সাথে আলোচনা, মত বিনিময় বা পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের যোগাযোগ লাইন সব সময় খোলা আছে—ডিসি থেকে উপজেলা পর্যায়ে পর্যন্ত আমরা নিয়মিত সংযোগে আছি,” প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

  • মো. তারিকুল ইসলাম সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ

    মো. তারিকুল ইসলাম সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ

    মো. তারিকুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি 이날 অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সহ-সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি এই পদ থেকে সরে যাচ্ছেন।

    জানতে চাইলে তারিকুল ইসলাম বলেন, তিনি জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের ‘আইনজীবী ঐক্য প্যানেল’ থেকে নির্বাচন করবেন।

    সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত হবে।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক স্থবিরতা, পদপ্রত্যাশীদের লবিং

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক স্থবিরতা, পদপ্রত্যাশীদের লবিং

    খুলনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বড় ধরনের নেতৃত্ব শূন্যতা নিয়ে অস্থির সময় পার করছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর কমিটি না থাকার ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টির পরও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন, আর পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত।

    দলীয় সূত্র বলছে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের পূর্বের কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠিত হয়েছিল—ইশতিয়াক আহমেদ (ইস্তিকে) আহ্বায়ক এবং তাজিম বিশ্বাস সদস্য সচিব হিসেবে। ওই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে ইউনিট কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলা ছাত্রদলের চিত্র আরও দীর্ঘসূত্রি। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট গঠন করলেও একই দিনে—২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর—এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় কমিটিগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণতা দিয়ে মহানগর ও জেলা স্তরের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানালেও জাতীয় নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠ পর্যায়ে ইউনিট কমিটিগুলো কার্যকর থাকলেও উপরের কোনো ‘অভিভাবক’ না থাকায় খুলনার ছাত্রদল কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে।

    একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত চলছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম (বকুল) নিজেই এই প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।

    মহানগর ও জেলা কমিটির শীর্ষপদের জন্য যে নামগুলো আলোচনা চলছে, তাদের মধ্যে মহানগর সদর পদে উঠে এসেছে তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ। জেলার জন্য আলোচনায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলার সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, ‘মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করলে প্রকৃত ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসবে।’ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, ‘ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের রক্তসঞ্চালনের এক মাধ্যম—নতুন কর্মীরা এখান থেকেই দলে যোগ দেয়। বর্তমান সংসদের বেশিরভাগ মন্ত্রী ও এমপি ছিল ছাত্রনেতা; তাই দলকে গতিশীল রাখার জন্য দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।’

    স্থানীয় নেতারা অনড়ভাবে বলছেন যে দ্রুত ও সুসংগঠিত কমিটি গঠন না হলে খুলনার ছাত্রদল রাজনৈতিক অঙ্গনে তার কার্যকর উপস্থিতি ধরে রাখতে পারবে না। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অনুমোদন ও চূড়ান্ত ঘোষণা মিললে শিগগিরই নতুন অরাজনৈতিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় সংগঠনে প্রাণ ঢোকে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • এনসিপি: সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    এনসিপি: সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে — নির্বাচনের আগে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা পালনে অনীহা দেখাচ্ছে। এমন অবস্থাই চলতে থাকলে দেশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে যাবে; তাই সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজন করে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন। উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। সেশনের প্রধান প্যানেলিস্ট ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই স্পষ্ট হয়েছে যে এটি ‘‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’’. তিনি বললেন, কিছু অধ্যাদেশ এমনভাবে আইন করতে পরিণত হয়েছে যা সরকারের ক্ষমতা বাড়ায়, অথচ যেগুলো সরকারকে জবাবদিহি বানাবে সেগুলোকে নাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি স্থানীয় সরকারের ওপর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের অনৈতিক বিধানের বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন। পাশাপাশি বলেন, যেসব কমিশন বা গঠনতন্ত্র জনগণের পক্ষ থেকে দাবি ছিল, সেগুলোই পরে বাতিল বা পরিবর্তিত করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছিল, সেগুলো আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যা হয়েছে, তা দায়িত্বজটিল এবং প্রতারণামূলক ছিল—দেশের এলিট ও সরকারি-বেসরকারি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, ফলে সংস্কারগুলো ভণ্ডভাবে থেমে যায়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো দেশের কোনো মন্ত্রী যদি সংসদে মিথ্যা বক্তব্য দেন, অনেক развит দেশে তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি ওঠে; বাংলাদেশে এ ধরনের প্রশ্ন উঠা উচিত।

    সামাজবিদ মির্জা হাসান বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ; এর মূল লক্ষ্য তিনটি শাখার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা—বিচার, শাসন ও নির্বাহী বিভাগ। তিনি জানান, সংস্কারকমিটির প্রথম দফার কিছু প্রস্তাব খুবই র‍্যাডিকাল ছিল, যেমন একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান এবং দলের প্রধান না হওয়ার বিষয়টি; কিন্তু রাজনৈতিক চাপের মুখে অনেককিছু কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। যে অংশগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল, সেগুলোও বাস্তবায়ন করলে বড় অর্জন হতে পারত।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, দলগত স্বার্থে সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করছেন; এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলসহ নানা পদক্ষেপ হয়েছে, যা পূর্বপ্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘‘অনেকে বলে থাকে ‘আমাদের সরকার, আমরা আমাদের লোক রাখব’—কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় মানুষ বসানো न्यायসঙ্গত নয়।’’

    সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার স্পষ্টভাবে সংস্কার করতে চায় না; তারা ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যেখানে সব দল একমত ছিল এমন প্রায় ৩০টি মৌলিক বিষয় রাখা হয়েছিল—উচ্চকক্ষের বিন্যাস, পিআর অনুযায়ী প্রতিনিধি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা, এবং সাংবিধানিক নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগের মতো ব্যবস্থা। এখন বিএনপি কিছু পয়েন্ট নিয়ে আপত্তি এলে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন: গণভোটের কোনো অংশে তাদের আপত্তি কী?

    কনভেনশনে অংশগ্রহণকারীরা পুনরায় দাবি করেন, সরকার যদি নির্বাচনের আগে করা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, তা প্রতিহত করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে নির্বাচিত সংস্কার বাস্তবায়নে সকল উপায় অবলম্বন করতে হবে।

  • এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার—এই তথ্য শুক্রবার (রোববার) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন।

    গত বছরের একই সময়ে এপ্রিল মাসে এসেছে ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, তাই বছর ব্যবধানে এপ্রিলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত acumulative হিসেবে দেশে এসেছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

    এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে এসেছিল রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স—এক মাসে এটি সর্বোচ্চ আয় হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

    ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার; আগস্ট ও জুলাইয়ে আসে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এদিকে, পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশের কাছে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

  • সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরি এখন কত?

    সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরি এখন কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) স্থানীয় বাজারে সোনার দাম হ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছে। সমিতি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরিতে ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি এখন ২,৪০,৩৩৭ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে; সোমবার (৪ মে) এটি ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা। নতুন দর মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকরি হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর কমায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভিন্ন ক্যারেটের প্রতি ভরি দরগুলো নির্ধারিত হয়েছে নিম্নরূপ:

    – ২২ ক্যারেট: ২,৪০,৩৩৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,২৯,৪৩১ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ১,৯৬,৬৫৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির সোনা: ১,৬০,১৪৭ টাকা

    অন্যদিকে রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রতি ভরি রুপার দরসমূহ হলো:

    – ২২ ক্যারেট রুপা: ৫,৪৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেট রুপা: ৫,১৯০ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট রুপা: ৪,৪৯০ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির রুপা: ৩,৩৮৩ টাকা

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সোনার দর ওঠানামা করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরিস্থিতির উত্তেজনার পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার পর তা এখন আবার সমন্বয় ঘটিয়েছে—গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। তুলনায় ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি সময়টা ছিল প্রায় ৫,৫৫০ ডলার।

    বাজারে এ হেরফেরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য মূল্য পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

  • ফাতিমা থাহিলিয়া কেরালায় ইতিহাস গড়লেন: আইইউএমএলের প্রথম নারী বিধায়ক

    ফাতিমা থাহিলিয়া কেরালায় ইতিহাস গড়লেন: আইইউএমএলের প্রথম নারী বিধায়ক

    কেরালার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ফাতিমা থাহিলিয়া। কোজিকোড়ের পেরাম্বরা আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো আইইউএমএল (ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ)-এর নারী বিধায়কের উচ্চশিরে নাম লেখালেন—এবং তা ছিল ক্ষমতাসীন বাম জোটের এক অভিজ্ঞ নেতাকে হারিয়ে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ফাতিমা টিপি রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করেছেন; রামকৃষ্ণন ছিলেন এলডিএফের সমন্বয়ক ও সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী। ১৯৮০ সাল থেকে পেরাম্বরা সিপিআইয়ের একটি শক্ত ঘাঁটিই ছিল—তাই এই ফল কেরালার রাজনৈতিক মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য বদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আইনজীবী এবং কোজিকোড় পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর ফাতিমার এই জয়ের রাজনৈতিক মহলে বড় গুরুত্ব কাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাম শাসনের কবজায় থাকা ওই আসনে পরিবর্তন কেবল আসনচ্যুতি নয়; এটি কেরালার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও নারী নেতৃত্বের শক্তি দেখিয়েছে।

    নির্বাচন চলাকালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) অভিযোগ করেছিল এলডিএফ তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছে এবং বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেন। নির্বাচনের সন্দর্ভ ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা গেছে।

    আইইউএমএল এবারের নির্বাচনে মোট ২৭ জন প্রার্থী দাঁড় করায়, কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাত্র দুজনই নারী ছিলেন—ফাতিমাও তাঁদের একজন। দলটির ইতিহাসে এর আগেও কিছু নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছিলেন, কিন্তু কেউ জেতেননি; তাই এই জয় দলের জন্যও প্রতীকী।

    ফাতিমা রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন ছাত্র সংগঠনের মধ্য দিয়ে। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী সংগঠন ‘হারিতা’-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন; ২০১২ সালে গঠিত এই সংগঠন কলেজ ক্যাম্পাসে আইইউএমএলের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    তার রাজনীতিতে উঠে আসা সহজ ছিল না—মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের কিছু শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে এলে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দেয়। অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে ফাতিমা প্রকাশ্যে অবস্থান নেন; ফলস্বরূপ তাকে দলীয় কোন পদ থেকে সরানো হয় এবং হারিতা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়।

    বর্তমানে তিনি আইইউএমএলের যুব সংগঠন মুসলিম ইয়ুথ লিগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বহু বিশ্লেষক তাকে কেরালার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে দেখেন—একজন নেত্রী যে দলীয় কাঠামোর ভেতর থেকেও নারী অধিকার, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রশ্ন তোলায় পিছপা হন না।

    ফাতিমার এই জয় কেরালায় নারী নেতৃত্বের দৃঢ়তার ইঙ্গিত বহন করছে এবং আগামী দিনে রাজনীতিতে বিকল্প কণ্ঠস্বরের আরও অভিব্যক্তির পথ খুলে দিতে পারে।

  • হুনানের আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ: ২১ জন নিহত, প্রায় ৬০ আহত

    হুনানের আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ: ২১ জন নিহত, প্রায় ৬০ আহত

    চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হুনান প্রাদেশের লিউইয়াং শহরে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে; ঘটনায় ২১ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন, জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা সিনহুয়া।

    বিস্ফোরণটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানির ওয়ার্কশপে ঘটে। লিউইয়াং শহরটি চীনের আতশবাজি শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং এখানে কয়েকটি বড় কারখানা রয়েছে।

    সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে) এই বিস্ফোরণ ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগ ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন; প্রায় ৫০০ সদস্য তল্লাশি ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ছিল। আশংকার মাত্রা বিবেচনায় কারখানার আশপাশের তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকাগুলি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে— কারণ কারখানার কাছে দুটি কালো বারুদের গুদাম রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন বিস্ফোরণের সময় তীব্র শব্দ ও কম্পনের কারণে তাদের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে উঠেছিল। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল তা এখনো নিশ্চিত নয় এবং ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চলছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোম্পানিকে দায়িত্বদায়িত্ব স্বীকার করার নির্দেশনায় বলা হয়েছে বলে সিনহুয়া জানিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, চীন বিশ্বে আতশবাজি উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৫ সালে চীনা কোম্পানিগুলো ১১৪ কোটি ডলারের আতশবাজি সরবরাহ করেছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসের তথ্যে গত বছরের বিশ্বজুড়ে বিক্রি হওয়া আতশবাজির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই চীন থেকে আসে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • সুন্দরবনসংলগ্ন রিসোর্টে দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেষ্টা; সিসি ফুটেজে ২ জন আটক

    সুন্দরবনসংলগ্ন রিসোর্টে দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেষ্টা; সিসি ফুটেজে ২ জন আটক

    দাকোপের ঢাংমারী এলাকায় সুন্দরবন সংলগ্ন একটি পর্যটক রিসোর্টে দুর্ধর্ষভাবে ডাকাতির চেষ্টা চালানোর অভিযোগে দুই দুষ্কৃতকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে মঙ্গলবার (৫ মে) কোস্ট গার্ড প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, ঘটনাটি ঘটে গত ৪ মে ভোররাতে প্রায় ৪টার দিকে। দুষ্কৃতকারীরা দাকোপের ঢাংমারী খাল তীরবর্তী ‘সুন্দরী ইকো রিসোর্ট’-এর জানালার গ্রিল ভেঙে পরিকল্পিতভাবে রিসোর্টের ভেতরে প্রবেশ করে পর্যটকদের ওপর হামলা ও লুটপাটের উদ্দেশ্য নিয়েছিল। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত কোস্ট গার্ডকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে অবিলম্বে সিসি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে কোস্ট গার্ড। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চেহারা শনাক্ত করার পর ৪ মে বিকেলে খুলনা জেলার দাকোপ থানার দুই বাসিন্দা — রাজন সরদার (২৫) ও রতন সরদার (১৪) —কে গ্রেপ্তার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও পর্যটকদের হয়রানিতে জড়িত ছিল এবং একই সংগঠিত চক্রে তারা সক্রিয় ছিল।

    লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বক্ষণ তৎপর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের এই তৎপরতায় পর্যটক নিরাপত্তা পুনর্ব্যক্ত হলেও কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আরও তদন্ত চলছে।

  • মোংলায় গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী মেরী বেগম গ্রেপ্তার

    মোংলায় গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী মেরী বেগম গ্রেপ্তার

    মোংলা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৫ বছর বয়সী মেরী বেগম নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে পুলিশ।

    অভিযানটি নেতৃত্ব দেন এসআই (নি:) মোঃ ইমামুল ইসলাম। মোংলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে মেরী মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    গ্রেপ্তার মেরী বেগম মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের তাজমহল রোড (মুরগি বাজার) এলাকার মিজান হাওলাদারের স্ত্রী। পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ আরও জানায়, মেরী বেগমের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশের রেকর্ডে দেখা গেছে, তার বোন এর আগেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মেরী বা তার পরিবারের বিপরীতে মোংলা থানায় পাঁচটিরও বেশি মামলা রয়েছে।

    মোংলা থানার পুলিশ স্থানীয় জনগণের সহায়তায় মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে।