Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সংসদে নাহিদ ইসলাম: রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা হোক

    সংসদে নাহিদ ইসলাম: রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা হোক

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা উচিত। তিনি আরও বলেছেন, এই ব্যক্তি বঙ্গভবনে থাকা বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার রাখেন না।

    এই মন্তব্য করেন নাহিদ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে। ঘটনা ঘটেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে, বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল। অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিচালনা করছিলেন।

    সংসদে বক্তব্যে নাহিদ বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিইনি, পড়িওনি। সেই বক্তব্য এবং এখানে কথা বলার সুযোগ আমাদের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি—এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে। তার আর বঙ্গভবনে থাকার বা এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’’

    নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন আগে দুদকের কমিশনার ছিলেন এবং তাকে তিনটি নির্দিষ্ট ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো ছিল: খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার শাস্তি নিশ্চিত করা; পদ্মা সেতু সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সরকারকে মুক্ত করা; এবং ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো বাতিল করা।

    তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে—যাকে তিনি ‘‘শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু কোর্ট’’ বলছেন—সেই নির্দেশে সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি জুডিশিয়াল ইনকোয়্যারী কমিশন ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। নাহিদ দাবি করেন, ওই প্রতিবেদনে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মী, ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন থাকাকালে বহু হিন্দুকে হত্যা করার মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল এবং সেই রিপোর্ট আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বহুল প্রচার করেছিল।

    অধিকন্তু, নাহিদ অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক লুটের ‘‘কর্তৃত্বকারী’’ এবং দুই কোটি আমানতকারীকে পথরে দিয়েছেন; তাঁর ভূমিকা ও সম্পর্ক জুলাই গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত—এসব কারণে তিনি তাঁকে ‘দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর’ বলে অভিহিত করেন। নাহিদ বললেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছিলেন; তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের এজেন্ট এবং জুলাই ঘটনোয় সংশ্লিষ্ট—এই অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’’

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ স্মরণ করান যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা তখন রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে সাহাবুদ্দিনের পক্ষে দাঁড়ায়। নাহিদ প্রশ্ন করেন—এখন দেশের একটি নির্বাচিত সরকার আছে, তবুও কেন তাকে এখনো বদলানো হচ্ছে না?

    এই অভিযোগ ও দাবিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হলেও, সরকার বা রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে পর্যালোচিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

  • বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি: টানা দুই দিন দেশে লোডশেডিং হয়নি

    বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি: টানা দুই দিন দেশে লোডশেডিং হয়নি

    বিদ্যুত্‌ সঙ্কট না থাকায় গত দু’দিন দেশের কোথাও লোডশেডিং হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংস্থাটির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এবং বুধবার (২৯ এপ্রিল) সারাদেশে বিরামহীন বিদ্যুত্‌ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    এই তথ্য বিদ্যুৎ বিভাগ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) একটি বার্তায় নিশ্চিত করে। বার্তায় বলা হয়েছে, উল্লেখ করা দুই দিন বিদ্যুৎ ঘাটতি ছাড়াই গ্রাহকদের কাছে পাওনা বন্ধনী পৌঁছে গেছে।

    এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) তুলে ধরেছিলেন যে, পরবর্তী সপ্তাহ থেকে দেশে বিদ্যুত্‌ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং লোডশেডিং ধীরে ধীরে কমে আসবে।

    তবে কয়েক দিন আগেও বিভাগীয়টু জানানো হয়েছিল যে পরিস্থিতি মসৃণ নয়—২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে ক্রমান্বয়ে অসুবিধা হচ্ছিল।

    এসব অনিশ্চয়তা রোধ করতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং চালুর কথা জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—সংসদে তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে প্রয়োজনে শহরেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক দাবির পরও ভবিষ্যতে স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে জ্বালানি আমদানি ও উৎপাদন পরিস্থিতির উপর। অংশ—পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনগণকে খবরের আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

  • নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি দেবে সমর্থন

    নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি দেবে সমর্থন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন — এনসিপি তাদের পাশে থাকবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’

    তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করেছে এবং সেই নির্বাচনকে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী উত্তরের ধারাবাহিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ ক্ষমতার পরিবর্তনের নির্বাচন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারবিষয়ক অধ্যাদেশগুলোও একে একে বাতিল করা হচ্ছে, অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ বলেন, ‘‘ব্যাংক লুটেরাদের সুবিধা করে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন উপায়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠাগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি এবং ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাব আবার নতুন করে বেড়ে উঠছে।’’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা নতুন/পুরোনো কোনো স্বৈরতন্ত্র বজায় রাখতে চেষ্টা করা হয়, জনগণ পুনরায় সংগঠিত হয়ে ওঠবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। ‘‘আমরা সারা দেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি,’’ যোগ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়কের বক্তব্যে দলের সারাদেশে কর্মসূচি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—এই দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।’’

    বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, ‘‘সরকার ক্রমশ ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে একজোট হয়ে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’’

    ইভেন্টে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতার স্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা অনুষ্ঠানমঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণা হওয়ার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন নাহিদ ইসলাম।

    এর মধ্যে নাহিদ আরও বলেন, ‘‘আমাদের সারা দেশ থেকেই যোগদান এবং সমর্থনের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। যারা রাজনীতি করতে চান এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা এনসিপিতে এসে ঐক্যবদ্ধ হন—আমরা তাদের গ্রহণ করে সামনে এগোতে চাই।’’

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়েত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নতুন কর্মসূচি; খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়েত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নতুন কর্মসূচি; খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার সেই রায়কে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা অমান্য করা হচ্ছে; সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ছলচাতুরি করছে।’’

    তিনি কর্মসূচির বিস্তারিত সূচিও ঘোষণা করেন — ১৬ মে রাজশাহী; ১৩ জুন চট্টগ্রাম; ২০ জুন খুলনা; ২৭ জুন ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই রংপুর; ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    সমন্বয়ক জানান, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি সমাবেশ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পুনরায় অনুষ্ঠানের পরিমাণ বাড়িয়ে পূরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ চালানো হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণে আহ্বান জানানো হবে।

    তথ্য অনুযায়ী, একই সঙ্গে ১১ দল বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করবে। শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক নারী ও সামাজিক সংগঠনের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করে জনমত গঠন করা হবে। দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চলমান থাকবে।

    সরকারকে কঠোর ভাষায়批ুক্তি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করা হলে চলবে না। আমাদের আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে হবে এবং ছাত্র সমাজকেও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’’

    তিনি জানান, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জোট ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে জোটের গণমিছিল হয়েছে। পূর্বঘোষণামতো আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • সোনার দাম টানা চার দফা কমলো

    সোনার দাম টানা চার দফা কমলো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের বাজারে সোনার দাম টানা চার দফা কমানো হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, সর্বোচ্চ এক ভরিতে ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি সোনার দাম এখন দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; গতকাল তা ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুস বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টার বক্তব্যে এই তথ্য জানায় এবং নতুন মূল্য তখন থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) আন্তর্জাতিক দামের প্রভাবের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যারেটের এক ভরির মূল্য হচ্ছে:

    – ২২ ক্যারেট: দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা

    সোনা বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে। রুপার বিক্রয়মূল্য হিসেবে জানানো হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৫ হাজার ১৯০ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৪ হাজার ৪৯০ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল; পরে মূল্য সমন্বয় ও ওঠানামা দেখা যায়। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলার। তার আগে জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১,৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

    এই পরিবর্তনটি গহনা ব্যবসায়ী ও ছোট-বড় ক্রেতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে — উপভোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার পরিস্থিতি মেপে কেনাবেচা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও স্বর্ণের দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের দর কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করে দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমন্বয়ের ফলে ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরির দামও সংশ্লিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

    এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সকালে বাজুস দেশে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। তখনও ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা—সবই ওইদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।

    চলতি বছর পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৫৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩২ দফায় ও কমানো হয়েছে ২৬ দফায়। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম দেশে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল — সেই বছর দাম বাড়ানো হয়েছিল ৬৪ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

    চলতি বছর রুপার দাম এখন পর্যন্ত ৩৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৯ দফায় এবং কমানো হয়েছে ১৭ দফায়। গত ২০২৫ সালে রুপার দাম দেশে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল—তাতে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

  • ভূমধ্যসাগরে নৌকাভাঙায় ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি

    ভূমধ্যসাগরে নৌকাভাঙায় ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি

    উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী এক নৌকাপটকে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ২৬ জন অভিবাসী—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে পালানোর পথে থাকা এসব মানুষ আট দিন ধরে সাগরে ভাসছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আট দিন ধরে ভেসে থাকার পর বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাবে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ। তাতে মোট ২৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে; পাশাপাশি ঘটনায় সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় মিসর সীমান্তের কাছে পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক শহরের উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করে। নিরাপত্তা সূত্রে বলা হয়েছে, নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তীরে ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    যাত্রীদের অভিযোগ, নৌকাটি বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসার ফলে পানিশূন্যতা ও খাবার সংকট দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে বহুজন মারা যান। লিবিয়া অনেক সাব-সাহারান আফ্রিকান অভিবাসীর জন্য ইউরোপে যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট রুট; যুদ্ধ, সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচার আশায় অনেকে মরুভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক পথ বেছে নেন।

    রেড ক্রিসেন্ট যে ছবি সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করেছে, তাতে দেখা গেছে উদ্ধারকর্মীরা মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপ ট্রাকে তোলা হচ্ছে—দুর্দশার চিত্র যা মানবপাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রার ভুক্তভোগীর বাস্তবতা উন্মোচন করে।

    এই নৌকাপৎনের ঘটনায় লিবিয়ার বিচার বিভাগেরও অভিযান চলছে। ত্রিপোলি ফৌজদারি আদালত পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারার একটি ‘অপরাধী চক্র’-এর চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেন, বলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন। একই সাথে তোবরুক থেকে অন্য একটি জরাজীর্ণ নৌকা পাঠানোর দায়ে আরেক চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে; ওই নৌকাটির ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল।

    অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিরাপদ ও মানবিক করার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিতভাবে মানুষ পাচার করে এমন পাহাড়িমুখী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে দমন করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুততর মানবিক সহায়তা ও তদন্ত নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে।

  • ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জ্বালানি তেলের মূল্য তুঙ্গে

    ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জ্বালানি তেলের মূল্য তুঙ্গে

    ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন পরিকল্পনার খবলের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়েছে। এ খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বড় পরিসরে বাড়তে শুরু করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারেরও বেশি পৌঁছায় — যা ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই সর্বোচ্চ। একই সময়ের মার্কিন বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২.৩% বাড়ে এবং ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়।

    জুন ডেলিভারির ব্রেন্ট ফিউচার চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। ফিউচার চুক্তি হলো ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট একটি তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি। এদিকে এশিয়ার সকালের লেনদেনে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় julio (জুলাই) মাসের চুক্তিটি আনুমানিক ২% বাড়তি নিয়ে প্রায় ১১৩ ডলারে গেছে।

    অ্যাক্সিওসের সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক, স্বল্পকালীন ও শক্তিশালী আক্রমণের একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে এবং তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হতে পারে। এই পরিকল্পনায় অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    আরও একটি বিকল্প পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেয়া — এবং এই কাজের জন্য স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

    বিবিসি এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সূত্রগুলো বলছে, যতদিন তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দেখতে থাকবে, ততদিনই মার্কিন পক্ষ ইরানের বন্দরগুলো অবরোধে রাখার প্রস্তুতি রাখছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

    খবর প্রকাশের পর বুধবার তেলের দাম প্রায় ৬% বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য অবরোধ জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়, যা দর বাড়ার এক প্রধান কারণ। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কেমন হবে তা largely কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভর করবে, এবং বাজার নজর রাখছে সব আপডেটের ওপর।

  • একযুগের সঞ্চয় বজ্রপাতে ছাই, দম্পতির জীবন রক্ষা হলোও সবটাই পুড়ে গেছে

    একযুগের সঞ্চয় বজ্রপাতে ছাই, দম্পতির জীবন রক্ষা হলোও সবটাই পুড়ে গেছে

    বাগেরহাটের চিতলমারীর দড়িউমাজুড়ি গ্রামে একজোড়া দম্পতির এক যুগ ধরে গড়া ছোট সংসার বজ্রপাতে ছাই হয়ে গেছে। রাত পোনে ১২টার সময় ঘটে যাওয়া আগুনে আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতির ঘরপোড়া সব имущества পুড়ে যায়;幸ৎ তখন তারা ঘরেই ছিলেন না, তাই জীবন রক্ষা পেয়েছে।

    ঘটনাটি বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২টার দিকে ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।夫妻দের এগারো বছর বয়সী মেয়ে সংগীতা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী; ঘটনায় তার স্কুল জীবনে বাধা পড়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতি আনন্দ মিস্ত্রি ও লোপা হালদার জানান, দিনমজুরি করে তারা সংসার চালাতেন। প্রায় এক যুগ ধরে তিলে তিলে সঞ্চিত সামান্য জিনিসপত্র আর ঘরবাড়ি গড়ে তোলেন—সবই এখন লুপ্ত। তাদের কথায়, “পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আত্মীয়দের বাড়িতে না গেলে হয়তো আমরা পুড়ে মারা যেতাম।”

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম জানান, আগুনের খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবু তাদের পৌঁছানোর আগেই দম্পতির অধিকাংশ মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি—উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান—পরিদর্শনে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

    অপরাধ-প্রশ্ন না উত্থাপন করে তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে; চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেয়া হবে।

    স্থানীয় পরিবারটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিঃস্ব; তাদের ফের ঘরবাড়ি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন। সংগীতার পড়াশোনাও এখন স্থগিত রয়েছে, যেটি দ্রুত স্বাভাবিক করতে পারলে পরিবারটিকে মানসিক সান্ত্বনা মিলবে।

  • যশোরের সেই শিশুর জন্য উপহার পাঠালেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান

    যশোরের সেই শিশুর জন্য উপহার পাঠালেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান

    যশোরে বাস থেকে ডেকে নেওয়া সেই মা ও তার শিশুর জন্য উপহার পাঠিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

    বুধবার নয়—বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ নামের সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তারেক রহমানের পাঠানো উপহার পৌঁছে দেয়।

    উপস্থিত ছিলেন ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’-এর অন্য সদস্যরা, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর ও মাসুদ রানা লিটনসহ অন্যান্য নেতারা।

    ঘটনাটি তারেক রহমানের যশোর আগমনের সঙ্গে জড়িত। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) তিনি যশোরে পৌঁছান। তাকে বহনকারী ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’ শ্লোগানবাহী বাসসহ গাড়িবহর যখন শহরের ইনস্টিটিউটের সামনে যাচ্ছিল, তখন নিলিমা নামের এক মা নিজের কোলের শিশুকে নিয়েই ফুল হাতে দাঁড়িয়ে প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছা জানাতে চান।

    তাতে তারেক রহমানের নজরে পড়ে তিনি গাড়ি থামিয়ে নেমে শিশুটিকে দেখেন। তাদের মধ্যে যে আলাপ-আড্ডা হয় এবং নিলিমার ওই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দ্রুত নিলিমার ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    পরে তারেক রহমান বিষয়টি লক্ষ্য করে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন নিলিমা ও শিশুর জন্য উপহার পাঠানোর। বৃহস্পতিবার সেই উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়।