Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা

    তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা

    বিএনপি নেতা তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সবাইসহ বিশ্বের সমস্ত মুসলিম জনতাকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি শুক্রবার (২০ মার্চ) এক বাণীতে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন।

    বাণীতে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর এ উৎসব আসে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে। রমজান মাস সিয়াম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয়, যা মানুষের নৈতিকতা ও সহমর্মিতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত; এটাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। তিনি উৎসবের এই দিনে ধনী-গরিব, ছোট-বড়—সকল ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রতিজ্ঞা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বিএনপি নেতা সবাইকে অনুরোধ করেছেন যেন ঈদের আনন্দ বঞ্চিতদের সঙ্গে করে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করা যায়। ‘‘সমাজের অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের ঈদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত,’’ ধরনের ভাবাবেগ তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পবিত্র ঈদুল ফিতর জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি মানুষকে ঈদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    বাণীর সমাপ্তিতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যে, আল্লাহ সকলের জীবনে ঈদের আনন্দ, রহমত ও বরকত বর্ষিত করুন; দেশ ও জাতিকে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করুন।

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রবিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনা কালে বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন এবং অতীত রাজনীতির স্মৃতিচারণ করেছেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর দেশে এক মেধাবী শ্রেণি উঠে আসে যারা পরে জাসদ গঠন করে। ‘‘বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে দেশ গেছে, জাতি গেছে, তারা তো আছেই না,’’ বলছিলেন মনিরুল হক। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং ঘটনাগুলো হজম করার তৌফিক কামনা করেন।

    বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, জামায়াতকে রাজনীতিতে এনে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছে দেওয়ার পেছনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানও আছে—এটা ভোলা ঠিক হবে না। ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করে মনিরুল হক বলেন, অনেক সময় মনে করা হয় গত ১৫-২০ বছর ধরে বিএনপি ছিল না; অথচ তখনও দল কাজ করেছে এবং নেতৃত্বর সিদ্ধান্তগুলোকে স্মরণ করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, জাসদ একসময় আওয়ামী লীগকে প্রতিপক্ষ মনে করত—এ ধরনের ইতিহাস বিবেচনা করে দেশের অবস্থা কোথায় গিয়েছিল তাও তাৎপর্যপূর্ণ।

    সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলা নিয়ে তিনি কিছুটা অনিশ্চয়তা তুলে ধরেন। ‘‘কখনো মনে হয় কোথায় কথা বলব—আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম; আজকার বিরোধীপক্ষের অনেককেই আমি এখনও চিনি না,’’ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি স্মরণ করান, তারেক রহমান কঠিন নির্বাচনের কথা বলেছিল—সেসময় অনেকে বুঝতে না পারলেও পরে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় তা উপলব্ধি হয়েছে।

    মনিরুল হক বলেন, এত বিশাল সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর কাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত তা নিয়ে চিন্তা আছে, এবং এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীকে আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত এমন অভিভাবকতাও থাকতে পারে—তবে আজকাল আমাদের নিজের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন উঠছে, তা কতোটা ন্যায়সঙ্গত তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    ফ্যাসিস্ট আমলে বিচার নামে যদি অন্যায় হয়েছে, সেটিকে আলাদা করে বিবেচনা করা উচিত বলেও জানান মনিরুল হক। তিনি বলেন, এই ব্যাপারগুলো তিনি মহান সংসদের সামনে রেখে দিয়েছেন এবং জামায়াতকে শুধু একটা কথা বলবেন—স্বাধীনতার পরে বা এনসিপি’র মতো খণ্ডের নেতাদের বয়স তুলনায় কম হলেও তাদের প্রতি সম্মান রাখা উচিত, কারণ তারা সাহসী এবং এ যুগের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

  • কারও কষ্ট হয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কারও কষ্ট হয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত ও জনপ্রিয় হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু মন্তব্য ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় সে সম্পর্কেই নতুন করে внимание বাড়ে।

    বুধবার সকালে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘‘যদি আমার কোনো কথা বা আচরণ অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, সে জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’’ তিনি তার বক্তব্যে জানান যে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্তরিক কথোপকথন করেছেন এবং সেসব আলাপের মধ্য থেকেই মূল্যবান দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

    পাটওয়ারী বলেন, সবাই তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সেই পরামর্শ বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    নেতা জানান, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির কাজে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমর্থকদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই তার পথচলার শক্তি।

    এক প্রশ্নের জবাবে পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, ‘‘গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে একটি নীরব আত্মিক যাত্রা শুরু করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’’

    ঘোষণাটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে এবং তা দলীয় কর্মকাণ্ড ও স্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে। গাইডলাইনে ঋণসীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে, যা রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বাড়ায় এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের জটিলতা দূর করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে এখন একটি সামগ্রিক গাইডলাইন চালু করা হলো।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানকে উৎসাহিত করে নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদন্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সংস্কারিত গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা আগের ২৫ লাখ টাকার পরিবর্তে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ (অনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ টানা থেকে বৃদ্ধি করে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ড লেনদেনের পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে স্বচ্ছতা বাড়বে, গ্রাহক সুরক্ষা শক্তকরণ হবে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক তদন্ত শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক তদন্ত শুরু

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে।

    দুদক তাঁর উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আগে যখন শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বাজেটে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; কিন্তু শেষপর্যন্ত মাত্র ৪টি জাহাজই কেনা হয়। এর ফলে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতির চিহ্ন পড়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা যায়।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি তলব করেছে এবং অভিযোগ এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দুদক বলেছে, তদন্তের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অনুসন্ধান শেষ হলে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ জেরুসালেমে মুসলমানদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থান। এবার রমজানের শেষ দিকে মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়—এটি ১৯৬৭ সালের পর এমন ঘটনা। ফলে ঈদুল ফিতরের দিন অনেক মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে কাছাকাছি মাঠ ও সড়কে নামাজ আদায়ে বাধ্য হন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুসালেমের বাইরে শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে ঈদের জামাত পড়তে দেখা গেছে। ইসরাইলি পুলিশ মসজিদের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া ছিল, ফলে মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা পড়ে।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মার্কিন ও ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তারা বলেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে পুরো রমজানজুড়ে মসজিদে প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পুরনো শহরের গেটের বাইরে নামাজ আদায় করেছেন।

    ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেন, এটি কেবল নিরাপত্তার কথা বলা নয়—এটি একটি কৌশলের অংশ। তাদের দাবি, উত্তেজনা বা সংঘর্ষকে অজুহাত করে আল-আকসা কমপ্লেক্সে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা হচ্ছে। আল-হারাম আল-শরিফ বা টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ডোম অব দ্য রকসহ বহু পবিত্র স্থাপনা আছে, তাই এর ওপর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্রীয় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হয়।

    জেরুজালেমের মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা গেছে। ৪৮ বছর বয়সি হাজেন বুলবুল বলেন, “এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন। এটা একটি খারাপ নজির রয়ে গেল—ভবিষ্যতেও এমন ঘটতে পারে।” তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ অনেক বেড়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরনো শহরে অনেক ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইসরায়েলি বসতকারীরা বারবার মসজিদ এলাকায় ঢোকে, নামাজের সময়ও অনেককে আটক করে ও মসজিদে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটি ভিড় ও ব্যস্ত থাকলেও এবার এলাকাটি প্রায় ফাঁকা ছিল; দোকানপাটও বেশিরভাগ বন্ধ ছিল—শুধু ওষুধ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের দোকান খোলা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনি মুসলিমদের আহ্বান জানিয়েছেন—যদি মসজিদে ঢুকতে না পারেন, তবে যতটা সম্ভব কাছাকাছি কোথাও ঈদের নামাজ আদায় করুন। কিন্তু পুরনো শহরের ভিতরে কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশির কারণে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়ে গেছে।

    আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে আরব লীগ। সংস্থাটি বলেছে, এটা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এছাড়া ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনও একই সুরে নিন্দা জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে, এমন পদক্ষেপ চলতে থাকলে সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়তে পারে ও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক শান্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডিয়া মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি বলছেন, আল-আকসা বন্ধ করা ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়’। তিনি জানান, অনেক তরুণ যখন মসজিদের কাছাকাছি নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে নামাজরত অবস্থাই সরিয়ে দেয়।

    অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় ইহাই পরিস্থিতি যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের ছায়ায় আরও কষ্টকর। রমজানের শেষে যখন বিশ্বের অনেক মুসলিম ঈদ পালন করছেন, গাজার শহরগুলো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সীমিত উদযাপন করছে। ইসরায়েলি বিমান হামলা থামেনি, ফলে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ পালন করছেন।

    উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নেওয়া ৩২ বছর বয়সি সাদিকা ওমর বলেন, “ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ। প্রত্যেকের কাঁদার কাহিনী আছে—কেউ বাড়ি হারিয়েছে, কেউ পরিবারের সদস্য। আমার স্বামী দূরে রয়েছে, তাই পুরোপুরি খুশি হওয়া যায় না। তবু আমরা চেষ্টা করি ধর্মীয় বিধি মেনে কিছুটা আনন্দ রাখার। ”

    খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া ৪৯ বছরের আলা আল-ফাররা বলেন, “যুদ্ধের শুরুতে আমরা আমাদের গ্রাম আল-ক্বারারা থেকে বিতাড়িত হয়েছি। প্রতিদিনের হামলার কারণে চলাফেরা সীমিত, তাই এবারও ঈদ অনেকটা সীমিত।” ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে কিছু ভাঁড়ার চুলায় কায়েক ও মামুলের সুবাস ছড়ালেও অনেকের তাছাড়া পৌঁছায় না—ছোট ছোট ক্রয়ই শিশুকে সাময়িক আনন্দ দেয়।

    গাজায় কিছুদিন পর গত ১৯ মার্চ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সীমিতভাবে খুলে দেয়া হয়। বলা হয়েছে, এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু হওয়ার পর গাজার জন্য জাতিসংঘের প্রথমবারের মতো একটি কনভয় প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। তবু ঈদের আনন্দ অনেকটাই অনিশ্চয়তায় আবদ্ধ।

    গাজা সিটির ৪২ বছর বয়সি খলুদ নামের এক পিতা বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর আপাতত কিছুটা নিরাপত্তা আছে, কিন্তু যথেষ্ট নয়। চলতি সপ্তাহেই আমাদের এলাকায় বিমান হামলার প্রস্তুতিতে মানুষকে সরানো হয়েছে—ইফতারকালের পার্শ্ববর্তী মুহূর্তে, কিছুই নিয়ে যেতে পারেনি কেউ।”

    নীতিগত ও মানবিক দিক থেকে আল-আকসা বন্ধ রাখা এবং গাজায় চলমান সীমাহীন ধ্বংস আন্দোলনের মধ্যে ফিলিস্তিনি জনগণের ঈদ এবার শোক, ক্ষতি ও অন্ধকার স্মৃতির সঙ্গে কেটেছে—ঐতিহ্যের উজ্জ্বলতা তুলনামূলকভাবে ক্ষীণ। (সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও স্থানীয় প্রতিবেদক)

  • ইআরজিসি: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুরোদমে অব্যাহত, সক্ষমতা ‘২০’ বললেন মুখপাত্র

    ইআরজিসি: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুরোদমে অব্যাহত, সক্ষমতা ‘২০’ বললেন মুখপাত্র

    ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর এক দাবির জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের কাজ এখনও পুরোদমে চলছে। আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি শুক্রবার স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক ‘‘ইরান’’ে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

    নাঈনি বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের সক্ষমতার স্কোর ২০ — যা ইরানের শিক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ বা নিখুঁত হিসেবে বিবেচিত। তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে কোনও উদ্বেগ নেই। আমরা এমনকি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি, যা নিজেই বিস্ময়কর। মজুত রাখার ক্ষেত্রেও আমাদের কোনো বিশেষ সমস্যা নেই।’’

    এটি একদিন আগে, বৃহস্পতিবার, ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এক সংবাদ সম্মেলনের দাবি ছাড়পত্রের পর এসেছে; সেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইরানের আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রইলো না এবং দাবি করেছিলেন, ‘‘আমরা জয়ী হতে যাচ্ছি এবং ইরান ধ্বংস হচ্ছে।’’

    নাঈনি আরও বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলবে এবং দেশের জনমত অনেকে চায় শত্রু পুরোপুরি নিঃশেস না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকুক। তাঁর কথায়, ‘‘দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া সরে গেলেই কেবল এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।’’

    এই বিবৃতি এবং ঘটনার খবরে এএফপি ও আল জাজিরার রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

  • খুলনায় ঈদের জামাত: কখন ও কোথায়?

    খুলনায় ঈদের জামাত: কখন ও কোথায়?

    পবিত্র মাহে রমজান শেষ হয়ে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার (২১ মার্চ) দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। প্রশাসন জানায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল চাঁদ দেখা গেছে, ফলে দেশজুড়ে ঈদের দিন নির্ধারণ হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সার্কিট হাউস ময়দান একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যেখানে প্রতি বছর বহু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজের জন্য মাঠে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা দ্রুতগতিতে শেষ করা হয়েছে যাতে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ করতে পারে।

    ঈদের জামাতের সময় ও স্থান সংক্ষেপে:

    – খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে।

    – আবহাওয়া প্রতিকূল হলে তিনটি জামাতই খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামাতের সময়:

    – খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে সকাল ৮:৩০টায় জামাত।

    – খালিশপুর ঈদগাহ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জামাত।

    – বায়তুন নূর জামে মসজিদে দুইটি জামাত: সকাল ৮টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ, এবং সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামত করবেন ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন।

    – খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত; এ জামে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    – খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (KUET) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জামাত সকাল ৭:৩০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – নগরের শান্তিধাম মোড়ের আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, জাতিসংঘ শিশু পার্কে সকাল ৮:৩০টায়, আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    – ময়লাপোতা মোড়ের বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়। মোল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আলাদা করে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তদারকি করবেন। উপজেলার পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো তাদের সুবিধা অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

    ঈদের আনন্দ নিরাপদ রাখতে নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহানগর ও পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করবে। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চশব্দে মাইক বা ড্রাম ব্যবহার, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চालन কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে এসব নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সকল ধর্মভীরু জনসাধারণকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ অনুষ্ঠান কামনা করছি।

  • বাগেরহাট কচুয়ায় আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাট কচুয়ায় আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাটের কচুয়ায় শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে আগুনে ৮টি দোকান ভস্মিভূত হয়ে গেছে। কচুয়া উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের ওপারের মঘিয়া অংশে ঘটনাটি ঘটলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আটটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

    ঈদ আগের সময়ই একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়ে যাওয়ায় মালিকরা অস্থির ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বহু পরিবারই একমাত্র ভরণ-পोषণ ছিল দোকানেই; এখন তাদের সামনের দিনগুলোকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সোহাগ মাঝি বলেন, অনেক কষ্ট করে দোকানটি গড়ে তুলেছি। এনজিও থেকে নেয়া ঋণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে দুটি ফ্রিজ কিনেছি, ঈদ উপলক্ষে ভালো মালের স্টক ছিল — সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব আর কীভাবে আবার ব্যবসা শুরু করব, তা জানি না।

    ক্ষতিগ্রস্ত সার ডিলার ‘মীম এ্যান্ড মুন’-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ-ফ্লেক্সিলোডের বুথ, লন্ড্রি, সেলুন ও অন্যান্য চায়ের দোকানও ধ্বংস হয়েছে। তিনি ও অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, এই আগুন তাদের জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ধাক্কা প্রয়োগ করেছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান, বাজার কমিটির নেতা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে; পরবর্তীতে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিনশেড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সহায়তা পেলে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সক্ষম হবে বলে অনেকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ণয় করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

  • আইপিএলে একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি

    আইপিএলে একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি

    আইপিএল শুরুর আগেই franchises-গুলোকে কাঁধে হাত দিতে হচ্ছে—একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আকাশপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় খেলোয়াড়দের আনাচে–পাঁচে বিকল্প রুট বেছে নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে চোট ও ব্যক্তিগত কারণে একের পর এক বিদেশি তারকার অনুপস্থিতি দেখা দিচ্ছে। আগামী ২৮ মার্চ শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে এখন অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিই খেলোয়াড়ের ফিটনেস এবং ভ্রমণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। নিচে মূল কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক অবস্থার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো।

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক কামিন্স এখনও পিঠের চোটে কষ্ট পাচ্ছেন। তাই অবিলম্বে হায়দরাবাদে উপস্থিত না থাকতে পারে—সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আইপিএলের শুরুতে অধিনায়কত্ব ইশান কিষাণকে দিয়েছেন। তবে পরবর্তী সপ্তাহে কামিন্স দলের সঙ্গে যোগদানের সম্ভাবনা আছে; সবকিছু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক নোটিশ এবং ফিটনেস রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক কোনো আঘাতে ভুগছেন না, তবে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা ও বিশ্রামের প্রয়োজন বিবেচনায় তিনি ব্যবস্থাপনা অধিকারিদের কাছে ঝুঁকি তৈরি করছেন। অ্যাশেজে কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে স্টার্ককে অ্যাসিং দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে, এরপর থেকেই তিনি বিরতিতে আছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি ফিটনেস নিয়ে সবুজ সংকেত দেয় তবেই দিল্লি ক্যাপিটালসের আশাবাদ বাড়বে।

    জশ হ্যাজলউড: গত আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হ্যাজলউড এবার শুরুর ম্যাচগুলো মিস করতে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস সংক্রান্ত সমস্যা його অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম ও টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে দেয়নি। তিনি বর্তমানে পুনর্বাসনে রয়েছেন এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে পাস করলেই যোগ দেওয়ার অনুমতি পাবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের দলে গুরুত্বপূর্ণ হলেও হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এলিস পুরো আইপিএল থেকেই ছিটকে গেছেন। চেন্নাই সুপার কিংস তার ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু এখন তাদের বিকল্প বোলার খুঁজতে হচ্ছে।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে চেন্নাই থেকে ট্রেড হয়ে রাজস্থান রয়্যালসে নেওয়া হয়—তবে তিনি এখনই নতুন ক্লাবের জার্সি গায়ে তুলছেন না। গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে এখনকার পুরো মৌসুমে তিনি রয়েছেন না; তার অনুপস্থিতিতে রাজস্থানের দলীয় ভারসাম্যে প্রভাব পড়ার আশা করা হচ্ছে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেকের প্রত্যাশা রাখা এ অস্ট্রেলিয়ান পেসার পায়ের চোটে পুরো আইপিএল থেকেই বাদ পড়েছেন। বিগ ব্যাশে ১৩ উইকেট নেওয়া এই বোলারটি নিলামে একমাত্র আনক্যাপড বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আলোচিত ছিলেন। এডওয়ার্ডস এবং কামিন্স দুজনেরই শুরুতে অনুপস্থিতি হায়দরাবাদের বোলিং বিভাগে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের প্রথম পর্ব মিস করবেন—হালনাগাদ সূত্র বলছে, সম্প্রতি বাবা হওয়ায় তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। তিনি টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টি‑টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

    সমস্যার প্রভাব ও পরবর্তী 전망: ভ্রমণ রুটের পরিবর্তন, ফিটনেস যাচাই ও দ্রুত বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজার কাজ এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অগ্রাধিকার। কিছু খেলোয়াড় আইপিএলের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দিতে পারেন, আবার কেউ পুরো আসর থেকে অনুপস্থিত থেকেও দলকে বিপদে ফেলতে পারেন। আইপিএলের শুরুতে চূড়ান্ত স্কোয়াড ও খেলোয়াড় উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আগামী কয়েক দিনের ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর ঘোষণা অপেক্ষা করতে হবে।