Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন

    ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন

    আজ পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপের সুইচ চেপে দেশের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আটটি বিভাগের ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সেটআপে তিনি ‘‘বিসমিল্লাহ’’ বলে ডিজিটাল পোর্টালে সংযুক্ত হন এবং প্রায় ২০ হাজারের বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত এই কার্ড বিতরণের সূচনা ঘোষণা করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো কৃষির অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে কৃষকদের জন্য টেকসই সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। তিনি বলেন, ‘‘এই ডিজিটাল কার্ড কেবল পরিচয়পত্র নয় — এটি কৃষকের অধিকার ও সুরক্ষার প্রতীক।’’

    কারা অন্তর্ভুক্ত হবেন

    সরকার জানিয়েছে, শুধু শস্যচাষী নয়—মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খাতের খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষিকরাও প্রকল্পের আওতায় আছেন। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে সরকারি সুবিধা সরাসরি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া।

    বাস্তবায়নের ধাপ ও বাজেট

    কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

    ১) প্রাক-পাইলটিং (পরীক্ষামূলক): আজ থেকে শুরু হয়েছে; এটির জন্য বরাদ্দ প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

    ২) পাইলটিং: আগস্ট পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় কার্যক্রম চালানো হবে।

    ৩) দেশব্যাপী কার্যক্রম: পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে তথ্যভাণ্ডার তৈরি ও কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

    প্রাক-পাইলটিংয়ে ১০টি জেলা, ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ফসল উৎপাদনকারী কৃষক, মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসংসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে লবণচাষিরাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    কার্ডভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও তালিকা

    প্রাথমিকভাবে কৃষকদের পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে কার্ড দেওয়া হবে: ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রাক-পাইলটিংয়ের তথ্য অনুযায়ী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২,০৬৫ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; এর মধ্যে ভূমিহীন ২,২৪৬, প্রান্তিক ৯,৪৫৮, ক্ষুদ্র ৮,৯৬৭, মাঝারি ১,৩০৩ এবং বড় ৯১ জন।

    রেজিস্ট্রেশনে থাকা ২০,৬৭১ জন কৃষক প্রতি বছর সরাসরি নগদভাবে বা উপকরণ ভর্তুকি হিসেবে বছরে ২,৫০০ টাকা গ্রহণ করবেন; এই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে।

    কার্ডের প্রকৃতি ও প্রধান সুবিধা

    কৃষক কার্ডটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের শাখায় কৃষকদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কার্ডধারীরা একঝাঁক সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে প্রধানগুলো:

    – ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও মৎস্য-প্রাণিখাদ্য; POS মেশিনের মাধ্যমে সরঞ্জাম ও উপকরণ কেনা যাবে।

    – সেচে সাশ্রয়ী ও নিয়মিত সুবিধা।

    – সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাগজপত্র ছাড়াই ঋণ সুবিধা।

    – স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি।

    – সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছানো।

    – কৃষি বিমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর্থিক সুরক্ষা।

    – মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজার সংবাদ।

    – ফসলের রোগ-বালাই নির্ণয় ও প্রতিরোধের পরামর্শ।

    – কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।

    – ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।

    নিবন্ধন ও কার্ড সংগ্রহের পদ্ধতি

    কার্ড পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো হলো: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বর, জমির দলিল বা বর্গা/ভাগে চাষের প্রমাণপত্র এবং ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট নম্বর।

    প্রক্রিয়াটি সাধারণত হবে এভাবে:

    ১) স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবেন।

    ২) এরপর উপজেলা কৃষি অফিস মাঠে যাচাই-বাছাই করে তথ্য যাচাই করবে।

    ৩) যাচাই শেষে কৃষকের এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।

    ৪) শুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।

    সরকার জানিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে নিবন্ধন অনলাইনেও করা যাবে এবং স্থানীয় অফিস পর্যায়ে ফরম পূরণ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

    সতর্কতা ও সরকারের বক্তব্য

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা চাই কৃষককে তার ঘামের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হোক। এই কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং উৎপাদন বাড়বে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’’ তিনি আরও অনুরোধ করেছেন, কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে—কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনে জড়াবেন না। কৃষকদের কাছে বলা হয়েছে, কার্ড বা পরিষেবার জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ দিতে যাবেন না এবং অননুমোদিত লেনদেনে সতর্ক থাকবেন।

    প্রকল্পটি ধাপে ধাপে চালু করে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষি সেক্টরে স্বচ্ছতা, দ্রুত সহায়তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা—যা সরাসরি কৃষকের জীবনমান উন্নত করবে।

  • তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে

    তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যে ‘জুলাই সনদে’ বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন এবং প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি এ বিষয়ে কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না বলে জানান।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারপ্রাঙ্গণে এক জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। জনসভার আগে তিনি মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন ও গণমানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, জুলাই–আগস্টের বিপ্লবের ফলস্বরূপ যে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি হয়েছে, বিএনপি তা পূর্ণভাবে সমর্থন করেছে। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘যে সনদে বিএনপি সই করেছে, তাকে আমরা ইনশাআল্লাহ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।’

    তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণ বিএনপিকে দেশে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে—এমন প্রত্যাশা থেকেই তারা দেশের কর্তৃত্বকেন্দ্রিক কাঠামো পরিবর্তনে অগ্রসর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের জন্য দলের প্রস্তাবিত ৩১ দফা সংস্কারের মধ্যে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সুশাসনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে রাখা হয়েছে এবং তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বক্তব্যের সময় তিনি বিরোধী পক্ষকে সতর্ক করে বলেন, স্বৈরাচারের ছায়া আবার কার ওপর অবস্থান করছে এবং কারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইছে—এসব নিয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    তিনি জানান, বিএনপি সবসময় জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে এসেছে। অতীতে খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে; এমন কর্মসূচিকে যারা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের তিনি ‘‘জনশত্রু’’ হিসেবে গণ্য করবেন এবং সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

    অনুষ্ঠানে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ভাসানী সারাজীবন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণের জন্য লড়েছেন। তার আদর্শ দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে এবং ভাসানীর দেখানো পথেই দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম আলোচনা শুরু করে বলেন, এই দেশের জাতীয় ইতিহাসে শ্রমিকরাই বহুবার রক্ত ও জীবন উৎসর্গ করেছে—১৯৪৭-এর স্বাধীনতার আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রয়োজনে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত অধিকাংশ শহীদই শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন। শ্রমজীবীর ত্যাগের ওপর দাঁড় করে ক্ষমতায় আছে বর্তমান বিএনপি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর বসে ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু মাত্র এক মাসের মাথায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে এবং গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। ফলে এটি একটি গণবিরোধী সরকার।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া কিছু অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার এবং কাঙ্খিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও বিএনপি ভঙ্গ했다고 আক্রমণ করেন নাহিদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াদা ভঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না—জনগণ ও শ্রমিককতৃক গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

    নাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সর্বত্র ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা—সেই লক্ষ্যেই আমাদের ঐক্য প্রয়োজন।’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে আছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে, নতুন বাংলাদেশের পথে জুলাইয়ের আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’

    সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্যে রাজপথে নামার প্রস্তুতিরও ডাক দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এবার শুধু সংসদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব না; রাজপথের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলন ও রাজপথের মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি অধিকার নিশ্চিত করাবো।’

  • সংস্কার পরিষদ না হলে সংকট ভোগ করবে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ না হলে সংকট ভোগ করবে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    বিরোধী চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কার পরিষদ চলমান না হলে সৃষ্ট সংকটের পুরো ফল ভোগ করতে হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে। তিনি বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধোক্ত মুখাপেক্ষী হয়ে উঠছে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে তৎপরতা নেওয়া জরুরি।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম মূল অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

    নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে তিন ধরন의 দাবি উঠে এসেছিল—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফ্যাসিবাদ মোচনের ডাক দিল, বিএনপি নির্বাচন জানালো, আর আমরা (এনসিপি) সংস্কারের জন্য গণপরিষদের দাবি তুলেছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কার আলোচনায় অংশ নেওয়ায় আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদের দাবিতে আপোস করেছি।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন একটি কৃত্রিম বিরোধ গড়ে তুলছে। তারা জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে এবং জুলাই সনদকে নিজেদের দলের ইশতেহার বানিয়ে ফেলেছে; এর ফলে গণভোটের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তাই গাঠনিক ক্ষমতার সংস্কারের জন্যই সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন তারা কথার বরখেলাপ করেছে এবং গণভোটের রায়কে অবহেলা করেছে।

    গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করলে সরকারকে তা ভোগ করতে হবে—এমন সতর্কবাণীও দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘এখন আমাদের যুদ্ধপরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা উচিত—জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করা হবে, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট কীভাবে মোকাবেলা করা যাবে।’’

    নাহিদ আরো মন্তব্য করেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের মডেল উপস্থাপন করেছিল, সেগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই অব্যবস্থাই জাতিকে দুর্যোগে টেনে এনেছে, যার দায়ভার এবং পরিণতি বিএনপিকে বহন করতেই হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এর পরিণতি সাধারণ হবে না।’’

    সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন ও তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ সরকারকে অনুরোধ করেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখুন—না হলে এর ফল আপনাদের ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

  • বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার)। সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯,৯৭৭.৮৯ মিলিয়ন ডলার।

    তুলনামূলক হিসেবে বলা যায়, আগের হিসাব ছিল ৯ এপ্রিল পর্যন্ত—তখন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪,৬৪৫.০৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯,৯৫২.৬৬ মিলিয়ন ডলার। এতে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভে বাড়তি ১৫.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ ভিত্তিক রিজার্ভে বাড়তি ২৫.২৩ মিলিয়ন ডলার দেখা গেছে।

    উল্লেখযোগ্য, নিট রিজার্ভ হিসাবও আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী করা হয়। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী বৈদেশিক দায়-দায়িত্ব (short-term liabilities) বিয়োগ করলে যেই পরিমাণ পাওয়া যায় তাকে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ বলা হয়। এই ধরনের সংক্ষিপ্ত আপডেট দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থা ও লেনদেন পরিচালনার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলাতে অনীহা করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলাতে অনীহা করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এগুলো গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকের সকল শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণের চারপাশে নতুন বা পুনঃপ্রচলিত ব্যবহারযোগ্য নোট সরবরাহ করার কথাও নির্দেশে রাখা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যদিও আগেই এই নির্দেশনা ছিল, তবু বাজারে এ ধরণের নোটের আধিক্য রয়ে গেছে এবং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে সমস্যা তৈরি করছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ কার্যকর করার জন্য ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষভাবে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার ছোট নিষ্পত্তিযোগ্য নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করতে এবং নির্ধারিত কাউন্টারে বিনিময় নিশ্চিত করতে শাখাগুলোকে বলা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন নোট নেওয়া হলে তাদের বদলে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো শাখা যদি এই সেবা দিতে অনীহা বা গাফিলতি করে, তাহলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

    এই নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ: প্রকাশ পেল ১০ দফার প্রস্তাব

    ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ: প্রকাশ পেল ১০ দফার প্রস্তাব

    কুয়েতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ওয়াশিংটন একটি নতুন ১০ দফার কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছে। কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আল-জারিদার রিপোর্টে এই প্রস্তাবকে দ্বিতীয় দফার আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    প্রথম দফার আলোচনা ইসলামাবাদে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক আয়োজনের বিদ্যমান কূটনৈতিক যোগাযোগ তীব্র হয়েছে। এমন সময় মার্কিন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার খবর আসে, যা কূটনৈতিক মঞ্চে নতুনোভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

    ইরানের সূত্র জানায়, প্রথম দফায় অংশ নেওয়া একজন মার্কিন কর্মকর্তা—যাকে প্রতিবেদনে ‘জে.ডি. ভ্যান্স’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—শেষ মুহূর্তে তেহরানে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। সূত্রটি বলেছে, ওই প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির পর।

    সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আংশিক ঐকমত্য গড়ে উঠায় নতুন প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবের মূল উপাদানগুলোতে রয়েছে: ইরানের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় তেহরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈরী ক্রিয়াকলাপ বন্ধের শর্ত।

    এছাড়া প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি সময়সীমার জন্য (প্রতিবেদন অনুসারে ১০ বছর) স্থগিত রাখা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। তদুপরি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর অথবা আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে।

    প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণভাবে নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যৌথ তত্ত্বাবধানের কথাও উল্লেখ আছে। এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন স্থগিত রাখা, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ নির্দিষ্ট শর্তে ফেরত দেওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তি পর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলমান; প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হলে তা দ্বিতীয় দফা বৈঠকে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • কানাডার ফেডারেল সংসদে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হলেন ডলি বেগম

    কানাডার ফেডারেল সংসদে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হলেন ডলি বেগম

    কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। তিনি ১৪ এপ্রিল টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের ফেডারেল উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক ভোটে জেতার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসেবে স্থান করে নেন।

    প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ডলি বেগম প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই বিশাল বিজয় লিবারেল পার্টির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ — পার্লামেন্টে পার্টির অবস্থানকে শক্ত করার ক্ষেত্রে এ আসনের গুরুত্ব ছিল গভীর।

    ডলি বেগম শুধু একটি প্রতিশ্রুতিশীল ভোটজয়ী নেতা হিসেবে নয়, বরং কানাডার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে অভিবাসী কমিউনিটিদের কণ্ঠস্বরের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি নিজেকে সামাজিক ন্যায়বিচার, অভিবাসী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংরক্ষণ-উন্নয়নের দিকে নিবেদিত একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন।

    আগে ডলি অন্টারিও প্রদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে এমপিপি (Member of Provincial Parliament) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে স্থানীয় সমস্যা বোঝা ও সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিতে সাহায্য করেছে।

    নিজের বিজয় ভাষণে ডলি বেগম বলেন, ‘‘এই জয় কেবলই একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়, এটি বহুসাংস্কৃতিক কানাডার অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনারই জয়।’’ তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করতে তিনি জোরালোভাবে কাজ করবেন।

    বাংলাদেশি অভিবাসী সমাজ ও স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে এই জয়ের ব্যাপারে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ডলি বেগমের এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি ও নেতৃত্ব প্রশ্নে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা দেবে। ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে তার কার্যক্রম ও প্রতিনিধিত্ব কিভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন নজরকাড়া বিষয়।

  • খুলনায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত

    খুলনায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত

    খুলনার দৌলতপুরে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুজন মারা গেছেন। সংঘর্ষটি দৌলতপুর থানার রেলিগেট এলাকায় ঘটে।

    ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ঘাতক বাস ও dessen চালককে গ্রেপ্তার করেছে। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি দৌলতপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ выяс করার চেষ্টা চলছে। আহত বা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য স্বীকৃত হওয়া মাত্র তা জানানো হবে।

  • একুশে টিভির ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য উদযাপন

    একুশে টিভির ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য উদযাপন

    “পরিবর্তনে অঙ্গিকারবদ্ধ” শ্লোগানকে হাতে নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পা দিল। এ উপলক্ষে খুলনায় একটি বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন করা হয়।

    পহেলা বৈশাখ সকাল ৯টায় খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা, কেক কাটা, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও বৈশাখী আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালামের পক্ষে খুলনা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম নূর নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং চ্যানেলের জন্মদিন উদযাপন করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস.এম. মনিরুল হাসান বাপ্পী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও যুগ্ম-মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম।

    খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক দিদারুল আলম, কৌশিদ দে বাপ্পী ও আহমদ মুসা রঞ্জু, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, কোষাধ্যক্ষ ও খুলনা টিভি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম মতি সহ অন্যান্য সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসান হিমালয়, নির্বাহী সদস্য কেএম জিয়াউস সাদাত ও দৈনিক জন্মভূমির যুগ্ম-সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামানও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

    অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, সিপিবি নেতা কমরেড মিজানুর রহমান বাবু, জনতা ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে মো. জাহাঙ্গীর আলম। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন স্তরের উপস্থিতিদের মধ্যে ছিলেন শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, খুলনা সদর থানা বিএনপির সভাপতি কেএম হুমায়ুন কবির, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, খুলনা সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পি। বিএনপির নেতারা জাফরী নেওয়াজ চন্দন, ইকরামুল কবীর মিল্টন, জিএম হারুন অর রশীদ, মো. আমিন আহমেদ ও মেশকাত আলী উপস্থিত ছিলেন। নারীনেত্রী হোসনেওয়ারা চাঁদনী, সুজানা জলি ও উন্নয়ন কর্মী মো. আব্দুল হালিমসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উৎসবকে জমজমাট করে তোলেন।

    বাংলা নববর্ষ ও একুশে টিভির জন্মদিনকে কেন্দ্র করে হওয়া এই আয়োজনটি ছিল আন্তঃপেশাগত মিলনমেলা ও উৎসবমুখর — যেখানে সংবাদ, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব একসঙ্গে উপস্থিত ছিল।