Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্বিবেচনার পথে সরকার

    আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্বিবেচনার পথে সরকার

    সরকার ২০১৭ সালের আলোচিত বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার চিন্তা করছে, যা আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    মন্ত্রী জানান, চুক্তিতে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ মূল্য ও অনুকূলে না থাকা শর্তাদি প্রকাশ পাওয়ার পর সরকার এটি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চুক্তিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তখনকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেশি ধার্য করা হয়েছিল।

    সরকারি পর্যায়ে এই চুক্তি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ কমিটি চুক্তির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করা হয়েছে।

    কমিটির প্রতিবেদন ও পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তি এখন দেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বর্তমানে দুইটি পথ বিবেচনা করছে — আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (আর্বিট্রেশন) বিষয়টি নিয়ে যাওয়া বা সরাসরি আদানি পাওয়ারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্ত সংশোধন করে বিদ্যুতের দাম কমিয়ে আনা।

    মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় কমিটির সুপারিশের আলোকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য চুক্তির বিতর্কিত শর্ত ঠিক করা ও ভোক্তা ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষা করা।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি ২৫ বছরের মেয়াদের এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে। শুরু থেকেই চুক্তিটি স্বচ্ছতা ও মূল্য নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়। সরকার এখন সেই সমালোচনার প্রেক্ষিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি ও কৌশলগত বিকল্পগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।

  • মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত

    মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত

    প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। বিস্তারিত জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে চুক্তিভিত্তিক গ্রেড-২ পদের মাধ্যমে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত হিসেবে তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে থাকা কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

    নিয়োগ কার্যকর হবে যোগদানের তারিখ থেকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) তিনি এই পদে থাকবেন। নিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্রে নির্ধারিত হবে।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায় উপেক্ষা করে সরকার সামনে এগিয়ে গেলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ কথা বলেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা দেশের গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, ইতিহাসই তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। ‘‘বাংলাদেশের নানা সময়ে শক্তিশালী বলে পরিচিত সরকারগুলোও যখন গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তারা ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে গেছে,’’ তিনি বলেন।

    তিনি ইতিহাসের কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেলেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করার প্রেক্ষাপটই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশ বদলে যায়। এছাড়া, দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েম করার প্রচেষ্টা টেকেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    আসিফ আরও বলেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’’

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ দিয়েছে এবং দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এই ভোটের পক্ষে ছিল। ‘‘এত রক্তের বিনিময়ে যেই সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত সহযোদ্ধারা দেখেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন তারা রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবেন না,’’ তিনি বলেন।

    অবশেষে তিনি সবাইকে ফের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনারা জনগণের পক্ষে আসুন, যেন আমরা সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে গেলে, আমাদেরকে আবারও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মাঠে নামতে হতে পারে।’’

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট ঢাকায় সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিক্ষোভ ডেকেছে

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট ঢাকায় সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিক্ষোভ ডেকেছে

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট রাজধানীতে শনিবার বিকেলে সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ আদেশের বিষয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

    বুধবার নয়—আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রেস ব্রিফিং করে এই ঘোষণা জানান। তিনি জানান, সমাবেশ বায়তুল মোকার্রম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং সরকার ফ্যাসিবাদী পথে হেঁটে সংবিধান সংস্কারকে ধামাচাপা দিয়ে কেবল সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান রক্ষার জন্য ও নির্ধারিত দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া ১১ দলের আর কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি আরও জানান, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিক্ষোভ কর্মসুচি এবং পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ চূড়ান্ত করা হবে।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের ফলকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে তারা অত্যন্ত বিস্মিত, আহত ও মর্মাহত।

    সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল ওয়াকআউট করে। মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে তখন তারা অভিযোগ করে যে ‘জুলাই সনদ’ আদেশ জারি করা হচ্ছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে মিসকোড করা হয়েছে; এসব কারণে বিকেলে ৫টা ৪৫ মিনিটে বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

    ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তারা প্রতিকার চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি কোনো একদলীয় ইস্যু নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি দল ও বিরোধী দল—সবাই এই ইস্যুতে একমত ছিলেন, তাদের পক্ষে বলা ও প্রচারণাও করা হয়েছিল। কিন্তু যে প্রতিকার পাওয়া হওয়া উচিত ছিল তা না পাওয়ায় দেশবাসীর রায়ের সঠিক প্রতিফলন হচ্ছে না—এই অবমূল্যায়ন তারা মেনে নিতে পারবেন না। এজন্যই তারা প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছেন।

    জোট কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণার ফলে আগামীদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং সংসদভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে তা নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজনৈতিক এই উত্তাপ নিয়েই রাষ্ট্র ও প্রার্থীদের মধ্যে আগামীদিনে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা ও কর্মসূচির ধারা অনুসরণ করবে।

  • মার্চে রেকর্ড রেমিট্যান্স: প্রবাসীরা পাঠালেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    মার্চে রেকর্ড রেমিট্যান্স: প্রবাসীরা পাঠালেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    দেশে সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে বুধবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। এটি একক মাস হিসেবে দেশের রেমিট্যান্স ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। (প্রায় পৌনে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।)

    তুলনায় দেখা গেলে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স ছিল ৩০২ কোটি ডলার; অর্থাৎ মার্চে ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের একই সময় (মার্চ ২০২৫) যে রেমিট্যান্স এসেছিল, সেটির তুলনায় এবার প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি পাঠানো হয়েছে। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের দিনগুলোতে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স কয়েকটি মাসেই দেখা গেছে—গত বছরের মার্চে ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩.২৯ বিলিয়ন), ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন) এবং জানুয়ারিতে ছিল ৩১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৩.১৭ বিলিয়ন)। চলতি বছরের মার্চ এসব রেকর্ডকে ছাপিয়ে নতুন শীর্ষে পৌঁছেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ মাসে অনেক ক্ষেত্রে ঈদ-বর্ষবরণের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় খরচের কারণে প্রবাসীরা বাড়তি রেমিট্যান্স পাঠান; এ কারণটিই এই সিজনাল প্রবণতা বাড়ায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশে এখনও কর্মসংস্থান সুযোগ স্থিতিশীল রয়েছে এবং সেখানে বেকারত্ব বড়ভাবে বেড়ে না যাওয়ায় প্রবাসীরা নিয়মিত আয় পাঠাতে পারছেন। জীবনযাত্রার ব্যয়ও দ্রুত না বাড়ায় প্রেরণ ক্ষমতা তুলনায় বজায় থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    চ্যানেলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া মার্চে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে আনুমানিক ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে এই ডিজিটাল ও ব্যাংকিং চ্যানেলের বিশ্লেষণ তুলে ধরে যে, রেমিট্যান্স প্রবাহে আসা উত্থান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা স্ট্যান্ডিং ও ভোক্তা খরচ সামলাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • এখন থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা—আগে দিলে বিশেষ সুবিধা

    এখন থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা—আগে দিলে বিশেষ সুবিধা

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, এখন থেকে করদাতারা সারা বছর জুড়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান এবং জানান, যারা আগে রিটার্ন জমা দেবেন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হবে।

    চেয়ারম্যান বলেন, আয়কর রিটার্ন সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য রিটার্ন জমার পদ্ধতিটি চার ধাপে ভাগ করা হবে। এর ফলে করদাতাদের কাজ সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কাজও দ্রুততর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়ে আশাবাদী হন এবং জানান যে আগামী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    পার্বত্য নিয়ম অনুসারে নয়, বর্তমানে প্রতিটি বছরের জুনের শেষ থেকে পরবর্তী বছরের নভেম্ব্র পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার একটি রুটিন ছিল। তবে চলতি বছরে সময় বাড়িয়ে রিটার্ন জমার মেয়াদ ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছিল, যা করদাতাদের জন্য সুবিধাজনক প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • তেহরানের শতবর্ষী ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    তেহরানের শতবর্ষী ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’-এ হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। হামলাটি কারা চালিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র না ইসরায়েল—তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই তথ্য জানান। ওই পোস্টে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে গৌণ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো ব্যাপকভাবে নষ্ট দেখা যায়।

    কেরমানপুর কেন্দ্রটিকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এই আঘাত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানের ওপর এই হামলা জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    পাস্তুর ইনস্টিটিউটটি ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং আন্তর্জাতিক পাস্তুর নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে বিশ্বস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তাই এই ধরণের আঘাতকে কেবল একটি ইমারত-ভাঙচুর না বলেই, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত পরিপ্রেক্ষিত থেকে দেখা হচ্ছে।

    ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মাস ধরে চলা সংঘর্ষে ইরানে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রয়েছে ৯০,০৬৩টি আবাসিক ভবন, ২১,০৫৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ৭৬০টি শিক্ষাকেন্দ্র।

    সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপরও আঘাত এসেছে—ইরানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৫৬টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভসহ দেশটির নামকরা ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতেও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর তালিকায় রয়েছে ইসফাহানের সপ্তদশ শতাব্দীর চেহেল সোতুন প্রাসাদ এবং দেশের প্রাচীনতম জুমার মসজিদ মাসজিদ-ই জামে।

    সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী রেজা সালেহি আমিরি এই হামলাগুলোকে আইনি কোনো ভিত্তি ছাড়াই ইরানি পরিচয়ের ওপর একটি “পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত আক্রমণ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা সেই নৈতিক ও আইনি নিয়মগুলোর সম্পূর্ণ পতন দেখছি, যা আগে সংঘাতগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করত।”

    ঘটনার দায় কার না তার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এই সংঘর্ষজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা

  • ইরানের কড়াকড়িতে হরমুজে আটকা পড়েছে ২,১৯০ জাহাজ

    ইরানের কড়াকড়িতে হরমুজে আটকা পড়েছে ২,১৯০ জাহাজ

    ইরানের অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালীতে বুধবার আরব উপসাগরে অন্তত ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। এদের মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাস ট্যাংকার রয়েছে — যা হচ্ছে বিশ্ব জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত।

    সমুদ্র গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, আটকা থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ এবং ৫০টি খুব বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ রয়েছে। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হিসেবে দেখা দেয় কারণ এই প্রণালী আগেই প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচলের জন্য পরিচিত ছিল, কিন্তু মঙ্গলবার ও বুধবার কেবল ছয়টি জাহাজই প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে।

    যে জাহাজগুলোতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থিত লারাক দ্বীপের একটি অনুমোদিত করিডোর দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি জাহাজ ওই করিডোর ব্যবহার করেছে; অধিকাংশই ইরান বা তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কিত দেশগুলোর জাহাজ।

    ইরান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে প্রণালিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ওই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস প্রবাহিত হয় — তাই ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

    যেসব জাহাজকে পার করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে, তাদেরকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত মাশুল দিতে হচ্ছে — যা আন্তর্জাতিক মহলে ‘তেহরান টোল বুথ’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। যদিও তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর জাহাজের ওপর এই মাশুল মওকুফ করা হতে পারে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেট্রোনাস, সাপারা এনার্জি ও এমআইএসসি-র মতো কোম্পানির মালিকানায় থাকা বেশ কয়েকটি ট্যাংকার পারাপারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। তেহরান কুয়ালালামপুরকে আশ্বস্ত করেছে যে, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে তাদের জাহাজে টোল আরোপ করা হবে না।

    কিন্তু কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বিপুল সংখ্যক জাহাজ নোঙর করে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় যাতায়াতে বড় বিলম্ব হতে পারে। সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর জ্বালানি রফতানি প্রায় স্থগিত রয়েছে, ফলে শত শত জাহাজ এবং আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক উপসাগর ও আশেপাশে আটকা পড়েছেন।

    চীন জানিয়েছে যে, সম্পর্কিত পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে এবং জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা দেখাচ্ছে দুটি কন্টেইনার জাহাজ উপসাগর ছাড়েছে — যা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি নয় এমন কন্টেইনার জাহাজের প্রথম র‍্যাডিক্যাল উদাহরণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। আরও কিছু জাহাজ, যার মধ্যে রয়েছে একটি গ্রিক-পরিচালিত পাকিস্তানি অপরিশোধিততেল ট্যাঙ্কার ও জরুরি সরবরাহ বহনকারী বেশ কয়েকটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি জাহাজ, বিকল্প পথে নিরাপদে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

    নাবিকরা মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো ঝুঁকি এড়াতে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে — রাতে চালানো, ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা ইত্যাদি।

    এই সংকটটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তীব্র করেছে। ব্রিটেন নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার উপায় খুঁজতে প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। অন্যদিকে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

    এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তেহরানকে অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন এবং সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ইরান যদি তা না করে তাহলে ওয়াশিংটন কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

    পরিস্থিতি চলমান—প্রায়শই দ্রুত পরিবর্তনশীল—তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব বাড়তে পারে এবং সামনের দিনগুলোতে আরও কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ধরনের জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • খুলনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের যোগদান

    খুলনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের যোগদান

    খুলনা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেন মিজ হুরে জান্নাত। এই ঘরানার ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ন মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকালে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন মিজ হুরে জান্নাত। তিনি বিদায়ী জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    মিজ হুরে জান্নাত বিসিএস (প্রশাসন) ২৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। এর আগে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার নিজ জেলা দিনাজপুর।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত রোববার এই নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়। একই আদেশে দেশের আরও ১০টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা আসে।

    খুলনার প্রশাসনিক ইতিহাসো মতে, ১৮৪২ সালে এই এলাকা যশোর জেলার মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে রূপসা নদীর তীরভূমির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব মাথায় রেখে ১৮৮১ সালে খুলনাকে আলাদা জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়। অবকাঠামো整র কাজ শেষ হওয়ার পর ১৮৮২ সালে সাতক্ষীরা মহকুমা নতুন গঠিত খুলনা জেলায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে খুলনা জেলা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

    이번 নিয়োগের মাধ্যমে খুলনায় প্রথমবারের মতো মহিলা জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নিলেন, যা স্থানীয় প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সংকটে বিক্রয় প্রতিনিধিদের ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সংকটে বিক্রয় প্রতিনিধিদের ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তীব্র জ্বালানি সংকটে প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেছে এস আর সমিতির নেতাকর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। অনেক পাম্প সেবাহীন থাকায় চালকরা এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যেখানে পাম্প খোলা পাচ্ছে, সেখানে ভোর থেকেই মানুষের দীর্ঘ সারি—ঘন্টা কাটিয়ে অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

    বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কাজে দ্রুত চলাফেরা না করতে পারায় তাদের সময় ও আয়—উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আম জনতার পাশাপাশি পণ্যবিতরণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এলাকায় জনজীবন স্তব্ধতার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় ব্যবসা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে—এমন আশঙ্কা লোকজনের। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

    এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ এবং উপজেলা পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিপলু জামানের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা আলোচনায় বসেন। ইউএনও জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা তাদের মূল দাবি উল্লেখ করে—তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিতে—কর্মসূচি প্রত্যাহার করে উপজেলা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, কর্তৃপক্ষ ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।