Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ছেলেকে হত্যার দায়ে সালমান ও আনিসুলকে অভিযুক্ত করলেন শহীদ আনোয়ারের বাবা

    ছেলেকে হত্যার দায়ে সালমান ও আনিসুলকে অভিযুক্ত করলেন শহীদ আনোয়ারের বাবা

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছেলেকে গুলিতে নিহত হওয়ার দায় সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ওপর চাপিয়েছেন শহীদ আনোয়ারের বাবা আল আমিন পাটোয়ারী। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চে সাক্ষ্য প্রদানের সময় এ অভিযোগ করেন।

    সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে। ഇന്ന് এই মামলার তৃতীয় দিনের শুনানিতে আল আমিন চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে হাজির ছিলেন।

    ৬৫ বছর বয়সী আল আমিন একজন অবসরেরত মাদরাসা শিক্ষক। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল ছয়টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তার ৩৫ বছর বয়সী ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ছেলের কথা বলতে গিয়ে আল আমিন several বার কাঁদতে গিয়ে চোখভরা কণার স্যাঁতসেঁতে ব্যথা প্রকাশ করেছেন।

    জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট বিকেল পাঁচটার পর ছেলের মোবাইল বন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজির শুরু করি। লোকমুখে শুনি আনোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে ডা. আজমল হাসপাতালে ভর্তি আছে। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে আনোয়ারসহ প্রায় ১৫–২০ জনের লাশ দেখি; সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। সেই ধরনে তিনি নিজের ছেলেকে শনাক্ত করেন এবং সঙ্গে থাকা ছোট ছেলে মো. আব্দুল্লাহর সঙ্গে মিলে ছেলেটিকে বাসায় নিয়ে আসেন।

    আল আমিন বলেন, হাসপাতালে নিহতদের রক্তাক্ত দেহ দেখে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিহতের মৃত্যুসনদ সংগ্রহের পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকায় আনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

    সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আল আমিন আরও বলেন, তার ছেলে হত্যার জন্য তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের দায়ী করছেন। সাক্ষীর দাবি, ওই ব্যক্তিরা বৈঠক করে কারফিউ জারি করে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তৎপরতায় সাধারণ ছাত্র-জনতা ও আন্দোলনকারীদের ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয় — এ কারণেই তিনি তাদেরকে দায়ী করছেন।

    আল আমিন পরামর্শ দেন, তার ছেলেকে হত্যার সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে এমন নির্মম ঘটনা আর যেন না ঘটে সে ধরনের শান্তি চাইতে চান।

    সাক্ষ্যগ্রহণের পর আল আমিনকে কোর্টে জেরা করেন অভিযুক্তদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। আগামী ৫ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামিম; তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও অন্যান্য সহকারী প্রোসিকিউটর।

  • ত্রয়োদশ সংসদ: অধিবেশন রোববার সকাল পর্যন্ত মুলতবি

    ত্রয়োদশ সংসদ: অধিবেশন রোববার সকাল পর্যন্ত মুলতবি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। স্পিকার তিনি বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে এ সিদ্ধান্ত জানান। ঘোষণা অনুযায়ী ওইদিন বেলা ১১টায় সংসদের দ্বিতীয় কার্যদিবস শুরু হবে।

    পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। একইভাবে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ গ্রহণ করান।

    আদ্যতন সেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী ভাষণ দেন। পরে স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সাম্প্রতিককালে মৃত্যুবরণকারী সংসদ সদস্য ও জাতীয় নেতাদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয় এবং মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

    বিকালের সেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ শুরু করলে সেখানে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাকে সমালোচনা করেন এবং ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ সম্মন্ধীয় উক্তি করেন। এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির কিছু সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে সংসদকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। ওই অশান্তির পরে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

  • সংসদ যেন কারও চরিত্রহননের মঞ্চে পরিণত না হয়: জামায়াত আমির

    সংসদ যেন কারও চরিত্রহননের মঞ্চে পরিণত না হয়: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে জাতীয় সংসদ কোনো ব্যক্তির চরিত্রহননের কেন্দ্র হয়ে উঠবে না। তিনি বলেন, সংসদ যেন দেশের কল্যাণে কাজ করা একটি কার্যকরী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতের কিছু অধিবেশনে দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয় নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহাননে ব্যয় হয়েছে।

    শফিকুর রহমান স্পিকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন যে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পক্ষপাত দেখানো হলে চলবে না। ‘‘আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না—এমনটাই আমরা আশা করি। আপনার কাছ থেকে সুবিচার পাব, জাতির কল্যাণে আমরা যে কথা বলতে চাই, তা বলার সুযোগ পাব,’’ তিনি বলেন।

    তিনি আশা ব্যক্ত করেন নতুন সংসদটি গতিশীল হবে এবং পুরনো খারাপ নজির পুনরাবৃত্তি হবে না। এছাড়া তিনি বলেন, আজকের এই সংসদে অনেক নতুন তরুণ সদস্য এসেছেন। বয়সে হয়তো আমিও কিছুটা বড়, তবু নিজেকে তরুণ মনে করেন এবং বললেন—তার জীবনে এটি প্রথম সংসদ।

    বিরোধী দলীয় নেতা পুনরায় বলেন, অতীতের সংসদগুলোতে দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়গুলো ভুলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের জন্য সময় ক্ষেপণ হয়েছে; নতুন সংসদে এ ধরনের আচরণ বন্ধ হওয়া জরুরি। তিনি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যেন কেউ সামান্যতম সুযোগও পায় না কারো চরিত্রহননের জন্য।

    বক্তব্যের শেষভাগে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় জীবনে ঘটে যাওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও গুমের ঘটনাসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন যে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অনেকে জীবনও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকে জীবন দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন।’’ এরপর তিনি আবারও পুরনো স্লোগান উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’—এখনও তিনি সেই স্লোগান দিতে চান।

  • ২২ ক্যারেট সোনার ভরির দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা ছাড়ালো

    ২২ ক্যারেট সোনার ভরির দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা ছাড়ালো

    টানা দ্বিতীয় দিন সোনার দাম বাড়ল — বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার সকালে ঘোষণা করে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি বৃদ্ধি রেখে দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড)-র মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভরি=১১.৬৬৪ গ্রাম হিসেবে দেশের বাজারে এখন সোনার দর নির্ধারণ করা হলো — ২২ ক্যারেট: ২,৭০,৪৩০ টাকা; ২১ ক্যারেট: ২,৫৮,১২৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট: ২,২১,২৬৬ টাকা; এবং সনাতনী পদ্ধতির সোনা প্রতি ভরি: ১,৮০,৬১৭ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,৭০৭ টাকা। সমতুল্যভাবে ২১ ক্যারেট রুপা ৬,৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৫,৪৮২ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৪,০৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের এই নতুন মূল্য নির্দেশিকা ভোর থেকে কার্যকর থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারে ক্রমশ মূল্য সমন্বয় দেখা যাবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ: খেলাপি ঋণ আদায়ে তফসিলি ব্যাংকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ বাধ্যতামূলক

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ: খেলাপি ঋণ আদায়ে তফসিলি ব্যাংকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ বাধ্যতামূলক

    বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশনা জারি করেছে। চারপাশে সময়সীমা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার একটি সার্কুলার প্রকাশ করেছে, যাতে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতিতে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। এই সময়সীমা ব্যাংক খাতের তারল্য এবং আর্থিক স্থিতি বজায় রাখার প্রয়াসে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু দ্রুত টাকা আদায় নয়—একসাথে এটি বিচার ব্যবস্থায় মামলা কমিয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়সাপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে কার্যকর সমঝোতার সুযোগ তৈরি করতে চায়। বিশেষ করে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় যেতে পারে এমন বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগে মীমাংসার সুযোগ পাবে।

    সার্কুলারে নির্দেশনা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে হবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত এবং বিশেষায়িত মধ্যস্থতা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠিত প্যানেল থেকে। ওই প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

    মধ্যস্থতাকারী হওয়া বা প্যানেলে থাকার জন্য সার্কুলারে মোট ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা ও মধ্যস্থতা সম্পর্কিত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি না থাকা এবং যথাযথ আর্থিক সক্ষমতা।

    ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীগণের হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।

    এছাড়া, গ্রাহকদের মধ্যে এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দায়িত্বও ব্যাংকগুলোর ওপর দেওয়া হয়েছে, যাতে ঋণগ্রহীতারা আদালত ছাড়াই দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে আপস-মীমাংসার সুবিধা ব্যবহার করতে পারে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এই নির্দেশনা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আনা হয়েছে, তবে নতুন নীতিমালা বিশেষভাবে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ মীমাংসায় জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ উভয় স্তরের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত কার্যকরী এবং সুসংগঠিত পদক্ষেপ হবে।

  • বসরার কাছে ট্যাংকারে হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

    বসরার কাছে ট্যাংকারে হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

    ইরাকের বসরা বন্দরের নিকট জলসীমায় এক মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাগদাদস্থ ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং মার্কিন মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘সেফসি বিষ্ণু’ বসরা বন্দরের কাছাকাছি হামলার শিকার হয়, এবং সেখানে দুর্ভাগ্যবশত একজন ভারতীয় ক্রু প্রাণ হারান।

    দূতাবাসের বরাতে জানানো হয়েছে, বাকিদের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় ক্রুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; নিহতের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দূতাবাস মৃত নাবিককে উদ্ধার করা বাকি পরিবারকে সাহায্যসহ প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে ইরাকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

    ইরাকি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, বসরা প্রদেশের আল-ফাও বন্দরের কাছে দুইটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো বলছে, হামলাটি বিস্ফোরকবাহী বোট ব্যবহার করে করা হয়েছিল যা দুটি ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনার পরে ইরাকের সব তেলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে; যদিও বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ ও হতাহতদের সুস্থতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া এড়িয়োলে দূতাবাস এবং ইরাকি কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আপডেট জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ইরান দাবি: শিন বেট সদরদপ্তর ও দুই বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

    ইরান দাবি: শিন বেট সদরদপ্তর ও দুই বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

    ইরান বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে তারা ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের সদরদপ্তর এবং দু’টি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এটি ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ভূমধ্যসাগর উপকূলে অবস্থিত পালমাহিম বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিকে লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি তেল আবিবে অবস্থিত শিন বেটের সদর দফতরও নকশা করা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এ হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৭৯ জন আহত হয়েছেন; তাঁদের অনেকেরই অবস্থা হালকা। মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধে শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে পরিচালিত হামলায় আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২ হাজার ৭৪৫ জনে পৌঁছেছে।

    এদিকে কুয়েতেও বিমানবন্দরে ড্রোন আঘাতের ঘটনা এসেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকটি ড্রোন আঘাত করেছে এবং দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে এতে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

    এই ঘটনার বিবরণ আল জাজিরা ও এএফপি থেকে পাওয়া সংবাদে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে তৎক্ষণাৎ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • খুলনায় মানববন্ধন: শ্রমিকদল নেতা মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও অর্থদাতাদের গ্রেফতারের দাবি

    খুলনায় মানববন্ধন: শ্রমিকদল নেতা মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও অর্থদাতাদের গ্রেফতারের দাবি

    রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলে সাবেক আহ্বায়ক ও রূপসা‑বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়কপরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও অর্থযোগানদাতাদের দ্রুত গ্রেফতা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টায় খুলনার পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানবন্ধনটি সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা বসির হায়দার পল্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ শেখ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ও জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম-সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান।

    আলী আকবর রাজুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন রূপসা-বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন শেখ, সাবেক ছাত্রনেতা মনজুর আরেফিন, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক মনিরা সুলতানা, থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গাজী, উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল হাওলাদার, যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তরিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু শেখ।

    এছাড়া বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম, বাবুল শেখ, জাকির হোসেন, বাগমারা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসাইন, সাবেক সভাপতি হুমায়ুন শেখ, ট্রলার মাঝি শ্রমিক ইউনিয়নের আলী শিকদারও বিভিন্ন বক্তব্যে হত্যাকারী ও অর্থদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও কড়া শাস্তির ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে নিহত মাসুম বিল্লাহর ছেলে আবিদ হুসাইনও উপস্থিত ছিলেন।

  • রামপালে মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ১২ জন নিহত

    রামপালে মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ১২ জন নিহত

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর তিনটার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ১২ জন মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।

    সংঘর্ষের পর আটজনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বাকি চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছুকালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা ঘটনাস্থল ও আহতদের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন।

    প্রতক্ষদর্শীরা জানান, যে সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে যানবাহন দুটির গতিবেগ খুব বেশি ছিল। দ্রুত গতিতে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রী নিহত হন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেককেই রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, আদি হিসাব অনুযায়ী চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে; তবে হাসপাতালে আরও মরদেহ আসায় মোট নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানিয়েছেন, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতলে আটজনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী এবং দুইজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা চলছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, হতাহত ও আহতদের পরিবারের খোঁজ নেয়া হচ্ছে, তবে অনেকের নাম-ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এক স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু জানান, তার পরিবারের বড় ছেলে জনি ফোন করে বলেছিল—‘আমি ছাড়া পরিবারের সবাই একই গাড়িতে ছিল, তারা সবাই মারা গেছে। আমি রামপাল হাসপাতালে যাচ্ছি, তোমরা খুলনা মেডিকেলে চলো।’ মিঠু বলেন, তারা হাসপাতালে এসে কাউকে জীবিত পাননি, সবাই মারা গেছে।

    বর্ধমান তদন্ত চলছে; পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ শনাক্ত করতে চেষ্টা করছে।

  • বাংলাদেশ আমাদের ‘দুমবার’ মতো পিটিয়েছে, ভয় লাগছে—সহযোগী দেশ হয়ে যাচ্ছি কি না: মোহাম্মদ আমির

    বাংলাদেশ আমাদের ‘দুমবার’ মতো পিটিয়েছে, ভয় লাগছে—সহযোগী দেশ হয়ে যাচ্ছি কি না: মোহাম্মদ আমির

    বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা পাকিস্তানকে আট উইকেটের বদলে ৮ উইকেটে হারিয়েছে। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের তৎপর বোলিংয়ে সফরকারীরা মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়; এরপর লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ মাত্র ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে।

    পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ ও পাকিস্তান দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কাটাছেঁড়া বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই ফল এমন যেন “সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন” – বাংলাদেশ এমন উইকেট তৈরি করেছে যা পাকিস্তান চিন্তা করেই পাইনি।

    আমির বলেন, “মিরপুরে আমরা ভাবছিলাম স্পিনিং উইকেট হবে, কিন্তু বাংলাদেশ এমন বাউন্সি, গতিসম্পন্ন উইকেট বানিয়ে আমাদের অবাক করেছে। আমরা টার্নিং উইকেটের কথা ভাবছিলাম; ওরা বানিয়ে দিল গতির উইকেট — একেবারে ‘আউট অব সিলেবাস’ প্রশ্ন। আমাদের ব্যাটসম্যানরা ১৪০ প্লাস গতির বোলিং দেখলেই অনভ্যাসিক আচরণ শুরু করে দেয়। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ দুর্দান্ত বল করেছে, বিশেষ করে নাহিদ ১৪০ কিঃমিঃ বেশি গতিতে বল করছিল।”

    আমির পাকিস্তানি ব্যাটিং ও নির্বাচনী নীতিকেও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অনুশীলনের অভাব, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা এবং সিনিয়রদের অভাবকে দায়ী করেন। তার মন্তব্য, “শুধু তরুণদের লাগিয়ে দল হওয়া যায় না; সঠিক নির্দেশনার জন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দরকার। মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো কয়েকজনের টেকনিকে ভুল আছে — তারা মিড উইকেটে খেলতে চায়, অফ স্টাম্পের বল বোঝে না।”

    তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে ফ্রন্ট লাইন ব্যাটিংয়ে এমন দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ‘অ্যাসোসিয়েট’ বা সহযোগী দলের স্তরে নেমে যেতে পারে। “আমরা এখন বাংলাদেশকেও হারছি; আমার ভয় হচ্ছে, আমরা কি সহযোগী দেশের মানে নামতে যাচ্ছি?”—এমন উদ্বেগ জানিয়েছেন আমির। তিনি কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ না দেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

    শেষে তিনি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে কড়া সম্বর্ধনা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য একই ধরনের উইকেট রাখার কথাও বলেছেন। “তারা আমাদের দুম্বার মতো মেরেছে, যেন নিজেদেরও মজা পাচ্ছিল। সেই উইকেটে আমরা ১১৪ করি, তারা ১০–১২ ওভারে রান তাড়া করে ফেলল। আমি বলছি—বাংলাদেশ আপনাদের কাছে স্পিন ট্র্যাক দেবে না; তারা এমনই গতিসম্পন্ন উইকেটে খেলবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, বিশেষ করে নাহিদ রানা; তারা সিরিজ জিততে এই সুযোগটাই নেবে।”

    পাকিস্তান সিরিজের বাকী ম্যাচগুলোতে এই নিয়ে সমাধান ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।