Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সিটি ও আন্তঃজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আজ হতে পারে

    সিটি ও আন্তঃজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আজ হতে পারে

    জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি সামনে রেখে সিটি ও আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে সরকারগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ভাড়া পুনঃনির্ধারণ কমিটি প্রতিটি কিলোমিটারে ২২ পয়সা বাড়ানোর বিষয়ে মোটামুটি একমত হলেও এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি; এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ হতে পারে।

    রোববার রাতে বনানীর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ওই ১২ সদস্যের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ কমিটির বৈঠক হয়। সভা সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় রাত ১০টার দিকে শেষ হলেও তখন ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়নি, বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    কমিটির এক সদস্য জানান, আলোচনা চলাকালে সদস্যেরা সাধারণত এক মোতায়েনে এসেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের সিটি বাসে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ২ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬৭ পয়সা এবং আন্তঃজেলা বাসে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা করার সমঝোতা হয়েছে। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা বৃদ্ধি ধরেই আলোচনা এগেছে।

    তবে এই প্রস্তাব এখনও রেজোলিউশনের আকারে অনুমোদিত হয়নি বা চূড়ান্ত স্বাক্ষর হয়নি। আগামীকাল (সোমবার) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ শেষে চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হবে এবং মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। ফলে প্রস্তাবিত ২২ পয়সা ভাড়া কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

    বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বাস মালিকপক্ষ বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েছে এমন বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরে ভাড়া বৃদ্ধির যুক্তি দিয়েছেন। তাদের মতে পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো প্রয়োজনীয়।

    বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, ভাড়া নির্ধারণের সময় পরিবহন ব্যয়ের বিশ্লেষণ করা হয় এবং কমিটির সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়; মন্ত্রণালয় সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি গেজেট জারি করে নতুন ভাড়া কার্যকর করে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ে।

    এর আগে শনিবার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীরা এখন ভাড়া চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

  • কুইক রেন্টাল প্রকল্পে লুটপাট ও পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    কুইক রেন্টাল প্রকল্পে লুটপাট ও পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, কুইক রেন্টাল প্রকল্পের আড়ালে লুটপাট করে বিদেশে পাঠানো অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কাজে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানটি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

    মন্ত্রী জানান, গত সময়ে ’বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ নামে একটি আইন প্রণীত হয়েছিল, যা উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিল। পরে সেই আইনই অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে এবং অসংগত মূল্যে পারিশ্রমিক নির্ধারণ হওয়ার রাস্তা খুলে দেয়।

    আইনের ৫ ধারার অধীনে গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে ট্যারিফ নির্ধারণ করা হতো—মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ ও অতিরিক্ত মূল্য ধার্য করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সম্পৃক্ততা থাকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই বিশেষ বিধান বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল এবং পরে ৭ এপ্রিল ২০২৬ সালে তা জাতীয় সংসদে বিল হিসেবে পাস হয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

    অবশেষে তিনি বললেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও კომিটি কাজ করছে। তদন্ত ও অর্থ রিকভারি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।

  • অতীতে ছাত্ররাজনীতি করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন: নাহিদ ইসলাম

    অতীতে ছাত্ররাজনীতি করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অতীতে কেউ যদি ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগে ছিল—তাহলে সেটিকে বাধা বলা যাবে না। যারা এখন এনসিপিতে যোগদান করবেন, তারা এনসিপির নীতি ও আদর্শ মেনে সংগঠক বা নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবেন।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরের দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের এনসিপিতে যোগদানের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ আরও বলেন, ‘‘যারা ফ্যাসিস্ট কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, গণহত্যায় অংশগ্রহণ করেছেন, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে—এসব ক্ষেত্রে তাদের এনসিপিতে জায়গা নেই।’’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপিতে আসা প্রতিটি সদস্য গঠন-বিধি ও দায়িত্ববোধ অনুযায়ী কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এমন এক রাজনীতি গড়তে চাই যে যেখানে বৈষম্য থাকবে না, যেখানে গণতন্ত্রই প্রধান ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের লক্ষ্য।’’ তিনি যোগ করেন, আগামী দিনে ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’’ আকাঙ্ক্ষা মাথায় রেখে সবাইকে একসঙ্গে সামনের দিকে এগোতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

    আহ্বায়ক দাবি করেন, আজ যারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন, তারা বহুদিন ধরেই তাদের সঙ্গে নৈতিকভাবে একসঙ্গেই ছিলেন; কেবল প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। তিনি সারাদেশের তরুণ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষকে আহ্বান জানান—এনসিপির হাত শক্তিশালী করুন এবং দলের সঙ্গে যোগ দিন।

    নাহিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের বুকে নতুন কোনো স্বৈরশাসন যাতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে না, সে লক্ষ্য ধরে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষের দেওয়া সংস্কারের রায়—যে রায় জনগণ গণভোটে দিয়েছেন—তাকে বাস্তবায়ন করা জরুরি এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

  • জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

    জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজ শনিবার প্রকাশ করা হয়।

    কমিটি গঠন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ ও অনুমোদনে করা হয়েছে, জানানো হয় এক বিজ্ঞপ্তিতে।

    জানা গেছে, ‘জাতীয় নারীশক্তি’ গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আত্মপ্রকাশ করে। তখন সংগঠনের নেতৃত্বে আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব হিসেবে মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

    শনিবার প্রকাশিত তালিকায় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সানজিদা বুশরা মিশমা। যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাফসা জাহান, নাবিলা তাসনিদ, খন্দকার খালেদা আক্তার, আশরেফা খাতুন ও মুনা হাফসাকে।

    সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে থাকছেন মঞ্জিলা ঝুমা। যুগ্ম সদস্যসচিবদের মধ্যে রয়েছেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি, নাহিদা বুশরা, কাজী আয়েশা আহমেদ, নীলা আফরোজ, মাহমুদা রিমি ও ইসরাত জাহান বিন্দু।

    যুগ্ম মুখ্য সংগঠকেরূপে কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন ইশরাত জাহান, উরসী মাহফিলা, সাদিয়া আফরিন, জয়ন্তী বিশ্বাস, সোনিয়া লুবনা, নাফিসা মুশতারী ও নাদিয়া ইসলাম মিম।

    এর পাশাপাশি রেহনুমা রুমা, ফারজানা আক্তার, মনি মুক্তা, সেজুতি আক্তারসহ আরও ৩০ জনকে সংগঠক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সংগঠন থেকে কমিটির কার্যনির্বাহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া হয়নি। আজকের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী নতুন এই কমিটি থেকে আগামী সময়ে সংগঠনের কার্যক্রম কিভাবে এগোবে, তা নজরদারি থাকবে।

  • এসএসসি: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীদের তথ্য পাঠানোর ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    এসএসসি: সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারীদের তথ্য পাঠানোর ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশ

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্তভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোকে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। বোর্ড নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্র তাদের সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রশ্নপত্র প্রাপ্তির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাঠাবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রে স্থাপিত সিসি টিভি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ডসহ ট্রেজারি থেকে যারা শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবেন তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর অবশ্যই প্রেরণ করতে হবে। এই সব তথ্য নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানোর নির্দেশনা ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ই-মেইল ঠিকানা হলো: [email protected] [/cdn-cgi/l/email-protection]।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলোকে রোববার (১৯ এপ্রিল) আজ অফিস সময়ের মধ্যে উক্ত ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বোর্ডের এই ব্যবস্থা পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

    এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী השנה পরীক্ষা শুরু হবে ২১ এপ্রিল; প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত।

  • এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র-মধ্যম উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি: ক্ষুদ্র-মধ্যম উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ

    দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ নিশ্চিত করতে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’ এবং ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশিকা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এই তহবিলের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সরকারের সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    চুক্তির আওতায় প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করবে। ঋণের পরিমাণ প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক চাপ কমাতে সর্বোচ্চ চার বছরের পে-ব্যাক পিরিয়ড রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডও রয়েছে—এতে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা থেকে মুনাফা করে কিস্তি চালানোর সুযোগ মিলবে।

    আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে একটি। তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী উদ্যোক্তা এবং নির্দিষ্ট শিল্পক্লাস্টারে কর্মরত উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি খাতের তরুণ উদ্ভাবক, আমদানি-প্রতিস্থাপনী পণ্য উৎপাদনকারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    বিশেষ সুবিধার মধ্যে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক জামানত বা স্থাবর সম্পত্তি প্রদানের শর্ত না থাকায় পর্যাপ্ত সম্পদ নেই এমন উদ্যোক্তারা সহজে প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

    এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্ব এ তহবিলের জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, এটি কেবল ঋণ প্রদানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই শিল্পায়নকে উৎসাহ দিয়ে এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত করে আরও ব্যাপক উন্নয়নতথ্য ফলাফল আশা করা হচ্ছে।

    প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ. চৌধুরী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী উভয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের CMSME খাতের সামগ্রিক সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।

  • ট্রাম্প বললেন ভ্যান্স পাকিস্তান যাচ্ছেন না — হোয়াইট হাউস বলছে যাচ্ছেন

    ট্রাম্প বললেন ভ্যান্স পাকিস্তান যাচ্ছেন না — হোয়াইট হাউস বলছে যাচ্ছেন

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার এক কর্মকর্তা জানান, ভ্যান্স পাকিস্তানে যাচ্ছেন। তবে এ ঘোষণা থেকে খানিক সময় আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভ্যান্স পাকিস্তান সফর করবেন না।

    রোববার সকালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে তেহরানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তিনি ইসলামাবাদে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধি দল সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্ধমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত বার যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল তার নেতৃত্ব দেওয়া জেডি ভ্যান্স এবার যাচ্ছেন না। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘এটি শুধু নিরাপত্তার কারণে। জেডি চমৎকার মানুষ।’’

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউস ঘোষণা পাল্টায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনায় যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, গত ১১-১২ এপ্রিলের বৈঠকেও এই ত্রয়ী উপস্থিত ছিলেন।

    ট্রাম্প শনিবার হরমুজ প্রণালিতে হামলার মাধ্যমে ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ‘‘পুরোপুরি লঙ্ঘন’’ করেছে বলে অভিযোগ করে উত্তপ্ত ভাষায় হুমকি দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তিসঙ্গত চুক্তি না নিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেবে — ‘‘ভদ্র আচরণের দিন শেষ।’’

    জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ এবিসি নিউজকে বলেন, নতুন দফার আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    এদিকে রোববারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। শনিবার এই জলপথ একদিন খুলে দেওয়ার ঠিক পরই ইরান পুনরায় এটি বন্ধ ঘোষণা করে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ওই প্রণালিতে একটি ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি খালি প্রমোদতরী ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে ইরানি বাহিনী এবং একটি জাহাজের কন্টেইনারও অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এই অবস্থার মধ্যে আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলতি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। (সূত্র: এএফপি)

  • নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে তেল আবিবে হাজারো বিক্ষোভ

    নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে তেল আবিবে হাজারো বিক্ষোভ

    ইসরায়েলের তেল আবিবে শনিবার (১৮ এপ্রিল) হাজার হাজার মানুষ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে রাস্তায় নামেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিক্ষোভের এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা বলেন, দেশ পরিচালনার নীতিতে গভীর ভুল এবং ৭ অক্টোবরের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছে।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাফায়েল পিনাইনা বলেন, “নেতানিয়াহু ভেতর থেকে আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কষ্ট করে তুলছেন। সেই কারণেই আমি এই প্রতিবাদে এসেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে দুই ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে, সেগুলোও এখনো মেটে নাই।

    লি হফম্যান-আজিভ নামে একজন সমাজকর্মী বলেন, তিনি মূলত ৭ অক্টোবর এবং তার পরের ঘটনার পর থেকে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে বিক্ষোভে এসেছেন। “এরা স্থিরভাবে তদন্ত চাই—সবারই সত্য জানার অধিকার আছে,” তিনি বলেন।

    অন্য বিয়ক্তি হাইম ট্রিভ্যাক্স বলেন, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ শুরু করা ছিল এক ভুল সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু জাতীয় স্বার্থে নয়, ব্যক্তিগত কারণে—জেল থেকে বাঁচার জন্য—এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

    প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে এখনো বড় কোনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজধানীতে এ ধরনের সমাবেশ চলমান থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে চাপ বাড়াতে পারে এবং সরকারের উপর প্রেসার বাড়াবে।

  • সাতক্ষীরায় মজুদ তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগে ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    সাতক্ষীরায় মজুদ তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগে ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মজুদ করা তেল বাড়তি দামে বিক্রি করার অভিযোগে শহরের ওই এক ফিলিং স্টেশনের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শাহেদ হোসেন এই অভিযান পরিচালনা করেন। জেলা প্রশাসনের দৈনিক জ্বালানি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশনে বর্তমানে প্রায় ১,০১,৪৩২ লিটার ডিজেল, ৫৪,৪৮৫ লিটার পেট্রোল এবং ২২,৬৮৩ লিটার অকটেন মজুদ রয়েছে।

    এর আগে সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোর মজুদ থাকা তেল পূর্বের মূল্যে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ আনার পর সেগুলো নির্ধারিত বর্তমান দামে বিক্রির কথা বলা হয়।

    তার পরও রোববার সকালে জেলার কয়েকটি স্টেশন নতুন বাড়তি দামে তেল বিক্রি শুরু করলে ট্যাগ অফিসাররা বাধা দিতে গেলে কয়েকটি স্টেশনে বিক্রি ঘণ্টাখানেক স্থগিত রাখে মালিকরা। পরে তারা আবার বাড়তি দামে বিক্রি শুরু করলে জেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করে।

    শুরুতেই ভ্রাম্যমান আদালত শহরের ওই ফিলিং স্টেশনের মালিককে জরিমানা করে এবং তাদের সতর্ক করা হয়। সহকারী কমিশনার শাহেদ হোসেন জানান, মজুদকৃত তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ পেয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জেলা ব্যাপী এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

  • খুলনায় সোমবার থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু

    খুলনায় সোমবার থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, সারাদেশে হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এজন্য শিশুদের রক্ষায় সোমবার থেকে খুলনায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

    আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নগর স্বাস্থ্য ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বলেন, হাম ও রুবেলা—উভয়ই ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে এসব রোগের জটিলতা ও মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

    আলোচনা সভায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কার্যকরী প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ, ডাঃ নাজমুর রহমান সজীব, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুলসহ অন্যান্য কর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রশাসক নজরুল জানান, খুলনা মহানগরীর ২২ নং ওয়ার্ডে আগামীকাল সকাল ৯টায় টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হবে এবং তিনি নিজে উদ্বোধন কার্যক্রম সচল করবেন।

    তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলায় গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি উপজেলার পাশাপাশি ১৩টি পৌরসভার মধ্যে ক্যাম্পেইন শুরু হয় এবং ১২ এপ্রিল থেকে এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। সর্বশেষ আগামীকাল (২০ এপ্রিল) থেকে সকল জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোতেও এ কর্মসূচি চালু হবে। দীর্ঘ এক মাসব্যাপী চলবে এই ক্যাম্পেইন; এতে ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।

    প্রশাসন জানায়, অভিভাবকরা নির্ধারিত স্থানে সময়মত এসে তাদের শিশুদের টিকা করাতে হবে যাতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।