Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদবের জামিন অনুমোদিত

    বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদবের জামিন অনুমোদিত

    বলিউডের প্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব অবশেষে ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আদালত থেকে অন্তর্বতী জামিন লাভ করেছেন। সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত তার জামিনের জন্য শর্ত হিসেবে নির্দেশ দেন, দুপুর ৩টার মধ্যে ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ১.৫ কোটি টাকা জমা দিতে। এই শর্ত পূরণ করার পরই তার জামিন মঞ্জুর হয়।

    এর আগে, এই চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল যাদব। এরপর থেকে তিনি দিল্লির তিহার জেলে ছিলেন। তবে তার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একঝাঁক তারকা, যারা তার জন্য সাহায্য ও সমর্থন করেছেন। এর মধ্যে সোনু সুদ, গুরমিত চৌধুরী, মিকা সিং, অনুপ জালোটা, সালমান খান, অজয় দেবগন, বরুণ ধাওয়ান, ডেভিড ধাওয়ান, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি ও কেআরসহ অনেকের নাম উল্লেখযোগ্য।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে রাজপাল যাদবের একটি ভিডিও। যেখানে তাকে জামিন পাওয়ার পর সালমান খানকে বড় ভাই বলে গণ্য করে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তবে এই ভিডিওটি বর্তমানে প্রচারিত নয়; এটি একটি পুরনো ক্লিপ, যেখানে তিনি প্রায় তিন মাস জেল জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন, যা ২০১৮ সালে ধারণ করা।

  • সেলিম খানের গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সালমান খান

    সেলিম খানের গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সালমান খান

    খান পরিবারের জন্য বেশ কঠিন সময় চলন্ত্রণ করছে। গত বছর সালমান খানের আশপাশে একের পর এক হত্যার হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হামলার পর থেকে এই বলিউড তারকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিছুদিন আগে তার বোনের স্বামী ও অভিনেতা আয়ুষ শর্মাও হুমকি বার্তা পেয়েছেন।

    এমন পরিস্থিতিতেই শোনা যাচ্ছে আরো এক দুশ্চিন্তার খবর। বলিউডের বিভিন্ন সূত্রের মতে, প্রবীণ এই চিত্রনাট্যকার সেলিম খান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে দ্রুতই মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সালমান খান নিজে পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি বাবাকে হাসপাতালে দেখতে যান।

    পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা গেছে যে, বয়সজনিত নানা সমস্যা থেকেই সেলিম খান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে থাকা সময়ে তিনি কোনো কথা বলেননি, শুধুমাত্র কালো টি-শার্ট ও প্যান্ট পরে নিরাপত্তার মধ্যে দ্রুত বাইরে যান। তার এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছাপ দেখা দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, বলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার সেলিম খান। জাভেদ আখতারের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি একের পর এক কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তাদের লেখা সিনেমাগুলো— শোলে, ঝঞ্জির, দিওয়ার ও ডন— সবই বলিউডের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে।

    সেলিম খানের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করে বলিউডের তারকা ও ভক্তরা দোয়া করছেন।

  • স্বামীসহ নায়িকা রুবিনা নিঝুমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    স্বামীসহ নায়িকা রুবিনা নিঝুমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা রুবিনা আক্তার নিঝুম, তার স্বামী মামূনুর রশীদ রাহূল, ভাই নান্নু মিঞা ও বোন মহিমা বিবির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এই নির্দেশনা আসে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি), ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত থেকে। মামলার অভিযোগের বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী কায়েশ আহমেদ অর্ণব নিশ্চিত করেছেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, মোছাম্মৎ সুরভী বেগম নামের এক মহিলা ২৯ জানুয়ারি এই অভিযোগটি দায়ের করেন। আদালত সেইসময় আসামিদের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে। তবে, আজ তারা আদালতে হাজির হননি, যার ফলে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

    অভিযোগে বলা হয়, সুরভী বেগম ও রুবিনা নিঝুম পূর্ব পরিচিত ছিলেন। রুবিনা ও রাহূল সুরভীর বিশ্বাসী ও আস্থাভাজন ছিলেন। তারা বিভিন্ন সময় সুরভীর কাছ থেকে টাকা ধার নেন এবং যথাসময়ে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২০ সালের ১ অক্টোবর, রুবিনা ও রাহূল সুরভীর কাছ থেকে ১২.৫ লাখ টাকা ধার নেয়। সেই সময় তারা তিন দফায় মধ্যে সাড়ে ১২ লাখ টাকা দেন এবং দুই মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার চুক্তি করেন। রাহূল টাকা না ফেরালে তার ভাই নান্নু টাকাগুলোর দায়িত্ব নেবেন বলে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল।

    পরে, সুরভীর গুরুতর অসুস্থতা ও অর্থের প্রয়োজন দেখা দিলে ২০২১ সালের ১ মে রুবিনা ও রাহূলের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে আপনি। কিন্তু তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর, সুরভী রামপুরার বনশ্রী বাসায় গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে, সেখানে তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। তারা সুরভীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সুরভী রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

  • বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে হিরো আলম গ্রেপ্তার

    বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে হিরো আলম গ্রেপ্তার

    কনটেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, সম্প্রতি একটি গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন ছলচাতুরি ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করে বিয়ের প্রলোভন দেন এবং তখন তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে, হিরো আলম তাকে মারধর করেন এবং গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একজন মৌলভীর কাছ থেকে কবুল পড়িয়ে বিয়ে করার আশ্বাস দেন এবং বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া করে জোড়াজোড়ে থাকতেন। এরপর তিনি এর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান এবং নারীর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান। এর আগে, গত বছরের মে মাসে ওই নারী বাদী হয়ে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এই মামলায় তদন্ত শেষে পিবিআই অভিযোগপত্র দিলে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রমাণিত হয় যে হিরো আলম ওই নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত। পুলিশ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। গ্রেপ্তারকালে হিরো আলম ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশি অভিযানে তাকে আটক করা হয়। মামলার আরও তথ্য অনুযায়ী, হিরো আলম এই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন সিনেমা নির্মাণের প্রলোভনে। বর্তমানে তাকে আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে: মেহজাবীন

    আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে: মেহজাবীন

    প্রসিদ্ধ পর্দার অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে বেশ সক্রিয় একজন। তিনি নিজের জীবন মুহূর্তগুলো শেয়ার করেন এবং নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশ করেন। তবে সম্প্রতি তিনি একটানা বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। রোববার সকালে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, কিছু মহল তাকে বিভিন্ন বিষয়ে টার্গেট করে চলেছে। অনেকেই জানেন, কয়েক মাস আগে একটি মিথ্যা মামলায় তিনি হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। আদালত সেই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তবে যখন তিনি নতুন করে কাজের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, তখনই তার বিরুদ্ধে মানহানি ও অপপ্রচারের চেষ্টাও চলছে।

  • অনিয়মের অভিযোগে মেসিদের ফুটবল সভাপতির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    অনিয়মের অভিযোগে মেসিদের ফুটবল সভাপতির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্লডিও তাপিয়া, কোষাধ্যক্ষ টোভিগিনোসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক অপরাধ আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে এবং একই সঙ্গে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।

    সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তাপিয়াকে আগামী ৫ মার্চ এবং কোষাধ্যক্ষ টোভিগিনোকে ৬ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় আরও কিছু ফুটবল কর্মকর্তাকেও তলব করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়ার্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও রেসিং ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট।

    রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সংস্থা এআরসিএ অভিযোগ করেছে, এই অ্যাসোসিয়েশন কর এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের অর্থ সংগ্রহের জন্য অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করলেও নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি। তারা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভ্যাট, আয়কর এবং সামাজিক নিরাপত্তা অবদানসহ প্রায় ১৯.৩ বিলিয়ন পেসো অর্থ কেটেও জমা হয়নি। এই অর্থের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১.২৮ কোটি ডলার।

    এআরসিএ বলেছে, এই অর্থ ঐ অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব তহবিল নয় বরং কর সংগ্রহের সময় থেকে সরকারি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তাই, সময়মতো না জমা দেওয়া হলে এটি সরকারি অর্থের বেআইনি আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই অপরাধটি সচেতন ও ইচ্ছাকৃত অবহেলায় সংঘটিত হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত দিক থেকে অবগত ছিল এবং অর্থ জমা দেওয়ার অবশ্যই সক্ষমতা থাকতো, তবে তারা তা করেনি।

  • ৪১ বছর বয়সে রোনালদোর অসাধারণ রেকর্ড

    ৪১ বছর বয়সে রোনালদোর অসাধারণ রেকর্ড

    বয়স শুধু একটা সংখ্যা—এ কথাই আবারও proved করলেন ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে পা রাখলেও তার গোলের আগ্রহ আর শক্তি কোনওভাবেই কমেনি। মাঠে নামলেই যেন তার গোল করার স্বভাবটি আরও মজবুত হয়ে ওঠে।

    সৌদি প্রো লিগের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আল হাজেমকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে তাদের জয় নিশ্চিত করে আল নাসের। এই ম্যাচটি রিয়াদের আল আউয়াল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোল যুক্ত করেন রোনালদো। তিনিই ম্যাচের প্রধান নায়ক, জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    এর মাধ্যমে রোনালদো একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডের গর্বিত গর্ব করে থাকেন। ৩০ বছর বয়সের পর, ক্লাব ও দেশের জন্য মোট ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে এই বয়সের পর এই সংকেতের বেশি গোল করেননি আর কোনো খেলোয়াড়।

    প্রথমার্ধেই আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে যান রোনালদো। এরপর দলের অন্যান্য খেলোয়াড়েরা পালা করে গোল করেন। প্রথম গোল করেন রোনালদোই, এরপরই বাড়ান কিংসলে কোমান। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল দ্বিতীয় গোল করেন। শেষে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন রোনালদো।

    এই জয়ে, ২২ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে আবারও লিগের শীর্ষে উঠেছে আল নাসের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আল হিলাল with ৫৪ পয়েন্ট, আর তৃতীয় স্থানে আছেন আল আহলি with ৫৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে, তালিকার ১২ নম্বরে রয়েছে আল হাজেম, যেখানে সংগ্রহ করেছে ২৪ পয়েন্ট।

  • শেখ মেহেদীর মায়ের মৃত্যুতে বিসিবির শোক প্রকাশ

    শেখ মেহেদীর মায়ের মৃত্যুতে বিসিবির শোক প্রকাশ

    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসানের মা, মমতাজ বেগম, আজ সকালে খুলনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যაგ করেছেন। তাঁর অকাল আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই দুঃখজনক সংবাদ নিশ্চিত করেছে এবং শোকপ্রকাশ করেছে।

    বিসিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মমতাজ বেগমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা শেখ মেহেদী হাসান ও তাঁর পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

    মেহেদীর মায়ের অকাল মৃত্যুতে ক্রিকেটারসহ সমর্থকদের মাঝে শোকের সুর বেজে উঠেছে। বিশেষ করে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সকালের খবরটি খুবই দুঃখজনক। দ্রুত তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর জন্য আমাদের দোয়া থাকুক। আমরা তার পাশে আছি। এটি একটি কঠিন সময়, কিন্তু আমাদের ধৈর্য্য ধরে থাকতে হবে।’

    খবর অনুযায়ী, বগুড়ায় কোনো এয়ারপোর্ট বা বিমানবন্দরের অভাব থাকায় মেহেদী হাসানের যাত্রাপথ অনেক দীর্ঘ হচ্ছে। এ ব্যাপারে শান্ত বলেন, ‘এয়ারপোর্ট থাকলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হতো। আশা করছি অচিরেই স্থানীয় এয়ারপোর্টটি নির্মাণ কাজ শেষ হবে।’

    শেখ মেহেদী বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলীয় এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলের একাদশে ছিলেন। নিরাপত্তা সংকটের কারণে ভারত যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ হয়নি। তবে, বিসিবি অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপের আয়োজন করে, যেখানে লিটন দাসের নেতৃত্বে ধূমকেতু একাদশের হয়ে খেলেছেন মেহেদী।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার টি-টোয়েন্টি অভিষেক ঘটে। ২০২১ সালে তিনি ওয়ানডে দলে স্থান পান। এখন পর্যন্ত ৭০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬৮ ইনিংসে বল করলে ১৪ উইকেট নিয়েছেন, ওভারপ্রতি গড় ৬.৭৩। ব্যাটিংয়ে ৪২৭ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ১০১.১৮।

    তবে ওয়ানডে শুরুর পর তিনি নিয়মিতভাবে দলে জায়গা পাননি। ১১টি ম্যাচে তিনি মোট ১৪ উইকেট সংগ্রহ করেছেন, ওভারপ্রতি গড় ৪.৯৫। ব্যাটিংয়ে ১০ ইনিংসে ১২২ রান করেছেন। মেহেদীর এই ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে অনেকে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

  • বিসিবির প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল বাশার

    বিসিবির প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল বাশার

    বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ এই মাসে শেষ হচ্ছে। ব্যক্তিগত কারণে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে না চান বলে বোর্ডকে আগে থেকেই জানিয়ে ছিলেন। এর ফলে নতুন প্রধান নির্বাচক খুঁজে বের করার কাজ শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    ঘোষণার এ প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকেই নির্বাচিত করে বোর্ড। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রধান নির্বাচকের নাম ঘোষণা করা হয়।

    হাবিবুল বাশার ২০১৬ সালから ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নারী জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পুরুষ দলের নির্বাচক প্যানেল থেকে অব্যাহতি পেলেও ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে সক্রিয় থাকছেন। বর্তমানে তিনি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

    বিসিবি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ক্রিকেট জ্ঞানকে বিবেচনায় নিয়ে তাকে আবারও নির্বাচক প্যানেলে পুনঃনিযুক্ত করেছে। বোর্ড মনে করছে, তার নেতৃত্বে জাতীয় দলের নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন গতি এবং উন্নতি আসবে। আশা করা যাচ্ছে, এই পরিবর্তন মাঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত আরও সুসংহত হবে।

  • ভারতের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেল বাংলাদেশের নারী এশিয়া কাপে

    ভারতের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেল বাংলাদেশের নারী এশিয়া কাপে

    নারী এশিয়া কাপের রাইজিং স্টারসের ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা ভারতের কাছে ৪৬ রানে হেরে গেছে। ফলে তাদের শিরোপা জেতার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, আর বাংলাদেশের। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামা ভারতের দল ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ৮৮ রানে, অর্থাৎ তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় স্কোর থেকে অনেক দূরে থাকলে। দুই দলের মধ্যকার এই ফাইনাল আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। আগে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের জয় নিশ্চিত হয়, আর বাংলাদেশের জন্য ফাইনাল খেলার দৌড় চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল পাকিস্তানকে হারানোর মাধ্যমে। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো ছিল, পাওয়ার প্লে’তে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান তুলেছিল দল। তবে এর পরে ছন্দ পতন ঘটে, একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ব্যাটাররা ধাক্কা খায় যেন ঠিকমতো ফিরে আসতে পারছেন না, ফলে শেষ পর্যন্ত জয়ে পারল না তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন ওপেনার শামিমা সুলতানা, ১৮ রান করেন শারমিন সুলতানা, ১৪ রান করেন ফাহিমা খাতুন এবং ১০ রান আসে সাদিয়া আক্তারের ব্যাট থেকে। বাকিরা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার প্রেমা রাওয়াট, তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়াও সোনিয়া ও তানুজা দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। এর আগে, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতের শুরুটা ছিল খুবই দুর্বল। মাত্র ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা বেশ চাপ অনুভব করে। তবে দলের অধিনায়ক রাধা যাদব ও তেজাল হাসাবনিসের জুটিতে পরিস্থিতি বদলে যায়। তারা দুজন গড়ে তোলেন ৬৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা দলের সংগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করে। রাধা ৩০ বলে ৩৬ রান করেন, আর তেজাল ব্যক্তিগত অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যান। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে, তার ইনিংসটি ৩৪ বলের। এই ইনিংসে তিনি ৩টি চার ও ২টি ছয় মেরেছেন। অন্যদিকে, দিনেশ ভ্রিন্দার ১৯ রানও অবদান রাখে। বাংলাদেশ থেকে ফাহিমা খাতুন চারটি উইকেট নিয়েছেন, আর অন্য দুই বোলার একটি করে উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা ম্যাচের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শক্তির প্রমাণ।