Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল

    জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল

    জাতীয় সংসদ ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত করে বিল পাস করেছে। এ নিয়ে শেখ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সভাপতি থাকায় রহিতকরণ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; অধ্যাদেশ আকারে জারি হওয়া নীতিটির বিলীতে রূপান্তর এভাবেই সম্পন্ন হলো।

    বিলটির কারণবিহিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর ২০০৯ সালে গেজেট আকারে জারি করা ওই আইন ও পরে ২৫ মে ২০১৫ সালে প্রদত্ত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ধরনের একতরফা রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদানকে বিবৃতিতে ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ হিসেবে উল্লেখ করে তা দূর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতায় নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশকে এখন সংসদ স্থায়ী বিল আকারে অনুমোদন করেছে।

    উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। বুধবার বিল পাসের মাধ্যমে ওই আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিশেষ সুবিধাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেল।

  • সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে

    সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে

    কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগন্যভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করছেন এটি শুধু একক কোনো সংস্থার নয়, দেশের সংবিধান-প্রতিষ্ঠানের গভীর সংকটের ইঙ্গিত।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১ দিনের বিকেলের সেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

    হাসনাত বলেন, বলাবলি করা হচ্ছে যে বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’—এর মতো পর্যায়বোধগুলো আছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমগুলোকেও একই চিমটে ধরা হতে পারে। অর্থাৎ সংকীর্ণ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ-মূলক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারমূলক কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য করা হলেও আইন প্রয়োগে তা অস্পষ্টভাবে দেখানো যেতে পারে।

    তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ধারা আছে—সেগুলোকে কে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবে? এই দায়িত্ব পড়বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর। চাকরিভিত্তিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

    হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ওই কমিশনের উপর যে অধ্যাদেশ বা বিধান রয়েছে সেগুলো ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব চলছে। যদি কমিশন ২০০৯ সালের মডেলে ফের ফিরে যায়, তাহলে সেটি কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে—এমনকি বিরোধী দল কিংবা অনুচিত মতকে দমনের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি বললেন, এর ফলে ভিকটিম ব্লেমিং, গুম বা হত্যার ‘বৈধতা’ তৈরির মতো অনুচিত ব্যবহারও সম্ভব।

    তিনি বলেন, যদি আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি—বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের—তাহলে যে অনুসন্ধানগুলো পরিচালিত হবে সেগুলো নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহিত। তাঁদের মতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ নিশ্চিত করতে হলে কমিশনকে অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত করে তোলা দরকার।

    একদিকে তিনি জানান, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চায়—তাকে তারা নিরাপদ মনে করে। অন্যদিকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই অজুহাতে যদি কমিশন অটোনমাস করা হয়, তাহলে তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে?’—এমন দ্ব্যর্থহীন প্রশ্নও উত্থাপিত হয়।

    শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, বাস্তবে যদি আমরা এখনকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আবার দেখতে পারি বিসিবির মতো ‘বাপের দোয়া’ কমিশন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংকগুলোর দলীয়করণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলতি সেই একপক্ষীয় দলীয়করণ। তাই বিল পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা কঠোরভাবে জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার মানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে যাচ্ছেন এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ভাঙাচোরা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করে একদলীয় ফ্যাসিবাদী নীতির পথে এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি জানান, নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তারপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে—এমনটাই জানানো হয়েছে।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করে বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ড জাতিকে হতবাক ও বিস্মিত করে তুলেছে; গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই স্থগিত করে দিয়েছে এবং সংসদে মাত্র একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না এবং দিল্লির বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন তাদের সরকার ‘‘রাজাকার’’ হিসেবে ট্যাগ দিচ্ছে। তিনি বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেকা এগিয়ে আসুক এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।

    জোট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তাদের ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনমত তুলে ধরবে এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে।

  • মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাজে বিদ্বেষ ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা রুখে দিয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর দাঁড়ানো একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণা শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার শক্তি।’

    ফখরুল আরো বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতকাল থেকেই এই দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে এসেছে এবং সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মভিত্তিক বিভাজনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল; সেই ধরনের অপচেষ্টা থেকে সকলকে মুক্তি পেতে হবে।ান

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা একসম্ভাব্যভাবে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে কাজ অনেক — সেগুলো সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বেড়েছে

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বেড়েছে

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বলা হয়েছে, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্যের ওঠানামা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য표 অনুযায়ী অন্যান্য শ্রেণির দামও এভাবে নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি—২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি—২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম—১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে—২২ ক্যারেটের এক ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। অন্যান্য হিসেবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, এই নতুন দাম স্থানীয় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে এবং তা আজ থেকেই কার্যকর থাকবে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত আর্থিক মন্দার মুখে পড়ে; নিকট হিসেবেই ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। এ আর্থিক চাপে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও দ্রুত কমে এসেছে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ছিল মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর ব্যয়ের সর্বনিম্ন স্তর। আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খাতে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে দ্রুত পতন লক্ষ্য করা যায়: ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে তা নামল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকায় এবং ২০২৪ সালে দাঁড়াল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    ক্যা­­রেন্ট অব দ্য সেক্টর বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলন (জুন–জুলাই) এবং এরপর আগস্টে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেই সময় কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো ‘মুনাফা’ থেকে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়; খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত ক্ষতি সামনে আসে। বিশেষ করে শরীয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক এই ঝটকায় বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারও কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে নানা স্তর থেকে অনুদান-সহায়তার চাপে ব্যাংকগুলোকে অনবরত খরচ করতে হত; অনেক সময় তা প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরেও গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলন ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর ওই ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন ব্যয়ের বিষয়ে বেশি সক্রিয় ও সংযমী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিবার্য চাপে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা আছে—ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করতে হবে; এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা।

    তবে বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে মিল নেই। ২০২৫ সালে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো সর্বাধিক ৩৬% সিএসআর ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য অংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% ব্যয় হয়েছে—যা নীতিগত লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে।

    রিপোর্টে আরও দেখা যায়, আলোচিত সময়কালে ১১টি ব্যাংক সিএসআরে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেই তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এইগুলোর মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—লোকসানে থেকেও সিএসআর খাতে কিছু ব্যয় রেখেছিল।

    সংক্ষেপে, ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক পরিবর্তন মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ের ধারাবাহিক সঙ্কোচ হচ্ছে। এটি শুধু অঙ্কের হিসেব নয়—সামাজিক শিক্ষাবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হচ্ছে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতিগত স্পষ্টতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সিএসআর কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করার এখনই সময়।

  • রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একমুখী ও আগ্রাসী কৌশলটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।

    জাখারোভা বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় হয়ে ‘জয় খুব কাছেই’—এ ধরনের উসকানিমূলক ও একপক্ষীয় বাগযুদ্ধ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে বিনা উসকানিতে চালানো আক্রমণের কৌশলও ফলপ্রসূ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই রাশিয়া দাবি করে আসছে যে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধ করা উচিত এবং একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে বলাৎকার করা উচিত। মস্কোর অবস্থান, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই জটিল সমস্যার সামরিকভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আরও কোনো প্রতিশোধমূলক আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখবেন।

    এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ অভিযান শুরু করার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১,৩৪০ জনের অধিক নিহত হওয়ার খবর এসেছে।

    প্রতিবাদের জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে লক্ষ্যবস্তুতে জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত কিছু ঘাঁটি ছিল। পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

    এই ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রাশিয়া মস্কোতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনাগুলোকে নিয়ে পুরোদমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলল, জাহাজ চলাচল শুরু

    হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলল, জাহাজ চলাচল শুরু

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবারের বদলে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতার পরেই প্রথম দুটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করে।

    বার্তাসংস্থা এএফপির সূত্রে মেরিন ট্রাফিক (MarineTraffic) এই খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছে, গ্রিসের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এনজে আর্থ’ আন্তর্জাতিক মান সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ডেটোনা বিচ’ বরাদ্দ সময় অনুযায়ী ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে বন্দর আব্বাস থেকে রওনা হওয়ার পরে সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে প্রণালী পার হয়েছে।

    ইরান ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমুখী হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগে ওই প্রণালীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে ধরা হতো এবং সাধারণত সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলি কোনো দেশকে টোল দিতে হতো না। তবে ইরান যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজ থেকে টোল নেওয়ার ঘোষণাও করেছিল।

    প্রাথমিকভাবে তেহরান বলেছিল, হরমুজে প্রবেশদ্বারের দেশ ওমানও টোল নেবে — কিন্তু পরে ওমান জানায়, তারা এমন কোনো অর্থ আদায় করবে না। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য দক্ষ সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    এফএপি সূত্রে এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

  • খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনায় ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক বুধবার (৮ এপ্রিল) খুলনা কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিকে গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি। শহরের জলাবদ্ধতা নির্মূলের জন্য পরিকল্পিত কাজ করা হচ্ছে এবং বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা শুধু সভা-সেমিনার করে সমাধান হবে না, এর মোকাবিলায় সবাইকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও প্রতিক্রিয়া দেন যে, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। পাশাপাশি সাইক্লোন ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পরিকল্পনা গঠন করা দরকার। তিনি জানান, খুলনার উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

    গোলটেবিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (কুয়েট)-এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসও বক্তৃতা করেন।

    বৈঠকে এও উঠে আসে যে, বাংলাদেশে দুর্ঘটনা ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ও জলবায়ু অভিযোজন (CCA) সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা ও পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে। তাই এই গোলটেবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নীতিগত সংলাপ সৃষ্টি করা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ও তা সম্প্রসারণের উপায় চিহ্নিত করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং DRR-CCA-Social Protection ক্ষেত্রে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল সামাজিক সুরক্ষার জন্য সুপারিশমালা তৈরি করা।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধিসহ স্থানীয় কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

  • চিতলমারীতে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত

    চিতলমারীতে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া রহমানীয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫)কে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তৃতীয় তলায় ১ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটির পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মাশুকুর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মৈজোড়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে মোঃ রাসেল শেখকে বিবাদী করা হয়েছে।

    অধ্যক্ষ মোঃ মাশুকুর রহমান জানান, ‘মৈজোড়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে মোঃ রাসেল শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার অস্থাবর জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাকে নিষেধ করলেও সে হুমকি দিত। বুধবার অফিস কক্ষে ঢুকে মাদ্রাসার কাগজপত্র ও মালামাল এলোমেলো করতে থাকে। তাকে বাধা দিলে রাসেল হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে সহকারী অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলামকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়।’

    অভিযোগের বিপরীতে রাসেল শেখের বাবা আবুল কালাম শেখ হাতুড়ি পেটার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি মাদ্রাসায় কয়েকটি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে অফিস কক্ষে তর্কবিতর্ক হয়েছে, কিন্তু ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে মারার কথা সত্য নয়।’

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।