Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ঢাবি-কুয়েটসহ নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

    ঢাবি-কুয়েটসহ নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

    সরকার দেশের নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। আজ সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

    মন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রো‑ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামকে সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ভিসি হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মাসউদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ড. ফোরকান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    একই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ পদত্যাগ করেছেন। তার স্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    সভাপক মন্ত্রী-এর শুধু নাম ঘোষণা করা হয়েছে; বিস্তারিত কার্যনির্বাহী নির্দেশনা ও নিয়োগপত্র সংক্রান্ত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

  • নির্বাচনে নারী প্রার্থী কম হওয়ায় হতাশা: ইসি মাছউদ

    নির্বাচনে নারী প্রার্থী কম হওয়ায় হতাশা: ইসি মাছউদ

    জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ও নারী কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও প্রার্থী হিসেবে নারীর সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং তা হতাশাজনক।

    মাছউদ সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে নারী ভোটাররা জয়ের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা বেশ শক্তিশালীভাবে রেখেছেন। এমনকি যেসব এলাকায় আগের বার নারীরা ভোট দিতে না যাওয়ার প্রবণতা ছিল, সেসব এলাকায় এবার ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।

    তবে প্রার্থী হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ০.৪ শতাংশ (করে কিছু রিপোর্টে ৪ শতাংশ হিসাবও দেখা গেছে), যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

    নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন যে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের শর্ত চালু আছে—আরপিও অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। আরপিও-এর ৯০ (বি), (সি) ও (জি) ধারার ভিত্তিতে দলগুলোকে এই লক্ষ্যমাত্রা কতটা পূরণ করছে, তা কমিশনকে নিয়মিত জানাতে হবে। যদি কোনো দল বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়, কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। যেহেতু ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়সীমা রয়েছে, এখনই নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না; কিন্তু সময়সীমা পার হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করতে ছাড়েননি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মাছউদ বলেন, সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ায় এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে আছে। সেখানে সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সরাসরি ভোটে কয়েকগুণ বেশি নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি আশা করেন যে নারীর নেতৃত্ব ও উন্নয়নে কর্মরত ব্যক্তিরা সাধারণ নারীদের এই দিকে এগিয়ে আসতে আরও উৎসাহ দেবে ও সহায়তা করবে।

    মাছউদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে—নারী ভোটার ও কর্মীদের অবদান বাড়লেও রাজনীতিতে নারী প্রার্থীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এখনো চ্যালেঞ্জ। यही লক্ষ্য সামনে রেখে রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সমাজের প্রতিটি স্তরে আবারো জোরালো প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

  • মীর স্নিগ্ধের আহ্বান: এনসিপি এখনই ১১-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসুক

    মীর স্নিগ্ধের আহ্বান: এনসিপি এখনই ১১-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসুক

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনই ১১-দলীয় নির্বাচনি জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত—এমনটাই দাবি করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ছোট ভাই মীর স্নিগ্ধ। শনিবার রাতের নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ফেসবুকে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, ‘সামান্তা শারমিনের মতো আমিও মনে করি, এনসিপির এখনই জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। কারণটা খুবই সহজ—এনসিপি যদি নিজেকে বড় দল হিসেবে না দেখে, অন্য কেউ তাকে বড় করে তুলতে পারবে না।’

    তিনি আরও জানান, দলকে তাদের আদর্শ, অবস্থান এবং রাজনীতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে সাময়িক কিছু কষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মীর স্নিগ্ধ বলেন, ‘এই দেশের তরুণরা পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিতে ক্লান্ত। তারা এনসিপিকে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়।’

    তিনি সতর্ক করেন যে, এখনই দল যদি স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় নিচ্ছে না, তাহলে ধীরে ধীরে জনগণের মনে ধারণা গড়ে উঠবে যে এনসিপির কোনও স্বতন্ত্রতা নেই এবং একসময় তা স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

    মীর স্নিগ্ধ আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, এনসিপি যদি এখনই স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়াতে পারে, তাহলে অজানা নয় কত প্রভাবশালী ও সম্ভাবনাময় নেতারা তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত—শুধু এই আশায় যে এনসিপি নিজস্ব স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করবে। তার মতে, সময়টা এখনই।

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে মন্তব্য করেছেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে মন্তব্য করেছেন মনিরুল হক চৌধুরী

    বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত এবং এনসিপি বিষয়ক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরও একসময় একটি মেধাবী শ্রেণি উপস্থিত হয়েছিল, যারা জাসদ গঠন করেছিল। কিন্তু বাড়াবাড়ি করে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়েছে, তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। আমরা যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক পাই।’’

    মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘৯১ সালের সংসদে আমি আপনারা—আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের নেতৃত্বে। যখন আপনারা প্রশ্ন তোলেন, মনে হয় এই দেশে ১৫–২০ বছর বিএনপি নেই। কিন্তু দেশনেত্রী অনেক বিরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছেন। রাজনীতিকে যেখানে নিয়ে এসেছেন, তার পেছনে তার অবদানও একটু স্মরণ করবেন।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘একসময় জাসদ মনে করত আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষ—এভাবে ইতিহাসকে বিবেচনা করার মতো বুদ্ধি-বিদ্যা প্রত্যেকের আছে।’’

    পিছনে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতিও প্রকাশ করেন। ‘‘আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম। আজ যারা বিরোধী, তাদের আমি এখনও পুরোপুরি চিনি না। আমাদের নেতা তারেক রহমান যখন বলেছিলেন ‘কঠিন নির্বাচন’, অনেকেই তখন বুঝতে পারেননি; আমি তখন বুঝেছিলাম। পরে নির্বাচন করতে গিয়ে বুঝেছি আমরা সত্যিই কঠিন নির্বাচন পেরেছি।’’

    মনিরুল হক বলেন, ‘‘এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকেই। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা এখনও জীবিত, তাদের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হোক—মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদি অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিচারের নামে অন্যায় হয়ে থাকে, তার এক আলাদা আলোচনা আছে।’’

    শেষে তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে এবং এনসিপিসহ তরুণ নেতাদের মন্তব্যে বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর বা এনসিপির মতো অংশগুলোর নেতারা বয়সে ছোটও হতে পারেন, তবু আমি তাদেরই সম্মান করি—কারণ তারা সাহসী সন্তান, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এগিয়ে আসে।’’

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এটি নিশ্চিত করেছেন।

    গত কয়েক বছরে দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ বহন কমে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবা ও ব্যবহার প্রসারিত হওয়ায় এই খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো এবং আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী নিয়মাবলী হালনাগাদ করা প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পুরনো নীতিমালা সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান ও নগদবিহীন লেনদেনে স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহক যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    নতুন নির্দেশনার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো। আগের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিরাপদ ঋণের (non-secured) সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া গ্রাহক অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং কার্ড লেনদেনের পরিশোধে সৃষ্ট জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নির্দেশনা সংযোজিত হয়েছে। এসব উদ্যোগ গ্রাহক সেবার মান বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রিত।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, হালনাগাদ গাইডলাইন প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড সেবা আরও বিশ্বস্ত ও সুসংগঠিত হবে এবং গ্রাহকের অধিকার ও নিরাপত্তা শক্তভাবে রক্ষা পাবে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম তদন্তে দুদক

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম তদন্তে দুদক

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (১৫ মার্চ) থেকে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি এবং উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় তিনি যখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবু শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি জাহাজ কেনার কারণে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলেই দুদকের তথ্য।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দের সঙ্গে জড়িয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পের দুর্নীতি ও প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে বরাদ্দের মিল না মেলাকে কেন্দ্র করে তদন্ত দলের দৃষ্টি সন্নিবেশ করেছে।

    দুদক জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান কমিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে রিপোর্ট দেবে এবং প্রয়োজনে আরও তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    দুদকের এই পদক্ষেপটি বন্দর ও শিপিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সম্পদের অনুকূল ব্যবহার নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্ররা জানিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া ও ফলাফল সম্পর্কে দুদক পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।

  • ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার

    ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার

    ইরানের পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী গোপনভাবে বিদেশী সংবাদমাধ্যম ও প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তথ্য গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন পুলিশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান।

    রাদান বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ২৫০ জনকে বিশেষভাবে লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার তালিকায় কিছু সময়ের জন্য ছদ্ম-অপরাধী কার্যক্রম চলাচলকারী আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্রুপের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ব্যক্তি তথ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা-উসকানি ছড়াতে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে ভূমিকা রেখেছে।

    ইরান ২০২২ সালে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠন’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান অভিযোগ করে যে এই চ্যানেলটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে উসকানি দেয় এবং সরকারবিরোধী প্রপাগান্ডা চালায় — তবে এসব অভিযোগ ইরান ইন্টারন্যাশনাল পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করে আসছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক কूटনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ধারাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তেহরান ব্যাপকভাবে আলোচনায় নেমেছিল; দুই পক্ষের সংলাপ গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এবং কোনো সমঝোতা ছাড়া বন্ধ হয়। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘‘অপারেশন এপিক ফিউরি’’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’’ নামে কার্যক্রম চালায়।

    উত্তেজনার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে, যা এখনও চলছে—ইরান-মেডিয়া ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইরানে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি

  • ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যেসব দেশ

    ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যেসব দেশ

    ইরানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার ওই আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ প্রকাশ্যে সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ এই সংকটের প্রভাবিত হতে পারে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গে মিল করে হরমুজ প্রণালে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এনবিসিকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প যে দেশগুলোর নাম নিয়েছেন তাদের কয়েকটির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি আশাবাদী যে চীন প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। তবু এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি নৌবাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গু বলেন, জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব এবং উত্তেজনা কমাতে বেইজিং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।

    অন্যদিকে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তাদের সামরিক বাহিনী প্রণালির কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়। ইরান জানিয়েছে, তাদের দৃষ্টিতে প্রণালিটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ছাড়া অন্য দেশগুলোর জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন টেলিভিশন সিবিএসকে বলেছেন, নিরাপদে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কয়েকটি দেশ তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রমনিয়াম জয়শংকর বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ফলে শনিবার দুইটি ভারতীয় পতাকাবাহী গ্যাসবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। তিনি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনাই ভারতের পছন্দের পথ।

    এদিকে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পরও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান স্পষ্ট রেখে তাদের দেওয়া সামরিক সহায়তার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিমান সরবরাহ করাও রয়েছে। জাপানও একইভাবে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালে তেলবাহী জাহাজগুলোর পাহারাদিতে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই।

    সংক্ষিপ্ত সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক চেষ্টার তীব্রতা বেড়েছে। কিন্তু এখনও বিশ্ব শক্তিগুলো মিলিতভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

  • জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক: উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক: উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    খুলনা জেলা পরিষদে নবনিযুক্ত প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীর দায়িত্ব গ্রহণকালে বক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসক নিয়োগের ফলে জেলা পরিষদের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত গতি লাভ করবে এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

    সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা পরিষদগুলো সচল করতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ ঈদের আগে গুরুত্বপূর্ন বার্তা দিয়েছে এবং খুলনা জেলায় উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে নিজেও সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পেয়েছেন; এখন মিলে খুলনা মহানগরী ও জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করবে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা।

    নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী দায়িত্ব গ্রহণপূর্ব বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসন-পীড়নের পরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে স্থবির হয়ে পড়া জেলা পরিষদকে সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিচালনা করে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মনিরুল হাসান বাপ্পী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে খুলনা জেলা পরিষদ দুর্নীতির কবলে পড়ে ছিল, সেখানে নিয়ম-নীতি কার্যকর ছিল না। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন—দুর্নীতিবাজদের কোনো ঠাঁই থাকবে না, জেলা পরিষদকে জনকল্যাণমুখী ও স্বচ্ছ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান করা হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের আর্থিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন।

    দায়িত্ব হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান এবং জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু।

    অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তাদের পরিবারসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে ও ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিবেদিত প্রাণদের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া আয়োজিত হয়। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু—এবং দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী। খুলনা জেলার নয়টি উপজেলা ও দুই পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকরা আনন্দঘন পরিবেশে অংশ নিয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা দেন। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আলি আসগর লবির পক্ষেও ফুল তুলে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী তাঁর অফিস কক্ষে বসে আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন এবং জনগণের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার জন্য কার্যক্রম প্রশাসনিকভাবে মনিটরিং ও বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। তিনি জেলাবাসী ও দলের কর্মীদের সহযোগিতা চান এবং উন্নয়ন ও সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথাও জানান।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ‘ডিবি’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ২ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ‘ডিবি’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ২ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ডিবি পুলিশের পরিচয় প্রদর্শন করে সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে দুই ভুয়া ডিবিকে স্থানীয়রা আটক করেছেন। পরে তারা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের চেংড়িখালী ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে। স্থানীয়রা জানান, কিছু লোক নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সুজুকি মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যান থামিয়ে নগদ টাকা আদায় করছিলেন।

    সন্দেহ হলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে ঘিরে ধরে; তখন তারা ডিবি লেখা জ্যাকেট পরে ছিল। এক পর্যায়ে গণধোলাই দিয়ে দুইজনকে আটক করে এলাকাবাসী পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনাস্থল থেকে আরও ২-৩ জন সহযোগী পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

    আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে—ঝিনাইদহ জেলা গাবতলা পাড়ার আক্কাস আলীর ছেলে আহাদ (৩৫) এবং কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়ার ইউসুফ আলীর ছেলে রিজভী সালমান (২৯)।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ জানান, ওই দুইজনকে বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা নিচ্ছেন বলে আটকের পর থানায় রাখা হয়েছে। ঘটনায় পলাতক অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।