Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের পরিবার পাবেন ২৫ হাজার টাকা

    কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের পরিবার পাবেন ২৫ হাজার টাকা

    কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের পরিবারকে প্রতি জন ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

    ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২১ মার্চ) রাত প্রায় ৩টায় পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন মামুন পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দিয়ে বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত নিয়ে যায়। প্রথম দিকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।

    দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম সার্কিটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষও ঘটনাটির তদন্তে দুটি আলাদা কমিটি গঠন করেছে। ট্রেন উদ্ধারের জন্য আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন পাঠানো হচ্ছে বলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান। উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চলছে।

  • কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত

    কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত

    কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যাওয়া ট্রেন-বাস সংঘটনে নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় রোববার (২২ মার্চ) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বইয়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    নিহতদের পরিচয়গুলো হলো: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩); ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪); চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬); যশোরের চৌগাছার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩); লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সিরাজউদ্দোলার মেয়ে সায়েদা (৯); ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০); মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬); এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।

    ঘটনাটি ঘটেছিল শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে, যখন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের যাত্রীবাহী বাসটিকে ধাক্কা দিলে বাসটি ট্রেনের সাথে ঝুলে অন্তত আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও উদ্ধারকাজ জোরদার হওয়ার পর নিহতের সংখ্যা বাড়ে বারোতে।

    দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়; পরে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন ইউনিট উদ্ধার ও উদ্ধারোত্তর কাজে অংশ নেয়। রেলখাতের জরুরি কাজ শেষে সকালে প্রায় ৮টার দিকে সেখানকার রেল যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়।

    ঘটনার দায়প্রাপ্তি নিরূপণের লক্ষ্যে রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নিহত পরিবারগুলোর প্রত্যেককে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অনুদান ঘোষণা করেছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্তের জন্য তিনটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে; তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মন্তব্যগুলো বহু সময় ভাইরাল হয়েছে এবং তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, কোনো কথা বা কর্মে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন যে গত কয়েক দিনে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কিছু গভীর আলোচনা করেছেন এবং সেখান থেকেই মূল্যবান পরামর্শ পেয়েছেন।

    পাটওয়ারী বলেন, সবার কাছ থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনায় তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই পরামর্শ গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করব।”

    তিনি নিজের অকপট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান। পোস্টে তিনি বারবার অনুরোধও জানান—যদি তার কোনো বক্তব্য বা কাজের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। তিনি লিখেছেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই আমার পথচলার শক্তি।”

    পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে তার এই আত্মিক যাত্রার একটি নীরব সূচনা হয়েছে। তিনি শেষভাগে দোয়া চেয়ে বলেন, “আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।”

  • জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে সংসদে তীক্ষ্ণ মন্তব্য মনিরুল হক চৌধুরীর

    জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে সংসদে তীক্ষ্ণ মন্তব্য মনিরুল হক চৌধুরীর

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোকচর্চায় অংশ নিয়ে তিনি কথাগুলো বলেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মনিরুল হক বলেন, স্বাধীনতার পর একটি মেধাবী তরুণ শ্রেণি গঠিত হয়েছিল, তারা জাসদ তৈরি করেছিল। তবে অতিরঞ্জনের ফলে দেশের ক্ষতি হয়েছে, জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদেরও ফল ভোগ করতে হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘আমাদের যেন সবকিছু সহ্য করার ধৈর্য ও সামর্থ্য দেওয়া হয়।’’

    প্রসঙ্গ বসিয়ে তিনি স্মরণ করান দলীয় অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে। ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি বলেন, তিনি তখন দলের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অনেক সংকট মোকাবিলা করেছে বিএনপি। তিনি বেগম খালেদার জামায়াতকে রাজনীতিতে আনায় যে অবদান, সেটাও স্মরণ করার আহ্বান জানান। ‘‘আপনারা যখন প্রশ্ন করেন, মনে হয় গত ১৫-২০ বছর বিএনপি এই দেশে ছিল না—তবে ইতিহাস অন্য কথা বলে।’’

    মনিরুল হক আরও বলেন, আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতেন তাদের চিনতেন; এখন বিরোধী পক্ষ হিসেবে যারা আছেন তাদের চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি তরিক রহমানের কথাও স্মরণ করেন—‘‘কঠিন নির্বাচন’’—যা তখন অনেকেই বুঝতে পারেননি, পরে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা বুঝেছেন কত কঠিন পরিবেশ ছিল।

    সংসদে আসার পর তাদের মধ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রাপ্য হিসেবে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে উল্লেখ করেন। এর পরই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, आज কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা এখনো জীবিত তাদের ওপর প্রশ্ন উঠছে এবং মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো সময়ের সংঘর্ষের সঙ্গে সমভাবে দেখা হচ্ছে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, তিনি যোগ করেন, ‘‘ফ্যাসিস্টদের আমলে বিচারের নামে যদি অন্যায় হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তার আলাদা বিচার আছে।’’

    শেষে মনিরুল হক বলেন, এনসিপি বা স্বাধীনুর পর যাদের নেতৃত্বে তরুণরা থাকলেও তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কারণ তারা সাহসী এবং এই যুগের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে রয়েছে অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব ও দায়দায়িত্ব নিয়ে কড়া তীব্রতা এবং সহনশীলতার আহ্বান।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত শুরু

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য দুই বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের ওপর চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকটি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দুদক জানিয়েছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনার সময় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি জাহাজ কেনা হয়েছে; এতে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে মোংলা বন্দরের পাসুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, আর্থিক রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণাদি যাচাই করে শিগগিরই তদন্তের পরবর্তী কাজগুলো এগোবে।

  • ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বাড়ল — নতুন গাইডলাইন জারি

    ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বাড়ল — নতুন গাইডলাইন জারি

    ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবহার ও সেবার পরিধি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই খাতে থাকা জটিলতা কমানো এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কিছু বিধান আনার প্রয়োজন দেখা দেয়। পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করে তাই একটি বিস্তৃত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে যে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সংরক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    গাইডলাইনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে এক হলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদানের সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা এখন বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অসুরক্ষিত (আনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডফিউচার লেনদেন পরিশোধে জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। ব্যাংক ও অর্থপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকপ্রতিষ্ঠ পদ্ধতি ও শক্ত ভিত গড়ে তোলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন গাইডলাইন কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ড সেবার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হবে এবং গ্রাহকের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থের সুরক্ষা আরও শক্ত হবে।

  • হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প

    হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শনিবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

    ট্রাম্প তার পোস্টে আরও জানান, প্রয়োজন হলে তারা ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দিতে পারে — এমনকি অভিযান শুরু করা হবে এমন নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর এক দিন আগে তিনি এক পর্যায়ে ইরানে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছিলেন, তবে পরে কঠোর অবস্থানে ফিরে এই আলটিমেটাম দেন। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্র পথ কার্যত ব্যাহত রয়েছে।

    তেহরান অবশ্য দাবি করছে তারা কেবল তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত দেশগুলোর জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে — এমন খবর প্রকাশ করেছে ফারস নিউজ এজেন্সি।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শনিবার দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী আখ্যা পেয়েছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এর আগেও কাছের দিমোনা শহরে আরও ৩৩ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

    দিমোনায় মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে শহরের একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে, এতে এক শিশু সহ কয়েকজন গুরতর আহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং ‘সব দিক থেকে প্রতিশোধ’ নেওয়ার কথা বলেছেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা তেহরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে।

    ইরান meanwhile দাবি করেছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে যে হামলা হয়েছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দিমোনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে তারা দক্ষিণ ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু সামরিক স্থাপনাতেও আঘাত চালিয়েছে।

  • সৌদি আরব ইরানের কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    সৌদি আরব ইরানের কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    প্রতিবেশী ইরানের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের সামরিক অ্যাটাশেকে এবং দূতাবাসের আরও চার কর্মকর্তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি বেসামরিক কেন্দ্র ও জ্বালানি ও শক্তি স্থাপনায় ক্রমবর্ধমান হামলা চালানো হচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে তেহরানের সংঘাতের প্রভাবেই সিলসিলা বাড়ছে এবং এতে পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা ছড়াচ্ছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরব শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দুইটি ড্রোন আঘাতের সম্মুখীন হয়; গত বৃহস্পতিবার ইয়ানবু বন্দরের আরামকো-এক্সন শোধনাগারে ড্রোন হামলার ফলে তেল লোডিং ব্যাহত হয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর কার্যত অনির্বাচিত অবস্থার কারণে ইয়ানবুই বন্দরটি সৌদি রপ্তানির একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, ইরানের ওপর সৌদি আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার পূর্ণ অধিকার তারা বজায় রাখবে; প্রয়োজন হলে তা দিয়ে প্রতিকারের পথে সামরিক সক্ষমতাও প্রয়োগ করতে তারা দ্বিধা করবে না। কদিন আগে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, বর্তমানে সেটিও গুরুতরভাবে বিপর্যস্ত বলে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।

    সৌদি সরকারের এই ঘোষণা থেকে ঠিক আগে, গত বুধবার কাতারও তাদের দেশে নিযুক্ত কিছু ইরানি কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইরানের ধারাবাহিক উসকানিমূলক হামলা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

    চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদুল ফিতরের দিন বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা ক্রমে বাঁধভাঙা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    নিহতরা হলেন ছত্রপাড়া গ্রামের মৃত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম উদ্দীন কাজি (৭৫) এবং নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি (১৮)। স্থানীয়রা জানান, ঈদের নামাজ শেষে পুরোনো বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া ধন্দর পরে বড় ধরনের মারামারিতে অনূ্যে অভিনত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সংঘর্ষ চলাকালে শিমুল কাজি আহত হওয়ার খবর পেয়ে তার দাদা নাজিম উদ্দীন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নাজিম দুর্বল হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়; এলাকাবাসীর一অংশের দাবি তিনি নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে গুরুতর আহত শিমুলকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো, পথে তারও মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খাঁ ও উপজেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বাধীন ‘জাহাঙ্গীর গ্রুপ’ প্রতিপক্ষ ‘কুবির কাজি গ্রুপ’-এর উপর হামলা চালায়। এতে কুবির কাজিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানান, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বনি ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঠিকঠাক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, ঘটনায় এখনই কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, ঘটনার বিস্তারিত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তা বলা হবে। местা

    স্থানীয়রা শান্তি ফেরানো এবং পরিস্থিতি দ্রুত সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

  • মোংলায় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলায় বিএনপি নেতা ও স্ত্রী জখম

    মোংলায় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলায় বিএনপি নেতা ও স্ত্রী জখম

    মোংলায় ঈদের রাতেই তুচ্ছ বিষয়ে উস্কানিতে হামলা; স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ আনিছুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন। ২০ মার্চ (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোংলা পৌরশহরের শিকারীর মোড়ে ওই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহত দম্পতিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে।

    স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১২ মার্চ গাড়ি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার পর জানাজার বিষয়কে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা খোকন ও বিএনপি নেতা আনিছুর রহমানের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে নিহতদের স্মরণে ঈদ বাজার করতে বের হওয়া ওই দম্পতিকে পূর্বের সেই কথা কাটাকাটির জেরে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে তৎপর কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি এলোপাথারি হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে আছেন খোকনের সহযোগী আশিক ও কাজী রাজু; মোট ৮-১০ জন সন্দেহভাজন হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র ও দা নিয়ে উপস্থিত ছিল।

    হামলার সময় স্বামিকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা স্ত্রীর ওপরও দা দিয়ে কোপাতে শুরু করে; দ্রুত তাদের শরীরে গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখা যায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মোংলা থানা পুলিশ। একই পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সকালে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে এবং অভিযানে দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    এই ঘটনার পর থেকে মোংলা পৌরশহরে রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনজীবন ঠিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে, এবং পুলিশ ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকায় ক্লিয়ারিং ও নজরদারী কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে।