Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ফাল্গুন শেষের আগে গরম তীব্র, পাঁচ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা

    ফাল্গুন শেষের আগে গরম তীব্র, পাঁচ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা

    ফাল্গুনের বিদায়লগ্নে দেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা বাড়ায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় গরমের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। রোববার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা নামতে পারে, কিন্তু রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। সোমবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আরও বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (১০-১২ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গল ও বুধবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। যদিও বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে এই পাঁচ দিনের মেয়াদের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আকস্মিক বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

  • রোববার থেকে মার্কেট ও শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধ

    রোববার থেকে মার্কেট ও শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধ

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার খবরের পর থেকেই তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা জেগে উঠেছে, ফলে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট ঠেকাতে নানা সংস্থাই সাশ্রয়ের কৌশল নেবার কথা ভাবছে।

    এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনের সভাপতি হেলাল উদ্দিন শনিবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের জানান, সংকটকে প্রাক-শর্ত হিসেবে ধরে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোববার থেকে সব মার্কেট ও শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে। তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিকভাবে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং তারা যেকোনো কারণেই হোক সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।

    সমিতি বিশেষত সাজসজ্জা আলোক, ফ্যাসাদ লাইট ও অপ্রয়োজনীয় নীয়ন বা প্রদর্শনী আলো বন্ধ রাখার অনুরোধ করছে, যাতে বিদ্যুৎ ও তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনা যায়। দোকানগুলোকে গ্রাহক সেবায় কোনো প্রভাব ফেলবে না এমনভাবে প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অপরদিকে সরকার ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, তেল নিয়ে উদ্বেগের বাইরে কিছু নেই, কারণ দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, তেল স্টক করে রাখার অপচেষ্টা রোধের জন্য রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) চালানো হবে।

    দোকান মালিক সমিতি ও সরকারের দ্বৈত উদ্যোগের ফলে সংরক্ষণ ও চালান-বণ্টনে সমন্বয় তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সমিতি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদেরও সহযোগিতা কামনা করেছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহার কমে এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়া যায়।

  • দিঘলিয়ার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ বহিষ্কার

    দিঘলিয়ার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ বহিষ্কার

    খুলনা জেলা শাখার অধীনস্থ দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।

    একই সভায় কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাককেও বহিষ্কার করা হয়। দুইজনকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

  • বিএনপি সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে গঠনমূলক কার্যপরিধি গড়ে তুলতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে তিনি সাংবাদিকদের এসব মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন জানান, কর্মশালায় সংবিধান, সংসদের কার্যবিধি (রুলস অফ প্রসিডিউর), রীতিনীতি ও হাউস কনভেনশনসহ সংসদীয় আচার-আচরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের দৃঢ় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংসদে প্রচলিত অনুশীলন ও উৎসাহব্যঞ্জক আচরণকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘‘আমি আশা করি ভবিষ্যৎ সংসদ অধিবেশন দেখলেই জাতি অনেকটাই আশ্বস্ত হবে এবং বলবে—এই ধরনের সংসদই তারা দেখতে চেয়েছিলেন। অতীতে সংসদে যেসব নেতিবাচক চালচিত্র তৈরি হয়েছিল, সেগুলো আমরা মানুষের মনে থেকে মুছে দেবার চেষ্টা করব।’’

    নবনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা নতুনভাবে সংসদে এসেছেন তারা নতুনভাবে যাত্রা শুরু করবেন, ভালোভাবে শিখবেন। তাদের মধ্যে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা খারাপ সংস্কৃতি না পৌঁছালে তারা ভালো সাংসদ হিসেবে গড়ে উঠবেন।’’ তিনি শিশু শিক্ষার তুলনা দিয়ে বলেন, কিভাবে সদ্য জন্ম নেয়া একটি শিশুকে পরিষ্কার-স্বাদু পরিবেশে দীক্ষিত করা হয়, ঠিক তেমনভাবেই নবীন সদস্যদেরও সঠিক সাংস্কৃতিক ও আচরণগত শিক্ষায় প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, প্রথমবারের মতো নির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদীয় কার্যক্রম, বিধিবিধান ও সংসদীয় শिष्टাচার নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কর্মশালার সমাপনী দিনে সকালে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগ ও ফরিদপুর জেলার সংসদ সদস্যরা অংশ নেন; বিকালে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের এমপিরা অংশগ্রহণ করবেন।

    বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রিদের জন্যই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাবেক কারমি, একাডেমিশিয়ান ও অভিজ্ঞ সাবেক সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করে এমপিদের দায়িত্ববোধ, সংসদীয় রেওয়াজ ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কৌশলগত দক্ষতা গড়ে তোলার দিকগুলো তুলে ধরেছেন।

  • সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা পর্যন্ত কমল

    সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা পর্যন্ত কমল

    আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য পতনের প্রেক্ষিতে দেশীয় বাজারেও সোনার দাম কমিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার (৪ মার্চ) বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা পর্যন্ত দরহ্রাস করে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম désormais নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ছয়ষট্টি হাজার দুইশো চৌদ্দ টাকা (২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা)। এতে আগের দিনের মূল্য দুই লাখ সাতাত্তর হাজার চারশো আটুশ (২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা) থেকে কমেছে। নতুন এই দাম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ডের (তেজাবি) দর কমে যাওয়ায় স্থानीय মূল্যও সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যান্য ক্যারেট অনুযায়ী নতুন দামগুলো হলো — ২১ ক্যারেট: দুই লাখ ছাপ্পান্ন হাজার পঁচিশ টাকা (২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা), ১৮ ক্যারেট: দুই লাখ উনিশ হাজার চারশো আটান্ন টাকা (২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা) এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা: এক লাখ উনসত্তর হাজার একশত উননব্বই টাকা (১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা)।

    সোনার সঙ্গে রুপার দরও কমেছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় হাজার পাঁচশত ত্রিশি দুই টাকা (৬ হাজার ৫৩২ টাকা)। একইভাবে ২১ ক্যারেট রুপা ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা।

    প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে গত তিন দিন বিশ্ববাজারে সোনার দর বাড়েছিল। তবে আজ বিশ্ববাজারে দরপতন দেখা গেছে। স্বর্ণ ও রুপার বাজারের তথ্য দেয় এমন ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ হাজার ১৬৪ ডলার, যা গতকালের ৫ হাজার ৩৫৯ ডলারের তুলনায় কম। উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যায়ে দেখা যায়।

    গত মাসের শেষভাগে বিশ্ববাজারে সোনার দর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও রেকর্ড স্থাপিত হয়েছিল। ২৯ জানুয়ারি একদিনে বাজুস ভরি প্রতি দর বাড়িয়ে দেয় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা, ফলে ভালো মানের সোনার ভরি মূল্য তখন বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ছিয়াশি হাজার (২ লাখ ৮৬ হাজার) টাকায়—যা দেশের ইতিহাসে তখন সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল।

  • তেলের দাম দুই বছরের সর্বোচ্চ — বিশ্ব অর্থনীতির সতর্ক সংকেত

    তেলের দাম দুই বছরের সর্বোচ্চ — বিশ্ব অর্থনীতির সতর্ক সংকেত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও বেড়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে—এমনই সতর্কতা দিচ্ছেন কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও এনার্জি সেক্টরের শীর্ষ রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক নেতারা।

    কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করতে পারে। এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট এবং বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়—এটি ২০২৩ সালের শরৎকালীন স্তর পার হওয়ার পরে সর্বোচ্চ। তেলের এমন দ্রুত মূল্য বৃদ্ধিতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    কাতার এনার্জি জানিয়েছে যে তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রে সামরিক হামলার কারণে কিছু উৎপাদন স্থল বন্ধ রাখা হয়েছে, যা সরবরাহে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। মন্ত্রী সাদ আল-কাবি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় তবে প্রতিটি ব্যারেলের দাম ১৫০ ডলারের মতো উঁচুতে যেতে পারে।

    জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তীব্র প্রভাব ফেলবে। পরিবহনভাড়া বাড়ার পাশাপাশি হিটিং খরচ, খাদ্য ও আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যও বড়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি ও সামাজিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ইরান-ভিত্তিক উত্তেজনা এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়ায় চীন, ভারত ও জাপানসহ বড় অর্থনীতিগুলো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘‘বাস্তব ঝুঁকি’’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছি যেখানে বোঝা যাচ্ছে না এটি সাময়িক বৈautionsা নাকি বৃহৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শুরু। সরবরাহ দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকলে বিশ্ব সামষ্টিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পরতে পারে—এমন সতর্কতাও তিনি দিয়েছেন।

    ইউকে-র বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম বর্তমানে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কাছে আপাতত কয়েক সপ্তাহের তেল মজুদ থাকলেও তা চিরস্থায়ী সমাধান নয়। মজুত শেষ হলে এবং যদি উৎপাদন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বাজার স্থিতিশীল করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব দেশগুলো জরুরি তেল মজুদ মুক্ত করার পরিকল্পনা করতে পারে—যেমনটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় করা হয়েছিল—তবুও তা কতটা কার্যকর হবে, সেটি পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।

  • বিহারে রোজা থাকা মুসলিম নারীকে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি, হাসপাতালে মৃত্যু: অভিযোগ

    বিহারে রোজা থাকা মুসলিম নারীকে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি, হাসপাতালে মৃত্যু: অভিযোগ

    মধুবনী জেলার আমহি গ্রামে এক মুসলিম নারী রওশন খাতুনকে রোজা থাকা অবস্থায় খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনির ফলে হাসপাতালে নাকাও মৃত্যুবরণ করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।_attackটি ঘটে বলে জানা গেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি; রওশনকে পরে পটনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রওশন খাতুন গ্রাম প্রধান কুমারী দেবীর কাছে স্বামীর সঙ্গে জড়িত একটি জমজমাট বাগবিতাণ্ডা মেটানোর জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা করে যাওয়া ওই নারীকে ওই সময়ে গ্রাম প্রধানের ছেলে মনু সিং ও তার পরিবারের anderen সদস্যদের নেতৃত্বে একটি দল দাঁড় করিয়ে মারধর শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তাঁকে একটি খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এ সময় গ্রামের মানুষ দাড়িয়ে দেখে গেলেও কেউ পথে বাধা দিতে পারেননি।

    কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন, রওশন রমজানের রোজা পালন করছিলেন এবং তিনি পানি চাননি—তবুও হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক মদ ও প্রস্রাব মিশ্রিত একটি পানীয় খাওয়ায় বলে বলা হচ্ছে। এমন বর্বর আচরণে গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্রোধান্বিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘মিথিলা সমাচার’ও ঘটনাটি সম্প্রচার করেছে।

    পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। এক তদন্তকারী কর্মকর্তার কথায়, “রওশন খাতুন রোজা ছিলেন কি না এবং তাঁর কাছে পানি চাওয়ার বিষয়টি সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্ট পাওয়া গেছে, কিন্তু আমরা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    ঘটনার পর স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রাম প্রধানের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, পুলিশ ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত সকলকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আরও গ্রেফতারি হতে পারে বলে জানিয়েছে। এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

    রওশন খাতুনের স্বামী ঘটানের দোষীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। মনসুরি সম্প্রদায়ের রাজ্য সভাপতি অজয় মনসুরি বলেছেন, “নিহত নারীর ন্যায়বিচারের জন্য আমরা সব স্তরে লড়ব” এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই জেলা জুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলেছেন, গ্রামীণ অঞ্চলে, বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চাইলে কতটা অরক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন, এই ঘটনা তা প্রমাণ করে। এক প্রবীণ বাসিন্দা বললেন, “রওশন একজন গরীব মহিলা ছিলেন, তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন; তার মৃত্যু আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। আমরা তার জন্য ন্যায়বিচার চাই।”

    পুলিশি তদন্ত চলছে; স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সমাজকর্মীরা ঘটনাটির দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছেন।

  • চার ঘণ্টায় ২৮ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

    চার ঘণ্টায় ২৮ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের নানা প্রদেশে একযোগে বহু ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশজুড়ে উৎকণ্ঠা বেড়েছে। সর্বশেষ ইউএসজিএসের রেকর্ড অনুযায়ী মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে দেশজুড়ে কমপক্ষে ২৮টি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়েছে।

    ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্রা ১.৫ বা তার বেশি মূল্যমানের মোট ১০৮টি ভূমিকম্প ঘটেছে। গত সাত দিনে এই সংখ্যা ছিল ৭৩১টি এবং গত ৩০ দিনে প্রায় ৩,৭০৭টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। বেশিরভাগই ছিল অপেক্ষাকৃত নিম্ন মাত্রার কেঁপে, যা সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি করে না।

    সাম্প্রতিক তালিকায় নেভাদার লাভলকে ১.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের তথ্য রয়েছে; এর গভীরতা ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার। এর আগে টেক্সাসের ভ্যান হর্নে ১.৯ ও ক্যালিফোর্নিয়ার সোলেদাদে ২.০ মাত্রার কেঁপে অনুভূত হয়। হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি এলাকা, আলাস্কার সোলডোটনা ও হ্যাপি ভ্যালি, নিউ মেক্সিকোর লাভিং এবং টেক্সাসের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময় স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

    চলতি সপ্তাহে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ছিল লুইজিয়ানার কুশাট্টায়, যার মাত্রা ৪.৯ রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মাসে সবচেয়ে বড় কেঁপে ছিল আলাস্কার উনালাস্কার ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প। আর এই বছরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ঘটেছে আলাস্কার স্যান্ড পয়েন্টে, যার মাত্রা ছিল ৭.৩।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চল—বিশেষ করে আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই—ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ভূমিকম্পগুলো সাধারণত ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের সঞ্চালন বা আগ্নেয়গিরি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত; তবে অধিকাংশ ছোট কাঁপা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয় না।

    ইউএসজিএস ও স্থানীয় জরুরি মৃত্যুক্রিয়াকলাপীরা পরিস্থিতি মনিটর করছেন এবং নাগরিকদের অস্থিরতা কমাতে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় আধিকারিক কিংবা ইউএসজিএসের আনুষ্ঠানিক আপডেট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

  • নীল নকশা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে জামায়াত ফলাফল মেনে নিয়েছে

    নীল নকশা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে জামায়াত ফলাফল মেনে নিয়েছে

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামী শক্তিকে পরাজিত করার একটি নীল নকশা থাকা স্বত্বেও দেশের স্বার্থেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। তিনি বলেছেন, যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত অব্যাহত থাকে তাহলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করা হবে।

    গতকাল শনিবার মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে নগরীর এক হোটেলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে অনুষ্ঠিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানে মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারি পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি। এতে বক্তৃতা ও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, নায়েবে অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আজম হাদী, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন এবং মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর হোসেন।

    অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু রুবাবা, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক জুলফিকার আলী, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, মহানগর সভাপতি রাকিব হাসান, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইফ নেওয়াজ, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক, মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, খুলনা আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুফতি আব্দুর রহিম, জিপি অ্যাডভোকেট ড. মোঃ জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সাবেক সহ-সভাপতি আবু তৈয়ব, সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, খুলনা প্রেসক্লাব আহ্বায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।

    এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের খুলনা জেলা সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল হাসান রুবা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খান মনিরুজ্জামান, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান, এনডিএফ মহানগর সভাপতি ডাঃ আসাদুল্লাহিল গালিব এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবু সাইদ মুহাম্মাদ মামুন শাহিন।

    অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুকাররম বিল্লাহ আনসারী, সাংবাদিক নেতা হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, আমিরুল ইসলাম, কাজী শামীম আহমেদ, মো. নূরুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান মুন্না, সাইফুল ইসলাম বাবলু, শেখ শামসুদ্দিন দোহা, বশির হোসেন, নুরুল আমিন নূর, রামীম চৌধুরী, এম এ আজিম, ইমরান হোসেনসহ জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতারা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

    কুরআন তেলাওয়াত করেন মহানগর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দীক। ইফতার শেষে মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ. ন. ম. আব্দুল কুদ্দুস মুসলিম উম্মাহ ও দেশের কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

  • খুলনায় পাঁচ বিদেশি পিস্তল ও ৯৬ রাউন্ড গুলিসহ নারী গ্রেফতার

    খুলনায় পাঁচ বিদেশি পিস্তল ও ৯৬ রাউন্ড গুলিসহ নারী গ্রেফতার

    খুলনায় পৃথক তিন মডেলের পাঁচটি বিদেশি পিস্তল ও ৯৬ রাউন্ড গুলিসহ সুরাইয়া পারভীন সুমি (৩৮) নামের এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের নিজখামার এলাকায় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী ‘ইমাদ পরিবহন’ নামে একটি বাস তল্লাশি করে এই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তুহিনুজ্জামান তথ্যটি নিশ্চিত করেন। পুলিশের সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ৮টা থেকে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা সদস্যরা ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সংশ্লিষ্ট দল।

    সাড়ে ৯টার দিকে সাতক্ষীরা-ঢাকা পথে চলতি ইমাদ পরিবহনের একটি বাস তল্লাশি করলে সুরাইয়া পারভীনের ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় ২টি বিদেশি রিভলভার এবং ৩টি পিস্তলসহ মোট ৯৬ রাউন্ড গুলি। উদ্ধারকৃত তিনটি পিস্তলের মধ্যে দু’টি ‘৯ মিমি’ এবং একটি ‘টুটুবোর’ ধরনের। গুলির মধ্যে রয়েছে ৫০টি টুটুবোর, ২১টি ৯ মিমি ও ২৫টি ‘থ্রি টু ফোর’ ধরনের গুলি।

    গ্রেফতার সুরাইয়া পারভীন সুমি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চালতেতলার বাটকেখালি গ্রামের আব্দুল করিমের স্ত্রী; তার বাবার নাম আশরাফ উদ্দিন। কেএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এসব অস্ত্র ও গুলি সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী করা হচ্ছিল।

    তিনি আরও বলেন, সুমির বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি মাদক সম্পর্কিত মামলা রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের তদন্ত কোনো ব্যক্তি কতৃপক্ষ থেকে এগুলো সংগ্রহ করে রেখেছিল এবং কোথায় পৌছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তোলা হচ্ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুরাইয়া পারভীন সুমিকে লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।