Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • চট্টগ্রামে দুই লাখ টন তেল নিয়ে দুই জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে: চিফ হুইপ

    চট্টগ্রামে দুই লাখ টন তেল নিয়ে দুই জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে: চিফ হুইপ

    চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বন্ধ সংক্রান্ত খবরের সঙ্গে একই সূত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছিল—দুই লাখ টন তেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এই তথ্যও মিডিয়ায় গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা উচিত, কারণ নেতিবাচক খবরে এতেই ক্ষুদ্র না থেকে ইতিবাচক দিকগুলোওজন নেয়া দরকার।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি সংক্রান্ত সংবাদ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণা হয়েছে, তথাপি বন্দরে নোঙরকৃত জাহাজ ও তেলের ব্যবস্থা সম্পর্কেও জনগণকে জানানো জরুরি।

    চিফ হুইপ প্রধানমন্ত্রীকে জাতির কল্যাণে কাজ করা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে মানবিক কল্যাণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

    কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলায় ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে বিভিন্ন কাজের বাজার অনুসারে ভাষায় শিক্ষিত করতে হবে—মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য আরবি, চীনে কাজের জন্য ম্যান্ডারিন, ইতালিতে ইতালিয়ান, কোরিয়ায় কোরিয়ান ও জাপানে জাপানিজ শেখানো প্রয়োজন। তবু দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজির গুরুত্ব অপরিসীম; এটি একটি বৈশ্বিক ভাষা হওয়ায় ইংরেজি শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী সারাদেশ ঘুরে এ বিষয় নিয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করবেন, জানান তিনি।

    সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের এবং বিরোধী দলের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও তারা সর্বশেষে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রকে মজবুত করা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দেশের গঠনমূলক উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই আমরা সমৃদ্ধ হব—দেশপ্রেমের জায়গা থেকেই ঐকমত্য অর্জন করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

    সংক্ষেপে চিফ হুইপের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়: সংবাদ পরিবেশে ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা জরুরি, সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং দক্ষ জনশক্তি গঠনে ভাষা শিক্ষা ও সংবিধান সংশোধনে সকল পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।

  • জ্বালানি সংকটে দুই বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানি সংকটে দুই বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানি তেলের চলমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে দুই বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) বৈশ্বিক সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সংসদ সচিবালয়ের দফতর থেকে এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস আয়োজিত অনলাইন সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘‘জরুরি পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে’’ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানান।

    চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই সংকট পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে; একাই কোনো দেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রাদেশিকভাবে সমন্বিত, দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরবরাহ বিঘ্নের সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকে প্রভাবিত করছে এবং এই প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কিছু স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা, পাশাপাশি ভোক্তা সুরক্ষার জন্য রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপ’ মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান আগাম সতর্ক করে বলেন, সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশকে উন্নয়ন কাজকে স্থবির করে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নের যেসব অর্জন রয়েছে, সেগুলো পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এই সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একাই এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না; বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ অপরিহার্য।

    সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন; সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    প্রধানমন্ত্রী বিকেলে সংসদ ভবন থেকে সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

  • সংস্কার পরিষদ না হলে সংকটে পড়বে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ না হলে সংকটে পড়বে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নগর আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন না হলে তার ফল বিএনপি সরকারকে ভোগ করতে হবে—এমন সর্তকবাণী দিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ওই মন্তব্য করেন সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশে দুইটি বড় প্রশ্ন জন্ম নিয়েছিল। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ নির্মূল, বিএনপি তখন দ্রুত নির্বাচনের দাবি করেছিল, আর তাদের পক্ষ থেকে আমরা গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংস্কারের দাবি তুলেছিলাম। পরে ঐ প্রেক্ষাপটেই বিএনপি সংস্কারের আলোচনায় অংশ নেয়; ফলে আমরা গণপরিষদের বদলে সংস্কার পরিষদের দাবি মেনে নিই।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিএনপি কৃত্রিমভাবে বিরোধিতা তৈরি করছে এবং ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই আদেশ’কে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপি তাদের পক্ষে জুলাই সনদকে দলীয় ইশতেহার হিসেবে পরিব্যক্ত করায় গণভোট সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের কাঠামো ভেতরে গিয়ে মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়—এজন্য গাঠনিক ক্ষমতার সংস্কারের জন্যই সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তারা কথার বরখেলাপ করে গণভোটের গণরায়কে অগ্রাহ্য করেছে।

    গণভোট ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করার পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে চিফ হুইপ আরও বলেন, এখন আমাদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে নিতে হবে ও চিত্রতৎপর্য—যুদ্ধজমিনির মতো—সঙ্কট মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে। জ্বালানি সমস্যা সমাধানসহ দেশের চলমান দুর্যোগ মোকাবেলা নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। নাহিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের দিক টিপে দেখিয়েছিল, সেগুলো এখনও বাস্তবায়িত না হওয়ায় জাতিকে আজকের দুর্বিপাকে ফেলে বিএনপিকে এর দায়ভার পোহাতে হবে এবং পরিণতি সহজ হবে না।

    সংকট নিরসনে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধিগত সুরাহা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য বজায় রাখুন। নাহলে এর ফল আপনাদের ভোগ করতে হবে।’

    সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্যটি দিয়েছেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে স্বাধীনতার ও গণ-আন্দোলনের সময়। ১৯৪৭-এর স্বাধিকার আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানগুলোতে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের অনেকেই শ্রমজীবী মানুষই ছিলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমিকদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি মাত্র এক মাসের মাথায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে; এক মাসের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এটি একটি গণবিরোধী সরকার।’’

    নাহিদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর করা এবং সুদৃঢ় সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না; তাই গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

    এক নতুন জাতীয় ঐক্যের কথা উল্লেখ করে নাহিদ заяв করেন, ‘‘আমরা ওই ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি—জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ব; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করব। এই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে আছে।

    প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) জবাবদিহিতার দাবিতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে—জুলাইয়ের বাংলাদেশকে—সামনে নিয়ে যেতে হবে।’’

    চূড়ান্তভাবে সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্যে রাজপথে নামার প্রস্তুতিরও কথা বলেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদকে নয়, রাজপথের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে ঈমানদার হতে বাধ্য করব এবং জুলাই সনদ, গণভোট ও শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করব।’’

  • দেশে সোনা-রুপার দাম বাড়ল, ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা

    দেশে সোনা-রুপার দাম বাড়ল, ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সমিতির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দামে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এ পরিবর্তনে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর 상승ের প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে, তাই ভরি ভিত্তিক দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামের বিবরণে দেখা যায়— ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির (সোনার ঐতিহ্যবাহী মান) প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রুপার দামে теж বাড়তি দেখা গেছে। বাজুস জানিয়েছে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার ভরি দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে মাঝপ্রস্থ সংকট ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় স্থানীয় বাজারেও ওঠানামা বাড়ছে। জনপ্রিয় বিশ্ববাজার তথ্যসূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮২৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে বছরের শুরুতে গত ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে ওঠানামা দেখা গিয়েছিল।

    উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে তীব্র উত্থানের প্রভাবে রেকর্ড পরিমাণ বাড়তি শুল্ক হিসেবে দেশের বাজারেও এক ধাক্কায় বড় রকমের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। ২৯ জানুয়ারি একদিনে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধি করে বাজুস ভালো মানের সোনার মূল্য একবারে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছিল — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ একদিনে বৃদ্ধি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বজায় থাকলে ঘরের বাজারেও দামের ওঠানামা চলতেই পারে; তাই ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্বশেষ রেট অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

  • বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৪ হাজার ৬৬০.৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাব ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানের।

    আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দেখালে পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৯৭৭.৮৯ মিলিয়ন ডলার। তুলনামূলকভাবে, গত ৯ এপ্রিল গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৬৪৫.০৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৯৫২.৬৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত কয়েক দিনে গ্রস রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২৫.২৩ মিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুযায়ী: মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী দায় (short-term liabilities) বাদ দিলে যেটি বাকি থাকে, সেটিকেই নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মাপকাঠিতে দেশের রিজার্ভের অবস্থা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে থাকে।

  • হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ থাকলে লোহিত ও পারস্য উপসাগর বন্ধের হুঁশীয়া ইরানের

    হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ থাকলে লোহিত ও পারস্য উপসাগর বন্ধের হুঁশীয়া ইরানের

    ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করেছেন, যদি মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ অব্যাহত রাখে তবে ইরান লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। এই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে।

    আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজে অবরোধ জারি রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি আরও যোগ করেছেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোন রকম রফতানি-আমদানিও চলতে দেবে না।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজারো সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। সংবাদমাধ্যমটি সেনা পাঠানোর বিষয়ে অবগত কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়েছে, যদিও রয়টার্স এই তথ্যকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। বিবিসি ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে খবরটি প্রচার করেছে।

    রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে। একই সময়ে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে ওয়াশিংটন দুইটি নতুন শর্ত দিয়েছে বলে প্রতিবেদন বলেছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে এবং তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় ‘সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের’ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ পুনরায় খুলে দিতে হবে—অর্থাৎ, ইরান যদি প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তাদের নিজস্ব জাহাজও চলাচলে বন্ধ থাকবে।

    আরেকটি শর্ত হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিদলকে যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা স্বাক্ষরের পূর্ণ কর্তৃত্ব IRGC (ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী)-এর কাছ থেকে পেতে হবে, এবং ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতায় ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্মতিও থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা কেবল তখনই আলোচনায় ফিরবে যখন ইরানের প্রতিনিধিদল চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ নিয়ে উপস্থিত হবে।

    এর আগের শান্তি আলোচনা, যা পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। সেই বৈঠকটি গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত প্রথম সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎকার ছিল—ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটি সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। এখন চলতি সপ্তাহের শেষে আবারও ইসলামাবাদে প্রতিনিধিদল ফিরতে পারে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।

    রয়টার্স ইরানি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উক্তি জমা করে জানিয়েছে, এখনো মার্কিন কর্মকর্তারা এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সমঝোতার দিকেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

  • নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়

    নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গঠন হওয়া সরকারের দুই মাস কেটে গেলেও নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন দেখা যায়নি। জ্বালানি সংকটে সারা দেশে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, নিত্যপণ্যের দাম আগেই নাগালের বাইরে ছিল — এখন তা আরও বেড়েছে। প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক খবর আসছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও প্রত্যাশামত উন্নত হয়নি। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন অনেক ক্ষেত্রে আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘দায়িত্বশীল তারবিয়া’ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা নগর সভাপতি আলহাজ্ব মুফতী আমানুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন এবং সেক্রেটারি আলহাজ্ব মুফতী ইমরান হুসাইন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

    বৈঠকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, সংস্কার নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জনমনে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন অধ্যাদেশ — গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সম্পর্কিত অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের কারণে জনমনে সরকারের নীতি ও মনোভাব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারা বারবার এসব অধ্যাদেশ বাতিল না করার অনুরোধ করলেও তা বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে জনগণের মধ্যে ‘আওয়ামী আমলের মতো দুঃশাসন’ ফিরে আসার আশংকা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার আবারও স্বৈরাচারী আচরণ করে তাহলে তাদের বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হবে।

    বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, এবং আবু গালিব, শেখ হাসান, ওবায়দুল করিম।

    আরও বক্তব্য রাখেন নগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, আলহাজ্ব আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাঃ দ্বীন ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি ইসহাক ফরীদি, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক গাজী ফেরদাউস সুমন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, কাদেরি মোঃ জামাল উদ্দিন ও মাওঃ নাসিম উদ্দিন প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, বন্দ সরোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব মোঃ বাদশা খান, আলহাজ্ব মারুফ হোসেন, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, মুফতি আমানুল্লাহ, এইচ এম আরিফুর রহমান, গাজী মিজানুর রহমান, মোঃ মঈন উদ্দিন, সদস্য আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম টুটুল মোড়ল, মোঃ শহিদুল ইসলাম সজিব, মোঃ কবির হোসেন হাওলাদার, আবুল কাশেম, মোঃ বাদশা খান, মোঃ মিরাজ মহাজন, শ্রমিক নেতা মৌলভী আল আমিন, যুব নেতা মোঃ আব্দুর রশিদ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম নেতা হাফেজ মাওলানা ইমদাদুল হক, ছাত্র নেতা মোঃ মাহদী হাসান মুন্না সহ আরও আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অবশেষে নেতৃত্বরা সরকারের প্রতি আবারও জোরালো আহ্বান জানান—দ্রুত সময়ের মধ্যে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, মূল্য স্থিতিশীল করা, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নিলে জনগণের আস্থা ফেরত আসতে পারে।

  • রোনালদো চান ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা

    রোনালদো চান ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা

    পর্তুগালের ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও সবাইকে চমকে দিয়েছেন। সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে খেলা এই ৪১ বছর বয়সী তারকা জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলাও তার পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সম্প্রতি পিয়ের্স মরগানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

    রোনালদো বলেছেন, “২০৩০ আসরে খেলার সম্ভাবনা এখন আছে। কারণ ৪১ বছর বয়সেও আমি প্রতি সপ্তাহে গোল করছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে এখনও যদি বর্তমান ফর্ম ধরে রাখেন এবং নিয়মিত গোল করতে পারেন, তাহলে আরও কয়েক বছর খেলতে চান।

    তাঁর কথায়, “হয়তো আমি আরও চার বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারব। এমন ফর্ম ধরে রাখতে পারলে আমি ৫০ বছর পর্যন্তও খেলতে পারি।” এই মন্তব্যে ফুটবল বিশ্বে পুনরায় আলোচনা তুঙ্গে ওঠেছে।

    ২০৩০ বিশ্বকাপটি স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো আখড়া হবে। নিজ দেশ পর্তুগালের মাটিতে খেললে রোনালদো জন্য তা বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে—ফ্যানদের সামনে আবারও নিজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে তিনি সেটিকে গুরুত্ব দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    বর্তমানে আল-নাসরে রোনালদো দারুণ ফর্মে রয়েছেন এবং নিয়মিতই গোল করে যাচ্ছেন। ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ৯৬৮ উল্লেখ করা হচ্ছে, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় রাখে। এই সূত্র ধরেই তিনি ২০৩০ পর্যন্ত খেলার সম্ভাব্যতা নিয়ে আশাবাদী থাকলেন।

  • চোখের জলে চিরবিদায় — পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোসলে

    চোখের জলে চিরবিদায় — পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোসলে

    ভারতীয় উপমহাদেশের অমর সুরসুধা আশা ভোসলে আকাশে মিলিয়ে গেলেন। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক কবরস্থানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবার, শিল্পী ও অসংখ্য ভক্ত—আনন্দ ভোসলে তার মায়ের শেষকৃত্য সভায় অসলগ্নতায় মুখাগ্নি করেন।

    লোয়ার পারলের আশার বাসভবন সকাল থেকেই ভক্তাঙ্গন ও শ্রদ্ধাশ্রোতের সমাগমে ভেঙে পড়েছিল; তবে আনন্দের বদলে ছেঁদে ছিল গভীর শোক। বর্ণিল ক্যানভাসে না, বরং কালি ঢাকার মতো সানসারী শোকে মোড়া ছিল পুরো এলাকা। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন বলিউড, সংগীত ও ক্রীড়া অঙ্গনের একঝাঁক বিশিষ্ট নাম—অমির খান, শচীন টেন্ডুলকার, এ আর রহমান, জাভেদ আলি, টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফসহ অনেকে। রাজনীতিবিদরাও শেষকৃত্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    আশার মৃতদেহ শোভাযাত্রা শেষে শিবাজী পার্ক শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চারপাশ সাদা-হলুদ ফুলে সাজানো শববাহী গাড়ি এবং পথ দুধারে ভিড় করেছিল অসংখ্য ভক্ত—চোখের জলে, ফুলের হাতে সবাই শ্রদ্ধা জানালেন। বিনোদন জগতের নামরা ও রাজনীতি-খেলার বড়দের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    আশা ভোসলে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ভাষা-সংগীতের এক সময়হীন প্রতিভা ছিলেন; মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    ১৯৪৩ সালে তার সংগীতজীবন শুরু হয়, এবং আটেরও বেশি দশক ধরে তিনি শিল্পী হিসেবে দেশের সংগীতাঙ্গনকে আলোকিত করেছেন। শুধুমাত্র হিন্দি ভাষায়ই নয়, প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষা ও কয়েকটি বিদেশি ভাষায়ও গানের রেকর্ড করেছেন। পরিচালিত সিনেমায় তার কণ্ঠ কণ্ঠে গেঁথে আছে—৯২৫টিরও বেশি ছবিতে গান গাওয়ার রেকর্ড আছে এবং প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি গান তিনি রেকর্ড করেছেন বলে ধারণা করা হয়। তার সংবর্ধনা হিসেবে ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাকে পদ্মভূষণ দিয়েছিল এবং ২০১১ সালে গিনেস-বুক তাকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ড করা কণ্ঠকার হিসেবে সংবর্ধিত করেছিল।

    ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে তিনি ছিলেন গণপতরাও ভোসলেকে বিয়ে করেছিলেন; তখন তার বয়স ছিল ১৬। ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে তিনি বিখ্যাত সঙ্গীতকার আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; আরডি বর্মন ১৯৯৪ সালে মারা যান।

    আজ সেই সুরের আলো নীরব—কিন্তু গানগুলো থেকে আশা ভোসলের কণ্ঠ আজীবন প্রাণ বাঁচিয়ে রাখবে। শিল্পী মানুষ ও সংস্কৃতির জগতে তাঁর অবদান অনবদ্য থাকবে।