Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পহেলা বৈশাখ—সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অদ্বিতীয় প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখ—সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অদ্বিতীয় প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখকে জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল (১২ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের সকল বঙ্গভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় করে নতুন বছর ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ শতাব্দী-পর-শতাব্দী ধরে বারবার নতুন উদ্দীপনা ও আশার প্রতীক হয়ে ফিরে আসে। নতুন বছরের আগমন পুরোনো ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জোগায়।

    তিনি বলেন, এই উৎসবের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে থেকেও প্রকৃতির ছন্দ মেনে কৃষকরা ফসলের শুরুর সময় নির্ধারণ করেন। বাংলার হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কলা ও মূল্যবোধ পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে প্রাণ পায়।

    বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা, হালখাতা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য উন্মোচিত করে এবং জাতিগত ঐক্যবোধকে জাগ্রত করে। বাংলা নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে; প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশার মিলনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের সমাপ্তির পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুণীর জন্য আর্থিক সহায়তা চালু করেছে। কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচিও শুরু হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা দেশের গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করবে। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

    তিনি নববর্ষ উপলক্ষে সবাইকে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার উর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান এবং নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের হতাশা ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নেয়ার তাগিদ দেন। বাণীর শেষ অংশে তিনি দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

  • বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেবেন: রেহান আসিফ আসাদ

    বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেবেন: রেহান আসিফ আসাদ

    ব্রডব্যান্ড এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, আগামী বাজেটে মোবাইল সেবায় আরোপিত শুল্কহার কমিয়ে গ্রাহকদের উপর চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে ১০০ টাকার রিচার্জ করলে গ্রাহক মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান; বাকি ৩৮ টাকা শুল্ক ও কর বাবদ চলে যাচ্ছে—যা ব্যবহারকারীর ওপর অযথা বোঝা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সচেতন এবং বাজেটে শুল্কহারে সংস্কারের মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    ব্রডব্যান্ড এক্সপোতে উপস্থিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী ১২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহককে স্বস্তি দিতে ইন্টারনেটের দাম আরও কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বললেন, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা দেশের ডিজিটাল অগ্রগতির জন্য জরুরি।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, টেলিকম খাতের উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি আন্তর্জাতিক মানের টেলিকম অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানান, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের দাবি বিবেচনায় রেখে শিগগিরই একটিভ শেয়ারিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে, যা খরচ কমিয়ে সেবার মান বাড়াতে সহায়ক হবে।

    বর্তমানে মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক ২৩ শতাংশ, কার্যকরী ভ্যাট ১৮ শতাংশ এবং সারচার্জ ১ শতাংশ ধার্য আছে। ফলে ১০০ টাকার রিচার্জে গ্রাহক কর বাবদ প্রায় ৩৮ টাকা দিচ্ছেন এবং হাতে সেবা আসে মাত্র ৬২ টাকা।

    বিটিআরসির তথ্যানুযায়ী দেশের চারটি অপারেটর সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগধারীকে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে নীতি সংশোধন করে গ্রাহক ও খাত—উভয়েরই স্বার্থে কাজ করা হবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে।

  • সংস্কার পরিষদ না হলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ না হলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ ইসলাম

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার যদি তৎক্ষণিকভাবে সংস্কার পরিষদ গঠন না করে তবে তার ভার বিএনপি সরকারকে বহন করতে হবে এবং সংঘটিত সংকটের পরিণতি কঠোর হবে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য কর্তৃক আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে দুটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে — শিক্ষার অস্বাভাবিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ, আর বিএনপি তখন নির্বাচনের দাবি করেছিল। আমরা গণপরিষদের মাধ্যমে ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কারের আলোচনায় অংশ নেয়; সেই প্রেক্ষিতে আমরা গণপরিষদের বদলে সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব মেনে নিই।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন কৃত্রিমভাবে বিরোধ সৃষ্টি করছে। তারা ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই আদেশ’কে আলাদা করার চেষ্টা করছে, কারণ জুলাই সনদকে নিজেদের দলীয় ইশতেহারে রূপ দিতে চায়। এ কারণেই গণভোটের প্রশ্ন উঠে এসেছে— সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের ভিতরে সংবিধানের প্রাথমিক কাঠামো বদলানো সম্ভব নয়; তাই গঠনগত ক্ষমতার জন্য সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব কিছু মেনে নিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা কথার বরখেলাপ করে গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    নাহিদ আরো বলেন, যারা গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করছে, তাদের সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে। বর্তমানে আমাদের যুদ্ধের সমতুল্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নেওয়া দরকার—জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করা হবে, জ্বালানিসংকটসহ বিভিন্ন দুর্যোগ কীভাবে সামলাবো, ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা জরুরি।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের প্রস্তাব করেছিল, সেগুলোও এখনো আলোচনার পর্যায়ে থেমে রয়েছে। দেশের এই দুর্যোগে বিএনপিই জাতিকে টেনে এনেছে; ফলে তাকে এর দায়ভার ও পরিণতি বহন করতে হবে এবং তাতে সহজ উপায় থাকবে না।

    সংকটের সমাধানে দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের উপরে জোর দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেছেন, সরকারকে দ্রুত সংবিধানগত সংস্কার পরিষদ করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখতে হবে; নতুবা এর পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখেছি—শ্রমিকরাই রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।’

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর ক্ষমতায় এসে মাত্র এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে, গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে—এই সরকার গণবিরোধী,’ বলেন নাহিদ।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের অধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার অভিযোগও তিনি তোলেন। তিনি জানান, ‘এই দেশের রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফল ভাল হবে না। আমরা গণআন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’

    নাহিদ বলেন, ‘আমরা নতুন একটি জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে গিয়ে শ্রমিকদের জন্য বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি আমাদের রয়েছে—রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সব ক্ষেত্রেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব এবং শ্রমিকের অংশ নিশ্চিত করব।’ তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে রয়েছে।

    শ্রমিকদের উদ্দেশে নাহিদ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ হোন। সবাই মিলেও তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনুন এবং নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত থাকুন।’ তিনি শুধু সংসদের উপর নির্ভর না করে রাজপথের প্রস্তুতিও নেওয়ার উপর জোর দেন এবং জানান, ‘রাজপথ ও গণআন্দোলনের প্রস্তুতির মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

    বাংলাদেশ ব্যাংক ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক করেছে। রোববার জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখাকে এসব নোট নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করে নতুন বা পুনরায় প্রচলনযোগ্য নোট দিয়ে বিনিময় করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগে থেকেই এ ধরণের নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের উপস্থিতি বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের লেনদেনে ভোগান্তি করছে। তাই ‘ক্লিন নোট পলিসি’ কার্যকর করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষত ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার ছোট নোটগুলো নিয়মিতভাবে গ্রহণ ও নির্ধারিত কাউন্টারে বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রাহকদের এসব নোটের পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দেওয়া হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো ব্যাংক শাখা যদি এই সেবা দিতে অনীহা প্রদর্শন করে বা গাফিলতি দেখায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনাটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সব ব্যাংককে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে, যাতে নগদ লেনদেন স্বচ্ছ ও ঝক্কিমুক্তভাবে চালু থাকে।

  • ইরান বা লেবাননে হামলা মানেই তুরস্কে হামলা: এরদোগান

    ইরান বা লেবাননে হামলা মানেই তুরস্কে হামলা: এরদোগান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান জানিয়েছেন, লেবানন বা ইরানের ওপর যেকোনো হামলাকে তিনি তুরস্কের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে কথা বলার সময় এরদোগান জানান, অঞ্চলটি ক্রমশ যুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি ইসরায়েলকে আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ নিয়ে কেউ অবহেলা করলে ‘‘কঠিন মূল্য’’ দিতে হবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ করেন।

    প্রেসিডেন্ট আবার জোর দিয়ে বলেন, লেবানন বা ইরানে কোনো হামলা হলে সেটাকে তুরস্কের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করার দায় ইসরায়েলকে বহন করতে হবে এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে।

    এরদোগান আরও বলেন, তুরস্ক ইতোমধ্যেই কারাবাখ ও লিবিয়ায় যেভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, প্রয়োজনে ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও সমতূল্য পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান যদি মধ্যস্থতায় যুক্ত না থাকত, তাহলে এমন পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই নেওয়া হতো।

    তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-কে কটাক্ষ করে অভিযোগ করেছেন যে তিনি ‘‘রক্ত নিয়ে খেলা’’ করছেন এবং ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। এরদোগান বলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হবে বলে তিনি মনে করেন।

    সর্বশেষে তিনি দাবি করেন, এমনকি যুদ্ধবিরতির সময়ও ইসরায়েল লেবাননে শত শত নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে প্রাণহানি করেছে — যা তিনি কড়া নিন্দা জানান।

  • কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যায় পরিবার মামলা করবে না, এখনও কেউ আটক নেই

    কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যায় পরিবার মামলা করবে না, এখনও কেউ আটক নেই

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবারের তিন ভাই ও আত্মীয়-স্বজন পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে বসে এ সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিহত পীর শামীমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মামলা করব না। আমাদের বয়স হয়েছে, এসব নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার বয়স আর নেই। যে চলে গেছে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারি না, তাই আর ঝামেলায় জড়াতে চাই না।” তিনি জানান, শনিবার ভাইয়ের দাফনের পরে রাতেও পরিবার নিয়ে বসা হয় এবং তখনও পুলিশ মামলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু পরিবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মামলা না করার।

    কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং তারা আমাদের মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। পরিবারের যে কেউ মামলাটি করতে পারেন। যদি কেউ মামলাটি না করেন, তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে — তাতেই মামলা হবে, তিনি জানান। এ ঘটনায় এখনো কোনো আটক নেই, তবে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানও বলছেন, মামলার জন্য তারা পরিবারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যদিও পরিবার মামলা করবেন না — এমন গুঞ্জন শোনা যায়। পুলিশ বাদী হয়ে মামলার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি বার্তা দেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে—দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে স্থানীয়রা দাবি করেন ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগ নিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। ওই সময় পীর শামীম ও তার অনুসারীদের উপর আক্রমণ করে স্থানীয়রা; পরে আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে বিকেল চারটায় তিনি মারা যান। রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তার মরদেহ ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    পরিস্থিতি সংবেদনশীল হওয়ায় পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং তদন্ত চলছে। পরিবারের মামলা না করার সিদ্ধান্ত তুলে নিয়েছে না-ই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে কি না, সেটি তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।

  • দর্শনা রেলস্টেশনে ১০টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    দর্শনা রেলস্টেশনে ১০টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দর্শনা রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে এক পাচারকারীকে ১০টি স্বর্ণের বারসহ আটক করেছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং বাজার মূল্য আনুমানিক ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে দর্শনা রেলস্টেশনে টহলরত বিজিবির একটি দল অভিযানে নেমে ওই ব্যক্তিকে আটক করে। আটক ব্যক্তি স্বরনবিহীনভাবে ভারতের দিকে যাওয়ার সময় বিজিবির টহলদল দাঁড়ানোর সংকেত দিলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন; পরে ধাওয়া করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    আটক করা ব্যক্তি আলমগীর খান (৫৫), তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মোবারকপাড়া এলাকার মৃত বাদল খানের ছেলে। ঘটনাটি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, অবৈধভাবে ভারত অভিমুখে স্বর্ণ পাচারের সংবাদের ভিত্তিতে তারা অবস্থান গ্রহণ করে।

    গ্রেপ্তারের পরে আলমগীরের দেহ তল্লাশি করে কোমরে মোড়ানো অবস্থায় ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, এ ঘটনায় বিজিবি পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা রাখা হবে। তদন্ত জারি রয়েছে।

  • আইসিসি ঘোষণা করল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রাইজমানি

    আইসিসি ঘোষণা করল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রাইজমানি

    নারী ক্রিকেট দ্রুতগতিতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যেখানে ক্রীড়া, ব্যবসা ও জনপ্রিয়তা—এগুলো প্রত্যেকটিই একই সঙ্গে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ বাড়ার এবং খেলার গুরুত্ব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। গত আসরে যেখানে ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলার, সেখানে এবার প্রাইজমানি প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে — যা নারীদের খেলায় আর্থিক সুযোগসুবিধা ও পেশাদার মান আরও উন্নত করবে।

    প্রাইজমানির বিস্তারিত ভাঙা হয়েছে এমনভাবে—চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), রানার্স-আপ দল পাবেন ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা), এবং চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে হার মানা দুই দলই প্রত্যেকে পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা)। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো প্রত্যেকে পাবে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা)। অংশগ্রহণকারী সব ১২টি দলই ন্যূনতম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবে। এই আর্থিক সুরক্ষা ও পুরস্কার থেকে ক্রীড়াবিদদের পেশাদার উন্নয়ন ও দলের স্থায়িত্বে বড় সাহায্য হবে।

    এবারের আয়োজনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো দলসংখ্যা বাড়ানো—প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নেবে। দলসংখ্যা বাড়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে এবং আরও বেশি দেশের নারী খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবে। আগের আসরগুলোর তুলনায় এ সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ এখন দ্রুততর হচ্ছে। দলসংখ্যা বৃদ্ধি ও রেকর্ড প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।” তিনি আরও যোগ করেন যে বিনিয়োগ বাড়ায় নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিতি ও প্রভাব বেড়েছে এবং এই বিশ্বকাপ দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়তে সক্ষম হবে।

    টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াতে আইসিসি ইতোমধ্যে ট্রফি ট্যুর শুরু করেছে। লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। এরপর ট্রফিটি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর করবে এবং মে মাস জুড়ে ইংল্যান্ডের লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে ভক্তরা ট্রফি দেখার সুযোগ পাবে। এই আয়োজনগুলো টুর্নামেন্টের আলোচ্যসূচি ও আগ্রহকে আরও তীব্র করবে।

    টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১২ জুন ২০২৬—উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। ফাইনালসহ মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসির এই উদ্যোগ নারী ক্রিকেটকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • নাসুমের বকেয়া দাবিকে ব্যাখ্যা করল সিলেট টাইটান্স

    নাসুমের বকেয়া দাবিকে ব্যাখ্যা করল সিলেট টাইটান্স

    বিপিএলের সর্বশেষ আসরে সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলেছেন পেসার নাসুম আহমেদ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাসুম দাবি করেছেন যে টাইটান্সের কাছে তার ৩৫ লাখ টাকা বকেয়া আছে। এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আজ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে তারা ঘটনার সব দিক তুলে ধরে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

    টাইটান্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

    ১) চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ সম্পন্ন

    বিসিবি কার্যালয়ে বীমা, চুক্তি ও প্রাপ্যতা নিয়ে গত মাসে হওয়া সমাধান অনুযায়ী বিপিএল ২০২৫-২০২৬ মৌসুমের খেলোয়াড়দের পাওনা সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ক্লাব জানায়, নাসুম আহমেদের (বি-ক্যাটাগরি) মোট চুক্তিভিত্তিক পাওনা ৩৫ লক্ষ টাকা, যা তারা ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছে। প্রতিষ্ঠানের নিকট বর্তমানে নাসুমের কোনো বকেয়া অদাইয়ের খবর তারা সরলভাবে খণ্ডন করেছে।

    ২) মৌখিক বোনাসের শর্তাবলী

    বিবৃতিতে উল্লেখ আছে যে নিলামের পূর্বে পারিশ্রমিক ও অতিরিক্ত বোনাস নিয়ে কিছু মৌখিক আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনায় বোনাসটি দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শর্তে প্রদানের কথা বলা হয়েছিল। দল কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি বলে ক্লাবের দৃষ্টিতে ওই মৌখিক বোনাসের কোনো আইনি বা চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা নেই। তাই স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রেই আর্থিক লেনদেনের ভিত্তি ধরা হয়েছে বলেই ক্লাব জানায়।

    ৩) চেক ও পেমেন্ট প্রসঙ্গের ব্যাখ্যা

    টাইটান্স জানায়, নাসুম বিশেষ অনুরোধে তার প্রাপ্য অর্থ নগদে নেওয়ার পছন্দ জানিয়েছিলেন, ফলে ক্লাব তারই অনুরোধ মেনে নগদ পরিশোধের ব্যবস্থা করে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন অগ্রিম হিসেবে প্রদত্ত কিছু চেক অন্যান্য খেলোয়াড়রা গ্রহণ করে ফেরত দিয়েছেন; কিন্তু নাসুম সেই চেকগুলো ফেরত দেননি। ক্লাব বলেছে, বিচারে তিনি বিসিবি কার্যালয়ে পাওনা নেওয়ার সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও চেক ফেরত না দেওয়া হয়েছে, যা অনানুষ্ঠানিক ও অনিচ্ছাকৃত বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিবৃতির শেষ অংশে সিলেট টাইটান্স তিনি জানিয়েছেন যে তারা সব সময় খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে এই ব্যাখ্যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক এবং গণমাধ্যমের বিভ্রান্তি দূর করবে এবং বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হবে।