Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • এই নির্বাচনে বাংলাদেশে নতুন যুগের সূচনা: ফখরুল

    এই নির্বাচনে বাংলাদেশে নতুন যুগের সূচনা: ফখরুল

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতোগিয়ে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন একাধিক আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে। আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আজকের দিনটি আসছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি গণতন্ত্রের নতুন যুগের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে।

    বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের জীবনের মান উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

    সকাল সাড়ে সাতটায় সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোটগ্রহণ এই মুহূর্তে স্থগিত। ভোট কেন্দ্রের বাইরে এখনো ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, অনেকেই ফজরের নামাজ শেষে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।

    অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি নিবন্ধিত দল, তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বটছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এবার ভোট দিতে যাবেন মোট yaklaşık ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার, যাদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩২। এনিয়ে এই নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের প্রত্যাশা নতুন দৃষ্টিতে চিহ্নিত হবে।

  • ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম

    ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপিসহ মোট ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় (ফকিরখালি রোডের মুখে) অবস্থিত এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রের ভোটদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমি সকল নাগরিককে আহ্বান করছি—আপনি সবাই যেন রায় দিতে আসেন। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পাননি; আজ সেই সুযোগ এসেছে ভোটের মাধ্যমে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা কোনও প্রতিকূলতা নিয়ে বেশি ভাবছি না। মানুষের ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। প্রশাসন, মিডিয়া ও সেনাবাহিনী যেন নিরপেক্ষ থাকেন, এই কামনা করি।’’

    সরকার গঠনের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, আমরা সরকার গঠনের খুবই কাছাকাছি। ভোটের ফলাফল পর্যন্ত আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আমরা জনগণের রায় মেনে নিব। জয় নিশ্চিতভাবেই হাতে রয়েছে; তবে জয়-পরাজয় থেকে বেশি আমাদের গুরুত্ব নিয়েছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন এবং জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—এটাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।’’

    আজ সকাল সাড়ে সাতটায় সারাদেশের মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে ভিড় জমাতে শুরু করেন। অনেকেই ফজরের সালাম দিয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের লাইনেও দাঁড়ান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রত্যেক কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দিতা চলছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

  • বড় কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দেব না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

    বড় কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দেব না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেবেন, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অবিচার ঘটলে তিনি ছাড় দেবেন না। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর মণিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।

    ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে শফিকুর রহমান বলেন, আমি কেবল কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছি, এখন অন্যান্য কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব এবং সারা দেশের খবর নেব। তিনি জানান, ছোটখাটো বিষয় এখনও যদি হয়ে যায় তবে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে খুব একটা ভাবব না, কিন্তু বড় কোনো সমস্যা হলে আমরা ছাড় দেব না। তিনি উল্লেখ করে বলেন, মানুষ যেন তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, এ বিষয়ে আমরা কঠোর।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ দেশবাসী ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনটি ভোটের বিরতির পর আজ আল্লাহ আমাদের আবার এই স্বাধীনতা দিয়েছেন।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমি নিজেই নই, বিশেষ করে যুবসমাজ—যারা জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি—তারা এই ভোটের জন্য অপেক্ষা করছিল। এটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও দখলমুক্তভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, এই ভোট যেন সবাই গ্রহণ করে, সেই জন্য তিনি দোয়া চেয়েছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এমন সরকার গঠিত হবে, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাব।

    তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বললেন, নির্ভয়ে কেন্দ্রে যান, নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেশের একটি গর্বিত অংশীদার হোন। সবাই যেন নিজের ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করেন, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশ গড়ার কাজে মিডিয়ার পাশে তার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি সকলের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমাদের ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মিডিয়ায় একই খবর ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। কেউ অপরাধ করলে আমি তার বিপক্ষে, তবে যা অপরাধ নয়, তাকে জোর করে অপরাধ বানানো আরও বড় অপরাধ।

  • ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেব: তারেক রহমান

    ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেব: তারেক রহমান

    বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ চালেছি। গতরাতেও কিছু চেষ্টা চালানো হয়েছে, আজও তারা অব্যাহত রাখতে পারে, তবে আশার কথা হলো জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার সম্পন্ন করতে পারছেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মানুষ এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, এখন সেই অসুবিধা কিছুটা কম হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের қабলে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করব—আমরা সবাই একত্রে চেষ্টা করি যেন ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকারটি ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের সকলের উচিৎ যেন একসঙ্গে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করা।

    জয়ের ব্যাপারে বিএনপি কতটা আশাবাদী, এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী, ইনশাআল্লাহ, আমরা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

    অতো আসনে জয়ের প্রত্যাশা করছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি যত বেশি সম্ভব আসনে জিততে পারব, যাতে করে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সুবিধা হয়।

    নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে আশা-কামনা রয়েছে কি না, এই বিষয়ে তিনি বলেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের সবাইকেই নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই।

    সারা দেশের ভোটের পরিস্থিতি কী, তা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এতক্ষণ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরেছি, এখনো দেশের সার্বিক খবর পাইনি। কিছু সময় ব্যয় হয়েছে, তবে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ দেখে শুনেছি, কিছু কিছু স্থানেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। একাধিক রাজনৈতিক দল এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারবার ঘটাচ্ছে। আমরা চাই না এ সব ঘটনা ঘটুক।

    তিনি বলেন, দেশের মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ। যদি তারা ভোটের জন্য নিয়ে এগিয়ে আসে এবং অধিকার প্রয়োগ করে, তাহলে সবাই মিলে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারব।

    তবে যারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ ধারণা বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসব কাজ সমাজের জন্য বাস্তুহানি এবং অনৈতিক।

    ভোটের গণনা যখন ক্ষণস্থায়ী সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সেই বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ফলাফল প্রকাশের জন্য দেরি হওয়ার কোনও কারণ দেখছি না। কেন যে ফলাফল দেরি হবে? দেশের সব মানুষ এখনই ফল জানতে চান। নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব ভোটের ফল ঘোষণা করবে।

    বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেছি। ফলাফল ঘোষণা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা থাকে, কিন্তু আশা করি এবারও মানুষ দ্রুত তাদের ভোটের ফলপত্র পাবেন।

    তিনি বললেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন নির্বাচন হলে আমরা অবশ্যই সেটা মান্য করব। সব দলের জন্য শর্ত হলো—নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া দরকার।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি। মানুষ বিভ্রান্ত করার জন্য নানা চেষ্টা চলছে, এটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়, কেউই মানবে না।

    ভোটের পরিবেশ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমি ঢাকা শহরে যে পরিবেশ দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ এবং আবেগের সাথে ভোট দিচ্ছে। এই উৎসাহ দেখে মনে হয়েছে, দেশের ভবিষ্যত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে।

  • নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক আটক, ৩ বছরের কারাদণ্ড

    নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক আটক, ৩ বছরের কারাদণ্ড

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু (৪৮)কে আটক করা হয়েছে। পরে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে, আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের গেটের সামনে। পুলিশ তাকে তখনই আটক করে। বিচারক রানা পারভেজ ওই দিনই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাস বাবুর বাড়ি হলো উপজেলাতোড়িয়া ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজার খ্রিস্টানপাড়া। তিনি এলাকায় বিমল দাসের ছেলে হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, জানা গেছে তিনি ‘অভিযান নিউজ টিভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

    স্থানীয় সূত্রের মতে, সুকুমার দাস বাবু আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে একটি নমুনা ব্যালট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে যান। এসময় তিনি ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।

    বিচারক তার তিন বছরের সাজা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেন। পরে তাকে আটোয়ারী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাসকে দ্রুত জেলহাজতে পাঠানো হবে।

    এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো অনিয়মই সহ্য করবে না।

  • একজনের ভোট অন্যজনের দিতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    একজনের ভোট অন্যজনের দিতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন ভোট অন্যজনের দিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত নগণ্য বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারা স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগের সরকার আমলে কিছু বিতর্কিত নির্বাচনের সময় একজনের ভোট অন্যজনের দ্বারা দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে সেই সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও যদি এই ধরণের কোনো ঘটনা ঘটে, আমরা তা দ্রুতই খতিয়ে দেখব।’

    তিনি আরও জানান, ছোটখাটো কিছু দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া, বর্তমানে নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, গোপন ও উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সংবাদমাধ্যমের সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে ভারতের কিছু অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে আমাদের সাংবাদিকরা সত্য সংবাদ পরিবেশন করলে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে আরও সাহায্য করবে।’

    পরে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কেন্দ্রীয় সমন্বয় কক্ষ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন।

  • ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে ভোটকেন্দ্রে মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত

    ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে ভোটকেন্দ্রে মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি সরকারি মার্সেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটের মুহূর্তে একজন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখা গেছে। ওসমান হাদি হত্যা মামলার শিকার ভাই রাসেল হাদির বোন মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রে যান, যেখানে তিনি ভাই হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। তার এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রের সাধারণ প্রাঙ্গণকে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দেয়। ভোটার এবং পথচারীরা তাকিয়ে দেখছেন, যেন তারা বুঝতে পারছেন, এই ছোট্ট নারীর হৃদয়ে কতটা বিষাদ ও আকুতি। সবাই ওসমান হাদির শূন্যতা অনুভব করছেন এবং তার পরিবারের ভেতরকার এই গভীর যন্ত্রণায় সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন।

    ভোট দেওয়ার পর, আবেগে ভরা কণ্ঠে মাসুমা হাদি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যার অভিযোগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা বিচার চাই, ন্যায়বিচার চাই। একজন নাগরিক হিসেবে আমার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে, আর ভাই হত্যার বিচার চাওয়া আমার নৈতিক কর্তৃত্ব।’

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ওসমান হাদির হত্যা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি, কারণ তদন্তে কিছুটা ধীরগতি থাকায় পরিবার ও স্বজনরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত বিচার চেয়ে বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন, যেন এই নিষ্পাপ ভাইয়ের হত্যা আদালত কোনওভাবেই অমীমাংসিত রেখে না দেয়।

  • প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ

    প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাম্প্রতিক সাধারণ ভোটে প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টায় মোট ৩২ হাজার ৭৮৯টি ভোট কেন্দ্রে দেশজুড়ে গড়ে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় নির্বাচন ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী ভোটগ্রহণের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

    সচিব জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের তথ্য তাদের কাছে আসেছে। এসব কেন্দ্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ। তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে ব্যাঘাত বা বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

    নির্বাচন কমিশনের সচিব আরও জানান, সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এই ভোটদান চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, তারপর গণনা কাজ শুরু হবে।

    প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থান থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের নিরবচ্ছিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশন নিয়মিতভাবে ভোটের সর্বশেষ পরিস্থিতি গণমাধ্যমকে জানিয়ে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • ভোটাধিকার প্রয়োগে বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছি — ইভার্স ইজাবস

    ভোটাধিকার প্রয়োগে বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছি — ইভার্স ইজাবস

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভার্স ইজাবস উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগে খুবই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত thấy যা দেখেছি, তা খুবই আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইজাবস আরও বলেন, আমাদের প্রশ্নের উত্তর আমরা ১৪ তারিখে দেব। আপাতত আমরা কাজের মধ্যে রয়েছি। এদিন সকালের দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তিনি, যেখানে ইইউ পর্যবেক্ষক দলের মিশন প্রধানের ভাষ্য, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বড় দিন। তিনি আরো বলেন, সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেখেছেন আমরা। আমাদের বিশ্বাস, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করবে। তাঁর দল অনুযায়ী, সব কেন্দ্র থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত তারা সারাদেশে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবেন।

  • ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে ভিড় ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ

    ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে ভিড় ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ

    ঢাকা-৮ আসনের জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল বারোটার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনার ঘটনা ঘটে। ভোট কেন্দ্রের মধ্যে একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে উসকানিমূলক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয় এবং তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। সেসময় তারা নিরাপদে পাটওয়ারীকে কেন্দ্রে থেকে সরিয়ে বাইরে নিয়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাটওয়ারী কেন্দ্রে বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রবেশ করেন, যার ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে, সেখানে থাকা কিছু ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তজনা বাড়তে থাকলে তাঁকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করার চেষ্টা চালানো হয়।

    সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হন। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং সেনারা পাহারায় পাটওয়ারীকে কেন্দ্র থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেন।

    অভিযোগ করা হয়, বিএনপি সমর্থিত কিছু ভোটার জানিয়েছেন, পাটওয়ারী কেন্দ্রে ১০০ থেকে ১৫০ জন বহিরাগত ব্যক্তিকে প্রবেশ করিয়েছেন, যা বৈধ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে। এ বিষয়ে পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।