Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতে: ২৪ ঘণ্টায় প্রধানসহ ৫ জন গ্রেফতার

    ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতে: ২৪ ঘণ্টায় প্রধানসহ ৫ জন গ্রেফতার

    রাজধানীর বনানী এলাকায় জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় র‍্যাব প্রধান অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

    র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) অফিস শেষে বাসায় ফেরার সময় বনানীর পুরোনো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পেছনের একটি গলিতে দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ডা. আহমদ হোসেনকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে হামলা করে। হামলাকারীরা তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    র‍্যাব আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য ও গ্রেফতারকৃতদের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিয়ে বিকেলে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে অবহিত করা হবে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নেপথ্য উদ্দেশ্য অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • পুলিশ ইউনিফর্মে ফের রঙ পরিবর্তন: আগের নীল-জলপাই সংমিশ্রণ ফেরানোর প্রস্তাব

    পুলিশ ইউনিফর্মে ফের রঙ পরিবর্তন: আগের নীল-জলপাই সংমিশ্রণ ফেরানোর প্রস্তাব

    পুলিশ ইউনিফর্মের রঙ নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সরকারকে পুলিশের নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে—আগের গাঢ় নীল ও হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণ পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫ সংশোধনের আকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে।

    আগের এসআরও অনুযায়ী এক পর্যায়ে পুলিশের শার্টের রঙ গাঢ় ধূসর এবং প্যান্ট গাঢ় নীল নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা বদলে শার্ট লৌহ রং ও প্যান্ট কফি রঙ করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ে এসব পরিবর্তন নিয়ে পুলিশের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় এবং বাহিনীর ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর পুনরায় রঙ নীতির পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

    নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সব মেট্রোপলিটন (মহানগর) পুলিশের শার্ট হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের। এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাবের মতো বিশেষ ইউনিটগুলোকে ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের শার্ট গাঢ় নীল রাখা হবে। উভয় ক্ষেত্রে প্যান্টের রঙ হিসেবে টিসি টুইলের খাকি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর একাধিক ধারায় সংশোধনের খসড়া প্রজ্ঞাপনও তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পোশাক সরবরাহের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই নতুন রং নির্ধারণ করা হলে সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ প্রস্তাব এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগে審বিধানগত অনুমোদন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন হলে ইউনিফর্ম পরিবর্তনটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

  • সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, সে পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলের সঙ্গে একসঙ্গে সোচ্চার হয়ে ভূমিকা পালন করবেন। তিনি এই মন্তব্য করেন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে।

    আযাদ বলেন, ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তারা সংমিশ্রিত তালিকা জমা দিয়েছে এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে এখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না। ‘‘এই ১৩টি আসন ১৩টি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা; আমরা আশা করি সেভাবেই ফলাফল আসবে,’’ তিনি বলেন।

    তিনি জানান কমিশনের সঙ্গেও এ বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে এবং বললেন, ‘‘নির্বাচন সরাসরি হয়ে গেছে এবং পার্লামেন্ট চলছে। পার্লামেন্টে সময়মতো যাওয়া হলে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা পূরণ হবে। কমিশন যেন কোনো ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে—এটাই আমরা প্রত্যাশা করছি এবং কমিশনও আশ্বস্ত করেছে।’’

    আযাদ আশা প্রকাশ করেন মনোনীত ১৩ জন নারী এমপি ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি বলেন, ‘‘দেশের ও জাতির স্বার্থ রক্ষায় আইন প্রণয়নসহ সবকিছুর ক্ষেত্রে তারা সংসদের পূর্ণ সুবিধা ও ক্ষমতা ব্যবহার করবেন; সংবিধান তাদের এই সুযোগ দিয়েছে।’’

    তিনি আরও বলেন, এই নারী সদস্যরা বিরোধী মঞ্চে স্থান নিয়ে দেশ গঠনে ও জাতি গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। ‘‘পার্লামেন্টে আমাদের নীতিমালা হচ্ছে ন্যায়সঙ্গত ও জনকল্যাণকামী কাজগুলোর পাশে থাকা; দেশের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য,’’ তিনি জানান এবং উল্লেখ করেন যে বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন।

    সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নিলে বিরোধীদলীয় অন্য সদস্যদের মতো নারী এমপিরাও সরবরাহে অংশ নেবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আযাদ বলেন, ‘‘৭৭ জনের সঙ্গে ১৩ জন যুক্ত হলে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবে।’’

    গণভোট-বিষয়ক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা ছিল; তা না হওয়ায় আমরা পার্লামেন্ট এবং রাজপথ—উভয় জায়গায় প্রতিবাদ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’’

    মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, জামায়াতে সংসদে এক পরিবারের দুই সদস্যের নীতির কারণে আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি; বদলে শহীদ পরিবারের নেতার মা ও সমাজের বিভিন্ন পেশার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিন সম্পর্কে চলমান বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের তিন বছরের শর্ত পূরণ না হলে মনোনয়ন বাতিল হবে—এমন আশঙ্কা থাকলেও তাঁর বিশ্বাস মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

    চূড়ান্ত সময়সূচি সম্পর্কে আযাদ স্মরণ করিয়ে দেন — মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিলো সংখ্যালঘু চার নারী

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিলো সংখ্যালঘু চার নারী

    বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এই মনোনয়নের ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত চারজনের নাম হলো নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা।

    দলীয় নেতৃত্ব বলছেন,今回 মনোনয়নে সামাজিক ও সম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের দিকটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজরকারা হলেন আন্না মিনজ—তিনি উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও (ওড়াও/ওরাও) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। আন্না বর্তমানে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কর্মরত এবং নাটোরে সাংসারিকভাবে থাকেন। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত খ্রিস্টান সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। তাঁর স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

    সুবর্ণা শিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি একজন শিক্ষক এবং মঠুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি দাবি ছড়ানো হয়—তারা বলছিলেন সুবর্ণা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিটির সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়ে সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক; আমি কোনো আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো স্থানীয় কমিটির সদস্য নই।’ তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

    দলের শীর্ষ নেতারা জানান যে এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়া—তাহলেই সংরক্ষিত আসনে সবাইকে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব দেয়া সম্ভব হবে।

  • রেমিট্যান্সের প্রবাহ তীব্র: ১৯ দিনে দেশে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্সের প্রবাহ তীব্র: ১৯ দিনে দেশে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। এই তথ্য সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান।

    মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    একই সূত্র জানায়, গত মার্চে একক মাস হিসেবে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে—দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এক মাসের প্রবাহ। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পৌঁড়ায়। ডিসেম্বরে ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবরেই ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রার প্রস্তুত বিনিময় হারে উঠানামা হয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশের কাছে পাঠানো প্রত্যেক ডলারের বিনিময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হয় তবে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তভাবে রাখা ও প্রয়োজনীয় নীতি সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

    এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

    এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা — মোট ১৮০ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকার হারে এটিকে দেশের মুদ্রায় রুপান্তর করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ১৬.২ শতাংশ বেশি, জানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    চলতি অর্থবছরের শুরু যাওয়া জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। তুলনায় আলোচনা সময়ের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি হয়েছে ২০.২ শতাংশ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সুবিধাজনক উন্নতি রেমিট্যান্স বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব পদক্ষেপ বৈধ পথে অর্থ প্রবাহ বাড়িয়েছে বলে তারা মনে করেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের রেমিট্যান্স প্রবাহ মাসভিত্তিতে ছিল:

    জুলাই — ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার

    আগস্ট — ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার

    সেপ্টেম্বর — ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার

    অক্টোবর — ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার

    নভেম্বর — ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার

    ডিসেম্বর — ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার

    জানুয়ারি — ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার

    ফেব্রুয়ারি — ৩০২ কোটি ডলার

    মার্চ — ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে বছরের প্রথম নয় মাসে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করল পাকিস্তান

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করল পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলাকালীন পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে আক্রমণাত্মক বা জুলুমি ভাষা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে ইসলামাবাদ থেকে ট্রাম্পের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    পাকিস্তান এই আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় কাজ করছে। মধ্যস্থতা কার্যক্রমকে সফল করতে ট্রাম্পকে সংযত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে আলোচনার পরিবেশ উত্তেজনাহীন রাখা যায়।

    রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন পাকিস্তান কর্মকর্তা বলেন, তারা ইরানের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী এক-दুই দিনের মধ্যে ইরানের প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেবে। সূত্রটি জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তান নিবিড় যোগাযোগ রাখছে, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এই যোগাযোগে জোর দেওয়া হচ্ছে।

    অপরদিকে ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়ো করবেন না, তবু একই সঙ্গে দাবি করছেন দ্রুত একটি চূড়ান্ত চুক্তি হবে এবং তা ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির চাইতেও ভালো হবে। তিনি বলেছেন, ইরান নিয়ন্ত্রণশূন্য হলে দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করতেই হবে এবং এই বিষয়ে কোনো ছাড় হবে না। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং যদি চুক্তি না হয়, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

    তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যেন অবরোধ প্রত্যাহার না করে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ ও অবৈধ আচরণ কূটনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    সব মিলিয়ে কূটনৈতিক চেষ্টাগুলো তীব্র তবে সংবেদনশীল অবস্থায়—পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নরম করার চেষ্টা করছে, আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফল কী হবে তাতে বিশ্ব জুড়ে নজর আছে।

  • ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার ‘দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া’ হবে: ট্রাম্প

    ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার ‘দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া’ হবে: ট্রাম্প

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের কাছে থাকা ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কারণে ইরানের নিউক্লিয়ার সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে থাকা ইউরেনিয়াম‑ধূলি অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে; তাই তা খোঁজে বের করে পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে না।

    গত সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার চলাকালে ইরানের নিউক্লিয়ার স্থাপনাগুলোতে থাকা ইউরেনিয়াম‑সংক্রান্ত পদার্থগুলো বড় ধরনেরভাবে নষ্ট হয়েছে। সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে আমাদের দীর্ঘ ও জটিল উদ্যোগ নিতে হবে।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৬ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএএএ) জানায়, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং এর প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত এনরিচ করা আছে। আইএএএ সতর্ক করেছে, যদি এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানো যায় তাহলে তা দিয়ে একাধিক পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ খুলে যেতে পারে।

    আইএএএ-এর ঐ ঘোষণার ছয় দিন পর ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক কার্যক্রম শুরু করে এবং তার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রও ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করে। উভয় অভিযান প্রায় ১২ দিন চলার ফলে ইরানের নানান পরমাণু স্থাপনাগো কঠোরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তখনও দেশটির পরমাণু মজুদে মোট নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারেনি।

    এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তার মূল লক্ষ্যও ইরানের ইউরেনিয়াম হস্তগত করাই—যা ট্রাম্পের মতে দীর্ঘ ও জটিল কাজ হবে।

    সূত্র: এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি

  • খুলনায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৩৬০ পরীক্ষার্থী

    খুলনায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৩৬০ পরীক্ষার্থী

    খুলনায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান (দাখিল ও ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথম দিন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসনের আইসিটি ও কল্যাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিন মোট ৩৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন না।

    অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এসএসসিতে ১৬৬ জন, দাখিলে ১৫৯ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ৩৫ জন ছিলেন। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৬,৭০০ জন এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল খুলনা ও মহানগরীর ৯৫টি কেন্দ্রে। বিভাগের প্রতি শ্রেণির কেন্দ্র ও পরীক্ষার্থীসংখ্যা অনুযায়ী এসএসসির ৫৪টি কেন্দ্রে অংশগ্রহণের কথা ছিল ২১,৫১৭ জনের, দাখিলের ১৪টি কেন্দ্রে ৩,৫৮২ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালের ২৭টি কেন্দ্রে ১,৬০১ জনের।

    আজ মঙ্গলবার প্রথম দিনে এসএসসি’র বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র, দাখিলের কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং এসএসসি ভোকেশনালের বাংলা-২ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ে চলে।

    জেলা প্রশাসনের আইসিটি ও কল্যাণ শাখা জানিয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাধারণত কোন বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল।

    তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, গত বছর এখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৭,৫১৪ জন; তাই এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮১৪ জন কম।

  • কুষ্টিয়ায় ব্রাশফায়ার ও শটগানের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ গুলিবিদ্ধ

    কুষ্টিয়ায় ব্রাশফায়ার ও শটগানের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ গুলিবিদ্ধ

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সোমবার গভীর রাতে ব্রাশফায়ার ও শটগানের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামে রাত সাড়ে ১২টার দিকে। স্থানীয়রা জানান, একদল মুখোশধারী দুষ্কৃতকারী এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলামকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি চিৎকার করেন। রবিউলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে দুষ্কৃতকারীরা ব্রাশফায়ার ও শটগান নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং পরিবারের কয়েকজনসহ আশপাশের লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ চালায়।

    গুরুতর আহত রবিউল ইসলাম (৩৬) উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মো. হাফেজ প্রামাণিকের ছেলে এবং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। গুলিবিদ্ধ অন্যদের মধ্যে আছেন সোহেল রানা (৪৫), তাঁর স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও তাঁর স্ত্রী মেরিনা (২৫)।

    দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয়দের উদ্বেগ ও আহতদের দ্রুত চিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।