Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি — বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি — বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঈদের আনন্দ গরিব, দু:স্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

    শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বার্তায় তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর এক এবং মাসব্যাপী রোজা ও ত্যাগের পর এটি সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।

    তারেক রহমান বলেন, পবিত্র রমজান আমাদের সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই এক মাসের সাধনা মানুষকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে ও অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায়, যা সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।

    তিনি বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। ঈদ আমাদের ধনী-গরিব, ছোট-বড়—সব ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।

    ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সম্ভাব্য উপায়ে তিনি সবাইকে সমাজের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ আনন্দ সবার অংশ হতে দেয়ার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান।

    চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও মজবুত করুক—এই কামনা ব্যক্ত করেন।

    তিনি সবাইকে ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধও জানান।

    বার্তার শেষভাগে তিনি প্রার্থনা করেন যে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ, রহমত ও বরকত সবার জীবনে বর্ষিত হোক এবং দেশ ও জাতি শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক; একই সঙ্গে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২০ মার্চ) এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঈদুল ফিতর মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর ঘনিয়ে আসা আনন্দের, শান্তি-সম্প্রীতির ও ভ্রাতৃত্বের দিন। পবিত্র রমজান মানুষকে সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়; এক মাসের সাধনা আমাদের সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে শেখায়।

    তিনি বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। ঈদে ধনী-গরিব, ছোট-বড়ের ভেদাভেদ মুছে ফেলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্ত করার প্রতিশ্রুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে এই আনন্দের দিনে সমাজের দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়াই যেন আমাদের প্রধান কর্তব্য হয়—এটাই তাঁর মূল বার্তা।

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করুক। তিনি সকলকে ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে তিনি দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেন।

  • জামায়াত-এনসিপি প্রশ্নে সংসদে মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য

    জামায়াত-এনসিপি প্রশ্নে সংসদে মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা সভায় (সভা সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ) তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।

    মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পরে একটি মেধাবী শ্রেণি এসে জাসদ গঠন করেছিল। পরে অতিরঞ্জনের কারণে দেশ, জাতি ও রাজনীতিই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বললেন, এই সব পটপট পরিবর্তন সহ্য করার ধৈর্য আমাদের থাকা উচিত।

    বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯১-এর সংসদে তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। অনেক সময় মনে হয় যেন দেশে বিএনপি পাঁচ–পনেরো বছর ছিল না—কিন্তু দেশনেত্রী বিরোধিতা উপেক্ষা করে জাতি ও দেশের স্বার্থে জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাই যারা এখন পর্যন্ত রাজনীতিকে এগিয়ে এনেছেন, তাদের পেছনে তারও অবদান ছিল; সেটি স্মরণ করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতেও এখন ভয় লাগে—আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম, কিন্তু এখন যারা বিরোধী বলে পরিচিত, তাদের এখনও আমি চিনিনি। দলের সিনিয়র নেতারা যেমন—তারেক রহমান বলেছিলেন কঠিন নির্বাচন হবে; তখন অনেকে তা বুঝেননি, পরে নির্বাচন করে বোঝা গেছে কত কঠিন ছিল।

    মনিরুল হক চৌধুরী উল্লেখ করে বলেন, এ সংখ্যা নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; এমনকি জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—এগুলো ন্যায়পরায়ণতা ও ইতিহাসের বিচারের আলোকে হওয়া উচিত।

    শেষে তিনি বলেন, মহান সংসদে এই প্রশ্ন রেখে জামায়াতকে একথা বলছি—স্বাধীনতার পর কিংবা এনসিপির মতো সংগঠনে যে নেতারা ঊর্ণোত্থান করেছেন, যদিও তাদের বয়স কম, তবুও তাদের সাহসকে তিনি সম্মান করেন; এগুলোই সময়ের দাবি।

    (সভায় প্রদত্ত বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত করণ থেকে সংবাদটি রূপরেখা করা হয়েছে।)

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচিত-সমালোচিত ও জনপ্রিয় হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একাধিক মন্তব্যไวরাল হয়েছে এবং নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

    আজ সকালে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, যদি তাঁর কোনো কথা বা কাজের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    পোস্টে নাসীরুদ্দীণ পাটওয়ারী উল্লেখ করেছেন, ‘‘গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক কথোপকথনের সুযোগ হয়েছে। সবার কাছ থেকেই একটি সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।’’

    তিনি বলেছেন, ‘‘আমি বিনয়ের সহিত সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং bundanপর আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করব। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।’’

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও যোগ করেছেন, ‘‘আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই আমার পথচলার শক্তি।’’

    আত্মিক অনুশোচনার অংশ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে এই যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন এবং সবাইকে আল্লাহর কাছে দোয়াবারে আহ্বান জানিয়েছেন—‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’

  • ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়লো, নতুন গাইডলাইন জারি

    ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়লো, নতুন গাইডলাইন জারি

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন একটি গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। কার্ডব্যবহার ও সেবার পরিধি সুপ্রসারিত হওয়ায় এই খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো এবং গ্রাহকসেবায় উন্নতি করার জন্য পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানের অনুশীলন উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য একটি স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নানান দিকই বিস্তারিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

    গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে — গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতিমালা, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ।

    একটি প্রধান পরিবর্তন হলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া যায় এমন সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি রোধ, লেনদেন পরিশোধে অসুবিধা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নির্দেশনা যোগ করা হয়েছে। কৌশলগতভাবে এসব পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতকে আরও ঝুঁকিমুক্ত করে গ্রাহকের বিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলে, নতুন নির্দেশনাগুলো গৃহীত হলে ক্রেডিট কার্ড বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, গ্রাহকসেবার মান উন্নত হবে এবং দায়িত্বশীল ঋণদানের অনুশীলন কার্যকরভাবে চলবে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের তদন্ত

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের তদন্ত

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের চিহ্ন দেখা গেছে বলে দুদক জানিয়েছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। বিশেষ করে তিনি যখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন জাহাজ কেনা সংক্রান্ত এক প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের আভাস মেলে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি জাহাজ কেনা হয়; এতে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরে ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় ব্যবস্থা ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপ সম্পর্কে দুদক পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবে বলে জানানো হয়েছে।

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ: ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের শোকের দিন

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ: ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের শোকের দিন

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ জেরুজালেমের সবচেয়ে সংবেদনশীল ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোর একটি। কিন্তু চলতি বছরের রমজানের শেষ দিকে—১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো—এই মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়। ফলে ঈদুল ফিতরের দিন অনেক মুসল্লিই মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় করতে পারেননি এবং কাছাকাছি খোলা জায়গায় নামাজ পড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    স্থানীয় সংবাদসূত্র বলছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুজালেমের বাইরে শত শত মানুষ নামাজ আদায় করেছেন। ইসরাইলি পুলিশ মসজিদে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেয়ায় তারা পুরান শহরের গেটের বাইরে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। সেই যুক্তি দেখিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজানের বেশিরভাগ সময়ে মসজিদসংলগ্ন এলাকা কার্যত অনেক মুসল্লির জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পুরনো শহরের বাইরে নামাজ আদায় করতে বাধ্য হয়েছেন।

    ফিলিস্তিনিরা এই সিদ্ধান্তকে কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন না; তারা মনে করেন এটি একটি কৌশলের অংশ—উত্তেজনাকে অজুহাত করে আল-আকসা কমপ্লেক্সে নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করার চেষ্টা হচ্ছে। আল-হারাম আল-শরিফ নামে পরিচিত এই স্থানে ডোম অব দ্য রকসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ভবনগুলো অবস্থিত। অন্যদিকে ইহুদিদের কাছে এটা টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত, যেখানে প্রাচীন প্রথম ও দ্বিতীয় মন্দির ছিল।

    জেরুজালেমের মুসলিম অধিবাসীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ৪৮ বছর বয়সি হাজেন বুলবুল বলেন, “এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন। এটা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ নজির তৈরি করেছে।” তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ জেরুজালেমে বেড়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরনো শহরে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীদের গ্রেফতার বেড়েছে। একই সঙ্গে কিছু ইসরায়েলি বসতকারীর মসজিদ এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠেছে। নামাজের সময় বহুজনকে আটক করা হয়েছে এবং অনেক ফিলিস্তিনি মসজিদে ঢুকতে বাধা পেয়েছেন। সাধারণত ঈদের সময় ওল্ড সিটির ভিড় থাকে; কিন্তু এবার পুরোটাই প্রায় ফাঁকা ছিল। দোকানপাটও অধিকাংশ বন্ধ ছিল—শুধু ওষুধ ও প্রয়োজনীয় খাবারের দোকান খোলা ছিল—এতে ব্যবসায়ীদের বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের অনুরোধ করেছেন, মসজিদে ঢুকতে না পারলে যারা পারেন, তারা কাছাকাছি জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করুন। তবে পুরান শহরের ভেতরে কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশির কারণে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ, বলেছেন এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনও একইভাবে নিন্দা জানিয়েছে এবং জানিয়েছে, রমজানের মতো পবিত্র সময়ে মসজিদ বন্ধ করা মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে গভীর আঘাত করে—এটি চললে সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অফিসের মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি বলেন, আল-আকসা বন্ধ করা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়। তিনি জানান, অনেক তরুণ যখন মসজিদের যতটা সম্ভব কাছাকাছি গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে এবং নামাজরত অবস্থাতেই সেখান থেকে বের করে দেয়।

    অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় মানুষদের দৈনন্দিন জীবন যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের ছায়ায় কাটছে। রমজানের শেষে ঈদ উদযাপনের সময় গাজার অনেক শহর ধ্বংসস্তূপে ঘেরা রয়েছে। ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ থামায়নি; ফলে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ পালন করছেন।

    উত্তর গাজার ৩২ বছর বয়সি বাসিন্দা সাদিকা ওমর দেইর আল-বালাহে বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ—অনেকেই বাড়ি বা পরিবার হারিয়েছে। আমার স্বামী দূরে, গাজায় ফিরতে পারেননি। তবু আমরা চেষ্টা করি ধর্মীয় রীতি মেনে কিছু আনন্দ টুকু ধরে রাখার।” খান ইউনিসে আশ্রয় নেয়া ৪৯ বছর বয়সি আলা আল-ফাররা বললেন, “বিগত বছরেই আমরা আল-ক্বারারা থেকে বিতাড়িত হয়েছি। চলমান হামলার কারণে চলাফেরা সীমিত—এই ঈদও অনেকটা সীমাবদ্ধ।”

    যুদ্ধের মহামায়ার মধ্যে সীমিতভাবে কিছু ঐতিহ্য ফিরছে—ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে ছোট চুলায় কায়েক ও মামুলের সুগন্ধ ফেলা হচ্ছে, বাজারে মিষ্টি দেখা গেলেও সবার নাগালের বাইরে। ছোট ছোট কেনাকাটা করে শিশুরা সামান্য খুশি উপভোগ করছে।

    কয়েকদিন বন্ধ থাকার পরে গত ১৯ মার্চ গাজার দক্ষিণে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেয়া হয়; এতে জাতিসংঘের একটি কনভয় গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে। তবু ঈদের আনন্দ অসম এবং অনেকে এখনও নিরাপত্তাহীনতা ও স্মৃতির ভারে সীমিত উদযাপন করছেন। গাজার অনেক পরিবারের জন্য ক্ষতি ও শোক এখনও পাশ কাটানো যায়নি—অনেকে নিহত আত্মীয়দের শোক পালন করছেন, আর আনেকেই স্মৃতির ওপর ভর করে দিন কাটাচ্ছেন।

    এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

  • ইরানের বিপ্লবী গার্ড: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুরোদমে চলছে

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুরোদমে চলছে

    ইসরায়েলের দাবি যে তেহরানের এখন আর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষমতা নেই—তার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেছেন, তেহরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে চলেছে।

    শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক ‘ইরান’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। জেনারেল নাঈনি বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের সক্ষমতার স্কোর ২০; এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছি, যা বিস্ময়কর, এবং মজুত করার ক্ষেত্রেও আমাদের বিশেষ কোনো সমস্যা নেই।’’

    ইরানের শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী ২০ স্কোরকে পূর্ণাঙ্গ বা নিখুঁত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নাঈনি যে দক্ষতা উল্লেখ করছেন সেটির ওপর জোর দিচ্ছে।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন যে ইরানের আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই এবং বলেন, আমরা জয়ী হতে যাচ্ছি এবং ইরান ধ্বংস হচ্ছে।

    আইআরজিসির মুখপাত্র জানান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশের জনগণের মনোভাব তুলে ধরে বলেন, ‘‘এখানকার মানুষ চায় শত্রু পুরোপুরি নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলুক; দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া সরে গেলেই কেবল এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।’’

    সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা।

  • বাগেরহাটে আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাটে আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে ব্রিজের ওপারের মঘিয়া এলাকায় আগুন লেগে ৮টি দোকান ভস্মিভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীরা অনূুমান করে বলেন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

    ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয়রা মিলিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ৮টি দোকান সমেত দোকানজিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

    ঈদের আগ মুহূর্তে লেখাপড়া ও পরিবারপালনের একমাত্র উপার্জনের জায়গা হারিয়ে পড়ায় দোকানিরা অভাব-অনটনে পড়েছেন। চায়ের দোকান চালক সোহাগ মাঝি বলেন যে বহু কষ্টে তিনি দোকানটি চালিয়েছেন, এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে দোকানের জন্য দুটো ফ্রিজও কিনেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে বেশ কিছু মালামাল সংগ্রহ করেছিলেন, যা আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি উদ্বেগ করে বলেন, কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব এবং আবার কীভাবে ব্যবসা শুরু করব, তা তিনি বলতে পারছেন না।

    সারের ডিলার মীম এ্যান্ড মুন-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি ও জ্বালানী সংকটের কারণে তার দোকানে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার সার জমা ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এ ছাড়া একটি মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ-ফ্লেক্সিলোডের আউটলেট, লন্ড্রি, সেলুন ও অন্যান্য একাধিক ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানও ধ্বংসরূপে পড়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখন খুবই দুঃস্থ অবস্থায় আছি।

    স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, বাজার কমিটির প্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখেন। বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান জানিয়েছেন, নিজেদের পর্যায়ে যতটুকু সম্ভব সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এছাড়া সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষ থেকে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিনশীট সহায়তার প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে।

    আগুনের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি; স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও দোকানিরা এখন দ্রুত আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।

  • খুলনায় ঈদের জামাত: কোথায়, কখন?

    খুলনায় ঈদের জামাত: কোথায়, কখন?

    পবিত্র মাহে রমজানের সমাপ্তি ঘটেছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে, তাই শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। কক্সবাজারে শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে শাওয়ালের চাঁদ দেখার খবর পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস ময়দানের প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সার্কিট হাউস ময়দান একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ যেখানে প্রতিবারই হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মাঠের প্রস্তুতি ত্বরান্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রযোজ্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    জেলা ও নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্ধারিত জামাতের সময়সূচি মেলে—

    – খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে প্রধান জামাতসকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে তিনটি জামাতই খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    – খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    – বায়তুন নূর জামে মসজিদে দুটি জামায়াত—প্রথম সকাল ৮টায়, ইমামত করবেন খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ; দ্বিতীয় সকাল ৯টায় ইমামত করবেন হাফেজ মাওলানা মো. জাকির হোসেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে আলাদা ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে—

    – খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে; এই জামাতে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    – খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    নগরের অন্যান্য নামাজের সময়—

    – শান্তিধাম মোড়ের আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত।

    – জাতিসংঘ শিশু পার্কে সকাল সাড়ে ৮টায় নামাজ।

    – আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত।

    – ময়লাপোতা মোড়ের বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়।

    – মোল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা আলাদা স্থানে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো স্থানভিত্তিক সুবিধা অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

    ঈদ-উৎসবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহানগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় intensified টহল দেবে। নিয়ম ভঙ্গ রোধে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, সড়ক বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছুটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

    সবশেষে, সকলকে ঈদ মোবারক—স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণ ও সজাগভাবে উল্লাস করার আহ্বান রইল।