Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আরব সাগরে আটকা ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    আরব সাগরে আটকা ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    আরব সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটকা পড়া ভারতীয় জাহাজ এমভি গৌতমের নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী। মঙ্গলবার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

    জাহাজটিতে মোট ছয়জন ক্রু ছিলেন—৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। কয়েক দিন আগে ওমানের একটি বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় এমভি গৌতম সাগরে ভাসতে থাকে। অনেকে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় রসদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত সংকটাপন্ন হয় এবং জাহাজ থেকে এসওএস বার্তা পাঠানো হয়।

    এসওএসটি মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) পায়। বার্তা পাওয়ার পর এমআরসিসি ইসলামাবাদে যোগাযোগ করে এবং পাকিস্তানের কাছে সহায়তার অনুরোধ জানায়। অনুরোধ পাওয়ার ভিত্তিতেই পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরব সাগরে তাদের জাহাজ ‘পিএমএসএস কাশ্মির’ পাঠায়।

    পাকিস্তানি নৌবাহিনীর বিবরণে বলা হয়েছে, তারা এমভি গৌতমের ক্রুদের খাদ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে এবং জাহাজটির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে। এ অভিযানে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (পিএমএসএ) নামের দেশটির সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থাও সহযোগিতা করেছে।

    কাতারের ইংরেজি দৈনিক দ্য গালফ টাইমস তাদের টুইটারে পাকিস্তানি নৌবাহিনী কর্তৃক নাবিকদের কাছে রসদ সরবরাহের ছবি প্রকাশ করেছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত মাসে আরব সাগরে আটকা পড়া আরেকটি জাহাজ থেকে পাকিস্তানের নৌবাহিনী ১৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছিল; ওই নাবিকদের মধ্যে চীন, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা ছিলেন।

    সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি অনলাইন

  • মুখ্যমন্ত্রী হতে সমর্থন চাইলে থালাপতি বিজয়কে কংগ্রেসের শর্ত

    মুখ্যমন্ত্রী হতে সমর্থন চাইলে থালাপতি বিজয়কে কংগ্রেসের শর্ত

    তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে ২৩৪ টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে সর্বোচ্চ সাংসদীয় শক্তি অর্জন করেছে। পুরো বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, তাই একাই সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও ১০টি আসন দরকার। এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় কংগ্রেসসহ কয়েকটি দলের কাছে সহায়তা চান টিভিকে।

    সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর বরাত দিয়ে জানা গেছে, কংগ্রেস স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে— থালাপতি বিজয় যদি তাদের সমর্থন চান, তাহলে তিনি বিজেপি বা বিজেপি-সমর্থিত কোনো দলের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠন করবেন না। এনডিটিভি জানিয়েছে, টিভিকে-র শীর্ষ নেতারা এআইএডিএমকে-র নেতা ইদাপ্পাদি কে. পালানিস্বামীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন; এআইএডিএমকে আগে বিজেপির মিত্র ছিল। এই সাক্ষাতের পর কংগ্রেস তাদের অবস্থান আরো ঝাঁটার মতো পরিস্কার করে দিয়েছে।

    কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে মোট ৫টি আসনে জিতেছে। কংগ্রেস যদি টিভিকে-কে সমর্থন দেয়, তাহলে মোট আসন হবে ১০৮+৫ = ১১৩, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ১১৮ থেকে এখনও ৫টি কম। অর্থাৎ কংগ্রেসের সমর্থন থাকলেও টিভিকে-কে আরও কিছু ছোট দল বা স্বতন্ত্র বিধায়কের সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে।

    টিভিকে ইতোমধ্যে ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএমের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। এই দলগুলো যদি বিজয়কে সমর্থন দেয়, তবে তিনি সরকার গঠন করতে পারবেন। পরবর্তী কয়েক দিনে কাদের কাছে আনুষ্ঠানিক সমর্থন গড়ে উঠবে, সেটাই সিদ্ধান্তমূলক হবে।

    সূত্র: দ্য হিন্দু, এনডিটিভি

  • চিতলমারীতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে যুবককে ৫ দিনের কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা

    চিতলমারীতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে যুবককে ৫ দিনের কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা এলাকায় ইয়াবা সেবনের অভিযোগে মোঃ জুয়েল শিকদার (৪১) নামের এক যুবককে ভ্রাম্যমান আদালত পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন। বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টায় ওই এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত চিতলমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিঠুন মৈত্র পরিচালনা করেন।

    আদালত চলাকালে অভিযুক্তের দেহ তল্লাশি করে তিন পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মিঠুন মৈত্র জানান, জুয়েল ইয়াবা সেবন করে জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করায় তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী দণ্ডিত করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মোঃ জুয়েল হিজলা গ্রামের মৃত এমদাদ শিকদারের ছেলে।

    ভ্রাম্যমান আদালত সাধারণত জনস্থানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়, এবং এই মামলাটিও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে দ্রুত বিচার করে শেষ করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি ধ্বংস করেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য

    চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি ধ্বংস করেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য

    চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে উদ্ধৃত প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ধ্বংস করেছে। ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানটি বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। তিনি মাদককে একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সব স্তরের জনগণের শরিক হওয়া জরুরি। বিজিবি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে অটল সংকল্পবদ্ধ ও ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতির অধীনে সীমান্তে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি সদর দফতরে ধ্বংস করা হয় ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ফেনসিডিল, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ২৩৮.৭৯ কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্য। এছাড়া উদ্ধারকৃত অন্যান্য আইটémের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ২৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫ হাজার ৪৮৫টি বিভিন্ন ভারতীয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট (যেমন ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা, ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯টি ভারতীয় নেশাজাত ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ধ্বংসকৃত এসব মাদক ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন দ্রব্য।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জন হাদি জিয়া উদ্দীন এবং জেলার অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রতিনিধি।

    বিজিবি বলেন, সীমান্তে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং মাদক চক্রের সঙ্গে জিরো টলারেন্স রেখে আইনসিদ্ধভাবে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য সংগৃহীত ও ধ্বংস করা হবে।

  • টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য: শাহিন আফ্রিদি

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য: শাহিন আফ্রিদি

    মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে পাকিস্তান অধিনায়ক পেসার শাহিন আফ্রিদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের আসল লক্ষ্য — এটি শুধু বাংলাদেশ বিনিমেষ নয়, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পথে একটি বড় অভিযান।

    ৮ মে শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সিরিজকে পাকিস্তান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে। শাহিন বলেন, তারা এখন কেবল সিরিজ জিততে চাইছে না, বরং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে ওঠাটাই প্রধান লক্ষ্য।

    শাহিন বলেন, ‘আমরা শুধু একটি সিরিজ নিয়ে ভাবছি না, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকেও মাথায় রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য কীভাবে ফাইনালে ওঠা যায়, কীভাবে ফাইনাল খেলতে যায়—এই প্রশ্নগুলোই আমাদের মুখ্য। দল হিসেবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত; সবাই জানে টেস্টে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে।’

    তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন যে পাকিস্তান সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্সে এমন অবস্থানে নেই যেখানে তাদের থাকা উচিত। পয়েন্ট টেবিলে ছয়, সাত বা আট নম্বরে থাকা তাদের মানসম্মত নয়, বলে মন্তব্য করেন।

    উর্দুতে দেওয়া বক্তব্যে শাহিন আরও বলেন, ‘নম্বরের দিক থেকে আমরা সন্তুষ্ট নই। সবাই জানে আমরা ছয়, সাত, আটে শেষ করছি—এটা ভালো লক্ষণ নয়। শেষ সিরিজে হয়ত আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটাও আমাদের ২-০ ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল।’

    শাহিনের ধারণা, পাকিস্তানের ক্রিকেটের ভিত্তি হওয়া উচিত টেস্ট ফরম্যাটই। যদি টেস্ট ক্রিকেট শক্ত হয়, তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্য আসবে। তাই ফিটনেস এবং দীর্ঘ সময় লক্ষ্য রেখে মানসিক প্রস্তুতিতে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষে থাকা। টেস্ট যদি ভালো হয়, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিও ভালো হবে। এজন্য ফোকাস বাড়াতে হবে, ফিটনেস আরও উন্নত করা দরকার।’

    ড্রেসিং রুমে একই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদও। শাহিন জানান, সরফরাজ কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের ব্যবহার ও কন্ডিশন বুঝে দলের পাশে আছেন—এটাই এখন দলের জন্য সঠিক সময় বলে মনে করেন তিনি।

    পাকিস্তানের কোচিং স্টাফে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর সাবেক অধিনায়ক সরফরাজকে প্রধান কোচ করা হয়েছে; শাহিন মনে করেন এই মুহূর্তে সরফরাজই সবচেয়ে যোগ্য বিকল্প। ‘তিনি আমাদের সঙ্গে খেলেছেন, অধিনায়ক ছিলেন—খেলোয়াড়দের কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা তিনি ভালোভাবে জানেন,’ যোগ করেন শাহিন।

    অতীতের রেকর্ড নিয়ে বেশি আবেগ আপস করেন না শাহিন। তার দৃষ্টি এখন বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে—পাকিস্তান এখন কোথায় আছে নয়, আগামী লক্ষ্য কোথায় সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ‘অতীত অতীতই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীত মনে রাখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছি—দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য বড়,’ তিনি সমাপ্ত করেছেন।

  • আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিং: শ্রীলঙ্কা পাশ কাটিয়ে ৮ নম্বরে বাংলাদেশ

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিং: শ্রীলঙ্কা পাশ কাটিয়ে ৮ নম্বরে বাংলাদেশ

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ বার্ষিক হালনাগাদে এক ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে টাইগারদের এই উন্নতি তাদের পয়েন্টে এক পয়েন্ট বাড়ার ফলে এসেছে।

    হালনাগাদের ফলে তালিকার শীর্ষস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। চলতি বছর সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত, তাদের পয়েন্ট 275। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড (262) এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া (258)।

    আইসিসি জানায়, র‍্যাঙ্কিং গণনায় ২০২৫ সালের মে মাস থেকে খেলা ম্যাচগুলোকে ১০০% গুরুত্ব এবং আগের দুই বছরের ম্যাচগুলোকে ৫০% গুরুত্ব দিয়ে হিসাব করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুসরণ করেই দলগুলোর নতুন পয়েন্ট ও অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

    চতুর্থ থেকে সপ্তম স্থানে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড (247), দক্ষিণ আফ্রিকা (244), পাকিস্তান (240) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (233) রয়েছে—এসব স্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    এদিকে শ্রীলঙ্কা 6 পয়েন্ট হারিয়ে নবম স্থানে নেমে গিয়েছে। তারা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ 225 পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সর্বশেষ হালনাগাদে পয়েন্ট বৃদ্ধি হয়েছে 1।

    টপ-১০ পূর্ণ করতে দশম স্থানে আছে আফগানিস্তান (220)। একাদশ ও দ্বাদশ স্থানে বদল হয়নি—জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড একই অবস্থায় থাকছে।

    আরেকটি নজরকাড়া পরিবর্তন হলো যুক্তরাষ্ট্রের। তারা 6 পয়েন্ট বাড়িয়ে দুই ধাপ উপরে উঠে 13তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে, ফলে নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড এখন যথাক্রমে 14 ও 15 নম্বরে জারি রয়েছে।

  • বিজয় ভেঙে দিলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ড

    বিজয় ভেঙে দিলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ড

    নিজের প্রথম নির্বাচনে প্রভাব জিতেই দেখালেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—জনপ্রিয় নাম থালাপতি বিজয়। কেবল ব্যক্তিগত সীট জয় নয়, তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর পুরনো এক ইতিহাসও এবার ভাগ করে নিলেন তিনি।

    ১৯৭৭ সালে ফিল্ম জগত থেকে রাজনীতিতে এসে নিজের দল গঠন করে তৎকালীন তারকা এমজি রামাচন্দ্রন (এমজিআর) যখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন, সেটিই ছিল এরআগের একমাত্র ঘটনা। এমজিআর তাঁর দলে এআইএডিএমকেকে করেছিলেন কেন্দ্রবিন্দু— ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। পরে জয়া লক্ষ্মী (জয়া নাভাল্লিলায়া) হিসেবে পরিচিত জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে কোন নতুন দল গঠন না করে এমজিআর-এর দলেই সক্রিয় ছিলেন এবং সেটির মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় উঠেছেন। এরপর আর কোনো চলচ্চিত্র তারকা ওই চূড়ান্ত পথটি সামিল করে একইভাবে রাজনীতিতে শীর্ষে উঠতে পারেননি।

    এবার সেই ঐতিহ্যটাই পুনরায় ঝলকে তুলেছেন বিজয় এবং তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম (টিভিকে)। তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। বর্তমান নির্বাচনে বিজয় নিজে সীট জিতেছেন এবং তার দল টিভিকে ১০৮টি আসন নেয়—২০২৪ সালে গঠিত নতুন একটি দলের জন্য দারুণ ফল। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন করা টিভিকে-র পক্ষে সম্ভব নয়; কিন্তু জোট গঠিত হলে টিভিকে-ই হবে চালক दल এবং বিজয় তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন—শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় আছেন বলে জানা গেছে।

    বিজয়ের রাজনৈতিক রূপরেখা এমজিআরের কৌশলকে অনেকটা অনুসরণ করেছে। ২০০৯ সাল থেকে নিজের বিপুল ভক্তশ্রেণীকে সংগঠিত করতে শুরু করেন তিনি। ভক্তদলের সমন্বয়ে তিনি ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ গড়ে তোলেন, যা পরে রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় হয়। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকেকে সমর্থন দেয়; ২০২১ সালে সে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজয় নিজেই এই সংগঠনে রাজনৈতিক পরিচিতি গড়তে মনোনিবেশ করেন। ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম ঘোষণা করেন এবং দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবার ফলাফল ঘাঁটাইলে বড় সাফল্য পান।

    ফিল্ম থেকে রাজনীতিতে এসে ভক্তকে ভোটার ও কর্মী হিসেবে রূপান্তর করার মডেলটি এমজিআর করেছিলেন—এবার বিজয়ও একই ধরনের ভূমিকা পালন করে ৪৯ বছর পুরনো ঐতিহাসিক মাইলফলকটির সঙ্গে নিজের নাম মিশিয়েছেন। (সূত্র: এনডিটিভি)

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন, আমি সুস্থ

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন, আমি সুস্থ

    উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিজের মৃত্যু সংবাদের ব্যাপারে অস্বাভাবিক গুজব হিসেবে খণ্ডন করেছেন। ভক্ত-অনুরাগীদের তিনি আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভালো আছেন।

    রুনা লায়লা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অবস্থান করছেন। ঠিক এই সময় নানা প্ল্যাটফর্মে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

    ঘটনাটি নজরে পড়ার পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে পরিস্থিতির সত্যতা পরিষ্কার করেন। পোস্টে তিনি বলেন, আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে: আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি। এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ দেখা ও শেয়ার করা আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। অনুগ্রহ করে কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নেন। সবাইকে অনেক ভালোবাসা।

    সংক্ষেপে, এই খেয়ালগার গুজবের পেছনে কোনো বাস্তবতা নেই এবং রুনা লায়লা নিজেই সুস্থ থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, রুনা লায়লা ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’তে ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ গান দিয়ে সংগীতজগতে খ্যাতি পান। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশন শুরু করেন এবং ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান দিয়ে ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

  • সালমান খান জীবনের কাছের বন্ধু সুশীল কুমারকে হারালেন

    সালমান খান জীবনের কাছের বন্ধু সুশীল কুমারকে হারালেন

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান আবারো অনুভূতিতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর প্রিয় বন্ধুর আর না-থাকা সংবাদে। তাঁর ৪২ বছর বয়সী প্রিয় বন্ধু সুশীল কুমার মৃত্যুবরণ করেছেন, যা শুনে নীরবতাই যেন বলে দেয় ভেতরের দুঃখ। এই বিষাদজনক খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই জানিয়েছে সালমান, তিনি লিখেছেন, এই কঠিন সময়ের মধ্যে তিনি এই সংবাদ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি গভীর শোকের পাশাপাশি গভীর শ্রদ্ধা জানান বন্ধু সুশীলের জন্য।

    সালমানের দেখা মতে, সুশীল ছিলেন একজন জীবনের সব পরিস্থিতিতে হাসি ধরে রাখা মানুষ। তিনি সবসময় বলতেন, সবকিছু ঠিক হবে, কোন কিছুতেই মনোভাব হারানো উচিত নয়। সালমান তাঁর বন্ধু সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, সুশীল যেন একজন শক্তিশালী হিরো, যে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন যেন এক চ্যাম্পিয়ন। তিনি আরও লিখেন, তাঁর কাছে সুশীলের মৃত্যুতে কপাল দেয় না, বরং স্মৃতির অমলিন ধারা থাকে যে তার জীবনের হাসি ও আনন্দময় মুহূর্তগুলি। তিনি মনে করেন, পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে যাদের দায়িত্ব বা দেনা-পাওনা ছিল, তাদের জন্য কিছু করাটাই উচিত।

    একই সঙ্গে সালমানের পোস্টে উঠে আসে মৃত্যুর অপ্রতিরোধ্য সত্যতা— যাঁর যেহেতু এখন যাওয়ার সময় এসেছে, তাঁদের আটকানো সম্ভব নয়। তবে তিনি বলেন, ভালো মানুষরা দ্রুত এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, আর যারা এখনও অনেক দায়িত্বে আছেন তারা হয়তো একটু বেশি সময় পান। দুর্নীতিগ্রস্ত বা অসৎ লোকদের জন্য সময় আরও পরে আসে, সেটাও যেন এক স্বাভাবিক নিয়ম।

    প্রিয় বন্ধুর এই ক্ষতি বলে কেঁদে ফেলতে পারেননি সালমান; তাঁর অজান্তেই তাঁর চোখে জল আসেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেখানে অধিকাংশ মানুষ ‘আরআইপি’ (RIP) শব্দের ব্যবহার করেন, সেখানে সালমান স্পষ্ট করে বললেন, তিনি সুশীলকে মৃতদেহস্বরূপ দেখেন না; বরং তাঁর নামেই ডাকতে চান।

    সবশেষে, নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে সালমান জানান, বন্ধুকে ছাড়া নিজের একাকিত্ব তাঁকে বেশ ভাবিয়ে তোলে। তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু এখন যেন একাকীত্বে লিভার এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই অপ্রত্যাশিত শোক ও অনুভূতি সম্ভবত শান্তি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠবে। তবে একটাই বোঝা, বন্ধুর জন্য এই কষ্টের ক্ষত এখনও গভীরে রয়ে গেছে।

  • মমতার সিনেমা নিষেধাজ্ঞার পর উচ্ছ্বাস বিজেপি পরিচালকের

    মমতার সিনেমা নিষেধাজ্ঞার পর উচ্ছ্বাস বিজেপি পরিচালকের

    বিধানসভার নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে তার হার যেন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এ পরাজয় যেন উজ্জীবিত করেছে নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীর মনোভাব। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার এক পোস্টে তিনি এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন।

    এর পেছনে একটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। মমতার সরকার থাকা অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে বিবেকের দুটি সিনেমা—’দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’— মুক্তি পেতে নানা প্রতিবন্ধকের মুখোমুখি হয়। এসব সিনেমাকে নিষিদ্ধ করা হয়, যা হতাশ করে তোলেন নির্মাতাকে। অন্যদিকে, দিদির পতনের পরে এই শিল্পীর মনোভাব অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে।

    নিজের এক্সট্রা অ্যাকাউন্টে বিবেক লিখেছেন, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ বলিউডে মুক্তির পর জাতীয় পর্যায়ে আমাকে বাংলায় কাজ করতে দেওয়া হয়নি। সিনেমাটি সিনেমা হলে থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং ঘোষণা দেওয়া হয় যে আমাকে বাংলায় কাজ করতে দেওয়া হবে না। গত বছর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সম্পূর্ণরূপে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়, উপরন্তু আমাদের উপর আক্রমণ চালানো হয় শারীরিকভাবে। এর সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে ডজন ডজন এফআইআর দাখিল হয়। এমনকি রাজ্যপালের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের জন্যও যেতে পারিনি।’

    তার পরেও তিনি বলেন, ‘আমরা হাল ধরিনি। এই নির্বাচনের সময় গোপনীয়তা বজায় রেখে আমরা আমাদের সিনেমার ট্রেলর এবং প্রচার শ্রম হারিয়ে না দিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। আমি খুশি যে আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে গেছি। অবশেষে, বাংলার মানুষজনের এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের গর্বিত করেছে। এটাই নিশ্চিত করেছে যে তাঁরা এখন মাথা উঁচু করে সামনে এগোতে পারবেন।’

    এখন বিবেক নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত তার পরবর্তী সিনেমা নিয়ে। বর্তমানে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তিনি ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধের নাটকীয়তা তুলে ধরবেন। পুরোপুরি প্রস্তুত এই সিনেমার জন্য তিনি নতুন পরিকল্পনা ও গবেষণায় মনোযোগ দিয়েছেন।