Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে

    ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিষয়টি তিনি শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে জানান।

    মন্ত্রী বলেন, আগামীকাল অনুষ্ঠিত অধিবেশন শেষের পর সংসদ মুলতবি থাকবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। এরপর ২৯ মার্চ থেকে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

    বৈঠকে প্রথম অধিবেশন চলাকালীন উত্থাপনযোগ্য বিষয় ও কার্যসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংশোধন ও সংস্কারের অনুপ্রসর বিষয়গুলো সংসদে তোলা হবে এবং সেগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

    কমিটির বৈঠক সাড়ে ১২টায় শুরু হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যিনি কমিটির সভাপতি। বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন অধিবেশন বেলা ৩টায় শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিবেশন ৩০ এপ্রিল সমাপ্ত হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সর্বমোট ৫০ ঘণ্টার আলোচনার সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্পিকারের অনুমতিতে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তন করা যাবে।

    সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ৮টি প্রশ্ন ও অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এর পাশাপাশি বিধি–৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি–১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং এমপি মুহাম্মদ নওশাদ জমিরসহ অন্যান্য সদস্যরা।

  • গেজেটে: ত্রয়োদশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিক; উপনেতা তাহের

    গেজেটে: ত্রয়োদশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিক; উপনেতা তাহের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সভাপতি ডা. শফিকুর রহমানকে এবং দলের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওই ঘোষণার গেজেট জারি করে। সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ শাখা-১ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদের সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যাসম্পন্ন দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে বিবেচনা করে শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। প্রজ্ঞাপনে বিশেষ করে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি (বিধি ২(১)(ট)) এবং ‘বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১’ অনুযায়ী এই স্বীকৃতির কথা জানানো হয়েছে।

    একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উক্ত আইন অনুযায়ী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে স্পিকার recognised করেছেন। আইন অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের স্বীকৃতি দিতে হয়; তাই জামায়াত-জোট কর্তৃক শফিকুর রহমান ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মনোনয়ন থাকলেও স্পিকার না থাকায় তা পূর্বে আনুষ্ঠানিক করা সম্ভব হয়নি।

    বৃহস্পতিবারই সংসদ অধিবেশনে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার স্বীকৃতি ঘোষণা করেন।

  • আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় এবং এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত। তিনি বলেন, এমন কাণ্ড জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বকে টার্গেট করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা।

    শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ বলেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার অভিযোগ এনে মামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে; তবে আদালত ওই মামলাটি গ্রহণ করেনি। তিনি এ ধরনের চেষ্টা গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ তথা গণতান্ত্রিক অর্জনের প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের ওপর হয়রানিমূলক মামলা করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দমন করা হবে না; অতীতেও এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

    জনগণ ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নাহিদের আহ্বান—এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদ না ডাকা হলে ১১ দল রাজপথে নামবে: জামায়াত

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ না ডাকা হলে ১১ দল রাজপথে নামবে: জামায়াত

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত ডাকা না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে; যদিও নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হয়েছে, তবুও ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে জোটের অভিযোগ।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রসঙ্গে একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ও সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনও ডাকা হয়নি, যা জোটের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    জুলাই সনদের বিধি মোতাবেক সংসদের নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন আহ্বানের পরামর্শ দিবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন—কিন্তু এখনো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, তিনি অভিযোগ করেন।

    ড. হামিদুর বলেন, ‘সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষায় বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’ এ বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আগামী ২৮ মার্চ ডাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হতে পারে, জানান তিনি।

    অপরদিকে, তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতাকে জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

    সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. হামিদুর বলেন, প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সংসদে এবং রাজপথ—দুই জায়গাতেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা কার্যত বাস্তবায়ন করতেই হবে।’’

  • টানা তিনদিনও কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    টানা তিনদিনও কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দিনও সোনার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের সবচেয়ে ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। নতুন এই দাম শনিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দর কমার প্রেক্ষাপটে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বাজুস সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৭ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামেরও সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    এর আগে শুক্রবারও বাজুস সোনার দাম প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা ও রুপার দাম প্রতি ভরিতে ৩৯২ টাকা কমিয়েছিল। আগের দামে ওই দিনে ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতিভরি ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং ২২ ক্যারেট রুপা ছিল ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার দাম কমানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর বলে বাজুস জানিয়েছে।

  • খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধান করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (mediator) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন এক সার্কুলার জারি করে এই উদ্যোগ ঘোষণা করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ এভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ সময়সীমা ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নের জন্য জরুরি কর্তন নির্দেশনা বহন করে।

    নতুন এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট কমানো ও অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়ে যেতে পারে এমন মামলাগুলো আদালতে না গিয়েই সমাধানের সুযোগ তৈরি করা। দ্রুত মধ্যস্থতার মাধ্যমে দীর্ঘ আইনগত প্রক্রিয়ার বিকল্প, দ্রুত ও কার্যকর সমঝোতা গড়ে তোলা হবে বলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মধ্যস্থতা সেবাদানকারী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্যানেল থেকে মধ্যস্থতাকারী বেছে নিতে হবে। এসব প্যানেলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা রাখা যেতে পারে।

    মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা ও মধ্যস্থতার বাস্তব জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না থাকা এবং যথোপযুক্ত আর্থিক সক্ষমতা।

    নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও সংঘর্ষ এড়াতে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদেরকে এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে সক্রিয়ভাবে অবহিত করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    বর্তমান সময়ে ব্যাংকখাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনাদায়ী ঋণ থাকার পটভূমিতে এই একটি শতাংশ লক্ষ্যকে জাতীয় পর্যায়ের ঋণ পুনরুদ্ধার অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতি ও সার্বিক বাজারের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    এই নির্দেশনা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে করা হলেও নতুন নীতিমালায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করবে।

  • দক্ষিণ লেবাননে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত

    দক্ষিণ লেবাননে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত

    দক্ষিণ লেবাননের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং নার্স রয়েছেন; মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার সময় তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    হামলার ঘটনা শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বিন্ত জবেইল জেলার বুর্জ কালাওইয়াহ গ্রামে ঘটেছে। মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন প্যারামেডিক রয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    বৈরুত থেকে আল জাজিরার একটি প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অনেক স্থানে এখনও নিখোঁজদের খোঁজ চলছে; তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এর আগে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাস্থ্য খাতে এটি দ্বিতীয় হামলা হিসেবে ধরা পড়ে। দক্ষিণ লেবাননের সুয়ানে গ্রামে একটি প্যারামেডিক কেন্দ্রে হামলায় আরও দুই প্যারামেডিক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নিহত ও আহতদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজদের খোঁজ চালানো চলছে। পরিস্থিতি অনিশ্চিত অবস্থায় আছে এবং প্রাথমিক তথ্য অনুসারে চিকিৎসা সেবায় বড় ধরনের ব্যাহতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • ইরান হুঁশিয়ারি: ভারত মহাসাগরে নৌজাহাজে হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে

    ইরান হুঁশিয়ারি: ভারত মহাসাগরে নৌজাহাজে হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে

    ইরান জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে তাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা-তে হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। এই ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।

    ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল হাতামি বলেছেন, আইআরআইএস দেনা-র ক্রুরা একটি শান্তিপূর্ণ মিশন শেষে দেশে ফিরছিল। ওই সময় জাহাজটিতে ‘সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে’ হামলা চালিয়ে শতাধিক ক্রুকে হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার প্রতিশোধ অনিবার্য এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    হাতামি বলেন, আইআরআইএস দেনা-র ক্রুরা ইরানের নৌবাহিনীর ইতিহাসে দেশপ্রেম, সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে থাকবেন। তিনি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও নৌবাহিনীকে দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় এবং শক্তি বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ভারতের বিশাখাপত্তনমে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া ‘মিলান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়; এতে ৭০টিরও বেশি দেশ এক বা একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে অংশ নেন। ঐ মহড়ায় অংশ নেয় ইরানও এবং তাদের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা সেখানে অংশগ্রহণ করেছিল।

    মহড়া শেষে ইরানে ফিরে যাওয়ার পথে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছাকাছি এসে আইআরআইএস দেনা ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে। তাতে জাহাজটিতে থাকা ১০৪ জনের মধ্যে ৯৪ জন নিহত হয়েছেন—রিপোর্ট অনুসারে নিহতদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী উদ্ধার করে। গতকাল শুক্রবার কলম্বো ওই মরদেহগুলো তেহরানে ফিরিয়ে দিয়েছে।

    ঘটনার দায় কে বা কার ওপর চাপানো হবে—এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত বা তর্ক চলতে পারে। ইরানের ঘনীভূত প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

    সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

    সাতক্ষীরায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মোস্তফা ফরহাদ হোসেন (৩২)। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের কুমিরা অভয়তলা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা থেকে পাটকেলঘাটা আসেন। সেখান থেকে ভ্যানযোগে জশোরের কেশবপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিরা অভয়তলা এলাকায় ভ্যান থেকে আচমকাই ছিটকে পথে পড়ে যান তিনি। ঠিক ওই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপ দিলে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর অঞ্চলের মানুষ ওই ট্রাকটিকে আটক করার চেষ্টা করলে ট্রাকটি থামানো যায়; কিন্তু চালক পালিয়ে যান। পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহত মোস্তফা ফরহাদ সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া এলাকার ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘ওরা দুইজনই ভ্রমণে ছিলেন; হঠাৎ কেন রাস্তায় পড়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়।’’

    পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লুৎফুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও যেই ট্রাক involved ছিলেন তার চালককে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ‘ক্রাশ’ কর্মসূচির উদ্বোধন

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ‘ক্রাশ’ কর্মসূচির উদ্বোধন

    ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে খুলনা মহানগরীতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, এ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্প্রসারিত করা হবে যাতে জনগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে এতে অংশ নেয়।

    শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ২১ নং ওয়ার্ডের এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি কার্যক্রমের লক্ষ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এটি একটি প্রস্তুতিমূলক ও বিশেষ কর্মসূচি। আমরা এমনভাবে কাজ চালাবো যাতে সাধারণ মানুষও সচেতন হয় এবং নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতায় অংশগ্রহণ করে। শহরের নর্দমা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ সরাসরি মশক নিধন কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশন নিশ্চিত করবে।

    প্রশাসক আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন নর্দমাসমূহ পরিষ্কার করবে — তবে জনগণেরও দায়িত্ব আছে; নর্দমায়, পুকুরে বা যেকোনো জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না। তিনি পরিচ্ছন্নতা কাজে জড়িত সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং জনসাধারণকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, সকলের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই মরণঘাতী রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়।

    অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকার, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।