Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জামালপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    জামালপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি সাদিক খালাস

    জামালপুরের ইসলামপুরে নবম শ্রেণির এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি সাদিককে আদালত খালাস দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শীলদহ গ্রামের মো. শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ।

    মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছন, শীলদহ এলাকায় কিশোরীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সাদিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত প্রায় ৯টায় সাদিক কিশোরীকে ডেকে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে ধর্ষণ করে। ঘটনার কাছেই ওত পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ পরে আসে; সাদিক তখন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর ওই তিনজন কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে, ফলে কিশোরী ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরে এসে ওই তিনজন কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ফজলুল হক আরও বলেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু গ্রামবাসীর সহায়তায় ঘটনাটি সামনে আসার পর ভুক্তভোগীর বাবা ১৬ দিন পর ইসলামপুর থানায় চার জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

    আদালত দুই বছর ধরে মামলার শুনানি শেষে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর এই রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, আর সাদিককে অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খালাস ঘোষণা করা হয়েছে।

  • সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জ গঠন করেন এবং একই সঙ্গে আগামী ২২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

    আসামিদের মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত তোফায়েল আহমেদ। মামলায় আরও নামে আছেন ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন; বাকি দুই জন বর্তমানে পলাতক। চার্জ গঠনকালে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম অভিযোগটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপনে রাখার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে ওই টাকা বিভিন্ন কিস্তিতে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়। তদন্ত শেষে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান তিন জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে।

    আগে এই মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে দীর্ঘ সময় স্থগিত ছিল; এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উচ্চ আদালত নিজ উদ্যোগে (সুয়োমটো) মামলাটি পুনরায় কার্যকর করে এবং নিম্ন আদালতে পাঠায়। এবার নিম্ন আদালত চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন। পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম জানান, তারা পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি থেকে সামান্য পিছিয়ে ১০ মে-এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের প্রথম ধাপের তালিকা প্রকাশ করবেন।

    তিনি বলেন, আগে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক কিছু কারণে তারিখটি সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেছে।

    সারজিস আলম এসব কথা বলেন মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারের দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকদের যোগদান অনুষ্ঠানে।

    তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারবো।’’ তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থীদের নামও প্রকাশ করা হবে।

    সারজিস বলেন, এখনই তারা একাদশ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বিরোধী ভূমিকা পালন করলেও, একই সঙ্গে এনসিপিকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার কাজ জোরদার করা হচ্ছে। তাই স্থানীয় স্তরে এনসিপি এককভাবে প্রার্থীদের ঘোষণা করবে।

    তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন টালাতে চাইছে এবং সেটা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার কথাও ভাবছে। ‘‘তারা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছে,’’ তিনি বলেন।

    সারজিস আলম আরও বলেন, ‘‘উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে কোনো স্থিতিশীল নেতৃত্ব নেই। কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করলে তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। এমন পরিকল্পনা হলে আমরা এর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবো।’’ তিনি সম্প্রতি সংসদে ও রাজনীতিতে দলের সক্রিয়তা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বছরের মধ্যেই সব সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা ভোট বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

  • সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরির নতুন দর কত?

    সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরির নতুন দর কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরি ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দিন, সোমবার (৪ মে) ওই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে নতুন দাম মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের ব্যাখ্যা, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দরগুলো সুত্রানুযায়ী হলো:

    – ২২ ক্যারেট (এক ভরি): ২,৪০,৩৩৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট (এক ভরি): ২,২৯,৪৩১ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট (এক ভরি): ১,৯৬,৬৫৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি (এক ভরি): ১,৬০,১৪৭ টাকা

    রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত রুপার দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেটের এক ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সোনার দাম ওঠানামা করছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে; পরে মূল্য সমন্বয়ের কারণে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি সেই দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫,৫৫০ ডলারে পৌঁছেছিল।

    গ্রাহক ও গোয়ালীরাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন নোট: বাজারে নতুন দাম ইতোমধ্যেই কার্যকর, তাই কেনা-বেচার সময় উপরে দেওয়া নির্ধারিত দর তা মিলিয়ে দেখতে হবে।

  • সোনার দাম ফের বাড়ল

    সোনার দাম ফের বাড়ল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ভরিতে দাম ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে সমন্বয় করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে ২,৪৪,৭১১ টাকা। গতকাল এটি ছিল ২৪২,৪৯৫ টাকা।

    বাজুসের নির্ধারিত অন্যান্য মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম আছে ২,৩৩,৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,০২,২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরনো পদ্ধতি) প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৩,০৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সূচকীয়ভাবে রূপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট সমমানের রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫,৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেট রুপা ৫,৫৪০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪,৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি ৩,৫৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে স্থিতিশীল নয় এমন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রেক্ষাপট—সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। মূল্য সমন্বয়ের কারণে স্থানীয় বাজারেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট GoldPrice.org অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলার।

    গত বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও রেকর্ডগত মূল্য লক্ষ করা গিয়েছিল। ২৯ জানুয়ারিতে বাজুস এক ধাক্কায় প্রতি ভরিতে ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম একসময় ২,৮৬,০০০ টাকা পর্যন্ত উঠিয়ে দিয়েছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

  • গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী শপথ আজ স্থগিত

    গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী শপথ আজ স্থগিত

    তামিলনাড়ুর বড় জয়ের মধ্যেও থালাপতি বিজয় আজ (বৃহস্পতিবার) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন না। রাজ্যের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর এখনও টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে নিশ্চিত হননি—এমনটাই জানিয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদন। ফলে শপথগ্রহণ আজকার আনুষ্ঠানিক সূচি নিয়ে স্থগিতির সিদ্ধান্ত এসেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্র বলছে, কংগ্রেস zwar বিজয়ের দলকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সব জোটদল ও নির্দলীয়দের সমর্থন পাকা করে নেওয়া এখনও সময়ের ব্যাপার। তাই সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য বিজয়ের শিবিরকে আরো এক-दুই দিন লাগতে পারে।

    ঘটনার ধারাবাহিকতায় বলা হচ্ছে, রাজ্যপাল ইতিমধ্যে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং তারপর কেরালার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন—সেখানে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলান। গতকাল এক বৈঠকে বিজয় রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, টিভিকে সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুনও তাঁদের আইনি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন।

    সংখ্যানিক অবস্থান বোঝাতে গেলে: টিভিকে বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য মোট ১১৮টি আসন দরকার। কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন যোগ হলেও (প্রসঙ্গত—বিজয় দুইটি আসনে জয়ী হয়েছেন, তার একটিকে বাদ ধরার প্রেক্ষাপটে) টিভিকের এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পৌঁছতে ছয়টি আসনের ঘাটতি রয়ে গেছে। পরবর্তী স্বাভাবিক ধাপ হবে—বিধানসভায় বিজয় তাঁর সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা।

    তবে কাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়া হবে, সে ব্যাপারে এখনও নির্দিষ্ট চিত্র সামনে আসেনি। টিভিকে-র দুইটি আসনে জয়ী বিধায়কদের দলের সঙ্গে বুধবার চেন্নাইয়ে এক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল; সেই বৈঠককে শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ দুই বামপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে ৮ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে। বামদের ৪টি আসনের মধ্যে দুটি সিপিআই এবং দুটো সিপিআই(এম)-এর।

    এক বিকল্প জোট-ছকও শোনা যাচ্ছে—টিভিকে এবং এআইএডিএমকের জোট, যেখানে এআইএডিএমকের ৪৭টি আসন যুক্ত হলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক টিভিকে সমর্থন করতে রাজি হতে পারেন।

    তামিলনাড়ু কংগ্রেসকে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। তামিলনাড়ু কংগ্রেস ইনচার্জ গিরিশ চোদানকর জানিয়েছেন, দক্ষিণে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়ার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে থাকা শ্রেয়। কংগ্রেস বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিলে দলের কর্মীরা সদর দপ্তরে উল্লাস করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, তাদের একমাত্র শর্ত—সংবিধানকে অস্বীকারকারী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোটের বাইরে রাখা।

    এদিকে বিরোধী দল ডিএমকে কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে আ লীগের জন্য ঘাঁটা ব্যর্থতা বলে আখ্যা দিয়েছে। ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানান আনাতুরাই বলেছেন, কংগ্রেস টিভিকের সঙ্গে মন্ত্রিসভার দুটি পদের লোভে নিজেকেই ধ্বংস করছে এবং তামিলনাড়ুর জনগণের পিঠে ছুরি মারার কাজ করেছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা তাত্কার্য্য বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের ভাঙন নির্দেশ করে।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকের বড় জয় তামিলনাড়ুর দীর্ঘকালের দ্বৈত রাজনীতিকে বদলে দিয়েছে। ডিএমকে-র প্রভাব হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে কোলাথুর আসনে টিভিকের ভি এস বাবুকে হারিয়ে এম কে স্টালিন ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে: আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিজয়ের শপথগ্রহণের দিন চূড়ান্ত হয়নি—রাজ্যপালের সম্মতি ও বিভিন্ন দলের চূড়ান্ত সমর্থন জানার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • পদত্যাগ করব না, ওরা চাইলে বরখাস্ত করুক: অনড় মমতা

    পদত্যাগ করব না, ওরা চাইলে বরখাস্ত করুক: অনড় মমতা

    তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে প্রতিবাদ আর ক্ষোভের মাঝেই তিনি বলেছে, “ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক।”

    গতকাল থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দলের বিধায়কদের সঙ্গে এক বৈঠকে মমতা জানান, ২৯ এপ্রিল থেকে যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেই অভিযোগ নিয়েই তার দল আদালতে যাবে। বৈঠকে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতে ও ঐক্য ধরে রাখতে তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে সেই নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত যা বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর আছে, তা ২০২১ সালের পরের সময়ের তুলনায় অনেক কম। কিছু গুন্ডা এখনও সক্রিয় আছে—তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে,’’ বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলকে সরব ও আন্দোলনমুখী রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে বিধানসভা খোলার দিনকে ‘‘কালো পোশাক দিবস’’ হিসেবে পালন করা হবে, যাতে রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রতিবাদের সুর বজায় থাকে।

    ৭১ বছর বয়সী এ নেত্রী নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নিজের অবস্থান অটল রাখছেন এবং নির্বাচনের ফলের দ্বায় নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছেন। তিনি কমিশনের বিরুদ্ধেই ‘‘নোংরা খেলা’’ খেলার অভিযোগ তুলেছেন এবং মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোটের পরাজয়ের উদাহরণ টানিয়েছেন।

    সংবিধানগত ও রাজনীতিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে কীভাবে সরানো যায় সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠায় সূত্রগুলো বলছে, রাজ্যপাল(গভর্নর) প্রযুক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বরখাস্তের ক্ষমতা রাখেন—বিশেষত যদি আস্থা ভোট না থাকলে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভাঙ্গা না হওয়া এবং রিজাল্ট স্বচ্ছতা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সরাসরি প্রয়োগ সহজ নয়। রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা এক চরম পদক্ষেপ, এবং রাজ্যপাল চাইলে বিজয়ী দলকে সরকার গঠনের আহ্বানও জানাতে পারেন।

    এই প্রেক্ষাপটে, আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ—৭ মে শেষ হচ্ছে, ফলে সময় সীমিত। ইতিমধ্যেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সহ কয়েকজন রাজ্যস্তরের নেতাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্তের আহ্বান করতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী কয়েকদিন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়বে।

  • চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি বিশেষ অভিযানে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হওয়া সোনার বারের মোট ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম এবং বিজিবি মূল্য হিসাব করে সেগুলোর মূল্য ধার্য করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা।

    বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এক বিশেষ টহল নিলগঞ্জ ব্রিজ (যশোর–নড়াইল মহাসড়ক) এলাকায় তল্লাশি পরিচালনা করে। সকালে সাড়ে চারটার দিকে ওই এলাকায় চিকিৎসকের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি করা হলে গাড়ির হেডরেস্টের ভেতর বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ২৬টি সোনার বার পাওয়া যায়।

    ঘটনায় প্রাইভেট কারসহ আটক করা হয় শার্শার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি (৩৬), চৌগাছার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের ইসহাকের ছেলে আব্দুল গনি (৫৪) এবং যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল (৪৬)।

    বিজিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে ঢাকার আবদুল্লাহপুর ও উত্তরা এলাকায় থাকা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে সোনাগুলো সংগ্রহ করে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযানে সোনার বারের পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

    যশোর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচারের প্রবণতা বেড়েছে এবং এই ধরনের পাচার রোধে বিজিবির অভিযানগুলো অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

  • কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) তেল চোর চক্রের ঘটনার তদন্ত করতে তিন দফায় কমিটি গঠন করেছে। কেসিসি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সাক্ষরিত অফিস আদেশে সর্বশেষ ৪ মে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আদেশে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ সেলিমুল আজাদ।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খালিশপুর বি-অঞ্চলের এসটিএস সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ফোন করে জানায় যে, খালিশপুর নিউমার্কেটের এসটিএস এর এলাকায় এক ব্যাকহুইল লোডারের জ্বালানি ট্যাংকের মুখ খুলে তেল চুরি হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় সেখানে গেলে একটি তেলের ক্যান এবং কয়েক লিটার তেল জব্দ করা হয় এবং ওই ব্যাকহুইল লোডারের চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখা হয়। ঘটনার প্রাথমিক দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পেয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন।

    তবে তদন্ত শুরু থেকেই সদস্য জাতীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রথমে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির একজন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি উঠায় প্রশাসকের নির্দেশে তিনি কমিটি থেকে সরিয়ে নতুন করে গঠন করা হয়। বাদ দেওয়া সদস্য ছিলেন কেসিসি এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন; তাঁর স্থলে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    পরে পুনরায় গঠিত দ্বিতীয় দফার কমিটিতে আহবায়ক করা হয় মোঃ আনিসুজ্জামানকে। ওই সময়ে কমিটির এক সদস্য, কনজারজেন্সি অফিসার মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে তদন্ত চলাকালীন আবারও তৃতীয় দফায় কমিটি গঠন করা হয়।

    এই ঘটনায় আগে থেকেই ইতিহাসও আছে। সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সময়ে কেসিসি কর্তৃপক্ষ দুই ড্রাম চোরাই তেলসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছিল; সেই ঘটনার তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল কিন্তু এখনও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি। স্থানীয় চালক ও কর্মচারীরা আশা করছেন, পুরনো তদন্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখলে কিংবা নতুন তদন্তে সর্তকভাবে যাচাই-বাছাই করলে তেল চুরির সম্ভাব্য চক্রের পরিচয় উঠে আসবে।

    নতুন গঠিত কমিটির সদস্য কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি এ ঘটনার বাদী। আমাকে কীভাবে ও কোন নিয়মে কমিটির সদস্য করা হলো—এটার ব্যাখ্যা চাই।” কেসিসি প্রশাসন কমিটির পুনর্গঠন এবং তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

  • টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৪-৫ নম্বরে শেষ করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৪-৫ নম্বরে শেষ করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

    শাহীন আফ্রিদি বললেও পাকিস্তানের চোখ ফাইনালে, বাংলাদেশ শীর্ষস্থান না-করে ৪-৫ নম্বরেই সন্তুষ্ট থাকতে চায়।

    গতকাল পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছেন যে তার দল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, তার দলের লক্ষ্য এখন অতিরিক্ত উচ্চ নয়—আপাতত চক্রটি চার- কিংবা পাঁচ নম্বরে শেষ করাই উদ্দেশ্য।

    শান্ত মনে করেন, গত দুই বছরে দলের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে ভালো হয়েছে এবং ২০২৩-২৫ চক্রে সপ্তম স্থানে শেষ করা একটি ইতিবাচক অর্জন। ‘‘গত দুই বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, ৭ নম্বরে শেষ করা আমার মনে হয় একটি ভালো অর্জন। ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে, আগের চক্রগুলোতে এমনটা হয়নি। এবার যদি চার-পাঁচে শেষ করতে পারি খুবই ভালো লাগবে,’’ বলেন নাজমুল।

    বাংলাদেশের জন্য ২০২৩-২৫ চক্রটি মোট মিলিয়ে সফলভাবেই কেটেছে—সেই চক্রে টাইগাররা চারটি টেস্ট জয় পায়। এর মধ্যে ছিল ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জয়, ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ে শেষ করা, এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্ট জেতা।

    আগামীকাল ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের সিরিজ, যা বাংলাদেশের চলমান টেস্ট চক্রের শুরু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শান্ত বলেন, ঘরের ম্যাচগুলোতে ভালো করে সুবিধা নিয়ে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্ট নেওয়াই তাদের পরিকল্পনা। ‘‘আমরা ঘরের কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা অনুযায়ী চরিত্র নির্ধারণ করে খেলার চেষ্টা করব,’’ যোগ করেন তিনি।

    ঘরের সিরিজ ছাড়াও চলতি বছর বাংলাদেশ আরও দুটি কঠিন সিরিজ খেলবে। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ—প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ডারউইনে, দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকায়। পরে নভেম্বরে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ—প্রথম ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে, দ্বিতীয় ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে নিয়মিত না খেলার কারণে এগুলো চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই শান্তের অভিমত।

    তবুও ঘরের মাঠে ধারাবাহিক ভালো খেলায় বিশ্বাসী শান্ত মনে করেন দলের ভারসাম্য ভালো—পেস বোলিং, স্পিন বোলিং ও ব্যাটিং মিলিয়ে দলটি পর্যাপ্ত শক্তি জমাচ্ছে। তাই প্রথম ধাপে ঘরের সিরিজে ভালো ফল করতে পারলেই ভবিষ্যতের কঠিন সফরগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।