Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে তিন ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

    গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে তিন ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

    আন্তর্জাতিক সংবাদ Freedom সূচকে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে তিন ধাপ পিছিয়ে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থান অর্জন করেছে—এমন তথ্য দিয়েছে প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স (আরএসএফ)। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে ওই সংগঠন সতর্ক করে।

    আরএসএফ প্রতিবছর ১৮০টি দেশের সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে সূচক প্রকাশ করে। এই সূচকে গণমাধ্যমের পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ থেকে ‘ভালো’—মোট পাঁচটি স্তরে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। ২০২৬ সালের তালিকায় বাংলাদেশের র‍্যাংকিং ছিল ১৫২তম; এক বছর আগের (২০২৫) অবস্থান ছিল ১৪৯তম—অর্থাৎ এক বছরে তিন ধাপের অবনতি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সূচকের অবনতি কেছেন কয়েকটি কারণে—আইনি চাপ, সম্পাদনায় স্ব-সেন্সরশিপ, মালিকানার কেন্দ্রীকরণ, এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সাংবাদিকতা করার পরিবেশ অবনতিশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের প্রায় ১৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন; তাদের বড় অংশের কাছে মূলধারার গণমাধ্যমে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত। তবুও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ-তথ্যের প্রবাহ বাড়ছে।

    গণমাধ্যমের অবস্থা নিয়ে আরএসএফ বলেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান দুই সংবাদমাধ্যম—বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার—সম্পাদকীয় স্বাধীনতা হারিয়ে সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাসসের পরিস্থিতিও একই রকম।

    বেসরকারি খাতে রয়েছে হাজারের বেশি সংবাদপত্র, কয়েকটি টিভি ও রেডিও চ্যানেল এবং শতাধিক অনলাইন নিউজপোর্টাল; তবু মালিকানা কয়েক বড় ব্যবসায়ীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সংবাদমাধ্যমকে প্রভাব ও মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরএসএফ টেনে ধরে বলেছে, এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্যোগ থাকে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা—ফলে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ক্ষুণœ হয় এবং ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বাড়ে।

    আইনি কাঠামোর দিক থেকে প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে, বিতর্কিত ডিজিটাল আইন উদাহরণ হয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো বিধান সাংবাদিকদের ওপর দমনমূলক প্রভাব বিস্তার করে। এই আইন অনুসারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্র warrants ছাড়া তল্লাশি, গ্রেফতার ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের সুযোগ পান এবং সোর্সের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা বাড়ে। এসব পরিস্থিতিতে সম্পাদকরা প্রায়ই স্বভাবতই নিজেরাই নিজ প্রতিবেদন কাটছাঁট করতে বাধ্য হন।

    নিরাপত্তা ও হামলার প্রসঙ্গে আরএসএফ জানিয়েছে, গত এক দশকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হামলায় অনেক সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন; এছাড়া অনলাইনেও ধর্মভিত্তিক হুমকি ও হয়রানি বেড়েছে। রাজনৈতিক মাটির বৈপরীত্য ও পরিবর্তনের সময়ে দুই শতাধিক সাংবাদিক ভিত্তিহীন মামলার শিকার হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে—রিপোর্টে এসব ঘটনারও উল্লেখ আছে।

    লিঙ্গভিত্তিক অসুবিধাও চিহ্নিত হয়েছে: সাংবাদিকতা এখনো পুরুষ-প্রাধান্যশীল পেশা হিসেবে রয়ে গেছে; নারী সাংবাদিকেরা কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও অনলাইনে বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণার শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ARSF দেখায়, এবারই প্রথম বিশ্বজুড়ে অর্ধেকের বেশি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘কঠিন’ বা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে রয়েছে। সূচকের শীর্ষে মাত্র সাতটি দেশ আছে—নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া এগুলোর মধ্যে। ফ্রান্স ‘সন্তোষজনক’ অবস্থানে ২৫তম আছে; যুক্তরাষ্ট্র ৬৪তম, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অবস্থান সাত ধাপ নেমেছে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।

    আরএসএফের সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, তথ্যের অধিকার ও সাংবাদিকতার ওপর আক্রমণ এখন অনেকভাবে ও সূক্ষ্মভাবে হচ্ছে। তিনি বলেন এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে গণতান্ত্রিক সরকার ও নাগরিক সমাজকে আরও সক্রিয় হওয়া দরকার; বিশেষত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপ্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন।

    সংগঠনটি সতর্ক করেছে, বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ১১০টিতে (৬০ শতাংশের বেশি) সংবাদকর্মীদের বিভিন্নভাবে অপরাধী ভাবা হচ্ছে এবং জরুরি অবস্থা বা আইন প্রয়োগের অপব্যবহার করে তাদেরকে নিশানা করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, তথ্য বাধা আর সুশাসনের অভাবের কারণে গণমাধ্যম স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে—যেমন গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবানন এলাকায় সাংবাদিকরা হামলার সম্মুখীন হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরএসএফের আহ্বান হলো: তথ্যের অধিকার রক্ষায় বেশি স্বচ্ছতা, সাংবাদিক নিরাপত্তা ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশ নিশ্চিত করা—না হলে গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েই যাবে।

  • জেলা প্রশাসকের পর ঢাকায় প্রথম নারী পুলিশ সুপার হলেন শামীমা পারভীন

    জেলা প্রশাসকের পর ঢাকায় প্রথম নারী পুলিশ সুপার হলেন শামীমা পারভীন

    ঢাকা জেলায় প্রথমবারের মতো একজন নারী পুলিশ সুপার (এসপি) পদে নিয়োজিত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শামীমা পারভীনকে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এই বদলির প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার দুপুরে জারি করা হয়।

    শামীমা পারভীন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের হুইপ রকিবুল ইসলাম-এর স্ত্রী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত অবস্থায় থেকে ঢাকা জেলার দায়িত্ব নেবেন। একই আদেশে বর্তমান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) বদলি করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের মোট ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন পুলিশ সুপার এবং ছয়জন অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। দুইটি প্রজ্ঞাপনই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয় এবং তাতে উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদের স্বাক্ষর রয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ অধিদপ্তরের কর্মরত শামীমা পারভীনকে ঢাকা জেলা পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশনায় ঢাকা জেলার বর্তমান এসপি মিজানুর রহমানকে পিবিআই-র এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বদলির আদেশটি জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    শামীমা পারভীন নড়াইল জেলার সন্তান। তিনি ২৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালের ২১ আগস্ট সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে যোগ দেন। পুলিশ বাহিনীতে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ১ নম্বর যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

    আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি ২২টি দেশের নারী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক নারী পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার কো-অর্ডিনেটর নির্বাচিত হওয়া তার নানা অভিজ্ঞতার অংশ।

    কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে তাকে পুলিশের কম গুরুত্বপূর্ন ইউনিটে স্থাপন করার মন্তব্যও ছিল। অন্যদিকে, শৈশবকাল ও ছাত্রজীবনে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তিনি জাবি বিসিএস অফিসার্স ফোরামের ২০২৫-২৬ কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও ছিলেন।

    বিশেষত সীমিত সময়ের মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে ফরিদা খানমের নিয়োগের পর—যা ২২ এপ্রিল করা হয়েছিল—ঢাকার প্রশাসনের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীকে দায়িত্ব দেওয়ায় এটি প্রশাসনে নারী অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে, শামীমা পারভীনের নেতৃত্বে ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে।

    একই ট্রান্সফার সার্কুলারে বাগেরহাটের এসপি মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের এসপি করা হয়েছে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (এসপি পদমর্যাদা) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারকে বাগেরহাটের এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের সময়সূচি ঘোষণা

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের সময়সূচি ঘোষণা

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

    জোট জানায়, আগামী ১৬ মে রাজশাহী থেকে বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার জনগণের সেই রায়কে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন তা মেনে না নিয়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশ্রয় নিয়ে ছলচাতুরি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    জোটের ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের সূচি অনুযায়ী: ১৬ মে — রাজশাহী; ১৩ জুন — চট্টগ্রাম; ২০ জুন — খুলনা; ২৭ জুন — ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই — রংপুর; ১৮ জুলাই — বরিশাল; এবং ২৫ জুলাই — সিলেট।

    তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পূরণ উৎসাহে আন্দোলন ও সমাবেশ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে। এই বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।

    বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি ১১ দল বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জনমত গঠনের ওপর জোর দেয়া হবে। এছাড়া দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

    সরকারকে কোমর কাঁপিয়ে আক্রমণ করে হামিদুর রহমান তিনি আরও বলেন, ‘‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে — এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে। ছাত্র সমাজকেও এ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’’

    তাঁর কথায়, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানী এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • নাহিদ তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি থাকবে পাশে

    নাহিদ তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি থাকবে পাশে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন দল স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে দখল করার চেষ্টা করছে। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণ শক্তির জয় হবে; সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।

    অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীনরা গণভোটকে অস্বীকার করে নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার স্বাভাবিক পরিবর্তনে পরিণত করেছে। সংবিধান সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর ওপর জারি থাকা অধ্যাদেশগুলো বাতিলের চেষ্টা চলছে এবং বিভিন্নভাবে দেশের সংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ব্যাংক লুটেরাদের জন্য ফের সুবিধাদি তৈরি ও ক্ষমতার রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয় সহ শিক্ষাব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে—এসব দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি।

    নাহিদ বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো নতুন বা পুরনো স্বৈরতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে—এটাই আমরা দেশে একে একে দেখছি।’’ তিনি দাবি করেন যে পার্টি সারাদেশে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে এবং তরুণদের মধ্যে আন্দোলনের তীব্রতার পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

    এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলছে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি—সবাই দায়িত্বশীল হোন। যারা রাজনীতি করতে চান ও দেশে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’’

    বর্তমান সরকারের নীতি-প্রয়োগে ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোই একমাত্র পথ। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’’

    এই সভায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট নির্মাতা নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন রনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। নাম ঘোষণা হওয়ার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন নাহিদ ইসলাম।

    অনুষ্ঠানটি ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয় এবং দলের উচ্চ পর্যায়ের several নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নাহিদের আহ্বান — তরুণরা যদি সংগঠিত হয়, এনসিপি তাদের পাশে দাঁড়াবে—এই বার্তাই ছিল এ অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য।

  • প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: বিজয়ীদের নাম ও পুরস্কার

    প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: বিজয়ীদের নাম ও পুরস্কার

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকায়, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রথম পুরস্কার—৬ লাখ টাকা—বিজয়ী সিরিজের নম্বর: ০০০১০৩৫।

    দ্বিতীয় পুরস্কার—৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা—বিজয়ী নম্বর: ০০৪৭৭৪৮।

    তৃতীয় পুরস্কার—প্রতি উত্তোলনে ১ লাখ টাকা—দুইটি নম্বর: ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২।

    চতুর্থ পুরস্কার—প্রতি উত্তোলনে ৫০ হাজার টাকা—বিজয়ী নম্বর দুটি: ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

    প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের মধ্যে এবারে ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ড্রটি একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রতিটি সিরিজের জন্য একই নম্বর) পরিচালিত হয়েছে। এই ড্র-এর আওতাভুক্ত সিরিজগুলো হলো: কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গশ, গষ, গপ, গস, গহ, ঘক, ঘখ, ঘগ, ঘঘ, ঘঙ এবং ঘচ।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নম্বরগুলো হলো: ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫।

    বিজয়ী সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পুরস্কারভোগীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরস্কার গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আবেদন করতে পারবেন।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড়ালো

    এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড়ালো

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার—প্রায় ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে প্রতিদিন গড় রেমিট্যান্স হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল ২০২৫)দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা তুলনায় এবার প্রবাহ বেড়েছে।

    এর আগে মার্চে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে—মার্চে মোট পাঠানো হয়েছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৩.৭৫৫ বিলিয়ন ডলার)। চলতি বছর জানুয়ারিও ছিল শক্তিশালী; ওই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স ছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    এই ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আগমনে ইতিবাচক সঙ্কেত দেয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

  • বুথফেরত জরিপ অগ্রাহ্য করে মমতা: ‘তৃণমূল রেকর্ড জয়ের পথে’

    বুথফেরত জরিপ অগ্রাহ্য করে মমতা: ‘তৃণমূল রেকর্ড জয়ের পথে’

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসকে অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস আবারও রাজ্যে ‘‘মা, মাটি, মানুষের সরকার’’ গঠন করবে এবং রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয়ী হবে।

    দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের পরের দিন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় মমতা এই আস্থা ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল ২২৬টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে,’’ যা দলটির গত নির্বাচনে পাওয়া 215 আসনের রেকর্ডকেও ছাপাবে বলে দাবি করেন।

    এ বছর পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের জন্য দুই দফায়—২৩ ও ২৯ এপ্রিল—ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার রেকর্ডভিত্তিক ৯০ শতাংশের ওপরে উঠেছে, যা নির্বাচনকে আরও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে পরিণত করেছে।

    তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসের বিপরীতে বিজেপিও জয়ের দৃঢ় প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। কর্ণাটকের বিজেপি সভাপতি বি. ওয়াই. বিজয়েন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের আশা জানান এবং বলেন, অন্য রাজ্যগুলোর মতো এখানে থেকেও বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ শক্তিশালী ফল করতে চলেছে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় সভাপতির গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে রাজ্যের কর্মীদের সতর্ক পরিশ্রমের প্রশংসাও করেন। বিজয়েন্দ্র দাবি করেন যে, লাখ লাখ কর্মীর প্রচেষ্টার ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বুথফেরত সমীক্ষাগুলো একেবারেই একস্বরে ফল প্রকাশ করছে না; তারা রাজ্যে বিভক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একাধিক সংস্থার প্রাথমিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে—কিছু সমীক্ষায় বিজেপি সামান্য এগিয়ে দেখানো হয়েছে, আবার অন্য কোথাও তৃণমূলের বড় জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।

    কয়েকটি সমীক্ষার উল্লেখযোগ্য আউটপুটগুলো এভাবে জানানো হয়েছে: চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস বিজেপিকে ১৫০–১৬০ ও তৃণমূলকে ১৩০–১৪০ আসন দিয়েছে; ম্যাট্রাইজের পূর্বাভাসে বিজেপি ১৪৬–১৬১ ও তৃণমূল ১২৫–১৪০; পি-মার্কের রেঞ্জে বিজেপি ১৫০–১৭৫ ও তৃণমূল ১১৮–১৩৮ আসন পেতে পারে। জেভিসির জরিপে যদিও লড়াই কড়া হবে বলা হয়েছে, সেখানে বিজেপিকে ১৩৮–১৫৯ ও তৃণমূলকে ১৩১–১৫২ আসনে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে পিপলস পালস তৃণমূলকে ১৭৮–১৮৭ আসনের একচেটিয়া জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে; তাদের তালিকায় বিজেপি ৯৫–১১০ এবং অন্যান্যরা ২–৩টি আসন পেতে পারে।

    কয়েকটি সমীক্ষার গড় হিসেব করলে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই প্রায় ১৪৫টি করে আসনে টগবগ করছে, কিন্তু পৃথক জরিপভিত্তিক রেঞ্জগুলো ফলাফলকে অনিশ্চিত রেখেছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারিত হবে না।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

  • ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল: ২৬ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

    ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল: ২৬ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

    উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী একটি নৌকা বিকল হয়ে আট দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর পানিশূন্যতা ও খাদ্যসংকটের কারণে অন্তত ১৭ অভিবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে; আরও নয়জন নিখোঁজ থাকায় মোট ২৬ জনের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনায় সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকাররা মূলত সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের নৌকা মিশরের সীমান্তঘেঁষা লিবিয়ার পূর্ব তোবরুক শহরের উপকূলের কাছে চিকিৎসা ও ত্রাণ কর্মীদের দ্বারা উদ্ধার করা হয়। রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় উদ্ধারকার্য চালায়।

    উদ্ধারকারীরা জানান, আট দিন সমুদ্রে ভাসার ফলে বিশুদ্ধ পানীয় ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং তারা মারা যান। উদ্ধারকাজের সময় তোলা ছবিতে দেখা গেছে মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপে বোঝাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ঘটনায় মৃতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপগামী অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট পথ—অনেকেই যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও মানবাধিকার সংকট থেকে পালিয়ে মরুভূমি ও সমুদ্র পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ বেছে নেন।

    এদিকে ত্রিপোলির অ্যাটর্নি জেনারেল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারা এলাকায় একটি ‘অপরাধী চক্র’-এর চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসূত্রে বলা হয়, তোবরুক অঞ্চল থেকে একটি ভাঙাচোরা নৌকায় অভিবাসীদের পাঠানোর অভিযোগে আরেকটি চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে; একই ধরনের নৌকাপ্রচলে একটি ভূষণীয় সুনামহানির কারণে আগে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপীয় নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা আবারও মানুষের পেশাদারি পাচার চক্র ও অঠটভয়ের পথে রফতানির ভয়াবহতা সামনে এনে দিল। আন্তর্জাতিক দাতাবৃন্দ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং লিবিয়ায় বাসস্থানের শর্ত, সীমান্ত নজরদারি ও উদ্ধার সক্ষমতা উন্নয়ন করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামকরণের আবেদন

    রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামকরণের আবেদন

    খুলনা জেলার আইচগাতি ইউনিয়নে অবস্থিত রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামে পুনঃনামকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি খুনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল স্বাক্ষরে গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

    আবেদনে বলা হয়েছে, খুলনা-৪ আসনটি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ অঞ্চলে একই নামে দু’টি কলেজ থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনিক দফতরগুলোর মধ্যে অনেক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

    পটভূমি তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ঐতিহ্যবাহী বেলফুলিয়া এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ‘বেলফুলিয়া কলেজ’ নামে পরিচিতি অর্জন করে। পরে কলেজটি সরকারিকরণের সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য (আওয়ামী লীগ) কলেজটির নামের বেলফুলিয়া অংশটি বাদ দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ’ নামে নামকরণ করেন।

    অপর দিকে ১৯৮৬ সালে রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় ‘রূপসা কলেজ’ নামে একটি বেসরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই প্রতিষ্ঠান উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ছাত্রসংখ্যাও কয়েক হাজারের ওপরে।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগস্ট বিপ্লবের পর কিছু অজ্ঞতাবশত স্থানীয় বেলফুলিয়ায় অবস্থিত কলেজটির নামের ‘বঙ্গবন্ধু’ অংশটি সরিয়ে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ বলা শুরু করলে একই নামের দুটি কলেজের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ভর্তিকাল, তথ্য প্রেরণ, সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র, বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা ও বরাদ্দ বণ্টনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রেরণ, রেজিস্ট্রেশন ও ফলাফল সংক্রান্ত কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ আছে।

    স্থানীয় শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের মতামত বিবেচনায়, বর্তমানে রূপসা সরকারি কলেজ হিসেবে যত নাম ব্যবহৃত হচ্ছে তা সংশোধন করে কলেজটি যে ঐতিহ্যবাহী স্থানে রয়েছে সেই নাম অনুসারে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামে পুনঃনামকরণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিকট এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে।

  • অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড

    অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড

    খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার সৈয়দ শিওন সাইফকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তিনটি ধারায় মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত তাকে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা করেছেন; জরিমানার অনাদায়ে আরও ৫ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায় ঘোষণা করেন বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোঃ আশরাফুল ইসলাম।

    আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারায় সাইফকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম), ৪৭৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম) ও ৪০৯ ধারায় ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে তিন মাস বিনাশ্রম) দেয়া হয়েছে। এই তিন দণ্ড ধারাবাহিকভাবে চালু হবে, ফলে মোট সাজা দাঁড়ায় ১০ বছর এবং অনাদায়ে একযোগে পাঁচ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড।

    আদালতে রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত সৈয়দ শিওন সাইফ পলাতক ছিলেন। তিনি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার এনএসখোলা নওয়াগ্রামের বাসিন্দা, নাজমুল হকের ছেলে এবং বয়স ৪১ বছর বলে বর্ণিত হয়েছে। মামলার অপর আসামি ও ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মিসেস সাফিয়া বেগমকে আদালত খালাস দিয়েছেন; তিনি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বারইখালি গ্রামের মুজিবুর রহমান ফকিরের স্ত্রী।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ ইয়াসিন আলী নথির উল্লেখে জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক শাখায় সৈয়দ শিওন সাইফ ক্যাশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত; আর ব্যবস্থাপক সাফিয়া বেগম শাখায় ছিলেন ২০১৩ সালের ৩ মে থেকে ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ওই সময়ে তারা পরস্পর যোগসাজসে ব্যাংক শাখার বিভিন্ন ঋণ হিসেবে কাল্পনিক পোস্টিং (ভাউচার ছাড়া কম্পিউটারে এন্ট্রি) করে ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দীপক কুমার কুন্ডু বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা নং-১১ দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল হোসেন হাওলাদার। আদালতের রায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপরের সাজা ও জরিমানা কার্যকর করা হয়।