Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় বাস নদীতে পড়ে; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় বাস নদীতে পড়ে; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে নদীতে পড়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ দ্রুত চলছে।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ৩ নম্বর পল্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও নৌ পুলিশের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন, স্থানীয়রাও পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে; বাকি যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা এখনও চলছে এবং হতাহতের পরিমাণ এখনও নির্ধারিত হয়নি।

    দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, বর্তমানে উদ্ধারোত্তর কাজ এবং দুর্ঘটনার কারণ выясকরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাসটিতে আনুমানিক ৪০ জন ছিলেন এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ে উদ্ধারকার্য চালানো হচ্ছে; কর্তৃপক্ষ জনগণকে আশান্ত হওয়ার না হয়ে উদ্ধারকর্মীদের কাজে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেছে।

  • মগবাজারে ‘নবী্ন’ দোকান বন্ধের ঘটনার কারণে হাতিরঝিল থানার ওসিকে আদালতে তলব

    মগবাজারে ‘নবী্ন’ দোকান বন্ধের ঘটনার কারণে হাতিরঝিল থানার ওসিকে আদালতে তলব

    মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটে ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে আদালত তলব করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ওই দোকানটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দিতে হবে।

    বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

    আদেশে বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়—মগবাজারের সেই দোকানে একদল লোক পুলিশসহ উপস্থিত থেকে দোকান বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলে কিছু ব্যক্তির উচ্ছৃঙ্খল আচরণ লক্ষ্য করা গেলেও পাশের পুলিশ সদস্যরা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    আদালত মন্তব্য করেছে, পুলিশের এমন নির্লিপ্ততা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি পেশাদারিত্ববিরুদ্ধ। এ ওএসিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন এমন আচরণকে আইনবহির্ভূত ও পেশাগতভাবে অনুচিত বলা হবে না।

    সঙ্গতভাবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ওসিকে ঘটনাস্থলে থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকানটি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তালিকা আদালতে জমা দিতে হবে।

  • কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই নানা প্রসঙ্গে আলোচিত-সমালোচিত হয়ে জনমনে পরিচিতি পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিভিন্ন মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছেন।

    বুধবার সকালে প্রকাশ করা এক পোস্টে তিনি জানান, কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কারো অনুভবে কষ্ট হয়ে থাকে তবে তিনি তার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনে বয়সে জ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভানুধ্যায়ী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক কথোপকথনের সুযোগ হয়েছে। সবার কাছ থেকেই আমি একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়েছি—ব্যক্তি নির্ণায়ক আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় বাক্যালাপ থেকে বিরত থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।’’

    তিনি আরও জানান, এসব পরামর্শ তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং bundan পর আরও শান্তভাবে ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করবেন। নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য আমার সক্ষমতার মধ্যে থেকে কাজ করে যেতে চাই।’’

    একবার আরও তিনি মর্মোগ্রাহী সুরে বলেন, ‘‘আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো কষ্ট হলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই আমার পথচলার শক্তি।’’

    এর আগে গতকাল তিনি ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে এক নীরব আত্মিক যাত্রা শুরু করেছেন। পোস্টে তিনি সবাইকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সঠিক পথের দোয়া কামনা করেছেন।

  • জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরি

    জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরি

    জাতীয় সংসদের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীব্র কথাবার্তা বলেছেন বিএনপির সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন।

    মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর এক সময় এক মেধাবী তরুণ শ্রেণি এসেছে, যারা জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) গঠন করেছিল; কিন্তু অতিরঞ্জনের ফলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তিনি ভাষায় যোগ করে বলেন, আমাদের উচিত সবকিছু ধৈর্য ও বোদ্ধামূলক দৃষ্টিতে উপলব্ধি করার তৌফিক কামনা করা।

    তিনি বিশেষভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি দলের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তখন দেশের স্বার্থে বেগম খালেদা জিয়া অনেক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখেছিলেন। মনিরুল হক চৌধুরী বললেন, কিছু লোক যেন মনে করেন যে গত পনেরো-বিশ বছর দেশে বিএনপি ছিল না; আসলে দেশনেত্রীর সেই ভূমিকা ভোলা উচিত নয়।

    সাংসদ বলেন, এখনকার রাজনৈতিক পরিসরে কখনো কখনো তিনি কষ্ট পান—কোন ভাষায় কথা বলবেন তা বুঝতে পারেন না; কারণ, আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদের চিনতেন, কিন্তু আজকার বিরোধীদলকে তিনি সেভাবে চেনেন না। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান যে সময় কঠিন নির্বাচনের কথা বলেছিলেন অনেকেই তখন তা বুঝছিলেন না, পরে নির্বাচনের বাস্তবতা প্রকাশ পেলেই বোঝা গেছে কতটা কঠিন ছিল।

    মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, এত বড় সংখ্যায় সংসদে আসার পর কৃতজ্ঞতা জানাতে যাদের কথা প্রথম আসা উচিত তারা হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামির নেতারা; তবু আজকার বিতর্কে আমাদের সম্পর্কে প্রশ্ন উঠছে—বিশেষ করে যারা মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন তাদের সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা হচ্ছে, এবং মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনার সমকক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা গেলেই সেটি অগ্রহণযোগ্য।

    রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি স্বাধীনতার পরের তরুণ নেতাদেরও শ্রদ্ধা জানান, বিশেষত এনসিপির যেসব নেতারা কমবয়সী হলেও সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন—এদের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। সংসদে তার ভাষণ ছিল ইতিহাসের বিচার, রাজনৈতিক নৈতিকতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশের মিশ্রিত আবেদন।

  • আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র সাত দিন আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, সকল করদাতাদের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে।

    সাধারণত শেষ সময় ৩০ নভেম্বর হলেও এবার সময় তিন দফায় বাড়িয়ে সমাপ্তি ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর জানিয়েছে 이번বার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ফলে করদাতারা তাদের বাড়ি থেকেই এনবিআরের নির্ধারিত পোর্টালে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অনলাইন সেবা সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও চালু থাকবে।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী আছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

    কিভাবে অনলাইনে রিটার্ন দেবেন: প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পরে ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। অনলাইনে জমা দেওয়ার সময় কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; কেবল প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে ভরাট করলেই চলে। একই সঙ্গে অনলাইনেই কর পরিশোধ করার সুবিধা রয়েছে—ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ছাড়াও বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ট্যাক্স ভাড়া করা যায়।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার আশંકা বেশি থাকে, যা জরিমানা ও আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে করদাতাদের জন্য কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি: আয়-ব্যয়ের হিসাব আগে থেকে প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা এবং জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য একবার ছাড়াই খতিয়ে দেখা। প্রয়োজন হলে কর পরামর্শকের সহায়তা নিন।

    এনবিআর আশা করছে যারা সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দেবেন তারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারবেন।

  • ক্রেডিট কার্ডের নতুন গাইডলাইন: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ডের নতুন গাইডলাইন: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার এই তথ্য জানিয়েছে ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

    দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ায় এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণ পাওয়ায় পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা আনা হয়েছে। নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সহ বিভিন্ন দিককে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মাপকাঠি, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা now বেড়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ (আনসিকিউর্ড) ঋণের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকের অভিযোগ, কার্ড জালিয়াতি বা অনিয়ম, কার্ডের মাধ্যমে হওয়া লেনদেন পরিশোধে যে জটিলতা সৃষ্টি হয় তা নিরসন এবং বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ও নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই গাইডলাইন প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড খাতে ঝুঁকি কমানো, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংক ও সমন্বিত অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়মাবলী মেনে চলতে বলা হয়েছে।

  • পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব

    পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব

    পাকিস্তান ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে। আলজাজিরার সঙ্গে যোগাযোগকারীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আলজাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভেদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ এক সূত্র তাদের জানিয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত একটি নথি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানিদের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

    সূত্রটি বলছে, এ পদক্ষেপ উত্তেজনা কমানো এবং ভবিষ্যতে সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ তৈরি করার প্রচেষ্টার অংশ। আগামী দিনগুলোতে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকও হতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    তুরস্কও এ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে ধারা পৌঁছেছে। রয়টার্সকে তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক সহসভাপতি হারুন আরমাগান বলেছেন, আঙ্কারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘বার্তা আদান-প্রদানের ভূমিকা’ পালন করছে।

    আরমাগান বলেন, তুরস্কের উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সরাসরি আলোচনার পথ সযত্নে তৈরি করা। তিনি আরও বলেছেন যে তুরস্কের উভয় দেশের সঙ্গে ঘন সম্পর্ক রয়েছে এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

    আলজাজিরা ও রয়টার্সের সূত্র ধরে পাওয়া এসব তথ্য এখন পর্যন্ত প্রাথমিক; ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স।

  • আমরা জিতেছি, তাদের আর কিছু নেই: ট্রাম্প

    আমরা জিতেছি, তাদের আর কিছু নেই: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিজয়ী হয়েছি। এ যুদ্ধে ইতোমধ্যেই আমাদের জয় এসেছে। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছি… বিমানবাহিনী, অস্ত্রাগার এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা করেছি।”

    ট্রাম্প আরও বলেন, এত দ্রুত জয় আসায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ খানিকটা ‘হতাশ’ও হয়েছেন। তিনি সমকালীন সংবাদমাধ্যমগুলিকে ভুয়া খবর ছড়ানোয়ের অভিযোগ তোলেন এবং মন্তব্য করেন, “নিউইয়র্ক টাইমস, এবিসি, সিবিএসিসহ অনেক সংবাদমাধ্যম ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে; কিন্তু সত্য হলো—আমরা জয় পেয়েছি।”

    প্রেসিডেন্ট জানান, এখন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তাদের (“ইরান”) একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইচ্ছে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “তারা এখন এমন অবস্থায় আছেন—যা তাদেরকে সুবিধা দেয়। দেখুন, তারা নৌবাহিনী হারিয়েছে, বিমানবাহিনী নেই, যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এক কথায় যা ছিল, সব ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের আর কিছুই নেই।”

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে ইরানে কার্যকরভাবে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা আগের নেতাদের থেকে ‘অনেকটা ভিন্ন’। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত রয়েছেন ভিস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, তেহরান ও ওয়াশিংটন ম্যাচে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রുവരി পর্যন্ত সংলাপ হয়, যা ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে; একই সঙ্গে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে অভিযান চালাতে শুরু করে।

    কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন এবং বহু সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; একই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং বিভিন্ন সূত্রে বিবরণ ভিন্ন রকম।

    অপরদিকে ইরানও প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশের (সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান) মুঠোফোন ও মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, এবং এসব আক্রমণ এখনও হলছেই বলে জানানো হয়েছে।

    তবে গতকাল এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধ থামাতে ইরানকে ১৫ দফার প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাবটি তেহরানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে—এ তথ্য সূত্রে এএফপি’র উদ্ধৃতি রয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা চলমান।

  • সাতক্ষীরায় হেলমেট, লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ

    সাতক্ষীরায় হেলমেট, লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ

    সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আদেশটি বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে কার্যকর করা হয়।

    জানা গেছে, ঈদের পর থেকেই জেলায় পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ আছে; তবু তেলের সমস্যা টালমাটাল হচ্ছে না। প্রতিদিন সকালের মুহূর্ত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অনেক চালক সিরিয়াল নেবার জন্য রাতভর পাম্পের আশপাশে ঘুমিয়ে থাকেন।

    বুধবার সকালে মহেশ্বর কাটি, বুধহাটা, ধুলিহর ভাই ভাই, এবি খান, মোজাহার, মজুমদার, সোনালী, আলিপুর ও কপোতাক্ষসহ জেলার বহু পাম্পে খুলনা থেকে তেল আসার অপেক্ষায় শত শত মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও প্রতি মোটরসাইকেলে সীমিতভাবে ৩০০–৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। শহরের এবি খান পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হওয়ায় পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন পড়ছে।

    একই সঙ্গে শহর ও আশপাশের খোলা বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। কিছু খুচরা দোকানে পেট্রোল লিটারপ্রতি ২৫০–৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০–৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। পাম্প থেকে তেল না পেয়ে অনেকে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কেনাকাটা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন পাম্পগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে—হেলমেট ছাড়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র না থাকলে মোটরসাইকেলে তেল দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতা এ নির্দেশনাগুলো নিশ্চিত করে বলেন, জেলার পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে; কিন্তু একসঙ্গে কয়েকশো মোটরসাইকেলের ভিড় পরিস্থিতি অব্যবস্থাপনার কারণ হচ্ছে। তাই ভিড় ও যানজট রোধে কাগজপত্র যাচাই করে তেল বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    জেলার motorists-দের অনুরোধ করা হয়েছে—হেলমেট পরিধান এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখতে, যাতে ত্বরিতভাবে তেল সরবরাহ পাওয়া যায় এবং যানজট কমে। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

  • চিতলমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা মোঃ বাবু মোল্লা নিহত

    চিতলমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা মোঃ বাবু মোল্লা নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা মোঃ বাবু মোল্লা (৪৩) নিহত হয়েছেন।

    ঘটনা বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে চিতলমারীর কলাতলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ঘটে। নিহত বাবু মোল্লা মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-৬৫-০৬০৬) চালিয়ে চিতলমারী সদরে আসছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশের কাছে জানা গেছে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির লোকাল বাস তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    নিহত বাবু মোল্লা ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইল এলাকার মৃত নাছির মোল্লার ছেলে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

    ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক বাসটি আটক করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।