Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • শপিংমল ও মার্কেট বন্ধের সময় বদল—বিকাল ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ

    শপিংমল ও মার্কেট বন্ধের সময় বদল—বিকাল ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের সঙ্কটের প্রেক্ষিতে শপিংমল ও মার্কেটের কার্যাবলী নিয়ে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে সোমাবর (৬ এপ্রিল) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগের মতো সন্ধ্যা ৬টার বদলে এখন থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সভায় সংগঠনগুলো সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুরোধ করেন এবং ওই অনুরোধ মেনে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি চলমান ও আগামী মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শপিংমল, মার্কেট ও দোকানগুলো সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার পূর্বশর্তে সব বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    নির্দেশনাটি কার্যকর করতে মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেন।

  • জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ মামুন খালেদ ফের তিন দিনের রিমান্ডে

    জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ মামুন খালেদ ফের তিন দিনের রিমান্ডে

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর মডেল থানায় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদের আদালত সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন বিবেচনা করে এই রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী পুলিশের আবেদন এবং আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

    তদন্ত দল জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম মিরপুরে অভিযান করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং পরে ৩১ মার্চ আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। দুই দফায় মোট ১১ দিন রিমান্ডের পর সোমবার তদন্তকারীরা আদালতে উপস্থিত করে পুনরায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

    আবেদনে বলা হয়েছে, মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে এবং সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ কারণেই তদন্তকারীরা পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করেন।

    রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও জামাল উদ্দিন মারজিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মামলার তদন্ত চলমান থাকায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটায় মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০০-৭০০ জন নেতাকর্মী অংশ নেয় এবং শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

    এই হামলায় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হন। ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর থানায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মামলা দায়ের করা হয়।

    মামলার তদন্ত এখনো চলছে এবং আদালত প্রদত্ত এই রিমান্ডের মাধ্যমে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

  • বিভাজনের চেষ্টাকে রোধ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    বিভাজনের চেষ্টাকে রোধ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা সবাই মিলে রোধ করতে হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ‘ইস্টার সানডে’ অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি ও আহ্বান জানিয়েছেন।

    ফখরুল বলেন, আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণার বদলে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আমাদের চলার মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি যোগ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাই জাতিকে এগিয়ে নেবে।

    তিনি বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেন, এই দেশটি সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। ইসলাম ছাড়াও এখানে সনাতন, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ নানা ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করে নিজেদের প্রাণ ও সংস্কৃতি মেলে ধরছে। খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল অতীতের কিছু অপচেষ্টার কথাও স্মরণ করিয়ে বলেন, এক সময় ধর্মভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছিল, তেমন অপচেষ্টা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মিলে একটি সুসংহত এবং সহনশীল সমাজ গড়ে তোলাই প্রয়োজন।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, আপনারা যে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন তা আমাদের ভবিষ্যৎ কাজকর্মে গুরুত্ব বহন করবে। আমরা চাই সমৃদ্ধি ও সুবিচারে ভর করে এমন একটি সরকার গঠন করতে, যাতে সকলের ভাগ্য আরও ভালো হয়।

    শেষে তিনি সবাইকে সংগে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, একটি সহনশীল, প্রেমভিত্তিক ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

  • সংসদ মানুক না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

    সংসদ মানুক না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়বেন তারা। তিনি বলেন, বিচার ও আদায়ের মাধ্যমে এই রায় বাস্তব করবে জামায়াত।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন যে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং ‘‘৭০ ভাগ জনগণ হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ’র পক্ষে ছিলাম, আছি এবং জনগণের সুপ্রিম উইলকে সম্মান দেখিয়ে যাব।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘এই সংসদ মানুক বা না মানুক—গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব, আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’’ তিনি বলেছিলেন যে তাদের রায় হাইজ্যাক করা হয়েছে, রায়কে ডাকাতি করা হয়েছে এবং জনগণকে অসম্মান করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে প্রমাণও মিলেছে।

    বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একটি দেশ ও জাতিকে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে গড়তে হলে ওই দলের ভেতরেই ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র পালন করতে পারে না, যাদের নেতাকর্মীদের নিজেদের দলের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ রাখে না—তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না, জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবেন না।’’

    তিনি বলেন, ‘‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে; চব্বিশে জনগণ রায় দিয়েছে। হয়তো কেউ প্রশ্ন করবেন, রায় পেয়ে থাকলে কেন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি—তাতে আমাদের রায় হাইজ্যাক হওয়ার বিষয়টি আসে।’’

    জামায়াত আমির এক সমকালের উপমা দিয়ে বলেন, ‘‘ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যায়। কিন্তু কপাল যখন খারাপ তখন জালে আটকে পড়ে—ঘুঘু, তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো; এবার তোমার লেজ, পা আর ডানা ঠিকই অবশ করে দেওয়া হবে।’’

    তিনি জানান, যদি সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্দোলনের মাধ্যমে রায় বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিহাসে যে বিষয়ে ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে দাবি আদায় করা হয়েছে, এবারও পরিস্থিতি একই থাকলে জনগণের ক্ষমতার ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    এছাড়া জ্বালানি সংকট ও তার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর। তিনি বলেন, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি; ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সংকট বেড়েই চলেছে এবং এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াবে।

    শিক্ষাখাতে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, শিক্ষা কখনই সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, ‘‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না।’’

    সভায় জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

  • সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা

    সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা

    জাতীয় সংসদে প্রকাশ করা হয়েছে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম—চিত্রটা যতোটুকু ভয়াবহ ছিল ততটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে রেকর্ড হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই তথ্য সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সাংসদ আবুল হাসনাতের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সর কামালের সভাপতিত্বে সোমবার (৬ এপ্রিল) উপস্থাপন করা হয়।

    অর্থমন্ত্রীর প্রকাশিত শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো—

    ১। এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড

    ২। এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড

    ৩। সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

    ৪। এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড

    ৫। সোনালী ট্রেডার্স

    ৬। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড

    ৭। গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড

    ৮। কেমন ইস্পাত লিমিটেড

    ৯। এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড

    ১০। ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

    ১১। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড

    ১২। দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড

    ১৩। পাওয়ার প্যাক মুতিারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

    ১৪। পাওয়ার প্যাক মুতিারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

    ১৫। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড

    ১৬। কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড

    ১৭। মুরাদ এন্টারপ্রাইজ

    ১৮। সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড

    ১৯। বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড

    ২০। রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড

    অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার নানামুখী কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানত যা বলেছে তা হলো—

    ১) ১০% বা ততোধিক শ্রেণিকৃত ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর সিনিয়ার ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ত্রৈমাসিক আলোচনা করে ব্যাংকগুলোকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করাতে হবে, যাতে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে বাধাগুলি চিহ্নিত করে তা সুসংহতভাবে সমাধান করা যায়।

    ২) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকভিত্তিক শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি/শ্রেণিকৃত ঋণের আদায়ের অগ্রগতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাচাই করা হবে।

    ৩) শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি এমন ব্যাংকগুলোর জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হবে।

    ৪) ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধিত) আইনে সংজ্ঞায়িত ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপী’ শনাক্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণে বিআরপিডির সার্কুলার নং-০৬ (১২ মার্চ ২০২৪) অনুযায়ী নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

    ৫) ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান লিগ্যাল টিম/আইন বিভাগ শক্তিশালী করার নির্দেশনা বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৪/২০২৪ এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

    ৬) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ এর মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপী ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১% নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা (বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১/২০২৪) জারি করা হয়েছে।

    ৭) ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।

    ৮) IFRS 9 অনুযায়ী Expected Credit Loss ভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত এবং ঝুঁকি কমাতে তালিকাভুক্ত জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আরও কয়েকটি কর্মযোজনাও নেওয়া হয়েছে—

    ১) খেলাপি ঋণ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনসমূহ (ব্যাংক-কোম্পানি আইন, Negotiable Instrument Act, অর্থ ঋণ আদালত আইন, Bankruptcy Act) সংশোধনের কাজ চলমান আছে।

    ২) স্বল্প মেয়াদী কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনা করে হালনাগাদ করা হবে।

    ৩) খেলাপী ও ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

    ৪) নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের (ভালো ঋণগ্রহীতাদের) জন্য প্রণোদনা সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে।

    ৫) একজন ঋণগ্রহীতার জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

    ৬) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের কিছু অংশ প্রযোজ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

    ৭) অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল/জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা আছে।

    ৮) খেলাপী ঋণগ্রহীতারা যাতে রিট দায়ের করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে এটর্নি জেনারেল মহোদয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

    ৯) বেসরকারি খাতে Asset Management Company (AMC) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনপ্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

    ঋণ খেলাপির এই চিত্র নিয়ন্ত্রণে সরকারের এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে—এমনটাই সরকার দাবি করেছে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের মুনাফা প্রবল চাপে পড়ে। সেই প্রভাব সর্ম্পকে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেও পড়েছে—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই অবনতি եւ তার কারণগুলো উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি—ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এটি কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ। গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে ন্যূনতম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম ব্যয় দেখিয়েছে, যা খাতটির জন্য নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা—যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে খাতটির ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকার বেশি, প্রায় ৪৫ শতাংশের উপর।

    খাতের নেতারা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরে সরকার পরিবর্তন—এসব ঘটনাই ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ পেয়ে প্রকৃত আর্থিক দুরবস্থার চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানও পরিস্কার হয়েছে। বিশেষত শরিয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক বড় ধরনের চাপ অনুভব করেছে; সেখানে নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারও একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের অনেকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি কারণ। পূর্বে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠানের মতো খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় বাড়াত। অনেকক্ষেত্রেই এসব ব্যয় প্রকৃত সিএসআর লক্ষ্য বহির্ভূত ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ যথেষ্ট কমে গেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ হয়ে সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে হেকেটে দেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ করে যে, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে—উদাহরণস্বরূপ ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা রয়েছে। তবে বাস্তবে নির্দেশনা কতটা মানা হচ্ছে তাতে প্রশ্ন আছে: ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে (৩৬ শতাংশ), শিক্ষায় খরচ হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সময়ের মধ্যে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। এসব ব্যাংকের নাম—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও তাৎপর্যপূর্ণ যে, ২০২৪ সালে নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি এমন ১৭টি ব্যাংককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তবে উল্লেখযোগ্যভাবে ছয়টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক মুনাফা না থাকা সত্ত্বেও সিএসআর খাতে 일부 অর্থ ব্যয় করেছে—এর মধ্যে রয়েছেন এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    অবশেষে, প্রতিবেদকরা বলেন—ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সিএসআর খাতে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে যথাযথ আর্থিক তত্ত্বাবধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকরা যদি সঠিকrops-পদ্ধতি সুসংহত করেন, তাহলে সিএসআর বরাদ্দ সমাজে বাস্তবিক সুফল বয়ে আনতে পারবে।

  • পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠালো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; আজই বিরতি কার্যকর হতে পারে

    পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠালো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; আজই বিরতি কার্যকর হতে পারে

    রয়টার্স জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলা সংঘাত থামিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ব্যাপক সমঝোতা বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠিয়েছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে—দুই পক্ষই প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে আজই (সোমবার) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে আনা যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

    পাকিস্তান এই রূপরেখাটি তৈরি করে রোববার রাতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করে। এতে একটি দ্বি-স্তরীয় পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে—এক তরফে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে এবং দ্বিতীয় স্তরে একটি বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত করা হবে। এক সূত্র জানিয়েছে, ‘আজই সব বিষয়ে একমত হতে হবে’—এমন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাথমিক বোঝাপড়া একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হিসেবে তৈরি হবে এবং চূড়ান্তকরণ ইলেকট্রনিকভাবে, পাকিস্তানের মাধ্যমেই করা হবে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস আগে জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দ্বি-স্তরীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন—যা পরবর্তীতে স্থায়ী অবসানে পরিণত হতে পারে।

    রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ‘রাতভর’ যোগাযোগে ছিলেন—যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে। এরপর বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য ১৫–২০ দিনের সময়সীমা রাখা হবে। ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং চূড় finales আলোচনা ইসলামাবাদে সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে।

    এ বিষয়ে তৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়কর্তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। চীনের কর্মকর্তাদের থেকেও রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ইরানি কর্মকর্তারা পূর্বে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইছে, যেখানে নিশ্চিত করা হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে হামলা চালাবে না। তারা বলেছেন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে বার্তা আসছে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমঝোতায় তেহরানের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবে।

    তবে পাকিস্তানের দুটি সূত্র জানায়, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেননি। ‘ইরান এখনও কোনো জবাব দেয়নি’—একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। একই সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোর পক্ষে এখনও কোনো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি আসেনি।

    এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন সময় উঠল যখন ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে কড়াকড়ি ফলাফলের হুমকিও দিয়েছেন। (সূত্র: রয়টার্স)

  • আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত: আইআরজিসি দাবি

    আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত: আইআরজিসি দাবি

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ সোমবার (৬ এপ্রিল) এই তথ্য ঘোষণা করেছে।

    বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে ‘‘মার্কিন-জায়নিস্ট শত্রু’’ নাম উল্লেখ করে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ভোরে খাদেমি শহীদ হন। আইআরজিসি খাদেমিকে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করা একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অবদানকে স্থায়ী ও শিক্ষণীয় বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, মজিদ খাদেমির নেতৃত্ব ও কার্যক্রম দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর জন্য বহু বছর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে, বিশেষত কৌশলগত স্তরে বিদেশি শত্রুদের অনুপ্রবেশ, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে।

    আইআরজিসি একই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘটেছে- এমন একটি বড় ঘটনার পর থেকে তাদের ওপর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে এবং এসব হামলায় ইরানের আনেক সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে; এতে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে—এমনও দাবি করা হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অধিকৃত অঞ্চলে ও আঞ্চলিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিহিংসামূলক অভিযান চালিয়েছে, বলেই বিবৃতিতে উল্লেখ আছে।

    এই তথ্য ও দাবিগুলো আইআরজিসি’র অফিসিয়াল ঘোষণা ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাধীন সূত্র দ্বারা এই ঘটনার বিস্তারিত ও সব দাবি যাচাই করা হয়নি।

  • ফকিরহাটে পাম্পে তেল নেয়ার সময় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

    ফকিরহাটে পাম্পে তেল নেয়ার সময় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

    ফকিরহাটে পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়ে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক মো: ইয়াছিন শেখ (৫৫) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের পাগলা-শ্যামনগর এলাকায়।

    নিহত ইয়াছিন শেখ স্থানীয় সাতশৈয়া গ্রামের শেখ আ. বারির ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল প্রায় ১০টায় ইয়াছিন শেখ তাঁর মোটরসাইকেলে পাগলা-শ্যামনগর এলাকার আরা ফিলিং স্টেশনে ঢুকছিলেন যোগাযোগে তেল অর্জনের জন্য। তখন খুলনাগামী এক যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রফতানি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুভাগে ভেঙে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ধাক্কা দেয়া বাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, তিনি সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, একই দিনে উল্লেখযোগ্য আরও দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে। সকাল এগারটার দিকে পিলজং এলাকায় একটি ক্রেন উল্টে ইসরাফিল শেখ (২৭) আহত হন। এছাড়া শ্যামবাগাত এলাকায় বাসের ধাক্কায় একজন অজ্ঞাতপরিচয় বাইসাইকেল আরোহীও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আহত দুজনকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

  • সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা মাসে ১ লাখ টাকা বেতন পাবেন

    সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা মাসে ১ লাখ টাকা বেতন পাবেন

    বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেছে। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জেতার সুবাদে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দেশে ফিরলে তাদের জন্য ছিল উষ্ণ সংবর্ধনা ও অভিনন্দনের ঢল।

    বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে জাওয়া হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়।

    বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকে এক লাখ টাকা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনও আলাদা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানায়।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জয় লাভের পর থেকেই আর্থিক প্রণোদনার কথা উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু নির্দিষ্ট অঙ্ক তখন জানাননি। তিনি জানিয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে এবং ফুটবলারদের জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    অবশেষে আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে চমকস্বরূপ ঘোষণা করা হয়েছে: অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে মাসিক এক লাখ টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। এই ঘোষণায় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে উৎফুল্লতা ও নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার হয়েছে।

    এই সুযোগ খেলোয়াড়দের জীবনে স্থায়ী আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলের উন্নয়নে তরুণ প্রতিভাদের অনুপ্রাণিত করার সম্ভাবনা রাখে।