Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • জ্বালানি সংকটে অফিসের নতুন সময়সূচি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা

    জ্বালানি সংকটে অফিসের নতুন সময়সূচি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা

    বৈশ্বিক জ্বালানী তেলের সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের কাজের ঘন্টা বদল করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আজ রোববার (৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছে।

    মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ এপ্রিল থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালাবে, যাঁরা পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচি মেনে চলবেন। সপ্তাহের ছুটি রয়ে গেছে শুক্রবার ও শনিবার। জরুরি পরিষেবা এই নতুন সময়সূচির বাইরে থাকবে।

    প্রজ্ঞাপন জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সময়সূচিও সমন্বয় করা হয়েছে — অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চলবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রাসঙ্গিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    আদালতের অফিস সময় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট, বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে। তবে শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ বিষয়ে রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি।

    বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও কর্মস্থলের কর্মঘন্টার বিষয়টি শ্রম আইন অনুসারে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে — এমনটাই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগত অফিস সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকবে এবং জরুরি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যোগাযোগ করতে বলেছে।

  • সংস্কৃতিমন্ত্রী: পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে হবে

    সংস্কৃতিমন্ত্রী: পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে হবে

    সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনও বলেননি যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে আবার ফিরে যাওয়া হবে; তার আগের বক্তব্যকে সঠিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়নি।

    তবে মন্ত্রী জানান, এবারের শোভাযাত্রা নতুন আঙ্গিকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ইউনেস্কো যদি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে স্বীকৃতি দিলেও সে স্বীকৃতি আমাদের ঐতিহ্য বা স্থানীয় নাম পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না। উৎসবের মূল চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখেই দেশের ঐতিহ্য ও সর্বজনীনতা বজায় রাখার তাগিদেই এ নামকরণ করা হচ্ছে।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মাগুরা জেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের মহম্মদপুর ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তির জবাব দেন এবং পুনর্ব্যাখ্যা করে বলেন তিনি কোথাও বলেননি যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও শিগগিরই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা দ্রুত দেওয়া হবে বলে জানান।

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের অতীত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দেশের উন্নয়ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের সম্পদ বিদেশি শক্তিগুলো বিভিন্ন সময়ে কাজে লাগিয়েছিল, যার ফলেই আজকের চ্যালেঞ্জগুলো সামনে এসেছে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

    মন্ত্রী এই সুযোগে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নাম বদল হলেও উৎসবের প্রকৃত অর্থ ও চেতনাকে টিকিয়ে রাখা হবে এবং সকল স্তরে ঐতিহ্যকে মর্যাদা দিয়ে উদযাপন করা হবে।

  • বিএনপি ঘোষণা: দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল হবে

    বিএনপি ঘোষণা: দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল হবে

    বিএনপির স্থায়ী কমিটি শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান যে কাউন্সিল আয়োজন করে দলকে সুসংগঠিত করা হবে।

    বৈঠক সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মির্জু ফখরুল বলেন, ‘দলকে সুসংগঠিত রাখতে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাউন্সিল হবে।’

    স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় হতাশাজনক জ্বালানি পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য সার্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া সরকার ঘোষিত ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডের প্রতি স্থায়ী কমিটি অবহিতও হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ১৯ দফার কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা দলের ভিত্তি হিসেবে গণ্য।

    বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছরে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দলটি সর্বশেষ কাউন্সিল আয়োজন করেছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ; এরপর দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা জটিলতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

  • নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন

    নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে সংস্কারগুলো অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণ করেছিল, সেগুলো রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে মাঠে নামতেও হবে। ‘‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি,’’ বলেন নাহিদ।

    পবিত্র ওমরাহ পালনের পর আজ শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের করা সংস্কার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

    নাহিদ বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে এখন যা হচ্ছে তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হয়েছে; ঐকমত্য কমিশন থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল—তখন তারা নতুন সংবিধান চেয়েছিল, আর বিএনপি নির্বাচন চেয়েছিল।

    তিনি দাবি করেন, তারা (নাগরিক দল) আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু বিএনপি পুরোনো ব্যবস্থাকে অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচনেই ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসার পর থেকে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুচ্ছ করছে বলে নাহিদর অভিযোগ। ‘‘তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনছি গুরুত্বপূর্ণ ১০–১১টি অধ্যাদেশ তারা সংসদে আনছে না—এসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করবে না,’’ বলেন তিনি।

    নাহিদ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোকে। তিনি বলেন, এসব বাতিল করে বিএনপি একটি নির্বaysanতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে যেতে চায় যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকবে।

    সংগে তিনি বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী দলের কাতারেই আখ্যা দেন এবং বলেন, ‘‘গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত দাবি করে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা তাদের প্রতি ছিল না; তাই তাদের আন্দোলনে তেমন সাড়া মেলেনি।’’

    রাজপথে আন্দোলনের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা প্রথমে সংসদে সমাধান চেয়েছিল, কিন্তু উপযুক্ত সমাধান না मिलने কারণে এখন রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি—সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হোক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইন রূপে বহাল রাখা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে; এমন পরিস্থিতিতে যদি সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকে তবে বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।

    নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরস্ম হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ সকল উপদেষ্টাকে নিজেদের করা অধ্যাদেশ নিয়ে বক্তব্য রাখার এবং দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেন। ‘‘তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন যে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না—তারা চুপ করে ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে, সেটা চলবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে,’’ যোগ করেন নাহিদ।

    প্রসঙ্গত, নাহিদ ইসলাম ২৯ মার্চ রাতে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন এবং ৩০ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। উমরাহ এবং রওজা জিয়ারত শেষে শনিবার বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দরে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; এ সময় জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

  • ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল, নতুন সময়সূচি ঘোষণা

    ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল, নতুন সময়সূচি ঘোষণা

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং সেক্টরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার (৪ এপ্রিল) Central Bank এই নির্দেশনা জারি করে জানায়, ব্যাংকে লেনদেন এখন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    এই নির্দেশ ফেব্রুয়ারি নয়; বরং সরকারের গত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নেওয়া — মন্ত্রিসভার বৈঠকে (২ এপ্রিল) দেশের জ্বালানি সংকট বিবেচনায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পুনর্গঠন করা হয়। সরকার ঘোষণা করেছে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে এবং এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    বরতমান সাধারণ কার্যক্রমে ব্যাংকে লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা এবং অফিস সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে ব্যাংকের ক্ষেত্রে লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে ১০টা থেকে ৩টা করা হয়েছে এবং শাখার অফিসীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা রাখা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশেষভাবে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরের (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায়) শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার আগের নিয়ম অব্যাহত থাকবে।

    সরকারি সিদ্ধান্তে এছাড়া সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিয়েবাড়িতে আলোকসজ্জা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব পরিবর্তন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে এবং এগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে।

  • খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত ও মোকাবিলায় তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই তফসিলিভুক্ত ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সকল প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সুপারভিশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন বা রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একইভাবে না দেখে যেসব ব্যাংকের ঝুঁকি বেশি, সেগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়মগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। ফলশ্রুতিতে ঋণজরিত ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতাকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় উন্নততর নীতিগত বা প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

    বাংলা দেশ ব্যাংকের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে না, বরং সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়াবে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়মাবলী মেনে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ইসফাহানে ইরান ভূপাতিত করেছে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন

    ইসফাহানে ইরান ভূপাতিত করেছে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন

    ইরান জানিয়েছে, সে দেশের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) শনিবার ৪ এপ্রিল ইসফাহানে মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ফার্স সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে। খবর অনুযায়ী ওই ড্রোনটি উন্নত নজরদারি ও আকাশ প্রযুক্তি সংবলিত ছিল।

    ঘটনাটি এক সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনার নতুন সংযোজন। এর আগে শুক্রবার দক্ষিণপূর্ব ইরানে ইরানি বাহিনী একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছিল; খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা। একই দিনে হরমুজ প্রণালীতে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করা হয় বলে জানানো হয়।

    শুক্রবারই এক এফ-১৫ই বিমানের ক্রুর মধ্যে একজনকে মার্কিন সেনারা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বলে জানানো হয়েছে। অপরদিকে এ-১০ বিমানের পাইলট তার বিমানকে ইরানের আকাশসীমা থেকে বের করে আনতে পারলেও, পরে তিনি হরমুজ প্রণালীর কাছে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হন। ওই পাইলট পরে উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে পৌঁছে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    তবে এফ-১৫ওয়ার একজন পাইলট এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ইরানে ঢুকেছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে; স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে তারা দেশটিতে ঢোকেন।

    উদ্ধার অভিযান চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে ইরানের পুলিশ গুলি ছোড়ে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। এক হেলিকপ্টারের লেজের অংশে আগুন ধরে যায় এবং সেখানে থেকে ধোঁয়া বের হয়; তারপরও ওই হেলিকপ্টার ইরানের আকাশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    ইরানি বাহিনীও নিখোঁজ ক্রুকে ধরতে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ নিয়ে দুইপক্ষের দাবি ও প্রতিশপদি কার্যক্রম চলছে এবং বিষয়গুলো নিয়ে অনিষ্পন্ন তথ্য রয়েছে। পরবর্তীতে উদ্ধারের অগ্রগতি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ পেলে তা নিশ্চিতভাবে জানানো হবে।

  • ট্রাম্প: ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে ইরানের ওপর ‘জাহান্নাম’ নেমে আসবে

    ট্রাম্প: ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে ইরানের ওপর ‘জাহান্নাম’ নেমে আসবে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি ইরানকে চুক্তি করার বা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলেন; এখন সেই সময় শেষের দিকে এসেছে—আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। ট্রাম্প লিখেছেন, এই সময়ের মধ্যে ইরান যদি তা না করে, তবে তাদের ওপর ‘জাহান্নাম নেমে আসবে’।

    পটভূমি: বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ সিংহদ্বার দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ওই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকার কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের নৌবাহিনীর ‘‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’’ হাতে আছে এবং এটি ‘‘শত্রুদের জন্য’’ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি ঝুঁকির মুখে পড়ায় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক ডেডলাইন দিয়েছেন। ২১ মার্চ তিনি বলেছিলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ খুলে না দেয় তবে তিনি দেশটির বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা নিশ্ছিদ্রভাবে ধ্বংস করবেন। দুই দিন পর, ২৩ মার্চ, তিনি কণ্ঠ কিছুটা নরম করে জানান যে দুই দেশের মধ্যে ‘‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’’ হয়েছে এবং তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখেন। পরে ২৭ মার্চ ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের অনুরোধে সময় বাড়িয়েছিলেন যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে—এমনকি দাবি করেছেন, তেহরান সময় পাচ্ছে বলে তারা আরও সময় চেয়েছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ৭ দিনের বদলে ১০ দিন সময় দিয়েছেন এবং সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৬ এপ্রিল।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরানের কর্তৃপক্ষ ভদ্রভাবে আরও সময় চেয়ে যোগাযোগ করেছে; ‘‘তারা বলেছে, ‘আমরা কি একটু বেশি সময় পেতে পারি?’ কারণ সময়টা খুবই কম ছিল। যদি তারা প্রয়োজনীয় কাজ না করে, আমি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব।’’’ এদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ভঙ্গ এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

    তবে ট্রাম্পের অতিক্রমী ডেডলাইন ইরানকে ঘাবড়িয়েছে বলে প্রতীয়মান নয়—তেহরান কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে। হরমুজের পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব-এল-মানদেব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা আরব উপদ্বীপের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত এবং বিশ্বব্যাপী কনটেইনার পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওই আকস্মিকভাবে ব্লক হতে পারে এমন ঝুঁকি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বাব-এল-মানদেব প্রণালীর গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘বিশ্বের কত শতাংশ তেল, এলএনজি, গম, চাল ও সার এই প্রণালী দিয়ে যায়?’’—এই প্রশ্নের মধ্যেই প্রকাশ পায় যে আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং হরমুজ প্রণালী-সহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথে কণ্ঠস্বর লড়াই চলায় বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বজায় আছে।

  • প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন

    রামপাল: জাতীয় প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম শনিবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রামপালের ঝনঝনিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন করেছেন। তিনি কেন্দ্রটির বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন, রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনের সময় ফাউন্ডার পরিচালক রেজা সেলিম হাসপাতালের সেবা, পরিচালনাবিধি ও ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি হাসপাতালের সেবা প্রদানের কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বর্ণনা করেন। এসব শুনে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের কার্যক্রম এবং এখানে চলমান চিকিৎসাসেবা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের সহায়তায় এই প্রতিষ্ঠাকে দেশের একটি মডেল হাসপাতালে রূপান্তর করার আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় যে ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমন হাসপাতাল প্রতিটি জেলায় গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারের ওৎসাহ থাকবে।

    পরিদর্শনের শুরুতেই হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে রামপাল সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীর কাছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন এবং বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, মহাসড়ক দূর্ঘটনা রোধে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    হাসপাতাল পরিদর্শনে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন এ এস এম মাহাবুবুল আলম, বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার বাবুল সরদার সহ উপজেলা ও সমাজসেবার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাবু, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, রামপাল সচেতন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক সাবেক জেলা জজ জালাল উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শেখ সুলতান আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক শেখ আ. মান্নান, মেজর (অব.) মল্লিক মনিরুজ্জামান, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা বেগম এবং সদস্য সচিব এম এ সবুর রানা।

    পরিদর্শনের শেষে প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রের ভেতরে বকুলগাছ রোপণ করে এবং প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও সম্প্রসারণে সকল ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকারদের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি সরকার: প্রতিজ্ঞা

    গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকারদের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি সরকার: প্রতিজ্ঞা

    খুলনায় বিগত সরকারের গুম, খুন ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এক আবেগঘন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন।

    অনুষ্ঠান শনিবার (০৪ এপ্রিল) খুলনা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

    এ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলার মোট ৭৩টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৩টি শহীদ পরিবার এবং ৫০টি নির্যাতনভোগী ও অসুস্থ পরিবার। মোট বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৭,৩৬,০০০ টাকা।

    বক্তব্যে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে গুম ও খুনের যে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কণ্ঠনিষ্ট করা। দীর্ঘকালীন দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে যে মুক্তির নিশ্বাস মানুষ আজ নিচ্ছে, তা অনেকের রক্ত আর স্বজনদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের এই সহায়তা কোনো দয়া নয়, এটি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার। যারা সন্তানদের গুম করেছে এবং মায়ের কোল খালি করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বাংলার মাটিতেই প্রতিটি খুনের বিচার নিশ্চিত করা হবে—এটাই সরকারের অঙ্গীকার হবে, জানান তিনি।

    রকিবুল বকুল অভিযোগ করেন যে আগের সরকারের সময়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং জেলা পরিষদকে লুটপাটের জায়গায় পরিণত করা হয়েছিল। এখন যখন জেলা পরিষদ জনগণের কল্যাণে কাজ করছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গৌরব ফিরছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ড্যাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।