Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • দৌলতদিয়া ঘাটে বাসপ্লবিত দুর্ঘটনায় দম্পতির মৃত্যু, একসঙ্গে জানাজা-দাফন

    দৌলতদিয়া ঘাটে বাসপ্লবিত দুর্ঘটনায় দম্পতির মৃত্যু, একসঙ্গে জানাজা-দাফন

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও জহুরা অন্তি (২৭) নামে এক দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুইজনের একসঙ্গে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি কবরস্থ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে মৃতদ্বয়ের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাজবাড়ী পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

    নিহত কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে। তার স্ত্রী জহুরা অন্তি ওই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে ও মেডিকেল শিক্ষার্থী। দম্পতির বিয়ে প্রায় এক বছর আগে সম্পন্ন হয়েছিল।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে সৌম্য ও জহুরা ঢাকায় থেকে একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে ফিরে যাচ্ছিলেন। বিকেলের দিকে বড়পুল থেকে তারা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকাকালীন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।

    উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ প্রায় সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বাসটিকে টেনে উপরে তোলে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাসের ভেতর থেকে সৌম্য ও জহুরার মরদেহ উদ্ধার করে।

    দৌলতদিয়া ঘাটের এই দুর্ঘটনায় গতকাল থেকে উদ্ধারকাজে মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; গতকাল ২৩ জন এবং আজ তিনজন। দুর্ঘটনার কারণ ও বিরতুষ্টির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

    নিহত সৌম্যের বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ বলেন, ‘‘আমার সেজো ভাইয়ের একমাত্র ছেলে এবং পুত্রবধূ চলে গেল। আমি তাদের ছেলেমানের মতো করে লালন-পালন করেছি, লেখাপড়া করিয়েছি, চাকরি দিয়েছি, বিয়ে দিয়েছি। আজ তাদের লাশ সামনে নিয়ে আমরাও বাকরুদ্ধ।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যদি কেউ তাদের কাছে কোনো কষ্ট বা বেয়াদবি পেয়ে থাকেন, আল্লাহর কাছে ওদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।’’

    স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধার টিম দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত এবং আহতদের পরিবারকে সহায়তা ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়াস করছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ सार्वजनिक করা হবে বলে জানা গেছে।

  • ২৬ মার্চ: জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ২৬ মার্চ: জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-পরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেখান থেকে ঢাকা ফেরার পথে সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলেও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।

    এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ‘‘কুচকাওয়াজ’’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

    মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও প্রবাসে থাকা সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন; এ দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা ও বোনদের এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজ নিজ ভুমিকা রাখা সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেন এবং সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

  • গণরায়ের বিরোধিতা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরোধিতা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি সামনের দিকে এগোতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না এবং শেষ পর্যন্ত ইতিহাস তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসই এটা প্রমাণ করে—যে কেউ গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তিনি ইতিহাসের পাতায় থেকে মুছে গেছেন। অনেকেই ক্ষমতাশালী ছিলেন, কিন্তু গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই তাদের কদর কমে গিয়েছে।

    তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তখনও জনগণের রায় সাদরে গ্রহণ না করায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একই রকম ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসন পরাজিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও যদি ক্ষমতা জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়, তখন জনগণের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সেটাকে টেকতে দেয়নি।

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ আরও বলেন, আজও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ‘এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছেন, তা বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক,’ তিনি বলেন। তিনি সতর্ক করে জানান, যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার দ্বিধা করবে না।

    শেষে তিনি সবাইকে জনগণের পক্ষে এসে একসঙ্গে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, ‘‘জনগণের বিপক্ষে গেলে আমাদেরকে আবারও স্বাধীনতা রক্ষায় মাঠে নামতে হতে পারে।’’

  • স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’—জামায়াত আমির

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’—জামায়াত আমির

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এখানে একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আচার; সবার মতো আমরা ও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, বীর শহীদদের উদ্দেশে আল্লাহর দরবারে আমরা দোয়া করেছি। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অটল রাখতে, এবং দেশের উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক—এসব উদ্দেশ্যেই আমাদের দোয়া ছিল।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই মিলে কাজ করব।’’ পাশাপাশি তিনি সারাদেশবাসীকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাও জানান।

    এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ায় এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারিত হওয়ায় এই খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো ও নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান ও নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করে একটি স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিষয়ক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এ ছাড়াও গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি মোকাবিলা, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিশোধ সংক্রান্ত সমস্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কার্ড ইস্যু ও বিপণনের সময় সতর্কতা, তথ্য সুরক্ষা, বিলিং স্বচ্ছতা এবং দ্রুততর অভিযোগ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে নতুন এই গাইডলাইন গ্রাহকদের নিরাপত্তা বাড়াবে, বাজারে বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করবে এবং ক্রেডিট কার্ড খাতকে আরও দায়িত্বশীল ও ঝুঁকি-সচেতন করবে।

  • আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মার্চ

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হতে মাত্র সাত দিন বাকি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, সব করদাতাকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণত জমার শেষ সময় ছিল ৩০ নভেম্বর, কিন্তু এবারের জন্য সময় তিন দফায় বৃদ্ধি করে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এনবিআর জানিয়েছে এবার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। ফলে করদাতারা ঘরে বসেই এনবিআরের নির্ধারিত পোর্টালে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। অনলাইন সেবাটি সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনেও কার্যকর থাকবে।

    দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী ব্যক্তি রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়েছেন।

    ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার ধাপগুলো সহজ। প্রথমে এনবিআরের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করবেন, এরপর ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দিতে হবে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেয়ার সময় সাধারণত কোনও কাগজপত্র আপলোড করার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে হবে। তাহলে একই সেশনে অনলাইনে করও পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুবিধা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা জরিমানা বা আইনি জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে সাবধানে জমা দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে করদাতাদের কিছু কাজ আগে থেকেই করে রাখার কথা বলা হয়েছে—আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা এবং জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার পরীক্ষা করা। প্রয়োজনে পেশাদার কর পরামর্শকের সহায়তা নিলে সুবিধা হবে।

    এনবিআর মনে করিয়ে দিয়েছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধাও পুরোপুরি ভোগ করতে পারবেন। এবারই প্রথম অনলাইন বাধ্যতামূলক হওয়ায় এ সুযোগে সবাই দেরি না করে আগে থেকেই রিটার্ন জমা দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ইরানের নেতা আমাকে ‘সর্বোচ্চ নেতা’ করার প্রস্তাব দিয়েছিল: ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানের নেতা আমাকে ‘সর্বোচ্চ নেতা’ করার প্রস্তাব দিয়েছিল: ডোনাল্ড ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের কিছু নেতা আনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেশটির পরবর্তী ‘সর্বোচ্চ নেতা’ করার প্রস্তাব দিয়েছিল — যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই অদ্ভুত দাবিটি তিনি করেছেন একটি রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বক্তব্য রাখার সময়ে। ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডিকে উদ্ধৃত হয়ে বলেন, “তারা বলছে, আমরা আপনাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা করতে চাই। আমি বলেছি, না ধন্যবাদ। আমি এটা চাই না।”

    তাঁর বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করার আলোচনা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এতটাই সফল ভূমিকা রেখেছে যে ইরান ওই বিরতিচিন্তা নিয়ে আলোচনায় আসছে। তিনি বলেন, “তারা আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে মরিয়া। কিন্তু তারা ভয়ে সেটা তাদের নিজের জনগণের কাছে বলতে পারে না।”

    তবে তেহরান এই ধরণের আলোচনার দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “আপনার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনি নিজের সঙ্গেই আলোচনা শুরু করেছেন? আমরা সবসময় বলেছি, আমাদের মতো মানুষ আপনাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না — এখনো না, কোনোদিনও না।”

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানকে একটি ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হিজবুল্লাহসহ প্রক্সি গোষ্ঠীর সমর্থন বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো শর্ত ছিল।

    বদলে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরান ওই আমেরিকান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজেরা একটি পাঁচ দফার পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে যুদ্ধে সমাধান হবে ইরানের শর্তে।

  • হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব অবরোধের হুমকি দিল ইরান

    হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব অবরোধের হুমকি দিল ইরান

    ইরান আরেকটি সংকটসঙ্কুল সমুদ্রসন্ধি—বাব আল-মান্দেব—অবরোধের হুমকি দিয়েছে। ফার্স নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র এক উচ্চপদস্থ কমান্ডারের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আইআরজিসি কর্মকর্তার কথায়, যদি শত্রুপক্ষ ইরানের দ্বীপপুঞ্চ বা ভূখণ্ডে স্থল আক্রমণের পরিকল্পনা নেয়, অথবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে কার্যক্রম বাড়ায়, তাহলে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন ফ্রন্ট খুলে দরকারি পদক্ষেপ নেবে। এমন পরিস্থিতিতে এই স্ট্রেটকে কার্যত সংঘর্ষের অংশে পরিণত করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

    বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি ইয়েমেনের দক্ষিণপশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। এটি লাল সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণও প্রভাবিত করে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে এই প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি; মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলে উৎপাদিত সমুদ্রপথে চলাচলের তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়।

    যদিও বাব আল-মান্দেব তৎপরতাটি ইয়েমেনের নিকটেই, তবু ইরানের সামর্থ্য ও প্রভাব সূক্ষ্মভাবে কাজ করতে পারে—কারণ ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে প্রভাবশালী হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ইরান সমর্থন করে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই হুথিদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং হুথি নেতৃত্ব ইরানের কাছে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    এই অবস্থান কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    সূত্র: ফার্স নিউজ, এএফপি, এনডিটিভি

  • খুলনায় মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

    খুলনায় মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

    মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানো শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে খুলনায় বৃহস্পতিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু করা হয়। শহরের সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং রাস্তাঘাট ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও সাজসজ্জায় ভরে ওঠে।

    গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপারসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

    সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। সেখানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিইনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ, সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। এ অনুষ্ঠানে পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    নগর ভবনে খুলনা সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রধান অতিথি ছিলেন। কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা উপস্থিত ছিলেন।

    খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডি শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজন করা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্যকণিকা; তাদের ত্যাগবদলেই অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। তাদের সম্মান ও সেবা আমাদের অঙ্গীকার।’’

    জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং শহিদদের পরিবারের প্রতিনিধিরা।

    দিবসটি উপলক্ষে সারা দিন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, হাসপাতাল, জেলখানা, বয়স্কাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রে খাবার পরিবেশনসহ মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশের শান্তি ও উন্নতির জন্য বাদ যোহর বা সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা ও শান্তি কামনা করা হয়।

    বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি ভবনে বিশেষ আলোজসজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে—টিভেনটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ও কাবাডি অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়।

    প্রতিদিনের মতো খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীনতার মাহাত্ম্য স্মরণ করেছে।

    দিবসজুড়ে শহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের আবেগ غالب থাকায় খুলনায় সম্পর্কিত সব আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

  • বাবার সামনেই বাড়িতে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা

    বাবার সামনেই বাড়িতে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে আমির হামজা (২৩) নামের এক যুবকে গুলি করে হত্যা করেছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তৎপরতা চালাচ্ছে।

    নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং খুলনার পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। দুই মাস আগে তিনি তন্বী আক্তার নামের এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করে খুলনায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। ঈদের জন্য তিনি গ্রামের বাড়ি ফিরে এসেছিলেন।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে হামজা বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন হেলমেটধারী যুবক বাড়ির অভ্যಂತರে ঢুকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দেয়ার পর হামজাকে ধাওয়া করে। হামজা পালানোর চেষ্টা করলে বাড়ির পাশের খালের পাড়ে পড়ে গিয়ে সন্ত্রাসীরা তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা মিলে সন্ত্রাসীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।’ তিনি জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

    স্থানীয়রা বলছে, এলাকায় আতঙ্ক ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। হামজার পরিবারের সদস্যরা শোকাহত ও হতবাক অবস্থায় পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করেছেন। পুলিশ ঘটনার উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টতার দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন এবং এলাকাবাসীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে।

    তদন্তকারীরা এখন ঘটনার সময়সীমা, সন্ত্রাসীদের পরিচয় ও তাদের বহন করা মোটরসাইকেল ও হেলমেটের তথ্য যাচাই করছে। পুলিশ ঘটনার আরও তথ্য প্রকাশের আগেই জনসাধারণকে অনিরাপদ স্থানে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।