Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন নুসরাত, যশ ও সায়ন্তিকা

    অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন নুসরাত, যশ ও সায়ন্তিকা

    টলিউডের জনপ্রিয় তারকা নুসরাত জাহান, যশ দাশগুপ্ত, রাজনীতিবিদ ও অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রসহ বেশ কিছু পরিচিত মুখের বাসভবনে রোববার সকালে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, শিবরাত্রির পুজো চলাকালীন সময় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সবাই নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারীরা।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বাড়ির পঞ্চম তলায় থাকা এক বাসিন্দার বাড়ির ঠাকুরঘরে ঘটে থাকা শিবরাত্রির পুজোর প্রদীপ থেকে। এই প্রদীপটি জ্বালিয়ে অরতি করার পরে তারা নীচে নেমে যান, পুজো সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু সেই সময় প্রদীপের আগুন নিভিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, সেটি শুকনো কাঠ ও সুপুরির সংস্পর্শে এসে ডালপালা ও কাঠামোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা মালামাল ও কাঠামো আগুন ধরে যায়।

    অগ্নিকাণ্ডের সময় দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ। ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরানোর পাশাপাশি তারা ভবনটি পরবর্তী সতর্কতামূলক কার্যক্রমের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।

  • আমি বিবাহিত, ডিভোর্সড নই: শবনম বুবলী

    আমি বিবাহিত, ডিভোর্সড নই: শবনম বুবলী

    চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী স্পষ্ট করে বলেছেন कि তিনি এখনও শাকিব খানের সাথে বিবাহিত এবং বর্তমানে ডিভোর্সের কোনও ঘোষণা তিনি দেননি। তিনি শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়টি নিজেকের ভাষায় ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে সঞ্চালক সরাসরি প্রশ্ন করেন, তিনি কি আবার মা হতে যাচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের সত্যতা কি? এই প্রশ্নের জবাবে বুবলী তেমন কিছু না বললেও বলেন, তার ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত জীবন আলাদা থাকার গুরুত্ব আছে। তিনি ফিরে বলেন, দর্শকদের বিভিন্ন পারসেপশন থাকতে পারে, কিন্তু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনও থাকা জরুরি।

    আইনি বিষয়গুলো নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন বুবলী বলেন, তিনি কখনোই অপ্রত্যাশিত মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেননি। তবে যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নানা গুজব সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    মা হওয়ার গুঞ্জন туралы জানতে চাইলে বুবলী বলেন, ‘আমি কি গর্ভবতী হয়েছি, কি করি বলব—এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এটি সম্পূর্ণ আমার নিজের স্বাধীনতা।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, একজন বিবাহিত নারীর মনোগ্রাহ্য বিষয় নিয়ে অপপ্রচার করা দুঃখজনক।

    দর্শকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি ব্যক্তিগত জীবন সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেন। তিনি বলেন, সিনেমার সমালোচনাগুলো গ্রহণযোগ্য, কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অযৌক্তিক চাপ দেওয়া উচিত নয়। বলিউড-হলিউডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিল্পীদের ব্যক্তিজীবন কিছুটা সংরক্ষিত রাখা হয়।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানসহ বিবাহবন্ধনে বাঁধা পড়েন বুবলী। ২০২০ সালের ২১ মার্চ তাদের ঘরে আসে পুত্রসন্তান শেহজাদ খান বীর। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এ বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি।

  • অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতা প্রত্যাশা

    অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতা প্রত্যাশা

    ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি সম্প্রতি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। তাকে ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়। আজ (রোববার) তার মাথায় সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এই খবর জানিয়ে তানিয়া বৃষ্টি তার ভক্তদের দোয়া চেয়েছেন।

    তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি এখন শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। তার জন্য এখন সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও উন্নত চিকিৎসা আবশ্যক। অনুরোধ থাকবে, শুটিং বা কোনও কাজের কাজে এখন ফোন বা মেসেজ না করে আমাদের ব্যক্তিগত সময় ও যত্ন নেওয়া উচিত। আশা করি সুস্থ হয়ে উঠেই সবাইকে জানাতে পারবো। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসাই এখন আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

    একইভাবে শনিবার একটি পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা। আমি ভালোবাসি সবাইকে। আগামী রোববার আমার মাথায় অস্ত্রোপচার হবে, সবাই দোয়া করবেন।’ অতিরিক্ত জানানো হয়, রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অপারেশনটি সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও শিল্পী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    অস্ত্রোপচার সম্পন্নের সময় অপারেশনটি বিকেলে শুরু হয়, যা সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে শেষ হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং তাকে পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটে রাখা হয়েছে। জ্ঞান ফিরেছে এবং আগামীকাল (সোমবার) তার শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে।

    অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা গেছে, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি মাথা ব্যথা ও জ্বর-ঠান্ডায় ভুগছিলেন। তবে তারা তেমন গুরুত্ব দেননি। পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে, তার ব্রেন টিউমার রয়েছে।

    পরিচালক সকাল আহমেদ বলেন, ‘তানিয়া বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বর দেখা দিত। তবে এই সমস্যাগুলি তিনি উপেক্ষা করেছিলেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।’ তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত রোববার বিকেলে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং সেটি সফল হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

  • বৃহত্তর জামিন পেলেন বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব

    বৃহত্তর জামিন পেলেন বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব

    দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর অবশেষে বলিউডের খ্যাতনামা কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব জামিন লাভ করেছেন। এই খবরের পরিবর্তন বা অস্পষ্টতা inherent থাকলেও, সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে তাঁর জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত তাঁকে জামিনের শর্ত হিসেবে দুপুর ৩টার মধ্যে ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ১.৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই শর্ত পালন করার পরই তাঁকে জামিন অনুমোদন দেয়া হয়।

    প্রথমে চেক বাউন্স সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে আত্মসমর্পণের পর থেকে দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন রাজপাল। তবে এই কঠিন সময়ে বলিউডের অনেক তারকা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সোনু সুদ, গুরমিত চৌধুরী, মিকা সিং, অনুপ জালোটা, সল্লু খান, অজয় দেবগন, বরুণ ধাওয়ান, ডেভিড ধাওয়ানসহ নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি ও কেআর কঠোর সাহায্য করেছেন।

    এছাড়াও, গত ২৪ ঘণ্টায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যায়, তিনি জামিনের পর সালমান খানকে বড় ভাই বলে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তবে, এই ভিডিওটি বর্তমানে নয়, বরং ২০১৮ সালের পুরোনো একটি ক্লিপ, যেখানে তিনি প্রায় তিন মাস জেল জীবন কাটিয়েছিলেন। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কিছু বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে, যা এখন বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াচ্ছে।

  • সালমান খানের বাবা সেলিম খান গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

    সালমান খানের বাবা সেলিম খান গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

    খান পরিবারের জন্য এখন মোটেও সুন্দর সময় যাচ্ছে না। গত বছর সালমান খানের আশেপাশের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন তাকে ঘিরে একের পর এক খুনের হুমকি ও আতঙ্কের খবর প্রকাশ পায়। এর আগে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হামলার পর থেকে বলিউডের এই তারকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি, তার বোনের স্বামী ও অভিনেতা আয়ুষ শর্মার কাছেও হুমকি বার্তা এসেছে।

    এদিকে, নতুন দুশ্চিন্তার খবর সামনে এসেছে। বলাকা সূত্র জানাচ্ছে, প্রবীণ চিত্রনাট্যকার সেলিম খান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে দ্রুত মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। সালমান খান নিজে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান বাবার সঙ্গে দেখা করতে।

    পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে জানা গেছে যে, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেলিম খান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেননি সালমান। কালো টি-শার্ট ও প্যান্ট পরে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ভক্তদের মাঝে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

    উল্লেখ্য, বলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খান। জাভেদ আখতারসহ অন্যান্য পরিচালকদের সঙ্গে জুটি বেঁধে বহু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তাদের লেখা শোলে, জঞ্জির, দিওয়ার, ডন প্রভৃতি সিনেমা বলিউডের ইতিহাসে কালজয়ী এবং অবিস্মরণীয় স্থান দখল করে নিয়েছে।

    সেলিম খানের দ্রুত সুস্থতার জন্য বলিউডের তারকা ও ভক্তরা প্রার্থনা করছেন, যাতে তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন এবং আবারও সিনেমার জগতে তাঁর অবদান অব্যাহত থাকতে পারে।

  • বিশ্বকাপ থেকে অস্ট্রেলিয়া বিদায়, সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে

    বিশ্বকাপ থেকে অস্ট্রেলিয়া বিদায়, সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে

    অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশ্বকাপের পথে অপ্রত্যাশিত বিপত্তি দেখা দিলে সুপার এইটে তাদের টিকিটটি ঝুঁকিতে পড়েছিল। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর তাদের পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আজ জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচে বৃষ্টির কারণে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে অজিরা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। অন্যদিকে, এই ম্যাচে এক পয়েন্ট লাভ করে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে রোডেশিয়ার দল।

    পাল্লেকেল্লেতে গ্রুপের শেষ ম্যাচে অতিক্রম করছিল জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার খেলা. তবে শুরুতেই বৃষ্টি বাধা সৃষ্টি করে। বৃষ্টি কখনো থামলেও ফেরা সম্ভব হয়নি মাঠের সংস্কার কাজ শেষ করতে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিচালকেরা খেলাটিকে বাতিল করার ঘোষণা দেন। এতে দুই দলেরই একেকটি পয়েন্ট করে জমা হয়, আর গ্রুপে মোট ৫ পয়েন্ট নিয়ে জিম্বাবুয়ে সুপার এইটে নিশ্চিত করে। তবে তাদের একটি ম্যাচ এখনও বাকি।

    বিজয়ীদের তালিকায় শ্রীলঙ্কা শীর্ষে রয়েছে, ৩ ম্যাচে তিনটি জিতেছে তারা। এই জয়ে তাদের ৬ পয়েন্ট, যা নিশ্চিত করে রেখেছে তাদের সুপার এইটের স্থান। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড চার ম্যাচে এক জয় ও দুই হারসহ ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে। তারা একমাত্র দলের মধ্যে যারা সব ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছে। আর ওমান তিনটি ম্যাচে দুই হারের সঙ্গে এক জয় নিয়ে অপেক্ষায় আছে।

  • বিগত পাকিস্তানি অধিনায়করা ইমরানের স্বাস্থ্যের জন্য দ্রুত চিকিৎসার দাবি জানালেন

    বিগত পাকিস্তানি অধিনায়করা ইমরানের স্বাস্থ্যের জন্য দ্রুত চিকিৎসার দাবি জানালেন

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে চিঠি লিখে ইমরান খানের অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের অনুরোধ জানিয়েছেন। সম্প্রতি ইমরান খানের চোখের জটিলতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরিবার দাবি করেছে, কারাগারে চিকিৎসার অবহেলা আর কারণে তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারানোর পথে। এই খবরে পাকিস্তানসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে অজানা উদ্বেগ জাগে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা অনেক বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা, যারা খেলোয়াড় হিসেবে ইমরান খানের বিপক্ষে খেলেছেন কিন্তু এখন তার চিকিৎসার জন্য ব্যথিত। এই চিঠির খসড়া করেন গ্রেগ চ্যাপেল, যেখানে স্বাক্ষর করেছেন ইয়ন চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল অ্যাথারটন, নাসের হুসেইন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ, জন রাইট, কিম হিউজ ও বেলিন্ডা ক্লার্ক।

    চিঠিতে লেখা হয়, “তার স্বাস্থ্যের সাম্প্রতিক অবনতি, বিশেষ করে হেফাজতে থাকা অবস্থায় দৃষ্টিশক্তির আশঙ্কাজনক ক্ষতি এবং গত আড়াই বছরে কারাবরণে তার অবস্থা আমাদের গভীর ব্যথিত করেছে।” আরও উল্লেখ করা হয়, ইমরান খানের ক্রিকেটে অবদান সর্বজনবিদিত। তিনি পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন, যা নেতৃত্ব, দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার অনন্য পরিচায়ক।

    এই চিঠি এমন সময়ে লেখা হলো যখন ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পরিবারের জন্য সাক্ষাতের অনুমতি এখনো দেওয়া হয়নি, তাদের চিকিৎসকদের সাথে দেখা করারও সুযোগ মেলেনি। সম্প্রতি খবর রটেছিল তিনি হাসপাতালে নেওয়া হতে পারেন, কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    এদিকে, পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস ও শোয়েব আখতার গত সপ্তাহে ইমরানের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজাও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তিনি রাজনীতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে ১০, ১৪ ও ১৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তবে পরে কিছু সাজা বাতিল হয়। এর মাঝেই তার দল ২০২৪ সালের নির্বাচনে সিট না পেলেও প্রায় সর্বাধিক ভোটে বিজয় লাভ করে। সম্প্রতি বিবাহসংক্রান্ত মামলায় সাত বছরের সাজা স্থগিত হলেও মূলত তা বাতিল করা হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ক্রিকেট মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হলেও আমাদের মধ্যে সম্মান অটুট রয়েছে। ইমরান তার ক্যারিয়ারে সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এখন কর্তৃপক্ষের উচিত শালীনতা ও ন্যায্যতার নীতি অনুসরণ করে তার প্রতি সমর্থন দেখানো।”

    বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন, ইমরান খানের বিচারপ্রক্রিয়া ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার পরিবারের ভাষ্য, তাকে হত্যা করার জন্য নির্যাতন ও মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

  • গোলপোস্ট থেকে রাজপথের সৈনিক, এখন ক্রীড়াঙ্গণের শীর্ষে: আমিনুলের অনন্য যাত্রা

    গোলপোস্ট থেকে রাজপথের সৈনিক, এখন ক্রীড়াঙ্গণের শীর্ষে: আমিনুলের অনন্য যাত্রা

    সুখবরটি ছিল সকালে। বিএনপির নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বাইরেও তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও ২০০৩ সালে দেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী তারকা। মঙ্গলবার সেই সাফল্যের খেতাবের সঙ্গে যুক্ত হলো আরও একটি স্বীকৃতি— তিনি শপথ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। গোলপোস্টের নিচে সতর্কপ্রহরী থেকে রাজপথের লড়াকু সৈনিক, এখন তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গণের মূল ঐক্যবদ্ধ নেতা। ২০১৮ সালে ঢাকা-১৬ আসনে তফসিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করেছেন আমিনুল, যদিও জয় পাননি। তবুও তার ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা অটুট রয়ে গেছে। প্রত্যাশা ছিল, তার হাতে ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব থাকবে—এটাই ছিল রাজনৈতিক মহলের ধারনা। নির্বাচন পরাজয়ের পরেও তার প্রতি রাষ্ট্রপ্রধানের আস্থা অবিচল, যা তার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। ফুটবল তাকে পরিচিত করে দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত ছিলেন দলীয় একাদশে; চোটের কারণে খুব কম সময়ই বাদ পড়তে হয় তাকে। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পাশাপাশি ২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি—অবশ্য টুর্নামেন্টে তার জালে বল প্রবেশ করেনি একবারও। ২০১১ সালে ফুটবল থেকে বিদায় নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল। প্রথমে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে তার পরিচিতি ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়। আন্দোলন-সংগ্রাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চারতা—এসবের মাধ্যমে তার নতুন পরিচয় গড়ে উঠে। এই পথচলায় তাকে কГО কিছু বাধা পেরোতে হয়েছে, এমনকি কারাভোগও করতে হয়েছে, পুলিশের হাতে নিগৃহীত হওয়ার কাহিনিও রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিজের বেশি সময় দিয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো, পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াবিদদের সহায়তা—এসব উদ্যোগ তাকে সমাজের গভীরে আরও স্থাপন করেছে। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের স্বীকৃতি এবার পায়। দীর্ঘ পথচলা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এখন তার দায়িত্ব বড়। সংস্কার আন্দোলনে তিনি আগে থেকেই সোচ্চার, এবার সেই দায়িত্ব আঁকড়ে ধরার পালা। সামনে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা রয়েছে, যেখানে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় স্বপ্ন দেখালেন আমিনুল— তিনি বললেন, ‘আমাদের দেশে ২৯৫টি উপজেলা রয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া অফিসার নিযোগ করব। এর সঙ্গে যোগ হবে, প্রতিটি উপজেলাতে পাঁচটি ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করা—এ জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, একজন ক্রীড়া অফিসার ও ১৫ জন ক্রীড়া শিক্ষক। পাশাপাশি, আমরা চাই দেশের স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে আনতে। নিজেদের তৈরি করব প্রয়োজনীয় খেলাধুলার উপকরণ, যেগুলো রপ্তানি হবে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন—এই বিশ্বাসে আমি দৃঢ়।’

  • বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    রাজধানী ঢাকায় এসেছেন জার্মানির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার’-এর আধুনিকায়ন ও নতুন একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। মিনহাজ উদ্দীন জানায়, আগামীকাল তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতার করবেন। এই সময়ে তার উপস্থিতি ও কর্মসূচি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন হাবিবুল বাশার

    বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন হাবিবুল বাশার

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। এরপর থেকে তিনি এই পদে নিজেকে দায়িত্বশীলভাবে পালন করছেন। তবে এখন আর এই দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নয় লিপু। চলতি মাসের ৫ তারিখে তিনি বিসিবিকে লিখিত এক চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই বছরের শেষের দিকে তার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে বিসিবি তাকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিয়োগের উদ্যোগ নিলেও, পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে লিপু দীর্ঘমেয়াদে এই কাজ চালিয়ে যেতে চান না। তাই দ্রুতই প্রধান নির্বাচকের পদ শূন্য হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এরই মধ্যে জানা গেছে, সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি। মূলত ক্রিকেট অপারেশনস শাখা থেকে এই প্রস্তাবটি এসেছে বলে জানা গেছে, যা নিশ্চিত করেছে বিসিবির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র।

    বাশার এখনই এই প্রস্তাব গ্রহণ করছেন না বললেও আধ্যাত্মিকভাবে আগ্রহী তিনি। তিনি আরও কিছু দিন সময় চেয়েছেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তবে বোঝা যাচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে তিনি বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ শুরু করবেন। এটা বোঝা যাচ্ছে যে, শীঘ্রই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।