Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বিরোধীর জনমত যাচাই প্রস্তাব নাকচ, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

    বিরোধীর জনমত যাচাই প্রস্তাব নাকচ, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

    কোটি কোটি আমানতকারীর সুরক্ষা ও ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলা রোধের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাজী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তি এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ করে বিলটি গৃহীত হয়।

    বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন (ঢাকা-১২) বিলটির কঠোর সমালোচনা করে তা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি তোলেন।

    বিরোধিতায় সাইফুল ইসলাম মিলন উচ্চস্বরে বলেন, আমানতকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা উচিত। তার বক্তব্য, এই বিল আমানতকারীদের নিরাপত্তা দুর্বল করে দিচ্ছে এবং অতীতে রাজ্য কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক বাঁচানোর উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন—সেসব টাকা সাধারণ করদাতারই ছিল। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে কোনও অপবাদমুক্ত বা ভঙ্গুর আইনি ধাঁচ থাকলে লুণ্ঠনকারীরা আইনি ফাঁকফোকর খুঁজে পেয়ে পলায়ন করতে পারবে।

    মিলন আরও যুক্তি দেখান যে পূর্বের নিয়মে ব্যাংক ডুবলে শেয়ারহোল্ডাররা প্রথমেই ক্ষতি বহন করতেন এবং আমানতকারীরা সুরক্ষিত থাকতেন। নতুন আইনি কাঠামো সেই চেইন অব কম্যান্ড ভাঙতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংকে বেনামি মালিকানার মাধ্যমে তৈরি বিশৃঙ্খলা রোধে আগের কঠোর বিধান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার জোর দেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা এই বিলের কারণে সংকুচিত হবে বলে সর্তক করেন।

    বিরোধিতার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুড গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা পরিবারের মতো তুলে ধরেন এবং আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সরকার ব্যাংক খাতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকারও প্রয়োজন হতে পারে—এমন বিশাল অর্থ সাধারণ সময়ের সরকারের পক্ষে বহন করা কঠিন।

    মন্ত্রী জানান, বিলটির মাধ্যমে একটি ‘নিউ উইন্ডো’ বা বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে; এর অর্থ লিকুইডেশনের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন পূনর্গঠন করে সংরক্ষণ করার সুযোগ তৈরি করা। এতে করে আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে এবং ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,_bill_passed দায়ীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং বাজারভিত্তিক উপায়ে ব্যাংকগুলোকে সচল রাখাই এই আইনের লক্ষ্য, যাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় থাকে।_

    বক্তব্য শেষ হলে সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন; স্পিকার তা ভোটে তোলেন। সরকারি দলের আপত্তিতে কণ্ঠভোটে ওই প্রস্তাব বাতিল হয়। এর পর অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে সংসদে তা অনুমোদন পায় এবং বিল আইনগত পথে এগোতে রাজপথ খোলে।

    বিল পাসের ফলে ব্যাংক সেক্টরে কিভাবে বাস্তবে পরিবর্তন আসবে এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এ সংক্রান্ত বিশদ কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে। বিরোধী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাস্তব প্রয়োগ ও তদারকিতে স্বচ্ছতা না হলে উদ্বেগ থেকেই যাবে।

  • দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে বিরামহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি এটি উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে এসব সমস্যা সমাধান না হলে সামনের দিনের উন্নয়ন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    এ কথা তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে (শুক্রবার) সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন। ১৩তম দিনে সংসদের উপস্থিত ছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান প্রশাসন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে। এ প্রেক্ষাপটেই তিনি ২০০৫-০৬ অর্থবছর, ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো তুলে ধরে দেশবাসীর সামনে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেছেন।

    তথ্যগুলোতে দেখা যায়, যদিও মোট জিডিপির আকার বাড়ছে, ততটাই প্রকট হচ্ছে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ; কিন্তু ২০২৩-২৪ শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশ হয়েছে। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে নেমেছে এবং কৃষিক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধিও ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নামিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বলছেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে ফিরে যাচ্ছেন—যার ফল হিসেবে ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে এবং যুবজনের আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি শেয়ার মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়তে তার অংশ মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও কর্মসৃজনবিহীন বৃদ্ধির সতর্ক সংকেত।

    সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অনুপাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে ২৮.৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি টাকার অভ্যন্তরীণ মানও উল্লেখযোগ্যভাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে; ২০০৫-০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল প্রায় ৬৭.২ টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে—ফলশ্রুতিতে আমদানি ও সাধারণ জীবনের ব্যয় বাড়েছে।

    অর্থ মন্ত্রীর ভাষ্য, মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রবৃদ্ধিও চিন্তার বিষয়। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে মাত্র ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার প্রকাশ। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি; রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয় সরকারের আয় সংগ্রহের ক্ষমতা সীমিত করে রেখেছে। বাজেট ঘাটতি বেড়ে ২০০৫-০৬ সালের ২.৯ শতাংশ থেকে ৪.০৫ শতাংশে উঠেছে।

    অতিরিক্তভাবে, অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন বিগত সরকারের সময় বাস্তবায়িত অনেক মেগা প্রকল্প অতিমূল্যায়িত এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে; ফলে নৈতিক খাত থেকে লক্ষ কোটি টাকা অবৈধভাবে বহির্গমন হয়েছে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলতার ফলে সুদ পরিশোধের খরচ বাড়েছে—২০০৫-০৬ সালে যা ছিল প্রায় ৮৫ বিলিয়ন টাকা, তা ২০২৩-২৪ সালে বাড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায়, এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এএসএমই উদ্যোগে ঋণগহ্বর সৃষ্টি করেছে (‘ক্রাউডিং আউট’)।

    রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ২০০৫-০৬ সালে ইতিবাচক থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ সালে তা নেতিবাচক হয়েছে এবং আর্থিক দুৰ্নীতি, হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে—এটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক দিক বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

    অর্থমন্ত্রী এসব পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে জোর দিয়ে বলেছেন—দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি জরুরি।

  • শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এসব অনিয়মের মাধ্যমে বিএনপিই আওয়ামী লীগকে হার যুগিয়েছে।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে, যেখানে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের অনিয়মের প্রতিবাদ করে ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    গণভোট সংক্রান্ত জটিলতার কথাও উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল গণভোটের ফল তাদের কাছে বাধ্যতামূলক হবে, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সে আদেশ বাতিল করে তারা দ্বিচারিতার পথ নেয়েছেন। তিনি বললেন, ‘‘বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেঈমানি।’’

    নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার ফুটেজ মিডিয়ায় প্রকাশের পরও সিইসি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করছেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। তিনি বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় থাকার কোনো টেকসই উপায় নেই; ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য নেতারা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন, আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে, পরে সেটি পল্টন মোড়—বিজয়নগর গোলচত্বর হয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমাজে বিদ্বেষ ও বিভাজন সৃষ্টি করতে কিছু শক্তি পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে; এগুলো ঠেকাতে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সামনে রেখে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণার শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার শক্তি।’’

    ফখরুল আরও দেখান, বাংলাদেশ হল একটি বহুজাতিক—বহুধর্মীয় সমাজের উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে ইসলাম ছাড়াও হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষ মিশে রেখেই দেশ গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘‘খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধারার অনুসারীরাও এ মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীত থেকেই এই ভূমিতে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।’’

    তিনি সতর্ক করে জানান, অতীতে ধর্মভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল; সেই ধাঁচের অপচেষ্টা যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করে এগোতে হবে বলে তার মন্তব্য।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে—সেগুলো সম্পন্ন করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।’’

    আলোচনায় তিনি সামাজিক ঐক্য ও শান্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মাত্র বক্তব্য নয়, বাস্তব কর্মের মাধ্যমেই সচেতনতা ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

  • প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকা

    প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকা

    রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুতবেগে বাড়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অনুষঙ্গী পণ্যের দাম বাড়ায় চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বাড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় এই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    রপ্তানি আয় কমে যাওয়াও ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়কালে পণ্যের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে আমদানি বেড়ে হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। আমদানি–রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে বড় নেগেটিভ বেরিয়াল দেখা গেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারি রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছিল। একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আমদানি ব্যয়ের চাপ বাড়িয়েছে। ফলে সামগ্রিক আমদানিই রপ্তানিকে ছাপিয়ে গেছে। তারা সাবধান করে বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করে এবং রপ্তানি ত্বরান্বিত না করলে দেশের অর্থনীতি সংকটগ্রস্ত হতে পারে।

    বছরের প্রথম আট মাসে কারেন্ট অ্যাকাউন্টে অবস্থা সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাব অর্থাৎ কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    তবে সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে রিপোর্টে দেখানো হয়েছে। আলোচিত সময়ের ওভারঅল ব্যালান্স ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    অন্যান্য চলমান প্রবাহের মধ্যে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের দুই হাজার ১৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বেশি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল ১০৬ কোটি ডলার এফডিআই; চলতি অর্থবছরে একই সময়ে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার। আর শেয়ারবাজারে প্রবাহিত বিদেশি পুঁজি (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) এই সময় নেতিবাচক অবস্থায় নেমে গেছে; প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে নেট আউটফ্লো হয়েছে ৮ কোটি ডলার।

    সংক্ষেপে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির তুলনায় আমদানির দ্রুত বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ-পরিকল্পনা alongside রপ্তানি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। না হলে চলতি হিসাব ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ বাড়তে পারে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এক বড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়ে; বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। আর্থিক চাপের এ ছিটকায় কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও ব্যাপকভাবে কমে আসে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) হিসাবসময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশেরও বেশি। গত এক দশকে এ খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়; পূর্বের রেকর্ড নেমে এসেছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়—তার চেয়েও এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭%) কম ব্যয় হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য আরও বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (প্রায় ৩৩%) কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকার থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ দুবছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় গড়ে কমেছে ৫১৩ কোটি টাকারও বেশি—প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    খাত সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় প্রভাব ফেলে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র ধরা পড়ে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেলে নৈবৃত্তিক লোকসান স্পষ্ট হয়; বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক এ ধাক্কায় পড়ে। মাথাপিছু অনিয়ম ও অপরাধের কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাষ্ট্র একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তা দেওয়ার চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত সিএসআর উদ্দেশ্যের বাইরে খরচ করতে বাধ্য হতে হতো। জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোর পরে এমন ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে জোর করে নয় বরং বিচক্ষণভাবে সিএসআর ব্যয় করে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক চাপের কারণে অনানুষ্ঠানিক বা অনুৎপাদনশীল খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দ হলে সমাজকল্যাণমূলক প্রকৃত উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা আছে যে ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে রাখতে হবে: এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলা এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এই নির্দেশিকা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না—প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশ (৩৬%) গেছে ‘অন্যান্য’ শিরোনামের প্রকল্পে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। এসব ব্যাংকের নাম হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একই সময়ে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় ছিল জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এদের মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—লোকসানে থাকা সত্ত্বেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে।

    প্রতিবেদনের আলোকে স্পষ্ট যে, ব্যাংক খাতে মুনাফা সংকুচিত হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য বরাদ্দ অর্থও প্রভাবিত হয়। নীতিনির্ধারণ ও প্রয়োগে আরও জোরালো তদারকি, স্বচ্ছ রিপোর্টিং ও সরকারি নির্দেশনার কড়াকড়ি না থাকলে সিএসআর তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।

  • বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে প্রশংসা করা হয়েছে এবং এটাকে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আনার সম্ভাবনার কড়া হিসেবে দেখা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাতের ধ্বংসাত্মক প্রভাব স্পষ্ট এবং এটি বিশ্বব্যাপী তেল, জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে; বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে সে আশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

    তবে একটাই জিনিস—পাকিস্তানের ভূমিকা—এই সরকারি বিবৃতিতে পুরোপুরি উপেক্ষিত ছিল। বিশ্ব নেতারা যখন পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রশংসা করছিলেন, তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের নামই উল্লেখ করেনি এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনাক্রম সম্পর্কেও কিছু বলেনি।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে অনেকে বিশ্বমঞ্চে সফল বলে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেছেন, এমন ভূমিকা ভারতের করা উচিত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলকে বিশেষ মর্যাদা দিলে তিনি কীভাবে যুদ্ধবিরতির কথা বলতে পারবেন? অন্যপক্ষে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় না।

    দীর্ঘ অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তানের ভূমিকা সরল অর্থে মধ্যস্থতা বললে ভুল হবে—বরং তারা মেসেজ আদান-প্রদান, সময়সীমা শিথিল এবং সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়ে পরিস্থিতি մեղন করেছে। তিনি বলেন, এটা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নয়; বরং অবস্থানগুলোর পুনর্বিন্যাস, যেখানে বলপ্রয়োগ ও আলোচনা একসঙ্গে চলছে। তাই ভারতের উচিত স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানানো—উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশন রক্ষা করা এবং সংঘাতকারীদের বিবৃতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার থেকে বিরত থাকা। তিনি উল্লেখ করেন, নীরব থাকা ঠিক নেই; বদলে পরিমিত কণ্ঠে বক্তব্য রাখা জরুরি।

    বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের জয় ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, বিশ্বমঞ্চে মোদি যখন পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন উলটে ভারতই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অতীতেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করে এসেছে—এবং এখনও তারা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের মধ্যকার আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

    অপর বিশ্লেষক অভিনব সিং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরানেরও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের কূটনীতি ও নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু টুইট ও মন্তব্য তােমনি গুরুত্ব পেয়েছে—কেউ কেউ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ বলছেন, আবার অনেকে বলছেন ভারতের কূটনীতি ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন। সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর ও কয়েকজন লেখকও প্রকাশ্যভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার তাৎপর্য স্বীকার করেছেন।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরান থেকে তেল ভারত পৌঁছাতে পারে—এই সপ্তাহেই একটি তেল ট্যাংকো এসে পৌঁছাবে।

    নাগরিক-শ্রেণি ও মন্তব্যকারীরা এখন ভারতের কূটনীতি, মতামত প্রকাশের সময় এবং ভুবনীয় সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তানের যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ এবার কার্যকর হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভারতকে আত্মসমীক্ষা করতে হবে—কী কারণে আমরা সে জায়গায় ছিলাম না, আর ভবিষ্যতে কিভাবে আমাদের অবস্থান সুসংহত করা যাবে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান

    লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান

    ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকবে। এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ইসরায়েলি জেরুজালেম পোস্ট।

    তাসনিমের বরাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি হলো পাকিস্তানের প্রস্তাবিত শান্তি সমঝোতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে এবং জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তাহলে আলোচনা স্থগিত থাকবে। বাঘাইয়ের ভাষ্য, ‘‘ইরান ও লেবাননের জনগণের প্রতি সহানুভূতি এখন পূর্বের যে কোনও সময়ের চেয়েও বেশি। যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রাখবে না, ততদিন আলোচনার কোনো অর্থ নেই।’’

    একই সময়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে এসে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে; এই আমন্ত্রণ ও আলোচনার সময়সূচি এখনো পর্যালোচনার এবং পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে। ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে ইরান কোন প্রতিনিধিদল পাঠাবে—তার তালিকাও পরে ঘোষণা করা হবে, যোগ করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান মার্কিন পক্ষের সঙ্গে ইসলামাবাদে যে কোনও শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না। ফার্স নিউজ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে, যাতে বলা হয় ইরানি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—ফার্স সেটিকে মিথ্যা বলেছে।

    পূর্বে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছিলেন যে ইরানি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে; পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও এখনো ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ, ফার্স নিউজ, জেরুজালেম পোস্ট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (প্রতিবেদনের উল্লেখ ও ফার্সের প্রত্যাখ্যান)

  • খুলনায় নুর আজিমের বাহিনীর প্রধান সহযোগী ফয়সাল গ্রেফতার

    খুলনায় নুর আজিমের বাহিনীর প্রধান সহযোগী ফয়সাল গ্রেফতার

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কোলে গ্রেপ্তার হয়েছে শহরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী নুর আজিমের বাহিনীর প্রধান সহযোগী ফয়সাল। শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরীর টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকা থেকে ঘটনাস্থলীয় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ফয়সালের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজা হচ্ছিল এবং আজ নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান করা হয়েছিল।

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৈমুর ইসলাম বলেন, “নুর আজিমের অনুপস্থিতিতে ফয়সালই বাহিনীর কার্যত নেতৃত্ব দিত। সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। আমরা দীর্ঘদিন তাকে ধরার চেষ্টা করছিলাম; আজ তার সঠিক অবস্থান জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।”

    গ্রেপ্তারির পর ফয়সালকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলার প্রামাণ্যতা যাচাই ও তদন্ত চলছে। আপাতত তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী কর্তব্য পরিচালনা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

  • খুলনায় ট্যাংকলরি থেকে অকটেন চুরির চেষ্টা, ৫ জন আটক

    খুলনায় ট্যাংকলরি থেকে অকটেন চুরির চেষ্টা, ৫ জন আটক

    খুলনায় পদ্মা ডিপো থেকে অকটেন চুরির চেষ্টা চলাকালে পাঁচজনকে আটক করেছে এনএসআই খুলনা মেট্রো।

    এনএসআই খুলনা মেট্রো কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে খালিশপুর থানাধীন পদ্মা ডিপো এলাকায় ট্যাংক লরি থেকে ১০ লিটার অকটেনসহ তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন কর্মকর্তারা।

    আটকদের মধ্যে ছিলেন মাগুড়ার ট্যাংকলরি চালক ইমরান ও হেল্পার সম্রাট, মিন্টি, রানা ও বিল্লাল। সংশ্লিষ্ট ট্যাংক লরিটির নাম্বার ছিল খুলনা মেট্রো-ঢ, ৪১-০০৭১।

    পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা খানুন তাদেরকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী দণ্ডিত করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একইসঙ্গে চুরি করা ওই তেল জব্দ করা হয়েছে।

    এনএসআই সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।