Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু: বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎযাত্রা শুরু

    রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু: বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎযাত্রা শুরু

    পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দুপুরে এই কাজের উদ্বোধন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সচেতন সিদ্ধান্তের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে — 이제 বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল এবং ধাপে ধাপে hereের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

    রি-অ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিং ও পরবর্তী পরিকল্পনা:

    রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের রি-অ্যাক্টরই হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। এখানে ইউরেনিয়াম ভিত্তিক জ্বালানি লোড করা হবে এবং নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে তা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রি-অ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ করার জন্য আনুমানিক ৩০ দিন সময় লাগবে।

    জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার পর শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ—এখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিউক্লিয়ার ফিশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৪ দিন সময় নির্ধারিত আছে। সফল পরীক্ষার পর রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে ধাপে ধাপে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% ইত্যাদি পর্যায়ে উন্নীত করা হবে; এ পর্যায়গুলো সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪০ দিন লাগতে পারে। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার মাত্রা ৩ শতাংশে উঠলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস সময় ধরা হয়েছে।

    জীবনকাল ও জ্বালানি কড়া:

    রূপপুর কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬০ বছর, প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে। একবার জ্বালানি লোড করলে সেটি প্রায় দেড় বছর ধরে চলবে; এরপর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া, ফলে শুরুতে জ্বালানি আমদানির ঝামেলা থাকবে না। এরপর বাংলাদেশ নিজেই প্রয়োজনমতো ইউরেনিয়াম আমদানি করে দুই বছরে একবার বদলাপত্র করবে।

    কেন্দ্রের সক্ষমতা ও লাভ-জনিত প্রভাব:

    রূপপুর কেন্দ্রের দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদনক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটেই এইটুকু জ্বালানি লোডিং করা হচ্ছে; দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণও তৎপরতাসহ চলছে। পুরো কেন্দ্র চালু হলে এটি শিল্প, কৃষি ও শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন গতি আনবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত করবে।

    নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি:

    রূপপুরে ব্যবহৃত রি-অ্যাক্টর তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি—এটি ডিজাইন করা হয়েছে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকে। জ্বালানি লোডিং ও স্টার্টআপের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা ও কড়া মনিটরিংয়ের অধীনে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    ইতিহাস ও প্রস্তুতি:

    পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক ভাবনা এসেছিল ষাটের দশকে; ১৯৬২ সালে সম্ভাব্য স্থানের মধ্যে পাবনার রূপপুর নির্বাচিত হয়। যদিও ১৯৭৭ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কারণে স্থবির ছিল, তবুও এর ফলাফল ভবিষ্যৎ নীতিমালার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৮৬ সালে সাভারে ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার গবেষণা রি-অ্যাক্টর চালু করে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে রূপপুর প্রকল্পে আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি হয়, আর ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রসাটমের মধ্যে নির্মাণ ও জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।

    জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগত সুবিধা:

    পারমাণবিক বিদ্যুতের জ্বালানি দক্ষতা অত্যন্ত বেশি। উদাহরণস্বরূপ, এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা প্রয়োজন হয়; একই ক্ষমতার পারমাণবিক কেন্দ্র বছরে মাত্র প্রায় ২৭ টন পারমাণবিক জ্বালানি প্রয়োজন। রূপপুরের দুই ইউনিট থেকে বার্ষিক উৎপাদিত বিদ্যুৎ আনুমানিক ৪০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাসের সমমান। পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ: রূপপুর কেন্দ্র কয়লা-নির্ভর কেন্দ্রের তুলনায় বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিতর্ক থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির বেশি ব্যবহারকে পরিচ্ছন্ন ও কম কার্বনযুক্ত জ্বালানি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

    রূপপুর প্রকল্প সরকারের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতির অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে এর বাস্তবায়ন চলছে। এখন যে ধাপে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছিল—বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম ধাপের সূচনা—তাই আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে এটি দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

  • মৃত শিক্ষার্থী মিমোর ঘটনায় ঢাবির অধ্যাপক সুদীপকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি

    মৃত শিক্ষার্থী মিমোর ঘটনায় ঢাবির অধ্যাপক সুদীপকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে সাময়িকভাবে সব ধরনের একাডেমিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অকাল মৃত্যু ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায়।

    বিভাগীয় চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি গত ২৭ এপ্রিল এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভাগের ২০২৪ সনের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিনের আকস্মিক মৃত্য্যে বিভাগ গভীর শোকাহত এবং বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ অনুষ্ঠিত বিশেষ একাডেমিক কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড. সুদীপ বিভাগের সকল ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন।

    ঘটনার পর ঢাকা পুলিশ ড. সুদীপকে গ্রেপ্তার করে এবং মামলার প্রক্রিয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। বাড্ডা থানা পুলিশ আদালতে তাকে হাজির করে এবং তদন্তের স্বার্থে কারাগারে রাখার আবেদন করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী ইকবাল হোসেন আবেদনে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে জেলহাজতে রাখার প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে রিমান্ডও দরকার হতে পারে।

    আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিন আবেদন করে দাবি করেন যে, ড. সুদীপ একজন সুনামধন্য শিক্ষক এবং তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে আর্থিক লেনদেনসহ কিছু ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ ছিল।

    নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ করে ড. সুদীপকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে ড. সুদীপকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তে মামলার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলছে।

  • জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে বক্তব্য দিন বিএনপিকে তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ‘‘পলায়ন করা ফ্যাসিবাদের রাস্তা’’ ধরে হাঁটা শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, আমরা একসময় বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে মজলুম হিসেবে ছিলাম। কিন্তু এখন বিএনপি সেই একই কৃত্য শুরু করেছে—যারা আগে জাতি ও বিরোধীদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, আজ তারাই ঠিক একইভাবে আচরণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো আওয়ামী লীগের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব গঠন আর আজ সেই লাঠিয়ালরা তাদের পাশে নেই।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন ঘটানো ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলোতে বিএনপি অবিরতভাবে বাধা দেয়—এটিকে তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সরকারে আসার ইশতেহারে যে ৩১ দফার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোই বিএনপি বাধা দিচ্ছে; এমনকি এসব বিষয় বুঝবার ক্ষমতাও তারা হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সমাবেশে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে জামায়াতে আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের কারণেই বহু মা-বাবা, ভাই-বোনের সন্তানের বীণপ্রাণ ত্যাগে দেশের পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় ওঠার আগেই কিছু দল শহীদ পরিবারদের দুঃখে চালিয়ে যায়নি; শহীদ পরিবারদের কষ্টের সময় তাদের পাশে ছিল না। ৫ আগস্ট ও ৭ আগস্টের ঘটনার পরও জনমানুষের কষ্টে তাদের কোনো সহমর্মিতা দেখা যায়নি, অথচ বদলে তারা আন্দোলনের বেনিফিশিয়ারি হয়েছেন।

    তিনি জেলবন্দী সময়ের এক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর জেলসাথী আল্লামা মামুনул হক স্মরণ করেছেন যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে ছিলেন এবং তাঁরা হতাশা প্রকাশ করতেন—বলতেন ৪১-এর আগে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব নয়। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার সময় কেউ এটাকে খোদার দান বলেছিল, সেই খোদার দান ভুলে যাওয়া এবং পরে বিভিন্ন দাবিতে নিজেদের মাস্টারমাইন্ড দাবি করা—সব কিছুই ভুয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তবে ডা. শফিকুর বলেন, জামায়াতে ইসলামী কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করে না। দেশের মুক্তি আন্দোলনে ছাত্র সমাজ, শ্রমিক, মা-বোনেরা জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিল—তাদের কৃতিত্বকে ছোট করা উচিত নয়। তিনি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেন যে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা, শ্রমিকরা ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসেছিলেন এবং তাদের তৎপরতা ভুলে যাওয়া চলবে না।

    সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ও শপথ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতে আমির অভিযোগ করেন, যারা শপথ গ্রহণ করেননি তারা জাতির সঙ্গে আস্থা ভঙ্গ করেছেন। পুনরায় আইন-শাসন ও অধ্যাদেশ সংশোধন না হলে পুরোনো স্বৈরাচারী শাসনাচরণ অব্যাহত থাকবে—এই কারণে বিএনপির মনোভাব উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এখান থেকে কয়েক গজ দূরে এমনকি থানার ভেতরে ঢুকেও ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনে গণভোটের রায় মেনে না নেয়ার দিন থেকেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে।

    ডা. শফিকুর বলেন, তিনি এমন বাংলাদেশ চান না যেখানে মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে না—শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতীরা, মা-বোনেরা ভয়ে বাড়ি থেকে বের হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি-চাকু দেখা যাবে না, ছাত্রদের সামনে কলম-খাতা থাকবে—এটাই তারা চাই। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সংস্কৃতি বন্ধ না করা যায়, তাহলে জুলাই কেবল ২৪ সালের ঘটনাই থাকবে না; জুলাই বারবার ফিরে আসবে এবং অবশেষে ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে।

    শেষে তিনি জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে ও ৭০ শতাংশ মানুষের রায় মেনে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে লড়াই সংসদের ভেতরেই ও খোলা ময়দানে চলবে—এ বিষয়ে জোর দেন ইনশাআল্লাহ।

  • সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি আপনাদের সমর্থন দেবে: নাহিদ

    সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি আপনাদের সমর্থন দেবে: নাহিদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণেরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিক—এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে যোগদানের ঘোষণা উপলক্ষে নাহিদ বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমে দুর্বল করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের উপর আনা আদেশগুলো ধীরে ধীরে বাতিল করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে লুটপাটকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

    নাহিদ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি নতুনভাবে জোরালো হচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। ‘‘আমরা সারা দেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি,’’ যোগ করেন তিনি।

    নাহিদ তরুণদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেন—‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’ তিনি বলেন, জাতিগত ও রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইলে তরুণদের একসাথে হয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে। এনসিপি তাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।

    দলীয় কাজকর্ম প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাই—এই দেশকে আর বিপথে যেতে দেব না।’’ তিনি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছেত্ব বলে উল্লেখ করে বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত, গণতন্ত্রকে ঘটিত ঝুঁকি রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানেSeveral ব্যক্তির এনসিপিতে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকার রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগ দেন।

    ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে তাঁর সশরীর উপস্থিতি সম্ভব হয়নি; অন্য তিনজন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। নাম ঘোষণার পর নাহিদ ইসলাম ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ শেষ কথা হিসেবে বলেন, ‘‘এই সরকারের তোলে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে আমাদের সকলে এক হতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’’

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিল মাসেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন ডলার (২৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) দেশে পাঠিয়েছেন, যা বর্তমান বাজারদর (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) হিসেবে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার সমান। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)।

    গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় উন্নতি হয়েছে। গত বছরের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স আসে ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার; অর্থাৎ এবার সেই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে — যা টাকায় প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকায় সমান।

    ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে, দেশের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে চলতি বছরের মার্চে, যখন এক মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠানো হয়েছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চ (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ এসেছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। সে ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চলমান প্রবাহ মনিটর করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত হচ্ছে রফতানি অর্ডার, বিসিআই উদ্বিগ্ন

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত হচ্ছে রফতানি অর্ডার, বিসিআই উদ্বিগ্ন

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি উদ্বিগ্ন যে, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, এজন্য অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক হয়ে পিছু হটেছেন।

    বিসিআই সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের বিদ্যুৎ–জ্বালানি স্থিতিশীল না থাকার খবরগুলো বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্টের জন্য পরিকল্পিত অনেক ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে আছে; বড় কিছু ক্রেতা নেতিবাচক সংকেত দিচ্ছেন এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    চৌধুরী আরও জানান, যদিও ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবু তাদের হেডঅফিস বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী স্তরের কর্মকর্তারা নতুন অর্ডার দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে সরবরাহ চেইন ও রফতানিমুখী উৎপাদনে অস্থিরতা বেড়েছে।

    এ সময় তিনি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসা-সহায়ক নয় বলে উল্লেখ করে বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মুনাফা না থাকলেও করের ভার বহন করতে হচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন করছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেন এবং রপ্তানি আয়ের ওপর আরোপিত উৎস কর কমানোর আহ্বান জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে এখনো যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেয়ার সময় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপরে আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানোর এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা করের বোঝা না বাড়িয়ে ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ গঠনেরও আহ্বান জানায়।

    শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামোকে সহজ ও ব্যবসা-বান্ধব না করা হয়, তাহলে দেশের রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে জ্বালানি স্থিতিশীল করা এবং কর সংস্কারে দ্রুততা আনার ওপর তাদের জোর দাবী।

  • অভিযোগ: ফিলিস্তিনি শিশুদের অপহরণ ও হত্যা করছে ইসরায়েল

    অভিযোগ: ফিলিস্তিনি শিশুদের অপহরণ ও হত্যা করছে ইসরায়েল

    গাজার যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিখোঁজ হওয়া এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা তাদের আটক ও স্থানান্তরের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অধিকারকর্মী বলছেন, এসব ঘটনা বিচারহীনভাবে ঘটছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

    ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা থেকে অনেক শিশুকে অভিযোগ বা বিচারের সুযোগ না দিয়েই আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে ত্রাণ শিবির থেকে — এমনই একটি মামলায় ১৬ বছর বয়সী ওমর নিজার মাহমুদ আসফুরকে একটি ত্রাণ শিবির থেকে আটক করে সামরিক কারাগারে নেওয়া ও নির্যাতন করার কথা বলা হয়েছে।

    কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে শিশুদের জিজ্ঞাসাবদীর সময় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, এমনকি পানির খোঁজে বের হওয়া শিশুদের ওপর ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আচরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত আইনভঙ্গ বলে বহু সংগঠন উল্লেখ করছে।

    সেভ দ্য চিলড্রেন-এর তথ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে — অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, কেউ কেউ গণকবরের মধ্যে, আবার অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানায়। যুদ্ধের কারণে এক বিশাল সংখ্যক শিশু তাদের অভিভাবক থেকে বিচ্ছিন্ন বা এতিম হয়েছে এবং পরিবারগুলো বন্দি বা নিখোঁজ সন্তানের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না।

    জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ থাকা দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে; মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছেন, এই ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিক ত্রাস ও মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগকে জোরালো করছে।

    অপরদিকে, ইসরায়েলের কনেসেটে (পার্লামেন্ট) একটি বিতর্কিত আইন পাসের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। ওই আইনের অধীনে অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে ধরে আনা বন্দিদের ওপর হত্যাসহ ঘনিষ্ঠ আঘাতের দায়ে আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনপ্রণেতারা, আর সমালোচকরা বলছেন এই আইন আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক নিরাপত্তা সীমিত করে।

    বিবাদিত আইনের কিছু নানা ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কারারক্ষীদের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করা যেতে পারে, বিনা জনসম্মুখে পরিচয় গোপন রাখা যেতে পারে, বন্দিদের বিশেষ কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রাখা ও সাক্ষাতের সুযোগ কড়া শর্তে সীমাবদ্ধ করার কথাও বলা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব ব্যবস্থার ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনি সুরক্ষা কমে যাবে এবং হয়ত নির্যাতন বা বিচারহীনতা আরও বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানে ও কূটনীতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। অধিকারকর্মীরা দাবি করছেন — নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, আটক শিশুদের দ্রুত ও অন্তরায়হীন বিচারবিভাগে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারগুলো তাদের সন্তানের সন্ধান কামনা করে বসে আছে, আর বিশ্ব এমন অভিযোগের প্রতি নিরব থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে।

  • ইরানের নতুন প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

    ইরানের নতুন প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

    ইরানের তিন স্তরীয় শান্তি প্রস্তাবের পারমাণবিক ইস্যু প্রথম দফায় নয়—এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাবে ‘‘সন্তুষ্ট নন’’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন একটি কর্মকর্তা। এই তথ্য মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

    রয়টার্স উদ্ধৃত ঐ কর্মকর্তার সঙ্গে, ‘তিনি (ট্রাম্প) এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন’—এরকম মন্তব্য করা হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন।

    ইরানের নতুন প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য তিনটি পর্যায় নির্ধারিত করা হয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি প্রথম পর্যায়ে নেই—এটি যুদ্ধে অবসান ও পারস্য উপসাগরে নৌপরিবহন বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির পরে তৃতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ কারণেই ওয়াশিংটনে আপত্তি তৈরি হয়েছে।

    প্রস্তাবের প্রথম পর্যায়ে দাবি করা হয়েছে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে যাতে ইরান ও লেবাননে আর আগ্রাসী হামলা না হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে, প্রথম ধাপ মেনে নেয়া হলে, হরমুজ প্রণালি (স্ট্রেইট অব হারমুজ) ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কাঠামো নিয়ে আলোচনা চালানো হবে। তৃতীয় পর্যায়ে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার সুচনা হবে।

    ইরান জানিয়েছে, যদি ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে বসতে চায়, তবে নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আলোচনা সম্ভব। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত দুই দিনে পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করেছেন। তিনি ওই দেশে গিয়ে হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি বিষয়ক তেহরানের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেছেন এবং সেগুলোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

  • খুলনায় সোনা মিয়া হত্যার সন্দেহভাজন ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেপ্তার

    খুলনায় সোনা মিয়া হত্যার সন্দেহভাজন ‘ন্যাটা’ রনি গ্রেপ্তার

    র‌্যাব-৬ খুলনার খালিশপুরে তাঁতীদল নেতা সোনা মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো: রনি ওরফে ‘ন্যাটা’ রনিকে গ্রেপ্তার করেছে।

    গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন মিঠুর বিআরটিসি বাস কাউন্টার থেকে আটক করা হয়।

    র‌্যাব মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সোনা মিয়া হত্যা মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন আসামি রনি। হত্যাকারীর খোঁজে সে মামলার পর থেকে গোপনে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে পালিয়ে ছিল।

    র‌্যাব-৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পরে রনির অবস্থান বাগেরহাটে। সে তথ্যের ওপর দ্রুত কুশলতা দেখিয়ে সন্ধ্যার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত রনির বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া খালিশপুর থানার এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে খালিশপুর থানাへ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • হাম-রুবেলা টিকা প্রচারে খুলনায় জেলা পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি সভা

    হাম-রুবেলা টিকা প্রচারে খুলনায় জেলা পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি সভা

    হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলার মধ্যে খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা পর্যায়ের একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের নিচে থাকা প্রতিটি শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

    সভায় বক্তারা হাম-রুবেলার কারণে সৃষ্ট সংক্রমণকে মারাত্মক উদ্বেগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য এবং আর কোনো শিশুকে এ রোগে ভুগতে বা প্রাণ হারাতে দেখার উপায় নেই। তারা জানান, প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকাদান থেকে বঞ্চিত থাকে; তাই প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতন ও দায়িত্ববান হওয়ার আহবান জানানো হয়। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে বলেছে যে এই ক্যাম্পেইনে কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে।

    শিক্ষা ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা আহ্বান জানিয়ে সভায় ইমামদের প্রতি আবেদন করা হয়েছে—জুমার খুতবা ও অন্যান্য নামাজের আগে হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার অনুরোধ করা হয়।

    খুলনা সিভিল সার্জন মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর ও বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের উপআঞ্চলিক পরিচালক মোঃ মামুন আক্তার।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এবং টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করেন।

    অ্যাডভোকেসি সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম সমন্বয় ও প্রচারণা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

    উল্লেখ্য, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২০ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনটি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলছে। সকল অভিভাবককে অনুরোধ করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ে তাদের যোগ্য শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে, যাতে এ মহামূল্যবান প্রতিরোধী টিকা সব শিশুর কাছে পৌঁছে যায়।