Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • অদিতা হত্যায় গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনির মৃত্যুদণ্ড

    অদিতা হত্যায় গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন ‘অদিতা’ হত্যা মামলায় একমাত্র আসামী গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সেলিম শাহী রায়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার আগের দিন ধার্য ছিল ১৫ এপ্রিল, তবে তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ঘটনার রাতেই অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাঁর দেয়া তথ্য অনুসারে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    নিহত অদিতা (১৪) নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের কন্যা। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

    পরিবার ও তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিংয়ে ভর্তি হলে রনি ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার দিন দুপুরে অদিতার মা বাড়িতে না থাকায় রনি বাসায় ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন; ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে অদিতাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে এবং ঘটনাস্থল অগোছালো করে ধরতে চেষ্টা করেন।

    অভিযানকারীরা জানান, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের চিহ্ন ও তার পোশাকে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

    নিহতের পরিবার রায়ের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমার মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার পেয়েছেন। খুনির রায় কার্যকর হোক, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন বর্বরতা করার সাহস না পায়।’’

    এ হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালী ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে; বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

  • জামায়াত আমিরের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে পা বাড়াচ্ছে

    জামায়াত আমিরের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে পা বাড়াচ্ছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, এক সময় আমরা বিএনপির সঙ্গে একই শিকলে মজলুম ছিলাম, কিন্তু এখন তারা এমন পথে হাঁটছে যা কখনো আওয়ামী লীগের মত হওয়ার যোগ্য নয়—সর্বোচ্চে দুর্বল আওয়ামী লীগ মাত্র হবে। যে আওয়ামী লীগ একসময় জাতিকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজ করত, আজ বিএনপি ঠিক একই রীতির আচরণ শুরু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধিতার সময় তাদের পোষা লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্থানে কর্তৃত্ব কায়েম করছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই লাঠিয়ালরা তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, রাষ্ট্রের মূল কাঠামোতে যে পরিবর্তন দরকার—সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের দখলে দেওয়ার জন্য—প্রতি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে যাচ্ছে। তিনি এটিকে জাতির সঙ্গে সুচিন্তিত প্রতারণা আখ্যা দেন এবং বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে।

    শফিকুর রহমান স্মরণ করিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন বাজি রেখে লড়েছে—মায়েরা, বাবারা, ভাই-বোনেরা, ছাত্র-ছাত্রীরা—তাদের ত্যাগ ছাড়া আজকের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তিনি শহীদ পরিবারদের প্রতি রাজনैतिक দলের দুর্বলতার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তাদের কষ্টের সময়ে রাজনীতিকরা তাদের কাছে ছুটে যাননি।

    এক অপার্থিব স্মৃতি বর্ণনা করে তিনি জানান, যারা বিদেশে ছিলেন, তারা বিপ্লব না হলে হয়তো দেশে ফিরতেও পারতেন না। তিনি জেলের সময়ের কিছু ঘটনা তুলে ধরেন এবং বলেন, অনেকেই এখন খোদার এই দান ভুলে গিয়ে সমগ্র আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের দাবি করছে, যা তিনি আত্মসাৎ বলে অভিহিত করেন। তবু তিনি স্পষ্ট করেন—কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করা হবে না; আন্দোলনে সবাইই অংশ নিয়েছিল।

    ডা. শফিকুর জনগণকে স্মরণ করাতে বলেন, জুলাই আন্দোলনের নায়করা সেই নৌকে বিকশিত করে ঘাটে নিয়ে এসেছেন; তাদের মর্যাদা জানানো এবং সম্মান প্রদর্শন করা শেখা দরকার। ছাত্র-সমাজ, শ্রমিক ও মা-বোনেরা তখন বিপুল আত্মত্যাগ করেছে—এই দিনগুলো ভুলে যাওয়া চলবে না।

    সংসদীয় অভিযোজন নিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই জামায়াত সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল। আমরা শপথ নিয়েছি, তারা শপথ নেননি—এতে জাতির প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইন ও অধ্যাদেশ না পাল্টালে পুরনো স্বৈরাচারী ধাঁচের শাসন রয়ে যাবে এবং বিএনপি সেই পুরোনো অবস্থানের পক্ষে রয়েছে।

    ভাইসাইকেলে আক্রমণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত সহিংসতা ও ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হওয়ায় স্পষ্ট বার্তা গেছে—বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে এবং ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

    জামায়াত আমির বলেন, তারা যেই বাংলাদেশ চান না, সেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তায় বের হতে পারবে না; শিশু-কিশোর নির্দ্বিধায় স্কুল-কলেজে যেতে পারবে না; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুরি-কুটিরের বদলে খাতা-কলম থাকবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিগত চরমপন্থী বা গ্যাং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে ছাত্রদের পথ আটকাতে পারবে না—এই সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।

    ডা. শফিকুর হুঁশিয়ারি দেন, যদি এই সংস্কৃতি বদলano না হয়, তাহলে জুলাই কেবল ২৪ সালের নির্দেশক নয়, বরং প্রতিবার ফিরে আসবে; একদিন তা ফ্যাসিবাদের শেষকাত্র রচনা করবে। তিনি সবাইকে শুভবুদ্ধি দেখিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান।

    শেষে তিনি সতর্কভাবে বলেন, যদি গণভোটের রায় মেনে নেওয়া না হয়, তাদের সংগ্রাম সংসদের ভেতরেই চালিয়ে নেয়া হবে এবং দরকার হলে খোলা মাঠেও লড়াই চালানো হবে, ইনশাআল্লাহ।

  • নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে

    নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিক — এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের পথে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে নাহিদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন রনি সহ কয়েকজন নতুন সদস্য এনসিপিতে যোগ ঘোষণা করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় সশরীর উপস্থিত ছিলেন না।

    নাহিদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। এই নির্বাচনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী লিগ্যাসি থেকে আলাদা করে সাধারণ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত করা হয়েছে। সংবিধান ও উদ্দীপক সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হচ্ছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্নভাবে ব্যাংক লুটেরাদের পুনরায় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি ফিরে আনার চেষ্টা হচ্ছে।

    এনসিপি নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র চালু করার চেষ্টা হলে জনগণ আবার সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির শীর্ষ ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে — আমরা সারা দেশ থেকেই একযোগে সাড়া পাচ্ছি।’ তিনি তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’

    নাহিদ আরও বলেন, ‘এনসিপি সারাদেশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি থাকবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি — এদেশকে আর বিপথে যেতে দেব না। যারা রাজনীতি করতে চান এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে এগোতে চায়।’

    বর্তমান সরকারের প্রতি কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, ‘সরকার ক্রমে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি টালমাটালে, দেশের গণতন্ত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে যথার্থ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই সংকট মোকাবেলায় জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’

    উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে নতুনদের নাম ঘোষণা হওয়ার পর নাহিদ ইসলাম তাদের মঞ্চে ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ এবং এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সিঙ্গার-বেকো এর ‘ঈদুল আযহা ভরপুর সল্যুশন অফার’ — কার্ড ঘষলেই জিতুন হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্স

    সিঙ্গার-বেকো এর ‘ঈদুল আযহা ভরপুর সল্যুশন অফার’ — কার্ড ঘষলেই জিতুন হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্স

    ঈদুল আযহার আনন্দ আরও বাড়াতে সিঙ্গার-বেকো ঘোষণা করেছে ‘ঈদুল আযহা ভরপুর সল্যুশন অফার’ ক্যাম্পেইন, যেখানে গ্রাহকরা পাচ্ছেন হাজার হাজার ফ্রি পণ্য ও আকর্ষণীয় ছাড়ের সুযোগ। উৎসবের সময়ে কেনাকাটাকে আনন্দদায়ী ও স্মরণীয় করতে এই বিশেষ অফার চালু করা হয়েছে।

    যেকোনো সিঙ্গার-বেকো স্টোর থেকে কেনাকাটা করলেই গ্রাহকরা পাবেন একটি সল্যুশন কার্ড। সেই কার্ড ঘষলেই জানা যাবে আপনার আনন্দ—আপনি জিততে পারেন হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্সের একটি সম্পূর্ণ সেট। এই হাউসফুল সেটে আছে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, গ্রাইন্ডার এবং গ্যাস বার্নার।

    বড় প্রাইজের পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কেনাকাটায় গ্রাহকেরা পেতে পারেন টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, গ্রাইন্ডার বা গ্যাস বার্নারের মতো যেকোন একটি আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ। তাছাড়া প্রত্যেকেই উপকৃত হবেন নিশ্চিত ডিসকাউন্ট থেকে, যা এই ঈদে পরিবারের ব্যবহার্য পণ্যগুলো আপগ্রেড করা সহজ করে দেবে।

    এই ক্যাম্পেইনটি আধুনিক পরিবারের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় রেখেই সাজানো—লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারের ঈদ শপিংকে আরও আনন্দময় করা।

    অফারটি ঈদুল আযহার আগের দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং সারা দেশের সকল সিঙ্গার-বেকো রিটেইল স্টোর ও অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে পাওয়া যাবে। বিস্তারিত জানতে নিকটস্থ সিঙ্গার-বেকো আউটলেটে যোগাযোগ করুন অথবা ২৪/৭ টোল-ফ্রি কাস্টমার সার্ভিস নম্বর ০৮০০০০১৬৪৮২-এ কল করুন।

  • একদিনের ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    একদিনের ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দামে কৃমি রেকর্ড করা গেছে—ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    বাজুস বুধবার, ২৯ এপ্রিল সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২,৪২,৪৯৫ টাকা। অন্য ক্যারেটগুলোর দাম রাখা হয়েছে—২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,৩১,৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১,৯৮,৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১,৬১,৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সকালেও বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল; সে সময়ও ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছিল ২,৪৪,৭১১ টাকায়। এবার নতুন সমন্বয়ে আরও कमी এসেছে।

    স্বর্ণের পাশাপাশি দেশি রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫,৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩,৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৫৮ বার—যেখানে মূল্য বাড়ানো হয়েছে ৩২ দফায় এবং কমানো হয়েছে ২৬ দফায়। তুলনামূলকভাবে গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৯৩ বার; সেই সময়ে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    রুপার ক্ষেত্রে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৬ দফা সমন্বয় হয়েছে—এর মধ্যে ১৯ দফায় দাম বেড়েছে এবং বাকি ১৭ দফায় দাম কমিয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; তাতে ১০ বার দাম বাড়ানো এবং ৩ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    বাজুসের এই নিয়মিত সমন্বয় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, সোনার মূল্য সূচক ও ক্রেতা–বিক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় করা হয়, যা বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দিনযাপনকে চিত্রায়িত করে।

  • হিমন্ত বিশ্বশর্মা: প্রার্থনা করি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নতি না হয়

    হিমন্ত বিশ্বশর্মা: প্রার্থনা করি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নতি না হয়

    আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের মতো বজায় থাকে এবং পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়ে না। তিনি এ কথাগুলো বলেছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপির সঙ্গে একটি দীর্ঘ আলাপচারিতায়, যার কিছু অংশ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাক্ষাৎকারটি ১৫ এপ্রিল সম্প্রচারিত হয়েছিল।

    হিমন্তের বক্তব্যের অন্যতম কটাক্ষ — ‘‘আমি তো রোজ সকালে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি — (বাংলাদেশের সঙ্গে) যে পরিস্থিতি ইউনুসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।’’

    সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কীভাবে সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ঘন রাতের অন্ধকারে ধাক্কা দিয়ে ফেরত পাঠায়, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তার কথায়, কবে কীভাবে ‘‘পুশ‑ব্যাক’’ করা হয়, তা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর; কখনও ১০ দিন, কখনও ২০-৩০ বা ৪০ দিন ধরে আটক রাখা হয় এবং যেখানে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর, এখন বিজিবি) নেই সেসব স্থানে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বশর্মা সাক্ষাৎকারে বিজিবির পূর্বের নাম ‘বিডিআর’ই উল্লেখ করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, আইনি পথে কাউকে ফেরত পাঠাতে চাইলে পুরো বিষয়টাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়; এরপর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হয় যে তারা কাকে গ্রহণ করবে। ‘‘এইজন্য আপনি ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবেন না, বাংলাদেশ কাউকেই বাংলাদেশি বলে স্বীকার করে না,’’ তিনি বলেন এবং তা মিলিয়ে বিন্দুমাত্র বিকল্প হিসেবে পুশ‑ব্যাক অনুশীলিত হচ্ছে বলে দাবি করেন।

    হিমন্তের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ঢাকায় রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর ঘোষণা দেয়—বিশ্লেষকরা বলছেন দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর সঙ্কেত দেওয়ার জন্য এটি করা হয়েছে। এ সময় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য অনেককে বিস্মিত করেছে।

    আইনি প্রশ্নও উঠেছে। বিশ্বশর্মা যে ‘‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০’’ আইনের কথা উল্লেখ করেছেন, আইনজ্ঞদের একাংশ বলছেন ওই আইন দিয়ে সাধারণত এ রকম পুশ‑ব্যাক করা যাবে না, কারণ তা নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের জন্যই প্রণীত হয়েছিল। গৌহাটি হাই কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে ভাসমান সীমান্ত জটিলতা এভাবে সমাধান করা সহজ নয় এবং আইনগত বাধা রয়েছে।

    এবিপির সাংবাদিক মেঘা প্রসাদের প্রশ্নে হিমন্তের কথায় তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমাদের ভালো লাগে যখন ভারত‑বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকে না, কারণ যখন সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়, তখন ভারত সরকারও চায় না পুশ‑ব্যাক করতে।’’ মেঘা মন্তব্য করেন, ‘‘এটা তো ভারত‑বিরোধী কথা হয়ে যাচ্ছে।’’ জবাবে বিশ্বশর্মা বলেন, ‘‘আমি তো প্রতিদিন সকালে সবসময়ই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি… আমি তো মনের কথা বললাম।’’

    বিশ্লেষক ও অধ্যাপকরা মন্তব্য করেছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুটি দুটি দেশের মিলিত সমাধান চাই। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, অনুপ্রবেশের সমস্যা শুধু আসামের নয় — এর সঙ্গে পরিচয়পত্র, ভিতরে মিলাপ্ত প্রক্রিয়া, প্রশাসন—all মিলিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তিনি এমন অসাবধানিক মন্তব্য সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে না এবং ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    অন্য দিকে ঢাকা‑পদস্থ কূটনীতিবিদরা—যেমন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী—মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন না করলেও বলেন, ‘‘এটা নতুন কিছু নয়’’; অনেক সময় সীমান্তে পুশ‑ব্যাক হওয়ার বাস্তবতা থেকেও তারা অনুধাবিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে এবং ধৃতদের দ্রুত ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনে কিছু ছোটখাটো অনুশীলন শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

    আইনগতভাবে ছালাও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কিছুক্ষেত্রে পুশ‑ব্যাক করা ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত বা প্রশাসন, ফলে লোকদের ফেরত নেওয়া হয়। এইসব দৃষ্টান্ত দেখিয়ে আইনজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কাজের ধরণ প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার মতো হওয়া উচিত।

    হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্য রাজনীতি, আইন ও কূটনীতির সীমানায় এক সতর্ক চিন্তার উদ্রেক করেছে। দুই দেশের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে হলেও সীমান্ত, জনগণ ও আইনি প্রক্রিয়া—এসব বিষয়কে সম্মিলিতভাবে বিচার করে সমাধান খোঁজার ওপর বিশেষ জোর রাখতে হবে, এমনই মত বিশ্লেষকদের।

  • নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিলে ভিসা বাতিল হবে: মার্কিন দূতাবাস

    নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিলে ভিসা বাতিল হবে: মার্কিন দূতাবাস

    ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, শুধুমাত্র সন্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকলে ভিসা আবেদন বাতিল করা হবে। দূতাবাস এই সতর্কবাণী বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে।

    পোস্টে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ভ্রমণের মূল লক্ষ্য যদি শিশুর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া হয়, সেই উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবহার করা অনুমোদিত নয়। কনস্যুলার কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে আবেদনকারীর প্রধান উদ্দেশ্যই এটি, তাহলে তারা ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখেন।

    দূতাবাস আরও স্মরণ করিয়েছে যে, ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অনিবার্যভাবে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। শনিবার (২৮ মার্চ) দেয়া এক পৃথক বার্তায় দূতাবাস বলেছিল যে, ভিসা থাকলেও একজন ভ্রমণকারীকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের একমাত্র অধিকার আছে আমেরিকার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের।

    দূতাবাস বাস্তুতই বলেছে যে, ভিসা থাকলেও ইউএস-এ প্রবেশের সময় এবং কতদিন থাকার অনুমতি দেয়া হবে তা নির্ধারণ করে প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা; তারা প্রয়োজন মনে করলে কাউকেই প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।

    শুভেচ্ছাসূচক সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, পারমিটের মেয়াদ অতিক্রম করে থাকা বা ভিসার ধরণের বাইরে অননুমোদিত কাজ (যেমন পর্যটক ভিসায় গিয়ে কাজ করা) করা গুরুতর বিষয়। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।

    দূতাবাসের এই বার্তায় ভ্রমণ পরিকল্পনা করার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক ও আইনসভাপরায় থাকার আহ্বান করা হয়েছে।

  • মোংলা-বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    মোংলা-বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও বৈশাখী মৌসুমি বায়ুর জোরে মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুদিন ধরে চলা টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণের ফলেই উপকূলীয় জনপদে জীবনযাত্রা স্তব্ধের উপক্রম; সাগর উত্তাল ও দমকা হাওয়ায় পুণরায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও জেলে-কালজারদের কাজ প্রায় বন্ধের পথে।

    বন্দর সূত্রে জানা যায়, হারবাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন প্রকৃতিই মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধানত সার, কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী জাহাজে কাজ বন্ধ বা বিলম্ব হচ্ছে; অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যবাহী জাহাজেরও কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টির ফলে পণ্যের ভেজে যাওয়ার আশঙ্কায় কার্গো বা লাইটার জাহাজে লোডিং-আনলোডিং থমকে যাচ্ছে, ফলে বন্দরের বাণিজ্যিক কাজ কাঁপছে।

    সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চর, কানাইনগর ও জয়মনি এলাকায় ছলনা জেলে ও চরাঞ্চলের মানুষ জানিয়েছেন, সাগর উত্তাল হওয়ায় এবং ভারী বৃষ্টির কারণে তারা নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না। বনভিত্তিক কার্যক্রমেও খণ্ডকালীন বিঘ্ন: গোলপাতা সংগ্রহকারী বাওয়ালি ও মৌয়ালরা বন থেকে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয়ের উৎসও ব্যাহত হয়েছে।

    টানা বৃষ্টির প্রভাবে মোংলা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজের কারণে রাস্তাঘাটে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে; দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষদের কাজের সন্ধানও মিলছে না, যা এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কষ্ট বাড়িয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তাই মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অধিদফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সাগর এলাকায় থাকা সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    মৎস্যচাষিরা জানান, যদি টানা বৃষ্টি চালিয়ে যায় তবে চিংড়ি ঘের ডুবি কিংবা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়ায় চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থাও রয়েছ। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান বলেন, হারবাড়িয়ায় সার, কয়লা ও ক্লিঙ্কারসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে; বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়া শিথিল হলে বন্দরের কাজ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।

    আবহাওয়া ও সমুদ্রসতর্কতা মিলে স্থানীয়দের সচেতন থাকার উপদেশ দিয়েছেন। নিরাপদ স্থানে অবস্থান, প্রয়োজন ছাড়া নয়েজান করা এবং মৎস্যজীবী ও পর্যটনসংক্রান্ত নৌযানগুলোকে অনতিবিলম্বে উপকূলীয় নিরাপদ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নড়াইলে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে, দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে বুধবার সকালে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের পাশে থাকা একটি পুরনো নারিকেল গাছ ঝড়ে ভেঙে শ্রেণিকক্ষের ওপর পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ এপ্রিল বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে ছোট কালিয়া এলাকায়।

    আহতদের মধ্যে এক জন সিয়াম শেখ (১১), তিনি ছোট কালিয়া গ্রামের নুর জামালের ছেলে। অপরটি মাজেদুল ইসলাম (৯), তিনি রামনগর গ্রামের জহির শেখের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে তীব্র ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পুরনো নারিকেল গাছটি ভেঙে পড়ে নিচে থাকা টিনের শ্রেণিকক্ষের ওপর। এতে ক্লাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং দুই শিশুকে গুরুতর অবস্থায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সিয়াম শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ঘটনার পরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষ আহতদের দ্রুত তত্ত্বাবধান ও চিকিৎসার নির্দেশ দেন।

    অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারিকেল গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি ছাঁটাই বা অপসারণ করেনি, এ কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বশীলদের গাফিলতির অবাধ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ধাঁচা রিযায়েতরা। শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলে এলাকাবাসী জানান।

    কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জানান, আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলের সকল কাগজপত্র তলব করা হয়েছে; কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা পদত্যাগ করলেন

    শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা পদত্যাগ করলেন

    বুধবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) অপ্রত্যাশিতভাবে একটি বড় পরিবর্তনের মুখে পড়ল — প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একদিন আগে বিশেষ এক কমিটির বৈঠকে এই পদত্যাগকে অনুমোদন করা হয়।

    জানানো হয়েছে, দেশের প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের অনুরোধে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক চাপ মেটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের ওপর জনরোষ বাড়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকের সঙ্গে শাম্মি সিলভার বৈঠক হয়; তাতেই এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বিদায়ের রূপরেখা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

    সরকার এখন এক অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ইরান বিক্রেমারত্নের নাম সবচেয়ে জোরালভাবে আলোচনায় আছে। দ্রুত সংস্কার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সাবেক ক্রিকেটার সিদাথ ওয়েটিমুনি এবং রোশন মহানামাকেও নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে; তবে এ সম্পর্কে এখনও কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    এসএলসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে শাম্মি সিলভা আজ থেকে কার্যকরভাবে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুনীল কুমার গামাগেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

    শাম্মি সিলভা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন; তিনি থিলাঙ্গা সুমাথিপালার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং চারটিই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম দিকে সুমাথিপালার অনুসারী হিসেবে দেখা গেলেও পরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন—তার চারটি মেয়াদের তিনটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই জয়ী হয়েছিলেন।

    তার শাসনামলে শ্রীলঙ্কা পুরুষ ও নারী দল এশিয়া কাপ উপাধি নিশ্চিত করলেও বড় কোনো বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য মেলেনি; র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নবম স্থান ও ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়। এমনকি গ্যারি কার্স্টেনকে প্রধান কোচ নিযুক্ত করলেও বোর্ডের নেতৃত্ব বদলের দাবিতে সিলভার প্রতি চাপ কমেনি।

    সিলভা প্রায়ই বোর্ডের শক্ত আর্থিক অবস্থার কথা বলেছেন, কিন্তু তার রাষ্ট্রকাল ধরেই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের শেষ ভাগে বিষয়টি তীব্র আকার ধারণ করে, যখন তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রী রোশন রানাসিংহে অডিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় সিলভাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু আপিল আদালতের রায়ে তিনি দ্রুতই স্বপদে ফিরে আসেন—এই সংঘাতটি মন্ত্রী ও বোর্ডের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত রানাসিংহের পদত্যাগের পথ প্রশস্ত করে।

    বর্তমান পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং ইরান বিক্রেমারত্নের সম্ভাব্য নিয়োগ কিছু আইনি অসুবিধার মুখে পড়েছে। এসএলসি-র সংবিধান অনুযায়ী কোনো শীর্ষ পদ শূন্য হলে কার্যনির্বাহী কমিটিকে একজন ভাইস-চেয়ারম্যানকে শীর্ষে নিয়োগ দিতে হয়; কিন্তু ভাইস-প্রেসিডেন্ট জয়ন্ত ধর্মাদাসাও পদত্যাগ করায় সেই স্বাভাবিক ক్రమবিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে। বোর্ড এখন ১৯৭৩ সালের স্পোর্টস আইন (আইন নং ২৫) এর ৩৩ নম্বর ধারাকে নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে তুলে ধরছে যাতে নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সরকারী হস্তক্ষেপ-প্রতি কঠোর মনোভাব। আইসিসি যেকোনো সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে ২.৪(d) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে। এমনটি ঘটলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে—গত রাতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে যখন বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তখনই আইসিসি শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল, যার ফলে দেশটি তহবিল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলাতে হয়েছিল।

    সরকার এই ঘটনাকে আইসিসির নজর এড়াতে কৌশলগতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে—বোর্ডকে সরাসরি বরখাস্ত না করে ‘‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’’ হিসেবে দেখানো যাতে এটি প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হয়। তবে যদি আইসিসি মনে করে যে পদত্যাগগুলো সরকারের চাপ বা দখলের ফলাফল, তাহলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট আবারও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এখন সময়—প্রতিষ্ঠান ও সরকারের পক্ষ থেকে কী পথে এগোয়া হবে এবং আইসিসির প্রতিক্রিয়া কিরূপ হবে—এসবই নির্ধারণ করবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নিকট ভবিষ্যৎ।