Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আমি নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছি: মেহজাবীন

    আমি নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছি: মেহজাবীন

    প্রখ্যাত পর্দার অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় থাকছেন। তিনি নিজের জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত শেয়ার করেন, কখনো সুখের, আবার কখনো অপ্রিয় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। এবার তিনি একটি официаль বার্তায় জানালেন, তার ওপর বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অপপ্রচার ও টার্গেটিং করা হচ্ছে।

    রোববার সকালে ফেসবুকে এক পোস্টে মেহজাবীন লিখেছেন, কিছুদিন ধরেই আমাদের লক্ষ্য করে নানা বিষয়ে ট্রিগার করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে একটি মিথ্যা মামলায় তার হয়রানি হয়েছিল, যার বিচার আদালত মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচার দিয়ে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে যখন তিনি নতুন করে কাজে মনোযোগী হচ্ছেন, তখনই আবার তার বিরুদ্ধে মানহানি ও অপপ্রচারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    অভিনেত্রী আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অদ্ভুত কিছু ছবি ও ভিডিও এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে, যা তার মতো আরও অনেক আর্টিস্টের জন্য খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, নারীরা আজকাল সহজ লক্ষ্য হিসেবে পরিণত হচ্ছে এবং এর পেছনে কে বা কারা জড়িত তা তিনি জানেন না।

    মেহজাবীন বলেন, আমি শুধুই আমার কাজের প্রতি মনোযোগী থাকতে চাই, যেন আমার কাজের মাধ্যমে সবাই আমাকে জানেন। আমি আশাবাদী, আমার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা תמיד পাশে থাকবেন।”

    অভিনেত্রীর এই মন্তব্যের পর ভক্ত ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার কেউ বিষয়টি তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

    উল্লেখ্য, মেহজাবীন চৌধুরী বর্তমানে বেশ কিছু বিতর্কের মধ্যে রয়েছেন। তিন মাস আগে পারিবারিক ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছেন। তবে পরবর্তী সময়ে আদালত তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

    সম্প্রতি একটি বিষয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যেখানে জানা যায় যে, ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ফিরে আসার সময় তার সঙ্গে স্বামী মদসহ আটকা পড়েছেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি, তবে এসব অভিযোগের জেরেই নিজের মানহানির দাবি করেছেন তিনি।

  • রাশমিকা এবং বিজয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন, কোথায় হবে অনুষ্ঠান

    রাশমিকা এবং বিজয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন, কোথায় হবে অনুষ্ঠান

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবারাকুন্ডার বিবাহের খবর কেবলমাত্র গুঞ্জন নয়, তারা নিজেও এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের খবর নানা মহলে আলোচিত হলেও দুজনই খোলসা করে বলছিলেন না। অবশেষে তারা নিজেদের বিবাহের বিষয়ে মুখ খুলেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন।

    ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এই বিশ্বখ্যাত তারকা জুটি নিজেদের বিয়ের নাম দিয়েছেন “দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ”। এই নামটির প্রচলন মূলত ভক্তদের কাছ থেকে এসেছে, যারা বহু বছর আগে তাদের দুজনের জন্য এই নামটি সৃষ্টি করেছিলেন। তারা ভক্তদের ভালোবাসা আর সমর্থনকে সম্মান জানাতেই বিয়ের নামে এটাই রাখছেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি, রাজস্থানের উমেদপুরে পারিবারিক উৎসবে সম্পন্ন হবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান।

    বিয়ের ঘোষণা প্রকাশ করে তারা এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রিয় বন্ধুরা, আমাদের জন্য অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন—অর্থাৎ ‘বিরোশ’ নামে একটি নাম আমাদের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তাই আজ, আমাদের এই বিশেষ দিনে, আপনাদের ভালোবাসা আর শুভকামনা নিয়ে আমরা নিজেদের নতুন জীবন শুরু করব—‘দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ’। এত ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। আপনি সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর রাশমিকা ও বিজয় কলকাতা, হায়দরাবাদ এবং মুম্বাইয়ে আলাদা আলাদা রিসেপশনের আয়োজন করবেন। এই অনুষ্ঠানে থাকবে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা ও তাদের কাছের বন্ধু-বান্ধব। এই নতুন জীবন শুরু করার জন্য তারা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তাদের শুভকামনা প্রত্যাশা করছেন সকলের।

  • কলকাতায় ‘গ্যাংস্টার’ লুকের শাকিব খান, প্রকাশ্যে শুটিংয়ের ছবি

    কলকাতায় ‘গ্যাংস্টার’ লুকের শাকিব খান, প্রকাশ্যে শুটিংয়ের ছবি

    আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। ইতোমধ্যে সিনেমাটির শুটিংয়ের প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড ավարտের পথে, যেখানে শাকিব কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গত কয়েক দিন ধরে কলকাতার বৌবাজার, হাওড়া ও আলিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এই সিনেমার দৃশ্যধারণ চলছে। এর মধ্যেই ভারতীয় বাংলা ভাষার জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে শাকিব খানকে নতুন লুকে দেখা গেছে, যা বেশ আলোচনায় এসেছে।

    ছবিতে দেখা যায়, শাকিব এক নব্বই দশকের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ‘কালা জাহাঙ্গীর’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। তার অগোছালো চুল, ঘন দাড়ি-গোঁফ এবং বুক খোলা জ্যাকেটের নিচে শার্ট পরিহিত এই চরিত্রকে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ ভিন্ন এক রূপে উপস্থাপনা করেছেন। সিনেমায় দেখানো হবে, সাধারণ গৃহিণী থেকে কীভাবে একজন দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার হিসেবে তিনি পরিণত হন, সেই মনস্তাত্ত্বিক ও গল্পের বাঁক এবার ফুটিয়ে তুলছে এই সিনেমা।

    আনন্দবাজারের খবরে জানা গেছে, এর শ্যুটিংয়ের প্রথম পর্যায় শুরু হয় ৯ ফেব্রুয়ারি হাওড়ের শালিমারের রূপপুরা একটি পরিত্যক্ত কারখানায়। সেখানে এক রাতে মারপিট ও অ্যাকশন দৃশ্যের ধরা হয়। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বৌবাজারের মাধো ভবনে এই সিনেমার অন্য দৃশ্যের কাজ সম্পন্ন হয়। বাইক চলাচলের একটি দৃশ্যের শুটিং চলাকালে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও কৌতূহল দেখা যায়। কলকাতা থেকে এই ইউনিটের ভারতের হায়দরাবাদে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আরো দৃশ্যধারণের কাজ চলবে।

    প্রসঙ্গত, শাকিবের বিপরীতে থাকছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ এবং পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের শরীফ সিরাজ ও মাহমুদ, সঙ্গে রয়েছেন কলকাতার শিল্পীরা—লোকনাথ দে, পিয়াস সরকার, মৃত্যঞ্জয় ভট্টাচার্য।

    সিনেমার চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে থাকছেন বলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘অ্যানিম্যাল’ থেকে খ্যাত চিত্রগ্রাহক অমিত রায় ও শৈলেশ অবস্থী। জানা গেছে, শুটিংটির প্রথম অংশ তার পর শেষ হয়েছে শ্রীলঙ্কায়, যেখানে মূলত প্রথম লটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সিনেমাটির দ্বিতীয় লটের কাজ বর্তমানে চলছে। এই সিনেমাটি শিলিন সুলতানা প্রযোজিত, ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে। চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে এই সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

  • কণ্ঠশিল্পী নোবেল গ্রেপ্তার

    কণ্ঠশিল্পী নোবেল গ্রেপ্তার

    বিতর্কিত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, যখন সিদ্ধিরগঞ্জের বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানার পুলিশ একটি অভিযান চালিয়ে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে। ডিএমপির ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, নোবেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে তিনি বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে তার সম্মতি নেয়ার আগেই হেনস্তা করেন এবং তার ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তোলার জন্য চাপ দেন। আদালত আগে থেকেই এই মামলার বরাত দিয়ে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ওয়ারেন্ট জারি করেন, যা পরবর্তীতে পুলিশকে তার গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীটি একদিন নোবেল কর্তৃক তার স্টুডিওতে অবরুদ্ধ হন এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরির জন্য প্রহর দেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই মামলার তদন্তের জন্য ২০২৫ সালের আগস্টে পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিবিআই এসআই নুরুজ্জামান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, এরপর আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। বর্তমানে তিনি ডেমরা থানার হেফাজতে আছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে পাঠানো হবে। ঘটনাটি দেশের ব্যাপক আলোচনায় এসেছে, যেখানে একজন জনপ্রিয় শিল্পীর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও গ্রেপ্তারির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।

  • আইনি পদক্ষেপ নিলেন মেহজাবীন চৌধুরী ভুল তথ্য ও মানহানি ঠেকাতে

    আইনি পদক্ষেপ নিলেন মেহজাবীন চৌধুরী ভুল তথ্য ও মানহানি ঠেকাতে

    অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি বিমানবন্দরে অবৈধ পণ্যসহ আটক হওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিস্তারিত পোস্টে তিনি এও জানান যে, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানহানির জন্য তিনি আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।

    পোস্টে মেহজাবীন পরিষ্কার করে বলেন, এই ঘটনার সাথে তার কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, কখনোই বিমানবন্দরে তাকে থামানো হয়নি, তার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে কিছুই আটকানো হয়নি। এমনকি প্রতিবেদনগুলোতেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই যে তার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে। তিনি গভীর আক্ষেপের সাথে উল্লেখ করেন, যে ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তার কোনো বাস্তবতা নেই। বাতিল খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ সত্যের প্রমাণ কোনোটিই নেই।

    অভিনেত্রী আরও বলেন, এই ধরনের মানহানি ও বিভ্রান্তিমূলক খবর এখন খুব সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দুঃখজনক। তিনি জানান, এসব খবরের সত্যতা যাচাই না করে অপপ্রচারের শিকার তিনি। এ বিষয়গুলো নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন, যাতে অগোছালো তথ্যের দোষী ব্যক্তিরা উপযুক্ত শাস্তি পায়।

    প্রসঙ্গত, এর আগে রোববার সকালে একটি পোস্টে মেহজাবীন জানান, সম্প্রতি তাকে নানা বিষয়ে ‘টার্গেট’ করে উক্তি চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, তিন মাস আগে পারিবারিক ব্যবসায় আর্থিক অপব্যবহার সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা সামলেছেন তিনি, যেখানে পরে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বাতিল করেন।

    সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় একটি সংবাদ মাধ্যমে, যেখানে দাবি করা হয়, ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ফেরার পথে মেহজাবীন ও তার স্বামী মদের বোতলসহ বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন। এই খবরের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এই অপ্রচারকে কেন্দ্র করে, আজ তিনি স্পষ্ট করে বললেন, তার বিরুদ্ধে এই সব অপবাদ ও মানহানি ঠেকাতে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, যাতে কেউ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর ছড়ানোর সাহস না পায়।

  • জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বড় রেকর্ড জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

    জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বড় রেকর্ড জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

    বিশ্বাসে ভরপুর ছিল জিম্বাবুয়ের দল। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে তারা সুপার টুর্নামেন্টে উঠেছিল। আশা ছিল এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যেকার মুখোমুখি লড়াইটি হবে জমজমাট। কিন্তু দর্শকদের প্রত্যাশা ম্লান করে দিয়ে পুরো ম্যাচটি ছিল একপেশে। প্রথমে ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল একটি বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ করে, এরপর জিম্বাবুয়ে সে লক্ষ্য তাড়া করতে নামলেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ২৫৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৪৭ রানে অলআউট হয়, ফলে দুর্দান্ত ১০৭ রানের জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

    বড় লক্ষ্যে খেলতে শুরুতেই মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলের পঞ্চাশের আগেই তারা হারায় ৩ উইকেট। এরপর ডিওন মেয়ার্স ২৮ ও সিকান্দার রাজা ২৭ রান করে দলের পরিস্থিতি কিছুটা টানতে থাকেন। তবে অন্যপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতনের ফলে ম্যাচে ফেরানো সম্ভব হয়নি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে ১৪৭ রানে নামিয়ে দেন।

    জিম্বাবুয়ে দলের ইনিংসে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স করেন গুড়াকেশ মোতি ও আকিল হোসাইন। দুজনই মোট ৭ উইকেট তুলে নেন। মোতি ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন, এবং আকিল ৩ উইকেট অর্জন করেন ২৭ রানে। একই সময়ে ম্যাথু ফোর্ড ২ উইকেট নেন ২৭ রানে, এবং জেসন হোল্ডার ১ উইকেট নেন। এ দিন গ্রুপ ওয়ানে এক ম্যাচে victory করে সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

    প্রথমে এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। বল হাতে নামেন রিচার্ড এনগারাভা। তিনি প্রথম ওভারেই ক্যারিবিয়ান ওপেনার শাই হোপকে আউট করেন, বলের ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে।

    এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে আসেন হেটমায়ার ও হোপ। হোপ ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন, আর হেটমায়ার এবং পাওয়েল মিলে ১২২ রানের শক্তিশালী জুটি গড়েন। এই জুটি মাত্র ৫২ বলে গড়ায়। হেটমায়ারকে ফিরিয়ে এই জুটির বিপর্যয় ঘটান গ্রায়েম ক্রেমার। তার প্রত্যাশিত সেঞ্চুরি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ডাউন দ্য উইকেটে বল খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ব্রায়ান বেনেটের হাতে ক্যাচ দেন।

    হেটমায়ার ৭ ছক্কা ও ৭ চারে ৩৪ বলে ৮৫ রান করেন। পাওয়েলও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি; ৩৫ বলে ৫৯ রানে আউট হন।

    এরপর শেরফানে রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ড দলের জন্য ইনিংস টেনেছেন। রাদারফোর্ড ১৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর জেসন হোল্ডার শেষদিকে ৪ বলে ১৩ রানে আউট হন। ম্যাথু ফোর্ড এক বলের মধ্যে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

  • আসিফ আকবরকে নেওয়া হলো বিসিবির নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান

    আসিফ আকবরকে নেওয়া হলো বিসিবির নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান

    দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততা বাড়ছে। দেশের একমাত্র ক্রিকেট সংস্থা বিসিবির নিয়মিত কার্যক্রমে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গেম ডেভেলপমেন্ট। সম্প্রতি এই বিভাগের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এক অনলাইন বৈঠকে বিসিবির পরিচালকরা নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে আসিফ আকবরের নাম ঘোষণা করেন।

    প্রথমে এই পদে ইশতিয়াক সাদেক থাকলেও, তিনি বিগত সময়ে বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর ফলে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ সভায় আসিফ আকবরকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে সবশেষ বিসিবি নির্বাচনে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করে পরিচালক পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ইশতিয়াক সাদেক। তবে, কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসে তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন, যেখানে তিনি নিজে জানান, সময়ের অভাবে এবং অন্যান্য দায়িত্বের কারণে তিনি গেম ডেভেলপমেন্টের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। আর এ কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

    তবে, বিসিবি এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে, আসিফ আকবর নির্দেশিত থাকায়, এখন তিনি টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে এবং সম্পূর্ণ জাতীয় স্তরের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটির দায়িত্বে আছেন। এই পরিবর্তন ক্রিকেটের উন্নয়নে আরও নতুন দৃশ্যমান পদক্ষেপ বলে মনে করছে বোর্ডের সূত্ররা।

  • ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাল পাকিস্তানকে হারিয়ে

    ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাল পাকিস্তানকে হারিয়ে

    সুপার এইটে ম্যাচে ইংল্যান্ড পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি। হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ এক সেঞ্চুরির কারণে ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়লাভ করে। সাহিবজাদা ফারহারহানের হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি শাহীন শাহ আফ্রিদির চার উইকেট এই ম্যাচে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ব্রুকের ৫১ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস তাকে দলের জয়ে অন্যতম কোটি করেন। এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড এক ম্যাচ আগেই সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। বর্তমানে তাদের পয়েন্ট আর ৪, অন্যদিকে পাকিস্তান একমাত্র ম্যাচেই হারল।

    ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ১৬৫ রান, যা তারা প্রথম বলেই শুরুতেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। প্রথম বলেই আফ্রিদির বলে সাহিবজাদা ফারহারহান ক্যাচ নিয়ে আউট হন। এর কিছুক্ষণ পর, অন্য ওপেনার জোশ বাটলারও আফ্রিদির বলের খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। দলের স্কোর তখন ১৭ রান।

    এরপর তিনে নামা হ্যারি ব্রুক ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন উইল জ্যাকস, যিনি ৫০ বলে ৬৩ রান করে সাহস জোগান। তবে জ্যাকসের পর, ব্রুকের ব্যাটে দারুণ অপ্রতিরোধ্যতা দেখা গেছে। ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি ও পরে ৫০ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করেন। তার এমন ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের জেতার আশাটা প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে।

    অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এটা ছিল কঠিন এক দিন। ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেননি। সাহিবজাদা ফারহারহান ৪৫ বলে ৬৩ রান করে দলের শীর্ষ স্কোর করেন। বাবর আজম ২৪ বলে ২৫ রান করে ব্যর্থ হন। শুরুতেই উইকেট হারানোর পর, তারা জুটি গড়তে চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়। ইংল্যান্ডের ডাওসন ও আর্চার দুর্দান্ত বল করেন। পাকিস্তানের শার্ল দামাধর ও নতুন ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করলেও, লক্ষ্য পৌঁছানো যায়নি।

    অবশেষে, পাকিস্তান ১৬৪ রানে অলআউট হয়। ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তনে ডাওসন তিন উইকেট ও ওয়ারটন ও আর্চার দুইটি করে উইকেট নেন, যা পাকিস্তানের জন্য বিশাল অকলঙ্ক। এই ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনে। ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ জয়, যারা টুর্নামেন্টের আরও এগিয়ে যাওয়ার পথে পা বাড়িয়েছে।

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত একই গ্রুপে

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত একই গ্রুপে

    জুন-জুলাইয়ে বাংলাদেশ এই দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। বিশ্বকাপের জন্য দলটি বাছাইপর্বে সাতটি ম্যাচের সবাই জিতে অপরাজিত থাকায় সবার আগে তারা টিকিট জিতেছে। এটি প্রথমবারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ৩৩টি ম্যাচ খেলা হবে। টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক মাঠ শুরু হবে ১২ জুন এবং শেষ হবে ৫ জুলাই। এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।

  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকলেও র‍্যাংকিংয়ে ইমন, সাইফ ও জাকেরের উন্নতি

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকলেও র‍্যাংকিংয়ে ইমন, সাইফ ও জাকেরের উন্নতি

    নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলেও বাংলাদেশের তিনজন ব্যাটার ইমন, সাইফ হাসান এবং জাকের আলি অনিকের র‍্যাংকিংয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বুধবার আইসিসির প্রকাশিত সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা যায়, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের র‍্যাংকিং তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন।

    পারভেজ হোসেন ইমন টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ উন্নতি করে এখন ৪১ নম্বরে অবস্থান করছে। তার রেটিং পয়েন্ট ৫৪২, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্থান। একইভাবে, সাইফ হাসান দুই ধাপ উঠে যৌথভাবে ৪২ নম্বরে পৌঁছেছেন, এবং জাকের আলি তিন ধাপ এগিয়ে এখন যৌথভাবে ৭২তম।

    অন্যদিকে, কিছু কিছু ক্রিকেটারের অবস্থানে হতাশাজনক পরিবর্তনও এসেছে। তানজিদ হাসান তামিম বর্তমান ২১তম স্থান থেকেই অবনতি হয়েছে, এবং লিটন দাস ৫৪তম অবস্থানে নেমেছেন। সবসময়ই পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়, বর্তমানে ৪৭ নম্বর পয়েন্টের অবস্থানে অপরিবর্তিত আছেন।

    বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান তার ৯ নম্বর অবস্থান ধরে রাখলেও বেশ কিছু অন্য ক্রিকেটারের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। শেখ মেহেদি (২১), রিশাদ হোসেন (২৭), নাসুম আহমেদ (৩৫) এবং তানজিম সাকিবের (৪৯) র‍্যাংকিংয়ে বড় পতন ঘটেছে।

    অলরাউন্ডারদের তালিকায়ও শীর্ষে বাংলাদেশের কেউ নেই, তবে শেখ মেহেদি ৪৫ নম্বরে নেমে গেছেন। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজার দারুণ পারফরম্যান্স। তিনি পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে পিছনে ফেলে এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে শীর্ষ স্থান ফিরে পেয়েছেন।

    ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের অভিষেক শর্মা, যার পয়েন্ট এখন ৮৭৭। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফিল সল্ট, আর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের সাহिबজাদা ফারহান।

    বোলিং র‍্যাংকিংয়ের তালিকায় ভারতের বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে থাকলেও, সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশ। তিনি ২১ ধাপ এগিয়ে এখন ৩ নম্বরে। এছাড়া, জাসপ্রিত বুমরাহ ৭ ধাপ এগিয়ে ৮ম স্থানে উপস্থিত।