Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • রূপপুর পেল কমিশনিং লাইসেন্স — উৎপাদন শুরুর পথে

    রূপপুর পেল কমিশনিং লাইসেন্স — উৎপাদন শুরুর পথে

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আজ কমিশনিং লাইসেন্স ও উৎপাদন কাজ শুরুর অনুমোদন প্রদান করেছে, যা দিয়ে প্রথম ইউনিটে চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর আইনগত পথ মসৃণ হলো।

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ মাসের শেষের দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি প্রবেশ শুরু হতে পারে এবং এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

    পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন; ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। দুই ইউনিটের প্রতিটির ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট।

    প্রকল্প সূত্রে বলা হয়েছে, চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করাতে সাধারণত একটি মাস সময় লাগে। জ্বালানি ঢোকানোর পরই ধীরে ধীরে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে এবং একই সঙ্গে চালু থাকবে বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই। সব পরীক্ষাসমূহ সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে—কর্মকর্তাদের পূর্বানুমান অনুযায়ী সম্ভাব্য সময় হতে পারে আগামী জুলাই মাস।

    তবে বিশেষজ্ঞেরা আরও সতর্ক। তাদের বক্তব্য, জ্বালানি প্রবেশের পরে অন্তত ছয় মাস পর্যবেক্ষণমূলক ও পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে, এবং ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক অনুমোদন ও সনদ গ্রহণে সময় লাগবে। সেই হিসেবে সেপ্টেম্বরের আগেই পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনাকে তারা কমই দেখেন।

    অর্থাৎ রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ঢোকানো ও প্রাথমিক উৎপাদন শুরুতে আর বড় কোনো প্রশাসনিক বাধা নেই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক উৎপাদন ও স্থায়ী সরবরাহ শুরু করতে এখনো নিরাপত্তা ও পরীক্ষাগত ধাপ শেষ করা প্রয়োজন।

    দেশের প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হলেই এটি শক্তি মাপকাঠিতে নতুন অধ্যায় খুলবে বলেই আশা করা হচ্ছে; তবু নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান ও নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্রের গুরুত্ব সব সময় অগ্রাধিকার থাকবে।

  • সংশোধন শেষে শিগগিরই চূড়ান্ত হবে সম্প্রচার নীতিমালা

    সংশোধন শেষে শিগগিরই চূড়ান্ত হবে সম্প্রচার নীতিমালা

    সরকার শিগগিরই সংশোধন করে সম্প্রচার নীতিমালা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। নীতিমালায় প্রধান বাধ্যবাধকতার মধ্যে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনা একটি বড় অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য সচিবের সঙ্গে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন এ্যাটকো ও ক্যাবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াবের নেতাদের বৈঠকে সংশোধনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসেন তারা।

    বৈঠকের পর নেতারা জানান, নীতিমালার ভাষা আপডেট করা হবে এবং এতে মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে সংযোজিত করে তা আরও স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এছাড়া বেসরকারি চ্যানেলগুলোর এক ধাপে পে-চ্যানেলে রূপান্তর এবং ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে কর্মপদ্ধতি নতুন করে বিনির্মাণ করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।

    ডিজিটাইজেশন কার্যকর হলে টেলিভিশনের ট্র্যাকিং ও ভিউয়ারশিপ (টিআরপি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যাবে, যার ফলে কনটেন্টের মান উন্নত হবে এবং দর্শকভিত্তিক প্রতিক্রিয়ার ফলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। ফলে টেলিভিশনগুলো সরাসরি গ্রাহক থেকে সাবস্ক্রিপশন বা পে-পরিসেবার মাধ্যমে আয় করতে পারবে এবং সরকারের কর ও রাজস্ব আয়ের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

    নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও চূড়ভাবে ঘোষণা করা হয়নি; সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে নীতিমালা দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার পরে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গিয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেছেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলামের ভাষ্যে, এ দেশের ইতিহাসে বারবার আমরা দেখেছি—শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে, এমনকি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যে জীবনাহুতি হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ।

    তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের রক্তের ওপর উঠে ক্ষমতায় অবস্থান করা বিএনপি সরকার ক্ষমতা পাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘‘নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথাতেই তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে অবহেলা করেছে—এই সরকার গণবিরোধী সরকার,’’ বলেন নাহিদ।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন আকারে রূপান্তর এবং সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটিও বিএনপি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘‘রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের ফল ভালো হবে না। আমরা গণআন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকার ও জরুরি সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ আরও জানান, তারা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের স্বরূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যেখানে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। ‘‘আমরা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ব; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের সব ক্ষেত্রেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করি—এসেই আমাদের ঐক্য বজায় রাখতে হবে,’’ বলেন তিনি।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

    নাহিদ শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘একসময়ে নেতৃত্ব দেওয়া জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে আপনাদের ঐক্য দরকার। বিএনপির নেতা তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্যও শ্রমিকদের ভূমিকা থাকতে হবে।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’’

    শুধু সংসদীয় লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজপথেও নামার প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘এবার আমাদের রাজপথের প্রস্তুতিও নিতে হবে। গণআন্দোলনের প্রস্তুতির মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব—জুলাই সনদ, গণভোট ও শ্রমিকদের সব দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’’

  • গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচির প্রথম দিন ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় বৃহৎ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ এপ্রিল ঢাকা ছাড়া অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমান রকমের গণমিছিল করা হবে এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়া চলমান কর্মসূচির সময়কাল ধরে বিভাগীয় শহর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার ও আলোচনা সভা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের রায় মেনে নিচ্ছে না; তাই জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাই ১১ দলের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদকে সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দফায় দফায় কর্মসূচি চালানো হবে।’’

    তিনি আরও জানান, এই ধাপের কর্মসূচি শেষ হলে পরবর্তী পর্যায়ে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সমাবেশসহ ভবিষ্যৎ কর্মসূচির সঠিক দিনক্ষণ পরে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। এরপর রাজধানীতে একটি বিশাল সমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।

    এর আগে সকাল ১১টায় একই স্থানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক শুরু হয়, যেখানে চলমান আন্দোলনের অগ্রগতির ওপর আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর শফিকুর রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যরা।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে, ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে, ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়েছে। বর্তমানে এটি দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার, যাকে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার হিসেবে সংসা করা হচ্ছে — তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    মুখপাত্র জানান, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই অঙ্কটি উল্লেখ করা হয়েছে ৩ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

    তুলনামূলকভাবে বলা যায়, আগের মাসের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

    এদিকে চলতি এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীরা মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বর্তমান বাজারে প্রতি ডলারের মূল্য দাঁড়ালে ১২২ টাকায়, এই রেমিট্যান্সের স্থানীয় মূল্য প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি হয়। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তথ্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থার সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরছে, যেখানে রিজার্ভের ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার ও প্রবাসী আয়ের অব্যাহত প্রবাহ দৃশ্যমান।

  • LG এশিয়ার বাজারে উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরল

    LG এশিয়ার বাজারে উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরল

    বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড LG Electronics (LG) কোরিয়ার বুসানে ৭–১০ এপ্রিল আয়োজিত InnoFest 2026 APAC সম্মেলনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য তাদের সর্বশেষ হোম অ্যাপ্লায়েন্স উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ কৌশল উন্মোচন করেছে। এশিয়ার প্রায় ২০টি দেশ থেকে ২০০-এর বেশী ব্যবসায়িক পার্টনার এবং মিডিয়া প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে এই ইভেন্টকে LG-এর ২০২৬ InnoFest সিরিজের সমাপ্তি হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে।

    “Innovation, Forward Together” থিমের আলোকে প্রদর্শনীতে LG দেখায় কিভাবে স্থানীয় জীবনযাপনের প্রয়োজন, ঘরসংকুলান ও ব্যবহারিক চাহিদাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই হোম সলিউশন তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ সাংস্কৃতিক রীতিনীতি এবং K-Tech উদ্ভাবন মিলিয়ে কোম্পানিটি এশিয়ার প্রতিটি বাজারে বাস্তবজীবনে কার্যকর সমাধান প্রদানে মনোযোগ দিয়েছে।

    শক্তিশালী পোশাক পরিচর্যা সমাধান

    LG তাদের লন্ড্রি পোর্টফোলিয়োকে শক্তিশালী করছে নতুন WashTower™ সিরিজ দিয়ে, যা এশিয়ান ঘরবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের সীমিত জায়গার দাবি মাথায় রেখে বানানো। নতুন লাইনআপে ২৫ ইঞ্চি মডেলকে যোগ করা হয়েছে, পাশাপাশি ২৪ ও ২৭ ইঞ্চি সংস্করণও আছে—যা ঘনবসতিপূর্ণ বাজারগুলোর জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

    নতুন টপ-লোড ওয়াশারে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি রয়েছে, যা কাপড়ের ধরনের সঙ্গে ময়লার মাত্রা বিবেচনা করে ধোয়ার গতিবিধি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানিয়ে নেয়। TurboWash™ 3D প্রযুক্তির ফলে সম্পূর্ণ ওয়াশ সাইকেল ৩০ মিনিটের কমে শেষ করা যায় এবং স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোডের জন্য সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে ঐতিহ্যগত অপচয় কমায়।

    এছাড়া LG WashCombo™ একক ইউনিটে ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা দেয়, আর Inverter HeatPump™ প্রযুক্তি বিদ্যুতের চাহিদা কমিয়ে সাশ্রয় নিশ্চিত করে—যা বিদ্যুৎ ব্যয়ে সংবেদনশীল বাংলাদেশের মতো বাজারে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সমাধান

    এশিয়ান পরিবারের রান্নাঘরের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে LG নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইনে থাকা Zero Clearance Hinge দেয়ালের সংগে ফাঁক ছাড়াই বিল্ট-ইন লুক দেয় এবং স্টোরেজ ক্ষমতা সর্বোচ্চ করে তোলে।

    LG-এর উন্নত Ice Solution চার ধরনের বরফ তৈরি করতে পারে—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নে কার্যকর।

    ডিশওয়াশার সেগমেন্টে LG এক ঘণ্টার Wash & Dry সাইকেল, QuadWash™ Pro এবং Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি তুলে ধরেছে, যা দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বাসনপত্র পরিস্কার করে। উল্লেখ্য, LG-এর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু মডেলে A গ্রেড এনার্জি এফিসিয়েন্সি অর্জিত হয়েছে।

    AI চালিত স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা

    প্রদর্শনীতে LG তাদের AI Home Vision প্রদর্শন করেছে, যেখানে ThinQ ON™ AI Home Hub-এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজগুলো আরও সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করে তোলে। এই প্ল্যাটফর্ম ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু করা হবে।

    LG Subscribe: সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক বৃদ্ধি কৌশল

    এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে LG তাদের LG Subscribe সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস সম্প্রসারণ করছে। এই সেবায় গ্রাহকরা কিস্তিতে পণ্যভোগের সুবিধা মিলবে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও পাওয়া যাবে—যা বাংলাদেশের মতো বাজারে ভবিষ্যতে ব্যাপক সম্ভাবনা রাখে।

    কোম্পানির বক্তব্য

    LG Electronics Asia Pacific-এর আঞ্চলিক সিইও জেসুং কিম বলেন, “এশিয়া আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুতবর্ধনশীল বাজার। InnoFest 2026 আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। আমরা স্থানীয় জীবনধারা বিবেচনায় রেখে AI চালিত হোম সল্যুশন এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    LG Home Appliance Solution Company সম্পর্কে

    LG Home Appliance Solution Company (HS) হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI-চালিত স্মার্ট হোম সলিউশনে বিশ্বব্যাপী একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি উদ্ভাবনী কোর প্রযুক্তি, শক্তি সাশ্রয়ী ডিজাইন ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom

  • ট্রাম্প ঘোষণা: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি

    ট্রাম্প ঘোষণা: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন যে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তিনি এই তথ্যটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে একটি পোস্টে জানান।

    ট্রাম্প লিখেছেন যে তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং দুই দেশের নেতৃত্ব একই সময়ে ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি নির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন যে আনুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে যুদ্ধবিরতি ইউএসটি সময় বিকাল ৫টা থেকে শুরু হচ্ছে।

    দ্রুত সময়ে ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ট্রাম্প হিজবুল্লাহর নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি; তবে উল্লেখ্য, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত এখনও রক্তক্ষয়ী রয়ে গেছে।

    পোস্টে ট্রাম্প আরও লিখেছেন যে গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে, ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো দুটি দেশ বৈঠকে বসে। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে মিলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ চালান।

    ট্রাম্প পোস্টে গর্ব করে বলেছেন, বিশ্বের ৯টি যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব তার রয়েছে এবং এটি হবে তার ১০ম সাফল্য, তাই এখন কাজটি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    সূত্র: বিবিসি।

  • রিপোর্টে অভিযোগ: গাজার বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের ‘সুসংগঠিত’ যৌন নির্যাতন

    রিপোর্টে অভিযোগ: গাজার বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের ‘সুসংগঠিত’ যৌন নির্যাতন

    একটি বিশদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা থেকে আটক করা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের কারাগারে ধারাবাহিকভাবে ভয়াবহ যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে এবং এটি একটি ‘সুসংগঠিত রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এই দাবিটি ইউরো-মেডিটেরিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের সংগৃহীত সাবেক বন্দিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মিডল ইস্ট আই এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্যাতনের নেপথ্যে ইসরায়েলের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তারা এবং বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন বা নীরব সমর্থন রয়েছে—এমনটাই দাবি করেছে তদন্তকারীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে পরিকল্পিতভাবে বন্দিদের মর্যাদা ও শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

    সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী নির্যাতনের ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক কুকুর ব্যবহার করে যৌন নিপীড়ন, বিভিন্ন কঠিন বস্তু দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং গোসলকক্ষে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় আটকে রাখা। রেকর্ড করা সাক্ষ্যগুলোতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নির্যাতনের সময় ভিডিও ধারণ করত এবং জিজ্ঞাসাবার সময়ে সেই ফুটেজ দেখিয়ে বন্দিদের ব্ল্যাকমেইল করত।

    গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে আটক করা ৪২ বছর বয়সী এক নারী সাবেক বন্দি তার দুঃসহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেছেন, তাকে এসডি তেইমান নামে পরিচিত একটি কেন্দ্রের কক্ষে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ধাতব টেবিলে বেঁধে দুই দিন ধরে মুখোশধারী সৈন্যরা বারবার ধর্ষণ করেছে। তিনি জানিয়েছেন, ওই দুঃসহ সময় তিনি নিজের মৃত্যু কামনা করেছিলেন এবং ঘটনার তুলনা ‘‘আরেকটি গণহত্যা’’র সঙ্গে করেছেন।

    আরেক সাবেক বন্দি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমির (৩৫), বলছেন সৈন্যদের নির্দেশে একটি প্রশিক্ষিত কুকুর তাকে যৌন নির্যাতন করেছে এবং একই সঙ্গে মারাত্মক শারীরিক আঘাতও করা হয়েছে—যা তিনি গভীরভাবে আপত্তিজনক ও লাঞ্ছনাকর মনে করেন।

    ইউরো-মেড মনিটরের মাঠ গবেষক খালেদ আহমেদ অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতার একটি নির্দিষ্ট ধরন, যার লক্ষ্য বন্দিদের মানবিক মর্যাদা ও আত্মশক্তি ধ্বংস করা। একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন হামলা শুধু ব্যক্তিকে নয়, তার পরিবার ও রক্ষণশীল সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষত সৃষ্টি করে।

    বন্দিদের পক্ষ থেকে কাজ করা আইনজীবী খালেদ মাহাজনা একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেছেন, এসডি তেইমান কারাগারে এক বন্দির ওপর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের নোজল ব্যবহার করে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে ভুক্তভোগীর শরীরে অভ্যন্তরীণ মারাত্মক ক্ষতসাধন ঘটেছে।

    প্রতিবেদনটির আরও দাবি, ইসরায়েলি চিকিৎসক এবং বিচারিক সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে এসব অপরাধীদের রক্ষা করছে—চিকিৎসকরা নির্যাতনের শারীরিক চিহ্ন লুকিয়ে দিচ্ছেন এবং বিচার বিভাগ সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দিচ্ছে। গত মার্চে এসডি তেইমান কারাগারে এক ফিলিস্তিনিকে গণধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগও পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়, যদিও ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে নির্যাতনের প্রমাণ ছিল বলে বলা হয়েছে।

    ইউরো-মেড মনিটরের উপসংহারে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসে নেতৃত্ব দিতে পারে—এমনকি আন্তর্জাতিক গণহত্যা বিরোধী সংবিধানের নিদর্শনও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে। এর আগেও জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে ‘‘যুদ্ধের হাতিয়ার’’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।

    তদন্তকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের নির্যাতন কেবল ব্যক্তিগত ট্রমার বিষয় নয়; তা পরিবার ও সমাজ স্তরে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি বয়ে আনবে। প্রতিবেদনের দাবি ও অভিযোগগুলো সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এখানে ব্যাখ্যাযোগ্য নয় বলে মিডল ইস্ট আই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

  • যশোরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, ঝড়ে বহু গ্রামে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা

    যশোরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, ঝড়ে বহু গ্রামে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা

    যশোরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুরু হওয়া লঘুচাপের তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে দুই জন নিহত হয়েছেন এবং জেলার অনেক গ্রামে বিদ্যুৎversorgung (বিচ্ছিন্ন) হয়েছে। টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী এই ঝড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং বসতঘর, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন কষ্টকর ছিল। দুপুরের পর কালো মেঘ গর্জন করে আকাশ ঢেকে যায় এবং মুহূর্তেই বেগবান বাতাস, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। ঝড়ের সময় চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামে আবু তাহের বজ্রপাতে নিহত হন। মনিরামপুরের শাহাপুরে মাঠে যাওয়ার পথে লুৎফর রহমান সরদার বজ্রপাতে মারা যান।

    ঝড়ের প্রভাব বেশ কয়েকটি উপজেলায় অনুভূত হয়েছে। মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা অঞ্চলে গাছ উপড়ে পড়েছে, অনেক বাড়ির চালের টিন উড়ে গেছে এবং একাধিক জায়গায় গাছ চাপা পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনে আঘাত লেগেছে। ওই এলাকায়সহ ঝাঁপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

    কেশবপুরেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসল নড়বড়ে হয়েছে; অনেক স্থানে গাছ নাড়ে পড়েছে ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পেছনে পড়েছে, ফলে অসংখ্য এলাকায় তার ছিঁড়ে গেছে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝড়ে আহত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন; তাদের মধ্যে দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, কেশবপুরে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ওই উপজেলার অনেক ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি। দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, মাদ্রাসার ছাদে গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকার কৃষক-চাষিরা ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে; বিভিন্ন জায়গায় গাছপালার ভাঙনে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, যশোরে সামগ্রিকভাবে ব্যাপক ফসলহানি হয়নি, কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে—তবে মোটামুটি ১৬ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত ধানের জন্য আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতে পারেন। তারপরও স্থানীয় ক্ষতি থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাহায্য-পরামর্শ দেওয়া হবে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান জানিয়েছেন, বৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অনেক জায়গায় লাইনের ওপর গাছ পড়ে রয়েছে। তাদের কর্মীরা রাতেও লাইন মেরামতের কাজ করছেন, তবে সব স্থানে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব নয়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার সময় পর্যন্ত হাসপাতালে আনা রোগীদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ছক তৈরি করা হচ্ছে; স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ও ত্রাণসামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জনসাধারণকে নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জরুরি অবস্থায় জনগণকে বিজ্ঞপ্তি মেনে চলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না থাকতে বলা হয়েছে।

  • দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে

    দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে

    গভীর রাতে সুন্দরবনের চাঁদপাই এলাকা থেকে অপহৃত হওয়া ১০ জেলের দুই দিন পার হতে চললেও এখনও তাদের খোঁজ মেলেনি। কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সম্মিলিত অভিযান চললেও বনের জটিল ভূগোল ও দস্যুদের ঘন ঘন অবস্থান বদলানোয়ের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য মিলেনি। অভিযুক্ত করিম শরীফ বাহিনী অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    ঘটনা গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে ঘটে। বন বিভাগের জিউধারা স্টেশন এলাকার বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে নৌকায় মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। তখন সশস্ত্র দস্যুদের একটি দল আচমকা হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে যে প্রায় ১৫-২০ জনের একটি বহর কায়দায় তারা আক্রমণ করে, জেলেদের মারধর করে মালামাল ছিনিয়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ১০ জনকে জিম্মি করে নিয়েছে। পরে দস্যুরা ট্রলারযোগে বনের গভীরে পালিয়ে যায়।

    অপহৃত ১০ জেলের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তারা হচ্ছেন নাসির শেখের ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল শিকদার ও ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি পাঁচ জেলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানায় স্থানীয়রা; তাদের নাম এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে অপহৃতদের পরিবারে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা শুধু নয়, আতঙ্কও বিরাজ করছে।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, দস্যুরা ফোন করে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পেলে জেলেদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক জেলে প্রাণ বাঁচাতে বন ছেড়ে স্থানীয় এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করেছেন, যা উপকূলীয় মৎস্য আহরণে গুরুত্বপুর্ণ ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা)’র গোয়েন্দা শাখা অপহারের খবর পেতেই উদ্ধার অভিযানে নামেন। পশুর নদীসহ সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য সকল উদ্ধারপয়েন্টে অভিযান চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তবে দুর্লভ ভূগোল, পথের সীমাবদ্ধতা এবং দস্যুদের দ্রুত চলে যাওয়ার কৌশলের কারণে উদ্ধারকাজ এখনও বন্ধ порে পড়েছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একসময় র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের কড়া অভিযানেই সুন্দরবন অনেকটা দস্যুমুক্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে প্রশাসনের টহল কিছুটা শিথিল হওয়ায় সুযোগ নিয়ে নতুন নতুন দস্যু গোষ্ঠী গড়ে উঠছে। তারা বলছেন সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে আবারও বিশেষ ড্রাইভ বা ব্যাপক চিরুনি অভিযান চালানো প্রয়োজন।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের অপহরণ শুধু একক অপরাধ নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও স্থানীয়দের জীবনযাত্রার ওপর বড় আঘাত। দ্রুতাতিরিক্ত সময়ে অপহৃতদের উদ্ধার না হলে এবং দস্যু দমন না করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আস্থাহীনতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে; এ বিষয়ে পরিবারগুলোও তৎপরতা দাবি করছে।