Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    শার্শায় পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি এসএসসি পরীক্ষার এক কেন্দ্রে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন ও কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি শোনা যায় গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী অহনা খাতুনের উত্তরপত্র গোপনে সংগ্রহ করেন প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন। পরে একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় সেই উত্তরপত্রে ভুল সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য দেখা দেয়। খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের যথার্থতা পাওয়া গেলে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন তাদের আটক করার নির্দেশ দেন এবং রাতে মামলা দায়ের করা হয়।

    শনিবার (৯ মে) শার্শা থানা প্রধান মারুফ হোসেন ঘটনাটি পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, তদন্তে অনৈতিক সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ toler করা হবে না।

    এদিকে ঘটনাস্থল ও মামলার বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের নৈতিকতা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

    পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে সামনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

  • ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    ৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

    মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের দিনটা ছিল বিশেষ—জন্মদিন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই বিশেষ দিনে শতকের সামনে থাকার সুযোগ ছিল মুশফিকের, তবে সেঞ্চুরির আনন্দ ভোগ করতে পারলেন না। লাঞ্চে তিনি যখন ফিরে যান, তখন শতবরার থেকে ২৯ রান দূরে ছিলেন। লাঞ্চের পরই প্রথম ওভারেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল-লেন্থ ডেলিভারিতে অফ স্টাম্প উড়ে যাওয়ায় মুশফিক বিদায় নেন। তিনি ১৭৯ বলে ৭১ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলেছেন, যার মধ্যে ছিল ৮টি চার। মুমিনুলের মতো সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হল মোশফিককে।

    টেল-এন্ডারদের সংযুক্তি বাড়ায় দল অধরাই থেমে যায়নি; শেষ পর্যন্ত টাইগাররা আরও ৩৩ রান যোগ করে ৪১৩ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের তরফে মোহাম্মদ আব্বাস দলকে স্বস্তি দিলেন—তিনি পাঁচ উইকেট নেন। তারই বিরুদ্ধে রক্ষণভঙ্গ করে তাসকিন আহমেদ ১৮ বলে ঝড়ো ২৮ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন।

    মিরপুরে দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল মুশফিক ও লিটন দাসের জুটিতে। আগের দিন মুশফিক ৪৮ এবং লিটন অপরাজিত ৮ রানে ছিলেন। দিনের চতুর্থ ওভারে মুশফিক হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন করেন। এরপর মোহাম্মদ আব্বাসের ওভারে লিটন দাস ৩৩ রানে আউট হন। মেহেদী মিরাজ বেশি সময় টিকতে পারেননি—১২ বল খেলে একটি চার ও একটি ছয়ে ১০ রান করেন। taিজুল ইসলাম ২৩ বল খেলেন ১৭ রানের দ্রুত ইনিংস।

    বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছিল আগের দিনের নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ১৭০ রানের জুটিতে। শুরুতে ৩১ রানে দুই উইকেটের ক্ষতি হয়েছিল—মাহমুদুল হাসান জয় ৮ ও সদমান ইসলাম ১৩ রানে ফিরেছেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল ও শান্ত কড়া প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দ্বিতীয় সেশনে পুরোপুরি আধিপত্য দেখান।

    বিরতির ঠিক আগে শান্ত তার টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন—এটি তার ৭৪তম ইনিংসে পাওয়া সেঞ্চুরি। কিন্তু সেগুলো বেশি টেকেনি; পরে আব্বাসের গুড-লেন্থ ডেলিভারিতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে তিনি এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন। শান্ত একটু আক্রমণাত্মক খেললেও মুমিনুল তুলনায় বেশি সংযত ছিলেন। শান্তের পর মুমিনুল ১০২ বলের মধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং আগের দিনের জমা সঙ্গে মিলিয়ে ৯১ রানে থেমে যান; তিনি ২০০তম বলের মোকাবিলায় নোমান আলীর বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মুমিনুলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে দলের বড় অংশটা গঠিত হয়েছিল শান্ত-মুমিনুলের জুটির ওপর। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিং ঝাঁকুনিতে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে এসেছে।

  • বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে

    বিজয় ভাগ বসালেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ডে

    ফিল্ম তারকারা রাজনীতিতে এসেছেন, তবে সরাসরি সিনেমা থেকে রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছানো খুবই বিরল ঘটনা। এবার সেই বিরল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—জনপ্রিয় ‘থালাপতি বিজয়’। নিজের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো এক রেকর্ডে তিনি ভাগ বসিয়েছেন।

    ১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্র জগত থেকে এসে নিজের দল তৈরি করে রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছিলেন এম জি রামাচন্দ্রান (এমজিআর)। তিনি তখন নির্বাচনে জিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। এমজিআরের প্রতিষ্ঠিত দলটি ছিল এআইএডিএমকে। পরবর্তীতে সাবেক অভিনেত্রী জয়ললিতা একই দলের মধ্যে থেকে মাথা উঁচু করে রাজনীতিতে উঠে আছেন—তবে তিনি নিজে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করেননি, বরং এমজিআর-এর এআইএডিএমকে-রই নেতৃত্ব সানেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হন।

    তারপর দীর্ঘদিন ধরা কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আবারো সেই চিত্র ফিরে এল: বিজয় ও তার গঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং আশ্চর্যজনক ফল করেছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন রয়েছে ২৩৪; একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১১৮টি। এবারে বিজয় নিজে জেতেছেন এবং টিভিকে জিতেছে ১০৮টি আসনে—নতুন গঠিত একটি দলের জন্য অত্যন্ত চমকপ্রদ অর্জন।

    আইন অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আনতে হয়, তাই টিভিকে একা সরকার গঠন করতে পারবে না; কিন্তু জোট গঠিত হলে সেটির কেন্দ্রীয় চালক হিসেবে টিভিকেই দেখা হবে। ফলস্বরূপ বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবার পথে আছেন—এভাবেই তিনি এমজিআরের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।

    এই সাফল্যের পটভূমিতেও বিরাট ভক্তশ্রেণীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমজিআর যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন—ভক্তদের রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা—বিজয়ও একইভাবে কাজ করেছেন। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি নিজের ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্তগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠন করেন ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ঐক্য। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই সংগঠন এআইএডিএমকে-কে সমর্থনও দিয়েছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালে মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকে-র সমর্থন প্রত্যাহার করে, এরপর বিজয় নিজে এটিকে রাজনৈতিকভাবে গতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা চালান। ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম খুলে দেন এবং এবার নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে তিনি শীর্ষ রাজনীতিতে এসে দাঁড়িয়েছেন—এখন শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন বিজয়।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া গুজব ছড়ানো হয়েছে

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া গুজব ছড়ানো হয়েছে

    উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুসংক্রান্ত ভুয়া গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নিজের মধ্য থেকে তিনি শান্ত করে জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অবস্থান করছেন। এর মাঝেই দেশ-বিদেশে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

    বিষয়টি নজরে আসার পর রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে সবার আগে সত্যটা নিশ্চিত করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে — আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি!’

    ভিত্তিহীন এই সংবাদে কষ্ট পেয়ে তিনি ভক্তদের অনুরোধও জানান—এ ধরনের কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে দয়া করে যাচাই করে নিন, কারণ এটি তার এবং তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি সবাইকে অনেক ভালোবাসা জানিয়ে পোস্টটি শেষ করেছেন।

    সংগীতজীবন প্রসঙ্গে বলা যায়, ১৯৬৬ সালে রুনা লায়লা ‘হাম দোনো’ চলচ্চিত্রের গান ‘নজরোঁ সে মোহাব্বত কা যে পয়গাম মিল্লা’ দিয়ে আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে গান উপস্থাপন করতেন এবং পরে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ গানগুলোর মাধ্যমে ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

  • আত্মীয়সদস্যের মতো বন্ধুকে হারালেন সালমান খান

    আত্মীয়সদস্যের মতো বন্ধুকে হারালেন সালমান খান

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান গভীর বিষাদের সাথে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ৪২ বছর ধরে কাছের বন্ধু সুশীল কুমারের মৃত্যু খবর শুনে শোক প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধু হিসেবে সুশীলকে তিনি নিজের ভাইয়ের মতো মানতেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে সালমান তার প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন, যেখানে তিনি গভীর কষ্টের পাশাপাশি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

    সালমান বলেছেন, সুশীল ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি জীবনের কঠিন সময়েও হাসি মুখে থাকতেন। সবসময় বলতেন, কিছুই ঠিক হয়ে যাবে, জীবনে কিছুই বেশিদিন থাকে না। বন্ধুর মৃত্যুতে সালমানের ব্যথা প্রবল, কিন্তু তিনি জানান, তিনি কাঁদেননি, বরং তার স্মৃতি ও হাসির মাঝে হাসিমুখে থাকুননি। সালমান উল্লেখ করেছেন, সুশীল মৃত্যুর বিরুদ্ধে শক্তির মতো লড়াই করেছেন, আর তার জন্য তিনি উপলব্ধি করেন—প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু কাজ করে ফেরার সময় আছে।

    একই সঙ্গে সালমান লিখেছেন, মৃত্যু আসলে অজানা এক চ্যাম্পিয়নের মতো; যারা যেত তারা ফিরে আসতে চায় না, আর যারা এখনও থাকা ভুলে যায় তারা হয়তো আরও বেশি সময় পান। তিনি আরও জানান, অতি সৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির সময় পরে আসে, কিন্তু ভালো মানুষেরা দ্রুত চলে যান।

    বন্ধুর এই অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখে অনেকের পক্ষে কান্না করা সহজ হলেও বলিউডের এই তারকা চোখে এক ফোঁটা জল আনেননি। সামাজিক মিডিয়ায় প্রচলিত ‘আরআইপি’ (RIP) শব্দের বদলে, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি সুশীলকে মৃতদেহ হিসেবে দেখতে চান না, বরং তার নামেই ডাকতে চান।

    শেষে, সালমান বলেন, বন্ধুকে ছাড়া তিনি একা হয়ে গেছেন। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে চললেও এখন একাকীত্বে অনুভব করতে হচ্ছে, হঠাৎ করে তার শরীরের লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক কথায়, তিনি বলেছেন জীবন মানে বন্ধুকে ছাড়া একা থাকা।

  • মমতার সিনেমা নিষিদ্ধের প্রতিশোধে উচ্ছ্বাস বিবেকের

    মমতার সিনেমা নিষিদ্ধের প্রতিশোধে উচ্ছ্বাস বিবেকের

    বিধানসভার নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। এই ফলের ঢেউ যেন নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীর পুরনো ক্ষতকে নতুন করে রক্তক্ষর করে দিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে এই অনুভূতি স্পষ্ট হয়েছে।

    এর পেছনে অবশ্য একটা যৌক্তিক কারণও রয়েছে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শাসনের সময় পশ্চিমবঙ্গে ‘ফাইলস ট্রিলজি’ সিরিজের সিনেমা— বিশেষ করে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ও ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’— মুক্তি পেতে বেশ বাধার সম্মুখীন হয়েছিল বিবেক। তার সিনেমাগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়, মুক্তি রোধ করা হয়, এমনকি সিনেমা হলে প্রচার বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই কারণে তার মনে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এখনও সেই ক্ষত নতুন করে উঁকি মারছে, যখন তার প্রতি এই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরাজয় এসেছে।

    নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে বিবেক লিখেছেন, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির পর আমাকে বাংলায় কার্যত নিষিদ্ধই করা হয়েছিল। সিনেমা হল থেকে ছবিটি তুলে নেওয়া হয়, এবং বলা হয় আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরপর, গত বছর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করা হয়, উপরন্তু আমার উপর হামলা চালানো হয় এবং শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়। এর পাশাপাশি আমার বিরুদ্ধে ডজন ডজন এফআইআর দায়ের করা হয়। এমনকি রাজ্যপাল থেকে পুরস্কার নেবার সুযোগও আমি হারাই।

    তবুও আমি হাল ছাড়িনি, বলেছেন বিবেক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই নির্বাচনের সময় আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখে বিভিন্ন মানুষ ও স্থান পর্যন্ত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ পৌঁছে দিতে সফল হই। আমি গর্বিত যে, সমালোচনার পরেও আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি। অবশেষে আমাদের এই ঐতিহাসিক জয় এসেছে, বাংলার জনগণের জন্য অশেষ অভিনন্দন। এখন আপনি নিশ্চিন্তে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন।

    বিবেক এখন নতুন সিনেমার প্রিপারেশনে ব্যস্ত। তার পরবর্তী প্রজেক্টের বিষয় হলো ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ, যার নাম তিনি ঘোষণা করেছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’।

  • মালায়লাম চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যু

    মালায়লাম চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যু

    মালায়লাম সিনেমা ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা সন্তোষ কে নায়ার মঙ্গলবার রাতে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনাটি ঘটে কেরালার পাথানামথিট্টা জেলা সংলগ্ন অদূরে এনায়াথু এলাকায়, যেখানে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মৃত্যুর খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি গাড়িতে ছিলেন, যা দ্রুতগতির লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হয়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পাশে থাকা স্ত্রীও গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    সন্তোষ কে নায়ার দীর্ঘ שנות ক্যারিয়ারে সাধারণ অভিনেতা থেকে খলচরিত্রে অভিনয়ে বিশেষ সফলতা অর্জন করেছিলেন। তিনি বেশ কয়েকজন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন। ১৯৮২ সালে ‘ইথুঞ্জাঙ্গালুদে কথা’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়, এবং এর পর তিনি বহু জনপ্রিয় সিনেমায় কাজ করেছেন। তার সর্বশেষ ছবি ছিল ‘মোহিনিয়াট্টম’, যা এখনও প্রেক্ষাগৃহে চলতে থাকুক।

    ভারতজুড়ে এবং বিশেষ করে মালায়লাম সিনেমা অঙ্গনে এই আকস্মিক মৃত্যু শোকের ছায়া ফেলেছে। ভক্ত-অনুরাগীরা ইতিমধ্যে তার এই অপ্রত্যাশিত প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি একজন প্রিয় অভিনেতা, যিনি বিনয়ী ও অভিনয় দক্ষতায় আলাদা স্থান তৈরি করেছিলেন। এই দুঃখজনক ঘটনা বাংলা সিনেমা থেকে শুরু করে পুরো ভারতের সিনেমা জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

  • রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের অবসান: নিজেই জানালেন সুস্থতার খবর

    রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের অবসান: নিজেই জানালেন সুস্থতার খবর

    উপমহাদেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার জীবন নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অদ্ভুত এক গুজব। ভাইরাল হওয়া এই খবরের মাঝে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি। তবে এই সব কটিকে ভুল ষড়যন্ত্র বলছেন রুনা লায়লা নিজেই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে তিনি অংশ নিচ্ছেন ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই কয়েকটি দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অপ্রত্যাশিত এই পরিস্থিতিতে রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে এই গুজবের সত্যতা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ, আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়ানো হয়েছে।’ তার এ বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ‘আমি পুরোপুরি সুস্থ এবং ভালো আছি।’

    তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, ‘‘এ ধরনের খবর শেয়ার করার আগে অবশ্যই তথ্য যাচাই করে নিন। এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি সবাইকে অনেক ভালোবাসি।’’

    রুনা লায়লা তার গানের ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৬৬ সালে। অদ্বিতীয় এই তারকা উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র হাম দোনো-তে ‘নাজরঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গাম মিলা’ গান দিয়ে সংগীতাঙ্গনে প্রবেশ করেন। 1960-এর দশকে পাকিস্তান টেলিভিশনে নিয়মিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ভারত জুড়ে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালাণ্ডার’ গান দিয়ে তিনি বিশেষ প্রশংসা লাভ করেন। এই গায়িকা আজও তার অসাধারণ কণ্ঠ ও সঙ্গীতের বিষ্ময়কর কাজের জন্য শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করেন।

  • বিজয় প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুর নির্বাচনে রেকর্ড গড়লেন

    বিজয় প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুর নির্বাচনে রেকর্ড গড়লেন

    নিজের প্রথম নির্বাচনে জয়সূচক ফলাফল এনে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র জগতে জনপ্রিয় নাম হিসেবে পরিচিত ‘থালাপতি বিজয়’ নামে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে শুধু জয়লাভই নয়, বরং তিনি ৪৯ বছরের ঐতিহাসিক একটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।

    প্রথমবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়িয়ে বিজয় শুধু নিজের দলকে জিতিয়েছেন, পাশাপাশি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে তামিল সিনেমার এক নায়িকা এমজি রামাচন্দ্রান প্রথমবারের মতো নির্বাচন জেতেন এবং তাঁর নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে রয়েছেন। এমজি রামাচন্দ্রানটি তৎকালীন রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকে-র প্রতিষ্ঠাতা।

    আরও পরে, সিনেমার পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়ললিতা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে তিনি নিজে কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করেননি। তিনি এমজিআর-এর প্রতিষ্ঠিত দল এআইএডিএমকে-তে যোগ দিয়ে নেতৃত্বে এসেছিলেন, যা থেকে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে শীর্ষ নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। তার এই পদে থাকাকালীন, তিনি নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন।

    অভিনেতারাই খুব কম সময়ের জন্য বা কম সংখ্যক ক্ষেত্রে রাজনীতিতে সফলতা পেয়েছেন। জয়ললিতা, একজন ব্যস্ত চলচ্চিত্র তারকা হয়েও, নিজে কোনও নতুন দল গঠন না করে, বরং এমজিআর-এর দলকে উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়ে, একত্রিত করে এবং নিজের আধিপত্য বিস্তার করে প্রধানমন্ত্রীর পদে পৌঁছেছিলেন। এরপর থেকে আর কোনও অভিনেত্রী অথবা অভিনেতা রাজনীতিতে এতটা দীর্ঘস্থায়ীভাবে আসতে পারেননি।

    তবে এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় আবারও প্রমাণ করেছেন যে, সেই ১৯৭৭ সালের চিত্রটাই এখন নতুন করে ফিরে এসেছে। বিজয় ও তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) এই নির্বাচনে বিশিষ্ট ফলাফল অর্জন করেছে। মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে, কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য কম করে ১১৮ আসনে জয়ী হতে হয়। বিজয় নিজে এই নির্বাচনে জয় পেয়েছেন, তার দল টিভিকে এগিয়ে গিয়ে ১০৮ আসনে জয়লাভ করেছে। ২০২৪ সালে সরকার গঠনের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিধানসভা নিয়ম অনুযায়ী, এই মুহূর্তে এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব নয়। জোট বাঁধতে হবে অন্য দল বা জোটের সঙ্গে। তবে জোটের আনুষ্ঠানিকতা সত্ত্বেও, টিভিকে থাকবে চলকের আসনে, এবং বিজয় নিশ্চিতভাবে মনে করা হচ্ছে আগামী তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে, তিনি এমজি রামাচন্দ্রানের দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।

    বিজয়ের এই সাফল্য অনেকটাই এমজি রামাচন্দ্রনের কৌশলে ভিত্তি করে। রামাচন্দ্রান প্রথমে তাঁর বিশাল ভক্তশ্রেণিকে ভোটার ও কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এই ভক্তরাই মূলত তার রাজনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতেন।

    বিজয়ও একই রকম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ২০০৯ সাল থেকে নিজের ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন তিনি। বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে এক ঐক্য গঠন করেন, যা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিল। ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত, এই সংগঠনটি এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিয়েছিল।

    তবে ২০২১ সালে, এই সমর্থন থেকে সরে এসে নিজেকে স্বাধীনভাবে সংগঠিত করেন বিজয়। ২০২৪ সালে নিজের দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম আত্মপ্রকাশ করে, এবং দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করছেন। এর ফলে, তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

  • শান্তের চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশ সিরিজে দারুণ উত্থান

    শান্তের চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশ সিরিজে দারুণ উত্থান

    মুহাম্মদ আব্বাসের বল কাভার ড্রাইভ অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করতেই ব্যাট ও হেলমেট হাতে শূন্যে লাফিয়ে সজোরে চিৎকার উঠল। এটি ছিল নাজমুল হোসেন শান্ত’র নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপন, যখন তিনি যাচাই করলেন তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার টেস্টে কোনো ফিফটি ছিল না, কিন্তু আজ (শুক্রবার) প্রথমে হাফসেঞ্চুরির ধাক্কা কাটিয়ে, এরপর ইনিংসকে ম্যাজিক ফিগারে রূপ দিতে তিনি কোন ধরনের অবসর গ্রহণ করেননি। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মাত্র ১২৯ বলে তুলে নিলেন তার নবম সেঞ্চুরি, যা তার ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সর্বশেষ ৮ ইনিংসে শতকের সংখ্যার মধ্যে এইটি হলো চতুর্থ, অর্থাৎ তিনি শেষ পাঁচ টেস্টে চারবারই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন। পেস-স্পিনের মোকাবিলায় শান্ত’র শট বাছাই ও প্রতিটি কদম ছিল নিষ্ঠুর নিখুঁত। এরকম এক ইনিংস যদি তিনি সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারতেন, তা হয়তো অপূর্ণ থেকে যেত। তবে, সেঞ্চুরি করার সাথে সাথেই তিনি দ্রুত ক্রিজ ত্যাগ করেন, পরের বলেই লেগ বিফোরের শিকার হয়ে ক্রিজ ছেড়ে যান। বাংলাদেশ ২০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর সময় এই ঘটনা ঘটে।

    গত কয়েক বছর ধরে সাদা পোশাকে শান্তের ফর্ম উড়ন্ত। হাফসেঞ্চুরিকে তিন অংকে রূপ দিতে তিনি বোদ্ধা ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। টেস্টে তার মোট সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন ৯, যেখানে হাফসেঞ্চুরির সংখ্যা ৫। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরু করলেও, এরপর শান্ত ও মুমিনুলের দুর্দান্ত জুটি ১৭০ রান গড়ে তুলে। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ারে মোহাম্মদ আশরাফুল ও জাভেদ ওমর গড়েছিলেন ১৩০ রানের জুটি। সর্বমোট, বাংলাদেশের সেরা তৃতীয় উইকেট জুটি ২৪২ রানের, যা এবার আবার শান্ত ও মুমিনুলের দখলে। তারা ২৫৩ বল খেলে এই রান করেন। শান্ত ১৩০ বলে ১০১ রান করেন, যেখানে তার ব্যাটে ছিল ১২টি চার ও ২টি ষাঁড়া। ক্রিজে অপরাজিত থাকায় মুমিনুলও হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। শেষ চার ইনিংসে তার সর্বনিম্ন ৫০+, এর আগে ৮২, ৬৩ ও ৮৭ রান করেছেন। এই ইনিংসেও বাংলাদেশের মনোযোগ আকর্ষণ করবে তার ব্যাটের ম্যাজিক ফিগার দেখতে চাইবে সবাই।