Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ঢাকা ভারতকে আবারও অনুরোধ করেছে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি এসব কথা বলেছেন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে (৮ এপ্রিল) দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে, তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি এবং এই সফরে আমরা সেই দাবিটি পুনরাবৃত্তি করেছি।’’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব বিশদ এখনই প্রকাশ করেননি তিনি।

    প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।

    সূত্রানুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে খলিলুরের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশ সরকার নির্দেশিকাভাবে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়—যাতে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে খলিলুর বলেন, ‘‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে এখনই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামি কয়েক সপ্তাহে এই সফরের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন; উভয় পক্ষই সম্পর্ককে এগিয়ে নেবার ব্যাপারে জোর দিনছেন।

    দিল্লির বৈঠকে বাংলাদেশ সীমিত হারায় কার্যরত ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর অনুরোধ করেছে বলে খলিলুর জানান। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতীয় সহযোগিতার আবেদনও করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই সংকট আরও জটিল হতে পারে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটি উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এই সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’’

    খলিলুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এ বছর বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আঞ্চলিক এই জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার কথাও তিনি বলেছেন—যদি সদস্য দেশগুলো অংশ নেয়ার কারণগুলো দূর করা যায়, তবে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাধা থাকার কথা নয়।

    খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখা যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’’

  • রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে সারাদেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২,২২১ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ ছিল। রেলপথে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    এই তথ্য জানিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেন, প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজেদের তথ্য ব্যবহার করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের বিশ্লেষণে দেখা যায়— মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন, বাস যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভৌগলিক বিশ্লেষণে মোট ৫৭৬টির মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারী চাপা বা ধাক্কা, ৮২টি পেছন থেকে আঘাত ও ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    মার্চে মোট ১,০০৮টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল; এর মধ্যে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি সহ নানা ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    আঞ্চলিক দিক দিয়ে ঢাকার বিভাগে সবচেয়ে বেশি — ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা সিলেট বিভাগে— ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছিলেন ১৫.৪২ জন, সেখানে মার্চে এটি বেড়ে হয়েছে ১৭.১৬ জন— যা প্রায় ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ অতিরিক্ত গতি, যার ফলে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারান। তারা সুপারিশ করেছে গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং চালকদের প্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপর প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ বা ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। তারা সুদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

  • গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে নজীরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের লোকজন প্রহারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি এমনভাবে আচরণ করেছে যে আওয়ামী লিগকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।

    এসব অভিযোগ জানান তিনি শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। শেরপুর-৩ আসন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    গণভোট সংক্রান্ত দ্বিচারিতার কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন সামনে থাকলে বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা সর্বস্ব মেনে চলবে; কিন্তু পরে ক্ষমতায় থাকার জন্য গণভোটের আদেশই বাতিল করা হচ্ছে—এইভাবে দলের আচরণ জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের ত্যাগের অবমাননা বলে তিনি আখ্যা দেন।

    নির্বাচনে ‘মাগুরা মার্কা’ পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তোলেন তিনি। বলেন, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং জামায়াতের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও ভিডিও মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পরও সিইসি ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’ দাবি করে দেশের জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছেন।

    বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না; ক্ষমতায় থাকতে চাইলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন এবং সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    বক্তাগণ বগুড়া ও শেরপুর উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও তদন্তের দাবি করেন। সমাবেশের আগে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর এলাকায় শেষ হয়। মিছিলে অংশীরা উভয় কেন্দ্রেই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের দাবি-অধিকারের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ বলেন, এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—শ্রমিকেরা গণআন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদের সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য গণ-অভ্যুত্থানে জয় করেছে শ্রমজীবী মানুষরা। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন, তিনি উল্লেখ করেন।

    অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের নীতির বিরুদ্ধে বেঈমানি করেছে; গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে। এই সরকার গণবিরোধী সরকার—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল তা আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও বিএনপি ভঙ্গ করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি না মানলে এর ক্ষতিকর পরিণতি হবে, তিনি সতর্ক করেন এবং বলেন, ‘‘আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকারসহ দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ বলেন, বর্তমানে তারা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে কাজ করছে। ওই ঐক্যের উদ্দেশ্যটাও স্পষ্ট—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি দেওয়া যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা পূরণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করা। এই লড়াইয়ে ঐক্য থাকা জরুরি, তিনি বলেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে আছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ। ‘‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন—বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের আন্দোলনের বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে,’’ তিনি বলেন।

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির কথাও বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়; আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব, যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক অবনতি সরাসরি পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নানা চাপের ফলেই গত বারো মাসে সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামেছে এবং ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা — যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকে সিএসআর খাতে নথিভুক্ত সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ওই বছরের তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭%) কমেছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    ট্রেন্ড আরও স্পষ্ট: ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (৩৩%) কম। ২০২২ সালের ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দুই বছরে সিএসআর ব্যয় ৫১৩ কোটি টাকার বেশি কমেছে — প্রায় ৪৫% ক্ষেত্রে হ্রাস।

    ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতকে কড়া আঘাত হেনেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখা মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় অনেক ব্যাংকের প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    ব্যাংকাররা আরও জানাচ্ছেন, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর ব্যয়ের কমতে থাকা একটি বড় কারণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো অনুগতভাবে ব্যয় করে; অনেক ক্ষেত্রেই এসব ব্যয় সিএসআরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্যখাতেও হয়েছে। ২০২৪-এর জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটা ফুরিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে — তার মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় মাত্র ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল ১০% হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। সে সব ব্যাংকের নাম — জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একইসঙ্গে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেন: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যেই ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থও ব্যয় করেছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতের উদ্দেশ্য রক্ষা করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ ও অনিয়মের কারণে অনেকসময়ই এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা মনে করান, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, কড়াকড়ি নজরদারি ও সঠিক নীতিমালা অনবশ্যক।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সময়ের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় এই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    রপ্তানি কমা ও আমদানির বাড়তি চাপই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বহু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানির খরচ বেড়েছে। এছাড়া বর্তমানে ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানিও হাঁকেছে। একদিকে আমদানির চাপ বাড়লেও রপ্তানি আয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি তীব্র হয়।

    ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশে পণ্যের আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। একই সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণ দেখা গেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। তিনি না হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়বে এবং অর্থনীতিকে জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।

    চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশ এখন সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্য সূচকে সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স ভালো অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের অবস্থান বেড়ে ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে; যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ঋণাত্মক করে ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের দিকে গেলে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে এটি ছিল ১০৬ কোটি ডলার, আর চলতি অর্থবছরে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নেগেটিভ অবস্থায় রয়েছে; প্রথম আট মাসে নিটভাবে বিদেশি বিনিয়োগে ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরের অনুরূপ অবস্থার সঙ্গে মিলে যায়।

    সংক্ষেপে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও দেশজ আমদানির বাড়তি চাহিদা মিলিত হয়ে চলতি অর্থবছরের আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে ফলপ্রসূ নীতি নেওয়া জরুরি।

  • ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে বিদেশি ব্যাংকে আটকা পড়া বা জব্দ হওয়া ইরানি কোনো তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতিতে এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জব্দকৃত কোনো অর্থ মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    এর আগে রয়টার্সে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার এমন একটি পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে তেহরানের জব্দ করা অর্থ কিছু অংশ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সূত্র নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক জানাননি। অন্য এক ইরানি সূত্র আরও জানিয়েছিল কাতারে রাখা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জব্দ তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে — তখন যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক टिप्पणी পাওয়া যায়নি।

    বর্তমানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি হাই-র্যাংকিং এক আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের জব্দকৃত তহবিল ছাড়ের খবরটি সঠিক নয় এবং ওয়াশিংটন এটি অস্বীকার করেছে।

    ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আগেই বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসাবে ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল প্রথমেই মুক্তি দিতে হবে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছৃ যে এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত মহল—গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হতে পারে।

    অপরদিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকারি সূত্র এবং ইরানি প্রতিনিধিদল দু’পক্ষই বিবিসিকে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সরকারিভাবে এক ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শাহবাজকে একজন মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

    তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে সমন্বয় তৎপরতা তবুও নিশ্চিত করে না যে এটা শেষ পর্যন্ত দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মধ্যে সরাসরি ও ঐতিহাসিক কোনো আলোচনা বা চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো আলাপচারিতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্যতা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিরাজমান।

  • আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন। দশ দিনব্যাপী পরিকল্পিত অভিযান শেষে তারা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৫টায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে সাগরে অবতরণ করেন।

    অবতরণকালে নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সাগরে নিরাপদে নেমে আসে। কিছু সময় পর উদ্ধারকারী দল তাদের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বের করে আনে, এবং সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন বলে নাসা জানায়।

    আর্টেমিস-২ মিশনটি ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রওনা করেছিল। মিশনে অংশ নিয়েছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। প্রথম তিন জন মার্কিন নাগরিক, আর জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

    নাসার তথ্যে অনুযায়ী মিশন চলাকালীন আর্টেমিস-২ পৃথিবীর চারপাশ প্রদক্ষিণের সময় মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের চূড়ান্ত ফ্লাইবাই-এর জন্য মোট ২,৫২,৭৫৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝায়—কোনো মহাধারাকে খুব কাছ থেকে ছাড়িয়ে যাওয়া হলেও মহাকর্ষীয় টানে সেই বসুকে করে কক্ষপথে আটকে না পড়া।

    পৃথিবীতে ফিরে আসা মুহূর্তটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর থেকে কেবল ১৩ মিনিটের মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে অবতরণ সম্পন্ন হয়। বায়ুর ঘর্ষণের কারণে ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল; ফলে ক্যাপসুলটি আকাশে একটি জ্বলন্ত বুদবুদ হিসেবে দেখা যায় এবং তীব্র তাপের কারণে রেডিও যোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুল ঠান্ডা হলে পর্যন্ত সাময়িকভাবে অপেক্ষা করতে হয়। তবে ওই তাপ কেবলে বাইরের অংশেই সীমাবদ্ধ ছিল—ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীরা নিরাপদে ছিলেন এবং তাদের সকলেই সুস্থ বলে নাসা নিশ্চিত করেছে। নাসার ইউটিউব লাইভে তাদের অবতরণের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছেন।

    নভোচারীদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। নাসার কর্মকর্তারা জানান, নভোচারীরা শুক্রবার রাতটা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন এবং শনিবার টেক্সাসের হিউস্টনে সদর দফতরের সঙ্গে মিলন করবেন।

    প্রসঙ্গত, নাসার চাঁদ অভিযানগুলোর ইতিহাস অনেক পুরনো — ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া অ্যাপোলো কর্মসূচির আওতায় ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনে প্রথমবার মানুষ চাঁদে পৌঁছায়। অ্যাপোলো সিরিজের ক্রমশ পরিচালনা চালিয়ে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ কক্ষপথ অভিযান পর্যন্ত মানবসৃষ্ট চাঁদ অভিযানের ধারা বজায় ছিল। কয়েক দশক পর নাসা আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি করার লক্ষ্য রেখেছেন। আর্টেমিস-২ ছিল সেই বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রস্তুতিমূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন।

    একাধিক কারণে আর্টেমিস-২কে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে; নাসা জানিয়েছে, এই মিশনটি অ্যাপোলো-১৩ দ্বারা কৃত পূর্বের দূরত্বের রেকর্ড ভেঙেছে। অভিযানের শেষভাগে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান একটি রেডিওবার্তায় বলেছিলেন, “আমরা ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদটার দুর্দান্ত একটি দৃশ্য দেখেছি — গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

    সূত্র: রয়টার্স

  • বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাটে গত বুধবার বিকেলে এক কুকুরকে শিকার করেছে মাজারস্থ কুমির। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ছড়ায় ও অভিযোগ ওঠে যে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

    ওই ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় দেখা যায়, কুকুরটি প্রথমে ঘাটে একা এসে পড়ে এবং পানির মধ্যে নামার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে কাছাকাছি এসে কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা সেটি মাটি চাপা দিয়ে দাফন করে। কিছু লোক দাবি করেন কুকুরটি অসুস্থ্য হওয়ায় তারা সেটি মাটিচাপা দিয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী এবং মাজারের নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, ওইদিন ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় ছিল। হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিকে থেকে এক আক্রমণকারী কুকুর দৌড়ে এসে তার পায়ে কামড় দেয়। নিরাপত্তা প্রহরী কুকুরটিকে ঠেকাতে চাইলে কুকুরটি দিঘির দিকে নামতে উঠে; সে সময় কুমিরটি এসে কুকুরটিকে ধরে পানির ভেতরে নিয়ে যায়। ফোরকান বলেন কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিল এবং অনেককে কামড়িয়েছে।

    মাজারের খাদেমরা ও স্থানীয়রা অভিযোগসমূহ খণ্ডন করে বলেছেন, ঘটনাটিকে অসত্যভাবে উপস্থাপন করে ভিডিও ও ম্যানিপুলেটেড তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা বলছেন, কাউকে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ছুঁড়ে দেওয়ার মতো সাহস ছিল না। স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কয়েকদিন আগে ওই কুমির ডিম পেড়েছিল; ডিম পাড়ার পর কুমিরটি একটু হিংস্রভাবে আচরণ করতে পারে।

    ঘটনার পর জেলা প্রশাসন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

    আজ বিকালে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে; কুকুরটির মাথা সিডিআইএল (সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি) এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএল এর রিপোর্ট পেলে কুকুরটি অসুস্থ্য ছিল কিনা বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা জানা যাবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম ঘটনাটি হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, যদি কেউ ভিউ বা বিনোদনের জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ফেলে থাকে, তাহলে কঠোর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর কোনো প্রথা নেই এবং এরকম দাবি ভিত্তিহীন। তিনি খাদেমদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কুমিরকে কোনো জীবিত প্রাণী খাওয়ানো না হয় এবং এ ধরনের কুসংস্কার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো হয়। এছাড়া প্রাণিটির শরীরে কুমিরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো আঘাত আছে কিনা তাও আমরা যাচাই করছি; তদন্ত কমিটি পেলে দ্রুত প্রতিবেদন দেবে এবং তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তথ্য মতে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন ওই দিঘিতে দীর্ঘদিন ধরেই কুমির রাখা হলেও বর্তমানে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে কেবল একটি কুমিরই এখন দিঘীতে আছে। ওই কুমির আগেও মাঝে-মধ্যেই মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

    ওই দিন ঘটা কুকুর শিকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ল্যাব রিপোর্টের ওপর সবাই অপেক্ষা করছে।

  • সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। যেখানে মনের মতো পরিষেবা ও সুযোগ থাকবে—সেই খুলনাই গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল বিকেলে নগরীর গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সকলের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্ত করতে হবে—আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতে আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করব।’’ তিনি মন্দিরের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সম্ভব সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন।

    মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।

    এদিন সকালে প্রশাসক নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজের তহবিল হতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। সামাজিক কাজে নিবেদিত লোকজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ—যাদের মধ্যে সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন ও বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস আছেন—তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।