Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ে যেতে পারলেন না সালমান-শাহরুখ, জানা গেল কারণ

    আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ে যেতে পারলেন না সালমান-শাহরুখ, জানা গেল কারণ

    সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ের সময় তার প্রতি জাতি-সমাজের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছিল। তার মহা প্রস্থানে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বলিউডের অনেক তারকা যেমন রণবীর সিং থেকে শুরু করে শাকিরা, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এসব ক্রীড়া-সাংবাদিক ও অসংখ্য ভক্তের মাঝে একটা বড় প্রশ্ন ছিল, কেন ‘কিংবদন্তি’ এই শিল্পীর শেষ বিদায়ে যোগ দিতে গেলেন না সালমান খান ও শাহরুখ খান। এর পেছনে আছে একান্ত ব্যক্তিগত কারণ।

    ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, আশা ভোঁসলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন সময়ে সালমান খান ও শাহরুখ খান মুম্বাইয়ে ছিলেন। তবে তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে উপস্থিত ছিলেন না। এই ব্যাপারে কিং খান বা ভাইজানের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়নি।

    অবশ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। শাহরুখ খান লিখেছেন, ‘এটা সত্যিই দুঃখের যে আশা আর নেই। তার কণ্ঠ তার ঐতিহ্যবাহী কণ্ঠের জন্য সমগ্র ভারতীয় সিনেমার জন্য এক স্তম্ভ ছিলেন। তার শূন্যতা আগামী প্রজন্মের জন্য গভীর ক্ষতি।’

    সালমান খানও তাঁর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটি ভারতীয় সংগীতের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। আশা জির মৃত্যু আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে। তার অসাধারণ কণ্ঠশক্তি এবং গানের মূল্যায়ন অবিরাম থাকবে এবং আগামী প্রজন্মদের অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে।’

    ১১ এপ্রিল তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আশা ভোঁসলে শারীরিকভাবে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন এবং বুকে ব্যথা থাকায় তখনই তার স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন আশা ভোঁসলেকে দ্রুত সুস্থতা আশায় আশাবাদ ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই আশা পূরণ হলো না। ১২ এপ্রিল তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুশোকে গোটা দেশসহ অশ্রুসিক্ত হয় তার অনুরাগীরা।

  • সুকেশের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হলেন জ্যাকুলিন

    সুকেশের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হলেন জ্যাকুলিন

    প্রাক্তন প্রেমিকা ও অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ এবার সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভারতীয় অর্থনৈতিক দমনমূলক সংস্থা অর্থাৎ ইডির তদন্তের সূত্রে এই তথ্য প্রকাশ পায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুকেশের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলা চলমান থাকাকালীন সময়ে জ্যাকুলিনের মুখে ইতেভূত মন্তব্য উঠে আসে। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সুকেশের সঙ্গে জ্যাকুলিনের সম্পর্কের কারণে তিনি স্বেচ্ছায় মুখ খুলেছেন।

    প্রথমে প্রেমের সম্পর্কের জেরে সুকেশের বিরুদ্ধে অভিযোগের মুখে তিনি বিভিন্ন সময়ে রোষানলে পড়েছিলেন। একসময় নিজস্ব ইচ্ছায় তিনি সুকেশের হাতে অনেক উপহার দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তার সাথে তার সম্পর্ক ছিল, যার জন্য তিনি দুঃখিত। তবে গ্রেফতারের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। এরপর তিনি সুকেশের ভালোবাসার ডাকে কখনও সাড়া দেননি।

    পুলিশের জেরায় ঘটনাটি স্বীকার করে জ্যাকুলিন জানান, সুকেশ তাকে নানা ধরনের উপহার নিয়েছেন। তবে আদালতে এখন দেখা যেতে পারে, জ্যাকুলিন কীভাবে এই মামলায় তার বক্তব্য রাখেন এবং পরিস্থিতি কী মুখো করে।

  • পরিবারে আসে নতুন সদস্য, আবার মা হওয়ার সুখবর দিলেন দীপিকা

    পরিবারে আসে নতুন সদস্য, আবার মা হওয়ার সুখবর দিলেন দীপিকা

    খুবই সুখের খবর বলিউডে। দীপিকা পাড়ুকোন আবার মা হতে চলেছেন। তার প্রথম সন্তান দেরিতে হলেও তাঁর জীবনেও এসেছে এই সুন্দর মুহূর্ত। এ বছরের ১৯ এপ্রিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি মেয়ে দুয়ার হাতে ধরা একটি গর্ভধারণ পরীক্ষার ছবি শেয়ার করে এই আনন্দের সংবাদ জানান। এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেন যে, আবারও তিনি মা হতে চলেছেন।

    দীপিকা ও স্বামী রণবীর সিংয়ের এই জানানোয়ে সহকর্মীরা ও ভক্তরা ভিষণ আনন্দিত। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কারিনা কাপুর, অনন্যা পাণ্ডে, বিপাশা বসু, সোনাক্ষী সিনহা, কিয়ারা আদভানি, পরিণীতি চোপড়া, ভূমি পেডনেকার, সেমান্থা রুথ প্রভু সহ ভারতের অন্যান্য সিনেমা শিল্পীরাও এই দম্পতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। ভক্তরাও তাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা প্রকাশ করছেন কমেন্টে।

    দীপিকা সবসময় পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, মাতৃত্বের অনুভূতি জীবনের সবচেয়ে বড় ও সুন্দর উপহার। এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেছিলেন, পর্দায় অনেক রকম চরিত্রে অঙ্গিকা করেছেন, কিন্তু মা হওয়ার অনুভূতি ও সন্তানের দেখাশোনা জীবনে তার সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

    দীপিকার স্বামী রণবীরও বাবা হিসেবে খুবই দায়িত্বশীল। প্রথম সন্তানের সময় তিনি কাজে বিরতি নিয়েছিলেন। এবারও তিনি তাঁর পরিবারের নতুন অতিথির সময় ও আনন্দ ভাগ করতে দায়িত্ব নিয়ে থাকছেন। জানা গেছে, রণবীর তাঁর আসন্ন প্রজেক্টের শিডিউল এমনভাবে সাজাচ্ছেন যাতে তিনি দীপিকার পাশে থাকতে পারেন।

    প্রথমবারের মতো মা হওয়ার এই খবর নিয়েও দীপিকা বেশ উচ্ছ্বসিত, তবে কিছুটা সতর্কও। প্রথম সন্তানের সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে আরও পরিণত করেছে। তারা দুজনই অপেক্ষায় দিন গ Counting করছে, নতুন সদস্যকে স্বাগত জানানোর জন্য।

    দীপিকা-রণবীরের বিবাহ ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর ইতালিতে হয়েছে। তবে তাদের সম্পর্কের শুরু আরও অনেক আগে, ২০১৩ সালে ‘রাম-লীলা’ সিনেমার সময়। দীর্ঘসময় প্রেমের পর ২০১৫ সালে গোপনে বাগদান সম্পন্ন করেন তারা, যা পরে প্রকাশ্যে আসে। তাদের প্রথম সন্তান দুয়ার ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভূমিষ্ঠ হয়।

    অন্যদিকে, দীপিকা ও রণবীর এখনও নানা প্রোজেক্টে ব্যস্ত। রণবীরের সাম্প্রতিক সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২’ বক্স অফিসের শীর্ষে। দীপিকা কাজ করছেন শাহরুখ খানের সাথে ‘কিং’ সিনেমায়। এছাড়াও, তিনি আল্লু অর্জুনের নতুন একটি ছবিতে কাজ করছেন।

  • ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ২০ বছর পূর্তি, প্রকাশ হলো অজানা গল্প

    ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ২০ বছর পূর্তি, প্রকাশ হলো অজানা গল্প

    অনুরাগ বসু পরিচালিত বলিউডের কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা ‘গ্যাংস্টার: এ লাভ স্টোরি’ ২০২৬ সালে পূর্ণ করবে ২০ বছর। এই অমর फिल्मটি ভারতের সিনেমার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আছে, এবং এর জাদুকরী সফলতার পেছনের কিছু অজানা গল্প সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে।

    ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার নির্মাণের পেছনের গল্পগুলো বেশ রঙিন ও মজাদার, যা এই সিনেমাটিকে আরও বিশেষ করে তোলে। সম্প্রতি নির্মাতা অনুরাগ বসু এই সিনেমার জন্য কিছু অজানা ও হাস্যরসকর ঘটনা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিনেমাটির মূল আইডিয়াটি মহেশ ভাটের মাথায় এসেছিল, যখন ভাট তাকে বলেছিলেন, “একজন গ্যাংস্টার তার প্রেমিকা দিয়ে ঠকছে।” এই সংলাপেই সিনেমার মূল গল্পের সূচনা হয়।

    প্রথমদিকে অনুরাগ বসু ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য লিখছিলেন। কিন্তু এর মাঝে তিনি দুই সপ্তাহের কম সময়ে ‘গ্যাংস্টার’ এর পুরো স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন। সিনেমায় ‘সিমরান’ চরিত্রের জন্য তিনি একজন পাহাড়ি মেয়ে খুঁজছিলেন। অনেক অডিশনের পর, কঙ্গনা রানাউতকে দেখেই মনে হয়, এই চরিত্রের জন্য তাকে চূড়ান্তভাবেই নির্বাচন করবেন তিনি। তবে প্রথমে আরও ৫-৬ দিন অপেক্ষা করেছিলেন, যদি আরও উপযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়। শেষমেষ, কঙ্গনাই হয়ে ওঠেন বলিউডের নতুন স্টার।

    আর আপনার জানলে অবাক লাগবে, সিনেমার শুটিং শুরু সময় অনুরাগ বসু ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সবাই তাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিলেও, তিনি অন্যায়ের জিদে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে শুটিং চালিয়ে যান।

    আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই সিনেমার বাজেট ছিল মাত্র সাড়ে তিন কোটি রুপি। খরচ কমানোর জন্য, তারা ছোট একটি ইউনিট নিয়ে কাজ করতেন। অনুরাগ বলেছিলেন, “আমরা বাজেট কম থাকায় নিজেরাই রান্না করতাম। আমি ডাল রান্না করতাম আর কঙ্গনা পেঁয়াজ কাটত।”

    অল্প বাজেট ও শারীরিক অসুস্থতা আর একঝাঁক নতুন প্রতিভার সমন্বয়ে নির্মিত এই সিনেমা আজ বলিউডে একটি ঐতিহাসিক স্থান অধিকার করে নেই। অনুরাগের সাহসী পরিচালনা ও কঙ্গনা-ইমরান হাশমীর দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে প্রেক্ষাগৃহে।

    ২০০৬ সালের ২৮ এপ্রিল মুক্তির পর এটি একদম দ্রুতই বক্স অফিসে ব্যাপক সফলতা পায়। মাত্র তিন থেকে পাঁচ কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত এই সিনেমা বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬.৮৫ কোটি রুপি আয় করে।

    প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে সিনেমাটির গানগুলো, বিশেষ করে ‘ইয়া আলী’ গানের জনপ্রিয়তা আজও অবিনশ্বর। ৫২তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে কঙ্গনাও রানাউত এই সিনেমায় ‘সেরা নবাগত অভিনেত্রী’ পুরস্কার লাভ করেন।

    অতীতে ধারণা করা হয়, ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমাটি কিছুটা ভারতের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেমের জীবন গল্পের সাথে সম্পর্কিত। পাশাপাশি, সিনেমায় অভিনেত্রী মনিকা বেদীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কিছু দিকও উঠে এসেছে, যা কালজয়ী এই চলচ্চিত্রকে আরও রঙিন করে তুলেছে।

  • অচেতন অবস্থায় সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

    অচেতন অবস্থায় সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

    ইউরোপীয় সিনেমা জগতে যেন এক অন্ধকার সময় নেমে এসেছে। আলো, ক্যামেরা এবং অ্যাকশনের মাঝখান থেকে চিরবিদায় নিলেন ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস। তার চলে যাওয়ার গল্পটি বলুন যেমনই, সত্যিই যেন এক নাটকীয় ঘটনা।

    গত ১৭ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ৫৭ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে ইউরোপীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্যারিসে একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখেন। তবে শেষমেশ সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মারা যান।

    ফরাসি একটি জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা লে ফিগারো জানিয়েছে, এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা বলছে, প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    নাদিয়া ফারেস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী, যিনি পরিচিতি পান ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’ নামক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এছাড়া তিনি ‘মার্সেই’ সিরিজেও অভিনয় করেন, যেখানে তার অভিনয় দর্শকদের মনে ছাপ ফেলেছিল।

    তিনি ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কেটেছে ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমিয়ে ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন।

    অভিনেত্রী হিসেবে তিনি হলিউডেও কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে বিরত থাকেন। এরপর ২০১৬ সালে আবার তিনি অভিনয়ে ফিরেন এবং ২০২২ সালে ফিরে যান ফ্রান্সে।

  • নাহিদ রানার দুরন্ত পারফর্মেন্সের পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামল দ্রুত

    নাহিদ রানার দুরন্ত পারফর্মেন্সের পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামল দ্রুত

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম এক দিনের ম্যাচে দুর্দান্ত বল করেছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন নাহিদ রানারা দ্বিতীয় ম্যাচেও। সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আঁটসাঁট বল করে কিপার-অভিনেতা রানা-শরিফুল ইসলামরা কিউই ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে সক্ষম হন। পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট নেওয়া বাংলাদেশি বোলাররা শেষ পর্যন্ত কিউইদের ইনিংস ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট করে দেয়। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৫০ ওভারে ১৯৯ রান।

  • অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মধ্যে সহজ জয়ে বাংলাদেশ

    অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মধ্যে সহজ জয়ে বাংলাদেশ

    রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিরুদ্ধে ৩ উইকেটে জয় অর্জন করে। এই ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠিন লড়াই হলেও অভিজ্ঞতা, মনোবল ও সংগ্রামী মনোভাব দেখিয়ে টাইগ্রেসরা ম্যাচটি নিজেদের করে নিয়েছে। এই জয় দিয়ে সিরিজে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

    শুরুতে টস জিতে শ্রীলঙ্কা দল ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করে। দলের হয়ে হানসিমা করুণারত্নে ৭১ বলে ৫৪ রানে সর্বোচ্চ অবদান রাখেন এবং ইমেশা দুলানি ৭৭ বলে ৫২ রান করেন। কাভিশা দিলহারি ৩৮ বলে ৩০ এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা ৪১ বলে ২৭ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের বলალია রিতু মনির বোলিং বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য, তিনি ৩ উইকেট নিতে সক্ষম হন। পাশাপাশি নাহিদা আক্তার ২টি, সোবহানা মোস্তারী, রাবেয়া খান, সুলতানা খাতুন ও মারুফা আক্তার ১টি করে উইকেট নিয়ে শৃঙ্খলিপূর্ণ বোলিং প্রদর্শন করেন।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের শুরুটা বেশ কঠিন হয়। মাত্র ১ রানে ওপেনিং জুটি ভেঙে যায়। শারমিন সুলতানা ৩ বলে শূন্য রানে ফিরে যান, এরপর জুরাইরিয়া ফেরদৌস ৫ বলে ৫ রান করে আউট হন। তবে এর পরে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আকতার সুপ্তা ক্রিজে পৌঁছে পরিস্থিতি সামলে নেন।

    জ্যোতি ২৯ বলে ১৩ রান করে গল্প হারালেও, তার জায়গায় আসেন সোবহানা মোস্তারী। এই দুজনের মধ্যে একটি দারুণ জুটি গড়ে ওঠে। শারমিনের বোলিং ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে যায়, এবং তিনি অনেক সংগ্রাম করে রান করে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৫৬ বলে ৪১ রান করে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।

    সেসময়ে স্বর্ণা আক্তার সঙ্গে জুটি বানিয়ে খেলতে থাকেন শারমিন, যিনি দলের জন্য ৫০+ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। দল ১৯৯ রানে পৌঁছে গেলে হঠাৎ করে ধস নামে; ১২৭ বলে ৮৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হন শারমিন। এর পর স্বর্ণা আক্তার ৪৮ বলে ৩৫ রান করে ফিরে যান। এরপর রিতু মনির ও রাবেয়া খানের দ্রুত আউট হওয়ায় চাপ আরও বাড়ে।

    শেষ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ৫ রান। তবে মালকি মাদারা ও নিমাশা মীপাগের বল তুলে নেওয়া কঠিন করে তুলে লঙ্কান বোলাররা। শেষ পর্যন্ত সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার অপরাজিত থাকায় বাংলাদেশ ট্রাইটন্য গোল গোল করে লক্ষ্য পূরণ করে এবং ম্যাচ জিতে নেয়। নাহিদা ৭ বলে ৩ রান করেন, আর সুলতানা ১ রানে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে দেওমি ভিহঙ্গ ৩ উইকেট নেন, মালকি মাদারা ২টি, এবং নিমাশা মীপাগে ও ইনোকা রানাবীরা ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

  • তানজিদ-শান্তের ফিফটিতে বাংলাদেশ ফিরল সমতায়

    তানজিদ-শান্তের ফিফটিতে বাংলাদেশ ফিরল সমতায়

    তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের কাছে। এই হার যেন সিরিজের খেলা থেকে 영역 হারানোর মতো ছিল। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ই ছিল স্বাগতিক দলের জন্য একমাত্র মানে, যাতে সিরিজের সমতা ফিরে আসে। মিরপুরের মাঠে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত মনোভাব 보여 দিয়ে কোনো ভুল করেননি। বাংলাদেশের পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের ফলস্বরূপ তারা নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকে্যাটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে।

    প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস খুব טוב শুরু করতে পারেনি। তারা সব মিলিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের জন্য এই লক্ষ্য সহজ ছিল। এর জবাবে শুরুতেই বাংলদেশের ব্যাটসম্যানরা দৃঢ়তার সাথে খেলেছেন। ৮৭ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

    ১৯৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন সাইফ হাসান। প্রথম বলেই চার হাঁকান তিনি, আর একই ওভারে আরও একটি চার মারেন। কিন্তু তার ঝলক দেখানোর পরই চতুর্থ বলেই আউট হয়ে যান। এরপর সৌম্য সরকার ক্রিজে আসেন। প্রথম বলেই দুই রান নিয়ে শুরু করেন। কিছু সময় ধরে ধীরস্থির খেলা শুরু করেন তিনি। কিন্তু চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলের অসাধারণ হাঁকানো ছক্কা দিয়ে শুরু করেন দ্রুত রান সংগ্রহ। তবে শেষ ওভারে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন ১১ বলে ৮ রান করে।

    তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত আসায় দলীয় স্কোর বড় করতে শুরু করেন। তার সহযোগিতায় তানজিদ হাসান তামিম জুটি গড়ে ১২০ রান তুলেন। এই জুটির ওপর ভর করে জয়ের ভিত্তি নির্মিত হয়। শান্ত ৭১ বলে ৫০ রান করে আউট হন, তিনি চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। অন্যদিকে, তানজিদ হাসান ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে ৭৬ রান করে আউট হন। তিনি ৫৮ বল খেলে চারটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন। শান্ত অবশ্য আউট হননি। নিজের শেষ ইনিংসটি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

    অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হতাশাজনক ছিল। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের কাছে খুব দ্রুতই বিপদে পড়েন। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে তারা ২৮ রানে ২ উইকেট হারায়। দুই উইকেটই নাহিদ হাসান নিয়েছেন—the প্রথমে হেনরির LBW, পরের বলে উইল ইয়াংয়ের ক্যাচ। এরপর অধিনায়ক টম লাথামকেও সৌম্য সরকারের ক্যাচে ফেরান নাহিদ।

    নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ৫৬ রানে আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ১৪ চারসহ ১০২ রান করেন। মুহাম্মদ আব্বাসের ইনিংসটি ১৯ রানে শেষ হয়, তাকে ক্যাচ আউট করেন লিটন দাস। এরপর, ৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন মিলে জুটি গড়েন। কেলি ১০২ বল খেলে ১৪ চার ও ১ ছক্কায় ১০২ রান করেন। কিন্তু এরপর দ্রুতই তাদের উইকেট ঝরে পড়ে। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে আউট করেন।

    নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে পড়ার পরপরই বাংলাদেশি বোলাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলতে থাকেন। রিশাদ হোসেন জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন, এরপর ডিন ফক্সক্রফটের ১৫ রান তুথিয়াদে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। ব্লেয়ার টিকনারের ক্যাচও ধরেন শরিফুল। নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেটটি নেন। জেইডেন লেনক্স বোল্ড হয়ে যান ইয়র্কারে। এই পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ৯ উইকেট নেন নাহিদ, কিন্তু ১৮৩ রানে অলআউট হন তারা।

    তাদের প্রথম ইনিংসের মতোই অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের পাল্টা জবাব। শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশের বোলাররা সমানতালে লড়াই চালিয়ে যান। দুর্দান্ত এই জয় নিশ্চিত করে দলটি বর্তমানে সিরিজে সমতা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ম্যাচের পর সিরিজটি এখন তিনটি করে ম্যাচে সমান। আগামী ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ নিজের প্রস্তুতিও অনেকটাই বেড়ে গেছে।

  • অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

    অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

    খুলনায় ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সম্পন্ন হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহবায়ক হুরে জান্নাত, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান, যিনি খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব।

  • জুনেই অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির নির্বাচন: তামিম

    জুনেই অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির নির্বাচন: তামিম

    সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল এখন শুধু মাঠের ক্রিকেটারই নন, বরং তিনি দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক দায়িত্বও বহন করছেন। সোমবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের সময় প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আগামী জুনের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তামিম জানান, তারা চান, অ্যাডহক কমিটির তিন মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে। এর মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত না হয়, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য।

    গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান তামিম ইকবাল। ওই দিনই জানানো হয়, তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    অগাস্টে, অর্থাৎ গত বছরের অক্টোবরে, বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন তামিম নেতৃত্বাধীন একটি প্যানেল পরিচালকের পদে মনোনয়ন পান, কিন্তু পরে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। এখন অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ সীমিত হওয়ায়, তামিম ও তার টিম চান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এক স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হোক। এর ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক স্থিরতা আবার ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।