Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা

    কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা

    কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য আনানো ও জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার একটি সমন্বিত ‘স্মার্ট কৃষি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল সরকার ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করেছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি দশ ধরনের সেবা পাবে।

    আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির সংকোচন ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরই সরকারের লক্ষ্য, এজন্যই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রদানযোগ্য দশটি সেবার মধ্যে রয়েছে: ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ফসল বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়, কৃষি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রদান এবং ফসলরোগ-শত্রু দমন সংক্রান্ত পরামর্শ। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    সরকারি অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত ও উচ্চফলনশীল বীজ ও সুষম সার ব্যবহার সম্প্রসারণ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি দিয়ে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপারসহ যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা। মাটির গভীরতাকে কাজে লাগিয়ে জলব্যবস্থার উন্নয়নে ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    পতিত জমি চাষে ফিরিয়ে আনার জন্য ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করে প্রতিটি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হচ্ছে, ফলে জমির ব্যবহার সর্বাধিক সম্ভব হবে। খাল খনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে বহু পতিত জমি কৃষিযোগ্য করা হচ্ছে; সিলেট ও চরাঞ্চলে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

    কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণেও সরকারের গুরুত্ব বাড়ছে—চালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুলের চাষ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, স্বল্প সুদের ঋণ ও ফসল বীমা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কৃষক কার্ড ব্যবহৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনকেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

    সরকারের বরাদ্দ ও সহায়তা বিষয়েও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্য থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণের জন্য ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

    ফসল সংরক্ষণ ও বিপণনের সুবিধার জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হচ্ছে। রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চালু রয়েছে।

    কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব বৃদ্ধি করে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)—অধিক ফলনশীল, রোগ-প্রতিরোধী ও স্বল্পমেয়াদি জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে। বিশেষভাবে জলবায়ু সহনশীল জাতের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে পরিবর্তিত পরিবেশেও উৎপাদন বজায় রাখা যায়।

    অবশেষে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আছে লবণাক্ত, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা, কম সেচে উৎপাদন সম্ভব করা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ, সেচ ব্যবস্থায় Alternate Wetting and Drying (AWD) প্রবর্তন, প্রি-পেইড মিটার স্থাপন এবং মোবাইল অ্যাপ—যেমন ‘খামারি অ্যাপস’—মাধ্যমে স্থানভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য ও চাষ পরামর্শ প্রদান। পাশাপাশি প্রিসিশন এগ্রিকালচারসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকে আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সরকারের দাবি, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও আয় বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দ্রুত পৌঁছাবে এবং কৃষি খাত আরও টেকসই ও লাভজনক হবে।

  • সন্তানসহ জামিনে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেতা্রী শিল্পী বেগম

    সন্তানসহ জামিনে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেতা্রী শিল্পী বেগম

    তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেতা্রী শিল্পী বেগম এবং তার দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরান বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শিরিন আক্তার তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আটটায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওই সিদ্ধান্তের পর বুধবার সকাল থেকেই তার সহকর্মীরা কাশিমপুর কারাগার ফটকে উপস্থিত থেকে তাকে নেবার অপেক্ষা করেন।

    তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘তিনি আমাদের বড় বোন, দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার সঙ্গে যা অন্যায় ঘটেছে, সেটি মিডিয়ায় প্রচারের পর মানবিক কারণ বিবেচনা করে আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’’

    কারা ফটকে মুক্তির পর শিল্পী বেগম বলেন, ‘‘পুলিশ আমাকে ধরতে চায়নি, বিএনপির লোকজন আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু কোনো পদ-পদবি নেই। আমাকে মুক্তি দেওয়ায় আমি আইনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’’

    উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার রাতে তিনি এবং তার নবজাতক কন্যা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে আদালত জামিন মঞ্জুর করলে তারা মুক্তি পান।

  • বিএপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চার নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে

    বিএপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চার নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে

    বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নাম ঘোষণা করেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়ন পাওয়া চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমা। দল বলছে, এই তালিকায় সামাজিক ও সম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। তিনি উন্নয়নকর্মী হিসেবে পরিচিত এবং নিজে খ্রিস্টান ও বিভিন্ন ক্ষুদ্রজাতি/আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার দাবিদার। তিনি জানান, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কণ্ঠ হয়ে কাজ করবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর গোপালগঞ্জ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি শিক্ষক ও মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু দাবি উঠেছে যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিটিতে রয়েছেন; সেই প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক, কোনো কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।

    দলীয় শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়াই এই মনোনয়নের লক্ষ্য। দল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের নানা পটভূমি থেকে নারীদের রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত করে তুলবে।

  • সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলের অন্য নেতাদের মতো সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

    আযাদ বলেন, ‘‘আমরা একটি কম্বাইন তালিকা সাবমিট করেছি। এই তালিকায় ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা নেই। প্রত্যাশা করি এই ১৩ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।’’ তিনি বলেন, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে এবং তারা আশ্বস্ত করেছে যে—প্রক্রিয়াটি সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। কমিশন যেন কোনো ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি না করে, সেটাই তারা প্রত্যাশা করে।

    আযাদ বলেন, পার্লামেন্ট বর্তমানে কার্যকর থাকায় যদি মনোনীত নারী সদস্যরা সময়মতো সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারেন তবে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মনোনীত ১৩ জন নারী ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘‘নারীরা দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে আইনপ্রণয়ন ও সংসদীয় কাজকর্মে সম্পূর্ণভাবে অংশ নেবে; সংবিধান তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। তারা বিরোধী দলের কাতারে বসে দেশের গঠন ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’’

    জামায়াতের নীতিসমূহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দল সর্বদা ন্যায়সংগত ও জনকল্যাণমূলক বিষয়ে জনগণের সাথে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। আছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই নীতিই ঘোষণা করেছেন।

    সরকারি ভুল বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতোই নারী সদস্যরাও প্রতিবাদে যোগ দেবেন—এবিষয়ে আযাদ বলেন, ‘‘৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্যের সাথে ১৩ জন নারী সদস্য যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবে—এই প্রত্যাশা আমাদের আছে।’’

    গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল। সেটি না হওয়ায় আমরা পার্লামেন্টে এবং পার্লামেন্টের বাইরেও সরকার ও জনরায় উপেক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি এবং করবো।’’

    মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, জামায়াতে এমন নীতিই আছে যে একই পরিবারের দুই সদস্য সংসদে থাকবেন না; এজন্য আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এই আসনে শহীদের পরিবারের একজন মাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনকে নিয়ে ওঠা সরকারি চাকরি থেকে অবসর সংক্রান্ত বিতর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংসদীয় আইন অনুযায়ী যারা তিন বছর পূর্ণ না করেছেন তাদের বিষয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বলে তিনি আশা করেন না।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল দাখিলের শেষ দিন ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীকের বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ নির্ধারিত আছে ১২ মে।

  • রেমিট্যান্সের জোয়ার: প্রথম ১৯ দিনে দেশে এল ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্সের জোয়ার: প্রথম ১৯ দিনে দেশে এল ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার বলে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশের কাছে এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কড়া বৃদ্ধিই দেখা গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানও বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার — যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    একক মাস হিসেবে গত মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বর ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ; অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ার ফলে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে গেছে, ফলত প্রবাসীরা যখন টাকা পাঠাচ্ছেন তাতে দেশে পৌঁছানো টাকার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে—এটিই রেমিট্যান্স বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে বিশ্লেষকরা জানান।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হয় তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এই সংগ্রহশীল বৃদ্ধি ছন্দ ধরে রাখার পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

  • সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী: বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

    সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী: বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

    অর্থমন্ত্রী অ্যামির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি বর্তমানে ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি এই তথ্য বলেন মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে।

    রুমিন ফারহানা জানতে চেয়েছিলেন বর্তমানে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত এবং ঋণ পরিশোধে এখন পর্যন্ত সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে; পাশাপাশি বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কোনো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে কি না।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী সরকারের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) পালন করে।

    অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতি অর্থবছর ইআরডি ঋণের মূল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধের সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের একটি প্রক্ষেপণ প্রস্তুত করে। সেই হিসাব অনুযায়ী বাজেটে ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয় এবং বরাদ্দ ব্যবহার করে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সারা বছর ঋণ পরিশোধ করা হয়।

    অতিরিক্তভাবে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

    সংসদে দেওয়া এই বিবরণে অর্থমন্ত্রী ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং ঋণ পরিশোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের নিয়মিত পদক্ষেপগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

  • ইরান মেরামত করেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ৭৭৫টি স্কুল: শিক্ষামন্ত্রী জানালেন

    ইরান মেরামত করেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ৭৭৫টি স্কুল: শিক্ষামন্ত্রী জানালেন

    ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশজুড়ে মোট ১,৩০০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এদের মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত ৭৭৫টি স্কুল মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে।

    কাজেমি বলেন, প্রায় ২০টি স্কুল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান ও হরমোজগান প্রদেশে। তিনি উল্লেখ করেন যে যেসব স্কুলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোর মেরামত কাজ অক্টোবর মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

    অপরদিকে, হামলার মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান। সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা এবং টেলিভিশন-আধারিত স্কুল কার্যক্রম চালু রেখেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাউন্সেলিং সেবা চালু করা হয়েছে বলে কাজেমি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন সহায়তা শিক্ষার্থীদের আঘাত সমাধান এবং নিয়মিত পাঠক্রমে ফিরে যেতে সাহায্য করবে।

    এছাড়াও, মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৭০ জনের স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্কুলে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ছাত্রী ও তাঁদের শিক্ষক।

    কাজেমি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক-শারীরিক কল্যাণ নিশ্চিত করার কাজে সরকার মনোযোগ দেবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শিক্ষাব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

  • ইরান নাগরিকদের সামনে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন

    ইরান নাগরিকদের সামনে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরান সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানসহ দেশটির বেশ কয়েকটি বড় শহরে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের কর্মসূচি চালানো হয়েছে।

    তেহরানের একটি প্রধান চত্বরে ‘ঘদর’ নামের ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি জনসম্মুখে প্রদর্শন করা হয়। তখন সেখানে বড় সংখ্যক সাধারণ লোক জড়ো ছিলেন এবং উপস্থিতরা স্লোগান দিয়ে वातावरणকে উজ্জীবিত করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেউ কেউ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মজিদ মৌসাভির কাছে তেল আবিবে হামলার আহ্বানও জানান।

    ঐ সময়ে তেহরানের অন্য একটি চত্বরে ‘খোররামশাহর-৪’ নামক আরেকটি উচ্চ ক্ষমতার ক্ষেপণাস্ত্রও প্রদর্শিত হয়। নজর করছে যে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর কাতারের একটি গ্যাস কোম্পানির লোগো বা চিত্র লক্ষ্য হিসেবে জড়ানো ছিল, যা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

    এই ধরনের প্রদর্শনী কেবল রাজধানীতেই সিমাবদ্ধ ছিল না। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শিরাজ, উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ এবং মধ্যাঞ্চলের অন্যান্য শহরগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র দেখানো হয়েছে এবং সাধারন মানুষকে এগুলো নিকট থেকে দেখতে দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি টেলিভিশন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে সরকার জনগণকে এই ধরনের সমাবেশে যোগ দিতে উৎসাহিত করছে। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন চত্বরে জমায়েত হয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা খাতের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনী মূলত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল—অভ্যন্তরীণ ঐক্য দেখানো এবং বহিরাগত প্রতিপক্ষকে সতর্ক করা। এর মাধ্যমে ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ একতা উভয়ই প্রচার করতে চায়।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তবে ইরানের এই কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে সতর্কীকরণও আছে।

    সংক্ষেপে—বর্তমান কূটনীতি ও নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে ইরান নিজের সামরিক শক্তি জনসম্মুখে তুলে ধরে একটি দৃশ্যমান বার্তা দিচ্ছে: দেশ অভ্যন্তরীণভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং পরিস্কারভাবে প্রতিরক্ষাক্ষম।

  • যশোরে শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগ, পুত্রবধূ গ্রেপ্তার

    যশোরে শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগ, পুত্রবধূ গ্রেপ্তার

    যশোরে পারিবারিক বিরোধের জেরে শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখার অভিযোগে ২০ বছরের পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার জানান, পুলিশের কাছে মঙ্গলবার গভীর রাতে বেজপাড়া এলাকার ওই বাড়ির সামনে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ আছে—এর সংবাদ আসে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মৃতার নাম সকিনা বেগম (৬০), তিনি লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে দোকানে যান। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম জানান যে বাসায় রান্না হয়নি, বাইরে খেয়ে নেবে। শহিদুল মাকে খুঁজলে বাড়ির লোক বলেন তিনি বাইরে তালিমে গেছেন।

    রাত প্রায় ১০টার দিকে শহিদুল বাড়ি ফেরেন; মা বাড়িতে না দেখে আবার খোঁজখবর নেন। তখন তার স্ত্রী জানান সকিনা বাসায় ফেরেননি। সন্দেহজনক হলে শহিদুল থানায় যোগাযোগ করেন। পরে সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে বস্তার মধ্যে একটি লাশ দেখতে পান তিনি। শহিদুল ও তার বোন শাহিদা বেগম লাশটি সকিনা বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আলামত সংগ্রহ করে। সন্দেহজনক আচরণ থাকার কারণে মরিয়মকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয়ে বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন পুনরায় বকাবকি হওয়ায় রেগে বাড়ির থাকা একটি চাপাতি দিয়ে তিনি শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা করেন, পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে রেখে দেন এবং হত্যার অস্ত্রটি ওয়্যারড্রোবে লুকিয়ে রাখেন।

    পরে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার স্বীকারোক্তি ও আলামত মিলেছে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনা প্রেসক্লাব: ৩০ এপ্রিল নির্বাচন, ১৫ পদে ২৭ প্রার্থী

    খুলনা প্রেসক্লাব: ৩০ এপ্রিল নির্বাচন, ১৫ পদে ২৭ প্রার্থী

    খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ এপ্রিল। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী মোট ১৫টি পদে ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক খুলনা গেজেটের চিফ রিপোর্টার মোহাম্মদ মিলন।

    প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী সভাপতি পদে লড়বেন মোস্তফা সরোয়ার, মোহাম্মদ আবু তৈয়ব ও মোঃ মিজানুর রহমান মিল্টন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হলেন শেখ কামরুল ইসলাম, মোঃ তরিকুল ইসলাম ও মোঃ হেদায়েত হোসেন মোলা।

    কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এম এ হাসান ও বিমল সাহা। তিনটি সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন — মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, আতিয়ার পারভেজ ও কাজী শামীম আহমেদ।

    যুগ্ম-সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ মাহমুদ হাসান ও মোঃ বেল্লাল হোসেন সজল। পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বশির হোসেন, শেখ জাহিদুল ইসলাম ও মোঃ রবিউল গাজী (উজ্জ্বল)।

    ছয়টি নির্বাহী সদস্য পদে মোট নয়জন প্রার্থী হয়েছেন — শেখ লিয়াকত হোসেন, সোহেল মাহমুদ, মহেন্দ্রনাথ সেন, মোঃ মেহেদী মাসুদ খান, রাজু আহমেদ, কাজী মোতাহার রহমান, মোঃ আনিস উদ্দিন, মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ) ও কে এম জিয়াউস সাদাত।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং সদস্য, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।