Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তদন্তে কমিশন প্রত্যাশা করে হাইকোর্টে রিট

    অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তদন্তে কমিশন প্রত্যাশা করে হাইকোর্টে রিট

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন ও দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ওই সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে।

    রোববার (৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যকালীন গৃহীত সব সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের বৈধতা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি স্বতন্ত্র তদন্তকমিশন গঠনের আবেদন করা হয়েছে।

    আবেদনটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে এবং আদালতকে অন্তর্বর্তী সরকারের সব কার্যক্রম তদন্তপূর্বক একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, একই আইনজীবী পূর্বে বর্তমান সরকারের শপথ নেওয়া ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। সেই রিট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খারিজ করে দেয়। পরে আপিল হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ওই অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।

  • সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করতে হবে

    সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে যে সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোই অনুসরণ না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সরকার যদি এভাবে চলে, তাহলে তা কর্তৃত্ববাদী পথে অভিনিবেশ করবে—তাই বিএনপিকে জুলাই সনদ (জুলাই চাটার) বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে বলে বক্তারা দাবি করেছেন।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব বক্তব্য রাখেন নেতারা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনের সভাপতি ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়েছে—এ সংসদ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সংসদ। সরকার এমন আইন করে যা তাদের ক্ষমতা বাড়ায়, কিন্তু যেগুলো সরকারি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সেগুলো বাদ দেওয়া বা বাতিল করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমন কিছু অধ্যাদেশ ছিল যা স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সহজ করে দেয়; বর্তমানে সেই ক্ষমতা সরকারের হাতে পড়েছে, ফলে বিরোধী দলের কাউকে অপসন্দ হলে প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া যাচ্ছে।

    হান্নান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে কিছু কমিশন ও সংস্কারের কথাই উপেক্ষা করেছে। পুলিশ কমিশন নিয়ে দ্বিমত থাকলেও রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার যে উদ্যোগগুলো চাওয়া হয়েছিল সেগুলো থেকে সরকার সরে গেছে—কিছু ক্ষেত্রে কমিশন বাতিলও করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের উদ্যোগটিও বাতিল করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলো চেয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলোর কোনোটি বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থায় একটি ক্ষমতাসম্পন্ন অভিজাত বর্জিত কাঠামো রয়ে গেছে—সিভিল, মিলিটারি ও বুরোক্রেসির সমন্বয়ে তৈরি ক্ষমতাগোষ্ঠী সংস্কার চান না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদে করা বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো উন্নত দেশে এমন মিথ্যা বক্তৃতা দিত কোনো মন্ত্রী, তাকে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করতে হতো।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য—এর মূল লক্ষ্য ছিল বিচার, শাসন ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। সংবিধান সংস্কারের প্রথম পর্যায়ে যে অনেক র‌্যাডিকাল ধারণা এসেছে, তাতে একাধিকার রোধের বিষয়টি ছিল স্পষ্ট; বিশেষ করে একই ব্যক্তির সব দায়িত্ব থাকা উচিত নয়—রাষ্ট্রপ্রধান এবং দলের নেতা আলাদা হওয়া উচিত। বিএনপির চাপে কিছু অবস্থান সমঝোতা করা হলেও যে অংশগুলো রক্ষা পেয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নই ছিল বড় অর্জন।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে ইচ্ছুক নয়—অনেকেই প্রথমে তাদের ‘সুদৃষ্টি’ সুবিধা দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয়েছে তারা আর সংস্কার করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন-ঘোষণা ও দলের ইশতেহারে থাকা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সরকারের কার্যক্রমের মধ্যেই ভঙ্গ করা হয়েছে—উদাহরণ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ উল্লেখ করেছেন।

    সেশন সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সম্ভবত ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চাইছে। তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’-কে মূল সমস্যা হিসেবে দেখেন না, বরং চান বিএনপি স্পষ্ট করে বলুক গণভোটের কোন অংশে তাদের আপত্তি—কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল একটি উচ্চকক্ষ হবে (ভোটের পিআর অনুযায়ী), তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা থাকবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে হবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি মধ্যম পথ হিসেবে সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী ও গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের আইডিয়া নিয়ে এক সমাধান চাওয়া হয়েছিল—কিন্তু বিএনপি সেই প্রস্তাব থেকেই দুরে সরে গেছে।

    কনভেনশনে আলোচনা করায় অংশ নেন আরও অনেকে এবং অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধানে নানা ধারার বক্তারা সরকারের সংস্কার-নীতির সমালোচনা করে দ্রুত ও কার্যপন্থায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দেন। সম্মেলনের বক্তারা মিলে দাবি করেন—যদি সরকার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জাতির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন দেখা দেবে।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে

    খুলনায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো শক্তিশালী শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় দলের স্থানীয় শাখাগুলোতে কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই নতুন কমিটি গঠনের জন্য বিভিন্ন নেতার মধ্যে তৎপরতা ও লবিং বাড়ছে।

    দলীয় সূত্র অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান দাব্দা কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠন করা হয়েছিল। তখন ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহবায়ক এবং তাজিম বিশ্বাসকে সদস্যসচিব করা হয়েছিল। ওই কমিটি মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে, ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৫টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিন বছর পর, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলা ছাত্রদলের পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সময় তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগরের মতোই ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তিত পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর ও জেলা কমিটিগুলোকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘোষণা করে বিলুপ্ত করেছে বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানালেও, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন কমিটি করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠে কিছু ইউনিট কমিটি কার্যকর থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় খুলনায় organisational শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের خلل দেখা দিয়েছে।

    একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের জন্য ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদারকি চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল নিজে এই প্রক্রিয়া তদারকি করছেন বলে সূত্ররা জানায়।

    মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদ নিয়ে বিভিন্ন নাম আলোচনা কেন্দ্রstage; উল্লেখযোগ্য পদপ্রত্যাশীর মধ্যে আছেন সাবেক সদস্যসচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি।

    জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে সাড়া জাগানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, ‘‘মামলার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে এবং ত্যাগ-কৃত নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করা হলে সত্যিকার সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতারা নেতৃত্বে আসবে।’’ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, ‘‘ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলের সঙ্গে যুক্ত হয়; দেশের বর্তমান সংসদের অনেক মন্ত্রী-এমপি একজন সময়ের ছাত্রনেতা ছিলেন। দলকে গতিশীল রাখতে দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।’’

    এ সময় দলীয় কর্মীরা বলছেন, নতুন কমিটি ঘোষণা হলে খুলনার স্থানীয় সংগঠনগুলোতে কার্যক্রম পুনরায় ঝোঁক ফিরে আসবে এবং যুব নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। তবে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ওপর নির্ভর করবে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।

  • এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এপ্রিলে দেশে গড় প্রতিদিন রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, তাই বছর হিসেবে এপ্রিলে প্রবাহ বেড়েছে।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বছরের তুলনায় ১৯.৫০ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

    এর আগে মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা কোনো এক মাসে পাওয়া সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার; আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    একই সঙ্গে জানা গেছে, গণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    চলতি এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা প্রায় ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার। এ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে প্রাপ্ত এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, এ মাসের মধ্যে শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময় (এপরিলে) দেশে রেমিট্যান্স আসেছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, তাই চলতি বছরের এপ্রিলে পাঠানো অর্থ আগের বছরের তুলনায় বেশ বাড়তি।

    এর আগে মার্চে এক মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসে থাকে — ওই মাসের ৩১ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩.৭৫৫ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের ঘরের ওপরে ছিল; জানুয়ারিতে পাঠানো অর্থ ছিল ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। চলতি বছরের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উৎসকে শক্ত রেখেছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • ৩০ দিনের মধ্যে সব বিবাদ সমাধান চায় ইরান, দিলো ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব

    ৩০ দিনের মধ্যে সব বিবাদ সমাধান চায় ইরান, দিলো ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ করতে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বদলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত ইস্যু নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    তেহরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সূত্র হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানায়, প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধের সমাপ্তি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি। এছাড়াও লেবাননে ইসরাইলি অভিযানসহ এই অঞ্চলের সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দফায়-দফায় উপস্থাপিত ৯ দফার পরিকল্পনার জবাব হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান এখন দ্রুত ও সমাধানমুখী সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছে — সময়সীমা নির্ধারণ করে তিন-চতুর্থাংশ ইস্যু দ্রুত নিরসনের দরকার আছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে ইরানের আগে করা একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনও কার্যকর রয়েছে, বলে জানানো হয়েছে।

    এদিকে আজ (রোববার, ৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির মধ্যে এ নিয়ে ফোনালাপ হয়েছে। ওমান দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটন—দুইপক্ষকেই সংযোগকারী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে; এবারও শান্তি প্রক্রিয়ায় ওমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা প্রকাশ্যে এসেছে।

    এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে, কিন্তু দুইপক্ষের সম্মতি ছাড়া এর সার্বিক ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে কঠিন। আন্তর্জাতিক মহল ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখন তেহরানের ১৪ দফার প্রস্তাবের ওপর চোখ রাখছে।

  • মমতা: ‘সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন—জয় হবে আমাদেরই’

    মমতা: ‘সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন—জয় হবে আমাদেরই’

    তৃণমূলের নেতাকর্মী, প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের ধৈর্য ধরে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার ছাড়তে না বললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে দেয়া ভিডিও বার্তায় তিনি দলের সবাইকে অনুরোধ করে বললেন, “সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, গণনা অনেক বাকি এখনও, জয় হবে আমাদেরই।”

    প্রাথমিক গণনায় সকাল থেকে মধ্যাহ্ণ পর্যন্ত যে প্রবণতা দেখা গেছে, তাতে বিজেপি ১৮৩টি আসনে এগিয়ে আছে, আর তৃণমূল ১০২টি আসনে। এমন পরিস্থিতিতে মমতা নেতাদের বললেন যেন কেউ হতাশ না হন বা কাউন্টিং কেন্দ্র ত্যাগ না করেন। তিনি আশ্বাস দিলেন, শুরুতে বিজেপি এগিয়ে থাকার ঘটনা আশা করা যাচ্ছিলো—শেষ রাউন্ডে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

    ভিডিওবার্তায় মমতা অভিযোগ করেন যে অনেক জায়গায় গণনা থামিয়ে রাখা হয়েছে এবং ফল পরবর্তী সময়ে দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “কল্যাণীতে এমন সাতটি মেশিন ধরা পড়েছে, যেখানে কোনো মিলই নেই।” এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে কড়া অভিযোগ করেন—বলেন, কমিশন ইচ্ছেমতো কাজ করছে এবং কেন্দ্রের শক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ করছে; স্থানীয় পুলিশেরও সেই প্রভাব পড়ছে। (এগুলো তার অভিযোগ হিসেবে জানানো হয়েছে।)

    তবে তৃণমূলনেত্রীর প্রধান বার্তাটি ছিল মনোবল বজায় রাখা। মমতা বলেন, “দয়া করে কোনও প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির পরিকল্পনা।” তিনি আরও বলেন, এখন মাত্র তিন-চার রাউন্ড গণনা শেষ হয়েছে; সাধারণত ১৮-১৯ রাউন্ড পর্যন্ত গণনা হয়—শেষ রাউন্ডগুলিতেই ফল আমাদের অনুকূলে আসবে। “ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ, আপনারা সবাই জিতবেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি।”

    বার্তাটির শেষে মমতা কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।”

  • এপ্রিলে রামপালে রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন

    এপ্রিলে রামপালে রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন

    চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে। রোববার কেন্দ্রটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাসজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও আকাশছোঁয়া চাহিদার মধ্যেও কেন্দ্রটি ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাপদহের কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যাওয়ার পরও রামপাল কেন্দ্র মাসভর স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে সফল হয়েছে। এই সময়ে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর কেন্দ্রটির অবদান ছিল ৯ শতাংশেরও বেশি, যা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার দৃঢ় রক্ষক হিসেবে কেন্দ্রটির ভূমিকা প্রমাণ করে।

    অপর দিকে, কেন্দ্রটি এপ্রিল মাসে গড়ে ৮০% প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর (PLF) ক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে। মাসের প্রথম সপ্তাহে যখন তাপপ্রবাহে গ্রিডের চাহিদা চরমে পৌঁছায়, তখন কেন্দ্রটি ৯৭% সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। এ ছাড়া এটি পঞ্চমবারের মতো ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি উৎপাদনের মাইলফলক ছাড়িয়েছে—একটি অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্ষমতার ফল।

    বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী রমনাথ পূজারী বলেন, “দেশে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে; এটি আমাদের টিমের নিরলস প্রচেষ্টারই ফল। এই সাফল্য কঠোর পরিশ্রম এবং দুই দেশের আন্তরিক সহযোগিতার উদাহরণ।”

  • গোপালগঞ্জে বাসচাপায় ভ্যানচালক নিহত, ইজিবাইকে ৭ জন আহত

    গোপালগঞ্জে বাসচাপায় ভ্যানচালক নিহত, ইজিবাইকে ৭ জন আহত

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা (৪৫) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও সাত জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার (০৪ মে) সকাল—ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওই স্থানে।

    ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনউজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে খুলনাগামী ফাল্গুনী পরিবহনের একটি বাস গোপীনাথপুরে পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক ঝন্টু মোল্যা নিহত হন এবং ইজিবাইকে থাকা সাতজন যাত্রী আহত হন।

    নিহত ঝন্টু মোল্যা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের আখুব্বর মোল্যার ছেলে।

    স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে।

  • বিসিবির ওয়াশরুমে দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম ইকবাল

    বিসিবির ওয়াশরুমে দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম ইকবাল

    বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল বলেছেন, স্টেডিয়ামের ওয়াশরুম পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত নারীদের পারিশ্রমিক নিয়ে অনিয়ম দেখে তিনি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালে মিরপুর শের-ও-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্যালারি ও ওয়াশরুম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে এই অনিয়মের তথ্য তিনি পান।

    তামিম জানান, ক্লিনিং সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বোঝা যাচ্ছিল যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জনপ্রতি ৬৫০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খালার মুখে শুনে তিনি অবাক হন যে বাস্তবে অনেকেই প্রতিদিন মাত্র ৩০০ কিংবা ৪০০ টাকাই পান। এমন অনিয়ম দেখে তাঁর কাছে এটা একেবারে জঘন্য মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে।

    তিনি বলেন, ২০০৭ সালে মিরপুর স্টেডিয়াম তৈরি হওয়ার পর থেকে টয়লেট ও বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার করা হয়নি—অন্তত পর্যাপ্ত কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বিপিএল ও ডিপিএলসহ অসংখ্য খেলাধুলার আয়োজনে এসব বাথরুম ব্যবহার হয়েছে, কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছ্যার কাজে নিযুক্ত নারীদের ঠিকমতো ক্ষতিপূরণ না দেয়া এবং তাদের কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

    ইভেন্টের একদিন সকালে ফিনল্যান্ড থেকে আসা এক বিদেশি নারী স্টেডিয়ামের ওয়াশরুম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে তামিম আরও বিব্রত হন। তিনি বলেন, ওই নারী সরাসরি মাঠে এসে সর্দার কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ভাইয়া, যদি একটু ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়’—এমন অভিযোগ শুনে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

    তামিম অভিযোগ করেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে স্পষ্টতা চান। তিনি বলেছেন যে তিনি ওই কোম্পানিকে বলেছেন, সারি-ভিত্তিক বিল জমা দিন এবং আমার সামনে ৩০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে এনে প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দিতে হবে। কোম্পানিকে ১০০–১৫০ টাকার লাভ রাখার অনুমতি থাকলেও সরাসরি কর্মীদের সাথে প্রতিশ্রুতির লেনদেন লুকিয়ে রাখা যাবে না।

    তামিম স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি পারিশ্রমিকের সত্যতা না দেখানো হয় এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ন্যায্য অর্থ না দেওয়া হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে বিসিবির চুক্তি বাতিল করে তাকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে যাতে ভবিষ্যতে তারা বিসিবিতে আর কোনও কাজ করতে না পারে।

    সংক্ষেপে তামিমের দাবি—স্টেডিয়ামের পরিষ্কার-পরিচ্ছ্যা ও কর্মীদের মানবিক অধিকার বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। যারা মাঠে কাজ করেন তাদের সম্মান ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করলে কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রকাশ্যে দায়িত্বে থাকতে পারবে না।