Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • প্রথমবার টেলিভিশনে আসছে আলোচিত সিনেমা ‘উৎসব’

    প্রথমবার টেলিভিশনে আসছে আলোচিত সিনেমা ‘উৎসব’

    প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাবে জনপ্রিয় ও আলোচিত সিনেমা ‘উৎসব’। এবারের ঈদুল ফিতরে এটি দেখা যাবে মাছরাঙা টেলিভিশনে, যেখানে ঈদের দিন দুপুর ২:২০ মিনিটে প্রচারিত হবে এই দারুণ সিনেমাটি।

    তানিম নূর পরিচালিত এই ছবি বিভিন্ন দৃষ্টিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী যেমন জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, অপি করিম, আফসানা মিমি, তারিক আনাম খান, আজাদ আবুল কালাম, ইন্তেখাব দিনার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সৌম্যজ্যোতি এবং সাদিয়া আয়মান।

    বছরান্তে বছর গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। মুক্তির পর থেকেই দর্শক এবং সমালোচকদের দারুণ প্রশংসা লাভ করে। শুধু দেশের মধ্যেই নয়, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছেন দর্শকেরা।

    অনলাইনে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’তে মুক্তি পেলেও এখনো টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়নি সিনেমাটির। তবে এবার মাছরাঙা টেলিভিশন এই সুযোগ করে দিতে যাচ্ছে দর্শকদের জন্য।

    ‘উৎসব’ সিনেমাটি নব্বই দশকের আবহে নির্মিত, যা গভীর হাস্যরস ও নাটকীয়তাসম্পন্ন। এটি অবলম্বন করে নির্মিত হয়েছে কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত গল্প ‘এ ক্রিস্টমাস ক্যারল’। সিনেমাটির নির্মাণে পান গভীর মানবীয় বার্তা এবং নাটকীয়তা, যা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।

  • অতিথি দর্শকদের সঙ্গে অভিনয়ে মোশাররফ করিমের মঞ্চে আবির্ভাব

    অতিথি দর্শকদের সঙ্গে অভিনয়ে মোশাররফ করিমের মঞ্চে আবির্ভাব

    ঈদ উৎসবের প্রাধান্য পেয়েছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’, যা প্রতি বছরই বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে দর্শকদের মন জুড়িয়ে দেয়। এবারে বছরের ভাবনা ও চমক নিয়ে এটি ফিরছে নতুনভাবে, যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচিত চারজন দর্শকের সঙ্গে সরাসরি মঞ্চে অভিনয় করেছেন।

    ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটি নানা রঙে সাজানো হয় মহানুভবতা ও বিনোদনের মিশেলে। এবার, নির্বাচিত দর্শকদের সঙ্গে মোশাররফ করিম ঝড় তুলেছেন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। এই অভিনয় মাধ্যমে তিনি সমাজের নানা দিক ও সচেতনতার বার্তা তুলে ধরেছেন।

    আরেকটি উল্লেখ্য বিষয় হচ্ছে, সাধারণত এই অনুষ্ঠানটির প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে দর্শকদের নির্বাচন করা হলেও, এবারের বিশেষ পর্বে দর্শকদের সরাসরি বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। এর ফলে, চারজন দর্শককে নির্বাচিত করে মঞ্চে আনা হয়।

    এটি ঈদের পরের দিন রাত ৮টায় বাংলা সংবাদের পর বিটিভিতে প্রচারিত হবে। এই বিশেষ পর্বটি রচনা, নির্দেশনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত, এবং এটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।

  • ব্রাজিলিয়ান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিয়াঙ্কা ডিয়াস করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ

    ব্রাজিলিয়ান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিয়াঙ্কা ডিয়াস করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ

    কসমেটিক সার্জারির কয়েক দিনের মধ্যেই ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ব্রাজিলিয়ান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার বিয়াঙ্কা ডিয়াস মারা गए। তার প্রিয়জনরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তার মৃত্যু হয়েছে, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর।

    ডিয়াস তার শেষ পোস্টগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে লন্ডনে ট্রিপের কিছু ছবি ও ভিডিও। এই পোস্টগুলোই তার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেষ অব্দি দেখা গেছে।

    তার বন্ধু জেফ কার্লোস ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘মৃত্যু কিছু নয়। আমাদের বন্ধন কখনো ভাঙেনি।’ অন্য এক বন্ধু, কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্যাট্রিসিয়া গ্যান্ডেন সামাজিক মাধ্যমে বলছেন, ‘আমি শুধু জানি, আমরা অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি আর অসাধারণ আড্ডা হয়েছে। ঈশ্বর তার পরিবারকে রক্ষা করুন।’

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, ডিয়াস সম্প্রতি একটি কসমেটিক সার্জারি করিয়েছিলেন। সার্জারির পর তিনি বাড়ি ফিরে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে এবং তিনি ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। শারীরিক অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তিনি মৃগীরোগের মতো তীব্র জটিলতা অনুভব করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জিওভানা বার্গেস বলেন, ‘আমি অসংখ্য বার্তার জন্য কৃতজ্ঞ, যারা তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। যদি কেউ ধর্ম নির্বিশেষে তার জন্য প্রার্থনা করতে চান, আমি খুবই কৃতজ্ঞ থাকব।’

    ডিয়াসের لیے শোকপ্রদর্শনের জন্য ব্রাজিলের সাও পাওলোতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

  • বিজয়ের স্ত্রী হয়ে আমি সত্যিই ধন্য: রাশমিকা

    বিজয়ের স্ত্রী হয়ে আমি সত্যিই ধন্য: রাশমিকা

    দক্ষিণী সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেছেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা তাদের বিয়ের একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের পর, এখন তারা নিজেদের জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পরিচয় দিতে চলেছেন।

    বিয়ের ঘোষণা দিয়ে রাশমিকা লিখেছেন, ‘মানুষটি আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসা কীভাবে আবেগের সঙ্গে শেখিয়েছে, তা আমি কৃতজ্ঞ। সে আমার জীবনকে শান্তির সঙ্গে ভরিয়ে দিয়েছে। সে আমাকে স্বপ্ন দেখতে এবং নিজের ক্ষমতায় বিশ্বাস রাখতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমার ভাবনার চেয়েও অনেক কিছু অর্জন করতে পারা সম্ভব হয়েছে তার জন্য।’

    তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এই মানুষটি আমাকে কখনই এমনভাবে নাচতে বাধা দেয়নি যেন কেউ দেখছে না। সে আমার বোঝাপড়া বাড়িয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর যে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে মূল্যবান। আমি বিশ্বাস করি, আমি এই মানুষটির ওপর একজন বই লিখতে পারতাম! আমি আজ যে আমি সেটা হতে পেরেছি—এটাই আমার জন্য বড়ো আশীর্বাদ।’

    রাশমিকা বলেন, ‘জীবনের সব সাফল্য, সংগ্রাম, সুখ-দुःখে বিজয় সবসময় আমার পাশে ছিল। তার কারণেই আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। বিজয়ের স্ত্রী হয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি, আর সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি আমাদের সুখী জীবনের জন্য।’

  • যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন

    যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন

    আজকাল ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করার খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই ঘটনাটি শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটে বলে জানা গেছে। এ খবর নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা নিজেই।

    আলভী জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে নিপালে থাকন এবং নাটকের শুটিংয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, আমি জানি না কি কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে আমি মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তানের দিকে আমি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত।

    অভিনেতা পারিবারিকভাবে ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ইকরাকে বিবাহ করেন। এর পর থেকে তাদের সংসার চলতে থাকায় ১৫ বছর পার হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ে তাদের মধ্যে কিছু অস্থিরতা ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়, যা তাদের জীবনে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করে।

    খবর রয়েছে, কিছু বছর ধরেই অভিনেতা আলভীর প্রেমের গুঞ্জন রয়েছে ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে। যদিও এ বিষয়ে তারা বরাবরই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জানা যায়, এই সম্পর্কের জের ধরে তাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

    গত শুক্রবার ছিল তিথির জন্মদিন। সেই দিন তিনি তার ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘শুভ জন্মদিন, নায়িকা। তোমার জন্য শুভকামনা। জীবনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাও। তুমি এই ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পরিশ্রমী ও পছন্দের সহকর্মী। তোমার কঠোর পরিশ্রম একদিন তোমাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। তোমার জীবন সহজ, সরল ও সুন্দর হোক।’

    তাই বলে, ঘটনাটির আকস্মিকতায় সবাই হতভম্ব। এর একদিন পরই সংবাদ আসে, অভিনেত্রীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। বর্তমানে তিনি নেপালে আছেন যেখানে আলভীর সঙ্গে তিথি থাকছেন।

    অভিনেতা আলভীর ক্যারিয়া শুরু হয় ২০১২ সালে। এরপর থেকে তিনি ছোট পর্দায় বেশ সক্রিয় সময় পার করছেন এবং ক্রমাগত কাজ করে থাকছেন। এই ঘটনার পর থেকে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত।

  • ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, নিউজিল্যান্ডের অপেক্ষা দীর্ঘ হলো

    ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, নিউজিল্যান্ডের অপেক্ষা দীর্ঘ হলো

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হলো। অন্যদিকে, এ হার দিয়ে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনালে পৌঁছানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। ম্যাচটি শুরুতে নিউজিল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান সংগৃহীত করে। ইংলিশ বোলাররা বল করুন, পুরো ২০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা সংগ্রাম করেছেন, তবে শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রান তোলে। জবাবে ইংল্যান্ড ব্যাটিং শুরু করতে নেমে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরেন; ফিল সল্ট ৪ বলে ২ রান করে আউট হন এবং জস বাটলার খুবই দ্রুত শূন্য রানেই ফিরে যান। তার পরে ওপেনারদের অনুপস্থিতিতে দলনেতা হ্যারি ব্রুক এবং জ্যাকব বেথেল ক্রিজে আসেন। ব্রুক ২৪ বলে ২৬ রান করে আউট হন, উইকেট হারান ১৬ বলে ২১ রান করে বেথেল। এরপর ব্যাট করতে নামেন স্যাম কারান, যিনি ২২ বলে ২৪ রান করেন। দলের জন্য বড় বিপদ ঘটে তখন, যখন ব্যান্টন ব্যক্তিগত ৩৩ রানে আউট হন। মনে হচ্ছিলো হয়তো ইংল্যান্ড ম্যাচ হারবে, কিন্তু সপ্তম উইকেটে উইল জ্যাকস এবং রেহান আহমেদের দৃঢ়তার কারণে ম্যাচটি তাদের পক্ষে যায়। জ্যাকস অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৮ রানে, এবং রেহান ১৯ বলে ১৯ রানে থাকেন। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রথম ওভারে জোফরা আর্চার কঠিন পরীক্ষা দেন টিম সেফার্টের বিরুদ্ধে; তবে সেইফার্টের ব্যবধানে ৩৫ রান করে আউট হন। অন্য ওপেনার ফিন অ্যালেনের সাথে ৬ ওভারে ৫৪ রান যোগ করেন। সেইফার্ট ২৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ রান এবং অ্যালেন ১৯ বলে ২৯ রান করেন। স্পিনারদের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ধীর হয়। রাচিন রবীন্দ ১১ রানে আউট হন, এরপর গ্লেন ফিলিপস ৩৯ রান করেন, যদিও তার বাইরে কেউই উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। মার্ক চাপম্যান ৯ বলে ১৫ এবং কোল ম্যাককনচি ১৪ রান করেন। ইংলিশ বোলাররা খুবই কার্যকর ছিলেন; চার স্পিনার মিলে ৭ উইকেট শিকার করেন। আদিল রশিদ, উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ প্রত্যেকই ২ উইকেট করে নেন, ফলে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা স্পিনের বাঁধনে পড়েন। ইংল্যান্ডের পক্ষে স্পিনাররা দুর্দান্ত পারফর্ম করেন, পুরো ম্যাচে ৭ উইকেট তুলে নেন। সহায়ক গতিতে বল করে তাদের অভিজ্ঞতা ফুটে ওঠে। এই জয়ে ইংলিশ ক্রিকেট দলের আগামীর দিকে আশা বাড়ছে, আর নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে এই হার, যা তাদের সেমিফাইনাল যাত্রায় অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

  • বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে ফিফা

    বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে ফিফা

    বাংলাদেশ ফুটবল দল এখন পুর্নোদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। হামজা চৌধুরীর পর দলটির দ্বিতীয় প্রভাবশালী খেলোয়াড় সামিত সোম-কিউবা মিচেলরা যোগ দেওয়ায় দলের মান needless বাড়ছে। এ নতুন সংযোগগুলো যেন বাংলাদেশকে শক্তিশালী করে তুলছে, আর তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল দুনিয়ায়। যদিও এএফসি এশিয়ান কাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও, দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল দল।

    ফুটবল বিশ্বে বাংলাদেশের উন্নতি এখন শুধু স্থানীয় সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ সুখবরের অংশ হিসেবে, ফিফা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের অফিসিয়াল পেজে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি বিশেষ পোস্ট করেছেন। সেখানে তারা প্রশ্ন করেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার নতুন পরাশক্তি?’ সঙ্গে যোগ করেছেন বাংলাদেশের পতাকার ইমোজি। এটি দেখেই ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এক শক্তিশালী দিক, আর কিছু দিন পর পুরো এশিয়ার ফুটবল বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয় হবে বলে আশা করছেন।

    এ বিষয়ে মোহাম্মদউল­াহ নরেন নামে একজন লিখেছেন, ‘এখন তো শুধু দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি। কিছুদিন পরে সারা এশিয়ার, এরপর আন্তর্জাতিক স্তরেও আমরা ফুটবলের মহাশক্তি হব, ইনশাআল্লাহ।’ ফিফার এই প্রশ্ন এবং ফুটবল সমাজে এই মনের উচ্ছ্বাস নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

  • ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের জন্য ৫ জনের সদস্যপদ স্থগিত

    ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের জন্য ৫ জনের সদস্যপদ স্থগিত

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ পর্বে ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়ে বেনফিকা ১-০ গোলে হেরেছে। তবে এই ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে স্টেডিয়ারে ঘটে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছে দর্শকদের মধ্যে কিছু বেনফিকা সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণের কারণে। স্টেডিয়ামের আলোয় দেখা গেছে, কিছু সমর্থককে অশোভনভাবে বানরের মতো অঙ্গভঙ্গি করতে, যা ফুটবলে বর্ণবাদের সঙ্গে জড়িত অবমাননাকর ও অসংবিধানাকর্ম হিসেবে পরিচিত।

    ঘটনার পরই বেনফিকা ক্লাব তার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ফলাফলে জানা যায়, পাঁচ জন সমর্থকের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে স্থায়ী বহিষ্কারও থাকতে পারে।

    এক বিবৃতিতে বেনফিকা বলেছে, ‘তাদের তদন্তের ভিত্তিতে, পাঁচ জন সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ক্লাবের আইন অনুসারে, এই শাস্তি সর্বোচ্চ, যে অর্থে তারা বহিষ্কারও হতে পারেন।’ তারা আরও জানিয়েছে, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরে এবং ক্লাবের মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এমন বর্ণবাদী আচরণের বিষয়ে এই তদন্ত শুরু হয়। ক্লাব স্পষ্ট করে বলে, কোনও ধরনের বৈষম্য বা বর্ণবাদ তারা মেনে না এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

    অন্যদিকে, ম্যাচের চলাকালীন এক অন্য ঘটনা ঘটে। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অভিযোগ করেন, বেনফিকার খেলোয়াড় জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি তার সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রেফারি বর্ণবিরোধী প্রোটোকল কার্যকর করে, যার ফলে প্রায় ১০ মিনিট ম্যাচ খণ্ডিত হয়।

    সার্বিকভাবে, এই ম্যাচের বাইরেও ফুটবলে সমতা, সম্মান ও বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ ও বর্ণবাদ বিরোধী অবস্থান এখন বিস্তারিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পুরো পরিস্থিতি পর্তুগালের একটি ক্লাব হিসেবে বেনফিকার কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং ফুটবলে সম্মান ও বৈচিত্র্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জয়সুরিয়া

    শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জয়সুরিয়া

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে শ্রীলঙ্কার ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করেছিলেন, এই উৎসবমুখর আসরে তারা নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, লঙ্কানরা সুপার এইটে পৌঁছাতে পারেনি, এবং এই ব্যর্থতার পর এবার দলটির প্রধান কোচের পদ থেকে অবসরে যাচ্ছেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার সনাৎ জয়সুরিয়া।

    শ্রীলঙ্কা সুপার এইটে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়। আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ক্যান্ডির পালেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। এই ম্যাচ দিয়েই জয়সুরিয়া কোচের দায়িত্ব শেষ করবেন।

    জয়সুরিয়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পরে তারা একসঙ্গে পূর্ণকালীন চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের মার্চের ৩১ তারিখ পর্যন্ত। তবে, মোটেও আশাবাদী ছিল না এ চুক্তি, কারণ জানানো হয়েছিল— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পদত্যাগ করবেন। এই কথা মান্য করতেই তিনি চুক্তির আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে জয়সুরিয়ার শুরু ছিল অত্যন্ত আশাপূর্ণ। তার অধীনে দীর্ঘ ২৭ বছর পর ভারতীয় দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় লঙ্কানরা। একই বছরে ইংল্যান্ডের দ্য ওভালে টেস্ট জয় পেয়েছিল তারা, যা ছিল এক দশকের মধ্যে ইংল্যান্ডে তাদের প্রথম টেস্ট জয়।

    এই সাফল্যগুলো ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড দুই বছরের জন্য জয়সুরিয়ার সঙ্গে পূর্ণকালীন চুক্তি করে। তার নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও জয় লাভ করে লঙ্কানরা। কিছু সময়ের জন্য তারা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। কোচিংয়ের বিভিন্ন মাধ্যমে, জয়সুরিয়ার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা মোট ৭৪টি ম্যাচ খেলে, যার মধ্যে জয় পেয়েছে ৩৪টিতে, হারেছে ৩৮টিতে, আর দুটি ম্যাচের ফলতে হয়নি।

    নিজেদের ঘরোয়া মাঠে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে শ্রীলঙ্কা দলের কোচিং স্টাফ আরও শক্তিশালী করে তোলে। ব্যাটিং কোচ হিসেবে যোগ হয় বিক্রম রাঠোর, ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন শ্রীধর। আরও যোগ করা হয় লাসিথ মালিঙ্গাকে বোলিং পরামর্শক হিসেবে এবং রেনে ফার্ডিনান্ডসকে স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে। তারপরও, সেমিফাইনালের আগেই এই বিশ্বকাপের যাত্রা শেষ হয় শ্রীলঙ্কার।

  • আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তারি

    আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তারি

    মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার সোবহানা মোস্তারি। তাকে সম্প্রতি আইসিসির জানুয়ারি মাসের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের নারীদের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গর্বের পদক্ষেপ, কারণ মোস্তারিকে দ্বিগুণ সম্মান দেওয়া হয়েছে। আগে এই স্বীকৃতি পেয়ে ছিলেন নাহিদা আক্তার, যিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইসিসির সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

    নেপালে অনুষ্ঠিত ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই সফলতার অগ্রনায়ক ছিলেন মোস্তারি, যিনি ৬ টি ম্যাচে ব্যাট করে ২২৯ রান করেছেন। তার স্ট্রাইকরেট ১৪৫, গড় ব্যাটিং মান ৪৫। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্যই তিনি আইসিসির জানুয়ারি মাসের সেরা ক্রিকেটারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পান। তার সাথে মনোনীত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাঁহাতি পেসার টারা নরিস এবং আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্যাবি লুইস। কিন্তু সব প্রতিযোগিতাকেই পেছনে ফেলে মোস্তারি নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

    বাংলাদেশ টিম থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে উত্তীর্ণ হয়। এই ম্যাচে মোস্তারির ব্যাট থেকে এসেছে ৫৯ রানের নজরকাড়া ইনিংস, যা এই ট্যুর্নামেন্টের তার সেরা পারফরম্যান্স। এছাড়াও স্কটলণ্ডের বিপক্ষে ৪৭ রানের আরও এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। বাকি তিনটি ম্যাচে তিনি তিনবারই ত্রিশের ওপরে রান করেছেন। বল হাতেও অবদান রাখতে তিনি একটি উইকেট দখল করেছেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মোস্তারিকে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায়।