Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত

    ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত

    বাজারে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার কারণে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কোনো শঙ্কা আছে না বলে নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ‘ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি’ পর্যালোচনা বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাজারে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টন তেল মজুদ রয়েছে এবং আরও প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টন পণ্যের চালান পাইপলাইনে আছে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে সরবরাহ লাইন ও আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে; এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেয়া এবং পণ্যের আগমনও অব্যাহত রয়েছে।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে সরবরাহস্থানে চাপ দেখা দিচ্ছে মূলত আতঙ্কিত হয়ে অনেকে অতিরিক্ত কেনাকাটা করার কারণে। তাই অযথা ভয়ভীতি না ছড়িয়ে শর্বরকমের পণ্যভাণ্ডার না করার আহ্বান জানাই।’’ তিনি ভোক্তাদের সতর্ক করে বলেন, ভয়ভীতিতে অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।

    তবে মন্ত্রীর এই আশ্বাসের মুখে সত্ত্বেও রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ কয়েকটি এলাকায় সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট থাকার কথা স্থানীয় দোকানদাররা জানিয়েছেন। মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টরা এই প্রদেশিক ত্রুটিগুলো দ্রুত পর্যবেক্ষণ করে সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন।

    বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা মজুদ করে চাহিদা বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মন্ত্রী নিজে বাজারে রাতদিন পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং অবহিত করেছেন যে বড় মুদি ও রিটেইল শপগুলোতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি হচ্ছে; তবে কয়েকটি ছোট দোকানে মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা দেখা গেছে। দেশের জ্বালানি তেল বা গ্যাসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও কোন মৌলিক সংকট নেই, তাই ‘‘সংকট’’ শব্দটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত হবে না।

    সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও জোরদার করেছে এবং তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রী একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সাধারণ জনগণকে গুজবে কান না দেবার অনুরোধ জানান এবং প্রয়োজন ছাড়া বেশি কেনাকাটা না করার পরামর্শ দেন।

  • একই ব্যক্তিকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পথ খুলল সরকার

    একই ব্যক্তিকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পথ খুলল সরকার

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত নির্দেশাবলি সংশোধন করে একই ব্যক্তিকে পুনরায় পুরস্কার দেওয়া সম্ভব করার পথ খুলেছে। বিভাগ গতকাল রোববার স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত নির্দেশাবলির অনুচ্ছেদ ৭.১১ সংশোধন করে অফিস আদেশ জারি করেছে।

    সংশোধিত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আগে যেখানে বলা ছিল কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় জাতীয় পর্যায়ের এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হবে না, এখন সেখানে শর্তসহ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরস্কারপ্রাপ্তির পরে যদি অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন বা প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করে, তবে অন্তত ২৫ বছর পর পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা যাবে।

    এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পটভূমিতে এবারের পুরস্কার প্রত্যায়নের তালিকায় রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। তালিকায় থাকা একজন হলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী, যিনি ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিলেন। অতীতে একই ব্যক্তিকে ভুলবশত দুইবার মনোনয়ন দেওয়া হলে তাদের নাম তালিকায় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এবারে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম যাতে আবার ভুলভাবে বাদ না পড়ে, সে কারণে নির্দেশাবলি অনুকূলে সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধনীটি প্রয়োগ হলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পুনরায় পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা যাবে, যা জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি বহুমুখী ও সময়োপযোগী করায় সহায়ক হবে।

  • মনিরা শারমিনের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ

    মনিরা শারমিনের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    নাহিদ ইসলামের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যদিও জাতীয় নারীশক্তি এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে, তবুও তারা নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীনভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে নারীদের অধিকার অর্জন সবই আন্দোলন ও সংগ্রামের ফল। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে নারীরা বারবার লড়াই করে অবস্থান তৈরি করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আন্দোলনেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    নাহিদ অভিযোগ করেন, এসব আন্দোলনে অনেক সময় নারীরাই সবচেয়ে বেশি সঙ্গৃহীত ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করেছে। বহু নারী তখন লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। তিনি বলেন, যদিও জুলাই আন্দোলনে প্রচুর নারী রাজপথে ছিলেন, পরে রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি কমে গেছে। এর পেছনে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ ও অনলাইন সাইবার বুলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; অনেক নারী এসব কারণে রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    নাহিদ বলেন, এসব কথাই মাথায় রেখেই আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন যেখানে নারীরা নিজেদের ইস্যু নিয়ে মুক্তভাবে কথা বলবেন এবং সংগঠিত হবেন। জাতীয় নারীশক্তি সেই লক্ষ্য নিয়েই গঠিত। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, নারীদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা ও সাইবার বুলিং নির্মূল করতে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে এবং অপরাধীরা–দলমত নির্বিশেষে–আইনের আওতায় আনতে হবে।

    অনুষ্ঠানে নেতারা জানিয়েছেন, শিগগিরই জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সারাদেশে সংগঠনের শাখা কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার’ শীর্ষক আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডা. মাহমুদা আলম মিতু উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে সাবেক আন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্যান্য নারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • দিঘলিয়ার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার

    দিঘলিয়ার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার

    খুলনা জেলা শাখার অন্তর্গত দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার থেকে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

    একই সিদ্ধান্তে কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাককেও সংগঠনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উভয়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বঙ্গবন্ধু ছাত্রদলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল) সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা ও নীতিমালার লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না এবং ব্যবস্থাগ্রহণের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে।

  • বাজুসের ঘোষণা: প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    বাজুসের ঘোষণা: প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম কমানো হয়েছে। এতে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরির দাম দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসে এখনই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

    বাজুস সোমবার (০৯ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সমিতি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দামের পতনের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম কমিয়েছে তারা।

    নতুন নির্ধারিত দামগুলো হলো — ২২ ক্যারেট: এক ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা; ২১ ক্যারেট: এক ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা; ১৮ ক্যারেট: এক ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম: ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা।

    রুপার দামও কমেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা; ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।

    বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে সোনার দাম বেড়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে বাজারে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার মূল্যের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রয়েছে ৫,০৯০ ডলার; যেখানে গতকাল ছিল ৫,১৭০ ডলার। পূর্বে ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলার।

    উল্লেখ্য, মাসের শুরুতে বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারেও দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল। গত ২৯ জানুয়ারিতে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা হিসেবে অ্যাকর্ড করা হয়। ঐ সময়ের সেই একক বাড়ি এতোটাই ব্যতিক্রম—আগের যুগে এতো বাড়ানো হয়নি।

  • জ্বালানির দাম দুই বছরে শীর্ষে — বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

    জ্বালানির দাম দুই বছরে শীর্ষে — বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার তীব্রতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের সর্বোচ্চ স্থরে পৌঁছেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করেছেন যে উপসাগরীয় তেল-গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

    ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাবি বলেন, চলমান সংঘাত স্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে গেলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করে দিতে পারে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯%-এর বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলারে পৌঁছায় — যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব পড়বে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিটিং, খাদ্য উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের দামও দ্রুত বাড়তে পারে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে অস্থায়ীভাবে বন্ধ আছে; কাবি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধে যদি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ীত্ব পায় তেলদামের মূল্য প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছতে পারে।

    কাবি আরও বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধি দমে যাবে, জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হবে এবং কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ফলে পণ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দেবে।

    বিশ্ববাজারে পরিস্থিতির একটি বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালী — যেখানে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের পর এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলত চীন, ভারত ও জাপানসহ তেল আমদানিতে নির্ভর দেশগুলোর জন্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই অবস্থা ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সামনে এমন এক সংকটের সন্ধিক্ষণ যেখানে বলা কঠিন এটি সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাহার। যদি সরবরাহ দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফিস অব জেনারেল এনার্জি মার্কেটস (অফজেম) পরিস্থিতি নজরদারি করছে। ইতোমধ্যেই ব্রিটেনে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের সর্বোচ্চতে উঠেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করান যে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে কিছুদিনের তেল মজুদ থাকলেও তা সিমিত। মজুদ ফুরিয়ে গেলে এবং উৎপাদন ব্যাহত হলে বিশ্ববাজার কষ্টে পড়ে যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক সরকার জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে — ঠিক যেভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় করা হয়েছিল।

    সামগ্রিকভাবে, যদি সংঘাত শিগগির না থামে তাহলে তেলের স্বল্পমেয়াদি শক বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেবে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ধাক্কা দেবার সম্ভাবনা থাকবে।

  • ইরানের হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ার: কাতারে ৩১৩ গ্রেপ্তার

    ইরানের হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ার: কাতারে ৩১৩ গ্রেপ্তার

    ইরানের হামলার ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করার অভিযোগে কাতার যেন্‍ো ৩১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতি দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ধারণ ও তা প্রচার করেছেন এবং এমন গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছেন যা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আটককৃতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আওতাধীন অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ জানিয়েছে।

    এর আগে ইরান, ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা ও আবাসিক অঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। এই চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংবেদনশীল ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি বেড়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৬ মার্চ বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানি হামলার প্রভাব নিয়ে ভিডিও ধারণ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুয়েতেও ৭ মার্চ পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ভিডিও তৈরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সৌদি আরবও ঘটনার স্থান, নিখুঁত বস্তু বা ধ্বংসাবশেষের ছবি-ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা প্রচারের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং অনির্ভরযোগ্য তথ্য পুনরায় প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবু সামাজ‌্যিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গ্রুপ চ্যাটে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ছবি-ভিডিও ছড়াতে দেখা গেছে।

    সূত্র: এএফপি।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্তমান সরকারের বৈধতার মূল ভিত্তি: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্তমান সরকারের বৈধতার মূল ভিত্তি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানই বর্তমান সরকারের বৈধতার মূল ভিত্তি। এই বৈধতা জুলাই সনদ আদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোনো নির্বাচিত সরকার যেন এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে না চায়।’

    সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আয়োজন করা ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি সংসদে আবারও পুরনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানো হয় বা শপথ নেওয়ার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়, তাহলে দেশে কেবল রাজনৈতিক সংকটই সৃষ্টি হবে না—জুলাই গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। এমন কোনো পদক্ষেপ জুলাইয়ে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের সঙ্গে বেঈমানির সমতুল্য হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আজকের ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিলন ও ঐক্যের যে বার্তা দেখলাম, ঠিক সেই মনোভাব সংসদেও থাকা উচিত। সংসদে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সব অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ আদেশ কার্যকর করেই আমরা নতুন বাংলাদেশের নির্মাণের পথে এগোতে পারি।’

    অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘আপনারা অধীর আগ্রহে শাপলা কলিতে ভোট দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যবশত খুলনায় শাপলা কলি আপনাদের হাতে তুলে দিতে পারিনি। ভবিষ্যতে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি জায়গায় প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবো, ইনশাল্লাহ।’

    রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা বাসীর পক্ষে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি—সুন্দরবন ও জনস্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে রাখা রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টটি বন্ধ করতে হবে।’

    ইফতার অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয় ও খুলনা বিভাগীয় নেতারা অনুষ্ঠানে ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনসিপি যুগ্ম সদস্য সচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক।

  • নারী বিপিএল: বগুড়া ভেনু যুক্ত, দুই দল চূড়ান্ত

    নারী বিপিএল: বগুড়া ভেনু যুক্ত, দুই দল চূড়ান্ত

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবার নারী ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে চলা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘নারী বিপিএল’ মাঠে গড়াবে আগামী ৪ থেকে ১৪ এপ্রিল।

    টুর্নামেন্ট ঘিরে নতুন একটি ঘোষণা এসেছে — শুরুতে যেখানে মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে খেলার কথা ছিল, সেখানে এখন বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামও ভেন্যু হিসেবে যোগ করা হয়েছে। বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বগুড়াতেও বিপিএলের জমজমাট ক্রিকেট দেখা যাবে। সূত্রের খবর, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং প্রথম ম্যাচও বগুড়ায় হতে পারে। আলোচনায় আছে—টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে পারেন ডাঃ জুবাইদা রহমান।

    এই আসরে মোট তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ নেবে। প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ মার্চ, রাজধানীর একটি হোটেলে। প্রতি দলের জন্য নির্বাচিত ‘আইকন’ ক্রিকেটারের নাম হিসেবে রাখা হয়েছে জাতীয় দলের তিন তারকাকে — নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। এই আইকন ক্রিকেটারদের জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা, এবং তারা নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেবেন।

    এখনও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে তিনটির মধ্যে দুটির নাম চূড়ান্ত হয়েছে—রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং চিটাগং পাইরেটস। তৃতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার লড়াইয়ে এগিয়ে আছে বিপিএলের পরিচিত নাম রংপুর রাইডার্স।

    টুর্নামেন্টটি দেশের মহিলাদের ক্রিকেটকে আরও প্রসার দেবে এবং স্থানীয় ভেন্যুগুলোতে দর্শক-উদ্দীপনা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিন ভেনুতে ম্যাচ হওয়ার সিদ্ধান্ত অঞ্চলভিত্তিক দর্শকদের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং স্তরের খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে নারী ক্রিকেট মাঠে এক উৎসব পরিবেশ তৈরি হবে।

  • মিরপুর পিচ দেখে খুশি সিমন্স, সন্তুষ্ট পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন

    মিরপুর পিচ দেখে খুশি সিমন্স, সন্তুষ্ট পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন

    মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ থাকলেও এবার আশাবাদী দুই দলের কোচ। বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের সব ম্যাচই মিরপুরে হওয়ায় সিরিজ শুরুর আগে পিচ নিয়ে আলোচনা ছিল। আজ (৯ মার্চ) অনুশীলনে এসে দুই দলের অধিনায়ক ও কোচ পিচ দেখেন এবং এবারের উইকেটকে নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনার বদলে ইতিবাচক প্রতিক্রই পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি খুব ভালোভাবেই শেষ করেছিলাম এবং সেই পর্যায়ে ফিরে যেতে চাই না। তিনি জানান, গত সিরিজের তুলনায় এবারের উইকেটগুলো অনেক ভালো মনে হচ্ছে। তাই দলের লক্ষ্য উন্নতি ধরে রাখা এবং গত ম্যাচে যে ব্যাটিং ধার দেখা গেছে তা বজায় রাখা। তবে সিমন্স স্বীকার করেছেন যে মিডল ওভারে দলের খেলায় উন্নতির জায়গা আছে—ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রে মাঝের ওভারে উইকেট নেওয়ার ওপর জোর দেবেন।

    উইকেটের মান নিয়ে আশার কথা আরও জানিয়ে সিমন্স বলেন, বিপিএলের শেষ পর্যায়ের ম্যাচ ও দুদিন আগের ম্যাচও দেখেছেন এবং সেখানে পিচ সন্তোষজনক ছিল। একজন ক্রিকেটার হিসেবে ভালো উইকেটে খেলতে পছন্দ করেন যাতে নিজের দক্ষতা যাচাই করা যায়—তাই তার মনেই পিচগুলো এখানে অনেক ভালো হবে বলে আশা দেখা দেয়।

    অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসনও এবারের পিচের প্রশংসা করেছেন। অতীতে তিনি মিরপুর পিচ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করলেও এবার আউটফিল্ড ও পিচ দুটিকে ভালো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হেসন বলছেন, গতকাল-গত সপ্তাহের বিপিএলে দেখা পিচগুলো অনেক উন্নত ছিল, এখন অনেক জায়গায় ঘাস আছে এবং ব্যাট-বলের মধ্যে সত্যিকারের লড়াই হবে। এতে দুই দলই লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন।

    হেসন আরও বলেন, বাংলাদেশকে তাদের নিজস্ব কন্ডিশনে সম্মান করলেও এবারের পিচের মান দুই দলের চ্যালেঞ্জকে সমান করে দিয়েছে। আগের কিছু টি-টোয়েন্টি সিরিজের তুলনায় এখনকার কন্ডিশন ভিন্ন—পিছনের বাউন্স ছিল অসমান ও মাঠও সাধারণ ধরনের ছিল, কিন্তু এখন অনেক উন্নতি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি মনে করান যে বাংলাদেশ সম্প্রতি বেশি ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলছে, তাই পাক দলকে দ্রুত ওই ফরম্যাটে খাপ খাওয়াতে হবে।

    এই প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তা হলো — পুরনো অভিযোগের ছায়া বাদ দিয়ে এবারের সিরিজে উভय দলই পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভালো ক্রিকেট উপহার দেবার আশা করছে।