Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • লোডশেডিংয়ে জনান্তর: সংসদে সরকারের আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ

    লোডশেডিংয়ে জনান্তর: সংসদে সরকারের আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ

    চলমান তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের কষ্টের জন্য সংসদে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ অনুচ্ছেদের প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী এই ব্যাখ্যা ও ঘোষণা করেন।

    প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বললেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নয়, আগের সরকারের অব্যবস্থাপনার ফলেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। তিনি জানান, কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি দেখালেও বাস্তবে তা মিলছে না। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট; তবে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াটের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

    গ্রাম-বিশেষ করে কৃষকের সেচের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যার ফলে সেই শক্তি গ্রামের সেচ কাজে সরবরাহ করা হবে। সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলাপের পর নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

    গ্যাস সংকটের পরিসংখ্যানও তিনি তুলে ধরেন: দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট; দেশীয় কূপ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ২ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি হচ্ছে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তৎক্ষণাৎ আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়, তবে গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের তালিকায় স্থিতিশীল অগ্রগতি থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    বর্তমান লোডশেডিং কমানোর ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী জানান, কিছু রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে একটি আমদানিচালিত ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালু নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে গেলে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো যেটুকু লোডশেডিং হচ্ছে, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে আসবে।

    সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি জনগণের কষ্টের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, সরকার এ সমস্যার সমাধান ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এছাড়া সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা ভবিষ্যতে দেশের জন্য দিশা হবে।

  • জ্বালানি দামের বাড়তি প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় থাকবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    জ্বালানি দামের বাড়তি প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় থাকবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পণ্যের এক কিলোগ্রামে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে না। তিনি এই মন্তব্য করেন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বেড়েছে। আশেপাশের দেশে জ্বালানির মূল্য আমরা보다 অনেকটাই বেশি; তাই আমরা সতর্কতা বজায় রেখে মূল্যবৃদ্ধি করেছি যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব না পড়ে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদি একটি ট্রাক ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে, তাহলে কেজি প্রতি পণ্যের মূল্য প্রায় ৩০ পয়সা বাড়তে পারে — যা মোট মূল্যস্ফীতিতে সামান্য অংশই।

    মুক্তাদির আরও বলেন, যদি বাড়তি মূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হয় তবুও সরকারের ব্যবস্থা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে কষ্ট দেবে না; সরকার সেটি ম্যানেজ করবে।

    বিদ্যুত্‌ হকার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদ দু’মাস মাত্র হলেও বিভিন্ন অব্যবস্থা ও অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে, যার ফলেই কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও গ্যাসনির্ভর — দেশের উৎপাদিত গ্যাস মাত্র ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট, বাকিটুকু আমদানি করা হয় (প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট)। অর্থের ব্যবস্থা থাকলেও কিছু কারনে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে লোডশেডিং বাড়েছে। সরকার এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

    বাসিয়া খাল খননের বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, এই খালের পুরো দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার; তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খনন করা হবে। কাজটি সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। খালটি খননের ফলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় আনুমানিক ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

    মন্ত্রী ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসিয়া খাল খননের উদ্বোধন করবেন বলে তিনি জানান।

    খাল পরিদর্শনকালে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ অন্যান্য সার্বিক কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে চারজন সংখ্যালঘু নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এই মনোনয়নের নাম ঘোষণা করেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়নপ্রাপ্ত চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা। দল সূত্রে জানানো হয়েছে, মনোনয়নদানে সামাজিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক দিকগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    আন্না মিনজ একজন উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কর্মরত এবং নাটোরের বাসিন্দা। আন্না জানান, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক রয়েছেন।

    সুবর্ণা শিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি শিক্ষক ও মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার নানা কথা ফুটে উঠলেও, সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক; কোনো কমিটিতে নেই।’’. তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

    দলটির শীর্ষ নেতারা বলেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মনোনয়নগুলো নিয়ে তারা সামাজিক প্রতিনিধিত্ব ও বৈচিত্র্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

  • সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও অন্য বিরোধীদলীয় সদস্যদের মতো সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি এই মন্তব্য দিয়েছেন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে।

    আযাদ জানিয়েছেন, নারী আসনের জন্য তারা ১৩টি আসনের একটি কম্বাইন তালিকা জমা দিয়েছে এবং আশাবাদী যে তালিকায় আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না। ‘‘এই ১৩টি আসন ১৩টি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা; আমরা আশা করি সেভাবেই নির্বাচনের ফলাফল আসবে,’’ তিনি বলেন।

    তিনি উল্লেখ করেন যে এ বিষয়ে কমিশনের সাথেও আলাপ হয়েছে এবং যেহেতু নির্বাচন সরাসরি হয়েছে ও সংসদ কার্যকর রয়েছে, মনোনীতরা যদি সময়মতো সংসদে যেতে পারেন তবে নারী প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে জনসাধারণ ও নারী সমাজের প্রত্যাশা পূরণ হবে। একই কারণে তারা সূত্রগুলোর ওপর আস্থা রাখে এবং কমিশন যেন কোনো ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে—এটাই আশা প্রকাশ করেছেন আযাদ।

    আযাদ আশা করেন মনোনীত ১৩ জন সংসদ সদস্য ১১ দলের ঐক্যর সঙ্গে মিলিয়ে বিরোধীপক্ষের অংশ হিসেবে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। দেশের ও জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ নানা বিষয়ে এই নারী সদস্যরা একজন পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য হিসেবে সমস্ত রীতিনীতিগত সুবিধা ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন—সংবিধান তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে, তিনি বলেন।

    তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ১৩ জন বিরোধীদলের কাতারেই থেকে দেশ গঠনে, জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। পার্লামেন্টে জামায়াত ও বিরোধীদলের ভূমিকা ন্যায়সম্মত, জনকল্যাণমুখী ও দেশের স্বার্থে থাকবে—এই নীতির কথা ঘোষণা করেছেন দলের মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান, যোগ করেন আযাদ।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘‘যদি সরকার ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদের অপর বিরোধীদলীয় সদস্যরা যেমন সোচ্চার থেকে ভূমিকা পালন করবেন, আমাদের নারী সদস্যরাও সঙ্গে মিলিয়ে বিরোধীপক্ষের সাথে যুক্ত হবেন। ৭৭ জনের সঙ্গে ১৩ জন মিলিয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসাথে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’

    গণভোটের মামলা ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রসঙ্গে আযাদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা; তা না হওয়ায় ১১ দল একযোগে সরকারের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধাঁচেই কর্মসূচি চলবে।

    মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, জামায়াতে এক পরিবারে দুই সংসদ সদস্যের নীতি নেই—ফলে দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বরং শহীদ পরিবারের মাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার ও শ্রেণির সমাজসেবায় অবদান রাখা মানুষদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসর সংক্রান্ত আলোচনায় আযাদ আশা প্রকাশ করেন যে বিধান অনুসারে অবসর না হওয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

    শেষে তিনি তফসিল সম্পর্কেও সময়সূচি স্মরণ করিয়ে দেন—মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • জ্বালানি অনিশ্চয়তায় পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ স্থগিত, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি অনিশ্চয়তায় পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ স্থগিত, উদ্বেগ বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি warned যে আগামী দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে রফতানিমুখী বেশ কিছু ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যে ধীরগতিতে এসেছে, অনেক বড় ক্রেতা নেতিবাচক সঙ্কেত পাঠাচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্যান্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করলেও ক্রেতাদের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার ব্যাপারে পিছু হটছেন। এই অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাতগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    প্রসঙ্গত, ব্যবসায়িক পরিবেশকে কার্যত আন্দাজ করে নিয়েই বিসিআই সভাপতি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে; বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন করে দিচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেন এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর আহ্বান জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান শিল্পবান্ধব উৎস কর কমানোর প্রস্তাবটি নাকচ করেন, এমন তথ্যও সভায় উঠে আসে।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা নিয়ে বিসিআই সভাপতির উদ্বেগও ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অনির্দিষ্ট ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং এটি ব্যবসার পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি করে ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিট সম্পত্তির ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা করের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার জোরও দিয়েছেন।

    শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেতারা সতর্ক করেছেন যে, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানিখাতের প্রতিযোগীতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাদের মতে দ্রুত সমন্বিত নীতি গ্রহণ না করলে বিদেশি ক্রেতাদের ধীরগতি ও অর্ডার সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার)। বর্তমান বাজারমূল্য ধরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা) এটি গ্রহণ করলে মূল্যমান দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র এই তথ্য প্রকাশ করে।

    গত বছরের একই সময় বাংলাদেশের কাছে এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলর বা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি এসেছে।

    বাংলাদেশে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এ বছর মার্চে রেকর্ড করা হয়েছিল; সেই সময়ে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ হিসেবে আছে চলতি বছরের জানুয়ারির ৩১৭ কোটি ডলার।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন।

    রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা জোগান ও জনগণের আয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে; বর্তমানে এই প্রবাহ টিকিয়ে রাখতে ও ঝুঁকি সামলাতে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • মুখ-ঠোঁট দগ্ধ, প্লাস্টিক সার্জারির পরামর্শ পাওয়া গেছে: মোজতবা খামেনির চিকিৎসা অবস্থা

    মুখ-ঠোঁট দগ্ধ, প্লাস্টিক সার্জারির পরামর্শ পাওয়া গেছে: মোজতবা খামেনির চিকিৎসা অবস্থা

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরান নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও ঠোঁট দগ্ধ হয়ে গেছে এবং তাঁকে সুস্থ করতে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

    প্রতিবেদনটি ইরানের ঘনিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় মোজতবাকে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে—এক পা উড়ে যাওয়ার মতো বিদীর্ণ আঘাত, একটি বাহু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং মুখমণ্ডল ও ঠোঁটে চরম দগ্ধের ফলে কথা বলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, পূর্ণরূপে সুস্থ হতে হলে প্লাস্টিক সার্জারি এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন দরকার হবে।

    কীভাবে এবং কোথায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন—এটি নিয়েও নিউইয়র্ক টাইমস সরাসরি পরিষ্কার করে বলেনি। উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে মোজতবার চিকিৎসা গোপনীয় কোনো স্থানে করা হচ্ছে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য গোয়েন্দা নজরদারি থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি নিজে একজন হার্ট সার্জন, বর্তমানে মোজতবার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন। গুরুতর আহত হওয়ার কারণে মোজতবা এখন ভিডিও বার্তা দিতে বন্ধ রেখেছেন; তিনি প্রায়ই লিখিত বার্তায় যোগাযোগ রাখছেন।

    পটভূমি: ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র নীতিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান চালায়—নিউইয়র্ক টাইমস ওই অভিযানের প্রসঙ্গ আলোচনা করেছে। অভিযানের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর স্ত্রী এবং মোজতবার পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের নিয়ে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছিল; তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং নিউইয়র্ক টাইমস সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক অবস্থান রক্ষা করেছে।

    কিছু আন্তর্জাতিক মাদকমাধ্যম পূর্বে জানিয়েছে যে মোজতবাকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্যোগে মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে—তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সেই তথ্যটি উল্লেখ নেই।

    দাভারি ও আরও কয়েকজন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি এখন সহকর্মী ও উপদেষ্টাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তর্কাতীতভাবে দেশের নীতিনির্ধারণে ইরান ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তবে সিদ্ধান্তগুলি মোজতবাকে জানিয়েই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, এনডিটিভি অনলাইন

  • ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতগামী দুই জাহাজ জব্দের ভিডিও প্রকাশ

    ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতগামী দুই জাহাজ জব্দের ভিডিও প্রকাশ

    ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে ভারতগামী দুইটি জাহাজ জব্দের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। জব্দ হওয়া জাহাজ দুটি হলো ‘ইপামিনোন্ডাস’ ও ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’।

    প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকাবাহী দ্রুতগতির স্পিডবোট জাহাজগুলোর দিকে এগিয়ে আসে। পরে মুখোশধারী ও অস্ত্রধারী নৌসেনারা এই জাহাজগুলোতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেন। ভিডিওতে ওই অভিযানটি দ্রুত ও তৎপরতার সঙ্গে পরিচালিত হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-সংযুক্ত সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ‘ইপামিনোন্ডাস’কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এক সময় ‘ইউফোরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজও নিশানায় পড়লে তা থেমে যায়। খবরটিতে বলা হয়েছে, একই পরিস্থিতিতে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’-কেও লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছিল।

    আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই দুইটি জাহাজ শনাক্ত করে থামিয়ে দেয়া হয়। সংস্থাটি দাবি করেছে যে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট মালিকানাধীন এবং ‘ইপামিনোন্ডাস’ নেভিগেশন ব্যবস্থায় কারসাজির মাধ্যমে সমুদ্র নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে চলছিল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিধিনিষেধ অমান্য করা বা নিরাপদ নৌচলাচল ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

    বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসচেতনতা ও বাণিজ্যিক যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা পরবর্তী সময়ে পরিষ্কার হবে।

  • শৈলকুপায় বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

    শৈলকুপায় বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে শনিবার সকালে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মহন শেখ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। মাটিতে তৈরী দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মনোহরপুর ইউনিয়নে আধিপত্য সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম (সাদাত) ও জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আবু জাহিদ চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ কারণে ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য সের আলী সাদাতের পক্ষে, আর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান (দুলাল) আবু জাহিদের পক্ষে সমর্থক সংগ্রহ করে এলাকায় শক্তি প্রদর্শন শুরু করেন।

    দুই পক্ষের বিবাদ আরো তীব্রতর হওয়ার সূত্রধর বলে অভিযোগে বলা হচ্ছে, গত রাতে সাদাতপক্ষের সমর্থকরা পাশের লক্ষিপুর গ্রামে একটি সামাজিক সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মশিউর সমর্থক আজিজ খারের ছেলে লিটন খায়ের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সের আলীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহন শেখের বাড়িতে হামলা চালায় এবং মুহূর্তেই উভয়পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

    সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয় মহন শেখসহ কমপক্ষে ৩০ জন। পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মহন শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আব্বাস মোল্লা, ছালামত আলী, সাকিল হোসেন, মিল্টন খন্দকার, আসাদ বিশ্বাস, বসরত হোসেন, জমির বিশ্বাস, ফরিদুল শেখ, ওয়াসিম বিশ্বাস, মিন্টু হোসেন, আসাদুল বিশ্বাস, পিকুল হোসেন, আসিক শেখ, বিপ্লব বিশ্বাস, হৃদয় হোসেন, আমিরুল ইসলামসহ অনেকে।

    জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবু জাহিদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গতকাল রাতে তাদের এক সমর্থকের উপর হামলার পর থানায় অভিযোগ করলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে বৃহস্পতিবার পুনরায় হামলা চালিয়ে মহন শেখকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    অন্যদিকে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম (সাদাত) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা যুবদলের আহবায়ক রবিউল ইসলাম বলেন, মাধবপুরে সংঘটিত ঘটনাটি সামাজিক সূত্রে উদ্ভূত সহিংসতা; এখানে যুবদলের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

    নিহত মহন শেখের ছোট ভাই আফসার উদ্দিন শেখ জানান, সকালে তার ভাই দোকানে চা খেতে যাচ্ছিলেন। সে সময় হঠাৎ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সের আলীর সমর্থকরা তার উপর হামলা চালায়।

    শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, সামাজিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মাধবপুর গ্রামে সংঘর্ষ হয়েছে এবং এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চলছে।

  • যশোরে ক্রমাগত লোডশেডিং: ঝিকরগাছায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

    যশোরে ক্রমাগত লোডশেডিং: ঝিকরগাছায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

    যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার কাটাখাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম বিদ্যুৎ সংকটে এলাকাবাসী বেগতিক। তারা অভিযোগ করেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, যার ফলে দিনযাপন ও পড়াশোনা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

    বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থায়ী সমাধান এবং পৌরসভার লাইনের সঙ্গে ফিডারের সঠিক সংযুক্তি দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। স্লোগান নিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন; কিছু সময়ের জন্য অফিসের কাজকর্মও স্থবির হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি সইতে না পেরে তারা হঠাৎ করে অফিস ঘেরাও করেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, প্রায় চার বছর আগে ফিডার পরিবর্তনের পর থেকেই তারা নিয়মিত বৈদ্যুতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফেজ সমস্যা থাকায় সামান্য বাতাস বা ঝোড়ো বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং ঘণ্টায় ঘণ্টা পরে না-ও ফেরে। তারা দ্রুত ফিডার বা ফেজ পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।

    কাটাখাল কলোনির বাসিন্দা মোঃ জালাল হোসেন বলেন, “২৪ ঘণ্টায় আমরা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। কখন আসে, কখন যায় কিছুই ঠিক নেই। বৃহস্পতিবার ভোরে বিদ্যুৎ চলে যায়; ১১টায় মাত্র দুই মিনিট পাওয়া গিয়েছিল, পরে দুপুর ২টার দিকে আধা ঘণ্টার মতো আসে, তারপর আবার চলে যায়। রাতেও একই অবস্থা।”

    এসএসসি পরীক্ষার্থী সোহানা খাতুন অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনায় বড় অসুবিধা হচ্ছে এবং ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়রা আরও বলেন, গাছের পাতাও নড়লেই বিদ্যুৎ চলে যায়—এখানে গ্রাহকরা ‘চরম অবহেলার’ শিকার হচ্ছেন।

    ঝিকরগাছা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম জানান, এ এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যা দীর্ঘদিনের; কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানিয়েও কোনো সঠিক সমাধান হয়নি।

    ঝিকরগাছা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাদির জানান, সমস্যাটি মূলত টেকনিক্যাল; দ্রুত একটি টেকনিশিয়ান টিম পাঠিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সংকট একটু বেশি তবুও সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, অল্প সময়ের প্রতিশ্রুতি নয়—দ্রুত ও স্থায়ী সমাধি না হলে তাদের আন্দোলন তীব্র করার হুঁশিয়ারি রয়েছে।