Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫৩৯ টাকা

    ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫৩৯ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেলো সোনার মূল্য। আজ শনিবার সকালের প্রথম দিকে, অর্থাৎ সকাল ১০টায়, বাংলাদেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একটি জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোনার দাম বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয়। বিকেল ৪টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হয়।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবী সোনার দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারেও সোনা দামের এই পরিবর্তন এসেছে। আজ (২১ মার্চ) দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সময় থেকে নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হয়, যা সব জুয়েলারি দোকানে একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম হেঁটে বেড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়, যা আগে ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৬ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেট সোনার দাম এখন প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২৬ টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫২৯ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা।

    বাজুস সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যদিও সোনার দাম বাড়ছে, রূপার দাম অপরিবর্তিত থাকছে। তবে সকালে রুপার দাম এক দফা বেড়েছে। সেই অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম এখন ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ১২৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, এই নতুন দামগুলো পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সারাদেশে কার্যকর থাকবে। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের থেকে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাটও আদায় করা হবে।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকুচিত হয়ে বর্তমানে ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। রোববারের দিনশেষে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৩.৯৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র, আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯.৩০ বিলিয়ন ডলার। আরিফ হোসেন খান বলেন, মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের কারণে রিজার্ভ কিছুটা কমে গেছে। তবে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমে এসেছে। অন্যথায়, রিজার্ভ আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, রিজার্ভ এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র ও জানায়, এর আগে গত ১৬ মার্চ রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। বিএন ব্যাংকের এক অভ্যন্তরীণ হিসাব রয়েছে, যা নিয়মিত প্রকাশ হয় না, তবে জানা গেছে, প্রকৃত বা নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার কাছাকাছি।

    বর্তমানে রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি খরচ পূরণ করা যায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের সামগ্রিক আমদানির প্রয়োজনীয় অর্থ থাকা উচিত। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখনও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি মার্চ মাসে দেশের প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশে কোনো এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক প্রবাসী আয়। এই খবর সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।

    অতীতে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এখন পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এ বছর প্রথম ২৮ দিনে এই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, রমজান ও ঈদ উৎসবের সময় প্রবাসীদের প্রেরণা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কারণে অনেক প্রবাসী তাদের সঞ্চিত অর্থ দ্রুত দেশে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দিকে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসে পৌঁছেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একেবারেই নতুন এক রেকর্ড।

    তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। সংঘাত যদি দ্রুত শেষ হয়, তবে প্রভাব কম থাকতে পারে। কিন্তু সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয় ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। দেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজারও এই অঞ্চল। ফলে, এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা সংকট দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কর্মসংস্থানের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৪ হাজার ৫৭ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ এই তথ্য জানান। ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নির্ধারিত রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোটিস অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে। এই নিট রিজার্ভ দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা ও প্রাথমিক দারুণ আমদানি ও ঋণ পরিশোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • রাজস্ব দুর্বলতা বড় বাধা বাজেট বাস্তবায়নে, সিপিডির মতামত

    রাজস্ব দুর্বলতা বড় বাধা বাজেট বাস্তবায়নে, সিপিডির মতামত

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, দেশের দীর্ঘদিনের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। যদি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত না করা যায়, তবে এটি উন্নয়ন খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এই বিষয়টি আলোচিত হয়। আলোচনায় প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি চলমান হিসাবের ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজেট প্রণয়নে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বড় অসুবিধা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে গেলে উন্নয়ন কাজ ও অর্থনীতির সুস্থতা ঝুঁকিতে পড়ে। পূর্বের ঋণের বোঝা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে নতুন করে ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, যার ফলে অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবসম্মত, প্রয়োজনীয় সংস্কারভিত্তিক ও সম্ভাব্য বিষয়গুলো সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। কর ব্যবস্থার প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যারা এখনও করের আওতায় আসেনি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, করের আওতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের উপর করের চাপ কমানোর পরিকল্পনাও জরুরি। সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব আয় বাড়াতে না পারে, তবে ভর্তুকি দিয়ে চলমানের নীতির যৌক্তিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এই সব কিছু বিবেচনায়, বাজেটের সফলতাকে আরও বেশি বাস্তবায়নযোগ্য, স্বচ্ছ এবং সংস্কারমূলক করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া: কেউ কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া: কেউ কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত

    ঢাকা-৮ নির্বাচনী আসনে অংশগ্রহণের পর থেকে নানা আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বেশ আলোচনা সৃষ্টি করে। আজ বুধবার সকালে এক পোস্টে তিনি জানান, যদি কেউ তাঁর কথা বা কার্যক্রমের ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই পোস্টে বলেছেন, “গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে বেশ কিছু আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে আমি সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি— যেমন ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়ানো, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।”

    তিনি আরও বলেছেন, “আমি সেই পরামর্শগুলো বিনয়ের সাথে গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করব। সমাজের উন্নয়নের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাব।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যোগ করেছেন, “যদি আমি কোনও কথায় বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো কষ্টের কারণ হই, আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার শক্তি।”

    এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, “গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে আমি এই আত্মিক যাত্রার এক শান্তিপূর্ণ সূচনা করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।”

  • শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জামায়াতের আমিরের নৈতিক দায়িত্বের কথা

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জামায়াতের আমিরের নৈতিক দায়িত্বের কথা

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আন্তরিকভাবে অনুভব করি যে আমাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় আচার, যেখানে সবারই উচিত সম্মানের সাথে অংশগ্রহণ করা। তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে, সততা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য আজ এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিতে উপস্থিত হয়েছি।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা এবং সাংবাদিকদের সাথে আলাপে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যাতে আমাদের বীর শহীদদের আত্মার শান্তি যেখানে—সেখানে পৌঁছায়। দেশকে সার্বভৌম, স্বাধীন ও উন্নতভাবে উন্নীত করতে আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষণের জন্য দোয়া করেছি।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের সকলের একক লক্ষ্য হওয়া উচিত অহিংস এবং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সার্বজনীন স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় তিনি যখন কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন, তখন নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন এবং স্লোগানে তার শুভেচ্ছা জানান। এর আগে, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে তার গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ আগে, সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রাত সাতটার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ওই সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং দলের কাজে সক্রিয় থাকার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকা ও მათের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তাই সচেতন থাকতে হবে যেন কোনওভাবেই সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়েন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে সকল কিছু সাধারণ রূপে চালিয়ে যেতে। আমি অফিসে আরো আসব, তবে রাস্তায় কোনো অবরোধ চলবে না। মানুষের চলাচলে বাধা দেয়ার চিন্তা নেই। দ্রুত রাস্তা ফাঁকা করে দিতে হবে।’ তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এও বলেন যে, দলীয় কার্যালয়ে এসে তারা সংগঠনের কাজে অংশ নিতে পারবেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবেন।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য্য ধরে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। দেশের সমস্যা সমাধানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। জনগণের প্রত্যাশা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ, তাই প্রতিটি কাজের সময় যেন মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে রাস্তাঘাট স্বাভাবিক রাখতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমি এখানে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।’

    বিকেলে, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলের দিকেও সড়কগুলো জুড়ে ছিল নেতাকর্মীদের ঢল এবং নানা ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

    প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর পেয়ে দুপুরে আড়াইটা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সবত্র জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যার দিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো এলাকায় “তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগত” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

    প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, রাত সাতটার দিকে যখন তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান, তখন দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকেন। সেখানে বৈঠক ও আলোচনা শেষে তিনি দলের নেতাদের নিয়ে কক্ষে বসেন, যেখানে নানা সাংগঠনিক বিষয় ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রথম দিকে মিছিল ও স্লোগানে মুখর ছিল পুরানা পল্টন ও নয়াপল্টনের চারপাশ। নেতাকর্মীরা হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে, বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সংগঠনের, যেমন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী, বসে থাকেন ও স্লোগান দেন।

    নয়াপল্টনের সড়কে যানজট তীব্র হওয়ায় খুব ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করছে। নিরাপত্তার জন্য কাকরাইল, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোডসহ আশপাশের এলাকা কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে একটি নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না, পুলিশে তাক করে দিত। কিন্তু আজ, আল্লাহর পথে সব সম্ভব।’

  • ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ঢাকার পাশাপাশি দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই ঘোষণা আরও শক্তিশালী করেছে দলের ধারাবাহিক উদ্যোগের পরিণতিকে, যা চলমান নির্বাচনী গড়জোড়ায় নতুন উপস্থিতি যোগ করল।

    রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনে দলের প্রার্থী মনোনীত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং উত্তরে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মেয়র পদে লড়বেন।

    এছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনে এনসিপির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে দলের রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    এনসিপি আরও জানায়, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। দলটি বলছে, শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে, যদিও বিএনপি সরকার ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বর্তমানে বিএনপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোযোগ না দিয়ে বাস করছেন, কারণ দলটির কিছু নেতাকে প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি তাদের প্রার্থীদের নামের ঘোষণা দিয়ে ঠাণ্ডা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সিটিতে প্রশাসক পর্যায় বসিয়ে দলীয়করণ শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনে প্রশাসকদের কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না, এবং কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন মঞ্জুর হবে না। তিনি আরও বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত ৫ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য নেতারা। এই ঘোষণা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন করে উৎসাহ যোগাচ্ছে এবং স্থানীয় নির্বাচনে দলের উপস্থিতি দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে যদি সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, গণরায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শাহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু শক্তিশালী সরকার এসেছে, যাদের ক্ষমতা মহাপরাক্রমশালী ছিল, কিন্তু তারা কখনই গণরায়ের বিরোধিতা করেনি। যারা গণরায়কে উপেক্ষা করে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে গণরায়ের মাধ্যমে জনগণ ভোট দিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। তা থেকেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষপট তৈরি হয়। একইভাবে, ১৯৯০ সালে স্বৈৰাচার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দমন-পীড়নের পরও গণরায়ের বিপক্ষে শাসন কায়েমের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং জনগণের আন্দোলনের মুখে পড়ে।

    সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি এখনো গণরায় বা গণভোটের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল; সেই ভোটাধিকার বাস্তবায়নে সরকারকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শুরু থেকেই শহীদ পরিবার, বাবা-মা ও আহত মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছেন একটি নতুন দেশের, ভবিষ্যত গড়ার। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন না হলে, ৭০ শতাংশ মানুষ যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।

    আসিফ মাহমুদ শেষ করে বলেন, সবাই একত্রিত হয়ে সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসা জরুরি। যদি কেউ জনগণের বিপক্ষে যায়, তাহলে আবারো জাতীয় স্বাধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হবে।