Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পুলিশের যৌক্তিক দাবি আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেই পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    পুলিশের যৌক্তিক দাবি আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেই পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশকে জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক পদক্ষেপ বাস্তবসম্মতভাবে নেয়া হবে যাতে পুলিশের কর্মক্ষমতা ও মনোবল দুটোই বৃদ্ধি পায়।

    আজ রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

    মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় অনেক কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণের পরও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। এ অসন্তোষ দূর করতে বিশেষ নীতিমালার অধীনে কিছু সংখ্যক সদস্যকে অবসরকালীন সময়ে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), এএসআই থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) এবং এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

    পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের বিষয়ে সরকার ভাবছে, বলেন মন্ত্রী। তিনি যোগ করেন, ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যায়ে পর্যন্ত এই ওভারটাইম বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যা তাঁদের মনোবল বাড়াবে এবং সেবার মান উন্নত করবে।

    দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও বেশি চাপের ফলে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও নেয়া হবে, বললেন মন্ত্রী।

    ইন্সটিটিউশনাল সুবিধা ও বাসস্থান সংকট সমাধানের বিষয়টিও সরকরের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন ও কার্যালয় নির্মাণ, আবাসন সমস্যা নিরসনে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    গত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি আরো শুদ্ধ করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।

    তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলে গেছে; তাই পুলিশকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে, না হলে অপরাধ দমন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আনা সম্ভব নয়—এই সতর্কতাও তিনি দেন। জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হবে।

    মন্ত্রী বলেন, ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে তা যুগোপযোগী করা হবে। তিনি পুলিশের প্রতি বলেন, তারা যেন জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে—তাই বিচারিক, কার্যকর ও মানববান্ধব policing নিশ্চিত করতে হবে।

  • শেখ হেলাল ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ

    শেখ হেলাল ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ

    দুর্নীতির মামলায় ঢাকার একটি আদালত সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন এবং তাঁর স্ত্রী শেখ রুপা চৌধুরীর আয়কর সংক্রান্ত নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের পৃথক দুটি আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এই তথ্য জানান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন এবং মামলার সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য এসব নথি প্রয়োজনীয় হওয়া দাবি করেন।

    দুদকের আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি জব্দ করা হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ রুপা চৌধুরী ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থের শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি।

  • উন্নয়ন বণ্টনে সরকারচ্ছন্দ বৈষম্য করছে: গোলাম পরওয়ার

    উন্নয়ন বণ্টনে সরকারচ্ছন্দ বৈষম্য করছে: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, দেশের উত্তরের আর্থ-সামাজিক বিকাশের স্বার্থেই সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকা উচিত।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। তাঁর সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য সীমাবদ্ধ করলে তা অন্যায় ও অবিচারের শিকার হবে। তিনি বলেন, ‘‘শুধু নির্বাচিত এলাকা বিবেচনায় রেখে এসব সিদ্ধান্ত নিলে জনগণের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।’’

    তিনি আরো অভিযোগ করেন যে, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন কাজ করা হয়—যা সার্বিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ—বক্তব্যটি এখনকার বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।’’ গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণামূলক কৌশল অবলম্বন করছে এবং গণভোট বা জনগণের ইচ্ছাকে নাকচ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানা হচ্ছে না—একে তিনি জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা হিসেবে বর্ণনা করেন।’’

    সংবাদমাধ্যম সম্পর্কেও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে কথা বলেছিল, এখন তাদেরই কাছ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম দখল, সাংবাদিকের চাকরিচ্যুত ও হয়রানি করার অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    এর আগে বিমানবন্দরে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আনতাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমীর শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সভাপর্ব শেষে গোলাম পরোয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার এই ইস্যুকে টালতে চাচ্ছে, অথচ সাংবিধানিক সংস্কার হতে হবে জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সার্বভৌমতার ভিত্তিতে।

    তিনি দাবি করেন যে, গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী অবিলম্বে একটি ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠন করা উচিত। নাহিদ বলেন, তা হলে করে জনগণের মতামত সুবিধাজনকভাবে সংগঠিত করা যাবে এবং প্রকৃত অর্থে বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    বিএনপির ওপর তীক্ষ্ণ সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতা-সদস্যরা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন; কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা একই দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এভাবে, তাঁর কথায়, বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করছে।

    নাহিদ আরও সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে শুধু সংসদের ভেতরে আলোচনা হয়েই চলবে না, বাইরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হবে। তিনি যোগ করেন, যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তখন কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করা হবে।

  • সোনার দাম কমল, প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    সোনার দাম কমল, প্রতি ভরির নতুন মূল্য কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে। সংস্থাটির জানায়, সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত দর কমেছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নেমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০,৩৩৭ টাকায়। গত সোমবার (৪ মে) একই ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুস মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় এবং নতুন দর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংস্থা বলেছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমার কারণে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজুস নির্ধারিত নতুন দামগুলো অনুযায়ী: ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি—২,৪০,৩৩৭ টাকা; ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি—২,২৯,৪৩১ টাকা; ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি—১,৯৬,৬৫৫ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি—১,৬০,১৪৭ টাকা।

    রুপার দাম এইবার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫,৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩,৩৮৩ টাকা রয়েছে।

    বিশ্ববাজারে সোনার দরগত পরিবর্তনের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও ভূমিকা রাখছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের টানাপোড়েন শুরু হওয়ার পর তৎকালীন সময়ে সোনার দাম বাড়তে দেখা গিয়েছিল, এরপর মূল্য ওঠানামা করছে। বিশ্বস্ত সূত্র ওয়েবসাইট GoldPrice.org অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে; এর আগে ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি আনুষঙ্গিকভাবে ৫,৫৫০ ডলার পর্যায়ে দেখা যায়।

    স্থানীয় বাজারে ক্রেতা–বিক্রেতাদের জন্য এখন ঘোষিত নবীন দামই কার্যকর থাকবে; ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবর্তন হলে স্থানীয় দরও পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় বাড়ল সোনার দাম

    টানা দ্বিতীয় দফায় বাড়ল সোনার দাম

    বাজুস ঘোষণা করেছে টানা দ্বিতীয়বার সোনার দাম বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি জানায়, নতুন দর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। সর্বোচ্চ প্রতি ভরি দর সর্বোচ্চ ২,২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরির দাম বাড়ে ২,৪৪,৭১১ টাকায়; যা গতকাল ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা।

    সংগঠনটি বলেছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যানুসারে অন্যান্য ক্যারেটের দামগুলো হলো— ২১ ক্যারেট: ২,৩৩,৫৭২ টাকা; ১৮ ক্যারেট: ২,০০,২১৩ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৩,০৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেট রুপা ৫,৫৪০ টাকা; ১৮ ক্যারেট রুপা ৪,৭২৪ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩,৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে চলমান উত্তেজনা—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত—এর প্রভাবে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলার। আগে গত ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি সেটি উঠেছিল ৫,৫৫০ ডলারে।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার হঠাৎ ওঠানামা দেশীয় বাজারেও পড়েছিল; ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাজুস তখন ২২ ক্যারেটের দাম রেকর্ড ২,৮৬,০০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল—এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এক ভরির দাম ছিল।

  • মমতার তৃণমূল: বিধানসভার নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল

    মমতার তৃণমূল: বিধানসভার নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল

    পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভার নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদল এনেছে। দল বলছে, এই ধাঁচের পরিবর্তন মূলত পরিষদীয় দলকে শক্ত করে আরও সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক বিরোধী ভূমিকা পালনের জন্য নেওয়া হয়েছে।

    দলের সূত্র এবং কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বিধানসভায় সুচিন্তিত মর্যাদা ও কৌশলে লড়াই চালাতে অভিজ্ঞ নেতাদের উপর নজর রাখা হয়েছে। সেই কারণে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদে নাম ঘোষণা করা হয়েছে দলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। বিরোধী ডেপুটি লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অসীমা পাত্র ও নয়না চট্টোপাধ্যায়কে। বিধানসভার চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলাবেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

    এছাড়া সরকারি কর্মচারী সংক্রান্ত কিছু বদলি-ক্রমও করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েককে দার্জিলিং জেলায় বদলি করে বিজনবাড়ি অঞ্চলের পাল বাজার বিডিও অফিসে পাঠানো হয়েছে। তিনি আগে মুখ্যমন্ত্রী দফতরের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে কর্মরত ছিলেন।

    গত ৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকে এবার বিরোধী দলের ভূমিকায় নেমেছে। দল সূত্রে বলা হচ্ছে, নতুন রদবদলের মাধ্যমে তারা দ্রুত নিজেদের পুনর্গঠন করে পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করছে।

  • লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে ৩৯ নিহত

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে ৩৯ নিহত

    দক্ষিণ লেবানে ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলায় একদিনে আরও ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে এবং হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন।

    সাকসাকিয়েহ শহরে চালানো এক আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই হামলায় একটি মেয়ে শিশু নিহত এবং ১৫ জন আহত হন; আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছেন।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের যোগাযোগ স্থাপনকারী অবকাঠামোকে লক্ষ্যে করে ঐ এলাকায় হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ বলেছে, বেসামরিক ক্ষতি কম রাখতে নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারি ব্যবহার করা হয়েছে।

    শুক্রবারের ওই হামলার পর শনিবার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বার্তা সংস্থা এনএনএ নতুন করে আরও হামলার খবর জানিয়েছে।

    নাবাতিয়েহ এলাকার একটি মোটরসাইকেল হামলায় একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হন এবং তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ে আহত হন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, প্রথম হামলার পর পরিবারটি সরে যেতে গেলে পুনরায় ড্রোন হামলা করে বাবা নিহত হন এবং পরে তৃতীয় দফায় মেয়েটিকেও লক্ষ্য করা হয়; মেয়েটির অস্ত্রোপচার চলছে।

    অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ওই হামলায় তিনজন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি প্রান হারিয়েছেন; নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা ও কতজন বেসামরিক—তার বিন্দুমাত্র সংখ্যা আলাদা করে জানানো হয়নি।

    সীমান্তঘেঁষা কিছু এলাকা এখনো ইসরায়েলের আওতায় আছে। ইসরায়েল বলছে, উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ‘‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা বলয়’’ গঠন করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযানের কথা জানিয়েছে।

    সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সংঘাত থামেনি এবং প্রায় প্রতিদিনই আঘাতের খবর আসছে। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলার পর উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর আঘাতে দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব হিসেব বলছে—দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং উত্তর ইসরায়েলে আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    অবস্থা বর্তমানে অস্থিতিশীল ও মানবিক সংকট বাড়ছে; হামলা ও পাল্টা হামলায় সাধারণ মানুষের ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়েমুচড়ে, চালক নিহত

    অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়েমুচড়ে, চালক নিহত

    যশোরের অভয়নগরে খুলনাগামী মহানন্দা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় একটি কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়েমুচড়ে যায়; ঘটনায় চালক মনোয়ার হোসেন নিহত হয়েছেন। রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে বারোটার সময় উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। ট্রাকের হেলপার রায়হান গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকিজ এসেনশিয়ালের কয়লা ডিপোর দিকে যাওয়ার সময় (গাড়ি নং ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৭৮৩৬) ভাঙ্গাগেটের অরক্ষিত ক্রসিং পার করার সময় খুলনাগামী ট্রেনটি ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় ট্রাকটি ছেঁড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মনোয়ার মারা যান।

    এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন যে ওই ক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় আছে; সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় চালক ট্রেনের উপস্থিতি অনুধাবন করতে পারেননি। স্থানীয়রা দ্রুত সিগন্যাল ব্যবস্থা ও গেটম্যানের দাবিও করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।

    অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে কিছুক্ষণ ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

    পুলিশ ঘটনার পরবর্তী তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে প্রাসঙ্গিক পক্ষদের সাথে কথা বলা হচ্ছে।

  • চিতলমারীতে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস চিতলমারী’ উপশাখা উদ্বোধন

    চিতলমারীতে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস চিতলমারী’ উপশাখা উদ্বোধন

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নতুন উপশাখা ‘ক্যাশলেস চিতলমারি’ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় সদর বাজারের সবুজ সংঘ চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক, বাগেরহাট শাখায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্তরের এজিএম মোঃ মনিরুল আমিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চিতলমারী উপশাখার ব্যবস্থাপক মোঃ সাদিক হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিতলমারী বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ সোয়েব হোসেন গাজী, সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুজ্জামান (আসাদ), সবুজ সংঘ ক্লাবের সভাপতি শেখ নোয়াবালী ও চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম সুলতান সাগর। স্থানীয় বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পূবালী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি এজিএম মোঃ মনিরুল আমিন বক্তৃতায় বলেন, “ক্যাশলেস ব্যবস্থা আধুনিক অর্থনীতির একটি নতুন অধ্যায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে দ্রুত ও নিরাপদে লেনদেন করা সম্ভব। নগদ টাকার খরচ ও পরিচর্যা কমে যায়, অতিরিক্ত নগদ সঙ্গে রাখার ঝুঁকি কমে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায় এবং আর্থিক জালিয়াতির সুযোগও সীমিত হয়। এছাড়া প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড থাকায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও কর্তৃপক্ষের তদারকি সহজ হয়।”

    তিনি আরও জানান, পূবালী ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য পে ব্যাংকিং, বাংলা কিউআর এবং ডেবিট কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করেছে, যার মাধ্যমে চিতলমারীর মানুষ সহজে এবং দ্রুত ক্যাশলেস ব্যাংকিং উপভোগ করতে পারবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকরা অনুষ্ঠানের ভালোসংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করেন এবং ক্যাশলেস ব্যবস্থার গুরুত্ব ও সুবিধা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।