Blog

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস পালিত

    খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস পালিত

    খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যা ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সংগঠিত হয়।

    সভার সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর। বক্তারা বলেন, একুশের চেতনা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং মাতৃভাষাকে সবার মাঝে সমুন্নত রাখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। বক্তারা অঙ্গীকার করেন, সর্বস্তরে বাংলার মর্যাদা রক্ষা ও ভাষা ব্যবহারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সদস্য এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, যারা ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও একুশের আদর্শের সক্তি প্রদর্শনে অংশ নেন। বক্তারা ভাষা শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন, যা পরিচালনা করেন ক্লাবের ইমাম মাওলানা মো. ইউসুফ হাবিব।

    একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিলেন আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, সদস্য মো. রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পপলু, মো. জাহিদুল ইসলাম, কাজী শামিম আহমেদ, শামসুদ্দীন দোহার মতো নেতৃবৃন্দ।

    সকালে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সবশেষে দোয়া অনুষ্ঠানে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

  • খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত

    খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত

    খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন সামরিক, সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ।

    বিকেল অর্ধেকের দিকে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে অবস্থিত শহিদ মিনারে মহান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ, কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। একই সময় নগরীর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দপ্তর ও ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ ভোরে শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শোভাযাত্রা করেন।

    নগরভবনে আয়োজন করা হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। বাদ জোহর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে ভাষা শহিদদের রূহের মাগফেরাত ও দেশের কল্যাণের জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়েও দু’আ ও প্রার্থনা সম্পন্ন হয়। দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রচনা, চিত্রাঙ্কন, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

    সকাল ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার সূতো। মাতৃভাষা আমাদের আত্মার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি ভাষা শেখার পাশাপাশি মাতৃভাষার প্রতি সজাগ থাকতে হবে, কারণ বাঙালির অস্তিত্ব ও চেতনায় এই ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম।

    প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়েন উদ্দীন এবং পুলিশ সুপার মো: মাহবুবুর রহমান।

    দিবসের গুরুত্ব এবং আবেগঘন স্মৃতি বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ, ক্রোড়পত্র ও বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশিত হয়, যা এ দিনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও চেতনাবোধকে আরও জোরদার করে।

  • নড়াইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আওয়ামী লীগ অফিসের শুভ উদ্বোধন

    নড়াইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আওয়ামী লীগ অফিসের শুভ উদ্বোধন

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দীর্ঘ ১৮ মাস পরে নতুন স্বপ্নের সূচনা হলো। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুক্তির প্রতীক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা লোহাগড়া উপজেলার মানিকগঞ্জ বাজারে নিজস্ব আঞ্চলিক কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানে তারা দেশপ্রেম ও মুক্তির শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান উচ্চারণ করেন।

    পুরো অনুষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়, নড়াইল জেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি কাজী আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে এই কার্যালয় উন্মুক্ত করা হয়। এরপরে, অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে নেতাকর্মীরা নানা দেশের মুক্তি ও স্বাধিকার এর মূলমন্ত্রে অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বিভিন্ন স্লোগানে হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠেন, যেমন: ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কে বলে রে মুজিব নাই, মুজিব সারা বাংলায়’, ‘আজকের এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘শেখ হাসিনা সরকার, বার বার দরকার’ ইত্যাদি।

    কাজী আব্দুল আলিম ফেসবুক পোস্টে বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস পরে এই নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করা হলো, যা জাতির জন্য এক নতুন উত্তেজনা ও উদ্দীপনার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে লোহাগড়া উপজেলার জনগণের জন্য উন্নয়ন ও নতুন সূচনার ব্যাপক সম্ভাবনার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    অপরদিকে, লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই ঘটনাটি শুনেছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’ সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে উৎসাহ ও প্রত্যাশার পাশাপাশি পুলিশের করণীয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

  • সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

    সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

    আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায়, বনের শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী এলাকার মধ্যে মানিব্যাগ, অস্ত্র, গোলাবারুদসহ একজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জানা যায় যে, সুন্দরবনের শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল ও তৈয়বের খাল এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। সেই ভিওয় ভিত্তি করে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মোংলা এবং নলিয়ান কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চলাকালীন, ওই এলাকায় থেকে চারটি একনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার গান, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১০ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। অতিরিক্তভাবে, এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে যার নাম বাদশা শেখ (২৫), তিনি রামপাল থানার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, বাদশা দীর্ঘ দিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে যোগ থাকার পাশাপাশি ডাকাতি, অস্ত্র সরবরাহ ও অন্যান্য দুষ্কর্মে সম্পৃক্ত ছিল। জব্দকৃত অস্ত্র ও আলামতসহ তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

    এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়, কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যে সুন্দরবনে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর পাঁচটি আস্তানা ধ্বংস করে দেয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে, কোস্ট গার্ডের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।”

  • সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

    সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই অসাধু দস্যুতা ও সন্ত্রাসী गतिविधির কারণে এই বনকে নিরাপদ করা খুবই জরুরি। এজন্য দ্রুতই একটি সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে সহায়তা করবে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলায় খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় বনজ সম্পদ, মাছ ধরার জেলেরা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা এবং এই ঐতিহ্যবাহী বনকে বিষমুক্ত করার জন্য also সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এ সময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোঃ মতিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এম এ সালাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া হবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া হবে না

    বাংলাদেশের নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে চলা অর্থনীতি এখন আর চালানো যাবে না। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), সচিবালয়ে প্রথম অফিসের দিন সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তাই প্রথমে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করার উপায় ভাবতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব আর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। যদি এসব উপাদান অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বড় বড় পরিকল্পনাও ফলবদ হবে না।

    অর্থনীতি চালাতে পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে চলা চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য সমানভাবে_ACCESSIBLE হওয়া উচিত। সব শ্রেণির মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল নির্দিষ্টভাবে তাদের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিও জরুরি।

    তিনি আরো বলেন, এসব লক্ষ্য সফল করতে হলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয়। পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই নিয়ন্ত্রণ আরো বেশি হয়ে গেছে। তাই এর থেকে সরে এসে অবশ্যই ডিরেগুলেটেড বা নিয়ন্ত্রণ কমানো দরকার।

    অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, লLiber লাইজেশন ও লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির মাধ্যমে সবাই সমান সুযোগ পাবে। এভাবেই অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও এর সুফল প্রত্যেকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

    অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বাংলাদেশে অতিরিক্ত রেগুলেশন জারšao গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এখন সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শ্লথগতির নিয়ন্ত্রণগুলো কমাতে হবে।

    প্রসঙ্গত, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং এ ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পথে রয়েছে। বিষয়টি শুরু থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তদ্বিৎকৃত হচ্ছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের মেয়াদ পিছানোর ব্যাপারে সরকার দৃঢ়সংকল্প। কোনো বাধ্যবাধকতা থাকলে তা প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চিঠির মাধ্যমে জানাতে হবে—এমন কোনো অঘোষিত নিয়ম নেই, তবে সরকার এ বিষয়ে আজ থেকেই কাজ শুরু করেছে।

    অপরদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো সংকীর্ণ। বর্তমানে মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একমাত্র কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করতে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে, বেসরকারি খাতে যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের সহায়তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে ভবিষ্যতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ অবস্থায়, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মার্জিন অব এরো অনেক কম, ভুলের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং, গত কয়েক মাসে দেখা গিয়েছে মন্থর গতি দ্রুত বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও এর পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে, এছাড়া পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে। ফলে বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই, তিনি এ বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে, রমজানের সময় বাজারে সিন্ডিকেট নিয়েও নানা আলোচনা হয়—এ ব্যাপারে তিনি জানান, তিনি শুধু কথার বদলে কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেন, “আমি শুধু সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    পণ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভোগের চাহিদা বিশেষ করে এককালীন বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছু পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ে। মানুষের বাজারে মাসের পুরো সময়ের চাহিদা একসঙ্গে বৃদ্ধি পেলে দাম ওঠানামা স্বাভাবিক, তবে এর প্রভাব খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলে তিনি মনে করেন।

    বৈশ্বিক ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগের প্রবাহ অনেকটাই থমকে আছে। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আসবে না। তিনি আরও জানান, দেশে বড় একটি শ্রমশক্তির উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর হাজারों মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত আরেকবার এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মৌসুম শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না—জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রমজান মোকাবেলায় এখনই বড় পরীক্ষার মুখোমুখি সরকার। মানুষের চাহিদা পূরণে সরকার সফল হতে হবে এবং এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভুল হলে তা সংশোধন করে এগিয়ে যেতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

    ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কারণে প্রবাসীরা দেশের জন্য আরও বেশি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা দেখেছেন। এর ধারাবাহিকতায়, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। যদি এই প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে মাস শেষে তা ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই প্রবাসীরা এ রকম বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। তারা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানকালের বাড়তি খরচের জন্য পরিবারের সদস্যরা বেশি করে অর্থ প্রেরণ করছেন। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশের জন্য ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশইতিহাসের এক তৃতীয় বৃহত্তম রেকর্ড। এর আগে ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ডলার, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল মার্চ ২০২৪ সালে, যেখানে ৩২৯ কোটি ডলার রেমিটেন্স প্রবাহিত হয়েছিল, মূলত ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে।

    সর্বসমেত, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইতে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে বলা যায়, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের ওই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। একই সময়ের মধ্যে গত অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশের রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংজ্ঞা অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টের পরে প্রবাসী আয়ে গতি ফিরে আসে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমার কারণে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে এসেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে বৈধ মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন।

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার বেড়েছে

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ নিশ্চিত করেছে যে, দেশীয় বাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে মাননীয় ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা আগের দিনের মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে বেশি। এই দাম পরিবর্তন আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে যে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড ধরনের সোনার দামের বৃদ্ধি শহরগঞ্জে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দরের নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের জন্য যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকার মূল্য ধার্য করা হয়েছে।

    তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার জন্য প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বৈশ্বিক বাজারেও সোনার দাম তুলনামূলকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দামের স্তর ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, যেখানে ২৯ জানুয়ারি তা ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    অতিরিক্তভাবে, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস এই বৃদ্ধি ঘোষণা করে, যেখানে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে মানসম্পন্ন এক ভরি সোনার দাম পৌঁছে যায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ। এই দাম আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশের বাজারে এমন বৃদ্ধি আগে কখনো দেখা যায়নি।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। উচ্চ বাজারমূল্য ও উৎপাদন খরচের কারণে অনেক মিল তাদের পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এতে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে, পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক লোকসান ও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

    দৌলতপুরের দৌলতপুর জুট মিল গত দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখে, শ্রমিকরা অকেজো দিন কাটাচ্ছেন। একই পরিস্থিতি অনেক মিলের। কিছু মিল সীমিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তবে বেশিরভাগই বন্ধ বা স্থবির। শ্রমিকরা আশঙ্কা করছেন, যদি পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে তারা দীর্ঘমেয়াদে কাজ হারাতে পারেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, আমি গত এক দেড় মাস ধরে মিলের কাজে যোগদান করছি, কিন্তু এখন পুরোপুরি বন্ধ। কাঁচা পাটের অভাবে মালিক মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আমাদের কাজ থেকে ছাটাই হয়তে পারে, আর তা হলে আমরা কীভাবে পরিবার চলে Cheryl? তিনি বললেন, “নতুন কাজের সন্ধানে থাকলেও পরিস্থিতি অনেকটাই অন্যরকম।”

    অন্য একজন শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, “আমরা যখন কাজ করি, তখন মালিক ২ টাকা উপার্জন করে, আর আমাদের পাই মাত্র এক টাকা। গত তিন বছর মিলটি ভাল চললেও, এখন দেড় মাস ধরে আমরা অনুপস্থিত। মালিকেরা বলছেন, যদি না কিনতে পারে কাঁচা পাট, তবে মিল চালানো সম্ভব নয়।”

    বিস্তারিত জানা গেছে যে, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল মণপ্রতি প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৫২০০ টাকায় পৌঁছেছে। দাম দ্বিগুণের মতো বেড়ে গেলেও বাজারে প্রেরিত পণ্যের মূল্য সেই অনুযায়ী বৃদ্ধি পানি। ফলে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলিকে বলেন, “প্রথমে ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে আমাদের প্রতিটি বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়। শেষ পর্যন্ত ৪০০০ টাকায়ও কিনতে হয়েছে, কিন্তু লাভের অংক খুবই কম। এখন পাটের দাম ৫২০০ টাকা হওয়ার পর, এক বস্তার জন্য খরচ হয় এইচ ১২০ টাকার বেশি, যেখানে বিক্রয়মূল্য কম। ফলে মিল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।”

    তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু সিন্ডিকেটকারী ব্যবসায়ী পাট মজুত করে দাম বাড়াচ্ছে। তিনি বলছেন, “সরকার যদি না দেখবে তাহলে এই খাতের দুর্দশা আরও বাড়বে।”

    বাজারের এই পরিস্থিতির জন্য শ্রমিকদের পাশাপাশি মিল মালিকরাও উদ্বিগ্ন, যারা বলছেন বাজার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি জরুরি। বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন জানান, “অসাধু অবৈধ মজুতদাররা পাটের দাম বাড়ানোর জন্য বাজার অস্থির করে তুলেছে। এ ছাড়াও, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, যা এই শিল্পের উপর চাপ বৃদ্ধি করছে। সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”

    পাট অধিদফতর জানিয়েছে, তারা বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, “আমরা নিয়মিত তদারকি করছি, একজন আড়তদার বা ডিলার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণ পাট মজুত রাখতে পারবেন। অতিরিক্ত মজুত ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূল লক্ষ্য, বাজারে পণ্য সরবরাহ ও দামের রক্ষণাবেক্ষণ।”

    খুলনা অঞ্চলে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাট ও পণ্য উৎপাদিত হয়, যা বেশিরভাগই বিদেশে রফতানি হয়। তবে বর্তমানে চলমান সংকট দীর্ঘমেয়াদি হলে, উৎপাদন ও রফতানি দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।