১৮৩ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুটা ঠিকঠাক না হলেও মাঝের ওভারগুলোতে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের ২৭ বলে অপরাজিত হাফসেঞ্চুরি ও পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির ঝড়ো ইনিংসে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা নিউজিল্যান্ডকে ২ ওভার বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
কোয়েতে শুরুটা করেছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম, কিন্তু কিউই বোলিং একাধিক সময় তাদের ওপর চাপ বাড়ায়। উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙে নাথান স্মিথ; ৫.৩ ওভারে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে, তখন উদ্বোধনী জুটির সংগ্রহ ছিল ৪১। আউট হওয়ার আগে সাইফ করেছেন ১৬ বলের ১৭ রান, আর তানজিদ করেছেন ২৫ বলের ২০। দলের মাঝখানে লিটন দাসও ১৫ বলে ২১ রান করে কতকটা ভরসা দিলেও দ্রুত আরও উইকেট পড়ে বাংলাদেশ খানিকটা ব্যাকফুটে থাকে। ১০.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭/৩।
ততক্ষণে দলের চাপ সামলাতে আসে তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ ইমন। এই চতুর্থ উইকেট জুটিই ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দেয়। ইমন মাত্র ১৪ বলে ঝটপট ২৮ রান করেছে এরপর আউট হন, কিন্তু তাওহীদ মাঠেই দাঁড়িয়ে যান। হৃদয় ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে দলকে জয় নিশ্চিত করেন। ডানহাতি ব্যাটারকে সঙ্গ দিতে শামীম হোসেন পাটোয়ারি ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যার ফলে হাতে করে লিড নিয়েই টাইগাররা সহজ জয় পেয়েছে।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রানের তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েছে; এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ সফল তাড়া ছিল ১৩৫ রান। দেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার রেকর্ডটি এখনো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে—২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে টাইগাররা বড় জয় করেছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শুরু হয় চট্টগ্রামে, যেখানে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। কিউইরা শুরুতেই একটি উইকেট হারায়—ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে টিম রবিনসন রানআউটে ফিরে যান। এরপর কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দমবন্ধ করা পার্টনারশিপ গড়ে দলকে চালিত রাখেন; দুজন মিলে ৮৮ রানের জুটি করেন এবং দুজনই ফিফটি পূরণ করেন—ক্লার্ক ৩৭ বলে ৫১ (সাত চার ও একটি ছয়), আর ক্লেভার ২৮ বলে ৫১ (সাত চার ও একটি ছয়)।
তবে তাদের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড ফের চাপের মুখে পড়ে। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে রানগতিও নেমে আসে; প্রথম ১০ ওভারে করা ১০০ রানের পরে পরের ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান করতে পারে তারা। এই সময়ে বেভন জ্যাকবস মাত্র ১ রানের মাথায় এবং ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন। অধিনায়ক নিক কেলি কিছুটা রান উত্তোলন করলেও তিনি শরিফুল ইসলামের বলে আউট হয়ে ২৭ বলে ৩৯ করে ফিরে যান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন করেছেন ৩০ এবং নাথান স্মিথ মাত্র ৪ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হাসান; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচটি শেষে টাইগারদের উল্লসিত মেজাজ দেখা গেছে—মাঝের ওভারগুলোর সংযোজিত ব্যাটিং ও শেষের দ্রুত পজিশনিং জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।
