Blog

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক আহত, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক আহত, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারে আধিপত্য নিয়ে দ্বিতীয় দফায় চার গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলতে থাকায় পুরো এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের নারী, পুরুষ এবং কিশোররা মিলিয়ে কমপক্ষে একশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এই সংঘর্ষ পুনরায় বাধেঁ। সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ছিলেন মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের সমর্থকরা। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চার গ্রামের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের তিন যুবককে আখের রস খাওয়া নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এর জের ধরে প্রথম দফায় সন্ধ্যার কিছু পরে ২ ঘণ্টার জন্য সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

    সকালেই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয় এবং এরপর থেকে আবারও সংঘর্ষের সূচনা হয়। এতে মুনসুরাবাদ এলাকায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। দোতালার ছাদ থেকে দোকান, বাসা-বাড়ির ছাদ থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে ব্যাপক ধাওয়া-ধাওয়া। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাবি করেন, দাঙ্গা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জরুরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

    সহকারী পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল মো. রেজোয়ান দীপু জানান, গতকাল সংঘর্ষ প্রথম দফায় কিছুটা কমলেও আজ ভোর থেকে আবার শুরু হয়েছে। তারা নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। আরম্ভের চেয়ে এখন কিছুটা হলেও কমে এসেছে সংঘর্ষ, তবে পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। প্রচুর হতাহতের আশঙ্কা থাকায় তা এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কনেস্টর, মশিউর রহমানও গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮, যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্ট

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮, যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্ট

    দেশে মার্চ মাসে মোট ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২২টি, যেখানে নিহতের সংখ্যা ২৩৭ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৯৭ জন। এই দুর্ঘটনার মোট সংখ্যার শতকরা ৩৬.০৩ ভাগ, নিহতের ৩৮.৬১ ভাগ এবং আহতের ১২.৭২ ভাগ।

    আজ শনিবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে মোট ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন মৃত্যু এবং ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে।

    মার্সের এই সময়ে জড়িত যানবাহনের মধ্যে ৯৭৫টি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নসিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

    দুর্ঘটনার মূল ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচানো এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

    স্থানীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০.৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ২২.০৭ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়া, মোট দুর্ঘটনার ৫.৫১ শতাংশ ঘটে ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে।

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে, মার্চ মাসে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে স্বল্প সচেতনতা, অব্যবস্থাপনা ও যানবাহনের অনিয়ম। আরও উল্লেখ করা হয়—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, মহাসড়কে প্রয়োজনীয় সাইন ও মার্কিং এর অভাব, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা, ডিভাইডার অনুপস্থিতি, নির্মাণের ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলা, চাঁদাবাজি, পন্যবাহী ট্রাকের জনতালুট ও অদক্ষ চালক। এছাড়াও, এটি দেখা গেছে দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালানো, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অপ্রতুল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

    সংগঠনটি দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তির used বৃদ্ধি, স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ, রাতের বেলায় মহাসড়কে আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা, দক্ষ ড্রাইভার তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস সিস্টেম চালু, সঠিক লাইসেন্স প্রদান, পরিবহন খাতে শাসন প্রতিষ্ঠা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ, সড়কসজ্জা ও রোড মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন, মানসম্পন্ন নির্মাণ ও দ্রুত মেরামত, নিয়মিত সড়ক সেফটি অডিট চালু, ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন।

    সংগঠনটি বলেছে, ঈদযাত্রায় সাধারণ জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।

  • ১০ মাস পরে জীবিত থেকে মৃত অবস্থায় ফিরে এলেন আজিজুর

    ১০ মাস পরে জীবিত থেকে মৃত অবস্থায় ফিরে এলেন আজিজুর

    সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হন আজিজুর রহমান (৫০)। তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপর শিলিগুড়ি জেলার কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় সড়ে ছয় মাস পর, গত ২২ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল আরও জটিল। গত শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বিজিবি ও বিএসএফ’র উপস্থিতিতে আজিজুর রহমানের লাশ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ, কূটনীতিক ও স্বজনরা সকলে উপস্থিত ছিলেন এই ঘটনাস্থলে। আজিজুরের স্বজনরা জানান, তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ১৪ মে সীমান্তে ঘাস কাটার সময় ভারতের আমবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে। পরিবারের দাবি, আটককালে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিন্ন সূত্র বলছে, তার অসুস্থতার কারণে চলতি বছরের ২২ মার্চ শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সভয়তা ও যোগাযোগ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় আজিজুরের লাশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এসেছের। তার ভাতিজা সোহেল রানা জানিয়েছেন, লাশ বুঝে পাওয়ার পরে তিনি দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসছেন। রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, আজিজুরকে আটক করার সময় বিএসএফ তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। এরপর তাদের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কারাগারে মারা যান। তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৪ মে আজিজুর রহমান ভারতের সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছিলেন। তখন তিনি শিলিগুড়ি কারাগারে ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর, ২২ মার্চ তার মৃত্যু হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের হাইকমিশন, ভারতের বিএসএফ ও পুলিশ লাশ হস্তান্তর করে। এ সময় বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লাশ বুঝে পাওয়ার পরপরই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • বোমা পিডিএফ ছড়ানো ও ইসকন মন্দিরে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    বোমা পিডিএফ ছড়ানো ও ইসকন মন্দিরে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    ঢাকা: নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’‑র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের অভিযোগ, সে অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণা চালানোসহ বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল ছড়ানো এবং শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিল।

    ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার হবিগঞ্জ থানার ওই কিশোরকে বৃহস্পতিবার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি দল হেফাজতে নেয়। ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এই তথ্য জানানো হয়। পুলিশ বলেছে, প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাকে শিশু হিসেবে কিন্ডার জুডিশিয়াল প্রসেসে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, এই গ্রেফতারি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নব্য জেএমবি‑র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে করা প্রথম আটক। সিটিটিসি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, সে রাজধানীর জিয়া উদ্যান থেকে গত ৩১ জানুয়ারি গ্রেফতার হওয়া আহসান জহির খান (৫০) নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। ওই ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছিল এবং সেই মামলার সূত্র ধরে হবিগঞ্জ থেকে কিশোরটিকে হেফাজতে নেয়া হয়।

    ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেফতার আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সঙ্গে ওই কিশোরের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিশোরটি অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল, আইএস‑সমর্থক উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য সংগ্রহে জড়িত ছিল এবং বোমা তৈরির নির্দেশিকা ও সম্পর্কিত পিডিএফ ছড়ানোতে অংশ নেয়।

    পুলিশের ধারণা, সে ঘনিষ্ঠসহযোগীদের মাধ্যমে উস্কানি ও হামলার পরিকল্পনা Fabrique করছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে, তবে বিস্তারিত তদন্ত এখনো চলছে।

    একটি পুলিশ সূত্র ওই কিশোরের বয়স আনুমানিক ১৬ বছর বলে জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ ও বিচারের জন্য শিশু আইন অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    বিগত সময়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তর্জাতিক সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)‑এর অনুসারীদের ব্লক হিসেবে ‘নব্য জেএমবি’ পরিচিত করেছিল। র‌্যাব ওই গোষ্ঠীকে ‘তামিম‑সারওয়ার গ্রুপ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছিল। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আবার নব্য জেএমবি‑র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতারির ঘটনা সামনে এসেছে, যা বর্তমানে তদন্তের বিষয়।

    পুলিশ বলেছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রমাণ যাচাই ও ঘটনা পরিব্যাপ্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: কী বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: কী বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    কুষ্টিয়া-৩ থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামি এমপি ও আলোচিত ইসলামী বক্তা আমির হামজা সংসদে নারী সদস্যদের নিয়ে করা কটূক্তি সংক্রান্ত বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তার মনে নেই এবং ঘটনাটি এক দেড় ঘণ্টার আলোচনা অংশমাত্র ছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদের পাশে বসা কয়েকজন নারী এমপির শারীরিক গঠন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও অবমাননাকর মন্তব্য করছেন আমির হামজা। ভিডিওতে তিনি রুমিন ফারহানা ও নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনকে উল্লেখ করে কটূক্তি করেন এবং ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদের নামও নেন। ভিডিওর এক অংশে তিনি এমন মন্তব্য করেন যে কিছু এমপির ভুঁড়ি এত বড় যে ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে, এবং মহিলারা তাদের দেখে লজ্জা পাবেন।

    জমায়াতের এমপি ওই মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটি দেড় ঘণ্টার আলোচনা ছিল, সেখানে কী কী বলা হয়েছে সব মনে রাখা সম্ভব না; মিডিয়ার কি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই। তিনি আরও বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনে আমি এটি করেছি কিনা, সেটাও আমি জানি না।’’

    এই বিবৃতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং ঘটনাটিকে নারীকে অবমাননা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    রুমিন ফারহানা বলছেন, এই মন্তব্য তার চোখে দুই দিন থেকে আছে এবং আমির হামজার অতীত কর্মপন্থা বিবেচনায় এটা কোনও ব্যতিক্রম নয়। তিনি অবাক হয়েছেন যে সংসদে যাওয়ার পরও কেউ বলে যে সদস্যদের কোথায় বসতে হয় তা জানে না; বাস্তবে প্রতিটি এমপির নির্দিষ্ট আসন রয়েছে। রুমিন বলেন, ‘‘এটি নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একটি নারীবিদ্বেষী সমাজে এ ধরনের কথা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু দুঃখজনক যে এসব মানুষ এখন জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।’’

    প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এই ধরনের মন্তব্যের উত্তর দেওয়া তার মর্যদার নিচে। তিনি বলেন, ‘‘এই বক্তব্য শুধু কয়েকজন নারী এমপিকেই নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্য এবং দেশের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে—এমনকি তার নিজের মাকেও।’’ আইনি ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এমন অশালীন ব্যক্তির প্রতিউত্তর দেওয়ার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।

    ফরিদপুর-৩ এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ এই মন্তব্যকে আমির হামজার ‘‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’’ পরিচয় আমলে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা নারীদের এভাবে দেখেন, তারা কীভাবে তাদের নেতৃত্বর দাবি করবেন তা অনুধাবন করা যায় না; এমন মানসিকতা ধর্মের নাম তুলে নারীদের দমন করে।

    অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, ‘‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু বলেই থাকেন; সবকিছু শেখানো কি সম্ভব?’’ তিনি জানান, আমির হামজাকে দলীয় পর্যায়ে কেন্দ্র ও স্থানীয়ভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দল হিসেবে তারা এই ঘটনার জন্য খুবই বিব্রত।

    বিষয়টি এখনও আলোচনার বিষয় এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ঘটনাটির পরবর্তী আইনগত বা সরকারি পদক্ষেপ থাকতে পারে বলে অনেকে ধর্মীয় ও সংসদীয় মর্যাদার দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।

  • গণভোটই সংবিধানের চেয়েও সর্বোচ্চ: বিরোধীদলীয় নেতা

    গণভোটই সংবিধানের চেয়েও সর্বোচ্চ: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট সংবিধানের চেয়েও উর্ধ্বে অবস্থান করছে। তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দলীয় একটি সমাবেশে এই দাবি জানান তিনি। সমাবেশে তিনি ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলোকেও কড়া আক্রমণ করেন।

    বক্তব্যে ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রতি অসততা দেখিয়েছে। অনেকে বলছে সংবিধানে গণভোট নেই—তবে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রথম গণভোট কারা করেছেন? তখন কি তা সংবিধানে ছিল?’’ তার পরিচিতি অনুযায়ী, জনগণের সরাসরি রায়কেই তিনি সংবিধানের চেয়েও বেশি মর্যাদাপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেকেই পেছনে ভেতরে গণভোট নিয়ে অনর্থক ছিলেন, কিন্তু প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বলে প্রতিফলিত হয়েছেন। সংসদে তারা যেন ‘‘জান্নাতের টিকিট’’ দাবি করে দেখবে—এমন সরল রূপরেখায় তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন মিডিয়ায় যারা ‘‘জান্নাতের টিকিট’’ বিক্রি করছে, তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    গণভোটের ফল কার্যকরে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, জনগণের রায়কে ত্যাগ করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা। তিনি আশ্বস্ত করেন, গত জুলাইয়ের মতো আন্দোলন আবারো হবে এবং জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের লড়াই চলবে।

    তিনি সবাইকে জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামার ডাক দেন এবং জানান, আগামীকাল ঢাকায় তাদের প্রথম আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

    ডা. শফিকুরের ভাষণে ছিল নির্বাচনী ন্যায়বিচার, জনগণের সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দেওয়া এবং সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার—এসব বার্তাই সমাবেশে প্রধানভাবে উচ্চারিত হয়।

  • জামায়াত-এনসিপি জোট ঢাকা প্রদর্শনে বিক্ষোভের ডাক দিল

    জামায়াত-এনসিপি জোট ঢাকা প্রদর্শনে বিক্ষোভের ডাক দিল

    সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত দাবি ও ‘জুলাই সনদ’ আদেশকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এ ঘোষণা বৃহস্পতিবার দুপুরে জোটের লিয়াজো কমিটির বৈঠকের পরে দেওয়া হয়।

    বৈঠকের পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং ক্ষমতা চালাতে ফ্যাসিবাদী পদ্ধতি অবলম্বন করছে। তিনি বলেন, সরকার সংস্কারকে গলদ করে কেবল সংবিধানে আনুষঙ্গিক সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে; তাই রাজপথেই আন্দোলন ছাড়া ১১ দলের কোনো বিকল্প নেই।

    আযাদ জানান, সমাবেশব and মিছিল বায়তুল মোকররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৭ এপ্রিল জোটের শীর্ষনেতাদের একটি সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে ঘিরে সরকারি দলের কর্মপদ্ধতিতে তারা বিস্মিত ও আহত। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট অংশগ্রহণ স্থগিত করে ওয়াকআউট করেছে।

    জোট সূত্রে জানা যায়, মুলতবির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পরে ‘জুলাই সনদ’ আদেশ জারি না করার এবং বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ তুলে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ চেম্বার ত্যাগ করেন।

    স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর বলেন, তারা প্রতিকার চান—এটি কোনো দলের স্বার্থের বিষয় নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাই যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিল এবং তা নিয়ে যারা কথা বলেছেন ও প্রচার করেছিলেন, সেই বিষয়ের যথার্থ প্রতিফলন তারা পাননি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিরোধীদল হিসেবে এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না; তাই প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা ওয়াকআউট করছি।’’

    জোটের ঘোষণায় দেখা যাবে আগামীকালের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি ও আরও সমন্বয় সভার মাধ্যমে তাদের আন্দোলনকে অগ্রসর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

  • খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি (বিভাগ‑২) থেকে এ স্মারক সার্কুলার জারি করা হয়।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক‑কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন তৈরি করে নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক ও পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে যে ব্যাংকিং তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান অংশ হচ্ছে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বা রিস্ক‑বেইজড সুপারভিশন (RBS) কার্যকর করা।

    নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একরকমভাবে না দেখে যেসব ব্যাংকের ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর ওপর তদারকি বাড়ানো হবে। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের ঝোঁক আগে থেকে চিহ্নিত করা যাবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এ ধরনের নজরদারি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে ঋণজনিত ঝুঁকি কমবে এবং সামগ্রিকভাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তহবিল সংরক্ষণের মান উন্নত হবে।

  • মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার, টানা আট মাস নিটপতন

    মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার, টানা আট মাস নিটপতন

    বাংলাদেশের রপ্তানি আয় মার্চ মাসেও নেমে এসেছে—গত মাসে রপ্তানি আয় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বছরবার্ষিক ভিত্তিতে এটি আগের বছরের মার্চের ৪.২৪ বিলিয়ন ডলারের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করে।

    চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালের জুলাই থেকে মার্চে সামগ্রিক রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে; যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয় নিম্নমুখী রয়ে গেল।

    রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এই খাতের রপ্তানি আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার।

    ইপিবি জানায়, সামগ্রিকভাবে দেশের বেশিরভাগ প্রধান রপ্তানি খাতে চলতি বছরের তুলনায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সবখানে পরিণতি একরকম নয়—হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্যে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা সামগ্রিক রপ্তানি আয়কে কিছু পরিমাণে সমর্থন করেছে।

    সংস্থাটি আরও বিবৃতিতে বলেছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে নানা বৈশ্বিক ও বহিরাগত ঘটনার কারণে রপ্তানির পরিস্থিতি চাপের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট ভূরাজনীতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যবসায়িক পরিবেশকে অস্থির করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো প্রধান বাজারে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

    ইপিবি জানায়, এইসব প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক চাহিদা সংকুচিত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল করা হচ্ছে—ফলশ্রুতিতে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সংস্থাটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়টি অব্যাহত রাখছে।

  • ইরান বলছে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফ-৩৫ ভূপাতিত

    ইরান বলছে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফ-৩৫ ভূপাতিত

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, নতুন ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির আকাশসীমায় একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, পুরো বিমাটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এটি ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হওয়া দ্বিতীয় এফ-৩৫।

    আইআরজিসি জানায়, বিমানটি সম্পূর্ণভাবে ভূপাতিত হওয়ায় পাইলট সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি এবং পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাব্যতা খুবই কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ দাবি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এর আগে ১১ মার্চ আইআরজিসি মধ্য ইরানের আকাশসীমায় প্রথমবারের মতো একটি এফ-৩৫ বিমান আঘাত করার দাবি করেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের কয়েকটি দাবি নাকচ করে দিয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকারও করেছে যে তাদের একটি এফ-৩৫ মিশন শেষে জরুরি অবতরণ করেছিল এবং পাইলট তখন স্থিতিশীল অবস্থায় ছিলেন। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপের ওপর তাদের কোনো বিমান ভূপাতিত হয়নি।

    এফ-৩৫ বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন নির্মিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র সংঘাতে এফ-৩৫ ধ্বংসের স্বাধীন ও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার পর ইরানের সামরিক বাহিনী পাইলট খোঁজার কাজ শুরু করেছে এবং গ্রেফতারে সহযোগিতা করলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় টেলিভিশনে বিমানের ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে, বিমানটি সম্ভবত কোহগিলুয়েহ ও বয়ের-আহমাদ প্রদেশে বিধ্বস্ত হতে পারে। ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাইলট খুঁজে পেতে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয় এবং কাউকে আটক করতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

    সোচ্চারভাবে এই ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই এখনো মেলেনি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক দফতর থেকে কোনো সমন্বিত প্রশংসাপত্র বা স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া না গেলে এই দাবিগুলো বিষয়ে সন্দেহই থাকবে।