Blog

  • নিখোঁজ পাইলট খুঁজতে গেলে মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ভূপাতিত: মেহের নিউজ

    নিখোঁজ পাইলট খুঁজতে গেলে মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ভূপাতিত: মেহের নিউজ

    ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা, এমন সংবাদই বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে। সেই বিমানের পাইলট ও ক্রু খোঁজার জন্য পাঠানো একটি মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ওই এলাকায় গেলে সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে—এমন দাবি করেছে ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি।

    মেহেরের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং সেই আঘাতে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়। নিউজ এজেন্সিটি আঘাতের সূত্র ও সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

    হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এর বর্তমান অবস্থা বা ভিতরে থাকা আরোহীদের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না সেটিও অনিষ্পষ্ট। পেন্টাগন বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    এর আগে তাসনিম নিউজ জানিয়েছিল যে নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের জন্য মার্কিন বাহিনী ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং হারকিউলিস-১৩০ অভিযানিক বিমান ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েছে। একই সংবাদমাধ্যমে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, মার্কিন উদ্ধারচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মেহেরের হেলিকপ্টার হামলার খবর সেই দাবিটিকে আরও জোরালো করেছে।

    এখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে পক্ষে-পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার স্বরূপ ও ফলাফল বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল ও প্রতিবেশী সংস্থাগুলো থেকে পরবর্তী কোন প্রতিক্রিয়া বা সংবাদ এলে সেটি ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যাখ্যা বা আপডেট দেওয়া হবে।

  • খুলনার ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনছে ই-হেলথ কার্ড পাইলট

    খুলনার ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনছে ই-হেলথ কার্ড পাইলট

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অনুকরণে খুলনা জেলার প্রায় ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রোগীদের সব স্বাস্থ্যসেবা রেকর্ড সংরক্ষণ করে আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে খুলনাকে পাইলট জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বছরের মধ্যে জেলার মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারবে।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন আছে। ওই প্রকল্পের পাইলটিং কার্যক্রমে খুলনা জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এ কথা সংসদে গত বুধবার সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়।

    খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসন জেলা সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে জেলাবাসী আরও সুবিধায় এবং দ্রুতগতিতে চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    ই-হেলথ কার্ড কী: এটি প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা একটি ইউনিক আইডি বহনকারী ইলেকট্রনিক কার্ড। কার্ডের মাধ্যমে রোগীর সকল মেডিকেল রেকর্ড—রোগের বিবরণ, পরীক্ষার রিপোর্ট, পূর্বের অসুখ-বিসুখ এবং ওষুধ সেবনের তথ্য—ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। কেউ যখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, চিকিৎসক মাত্র কয়েক সেকেন্ডে রোগীর পুরো ইতিহাস দেখে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারবেন। ফলে অনাবশ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমবে, সময় বেঁচে যাবে এবং রোগী-চিকিৎসক উভয়েরই হয়রানি কমে আসবে।

    জেলার স্বাস্থ্যচিত্র: জেলায় ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কপিলমুনি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতাল, খালিশপুর লাল হাসপাতাল ও সদর শহরে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে—এ তথ্য দিয়েছে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

    কমিউনিটি ক্লিনিক বণ্টন ও ওষুধ সংকট: জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কয়রায় ৩১টি, পাইকগাছায় ৩৭টি, ডুমুরিয়ায় ৪০টি, ফুলতলায় ১০টি, দিঘলিয়ায় ১৬টি, তেরখাদায় ১৪টি, রূপসা ও বটিয়াঘাটায় প্রতিটি এলাকায় ২০টি করে এবং দাকোপে ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে শনিবার-বৃহস্পতিবার ছাড়া প্রতিদিন রোগী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তবে এসব ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। প্যারাসিটামল, এন্টাসিড (৬৫০ মিগ্রা), প্যারাসিটামল সাসপেনশন, ক্লোরাম্হেক্সিকল ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেটের বাইরে আনুমানিক ১৫ ধরনের ওষুধ প্রতি মাসে প্রায় ১৫ দিন ধরে সংকটে পড়ে থাকে এবং এই সংকট মেটানোর স্থায়ী উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি। বিশেষ করে শীতের সময়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিকে পাওয়া না গেলে রোগী ভোগান্তিতে পড়ে।

    চিকিৎসক ও জনবল সংকট: জেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মোট ৩৫৫টি বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও নার্সের পদ থাকলেও সেইগুলোর মধ্যে ১৫৬টি পদ শূন্য পড়ে আছে। শূন্যপদগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ৩টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ২টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ৩টি, জুনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ৩টি, জুনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞ ৬টি, জুনিয়র চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ৭টি, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ৭টি, মেডিকেল অফিসার ৬টি, সহকারী সার্জন ২১টি, জরুরি মেডিকেল অফিসার ২৬টি, ইউনিয়ন পর্যায়ের সহকারী সার্জন ৩৬টি, প্যাথলজিস্ট ১টি এবং অন্যান্য স্টাফ হিসেবে নার্স, স্বাস্থ্যপরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, হেলথ এডুকেটর, ওয়ার্ড বয়, সুইপার ও ল্যাব এটেনডেন্টেরও ঘাটতি রয়েছে।

    রোগের প্রচরণ: উপকূলীয় এলাকার রূপসা, দিঘলিয়া, ফুলতলা ও কয়রায় ডায়রিয়া সারাবছর সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। গত সালের ১ নভেম্বর থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫২৫৮ জন রোগী; এ তালিকায় ফুলতলা উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে সহস্রাধিক শিশু এই সময়কালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আশা ও প্রত্যাশা: অভিজ্ঞরা বলছেন, ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রোগী তথ্য দ্রুত পাওয়ার সুবিধা এবং সেবার মান বাড়ার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর হবে। খুলনার সাধারণ মানুষও আশা করছেন—প্রকল্প অনুমোদন হলে তাদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজতর ও আধুনিক হবে।

  • আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

    আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

    গত ১৭ বছর ধরে একটানা চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করে আসছেন লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্থানীয় এই নেতার উদ্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জনেরও বেশি রোগীর ছানি অপারেশনসহ লেন্স সংযোজন, নেত্রনালী ও অন্যান্য জটিল চক্ষু শল্যচিকিৎসা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় এক লাখ রোগীর প্রাথমিক চক্ষুপরীক্ষা, ঔষধ এবং চশমা বিতরণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের দৃষ্টিদান কর্মসূচিকে ব্যাপকভাবে এগিয়েছে।

    শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পেড়িখালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত শিবিরে বক্তৃতা করে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই মাটি ও মানুষের মাঝে আমি বড় হয়েছি। আমি এ এলাকার সন্তান। নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে আমি আপনাদের পাশে থেকেছি। আপনাদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। আমি এমপি নই, মন্ত্রী নই — আমি আপনাদের সেবক। আপনাদের সেবায় থাকতে চাই। আপনি আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন, আপনারা আমাকে দোয়া ও সহযোগিতা করবেন—এটাই প্রার্থনা।’’

    চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সুলতান আহমেদ এর সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভাও হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, মোংলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স. ম. ফরিদ, মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মানিক, পেড়িখালী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার শেখদার ও পেড়িখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোতাহার আলী প্রমুখ।

    রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৩টায় শিবিরে ২ জন বিশেষজ্ঞসহ মোট ৭ জন চিকিৎসক রোগীদের মধ্য থেকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রায় ৬ শতাধিক রোগী বাছাই করেছেন, যা পরে প্রয়োজনমতো হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সময়ে প্রায় ৫ হাজার রোগীকে ঔষধ, চশমাসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিবিরে রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • টাইব্রেকারে নির্ধারিত হলো বাংলাদেশ—ভারত ফাইনাল

    টাইব্রেকারে নির্ধারিত হলো বাংলাদেশ—ভারত ফাইনাল

    মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারতের লড়াই গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়িয়েছে। গ্রুপ পর্বে দুই দল আগে ১–১ গোলে ড্র করেছিল; আজও ৯০ মিনিট শেষে কোনো দল ভিতরে গড়াতে পারেনি। সাফের বিধি অনুযায়ী নকআউট ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ড্র হলে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে।

    শুরুর দিকে বলের দখল ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ নিয়েই দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল সমানে সমান। বাংলাদেশের স্পষ্ট কারণ তৈরি হয় ১৩ মিনিটে—রোনান সুলিভানের ফ্রি কিক থেকে মিঠু চৌধুরীর হেড পোস্টের বাইরে চলে যায়। ১৮ মিনিটে বাঁ থেকে মোহাম্মদ মানিকের ক্রসে সুলিভান সময়মতো দৌড়ালেও দুই ডিফেন্ডারের মধ্যে থেকে ঠিক মতো পা ছুঁয়ে গোল করা মিস করেন।

    ৩২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বিপদে পড়ে; গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন পোস্ট ছাড়ায় বেরিয়ে আসায় ফাঁকা পোস্ট পেয়ে ভারতীয় ফরওয়ার্ড চিপ শট নেন, কিন্তু বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা গোললাইন থেকে তা নাকচ করতে সক্ষম হয়। ৩৬ মিনিটে কর্নার থেকে আসা জটলার মধ্যে জোড্রিকের হেডও সহজে কেউ ধরে ফেলেন না; তবে মাহিন শেষ পর্যন্ত সেটি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    প্রথমার্ধের শেষ দিক বাংলাদেশ কয়েকবার বলের গতি নিয়ন্ত্রণ করে ভারতকে চাপে রেখেও ডেডলক ভাঙতে পারেনি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে চন্দন রায়ের দূরপাল্লার পাসে সুলিভান বক্সের মুখ থেকে ভলি নিলেও বল পোস্টের ওপরে চলে যায়।

    দ্বিতীয়ার্ধ শুরুতেই দুদলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেল। ৪৮ মিনিট থেকে ভারত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ় ছিল। ৫১ মিনিটে ভারতের ধারাবাহিক আক্রমণে তারা বেশ জায়গা দখল রাখে, কিন্তু ৫৪ মিনিটে বাংলাদেশ কাউন্টার অ্যাটাকে ফিরে ভারতের উপর চাপ দেয়।

    ম্যাচের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়ে—৫৭ মিনিটে সাইডলাইনের কাছে বল নিয়ে নেওয়ার সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কার ও জার্সি টানাটানির ঘটনা ঘটে। ৬৬ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের বদলি হিসেবে ডেকলান সুলিভান মাঠে নামেন; সেমিফাইনালে নেপাল ম্যাচে তার কামিওর মতো প্রভাব প্রত্যাশিত ছিল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ডেকলানের পাসে রোনান একাভাবে পেয়ে যান, কিন্তু শেষ ক্রিয়ায় সফল হতে পারেননি।

    শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিট কোনো গোল ছাড়াই শেষ হওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। এখন দেখা যাবে অতিরিক্ত সময় ও প্রয়োজনে পেনাল্টি শুটআউটে কারা চ্যাম্পিয়ন হবে।

  • টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে ফের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

    টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে ফের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

    মালদ্বীপের মালেতে শুক্রবার আয়োজিত ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে বাংলাদেশ। নিয়মিত সময়ের ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্র শেষে পেনাল্টি শুটআউটে লাল-সবুজ শিবির ৪–৩ ব্যবধানে ভারতকে পরাজিত করে শিরোপা ধরে রাখে। এই জয় মার্ক কক্সের শিষ্যদের দক্ষিণ এশিয়ার যুবফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আবারও প্রমাণ করল।

    ম্যাচের শুরুতেই ভারত কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিল। চতুর্থ মিনিটে রোহেন ডান প্রান্ত থেকে ক্রস পাঠালে আবরাশ দুর্দান্ত হেড করেন, কিন্তু বল পোস্ট ছুঁয়ে বাইরে যায়। ওই আঘাত সামলিয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে দুই উইংয়ে মানিক ও রোনান সুলিভান ভারতের ফুলব্যাকদের জন্য বড় দু’টো মাথা ব্যথা হয়ে ওঠেন।

    ১৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে সুলিভানের ফ্রি-কিকে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর হেড লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং সেটা পোস্টের বাইরে যায়। এরপরও বাংলাদেশ কয়েকবার আলাদা আক্রমণ তৈরি করে; ২৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে করা লম্বা থ্রো-ইনে চাপ বাড়ে এবং ইউসুফকে লক্ষ্য করে নেওয়া শটটি ভারতীয় গোলরক্ষক শক্ত হাতে সামলে নেন।

    ৩৫ মিনিটে ভারতের পাল্টা আক্রমণে বিপদ তৈরি হয়। একটা লং বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন বাহিরে এসেছিলেন, কিন্তু বলের নাগাল পাননি। তবুও ভারতীয় ফরোয়ার্ডরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধের যোগ করা দুই মিনিটে মুর্শেদ আলীর ডেলিভারি থেকে সুলিভান এক আকরোব্যাটিক হাফ-ভলি করেন, কিন্তু সেটিও পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।

    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ খেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্কতা ও রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে নামলে ভারত বেশ কয়েকবার আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে। ৫৩ মিনিটে ওমাং দোদুমের দূরপাল্লার ফ্রি-কিক ইসমাইল মাহিন ওয়েল সেভ করেন। ৬৪ মিনিটে আবারও একটি লম্বা থ্রো-ইনে মাহিন বক্স ছেড়ে বল সংগ্রহে ব্যর্থ হন, তবে ভারতের আক্রমণকারীরা কপালদেববন্ধ করে সেই সুযোগ নেবে না।

    ৬৬ মিনিটে কোচ মার্ক কক্স আক্রমণের চাপ বাড়াতে নাজমুল হুদাকে বদলি করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের তরুণ তারকা ডেকলান সুলিভান নামান। সুলিভান মাঠে থাকলেও শেষ মুহুর্তে কাঙ্ক্ষিত গোল দেখা যায়নি। ৮৩ মিনিটে ভারতের সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগটি আসে; ঋষি সিং বক্সে ক্রস করে এবং পেছনে থাকা একজন ভারতীয় খেলোয়াড় জোরালো শট নেন, যা ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে কেটে যায়—বাংলাদেশ বড় ধাক্কায় পড়া রক্ষা পায়।

    রেফারি ৯০ মিনিটে ৪ মিনিট যোগ করেন, তবু কোনো দলই নির্ণায়ক গোল করতে পারেনি। নিয়মিত সময় গোলশূন্য ড্র হওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়, যেখানে বাংলাদেশ ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে পেনাল্টি শুটআউটে ৪–৩ ব্যবধানে ভারতকে পরাজিত করে শিরোপা জয় করে। ইসমাইল মাহিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং খেলোয়াড়দের কোরাগ্রস্থ মানসিকতা এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    এই ফলের সঙ্গে বাংলাদেশ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ অঞ্চলে নিজেদের উচ্চ দায়িত্ববার্তা মজবুত করল এবং ধারাবাহিক সাফল্যের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

  • ইডেন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: গায়ক জাহিদ অন্তুকে জামিন

    ইডেন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: গায়ক জাহিদ অন্তুকে জামিন

    রাজধানীর গুলশানে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম বৃহস্পতিবার তাকে জামিন প্রদান করেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তাহমিনা আক্তার জানান।

    এসআই তাহমিনা জানিয়েছেন, বিচারিক কার্যক্রম চলতি থাকায় জাহিদ অন্তুকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তারের এক দিন পরই জামিন পাওয়া এই ঘটনায় নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

    পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকালে গুলশান অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে জাহিদ অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দেয়। অভিযোগকারী ওই ইডেন ছাত্রীর দায়েরকৃত মামলায় তদন্ত ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আজ জামিন মঞ্জুর করা হলো।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার ক্লাস চলাকালে অভিযুক্ত জাহিদের সঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছু সময় পর সম্পর্ক टूटে এবং তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    বিবারণে বলা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় জাহিদ ওই শিক্ষার্থীকে কোনো পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে তার গুলশানের বাসায় নিমন্ত্রণ করেন। সেখানে অভিযোক্তার অনিচ্ছার বিরুদ্ধেই তাকে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি করা হয়; বাধা দিলে মারধর করা হয়, যার কারণে অভিযুক্তার মুখ, গলা ও মাথায় আঘাত লাগে। পরে কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে স্বজনদের সহযোগিতায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ৩০ মার্চ গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মোতাবেক মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

    জাহিদ অন্তু একজন বাংলাদেশি গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় গান ও ভিডিও শেয়ার করে পরিচিত হন এবং কলকাতার পিবি একাডেমিক স্কুলে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ বাছাই পর্বে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। মামলার বিচারে আদালত ও তদন্ত সংস্থার কার্যক্রম চলমান থাকায় এখনও কোনো নিষ্কর্ষ টা হয়নি।

  • বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে গায়ক নোবেলের জামিন বাতিল, কারাগারে

    বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে গায়ক নোবেলের জামিন বাতিল, কারাগারে

    বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেয়া ও অনৈতিক কাজের চেষ্টা করার অভিযোগে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলায় একই আদালত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ নির্দেশ দেন।

    শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) আদালত ঘোষণার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামি জামিনের আপসের শর্তভঙ্গ করেছেন। শর্ত অনুযায়ী বাদীর সঙ্গে বিয়ে করার কথা থাকলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামি বিয়ে করেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি—এ কারনে তারা জামিন বাতিলের আবেদন করেন।

    আদালত শুনানি শেষে নোবেলের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত আপসের শর্তে নোবেলকে জামিন দিয়েছিলেন।

    নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে। পরের দিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে আদালত মামলার ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

    গত বছরের ১৩ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেন আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা)। অভিযোগে বর্তমানে নোবেল ছাড়াও তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিককে আসামি করা হয়।

    আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিলে পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান ৭ জানুয়ারি ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে এবং আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে; এতে অন্য আসামিরাও সহযোগিতা করেছেন।

    ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে, আদালতের আদেশ এবং পিবিআই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

  • উত্তরায় সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার

    উত্তরায় সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর উত্তরার এক বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    তুরাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, উল্লেখ করেছেন পুলিশ।

    সাবিতের সহপাঠী মোহাম্মদ কাজল মিয়া বলেন, সাবিত কয়েকদিন ধরেই মানসিকভাবে হতাশা অনুভব করছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু অস্বাভাবিক পোস্টও দিয়েছিলেন। পরিবারের বরাতে জানা গেছে, গত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি নিজ বাসায় মারা যান বলে belief পাওয়া গেছে; পুলিশ ঘটনার সঠিক সময় ও কারণ выяс করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

    পুলিশ ময়নাতদন্ত ও প্রাপ্ত অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তদন্ত বাড়িয়ে তুলেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না।

  • নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: যা বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: যা বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

    কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও ইসলামি বক্তা আমির হামজা সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা কটূক্তির ঘটনায় নিজের موقف পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই বিতর্কিত মন্তব্যগুলি তার মনে নেই এবং ‘‘এটি দেড় ঘণ্টার আলোচনা ছিল, কোথায় কী বলেছি তা কি মনে রাখা সম্ভব?’’ তিনি মিডিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে দেখার কথাও বলেন।

    ভিডিওতে আমির হামজা পাশে বসা নারী এমপিদের শারীরিক গঠন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি রুমিন ফারহানা ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন এবং ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদের কথাও উল্লেখ করেন। ভিডিওর একাংশে তিনি বলেন যে তার ডান-বামে-বামে ভুঁড়িওয়ালা লোক দেখা গেছে এবং এমনভাবে উপহাস করেন যে ‘‘মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে’’ এবং মহিলা এমপিরা তাদের দেখলে লজ্জা পাবে—এমন কথা বলেন।

    ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর রাজনীতিক ও সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা তীব্র কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। রুমিন ফারহানা বললেন, ‘‘এ মন্তব্যটি দুই দিন আগে আমার নজরে এসেছে। তার অতীত রেকর্ড বিবেচনায় এটা কোনো ব্যতিক্রম নয়।’’ তিনি আরও অবাক পেয়েছেন যে সংসদে এক সপ্তাহ যাওয়ার পরও আমির হামজা জানেন না যে প্রত্যেক সদস্যের নির্দিষ্ট আসন থাকে—যদিও জামায়াতের এমপি হিসেবে তিনি সাধারণত নিজের দলের লোকদের সঙ্গে বসেন। রুমিন মন্তব্য করেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; একটি নারীবিদ্বেষী সমাজে এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করা যায় না, কিন্তু দুঃখজনক যে এখন এরা জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।

    নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এ ধরনের কথা বলা তাঁর মর্যাদার নিচে। তিনি বলেছেন, এই বিবৃতি শুধু নারী এমপিদের নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্য এবং দেশের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে। আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি—এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বর্তমানে এমন একজন অশালীন ব্যক্তির জবাব দেওয়ার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।

    ফরিদপুর-৩ এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ এই মন্তব্যকে ‘‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’’ পরিচয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা নারীদের মানুষ হিসেবে দেখে না; যেন আমরা অন্য গ্রহের মানুষ। এমন দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’’

    এদিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু কথা বলে; সবকিছু কি তাকে শেখাতে হবে? তাকে দলীয়ভাবে বারবার সতর্ক করা হয়েছে—কেন্দ্র থেকে, স্থানীয়ভাবে। আমরা তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলছি। আমরা খুব বিব্রত।’’

    প্রধান আলোচ্য ভিডিও ও তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। আমির হামজার বক্তব্য মেনে নেওয়া হয়নি, এবং সংঘটিত ঘটনার উপযোগী প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

  • ডা. শফিকুর: গণভোটই সংবিধানের থেকেও সুপ্রিম, সংস্কারের দাবি

    ডা. শফিকুর: গণভোটই সংবিধানের থেকেও সুপ্রিম, সংস্কারের দাবি

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট সংবিধানের চেয়েও ওপরের অবস্থানে আছে—এই দাবির ভিত্তিতে তিনি সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দলের এক দায়িত্বশীল সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

    তিনি ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলীয় নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিএনপি জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তারা বলে সংবিধানে গণভোট নেই—কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের প্রথম গণভোট কে পরিচালনা করেছিল? তখন কি তা সংবিধানে ছিল?” তিনি দাবি করেন, বাস্তবে গণভোটের রায় সংবিধানের ওপরেই অবস্থান করে।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, নির্বাচনের আগপর্যন্ত অনেকেই গণভোটের পক্ষে ছিলেন; কিন্তু যখন দেখলেন তারা দুই-তৃতীয়াংশে জিততে যাচ্ছেন, তখন তাদের মনোভাব পালটে গেল। তিনি সবাইকে গণতন্ত্রকে মেনে গণভোটে একযোগে আসার আহ্বান জানান।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির মধ্যে গোপনে গণভোটের বিরুদ্ধে লোক রয়েছে, কিন্তু প্রকাশ্যে তারা ‘হ্যাঁ’ বলছে। সংসদে আমরা তাদের কাছে ‘জান্নাতের টিকিট’ চেয়ে দেখব—কারা সেটা বিক্রি করছে, সেটা এখন মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    গণভোটের ফল কার্যকর করার জন্য জনমুখী কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, জনগণের রায়কে নাকচ করা হলে সেটাই ফ্যাসিবাদের সূচনা। “জুলাইয়ে যেমন আমরা নামেছিলাম, তেমনই আবার নামবো। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলের জোটের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে,” তিনি মন্তব্য করেন।

    সমাবেশে তিনি আগামীকালের ঢাকা কেন্দ্রীয় আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি সফল করার কথা জানান এবং সবাইকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।