কুষ্টিয়া-৩ থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামি এমপি ও আলোচিত ইসলামী বক্তা আমির হামজা সংসদে নারী সদস্যদের নিয়ে করা কটূক্তি সংক্রান্ত বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তার মনে নেই এবং ঘটনাটি এক দেড় ঘণ্টার আলোচনা অংশমাত্র ছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদের পাশে বসা কয়েকজন নারী এমপির শারীরিক গঠন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও অবমাননাকর মন্তব্য করছেন আমির হামজা। ভিডিওতে তিনি রুমিন ফারহানা ও নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনকে উল্লেখ করে কটূক্তি করেন এবং ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদের নামও নেন। ভিডিওর এক অংশে তিনি এমন মন্তব্য করেন যে কিছু এমপির ভুঁড়ি এত বড় যে ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে, এবং মহিলারা তাদের দেখে লজ্জা পাবেন।
জমায়াতের এমপি ওই মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটি দেড় ঘণ্টার আলোচনা ছিল, সেখানে কী কী বলা হয়েছে সব মনে রাখা সম্ভব না; মিডিয়ার কি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই। তিনি আরও বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনে আমি এটি করেছি কিনা, সেটাও আমি জানি না।’’
এই বিবৃতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং ঘটনাটিকে নারীকে অবমাননা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
রুমিন ফারহানা বলছেন, এই মন্তব্য তার চোখে দুই দিন থেকে আছে এবং আমির হামজার অতীত কর্মপন্থা বিবেচনায় এটা কোনও ব্যতিক্রম নয়। তিনি অবাক হয়েছেন যে সংসদে যাওয়ার পরও কেউ বলে যে সদস্যদের কোথায় বসতে হয় তা জানে না; বাস্তবে প্রতিটি এমপির নির্দিষ্ট আসন রয়েছে। রুমিন বলেন, ‘‘এটি নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একটি নারীবিদ্বেষী সমাজে এ ধরনের কথা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু দুঃখজনক যে এসব মানুষ এখন জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।’’
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এই ধরনের মন্তব্যের উত্তর দেওয়া তার মর্যদার নিচে। তিনি বলেন, ‘‘এই বক্তব্য শুধু কয়েকজন নারী এমপিকেই নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্য এবং দেশের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে—এমনকি তার নিজের মাকেও।’’ আইনি ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এমন অশালীন ব্যক্তির প্রতিউত্তর দেওয়ার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।
ফরিদপুর-৩ এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ এই মন্তব্যকে আমির হামজার ‘‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’’ পরিচয় আমলে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা নারীদের এভাবে দেখেন, তারা কীভাবে তাদের নেতৃত্বর দাবি করবেন তা অনুধাবন করা যায় না; এমন মানসিকতা ধর্মের নাম তুলে নারীদের দমন করে।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, ‘‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু বলেই থাকেন; সবকিছু শেখানো কি সম্ভব?’’ তিনি জানান, আমির হামজাকে দলীয় পর্যায়ে কেন্দ্র ও স্থানীয়ভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দল হিসেবে তারা এই ঘটনার জন্য খুবই বিব্রত।
বিষয়টি এখনও আলোচনার বিষয় এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ঘটনাটির পরবর্তী আইনগত বা সরকারি পদক্ষেপ থাকতে পারে বলে অনেকে ধর্মীয় ও সংসদীয় মর্যাদার দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।
