Blog

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স মার্চে

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স মার্চে

    দেশে বৌদ্ধিক অবস্থা অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিভিন্ন দেশে থেকে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চ মাসে মোট রেমিট্যান্স আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। এবারই প্রথমবারের মতো মার্চ মাসে এই অংক ছাড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে, এই বার্তা আরও উৎসাহজনক— মার্চ ২০২৫ এ প্রবাসীরা দেশের জন্য পাঠিয়েছেন ৪৬ কোটি ডলার বেশি। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এ রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার, আর মার্চ ২০২৪ এ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চ মাসে, যখন প্রবাসীরা মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন। এর আগে ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল, তখন ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ ছিল জানুয়ারিতে, যেখানে দেশপ্রেমীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চ মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে ঈদ উৎসবের প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে কাজের সুযোগ এখনও কালের স্বাভাবিক রয়েছে, এবং বেকারত্বের হার খুব বেশি বাড়েনি। এর ফলে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামান্য থাকায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা স্থিতিশীল রয়েছে।

    তথ্য বলছে, মার্চে দেশের সরকারি ব্যাংকগুলো মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে চলা দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে মোট ২৬৪ কোটি ডলার, আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন এক কোটি ২০ হাজার ডলার।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি আগেভাগেই চিহ্নিত করতে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ একটি সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে।

    সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছর শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া, ২০২৫ সাল এবং পরবর্তীকালের সকল প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    অতিরিক্তভাবে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করতে ইতোমধ্যে সুপারভিশন কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বা রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

    বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে প্রতিটি ব্যাংকের পরিবর্তে ঝুঁকি অনুযায়ী নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগাম শনাক্ত করা সহজ হবে। ফলে, ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতি, বিশেষ করে ঋণ ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিও সম্ভব হবে।

  • মার্চ মাসেও অব্যাহত রপ্তানি আয়ে পতন, হার ১৮ শতাংশ

    মার্চ মাসেও অব্যাহত রপ্তানি আয়ে পতন, হার ১৮ শতাংশ

    বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অগ্রগতি মার্চ মাসেও অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮.০৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট রপ্তানি আয় প্রায় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে একই সময় গত অর্থবছরে তা ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, সারাদিনের মধ্যেই টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয়ে পতন চলছে।

    বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই খাতে রপ্তানি আয় প্রায় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার। তবে সেই সাথে কিছু কিছু খাতে ইতিবাচক উন্নতি দেখা গিয়েছে। ইপিবি জানায়, মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্যেও কিছু খাতে—যেমন হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও প্রকৌশল পণ্য—সংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে যা সামগ্রিক আয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে দেশের রপ্তানি sector চাপে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘর্ষ এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান অবস্থা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো সব বড় রপ্তানি বাজারে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা অনেক কমে গেছে এবং বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিলের মুখে পড়েছে। এই সব কারণের ফলে দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে বলে ইপিবি মনে করছে।

  • অভিষেকের জন্য ৫ সিটির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এএনসিপি’র

    অভিষেকের জন্য ৫ সিটির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এএনসিপি’র

    ঢাকার দুটি ছাড়াও দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তরুণ নেতৃত্বের দল। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনে দলের মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মেয়র পদে লড়বেন। এছাড়া, কুমিল্লা সিটি করপোরশনে দলের যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরশনে এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে দলের মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    এনসিপি আরও জানায়, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিএনপি ঘোষণা করেছে যে, তারা শিগগিরই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোযোগ দেবে; তবে অপ্রত্যাশিতভাবে এখনো সিটির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। এ সময় দলটির নেতারা বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রম দলীয়করণ করেছে বলে অভিযোগ করেন। ফলে, নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীকে ভোটদান সম্ভব হবে না।

    নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। নির্বাচনে প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবে না, কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। আমরা ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি করছি।’

    উপস্থাপকরা ছাড়াও, অনুষ্ঠানে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভের ডাক

    ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভের ডাক

    শনিবার ঢাকা মহানগরীতে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গণবিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। এই কর্মসূচির ঘোষণা এলো শুক্রবার বিকালে, রাজধানীজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরে। বোর্ডের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে তারা সরকারকে আশু একনিষ্ঠভাবে দুর্বল করে দিতে চায়।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই স্বৈরাচারী পথে হাঁটছে এবং সংবিধানে কোনও পরিবর্তন ছাড়াই কেবল সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ, এবং রাজপথের আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প তাদের কাছে থাকছে না।

    আযাদ জানিয়েছেন, এই সমাবেশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    দুর্গন্ধযুক্ত এই পরিস্থিতির মধ্যেই, বুধবার সন্ধ্যার দিকে সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারকে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত ও হতবাক। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন সংসদ সদস্যরা সংসদ ছেড়ে বেরিয়ে যান। মূল কারণ ছিল, জুলাই সনদ আদেশ না দেওয়া ও বিরোধী দলের নেতাকে মিসকোড করার অভিযোগ। পরে স্পিকারকেও এ ব্যাপারে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতিকার চাইছিলাম, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের সাথে সম্পর্কিত নয়। যারা নির্বাচনের সময় একমত হয়েছিল, তাদের সকলের স্পষ্ট মতামত ছিল যে, এটি দেশের জন্য ভালো। আমরা এই অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ওয়াকআউট করেছি। দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত এড়াতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

  • গণভোট সংবিধানের চেয়েও সুপ্রিম: বিরোধীদলের নেতা

    গণভোট সংবিধানের চেয়েও সুপ্রিম: বিরোধীদলের নেতা

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট সংবিধানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ও সুপ্রিম অবস্থানে রয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেছেন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত দলীয় দায়িত্বশীল সম্মেলনে।

    শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, সংবিধান সংস্কারের দাবিতে গণভোটের রায় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘গণভোট সংবিধানের চেয়েও উপরে থাকায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জনগণের কথা লঙ্ঘন করছে। বিএনপি বলছে, সংবিধানে গণভোটের প্রয়োজন নেই, যা তিনি প্রশ্ন করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে প্রথম কে গণভোট আয়োজন করেছিল? তখন কি সংবিধানে এটি ছিল?’ তিনি আরও বলেন, ‘গণভোট হচ্ছে সংবিধানের চেয়েও সুপ্রিম, যা সমাজের বৃহৎ অংশের মতামতের প্রতিফলন।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচনের আগে পর্যন্ত গণভোটের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম, দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জিতছি, তখন তারা হার মানে। যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে আসুন, সবাই একসঙ্গে গণভোটের জন্য ঐক্যবদ্ধ হই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জোট ভেতরে ভেতরে গণভোটের বিরুদ্ধে ছিল, কিন্তু প্রকাশ্যে তারা বলেছে “হ্যাঁ”। সংসদে আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, জান্নাতের টিকিট চাইছি, আর এখন মিডিয়ায় ভাসছে, কারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে, সেটাও প্রশ্ন তুলেন তিনি।’

    শফিকুর রহমান গণভোটের ফল কার্যকরের জন্য কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের রায়কে অস্বীকার করাই ফ্যাসিবাদের প্রথম লক্ষণ। আমরা জুলাইয়ে যে আন্দোলনে নামেছি, আবারও নামবো। জনগণের দাবি আদায় না করে থাকব না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, সবাই জুলুমের বিরুদ্ধে бірі হই। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য ১১ দলের জোটের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আগামীকাল ঢাকায় আমাদের আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে।’

  • জোনায়েদ সাকি দলের প্রধান সমন্বয়কারী পদ ছাড়ছেন

    জোনায়েদ সাকি দলের প্রধান সমন্বয়কারী পদ ছাড়ছেন

    গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা জনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি দলের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া। এই গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়ার ঘোষণা নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হাতিরপুলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় যেখানে বলা হয়, প্রধান সমন্বয়কারীর অবসান ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। এ সময় দলের অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা যেমন নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেববানু আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দিন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমীসহ আরও অনেক সদস্য উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত সংগঠনের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন এবং এই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়। এখন তিনি দলে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব থেকে অবসরে যাচ্ছেন, যা সংগঠনের জন্য একটি নতুন দিক নির্দেশনা তৈরি করবে।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সাকি অব্যাহতি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সাকি অব্যাহতি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে সাকি পদত্যাগ করেছেন। এর বদলে ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে আছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। জানা গেছে, মূলত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন সহজ করার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অব্যাহতির খবর নিজেই ঘোষণা করেন জোনায়েদ সাকি। তিনি জানান, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য আমি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ছি।’

    বৈঠকে তিনি JULY সনদ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কিভাবে হবে, এটি নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক চলছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

    উল্লেখ্য, গত বছর ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি। দেড় যুগের বেশি রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন formally নিবন্ধিত হয়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে তিনি বিএনপি জোটের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তার অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থাকলেও পরবর্তীতে সেটি পুনঃসংগঠিত হয়ে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েই রাখা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলের প্রধানের দায়িত্বও পালন করতে হওয়ায় বিবাদ ও দলে বিভ্রান্তির আশংকা দেখা দেয়, যা বিবেচনা করে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

  • ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থীদের ঘোষণা

    ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থীদের ঘোষণা

    দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অংশ নেবেন দলের মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য মনোনীত হন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে অংশ নেবেন এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল, আর রাজশাহী সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হন মো. মোবাশ্বের আলী, দলের রাজশাহী মহানগর সভাপতি।

    অপরদিকে, এনসিপি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানায়, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই আরও সাতটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। তারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বর্তমানে বিএনপি সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রথমে করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখনো ভাবনায় আসেনি। বিএনপি-র এ অবস্থানে, এনসিপি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়, তাদের দলের নেতারা প্রশাসক পদে থাকবেন না এবং দলীয় প্রতীকে কোনও নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে না। তারা আরও দাবি করে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা দলের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এ কারণে, দলটি কঠোরভাবে দাবি করে—নির্বাচনের সময় প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।

    এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়র প্রার্থীর সাথে আরও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা, যেমন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক জামায়াত-এনসিপি জোটের

    ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক জামায়াত-এনসিপি জোটের

    শনিবার ঢাকায় সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদের আদেশের खिलाफ কঠোর বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত-এনসিপি জোট। এই ঘোষণা দেন ১১ দলে মিলিত জোটের নেতারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে, ১১ দলের লিয়াজো কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংসদ পরিচালনায় অক্ষমতা দেখাচ্ছে এবং শেখ হাসিনার সরকার ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। তারা সংবিধানে কেবল সংশোধনী আনতে চায়, তবে পরিবর্তনের পথে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই সমাবেশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে বলেও জানানো হয়। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যার সময় সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের গণভোটের রায় নিয়ে কার্যকলাপে তিনি গভীর বিস্ময় ও আঘাত অনুভব করেছেন। সংসদের ষষ্ঠ দিনে, বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন অংশ ওয়াকআউট করে। তারা মূলত, জুলাই সনদের আদেশ না জারির বিষয়ে আলোচনা করছিলেন এবং বিরোধী নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে অপ্রীতিকরভাবে ধরা হলে, তারা প্রতিবাদে সাধারণত: ওই সময় সংসদ ত্যাগ করে। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিকার চেয়েছিলাম; বিষয়টি কোনো দলের জন্য নয়, বরং নির্বাচনকালীন ব্যাপারগুলো নিয়ে ছিল। আমরা এসব বিষয়ে আগেই মতামত দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন তা অবমূল্যায়িত হয়েছে। এই অবমূল্যায়নের দাবি আদায়ের জন্যই আমরা ওয়াকআউট করেছি।’