সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হন আজিজুর রহমান (৫০)। তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপর শিলিগুড়ি জেলার কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় সড়ে ছয় মাস পর, গত ২২ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল আরও জটিল। গত শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বিজিবি ও বিএসএফ’র উপস্থিতিতে আজিজুর রহমানের লাশ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ, কূটনীতিক ও স্বজনরা সকলে উপস্থিত ছিলেন এই ঘটনাস্থলে। আজিজুরের স্বজনরা জানান, তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ১৪ মে সীমান্তে ঘাস কাটার সময় ভারতের আমবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে। পরিবারের দাবি, আটককালে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিন্ন সূত্র বলছে, তার অসুস্থতার কারণে চলতি বছরের ২২ মার্চ শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সভয়তা ও যোগাযোগ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় আজিজুরের লাশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এসেছের। তার ভাতিজা সোহেল রানা জানিয়েছেন, লাশ বুঝে পাওয়ার পরে তিনি দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসছেন। রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, আজিজুরকে আটক করার সময় বিএসএফ তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। এরপর তাদের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কারাগারে মারা যান। তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৪ মে আজিজুর রহমান ভারতের সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছিলেন। তখন তিনি শিলিগুড়ি কারাগারে ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর, ২২ মার্চ তার মৃত্যু হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের হাইকমিশন, ভারতের বিএসএফ ও পুলিশ লাশ হস্তান্তর করে। এ সময় বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লাশ বুঝে পাওয়ার পরপরই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
