মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮, যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্ট

দেশে মার্চ মাসে মোট ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২২টি, যেখানে নিহতের সংখ্যা ২৩৭ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৯৭ জন। এই দুর্ঘটনার মোট সংখ্যার শতকরা ৩৬.০৩ ভাগ, নিহতের ৩৮.৬১ ভাগ এবং আহতের ১২.৭২ ভাগ।

আজ শনিবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে মোট ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন মৃত্যু এবং ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে।

মার্সের এই সময়ে জড়িত যানবাহনের মধ্যে ৯৭৫টি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নসিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

দুর্ঘটনার মূল ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচানো এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

স্থানীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০.৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ২২.০৭ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়া, মোট দুর্ঘটনার ৫.৫১ শতাংশ ঘটে ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে, মার্চ মাসে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে স্বল্প সচেতনতা, অব্যবস্থাপনা ও যানবাহনের অনিয়ম। আরও উল্লেখ করা হয়—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, মহাসড়কে প্রয়োজনীয় সাইন ও মার্কিং এর অভাব, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা, ডিভাইডার অনুপস্থিতি, নির্মাণের ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলা, চাঁদাবাজি, পন্যবাহী ট্রাকের জনতালুট ও অদক্ষ চালক। এছাড়াও, এটি দেখা গেছে দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালানো, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অপ্রতুল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

সংগঠনটি দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তির used বৃদ্ধি, স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ, রাতের বেলায় মহাসড়কে আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা, দক্ষ ড্রাইভার তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস সিস্টেম চালু, সঠিক লাইসেন্স প্রদান, পরিবহন খাতে শাসন প্রতিষ্ঠা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ, সড়কসজ্জা ও রোড মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন, মানসম্পন্ন নির্মাণ ও দ্রুত মেরামত, নিয়মিত সড়ক সেফটি অডিট চালু, ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন।

সংগঠনটি বলেছে, ঈদযাত্রায় সাধারণ জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।