Blog

  • নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন

    নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে সংস্কারগুলো অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণ করেছিল, সেগুলো রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে মাঠে নামতেও হবে। ‘‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি,’’ বলেন নাহিদ।

    পবিত্র ওমরাহ পালনের পর আজ শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের করা সংস্কার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

    নাহিদ বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে এখন যা হচ্ছে তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হয়েছে; ঐকমত্য কমিশন থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল—তখন তারা নতুন সংবিধান চেয়েছিল, আর বিএনপি নির্বাচন চেয়েছিল।

    তিনি দাবি করেন, তারা (নাগরিক দল) আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু বিএনপি পুরোনো ব্যবস্থাকে অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচনেই ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসার পর থেকে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুচ্ছ করছে বলে নাহিদর অভিযোগ। ‘‘তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনছি গুরুত্বপূর্ণ ১০–১১টি অধ্যাদেশ তারা সংসদে আনছে না—এসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করবে না,’’ বলেন তিনি।

    নাহিদ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোকে। তিনি বলেন, এসব বাতিল করে বিএনপি একটি নির্বaysanতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে যেতে চায় যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকবে।

    সংগে তিনি বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী দলের কাতারেই আখ্যা দেন এবং বলেন, ‘‘গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত দাবি করে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা তাদের প্রতি ছিল না; তাই তাদের আন্দোলনে তেমন সাড়া মেলেনি।’’

    রাজপথে আন্দোলনের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা প্রথমে সংসদে সমাধান চেয়েছিল, কিন্তু উপযুক্ত সমাধান না मिलने কারণে এখন রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি—সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হোক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইন রূপে বহাল রাখা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে; এমন পরিস্থিতিতে যদি সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকে তবে বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।

    নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরস্ম হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ সকল উপদেষ্টাকে নিজেদের করা অধ্যাদেশ নিয়ে বক্তব্য রাখার এবং দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেন। ‘‘তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন যে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না—তারা চুপ করে ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে, সেটা চলবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে,’’ যোগ করেন নাহিদ।

    প্রসঙ্গত, নাহিদ ইসলাম ২৯ মার্চ রাতে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন এবং ৩০ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। উমরাহ এবং রওজা জিয়ারত শেষে শনিবার বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দরে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; এ সময় জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

  • ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল, নতুন সময়সূচি ঘোষণা

    ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল, নতুন সময়সূচি ঘোষণা

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং সেক্টরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার (৪ এপ্রিল) Central Bank এই নির্দেশনা জারি করে জানায়, ব্যাংকে লেনদেন এখন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    এই নির্দেশ ফেব্রুয়ারি নয়; বরং সরকারের গত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নেওয়া — মন্ত্রিসভার বৈঠকে (২ এপ্রিল) দেশের জ্বালানি সংকট বিবেচনায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পুনর্গঠন করা হয়। সরকার ঘোষণা করেছে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে এবং এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    বরতমান সাধারণ কার্যক্রমে ব্যাংকে লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা এবং অফিস সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে ব্যাংকের ক্ষেত্রে লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে ১০টা থেকে ৩টা করা হয়েছে এবং শাখার অফিসীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা রাখা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশেষভাবে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরের (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায়) শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার আগের নিয়ম অব্যাহত থাকবে।

    সরকারি সিদ্ধান্তে এছাড়া সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিয়েবাড়িতে আলোকসজ্জা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব পরিবর্তন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে এবং এগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে।

  • খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত ও মোকাবিলায় তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই তফসিলিভুক্ত ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সকল প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সুপারভিশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন বা রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একইভাবে না দেখে যেসব ব্যাংকের ঝুঁকি বেশি, সেগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়মগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। ফলশ্রুতিতে ঋণজরিত ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতাকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় উন্নততর নীতিগত বা প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

    বাংলা দেশ ব্যাংকের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে না, বরং সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়াবে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়মাবলী মেনে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ইসফাহানে ইরান ভূপাতিত করেছে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন

    ইসফাহানে ইরান ভূপাতিত করেছে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন

    ইরান জানিয়েছে, সে দেশের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) শনিবার ৪ এপ্রিল ইসফাহানে মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ফার্স সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে। খবর অনুযায়ী ওই ড্রোনটি উন্নত নজরদারি ও আকাশ প্রযুক্তি সংবলিত ছিল।

    ঘটনাটি এক সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনার নতুন সংযোজন। এর আগে শুক্রবার দক্ষিণপূর্ব ইরানে ইরানি বাহিনী একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছিল; খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা। একই দিনে হরমুজ প্রণালীতে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করা হয় বলে জানানো হয়।

    শুক্রবারই এক এফ-১৫ই বিমানের ক্রুর মধ্যে একজনকে মার্কিন সেনারা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বলে জানানো হয়েছে। অপরদিকে এ-১০ বিমানের পাইলট তার বিমানকে ইরানের আকাশসীমা থেকে বের করে আনতে পারলেও, পরে তিনি হরমুজ প্রণালীর কাছে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হন। ওই পাইলট পরে উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে পৌঁছে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    তবে এফ-১৫ওয়ার একজন পাইলট এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ইরানে ঢুকেছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে; স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে তারা দেশটিতে ঢোকেন।

    উদ্ধার অভিযান চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে ইরানের পুলিশ গুলি ছোড়ে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। এক হেলিকপ্টারের লেজের অংশে আগুন ধরে যায় এবং সেখানে থেকে ধোঁয়া বের হয়; তারপরও ওই হেলিকপ্টার ইরানের আকাশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    ইরানি বাহিনীও নিখোঁজ ক্রুকে ধরতে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ নিয়ে দুইপক্ষের দাবি ও প্রতিশপদি কার্যক্রম চলছে এবং বিষয়গুলো নিয়ে অনিষ্পন্ন তথ্য রয়েছে। পরবর্তীতে উদ্ধারের অগ্রগতি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ পেলে তা নিশ্চিতভাবে জানানো হবে।

  • ট্রাম্প: ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে ইরানের ওপর ‘জাহান্নাম’ নেমে আসবে

    ট্রাম্প: ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে ইরানের ওপর ‘জাহান্নাম’ নেমে আসবে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি ইরানকে চুক্তি করার বা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলেন; এখন সেই সময় শেষের দিকে এসেছে—আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। ট্রাম্প লিখেছেন, এই সময়ের মধ্যে ইরান যদি তা না করে, তবে তাদের ওপর ‘জাহান্নাম নেমে আসবে’।

    পটভূমি: বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ সিংহদ্বার দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ওই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকার কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের নৌবাহিনীর ‘‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’’ হাতে আছে এবং এটি ‘‘শত্রুদের জন্য’’ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি ঝুঁকির মুখে পড়ায় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক ডেডলাইন দিয়েছেন। ২১ মার্চ তিনি বলেছিলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ খুলে না দেয় তবে তিনি দেশটির বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা নিশ্ছিদ্রভাবে ধ্বংস করবেন। দুই দিন পর, ২৩ মার্চ, তিনি কণ্ঠ কিছুটা নরম করে জানান যে দুই দেশের মধ্যে ‘‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’’ হয়েছে এবং তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখেন। পরে ২৭ মার্চ ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের অনুরোধে সময় বাড়িয়েছিলেন যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে—এমনকি দাবি করেছেন, তেহরান সময় পাচ্ছে বলে তারা আরও সময় চেয়েছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ৭ দিনের বদলে ১০ দিন সময় দিয়েছেন এবং সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৬ এপ্রিল।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরানের কর্তৃপক্ষ ভদ্রভাবে আরও সময় চেয়ে যোগাযোগ করেছে; ‘‘তারা বলেছে, ‘আমরা কি একটু বেশি সময় পেতে পারি?’ কারণ সময়টা খুবই কম ছিল। যদি তারা প্রয়োজনীয় কাজ না করে, আমি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব।’’’ এদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ভঙ্গ এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

    তবে ট্রাম্পের অতিক্রমী ডেডলাইন ইরানকে ঘাবড়িয়েছে বলে প্রতীয়মান নয়—তেহরান কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে। হরমুজের পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব-এল-মানদেব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা আরব উপদ্বীপের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত এবং বিশ্বব্যাপী কনটেইনার পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওই আকস্মিকভাবে ব্লক হতে পারে এমন ঝুঁকি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বাব-এল-মানদেব প্রণালীর গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘বিশ্বের কত শতাংশ তেল, এলএনজি, গম, চাল ও সার এই প্রণালী দিয়ে যায়?’’—এই প্রশ্নের মধ্যেই প্রকাশ পায় যে আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং হরমুজ প্রণালী-সহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথে কণ্ঠস্বর লড়াই চলায় বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বজায় আছে।

  • প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন

    রামপাল: জাতীয় প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম শনিবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রামপালের ঝনঝনিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন করেছেন। তিনি কেন্দ্রটির বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন, রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনের সময় ফাউন্ডার পরিচালক রেজা সেলিম হাসপাতালের সেবা, পরিচালনাবিধি ও ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি হাসপাতালের সেবা প্রদানের কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বর্ণনা করেন। এসব শুনে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের কার্যক্রম এবং এখানে চলমান চিকিৎসাসেবা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের সহায়তায় এই প্রতিষ্ঠাকে দেশের একটি মডেল হাসপাতালে রূপান্তর করার আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় যে ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমন হাসপাতাল প্রতিটি জেলায় গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারের ওৎসাহ থাকবে।

    পরিদর্শনের শুরুতেই হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে রামপাল সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীর কাছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন এবং বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, মহাসড়ক দূর্ঘটনা রোধে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    হাসপাতাল পরিদর্শনে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন এ এস এম মাহাবুবুল আলম, বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার বাবুল সরদার সহ উপজেলা ও সমাজসেবার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাবু, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, রামপাল সচেতন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক সাবেক জেলা জজ জালাল উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শেখ সুলতান আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক শেখ আ. মান্নান, মেজর (অব.) মল্লিক মনিরুজ্জামান, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা বেগম এবং সদস্য সচিব এম এ সবুর রানা।

    পরিদর্শনের শেষে প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রের ভেতরে বকুলগাছ রোপণ করে এবং প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও সম্প্রসারণে সকল ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকারদের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি সরকার: প্রতিজ্ঞা

    গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকারদের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি সরকার: প্রতিজ্ঞা

    খুলনায় বিগত সরকারের গুম, খুন ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এক আবেগঘন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন।

    অনুষ্ঠান শনিবার (০৪ এপ্রিল) খুলনা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

    এ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলার মোট ৭৩টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৩টি শহীদ পরিবার এবং ৫০টি নির্যাতনভোগী ও অসুস্থ পরিবার। মোট বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৭,৩৬,০০০ টাকা।

    বক্তব্যে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে গুম ও খুনের যে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কণ্ঠনিষ্ট করা। দীর্ঘকালীন দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে যে মুক্তির নিশ্বাস মানুষ আজ নিচ্ছে, তা অনেকের রক্ত আর স্বজনদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের এই সহায়তা কোনো দয়া নয়, এটি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার। যারা সন্তানদের গুম করেছে এবং মায়ের কোল খালি করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বাংলার মাটিতেই প্রতিটি খুনের বিচার নিশ্চিত করা হবে—এটাই সরকারের অঙ্গীকার হবে, জানান তিনি।

    রকিবুল বকুল অভিযোগ করেন যে আগের সরকারের সময়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং জেলা পরিষদকে লুটপাটের জায়গায় পরিণত করা হয়েছিল। এখন যখন জেলা পরিষদ জনগণের কল্যাণে কাজ করছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গৌরব ফিরছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ড্যাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরল অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা

    শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরল অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা

    অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত থেকেই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। শনিবার সন্ধ্যায় ট্রফি হাতে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিজ্ঞতা-ভরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন।

    ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দেশে ফেরেন মিঠু চৌধুরী ও রোনান প্রমুখ খেলোয়াড়রা; আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি নিয়ে বিমানবন্দরে অবতরণ ঘটে সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে। বিমানবন্দরে তাদের বরণ করতে জড়ো হয়েছিল উитал উল্লাস-উৎসবমুখর সফরপ্রেমীরা।

    টিমকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক আমিনুল হক—২০০৩ সালের সাফ জয়ের অন্যতম নায়ক—যিনি নিজ হাতে অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদীও সেখানে ছিলেন।

    ট্রফি বিজয়ী দলের জন্য বিমানবন্দরের ভেন্যুতে কাঁটাছেঁড়া করতালি ও উষ্ণ অভিনন্দন ছিল। এরপর খেলোয়াড়রা উঠে বসলেন বিশেষভাবে সাজানো ছাদখোলা বাসে এবং ছুটলেন হাতিরঝিলের উদ্দেশ্যে—রাতের রাস্তায় তাদের দেখা ও বরণ করতে মানুষ দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেশবাসীর হাতে তোরণ, জাতীয় পতাকা আর মুখে বিজয় স্লোগান নিয়ে রাস্তায় শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন; তারা দলকে অভিনন্দন জানাতে না থামায় ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ দৃশ্যত চোখে পড়ার মতো ছিল।

    বাসের ওপর থেকে ফুটবলাররাও হাত নাড়ে তাদের ভালোবাসার জবাব দিয়েছিলেন। পুরো হাতিরঝিল এলাকা আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে এবং রোনানদের পোস্টারগুলো সেখানে টানে মন কেড়ে নেয়। পুরুষ দলের ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো ছাদখোলা বাসে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা—এর আগে দেশের নারী দল তিনবার এমন অভ্যর্থনা পেয়েছিল।

    বাফুফে সেখানে একটি জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে আরও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও অভিনন্দন জানানো হবে। দেশের তরুণরা যে সাহস, নৈপুণ্য ও একগুলিয়াসূত্র দেখিয়েছে, সেগুলোকে উদযাপন করেই ছিল পুরো অনুষ্ঠানমালা।

  • বোর্ড সভা শেষে আরও একজন পরিচালক পদত্যাগ

    বোর্ড সভা শেষে আরও একজন পরিচালক পদত্যাগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও একজন পরিচালকের পদত্যাগের খবর এসেছে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার পর ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান ফাইয়াজুর রহমান নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    ফাইয়াজুর রহমান শুধু ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, তিনি ঢাকা সিসিডিএমে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছিলেন। পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। অন্য কোনো কারণ নেই।’

    ফাইয়াজুরকে গত বছরের অক্টোবরে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তার পদত্যাগের ফলে বর্তমানে চলমান বোর্ডে মোট চারজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন।

    এর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল, গত মাসের শেষের দিকে আমজাদ হোসেন এবং তার আগেই ইশতিয়াক সাদেক বিসিবির পরিচালক পদ থেকে সরে গেছেন। তাঁরা সবাই পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করেছেন।

    তবে এখনও পর্যন্ত বিসিবি কোনো পরিচালকের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বা নয়—এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। অফিসিয়ালি কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বোর্ডের ঘোষণা অপেক্ষায় ক্রিকেট মহল।

  • ইডেন ছাত্রীকে নির্যাতন অভিযোগে গায়ক জাহিদ অন্তুকে জামিন

    ইডেন ছাত্রীকে নির্যাতন অভিযোগে গায়ক জাহিদ অন্তুকে জামিন

    রাজধানীর গুলশানে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে আদালত আজ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম বৃহস্পতিবার জামিন প্রদান করেন বলে প্রসিকিউশনের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তাঁর বরাত দিয়ে জানা যায়, জামিনের সময়কাল আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অনুমোদিত রাখা হয়েছে। জাহিদ অন্তুকে গুলশান থানায় করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল (বুধবার) গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থিত করা হয়; ওই সময় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সকালেই গুলশান অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

    পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের দিকে, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে চলা একটি গিটার ক্লাসে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে জাহিদের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একটি পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে জাহিদ ওই শিক্ষার্থীকে তার গুলশানের বাসায় যেতে বলে। সেখান পৌঁছানোর পর তিনি ওই শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিপরীতে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি করেন, এবং বাধা দিলে মারধর করে—এর ফলে শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও মাথায় আঘাত হয়। পরে ভুক্তভোগী কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে পরিবারের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ভুক্তভোগী ছেলে-মেয়েদের ও নারী নির্যাতন দমন আইনে ৩০ মার্চ গুলশান থানাে অভিযোগ করেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    জাহিদ অন্তু একজন বাংলাদেশি গায়ক, সুরকার ও গান লেখক; তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাওয়া গান ও ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিত। তিনি কলকাতার পিবি একাডেমিক স্কুল ভেন্যুতে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ বাছাই পর্বে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।