খুলনায় বিগত সরকারের গুম, খুন ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এক আবেগঘন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠান শনিবার (০৪ এপ্রিল) খুলনা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলার মোট ৭৩টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৩টি শহীদ পরিবার এবং ৫০টি নির্যাতনভোগী ও অসুস্থ পরিবার। মোট বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৭,৩৬,০০০ টাকা।
বক্তব্যে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে গুম ও খুনের যে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কণ্ঠনিষ্ট করা। দীর্ঘকালীন দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে যে মুক্তির নিশ্বাস মানুষ আজ নিচ্ছে, তা অনেকের রক্ত আর স্বজনদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের এই সহায়তা কোনো দয়া নয়, এটি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার। যারা সন্তানদের গুম করেছে এবং মায়ের কোল খালি করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বাংলার মাটিতেই প্রতিটি খুনের বিচার নিশ্চিত করা হবে—এটাই সরকারের অঙ্গীকার হবে, জানান তিনি।
রকিবুল বকুল অভিযোগ করেন যে আগের সরকারের সময়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং জেলা পরিষদকে লুটপাটের জায়গায় পরিণত করা হয়েছিল। এখন যখন জেলা পরিষদ জনগণের কল্যাণে কাজ করছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গৌরব ফিরছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ড্যাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
