শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরল অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা

অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত থেকেই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। শনিবার সন্ধ্যায় ট্রফি হাতে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিজ্ঞতা-ভরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দেশে ফেরেন মিঠু চৌধুরী ও রোনান প্রমুখ খেলোয়াড়রা; আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি নিয়ে বিমানবন্দরে অবতরণ ঘটে সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে। বিমানবন্দরে তাদের বরণ করতে জড়ো হয়েছিল উитал উল্লাস-উৎসবমুখর সফরপ্রেমীরা।

টিমকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক আমিনুল হক—২০০৩ সালের সাফ জয়ের অন্যতম নায়ক—যিনি নিজ হাতে অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদীও সেখানে ছিলেন।

ট্রফি বিজয়ী দলের জন্য বিমানবন্দরের ভেন্যুতে কাঁটাছেঁড়া করতালি ও উষ্ণ অভিনন্দন ছিল। এরপর খেলোয়াড়রা উঠে বসলেন বিশেষভাবে সাজানো ছাদখোলা বাসে এবং ছুটলেন হাতিরঝিলের উদ্দেশ্যে—রাতের রাস্তায় তাদের দেখা ও বরণ করতে মানুষ দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেশবাসীর হাতে তোরণ, জাতীয় পতাকা আর মুখে বিজয় স্লোগান নিয়ে রাস্তায় শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন; তারা দলকে অভিনন্দন জানাতে না থামায় ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ দৃশ্যত চোখে পড়ার মতো ছিল।

বাসের ওপর থেকে ফুটবলাররাও হাত নাড়ে তাদের ভালোবাসার জবাব দিয়েছিলেন। পুরো হাতিরঝিল এলাকা আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে এবং রোনানদের পোস্টারগুলো সেখানে টানে মন কেড়ে নেয়। পুরুষ দলের ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো ছাদখোলা বাসে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা—এর আগে দেশের নারী দল তিনবার এমন অভ্যর্থনা পেয়েছিল।

বাফুফে সেখানে একটি জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে আরও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও অভিনন্দন জানানো হবে। দেশের তরুণরা যে সাহস, নৈপুণ্য ও একগুলিয়াসূত্র দেখিয়েছে, সেগুলোকে উদযাপন করেই ছিল পুরো অনুষ্ঠানমালা।