Blog

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ নিহত, ১,৫৪৮ আহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ নিহত, ১,৫৪৮ আহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

    বাংলাদেশে মার্চ মাসে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী আজ শনিবার (০৪ মার্চ) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ওই সময়ের মধ্যে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অংশ ৩৬.০৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৬১ শতাংশ এবং আহতের ১২.৭২ শতাংশ।

    আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—এখানে মার্চে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত এবং ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে।

    সংগঠন ৯৭৫টি দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। শনাক্তকৃত যানবাহনের মধ্যে ২৬.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬৪ শতাংশ ট্রাক/পিকআপ/কাভার্ডভ্যান/লরি, ১৩.৮৪ শতাংশ বাস, ১৪.৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.২৮ শতাংশ সিএনজি অটোরিকশা, ৮.৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন/মাহিন্দ্রা/ট্রাক্টর/লেগুনা এবং ৭.৪৮ শতাংশ কার/জিপ/মাইক্রোবাস ছিল।

    দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে—মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে খাদে পড়া, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

    স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি—মোটের ৪০.৯০ শতাংশ। আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩০.০৩ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২২.০৭ শতাংশ দুর্ঘটনা হয়েছে। পাশাপাশি মোট দুর্ঘটনার ৫.৫১ শতাংশ ঢাকায়, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

    প্রতিবেদনে-মতে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অপ্রতিবন্ধক চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব; রেলক্রসিংয়ে আচমকা যান ওঠা; সড়কে মিডিয়ানে বিভাগকারী ডিভাইডার না থাকা ও অন্ধ বাঁকে গাছপালা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধ সৃষ্টি করা; মহাসড়কের নির্মাণজনিত ত্রুটি; যানবাহনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য; উল্টো পথে চলাচল ও চাঁদাবাজি; পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন; বেপরোয়া গতি ও দীর্ঘসময় চালানো; এবং ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়া।

    দুর্ঘটনা কমানোর জন্য যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু করার সুপারিশ করেছে। তাদের উল্লেখিত প্রধান সুপারিশগুলো হল—মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন শিথিল না করা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাত্রিকালীন আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া এবং যানবাহনের ডিজিটাল মাধ্যমে ফিটনেস যাচাই কার্যক্রম শুরু করা।

    আরও সুপারিশে বলা হয়েছে—বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলে অন্তত ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স না দেয়া, পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু করা, সড়কে চাঁদাবাজি রোধ করা ও চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা। এছাড়া মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারীর পারাপার ব্যবস্থা তৈরি, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক তৈরি, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট চালুর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সংগঠনটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে।

    সংগঠনটি আরও বলেছে, বিশেষত ঈদযাত্রার সময় ব্যাপক ভ্রমণ সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া দরকার এবং ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোও জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের একটি অংশ।

  • পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতি মন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতি মন্ত্রী

    সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোথাও বলেননি যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    তবে মন্ত্রী জানান, এবারের আয়োজনকে নতুন আঙ্গিকে ‘‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’’ নামে ডাকা হবে। তিনি বলেন, ইউনেস্কো যদি ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ নামে স্বীকৃতি দিলেও তাতে আমাদের একই নাম ব্যবহার করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের স্থানীয় ঐতিহ্য ও সর্বজনীনতা রক্ষা করেই নতুন নামকরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মাগুরা জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের মুহম্মদপুর ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আগের তার বক্তব্যকে গণমাধ্যম সঠিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেনি বলে অভিযোগ করেন এবং পুনরায় স্পষ্ট করেন যে তিনি ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ নামে ফিরিয়ে আনবার কথা বলেননি।

    মন্ত্রী বলেন, উৎসবের মূল চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখেই নাম পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা এখন থেকে ‘‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’’ নামেই উদযাপিত হবে।

    আলোচনার এক পর্যায়ে মন্ত্রী দেশ পরিচালনায় নেতৃত্বের ঘাটতির পক্ষেও আক্ষেপ জানিয়ে বলেন, অতীতের ভুল নেতৃত্বের কারণে দেশের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি; বিভিন্ন সময়ে বাইরে থেকে শক্তি বা স্বার্থান্বেষীরা বাংলার সম্পদ আহরণ করেছে, যার ফলে আজ দেশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

  • নাহিদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন

    নাহিদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে এসে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারগুলো রক্ষা করতে হলে শুধু কথায় নয়, মাঠে নামে লড়াই করতে হবে—এতে ড. ইউনূসকেও যুক্ত হতে হবে।

    পবিত্র ওমরাহ শেষ করে শনিবার বেলা পৌনে দুইটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের কাছে ব্যর্থ হয়েছে। যে সংস্কারগুলো করা হয়েছিল, সেগুলো ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। তাই আমি ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।’’

    নাহিদ বলেন, সংস্কার কেন্দ্রীক রাজনীতির যে ধারা চলছে, তা অপ্রত্যাশিত নয়। তার বক্তব্যে, ‘‘এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পরে শুরু হয়ে ঐকমত্য কমিশন থেকে সৃষ্টি—এর পর থেকেই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নতুন সংবিধান চাইছিলাম, আর বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।’’

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল, যেখানে বিএনপির ইচ্ছা ছিল পুরনো কাঠামো রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা। কিন্তু নির্বাচনের পরে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ লাভের পর অন্য সবকিছুকে উপেক্ষা করছে। নাহিদের অভিযোগ, ‘‘তারা গণভোটের গণরায়কে বাতিল করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১০–১১টি অধ্যাদেশ সংসদে আনার বদলে বাতিলের পথে যাচ্ছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে গুম প্রক্রিয়ার প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ—এগুলো বাতিল করলে স্বাধীন সিদ্ধান্তপরায়ণ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে নির্বাহী শাসনের একনায়কতান্ত্রিক শক্তিকেই ক্ষমতা দেবে।’’

    নাহিদ বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী বলেও আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ‘‘গত ১৬ বছরে তারা নানা অনাড়ম্বর আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা তাদের নেতৃত্বে ছিল না—তার ফলে জনসমর্থন পাননি।’’

    সংসদে সমাধান না পাওয়ায় রাজপথে নামার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমরা প্রথমে সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম; যেহেতু সেখানে উপযুক্ত ফল মিলছে না, তাই জনভিত্তিক অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হোক এবং যে অধ্যাদেশগুলো রয়েছে সেগুলোকে দ্রুত আইনে পরিণত করা হোক।’’ তিনি আরও সতর্ক করলেন যে সামনের সময়ে সাম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দায় সরকারকে পরিচালনা করার জন্য জনগণের আস্থা অপরিহার্য।

    নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদেরও কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘যারা সেই সময় দায়িত্বে ছিলেন — ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ অন্যান্য উপদেষ্টা—তারা এই অধ্যাদেশগুলোর জন্য দায়িত্বশীল। এখন এগুলো বাতিল করা হচ্ছে; তাদের এগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে, মুখ খুলতে হবে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপিকে ক্ষমতা দিয়ে তারা চলে গেছেন—এবার যদি অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যায় এবং সংস্কার ধ্বংস হয়, তাহলে তারা নীরবuthe করে ফিরে গেলে চলবে না; জনগণের সামনে তাদের জবাব দিয়েই দাঁড়াতে হবে।’’

    প্রসঙ্গত, নাহিদ গত ২৯ মার্চ রাতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় থেকে রওনা হন এবং ৩০ মার্চ সৌদির জেদ্দায় পৌঁছেন। শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে তাঁকে দলের শান্তকর্মী এবং নেতারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতারা।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে এবং দল ও সরকারের মধ্যে সীমরেখা সুস্পষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে জোনায়েদ সাকি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সাক্ষাতে জোনায়েদ সাকি বলেন, “রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।” তার ভাষায়, সরকারের কার্যক্রম ও দলীয় দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই সহজভাবে দায়িত্ব আলাদা করাই মেনে নেওয়া হয়েছে।

    জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে বিতর্ক চলমান। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পায়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    বর্তমানে জোনায়েদ সাকি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে পুনর্গঠন করে কেবল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেখেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় এবং দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনে সম্ভাব্য দ্বৈততা এড়াতে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।

    দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।

  • ব্যাংকের লেনদেন এক ঘণ্টা কমল

    ব্যাংকের লেনদেন এক ঘণ্টা কমল

    বাংলাদেশ ব্যাংক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে ব্যাংকিং কার্যক্রমের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকে লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং ব্যাংকের অফিস খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা শনিবার, ৪ এপ্রিল জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়সূচি ৫ এপ্রিল থেকে পরে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলো তাদের দিনচক্র সাজাবে।

    আগের নিয়মে ব্যাংকের লেনদেন চলত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আর অফিস সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তাই লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমেছে, আর অফিস সময়ও সংক্ষিপ্ত হয়েছে।

    প্রয়োজনে সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখেই সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরসহ পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলি সাপ্তাহিক সাত দিন এবং ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে।

    এই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সাত ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে—সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত—এবং সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার sowie বিয়ে বাড়িতে আলোকসজ্জা সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকের নতুন সময়সূচি গ্রাহক ও কর্মীরা মাথায় রেখে লেনদেন ও কাজের সময় সামঞ্জস্য করে নেবেন। ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত নির্দেশনাসমূহ পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

  • খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ

    খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ

    বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করেছে। এ প্রেক্ষিতে তফসিলি ব্যাংকগুলিকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে একটি সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং এর পরের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে যে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সুপারভিশন কাঠামোয় ইতোমধ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একভাবে দেখা হবে না; যেসব ব্যাংকে ঝুঁকি বেশি সেগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগে ভেবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা—বিশেষ করে ঋণঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা—আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এ নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তাহলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। এছাড়া সময়মতো অন্তর্বতী প্রতিবেদন দিলে ত্রুটির দ্রুত সংশোধন ও ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগকে তদারকিতে আরও কড়াকড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারির একটি অংশ হিসেবে দেখছে, যাতে সমগ্র আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

  • দাবি: ইরানের কাছে পৌঁছেছে উত্তর কোরিয়ার হোয়াসং-১৮ আইসিবিএম

    দাবি: ইরানের কাছে পৌঁছেছে উত্তর কোরিয়ার হোয়াসং-১৮ আইসিবিএম

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের সামরিক ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো একটি দাবি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উঠে এসেছে — উত্তর কোরিয়ার তৈরি হোয়াসং-১৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে বলা হচ্ছে। সূত্রগুলো এই খবরটি গোপনে ও ধীরে ধীরে এসে পৌঁছানোর কথাও বলছে, যা অনেকে নজিরবিহীন মনে করছেন।

    রিপোর্টে বলা হচ্ছে, গত ১৪ মাস ধরে উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে এই ধরনের মিসাইল হস্তান্তর চালানো হয়েছিল এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো—যেমন সিআইএ বা মোসাদ—এই কার্যক্রম সনাক্ত করতে পারেনি। কিভাবে এই চালানগুলি পৌঁছেছে সে বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য রুট হিসেবে চীনের ভূখণ্ড ও মধ্য এশিয়ার দুর্লভ পথ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত।

    সংবাদগুলোর একাংশে মিসাইলের পরিমাণ নিয়ে বিস্তর সংখ্যা ঘোরাফেরা করছে; তাদের মধ্যে কিছু সূত্র ৫০০টির মতো হস্তান্তরের কথা বললেও বিশ্বের বিদ্যমান আইসিবিএমের মোটসংখ্যা সম্পর্কিত হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। এসব সংখ্যা ও বিবরণ সম্পর্কে প্রতিটি সূত্রের নীতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা আলাদা — ফলে পরিসংখ্যানগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।

    হোয়াসং-১৮ সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হচ্ছে, এগুলো সলিড ফুয়েল চালিত এবং দীর্ঘ-পাল্লার লক্ষ্যভেদে সক্ষম। কয়েকটি হাইপোথেটিকাল বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে এই ধরনের মিসাইলগুলো ইউরোপের রাজধানীগুলো ও মার্কিন মাটিও আঘাত করার পর্যাপ্ত পরিসরে পৌঁছতে সক্ষম। আরও বলা হচ্ছে, এগুলি নির্দিষ্ট ধরণের নেভিগেশনের ওপর নির্ভর করে — যেমন আকাশের নাক্ষত্রের অবস্থান ব্যবহার করে — যার ফলে সাধারণ রাডার বা জিপিএসকে কাজে লাগিয়ে শনাক্ত বা জ্যাম করা কঠিন হতে পারে। খবরগুলোতে এই মিসাইলগুলোর পরীক্ষিত নির্ভুলতা আনুমানিক ১০০-১৫০ মিটার ধরা হয়েছে। আবার এসব প্রযুক্তিগত বিবরণও স্বাধীন উৎসে যাচাই করা প্রয়োজন।

    সোমবারের একবারের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কউন্সিলের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত বৈঠকে বসে; একই সঙ্গে ইরানের এক কথিত বেসরকারি মুখপাত্র প্রফেসর মারণ্দি দাবি করেছেন যে মিসাইলগুলো ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং এতে ইরানকে পাল্টা প্রত্যাঘাত সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে।

    পাঠককে জানানো প্রয়োজন যে, উপরোক্ত সব বিবরণ অধিকাংশই সংবাদ সূত্রে ‘দাবি’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; স্বাধীন ও তত্ত্বাবধায়ক যাচাই ছাড়া এগুলোকে চূড়ান্তভাবে সত্য বলে ধরা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গোয়েন্দা উৎসগুলো অতিরিক্ত ক্ল্যারিফিকেশন দিচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আরও উপাত্ত পাওয়া গেলে এই পরিস্থিতির প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট হবে।

  • ইরান ভূপাতিত করল যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন

    ইরান ভূপাতিত করল যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন

    ইরান শুক্রবার-শনিবার সীমান্তে সংঘর্ষের মধ্যেই এবার ইস্ফাহানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সূত্র। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ড্রোনটি ধ্বংস করার কথা ফার্স সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

    খবর অনুযায়ী, এর আগের দিনই দক্ষিণপূর্ব ইরানে ইরানি বাহিনী একটি যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে — এই তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। একই সময় হরমুজপ্রণালী এলাকায় আরেকটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু বিমানও ইরানের আক্রমণে পড়েছিল।

    এফ-১৫ই বিমানটির একজন ক্রুকে রাতের অভিযান চালিয়ে মার্কিন সেনারা উদ্ধার করে বলে প্রকাশ্যে এসেছে। অন্যদিকে এ-১০ বিমানের পাইলট নিজের বিমানকে ইরানের আকাশসীমা থেকে বের করতে সক্ষম হন; ওই বিমান পরে হরমুজ প্রণালীর কাছে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এ-১০ পাইলট পরে এক উপসাগরীয় আরব দেশে পৌঁছে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    তবে এফ-১৫ বিমানটির আরেকজন পাইলট এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে ইরানে প্রবেশ করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে দেশটিতে ঢোকে।

    রক্ষার প্রয়াস চলাকালীন ইরানি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মার্কিন ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এক হেলিকপ্টারের লেজে আগুন ধরে ধোঁয়া ওঠে, তবে তা পরে ইরানি আকাশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারদল এবং ইরানি বাহিনী একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে; এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ মিলেনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য আসছে, তাই ঘটনার বিস্তারিত ও পুনরায় নিশ্চিতকরণ এখনও চলছে।

  • প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডাঃ শেখ ফরিদুল ইসলাম আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন

    প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডাঃ শেখ ফরিদুল ইসলাম আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন

    রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়ায় واقع ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন করেছেন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডাঃ শেখ ফরিদুল ইসলাম। শনিবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে তিনি প্রদত্ত সেবার মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে ফাউন্ডার পরিচালক রেজা সেলিম প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, সেবা প্রদান পদ্ধতি এবং ক্যান্সারসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের কৌশল বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।

    গ্রামাঞ্চলে এমন উচ্চমানের ক্যান্সার চিকিৎসা ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সেবা দেখে প্রতিমন্ত্রী অভিভূত হন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের সহযোগিতায় এই হাসপাতালকে দেশের মডেল হাসপাতালে রূপান্তরের আশ্বাস দেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রত্যেক বিভাগে এমন ধরনের আধুনিক ও গুণগত মানসম্পন্ন হাসপাতাল স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য গুণগত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হয়।

    পরিদর্শনের শুরুতেই হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিমন্ত্রীর আগমনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় রামপাল সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীর কাছে খুলনা–মোংলা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান ও এসংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী সেই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন এ.এস.এম. মাহাবুবুল আলম, বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার বাবুল সরদারসহ রামপাল সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ—উল্লেখ্য সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আলতাপ হোসেন বাবু, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, আহ্বায়ক সাবেক জেলা জজ জালাল উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শেখ সুলতান আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক শেখ আ. মান্নান, মেজর (অব.) মল্লিক মনিরুজ্জামান, অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, আফরোজা বেগম ও সদস্য সচিব এম. এ. সবুর রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে বকুল গাছ রোপণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সেবা বৃদ্ধির জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

  • বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: গুম-খুন ও নির্যাতিতদের কল্যাণে কাজ করবে

    বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: গুম-খুন ও নির্যাতিতদের কল্যাণে কাজ করবে

    তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘‘নতুন বাংলাদেশ’’ গড়ার শপথ তুলে ধরে খুলনায় প্রয়োজনে গুম, খুন ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার পরিবার এবং অসুস্থ ও দুঃস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

    শনিবার, ৪ এপ্রিল, খুলনা জেলা পরিষদের আয়োজনে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব চেক ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।

    চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মমিনুর রহমান অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন। মোট ৭৩টি পরিবারের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেয়া হয়, যার মধ্যে ২৩টি শহীদ পরিবারের এবং ৫০টি নির্যাতনভোগী বা অসুস্থ পরিবারের সদস্য রয়েছে। বিতরণকৃত মোট অনুদান ছিল ৭ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা।

    রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশে যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল মানুষের কণ্ঠরোধ করা। দীর্ঘ দুর্বিষহ শাসনের বিলাপ-বেদনার বিনিময়ে আজ মানুষ মুক্তির শ্বাস নিচ্ছে, যা অসংখ্য প্রতিবাদী ভাই-বোনের রক্ত আর স্বজনদের কষ্টের ফলে সম্ভব হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের এই সহায়তা কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায্য অধিকার। যারা সন্তানকে গুম করেছে বা মাতৃ কোল খালি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রত্যেকটি খুন-মামলার বিচার বাংলা মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

    বক্তব্যে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সময়কালকে টেনে এনে বলেন, তৎকালীন শাসন ব্যবস্থা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে ও জেলা পরিষদকে লুটপাটের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করেছিল। আজ যখন জেলা পরিষদ জনগণের কল্যাণে সক্রিয় হচ্ছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তারা সাহায্যকারী কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনরায় করেন।

    প্রেমীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ড্যাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।