Blog

  • টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষে মুস্তাফিজ — মোট ৪১৬ উইকেটে বিশ্বসেরা

    টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষে মুস্তাফিজ — মোট ৪১৬ উইকেটে বিশ্বসেরা

    পাকিস্তান সুপার লিগের লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে শুক্রবার রাতে দুটি উইকেটে সফল হওয়ার মধ্য দিয়েই মুস্তাফিজুর রহমান বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন। এখন তাঁর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৬।

    আগে এই রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমিরের দখলে; তিনি ৩৫৬ ম্যাচে ৪১৪ উইকেট নিয়েছিলেন। মুস্তাফিজ মাত্র ৩২৫ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন — অর্থাৎ ৩১ ম্যাচ কম খেলেই তিনি আমিরকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছেন।

    তৃতীয় স্থানে আছেন আরেক পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ, যার উইকেট সংখ্যা ৪১৩। পিএসএল শুরুর আগে মুস্তাফিজ তৃতীয় অবস্থানেই ছিলেন, কিন্তু টুর্নামের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়াহাবকে এবং তৃতীয় ম্যাচে আমিরকে পেছনে ফেলে উঠে গেলেন শীর্ষে।

    এই আসরে এখন পর্যন্ত মুস্তাফিজ ৩ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন। তবে লড়াই এখানেই শেষ নয়—আমিরও এখনও পিএসএলে খেলছেন এবং এই মরসুমে ইতোমধ্যেই ২ উইকেট নিয়েছেন, তাই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে মুস্তাফিজকে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

    মুস্তাফিজের মোট ৪১৬ উইকেটে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে আসে ১৫৮টি উইকেট, যা বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাকিটা তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও টুর্নামেন্টে খেলেই সংগ্রহ করেছেন।

    দ্রুতগতির এই তারকার অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় মাইলফলক — পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি পিচে তাঁর ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতা কতটা কার্যকর সেটিও প্রমাণ হলো।

  • চীনের কাছে ২-০ হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয় বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-২০

    চীনের কাছে ২-০ হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয় বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-২০

    শুরুটা ছিল প্রতিরোধে তীব্র, শেষটা দেশের নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের কাছে হতাশাজনক। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইপর্বে চীনের কাছে শনিবার ২-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজিত হলো পিটার বাটলার পরিচালিত বাংলাদেশ নারী দল। কিছু দিন আগে এশিয়ান কাপের মূল পর্বেও চীনের কাছে দুই গোলের ব্যবধানে পরাজয় হয়েছিল তাদের।

    প্রথমার্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ছিল প্রশংসনীয়। চীন আক্রমণে চাপ রাখলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ২৫ মিনিটে চীনের এক ফ্রি কিকে মিলির হাতে লেগে বল ক্রসবারে ঠেকেছে। ৪৩ মিনিটে লি জুয়ায়ু বক্সে ঢুকে কিপারের সামনে শট নিলেও মিলি দারুণ রিফ্লেক্সে সেই শট রুখে দেন। আর একটি ক্রস থেকে আধটু উপরে হেডও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল, তবে শেষমুহূর্তে গোলফ্রন্টে বাংলাদেশের প্রতিরোধ কার্যকর ছিল।

    বিরতির পর মাত্র দুই মিনিটেই চীনের আক্রমণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে জেং ইউজিয়ার কাটব্যাক থেকে ইউ জিনজু সাত থেকে আট গজের মধ্যে থেকে প্লেসিং শটে গোল করে পরিস্থিতি বদলে দেন। ৭১ মিনিটে চীনের অধিনায়কের হেডও মিলির হাতে উঠে আসে, তবে ৮২ মিনিটে ওয়াং এইফাং বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে জাল ধরিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

    শেষ রক্ষা না হওয়া সত্ত্বেও মিলির কয়েকটি সেভ না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করলেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ রইল। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ হবে ৭ এপ্রিল, যেখানে তারা ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে ভালো ফল না হলে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার রাস্তা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

  • ইডেন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গায়ক জাহিদ অন্তু জামিন পেলেন

    ইডেন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গায়ক জাহিদ অন্তু জামিন পেলেন

    রাজধানীর গুলশানে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে আদালত জামিন দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, জামিন কার্যকর থাকবে আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

    জাহিদ অন্তুকে গুলশান অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে; গত বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তখন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারের এক দিনের মাথায় তাকে জামিন দেওয়া হলো।

    আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার ক্লাসের সময় অভিযুক্ত জাহিদের সঙ্গে ইডেন কলেজের ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয় এবং তারা কিছু সময় প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। পরে তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় জাহিদ ওই শিক্ষার্থীকে একটি পণ্যের ফটোশুট দেখানোর কথা বলে গুলশানের নিজের বাসায় ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানো পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীর অনিচ্ছারবিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়, ফলে তার মুখ, গলা ও মাথায় আঘাত লাগে। আহত শিক্ষার্থী কৌশলে বাসা থেকে বেরিয়ে স্বজনদের সহযোগিতায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ৩০ মার্চ গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান আছে।

    জাহিদ অন্তু বাংলাদেশি তরুণ গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। তিনি কলকাতার পিবি একাডেমিক স্কুল ভেন্যুতে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাওয়া গান ও ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেছেন। আদালত জামিন দিলেও মামলার তদন্ত ও বিচারাধীন প্রসেসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দিবে।

  • রাশমিকার ‘২ থেকে ৩’ পোস্টে ভক্তদের উচ্ছ্বাস

    রাশমিকার ‘২ থেকে ৩’ পোস্টে ভক্তদের উচ্ছ্বাস

    রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ে হয়েছে প্রায় এক মাস হলো। সম্প্রতি জুটিটির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি রহস্যময় অ্যানিমেটেড ভিডিও শেয়ার করে নেটদুনিয়ায় তোলপাড় শুরু করেছেন রাশমিকা। ভিডিওটি দেখে অনেকেই মনে করছেন, তাঁদের ঘরে নতুন অতিথি আসতে চলেছে।

    ভিডিওতে মাঝখানে এক পুরুষ ও এক নারী দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁদের পাশে সূর্যমুখীর মতো একটি কার্টুন চরিত্র দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘Now it’s us three’—যার বাংলা অনুবাদে বোঝানো যেতে পারে ‘এখন আমরা তিন’ বা ‘আমরা দুই থেকে তিন হয়ে গেলাম’। পোস্টে একটি ভালোবাসার ইমোজিও ছিল।

    রাশমিকার এই টুকরো ঘোষণায় অনুরাগী মহলে আনন্দ আর উৎসুকতা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি মন্তব্যে ভক্তরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ধারনা করছেন, বিজয়-রাশমিকা সম্ভবত বাবা-মা হতে যাচ্ছেন। তবে দম্পতির তরফে এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় ও রাশমিকা। বিয়ের প্রায় এক মাস পর তাঁরা অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে পূজা-আচারেও অংশ নেন—এমন সময়ে এই রহস্যময় পোস্ট আরও কৌতূহল বাড়িয়েছে।

    সবার পক্ষেই প্রশংসা থাকলেও মন্তব্যঘরে কয়েকটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও এসেছে; কেউ কেউ বলিউডের প্রসঙ্গে পুরনো বিতর্কের উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার অনেকে লক্ষ্য করেছেন, পোস্টে ‘Terribly Tiny’ নামের একটি ক্রিয়েটিভ অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করা হয়েছে—যার ফলে অনেকে মনে করছেন এটি ব্যক্তিগত খুশির খবর নাও হতে পারে, বরং কোনো কাজ বা প্রচারাভিযানের অংশও হতে পারে।

    সংক্ষেপে, রাশমিকার পোস্টটি সমর্থক-সমালোচক—সবাইকে কৌতূহলে রেখেছে; বাস্তবে কি ঘটছে তা জানতে হবে দম্পতির নিজের কোনো স্পষ্ট ঘোষণা। আপাতত ভক্তরা অপেক্ষায়।

  • ৬–৫৯ মাসের সকল শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ৬–৫৯ মাসের সকল শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ছাড়া ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের সকল শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। তিনি শনিবার (৫ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন।

    মন্ত্রী বলেন, টিকাদান কার্যক্রমে ইতিমধ্যেই টিকা নেওয়া শিশুদেরও পুনরায় টিকা দেওয়া হবে এবং যারা বর্তমানে হাম বা জ্বরসহ অসুস্থ রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তাদের তাত্ক্ষণিকভাবে টিকা দেয়া হবে না; তাদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ দেওয়া হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে থাকা শিশুদের আবারও মিজেলস/হামের টিকা দিলে কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা হবে না।

    মন্ত্রী আরও জানান, রোববার থেকে দেশব্যাপী যেখানে হামের প্রকোপ বেশি সেগুলোকে প্রথম ধাপে চিহ্নিত করে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। তবে এটি কেবল শুরু; লক্ষ হতে হচ্ছে দেশজুড়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সের প্রতিটি শিশুকে টিকা নিশ্চিত করা। তারা বলছেন, এসব এলাকায় যে শিশুরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসছে, অধিকাংশই ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্যাম্পেইনের পর জন্ম নেয় অথবা তখন টিকাপ্রাপ্ত হয়নি, তাই তাদের বুস্টার/নতুন করে টিকা দেওয়া জরুরি।

    রোববার থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার ৩০টি উপজেলা হলো: রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাটোর সদর এবং যশোর সদর।

    মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদানের মাধ্যমে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য।

  • বিকল্প ছিল না — অন্য কোনো দল হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতেই হতো: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি

    বিকল্প ছিল না — অন্য কোনো দল হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতেই হতো: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি

    জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি অন্য কোনো দলই সরকারে থাকতো, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। তিনি এই মন্তব্য করেছেন শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে অংশগ্রহণকালে।

    চিফ হুইপ বলেন, “সমগ্র পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দাম বাড়ানো হয়নি। অন্য কোনো দল সরকারে এলে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।” তিনি জানান, দেশে তেলের মজুত রয়েছে—এ সময় তিনি দুই লাখ মেট্রিকটন তেলের মজুদ এবং আরও দুই লাখ মেট্রিকটন তেল আসছে বলে উল্লেখ করেন। তারপরও তিনি বলেন, প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ জ্বালানি সরবরাহ করলেও তা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে যথেষ্ট হচ্ছে না।

    মণি আরও মন্তব্য করেন যে সংবাদপত্র খেলে নেতিবাচক খবর বেশি দেখা যায় এবং ইতিবাচক সংবাদ কম প্রকাশ হচ্ছে। তাঁর ভাষ্যে, ‘‘পত্রিকা খুললে ১০টির মধ্যে ৯টিই নেতিবাচক—ইতিবাচক খবর নেই।’’

    ধূমপান নিয়ন্ত্রণ ও তামাকবিরোধী নীতির ওপরও চিফ হুইপ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘‘একজন ধূমপায়ী হলে তার পাশের নয়—প্রকৃতপক্ষে ১০ জন মানুষ প্রভাবিত হন। মানুষের স্বাস্থ্য মানেই আমাদের মানবসম্পদ; মানবসম্পদ ছাড়া কোনো বাস্তব সম্পদই নেই। তাই মানুষকে বাঁচাতে সিগারেটের ব্যবহার কমাতে হবে।’’

    তিনি ই-সিগারেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নেগেটিভ প্রচারণার কারণে ই-সিগারেটের পরোক্ষ বিস্তার ঘটছে। এই সমস্যার সমাধান চিকিৎসা বা সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়, বরং দায়িত্বশীলদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করার মাধ্যমে করা উচিত।

    বলা হয়, বিএনপি শাসনামলে তামাকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রচার ও বিপণন বন্ধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে—এও দাবি করেন চিফ হুইপ। তিনি নীতি সংলাপে অংশগ্রহণকারী শ্রোতাদের উদ্দেশে সরকারি ও চাকরিজীবী স্তরের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান যাতে নারী স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী পদ ছাড়ছেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী পদ ছাড়ছেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ও ‘প্রধান সমন্বয়কারী’ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি দলীয় পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া শুক্রবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    সংগঠন থেকে দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হাতিরপুলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান সমন্বয়কারীর দলীয় দায়িত্ব সংক্রান্ত বিষয়สมาชิก ও গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দিন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার এবং হাসান মারুফ রুমীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে সংগঠনটির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন। ওই সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

  • সরকারি দায়িত্বের সূত্রেই গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    সরকারি দায়িত্বের সূত্রেই গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে নিজেই সরে দাঁড়ালেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। দায়িত্বভার সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পৃথক রাখার নীতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি সভায় বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।’

    একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রয়োগকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত প্রাধান্য পাবে।

    পটভূমি হিসেবে বলা যেতে পারে, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পান গণসংহতি আন্দোলন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্চারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে পুনর্গঠন করে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলীয় একটি সূত্রের কথায়, সরকারের উচ্চ পদে থেকে দলের প্রধান থাকা সম্ভাব্য সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কারণেই তিনি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে তদারকি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে একটি সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুসারে নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে। এই অন্তর্বতী প্রতিবেদন হিসাব-বর্ষের নবম মাস পর্যন্ত ব্যাংকের অবস্থার চিত্র তুলে ধরবে এবং তদারকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানানসই তদারকি নিশ্চিত করতে সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে, যাতে সব ব্যাংককে একভাবে না দেখে ঝুঁকি বেশি যেখানে ওই ব্যাংকগুলোতে আলাদা করে নজরদারি চালানো যায়।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোতে তৎক্ষণাৎ মনোযোগ দিলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা—বিশেষত ঋণঝুঁকি ও বদরকাশ (নন-পারফরমিং অ্যাসেট)-এর গতিবিধি—আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলবে এবং সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার: অব্যাহত নিম্নগতি

    মার্চে রপ্তানি আয় ১৮.০৭% কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার: অব্যাহত নিম্নগতি

    রপ্তানি আয়ে পতন মার্চেও অব্যাহত থেকেছে—রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, গত মাসে দেশের রপ্তানি আয় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমেছে; গত বছরের একই সময় এটি ছিল ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার।

    চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত তাদের বরাত মতে মোট রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয় নিম্নমুখী রয়েছে।

    দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই খাতে আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার।

    ইপিবি বলেছে, রপ্তানির সামগ্রিক পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কিছু বাহ্যিক কারণে চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংলগ্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং তার সঙ্গে জড়িত বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো প্রধান গন্তব্যের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করেছে।

    এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। তবে ইপিবি জানায় হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য খাত কয়েকটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক বৃদ্ধির লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা সামগ্রিক ঘাটতি কিছুটা প্রশমিত করেছে।

    ইপিবি’র এই তথ্য দেশের রপ্তানিখাতকে ঘিরে সচেতনতা বাড়িয়েছে যে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আর্থিক ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, এবং তালিকাভুক্ত প্রধান খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য দ্রুত কার্যকর নীতিগত সমন্বয় প্রয়োজন।