Blog

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংকের থেকে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংকের থেকে

    চলতি ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ের (রেমিটেন্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি ঘটছে। এই শ্রমের ফলস্বরূপ ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ (সোমবার) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৪ কোটি ডলার কিনেছে।

    এটি মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ডলার বিক্রির মূল্যের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। সামগ্রিকভাবে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনেছে মোট ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার। সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিটেন্স) এসেছে মোট ১২৯ কোটি ডলার। comparesপূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয়ে ১৮ শতাংশের বৃদ্ধি হয়েছে।

    অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, এই সময়ে দেশে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের সমান সময়ে ছিল ১ হাজার ২২৩ কোটি ডলার। এই হিসেবে, এই ছয় মাসে দেশের প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি বিরোধী অভিযান ও সরকারের উদ্যোগ, প্রণোদনা প্রদান এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির কারণে রেমিটেন্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা স্বস্তিদায়ক।

    এছাড়াও, সদ্য সমাপ্ত নভেম্বরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।

  • বিএনপির দুটি কর্মসূচি স্থগিত, রাতেই স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা

    বিএনপির দুটি কর্মসূচি স্থগিত, রাতেই স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আজ শুক্রবারের পূর্বনির্ধারিত দুটি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের চলমান সা‌র্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, ‘আগে ঘোষণা করা দুটি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং রাতে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

    শক্তিশালী হুমকি আর অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ বিকেল ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সেচ ভবনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া, বিকেল ৪টায় কারওয়ান বাজারে রাষ্ট্রের পানীয় জল সংস্থার ভবনের সামনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীরও একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। তবে দুটিই কর্মসূচি স্থগিত হয়েছে।

    শায়রুল কবির আরও জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সভাপতিত্ব করবেন তিনি। বৈঠকের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের জন্য এই জরুরি সভার সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • জনতাকে উসকানিতে দেওয়ার জন্য আহ্বান না দেওয়ার apel আমিরের

    জনতাকে উসকানিতে দেওয়ার জন্য আহ্বান না দেওয়ার apel আমিরের

    আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা শরীফ ওসমান হাদী। তাঁর এ আকস্মিক মৃত্যুতে সম্পূর্ণ দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি ক্ষোভ ও প্রতিবাদ আন্দোলন জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এক গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মহান আল্লাহর কাছে শহীদ ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অস্পূর্ণতার জন্য গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের ঘটনায় ছাত্র-জনতার মধ্যে যে আবেগ এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা স্বাধীন ও ন্যায্য। তবে, এই ক্ষোভের অপব্যবহার করে কেউ যদি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দেয়, তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কেউ কেউ এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে আন্দোলনকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে চায়, যা স্বাভাবিক বিষয় নয়।

    গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ও মানুষের কণ্ঠস্বর। এজন্য গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের বিরোধিতা।” তিনি জনসাধারণকে পরিষ্কারভাবে অনুরোধ করেন, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক protest-ই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, অন্যথায় আন্দোলনের লক্ষ্য আর অর্জন কষ্টকর হবে।

    শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, “এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” তাদের দ্রুত বিচারে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    আলোচনার শেষ দিকে, আমির বলেন, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই একমাত্র উন্নতির চাবিকাঠি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করেই শহীদদের আত্মত্যাগের মান রাখার সম্ভব।

    অবশেষে, তিনি সকল দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকদের অনুরোধ করেন, কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য্য ও সচেতনতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। এই শাস্তি ও কঠিন সময় মোকাবেলার একমাত্র পথ হলো একতায় থাকা ও দায়িত্বশীলতা।

  • তারেক রহমান ট্রাভেল পাস পেয়েছেন, ঢাকায় ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বরে

    তারেক রহমান ট্রাভেল পাস পেয়েছেন, ঢাকায় ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বরে

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন। সম্প্রতি তিনি ট্রাভেল পাসের জন্য দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন, যা আজ তিনি পেয়ে গেলেন। এই খবর তিনি নিজেই তার মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানের মাধ্যমে জানালেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যটাসে জাইমা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বাবা আজ কিছুক্ষণ আগে ট্রাভেল ডকুমেন্ট হাতে পেয়েছেন।’

    অবিলম্বে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর তিনি দেশে ফিরছেন। জানা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে তিনি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এ উপলক্ষে বিমানের আগমনের আগেই নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিতে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করেন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলা পাভেল ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. শামসুল ইসলাম। তাঁরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং পরিকল্পনা করেন।

    নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর তারেক রহমানকে রাজধানীর পূর্বাচল রোডে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই সমাবেশের জন্য ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতা-কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক ফিরতি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য: ফখরুল

    নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য: ফখরুল

    বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা রুখতে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, এই ট্রাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্ছৃঙ্খল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকারীদের শাস্তি ও নৃশংসতা নিয়ে তার কঠোর প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষজনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশের খ্যাতনামা সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা। এসব ঘটনাগুলির মাধ্যমে বোঝা যায়, কিছু চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এ অবস্থায়, সৃষ্ট এই অরাজকতা মোকাবিলা করতে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির ঐক্য বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এই অরাজকতা ঠেকাতে সরকারও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং রাজনৈতিক স্থিরতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে পারে একমাত্র আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। এই জন্য সকল দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা শক্তিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়ালি নেতৃত্বে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন। বিস্তারিত বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক বিষয় ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

  • তারেক রহমানের মতে, গণতন্ত্রের শত্রুরাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে

    তারেক রহমানের মতে, গণতন্ত্রের শত্রুরাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম কারণ হলো সুদূরপ্রসারী একটি নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য দৌড়ানো। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দেশে চলমান অরাজকতা ও অনিরাপত্তার পেছনে দুর্বৃত্ত তথা চক্রান্তকারী সন্ত্রাসীদের যোগ রয়েছে, যারা পরিকল্পিতভাবে খুন, জখম চালাচ্ছে। এইসব হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক শোক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

  • খুলনা ও তিন বিভাগের মধ্যে ঘন কুয়াশার আভাস

    খুলনা ও তিন বিভাগের মধ্যে ঘন কুয়াশার আভাস

    সারাদেশের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দেশের তিন বিভাগে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তৃতি পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পতিত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    তিনি আরও জানান, आज সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে শুষ্ক থাকাসম্ভাবনা রয়েছে। রাতের দিকে রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা ও অন্যান্য অঞ্চলে হালকা কুয়াশার প্রত্যাশা। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে কিছুটা কমে যেতে পারে, অন্যত্র তাপমাত্রা বসবাসরত অবস্থায় থাকবে।

    আগামীকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। রাত ও ভোরে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা। রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে, আর দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    পরের দিন সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে একই ধরণের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। রাত ও ভোরের দিকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে, অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ও বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী থাকবে। ভোরের দিকে উত্তরপশ্চিমাঞ্চল ও অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার প্রবণতা রয়ে যাবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেখা দিতে পারে আরও শীতল ও কুয়াশাযুক্ত আবহাওয়া।

  • শহীদ ওসমান হাদির জানাজা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন

    শহীদ ওসমান হাদির জানাজা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজা পড়ান। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার সময় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের তিন বাহিনী বাহিনীর প্রধানরাও জানাজায় অংশ নেন। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষকে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। আর্চওয়ে গেট দিয়ে ছাত্র-জনতা নিরাপদে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি থাকায় প্রতিটি প্রবেশপথে সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। দুপুরের দিকে জনস্রোত খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা ঢেকে যায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ জানাজায় উপস্থিত হন। তারা বলছেন, এ জনসভা সর্বকালের সবচেয়ে বিশাল গণসমাবেশ। দুপুর পৌনে ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শহীদ হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ কীভাবে রাখা হবে, তা সিদ্ধান্তের জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। মরদেহের গোসলের পরে দুপুর ২টার দিকে এটি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, শহীদ হাদির দাফন কার্যক্রম দেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরে সমাধিস্থ করা হবে। ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ করতে গিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হামলার শিকার হন হাদি। গুলিতে তার মাথা গুরুতর আঘাত পায়। প্রথমে ঢাকা মেট্রো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সুস্থভাবে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মরদেহ বাংলাদেশ সময় ১৯ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হাদির মরদেহ বহনকারী বিমানের ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

  • প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদিকে বিদায় বলা হয় না, তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদিকে বিদায় বলা হয় না, তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ওসমান শরীফ হাদিকে আমি বিদায় দিতে আসিনি। তিনি আমাদের হৃদয়ে অবিচ্ছেদ্য হয়ে থাকবেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, হাদির স্মৃতি ও প্রেরণা আমাদের মাঝে থাকবেই। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল-বিকাল, জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজায় এসে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রফেসর ড. ইউনূস আরও বলেন, আজ এখানে সরবে হাজার হাজার লোকের নির্মল সমাগম ঘটেছে। সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা হাদির জীবনদর্শন ও ওয়াদা শুনার জন্য উদগ্রীব। বিদেশ থাকা বাংলাদেশিরাও এই মুহূর্তে হাদির কথা জানতে চাইছেন। তিনি বলেন, আমরা হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি। বরং, তিনি আমাদের হৃদয়ে গেঁথে আছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, তিনি আমাদের সন্তান, আমাদের প্রেরণা এবং আদর্শের অংশ থাকবেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই মিলনমেলায় আমরা হাদির সঙ্গে আমাদের অঙ্গীকার করতে এসেছি। তিনি যে প্রতিশ্রুতি ও আদর্শ রেখে গেছেন, তা আমাদের পালন করে যাব। আমরা প্রত্যেকেই এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, তার শিক্ষা ও মানবপ্রেমের ধারাকে আমরা অটুট রাখবো। তিনি আমাদের মনে চির永 সময় জেগে থাকবেন।

    প্রফেসর ড. ইউনূস উল্লেখ করেছেন, মানুষের সঙ্গে তার মানবিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনদর্শন সবাইকে অনুপ্রেরণা দেয়। এই অনুভূতিগুলো আমাদের মনকে স্পর্শ করে। তিনি সবসময় মনে রাখবেন এবং তার প্রকৃতি, তার মানবতায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের পথ চলতে হবে। সবাই তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

  • ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার, দাফন হবে সামরিক মর্যাদায়

    ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার, দাফন হবে সামরিক মর্যাদায়

    সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার দেশে এলো। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তাদের মরদেহবাহী এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি অবতরণ করে।

    বীভৎস এই ঘটনার পরে রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকাস্থ সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে তাদের জন্য নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে, তাদের মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে বিভিন্ন ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হবে।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আইএসপিআর জানায়, ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় শাহাদাতবরণ করে ছয়জন শান্তিরক্ষী। নিহতদের মরদেহ শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে আনা হয়।

    শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম উপস্থিত ছিলেন। এTime ও তার পাশে ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতিসংঘের সংযুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা, জাতিসংঘের ইউনিসেফ মিশনের প্রতিনিধি, আবেইতে মোতায়েন শান্তিরক্ষীদের ফোর্স কমান্ডার, চিফ কমিউনিটি লিয়াজোঁ অফিসার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (ইউএন), ওভারসিজ অপারেশন অফিসের পরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা। মরদেহ গ্রহণের সময় সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে এবং সব সামরিক ব্যক্তি শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করেন।

    নিরাপত্তাজনিত কারণে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ হেলিকপ্টার দিয়ে বিভিন্ন ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং যথাযথ মর্যাদায় দাফনের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

    উল্লেখ্য, ড্রোন হামলায় ছয় শান্তিরক্ষী শহীদ থাকলেও, ৯ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আটজন নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসাধীন, যেখানে তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।