Blog

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের

    গণভোট ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের

    গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে ঐক্যের নেতাদের বক্তব্যে দাবি করা হয়, সরকার গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করে ফ্যাসিবাদী দমননীতিতে তৎপর হয়ে উঠছে। নেতা-কর্মীরা হুঁশিয়ারি দেন, যদি এই ফ্যাসিবাদী শক্তি কায়েম করতে চায়, তাহলে পূর্ববর্তী সরকারগুলো যে পরিণতি ভোগ করেছে তার মতোই খেসারত দিতে হবে বিএনপিকে।

    দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন, হাতে নানান প্ল্যাকার্ড যেন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ এবং ‘গণভোট মানতে হবে’ লেখা। এ সময় তারা সরকারের গণভোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। পর্যায়ক্রমে জোটের শীর্ষ নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন।

    বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থ ও আকাক্সক্ষা উপেক্ষা করে একদমই গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা তীব্র সমালােচনা করেন এবং বলছেন, যদি অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে কঠোর কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধানে প্রয়োজন আরও সংস্কার।

  • বিএনপি দ্রুততম সময়ে কমিটি ও কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিল

    বিএনপি দ্রুততম সময়ে কমিটি ও কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিল

    দলে নতুন করে সংগঠন ও স্থায়ী কমিটি গঠনের জন্য দ্রুত সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিলো বিএনপি। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয় আজ শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের একজন শীর্ষ নেতা ও নীতিনির্ধারকরা, যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রিফিংয়ে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাউন্সিলের আয়োজন করা হবে।’

    আলোচনায় দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি, হামের প্রাদুর্ভাব ও সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে জানানো হয় যে, দলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন নেতৃত্ব গঠনের জন্য এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। এর আগে, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, যা ভিত্তিতে দলটি গড়ে ওঠে।

    বিএনপির গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, প্রতি তিন বছর পর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী পরিষদ বা কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। তবে, শেষবার দলটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এরপর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা জটিলতার কারণে আর কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। এখন দল নতুন করে সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়ছেন

    জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়ছেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সংগঠন থেকে رسميভাবে তার দায়িত্বে থেকে সরে যাচ্ছেন। শুক্রবার সাঁঝের দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া। এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বিস্তারিত উদ্বোধনের জন্য আগামী শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব নিয়ে দলের সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হবে। এই অনুষ্ঠানে জোনায়েদ সাকি নিজে উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দিন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। ওই সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সাকি সরে দাঁড়ালেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সাকি সরে দাঁড়ালেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। এর ফলে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব কেড়ে নেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। মনে করা হচ্ছে, মূলত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই ঘোষণা দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য আমি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।’ এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, জুলাইয়ে জাতীয় সনদ ইস্যুর বিষয়ে বিতর্ক চললেও, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন নিবন্ধন লাভ করে। এর আগে, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন, তবে পরে তাকে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন বিবেচনামূলকভাবে সাংঘর্ষিক মনে হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, যা দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • নাহিদ ইসলামের ড. ইউনূসকে রাজপথে আন্দোলনে আসার আহ্বান

    নাহিদ ইসলামের ড. ইউনূসকে রাজপথে আন্দোলনে আসার আহ্বান

    বিগত সরকারের উদ্যোগে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোকে এগিয়ে নিতে নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা কৌশলগত পথে এগোনোর জন্য একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (এনকপিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিশেষভাবে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তাঁর মতে, সমাজের মানুষের জীবন ও রক্তের ওপর দিয়ে সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে কিন্তু এখন তারা আশা অনুযায়ী উন্নয়ন ও সংস্কার চালায়নি। নাহিদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ও সংস্কার কার্যক্রমের সাফল্য ধরে রাখতে জনগণের সরাসরি আন্দোলনে নামা দরকার। আমি ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন শেখেন, সংগ্রাম করেন ও মাঠে নামেন।” বৃহস্পতিবার দুপুরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে নাহিদ এসব কথাবার্তা বলেন। তিনি যোগ করেন, সংস্কার নিয়ে যা কিছু হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ছিল না। তাঁর মতে, “এ এর জন্য শুরু হয়েছিল ৫ আগস্টের পর থেকে, যখন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন ও ক্ষমতা লাভের জন্য মূলত পুরোনো পন্থাগুলো 유지 করতে চেয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপি এখন আর আগের মতো রাজনীতি করছে না। তারা সবকিছু উপেক্ষা করে অধিকাংশ আসন পেয়ে শেখের এক সংখ্যার সংসদে উন্নত সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, বিচার বিভাগ, গুম এবং গোপন তথ্য বাতিলের ষড়যন্ত্র।” তিনি মন্তব্য করেন, “শুধু এই দল নয় বরং বিএনপি মূলত সংস্কারবিরোধী। গত ১৬ বছর তারা নানা নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘন করে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা আজ তাদের প্রতি কমে গেছে।” আন্দোলনের পক্ষে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা সংসদে সমাধান চাইছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমরা চাই, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া চালু হোক এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে রূপ দিতে হবে। বিশেষ করে মানবাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়া ও গুমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি পদক্ষেপ জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যেন এই বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো তৈরি করে ক্ষমতা দখল করে ফেলেছিল, এখন যখন এগুলো বাতিল হচ্ছে, তখন তাদের সঙ্গে থাকা ও কথা বলা জরুরি। জনগণের সামনে দাঁড়াতে হবে, তাদের প্রকৃত দায়িত্ব উন্নয়নে নিতে হবে।” এই প্রসঙ্গে, জানানো হয় যে, নাহিদ ইসলাম গত ২৯ মার্চ ওমরাহ পালনের জন্য দেশের বাইরে যান। তিনি ৩০ মার্চ সৌদি আরবে পৌঁছান এবং মর্যাদাপূর্ণ ওমরাহ সম্পন্ন করে শনিবার দেশে ফেরেন। তার সঙ্গে দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং বিমানবন্দরে তেজস্পর্শী স্বাগত জানানোর মাধ্যমে স্বাগত সুরে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলের ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলের ঐক্য

    গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করে সরকারের মানসিকতা ওয়াখ্যাচ্ছন্ন করার জন্য রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এই সমাবেশের পূর্বে এক মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে দলের নেতারা সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ফ্যাসিবাদী বল করে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা অনুরোধ করেন, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বা না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সত্যিকার গণভরে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে তারা।

    দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশের স্থলে জড়ো হতে থাকেন। এসময় তাদের হাতে ছিল দেশের হাল নাগাল, গণভোট এবং সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নানা দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড। নেতাকর্মীরা নানা স্লোগানের মাধ্যমে গণভোটের পক্ষে ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

    এই বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য রাখেন।

    বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্খা উপেক্ষা করে গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করছে। তারা কড়া ভাষায় বলেন, এই রায় যদি দ্রুত বাস্তবায়ন না হয়, তবে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। বক্তারা জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের প্রকৃত প্রকাশ নিশ্চিত করতে সংবিধান সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন।

  • বিএনপি দ্রুত সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত

    বিএনপি দ্রুত সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত

    দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলীয় পরিকল্পনা ও সংগঠনের পুনর্গঠনের জন্য বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শিগগিরই কাউন্সিল সম্পন্ন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, হামের প্রাদুর্ভাবসহ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রম সর্ম্পকে আপডেট দেওয়া হয়। জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, “দলের সুসংগঠিত ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি বা পরিষদ গঠন করার বিধান রয়েছে; তবে শেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে, তারপর থেকে নানা রাজনৈতিক ও জটিল পরিস্থিতির কারণে আর কেউ কাউন্সিল করেনি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দলের অংগসংগঠনের নবায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া hızের সঙ্গে এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে। এর আগে, ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই দফাগুলির ভিত্তিতেই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

  • মঙ্গল-আনন্দের পরিবর্তে এবারের নববর্ষে শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হবে

    মঙ্গল-আনন্দের পরিবর্তে এবারের নববর্ষে শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হবে

    এ বছর পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শুরু হবে একটি নতুন ধরনের শোভাযাত্রা— যা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত। সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে বাংলা নববর্ষের সামগ্রিক আনন্দ ও উৎসবের অনুষ্ঠানে নতুনত্ব যোগ হয়।

    সোমবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই খবর জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলা নববর্ষ ও অন্যান্য আঞ্চলিক জাতিগোষ্ঠীর— চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নববর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ নয়া আয়োজন নববর্ষের পাশাপাশি জাতিগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও নতুন উৎসাহ যোগাবে।

  • ৩ মে থেকে সারাদেশে শুরু হবে হামের টিকাদান অভিযান

    ৩ মে থেকে সারাদেশে শুরু হবে হামের টিকাদান অভিযান

    দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ৩ মে থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় প্রথমে রাজধানী ঢাকা সহ বেশ কিছু বড় শহরে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালু হবে। এর পর থেকে ধাপে ধাপে অন্যান্য জেলার জন্যও টিকাদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

    শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালেই ঢাকার নবাবগঞ্জে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ তথ্য জানালেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ৩ মে থেকে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে টিকা প্রদান শুরু করা হবে, যাতে কোন শিশু ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে।

    মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে হামের যে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই ভয়াবহতা করোনার মহামারির চেয়েও কম নয় এবং এটি খুব দ্রুত মোকাবিলা করতে হবে।

    এর পাশাপাশি, আজ থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলার শিশুদের জন্য ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপজেলা গুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোণার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, ভোলা ও নাটোরের সদর এবং যশোরের সদর।

    ওই কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতি এড়াতে এবং শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সরকারের এই পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা: বৈশ্বিক সংকট বাড়ছে, পণ্যমূল্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে পারে

    অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা: বৈশ্বিক সংকট বাড়ছে, পণ্যমূল্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে পারে

    বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যমূল্যের বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের আয়োজন করা এক বিশেষ পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই উদ্বেগ horizons জানান।

    মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুধু জ্বালানি সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি এক বহুমাত্রিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবে দেশের খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সরবরাহ চেনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত।

    তিনি মন্তব্য করেন, সরকার বর্তমানে এক ধরনের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন—অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছেন। পাশাপাশি বিশ্ব বাজারের প্রভাবও দেশের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় তহবিলে ধারাবাহিক চাপ ও ক্ষয় দেখা দিচ্ছে। প্রতিদিন এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

    অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের ঋণের পরিমাণ ও এর ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে অর্থের জোগান ও ব্যয়ের মধ্যে সমতা রাখতে হবে, এবং অর্থ সংগ্রহের খরচ সঠিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা জরুরি।

    তিনি বললেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি চরম সংকটে রয়েছে বলে মনে হয়। সরকারের প্রধান কর্তব্য হলো এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার করা। প্রথমদিকে, অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী ছিল, যার কারণে এখন উত্তরণের জন্য খুব বেশি সুযোগ না দেখা যাচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই সংকট কেবল এক দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি পুরো বিশ্বজগতের অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে দাম সমঞ্জস্য করেনি, তবে এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। এমন অবস্থায়, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক।

    সভায় আরও জানানো হয়, এই কর্মশালা আওয়ামী লীগ পরিকল্পনা ও জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র বিষয়ক দফতর ও জাতিসংঘের বাংলাদেশের কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত। এই পরীক্ষামূলক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা, এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম প্রমুখ।