Blog

  • মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    ২০২৫ সালের এপ্রিল—হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছেছিলেন তামিম ইকবাল। তখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিল; ধীরে ধীরে ফিরে আসা সুসংবাদের মধ্যেই সবাই স্বস্তি পেয়েছিলেন। ঠিক এক বছর পর আবার এপ্রিল—ক্রিকেটার তামিম এবার দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষে বসে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষণার পর দুপুরের পর দায়িত্ব পান তিনি। বিকেল চারটার পর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয়ে হাজির হয়ে দীর্ঘদিনকার পরিচিত কর্মীর ভূমিকায় এবার বোর্ডের প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক বলে পরিচিত এই ওপেনার খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন দলের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

    প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল স্পষ্টভাবে বললেন—প্রাথমিক লক্ষ্য হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তিকে ফিরিয়ে আনা। গত এক-দেড় বছরে যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই তাদের অগ্রাধিকার। তা না হলে মাঠে অর্জিত সাফল্য ও দেশের গৌরব ফিরানো সম্ভব হবে না, এমনটিই তার ভাবনা।

    আদহক কমিটির ১১ সদস্যের একটি বাধ্যবাধকতা আছে—তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের নিয়মিত নির্বাচন আয়োজন করা। তামিম জানিয়েছেন, তারা এই দায়িত্বটি সৎ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে চাইছেন। ‘‘আমাদের ওপর যে দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে—ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন তিন মাসের মধ্যে আয়োজন করা—এটি আমরা যতটা সততার সঙ্গে এবং যতটা দ্রুত সম্ভব করতে চাই।’’

    দৈনন্দিন কাজকর্ম মসৃণভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতীকী বক্তব্যও দিয়েছেন নতুন প্রশাসক। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ইস্যুসহ বর্তমানে যেসব চলমান কাজ রয়েছে, সেগুলোকে তারা সঠিকভাবে এগিয়ে নিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে সবার সম্মান ফেরানো ও বিসিবি ও দেশের ক্রিকেট নিয়ে গর্ব ফিরিয়ে আনাই তার বড় অনুশীলন হবে — কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়রা ও সব স্টেকহোল্ডারের আত্মমর্যাদা প্রাধান্য পাবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

    তামিম সরলভাবে মেনে নিয়েছেন—তারা ভুল করবে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষাও নেবে এবং উন্নতির জন্য চেষ্টা করবে। ‘‘আমরা শুধু কথা বলবো না, কাজ করব; চূড়ান্তভাবে পরিবর্তন আনব,’’ বললেন তিনি।

    বৈঠক শেষে তামিম জানালেন, অ্যাডহক কমিটির সদস্য তানজিল চৌধুরীকে বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে; তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ও বোর্ডের কার্যক্রম সংবাদমাধ্যমে জানাবেন।

    নতুন নেতৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই মুহূর্তকে তামিম ‘বিশেষ দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—খেলোয়াড়ি জীবনের পর প্রশাসনে এসে দেশের ক্রিকেটকে আবার গৌরবময় জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ শুরু করেছেন।

  • ভিয়েতনামের কাছে ১-০ হেরে গ্রুপপর্বেই শেষ বাংলাদেশের আশার

    ভিয়েতনামের কাছে ১-০ হেরে গ্রুপপর্বেই শেষ বাংলাদেশের আশার

    থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে এএফসি উইমেনস অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ভিয়েতনামের কাছে ১-০ গোলে হেরে গ্রুপপর্বেই বিদায় নিল বাংলাদেশ নারী দল। এই ম্যাচে জেতার ব্যাপারে ভিয়েতনাম গুরুত্ব দেয়ার কারণে তাদের আশা টিকে থাকল, আর বাংলাদেশ তিন ম্যাচ হারে গ্রুপের তলানিতে থেকে আসর শেষ করে।

    ম্যাচের সিদ্ধান্ত হয় দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে। বক্সে উড়ে আসা এক ক্রসে বল নাগাল পেতে লাফিয়ে মিলি আক্তার চেষ্টা করেন, কিন্তু বল গ্লাভস থেকে বেরিয়ে গেলে সেটি ঝাঁপিয়ে ধরে থি থুই লিনহ—দ্রুত বাম পা চালিয়ে বল জালে ঢুকিয়ে দেন। ওই একটিই গোল ম্যাচের ব্যবধান ঠিক করে দেয়।

    বহুক্ষণ জোরালো লড়াই চললেও প্রথমার্ধে উভয় দলই সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হুমকি আসে ১৩ মিনিটে, যখন সতীর্থের থ্রু পাস নিয়েছেন সাগরিকা। একান্ত অবস্থায় তিনি চিপ শট নিতে চাইলে ভিয়েতনামের গোলকিপার লি থি থু সুন্দরভাবে সেভ করেন। ২৬ মিনিটে আরেকটি থ্রু পাসে সাগরিকা অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে এগোয়, কিন্তু বলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

    ভিয়েতনামও প্রথমার্ধে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ বাড়ায়। ২৯ মিনিটে এনগান থি থানের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে গিয়ে বিপদ তৈরি না করলেও হুমকি ছিল। ৩৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা লং পাসের আগেই ঝাঁপিয়ে বেরিয়ে এসে মিলি আক্তার দারুণ একটি ক্লিয়ার করেন, যা রক্ষণকে সময় দিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ খেলায় কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। ৫৩ মিনিটে গোলের আগে উমহেলা মারমা বক্সে ভালো জায়গায় বল পেলে শট নিতে পারেননি এবং রক্ষণে বডি ট্যাকলে বলটি হারান—এর কয়েক মিনিট পর থেকেই ভিয়েতনামের চাপে পরিবর্তন আসে এবং অবশেষে থি থুই লিনহের সেই কাজ করা গোলই ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে ভিয়েতনামের আড়াআড়ি ক্রস থেকে থি থুই লিনহের হেড পোস্টের বাইরে গেলে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারেনি তারা।

    গ্রুপের অন্য ফলাফলে চীন ও আয়োজক থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে কোয়ার্টারফাইনালের যোগ্যতা নিশ্চিত করেছিল। বাংলাদেশ যদি টিকে থাকতে চেয়েছিল, অন্তত ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে ড্র প্রয়োজন ছিল, তবে তা করতে পারেনি দল। টানা তিন পরাজয়ে গ্রুপে শেষ হওয়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এখন সংশোধন দরকার।

    এটি বাংলাদেশ দলের জন্য দুঃখজনক পুনরাবৃত্তি—পূর্বেও বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ছাড়াও উইমেনস এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে একইভাবে সবগুলো ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় হয়েছে দল। মাঠে লড়াই তো দেখালেও কার্যনির্বাহী ও কৌশলগত উন্নয়নের মাধ্যমে এখন দ্রুত শক্তি ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

    হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম সোমবার শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন শুনানি করেন। শুনানি শেষে magistrate তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং পরে পুলিশ হেফাজতে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। তাদের কাছে থাকাকালীন ফাহিমকে শাহ আলী থানার কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর বছিলা এলাকায় র‌্যাব কোয়ার্টারের সামনে মিছিল চলাকালে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার ফলে মাসুদ হোসাইন আহত হন; হাসপাতালে চিকিৎসার সময় বুকের ইনফেকশনের জটিলতায় তাকে অপারেশন করাতে হয়েছে।

    এর বাইরে গত বছরের ২৪ আগস্ট আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বেসরকারি টিভির মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই তরুণ স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নামও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ও সাধারণ জনতার বিরুদ্ধে তার অবস্থান নিয়ে বারবার তার নাম উঠে এসেছে।

  • ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি, ১,০০০ কোটির পথে

    ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি, ১,০০০ কোটির পথে

    বলিউডের স্পাই থ্রিলার ধুরন্ধর ২ মুক্তির ১৭ দিনেও বক্স অফিসে দারুণ ধাক্কা দেখাচ্ছে। স্যাকনিল্কের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ছবিটি মুক্তির তৃতীয় শনিবারে প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে।

    পরিসংখ্যান বিশ্লেষনে দেখা যায়, ছবিটি প্রথম সপ্তাহে সংগ্রহ করেছিল ৬৭৪.১৭ কোটি টাকা, আর দ্বিতীয় সপ্তাহে যোগ হয়েছে আরও ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। তৃতীয় শনিবারের ২৫.৬৫ কোটি মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬৩.৪৭ কোটি টাকা — আরও একটু এগলেই ১,০০০ কোটি ক্লাবে প্রবেশ করা সম্ভব। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ছবিটি সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে।

    এমন শক্তিশালী পারফরম্যান্সে ধুরন্ধর ২ ইতোমধ্যেই বড় বড় ব্লকবাস্টারগুলোর লাইফটাইম কালেকশন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে আছেন আরআরআর, কল্কি ২৮৯৮ এডি, কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২, জওয়ান, পাঠান, স্ত্রী ২ ও অ্যানিমেল। তবে তালিকার শীর্ষে জায়গা করতে হলে এখনও বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন ও পুষ্পা ২: দ্য রাইজ-এর রেকর্ড ভাঙতেই হবে। উল্লেখ্য, ধুরন্ধর ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে ১,৩০০ কোটি টাকা আয় করেছিল।

    প্লট ও চরিত্র নিয়ে সংক্ষেপে—প্রথম কিস্তিতে রণবীর সিংকে হামজা নামে একজন ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে মূলত জাসকিরাত সিং রাঙ্গির উত্থান ও কীভাবে তিনি দুর্ধর্ষ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিসহ কৌশলী হিরোতে রূপান্তরিত হন, তা দেখানো হয়েছে।

    আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরজুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী এবং সারা অর্জুন। এছাড়া দানিশ পান্ডোর ও উদয়বীর সান্ধুর মতো শিল্পীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। বিশেষ চমক হিসেবে আছে পরিচালক আদিত্য ধররের স্ত্রী, অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের এক কেমিও উপস্থিতি।

    সংক্ষেপে, ব্যবসা ও দর্শকের সাড়া—দুইদিকে সফলতা পেয়ে ধুরন্ধর ২ এখনই বাংলোড় গণনা করছে; কবে কোথায় থামে তা বহু নিরীক্ষকের চোখে নজর রাখার বিষয়।

  • ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ৩৬৩১ জন উত্তীর্ণ

    ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ৩৬৩১ জন উত্তীর্ণ

    সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) আজ মঙ্গলবার বিকেলে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যারা এখন মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। পিএসসি সচিবালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানান, মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি পরে জানানো হবে।

    ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা গত ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা একযোগে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা বিভিন্ন সময়ে চালানো হয় এবং তা ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলছে।

    পিএসসি ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার ও ২০১টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়। প্রাথমিকভাবে অনলাইনে আবেদন শুরু হওয়ার কথা ছিল ১০ ডিসেম্বর, কিন্তু ৯ ডিসেম্বর আবেদন শুরু স্থগিত করা হয়। পরে ২৬ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

    সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি কমানো এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে করে ১০০ করা হয়; ফলে মোট নম্বর ১১০০ থেকে পরিবর্তন হয়ে ১০০০ করা হয়। এ বিসিএসে প্রথমবারের মতো আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে।

    প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু করার প্রথম নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট, কিন্তু তা স্থগিত করে পরে ১৯ সেপ্টেম্বর আট বিভাগীয় শহরের মোট ২৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হলেও আয়োজন করা হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে ১০ হাজার ৬৪৪ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ করা হয়েছিল।

    লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা হলে কিছু অংশের প্রার্থীরা তা পেছানোর দাবি জানায় এবং কেন্দ্র স্থলে আন্দোলনও ঘটে; কিছুদিন পরে কয়েকজন প্রার্থী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। পিএসসি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল এবং নির্ধারিত তারিখে লিখিত পরীক্ষা চালিয়েছে।

    এবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৬৩১ জন প্রার্থীকে এখন মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। পিএসসি ফল ও পরবর্তী সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে বলে জানিয়েছে। প্রার্থীদের জরুরি তথ্যের জন্য পিএসসির প্রকাশিত নোটিশ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়: স্পিকার

    আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়: স্পিকার

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ—সংসদ নয়। জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এসব কথা মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বলেন স্পিকার।

    বিষয়টি নিয়ে তাত্ক্ষণিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ্য, ভোলায় জামায়াতের মহিলা কর্মী বিবি সাওদা সুমিকে রোববার (৫ এপ্রিল) রাতের বেরি নিজের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে নিন্দা করে দাবি করেন, অফিস সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করে ওই নারীকে মুক্তি দিতে হবে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আগের দিন এক পোস্টে লিখেন, সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে তা ‘‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’’ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা প্রায়ই তাদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখতে প্রতিবাদী কণ্ঠকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করে; এতে শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদীরা স্তব্ধ হয়ে যায়। পোস্টে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যারা অন্তরে ফ্যাসিবাদ লালন করে তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কি না এবং স্মরণ করিয়ে দেন—লজ্জা, লজ্জা।

    রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে-ইসলামী এই গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে অমানবিক ও অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বিবৃতিতে ওই নারীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দলের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এই গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এ ঘটানিকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি আখ্যায়িত করেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার নিজ বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী জানায়—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গভীর রাতে একজন নারীকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    সংসদে স্পিকার মন্তব্য করেন যে, সংসদীয় আলোচনা ও দাবীর জায়গা আলাদা; যদি কারো মনোশ্চিন্তা থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সংসদেই তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য এখানে আলাপ আলোচনা হচ্ছে।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা রোধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঘৃণা ও শত্রুভাব আমাদের সমাজের জন্য ঘातক হতে পারে, তাই ঘৃণাকে চিরতরে বিদায় করে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে পথপ্রদর্শক করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সমাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার পক্ষে কথা বলেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ সহাবস্থানকে গুরুত্ব দেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ এমন এক দেশ যেখানে ইসলাম ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—all মিলেমিশে এই ভূখণ্ডের অঙ্গ। অতীতেও এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাস করেছে, সে ঐতিহ্য রক্ষা করাই হবে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, কোনও ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা সমাজকে দুর্বল করে। ‘‘আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি,’’ তিনি বলেন।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় সমাজ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা যাবে। ‘‘আমরা চাই একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে, এজন্য সামনে অনেক কাজ রয়েছে — সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে,’’ তিনি যোগ করেন।

    তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে দেশের শান্তি, সমতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আবেদন করেন ব্যক্তিগত ও সমাজিক বিভেদের চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাকে অগ্রাধিকার দিতে।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও সমর্থক ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয় এই কর্মসূচির কথা। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে এবং নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য গড়া হয়েছিল, তা সংস্কারসংক্রান্ত ইস্যুতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসন একদলীয় ও নব্য ফ্যাসিস্ট স্বাভাবিকতায় এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে; তবে ১১ দলীয় জোট নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে।

    জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন থাকবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোট রায় কার্যকর করার পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, সরকার বিরোধীদলকে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, বিএনপির কার্যকলাপ সম্পর্কে জাতি হতবাক ও বিস্মিত; গণভোটের রায়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ইতোমধ্যে কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে, এবং সংসদে মাত্র একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধানকে সংকটবশতভাবে টেনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনের বিরোধিতা করছে তাদেরকে সরকারের দিকে থেকে ‘রাজাকার’ জাতীয় তকমা দেয়া হচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্লো হয়ে এসে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকের ৩.৩৫ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের ৪.৯৬ শতাংশের থেকে কম। এসব তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিএসের রিপোর্ট ও বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়া এবং সরবরাহে বিঘ্ন জনিত কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। দেশের ভেতরেও জ্বালানির সংকট ও সরবরাহ ঝামেলা দেখা দেয় ফলে শিল্পখাতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিল ও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।

    খাতে ভাগাভাগি অনুযায়ী গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৪.৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতেই প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি — ৬.৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতের এই বড় ধরনের কমতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে আরও সীমিত করেছে।

    গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ; চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে উঠে আসে, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও নিচে নেমে এসেছে। চূড়ান্তভাবে বছরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে — বিশেষত কারণ শিল্পখাতই জিডিপিতে বড় অবদান রাখে এবং এ খাতের প্রবৃদ্ধি যখন ক্ষীণ হয় সার্বিক লক্ষ্যমাত্রার পথে বাধা তৈরি হয়।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাত গভীর আর্থিক চাপের মুখে পড়েছিল; ১৭টি ব্যাংক নিট থেকে লোকসান ঘোষণা করেছিল। এই অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) খাতেও—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় গত বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    সেন্ট্রাল ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট খরচ করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ। গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সবচেয়ে কম ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে ন্যূনতম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে—যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য দেখায়, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের (৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা) তুলনায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকারও বেশি—প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    ব্যালান্সশিটের অবনতি, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংকিং খাতে প্রকাশিত অনিয়ম-লুটপাট এসব পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের (জুন–জুলাই) ছাত্র-জনতার আন্দোলন, আগস্টে সরকার পরিবর্তন ও সেই সময়কার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে নানা ব্যাংকের অনিয়ম, ঋণ অনুষঙ্গ ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রচারে আসায় কাগজে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়; খেলাপি ঋণ বাড়ায় বাস্তব লোকসানও সামনে আসে। বিশেষ করে শরিয়ারভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বেশি চাপে পড়েছে এবং কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ-অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এসব কারণে দুর্বল অবস্থায় পড়া ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরে আনতে সরকার একাধিক банка একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ কমে আসা। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠানসহ নানা খাতে অনুরোধের ভিত্তিতে ব্যয় করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পরে এসব চাপ অনেকটাই কমেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে যাচাই-বাছাই করে খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ন্ত্রিত চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়; তা হলে সিএসআর-এর মূল সামাজিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়—এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষার জন্য, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য উপযোগী খাতে ব্যয়ের কথা বলা আছে। বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না; ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) সিএসআর ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্যখাতে তুলনামূলকভাবে বেশি, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। এসব ব্যাংকের নাম: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকদের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এদের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আর্থিক চাপ, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ের ধরণ ও পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাতকে স্থিতিশীল করতে এবং সিএসআর অর্থ সমাজের বাস্তবে পৌঁছে দিতে নিয়ম-নীতি কড়াকড়ি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও প্রকল্পগুলোর ফলাফল-পর্যালোচনা জরুরি।