ভিয়েতনামের কাছে ১-০ হেরে গ্রুপপর্বেই শেষ বাংলাদেশের আশার

থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে এএফসি উইমেনস অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ভিয়েতনামের কাছে ১-০ গোলে হেরে গ্রুপপর্বেই বিদায় নিল বাংলাদেশ নারী দল। এই ম্যাচে জেতার ব্যাপারে ভিয়েতনাম গুরুত্ব দেয়ার কারণে তাদের আশা টিকে থাকল, আর বাংলাদেশ তিন ম্যাচ হারে গ্রুপের তলানিতে থেকে আসর শেষ করে।

ম্যাচের সিদ্ধান্ত হয় দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে। বক্সে উড়ে আসা এক ক্রসে বল নাগাল পেতে লাফিয়ে মিলি আক্তার চেষ্টা করেন, কিন্তু বল গ্লাভস থেকে বেরিয়ে গেলে সেটি ঝাঁপিয়ে ধরে থি থুই লিনহ—দ্রুত বাম পা চালিয়ে বল জালে ঢুকিয়ে দেন। ওই একটিই গোল ম্যাচের ব্যবধান ঠিক করে দেয়।

বহুক্ষণ জোরালো লড়াই চললেও প্রথমার্ধে উভয় দলই সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হুমকি আসে ১৩ মিনিটে, যখন সতীর্থের থ্রু পাস নিয়েছেন সাগরিকা। একান্ত অবস্থায় তিনি চিপ শট নিতে চাইলে ভিয়েতনামের গোলকিপার লি থি থু সুন্দরভাবে সেভ করেন। ২৬ মিনিটে আরেকটি থ্রু পাসে সাগরিকা অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে এগোয়, কিন্তু বলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

ভিয়েতনামও প্রথমার্ধে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ বাড়ায়। ২৯ মিনিটে এনগান থি থানের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে গিয়ে বিপদ তৈরি না করলেও হুমকি ছিল। ৩৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা লং পাসের আগেই ঝাঁপিয়ে বেরিয়ে এসে মিলি আক্তার দারুণ একটি ক্লিয়ার করেন, যা রক্ষণকে সময় দিল।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ খেলায় কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। ৫৩ মিনিটে গোলের আগে উমহেলা মারমা বক্সে ভালো জায়গায় বল পেলে শট নিতে পারেননি এবং রক্ষণে বডি ট্যাকলে বলটি হারান—এর কয়েক মিনিট পর থেকেই ভিয়েতনামের চাপে পরিবর্তন আসে এবং অবশেষে থি থুই লিনহের সেই কাজ করা গোলই ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে ভিয়েতনামের আড়াআড়ি ক্রস থেকে থি থুই লিনহের হেড পোস্টের বাইরে গেলে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারেনি তারা।

গ্রুপের অন্য ফলাফলে চীন ও আয়োজক থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে কোয়ার্টারফাইনালের যোগ্যতা নিশ্চিত করেছিল। বাংলাদেশ যদি টিকে থাকতে চেয়েছিল, অন্তত ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে ড্র প্রয়োজন ছিল, তবে তা করতে পারেনি দল। টানা তিন পরাজয়ে গ্রুপে শেষ হওয়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এখন সংশোধন দরকার।

এটি বাংলাদেশ দলের জন্য দুঃখজনক পুনরাবৃত্তি—পূর্বেও বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ছাড়াও উইমেনস এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে একইভাবে সবগুলো ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় হয়েছে দল। মাঠে লড়াই তো দেখালেও কার্যনির্বাহী ও কৌশলগত উন্নয়নের মাধ্যমে এখন দ্রুত শক্তি ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।