Blog

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নামল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নামল

    বংলাদেশের ব্যাংক খাত ২০২৪ সালে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে এবং অভ্যন্তরীণ ঝড়ঝাপের কারণে বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জনে অক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও, বেশকিছু ব্যাংক মুনাফা করলেও তাদের আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছেনি। এর ফলে, ব্যাংকগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাতে ব্যয় কমিয়ে আনতে হয়েছে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বরে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২% কম। এই কমতি নিয়ে এরই মধ্যে বলাবলি হচ্ছে, গত এক দশকে এটিই সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার মানে, এবার এই খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭%।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩% কম। এর আগের বছর ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছর ধরে এই খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় সংকেত।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, তথা সরকারে পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের ঘটনাও প্রকাশিত হতে থাকে। এসব কারণে, মুদ্রিত বা কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পাশাপাশি প্রকৃত আর্থিক চিত্র পুনরায় উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ক্ষতির হিসাব বাইরে উঠে আসে।

    বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়ে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণের অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায়, সরকার দফায় দফায় ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার অন্যতম কারণ হলো রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন। আগের সময়গুলোতে, রাজনৈতিক সরকারের পাশ থেকে নানা পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত। সেই সময়ে ব্যাংকগুলো অনুরোধের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করত, অনেক সময় প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে। ২০২৪ সালে জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে, এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনাপূর্ণভাবে সিএসআর ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অপপ্রয়োগ হয়, যা মূল উদ্দেশ্য- সামাজিক উন্নয়ন থেকে দুরে সরায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য এবং ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে পারলেও, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বরাদ্দ ছিল কম।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, ছয়টি ব্যাংক এমনও আছে যেখানে মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে, যেমন- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে রাজধানীতে একটি ব্যাপক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকৃতি জানিয়ে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে, যা তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির স্বরূপ বলে অভিহিত করেন। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য এর পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং অতীতের মতো কঠিন পরিস্থিতির মাঝে পড়তে হবে বিএনপিকে।

    দুপুরের পরে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল করে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেমন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’। সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং গণভোটের পক্ষে সমর্থন দেন।

    এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপক্ষো করে গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে, যদি এই রায় অবিলম্বে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদে অবতীর্ণ হবে সংগঠনগুলো। সম্মেলনে বক্তারা সংবিধান সংস্কারের উপর জোর দেন, যাতে জনগণের ভোটাধিকার ও মতামত নিশ্চিত হয় এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

  • আসিফের হুঁশিয়ারি: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    আসিফের হুঁশিয়ারি: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন এবং চেতনা রক্ষা না করা যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের বিজয়ে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করতে পারেনি, তখন ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। এই ইতিহাস থেকে আমাদের শেখার নিয়মিতই আছে, ভবিষ্যতেও এটি ঘটতে পারে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি সরকারের গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য দেয়া।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বারবার বিএনপি নেতাদের সংবিধান বললেও, তারা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারে প্রতিনিয়ত ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকাই উচিত, কিন্তু বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রেখে নির্বাহী বিভাগকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি বিরোধী দলের হয়, তবে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাকে খর্ব করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি সংবিধানবিরোধী।

    অপর দিকে, ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক এজেন্সির ওপর ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা থাকলেও, আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতাগুলো অনেকটা হ্রাস করে আইনগতভাবে সীমাবদ্ধ করেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার তা বাতিল করে আবারও অনেক এজেন্সির হাতে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

    এনসিপি নেতারা বলছেন, অতীতে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারী আচরণের লক্ষণ স্পষ্ট। যদি গণভোটের রায় মানা না হয়, তাহলে তাদেরকে ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করে দেয়া হবে। তারা উল্লেখ করেন, শুরু থেকে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় সকল শ্রেণি-পেশার সাথে বসে সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রস্তুত।

    তবে, দ্রুত রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত তাদের বিরোধী জোটের জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ গণভোটের নাটকীয়তা দেখে তারা আর স্থায়ী ধৈর্য্য ধরতে পারছে না। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • জামায়াতের আমিরের হুঁশিয়ারি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়ব না

    জামায়াতের আমিরের হুঁশিয়ারি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়ব না

    সংসদ সদস্যরা বুঝি না বা মানুক বা না মানুক, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই ছাড়বো, কড়া বলে জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী এর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল কিছু গুঁড়িয়ে দেয়ার পিছনে হস্তক্ষেপ হয়েছে, যেখানে ৭০ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ সমর্থন দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, তিনি ও তাঁর দল ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থেকে জনগণের লোভ ও সাহসের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় আমরা পালন করবই, সরাবই। এই সংসদ মানুক বা না মানুক, রায়কে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’ অন্যদিকে, সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জাগপা’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন কারা সম্ভব, যদি দলের ভেতরেই গণতন্ত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়। যারা নিজেদের দলের মধ্যে গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না, তাদের থেকে দেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের আশা করা যায় না। যারা নিজ দলের মধ্যে গলাকাটাকাটির রাজনীতি করে, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে না। ’তিনি বলেন, ‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে। চব্বিশে (১৯৭১ সালে) জনগণ রায় দিয়েছিল। কিন্তু আজ এর হাইজ্যাক হচ্ছে, ডাকাতি করা হচ্ছে। জনগণের অনুভূতিকে অপমান করা হচ্ছে। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।’ জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সাধারণত ঘুঘু বারবার ধান খেয়ে চলে যায়, কিন্তু যখন পরিস্থিতি মন্দ হয় তখন জালে ধরা পড়ে। আপনি জনগণের ধান খান, এবার এর বিচার নিশ্চিত হবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝে না বা ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রায় বাস্তবায়ন করা হবে। ‘কেয়ারটেকার’ সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিও সেই আন্দোলনের অংশ। তবে সংসদে বিষয়টি নস্যাৎ হওয়ায় এবার জনগণের আস্থা নিয়ে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জ্বালানি সংকটে সাধারণ مردم ভোগান্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমস্যা বাড়ছে এবং এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনে পড়তে পারে, যা ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।’ শিক্ষাখাতে এই সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যাহত হলে ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতি হবে। তাই, শিক্ষা একটি বিকল্প ছাড়া অন্য কিছু ভাবা যাবে না।’ শেখার দায়িত্বে থাকা সংসদ সদস্যরা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ আরও অনেকে।

  • ১১ দলীয় জোটের চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা

    ১১ দলীয় জোটের চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা

    দেশব্যাপী চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট, সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক যৌথ বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি হলেও এখন তা ভেঙে পড়েছে। মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে একদলীয় অবস্হা তৈরি করছে এবং জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে সরকার সমালোচনা বরদাশ্তা করছে না। তিনি বললেন, কিন্তু দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামে একযোগে কাজ করছেন ১১ দল। তারা প্রত্যেকে ঘোষণা করেন, গণভোটের রায় যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়িত হবে। আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ শুরু করবে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল জেলাশহরগুলোতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সেমিনার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধীপক্ষের দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছে। বিএনপির কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত। গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট স্বতঃসিদ্ধ মান্যতা পেয়ে গেছে, এরপরও সংসদে এক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদের কথা বলার অধিকার নেই, আর দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন করছে এমন ব্যক্তিদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে দিচ্ছে সরকার। এ সময় জামায়াতের নেতা বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের মুখ্য আরও কিছু কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

  • कुछ শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    कुछ শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে নতুন একটি বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা মোকাবেলা করে এ পথে এগিয়ে যাওয়া যায় না।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের উচিত, এই বিভাজন প্রতিরোধ করে একতার মূল মন্ত্রে লিপ্ত হওয়া। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিই হওয়া উচিত আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি আরও বললেন, বাংলাদেশ একটি অসাধারণ উদাহরণ যেখানে সকল ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করেন। এই দেশ ইসলাম ধর্মকে সম্মান করে যেমন, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এখানে মিলেমিশে আছে। এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষেরা অতীতে থেকেই একসাথে বসবাস করে আসছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভক্তির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকেই মুক্ত হতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো সবাইকে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।”

  • এনটিআরসিএ: তিন ব্যাচের নিবন্ধনধারীরা পাবেন বিশেষ নিয়োগ সুবিধা

    এনটিআরসিএ: তিন ব্যাচের নিবন্ধনধারীরা পাবেন বিশেষ নিয়োগ সুবিধা

    ২০তম শিক্ষক নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর একটি বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ১৬, ১৭ ও ১৮তম নিবন্ধনধারীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে, এর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, ৯ম শিক্ষক নিয়োগের পর ২০তম নিবন্ধন শেষ হবে। এর পরে, ১৮, ১৭ এবং ১৬তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে যারা যোগ্য, তাদের জন্য আলাদা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সিলেবাসের পরিবর্তন বিবেচনায়, এই সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এর জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন।

    এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আরো জানান, এই বিশেষ সুযোগের জন্য ১৬, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচের নিবন্ধনধারীদের মধ্যে যেসকলের বয়স ও সনদের মেয়াদ কার্যকর রয়েছে, তারাও এই বিজ্ঞপ্তিতে অংশ নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে তাদের স্বার্থে নতুন কিছু সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

    লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে ঘটেছে। আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি এলাকায় বাস করতেন।

    জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি ৮নং ওয়ার্ডের পানিয়ার টারি এলাকার সীমান্তে। বিজিবির সূ্ত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন ধবলগুড়ি বিএসএফ কলোনির কাছাকাছি শূন্য লাইনের কাছে রাত ২টা ৫০ মিনিট ও ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পৃথকভাবে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনাটি নিয়ে সকাল 6:35 মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ঘটে।

    বিএসএফের দাবি, ঘটনা শুরু হয় যখন ৭ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি সীমান্তের তারকা-বাঁধ কাটার জন্য ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে বিএসএফ সদস্যরা সতর্কতামূলক গুলি চালায়। এরপর চোরাকারবারিদের সাথে বিএসএফের ধস্তাধস্তি হয়, এবং এই পরিস্থিতিতে বিএসএফ গুলি চালালে আলী হোসেন গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ভারতীয় বিএসএফের হেফাজতে নিয়ে সেখানে চিকিৎসকদের কাছে নেয়া হলে, চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    61 বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান।

  • সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী

    সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার বিদ্যালয় ও কলেজে বিনামূল্যে Wi-Fi সংযোগ চালু করা হবে। এছাড়া, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। এই ঘোষণা তিনি আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ভিত্তিক টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুমে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং নতুন কারিগরি কোর্সসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে, সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বিভাজন কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অনন্য ‘এডু-আইডি’ চালু করা হবে।

    আইসিটি বিভাগ পরিচালিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস উন্নয়ন, পাইথন প্রোগ্রামিং ও AI-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শিক্ষাকে জাতির মূল বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ জন্য ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন এবং চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের ঘোষণা দেন। এ ধরনের পরিকল্পনা সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য সকল উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের জবাবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব উপজেলা কেন্দ্রে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারি করতে ইতিবাচক চিন্তা চলছে।

  • আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে সংসদ পাস সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল

    আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে সংসদ পাস সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল

    জাতীয় সংসদে নতুন সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া বারোটার দিকে এই বিলটি পাস হয়। এর আগে সকাল ১১টার দিকেটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক আবার শুরু হয়। বিএনপি নির্বাচনের সময় বলেছিল যে, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা পছন্দ নয়; জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকারের গঠনের পর থেকে বিএনপি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়। আজ বিল পাস হওয়ায়, যতদিন পর্যন্ত নির্বাহী আদেশ পাল্টে না নবায়ন হবে, ততদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হয়, যার মধ্যে ৯৮টির সংশোধন না করেই আইনে পরিণত করার উপদেশ দেওয়া হয়। এই বিলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, যা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে দায়ের হয়। এই ধারাগুলো গত বছর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। গত বছরের ৯ মে রাতে, এনসিপি নেতারা তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন দল এ আন্দোলনে যোগ দেয়। ১১ মে রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে, এর ফলে যদি কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তারা এই কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে। একই দিনে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। যদিও সরকার সরাসরি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি, তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে দলটি মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলীয় কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার, ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব কার্যক্রম চালালে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ডের শঙ্কা রয়েছে। তবে অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী শাস্তি হবে। ফলে, এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তির বিধান ছিল না। এখন পাস হওয়া এই বিলের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকছে।