Blog

  • শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা: সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম সংখ্যা ২৮৩৯

    শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা: সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম সংখ্যা ২৮৩৯

    শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে এখনও মোট ২৮৩৯টি গ্রামে কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এসব গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি শিশুদের অনেকেরই। প্রাথমিক শিক্ষায় উপস্থিতি বাড়াতে এসব গ্রামে গমনোপযোগী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি। এ ছাড়া, সরকারের অর্থায়নে নির্মাণের অপেক্ষায় আরও ৪ হাজার ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন রয়েছে, যেখানে এখনও কংক্রিটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

    আজ সংসদে সরকারের দলীয় সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নে উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকায় ৭১৭টি, চট্টগ্রামে ৮১৮টি, রাজশাহীতে ৩৫৫টি, রংপুরে ৩৫৫টি, খুলনায় ৩৪১টি, বরিশালে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গঠিত হয়নি।

    এখানে প্রাথমিক শিক্ষায় অপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা মোট প্রায় ২৭৬,৫১৩ জন। অর্থাৎ, এই শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

    অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন দেশে মোট ২৪ হাজার ৩২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৯টি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, যাতে প্রত্যেক শিশুর জন্য উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

  • হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়: তিন মাসে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

    হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়: তিন মাসে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

    হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার রায়ে নির্দেশ দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক একটি সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে গঠন করতে হবে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেছেন।

    রায়ে আদালত আদেশ করেছেন যে, সরকার সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন সচিবালয় বাস্তবায়ন করবে এবং আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রায়ে পাশাপাশি বলা হয়েছে, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দায়ভার পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে।

    হাইকোর্ট রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনরায় বহাল করে সংশোধিত অনুচ্ছেদগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বিচারপতিগণ উল্লেখ করেছেন, ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী ও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর নির্দিষ্ট ধারাগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১৯৭২ সালে থাকা ১১৬ অনুচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত হবে। এই পরিবর্তন ওই রায়ের দিন থেকেই কার্যকর হবে।

    ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানগতকভাবে অধস্তন আদালতের বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ—কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি এবং শৃঙ্খলা বিষয়ক ব্যবস্থা—সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বাধীন থাকবে। রায়ে বলা হয়েছে, এসব দায়িত্ব আর রাষ্ট্রপতির নিকট কেন্দ্রীভূত থাকবেনা।

    হাইকোর্ট একই সঙ্গে ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ভেবে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

    রিটের পক্ষে যুক্তকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের উপর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিশ্চিত হলো; তা আর রাষ্ট্রপতির ওপর শশস্ত্র থাকবে না।

    বিষয়টির ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য — ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাত আইনজীবী এ সংক্রান্ত রিট করেছিলেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ২৭ অক্টোবর রুল জারি করেছিলেন এবং রুলে ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের বিধিমালার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে সেগুলো কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং কেন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। রুলে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বরও একই বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই নির্দেশটি চূড়ান্ত হয়ে আইনগত বিধিবদ্ধ রূপ পাচ্ছে।

  • স্পিকার: আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ

    স্পিকার: আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ — সংসদ নয়। তিনি সংসদে জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং এখানে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

    মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব কথা জানান স্পিকার।

    পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা (সাওদা সুমি) গ্রেফতারে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম নিন্দা জানান। তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

    এর আগে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ঘটনাটিকে নব্য ফ্যাসিবাদের লক্ষণ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাওদা সুমির সঙ্গে করা নিকৃষ্ট আচরণ ‘‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’’ বহন করছে। তিনি লেখেন, ফ্যাসিবাদীরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়, ফলে তাদেরই কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কী না। লজ্জা, লজ্জা!’’

    ঘটনাচক্র অনুযায়ী, রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে নিজ বাসা থেকে পুলিশ বিবি সাওদাকে গ্রেফতার করে। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই ঘটনার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে ‘‘অমানবিক ও অনভিপ্রেত’’ ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মওয়াজ্জম হোসাইন হেলাল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’’ থাকার কথা বলেন; কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, গভীর রাতে কোনো নারীকে নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতারে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং এই কর্মটিকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংসদে স্পিকার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১ দলীয় জোট। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সরকার বহুদলের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে চলেছে এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত নির্বাচনের আগের ঐকমত্য ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে সরকার একদলীয় ফ্যাসিবাদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনদুর্ভোগ তুলে ধরলে আটক-নির্যাতনের মতো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে তিনি বলছেন, নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে বন্ধ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল হবে, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বিএনপির কার্যকলাপে জাতি হতবাক ও বিস্মিত বলেও মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন যে গণভোটের রায়ের বিরোধিতা স্বরূপ বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ইতিমধ্যে কার্যত স্থগিত রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে মাত্র এক–দুইজনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকটকালের চিত্র তুলে ধরছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় না এবং দিল্লি ও ভারত-বিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী সবকেই সরকারি দলের তরফে ‘রাজাকার’ ট্যাগ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে আহ্বান জানান।

    বৈঠক শেষে জোটের নেতারা বলেন, তারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে গণভোটের রায় এবং সংবিধান সংশোধনের দাবির পক্ষে গণমত গঠন ও চাপ তৈরি করতে চায়।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শত্রুমুখী শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তা রুখে দিতে সবাইকে একত্র হয়ে কাজ করতে হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সমাজের মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। মানুষকে ঘৃণার বদলে সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যে উদ্বুদ্ধ করা গেলে সমাজ হবে আরও শক্তিশালী। মির্জা ফখরুল আরও সতর্ক করে বলেন, বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা যদি অনুপ্রবেশ করতে দেয়, তাহলে দেশের শান্তি ও ঐক্য ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

    তিনি দেশের বৈচিত্র্য ও সহনশীলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের বাসস্থান—ইসলাম রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সমাজও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীত থেকে এখানে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে।

    মির্জা ফখরুল এমনই বিভাজন তৈরির পুরনো অপচেষ্টা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠনের চেষ্টা করব। সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সেগুলো সফল করতে সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে।’’

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষকে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়ে তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্ত রাখার বার্তা দেন এবং সমাজে সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান করেন।

  • জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বরে) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বৃদ্ধির হার ফের নিম্নমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংবাদমতে ওই প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের growth ছিল ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের growth ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। লক্ষণীয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকে এ খাতে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে খুবই কমেছে। অন্যদিকে কৃষি ও সেবা খাতে প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার বেড়েছে।

    পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; এরপর প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও কমে গেল।

    প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা শিল্প ও পরিবহন খাতে কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। এছাড়া সূত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সীমা থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত বৃদ্ধির পর গ্যাস ও তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়েছে, যা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং মূল্যবৃদ্ধি এনেছে। এসব কারণ মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হচ্ছে।

    আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারী অর্থায়নে ঘাটতি—বিগত অন্তর্বতীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময়ে অর্থসংকট থাকার ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তহবিলে বাধা পড়েছে, যা পরিকল্পিত কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখতে সমস্যা তৈরি করেছে।

    অবশেষে, জিডিপিতে শিল্প খাতের যে গুরুত্ব তা বিবেচনায় রেখে এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রয়াত হলে বছরের সমষ্টিগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। শিল্প খাতের দুর্বলতা পুরো অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই শীঘ্রই অবস্থা স্থিতিশীল করে তুলতে নীতি ও বাস্তবায়নে মনোযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীনের ভেটো

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীনের ভেটো

    রাশিয়া ও চীনের ভেটোতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পক্ষে আনা একটি প্রস্তাব বাতিল হয়েছে। প্রস্তাবটি উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষে পেশ করা হয়েছিল। (বিবিসি)

    নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, আর পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদান থেকে বিরত থাকে। স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের ভেটোতে প্রস্তাবটি পাস করেনি।

    কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র আলোচনার পর মূল খসড়া বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছিল। শুরুতে খসড়াটিকে ‘চ্যাপ্টার সেভেন’—অর্থাৎ সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি—এর আওতায় রাখা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। এরপর ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি’সংক্রান্ত অংশটিও বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত শুধু সম্মিলিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে ‘জোরালোভাবে উৎসাহিত’ করার ভাষায় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়।

    বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ভোটের আগে তিনি সদস্যদের বলেন, প্রস্তাবটি নতুন কোনো বাস্তবতা তৈরি করছে না; বরং ইরানের ক্রমাগত শত্রুভাবাপন্ন আচরণকে রোধ করার জন্য একটি কড়া পদক্ষেপ, যা বন্ধ করা জরুরি।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া — যে কোনো এক সদস্যের ভেটোই পরিশেষে কোনো প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। 이번 ভেটোর ফলে হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ওই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাস্তবে রূপায়িত হয়নি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ স্থগিত করে দিয়েছে ইরান। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান আমেরিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—উভয়ভাবে—সব কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বার্তা আদানপ্রদান বন্ধ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এসেছে। ওই সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-ে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতার মৃত্যু হতে যাচ্ছে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত তা-ই হতে চলেছে।’

    এরপরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছাড়াও পাল্টা হামলা হতে পারে।

    সেই背景ে হলেও, মঙ্গলবার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি সংঘাতের একটি সন্তোষজনক সমাধানের আশাও প্রকাশ করেন।

    সিএনএন ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করছে। একটি পাকিস্তানী নিরাপত্তা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব একটি বড় ধরনের অগ্রগতির জন্য কাজ করছিল।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • খুলনায় ‘তেলবাজ’ মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের রহস্য: কৃত্রিম সংকট, কালোবাজারি ও প্রতিকারপ্রস্তাব

    খুলনায় ‘তেলবাজ’ মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের রহস্য: কৃত্রিম সংকট, কালোবাজারি ও প্রতিকারপ্রস্তাব

    খুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ যতটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে, ততটাই দায়ী অসাধু মোটরসাইকেল চালকদের একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট — স্থানীয়ভাবে যে গ্রুপকে অনেকেই ‘তেলবাজ’ বলছেন। পেট্রোল পাম্পগুলোয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন এবং ভোগান্তির পেছনে মূলত یہی চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুদ করছে এবং দোকানে লিটারপ্রতি অনেক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছে।

    সরেজমিন পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়, সকাল ১১টায় তেল দেওয়া থাকলেও ভোর থেকেই মোটরসাইকেলের সারি কিলোমিটার ছুঁই ছুঁই করে। এদের এক বড় অংশ পেশাদারভাবে তেল সংগ্রহ করে — একবার তেল নিয়ে দ্রুত কোথাও ড্রামে ঢেলে পড়ে আবার একই বা অন্য পাম্পে ফিরে এসে পোশাক পরিবর্তন করে লাইনে দাঁড়ায়। ফলে একই এক ব্যক্তিই দিনে একাধিকবার তেল নেয়। পাম্পের কর্মীরা অভিযোগ করছেন, অনেকেই একদিনে ১০ বার পর্যন্ত তেল নিচ্ছে; এতে সাধারণ চালকদের জন্য তেল পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

    এই সিন্ডিকেট ড্রামে তেল তুলে রেখে পরে খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি সাধারণ দামের সঙ্গে ১০০–১৫০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামান্য সংখ্যক দুষ্কৃতী পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহককে ফিরিয়ে দিচ্ছে, আবার সরকারি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে ড্রাম ভর্তি জ্বালানি নিয়ে বাইরে চড়া দামে বেচে দেয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বন বিভাগের স্টিমারের জন্য পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা লবণচর এলাকায় বিক্রির সময় প্রশাসন ধরেছিল।

    প্রতিরোধের চেষ্টা হিসেবে কিছু পাম্প তেল দেওয়ার সময় মোটরসাইকেলের টাওয়ারে রং দিয়ে চিহ্ন করছে, তবে চালকরা অন্য পাম্পে গিয়ে সিরিয়াল বা লাইনে এসে পুনরায় তেল ভরছেন, ফলে বিধান কার্যকর হচ্ছে না। খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে পাওয়া তথ্যে গত বছরের তুলনায় সরবরাহ খুব একটা কমেনি; তথাপি বাজারে চাহিদা ভিত্তিহীনভাবে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। ডিলার ও এজেন্ট পর্যায়ে রেশনিং হচ্ছে বলে জানালেও খুচরা পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণ থেকে বাহির হয়ে গেছে।

    প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমান অভিযানও চলছে। ফুলতলার একটি পাম্প — মেসার্স নওশিন এন্টারপ্রাইজ — সম্পর্কে র‌্যাব-৬ জরিমানা করেছে; আর খুলনা জেলা প্রশাসন কাকন ফিলিং স্টেশনকে পরিমাপকরে কম দেওয়ার অভিযোগে জরিমানা করেছে। এসব উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও মজুদকারীরা এবং বাজার manipulators নতুন কৌশল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পেট্রোল পাম্পের শ্রমিকরা বলছেন, তারা অসহায়। ‘একজন চালক যদি একবারের বেশি তেল না নিতে পারত, প্রকৃত চালকেরাই বঞ্চিত হত না,’ এক কর্মীর মন্তব্য। পাম্প মালিকরাও বলেন, সংকটকে পুঁজি করে অনেকে স্বার্থ লুটছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সমস্যা মোকাবিলায় ডিজিটাল সমাধানের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবে একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার বা মোবাইল অ্যাপ চালুর কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী তেলের পরিমাণ এবং তেল নেওয়ার অন্তততম সময় অন্তর-নিয়ম (উদাহরণ: ৩ দিনে একবার) স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যাবে। এতে একজন চালক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পাম্প থেকে তেল নিতে পারবে না এবং কৃত্রিম পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশনের (খুলনা বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা) সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ পিন্টু জানাচ্ছেন, ‘এ সংকট সরবরাহের চেয়ে বেশি অব্যবস্থাপনার ফল। মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে থাকবে। অবিলম্বে অ্যাপভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা এবং তেল ভাঙার সময় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করলে কালোবাজারি কমানো সম্ভব।’

    প্রয়োজনে প্রশাসনকে কঠোরভাবে অভিযান চালিয়ে মজুদের উৎস শনাক্ত করতে হবে, পাম্প পর্যায়ের তদারকি জোরদার করতে হবে এবং দ্রুত ডিজিটাল বণ্টন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে প্রতিবার তেল বরাদ্দ ট্র্যাকযোগ্য করা প্রয়োজন। নয়তো সহজ সরল সাধারণ নাগরিকই প্রতিটি সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগেন।

  • বেনাপোলে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক নিহত, অপরজন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায়

    বেনাপোলে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক নিহত, অপরজন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায়

    বেনাপোল স্থলবন্দরে ক্রেনের সিলিং তার ছিঁড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু এবং অপর একজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টিটিআই মাঠে ভারতীয় ট্রাক থেকে বাংলাদেশি ট্রাকে লোহার সিট খালাস (আনলোড) করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, ক্রেনের দড়ি ছিঁড়ে ঘটনাস্থলে দুইজন শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে শাহজাহান আলীর (৫৬) মৃত্যু হয়। অপর আহত শ্রমিক সোহেল হোসেন (৫২) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

    নিহত শাহাজাহান আলী বেনাপোল পোর্ট থানার বেনাপোল (পাঠবাড়ি) গ্রামের আফতাবের ছেলে। আহত সোহেল হোসেন একই থানার সাদিপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। উভয়েই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: ৮৯১)-এর সদস্য বলে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিশ্চিত করেছেন।

    শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বেনাপোল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, পথিমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে; অপর শ্রমিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর অবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা লক্ষ্য রাখছেন।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পলাশ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে অসাবধানতাবশত ক্রেনের তার ছিঁড়লে দুইজন শ্রমিক আহত হয়েছেন; এক জন মারা গেছেন, আর একজন চিকিৎসাধীন। বন্দরের কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘটনার কারণ জানার জন্য খোঁজ-খবর ও তদন্ত চালাচ্ছে।