Blog

  • দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশ রক্ষার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বেসামরিক ইরানি অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া এবং জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত। তিনি এই কথা মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছেন।

    পেজেশকিয়ান পোস্টে লিখেছেন, “১ কোটি ৪০ লাখের বেশি সাহসী ইরানি এখন পর্যন্ত দেশ রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন।” নিজের প্রতিশ্রুতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, আমি আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

    পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাব হিসেবে এসেছে বলে সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগণকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আনার ব্যাপক আহ্বান জানিয়েছে। ওই আহ্বানের জবাবে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সৈন্যরাও ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার ইরানে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সামরিক কর্মী এবং প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। ইরানে মূলত দুটি আলাদা বাহিনী কার্যকর—নিয়মিত সামরিক বাহিনী ‘আরতেশ’ এবং প্রভাবশালী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। আইআরজিসির আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ নিয়মিত সদস্য এবং কয়েক লাখ রিজার্ভ সদস্য আছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    ইরান তেহরানকে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চাওয়ার নীতিতে অনড় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবর গত সোমবার ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট: ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতকে সাময়িকভাবে নয়, স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বিরোধিতার মুখে টিকেই আছে; ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা বিতর্কিত মন্তব্যও এ প্রেক্ষিতেই এসেছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি খোলার দাবি জানালে প্রথমে বলপ্রয়োগের হুমকি দিলেও কূটনৈতিক বিকল্পও খোলা রেখেছিল। তবে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার দিক থেকে এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত তারা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ সঙ্কটের গুরুত্ব অর্থনৈতিক: এই প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এবং বর্তমানে বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে।

    তেহরান মার্কিন ১৫ দফার বদলে নিজস্ব ১০ দফার প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার মেনে নেওয়া, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিসহ অনান্য বিষয়। সবচেয়ে মূল দাবি হচ্ছে—হরমুজ প্রণালির ওপর স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে হরমুজ এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চোক পয়েন্ট’। প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার এবং ভূগোলগত নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের—ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান বেশ কয়েকবার জাহাজ-ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত করে এবং চলাচল সীমিত করে দেয়, ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বাড়ে এবং জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়।

    পরে গোপন আলোচনার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়; এর বিনিময়ে ইরান ‘টোল’ ধার্য করেছে—প্রতি জাহাজে প্রায় ১–২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (কিছু কনজারভেটিভ হিসাব ১০–১৫ লাখ ডলার ধরে থাকে), যেগুলোর বেশিরভাগই চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। এমন নিয়ম চালু হলে ইরানের জন্য রাজস্ব ও স্বার্থ দ্বিগুণ হবে: কনজারভেটিভ হিসাব ধরলে শুধু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর উপর হারে মাসিক প্রবাহ থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার) আয় হতে পারে। গ্যাসবাহী জাহাজে একইভাবে টোল আরোপ করলে তা থেকে আরও প্রায় ৮০ কোটি ডলার মাসিক আয় আসতে পারে।

    এই পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। অবরোধ ও তেল-অবকাঠামোর ওপর হামলার খবরের প্রেক্ষিতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে—২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় জ্বালানি মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—যুদ্ধ শেষ হলে সরবরাহ পুনরায় স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে এবং দাম ধীরে নামার সুযোগ আছে। কিন্তু যদি শান্তি-চুক্তির শর্তে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে ‘টোল’ কস্ট আমদানিতে যোগ হবে এবং পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে—ফলশ্রুতিতে জ্বালানির দাম পুনরায় বাড়তে পারে। কতটা বাড়বে তা অনিশ্চিত; বিশেষ করে যদি বড় আমদানিকারক দেশগুলো (যেমন ভারত) বিশেষ ছাড় বা বিকল্প পথ খোঁজে।

    আর্থিক সংস্থাগুলোর অনুমান ভিন্ন: গোল্ডম্যান স্যাচস বলেছে, সরবরাহ ব্যাহত হলে প্রতি ব্যারেলে ৪–১৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত হতে পারে; অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এই ঝুঁকি প্রিমিয়ামকে ২৫ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য মনে করেছে।

    দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ থেকে অর্জিত টোল আয়কে টেকসই বলে দেখা সহজ নয়—এমন রাজস্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং তাতে প্রাপ্ত অর্থ পুনরায় ইরানকে সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করার আশঙ্কাও আছে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিল যুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহ বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে।

    বর্তমানে তেহরান নির্দিষ্ট কিছু দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়ে রেখেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ। যদি শান্তির পরও এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকে, তা নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে ও সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারবে।

    সমাপ্তিতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব তাকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রহরী বা গেটকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তেহরানের نفوذ বাড়াবে এবং ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। এই সম্ভাব্য ফলাফলকে নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ও বিশ্লেষকরা সতর্কতা জাহির করেছেন—যদি যুদ্ধ এইভাবে শেষ হয়, তবে বিশ্ববাজার ও অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘ সময়ের প্রভাব পড়বে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • খুলনায় নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    খুলনায় নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    খুলনা: খুলনার নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত আজ (মঙ্গলবার) তাঁর অফিসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

    মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক জানান, খুলনা জেলার যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সমাধানের জন্য তাঁর দফতর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিটি দপ্তরে জনসাধারণের হয়রানি রাখা হবে না এবং কাজের স্বচ্ছতা ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা ও ভূমিকা অব্যাহত রাখতে তিনি অনুরোধ করেন।

    সভায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • তামিমের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

    তামিমের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মঙ্গলবার বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করবে।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্তের আওতায় আসে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে ওই নির্বাচন পুরোপুরি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়নি; তদন্তকালে বর্তমান পর্ষদের একাধিক পরিচালকও অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

    এনএসসি ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নাম এবং তদন্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    অক্টোবরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২৫ সদস্যের একটি পর্ষদ দায়িত্বগ্রহণ করলেও শুরু থেকেই বোর্ডটি অস্থিরতার মুখে পড়ে। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সাতজন পরিচালক ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে পর্ষদের সদস্য সংখ্যা কমে ১৭ জনে সীমাবদ্ধ হয়। অবশেষে এনএসসির হস্তক্ষেপে পুরো পর্ষদই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    আদ্যাহক কমিটি নিয়ে আগে গুঞ্জন ছিল এটি ১৫ সদস্যের হতে পারে; তবে চূড়ান্তভাবে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের কাজ হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং বোর্ডে বিচারযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

    অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা হলেন: তামিম ইকবাল (আহ্বায়ক), রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।

  • নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিসিবি কমিটি বিলুপ্ত; তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন

    নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিসিবি কমিটি বিলুপ্ত; তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।

    এনএসসি গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপে চলমান বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। তদন্তে উদ্ভুট পদ্ধতিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে কাউন্সিলর করে তোলা হয়—যা নিয়মবিরুদ্ধ বলে ধার্য হয়েছে। এই কারণেই বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান আজ (৭ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, এনএসসি ইতিমধ্যেই বিষয়টি বিশ্বক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নামের তালিকাও আইসিসির কাছে পাঠানো হয়েছে।

    তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনার পর এনএসসি মনে করেছে যে বিসিবি কমিটি গঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট দুর্বলতা ও অনিয়ম ছিল। সে কারণেই আইনানুগ ক্ষমতার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    আমিনুল এহসান বলেন, এনএসসি দেশের ক্রীড়া সংস্থাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করে; যেখানে অনিয়ম দেখা যায়, সেখানে পরিষদ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ধারা-২১ অনুযায়ী যদি কোনো নির্বাহী কমিটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে না বা সংস্থার স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালায়, তবে এনএসসি সেই কমিটি ভাঙ্গার এবং প্রয়োজন হলে অ্যাডহক কমিটি নিয়োগের ক্ষমতা রাখে।

    এনএসসির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, গঠিত অ্যাডহক কমিটি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে নতুন ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করবে। প্রস্তাবিত কমিটির তালিকায় যারা আছেন, তাদের নাম আইসিসির নোটিশেও পাঠানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

    এনএসসি সিদ্ধান্তকে স্থানীয় ক্রীড়া অঙ্গনে জরুরি নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আইসিসির অনুসন্ধান ও স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম কেমন হয়, সেটাই ভবিষ্যৎ নির্দেশ করবে যে বিসিবির নেতৃত্ব পূনরায় স্থিতিশীল হবে কি না।

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আজ সোমবার (তারিখ অনুযায়ী) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম আজ আদালতে শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমনও ওই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে গ্রেফতার দেখান এবং পুলিশ প্রহরায় আদালতের হাজতখানায় নেয়া হয়।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। তারা তাকে প্রথমে শাহ আলী থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এবং পরে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় র‌্যাব কোয়ার্টারের সামনে এক মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মাসুদ হোসাইন আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বুকে সংক্রমণ দেখা যাওয়ায় অপারেশনও করাতে হয়।

    গত বছর ২৪ আগস্ট বেসরকারি টিভি প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আটক করে রাজধানীতে যাত্রাবাড়ী থানায় আনলে তাকে भी ওই আন্দোলন সংক্রান্ত আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এরপর থেকে তরুণ স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নামও নানা বিতর্কে repeatedly উঠে আসে, বিশেষত আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও জনগণের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে।

    অধিকতর তথ্যের জন্য মামলার তদন্তকারীর পক্ষ থেকে পরবর্তী কল বা বিজ্ঞপ্তি মিললেই বিস্তারিত জানানো হবে।

  • ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি টাকার জয়যাত্রা

    ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি টাকার জয়যাত্রা

    বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তির ১৭ দিনেও বক্স অফিসে শক্ত ধাক্কা দেখাচ্ছে। স্যাকনিল্কের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির তৃতীয় শনিবার ছবিটি প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা টিকে থাকা চলচ্চিত্র হিসেবে নজর কেড়েছে।

    পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ছবিটি প্রথম সপ্তাহ শেষ করে ছিল প্রায় ৬৭৪.১৭ কোটি টাকার সংগ্রহ নিয়ে। দ্বিতীয় সপ্তাহে এতে যোগ হয়েছে আরও ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। তৃতীয় সপ্তাহের শনিবারের আয় মিলিয়ে সব মিলিয়ে ভারতে ছবিটির সাময়িক মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি টাকা।

    বহু চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষক মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ধুরন্ধর ২’ ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই ছবিটি ‘আরআরআর’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’, ‘স্ত্রী ২’ ও ‘অ্যানিমেল’-এর মতো বহু ব্লকবাস্টারের লাইফটাইম কালেকশন ছুঁয়ে গেছে। তবে তালিকার শীর্ষে ওঠার জন্য এটিকে ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ এবং ‘পুষ্পা ২: দ্য রাইজ’ এর রেকর্ডও ছোঁয়া লাগাতে হবে। উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা আয় করেছিল।

    কাহিনীর দিক থেকে প্রথম পর্বে রণবীরকে হামজা নামের একজন ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে আমরা জাসকিরাত সিং রাঙ্গির উত্থানের গল্প দেখছি—কীভাবে ও কোন পরিস্থিতির ফলে সে ভয়াবহ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিতে রূপান্তরিত হয়, সেটাই এই কিস্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু।

    আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিং ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন আর্জুন রামপাল, আর. মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও সারা অর্জুন। এছাড়া দানিশ পাণ্ডোর এবং উদয়বীর সান্ধুর মতো শিল্পীদের উপস্থিতি দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ছবিতে একটি বিশেষ কেমিও রয়েছে পরিচালক আদিত্য ধরের স্ত্রী, অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের।

    বক্স অফিস পারফরম্যান্স কেবল সংখ্যারই খেলা নয়—দর্শক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচকদের যোগ হয়েছে যা ছবিটির ভবিষ্যত পথচলা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘ধুরন্ধর ২’ যে ক্রমে আগাচ্ছে, তাতে পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বড় মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা প্রবল।

  • আলটিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ: স্পিকার

    আলটিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ: স্পিকার

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আলটিমেটাম দেওয়ার স্থান রাজপথ—সংসদ নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মঞ্চে তিনি জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি সংসদের আলোচ্য হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল)

    প্রসঙ্গত, ভোলায় জামায়াতে ইসলামী কর্মী বিবি সাওদা (পরিচিত সাওদা সুমি) গ্রেফতারের ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নিন্দা জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে তাকে অফিস সময়ের মধ্যে মুক্তির দাবি তুলেছিলেন। এ ধরনের দাবি থাকায় স্পিকার এ মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি পার্লামেন্টের মাধ্যেমে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।

    ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট নিয়ে দলের উর্ধ্বতন পর্যায় থেকে তীব্র প্রতিবাদ এসেছে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ হয়েছে তা ‘নব্য ফ্যাসিবাদের’ বহুদূরপ্রসারী বার্তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা সব যুগে নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখতে প্রতিবাদী কণ্ঠকে নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। লজ্জা, লজ্জা!”

    ঘটনাটি শনিবার-রবিবারের সময় বাড়ে—রোববার (৫ এপ্রিল) রাতেই পুলিশ সাওদা সুমিকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে এবং পরের দিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারির পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘটনাটিকে অমানবিক ও অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ওই নারীর অবিলম্বে, নি:শর্ত মুক্তির দাবি করেছে। দলীয় এক বিবৃতিতে (সোমবার, ৬ এপ্রিল) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, এই গ্রেফতারে গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতি গেলো ধাক্কা লেগেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত প্রায় ১১টায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে বাড়ি থেকেই তুলে নিয়ে যায়; গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেছে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’ আছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গভীর রাতে একজন নারীকে গ্রেফতারের এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

    সংসদে স্পিকারের মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও অনুসন্ধানexpected হতে পারে; meanwhile রাজনৈতিক নেতারা ও সক্রিয়রা ঘটনাটির নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সোচ্চার থাকছেন।

  • রিমান্ড-জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

    রিমান্ড-জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

    সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রিমান্ড ও জামিন দুটোই নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয় এবং সেখানে রিমান্ড ও জামিন সংক্রান্ত শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের নতুন মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এন এম নাসির উদ্দিন জানান, শিরীন শারমিনকে আজ ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত রাতেই ডিবির হাতে ধানমন্ডির ওই বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল এবং পরে তাকে লালবাগ থানায় জনৈক আশরাফুলের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, লালবাগ থানায় দায়ের করা (মামলা নং-৫) ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তিন নম্বর আসামি বলা হয়েছে। একই মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছে শেখ হাসিনা, দুই নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

    ডিবি জানিয়েছে, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান খুঁজে বের করা, গ্রেফতার করা এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য পুলিশ শিরীন শারমিনের জন্য দুই দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। তবে আদালতে রিমান্ড ও জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে তার বিরুদ্ধে রংপুরে মুসলিম উদ্দিন নামে এক স্বর্ণশ্রমিক হত্যাসহ উত্তরা ও বনানী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে—এই তথ্যও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল। আজ দুপুরে তাকে ঢাকার আদালতে তোলা হয় এবং শুনানির পর আদালত তাকে স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা মেনে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

  • মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে

    মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে; এগুলো রুখে দিতে হবে। তিনি ঘৃণার বদলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধই রাখতে সবাইকে অনুরোধ করে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ‘ইস্টার সানডে’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্যবাদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়ানোকে মানা হবে না।

    তিনি বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অনন্য উদাহরণ যেখানে নানা ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। ইসলাম এখানে প্রধান ধারার অংশ হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতে ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা ঘটলেও সেগুলোকে অতিক্রম করে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে—এটাই তার বার্তা।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় দেশকে আরও সমৃদ্ধভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। “আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তা সম্পন্ন করতে চাই,” বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্যে, ঐক্য, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শক্তি; তাই বিভাজন সৃষ্টিকারী কৌশল বন্ধ করতে এবং সমাজে পরিচ্ছন্ন সম্পর্ক ফেরাতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।