Blog

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সময়ের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় এই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    রপ্তানি কমা ও আমদানির বাড়তি চাপই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বহু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানির খরচ বেড়েছে। এছাড়া বর্তমানে ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানিও হাঁকেছে। একদিকে আমদানির চাপ বাড়লেও রপ্তানি আয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি তীব্র হয়।

    ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশে পণ্যের আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। একই সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণ দেখা গেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। তিনি না হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়বে এবং অর্থনীতিকে জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।

    চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশ এখন সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্য সূচকে সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স ভালো অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের অবস্থান বেড়ে ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে; যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ঋণাত্মক করে ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের দিকে গেলে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে এটি ছিল ১০৬ কোটি ডলার, আর চলতি অর্থবছরে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নেগেটিভ অবস্থায় রয়েছে; প্রথম আট মাসে নিটভাবে বিদেশি বিনিয়োগে ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরের অনুরূপ অবস্থার সঙ্গে মিলে যায়।

    সংক্ষেপে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও দেশজ আমদানির বাড়তি চাহিদা মিলিত হয়ে চলতি অর্থবছরের আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে ফলপ্রসূ নীতি নেওয়া জরুরি।

  • ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে বিদেশি ব্যাংকে আটকা পড়া বা জব্দ হওয়া ইরানি কোনো তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতিতে এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জব্দকৃত কোনো অর্থ মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    এর আগে রয়টার্সে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার এমন একটি পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে তেহরানের জব্দ করা অর্থ কিছু অংশ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সূত্র নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক জানাননি। অন্য এক ইরানি সূত্র আরও জানিয়েছিল কাতারে রাখা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জব্দ তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে — তখন যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক टिप्पणी পাওয়া যায়নি।

    বর্তমানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি হাই-র্যাংকিং এক আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের জব্দকৃত তহবিল ছাড়ের খবরটি সঠিক নয় এবং ওয়াশিংটন এটি অস্বীকার করেছে।

    ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আগেই বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসাবে ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল প্রথমেই মুক্তি দিতে হবে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছৃ যে এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত মহল—গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হতে পারে।

    অপরদিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকারি সূত্র এবং ইরানি প্রতিনিধিদল দু’পক্ষই বিবিসিকে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সরকারিভাবে এক ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শাহবাজকে একজন মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

    তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে সমন্বয় তৎপরতা তবুও নিশ্চিত করে না যে এটা শেষ পর্যন্ত দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মধ্যে সরাসরি ও ঐতিহাসিক কোনো আলোচনা বা চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো আলাপচারিতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্যতা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিরাজমান।

  • আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন। দশ দিনব্যাপী পরিকল্পিত অভিযান শেষে তারা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৫টায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে সাগরে অবতরণ করেন।

    অবতরণকালে নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সাগরে নিরাপদে নেমে আসে। কিছু সময় পর উদ্ধারকারী দল তাদের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বের করে আনে, এবং সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন বলে নাসা জানায়।

    আর্টেমিস-২ মিশনটি ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রওনা করেছিল। মিশনে অংশ নিয়েছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। প্রথম তিন জন মার্কিন নাগরিক, আর জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

    নাসার তথ্যে অনুযায়ী মিশন চলাকালীন আর্টেমিস-২ পৃথিবীর চারপাশ প্রদক্ষিণের সময় মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের চূড়ান্ত ফ্লাইবাই-এর জন্য মোট ২,৫২,৭৫৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝায়—কোনো মহাধারাকে খুব কাছ থেকে ছাড়িয়ে যাওয়া হলেও মহাকর্ষীয় টানে সেই বসুকে করে কক্ষপথে আটকে না পড়া।

    পৃথিবীতে ফিরে আসা মুহূর্তটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর থেকে কেবল ১৩ মিনিটের মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে অবতরণ সম্পন্ন হয়। বায়ুর ঘর্ষণের কারণে ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল; ফলে ক্যাপসুলটি আকাশে একটি জ্বলন্ত বুদবুদ হিসেবে দেখা যায় এবং তীব্র তাপের কারণে রেডিও যোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুল ঠান্ডা হলে পর্যন্ত সাময়িকভাবে অপেক্ষা করতে হয়। তবে ওই তাপ কেবলে বাইরের অংশেই সীমাবদ্ধ ছিল—ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীরা নিরাপদে ছিলেন এবং তাদের সকলেই সুস্থ বলে নাসা নিশ্চিত করেছে। নাসার ইউটিউব লাইভে তাদের অবতরণের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছেন।

    নভোচারীদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। নাসার কর্মকর্তারা জানান, নভোচারীরা শুক্রবার রাতটা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন এবং শনিবার টেক্সাসের হিউস্টনে সদর দফতরের সঙ্গে মিলন করবেন।

    প্রসঙ্গত, নাসার চাঁদ অভিযানগুলোর ইতিহাস অনেক পুরনো — ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া অ্যাপোলো কর্মসূচির আওতায় ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনে প্রথমবার মানুষ চাঁদে পৌঁছায়। অ্যাপোলো সিরিজের ক্রমশ পরিচালনা চালিয়ে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ কক্ষপথ অভিযান পর্যন্ত মানবসৃষ্ট চাঁদ অভিযানের ধারা বজায় ছিল। কয়েক দশক পর নাসা আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি করার লক্ষ্য রেখেছেন। আর্টেমিস-২ ছিল সেই বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রস্তুতিমূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন।

    একাধিক কারণে আর্টেমিস-২কে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে; নাসা জানিয়েছে, এই মিশনটি অ্যাপোলো-১৩ দ্বারা কৃত পূর্বের দূরত্বের রেকর্ড ভেঙেছে। অভিযানের শেষভাগে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান একটি রেডিওবার্তায় বলেছিলেন, “আমরা ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদটার দুর্দান্ত একটি দৃশ্য দেখেছি — গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

    সূত্র: রয়টার্স

  • বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাটে গত বুধবার বিকেলে এক কুকুরকে শিকার করেছে মাজারস্থ কুমির। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ছড়ায় ও অভিযোগ ওঠে যে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

    ওই ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় দেখা যায়, কুকুরটি প্রথমে ঘাটে একা এসে পড়ে এবং পানির মধ্যে নামার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে কাছাকাছি এসে কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা সেটি মাটি চাপা দিয়ে দাফন করে। কিছু লোক দাবি করেন কুকুরটি অসুস্থ্য হওয়ায় তারা সেটি মাটিচাপা দিয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী এবং মাজারের নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, ওইদিন ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় ছিল। হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিকে থেকে এক আক্রমণকারী কুকুর দৌড়ে এসে তার পায়ে কামড় দেয়। নিরাপত্তা প্রহরী কুকুরটিকে ঠেকাতে চাইলে কুকুরটি দিঘির দিকে নামতে উঠে; সে সময় কুমিরটি এসে কুকুরটিকে ধরে পানির ভেতরে নিয়ে যায়। ফোরকান বলেন কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিল এবং অনেককে কামড়িয়েছে।

    মাজারের খাদেমরা ও স্থানীয়রা অভিযোগসমূহ খণ্ডন করে বলেছেন, ঘটনাটিকে অসত্যভাবে উপস্থাপন করে ভিডিও ও ম্যানিপুলেটেড তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা বলছেন, কাউকে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ছুঁড়ে দেওয়ার মতো সাহস ছিল না। স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কয়েকদিন আগে ওই কুমির ডিম পেড়েছিল; ডিম পাড়ার পর কুমিরটি একটু হিংস্রভাবে আচরণ করতে পারে।

    ঘটনার পর জেলা প্রশাসন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

    আজ বিকালে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে; কুকুরটির মাথা সিডিআইএল (সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি) এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএল এর রিপোর্ট পেলে কুকুরটি অসুস্থ্য ছিল কিনা বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা জানা যাবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম ঘটনাটি হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, যদি কেউ ভিউ বা বিনোদনের জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ফেলে থাকে, তাহলে কঠোর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর কোনো প্রথা নেই এবং এরকম দাবি ভিত্তিহীন। তিনি খাদেমদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কুমিরকে কোনো জীবিত প্রাণী খাওয়ানো না হয় এবং এ ধরনের কুসংস্কার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো হয়। এছাড়া প্রাণিটির শরীরে কুমিরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো আঘাত আছে কিনা তাও আমরা যাচাই করছি; তদন্ত কমিটি পেলে দ্রুত প্রতিবেদন দেবে এবং তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তথ্য মতে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন ওই দিঘিতে দীর্ঘদিন ধরেই কুমির রাখা হলেও বর্তমানে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে কেবল একটি কুমিরই এখন দিঘীতে আছে। ওই কুমির আগেও মাঝে-মধ্যেই মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

    ওই দিন ঘটা কুকুর শিকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ল্যাব রিপোর্টের ওপর সবাই অপেক্ষা করছে।

  • সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। যেখানে মনের মতো পরিষেবা ও সুযোগ থাকবে—সেই খুলনাই গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল বিকেলে নগরীর গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সকলের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্ত করতে হবে—আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতে আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করব।’’ তিনি মন্দিরের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সম্ভব সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন।

    মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।

    এদিন সকালে প্রশাসক নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজের তহবিল হতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। সামাজিক কাজে নিবেদিত লোকজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ—যাদের মধ্যে সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন ও বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস আছেন—তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছেন বিসিবির নির্বাচক প্যানেল। শনিবার (১১ এপ্রিল) ঘোষণা করা স্কোয়াডে কোনো চমক নেই—পাকিস্তানের বিপক্ষে যে দলে খেলেছে তারা সকলেই কিউই সিরিজের দলে রয়েছেন।

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে এবং তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি নিয়ে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে, পরের ওয়ানডে হবে চট্টগ্রামে। পাকিস্তান সিরিজে ভালো করতে না পারলেও আফিফ হোসেন ও সাইফ হাসানকে রাখা হয়েছে; তাছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসও দলে সুযোগ পেয়েছেন।

    ম্যাচের সূচি অনুযায়ী ওয়ানডে তিনটি ম্যাচ হবে ১৭ ও ২০ (মিরপুর) এবং ২৩ (চট্টগ্রাম) এপ্রিল। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ ২৭ ও ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে এবং ফাইনাল ম্যাচ মিরপুরে ২ মে হবে।

    শুরুর সময়েও পরিবর্তন এসেছে—প্রাথমিকভাবে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকা ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে সকাল ১১টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইভাবে ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো সন্ধ্যা ৬টার বদলে বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হবে।

    প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ স্কোয়াড:

    মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

  • ব্রাজিলকে ৩-০ হারিয়ে কাতার টিকিট কেটেছে সেলেসাওরা; ম্যাচ শেষে ফুটবলংঘাটনী ও লাল কার্ড

    ব্রাজিলকে ৩-০ হারিয়ে কাতার টিকিট কেটেছে সেলেসাওরা; ম্যাচ শেষে ফুটবলংঘাটনী ও লাল কার্ড

    চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ম্যাচে বড় জয় পেল সেলেসাওরা। লাতিন আমেরিকার অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের শনিবারের লড়াইয়ে ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। এই ফলের ফলে ব্রাজিল আগামী নভেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

    ব্রাজিলের হয়ে রিকেলমে হেনরিক দুইটি গোল করেছেন এবং এদুয়ার্দো কন্সেকাও একটি গোল যোগ করায় লড়াইটা একতরফা হয়ে যায়। চলমান টুর্নামেন্টে ব্রাজিল এখনো অপরাজিত থেকে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে।

    হারার পরও আর্জেন্টিনা গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তাদের পেছনে ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়া ৪ পয়েন্ট করে এবং পেরু শূন্য পয়েন্টে রয়েছে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা যদি বলিভিয়াকে পরাস্ত করতে পারে, তবে তারা চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে এবং বিশ্বকাপের বাকি টিকিটগুলোর জন্য চাইতে পারবেন না—অর্থাৎ সরাসরি বিশ্বকাপেও খেলবে। ওই নির্ধারিত ম্যাচটি হবে রোববার রাত ২টায়।

    ম্যাচের শেষপর্যায়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে ফুটবলারেরা হাতাহাতি পর্যন্ত গিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার তোবিয়াস গয়তিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যার ফলে তিনি আগামীকাল বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। এই ঘটনার কারণে দলের জন্য চাপ আরও বেড়েছে।

    গ্রুপপর্বের বাকি ম্যাচগুলোও রোববার অনুষ্ঠিত হবে—আলবিলেস্তে ও বলিভিয়ার ম্যাচের পাশাপাশি ব্রাজিল ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে মাঠে নামবে। প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট থেকে মোট সাতটি দল কাতারে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে এবং সেখান থেকেই বিশ্বকাপের সোজা টিকিট নিশ্চিত হবে; বাকি তিনটি স্থান প্লে-অফে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিগ্রহীত দলগুলোর মধ্যে নির্ধারিত হবে।

    ব্রাজিলের দিক থেকে এই জয় তাদের গ্রুপ জয় ও বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পথে বড় পদক্ষেপ। আর্জেন্টিনার জন্য এখনও একটি সুযোগ রয়ে গেছে—বলিভিয়ার বিপক্ষে বড় পারফরম্যান্সে তারা স্বপ্নরক্ষা করতে পারবে কি না, সেটাই এখন সকলের নজরকাড়া প্রশ্ন।

  • বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    নব্বইয়ের দিকের সুপরিচিত অভিনেত্রী, মঞ্চশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত শিল্পজীবনে বহু ধারায় কাজ করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই তার সাবলীল উপস্থিতি লক্ষণীয়।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গিয়ে একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দেন বিপাশা। ওই আলাপে অভিনয়জীবন নিয়ে নানা কাণ্ডকারখানা তুলে ধরার পাশাপাশি বলিউডে প্রস্তাব পাওয়া ও সেটি প্রত্যাখ্যানের পেছনের কারণ নিয়েও বিস্তারিত জানান তিনি।

    সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল—‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সময়টাতে কি বলিউড থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন কি? জবাবে বিপাশা বলেন, বলিউডের প্রস্তাবটি এত আগের নয়, তার পরের সময়েই এসেছে। এই প্রস্তাবটি ছিল এক ধরনের পার্শ্বচরিত্রের পথ—যখন ফোন করে প্রস্তাবটি জানানো হয়েছিল, তার ফোন নম্বরটি এখনো তার ফোনে সেভ আছে এবং সেই ব্যক্তির সঙ্গে কয়েকবার কথাও হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে নির্দিষ্ট সিনেমার নাম তিনি স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেননি।

    বলিউড প্রস্তাব কেন ফিরিয়েছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরে বিপাশা বলেন, তখন তার মনে হয়েছিল তিনি কখনোই নিজের দেশের মানুষকে ছোট করতে পারবেন না। ‘‘আমার দর্শক আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তাদের ভালোবাসা আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। ওখানে গিয়ে কোনো তুচ্ছ চরিত্রে অভিনয় করে যদি কেউ ভাবেন আমি দেশকে হেয় করছি, সেটা আমি চাইব না,’’ তিনি বলেন।

    তিনি আরও বলেন, নিজেকে তিনি একে ‘‘তারকা’’ হিসেবে না দেখে ‘‘পাবলিক ফিগার’’ মনে করেন। একটি পাবলিক ফিগার হওয়ার সঙ্গে বড় ধরনের দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে, এবং প্রতিটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ববোধ বজায় রাখতে হবে—এটাই তার ব্যক্তিগত নীতি। মানুষের ভালোবাসাকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র ও মূল্যবান হিসেবে দেখেন এবং সেই ভালোবাসার দায় নিহিত করেই বিদেশি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মতে, পৃথিবীতে নানা বিরোধ ও সহিংসতার মূল কারণ ভালোবাসার অভাব; তাই মানুষের ভালোবাসা রক্ষা করাই তার নীতিগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

    সংক্ষিপ্ত কথায়, বিপাশা হায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল আত্মসম্মান, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা ও পাবলিক ফিগার হিসেবে দায়িত্ববোধ বজায় রাখা—এই তিনটি কারণ থেকেই তিনি বলিউড প্রস্তাব বাজেয়াপ্ত করেননি।

  • শাকিবের আইডিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর—আজমান রুশো নিশ্চিত

    শাকিবের আইডিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর—আজমান রুশো নিশ্চিত

    ‘তাণ্ডব’-এর পর আবার শাকিব খান ও সাবিলা নূর একসঙ্গে বড়পর্দায় দেখা যাবে—এটাই চারদিকে আলোচনা। যদিও আগে официаль ঘোষণা হয়নি, শ্যুটিং সেট থেকে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে খুশির আভাস দেখা গিয়েছিল। এখন চলচ্চিত্রের পরিচালক আজমান রুশো নিশ্চয়তা দিলেন—সাবিলা নূরই রকস্টারের নায়িকা। তিনি জানান, নায়িকার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শাকিব খানের পরামর্শ ও সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    রুশো বলেন, “আমার মনে হয় রকস্টারের জন্য সাবিলা উপযুক্ত। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সম্মত হয়েছেন। কাস্টিংসহ সিনেমার বড় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোই আমরা শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করে নিয়েছি।” তিনি বললেন, শুটিং সেটেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে, যা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।

    পরিচালকের আরও কথায় উঠে আসে এই ছবির জন্মকাহিনি—এটি শাকিব খানের আইডিয়ায় তৈরি হচ্ছে। শাকিব নিজেই পরিচালককে জানান যে তিনি পর্দায় রকস্টারের চরিত্রে অভিনয় করতে চান, আর সেই ইচ্ছে থেকেই গল্পের মূল রূপ নেয়। রুশো জানান, “শুরুর আলোচনা চলাকালীন একদিন শাকিব ভাই আমাকে বললেন, তিনি পর্দায় রকস্টার হতে চান। শুনে মনে হয়েছিল যেন স্বপ্ন সত্যি হলো। আমার একসময় মিউজিশিয়ান হিসেবেই কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল; সঙ্গীতশিল্পীদের জীবন ঘেঁটেছি, তাদের গল্পে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এ থেকেই এই ছবি গড়ে উঠছে।”

    ফিল্মের নাম ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই একরকম গুঞ্জন ছড়িয়েছে—এটি কি ইমতিয়াজ আলির ‘রকস্টার’-এর মতো? রুশো সেই তুলনা সরাসরি খণ্ডন করে বলেন, “ইমতিয়াজ আলির ‘রকস্টার’ আমারও খুব পছন্দের। তবুও রকস্টার নামে অনেক সিনেমা আছে—আমার ছবিটির নামও রকস্টার। কিন্তু এটা কোনো নির্দিষ্ট চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত নয়।”

    রকস্টারের কাহিনি সম্পর্কে পরিচালক সংক্ষেপে জানালেন, “এটি এক রকস্টারের জীবনকে ঘিরে আবর্তিত গল্প—এখানে পরিবার, ভালোবাসা ও ট্র্যাজেডি সব মিলিয়ে একটি জীবনকথা বলা হয়েছে। দিনশেষে এটি মানুষের জীবনেরই একটি অংশ।”

    রকস্টার নির্মিত হচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের ব্যানারে। চিত্রনাট্য লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন। ছবির আরো বিস্তারিত তথ্য এবং আনুষ্ঠানিক কাস্টিং ঘোষণার জন্য প্রযোজক দল শীঘ্রই আপডেট ঘোষণা করবেন বলে সূত্র জানাচ্ছে।

  • র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করছে এবং তালিকা শেষে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে। র‍্যাব বলছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চাঁদাবাজদের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

    ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

    র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি কোনো এক খাতে সীমাবদ্ধ নয়—এটি মহাসড়ক কেন্দ্রিক পরিবহন খাত, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি সহ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। ছোট স্তরের থেকে বড় পর্যায়ের সব ধরনের অপরাধীরাই তালিকার মধ্যে থাকবে।

    বক্তা আরও জানান, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না, তাই তালিকা তৈরিতে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেয়া হচ্ছে।

    তালিকায় যদি রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আসে কি হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ; কোনো ধরনের পক্ষপাত থাকবে না। যাঁরা অপরাধ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান বা পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রস্তুত হলেই দ্রুত মাঠে অভিযান শুরু করা হবে এবং তা আজ থেকেই হতে পারে।