Blog

  • সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণেই সমৃদ্ধ নগরী গড়ার আহ্বান

    সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণেই সমৃদ্ধ নগরী গড়ার আহ্বান

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে পাশে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনাকে সুন্দর করে তোলাই তার উদ্দেশ্য এবং এ কাজের জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল বিকেলে নগরের গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি খুলনা বিভাগীয় শ্রী শ্রী হরিমন্দির পরিচালনা কমিটি ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস আয়োজিত। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।

    বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই—এমন লক্ষ্য তিনি ব্যক্ত করেন। তিনি সবাইকে আন্তরিকতা ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলে দেশের সমৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং মন্দিরের চলমান সমস্যাগুলো সমাধানে নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

    মতুয়া মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।

    সকালেও প্রশাসক নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজের তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ উদ্বোধন

    খুলনায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ উদ্বোধন

    খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২০২৬-এর উদ্বোধন। শনিবার সকাল ৮:৩০ টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের শুভসূচনা করা হয়।

    টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোলা খায়রুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, খুলনা শাখার এসএভিপি ও শাখা প্রধান মো. নাহিদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, দৌলতপুর শাখার এসএভিপি ও শাখা প্রধান তাজবীন আলম খান।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, এস এম জাকির হোসেন রিপন, মো. বেলাল হোসেন, বিভাগীয় কোচ মো. মনোয়ার আলী মনু, জেলা কোচ মো. সামছুল আলম রনি, আজিজুর রহমান জুয়েলসহ বিভিন্ন স্কুলের কোচ ও শিক্ষকবৃন্দ। আয়োজকরা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিভা উন্মোচনে এবং ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার গড়াে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উদ্বোধনী দিনে খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। প্রাণবন্ত মোটিভেশনে ভরা পরিবেশে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী ম্যাচে গাজী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় বনাম ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুলের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠে প্রাণবন্ততা যোগ করে।

    আয়োজকরা জানান, চলমান পর্যায়ে ম্যাচগুলোতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করে দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা পরিচয় করিয়ে দেবে—এ বৈশ্বিক প্রত্যাশা নিয়েই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হয়েছে।

  • নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে। সিরিজের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক প্যানেল শনিবার, ১১ এপ্রিল স্কোয়াড ঘোষণা করেছে—ঘোষিত দলে বিশেষ কোনো চমক নেই।

    ঘোষিত স্কোয়াডে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য শেষ সিরিজে খেলানো সকল ক্রিকেটারই জায়গা পেয়েছেন। ফলে কাউকে বাদ দেওয়া কিংবা নতুন কোনো সিরপ্রাইজ ডাক নেই। পাকিস্তান সিরিজে দল প্রত্যাশিত ফল না দিলেও আফিফ হোসেন ও সাইফ হাসানকে রাখা হয়েছে, আর অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসও জায়গা পেয়েছেন। স্কোয়াডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে। মোট তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজে ওয়ানডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ১৭ ও ২০ এপ্রিল এবং চট্টগ্রামে ২৩ এপ্রিল। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে (২৭ ও ২৯ এপ্রিল) এবং সিরিজের শেষ ম্যাচ দাঁড়িয়েছে মিরপুরে (২ মে)।

    প্রথমে ওয়ানডে ম্যাচগুলো বিকেল ৩টায় শুরু করার কথা ছিল; কিন্তু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সূচিতে পরিবর্তন এনে ওয়ানডে ম্যাচগুলো সকাল ১১টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিনটি ম্যাচ প্রথম নির্ধারিত সময়ে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সামঞ্জস্য করে বিকেল ৩টায় শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য নেয়া বাংলাদেশ দলের স্কোয়াডে স্থান পাওয়া ক্রিকেটারদের নামগুলো হলো: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

    বিডি-নিউজ সিরিজটি আয়োজক ও ভক্ত উভয়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হবে—ছোট ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং নতুন করে রণনীতি গড়ে তোলার দিক থেকে দল কী পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটাই নজরবন্দি থাকবে।

  • শাকিবের আইডিয়ায় তৈরি হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর নিশ্চিত

    শাকিবের আইডিয়ায় তৈরি হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর নিশ্চিত

    তাণ্ডবের পর আবার আরও একসঙ্গে দেখা যাবে শাকিব খান ও সাবিলা নূরকে—এই খবর ইতোমধ্যেই ভাইরাল। যদিও সাবিলার উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগে আর হয়নি, শুটিং সেট থেকে ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় কৌতূহল বেড়েছে। এখন সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘রকস্টার’-এর নায়িকা হিসেবে সাবিলা নূরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    রুশো বলেন, তিনি মনে করেছিলেন সাবিলা ওই চরিত্রে ভাল লাগবেন। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করার পর শাকিব সম্মতি জানালে সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে সাবিলা চরিত্রটির জন্য সঠিক ব্যক্তি। রুশো আরও जोडেন, ‘‘শুধু কাস্টিং নয়, সিনেমার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়।’’

    পরিচালক জানিয়েছেন, এই সিনেমার মূল ধারণা এসেছে শাকিব খানই তুলে ধরার কথায়। শাকিবই পরিচালকের কাছে আগাভাবে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, এবং সেই আইডিয়া থেকেই ‘রকস্টার’-এর গল্পের রূপরেখা নেওয়া হয়। রুশো বলেন, ‘‘সিনেমা নিয়ে যখন প্রাথমিক আলাপ হচ্ছিল, তখন একদিন শাকিব ভাই আমাকে বললেন, পর্দায় তিনি রকস্টার হতে চান। শুনে মনে হচ্ছিল, যেন স্বপ্ন সত্যি হলো। আমার আগে মিউজিশিয়ান হিসেবে থাকা এবং মিউজিশিয়ানের জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করাই এই গল্প গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে।’’

    সিনেমার নাম ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকে অনেকে বলছে, এটি বলিউডের ‘রকস্টার’ ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে। এই গুঞ্জন উড়িয়ে রুশো জানান, তিনি ইমতিয়াজ আলির ‘রকস্টার’ পছন্দ করেন, কিন্তু তাঁর কাজ কোনো קודםকার চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত নয়। ‘‘রকস্টার’ নামে অনেক ছবি আছে, আমাররাও নামটিই নিয়েছি, কিন্তু এটা কোনো নির্দিষ্ট ছবির অনুকরণ নয়,’’ বলেন তিনি।

    রুশো আরও জানান, ছবির গল্প এক রকস্টারের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে—এখানে থাকবে পরিবার, ভালোবাসা ও ট্র্যাজেডি; সারমর্মে এটি এক জীবনের গল্প।

    ‘রকস্টার’ নির্মাণ করছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড ব্যানারে। চিত্রনাট্য লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন।

  • আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা গুরুতর

    আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা গুরুতর

    ভারতের কালজয়ী গায়িকা আশা ভোঁসলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তাকে অন্তঃশ্বাসকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সামদানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা বর্তমানে তিনি যে অবস্থায় আছেন তা নিয়ে তত্ক্ষণাৎ সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি।

    সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তবে পরিবার থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বিগত কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন আশা ভোঁসলে বলে জানা গেছে।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে আশা ভোঁসলে ভারতীয় সঙ্গীতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’সহ একাধিক মর্যাদাবান সম্মানে ভূষণীত হয়েছেন। এছাড়া বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন—‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো বহু হিট গানে তার কণ্ঠ ভক্তদের মুগ্ধ করে রেখেছে। গিনেস বুকে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    চিকিৎসকরা আরও পরীক্ষার পর বিস্তারিত জানানোর কথা বলছেন; ততক্ষণে হাসপাতাল বা পরিবারের কোনও আনুষ্ঠানিক আপডেট এলে তা জানানো হবে। ভক্ত ও সহশিল্পীরা আশা ভোঁসলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছেন।

  • ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ঢাকা ভারতকে আবারও অনুরোধ করেছে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি এসব কথা বলেছেন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে (৮ এপ্রিল) দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে, তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি এবং এই সফরে আমরা সেই দাবিটি পুনরাবৃত্তি করেছি।’’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব বিশদ এখনই প্রকাশ করেননি তিনি।

    প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।

    সূত্রানুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে খলিলুরের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশ সরকার নির্দেশিকাভাবে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়—যাতে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে খলিলুর বলেন, ‘‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে এখনই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামি কয়েক সপ্তাহে এই সফরের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন; উভয় পক্ষই সম্পর্ককে এগিয়ে নেবার ব্যাপারে জোর দিনছেন।

    দিল্লির বৈঠকে বাংলাদেশ সীমিত হারায় কার্যরত ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর অনুরোধ করেছে বলে খলিলুর জানান। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতীয় সহযোগিতার আবেদনও করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই সংকট আরও জটিল হতে পারে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটি উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এই সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’’

    খলিলুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এ বছর বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আঞ্চলিক এই জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার কথাও তিনি বলেছেন—যদি সদস্য দেশগুলো অংশ নেয়ার কারণগুলো দূর করা যায়, তবে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাধা থাকার কথা নয়।

    খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখা যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’’

  • রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে সারাদেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২,২২১ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ ছিল। রেলপথে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    এই তথ্য জানিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেন, প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজেদের তথ্য ব্যবহার করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের বিশ্লেষণে দেখা যায়— মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন, বাস যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভৌগলিক বিশ্লেষণে মোট ৫৭৬টির মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারী চাপা বা ধাক্কা, ৮২টি পেছন থেকে আঘাত ও ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    মার্চে মোট ১,০০৮টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল; এর মধ্যে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি সহ নানা ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    আঞ্চলিক দিক দিয়ে ঢাকার বিভাগে সবচেয়ে বেশি — ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা সিলেট বিভাগে— ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছিলেন ১৫.৪২ জন, সেখানে মার্চে এটি বেড়ে হয়েছে ১৭.১৬ জন— যা প্রায় ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ অতিরিক্ত গতি, যার ফলে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারান। তারা সুপারিশ করেছে গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং চালকদের প্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপর প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ বা ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। তারা সুদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

  • গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে নজীরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের লোকজন প্রহারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি এমনভাবে আচরণ করেছে যে আওয়ামী লিগকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।

    এসব অভিযোগ জানান তিনি শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। শেরপুর-৩ আসন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    গণভোট সংক্রান্ত দ্বিচারিতার কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন সামনে থাকলে বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা সর্বস্ব মেনে চলবে; কিন্তু পরে ক্ষমতায় থাকার জন্য গণভোটের আদেশই বাতিল করা হচ্ছে—এইভাবে দলের আচরণ জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের ত্যাগের অবমাননা বলে তিনি আখ্যা দেন।

    নির্বাচনে ‘মাগুরা মার্কা’ পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তোলেন তিনি। বলেন, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং জামায়াতের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও ভিডিও মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পরও সিইসি ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’ দাবি করে দেশের জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছেন।

    বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না; ক্ষমতায় থাকতে চাইলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন এবং সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    বক্তাগণ বগুড়া ও শেরপুর উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও তদন্তের দাবি করেন। সমাবেশের আগে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর এলাকায় শেষ হয়। মিছিলে অংশীরা উভয় কেন্দ্রেই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের দাবি-অধিকারের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ বলেন, এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—শ্রমিকেরা গণআন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদের সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য গণ-অভ্যুত্থানে জয় করেছে শ্রমজীবী মানুষরা। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন, তিনি উল্লেখ করেন।

    অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের নীতির বিরুদ্ধে বেঈমানি করেছে; গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে। এই সরকার গণবিরোধী সরকার—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল তা আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও বিএনপি ভঙ্গ করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি না মানলে এর ক্ষতিকর পরিণতি হবে, তিনি সতর্ক করেন এবং বলেন, ‘‘আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকারসহ দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ বলেন, বর্তমানে তারা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে কাজ করছে। ওই ঐক্যের উদ্দেশ্যটাও স্পষ্ট—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি দেওয়া যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা পূরণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করা। এই লড়াইয়ে ঐক্য থাকা জরুরি, তিনি বলেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে আছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ। ‘‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন—বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের আন্দোলনের বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে,’’ তিনি বলেন।

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির কথাও বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়; আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব, যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক অবনতি সরাসরি পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নানা চাপের ফলেই গত বারো মাসে সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামেছে এবং ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা — যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকে সিএসআর খাতে নথিভুক্ত সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ওই বছরের তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭%) কমেছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    ট্রেন্ড আরও স্পষ্ট: ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (৩৩%) কম। ২০২২ সালের ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দুই বছরে সিএসআর ব্যয় ৫১৩ কোটি টাকার বেশি কমেছে — প্রায় ৪৫% ক্ষেত্রে হ্রাস।

    ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতকে কড়া আঘাত হেনেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখা মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় অনেক ব্যাংকের প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    ব্যাংকাররা আরও জানাচ্ছেন, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর ব্যয়ের কমতে থাকা একটি বড় কারণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো অনুগতভাবে ব্যয় করে; অনেক ক্ষেত্রেই এসব ব্যয় সিএসআরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্যখাতেও হয়েছে। ২০২৪-এর জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটা ফুরিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে — তার মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় মাত্র ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল ১০% হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। সে সব ব্যাংকের নাম — জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একইসঙ্গে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেন: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যেই ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থও ব্যয় করেছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতের উদ্দেশ্য রক্ষা করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ ও অনিয়মের কারণে অনেকসময়ই এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা মনে করান, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, কড়াকড়ি নজরদারি ও সঠিক নীতিমালা অনবশ্যক।