Blog

  • নতুন দুই এমপি শপথ গ্রহণ করলেন

    নতুন দুই এমপি শপথ গ্রহণ করলেন

    তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য আজ শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপসহ সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের স্বাক্ষরিত গেজেটের মাধ্যমে জানানো হয় যে, শেরপুর-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন মো. রেজাউল করিম বাদশা। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনের আগেই একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোট স্থগিত হয়েছিল। পরে নতুন তারিখে ৯ এপ্রিল সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    অপরদিকে, গত ১০ এপ্রিল বাজেয়াপ্ত নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। এরপর তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে সেটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং ৯ এপ্রিল সেখানে উপ-নির্বাচন হয়।

    উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৯৭টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামি ৬৮টি, স্বতন্ত্র ৭টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, এবং অন্যান্য দল ও স্বাধীন প্রার্থী বিভিন্ন আসনে বিজয় লাভ করেন।

    বর্তমানে পর্যন্ত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনও গণনা চলছে, কারণ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফল ঘোষণা করা হয়নি। মামলার নিষ্পত্তি শেষে আসল ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী গত মার্চ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৫৭৬টি; এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ২,২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    একই সময়ে জলপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ ছিলেন। রেলপথে ঘটে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ফাউন্ডেশনের নিজস্ব তথ্য।

    যানবাহনভিত্তিক তদন্তে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী সর্বাধিক—২০৪ জন; তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন; প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন; বাসের যাত্রী ৪৫ জন; ট্রাক/পিকআপ/ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন ছিলেন।

    দুর্ঘটনার ধরনে ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা, ৮৬টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা, ৮২টি ব্যাক-এন্ড (পেছনে ধাক্কা) দুর্ঘটনা এবং ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কে সংঘটিত এসব ঘটনায় মোট ১,০০৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী ভাঙা পরিসংখ্যানে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, পিকআপ ৪১টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি সহ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের গাড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি—১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম—২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় মার্চে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারিতে দেশে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছিল ১৫.৪২ জন; মার্চে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জন—ফলে মৃত্যুহার বেড়েছে প্রায় ১১.২৮ শতাংশ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতি; ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারায়। তারা আরও বলেছে যেসব কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে সেগুলো হলো ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা এবং শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা।

    ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছে—গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো, চালকদের প্রেরণামূলক ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া এবং দুর্বল সড়ক ও যানবাহন সমূহ দ্রুত সংস্কার করা। এসব উদ্যোগ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধ করা যাবে না, তাদের মত।

  • শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আভাস

    শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আভাস

    বাংলাদেশ ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি পুনরায় তুলেছে—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এসময় বাংলাদেশ existing প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনরায় জানিয়েছে। কৌশলগত কারণে বৈঠকের সব বিস্তারিত তথ্য তিনি এখনই প্রকাশ করেননি।

    ২০১৪ সালের নয়—(মেটা-টেক্সট বাদ) ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন এবং বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

    এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছিল।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তখন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের নিজস্ব বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘তরিকের ভারত সফর অবশ্যই হবে, তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহে সফরের প্রস্তুতির জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই চিঠি আদান-প্রদান ও টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং উভয়পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

    খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলোকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখতে পাবো বলে আশা করছি।’ তিনি আরও জানান, বৈঠকে ভারত কর্তৃক গত এক বছর ধরে সীমিত করা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতের সহায়তা চাওয়াও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংকট আরও জটিল রূপ নিলে ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো উন্নয়নের গতিকে ধাক্কা দিতে পারে, তাই এ সমস্যার বিরুদ্ধে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সমন্বিতভাবে 대응 করা জরুরি।

    এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংগঠনটিকে সক্রিয় করার আগ্রহ দেখাচ্ছে—এও জানিয়ে দেন খলিলুর। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার ওপর তিনি জোর দেন। খলিলুর বলেন, ‘যদি আমরা সবাই মিলে কাজ করি এবং যেসব কারণে কিছু দেশ অংশ নিতে অনিচ্ছুক—সেই কারণগুলো দূর করতে পারি, তবে সার্ক সম্মেলনে কোনো বাধা থাকার কথা নেই; এটি মূলত অন্যদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়।’

  • শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছে, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের কর্মীদের ওপর সশস্ত্র ও অপপ্রবৃত্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের কারণে বিএনপি নিজ দলীয়ভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে, ফলত আওয়ামী লীগও প্রভাবিত হয়েছে—এমন বক্তব্য দাঁড় করান তিনি।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই সমাবেশটি শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদ ও ফলাফল বাতিলের দাবি জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল।

    গণভোট নিয়ে তিনি বিএনপিকে কড়া আক্রমণ করে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল তারা গণভোটের ফল মেনে নেবে; কিন্তু এখন সরকার গঠন করলে তারা গণভোটের সিদ্ধান্তই বাতিল করার চেষ্টা করছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, শহীদদের ত্যাগেরও প্রতি অসমান্যতা।’

    তিনি আরও বলেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে যা ঘটেছে তা আগের তচকে-নাম করা কুচক্রী পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি—বিবিধ জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুগত কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ছবি মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নিরীক্ষণের দাবি করে দেশবাসীর সঙ্গে তামাশা করেছে।

    বিএনপিকে সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; যদি ক্ষমতায় থাকতে চান তবে দলেরাই প্রথমে চলমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও সমাধান করবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন ও আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়- বিজয়নগর গোলচত্বর পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নেওয়ার দাবি উচ্চারণ করেন।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের দুর্দশা ও মুক্তিযোদ্ধা–শ্রমজীবীদের ত্যাগ ভুলে গেছে। তিনি এ মন্তব্য করেন শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন, ‘‘এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, স্বাধীনতার লড়াই থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণ–অভ্যুত্থানে শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি কুশল-অভ্যুত্থানগুলোতে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বিএনপি শ্রমজীবীর রক্তের ভিত্তিতেই ক্ষমতায় আসে, কিন্তু এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন সরকারের নামে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা শ্রমিকদের ত্যাগকে উপেক্ষা করে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে বেইমানি করেছে। গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে—এ সরকার গণবিরোধী। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার বিএনপি ভঙ্গ করেছে—এমন განცხადებით নাহিদ বলেন, ‘‘ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি দেশের জন্য ভালো হবে না। আমরা গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকারসহ এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করবো।’’

    নাহিদ বলেন, তিনি ও তার নেতৃত্ব এক নতুন জাতীয় ঐক্যের আওতায় কাজ করছেন। ‘‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সব মঞ্চে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা—ঐ লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতি শ্রমিকদের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হন। আপনাদের ঐক্যই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে। নতুন বাংলাদেশের পথে—জুলাইয়ের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল—তাকে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘এবার শুধু সংসদেই নয়, রাজপথে নামারও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রত্যেক দাবি বাস্তবায়িত হয়।’’

  • জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ১,৬৯১ কোটি ডলার—প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ১,৬৯১ কোটি ডলার—প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর (২০২৫–২৬) জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ে থাকা ১,৩৭১ কোটি ডলারের তুলনায় বাড়।

    রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ওই সময়ের আমদানি ছিল ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বা পরিবর্তনের সীমা তুলনায় কম থাকায় আমদানির তুলনায় রপ্তানি বাড়তি চাপ সামাল দিতে পারেনি। আমদানি বৃদ্ধি এবং রপ্তানির ধীরগতির সমন্বয়ে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণগুলো রপ্তানি-খাত সংশ্লিষ্টরা এবং অর্থনীতিবিদরা হিসেবে দেখাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদরা বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ার ফলে সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। একই সময় রফতানিতে প্রয়োজনীয় গতি না থাকায় আয়ের ফারাক আরও বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আমদারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন; তা না হলে বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    চলতি হিসাব ও মোট ব্যালান্স:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবরণী অনুযায়ী, কারেন্ট অ্যাকাউন্টে (চলতি হিসাব) সামান্য ঋণাত্মক অবস্থান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারির শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অন্যদিকে সামগ্রিক ব্যালান্স (ওভারঅল ব্যালান্স) ইতিবাচক আছে—আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত ৩৪৩ কোটি ডলার এসেছে; আগের বছরের একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল। এই উদ্বৃত্ত অর্থাৎ সামগ্রিক ব্যালান্সে ইতিবাচকতা সরকারের বৈদেশিক দেনা-ভারি কমাতে সহায়ক বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

    রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগ:

    প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, উল্লেখিত আট মাসে প্রবাসী কর্মীরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের ১,৮৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বেড়েছে।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) গত অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১০৬ কোটি ডলার; চলতি বছর একই সময় এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার—অর্থাৎ কিছুটা কমেছে। শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টের দিক থেকে বিদেশি নিট অবস্থান আলোচিত সময়ে নেতিবাচক ছিল; শেয়ারবাজারে নিট বৈদেশিক বিনিয়োগ হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ডলার নেয়া গেছে, যা আগের বছরের সেই সময়ের সমান ঘাটতির কাছাকাছি।

    সমাপ্তি:

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে আমদানির চাপ বাড়ায় ঘাটতির জায়গা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে অনুরূপ ঝুঁকি মোকাবিলায় আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধি—দুই দিকেই জোর দেওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। দ্রুতগতিতে বৈদেশিক ভাণ্ডার শক্ত করতে নীতি প্রণেতাদের সময়মতো এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে বাজে আর্থিক অবস্থার দাপটে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সংকট গভীর হলো—সেই বছর ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে ব্যর্থ হয়। সেই আর্থিক ধাক্কায় পরবর্তীতে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও নাটকীয়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট সিএসআর ব্যয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা—প্রায় ৪২ শতাংশ—কম।

    এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর খাতে সবচেয়ে নিম্নস্তরের ব্যয়। আগের নিম্নতম রেকর্ড ছিল ২০১৫ সালে, তখন খরচ ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; তুলনায় এবারের ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা কম হয়েছে (৩৪.৫৭ শতাংশ)।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে খরচ হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে খরচ প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের তথ্য প্রকাশ পেলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফা আর বাস্তব আর্থিক চিত্রের মধ্যে ফাঁক উন্মোচিত হয়। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসান প্রকাশ্যে আসে এবং বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। সরকারি হস্তক্ষেপে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে একাধিক ব্যাঙ্ক একীভূত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমার একটি বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহযোগিতার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো অনেক সময় উচ্চ মাত্রায় খরচ করত; এমনকি প্রায়শই সেগুলো সিএসআর-এর পরিধির বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন ও সরকারের বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংক এখন তুলনামূলকভাবে বিচারে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেন, সিএসআর ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ বা অনিয়মের কারণে অর্থ অনুৎপাদনশীল প্রকল্পে চলে গেলে সামাজিক দায়বদ্ধতার মৌলিক উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে; তা-ই নির্দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে যথাক্রমে ৩০ শতাংশ করে, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ শতাংশ এবং বাকিটা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে মিল নেই। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি—৩৬ শতাংশ—ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় গিয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে জমেছে উল্লেখযোগ্য অংশ, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটিও টাকা খরচ করেনি। ওই ব্যাংকগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উল্লেখ্য, এই লোকসান মোকাবিলার সময়েও ছয়টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক সিএসআর খাতে টাকা দিয়েছে—এগুলো হল এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সারমর্মে, আর্থিক চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রকাশিত অনিয়ম মিলিয়ে ব্যাংকখাতের সিএসআর ব্যয় গত কয়েক বছরে দ্রুতভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাতে সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম পিছিয়ে না পড়ে, তার জন্য সিএসআর-র পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও লক্ষ্যভিত্তিক বরাদ্দ জরুরি।

  • ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ইরানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা

    ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ইরানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সরাসরি আলোচনা চলছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রথমবার উচ্চপর্যায়ের এই সাক্ষাতের ফলাফলের দিকে বিশ্ব—and বিশেষ করে ইরানি জনগণ—আকৃষ্ট হয়ে রয়েছে।

    আলোচনাগুলো হচ্ছে ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সেরেনায়, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রথম দফায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর রাতের খাবারের বিরতিতে যান। বিরতিচ্ছেদের পর সংক্ষিপ্ত বিরতির শেষে দ্বিতীয় দফায় আবারও আলোচনা শুরু হয়।

    আলোচনায় জড়িত ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির টোল এবং ইরানিদের দাবিকৃত সম্পদ অবমুক্তকরাসহ ইরানের মৌলিক শর্তগুলোর বিষয়ে আঞ্চলিক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের এবং অনেক বিষয় নিশ্চিত নয়। পাকিস্তানি মধ্যস্ততাকারীরা পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন—যা হলে ইরানের জন্য এটি বড় কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    পাকিস্তান সরকার সূত্রে প্রকাশিত বিবিসি উর্দু জানিয়েছে, প্রাথমিক আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর কারিগরি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হবে।

    আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে সমর্থন জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সাহসিকতার সঙ্গে’ প্রতিনিধিদলটি আলোচনা চালিয়ে যাবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন জনগণের সেবায় কাজ থামবে না এবং আলোচনার ফলাফল যাই হোক সরকার সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

    স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় শুরু হওয়া আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে ইরান নেতৃত্ব দেয় পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেডি ভ্যান্স; দলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    আলোচনায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।

    আলোচনাকে ঘিরে হোটেল সেরেনার আশপাশে শতশত সাংবাদিক সজাগভাবে অবস্থান করছেন; তাদেরকে সরাসরি আলোচনাস্থলে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বেশির ভাগ সংবাদকর্মী হোটেল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে থাকা ইসলামাবাদের প্রধান সম্মেলন কেন্দ্রে অবস্থান করে সংবাদ পরিবেশন করছেন।

    লেখক: পাকিস্তানের ‘বোল’ টিভির নির্বাহী সম্পাদক ও এপির ইসলামাবাদ করেসপন্ডেন্ট

  • আর্টেমিস-২: চন্দ্রাভিযান শেষে চার নভোচারী নিরাপদে ফিরে এলেন

    আর্টেমিস-২: চন্দ্রাভিযান শেষে চার নভোচারী নিরাপদে ফিরে এলেন

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ অনুষ্ঠানে থাকা চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। দশ দিনের অভিযানের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলের সমুদ্রে ওরিয়ন ক্যাপসুল অবতরণ করে এবং কিছু সময় পর উদ্ধারকারী বাহিনীর সাহায্যে তারা নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে বের হন।

    নাসা জানিয়েছে, অবতরণ ঘটেছে স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা পাঁচটায়। আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। ক্রুতে ছিলেন কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন (৫০)।前三জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, চতুর্থজন কানাডার নাগরিক।

    নাসার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মিশন চলাকালীন আর্টেমিস-২ পৃথিবীর দুই বার প্রদক্ষিণের সময় প্রায় ১১১৭৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের ফ্লাইবাইয়ের সময় মোট ২৫২৭৫৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝায় কোনো মহাকাশযান যখন কোনো গ্রহ বা небস্তুর খুব কাছ দিয়ে যায় তথাপি তা মহাকর্ষের প্রভাবে কক্ষপথে আবদ্ধ হয় না।

    পৃথিবীতে ফিরে আসার মুহূর্তটি ছিল নাটকীয়। ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর থেকে অবতরণে আসতে প্রায় ১৩ মিনিট সময় লাগে। প্রবেশের সময় বাতাসের ঘর্ষণে ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; এত তাপে ক্যাপসুলটি বাহ্যিকভাবে একটি অগ্নিগোলাকের মতো প্রদর্শিত হলেও ভেতরের ক্রুদের ওপর তাপ পৌঁছায়নি। প্রবল তাপের কারণে অবর্তমানে রেডিও সংযোগ কিছুক্ষণ বিচ্ছিন্নও হয়েছিল।

    সমুদ্রে অবতরণের পরে উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুলটিকে সহনীয় মাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল; এরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ক্রুদের উদ্ধার করা হয়। নাসা জানিয়েছে, নভোচারীরা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচারে নাসার ইউটিউব চ্যানেলে বিশ্বের তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখেন।

    নাসার উদ্ধারকাজে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সহযোগিতা করেছে। নভোচারীরা অবতরণকালের রাতে নৌবাহিনীর জাহাজে ছিলেন এবং পরে টেক্সাসের হিউস্টনে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবার কথা আছে।

    আর্টেমিস-২ প্রস্তুতিমূলক মিশন হলেও এর কিছু দিক ঐতিহাসিক। মিশনে ছিলেন একজন নারী নভোচারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একটি আন্তর্জাতিক উপাদানও ছিল—কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন ক্রুতে ছিলেন। এছাড়া মিশনটি পুরনো রেকর্ডও ভেঙেছে: অ্যাপোলো-১৩-এর পরে এতদূর পাড়ি দেয় এমন কোনো নাসা মানব-চালিত অভিযানের রেকর্ড আর্টেমিস-২ মাত্র পেরিয়ে গেছে।

    মিশনের শেষের দিকে, অবতরণের কয়েক মিনিট আগে কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিওবার্তায় বলেছিলেন: “আমরা (ক্যাপসুলের) দ্বিতীয় জানালা দিয়ে চাঁদের দারুণ এক দৃশ্য দেখেছি — গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

    সূত্র: রয়টার্স, নাসা.

  • বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে কুমির তুলে নিয়ে গেল; তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে কুমির তুলে নিয়ে গেল; তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাট থেকে এক কুকুরকে কুমির ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেলে এ দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সরগরমি শুরু হয় এবং ঘটনার真তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ অনুযায়ী, মাজার এলাকায় একমাত্র কুমির ধলা পাহাড় ঘাটে অবস্থান করছিল। ঘটনার দিন কুকুরটি অসুস্থ মনে হচ্ছিল এবং আশপাশের মানুষের মধ্যেই কামড় দিয়েছে বলে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। কুকুরটি নিজে থেকেই ঘাটে নামে; কিছু সময় পর কুমির এসে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কুকুরটির মরদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা তাকে মাটি চাপা দেয়।

    একটি ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে থাকা ভিডিওতে দেখা যায় কুকুরটি অর্ধেক পানিতে তলিয়ে আছে, পরে পানির গভীরে নামার চেষ্টা করে এবং কুমির কাছে এসে কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধারণা ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে; কেউ কেউ বলছেন কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু লোক খাদেমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান হাওলাদার জানান, ঘটনাস্থলে অনেক দর্শনার্থী ছিলেন। কুকুরটি হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিক থেকে দৌড়ে এসে ফোরকানের পায়ে কামড় দেয়। পরে অন্যকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে ফোরকান কুকুরটিকে থামাতে চেষ্টা করেন; কুকুরটি পানির দিকে নেমে গেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে কুমির এসে কুকুরটিকে পানি থেকে ধরে নিয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ অন্য পাশে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা সেটি মাটিচাপা দেয়।

    মাজার সংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তারও বলেন, কুকুরটি আগে থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল, তাঁর দোকানের সামনে কয়েকজনকে কামড়িয়েছে, এক তিন বছরের শিশুকেও গ্রাসের চেষ্টা করেছে এবং বিভিন্ন পোলাপান খেয়েছে। তাই এখানে এখন মিথ্যা গল্প ও ভিত্তিহীন অভিযোগও ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    মাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিচিত যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পাড়ায়; ডিম পাড়ার পরে মা কুমির একটু হিংস্র হয়ে যায়। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন না, কিন্তু সেখানে অনেকেই ভিডিও করেছে এবং কাউকে কুমিরের মুখ থেকে কুকুর ছিনিয়ে আনতে অনেকে সাহস পায়নি।

    খাদেমরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে এআই বা মিছমিছ তথ্য ব্যবহার করে মূল ঘটনা বিকৃতি করা হয়েছে। তাদের দাবি, কুকুরটিকে কেউ বেঁধে বা ঠেলে দিঘিতে ফেলেনি; কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং নিজে থেকেই ঘাটে নেমেছিল। প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলামও ঘটনার অনাকাঙ্ক্ষিততা স্বীকার করে বলেন, ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের কারণে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

    ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসক আতিয়া খাতুনকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও আছেন। জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং কুকুরটির মাথা সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানিয়েছেন, রিপোর্ট পেলে কুকুরটির অসুস্থতা বা জলাতঙ্কের মতো রোগ ধরা পড়েছে কিনা তা জানা যাবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)–র সদস্য শেখ মোহাম্মদ নূর আলম বলেন, যদি প্রমাণিত হয় কেউ বিনোদন বা ভিউ বৃদ্ধির জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ঠেলে দিয়েছে, তাহলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানিয়েছেন, মাজারের দিঘিতে কখনও কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হয়নি এবং এমন কাজ করা হয় না—যদিও অনেকে কুসংস্কারের কারণে বেঁচে থাকা প্রাণি ছুড়ে দিতে চাইতে পারেন। তিনি খাদেম ও দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়েছেন যে কোনো জীবিত প্রাণি দিঘিতে না ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধও করেন।

    পটভূমি হিসেবে জানা গেছে, খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে প্রাচীনকাল থেকে কুমিরের বংশধর রাখা হলেও বর্তমানে ঐতিহ্যগত প্রাচীন কোনো কুমির নেই। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে একটিই এখনো দিঘীতে আছে এবং ঐ কুমির আগেও কয়েকবার মানুষের উপরে আক্রমণ করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি দ্রুত কাজ করছে; প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।