বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো সব ধরনের রেমিট্যান্সের বিস্তারিত খরচের তথ্য সংগ্রহ করবে।’objectif এ পর্যায়ে, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা বিদেশে থাকাকালে এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্য পদ্ধতিতে পাঠানো রেমিট্যান্সের পুরো লেনদেনের তথ্যগুলো কেন্দ্রে পাঠাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পৃথক দুটি ফর্মে এই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে, যেখানে প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য পরবর্তী দিনের দুপুর ১২টার মধ্যে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের تازা সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে আরও আগে থেকেই প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের খরচের ডেটা সংগ্রহ করা হয়, আর এই খরচের পরিমাণ বাড়ছে—এমনটি দেখায়। বিভিন্ন দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের জন্য ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো নানা ধরনের ফি আরোপ করে থাকে, পাশাপাশি করও ধার্য হয়। দেশিয় ব্যাংকগুলো এই লেনদেনের জন্য বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ নেয়, যার ফলে খরচ আরও বাড়ছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিনের রেমিট্যান্সের বিস্তারিত তথ্য, যেমন- প্রেরকের নাম, ব্যাংকের বা এক্সচেঞ্জ হাউসের তথ্য, ব্যবহার করা উপকরণ, রেমিট্যান্সের পরিমাণ, থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, ভ্যাট, কর, অন্যান্য খরচসহ মোট খরচ পরদিনের দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এই তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের খরচ কমানো যায়। আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ দিক হলো, বর্তমানে দেশে প্রবাসীরা তাদের রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের সময় কোনও ফি নেন না, ফলে কিছুটা খরচ কমে। তবে, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো নিজস্ব মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী আরও ভিন্নভাবে রেমিট্যান্সের খরচ নির্ধারণ করে থাকে। এ বিষয়টিতেও সমতা আনার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Month: December 2025
-

বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার
অচেনা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পেঁয়াজের বাজারের স্থিরতা ফিরিয়ে আনতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যারা আমদানির জন্য আবেদন করেছেন, তারাই আবার আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একমাত্র একবারই আবেদন করতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজার ট্রেডারদের দখল থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এই কার্যক্রম যতদিন পর্যন্ত প্রয়োজন, ততদিন চালু থাকবে।
-

নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে বৃদ্ধি
অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ফের বৃদ্ধি পেয়ে দেড় বছরে প্রথমবারের মতো ৮.২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত মাসে এই হার ছিল ৮.১৭ শতাংশ, যদিও গত বছরের নভেম্বরে তা ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্বের মাসের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি। পাশাপাশি, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হলো ৯.০৮ শতাংশ। অর্থাৎ, টানা দুই মাস ধরে এই সব খাতে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
গত তিন বছর ধরে দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে মূল্যস্ফীতি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড়ে এই হার প্রায় ১০.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিবিএসের তথ্যমতে, গত নভেম্বরে দেশের গড় জাতীয় মজুরি বৃদ্ধি ছিল ৮.০৪ শতাংশ। এর মানে, মজুরি বৃদ্ধি মূল্যের বৃদ্ধি অনুভূতিগুলোর চেয়ে কম।
মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম একেবারেই কমে গেছে, এমনটি বোঝায় না। বরং, কেবলমাত্র কিছু মাসে দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে—এটাই স্বাভাবিক।
বাজার পরিস্থিতির এই পরিবর্তনগুলি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, যেমন সুদের হার বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর কমানো। তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রবাহ সচল রাখতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে सरकार।
-

সোনার দাম ভরিতে বেড়ে ৩৪৫৩ টাকা
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক নতুন দৃষ্টিকোণ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল দুই লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে শুল্ক ও ভ্যাটসহ অন্যান্য ফি যোগ করে গহনার দাম নির্ধারিত হবে। যারা সোনার গহনাসহ অন্যান্য পণ্য বানাচ্ছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল রোববার থেকে নতুন দামে বিক্রি শুরু হবে এই সোনার, যা বাজারের পরিস্থিতি এবং সোনার দাম কমার প্রভাবে ঘটে। এতদিনের চেয়ে এই দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে সাধারণ ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং জুয়েলার্সের ওপর। বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে। অন্যদিকে, রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ভরি প্রতি ৪ হাজার ৫৭২ টাকা। এর আগে ভরিতে রুপার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, যা এখন থেকে বাড়তি মূল্য যোগ করে বিক্রি হবে। এই দাম পরিবর্তনের ফলে বাজারে সোনার ও রুপার দাম সূচক আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
-

তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে
দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা আরও ৭৩৪টি বাড়তে সক্ষম হয়েছে। তবে একই সময়ে ব্যাংকগুলোর জমা টাকার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। আর সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, এই তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা যুক্ত হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। এ সময় ব্যাংকের জমা মোট টাকার পরিমাণও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে আমানতের মোট পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষের দিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায়। ফলে, এই তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। তদন্তে দেখা যায়, মোট কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা জুন শেষে ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। আর সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৩৪টি। এর আগে মার্চের শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। কোটিপতি হিসাবগুলোতে জমা ছিল ৮৮ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষে এই জমার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮১৪ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। এতে দেখা যায়, তিন মাসে মোট ৫৯ হাজার ২২০ কোটি টাকার মতন জমা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি হিসাব বলতে বোর্ডে থাকা ব্যক্তিরা নয়, বরং অনেক বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। এছাড়া এক ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫জন। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি, এবং ২০০৮ সালে তা পৌঁচেছ ১৯ হাজার ১৬৩টিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বেশি বাড়ছে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।
-

নাহিদ ইসলাম বললেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে আনছেন পরিকল্পিতভাবে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে পুনর্বাসনের জন্য একটি স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা গোপন মিটিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, কোর্ট পাড়ায় জয় বাংলা স্লোগান শোনা যাচ্ছে, টক শো বাস্তবায়ন হচ্ছে যেখানে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। ভোটের মাঠেও দেখছি, জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই সমস্ত চিত্র একত্রে সময়ের পরিকল্পিত উদ্যোগের অংশ, যারা আওয়ামী লীগকে আবার রাজনৈতিকভাবে অভ্যস্ত করে তুলতে চান।
-

নির্বাচন কঠিন, ষড়যন্ত্র অব্যাহত: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনটা সহজ হবে না, কারণ ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। গত কয়েক দিন ধরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো— হাদিকে গুলির ঘটনা, চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা— এগুলো প্রমাণ করে যে আমি যা আগের বার বলেছিলাম তা ধীরে ধীরে সত্যি হচ্ছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার সপ্তম দিনের সিরিজের অংশ হিসেবে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতারা এই আলোচনা শোনেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘যদি আমরা নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে না আনি, যদি আমরা একে অপরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে এই দেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়বার্তা থেকে শুরু করে শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা ধীরে ধীরে দেশকে খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে এনেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ষড়যন্ত্রগুলো এখানে থেমে যাবে না, বরং আরও ভয়াবহ হতে পারে। তবে আমাদের ভয় পেতে হবে না, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং মানুষকে সাহস জোগাতে হবে, নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, দেশের সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করে তুলতে হবে। যত বেশি আমরা একাত্ম হবো, যত বেশি সামনে এগোবো, যত বেশি মরিয়া হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করবো— এটিই ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করবে।’
তারেক রহমান দাবি করেন, ‘‘বিএনপিরই একমাত্র শক্তি বা ক্ষমতা এই ষড়যন্ত্রগুলো ঠেকাতে পারে।’’ চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দলের প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনাগুলো কোনো ফায়দা নেওয়ার চেষ্টার অংশ।’
তিনি বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনা যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্য ও কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান, তথ্য প্রযুক্তি, বায়ু ও পানিদূষণ রোধ প্রভৃতি প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরেন ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের সময় এসেছে— আমি কি পেয়েছি, তা ছাড়িয়ে আসতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশ ও জাতির জন্য কি করতে পারলাম সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিন থেকে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং একযোগে কাজ করতে হবে। যদি আপনি কিছু করে থাকেন বা করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু রেখে যেতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নয়। আমাদের এই সংগ্রামে জয় লাভ করতে হবে। জয় নিশ্চিত করতে একমাত্র নিশ্চিত শক্তি হলো— বাংলাদেশের জনগণ। তাদের সাথে নিয়ে এই সংগ্রাম জিততেই হবে।’
এ বিষয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
-

আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা ফখরুল, আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা প্রবল
বাংলাদেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ যখন একুশের স্বপ্নে বিভোর হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করছে, সেই সময় আবারও দেশের অন্ধকার পাশ ফিরে আসার চেষ্টায় শত্রুরা হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। তিনি এ কথা বলেছেন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, একজন হিসেবে তিনি গভীরভাবে আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যতে আরও অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, যা দেশের জন্য এক ভয়ঙ্কর আভাস। এ দিন তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদাররা তাদের দোসরদের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকসহ বহু দেশপ্রেমিককে টুলে নিয়ে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল, যাতে দেশের মেধাহীন ও অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ফেলা যায়।
মির্জা ফখরুল এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এ ধরনের নির্মম কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে মেধা এবং স্বাধীনচেতা অন্যায়ের মুখে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য,非常 গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই দিনটি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্বপ্ন ও সাহসের কথা, যেখানে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেতনা লুকিয়ে আছে।
বিএনপির মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তার পক্ষ থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তারা এর মাধ্যমে শপথ নিয়েছেন যে, যে কোন মূল্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবেন। এ দিন তারা জাতীয় ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে দেশের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
-

নির্বাচন ও অভ্যুত্থান ঠেকাতে টার্গেট কিলিং এবং সজাগ থাকুন: নাহিদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে বাধাগ্রস্ত করতে আরও ব্যাপক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টার্গেট কিলিং চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি এই মন্তব্য করেন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের শ্রদ্ধা জানানো শেষে।
নাহিদ বলেন, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অংশ হিসেবে কিছুজন টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দমন করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রশাসন, সরকার ও অন্যান্য অপ্রত्यक्ष সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলো চিহ্নিত করে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ওই ব্যক্তি হত্যাচেষ্টা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, নানা রাজনৈতিক দল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরের প্রতি দোষারোপ করছে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে বিভাজন না তৈরি হয়। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে, কারণ না হলে ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো সুবিধা গ্রহণ করবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের কিছু সুশীল বুদ্ধিজীবী যে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে চলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষের অন্তর্নিহিত সম্মতি সৃষ্টি করতে হবে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে দুর্বল এবং বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে অস্থিতিশীলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্তে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই দিন স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা, শহীদ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর ও রায়েরবাজারের স্মৃতিসৌধে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া, এ দিন দুটি স্থান মানুষজনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যেন সকলেই শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারে।
-

মির্জা আব্বাসের হুঁশিয়ারি: হাদির ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, তার মতো তিনি যেন কেউ না আঘাত হানে। হাদির উপর গুলি চালানোর খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে গভীর ভাবে আহত হয়েছেন। এই হামলা গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেন আব্বাস। তিনি বলেন, যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের এক প্রতিবাদ ও হামলার তদন্তের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। আব্বাস আরও বলেন, হাদিকে গুলিবিদ্ধ করে হাসপাতালে নেওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যে একদল উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিতে শুরু করে। তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখলাম সবই পরিকল্পিত।আমি দীর্ঘ ৫০ বছর ঢাকায় রাজনীতি করি। শান্ত থাকায় হাদির চিকিৎসা ব্যাহত হয়নি, অন্যথায় হয়ত আরও ক্ষতি হতে পারত।
মির্জা আব্বাস বলেন, এই হামলার পেছনে এক বা একাধিক ষড়যন্ত্রকারীর হাত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা ৭১, ৮৬সহ বিভিন্ন সময় এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছি। এই ষড়যন্ত্রের মূল শক্তি হ’ল তারা, যারা শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না। তারা দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে যেতে চায়।
তিনি আরও বলেন, হাদির ওপর হামলার পর অনেক মানুষ ফেসবুকে দেশের মধ্যে অরাজগতা সৃষ্টি করতেও উসকানি দিয়েছে। তারা সবাই একটি কুচক্রী রাজনৈতিক দলের দোসর। আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি ৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছেন, কখনো মারামারি বা বিরোধে জড়িয়ে পড়েননি। তিনি বলেন, নির্বাচনে সবাই মিলেমিশে কাজ করেছেন। এই বিতর্কিত রাজনৈতিক দল, যারা সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে, তারা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তিনি কড়া ভাষায় দাবি করেন, হাদির ওপর হামলাকারীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা দরকার এবং তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
সবশেষে, মির্জা আব্বাস বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তিনি আমার সহযোদ্ধা। আমি আশাবাদী, আবারও নিয়মিত পথে তার সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যাবে এবং আমরা তার সাহসকে প্রশংসা করি।
