জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তান সতর্ক করে বলেছে যে, আফগানিস্তান যদি তাদের আশ্রয়দাতা ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে ব্যর্থ হয়, তবে পাকিস্তান নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনুরূপ সতর্কবার্তা ও তালিকা প্রবর্তন করে জানানো হয়েছে যে, তালেবান সরকারের সঙ্গে এখনো এশে বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠী— যেমন দায়েশ (আইএস-খোরাসান), তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), ইস্ট তুর্কমেনিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট, বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি এবং মাজিদ ব্রিগেড—অসংখ্য সদস্য আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ লাভ করছে। পাকিস্তানের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এসব গোষ্ঠীর শত শত নেতা আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের আশ্রয়ে রয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তালেবান সরকারকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় পাকিস্তান নিজেদের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। এ সময় তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তালেবান আফগানিস্তানে এসব গোষ্ঠীর অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং হামলার জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। প্রবল নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান এখনো আফগানিস্তানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টায় রয়েছে, এরই অংশ হিসেবে দোহা ও ইস্তাম্বুলে একাধিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, দুর্ভাগ্যবশত, পাকিস্তানের এসব শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছে তারা। পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেছেন, চলমান অবস্থায়, নিদর্শনীয় সন্ত্রাসী হামলার কারণে এখনো পাকিস্তানে প্রায় এক হাজার দুইশো নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে বলেছে, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত, পাকিস্তান জানায় যে, নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যেও তারা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সাথে সহনশীলতা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে চায়, যদিও পরিস্থিতি এখনো গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
Month: December 2025
-

ইরান এবার চোরাচালানজikkut ডিজেলবাহী ট্যাংকার জব্দ, বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রু আটক
ওমান উপসাগরে চোরাচালানের জন্য বহন করা একটি ডিজেলবাহী ট্যাংকারকে জব্দ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এই জব্দকৃত জাহাজে থাকা ১৮ জন ক্রুকে আটক করা হয়েছে, এর মধ্যে কিছু বাংলাদেশের নাগরিকও রয়েছেন। তবে কতজন বাংলাদেশি এই অভিযানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এই খবর জানা গেছে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি শুক্রবার জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে ৬০ লাখ লিটার চোরাচালানের ডিজেল বহনকারী এই বিদেশি ট্যাংকারটিকে আটক করা হয়েছে। দক্ষিণ হুরমুজগান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মুজতবা গাহরেমানির বরাত দিয়ে তারা জানায়, মূল জালিয়াতি চক্র ও চোরাকারবারিদের মোকাবিলা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের জাসক বন্দর শহরের কাছে জলসীমা থেকে এই জাহাজটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
মুজতবা গাহরেমানি বলেন, জাহাজটির প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং চালানের ‘বিল অফ ল্যাডিং’ না থাকার কারণে এটি সন্দেহের মুখে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, জাহাজটি সব নেভিগেশন ও দিকনির্দেশনা সিস্টেম বন্ধ করে রেখেছিল। এছাড়াও, এই ট্যাংকারে ১৮ জন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে ট্যাংকারের ক্যাপ্টেনও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ক্রুদের বেশিরভাগই আগে ভারত, শ্রীলঙ্কা, বা বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘ থামার নির্দেশ অগ্রাহ্য করা’, ‘পালানোর চেষ্টা’ এবং নেভিগেশন ও কার্গো চালানের নথিপত্র না থাকা।
অতিরিক্ত ভর্তুকি ও স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ফলে ইরানে জ্বালানির দাম বিশ্বের অন্যতম নিন্মে থাকছে। এর ফলে স্থল ও জলপথে ব্যাপক হারে জ্বালানি চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য করে বল হয়, বিশ্বের অন্য কোনো দেশের তুলনায় ইরানে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম। সরকারের এই সুবিধার কারণে দেশটিতে জ্বালানি চুরি ও পাচারকারীর গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যারা সস্তায় তেল কিনে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে।
এপ্রিল মাসে পারস্য উপসাগর থেকে একাধিক চোরাইকৃত জাহাজ জব্দ করেছিল ইরানিরা। অন্যদিকে, গত বুধবার ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে মার্কিন নৌবাহিনী, যা মূলত ইরান ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই জাহাজের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অবৈধ তেল পরিবহন চলছিল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ভেনেজুয়েলারে বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেকবারই ব্যবস্থা নিয়েছে। এই ধারাবাহিক চুরি ও অবৈধ কার্যক্রমের কারণে ইরান ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বৈরিতা বাড়ছে।
-

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুকধারীর গুলিতে দুজন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স শহরে দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বন্দুকধারীর গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে পরীক্ষা চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রভিডেন্সের মেয়র ব্রেট স্মাইলি নিশ্চিত করেছেন যে হতাহতের খবরটি সত্য। তিনি জানান, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ অজান্তে অস্ত্রধারীর হামলা চালায়। কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত না যে, হামলাকারী কিভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং বেরিয়ে যান। হামলাকারীর বর্ণনা করা হয়েছে, কালো পোশাক পরা একজন পুরুষ। তবে এখনো তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিকেল ৪টা ২২ মিনিটের দিকে জরুরি সতর্কবার্তা দেয়, যেখানে বলা হয় যে বারুস ও হোলে ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিজিক্স ভবনের কাছে সক্রিয় বন্দুকধারী রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয় যে তারা দরজা বন্ধ রাখুন, ফোন সাইলেন্ট করুন এবং নিরাপদে লুকিয়ে থাকুন, যতক্ষণ না কোনও পরবর্তী নির্দেশনা আসছে।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুকধারীকে সেখানে পায়নি। এরপরও অনলাইনে এক তথ্য ছড়িয়ে পড়ে যে হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন, পরে তিনি সরে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সটন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি এমন একটি দিন, যা আমরা কখনোই আমাদের কমিউনিটির জন্য কামনা করিনি। এটি আমাদের সবাইকে গভীরভাবে হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। ’ তিনি ক্যাম্পাসের সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং লকডাউনের নির্দেশনা মানার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়, আশেপাশের সবাইকে নিরাপদ থাকবার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
-

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে
গাজা শহরে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে যে তারা হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রায়েদ সাদকে হত্যা করেছে। তবে, এই বিষয়ে এখনও হামাস কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন বা নিশ্চিতকরণ দিতে পারেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল শনিবারের এই বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। হামাসের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়নি, তবে তারা বলেছে যে গাজা শহরের বাইরে একটি বেসামরিক গাড়িতে আঘাত হানা হয়েছে, যা অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি ঘটনা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রাম পোস্টে অভিযোগ করেছে, রায়েদ সাদ হামাসের সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছিলেন, যা দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় চলা ইসরায়েলি হামলার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাদকে এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং তিনি হামাসের অস্ত্র উৎপাদনকারী বাহিনীর অন্যতম প্রধান নেতাও ছিলেন।
সূত্র মতে, সাদ ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর গোষ্ঠীর সশস্ত্র শাখার দ্বিতীয়-মানুষ হিসেবে বিবেচিত। তিনি গাজা শহরের ব্যাটালিয়নের প্রধান ছিলেন, যা হামাসের সবচেয়ে বড় ও সুসজ্জিত বাহিনী।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি ড্রোন গাজা শহরের পশ্চিমে নাবুলসি মোড়ে একটি গাড়ির উপর আঘাত হানে, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, এই হামলাটিই হয়তো সেই হামলা কি না, যেখানে কথিত হামাসের সদস্য নিহত হয়েছেন, এ বিষয়ে স্পষ্টতা নেই।
গাজার কর্মকর্তাদের মতে, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই আক্রমণগুলি দৈনিক গিয়েছে, মোট সংখ্যা প্রায় ৮০০-র বেশি এবং এতে অন্তত ৩৮৬ জন নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল এখনও গাজায় অধিকাংশ মানবাধিকার সহায়তা ট্রাকের প্রবেশ বন্ধ রেখেছে।
বিশ্বসংগঠন জাতিসংঘ শুক্রবার সাধারণ পরিষদে এক অধিবেশনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুবিধা দেওয়ার, জাতিসংঘের প্রাঙ্গণে হামলা থামানোর এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি জানানো হয়েছে।
-

থাইল্যান্ডে কারফিউ জারি হচ্ছে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশে সম্প্রতি উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে থাইল্যান্ড কারফিউ ঘোষণা করেছে। এটি মূলত বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে ঘটে। খবর রয়টার্সের মতে, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বছর দুই দেশ বলাই বাহুল্য একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছে। মে মাসে সীমান্তে সংঘর্ষের সময় একটি কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর এই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলশ্রুতিতে সীমান্তের উভয় পাড়ায় কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
কারফিউ ঘোষণার পর থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি ব্যাংককে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনার আগে কম্বোডিয়াকে অবশ্যই শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।’
শনিবার থাই সেনাবাহিনী জানায়, তারা সীমান্তে একটি সেতু ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, ওই সেতুর মাধ্যমে কম্বোডিয়া ভারী অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রবেশ করাচ্ছিল। পাশাপাশি, কম্বোডিয়ার উপকূলীয় কোহ কং প্রদেশে থাকা কামান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে যে, থাই সৈন্যরা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
কারফিউটি কার্যকর হবে কোহ কং জেলার সীমান্তবর্তী ত্রাত প্রদেশের পাঁচটি জেলায়। তবে পর্যটনপ্রিয় দ্বীপগুলো কোহ চ্যাং ও কোহ কুড এই কারফিউর বাইরে থাকবে। এর আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সাকেও প্রদেশেও কারফিউ চালু হয়েছিল, যা এখনও জারি রয়েছে।
সোমবার থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া নিজেদের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বহু স্থানে ভারী অস্ত্রের গোলাগুলি বিনিময় করছে। এই সংঘর্ষ গত জুলাইয়ে পাঁচ দিন ধরে চলা লড়াইয়ের মতোই তীব্র, যা এই বছরের সবচেয়ে গুরুতর বিবেচিত। তখন তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় বিরোধ শেষ হয়।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা ‘সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধের’ ব্যাপারে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে শনিবার অনুতিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের ভূমি ও জনগণের উপর যে হুমকি এসেছে, সেটি যদি শেষ হয়, তাহলে লড়াই বন্ধ করে দেব।’
-

খুলনায় অস্ত্র তৈরির কারখানা নির্মাণের সত্য ঘটনা উন্মোচিত
খুলনায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে অস্ত্রের অংশ তৈরি সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পুলিশি অভিযানে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়, যার মাধ্যমে অন্তত ৩০টি অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব ছিল। তদন্ত শেষে জানা গেছে, এই অস্ত্র নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি (নেভাল সেকশন) ক্যাডেটদের জন্য প্রশিক্ষণের জন্য ডামি অস্ত্র তৈরি করা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতের দিকে খুলনা নগরীর জোড়াগেট এলাকার একটি গলিতে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ উদ্ধার করে কারখানার ভিতর থেকে অস্ত্রের ছাঁচ, সীসা, ট্রিগার, ট্রিগার গার্ড এবং ৩০টি অস্ত্রের নির্মাণের সরঞ্জাম। একই সঙ্গে কারখানা পরিচালনাকারী মো. নজরুল ইসলাম, আকবর আলী, শহিদুল ইসলাম ও পিকলুকে আটক করা হলেও পরে খালাস দেওয়া হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এই কারখানাতে অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে আসছিল। এর আগে এই কারখানা থেকে তৈরি অস্ত্রের চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এই নির্মাণ প্রক্রিয়াতে অস্ত্রের মূল অংশ সংযোজন অন্য কোথাও করা হতো।
অভিযানের সময় খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তৈমুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় বর্তমানে তিনজনকে আটক করেছি। মূল কারিগরকে ঈশ্বরদী থেকে আনা হয়েছে। এখানে অস্ত্রের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছিল, যেমন ট্রিগার, ট্রিগার গার্ড ও অন্যান্য খুচরা জিনিস।’
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএনসিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ প্রকাশ পায়। যেখানে দেখা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি প্লাটুনের (সেনা, নৌ ও বিমান শাখা) জন্য কিছু আধুনিক কাঠের অস্ত্র তৈরি করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা এবং আদেশ জারি করা হয়েছিল। ওই আদেশটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এবং গাজী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ঠিকানাও উল্লেখ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রগুলি ডামি অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিল, যা মূলত প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো। বিএনসিসি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলানো হয়েছে, এসব অস্ত্র আসলে বাস্তব নয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার তাজুল ইসলাম এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে, এবং পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএনসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এগুলো ডামি অস্ত্র। এরপর আটককৃত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা তাদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও 강화 করা হবে।
-

বাগেরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত
সারাদেশের মতোই বাগেরহাটে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের মূল অনুষ্ঠানে সকাল ৯টায় শহরের বধ্যভূমিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিদুর রহমান ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদদের স্মরণে গার্ড অব অনার প্রদান ও এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, জেলা আইনজীবি সমিতি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, এলজিইডি, সড়ক বিভাগ, যুব দল, মহিলা দল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন স্কুল কলেজ। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহররক্ষা বাধ সংলগ্ন বধ্যভূমিতে অনুষ্ঠিত হয় একটি আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগ বাগেরহাটের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ ফখরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিদুর রহমান, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামানসহ আরও অনেকে। বক্তারা ভাষণে বলেন, ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য এক বেদনাদায়ক দিন। এ দিনই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বুঝতে পেরেছিল তারা পরাজিত হয়েছে। এই দিন তারা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য শহীদ বুদ্ধিজীবিদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সারাদেশে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পাক হানাদার বাহিনী শেষের নৌকা টেনে নিয়ে যায়। এই শহীদ বুদ্ধিজীবি ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফলেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আজকের এই স্মরণসভা আমাদের জন্য এক গৌরবময় অনুপ্রেরণা।
-

দিঘলিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
দিঘলিয়ায় বাংলার মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ রোববার একটি সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার প্রশাসনের উদ্যোগে এটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হারুন অর রশিদ। এতে বিভিন্ন উপজেলা বিভাগের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মহান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে বলেছিলেন, সেই সময় পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসররা বাংলার সূর্য সন্তানদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে দেশকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা চালিয়েছিল। ১৪ ডিসেম্বরের ওই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে কেবলমাত্র ১১১১ জন বুদ্ধিজীবীকে জুলুম করে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামীর উন্নত, সমৃদ্ধ ও নির্লোভ বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় স্থানীয় কর্মকর্তারা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকৌশলী, খাদ্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা বলেন, আমাদের সকলের উচিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়ে তাদের আদর্শ ও ত্যাগের মূলমন্ত্র কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর, ক্ষুধা মুক্ত ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
উপজেলা প্রশাসনের এই আয়োজনে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে এই ত্যাগের ইতিহাস উৎসাহজনকভাবে থাকায় উৎসাহিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
-

খুলনায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা
খুলনায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনされ হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতি বছরই আমাদের কষ্টের সাথে এই দিনটি পালন করতে হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন, শিল্প ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তারা চেয়েছিল বাংলাকে মেধাশূণ্য করে দিতে। এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে তারা দেশের উন্নয়ন ও সভ্যতার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা প্রায় ১১শো বুদ্ধিজীবীকে হারিয়েছি, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। যুগযুগ ধরে যারা এই মাতৃভূমিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তাদের অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে ও দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে তারা অনুপ্রাণিত করে যাবেন।
প্রতি বছর এই দিবসে দেশের সর্বস্তরের মানুষ তাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব রহমান, স্থানীয় সরকারের দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. হ. মোঃ রুহুল আমীন এবং খুলনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মোঃ আবু জাফর। এ ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যারা এই মহান সংগ্রামের ইতিহাস ও ত্যাগের প্রতি নিজেদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
-

বাগেরহাটে জাপান প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
বাগেরহাটে জাপানপ্রবাসী খন্দকার রবিউল ইসলামের বাড়িতে ভোরের দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা তার বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সব সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলেন। এরপর ঝটপট করে ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা নগদ লুটে নেয়। খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
প্রবাসীর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খন্দকার আবু জাফর বলেন, তখন তিনি, তার স্ত্রী এবং বড় ছেলে ও তার স্ত্রীরাও বাড়িতে ছিলেন। ভোর চারটার দিকে বাথরুমের দরজা দিয়ে বের হতে গিয়ে ডাকাতদের হাতে পড়ে যান। তারা অস্ত্র দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে হাত, পা এবং মুখ বেঁধে ফেলেন, পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও একইভাবে জিম্মি করেন। তারপর বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতেরা ছাদে উঠে গেট ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেছিল।
বড় ছেলে ব্যবসায়ী খন্দকার মাইনুল ইসলাম জানান, তিনি আগে জাপানে থাকতেন। ডাকাতরা তার ঘরও তছনছ করেছে এবং তাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। তারা আমাদের নিঃস্ব করে দিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার আশংকা প্রকাশ করে বলে তিনি জানান।
খন্দকার আবু জাফরের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, ডাকাতরা তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে রেখে লুটপাট করে। এর মধ্যে এক দল ৬জনসহ এক মেয়ে ছিল। তারা বারবার বলছিল, কোনো ক্ষতি করব না, যা আছে দিয়ে দাও। তবে বেশি বাড়াবাড়ি হলে হত্যা করা হবে বলেও তারা হুমকি দেয়।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুম খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। এর আগে, ৯ ডিসেম্বর দিনদুপুরে বাগেরহাট শহরের ডাউনীস্থ পুলিশ সুপারের বাংলোর পাশে একটি বাড়িতে চুরি হয়।
