Month: December 2025

  • নাহিদ ইসলাম বলছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে

    নাহিদ ইসলাম বলছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে পুনর্বাসনের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা গোপনে আওয়ামীপন্থী মতামত প্রকাশ করছেন, জয় বাংলা স্লোগান কোর্ট পাড়ায় শোনা যাচ্ছে এবং টক শোতে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এগুলো দেখেই মনে হয়, জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যেন পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে মাঠে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই বিশ্লেষণ তিনি শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক বৈঠকের পর যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে ব্যক্ত করেন।

    নাহিদ ইসলাম আরও জানান, ওই বৈঠকের আগে গতকালের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তিনটি দলকে ডেকে একটি আলোচনা আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতারা একসঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন, ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে, তবে একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় অপপ্রচার বা সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে যেন কোনো সুবিধা না দেওয়া হয়, এই বিষয়েও সব পক্ষ একমত।

    এনসিপির নেতা আরও জানিয়ে থাকেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গতকাল দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন নয়। এটা বোঝাচ্ছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন নিয়ে একটি বিষপ্রজ্বলন শুরু করেছে। তাঁরা শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, প্রশাসনিকভাবেও এই হোতা। আর তাই, আওয়ামী লীগের এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় আমাদের সকল দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

    নাহিদ ইসলাম প্রকাশ করেন, কোর্ট পাড়ায় জামিনে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারটি প্রত্যেক দলের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আইনজীবীরা অনেকের সঙ্গে জড়িত এবং মিডিয়া হাউস ও রাজনীতি সম্পর্কিত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা সব দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ। তিনি বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তারা জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সবাই সমন্বিতভাবে সহযোগিতা করবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, সরকার আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা থাকার দরকার, যাতে তারা সবাইকে নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে। ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের এখনই গ্রেপ্তার করতে হবে। সেই সঙ্গে, যারা এই পরিকল্পনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দরকার।

    নাহিদ অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সমস্ত পরিকল্পনা Delhi-তে বসে করছে।’ তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের সরাসরি বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগ এ ধরনের ষড়যন্ত্র করতে পারে না। তারা জামিন, অর্থ ও অস্ত্রের মাধ্যমে এই জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই, ভারত সরকারের কাছে দাবি, তাদের এই হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে ভারতের দূতাবাসের কর্মীদের জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ভারতের পক্ষ থেকে সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    নাহিদ আরও যোগ করেন, ‘আমরা দেখেছি, ৫ আগস্টের আগে ভারত আওয়ামী লীগকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছিল। তারা অবৈধভাবে টিকে থাকার জন্য এই সাহায্য দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে তারা নীরবে চাপ সৃষ্টি করে। তাই, ভারতের কাছ থেকে এ হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ।’

  • নির্বাচন আরও কঠিন হবে, ষড়যন্ত্র এখনও চলমান: তারেক রহমান

    নির্বাচন আরও কঠিন হবে, ষড়যন্ত্র এখনও চলমান: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন সাধারণের জন্য সহজ হবে না, কারণ ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন ঘটনায়—হাদিকে গুলির ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর ওপর হামলা—প্রমাণিত হচ্ছে যে, আমি আগে থেকেই বলছিলাম, ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি এবং পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এসব বিষয় এখন স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

    শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই বক্তব্য রাখেন তিনি। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই ধারাবাহিক কর্মশালার সপ্তম দিন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

    তারেক রহমান জানান, আমাদের যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কম না করি, ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুববে। তিনি বলেন, প্রায়ই দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে বিএনপি। শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ধীরে ধীরে দেশের খাদের কিনারা থেকে মুক্ত করে আনা হয়েছে।

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, ষড়যন্ত্র বন্ধ হবে না, বরং আরও খারাপ পরিস্থিতি আসতে পারে। তবে আমাদের ভয় বা আতঙ্কে না পড়ে, সাহসী হতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যত বেশি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবো, নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব, ততই ষড়যন্ত্রকারীরা পিছিয়ে যাবে। বিএনপির এই ক্ষমতা বা শক্তির মূল ভিত্তিই হলো ঐক্য।”

    তারেক রহমান দাবি করেন, ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর একমাত্র শক্তি ও ক্ষমতা বিএনপিরই রয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় প্রার্থীদের ওপর গুলির ঘটনা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ যাতে কোনো সুবিধা নেওয়া যায়।

    তিনি দেশের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষাব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, প্রযুক্তি, বায়ু ও পানির দূষণ রোধ—এসব বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এখন সময় এসেছে—আমি কি পেলাম, এই চিন্তা বাদ দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশের জন্য কতটা করেছি সেটার মূল্যায়ন না করে, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা অবদান রাখতে পারলাম, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কেউ দেশের জন্য কিছু করে যান, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন উন্নত হবে। আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

    তিনি আরও বলেন, এখন আর বসে থাকার সময় নয়। এই সংগ্রামে জয়ী হতে হবে। জয় নিশ্চিত করতে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের সাথে না থাকলে কোনওভাবেই সফলতা আসবে না।

    এর মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এই কর্মশালার পরিচালনা করেন।

  • আশঙ্কা প্রকাশ মির্জা ফখরুলের, আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা স্থানীয় ঘটনা ঘটতে পারে

    আশঙ্কা প্রকাশ মির্জা ফখরুলের, আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা স্থানীয় ঘটনা ঘটতে পারে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সতর্ক করে বলেছেন, দেশের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে জনগণ গণতন্ত্রের জন্য স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই আবার কিছু শত্রু নতুন হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি একটি হত্যাচেষ্টা ঘটেছে এবং এই ধরনের ঘটনাগুলি ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল বেলা রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এই দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়, যার সূচনায় বিএনপি পক্ষ থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের সহযোগী দোসরদের সাথে যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। তিনি বলেন, এই হত্যা যেন জাতিকে তাদের সবচেয়ে প্রিয় সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য চালানো হয়েছিল। এই দিনটি মনে করে রাষ্ট্র সেই মহান নেতাদের স্মরণ করবে এবং স্বাধীনতার চেতনাকে অটুট রাখতে সচেষ্ট হবে।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে অনেক অসুস্থ। তার পক্ষ থেকে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তারা আজ এই স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পাশাপাশি তারা এই প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পথ অটুট রাখবেন।

  • নির্বাচন ও অভ্যুত্থান ঠেকাতে লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ড দাবি নাহিদের

    নির্বাচন ও অভ্যুত্থান ঠেকাতে লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ড দাবি নাহিদের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার জন্যTARGET কিলিংয়ের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক সংবাদসভায় এ দাবি তুলে ধরেন।

    নাহিদ বলেন, ওসমান হাদীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার পেছনে যারা রয়েছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগামিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও অভ্যুত্থান ঠেকানোর নাম করে TARGET কিলিংয়ের মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রশাসন ও সরকারী বাহিনীসহ ভেতর-বাহিরের সকল দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, এর ঘটনার মাধ্যমে অনেক রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছে। সবাইকে সহমর্মিতা ও ঐক্য বজায় রেখে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায়, ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলোর সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

    নাহিদ বলেন, দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চান, সবাই সবার পাশে দাঁড়িয়ে বিভক্তি ও অশান্তি ঠেকিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    জনগণের অধিকার, স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণ ও সচেতন বুদ্ধিজীবীরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন।

    অভিযোগ করে নাহিদ উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই দুর্বল। সরকার তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না, যা জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি পরিস্থিতি উন্নত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় তিনি।

    উল্লেখ্য, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্থান দুটিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দিবসটি পালনে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সেখানে উপস্থিত হন এবং স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

  • হাদির উপর আঘাতকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী মির্জা আব্বাস

    হাদির উপর আঘাতকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী মির্জা আব্বাস

    ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, হাদি আমার সন্তানের মতো। হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে আমি মানসিকভাবে খুবই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের আঘাত শুধুই একজন ব্যক্তির নয়, এটি গণতন্ত্রের উপর এক গভীর আঘাত। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চে আলোচিত ঘটনায় প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার আন্দোলনের আওতায় এক বক্তৃতায় মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন। তিনি বলেন, হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় বিকেল দুইটার দিকে আমি হাসপাতালে পৌঁছেছি। তার আধাঘণ্টা পরে ফেসবুকে অপ্রত্যাশিত উসকানিমূলক পোস্ট দেখা যায়, যা পুরোপুরি পরিকল্পিত ছিল। আমি ঢাকার সন্তান। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এই শহরে রাজনীতি করছি। আমি কখনো উত্তেজনা সৃষ্টি করিনি, কারণ এটা হাদির সুচিকিৎসায় বিঘ্ন তৈরি করত। তিনি বলেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্র অনেক সময় দেখেছি, ১৯৭১, ১৯৮৬-সহ বিভিন্ন সময় এ ধরনের শক্তি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়েছে। এরা হলো মূল শক্তি, যারা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না এবং বারবার রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে রাখতে চায়। হাদির উপর হামলার পর, ফেসবুকে একশ থেকে দুইশ’ লোক উসকানি দেয়ার জন্য পোস্ট করে দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে চেয়েছে, যা সবাই নিরীহ চরিত্রের। বিএনপি নেতার মতে, এই উসকানি মূলত এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের দ্বারা চালানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমি ৭১, ৮৬ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছি, কখনো কারও সঙ্গে মারামারি করিনি। বরং প্রার্থীদের এক সঙ্গে কোলাকুলি করেছি, খেয়েছি। আওয়ামী লীগ অন্যায়ভাবে মারামারি করে, নির্বাচন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা অস্থির করে তোলে। তিনি দাবি করেন, হাদির ওপর হামলাকারী দ্রুত গ্রেফতার হোক এবং এই হামলার সঙ্গে জড়িত মুখোশ উম্মোচন করা হোক। মির্জা আব্বাস যোগ করেন, হাদির আমার নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তিনি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি একজন সাহসী রাজপথের সৈনিক। আমি আশা করি, আবারও তাকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় দেখা যাবে।

  • শেখ হাসিনার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন

    শেখ হাসিনার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন

    প্রসিকিউশন আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার আমৃত্যুও কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল দাখিল করা হয়েছে। এই আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিবন্ধন হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এর নিষ্পত্তি সম্পন্ন করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অ্যামিকাসিকালে, আপিলের প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে প্রসিকিউশন অবকাশকালীন ছুটির জন্য চেম্বার আদালতে দাখিল করবে।

    এর আগে, নভেম্বরের শেষ দিকে গাজী এম এইচ তামীম জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেওয়া সাজার কপি প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। তারা ৩০ দিনের মধ্যে এই অভিযোগে তার আপিল করবে।

    গত ১৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। এরপর, ১৭ নভেম্বর এই মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার শুরু হয়।’

    সেই সময়ের রায়ের ফলে, শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, এবং তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই ঘটনা ঘটে গত সে সময়ের গণঅভ্যুত্থানকালে, যেখানে শেখ হাসিনা বহু উস্কানিমূলক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখনও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে পলাতক থাকলেও, অন্য পুলিশি বেআইনি কার্যক্রমের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে, শেখ হাসিনা ও অন্য আসামির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উসকানি দিয়ে মানুষের জীবনহানি, অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ, হত্যা, এবং জনসভায় উসকানি করা। এই সব অভিযোগে চলতি বছরের প্রথম দিকে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠিত হয়। মামলার ইতিহাসে উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা এখনও পলাতক থাকলেও, তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়েছে।

  • ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স روانাপন

    ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স روانাপন

    জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের একজন কেন্দ্রীয় নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। আজ দুপুর ১:৫৫ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছে।

    প্রায় দুপুর দুইটার একটু আগে, সামরিকভাবে প্রস্তুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বিমানবন্দর ত্যাগ করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এই সময়ে তার সঙ্গে ছিলেন তার দুই ভাই।

    এর আগে সকাল পৌনে একটায়, তাকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেয়। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে, বিকল্প চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

    ওসমান হাদি সকাল ১১:২২ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। গত শুক্রবার দুপুরে, তিনি রাজধানীর পল্টন এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে তার জরুরি অপারেশন সম্পন্ন হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষায়িত এভারকেয়ার হাসপাতলে স্থানান্তর করা হয়।

    তবে, তার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক থাকায় চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার তার চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহন করছে।

  • বিজিবি নিশ্চিত নয় হাদির হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়েছে কি-না

    বিজিবি নিশ্চিত নয় হাদির হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়েছে কি-না

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান জানিয়েছেন, হাদির ওপর হামলাকারী সন্দেহভাজন ফয়সাল ও তার সহযোগীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে গেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বিজিবির পক্ষ থেকে। তবে, সীমান্তে তাদের পা ফেলার সাহায্য করতে পারে এমন মানবপাচারকারী হিসেবে ফিলিপ সেনাল নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

    আজ সোমবার ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১২ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকায় হামলার ঘটনাগুলোর পরই রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সীমান্তের স্পর্শকাতর পয়েন্ট, প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়। ময়মনসিংহ ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়, যাতে আক্রমণকারীদের কাছ থেকে সতর্ক থাকা যায়।

    তাদের জানান, শনিবারও পুরো দিন ধরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা carried on ছিল, স্থানীয় ক্ষত্র ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা টিম পাঠানো হয়েছে, যাতে সীমান্ত অখণ্ডতা রক্ষা করা যায়।

    কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এখনও নিশ্চিত নই যে হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গেছে কি না। পুলিশও নিশ্চিত নয়। আমাদেরভাবে দু’টি সম্ভাবনা মাথায় রয়েছে—এক, যদি তারা পেরিয়ে যায়, তাহলে কে তাদের সাহায্য করছে? অন্যদিকে, তারা যদি না পেরেও থাকে, তবে তাদের ঠিকানা বা আশ্রয়ের স্থানের খোঁজ চলছে।

    বিজিবি ফিলিপ সেনালকে ধরার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে। ফিলিপ ধরা গেলে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে তারা পাচারকারী কি না, তা জানতে।

    অভিযানের সময় ফিলিপের স্ত্রী ডেলটা চিরান, শশুর ইয়ারসন রংডি ও মানবপাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, বারোমারি এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে বেঞ্জামিন চিরামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • আইজিপি বাহারুলের বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার চেয়ে রিট খারিজ

    আইজিপি বাহারুলের বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার চেয়ে রিট খারিজ

    হাইকোর্টের আজকের আদেশে আইনজীবীরা আইজিপি বাহারুল আলমকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এই রায় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে।

    এর আগে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে আইজিপি বাহারুল আলমের নাম আসার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেশ চাপ তৈরি হয়েছিল। গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ওই রিটটি হাইকোর্টে দায়ের করা হয়, যেখানে আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেছিলেন।

    রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ আইজিপি বাহারুল আলমকেও বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রিটের শুনানি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে আদালত এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ৪ ডিসেম্বর, আইজিপি বাহারুল আলমের দ্রুত বরখাস্তের জন্য সরকারের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এই নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পাঠিয়েছিলেন, যেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।

    অভিযোগ রয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে ব্যর্থতার জন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সঙ্গে আইজিপি বাহারুল আলমের নামও এই প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলেছে।

  • ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা

    ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা

    ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদপ্রার্থীরা একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পול্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ডিউটি অফিসার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রকিবুল হাসান।

    তিনি জানান, ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় তার এক আত্মীয় বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। তবে অভিযুক্তের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মামলার এফআইআরটি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, আসামীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।

    শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি সম্প্রতি ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন।

    গত শুক্রবার বিকেল ২:২৪ মিনিটে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকার কাছে তাকে গাড়ি থেকে গুলি করা হয়। পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা একটি মোটরসাইকেল থেকে এক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে।

    গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং চিকিৎসকরা তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানাচ্ছেন। সোমবার দুপুরের পর তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর থেকে পল্টন থানা, র‍্যাব, ডিবি ও অন্যান্য পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বেশ কয়েকটি ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক, বর্ডার দিয়ে মানুষ পাচার চক্রের দুই সদস্য, এবং অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও তার এক বান্ধবী।

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সন্দেহভাজন ‘ফয়সাল করিম’ সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে হাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ তাকে প্রধান সন্দেহভাজন মনে করে তার সন্ধানে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। জানা গেছে, ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের একজন স্বেচ্ছাসেবক ও নেতা ছিলেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

    এই জটিল ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আসামীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে। দেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এই হামলার ঘটনা।