Month: December 2025

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুদকের নতুন মামলার রায় আজ ঘোষণা হবে

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুদকের নতুন মামলার রায় আজ ঘোষণা হবে

    ২৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হবে। এই মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।

    ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যেখানে গত ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় দেওয়ার জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন অভিযোগটি দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিক, রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৫ জন আসামি করা হয়। পরে তদন্তে আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়।

    অভিযুক্তরা মধ্যে অন্যরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন একজন কর্মকর্তা, সিনিয়র সহকারী সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ, সাবেক সদস্য, বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সচিব ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নাম।

    গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। এ পর্যন্ত ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পসহ বিভিন্ন দুর্নীতির তিনটি মামলায় শেখ হাসিনার সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে ৩ লাখ টাকার জরিমানা করা হয় এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই রায় অনুযায়ী, যদি শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের অন্য কেউ ব্রিটেনে থাকেন, তাহলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে, তার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্য ও সাবেক সিটি মন্ত্রী হিসেবে তার ১০ বছরের সাজা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার মা, ভাই ও বোনকে শেখ হাসিনার মাধ্যমে প্লট পাইয়ে দিয়েছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবেক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলও রিপোর্ট করে, যেখানে বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যপদ হারাতে পারেন।

    প্রসঙ্গত, টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, তিনি তার বাবার কাছ থেকে ফ্ল্যাট দাবি করে থাকলেও, আসলে এটি একটি আওয়ামীপন্থি নেতার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া। তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তাঁদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণ হয়েছে যে, তিনি এই বিষয়ে মিথ্যাচার করেননি।

    বাংলাদেশে এ মামলার ব্যাপারে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে ব্রিটিশ আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নয়। তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনার বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে, ডেইলি মেইল জানিয়েছে, টিউলিপ বা তার পক্ষের কেউ এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।

  • অভ্যুত্থানকে ‘তথাকথিত’ বলাকে আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা মানলেন চিফ প্রসিকিউটর

    অভ্যুত্থানকে ‘তথাকথিত’ বলাকে আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা মানলেন চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রোববার বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘সো-কলড’ বা ‘তথাকথিত’ বলে উল্লেখ করা আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমান। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনা। এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে ১৪০০ মানুষের রক্তের তোতা, ২৫ হাজারের বেশি মানুষের অঙ্গহানি এবং অসংখ্য মানুষের ত্যাগ। এমন একটি মহান বিপ্লবকে ‘তথাকথিত’ বলতে মানসিক ধৃষ্টতা ছাড়াও, এটি আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে মনে করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল সংবিধান অনুসারে পরিচালিত একটি আদালত। তাই আইনের কাঠামোকে বিবেচনায় না এনে কোনও আসামি বলিষ্ঠভাবে যুক্তি উপস্থাপন, সাক্ষী হাজির ও প্রসিকিউশনের প্রমাণ চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রাখে। তবে এ জন্য তাদের আইনের মধ্যে থেকে সুযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

  • ফিরোজ সরকার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব

    ফিরোজ সরকার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ফিরোজ সরকারকে নতুন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার এ ঘোষণা আসার পর, তাকে দ্রুতই সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সরকারের একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যেখানে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক। পাশাপাশি, বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করা মোঃ মাসুদুল হাসানকে ৩০ নভেম্বর থেকে অবসর দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ফিরোজ সরকার কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের একজন কৃতী সন্তান। তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন এবং ১৭তম বিসিএস ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে তিনি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। চাকরির সময় তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়া সরকারের বৃত্তি পেয়ে এমএস (মাস্টার্স অব সাইন্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।

    তার কর্মজীবনে তিনি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তাকে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছিলেন।

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে: মাহফুজ আলম

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে: মাহফুজ আলম

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে এবং কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহযোগী ও উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি জানান, তিনি নিজের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান এবং তার দ্রুত স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দেশবাসীর মতো নিজেও দোয়া করেন।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মাহফুজ আলম বলেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা কেবল স্থিতিশীল নয়, সামান্য উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকরা আশাবাদী, ভবিষ্যতেও তার শারীরিক অবস্থা আরও ভালো হয়ে উঠবে।

    তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার অসামান্য ত্যাগ ও অবদানের জন্য আমরা আশাকরি তিনি সুস্থ হয়ে ওঠবেন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি আরও স্বচ্ছন্দে জন্ম নেবে। বিশেষ করে চলমান রাজনীতিতে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টায় তিনি দৃঢ় থাকবেন।

    এদিকে, মাহফুজ আলম বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে বর্তমান সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

  • বিডিআর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীকে দুর্বল করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা

    বিডিআর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীকে দুর্বল করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা

    জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং বিডিআর ও অন্যান্য সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া। রোববার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    ফজলুর রহমান বলেন, এই তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য তিনি ১১ মাস পর কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তিনি জানান, এর মধ্যে তারা ২৪৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ পরিবারের ১৪ সদস্য, রাজনীতিবীদ ১০ জন, অসংকল সরকারের উপদেষ্টাসহ ২ জন, সামরিক কর্মকর্তা ১৩০ জন, পুলিশ ২২ জন, বেসামরিক ব্যক্তি ৯ জন, বিডিআর ও বিজিবি সদস্য ২২ জন, কারাগারে থাকা ২৬ জন এবং তিনজন সাংবাদিকের জবানবন্দি রয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা এ সময় মোট ৬০০ ঘণ্টার ভিডিও সাক্ষাৎকার ও রেকর্ডিং পর্যালোচনা করেছেন, প্রায় ৮০০টি স্থিরচিত্র ও ছবি সংগ্রহ করেছেন। সংবাদপত্র, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রচুর তথ্য ও চিঠিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে।

    তিনি বলেছিলেন, সেনাবাহিনী পরিচালিত ছয়টি তদন্ত প্রতিবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়তেও এর প্রতিবেদন ফেরত পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য অংশও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ই-মেইল ও জবানবন্দির ভিডিও ক্লিপে প্রায় ৩১৬টি তথ্য পাওয়া গেছে।

    প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কারা ছিলেন তা উল্লেখ করে বলেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ এবং ডিজিএফআই এর প্রধান মেজর জেনারেল আকবর ছিলেন মূল masterminds।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করেন, 당시 সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং বাহিনীগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া। ষড়যন্ত্রের দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে বলে তিনি জানান, এই পরিকল্পনা শেখ হাসিনার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু হয়। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে তারা ভারতের দিকেও আঙুল তুলেছেন।

    সেনা অভিযানে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন বলেছিলেন, এই জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা অভিযান চলালে ভারত হস্তক্ষেপ করত এবং এটি ১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতির কারণ হয়ে যেত। তিনি জানান, দুই দিনে ৫৭ অফিসার নিহত হলেও সেই সময়ে দেশের স্বাধীকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব হত না।

    বিডিআর বিদ্রোহের পর গুম হয়ে যাওয়া পাঁচজন সেনা কর্মকর্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিজিএফআই হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

    ডাল-ভাত কর্মসূচির সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে কি মনে করেন এই প্রশ্নে তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিল একটি বড় পরিকল্পনা। বাহিনীগুলোকে দুর্বল করে শেখ হাসিনার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতির মতে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে জেনারেল আজিজ আহমেদের পরিবর্তে পরে তাকে প্রোমোশন দিয়ে ডিজি বিজিবি করা হয়।

    বিডিআর বিদ্রোহে বাইরে থেকেও অনেকে যুক্ত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন, এর মধ্যে ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে ৬৭ জনের কোনো হিসাব মেলেনি। তাদের অবস্থান ও পদচিহ্ন অধরা থাকায় সরকারের কাছে এর জন্য সুপারিশ করেছেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট দিকগুলোও তিনি জানাতে বলেছেন।

    গোয়েন্দা ব্যর্থতা সম্পর্কেও তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে শক্তিশালী করে নতুনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে। বিভিন্ন উপায়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

    পিলখানার হত্যাকাণ্ডের সময় অনেকে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    তদন্তে দেখা গেছে, এই বিদ্রোহে শুধু বিডিআর এর সদস্যরাই অংশগ্রহণ করেনি, বরং বাইরে থেকেও অনেক মানুষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু সদস্যও এই বিদ্রোহে অংশ নেয়। একদল শতাধিক সদস্য বিদ্রোহস্থল ছেড়ে ২০০ জনের বিশাল একটি মিছিলে যোগ দিয়েছিল, যারা পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।