Month: December 2025

  • ক্রিকেটার তোফায়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

    ক্রিকেটার তোফায়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

    গুলশান থানা পুলিশ গত সোমবার জনপ্রিয় ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ আইনের মামলা চালুর পর আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেছে। এই চার্জশিটটি নারীর উপর যৌন নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার অধীনে জমা দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত কর্মকর্তা এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম জানান, ৩০ নভেম্বর তিনি আদালতে এই চার্জশিট পেশ করেছেন। তিনি বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগ শতভাগ প্রমাণিত হওয়ায় এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আদালতে সাক্ষীরা আসলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করবেন।”

    প্রসিকিউশনের পক্ষের এসআই তাহমিনা আক্তার আরো জানান, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিটটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

    চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, তোফায়েল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্বের পর প্রেমের প্রস্তাব দেন তোফায়েল, যদিও সে নারী তা মেনে নেননি। তবে, তোফায়েল বিয়ে করার কথার আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি গুলশানের একটি হোটেলে তোফায়েল ওই নারীর ওপর ধর্ষণ করেছেন। এরপরও সময়ে সময়ে কিছু বার তার দ্বারা আবারও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটানো হয়। বাদী ১ আগস্ট গুলশান থানায় এই ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

    উল্লেখ্য, মামলার তদন্তের সময় তোফায়েল ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন प्राप्त করেন। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। বাদী অভিযোগ করেন, ‘তোফায়েল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরিবারকে জানানো সত্ত্বেও কোনও সমাধান হয়নি।’

  • অনূর্ধ্ব-১৫ বালক ফুটবল প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের উদ্বোধন

    অনূর্ধ্ব-১৫ বালক ফুটবল প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের উদ্বোধন

    উদযাপিত হলো তরুণদের উৎসব, খুলনা জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে অনূর্ধ্ব-১৫ বালক ফুটবল প্রতিযোগিতা ও বাছাই পর্বের উদ্বোধন। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২৬ এর অংশ হিসেবে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপ-পরিচালক যুব উন্নয়ন খুলনা মোঃ মোস্তাক উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ আলীমুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক জাতীয় দল খেলোয়াড় দস্তগীর হোসেন নীরা, মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ, শেখ হেমায়েত উল্লাহ। এতে অংশ নেন ছয়টি দল, যার জন্য তাদের কোচগণ উপস্থিত ছিলেন। এই প্রতিযোগিতা তরুণ ফুটবল তারকাদের উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতের ফুটবলার তৈরি করবে, যা খুলনা জেলার ক্রীড়া ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির प्रतीক।

  • পাকিস্তানের কাছে শেষ ম্যাচ হারিয়ে সিরিজও হারলো বাংলাদেশ

    পাকিস্তানের কাছে শেষ ম্যাচ হারিয়ে সিরিজও হারলো বাংলাদেশ

    নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ে তারা পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতল। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৮৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে ১৮ বল হাতে রেখে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের হাসি হাসে পাকিস্তান। ম্যাচে শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিং খুবই দুর্বহ হয়েছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪ রান করেই ওপেনার মায়মুনা নাহার সাজঘরে ফিরে যান। এরপর ব্যাটাররা এসে-যাওয়া করতে থাকেন। অচেনা জান্নাত, সাদিয়া ইসলাম, ফারজানা ইয়াসমিন ও সুমাইয়া আক্তার পঞ্চম, ষষ্ঠ উইকেটে নিজেরা সংগ্রাম করে কিছুটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশ ৩১ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর হাবিবা ইসলাম ও সাদিয়া আক্তার ২২ রানের জুটি গড়ে থাকেন।শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯০ রানের মধ্যে অলআউট হয়। দলের জন্য ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন সাদিয়া আক্তার। পাকিস্তানের হয়ে বারিরাহ সাইফ ৩টি ও রোজিনা আকরাম ২ উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রথম বলেই উইকেট নেন পাকিস্তানের অতশী মজুমদার। এরপর দ্রুত দ্বিতীয় উইকেটও পড়ে। রানআউটে কাটা পড়েন ৮ বলের মধ্যে ১০ রান করা রাহিমা সাঈদ। এরপর ৩৭ রানের জুটি গড়েন কমল খান ও আকসা হাবিব। ২১ রান করে তারুশিনা ইয়াসমিনের শিকার হন আকসা। এরপর ২৫ রান করা কমল খানকেও হাবিবা ফিরিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতেও জিততে কোন সমস্যা হয়নি পাকিস্তানের। শেষদিকে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন ফিজা ফায়াজ ও আরিশা আনসারি।

  • ভারতের মাটিতে বলিউড ও ফুটবলের দুই কিংবদন্তির একসঙ্গে সাক্ষাৎ

    ভারতের মাটিতে বলিউড ও ফুটবলের দুই কিংবদন্তির একসঙ্গে সাক্ষাৎ

    বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় মহাতারকা লিওনেল মেসি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তার এই সফরকালে প্রথম দিনেই ঘটে যায় এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত, যখন বলিউডের শাহরুখ খান ও ফুটবলের কিংবদন্তি মেসির মধ্যে দেখা হয়। এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে গেছে।

    শুক্রবার মধ্যরাতে কলকাতায় পৌঁছান লিওনেল মেসি। বিমানবন্দরে নামার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবার পরিকল্পনা ছিল। সেই অংশ হিসেবে তিনি একটি মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয় শাহরুখ খানের।

    এই বিশেষ সাক্ষাতে শাহরুখের সঙ্গে তার ছোট ছেলে আব্রাম খানও ছিলেন। ধারণা করা হয়, প্রিয় ফুটবলারের সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষা থেকে বাবার সঙ্গে এসেছিলেন আব্রাম।

    বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, জনগণের ভিড় ঠোঁটানো একটি হলে শাহরুখ খান তার ছেলে আব্রামকে নিয়ে আসছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন শাহরুখের ম্যানেজার পূজা দাদলানি ও তার মেয়ে।

    অতিথিদের স্বাগত জানাতে শAgenceস্ক ডিসপ্লে দেখান শাহরুখ খান। তিনি লিওনেল মেসিকে শুভেচ্ছা জানান হাত মিলিয়ে। সেখানে আরও দেখা যায় ফুটবল তারকা লুইস সুয়ারেজের সঙ্গেও।

    সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই তারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ছবি তোলেন। ব্যস্ততার কারণে এই মুহূর্তটি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।

    তবে সবচেয়ে মনোহারি ছিল ছোট আব্রাম ও মেসির একটি ছবি। পরে তারা বাবা-ছেলেও মেসির সঙ্গে ছবি তোলেন। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তরা এর জন্য বেশ উচ্ছ্বসিত।

    একজন নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘যখন বলিউডের রাজত্ব আর ফুটবলের রাজত্ব একসঙ্গে দেখা যায়—শাহরুখ খান ও লিওনেল মেসির সাক্ষাৎ নিশ্চিতই এক তারকা মহোৎসব।’

  • ভারতে প্রাণ নিয়ে শঙ্কায় মেসি, স্টেডিয়াম ছাড়লেন ২০ মিনিটে

    ভারতে প্রাণ নিয়ে শঙ্কায় মেসি, স্টেডিয়াম ছাড়লেন ২০ মিনিটে

    ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তারকা লিওনেল মেসি ভারত সফরে এসে এক অসাধারণ ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্বকাপ, কোपा আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ নানা বড় মঞ্চে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই ধরণের ঘটনার কথা শোনা যায়নি। কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতি ছিল লাখো ভক্তের জন্য এক দারুণ উপলক্ষ্য, তবে সেই শুভ মুহূর্তটি হঠাৎ পরিস্থিতির অবনতিকর রূপ নেয়। সকাল থেকে স্টেডিয়াম ও এর আশেপাশে ব্যাপক ভিড় জমে যায়, এবং স্থানীয় পুলিশ ও আয়োজক টিম এর অপ্রতুল প্রস্তুতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যখন মেসি মাঠে নামেন এবং দর্শকদের শুভেচ্ছা জানাতে গ্যালারিতে হাত নেড়ে চলছিলেন, তখন স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা তার আশপাশে এসে দাঁড়ান, যা দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় যখন কিছু দর্শক স্টেডিয়ামের ভিতরে পানিপ্রপাত করতে শুরু করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই বিশৃঙ্খলার কারণে মেসির নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকে ২০ মিনিটের মধ্যেই স্টেডিয়াম থেকে সরানো হবে। এর মধ্যে তার দর্শকদের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তার কারণে সেটি বাতিল করতে বাধ্য হন। পুরো ঘটনার ফলে ভারতের ফুটবল বিশ্বে লজ্জাজনক এক অধ্যায় রচিত হয়েছে। বিশৃঙ্খলার কারণে আজকের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে, এবং সেই সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তির উপর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি ফুটবল প্রেমীদের জন্য দুঃখজনক এবং দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

  • ইরানে নোবেলজয়ী নারী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি গ্রেফতার

    ইরানে নোবেলজয়ী নারী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি গ্রেফতার

    ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে আবারও গ্রেফতার করেছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) মাশহাদ শহরে আহত আইনেরজীবী খোসরো আলিকোরদির স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় তাকে হত্যার ভয়ে ‘হিংস্রভাবে’ আটক করা হয় বলে জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক নার্গিস ফাউন্ডেশন।

    সিএনএন জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনী হানা দিয়ে নার্গিসসহ আরও কয়েকজন কর্মীকে আটক করে। এই ইভেন্টটি নিহত আইনজীবী খোসরো আলিকোরদির স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    নর্ভেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি ইরানের একজন প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী। তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে মূলত তেহরানের কুখ্যাত অ্যাভিন কারাগারে বন্দী ছিলেন। এই কারাগারটি সাধারণত সরকার বিরোধী ও সমালোচকদের জন্য নির্ধারিত। তিনি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ এবং প্রচারে যুক্ত থাকায় মোট ৩১ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

    ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়ে যাওয়ার পরে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এক অস্ত্রোপচারের জন্য তার দণ্ড কিছু সময়ের জন্য স্থগিত হয়। যদিও কিছু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকার পরও তিনি জেল থেকেই মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। গত এক বছরে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এবং ইরানের পরিস্থিতির কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন।

    সপ্তাহখানেক আগে টাইম ম্যাগাজিনে লিখা এক নিবন্ধে নার্গিস বলেছেন—“ইরানি জনগণ আসলে কোনো শান্তিই পায় না। কারণ, দেশটি তাদের ব্যক্তিগত জীবন সবদিক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। নজরদারি, সেন্সরশিপ, গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং সহিংসতার হুমকিতে তাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি দেশের নাগরিক সমাজ, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার রক্ষকদের জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।

    ২০২৪ সালে সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন—“আমি অ্যাভিনের ভেতরে বা বাইরে থাকি না কেন, লক্ষ্য একটাই—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”

    নার্গিস মোহাম্মাদি কারাগারে থাকাকালীন নারীদের ওপর নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ করে আসছেন, এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন চিঠি ও বিবরণে ১৯৯৯ সাল থেকে নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেছেন। তবে, ইরানি সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    তার যমজ সন্তান কিয়ানা ও আলি ২০২৩ সালে নরওয়েতে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। তার স্বামী তাগি রাহমানিও দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো মানুষ সরিয়ে নেওয়া আদেশ

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো মানুষ সরিয়ে নেওয়া আদেশ

    টানা ভারি বর্ষণের কারণে পশ্চিমের উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঝোড়ো বৃষ্টির ফলে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য ও কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিয়াটল ও টাকোমার দক্ষিণে বাসিন্দাদের বাড়িঘর ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান দূরদর্শনে দেখা যাচ্ছে, বহু কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি চলে আসার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে। ওরিংটন শহরে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, লেভেল ৩ অর্থাৎ জরুরি অবস্থার জন্য চলে যাওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। বন্যার কারণে জীবন ও সম্পদ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করছে, তাদের এখনই নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, সেই এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের বেশ কিছু অংশের বাসিন্দা ইতোমধ্যে পানিতে প্লাবিত হলেও সীমান্তবর্তী কানাডার অ্যাবটসফোর্ড শহরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে চলে গেছে। সেখানেও অনেক বাড়িঘর বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পরিবহন প্ল্যাটফর্ম ড্রাইভ বিসি জানিয়েছে, ভ্যাঙ্কুভারের সঙ্গে সংযোগকারী কয়েকটি প্রধান সড়ক বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা একটি ‘অ্যাটমোসফেরিক রিভার’-এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পশ্চিম উপকূলে ২৫ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বর্ষণের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেলেও বর্ষার পানি কমতে আরও কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে এই অঞ্চলগুলোতে আবহাওয়া কিছুটা শুকিয়ে যাবে। তবে পশ্চিম ওয়াশিংটন ও উত্তর-পশ্চিম ওরেগনের কিছু এলাকায় ভয়াবহ ও বিধ্বংসী বন্যার বিপদ অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা বালুর বস্তার দেওয়াল নির্মাণসহ জরুরি কাজ পরিচালনা করছে। আরও দুইশ সেনা তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিল্পশিল্প ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে আবহাওয়া ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মৌসুমি আবহাওয়া খুব বেশি পরিবর্তিত হচ্ছে, কোথাও শক্তিশালী ঝড় ও বন্যা দেখা দিচ্ছে, আবার কোথাও দীর্ঘ খরা চলছে। এই পরিস্থিতির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছে বিজ্ঞানীরা।

  • গাজা উপত্যকায় ঝড়-বৃষ্টিতে ১০ জনের বেশি নিহত

    গাজা উপত্যকায় ঝড়-বৃষ্টিতে ১০ জনের বেশি নিহত

    প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাহত গাজা উপত্যকা এখন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিপাতে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অব্যাহত ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্যেই এই দুর্যোগ আরও কঠিন আকার ধারণ করেছে। ফিলিস্তিনের গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, এর মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। তীব্র বৃষ্টির কারণে বহু শরণার্থী শিবির ভেসে গেছে, আবার কিছু এলাকায় উড়ে গেছে গভীর টানেল ও তাঁবু। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় গাজাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে শীতকালে পরিস্থিতি আরও দূর্বার হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় ঝড় ও ভূমি ধসের কারণে অনেক তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই এলাকায় অন্তত ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস, যারা ৭৬১টি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

    দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে এই অঞ্চলের ফিলিস্তিনিরা এখন গুরুতর বিপদের মুখোমুখি। টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, যেন দুর্যোগ মোকাবিলার কোনও প্রস্তুতি বা সামর্থ্য নেই। শরণার্থী শিবিরে তীব্র শীতের রাতে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা তাদের দুর্দশার চিত্র আরও প্রকট করে তোলে।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে মোট মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৭০,৩৬৯ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৯ জন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে গাজার মানুষের জন্য এখন যেন একান্তই অধিক সাহায্য ও সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে।

  • বাংলাদেশসহ চার দেশে মার্কিন ভ্রমণ সতর্কতা জারি

    বাংলাদেশসহ চার দেশে মার্কিন ভ্রমণ সতর্কতা জারি

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বাংলাদেশসহ চারটি দেশের বিরুদ্ধে পর্যটকদের জন্য লেভেল-২ ভ্রমণ সতর্কতা সতর্কতা জারি করেছে। এসব দেশে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে, যার জন্য কোনও কার্যকর চিকিৎসা বর্তমানে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবা, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে এই সতর্কতা জারি থাকবে।

    ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কিছু উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা আমেরিকান নাগরিকদের জন্য নতুন এই সতর্কতা জারি করেছে। এসব দেশে এখন মশাবাহিত এমন এক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। অতএব, এই এলাকায় ভ্রমণের সময় আমেরিকানদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, চিকুনগুনিয়ার কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও, এটি টিকাপ্রতিরোধযোগ্য। যারা এই রোগের প্রাদুর্ভাবযুক্ত এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে আছে জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, মাথা ব্যথা, মুখাবয়বে ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোস্কা বা র‌্যাশ দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি মশার কামড়ের তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে এই উপসর্গ অনুভব করতে পারেন, এবং বেশির ভাগ মানুষএক সপ্তাহের মধ্যে সেরে ওঠেন।

  • থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ২৩, বাস্তুচ্যুত ৭ লাখ

    থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ২৩, বাস্তুচ্যুত ৭ লাখ

    দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় গত ছয় দিনে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৭ লাখ মানুষ Their বিদ্রুপে পড়েছেন। এ তথ্য দেশটির স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে।

    কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে তবে শুধুমাত্র কম্বোডিয়ায় ১১ জন নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছেন। তবে আরও অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন, যার সংখ্যা এখন ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। এক সংবাদ সম্মেলনে কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ম্যালি সোচেতা বলেছেন, সংঘাতে একজন কম্বোডীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। তবে, মৃতের সংখ্যা প্রকাশে সরকার কতটা স্পষ্টতা দেখিয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

    অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৯ জন থাই সেনা এবং ৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৯০ জন, এবং গ্রাম যারা সংঘাতের কারণে নদীতে গেছে তাদের বাড়িঘর থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হয়েছে ৪ লাখেরও বেশি থাই নাগরিককে।

    পান্না ত্রিভুজ নামে পরিচিত এলাকা নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ১১৮ বছরের জটিল দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই অঞ্চলটি থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানায় অবস্থিত এবং প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনাসম্পদে সমৃদ্ধ। এই ক্ষেত্রের দখল নিয়ে দুই দেশই আর্জি জানিয়ে আসছে।

    প্রথমদিকে, ১৯০৭ সালে ফ্রান্সের উপনিবেশ আমলে এই অঞ্চলটি কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে মানচিত্রে দেখা গেছে। স্বাধীনতার পরও, ফ্রান্সের এই দেশের দখলে থাকা এই এলাকা নিয়ে পরিস্থিতির সমাধান হয়নি। ১৯৫৩ সালে কম্বোডিয়া স্বাধীনতা পেলে, এই অঞ্চল এখনও তাদের দখলে থাকায় ব্রিটি-থাই সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

    অতীতে দীর্ঘক্ষেত্রের সীমান্ত সংঘাতের পর ১৫ বছর আগে দুই দেশই যুদ্ধবিরতিতে আসে। তবে, গত বছর মে মাস থেকে আবার উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর ফলে, জুলাইয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দুই দেশের সেনা ও সাধারণ নাগরিকের বেশ ক্ষতি হয়। ওই সময় দুই দেশের মধ্যে ৪৮ জন নাগরিক নিহত হন এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়।

    তবে, চার মাসের শান্তির পর, ৭ ডিসেম্বর ফের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পর থাইল্যান্ডের সি সা কেত প্রদেশে এই সংঘাতের গতি আবার বেড়ে যায়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।