Month: October 2025

  • নভেম্বরে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

    নভেম্বরে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

    আগামী নভেম্বরের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি একটি বৃহৎ জোট গঠনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তিনি আলোচনা করে যাচ্ছেন ন্যাশনাল কনসোলিডেশন পার্টি (এনসিপির) সঙ্গে। তবে, এ জোটে যুক্ত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    আরপিও (নির্বাচনী আচরণবিধি) সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, ২০/১ উপধারার অধীনে জোটভুক্ত দলগুলো অন্য দলের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে—এমন পরিবর্তনের বেশ কিছু দল সম্মত ছিল। তারা আশঙ্কা করেছিলেন, যদি এই সংশোধনী পাস হয়, তবে ছোট দলগুলো আর বেশি সুবিধা পাবেন না। এর ফলে, ছোট দলগুলোর নেতাদের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি হবে না বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, এই আরপিও সংশোধনী একতরফাভাবে পাস হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি চাইছে বহুদলীয় একটি সমৃদ্ধ সংসদ। এজন্য তিনি পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানান। এরপর দলটি চিঠি দিয়ে আপত্তি জানাবে বলে জানানো হয়।

    তারেক রহমান ২০০৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় কারামুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান পরিবারসহ। তখন থেকে তার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন মামলা হয়, যার মধ্যে পাঁচটি সাজা হয় এবং শতাধিক মামলার প্রক্রিয়াও চলমান থাকে। এসব মামলা ও তার বক্তব্যের প্রচার নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ ছিল।

    তবে, গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। তারেক রহমান দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নেন। সব মামলা থেকে তিনি ইতোমধ্যে খালাস পান, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ফিরেননি।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন। এরপর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে তিনি দেশে ফিরবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে মূল নেতৃত্ব ও প্রার্থী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে ধারণা। নিজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারেও তিনি আগেই আশ্বাস দিয়েছেন।

    অন্তর্দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান অংশ নেবেন। নির্বাচিত হলে তিনি হয়তো খালেদা জিয়াকেই প্রধানমন্ত্রী করবেন—এটি এখনো স্পষ্ট নয়। দলের তথ্যানুযায়ী, যদি খালেদা জিয়া সুস্থ ও সক্ষম হন, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। অন্যথায়, সম্ভাব্য হিসেবে তারেক রহমানই হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী বলে মনে করা হচ্ছে।

  • এনসিপিতে আছি, সরকার গঠন পর্যন্ত দলের সাথেই থাকবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এনসিপিতে আছি, সরকার গঠন পর্যন্ত দলের সাথেই থাকবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মনে করেন যে তিনি পদত্যাগের গুজবের কোনও সত্যতা লক্ষ্য করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি এখনো এনসিপির সাথে আছেন এবং সরকার গঠন পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকবেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ অনুসন্ধানে নামে বলে পরিচিত থাকলেও, তারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। তিনি আরও জানান, সত্যি বলতে গেলে দেশের দুর্নীতির ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আগে যেখানে বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনা ঘটত, এখনো তারই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে সচিবালয়, প্রতিটি স্তরেই এই দুর্নীতির অব্যাহততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আরও বেশি প্রয়োজন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, রাতের মধ্যেই অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে, যা অপসাংবাদিকতার শামিল। তিনি আরও জানান, এই ধরণের অপপ্রচার থেকে বেরিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি অভিযোগ করেন, একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যাদের নিজস্ব পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল রয়েছে, তারা যেন সত্যিকার সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি দেশের সুস্থ ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সকল প্রকার অপছাত্রতা ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।

    এদিকে, গতকাল রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, এনসিপির এই নেতা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয় এবং স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, তিনি এখনও দলের সঙ্গে আছেন এবং কোনও পদত্যাগের বিষয়টি সত্য নয়।

  • বিএনপির ৭ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    বিএনপির ৭ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    বিএনপি তাদের দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিপর্যয়কারী কার্যকলাপের কারণে সম্প্রতি বহিষ্কার হওয়া সাত নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। শুক্রবার দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • মির্জা ফখরুলের Everyone should participate in elections to restore democracy

    মির্জা ফখরুলের Everyone should participate in elections to restore democracy

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, সংস্কার সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    শনিবার (২৫ অক্টোবর) শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়া দিগন্তের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, নয়া দিগন্ত আমাদের জন্য এক সংগ্রামের নাম। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এই পত্রিকার সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক ও কর্মীরা অক্লান্ত নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারপরও তারা ধৈর্য্য, সতর্কতা এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে সত্যের সংবাদ পরিবেশন করে গেছেন।

    তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে এই পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ দমন-পীড়ন। তবুও তারা গণমানুষের চেতনা ও সত্যের পক্ষে আওয়াজ তুলে গেছেন। এই সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকামী শক্তিগুলোর ওপর ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নের কথা যুগে যুগে জাতি ভুলে যায়নি। ষাট লাখের বেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বিশ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার হওয়া হলো এর নজির। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নয়া দিগন্তের মালিক মীর কাসেম আলী, সালাউদ্দিন কাদেরসহ অনেকে আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব মানবতার ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়।

    তিনি বলেন, দেশের আমজনতা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়— এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে বিদেশি শক্তির দখলে নয়, জনগণের ইচ্ছা অনুসারে চলে। নয়া দিগন্ত এই লক্ষ্য ও লক্ষ্যক্রমে গণমানুষের স্বর হয়ে কাজ করে চলেছে।

    ১৯৭৫ সালের বাকশাল শাসনের সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের দুঃস্বপ্নের স্মৃতি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই সময় সাংবাদিকরা বেকার হয়ে পড়েছিলেন, কেউ কেউ রাস্তায় হকারি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্বসিত করেন।

    তিনি বলেন, নয়া দিগন্ত সবসময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে অর্ধশতকও বেশি সময়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দলের পক্ষ থেকে সম্পাদক, প্রকাশক, রিপোর্টার ও সকল কর্মীদের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সকল নয়া দিগন্ত পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।

  • আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে সম্ভব নয়: আখতার

    আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে সম্ভব নয়: আখতার

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি উভয়কেই অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বিগত সময়ে তারা আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। এর ফলে দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তারা খুনির পক্ষে সাফাই গাইছে এবং জরুরি সময়ে সহানুভূতি প্রকাশ করছে। এ কারণেই তিনি মনে করেন, এ দুই দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে হবে, কারণ তারা আবার ক্ষমতায় আসলে দেশের পরিস্থিতি ভারতের মতো করদরাজ্যে পরিণত হবে।

    আখতার হোসেন আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের অধীন। তিনি দাবি করেন, সরকার এ বিষয়ে ইতিমধ্যে যুক্তিতর্ক ও স্বাক্ষর সম্পন্ন করলেও, এখনো স্পষ্টভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। তিনি মনে করেন, দ্রুত এই সনদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, নয়তো দুর্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। যদি একটি রাজনৈতিক দল কাগুজে সিদ্ধান্তের মধ্যে থাকলে আবার রাজপথে আন্দোলনে নামতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    তিনি বলেন, কিছু তখনকার রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী সংঘাত, কিন্তু আমরা এখন সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এটা সম্ভব হয়েছে মূলত আমাদের দাবির কারণে, যা ঐকমত্যের মাধ্যমে সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

    আখতার হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কোনো একটি দলের একান্ত সিদ্ধান্তের কারণে আরপিও সংশোধন করতে চাইলে, মনে করেন এর সাথে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির লন্ডনে বৈঠক বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে। অতীতের মতো এবারও তিনি আন্দোলনে যেতে চান না।

    তিনি বলেন, দেশের মানুষের মানবিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষজনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি দলবাজি রাজনীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে থাকবার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। জনগণের জন্য কাজ করতে চান, যাতে দেশের জন্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয়।

    আখতার আরও বলেন, সম্প্রতি একজন ইমাম গুমের ঘটনা ঘটেছে, যা আমরা দেখতে চাই না। তিনি ঘোষণা দেন, এনসিপি দেশের সকল মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। নতুন বাংলাদেশের السياسية বিনির্মাণের জন্য তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিবর্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে মনোযোগ দিতে চান।

    সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা। তবে, সভায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপস্থিত থাকলেন না।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন নাসিরউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি, যার বয়স ৬৫ বছর। ঘটনার সময় Saturday, ২৫ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে, চঞ্চল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন সাচ্চু ও হারুন গোষ্ঠীর সমর্থকেরা অস্ত্রসহ মুখোমুখি হন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে দুই পক্ষের মধ্যে চলছিলো বিরোধ, যা আজকের সংঘর্ষের কারণ। সকালে উত্তেজনা বেড়ে গেলে তারা মাথায় হেলমেট, লাইফ জ্যাকেট পরা এবং দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে নাসিরউদ্দিন গুরুতর আহত হন, দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যু বরন করেন।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি এখন সাধারণ রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে।

  • আবারও সাগরে লঘুচাপ, নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে

    আবারও সাগরে লঘুচাপ, নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে

    বাংলাদেশের আকাশে আবারও নতুন এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কিছু দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ছিল। কয়েক দিন আগে তৈরি হওয়া একটি লঘুচাপ দুর্বল হয়ে গিয়ে বিলীন হয়ে যায়। তবে, গতকাল শুক্রবার সকালে আবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি লঘুচাপ গঠন হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে আসন্ন সময়ে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।

    এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে, এই লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কিনা। তবে, সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এর প্রভাব প্রধানত ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে পড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আংশিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সামনের সপ্তাহের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির সৃষ্টি করতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, “নতুন গঠিত এই লঘুচাপটি বর্তমানে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারার সম্ভাবনা আছে। তবে, এর মূল প্রভাব ভারতের উপকূলে দেখা যাবে। বাংলাদেশের উপকূলেও আংশিকভাবে এর প্রভাব থাকতে পারে, যা বুধবারের দিকে বৃষ্টির কারণ হতে পারে।”

    এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি নেই, এর ফলে তাপমাত্রা গরম আরও বেড়ে গেছে। কয়েক দিন আগে সাগরে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলেও দ্রুত দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে প্রভাব ফেলেনি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ উল্লেখ করেন, “এই লঘুচাপের কারণে ২৯, ৩০ ও ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের আকাশে হালকা থেকে মাঝারি স্তরের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই বৃষ্টিপাত বেশি হতে পারে।”

    আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, “এই লঘুচাপটি ভারতের আন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাڑু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। স্থলভাগে ওঠার পরে কিছুটা উত্তর দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। পশ্চিমা বাতাসের ধাক্কায় এর অংশ বাংলাদেশের দিকেও মেঘ আকারে পৌঁছানর আশঙ্কা রয়েছে।”

    প্রথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এবারের লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা কম। তবে, যদি এটি নিম্নচাপে পরিণত হয়, তবে উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞ আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, “লঘুচাপটির গতি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে। এর পরে, স্থানীয় স্থলভাগ দিয়ে বাংলাদেশের দিকে কিছু অংশ আসতে পারে, ফলে ২৯ অক্টোবর দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।”

  • প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ হাসিনা: প্রেস সচিব

    প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ হাসিনা: প্রেস সচিব

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই প্রতিবাদ করাকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেননি। তিনি মনে করেন, ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরশাসনকালীন সময়ে সব গণমাধ্যম এক সুরে কাজ করেছে এবং একই ধরনের তথ্য প্রচার করেছে।

  • চাকরিচ্যুত ১৪ কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি

    চাকরিচ্যুত ১৪ কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রশাসন বিষয়ে মতামত প্রকাশের কারণে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পর্ষদভুক্ত ২৫ ক্যাডারের ১৪ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার সমন্বয় পরিষদ।

    শনিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ উঠে আসে।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক কৃষিবিদ আহমেদ আলী চৌধুরী ইকবাল। তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগে লক্ষ্য করছি যে, সামাজিক মাধ্যমে দেশের জনপ্রশাসন নিয়ে মতামত প্রকাশের জন্য আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পর্ষদভুক্ত ২৫ ক্যাডারের ১৪ কর্মকর্তা খসড়া অভিযুক্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অথচ একই সামাজিক মাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে পোস্ট শেয়ার কিংবা লিখলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি। এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আপত্তি জানাচ্ছি।

    অতিরিক্তভাবে, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিতেও প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্য ক্যাডারদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা জানান, স্বৈরশাসনাধীন সময়ে বৈষম্য দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু উদ্যোগ নেয়। সেই সময়ে ৭৭৮ জন কর্মকর্তা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পান, যেখানে পদোন্নতির ক্রম উল্লেখ করে সব ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। পরে অন্যান্য ক্যাডারদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো উঠলে, আবেদন আহ্বান করা হলে যাচাই-বাছাইয়ের পর ৭২ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।

    কৃষিবিদ আহমেদ আলী চৌধুরী বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের নামে অনেক কর্মকর্তাকে বৈধ কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে। ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির আদেশে বৈষম্য চালু রেখে বকেয়া মূল বেতন, গ্রাচ্যুইটি ও পেনশনের জন্য আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাকি আটক থাকা কর্মকর্তাদের আবেদন পুনর্বিবেচনা করে, তাদেরকেও অর্থনৈতিক সুবিধা এবং উচ্চ গ্রেড দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে যারা তৃতীয় বা চতুর্থ গ্রেডে আটকা পড়েছেন, তাদের দ্রুত উচ্চ গ্রেডে উন্নীত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি স ম গোলাম কিবরিয়া, ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহফুজ আহমেদ, এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

  • বাবাকে হত্যা, মা ও ছেলেকে ছিনতাইকারীর নাটক সাজানোর চেষ্টা

    বাবাকে হত্যা, মা ও ছেলেকে ছিনতাইকারীর নাটক সাজানোর চেষ্টা

    রাজধানীর একটি এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক ছেলের হাতে তার বাবা খুন হয়েছেন। এই ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরাতেই সন্তানকে বাঁচানোর জন্য মা একটি ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রথমে ঘর থেকে উচ্চস্বরে চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনতে পান। এর কিছু সময় পর দেখতে পান, ছেলে হাতে বঁটি ও ছুরি নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে।

    পরে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে ছেলে তার বাবাকে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়, जिससे তিনি গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবাকে দ্রুত রিকশায় করে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় একজনের কাছে মনে হয়েছিল, বাবার শ্বাসপ্রশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, ছেলে জানায়, বাবা তাকে কাজ না করার জন্য বকাঝকা করছিলেন। এক সময় একটি ঘড়ি নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে বাবা ইট দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন। নিজ হাতে থাকা বঁটি দিয়ে সেই আঘাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে, সেটি বাবার মাথায় গিয়ে লাগে বলে সে দাবি করে।

    তবে, বাবার মৃত্যুর পর মা ও ছেলে পুলিশকে ভিন্ন গল্প বলার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, ছিনতাইকারীরা সিএনজিতে করে এসে বাবাকে হত্যা করেছেন।

    তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়, মা ও ছেলে হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে এবং রক্ষা পেতে এই গল্পগুলো সাজান। পরবর্তী জবানবন্দি ও তদন্তের মাধ্যমে পুরো সত্যতা জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সূত্র: DBC NEWS