Month: October 2025

  • সাকিবের ইচ্ছা দেশের মাটিতে বিদায় নেওয়ার

    সাকিবের ইচ্ছা দেশের মাটিতে বিদায় নেওয়ার

    বাংলাদেশ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্রে মাইনর লিগ ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে নিজেকে আবারও পুরনো স্মৃতিতে মুক্তি পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান ক্রিকেট জীবন, অবসর পরিকল্পনা এবং তার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নানা গুজবের বিষয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন।

    অস্ট্রেলিয়ায় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত উপভোগ্য বলে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘আসলেই এটা খুবই আনন্দের বিষয়। আমার সঙ্গে অনেক স্থানীয় খেলোয়াড়ের পরিচয় হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু খেলোয়াড়ের সাথেও দেখা হয়েছে যাদের সঙ্গে আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরুতেই খেলেছি। এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক স্মরণীয়। আমি কখনও ভুলবো না সেই দিনের কথা, যখন আমার ছোটবেলার পরিবেশকে মনে পড়ে আমার হৃদয় ভরে উঠত। এই মুহূর্তগুলো আমাকে আবারও নিজের আগের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

    বাংলাদেশে নিজের জনপ্রিয়তা ও বিরুপ মন্তব্য নিয়ে সাকিব তার মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন সময় আমাকে অর্থকেন্দ্রিক বা শোরুম আল হাসান বলে সমালোচনা করেছে, যা আমি মনে করি অনেকটাই সাংবাদিকদের তৈরি গল্প। এগুলো হলো কিছু মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের আনা কল্পকাহিনী, যা বলে মানুষ ভাবতে থাকে আমি অন্যরকম। সত্যি বলতে, আমি জানি বাংলাদেশে আমি যা করেছি, তা অন্য কেউ করেনি। আমার এসব কীর্তি তাদের জন্য নতুন, আর সেই জন্য তারা আমাকে সমালোচনায় ভরিয়ে দেয়। তবে আমি মনে করি, এই সব কিছুই এক সময় সবাই বুঝে যাবে।’

    নিজেকে কেন্দ্র করে গুজব বা নেতিবাচক মন্তব্যের ব্যাপারে তিনি বিতরণ করিছেন কোনো দুশ্চিন্তা না থাকাও। তিনি বলেন, ‘মানুষের নিজের ভাবনা থাকতে পারে, আমি সেটা নিয়ে কোনও চিন্তা করি না। আমার আগের দিনগুলো বা ভক্তরা কী ভাবছে, তা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছের মানুষরা কী ভাবছে। আমি নিশ্চিত, তারা এমন ধারণা পোষণ করে না।’

    ২০২৪ সালে যখন দেশে গণ-আন্দোলনের সময় তিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেননি বলে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে সাকিব স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এটি কেবল এক মুহূর্ত ছিল যা খুবই অসুবিধাজনক হয়ে পড়েছিল। হয়তো তারা অন্য কিছু প্রত্যাশা করেছিল, আমি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি, বা আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না। এই সময়ে আমি বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিলাম, আর এই কারণেই হয়তো তারা আমার বিরুদ্ধে গিয়েছিল। আমি এটির কোনও অনুশোচনা করছি না বরং আমি মনে করি, মানুষ এখন বুঝে উঠতে শুরু করেছে।’

    সাক্ষাৎকারে তিনি অবসর সংক্রান্ত জল্পনায় স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘না, আমি কোনো ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিইনি।’ তবে, তিনি যেনাকেন দারুণ একটি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, ‘দেশের মাটিতে যেন শেষবারের মতো ভক্তদের সামনে বিদায় জানাতে পারি। আমি মনে করি, এটা আমার জন্যে নয়, বরং তাদের জন্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেটা ঘটে, তা একদম সবার জন্য একটা সুন্দর মুহূর্ত হবে।’

  • পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন বাবর আজম

    পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন বাবর আজম

    অবশেষে পাকিস্তান টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বাবর আজম পুনরায় মাঠে ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ খবর নিশ্চিত করে বাবর আজমের ক্রিকেটে ফেরার খবরটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    বাবর সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, যা সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর তাঁকে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশের সঙ্গে খেলানো হয় নি এবং চলতি বছরের এশিয়া কাপেও তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল।

    পিসিবি নতুন এই সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের টি-টোয়েন্টি দলে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের স্কোয়াডও প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সালমান আলি আগের মতোই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বের ব্যাটন এখনও তার হাতে। অপরদিকে, ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

    এছাড়াও, টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন আবদুল সামাদ এবং নাসিম শাহ। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার উসমান তারিক, যারা সবাই এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে।

    তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে। এরপর, ৪ থেকে ৮ নভেম্বর ফয়সালাবাদে হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ১১ থেকে ১৫ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। অবশেষে, নভেম্বরের ১৭ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত পাকিস্তান আয়োজন করবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যেখানে অংশ নেবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ে।

    পাকিস্তানের বিভিন্ন স্কোয়াডের মূল সদস্যরা হলেন:

    টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, হাসান নওয়াজ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান খান (উইকেটকিপার), এবং উসমান তারিক।

    ওয়ানডে স্কোয়াড: শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, ফখর জামান, হ্যারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, হাসান নওয়াজ, হুসাইন তালাত, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, সাইম আয়ুব, সালমান আলি আগা।

  • ১৭ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

    ১৭ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে হেরে বসে বাংলাদেশ। আজকের তৃতীয় ও সিদ্ধান্তমূলক ম্যাচটি ছিল সিরিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে দুর্দান্তনৈপুণ্য দেখিয়েছে টাইগাররা। ব্যাটিংয়ে প্রথমে শুরু করে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারের রেকর্ড জুটিতে দলের স্কোর বোর্ডে ওঠে ২৯৬ রান। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের স্পিনাররা ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের ঘূর্ণিতে ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানেই অলআউট করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এজন্য তারা বড় জয় লাভ করে ১৭৯ রানের ব্যবধানে। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক বিশেষ দিন, কারণ এটি একদিনের ক্রিকেটে ১৭ মাস পর তাদের প্রথম সিরিজ জয়। শেষবার টাইগাররা এমন জিতেছিল মার্চ ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে।

    কলেজের বিরুদ্ধে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৬ রানেই তাদের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। নাসুম আহমেদ তাঁর বলেই অলীক আথানেজকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন। অতো কিছু করার আগেই তিনি করেন ২১ বলের মধ্যে ১৫ রান। এরপর বাকী দুই উইকেটও তুলে নেন নাসুম। ২৮ রানে আউট হন আকিম অগাস্টে, ৩৫ রানে ব্র্যান্ডন কিং। এরপরই অন্যদের ওপর চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা, কারণ তারা ৬৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এর পর তাদের ব্যাটসম্যানরা কিছু সংগ্রাম করে, তবে বড় সংগ্রহ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান হয় ১১৭, যা বাংলাদেশের জন্য বিশাল জয়। এটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়, প্রথমটি ছিল ১৬০ রানের জয় ২০১২ সালে খুলনায়।

    টাইগার স্পিনাররা আজ বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে। রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ তিনটি করে উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে দলকে বিপদে ফেলাönen। মিরাজ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে শুরুতেই সাইফ ও সৌম্যর রেকর্ড ১৭৬ রানের উদ্বোদনী জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর বিশাল ২৯৬ রানে পৌঁছে। দলের ওপর মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি ছিল, কারণ তিনি খেলতে আসেননি। সব ওভারই স্পিনাররা করেন, এখন বাংলাদেশ সফলভাবে এই সিরিজ জিতল।

  • এলপিএল স্থগিতের কারণে বিপিএলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

    এলপিএল স্থগিতের কারণে বিপিএলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

    শ্রীলঙ্কায় এলপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নতুন এক আশার আলো দেখিয়েছে। এবারের বিপিএল ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিদেশি ক্রিকেটার সংকটের ঝামেলা কিছুটা কমবে বলে প্রত্যাশা জাগিয়েছে। মূলত, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) ঘোষণা করেছে, এলপিএলের আসর এখন নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে অন্য কোনো সময় অনুষ্ঠিত হবে। আগের পরিকল্পনায় ছিল, ২৭ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলম্বো, ক্যান্ডি ও ডাম্বুলায় এই টুর্নামেন্ট হবে। তবে এখন বলা হচ্ছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ভেন্যুগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যুগুলোতে সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি, তাই এলপিএল পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা বোর্ডের মতে, ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্বকাপের, যেখানে ভেন্যু প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় সময়ের বিকল্প নেই। আইসিসির নির্দেশনা অনুসারে, ভেন্যুগুলোর সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন তুলনামূলকভাবে সময় সাপে গিয়েছে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজও বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, যা মূলত নারী ও মেয়েদের ওভর্স ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য। গত দুই বছর এলপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুলাই-আগস্টে, কিন্তু এবার নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। অপরদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই ডিসেম্বরে বিপিএলের আয়োজন করতে চায়, যা প্রায় একই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকছে। এ সব টুর্নামেন্টের কারণে এমনিতেই বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিযোগিতা ও মানের প্রশ্ন উঠছিল। একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করছে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেশের বাইরে এখন অন্য লিগে খেলার অনুমতি দেবে না। এই পরিস্থিতিতে এলপিএলের পিছিয়ে যাওয়াটা বিপিএলের জন্য এক ধরনের স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যস্ত এই মৌসুমে বিদেশি খেলোয়াড় সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

  • সাইফ-সৌম্যে ঝড়ের পরও বাংলাদেশ তিনশ ছুঁতে পারেনি

    সাইফ-সৌম্যে ঝড়ের পরও বাংলাদেশ তিনশ ছুঁতে পারেনি

    সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই ছিল তুলনামূলকভাবে কম স্কোরিং, ব্যাটারদের জন্য রানের জন্য বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে আজ মিরপুরের স্পিন স্বর্গে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখিয়ে দলের ধারাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাদের রেকর্ড গড়া জুটিতে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের ভিত্তি সৃষ্টি করে। তবে মিডল অর্ডারে কিছু দুর্বলতা থাকায় রানের গতিতে ধীরগতি দেখা যায়, ফলে ৩ নম্বর ইনিংসেও তিনশ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি বাংলাদেশ।

    মিরপুরের কালো পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশিরা ব্যাটিংয়ে প্রচুর সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু আজ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশি দের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেন সাইফ ও সৌম্য। আগের দুই ম্যাচের চেয়ে আজ তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং পাওয়ার প্লে’য় ১০ ওভারের মধ্যে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৪ রান সংগ্রহ করেন।

    এবার ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে টস জিতে বাংলাদেশ ব্যাটিং শুরু করে সেঞ্চুরির আশার সঙ্গে। আগের ম্যাচগুলোতে রক্ষণশীল খেললেও আজ তারা আক্রমণাত্মকভাবে খেলেন। দুই ওপেনার শুরু থেকে লড়াই চালিয়ে যান। তাদের ফিফটির পাশাপাশি, শুরুতেই তারা বেশ দাপুটে ব্যাটিং করেন। উভয়েই শতরানের ওপেনিং জুটির মাধ্যমে দারুণ এক ভিত্তি গড়ে দেন। এটি ছিল গত দুশো দশ বছর পর মিরপুরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশর প্রথম ওপেনিং জুটিতে শতরান।

    এর আগে ২০১৫ সালে ১১ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস গড়ে তুলেছিলেন ১৪৭ রানের জুটি, যা ভেঙে যায় দলীয় ১৭৬ রানে। সেই সময় সাইফ হাসান ৭২ বলে ৮০ রান করে আউট হন আর সৌম্য ঠিক তার পরেই ফিরে যান। তিনি ৯১ রান করতে ৮৬ বল ব্যয় করেন।

    সৌম্য ফিরে যাওয়ার পরে ক্রিজে তাওহিদ হৃদয় এবং নাজমুল শান্ত যুক্ত হয়। তারা একসঙ্গে ৫০ রান যোগ করেন। তবে রান করার গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ক্যারিবীয় বোলারদের দৃষ্টিতে খেলে ৪৪ বলে ২৮ রান করে হৃদয় আউট হন। এর পরে ব্যক্তিগত অর্ধশতকের কাছাকাছি যাওয়া শান্ত ৫৫ বলে ৪৪ রান করেন। শান্ত ফিরে যাওয়ার পর অঙ্কণ, রিশাদ, নাসুমও দ্রুত ফিরে যান। শেষের দিকে ক্যামিও হিসেবে নুরুল হাসান সোহান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখান।

    তিনিও মাহেদী মিরাজের সঙ্গে মিলে ২৪ বলে ৩৫ রান যোগ করেন। তারা একছোপে ব্যাট করে ১ চার ও ১ ছয়ে ৮ বলে ১৬ রান করেন। এই ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়ের জন্য বাংলাদেশের জন্য এক রেকর্ডের মতো।

  • গাজায় লাশে নির্যাতনের দাগ, গার্ডিয়ানের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

    গাজায় লাশে নির্যাতনের দাগ, গার্ডিয়ানের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

    গাজা উপত্যকা বর্তমানে আলোচিত বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে, কারণ সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন, বেআইনি হত্যা ও সন্দেহজনক মৃত্যুর ভয়াবহ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনারা সেডিতিমান সামরিক ক্যাম্প থেকে ১৯৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দির লাশ হস্তান্তর করেছে, যাদের দেহে স্পষ্টভাবে নির্যাতনের চিহ্ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার আলামত দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসকেরা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    গার্ডিয়ান এবং বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের রিপোর্টে উঠে এসেছে, এই লাশগুলোর মধ্যে অনেকের হাত ও চোখ বাঁধা ছিল, যা বোঝায় তারা বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। কিছু লাশের শরীরে গুলির চিহ্ন ও তীরের আঘাতের দাগ রয়েছে। এমনকি কিছু লাশ ইসরাইলি ট্যাংকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।

    সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর জাতিসংঘের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক এক অধিবেশনে বলেছেন, এই ভয়াবহতা তদন্তের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি। মরিস টিডবল-বিন্সের নেতৃত্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিবেদনকে ভিত্তি ধরে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের নাম পরিচয় শনাক্ত করে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে হবে।

    এদিকে, ২০ মাস ধরে ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ছিলেন এক সাংবাদিক, যিনি বন্দিদের ওপর চলা নৃশংস নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, শীতের মৌসুমে বন্দিদের নগ্ন অবস্থায় রাখা হয়, হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় তাদের ১০০ দিন ধরে রাখা হয়, এমনকি কুকুর দিয়ে নির্যাতন করা হয়।

    ইসরাইল দখলকৃত এলাকায় তৎপর সংগঠন ‘ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’ বলছে, এই বন্দিরা মৃত্যুর হার অসাধারণভাবে বেড়েছে এবং নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক স্বতন্ত্র তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির আরও দাবি, গত দুই বছরে তারা ইসরাইলি কারাগারে পরিকল্পিত নির্যাতনের বহু ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সমাজের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাতে শুরু করেছে।

  • ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বার্ড ফ্লু, বিভিন্ন দেশে খামারগুলোতে লকডাউন ঘোষণা

    ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বার্ড ফ্লু, বিভিন্ন দেশে খামারগুলোতে লকডাউন ঘোষণা

    ইউরোপজুড়ে নতুন করে আবারও ভয়াবহ বার্ড ফ্লু-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণত সতর্কতা অবলম্বন এবং রোগ আরও ছড়িয়ে না পড়তে দেশের বিভিন্ন দেশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বেলজিয়ামসহ বেশ কিছু দেশ পোলট্রি খামারগুলোকে ঘরেই রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

    ২২ অক্টোবর বুধবার, সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এই খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপজুড়ে চলতি পরিস্থিতি মোকাবিলায়, নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই বার্ড ফ্লুর মোকাবিলায় বেলজিয়াম বৃহস্পতিবার থেকে সব ধরনের পোলট্রি খামারকে ঘরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। দেশের ফেডারেল ফুড সেফটি এজেন্সি জানায়, সম্প্রতি একটি খামারে করোনা সংক্রমণের সন্ধান পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত কয়েক বছর ধরে, ইউরোপে বার্ড ফ্লু-এর কারণে শত শত কোটি পোলট্রি মারা গেছে বা সংক্রমিত হওয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে নিধন করা হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়েছে, পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্যের মূল্যও বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতি নতুন এক মহামারির আশঙ্কাও তৈরি করেছে।

    অতীতে, ফ্রান্সও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে গত মঙ্গলবার।

    বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) জানায়, বেলজিয়ামের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ডিকসমুইডের কাছে একটি টার্কি খামারে এই সপ্তাহে H5N1 ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। এতে ৩১৯টি টার্কির মৃত্যু ঘটেছে এবং আরও ৬৭ হাজার ১১০টি পাখি নিধন করা হয়েছে।

    বিশ্ব সংস্থাটির আরো জানায়, স্লোভাকিয়াতেও একটি পোলট্রি খামারে নতুন করে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছে, যা ইউরোপে ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের সরকার বুধবার জানিয়েছে, দেশটির মধ্য-পূর্বাঞ্চলে একটি পোলট্রি খামারে বার্ড ফ্লু শনাক্তের পর প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মুরগি নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • পাকিস্তানে মিলিশিয়া নেতাসহ ছয়জনকে হত্যা, মরদেহে আগুন

    পাকিস্তানে মিলিশিয়া নেতাসহ ছয়জনকে হত্যা, মরদেহে আগুন

    পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকধারীরা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়ে সরকারপন্থী এক মিলিশিয়া নেতাকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ওই হত্যাকারীরা মরদেহগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বলে বৃহস্পতিবার দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপি সংস্থা’কে এই তথ্য দেন।

    ঘটনাটি প্রথম ঘটে বুধবার। নিহত ব্যক্তিরা দেশের ওই প্রদেশে এক ভয়াবহ সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা তালেবান ক্ষমতায় ফিরার পর থেকে এই অঞ্চলে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি ষড়যন্ত্রের গন্ধ থাকলেও এখনো কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে, এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, বন্দুকধারীরা প্রথমে ওই মিলিশিয়া নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তারা তার গাড়িতে জ্বালানি ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়, যাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের দেহ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

    তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), দেশটির আনুষ্ঠানিক তালেবান গোষ্ঠী, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করলেও, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মিলিশিয়া নেতা তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানি তালেবান এই ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছিল, যা নাকচ করে দেওয়ায় প্রতিশোধ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

    পাকিস্তান অভিযোগ করে থাকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপির আর্মি আশ্রয় ও তাদের সীমান্ত পারাপারের অনুমতি দিচ্ছে, যা বরাবরই কাবুল অস্বীকার করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বেড়ে চললেও, সম্প্রতি ৯ অক্টোবর কাবুলে এক বিস্ফোরণে দু’দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে, উভয় পক্ষের মধ্যে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটে, ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়। পরে, এই সংকট সমাধানে উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা কার্যকর হয়েছে। আগামী শনিবার এই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তুরস্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    সূত্র: এএফপি।

  • যুক্তরাষ্ট্রে নেশাগ্রস্ত ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকচাপায় নিহত ৩

    যুক্তরাষ্ট্রে নেশাগ্রস্ত ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকচাপায় নিহত ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী হলো প্রযুক্তি সভ্য দেশটির মানুষ। ২১ বছর বয়সী এক অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী, জাসনপ্রিত সিং, একটি ট্রাক নিয়ে নির্মমভাবে চালিয়ে কমপক্ষে তিনজনের মৃত্যু_corner এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ এখন তাকে mাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর এবং হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার বিকালে সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির ফ্রিওয়েতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় জাসনপ্রিত তার সেমি-ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন। সন্দেহ হয়, তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কারণ তার গাড়ি চালানোর সময় তিনি বেশ কিছুকিছু গাড়িকে জোরে ধাক্কা মারেন। ঘটনাস্থলে সাজানো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তার ট্রাকটি খুবই দ্রুত চলে গিয়ে অসংখ্য গাড়িকে ধাক্কা মারে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা পুরোপুরি ক্যামেরাবন্দী হয়েছে ড্যাশক্যামের মাধ্যমে। এতে স্পষ্ট দেখা যায়, তার ট্রাক দ্রুত গতিতে গাড়িগুলোর ওপর আছড়ে পড়ছে।

    সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় আটটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে চারটি ছিল বাণিজ্যিক ট্রাক। দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু ঘটে, আর আহত হন আরও চারজন, যাদের মধ্যে জাসনপ্রিতও রয়েছেন। আহতদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ জানিয়েছে, জাসনপ্রিতের মধ্যে কোনও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কিনা, তা এখন তদন্তের বিষয়। তবে, নিশ্চিত করা হয়, এই ঘটনার সময় সে মাদক গ্রহণ করেছিলেন। তাকে গ্রেফতারের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পাওয়া যায়, তিনি মাদক সেবন করেই ড্রাইভিং করছিলেন। বর্তমানে সে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

    ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, জাসনপ্রিতের কাছে বৈধ বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কি-না, তা এখন তদন্তাধীন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তার ভিসা বা অনুমোদনপত্র ছিল না।

    অন্য এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ বলেছে, জাসনপ্রিত সিং ২০২২ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তখন তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেন্ট্রোতে আটক করা হয়। তবে, বাইডেন প্রশাসনের ‘আটকের বিকল্প’ নীতির অধীনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে অবৈধ অভিবাসীদের বিচারবিহীন সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।

    এর আগেও গত আগস্টে ফ্লোরিডার সেন্ট লুসি কাউন্টির পোর্ট পিয়ার্সে অবৈধভাবে ইউ-টার্ন নেবার সময় একটি ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনায় পড়ে হারজিন্দার সিং নামে এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়।

    ওই সময় মার্কিন মার্শালদের মতে, হারজিন্দার সিং ২০১৮ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন। এরপরও তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বৈধ বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স (সিডিএল) পান করেন, যা সাধারণত অবৈধ অভিবাসীদের জন্য নিষিদ্ধ। তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে

  • ভারতে এআই দ্বারা তৈরি ছবি ও ভিডিও দ্বারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপতৎপরতা

    ভারতে এআই দ্বারা তৈরি ছবি ও ভিডিও দ্বারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপতৎপরতা

    ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি হওয়া ছবি ও ভিডিওগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ষড়যন্ত্র এবং সামাজিক বিভাজন বাড়ানোর নতুন опасতা তৈরি করেছে। এই সংক্রান্ত একটি ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা, সেন্টার ফর স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ), সম্প্রতি একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

    নির্ধারিত সময়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে মুসলিমCommunity-targeted hateful content লক্ষ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩২৬টি এআই-সৃষ্ট পোস্ট, যা বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো হয়েছে। এই পোস্টগুলো এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনের মূল লেখক ও নির্বাহী পরিচালক রাকিব হামিদ বলেন, ‘‘এটা শুধু বরফের নিচের ছোট অংশ, সমগ্র ভারতের ডিজিটাল পরিবেশের পরিধি অনেক বেশি বড় এবং জটিল।” তিনি জানান, এর আগের বছরগুলোতে এ ধরনের কার্যক্রম তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এর কারণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, সহজলভ্য এআই টুল যেমন স্টেবল ডিফিউশন, মিডজার্নি ও DALL•E ইত্যাদি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এই টুলগুলো দিয়ে তৈরি ছবি এখন মুসলিমদের ব্যক্তিগত করে তোলা, ষড়যন্ত্রমূলক ষড়যন্ত্র তত্ত¡ ছড়ানো, সহিংসতা সুন্দরভাবে উপস্থাপন এবং নারীবিদ্বেষ ও ইসলামবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বিশেষ করে, ভারতের মুসলিম নারীদের যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে এআই-সৃষ্ট ছবি ও কনটেন্টের প্রবণতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সাধারণ প্রতিবাদ বা ছোটখাটো সংঘাতকেও এখন সহজেই সা¤প্রদায়িক রূপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যেখানে যারা অপরাধমূলক বা ঘৃণার প্রচার করতে চায়, তারা এই এআই generated কনটেন্টগুলো ব্যবহার করছে।

    এ কারণে বিশেষ করে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ ভারত এখনও এআই-নির্মিত মিথ্যা সংবাদ ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে কার্যকরী আইনগত ও সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি নিতে পারেনি। ডিজিটাল প্রাইভেসি গবেষক শ্রীনিবাস কোদালি বলেন, ‘‘এই ধরনের কনটেন্ট সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের মনোভাব ও বিশ্বাসের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।’’ তিনি আরও যুক্ত করেন, এআই-নির্মিত মিডিয়ার প্রভাব সরলরেখায় চলে না এবং এটা কিভাবে দেখি, কোন প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করি, তা দর্শকের মানসিকতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

    সরকার যদিও এআই প্রযুক্তিকে ‘উন্মুক্ত ও সহজলভ্য’ করার পরিকল্পনা করছে, তবে কোদালি সতর্ক করে বলেন, ভুয়া তথ্য, মানহানি বা ঘৃণাবাদী বক্তব্যের মতো ইতিমধ্যে প্রচলিত ক্ষতিকর ভাষার সাথে এআই নতুন জটিলতা যোগ করেছে।

    অতএব, গবেষণা সংস্থা সিএসওএইচ এর মূল সূত্রে বলা হয়েছে, মূল সমস্যা লুকিয়ে আছে এআই মডেল তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। তারা বিপুল পরিমাণ অনিয়ন্ত্রিত ডেটা, ঘৃণাজাত কনটেন্ট ও ষড়যন্ত্রমূলক ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়ে এসব মডেল প্রশিক্ষণ দেয়, যা ব্যবহার করে ক্ষতিকারক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে।

    প্রতিবেদনটি বেশ কিছু সুপারিশও প্রদান করেছে। তাতে বলা হয়েছে, এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে ও ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী শনাক্তকরণ, রিপোর্টিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে অপব্যবহার দ্রুত শনাক্ত ও রোধ করা যায়।

    এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে, ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর জন্য নতুন নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের অবশ্যই জানাতে হবে, তাদের কনটেন্ট এআই-নির্মিত কি না। এটি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে ভারতের উদ্যোগের অংশ।