Month: October 2025

  • ভারতে ইঁদুর আতঙ্কে জড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটাররা

    ভারতে ইঁদুর আতঙ্কে জড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটাররা

    চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। টানা পাঁচটি জয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। মাঠের জয়জয়কারের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দারুণ উজ্জীবিত হলেও অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেটাররা ভারতের বিশাখাপত্তনমে অবস্থান করার সময় ঘটেছে এক রহস্যজনক পরিস্থিতি।

    বিশাখাপত্তনমে একটি হোটেলে রাতে খাবার খাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা যখন হঠাৎ তারা দেখেন ডাইনিং রুমে একটি ইঁদুর হানা দিয়েছে। ইঁদুরের উপস্থিতি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকটি ক্রিকেটার চিৎকার করে ওঠেন, অভিভূত ও ভীতির কারণ হিসেবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য হোটেল কর্মীরা দ্রুত হাজির হন এবং ইঁদুরটি ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু সফলতা পাননি। ইঁদুরটি ডাইনিং রুমের চারপাশে দৌড়াদোড়ি করতে থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে যায়। অনেকেই চেয়ারে উঠে বসে ঘটনার থেকে রক্ষা চান।

    এ ঘটনার একটি ভিডিওও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) প্রকাশ করেছে যেখানে ক্রিকেটাররা নিজেরাও তাদের আতঙ্ক ও ভীতির অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, ‘আমরা ভাবছিলাম ইঁদুর চলে গেছে, কিন্তু তা নয়। ইঁদুর আবার ফিরে আসে, আর আমাদের চিৎকার আরও বেড়ে যায়।’

    ইঁদুরের এই অদ্ভুত চলাচলের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, কারণ টুর্নামেন্টের চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ান দলের থাকা হোটেলের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আপাতত এই বিষয়ে ভারত ও হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে।

  • থাইল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলার নারীরা

    থাইল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলার নারীরা

    বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গত শুক্রবার ব্যাংককের থুনবুরি ইউনিভার্সিটি ফুটবল ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার মানে থাইল্যান্ডের কাছে। এই ম্যাচটি ফিফা স্বীকৃত হলেও এটি ক্লোজড ডোর অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশিরা সরাসরি ম্যাচটি দেখার সুযোগ পাননি।

  • এনসিএল চারদিনের টুর্নামেন্ট শুরু ২৫ অক্টোবর থেকে

    এনসিএল চারদিনের টুর্নামেন্ট শুরু ২৫ অক্টোবর থেকে

    ময়মনসিংহ বিভাগকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতা ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে, যা দীর্ঘ দিন ধরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিসিবি ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ সূচি প্রকাশ করেছে, যাতে সব দল নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পেরেছে।

    এনসিএলের খেলা মূলত মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও আউটার মাঠ, রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বিকেএসপি’র ৩ নম্বর মাঠ ও কক্সবাজারের দুটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামসহ বেশ কিছু ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

    এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের আটটি দল তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, যেখানে খেলোয়াড়দের মধ্যে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা রয়েছেন। সব দলেরই লক্ষ্য শিরোপা জয়। নিচে প্রত্যেক বিভাগের দল ও তাদের নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিস্তারিত দেয়া হলো:

    **খুলনা বিভাগ:** সুযোগ পানেছেন সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন (উইকেটকিপার ও অধিনায়ক), এনামুল হক বিজয়, আফিফ হোসেন ধ্র“ব, জিয়াউর রহমান, নাহিদুল ইসলাম, অমিত মজুমদার, মোঃ ইমরানুজ্জামান, পারভেজ জীবন, টিপু সুলতান, সফর আলী ও মেহেদি হাসান রানা। স্ট্যান্ডবাই মোকাদ্দেস, আখের হোসেন, আরিফুল ও মাসুম।

    **রাজশাহী বিভাগ:** হাবিবুর রহমান সোহান (অধিনায়ক), সাব্বির হোসেন, ইমন আলী, সাব্বির রহমান, মেহরব হোসেন, প্রীতম কুমার, রহিম আহমেদ, শাখির হোসেন শুভ্র, তাইজুল ইসলাম, নিহাদুজ্জামান, সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ ওয়ালিদ, শফিকুল ইসলাম, সুজন হাওলাদার ও আসাদুজ্জামান পায়েল। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা হলেন মোহর শেখ, মাইশুকুর রহমান, নাহিদ রানা, রায়হান আলি, সাকিব শাহরিয়ার, মিজানুর রহমান ও ওয়াসি সিদ্দিকী। রিজার্ভে থাকবেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।

    **সিলেট বিভাগ:** মুবিন আহমেদ দিশান, মিজানুর রহমান সায়েম, আমিত হাসান, জাকির হাসান (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), সৈকত আলী, মুশফিকুর রহিম, আসাদুল­া আল গালিব, শাহানুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা, এবাদত হোসেন চৌধুরী, আবু জায়েদ রাহী, নাবিল সামাদ ও নাঈম হোসেন সাকিব। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা ৬জন।

    **রংপুর বিভাগ:** আব্দুল­াহ আল মামুন, মিম মোসাদ্দেক, জাহিদ জাভেদ, নাইম ইসলাম, আকবর আলী (অধিনায়ক), তানবির হায়দার খান, নাসির হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, রবিউল হক, নবীন ইসলাম, মেহেদি হাসান, আবু হাসিম, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন ও শেখ ইমতিয়াজ শিহাব। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা বিভিন্ন।

    **ময়মনসিংহ বিভাগ:** নাঈম শেখ, আবদুল মজিদ, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আইচ মোলা, আরিফুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, শুভাগত হোম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, গাজী মোহাম্মদ তাজিবুল, রাকিবুল হাসান, আরিফ আহমেদ, আবু হায়দার রনি, মারুফ মৃধা, শহিদুল ইসলাম ও আসাদুল­াহ গালিব। স্ট্যান্ডবাই থাকছেন আরও কিছু খেলোয়াড়।

    সব মিলিয়ে, এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের শক্তিশালী দল যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়তে খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করবেন। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছে এই ভিন্নমাত্রার প্রতিযোগিতার, যা আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হবে।

  • উড়ন্ত হেডসহ জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি

    উড়ন্ত হেডসহ জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি

    পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে নিজের নাম লেখিয়েছেন লিওনেল মেসি, হাজারো রেকর্ড ভেঙে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। যদিও হেড দিয়ে করা গোলসংখ্যায় তাঁর তুলনা খুব কম খেলোয়াড়ের কাছেই হয়, তবুও মেসি নিজেও পছন্দের গোলের তালিকায় বার্সেলোনার হয়ে করা একটি স্মরণীয় হেড গোলের কথা উল্লেখ করেন। সে স্মৃতি আবার স্পষ্ট হলো আজ, শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ইন্টার মায়ামির জার্সিতে উড়ন্ত হেডের মাধ্যমে তিনি জোড়া গোল করলেন এবং দলকে ৩-১ ব্যবধানে জেতালেন।

    মাত্র একদিন আগে, মেসি নতুন করে তিন বছরের জন্য ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। এর আগে, এমএলএসের মৌসুমে তিনি ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুটের নিশ্চিত মালিক হন। আজ, ম্যাচের আগে লিগের কমিশনার ডন গারবার তার হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। এরপর ম্যাচের শুরুতেই উড়ন্ত গোলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নেন মেসি, শেষে জোড়া গোল করে ম্যাচের সুন্দর সমাপ্তি ঘটান।

    নির্ধারিত সময়ে মায়ামি ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে নাটকীয়ভাবে ৯৬ মিনিটে ন্যাশভিলে এক গোল শোধ করেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৬ মিনিট আগে, বিরতির ঠিক আগে, মেসি একটি সহজ গোল করেন। খেলা হয় চেজ স্টেডিয়ামে, যেখানে ৫৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ১২টি শট নেয় মায়ামি, এর মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে, ন্যাশভিলের তিনটি লক্ষ্যে থাকলেও, মোট শট ছিল ছয়টি।

    সপ্তাহখানেকের মধ্যে ন্যাশভিলেকে দ্বিতীয়বার হারাল মায়ামি। এর আগে লিগের শেষ ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকে ৫-২ ব্যবধানে জয় ছিল তাদের। আজ আবারো জয়ের মাধ্যমে প্লে-অফের ‘বেস্ট অব থ্রি’ পর্বের প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে গেল হাভিয়ের মাশ্চেরানোর দল।

    ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথম লিড এনে দিতে সাহায্য করেন মেসি। লুইস সুয়ারেজের کراস থেকে, বক্সের মাঝামাঝি থেকে, উড়ন্ত হেড দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ম্যাচের প্রথমার্ধের পরে, ৬২ মিনিটে তাদেও আলেন্দের গোলের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। সেই সময়ে মায়ামির গোলরক্ষকটি বলটি আটকাতে পারেননি, ফলে গোলটি সহজে জড়িয়ে যায়।

    ইনজুরি সময়ে খেলা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে, সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সহজ গোলটির মাধ্যমে ব্যবধান আরও বাড়ান মেসি, যেখানে ন্যাশভিলে গোলরক্ষক বলটি ফেল করে ফেলেন, আর তিনি নরমভাবে ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে হানি মুখতার ব্যবধান কমানোর জন্য গোল করেন, তবে এতে দলের জয় আটকায় না।

  • মেসির হাতে গোল্ডেন বুট, এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার

    মেসির হাতে গোল্ডেন বুট, এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার

    নির্বাচিতভাবে ন্যাশভিলে এসসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এমএলএস লিগের গোল্ডেন বুট পুরস্কার জেতলেন লিওনেল মেসি। চেজ স্টেডিয়ামে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন এমএলএসের কমিশনার ডন গারবার। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে প্রথমবারের মতো এই সম্মান অর্জন করেন তিনি।

    ডন গারবার গোল্ডেন বুট তুলে দিয়ে বলেন, “আমরা কখনো কল্পনা করিনি যে লিওনেল এই ক্লাব, এই শহর ও এই লিগের জন্য এত গভীর প্রভাব ফেলবে। তিনি পুরো এমএলএস এর গতিপথ বদলে দিয়েছেন।”

    এর এক দিন আগে, ইন্টার মিয়ামি ঘোষণা করে যে, মেসি তিন বছরের জন্য নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্লাবে থাকবেন। এর মানে, তিনি চল্লিশের কাছাকাছি বয়সেও মিয়ামির হয়ে খেলে যাবেন।

    গারবার বলেন, “মেসি এমন এক খেলোয়াড়, যিনি ফুটবলকে ভিন্নভাবে ভাবেন। তার জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।”

    ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মেসি ক্লাবের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তার নেতৃত্বে ২০২৩ সালে লিগস কাপ জয় করে, এবং পরের বছর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ডসহ এমএলএস এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড গড়ে।

    ব্যক্তিগতভাবে তিনি ২০২৪ সালের এমভিপি (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার) পুরস্কার জয় করেছেন এবং ২০২৫ সালের সংস্করণে আবার এই পুরস্কার জেতার অন্যতম ফেভারিট হিসেবে থাকছেন। যদি তিনি আবার জয় করেন, তবে এমএলএস ইতিহাসে টানা দুইবার এমভিপি পুরস্কার জয়ী প্রথম খেলোয়াড় হবেন তিনি।

    মেসির আগমনের পর ইন্টার মিয়ামির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার। এমএলএস-এর টিকিট ও জার্সির বিক্রিও রেকর্ড ছুঁয়েছে।

    গারবার হাস্যরসে বলেন, “তিনি আসলে ‘ইউনিকর্ন অব ইউনিকর্নস’। তার চিন্তা, মনোযোগ ও জয়ের ইচ্ছাই তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।”

    নতুন চুক্তির ঘোষণা উপলক্ষে ইন্টার মিয়ামি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে দেখা যায়, তিনি ক্লাবের নতুন স্টেডিয়ামে নিজে চুক্তি স্বাক্ষর করছেন। এই স্টেডিয়ামটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত এবং আগামী বছর উদ্বোধিত হবে।

    গারবার মন্তব্য করেন, “এটি দেখায়, ক্লাবটি কতটা পেশাদার ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে কাজ করছে।” মেসি এখন শুধু মিয়ারামের জন্যই নয়, পুরো আমেরিকার ফুটবলের প্রতীক হয়ে উঠেছেন — এক কথায়, “দ্য গিফট দ্যাট কিপস অন গিভিং।“

  • চীন থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হলো

    চীন থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হলো

    রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দিল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় তারা। শীর্ষ দুই রুশ তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকওয়েল, যারা রাশিয়ার সমুদ্রপথের তেল বিক্রির জন্য প্রধানভাবে দায়ী, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এর ফলে চীনের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এখন থেকে রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে চাইছে, কারণ তারা অনিরাপত্তার ঝুঁকি মনে করছেন। বৃহস্পতিবার, একাধিক বাণিজ্যিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    ইউক্রেনের শান্তি চুক্তির চাপ বাড়ার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর ঝুঁকি কমাতে চাইছিল। এর আগেও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে রুশ তেল আমদানি কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিল। এর ফলে, এখন চীন ও ভারতের মতো বড় ক্রেতারা রাশিয়ার তেল থেকে সরে আসার পথে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে রাশিয়ার রাজস্বের ওপর বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যে কারণে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে।

    সূত্রগুলো জানিয়েছেন, চীনা জাতীয় তেল কোম্পানি পেট্রোচায়না, সিনোপেক, সিএনওওসি ও ঝেনহুয়া অয়েল আপাতত সমুদ্রপথে রুশ তেল কেনাবেচা বন্ধ রেখেছে। তারা আশঙ্কা করছে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি তারা। চীনা সংস্থাগুলো দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করলেও, বেশিরভাগ কাজ করে বেসরকারি ক্ষুদ্র রিফাইনারি বা ‘টিপট’ কোম্পানিগুলো। বিশ্লেষকেরা জানাচ্ছেন, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর রুশ তেল কেনা দৈনিক ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ছিল, যা আগের তুলনায় কম।

    সিনোপেকের বাণিজ্যিক শাখা ইউনিপেক, গত সপ্তাহে রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, কারণ যুক্তরাজ্য রসনেফট, লুকওয়েলসহ রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজ ও কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া, রসনেফট ও লুকওয়েল সরাসরি নয়, মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে থাকে। অন্যদিকে, কিছু স্বাধীন রিফাইনারি পূর্বাভাস অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে, তবে তারা রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    চীন আরও প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল রুশ তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করে, যা সবটাই পেট্রোচায়নার কাছে যায়। এই সরবরাহে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও চীন অন্য উৎস থেকে তেল কিনতে উৎসাহী হবে। এর ফলে, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞামুক্ত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

  • পাকিস্তানকে পানি দেবে না আফগানিস্তান, নদীতে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ

    পাকিস্তানকে পানি দেবে না আফগানিস্তান, নদীতে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ

    আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের দিকে যাওয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং পানির প্রবাহ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে তালেবান সরকার। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সম্প্রতি কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, কুনার নদীর ওপরে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ বাঁধ নির্মাণের। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখন আলোচনা সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে কিছু সময় আগে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও এখন এই বাঁধ নির্মাণ বিষয়টি সম্পর্কের ভেতর নতুন করে উত্তেজনা জোগাবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আফগানিস্তানের পানি ও জ্বালানি মন্ত্রী মোল্লা আব্দুল লতিফ মনসুর বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতা আখুন্দজাদা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, কুনার নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে। পাশাপাশি, দেশীয় কোম্পানিগুলোর দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আফগানের নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার অধিকার আছে। এই প্রকল্পটি বিদেশি না, বরং দেশের স্থানীয় সংস্থা গুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।’

    কুনার নদী, যা ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ, আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে নাঙ্গারহার প্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর এটি পাকিস্তানে প্রবেশ করে খাইবার পাখতুনখোয়ায়, যেখানে এটি জালালাবাদের কাছে কাবুল নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। পাকিস্তানে এই নদীকে চিত্রাল নদী বলা হয়। এই নদীটি উপত্যকা ও পানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে সিন্ধু নদে রয়েছে এর সংযোগ, যা পাকিস্তানের পানির বড় উৎস।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি কুনার নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়, তবে এটি সিন্ধু নদীর ওপর তীব্র প্রভাব ফেলবে, যা পাকিস্তানের কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জীবনধারায় গুরুতর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    সম্প্রতি, চলতি বছর এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারতের দাবি, এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তান দায়ী। এর موجে, পাকিস্তান সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর, মে মাসে দুই দেশ তীব্র সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

    ১৯৬০ সালে, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায়, ভারত ও পাকিস্তান সই করে ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’। এই চুক্তির আওতায়, ভারত নেভদীর স্রমধন যেমন সতলজ, বিয়াস ও রাভি নদীর পূর্ণ অধিকার পায়। অন্যদিকে, পাকিস্তান পান করতে পায় ইন্দুস, ঝিলম ও চেনাব নদীর জল। এই চুক্তি দুই দেশের পানির ব্যবহারে সুষ্পষ্ট বিতরণ নীতির সূচনা করে, যা এখনো বহাল রয়েছে।

  • ৭ দিনে ইউক্রেনের ১০ এলাকা রাশিয়ার দখলে

    ৭ দিনে ইউক্রেনের ১০ এলাকা রাশিয়ার দখলে

    মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে রুশ বাহিনী নতুন ১০টি স্থান বা বসতিস্থান দখল করে নিয়েছে ইউক্রেনের ওপর। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দখলকৃত এই নতুন এলাকা গুলোর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ এবং জাপোরিজ্জিয়া প্রদেশ। এই ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে রুশরা এসব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একই সময়ে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ২২টি সামরিক স্টোরেজ ও অস্ত্রনির্ভর কেন্দ্র ধ্বংস করেছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশদের এই সামরিক অগ্রগতি দেখা গেছে, তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানো হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের বেশ কিছু সামরিক সম্পদ যেমন একটি এসইউ-২৭ ফাইটার জেট, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১৮টি গাইডেড এভিয়েশন বোমা, ১৫টি হিমার্স রকেট এবং মোট ১৪৪১টি ড্রোন রুশ বাহিনীর কাছে হারিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেন কতটা প্রতিরোধ করছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি উল্লেখিত পক্ষগুলো। এই যুদ্ধের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা হঠাৎ কমতে দেখা যায়নি; কারণ ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পশ্চিমাদের ন্যাটো সদস্যপদে ইউক্রেনের আবেদনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত তিন বছরে রুশ বাহিনী দখল করে নিয়েছে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জিয়া এবং খেরসন প্রদেশ, যা মোট ইউক্রেনের শতকের দশ ভাগেরও বেশি ভূখণ্ড। এই অঞ্চলগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে ইউক্রেনের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো শান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যায় না। সংঘাতে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

  • নরেন্দ্র মোদির গোপন ৩৯০০ কোটি রুপির বিনিয়োগে আদানিকে রক্ষা

    নরেন্দ্র মোদির গোপন ৩৯০০ কোটি রুপির বিনিয়োগে আদানিকে রক্ষা

    নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর যখন বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি গৌতম আদানিকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের স্বার্থে একটি গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক বৃহৎ বিমা সংস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (এলআইসি) ব্যবহার করে তিনি এই বিতর্কিত শিল্পপতিকে অর্থায়নের জন্য প্রায় ৩৯০০ কোটি রুপির বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অভ্যন্তরীণ নথিগুলির ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রালয়, অর্থনৈতিক পরিষেবা বিভাগ (ডিএফএস), এলআইসি এবং নীতি নিয়ামক সংস্থা নীতি আয়ের যৌথভাবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করে। মূল উদ্দেশ্য ছিল আদানি গ্রুপের বন্ড ও ইক্যুইটির উপর ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের প্রতি বিশ্বাস বাড়ানো।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আদানির পোর্টফোলিওর একটি ৫৮৫ মিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যুর জন্য এলআইসি একাই অর্থায়ন করে। মে মাসের শেষে আদানি গ্রুপ ঘোষণা করে, এই বন্ডের পুরো অর্থায়নের জন্য একমাত্র বিনিয়োগকারী হিসেবে তারা তহবিল সরবরাহ করেছে এলআইসি। এই অর্থায়নে সমালোচকেরা বলছেন, সাধারণ করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে।

    এই বিনিয়োগের লক্ষ্য ছিল আদানির প্রতি ‘আস্থার বার্তা’ পাঠানো এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা। তবে, ঠিক এক বছর আগে, আদানি গ্রুপের ঋণ স্তর ২০ শতাংশ বেড়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।

    বর্তমানে আদানি গ্রুপ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় তদন্তের মুখোমুখি। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের ঘুষ, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক লেনদেনের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জ্বালানি চুক্তি জেতার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন হয়। যদিও আদানি এই সব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    ২০২৩ সালে, মার্কিন শর্ট-সেলার হিন্ডেনবার্গ আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে স্টক ম্যানিপুলেশন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুললে বেশ কিছু বড় ব্যাংক তাদের ঋণ সহায়তায় সংকোচপ্রবণ হয়।

    এমন পরিস্থিতিতে, ডিএফএসের অভ্যন্তরীণ নথিগুলিতে ভারতীয় কর্মকর্তারা আদানিকে ‘দূরদর্শী উদ্যোক্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ তারা মনে করেন, বন্দরে, জ্বালানি ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে আদানির ব্যবসাগুলি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এলআইসি, যা লাখ লাখ ভারতীয়র জীবন বিমা করে এবং তাদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের, একটি রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত বেসরকারি সংস্থায় এত বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাধীন বিশ্লেষক হেমেন্দ্র হাজারি মন্তব্য করেন, ‘এলআইসির মতো একটি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের বড় বিনিয়োগ সাধারণত প্রত্যাশিত নয়। যদি কিছু হয়, তবে শুধুমাত্র সরকারই এই পরিস্থিতি সামলাতে পারে।’

    প্রতিবেদনের প্রকাশের পরে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদি ও আদানি গ্রুপের ওপর তীব্র আক্রমণ শুরু করে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র টুইটে বলেন, ‘ভারতীয় করদাতাদের ৩০ হাজার কোটি রুপি কীভাবে আদানির পিগিব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি দেখার জন্য মনোযোগ দিন।’ তিনি অভিযোগ করেন, মোদি সরকার আদানিকে অর্থায়ন করছে এবং উল্টো দেশের জনগণকেই এখন তাকে রক্ষা করতে হচ্ছে।

    কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গৌতম আদানি ও তার সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ ওঠার পর মাত্র চার ঘণ্টার ট্রেডিংয়ে এলআইসির ৭ হাজার ৮৫০ কোটি রুপি ক্ষতি হয়। তিনি এটিকে ‘মোদানি মেগাস্ক্যাম’ বলে অভিহিত করেন, যেখানে অভিযোগ ছিল—জোরপূর্বক সম্পদ বিক্রি, সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্ষমতার অপব্যবহার।

    অভিযোগের জবাবে, আদানি গ্রুপ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাদের কোনও ভূমিকার কথা ‘সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার’ করে। তারা এই অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে, এবং জানিয়েছে, তাদের উত্থান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

  • থাই রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাই রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাইল্যান্ডের কিংবদন্তি রাজমাতা সিরিকিত মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি দেশের বর্তমান রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের মা এবং রাজপরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

    থাই রয়্যাল হাউজহোল্ড ব্যুরো শনিবার (২৫ অক্টোবর) এ খবর নিশ্চিত করে জানায়, রাজমাতা সিরিকিত দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ২০১৯ সালে তার শরীরে নানা রোগের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর তার রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ছিলেন।

    রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও তার তিন মেয়ে ছাড়া এই প্রয়াত রাজমাতার রেখে যাওয়া উত্তরসূরিরা হচ্ছেন তার পুত্র ও তিন কন্যা। এখন তার শেষ বিদায়ের জন্য রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ মানুষের জন্য মরদেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের ডুসিট থ্রোন হলে রাখা হবে এবং এক বছর ধরে তিনিへの শ্রদ্ধাজ্ঞাপন চলবে।

    সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাজপরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তার নেতৃত্বে গৌরবময় গ্ল্যামার ও মর্যাদার পুনরুত্থান ঘটেছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবে সক্রিয় ছিলেন। ২০১২ সালে স্ট্রোকের কারণে তিনি জনসমক্ষে দেখা কম করেন।

    থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল তার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তার সফর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে বাতিল করা হয়েছে ও রাজকীয় শেষকৃত্য সম্পর্কিত আলোচনা আজকের মন্ত্রিসভার সভায় হবে।

    সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম সময়ের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের স্ত্রী। ১৯৪৬ সাল থেকে ৭০ বছর ধরে রাজপরিবারের এই মূল সদস্য রাজাধিরাজের সঙ্গে দেশের দাতব্য কার্যক্রমে যুক্ত থেকে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেন।

    তিনি ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, প্যারিসে সংগীত ও ভাষা অধ্যয়নকালে ভূমিবলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৪৯ সালে তারা বাগদান সম্পন্ন করেন এবং ১৭ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

    সিরিকিত পিয়ের বালমাঁর মতো প্রখ্যাত ফরাসি ডিজাইনারের সঙ্গে মিলে থাই সিল্কের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে নতুন রুচি ও সৌন্দর্য যোগ করেছিলেন, যার ফলে থাইল্যান্ডের সিল্কশিল্পের প্রতি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওয়াহু রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সফর করেন এবং দরিদ্র মানুষদের জন্য অন্ন, বাসস্থান ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে রাজা সাময়িকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করলে সিরিকিত তার দায়িত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালে তার জন্মদিন ১২ আগস্টকে সরকারীরা মা ও জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে।

    রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের মৃত্যুর পর ২০১৬ সালে তিনি তার একমাত্র পুত্রের নতুন সিংহাসনে বসার পর থেকে রাজপরিবারের একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০১৯ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের অভিষেকের সময় তাঁর উপাধি রাজমাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।