Category: রাজনীতি

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষার্থীদের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন করবেন তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষার্থীদের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন করবেন তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে বাজেটের বড় একটি অংশ বরাদ্দ রাখা হবে। এর পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করে তোলা হবে, যাতে তারা উন্নত জীবনগাঠামো উপভোগ করতে পারে এবং দেশের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী হয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের কেবল শিক্ষকতা নয়, সংসার চালানোর জন্য অন্য কোনও কাজ করতে হবে না, এর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিশুদের মধ্যে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে তিনি শিক্ষকদের অবদান আরও বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে নতুন এক বা দু’টি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান, কারণ এসব দক্ষতা আন্তর্জাতিক কাজ ও বিদেশে কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে যেন তারা সামনে এসে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

    শনিবার (২৫ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আগ্রহে অংশ নেয়; সকাল থেকেই বিদ্যালয় মাঠে ছুটে আসে শিক্ষার্থীরা, যা অনুষ্ঠানস্থলকে কানায় কানায় ভরে তোলে। সেখানে জাতীয় ও দলীয় সংগীতের সঙ্গে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও পরিবারের উন্নয়নের জন্য ভালো পড়াশোনা অপরিহার্য।

    এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বিগত ২৫ বছর আগে তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন ধরনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির আগেও বিএনপি তা বলেছে।

    অনুষ্ঠানে তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা আর বিনিয়োগে বড় অঙ্ক বরাদ্দ করা হবে। শিক্ষকদের অঙ্গীকার করতে হবে, শিক্ষকতা করেই তারা সংসার চালাবে। এ ছাড়া, ভালো শিক্ষার জন্য বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে আরও একটি ভাষা শেখানো হবে এবং কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭ম-৮ম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা চালু করতে হবে এবং মেধাবী ছাত্রদের অসুবিধা না হয়, সে জন্য তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তুললে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অতীতের মতোই, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া, তিনি বলেন, মোবাইল ও অন্যান্য গেজেটে সময় অপচয় করে পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি হয়, তাই এগুলো থেকে বিরত থাকতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে তিনি নিজে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে দেশ গঠন এবং শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

    অনুষ্ঠানের শেষে বৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি ও অন্যান্য অতিথিরা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফার ধারণা পৌঁছে গেছে দেশের ৮৪টি স্কুলের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মকাণ্ডের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছে আয়োজকরা।

  • খুলনা বিভাগের ৩6 আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য বিএনপির ডাকা বৈঠক

    খুলনা বিভাগের ৩6 আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য বিএনপির ডাকা বৈঠক

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ৩৬টি নির্বাচনী এলাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য ডাকা হলো মহতী এক বৈঠক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কর্তৃপক্ষ এই বৈঠক আয়োজন করেছে যাতে নেতারা নিজেদের মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন। জানা গেছে, ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার বিকেলে ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে, যেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে নেতাদের ফোন করে বা ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। খবরের খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত শুক্রবার রাতে অনেক নেতার কাছ থেকে ইতোমধ্যেই ফোন পেয়ে রেডি হচ্ছেন তারা, অনেকেই ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। কিছু নেতা আজ রোববার রাতে গুলশানে পৌঁছাবেন। অন্যদিকে, বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত একাধিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আজ রোববার তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, আর সোমবার খুলনা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এবং দিকনির্দেশনা দেবেন, যাতে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া সুসংগঠিত ও সফল হয়।

  • জাতীয় স্বার্থে দলগুলোকে একসাথে থাকতে হবে: গোলাম পরওয়ার

    জাতীয় স্বার্থে দলগুলোকে একসাথে থাকতে হবে: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এই দেশের জাতীয় নির্বাচনের পথে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তা যেন কোনভাবেই বিঘ্নিত না হয়। তিনি জানান, নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভিন্ন পারাশক্তি ও এজেন্সি সক্রিয় হয়ে উঠবে। যদিও বিভিন্ন মত থাকলেও জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে একজোট হতে হবে। যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে পরাশক্তি ও অভ্যন্তরীণ শক্তি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও নতুন দেশের গঠনের কাজে বাধা দিতে পারবেন না।

    আজ রোববার, ২৬ অক্টোবর, দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত গণঅধিকার পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    পরওয়ার আরও বলেন, এ দেশের মানুষ জানে যে গণঅধিকার পরিষদ একটি ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসেবে তাঁর ওপর যে নির্যাতন ও শারীরিক আঘাত এসেছে, তা এ দেশের জনসাধারণ সহিহভাবে স্বীকার করে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার পর যে কঠোর নির্যতন ও পুলিশি নিপীড়ন করা হয়েছিল, তা দেশের মানুষ অগ্রাহ্য করেনি। দেশের সাধারণ মানুষের নুরুল হক নুরের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন এসেছে। গত জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের নির্যাতনের ঘটনাও এ প্রমাণ দেয়।

    তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের অবসান ও মুক্তির জন্য যে লড়াই করেছি, সেই লড়াই একটি রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের আশা জাগিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল, নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। সবার জন্য একযোগে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে—রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, ছাত্র ও সাধারণ জনগণ মত প্রকাশের স্বাধীনতা পাবেন। কিন্তু বিস্ময়জনক বিষয় হলো, নুরুল হক নুরের উপর আবার কেন এবং কিভাবে নির্যাতন চালানো হলো, তা দেখে পুরো জাতি অবাক হয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও অস্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন, দেশের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই মহান নেতার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছে জামায়াতে ইসলামী।

    পরওয়ার আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনায় ভরা জুলাই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করেছিলাম, একটি সদ্য গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সকল বিরোধী মতের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভিন্ন শক্তি ও এজেন্সি এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে। এজন্য তিনি আশাবাদী, দেশের বৃহৎ স্বার্থে সবাইকে একসাথে থাকতে হবে।

    জামায়াতের এই নেতার ভাষায়, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথে অনেক বাধা আসবে। ভিন্ন মত মতান্তর থাকা সত্ত্বেও, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের জন্য একযোগে কাজ করা। তিনি বলেন, আমরা এক দিকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই, অন্যদিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণের ভোটের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে সম্মত সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সব রাজনৈতিক দল একসাথে কাজ করলে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তি আমাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

  • বিএনপির ৭ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    বিএনপির ৭ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    বিএনপি তাদের দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিপর্যয়কারী কার্যকলাপের কারণে সম্প্রতি বহিষ্কার হওয়া সাত নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। শুক্রবার দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • এনসিপিতে আছি, সরকার গঠন পর্যন্ত দলের সাথেই থাকবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এনসিপিতে আছি, সরকার গঠন পর্যন্ত দলের সাথেই থাকবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মনে করেন যে তিনি পদত্যাগের গুজবের কোনও সত্যতা লক্ষ্য করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি এখনো এনসিপির সাথে আছেন এবং সরকার গঠন পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকবেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ অনুসন্ধানে নামে বলে পরিচিত থাকলেও, তারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। তিনি আরও জানান, সত্যি বলতে গেলে দেশের দুর্নীতির ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আগে যেখানে বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনা ঘটত, এখনো তারই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে সচিবালয়, প্রতিটি স্তরেই এই দুর্নীতির অব্যাহততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আরও বেশি প্রয়োজন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, রাতের মধ্যেই অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে, যা অপসাংবাদিকতার শামিল। তিনি আরও জানান, এই ধরণের অপপ্রচার থেকে বেরিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি অভিযোগ করেন, একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যাদের নিজস্ব পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল রয়েছে, তারা যেন সত্যিকার সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি দেশের সুস্থ ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সকল প্রকার অপছাত্রতা ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।

    এদিকে, গতকাল রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, এনসিপির এই নেতা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয় এবং স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, তিনি এখনও দলের সঙ্গে আছেন এবং কোনও পদত্যাগের বিষয়টি সত্য নয়।

  • নভেম্বরে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

    নভেম্বরে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

    আগামী নভেম্বরের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি একটি বৃহৎ জোট গঠনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তিনি আলোচনা করে যাচ্ছেন ন্যাশনাল কনসোলিডেশন পার্টি (এনসিপির) সঙ্গে। তবে, এ জোটে যুক্ত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    আরপিও (নির্বাচনী আচরণবিধি) সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, ২০/১ উপধারার অধীনে জোটভুক্ত দলগুলো অন্য দলের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে—এমন পরিবর্তনের বেশ কিছু দল সম্মত ছিল। তারা আশঙ্কা করেছিলেন, যদি এই সংশোধনী পাস হয়, তবে ছোট দলগুলো আর বেশি সুবিধা পাবেন না। এর ফলে, ছোট দলগুলোর নেতাদের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি হবে না বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, এই আরপিও সংশোধনী একতরফাভাবে পাস হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি চাইছে বহুদলীয় একটি সমৃদ্ধ সংসদ। এজন্য তিনি পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানান। এরপর দলটি চিঠি দিয়ে আপত্তি জানাবে বলে জানানো হয়।

    তারেক রহমান ২০০৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় কারামুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান পরিবারসহ। তখন থেকে তার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন মামলা হয়, যার মধ্যে পাঁচটি সাজা হয় এবং শতাধিক মামলার প্রক্রিয়াও চলমান থাকে। এসব মামলা ও তার বক্তব্যের প্রচার নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ ছিল।

    তবে, গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। তারেক রহমান দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নেন। সব মামলা থেকে তিনি ইতোমধ্যে খালাস পান, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ফিরেননি।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন। এরপর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে তিনি দেশে ফিরবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে মূল নেতৃত্ব ও প্রার্থী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে ধারণা। নিজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারেও তিনি আগেই আশ্বাস দিয়েছেন।

    অন্তর্দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান অংশ নেবেন। নির্বাচিত হলে তিনি হয়তো খালেদা জিয়াকেই প্রধানমন্ত্রী করবেন—এটি এখনো স্পষ্ট নয়। দলের তথ্যানুযায়ী, যদি খালেদা জিয়া সুস্থ ও সক্ষম হন, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। অন্যথায়, সম্ভাব্য হিসেবে তারেক রহমানই হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী বলে মনে করা হচ্ছে।

  • আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে সম্ভব নয়: আখতার

    আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে সম্ভব নয়: আখতার

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি উভয়কেই অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বিগত সময়ে তারা আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। এর ফলে দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তারা খুনির পক্ষে সাফাই গাইছে এবং জরুরি সময়ে সহানুভূতি প্রকাশ করছে। এ কারণেই তিনি মনে করেন, এ দুই দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে হবে, কারণ তারা আবার ক্ষমতায় আসলে দেশের পরিস্থিতি ভারতের মতো করদরাজ্যে পরিণত হবে।

    আখতার হোসেন আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের অধীন। তিনি দাবি করেন, সরকার এ বিষয়ে ইতিমধ্যে যুক্তিতর্ক ও স্বাক্ষর সম্পন্ন করলেও, এখনো স্পষ্টভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। তিনি মনে করেন, দ্রুত এই সনদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, নয়তো দুর্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। যদি একটি রাজনৈতিক দল কাগুজে সিদ্ধান্তের মধ্যে থাকলে আবার রাজপথে আন্দোলনে নামতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    তিনি বলেন, কিছু তখনকার রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী সংঘাত, কিন্তু আমরা এখন সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এটা সম্ভব হয়েছে মূলত আমাদের দাবির কারণে, যা ঐকমত্যের মাধ্যমে সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

    আখতার হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কোনো একটি দলের একান্ত সিদ্ধান্তের কারণে আরপিও সংশোধন করতে চাইলে, মনে করেন এর সাথে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির লন্ডনে বৈঠক বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে। অতীতের মতো এবারও তিনি আন্দোলনে যেতে চান না।

    তিনি বলেন, দেশের মানুষের মানবিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষজনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি দলবাজি রাজনীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে থাকবার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। জনগণের জন্য কাজ করতে চান, যাতে দেশের জন্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয়।

    আখতার আরও বলেন, সম্প্রতি একজন ইমাম গুমের ঘটনা ঘটেছে, যা আমরা দেখতে চাই না। তিনি ঘোষণা দেন, এনসিপি দেশের সকল মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। নতুন বাংলাদেশের السياسية বিনির্মাণের জন্য তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিবর্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে মনোযোগ দিতে চান।

    সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা। তবে, সভায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপস্থিত থাকলেন না।

  • মির্জা ফখরুলের Everyone should participate in elections to restore democracy

    মির্জা ফখরুলের Everyone should participate in elections to restore democracy

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, সংস্কার সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    শনিবার (২৫ অক্টোবর) শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়া দিগন্তের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, নয়া দিগন্ত আমাদের জন্য এক সংগ্রামের নাম। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এই পত্রিকার সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক ও কর্মীরা অক্লান্ত নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারপরও তারা ধৈর্য্য, সতর্কতা এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে সত্যের সংবাদ পরিবেশন করে গেছেন।

    তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে এই পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ দমন-পীড়ন। তবুও তারা গণমানুষের চেতনা ও সত্যের পক্ষে আওয়াজ তুলে গেছেন। এই সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকামী শক্তিগুলোর ওপর ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নের কথা যুগে যুগে জাতি ভুলে যায়নি। ষাট লাখের বেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বিশ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার হওয়া হলো এর নজির। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নয়া দিগন্তের মালিক মীর কাসেম আলী, সালাউদ্দিন কাদেরসহ অনেকে আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব মানবতার ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়।

    তিনি বলেন, দেশের আমজনতা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়— এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে বিদেশি শক্তির দখলে নয়, জনগণের ইচ্ছা অনুসারে চলে। নয়া দিগন্ত এই লক্ষ্য ও লক্ষ্যক্রমে গণমানুষের স্বর হয়ে কাজ করে চলেছে।

    ১৯৭৫ সালের বাকশাল শাসনের সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের দুঃস্বপ্নের স্মৃতি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই সময় সাংবাদিকরা বেকার হয়ে পড়েছিলেন, কেউ কেউ রাস্তায় হকারি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্বসিত করেন।

    তিনি বলেন, নয়া দিগন্ত সবসময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে অর্ধশতকও বেশি সময়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দলের পক্ষ থেকে সম্পাদক, প্রকাশক, রিপোর্টার ও সকল কর্মীদের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সকল নয়া দিগন্ত পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।

  • মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: কিছু দল নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা করছে

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: কিছু দল নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা করছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর জন্য দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘মহাকালের মহানায়ক শহীদ জিয়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের উন্নতির জন্য দ্রুত নির্বাচনের অবিলম্বে প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনের জন্য পথ বন্ধ করতে চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, দেশের ভালোর জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন রাজনৈতিক সরকার দরকার, যা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা সংকটে রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নির্বাচিত সরকারের উপর। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার অপচেষ্টা করছে।

    তিনি আবারো উল্লেখ করেন, বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তারা বলছেন, বিএনপি সংস্কার চায় না, যা এক ধরনের মিথ্যা প্রচার। দেশের উন্নয়নের পেছনে বিএনপি ও শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান অস্বীকার করা যায় না।

    শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি।” তিনি আরো জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও গণসমর্থন অনেক গভীর এবং সহজে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ তার নাম মুছে ফেলেনি; ইতিহাস তা সংরক্ষণ করেছে। তারেক রহমানও জিয়াউর রহমানের আবেগ ও আদর্শের পথে yürছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

  • নির্বাচনের দিনই বিএনপি অবিলম্বে গণভোটের দাবি জানাল: মঈন খান

    নির্বাচনের দিনই বিএনপি অবিলম্বে গণভোটের দাবি জানাল: মঈন খান

    জাতীয় নির্বাচনের দিনেই বিএনপি প্রবলভাবে গণভোটের পক্ষে সরব হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ড. মঈন খান বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন ইতিহাসে দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হিসেবে রেকর্ড হয়, তার জন্য আমরা ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে নানা অসঙ্গতি হয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা ও স্কুল শিক্ষকদের নিয়োগে পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে। এসব কারণে দেশ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেককে সরকারের চাপের মধ্যে দিয়ে অন্যায় করতে বাধ্য করা হয়েছে।

    বিএনপি নেতা বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এই নির্বাচন কারা পরিচালনা করেছিল? যারা প্রশাসনে থেকে রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েছিল। ১৫ বছরের সময়কে পরিবর্তন করা সহজ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ইসিকে সতর্ক করে বলেছেন, বিতর্কিত কর্মকর্তারা যেন আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

    মঈন খান বলেন, সাধারণ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন। এক দিনের মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচন এলাকা এবং কেন্দ্রে ভিন্ন ভিন্ন কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ কাজের জন্য দরকার ১০ লাখ ভোটার এবং তারা কারা—সিভিল পুলিশ, বিচার বিভাগ—এসব বিষয়ের প্রতি সন্দেহ ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারুক, যেন কোন বাধা না আসে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন। এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ফলে অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তারা যেন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

    ড. মঈন খান ভবিষ্যতে ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং ইসিকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন বিনা বাধায় সংবাদ পরিবেশন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    অবশেষে, তিনি জোট নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘জোট নিয়ে ভাবার এখনো সময় আসেনি। সময় এলে বিএনপি নিজে জানিয়ে দেবে।’