Category: রাজনীতি

  • বিমানবন্দরে আগুন: হাসিনার নাশকতার অংশবাদী আমান

    বিমানবন্দরে আগুন: হাসিনার নাশকতার অংশবাদী আমান

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ মন্তব্য করেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকা-ের ঘটনাটি ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার একজন নাশকতার অংশ। তিনি মনে করেন, পার্শ্ববর্তী দেশের অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নানা অপতৎপরতা দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং তাই এই ধরনের দুর্ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অমান বলেন, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৯০-এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায়। এটি আয়োজন করে সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির স্মৃতি সংসদ।

    তিনি আরও বলেন, হাসিনা বিদেশে থাকলেও তার প্রেতাত্মা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয়। এ কারণে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিমানবন্দরে অগ্নিকা-সহ অন্যান্য সকল ঘটনাবিষয়ক সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার।

    নির্বাচনের প্রসঙ্গে আমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তারিখ ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত। তিনি এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ বিশ্বাসী। তবে কিছু শক্তি আবারো নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন। এর বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান করেন, কারণ তারা দীর্ঘদিন থেকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত।

    আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আমান বলেন, এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠণ, যারা গুম, খুন ও হত্যার সঙ্গে জড়িত। সরকার যে কোয়ার্টার নিষেধাজ্ঞা দিলেও তাদের কার্যক্রম অপ্রতিরোধ্য। ফ্যাসিস্টদের রাজনীতি এই দেশে চলতে দেওয়া হবে না। হাসিনার গুম ও খুনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তার বিচার হওয়া অপরিহার্য।

    স্মরণসভায় আমান বলেন, প্রয়াত সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ছিলেন গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্ব দেন। একজন আদর্শ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি সর্বজনের প্রিয় ছিলেন।

    স্মরণসভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান এবং ১২ দলে যোগদানকারী জোটের শীর্ষ নেতা মো. ফারুক রহমান, জাতীয়তাবাদী সমমন জোটের এনডিপির চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল, মহাসচিব জামিল আহমেদ, ডিএলের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, কেন্দ্রীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং সাবেক ছাত্রনেতা ইউনুস সোহাগ।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিন এবং সভার সমন্বয় করেন সদস্য সচিব খোকন চন্দ্র দাস।

  • বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হলেন হুমায়ুন কবির

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হলেন হুমায়ুন কবির

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সংগঠনগত পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবিরকে এবার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগে দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “হুমায়ুন কবিরকে বিএনপির যুগ্ম মহসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো হলো।” হুমায়ুন কবির দীর্ঘ সময় ধরে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার এই পদোন্নতি দলের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের একাধিক সূত্রের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই তাকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদোন্নতি বিএনপির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • এনসিপির বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার কড়া মন্তব্য ও কঠোর প্রতিক্রিয়া

    এনসিপির বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার কড়া মন্তব্য ও কঠোর প্রতিক্রিয়া

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের নেতারা বলছেন, পরওয়ারের বক্তব্য ছিলো অশোভন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ, যা তাদের কাছে স্বচ্ছন্দে গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি সাতক্ষীরায় এক সমাবেশে পরওয়ার এনসিপির নাম না নিয়েই মন্তব্য করেন, ‘একটা দল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছে আমরা সংস্কার, অংশীদারিত্বের রাজনীতি, দেশ গঠন, অভ্যুত্থানে কোনো ভূমিকা রাখিনি। ওরা নতুন ছাত্রদের দল—রাজনীতিতে জামায়াতের সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে আরও অনেক দূর যেতে হবে। জন্মের সময়ে বাবা-মার সঙ্গে পাল্লা দিও না।’ উল্লেখ্য, পরওয়ার ছাত্রদের দল উল্লেখ করে যখন বলেন, তথাপি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি মূলত জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপিকে টার্গেট করে কথা বলছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমেই জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে বিরোধ নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে। জামায়াত নেতাদের এমন মন্তব্যের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এνάসিপির মধ্যে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক সামান্তা শারমিন গণমাধ্যমে বলেন, ‘রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনাগুলো একপক্ষের পক্ষ থেকে অন্যপক্ষকে ব্যঙ্গ বা উপমা করে থাকে। তবে পরওয়ারের এমন অসৌজন्यमূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য আমরা মানতেই পারছি না। ওনারা সিনিয়র রাজনীতিবিদ, বয়সে আমাদের বাবা-দাদাদের মতো, ওনাদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আশা করি না।’ অন্যদিকে, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবও পরওয়ারের বক্তৃতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘রাজনীতিতে কারো বাবা হইতে চাওয়া এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা। গণঅভ্যুত্থানই আসলে সকলের জন্ম। এনসিপির জন্মও এই প্রেক্ষাপটে। বর্তমানে সব রাজনৈতিক দলের জন্মই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। যখন বিপদ আসে, তখন সবাই নেতৃত্বের অধীনে আন্দোলন করে। তবে বিপদ কেটে গেলে নিজেকে নেতৃত্ব দাবি করা অসদাচরণ।’ এদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জানান, পরওয়ারের বক্তব্য ছিলো ‘স্নেহের অবস্থান’ থেকে। তিনি বলেন, ‘আসলে তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি। দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্নেহপূর্ণ অবস্থান থেকে মত প্রকাশ করেছেন। আমাদের মধ্যে একতা ও সহযোগিতা রয়েছে, আর কিছু নয়।’ এই ঘটনার পর উভয় পক্ষই তাদের বক্তব্য পঞ্চমুখ। তবে প্রতিক্রিয়া ও বিরোধ এখনও বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে না : এ্যানি

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে না : এ্যানি

    রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে হবে না। তিনি এ সময় শিক্ষকদের দ্রুত তাদের মূল দাবি মানার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহীদ মিনারে এক মহাসমাবেশে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণের জন্য বিএনপি সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। শিক্ষকদের আন্দোলনকে সরকার উপেক্ষা করতে পারে না। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি ও দাবি পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব এবং এটি রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

    ত তিনি জানান, শিক্ষকেরা আজ আমরণ অনশন করছেন— যা জাতির জন্য লজ্জাজনক অবস্থায়। সরকারকে অবশ্যই তাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

    এ্যানি আরও বলেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর জাতীয় করণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

    তিনি শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা Nine দিনেরও বেশি সময় ধরে সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির তিন দফা দাবি মানা না হলে শিক্ষকদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাওয়া হবে না।

    বর্তমানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে শিক্ষকরাও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সরকারের বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    এর আগে রবিবার, শিক্ষকদের ভুখা মিছিলের সময় পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। এর ফলে শিক্ষক নেতারা আমরণ অনশন ও সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দেন। আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে বিএনপি ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি, তাদের তিন দফা দাবি মেনে বা প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চালানো অব্যাহত থাকবে।

  • নাহিদ ইসলাম: পিআর আন্দোলন ছিল কৌশলগত প্রতারণা, জামায়াত সংস্কার চায়নি

    নাহিদ ইসলাম: পিআর আন্দোলন ছিল কৌশলগত প্রতারণা, জামায়াত সংস্কার চায়নি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর আন্দোলন ছিল এক কৌশলগত রাজনৈতিক প্রতারণা। এই আন্দোলনটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করা যায়। এছাড়াও, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের মূল প্রশ্নগুলো থেকে জাতীয় সংলাপকে অন্যদিকে টেনে নেওয়া।

    শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, তথাকথিত ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) আন্দোলন’, যা জামায়াতে ইসলামী শুরু করেছিল, প্রকৃতপক্ষে তা ছিল এক পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাতুরী। তিনি বলছেন, এই আন্দোলনটি ইচ্ছাকৃতভাবে গঠিত হয়েছিল ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করার জন্য এবং জাতীয় সংলাপকে জনমতের গণঅভ্যুত্থানের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধানের পুনর্গঠনের মূল বিষয়ে মনোযোগ কমানোর জন্য।

    নাহিদ উল্লেখ করেন, ভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার যে দাবি উঠেছিল, তা ছিল একটি সাংবিধানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে। আমরা এই মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম এবং ব্যাপক জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম।

    তবে, জামায়াত ও তাদের মিত্ররা এই প্ল্যাটফর্মকে ছিনিয়ে নিয়ে এটিকে শুধু প্রযুক্তিগত পিআর ইস্যুতে সীমাবদ্ধ করে দেয়, এবং নিজেদের স্বার্থের জন্য দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তাদের উদ্দেশ্য কখনোই সংস্কার নয়; বরং ছিল কৌশলী অপব্যবহার।

    নাহিদ বলেন, জামায়াতে ইসলামি কখনোই সংস্কার আলোচনা বা সংস্কারমূলক প্রস্তাবে অংশ নেয়নি— না জুলাই অভ্যুত্থানের আগে, না পরে। তারা কখনো কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব দেয়নি, কোনো সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেনি, এমনকি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিও কোনো অঙ্গীকার দেখায়নি।

    তিনি আরও বলেন, ঐক্যমত্ম্য কমিশনের মধ্যে তাদের আকস্মিক সংস্কার সমর্থন কোনো বিশ্বাসের প্রকাশ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি কৌশলগত উপায়—প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির অন্তর্ঘাত। আজ বাংলাদেশের মানুষ এই প্রতারণা স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে। তারা সত্যে উজ্জীবিত হয়েছে এবং আর কখনো মিথ্যা সংস্কারবাদী বা ধূর্ত শক্তির দ্বারা প্রতারিত হবেন না। সর্বশক্তিমান আল্লাহ এবং এই দেশের স্বতন্ত্র সার্বভৌম জনগণ কখনো এই অসৎ, সুযোগ সন্ধানী ও নৈতিক দেউলিয়া শক্তিগুলোর হাতে শাসনকাঠি তুলে দেবে না।

  • গোলাম পরওয়ারের খোঁচা: জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না

    গোলাম পরওয়ারের খোঁচা: জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না

    সোমবার বিকেলে তালা ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী নেতা গোলাম পরওয়ার। সেখানে তিনি বলছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন আহবায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ তুলে, জামায়াতে ইসলামী ও নতুন দলগুলোর তুলনা করেন। তিনি বলেন, একটি দল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছে—জামায়াতের কোনো করোশনি, অংশীদারিত্বের রাজনীতি বা দেশ গঠনে তাদের কোন ভূমিকা নেই। এ ধরনের মনোভাব দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা নতুন দল, ওরা তো এ রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই পারবে, কিন্তু জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না।’ গোলাম পরওয়ারের মন্তব্যে স্পষ্টতঃ বোঝা যায়, তিনি এই নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে লিখিতভাবে জামায়াতই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু অনেক নেতা-কর্মী দুঃখজনকভাবে স্ট্যাটাস দিয়ে এই মতবাদকে সমালোচনা করছে, মানে তারা জামায়াতেরই প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, গেরিলা আন্দোলন বা চতুর্দশের সময় জামায়াতের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রতি জামায়াতের শ্রদ্ধা ও দোয়া থাকবে। অশালীন ভাষা বা অরাজনৈতিক কথাবার্তা কোনো নেতা শোভনীয় নয়।’

    জামায়াতের নেতা হিন্দু ভোটের প্রসংগে বলেন, ‘হিন্দু মানে নৌকা নয়, দাঁড়িপাল্লা। যদি তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, তারা দেশের সবচেয়ে নিরাপদে থাকবে। তারা চাইলে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে পারে, যেখানে কখনো জুলুম বা নির্যাতন থাকবেনা।’ পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধী দল এখন বলছে—জামায়াত নিষিদ্ধ করতে হবে—এটা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কথাই, যা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। সব বিতর্ক উপেক্ষা করে, জামায়াতের অগ্রযাত্রা আটকানো সম্ভব নয়। পরিবেশ বদলে গেছে; এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, আর তার প্রতীক হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা।’

    তিনি আরও বলেন, হিন্দু ভোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের ভুল ধারণা যেনো চলে যায়, যদি তারা অন্তর্ভুক্ত হন, তারা রক্ষা পাবে। অতীতের শহিদদের স্মরণ করে বলেন, জামায়াত জনগণের অধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর একটি দল দখলবাজি ও চাঁদাবাজি শুরু করেছে, তারা মানুষের শান্তি ও ন্যায়ের রাজনীতি চায়, যার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। মূল লক্ষ্য হলো, তালা-কলারোয়ায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক মহলের সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, সাবেক জেলা আমীর হাফেজ রবিউল বাসার, জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, ডাঃ মাহমুদুল হক, জেলা সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার অনুসারী এই সমাবেশে অংশ নেন।

  • রাজনৈতিক বিভেদের কারণে দেশের উন্নয়ন মূল সুবিধা বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল

    রাজনৈতিক বিভেদের কারণে দেশের উন্নয়ন মূল সুবিধা বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল

    দেশের উন্নয়নের বড় সুযোগটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে তোলার সম্ভাবনাগুলো বর্তমানে রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা কর্তৃক এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, একটি বড় পর্যায়ের অভ্যুত্থানের পর দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল দেশকে সুন্দর ও সুসংগঠিত করে গড়ে তোলার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের রাজনীতিবিদরা ঐক্য হারিয়ে ফেলেছেন। চারদিকে দেখা যায় বিভক্তির সুর, যা হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিকে সুন্দর, পরিশীলিত ও স্বচ্ছ করতে হলে আমাদের সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। রাজনীতির মধ্যে যদি সৌন্দর্য, সততা ও স্বপ্ন পূরণের আগ্রহ না থাকে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই সুন্দর হবে না। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, যদি রাজনীতি ব্যক্তিস্বার্থে সম্পদ অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তাহলে মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই বাড়বে না। তাই, সত্যিকারের সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতি গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন ও সচেষ্ট হওয়ার দরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা। অন্যান্য বক্তারা ছিলেন বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাব সভাপতি প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আলম, মোশাররফ হোসেন পুস্তি ও মো. মফিজুর রহমানসহ আরও רבים।

  • সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত নয় জামানতদাররা, সালাহউদ্দিন আহমদ

    সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত নয় জামানতদাররা, সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সত্যিকার July যোদ্ধারা জড়িত থাকতে পারে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই ঘটনা মূলত আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা। আজ (১৯ অক্টোবর, রোববার) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি এই সম্মানজনক July যোদ্ধাদের যথাযোগ্য সম্মানে দেখে এবং তাদের জন্য প্রতিটি ভূমিকা সম্মানের সঙ্গে তারাই স্মরণ রাখছে। তাদের সম্মানহানি এড়ানোর জন্য দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ছাত্র গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক সংগঠন ও সংগ্রামের এক চিত্তাকর্ষক দৃষ্টান্ত। এই অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিদের ও সংগঠনের অবদানকে সম্মানিত করার জন্য পরিব্রাজক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা যাতে বিতর্কিত না হন, সেজন্য সচেষ্ট থাকছে দল।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপিকে এই অভ্যুত্থানের বিপরীতে দাঁড় করানোর জন্য কোন ধরনের অপপ্রচেষ্টা সফল হবে না। পাশাপাশি, ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

    তিনি বলেণ, দেশে কিছু কিছু ঘটনার পেছনে একই সূত্র রয়েছে। অনেকের ধারণা, জাতীয় অস্থিতিশীলতার দিকেই এই পরিস্থিতি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, বিএনপির বক্তব্যকে বিভ্রান্ত করে বা খণ্ডিত করে অপব্যাখ্যা করা থেকে বিরত থাকতে।

  • ৫ দফা দাবিতে জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষনা

    ৫ দফা দাবিতে জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষনা

    বাংলাদেশে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত ও সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল (২০ অক্টোবর, সোমবার), রাজধানীতে, ২৫ অক্টোবর (শনিবার) সব বিভাগীয় শহরে এবং ২৭ অক্টোবর (সোমবার) সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হবে। আজ (১৯ অক্টোবর, রোববার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ৮টি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ও অন্যান্য সমমনা দলের নেতারা দ্রুতই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তারা উল্লেখ করেন, দেশের জনগণের দাবি কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জনগণের দাবির বাস্তবায়নের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে দ্রুতই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারির পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে একদম সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি ন্যায্য ও জবাবদিহিতামূলক ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।

    আন্দোলনের পেছনে ঐতিহাসিক পটভূমির ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সফল গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকার পতনের মাধ্যমে দেশ শান্তিপূর্ণ পথে ফিরে আসে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বিনাশের পরে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং সংবিধানের কিছু বিধান অকার্যকর হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে জনগণের ঐকমত্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়, যার স্বচ্ছ ও বৈধতার উৎস সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭ এ নিহিত। সেই সঙ্গেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া জরুরি হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বর্তমান সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারণ করেছে, তবে তার সফলতা নিশ্চিত করতে হয় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। অতীতে দেখা গেছে ভোটে কারচুপি, কালো টাকা, ভোট কেন্দ্র দখল ও পেশিশক্তি প্রয়োগের কারণে ভোটপ্রক্রিয়া অপ্রতুল ও অবিচারপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। তাই, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য ইচ্ছুক সব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনরা একমত পোষণ করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মোট পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়ঃ
    1) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের আয়োজন।
    2) ভবিষ্যত নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।
    3) সকলের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একসঙ্গর্ষ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন।
    4) ফ্যাসিস্ট সরকার বা তার দোসরদের দমন-নিপীড়ন-জুলুম ও দুর্নীতির বিচার দ্রুত সম্পন্ন।
    5) স্বৈরাচারীদের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবিগুলো মানা না হয়, তবে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তারা সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

    উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডক্টর আমহদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামের ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জাগপা’র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাইমসহ আরও অনেকে।

  • রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে দেশের উন্নয়নও পিছিয়ে যাচ্ছে: মির্জা ফখরুল

    রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে দেশের উন্নয়নও পিছিয়ে যাচ্ছে: মির্জা ফখরুল

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতা ও বিভেদ কারণে দেশের উন্নয়নের বড় ধরনের সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বড় ধরনের একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য বিশাল একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রাজনীতির মহাজোটের বিভক্তির কারণে সেই সুযোগগুলো আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে অনৈক্যের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশকে এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন রাজনীতিতে সৌন্দর্য, সততা এবং স্বচ্ছতা। যদি রাজনীতিতে এসব উপাদান না থাকে, তাহলে তা আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। সত্যিকার অর্থে সুন্দর রাজনীতি হলো যেখানে নেতা-নেত্রীরা স্বপ্ন দেখেন দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিস্বার্থের জন্য সম্পদ সংকটের কারণেই এই চিত্র ভিন্ন।

    ক্ষমতালোভী রাজনীতির কারণে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত ও হতাশ, বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সত্যিকারের রাজনীতি তখনই সুন্দর ও শক্তিশালী হবে, যখন এতে জনগণের স্বার্থ উঠে আসবে। আর এটি সম্ভব তখনই যখন রাজনীতির প্রতিটি পদক্ষেপ স্বচ্ছ, সততা ও জনগণের জন্য হবে।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের সভাপতি প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আলম, মোশাররফ হোসেন পুস্তি, মো. মফিজুর রহমান প্রমুখ।