Category: রাজনীতি

  • বিএনপি কাদের সঙ্গে বৃহৎ জোট গঠন করতে চায়, জানালেন সালাহউদ্দিন

    বিএনপি কাদের সঙ্গে বৃহৎ জোট গঠন করতে চায়, জানালেন সালাহউদ্দিন

    আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনী জোট গঠনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি বলছে, তারা যুগপৎ আন্দোলনকারী অন্যান্য দলের সাথে মিলিত হয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠন করতে চায়। আজ (২৭ অক্টোবর) সোমবার, যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে এই কথা জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে বিএনপি পূর্বের মতোই ঐক্যের পক্ষে। তারা চান, সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের সাথে সাথে একত্রে কাজ করতে। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য দলীয় ও প্রার্থীদের সঙ্গে হাইকমান্ডের বৈঠক চলছে, যাতে ঐক্য বজায় রাখা যায়।

    তরুণ ও যুবকদের আলোচনায় আনা এবং তাদেরকে দেশের ভাবনাচিন্তায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। তিনি বলছেন, আগামী বাংলাদেশ হবে তরুণ-যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানসর্বস্ব, প্রযুক্তি ও মেধার ভিত্তিতে জ্ঞানতত্ত্বসমৃদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের মতো দেশের যুবকদের একত্র করে এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন তার লক্ষ্য।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করে তারা তরুণদের রাজনৈতিক ভাবনা গ্রহণ করেছেন। সেই ভাবনাগুলোকে সামনে রেখে তারা কীভাবে দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করে তুলতে পারে, সে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ দেশ একদিন পুরোপুরি তরুণ ও যুবকদের পরিচালনায় এগিয়ে যাবে। যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, চিন্তা-চেতনাকে দক্ষ করে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের রাজনৈতিক ও চিন্তাভাবনাকে প্রকৃত উপলব্ধি করে এ জাতি আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই স্বপ্নের পুরণ স্বদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও অভ্যুত্থানকারীদের স্বপ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।

  • বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে কঠোর শাস্তি, বহিষ্কারসহ সম্ভাবনা

    বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে কঠোর শাস্তি, বহিষ্কারসহ সম্ভাবনা

    বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানানো হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, যারা মনোনয়ন পাবেন, তাদের উচিত একদিকে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করা। এই নির্দেশনা দিতে সোমবার গুলশানের বিএনপি কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।

    বৈঠকে অংশ নিয়ে উপস্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানান, মনোনিত প্রার্থী ও দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, যার মধ্যে বহিষ্কারও থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনও মনোনয়ন দেওয়ার বা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কিন্তু দলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং একজোটভাবে কাজ করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে দলের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমর্থকদের মধ্যে একতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

  • তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঐক্যের বার্তা

    তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঐক্যের বার্তা

    আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনা ও সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, বিএনপি দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩০০টি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করবে। তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বস্ত ষড়যন্ত্র চলছে, এবং এই পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের একতা বজায় রাখতে হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতি তিনি নির্দেশ দেন, যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁর পক্ষে যুক্ত হয়ে আরো কাজ করতে হবে। বিকেল চারটার পর থেকে শুরু হয় এই বৈঠক, যেখানে প্রথমে রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় সিলেট ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ পর্যায়ে ঢাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসব বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা বিভাগের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেট বিভাগের মোট ১৯টি সংসদীয় আসনের ৬৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী বৈঠকে অংশ নেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে এবং যিনি প্রার্থী হবেন তাঁর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে তারেক রহমান প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেন, যেখানে তিনি সকলকে একযোগে ও দলীয় লিডারশিপের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে, তবে উৎসব ও আনন্দের পরিবেশে শোভাযাত্রা বা মিষ্টির বিতরণ এড়াতে বলেছেন। দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই এবং দলীয় প্রধান এই বার্তা দিয়েছেন। মনোনয়নপ্রাপ্তি বা না পায় প্রার্থীদের সবাইকে একত্রে থাকা আর দলের স্বার্থে কাজ করার জন্য তিনি ওড় চিৎকার করে বলেছেন। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মোট ৩৫টি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বৈঠকে অংশ নেন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ৬টি আসনের জন্য ১৬ জন নেতা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলছেন, ব্যক্তিগত প্রচার না করে দলীয় প্রচারে মনোযোগ দিতে। শিগগিরই প্রতিটি আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেছেন, এই বৈঠক ছিল দলীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য, যেখানে সবাইকে দলের হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নেতার পক্ষ থেকে ঐক্যের বার্তা এসেছে। তিনি বলেছেন শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে, খুলনা–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে এবং ব্যক্তিগত প্রচার এড়িয়ে দলীয় প্রচারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

  • খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য বিএনপির ডাকা বৈঠক

    খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য বিএনপির ডাকা বৈঠক

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঢাকায় উপস্থিত হয়ে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। জানা গেছে, এই বৈঠকটি ধারাবাহিক পর্বের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। এতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। গুলশান কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে সকল সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের ফোন করে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকেই খুলনা বিভাগের নেতাদের ফোন করে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। নতুন ও প্রবীণ সব মনোনয়নপ্রত্যাশী, যারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসুক, সবাইকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। বেশিরভাগ নেতাই ইতোমধ্যে ঢাকায় রওনা দিয়েছেন; কিছু নেতাকর্মী আজ রোববার রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন।

    এছাড়া, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি কথা বলছেন। আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ ও বৈঠক চলছে, যার পরবর্তী ধাপ হিসেবে সোমবার খুলনা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বসবে। সেখানে দলটির নেতাদের গুরত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন তারেক রহমান, যা নির্বাচন প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নির্ধারিত না করলে আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে জাতীয় পার্টির মাধ্যমেই

    নির্ধারিত না করলে আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে জাতীয় পার্টির মাধ্যমেই

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, তিনি খুব দ্রুত মার্চ বা এপ্রিলে নির্বাচন চান। তার মতে, নির্বাচনের সময় যত দ্রুত হবে, ততটাই আমাদের জন্য সুবিধাজনক। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ না হয় তাহলে সংঘর্ষময় হয়ে উঠতে পারে—এ বিষয়টি নির্ভর করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলের আচরণের ওপর। রোববার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে গণঅধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    নুরুল হক নুর বলেন, আমরা শহিদদের চেতনা নিয়ে রাজনীতি করি কিন্তু তাদের পরিবারের কেউ খোঁজখবর রাখে না। বিভিন্ন সময়ে শহীদ এবং আহত পরিবারের সদস্যরা আমাদের কাছে আসেন, তাদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান। তিনি বলেন, এটা তাদের দ্বারাই হওয়া উচিত না, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আহতদের সুচিকিৎসা না হওয়ার জন্য এই ইন্টারিম সরকারই দায়ী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গড়ে উঠবে।

    নুর সতর্ক করে বলেন, যদি নির্বাচন পিছিয়ে যায়, তাহলে তা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তিনি কেন্দ্রীয় প্রসিকিউটর টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তবে কিছু বিপথগামী জেনারেলের জন্য সেনাবাহিনী দায়ী নয়।

    জাতীয় পার্টি নিয়ে নুর বলেন, যদি এই দলটি নিষিদ্ধ না হয়, তাহলে এই দলটির মাধ্যমেই আবারো ক্ষমতা ফিরে আসবে আওয়ামী লীগ, যা নির্বাচন বানচাল করার উদ্দ্যেশ্যে কাজ করবে।

    গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী দলের সদস্যরা পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদ গঠন করে। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিরোধী আন্দোলন চালিয়েছে। তিনি বলেন, ২৪ তারিখ আমাদের জন্য সুযোগ দিয়েছে একসাথে উন্নত, কল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার।

    রাশেদ খান জোর দিয়ে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও মতভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে একত্রিত থাকতে হবে। না হলে আবারও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ফেব্রয়ারি মাসের নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। নির্বাচন বানচালের মাধ্যমে আবারও ১/১১ এর মানেুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার চালানোর পরিকল্পনা করছে।

  • ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন পদ্ধতিতে যাওয়া ঠিক হবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন পদ্ধতিতে যাওয়া ঠিক হবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো পদ্ধতিতে এগোতে গেলে সমস্যা হতে পারে যা পরে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তিনি রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন বলেন, কেউ যেন আমাদের এই প্রক্রিয়াকে ভবিষ্যতে অবৈধ বলে আখ্যা দিতে না পারে। তিনি জানান, এই ঝুঁকি থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য এখনই একটি ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, অতি সতর্কতার সঙ্গে অর্জিত সাফল্যকে সামনে নিয়ে যেতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে না ফেলতে পারে।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, জুলাই সনদ জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঐতিহ্য। এর বাস্তবায়নের জন্য আমরা সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এর জন্য নির্বাচিত সংসদ হলো মূল ফোরাম। তিনি বলেন, তবে এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যাতে সংসদ বাধ্য হবে, তার জন্য একটি প্রস্তাব জাতীয় ঐক্য কমিশন বা সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এর পরই জানা যাবে, এই প্রক্রিয়ায় কী কী আইনি ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, সবাই যেন আইনানুগ প্রক্রিয়ার বাইরে না যায়। কোনভাবেই সাংবিধানিক নিয়ম কানুন অমান্য করে না যায়। কারণ, এই ব্যাপারে অবাধ্যতা হলে পার্লামেন্টের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জাতির ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য যদি ভেঙে যায়, তাহলে সেটি ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ করে দেবে। তাই, আমরা যেন এই বিপদকে এড়াতে একসঙ্গে থাকি।

    সালাহউদ্দিন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের জন্য সবাই একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনকে আমরা নির্মূলে সবাই সচেতন থাকব। সকল দরজা বন্ধ করে দিতে হবে এবং একযোগে লাগাতার প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে, যেন কোনোভাবেই এই বিষের ঘূর্ণীভূমি আবার ফিরে না আসে।

  • বিএনপি কাদের সঙ্গে বৃহৎ জোট গঠনে আগ্রহী, জানালেন সালাহউদ্দিন

    বিএনপি কাদের সঙ্গে বৃহৎ জোট গঠনে আগ্রহী, জানালেন সালাহউদ্দিন

    আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী জোট গঠনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি জানিয়েছে, তারা যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে নিয়ে একটি বড় জোট গঠনে আগ্রহী।

    আজ সোমবার, ২৭ অক্টোবর, যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন।

    নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, সারা দেশ থেকে প্রার্থীদের সাথে দলের হাইকমান্ডের বৈঠক চলছেই। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্যোগের مقصد হচ্ছে দলের ভেতরে ঐক্য বজায় রাখা ও মনোভাব ব্যক্ত করা।

    তিনি জানান, দেশের প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে, যারা দলের উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতায় নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। সকল প্রার্থীদের আইক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য দৃঢ়ভাবে বজায় রাখতে চায়, এবং দলটি চেষ্টা করছে যেন বিভেদ সৃষ্টি না হয়।

    আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, দল ভবিষ্যতে তরুণ নেতৃত্বের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের যুবকদের শ্রম, সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর প্রেরণায় দেশের অনেক সফলতা এসেছে এবং সেই সংগ্রাম এখনও অব্যাহত।

  • তারেক রহমানের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য কঠোর বার্তা

    তারেক রহমানের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য কঠোর বার্তা

    বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের প্রতি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানে অবস্থিত রাজনৈতিক কার্যালয়, যা ডিপ্লোমেটিক জোন হিসেবে পরিচিত, সেখানে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের অনুসারীসহ বেশ কয়েকজনকে উপস্থিত না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোববার রাজধানীর গুলশানে এই কার্যালয়ে পাঁচ সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ নির্দেশ দেন। এই বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি, তিনি রংপুর, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের বিভিন্ন জরিপ ও সাংগঠনিক রিপোর্ট অনুযায়ী প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক চালু রেখেছেন তারেক রহমান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ভোটার বা অনুসারীরা যেন সেখানে না আসে। কারণ, এই এলাকার নিরাপত্তার জন্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য দফতরটি ডিপ্লোমেটিক এলাকা হিসেবে বিবেচিত। ঘন্টা ব্যাপী এই বৈঠকের জন্য সোমবার (২৭ অক্টোবর) একই স্থানে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি এই মাসের মধ্যেই ২০০টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে সবুজ সংকেত দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেছেন, বৈঠকের সময় কেউ অনুসারী বা অসংগত লোক উপস্থিত থাকতে পারবেন না; শুধুমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশীরাই অংশ নেবেন।

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষার্থীদের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন করবেন তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষার্থীদের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন করবেন তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে বাজেটের বড় একটি অংশ বরাদ্দ রাখা হবে। এর পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করে তোলা হবে, যাতে তারা উন্নত জীবনগাঠামো উপভোগ করতে পারে এবং দেশের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী হয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের কেবল শিক্ষকতা নয়, সংসার চালানোর জন্য অন্য কোনও কাজ করতে হবে না, এর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিশুদের মধ্যে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে তিনি শিক্ষকদের অবদান আরও বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে নতুন এক বা দু’টি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান, কারণ এসব দক্ষতা আন্তর্জাতিক কাজ ও বিদেশে কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে যেন তারা সামনে এসে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

    শনিবার (২৫ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আগ্রহে অংশ নেয়; সকাল থেকেই বিদ্যালয় মাঠে ছুটে আসে শিক্ষার্থীরা, যা অনুষ্ঠানস্থলকে কানায় কানায় ভরে তোলে। সেখানে জাতীয় ও দলীয় সংগীতের সঙ্গে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও পরিবারের উন্নয়নের জন্য ভালো পড়াশোনা অপরিহার্য।

    এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বিগত ২৫ বছর আগে তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন ধরনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির আগেও বিএনপি তা বলেছে।

    অনুষ্ঠানে তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা আর বিনিয়োগে বড় অঙ্ক বরাদ্দ করা হবে। শিক্ষকদের অঙ্গীকার করতে হবে, শিক্ষকতা করেই তারা সংসার চালাবে। এ ছাড়া, ভালো শিক্ষার জন্য বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে আরও একটি ভাষা শেখানো হবে এবং কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭ম-৮ম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা চালু করতে হবে এবং মেধাবী ছাত্রদের অসুবিধা না হয়, সে জন্য তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তুললে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অতীতের মতোই, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া, তিনি বলেন, মোবাইল ও অন্যান্য গেজেটে সময় অপচয় করে পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি হয়, তাই এগুলো থেকে বিরত থাকতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে তিনি নিজে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে দেশ গঠন এবং শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

    অনুষ্ঠানের শেষে বৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি ও অন্যান্য অতিথিরা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফার ধারণা পৌঁছে গেছে দেশের ৮৪টি স্কুলের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মকাণ্ডের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছে আয়োজকরা।

  • আরপিওর ২০ ধারা সংশোধনে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি

    আরপিওর ২০ ধারা সংশোধনে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আরপিওর ২০ ধারায় সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা চায় জোটবদ্ধ দলগুলো নিজেদের পছন্দের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারুক, যা তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও নির্বাচনী মূলনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

    আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন। ওই আলোচনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

    বৈঠক শেষে ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘প্রথম থেকেই জানি, বাংলাদেশে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তাদের চাহিদা অনুযায়ী জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে আসছে। তারা নিজেদের প্রতীক বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদ্ধতিতে কখনো দ্বন্দ্ব বা সমস্যা হয়নি। তবে সম্প্রতি সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা চলেছে, যা দেশের নির্বাচনী চর্চায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অনুসারে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বৈধ ও গণতান্ত্রিক। আমরা কখনো দাবি করিনি এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জোটবদ্ধ হলেও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে, যা বিএনপির নীতিমালা ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের সংশোধনীগুলো আমাদের পছন্দ নয়; আমরা এটা গ্রহণ করছি না।

    বিএনপি জোটের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে জয় লাভ করা। ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছিলেন, ‘দল বা জোটের নিজের পছন্দের প্রতীকের অধিকার সব রাজনৈতিক দলেরই থাকা উচিত। আমাদের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়, মূল প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ক্ষতিকর।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আরপিওর ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ পূর্বের মতোই রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। সরকারের উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছেও এই বিষয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়ে গেছে। আশা করি, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই সংশোধনটি আর হবে না, এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আইনি উপদেষ্টা মহোদয়ের দ্বারা একটি গিন্টেলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে, যেটা অনুসারে এই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, এই চুক্তি অনুযায়ীই সব কিছু পরিচালিত হবে। কিছু নতুন আলোচনা বা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে না।’

    অন্ততঃ প্রকাশিত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দল বা দলীয় প্রতীকের অধিকার সবসময়ই রক্ষা পেয়েছে। তবে, যখন তারা জোটবদ্ধ হয়, তখন তারা তাদের নিজস্ব প্রতীকের বদলে অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই নিয়মই দীর্ঘদিন থেকে কার্যকর এবং এটি দেশের নির্বাচনী প্রথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’