Category: রাজনীতি

  • বিএনপির ৩৬ প্রকল্পের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান

    বিএনপির ৩৬ প্রকল্পের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ৩৬ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা তার বিভাগের রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, who সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং ইসমাইল জবিউল­াহ। বৈঠক শেষে তিনি জানান, তাঁরা আশাবাদী যে, নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমুখর হবে এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে যে চিন্তা ছিল সেটি কাটবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিগত নির্বাচনগুলো প্রহসন হিসেবে গণ্য হয়েছে, তাই আগামী নির্বাচন একইভাবে হবে না, তার জন্য সরকারি ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি রাখতে হবে।

    বিএনপির ৩৬ দফা প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো:

    1. বর্তমান সরকারের জন্য নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো যথাযথ ভূমিকা পালন নিশ্চিত করা।
    2. মাঠ প্রশাসনসহ নির্বাচনী ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়।
    3. অতীতের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে।
    4. প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে।
    5. নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং নির্বাচন পূর্বে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে।
    6. নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে।
    7. ভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে ভোটকক্ষে সিসি ক্যামেরা লাগানো উচিত।
    8. প্রতিটি জেলায় অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন ও দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    9. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনঃবিবেচনা ও স্থগিত করার দাবি জানানো হয়।
    10. নির্বাচনের সময় দলীয় বা অনুচিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে হবে।
    11. অতীতের নিষ্ঠুরতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার ও অস্ত্র রাখার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি।
    12-36. নির্বাচন স্বচ্ছ ও যোগ্যতা নিয়ে নিশ্চিত করতে নানা বিধিনিষেধ, নজরদারি, অস্ত্র মুক্ত অভিযান, অর্থদুর্নীতি ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ, ভোটর সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে বিএনপি।

    অবশেষে, দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে এ দফা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন জরুরি। তবে ড. আব্দুল মঈন খান পরে সাংবাদিকদের জানান, তারা কোন লিখিত প্রস্তাব দেয়নি, যদিও দলিল নিশ্চিতভাবে উপস্থিত ছিল। এটি সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা ও কমিশনের জন্য একটি পথনির্দেশনা है।

  • বিশ্লেষক দলের জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে বিএনপি

    বিশ্লেষক দলের জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে বিএনপি

    একটি রাজনৈতিক দল সম্প্রতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ বক্তব্য দেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) উদ্যোগে ‘চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    জনন্য, এই অনুষ্ঠানে ইউট্যাবের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা অংশ নেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চব্বিশোত্তর বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য ও প্রত্যাশা কী হবে? আমাদের নতুন প্রজন্মের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর জন্য ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন সভা ও সেমিনার আয়োজন করেছেন তরুণদের ভাবনা জানার জন্য। তিনি জানান, চব্বিশোত্তর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবর্তন, বিশেষ করে শিক্ষা, মানসিকতা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়ন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এক্ষেত্রে মেধা, জ্ঞান এবং প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সমাজের সব পর্যায়ে, যেখানে আমরা কাজ করি না কেন, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষকরা তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা বাড়াতে হবে। খাতভিত্তিক গবেষণামূলক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে আরও গবেষণা והשכלה চালু করতে হবে যাতে বিশ্বমানের দিক থেকে এগিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কর্মমুখী, সময়োপযোগী কারিকুলাম কার্যকর করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষাব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যবহার পরিবর্তনও নজর দেওয়া দরকার।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, জনসংখ্যার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এই জন্য কেবল সরকারের উপরে নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়; বরং সবখানে স্বনির্ভর হয়ে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি, তা সর্বত্র অনুভব করতে হবে। পরিবর্তন শুধু চাকরি বা কর্মসংস্থান নয়, বরং এই আন্দোলন ছিল দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহৎ প্রতিরোধ। এর মাধ্যমে দ্রুতগামী আন্দোলন ও গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যা রক্ত ও সংগ্রামের মাধ্যমে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছিল।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সকল সংস্কারই আগে মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। না হলে আইন, সংবিধান বা অন্য কোনো রূপান্তর সাধারণ মানুষ দ্বারা কার্যকর হতে পারে না। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হলে আইনি কাঠামো উন্নত করতে হবে, ফলে জাতির মুক্তি সম্ভব হবে। সবাই মিলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল বলেছে- তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে চাপে রয়েছে। তারা বলছে, জাতীয় নির্বাচনের দিনে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হতে পারে। তবে বর্তমানে একটি দল সুযোগ খুঁজছে এই সনদে স্বাক্ষর করার। তবে তাদের কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। তিনি আশাবাদী, এই পরিস্থিতির মধ্যে সমাধান আসবে সুন্দরভাবে। অন্তর্বর্তী সরকার আধিকারিক ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে তিনি তুলে ধরেন। সব সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তবতা ও আইনের আওতায় নেওয়া উচিত।

    সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইউট্যাব প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতিসংঘের সাবেক চিফ অব স্টাফ রেহান এ আসাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীমসহ আরো কয়েকজন।

    উপস্থাপনা ও স্বাগত বক্তব্যে ড. মোর্শেদ হাসান খান উল্লেখ করেন, আমাদের মত মতাদর্শের দল বিএনপি মনে করে, দেশের যেকোনো উন্নয়নের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। তবে শিক্ষাকে অবশ্যই কাজে লাগানো ও যুগোপযোগী করতে হবে। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, পরীক্ষার ভিত্তির উপর নির্ভর করে বহুলাংশে শিক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে উঠেছে, যা বেকারত্বের সংখ্যা বাড়িয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে জ্ঞানভিত্তিক ও চাহিদা ভিত্তিক করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে কারিগরি, ভোকেশনাল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের উদাসীনতার কারণে দেশের শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তাই দ্রুত ও মূলধারার পরিবর্তন অতি জরুরি। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা জঞ্জাল আর সমস্যা উচ্ছেদ করে আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

  • জামায়াতের আমিরের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান: ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত কষ্টের জন্য ক্ষমা চাইলাম

    জামায়াতের আমিরের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান: ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত কষ্টের জন্য ক্ষমা চাইলাম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, জামায়াতের দ্বারা যারা যাঁরা যেখানে যেখানে কষ্ট পেয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি বিনা শর্তে ক্ষমা চাই।’ বুধবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংগঠন মানুষের সংগঠন। আমাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে ৯৯টা সঠিক, একটি হয়তো ত্রুটি থাকতে পারে। এখন আমরা যদি ক্ষমা চাই, কেউ বলে এগুলো জড়িত ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, অন্য ভাষায় বলতে হবে। কিন্তু আমরা বলি, বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছি, কোনো শর্ত দিইনি। এভাবেই আমাদের মনোভাব পরিষ্কার।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, ধরে নেওয়া যায় আপনি কোনও বিশেষ অপরাধ করেননি। তবুও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে জাতি জেনে সন্তুষ্ট হয়নি। আপনি যদি একটুখানি ক্ষমা চান, সেটাই যথেষ্ট।’

    শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা অন্তত তিনবার ক্ষমা চেয়েছি। গোলাম আজম, মতিউর রহমান এবং আমি নিজেও ক্ষমা চেয়েছি।’

    অতীতে, যখন এ টি এম আজহারুল ইসলাম জেল থেকে মুক্ত হন, তখনও আমি বলেছিলাম, ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যদি কেউ কষ্ট পেয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমি ব্যক্তিগত ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী ও সিনিয়ররা বলেছেন, তারা সব ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। যদি কেউ দাবি করে যে, তারা কোনও ভুল করেনি, তবে তা জাতি কখনোই তা মানবে না। অনেকেই বলবেন, নিউইয়র্কে গিয়ে আমি ক্ষমা চেয়ে এসেছি, কিন্তু দেশের ভিতরে মুখে ক্ষমা চাইলাম না—এমন ভুল ধারণা একদম না।’

    শেষে তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাদের কাছে ক্ষমা চাইবেন, কিন্তু তারা কি ফেরেশতার দল? অন্যদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলি না। অশুভ অতীতের প্রশ্ন যত বেশি তুলবেন, তত বেশি জাতি বিভক্ত হবে।’

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: জামায়াতের ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্নই আসে না

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: জামায়াতের ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্নই আসে না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট করে বলেছেন, জামায়াতের ক্ষমতায় ফিরতে কখনোই মনোভাব আমাদের নেই। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীতের আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র এবং জাতীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দেশের মানুষ খুবই ভালো করে জানেন, জামায়াতের মাধ্যমে তারা আবারও যেন ফিরে আসতে চায়, কিন্তু জনগণের অন্তর থেকে তাদের প্রতিরোধের সাড়া প্রতিধ্বনিত হয়। তারা কখনোই এই দেশের অন্ধকারে ফিরে যেতে দেবে না। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি লিখেন, আমরা ন্যায়ের পথে, মানবতার জন্য এবং সংহতির বাংলাদেশে বিশ্বাস করি। এখানকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে সমান অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা। তবে এই স্বাধীনতা কোনো ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। প্রশাসনে ছদ্মবেশে ঢুকে বিভ্রান্তি ছড়ানো, বিভাজনের রাজনীতি চালানো কিংবা ধর্মের নামে রাষ্ট্র দখলের চেষ্টাও এ দেশের জনগণের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    পাটওয়ারী আরো উল্লেখ করেন, আজ বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম, পেশা ও পরিচয়সম্পন্ন মানুষ একত্রিত হয়েছে। কওমি, সুন্নি, হিন্দু, তরুণ ও প্রগতিশীল সব শ্রেণির মানুষ এক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশের শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে চায়। যে মাটিতে আত্মদান করেছেন শহীদরা, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ডাক আকাশে ধ্বনিত হয়েছিল—সেখান থেকে বিভাজনের রাজনীতি কখনোই সফল হবে না। আমাদের দায়িত্ব শুধু রুখে দাঁড়ানোই নয়, পাশাপাশি এই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানচিত্র, ইসলাম ও আলেম-উলামাদের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা ঘৃণার রাজনীতি চাই না, মানবতার জয়ের পথে বিশ্বাসী। যারা বিভ্রান্তির পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে—যেন তারা ফিরে আসে গণতন্ত্র, ন্যায় ও মুক্তচিন্তার বাংলাদেশে। এই দেশ কারো শত্রুতা নয়, এটি একটি সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নতুন ভবিষ্যতের আশ্বাস। এরপরই তিনি উল্লেখ করেন, এখন অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষা, বাংলাদেশ কি ঘরের মাঠে সিরিজ জিতবে বা ক্যারিবীয়রা আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করবে—এটি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • নাহিদ বললেন, বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর julho সনদে সই করবেন

    নাহিদ বললেন, বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর julho সনদে সই করবেন

    জুলাই সনদে বিভিন্ন দল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই সনদে এখনো স্বাক্ষর করেনি। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, এই সনদটির কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের দল সই করবে। তিনি বলেন, আমরা আগেই নির্বাচন চলাকালে July হত্যাকাণ্ডের বিচারসংক্রান্ত রোডম্যাপে কথা বলেছি। মামলাগুলোর অবস্থা কী, কী সময়ের মধ্যে কোন প্রক্রিয়ায় এগুলো সমাধান হবে, সেটার ব্যাপারে জানতে চেয়েছি। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাংবাদিকদের সামনে নাহিদ এই মন্তব্য করেন। এর আগে, এনসিপির প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাহিদ নিজে, সারজিস আলম, সামান্থা শারমিন এবং খালিদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, এই সনদে স্বাক্ষর তখনই করব যখন এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সেটা নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি সাংবিধানিক আদেশ জারি করবেন, যা প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দিয়ে হবে না; এই কাজ প্রধান উপদেষ্টাকেই করতে হবে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশন নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। ইসির গঠন ও রাষ্ট্রীয় আচরণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নয় বলে আমাদের মনোযুক্ত। সাংবিধানিকভাবে কমিশন যেন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে, তার জন্য তাদের পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াই, আমরা সরকারের জনপ্রশাসন ও উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে কিছু বক্তব্য পোষণ করেছি। প্রশাসনে পদবির পরিবর্তন কেমন ভিত্তিতে হচ্ছে, সে ব্যাপারে জানতে চেয়েছি।

  • এনসিপির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জঙ্গারোটে ব্যাখ্যাঃ গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য

    এনসিপির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জঙ্গারোটে ব্যাখ্যাঃ গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গুলোর নেতারা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পরওয়ারের বক্তব্য সম্পূর্ণ অবৈধ ও অশোভন, যা রাজনৈতিক সৌজন্যহীনতা ও ঔদ্ধত্যের পরিচয় দেয়। সম্প্রতি সাতক্ষীরায় এক সমাবেশে পরওয়া নিজ ভাষণে এনসিপির নামে কিছু না বললেও, স্পষ্ট করে দেন যে এই দলটি নতুন ছাত্র সংগঠন ও তার রাজনীতি সম্পর্কে বাঁকা দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। তিনি বলেন,

  • বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হলেন হুমায়ুন কবির

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হলেন হুমায়ুন কবির

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার সংগঠনগত কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবিরকে এবার দলের যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘হুমায়ুন কবিরকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হলো।’ হুমায়ুন কবির দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগের মাধ্যমে বিএনপি তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে চাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দলের এই নতুন পদোন্নতির ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষায় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিএনপির আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে প্রত্যাশা করছে দল ও বিশ্লেষকরা।

  • গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন দ্রুত করার আহবান জানাল জামায়াত নেতা

    গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন দ্রুত করার আহবান জানাল জামায়াত নেতা

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, জনগণের চাপের মুখে বিএনপি গণভোটে রাজি হলেও তারা নানা জটিলতা সৃষ্টি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গণভোটের বিষয়টি সহজভাবে নিতে হবে, সেটি হলো—জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে অবশ্যই গণভোট সম্পন্ন করতে হবে।

    তাহের বলেন, আমরা চাই এই গণভোটের জন্য একটি আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের কাঠামো কি হবে, কি কি আইনি সংস্কার দরকার এবং কে সেটি ঘোষণা করবে, এ সব প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও জানান, যদি আইনগতভাবে সব কিছু চাপা পড়ে এবং ব্যত্যয় না হয়, তাহলে এই ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে দেওয়া উচিত। প্রেসিডেন্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ প্রেসিডেন্ট কারা তার পরিচয় সবাই জানে।

    বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় সেন্টার ফর পাবলিক পার্টিসিপেশন থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি, সাক্ষাৎ শেষে।

    তাহের আরও বলেন, তিনি এবং জামায়াতের অন্য নেতারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই সাক্ষাৎ করেছেন। সংলাপে একসাথে দীর্ঘ আলোচনা করে বিভিন্ন বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে তারা একটি সনদ স্বাক্ষর করেছে। তিনি জানান, মোট ৮০টির বেশি বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে, এবং সেগুলোর দ্রুত আইনি পরিমার্জন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। বিশেষত, próximas জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে তিনি অনুরোধ জানান।

    তাহের বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, এসব সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে এগুলোর কোনো অর্থ হয় না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়ে একটি আদেশের মাধ্যমে এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের বাইরে নয়, কারণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকার প্রধানের এতোটাই ক্ষমতা আছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা-আলাদা বিষয়, এবং গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন হলে নির্বাচনের পরিসরে বড় পরিবর্তন আসবে। এজন্য, আগে গণভোট সম্পন্ন করতে হবে।

    তাহের যুক্তি দেন, ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা অসহমত প্রকাশের কোনও বিষয়ে আলোচনা হবে না। এরপর তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা চলাকালে দেখা গেছে, তারা শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে, কিন্তু তারা ‘প্যাঁচ’ লেগিয়েছে—গণভোট ও নির্বাচনের তারিখ একসঙ্গে হতে পারে বলে ঢকঢাক দেয়া। তিনি স্পষ্ট করেন, এই দুই বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। নির্বাচন হলো নির্ধারিত দিনে জনপ্রতিনিধিদের ভোটে সরকার কেমন হবে তা ঠিক করে, আর গণভোট হচ্ছে সংস্কার বা রূপান্তর সংক্রান্ত। এই সংস্কারগুলো সম্পন্ন না হলে, তা কার্যকর হবে না।

    তাহের বলেন, গণভোটের জন্য ভিত্তি হবে জনগণের স্বার্থবেদনা ও দাবির ওপর; যদি জনগণ হাঁ বলে তাহলে পাস হবে। যদি না বলে, তা পাস হবে না। কারণ, এটি জনগণের সর্বোচ্চ ক্ষমতা নয়, তবে সবচেয়ে শক্তিশালী রিফারেনস। তিনি আরও বলেন, আপার হাউস বা উচ্চতর সংসদ নির্বাচন হচ্ছে আলাদাভাবে। যদি এই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট একত্রে হয়, তাহলে আপার হাউসের ইলেকশন পাবে না। এতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, কেউ চ্যালেঞ্জ করলে বাতিলও হতে পারে। তাই, ভোটের আগে আপার হাউসের নির্বাচন বা সেই প্রক্রিয়া ঠিক থাকবে বলে তিনি জানান।

    তাহের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অপরিহার্য। এর জন্য নভেম্বরের آخرের দিকে এই গণভোটের আয়োজন করার প্রস্তাব দেন। অনেক সময়ও হাতে রয়েছে—এক মাসের বেশি। এরপর দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, খরচের কথা ভেবে চিন্তা না করে, আমরা যেসব সরঞ্জাম ও মেশিন কিনেছি, সেগুলো দুই নির্বাচনের জন্যই ব্যবহার হবে। তিনিও মন্তব্য করেন, দেশকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে যেতে হলে এই খরচ মোটেও বেশি নয়।

    তাহের অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশিরভাগই একটি দলের পক্ষ থেকে আসছে। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখกลางে পড়ে। তিনি বলেন, কেয়ারটেকার সরকার থাকলেও, একটি সমান ও ন্যায্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের আগে যেখানে যেখানে বদল আনতে হবে, সেখানে বদল আনতে হবে। তিনি বলেন, যদি দরকার হয়, নিজে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত দায়িত্ব পালন করবেন এবং কর্মকর্তাদের পোস্টিং লটারির মাধ্যমে ঠিক করবেন, কোনো সমস্যা নয়। তবে এই লটারির পেছনে যেন কোনও দুর্বৃত্তের ছাপ না থাকে।

    তাহের বলেন, রিফর্মসের ঘোষণা বা আদেশ কে দেবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যদি আইনে এই বিষয়টি কাভার করে এবং কোনো ব্যত্যয় না হয়, তাহলে এই আদেশ চিফ অ্যাডভাইজার বা প্রধান উপদেষ্টা দেবেন। প্রেসিডেন্টের নামে যেন এই ঘোষণা না হয়, কারণ সবাই জানেন তার সঙ্গী বা သူের পক্ষে কে।

    বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা বলেন, আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা করে কোনো সমস্যা থাকলে, তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তাহলে এই ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টাই দেবেন।

    অহংকারে, নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণ প্রবৃত্তি ও বিএনপির হামলার বিষয়েও তারা আলোচনা করেন। তাঁরা সতর্ক করে দেন, নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি যদি এভাবে অব্যাহত থাকে, তাহলে ভোটের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

    সর্বশেষে, বুধবার বিকেলে ডা. তাহের নেতৃত্বাধীন জামায়াতের প্রতিনিধি দল যমুনা ভবনে প্রবেশ করে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই দলের মধ্যে ছিলেন—সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদ।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি: অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় যেতে হবে

    মির্জা ফখরুলের দাবি: অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় যেতে হবে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হোক, তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, এর জন্য প্রথমত প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করে তোলা জরুরি, যাতে জনগণের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    বৈঠক উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল যমুনায় পৌঁছায়, নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল নিজে। তাদের সঙ্গে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো সরকারের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। যদি কোনও দলীয় ব্যক্তি বা কিছু সদস্য দলে থেকে থাকেন, তাদের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সচিবালয়ে বর্তমানে যাঁরা আছেন এবং যারা চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট বলে পরিচিত, তাঁদের সরিয়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তারা নিয়োগের জন্য বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিক্ষেত্রে বিশেষ করে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমাদের আহ্বান। বিচার বিভাগে নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগের বিষয়েও কথা বলা হয়েছে, যাতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিরপেক্ষ এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এ ব্যাপারেও তারা পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, তারা বলেছে, পুরোনো সরকারের কিছু স্বার্থানুকূল কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে আছেন, যাদের অপসারণ করতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ ও প্রশাসনিক ক্যাডারে নিরপেক্ষ নিয়োগের জন্য তাদের আহবান জানানো হয়েছে।

    এছাড়া, বিচার বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে অপ্রয়োজনীয় ফ্যাসিস্ট বা স্বার্থানুকূল দোসরদের সরিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টাকে এ বিষয়গুলো জানানো হয়েছে, যেহেতু তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত।

    অবশেষে, সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিল এবং আজ সময় পেয়েছেন। তাদের পরিকল্পনা রয়েছে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও দেশের সামগ্রিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে এই বৈঠকে।

  • বিমানবন্দরে আগুন: হাসিনার নাশকতার অংশবাদী আমান

    বিমানবন্দরে আগুন: হাসিনার নাশকতার অংশবাদী আমান

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ মন্তব্য করেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকা-ের ঘটনাটি ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার একজন নাশকতার অংশ। তিনি মনে করেন, পার্শ্ববর্তী দেশের অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নানা অপতৎপরতা দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং তাই এই ধরনের দুর্ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অমান বলেন, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৯০-এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায়। এটি আয়োজন করে সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির স্মৃতি সংসদ।

    তিনি আরও বলেন, হাসিনা বিদেশে থাকলেও তার প্রেতাত্মা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয়। এ কারণে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিমানবন্দরে অগ্নিকা-সহ অন্যান্য সকল ঘটনাবিষয়ক সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার।

    নির্বাচনের প্রসঙ্গে আমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তারিখ ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত। তিনি এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ বিশ্বাসী। তবে কিছু শক্তি আবারো নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন। এর বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান করেন, কারণ তারা দীর্ঘদিন থেকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত।

    আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আমান বলেন, এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠণ, যারা গুম, খুন ও হত্যার সঙ্গে জড়িত। সরকার যে কোয়ার্টার নিষেধাজ্ঞা দিলেও তাদের কার্যক্রম অপ্রতিরোধ্য। ফ্যাসিস্টদের রাজনীতি এই দেশে চলতে দেওয়া হবে না। হাসিনার গুম ও খুনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তার বিচার হওয়া অপরিহার্য।

    স্মরণসভায় আমান বলেন, প্রয়াত সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ছিলেন গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্ব দেন। একজন আদর্শ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি সর্বজনের প্রিয় ছিলেন।

    স্মরণসভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান এবং ১২ দলে যোগদানকারী জোটের শীর্ষ নেতা মো. ফারুক রহমান, জাতীয়তাবাদী সমমন জোটের এনডিপির চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল, মহাসচিব জামিল আহমেদ, ডিএলের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, কেন্দ্রীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং সাবেক ছাত্রনেতা ইউনুস সোহাগ।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিন এবং সভার সমন্বয় করেন সদস্য সচিব খোকন চন্দ্র দাস।