Category: রাজনীতি

  • নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ ও ভবিষ্যৎ সংকট মুখে

    নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ ও ভবিষ্যৎ সংকট মুখে

    অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে ফেব্রুয়ারির মধ্যে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি করে থাকলেও, সেই অঙ্গীকার অনুযায়ী এগোতে মহার্ঘ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপির জন্ম ছিল ‘হ্যাঁ’ ভোটে। যদি তারা ‘না’ ভোটে কঠোর থাকে, তাহলে তাদের আত্মমর্ত্য ঘটে যেতে পারে ‘না’ ভোটের মাধ্যমে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি একটি বড় দল; তাদের জন্য কোটেশন না দেয়ার এবং ‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মৃত্যুর কবর খননের পথ না বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য জুলাই সনদ প্রয়োজন। অস্পষ্টতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যা জামায়াত ও বিএনপি’র কুতর্ক ও রটনার ফল। তিনি বলেন, এখনই গাজীপুর ও অন্যান্য স্থানে নির্বাচনের জন্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ড্রাফট প্রকাশ করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। তা না হলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে এবং এর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে।

    জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একত্রে থাকার প্রবণতা ও বিষয়ে মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘গণভোট প্রশ্নে জামায়াত এক সময় বিএনপি’র সঙ্গী হবে। তারা দুই দল মিলে মতভেদ সৃষ্টি করছে, এবং এই অশুভ ধারা দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।’

    নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এসব দলকে মানি না। অনেকেই বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ৫ লাখ নেতা-কর্মীর প্রাণ যাবে, কিন্তু এত কিছুর পরও আমরা সেরকম কোনও ক্ষতি করিনি। তবে তারা যদি বাধা দেয়, কঠোরভাবে প্রতিরোধ করব। বিএনপিকে বলব, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনতে দেবে না।’

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বললেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এই কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হয়ে পড়েছে। কমিশন যদি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত থাকে, তাহলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের একাধিকার প্রয়োজন মুক্ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য।

    তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয় না, কারণ এনসিপি ওই সময়টি রাজনৈতিক বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করেনি। আজকের সময়ে সংস্কার কমিশনের সুপারিশনামার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন, কারণ এর বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই।

    ড. ইউনূসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা জোরালোভাবে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। পত্রিকার মাধ্যমে ড্রাফট প্রকাশের আহ্বান জানান, এতে সত্যতা ও বাস্তবতা থাকলে এনসিপি স্বাক্ষর করবে। অন্যথায়, অজান্তে যদি কিছু হয়, তারা এতে অংশ নেবে না।

    অন্তর্র্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ও উদ্যোগে নাগরিক ঐক্যসহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অপ্রতুল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে এগোচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিন, না হলে ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে স্বাধীন ও ভবিষ্যৎমুখী নির্বাচনী ব্যবস্থার নির্মাণ জরুরি।

  • অইকমত্যের ব্যর্থতা হলে পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, ড. ইউনূসের সরে যাওয়ার আশঙ্কা

    অইকমত্যের ব্যর্থতা হলে পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, ড. ইউনূসের সরে যাওয়ার আশঙ্কা

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে আবারো ঐকমত্যের অভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন শিল্পপতি ও সমাজসেবক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যদি জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিরোধ মেটানো যায় না, তাহলে নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হবে না এবং ড. ইউনূসের পদত্যাগের প্রয়োজন পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ভয়ানক বাজেভাবে জটিল আকার নিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    মঞ্জু বলেন, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে আদেশ জারি করার পাশাপাশি নির্বাচনের আগের যে কোনো সময় গণভোটের প্রস্তাব রয়েছে। যদি সংবিধানের সংশোধন ৯ মাসের মধ্যে সম্পন্ন না হয়, তাহলে এই প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

    সনদের আইনি ভিত্তিতে তিন ধাপে এই বাস্তবায়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমে সংবিধান সংশোধনের জন্য আদেশ জারির মাধ্যমে শুরু হবে, এরপর গণভোটের ব্যবস্থা এবং শেষ পর্যায়ে সংসদে এই সংশোধনগুলো প্রণয়ন। এর বাইরে, সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং কিছু প্রস্তাব অফিস আদেশের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে।

    মঞ্জু জানায়, সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয় নিয়ে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—একটি হলো, ২০২৫ সালে জাতীয় সনদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করা। এই প্রক্রিয়ায় আদেশ দিয়ে নির্বাচনের জন্য গণভোটের মাধ্যমে এই সংশোধন কার্যকর হবে। অন্য প্রস্তাবে, সংবিধান সংশোধনের জন্য full বিল সংসদে পাস করে গণভোটে নেওয়া হবে, তবে টার্মিনেশনের মধ্যে এটি সম্পন্ন না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে সংযোজন হয়ে যাবে।

    গণভোটের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের ওপরই থেকে যাবে বলে জানান মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, যখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে তখন রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি সম্মতি যুগিয়ে মেনে নেবে।’ তারা এও জানান, নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তির ব্যাপারে মনে করেন, গণভোটে যোগ দেওয়ার জন্য সকলের উচিত একত্রিত হয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা। যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, তারা চাইলে আগেভাগে সমঝোতা করে বিষয়গুলো সমাধান করতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিলটি সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে—এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল। ২৭০ দিনের মধ্যে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন, কারণ দীর্ঘ আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো খুব দ্রুতই বাস্তবায়িত হতে পারবে।

    মঞ্জু সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এখন প্রধান কাজ হলো ইগো পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সনদ কার্যকর করতে সম্মত হওয়া। তা না হলে নির্বাচন আয়োজনের ওপর অনিশ্চয়তা জন্মাতে পারে, এবং ড. ইউনূসের পদত্যাগের প্রয়োজন পড়তে পারে, যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, এবিএম খালিদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানসহ অন্যান্য নেতারা।

  • বিএনপির লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা

    বিএনপির লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা

    বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে আরও সবল ও সমৃদ্ধ করে তুলতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এই অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা দেশের প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষ করে নারীর, মাঝে গর্বের সঙ্গে দেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হবে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন।

    আরও প্রত্যাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি কর্মজীবী মায়েদের জন্য কাজের ঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এর পাশাপাশি, নারীদের জন্য শিশু পরিচর্যা (ডে-কেয়ার) ব্যবস্থাকে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি। তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, যখন কোনও তরুণী মা পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ পান না거나 চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন, তখন দেশের সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বিএনপি এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের সবার জন্য আধুনিক ও গুণগত মানের ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থার সাথে সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের জন্য কর সুবিধা ও সিএসআর ক্রেডিটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নারীকর্মী ও শিশু কেয়ারের মানদণ্ড অনুসারে প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে কাজের সুবিধা বাড়ানো হয়েও এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিবারের আয় উন্নত ও দেশের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রার একটি অংশ যোগ হওয়া সম্ভব হবে।

    তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু পরিচর্যার সুবিধা থাকলে কারখানা শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় ধরে কর্মঠ থাকেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের খরচ কখনোই উঠে আসতে পারে। তিনি বলেন, শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা কেবল সামাজিক প্রয়োজনই নয়, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। ডে-কেয়ার সেন্টার তরুণ নারী ও মা-শ্রমিকদের কর্মজীবনে সফলভাবে সংযুক্ত করে।

    সংক্ষেপে, তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এমন একটি উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি তৈরি করা যেখানে লাখো লাখো মানুষ যেমন কর্মসংস্থানে থাকবেন, নারীর ক্ষমতায়ন হবে তেমনি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। নারীর সম্ভাবনাকে সীমিত করা কোনও ধারণাকে তিনি মেনে নেবেন না। শিশুপালন, সমান মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এই বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি। শেষমেষ, তিনি আহ্বান জানান, আসুন একসঙ্গে এগিয়ে যাই, একটি সমাজ গড়ি যেখানে প্রতিটি মা ও ছাত্রী স্বাধিকার ও স্বস্তি পাবে, এবং সমাজের সব অংশগ্রহণ অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।

  • ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন

    ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন

    বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার নামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ তাদের সুপারিশে কোন কিছু বলেছে।’ তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিবসে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে সেই সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবটি হাস্যকর বলে মনে করেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন হবে সংসদের মাধ্যমে। সংসদ সদস্যরা নির্বাচন করবেন। বর্তমানে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজ পরিচালনা করতে হয়, তবে তা সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা। এই বিষয়টি কখনো কমিশনের মধ্যে আলোচনা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন হবে সংসদের জন্য। সংবিধান সংস্কারের জন্য নয়। নির্বাচনের জন্য সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা। অটোপাসের মতো কোনো বিষয় সংবিধানে থাকতে পারে না।’ বিএনপি নেতা আরও remarked করেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে আমি দেখেছি, তারা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দেশের সম্পূর্ণ একতার অভাবজনিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে এই আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে বহু অপ্রচলিত ও অবৈধ বিষয়, যা কখনো স্পষ্টভাবে আলোচনা হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামও একটি প্রস্তাব হিসেবে যোগ করা হয়েছে, যা নিয়ে আগে কোনো আলোচনা হয়নি।’ সালাহউদ্দিন জানান, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ভোটের জন্য অনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠন করার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যদিও সম্প্রতি এই বিষয়টি কমিশনের সভায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘এই কমিশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছু সুপারিশ দিয়েছে যাতে দেশের সামগ্রিক জাতীয় ঐক্য বাধাগ্রস্ত হয়।’ শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, উপদেষ্টা পরিষদ ও সরকার সংবিধানভিত্তিক আলোচনা করবেন এবং একটি সংবিধান সম্মত পদ্ধতি নেবেন।’ আরবিপিও এবং জোটের প্রতীক নিয়ে বর্তমানে যা হচ্ছে, সেটার পক্ষপাতমূলক আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক দল তাদের স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতীকে বা জোটের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে। হঠাৎ করেই একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যেখানে জোটবদ্ধ হলেও নির্বাচন করতে হবে তাদের নিজস্ব প্রতীকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি অপ্রত্যাশিত, এবং আমরা আশা করি বর্তমান সরকার নির্বিকারভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি শেষমেশ জানান, আইন কমিশন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিএনপি হতাশা প্রকাশ করছে এবং স্বচ্ছ ও সংবিধান সমর্থনকারী প্রক্রিয়া গঠনের জন্য তারা আশাবাদী।

  • নভেম্বরে গণভোট চেয়ে জামায়াতসহ আট দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    নভেম্বরে গণভোট চেয়ে জামায়াতসহ আট দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট আট দল। মোক্ষম দাবির মধ্যে রয়েছে নভেম্বরে গণভোট সম্পন্ন করা এবং তার জন্য একটি ধারাবাহিক five দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আট দল যোগ দিয়ে তাদের লক্ষ্য ও দাবি প্রকাশ করে।

    পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে, আগামী ৩০ অক্টোবর নির্বাচনী সংস্থার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর, ওই দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য ৩ নভেম্বর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের শেষে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোট ছাড়া জাতীয় সংবিধান ও আইনের উপর ভিত্তি করে স্থিরতা আসবে না। তারা সবাই একমত পোষণ করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বশর্ত।

    তাদের মতে, ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিকল্পনার রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে, যেখানে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কালো টাকা, ভোটের কেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি ও অনিয়ম প্রতিরোধসহ গণতন্ত্রের মূল বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে তারা জোর দাবি করেছেন। আইনী মাধ্যমে উন্নত মানের সংসদ ও দীর্ঘস্থায়ী সরকারের জন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে তারা মত প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেশের বহু রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক ও গবেষকসহ সাধারণ মানুষ একমত পোষণ করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে কিছু পরিবর্তন আনতে সরকার ও সংস্থাদের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা জুলাইয়ের জাতীয় সনদ কার্যকর, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট ও ২০২৬ সালে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য দফায় দফায় দাবি জানিয়ে আসছেন।

    সমস্ত দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য, তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জনগণের দাবিকে সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া, নেতৃবৃন্দ একসাথে দাবি করেন:
    1. জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এই বছর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করা।
    2. পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু করা যেন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে-প্রত্যাশিত নির্বাচনের মান সম্মত হয়।
    3. অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
    4. ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
    5. স্বৈরাচারী রাষ্ট্রদুর্বৃত্তদের সহযোগী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, যেমন জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কর্মকা- নিষিদ্ধ করা।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা, যারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দেবার জন্য সম্মিলিতভাবে এই আন্দোলনে একত্রীকরণে গভীর অনুরোধ জানান।

  • গণভোটের তারিখ দেরিতে হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটময় হয়ে উঠবে: পরওয়ার

    গণভোটের তারিখ দেরিতে হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটময় হয়ে উঠবে: পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণভোটের তারিখের বিষয়ে যত দেরি হবে, ততই দেশের জাতীয় নির্বাচন আরও সংকটের মধ্যে পড়বে। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা মন্তব্য করেন।

    গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘ঐক্যমত্য কমিশন সরকারকে যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বলা হয়েছে, হয় জাতীয় নির্বাচনের আগে বা তার দিন গণভোট হতে পারে। মানে তারা বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। এই অবস্থায় ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেন সব কিছু সরকারের কোর্টে চলে গেছে। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

    তিনি জানান, আন্দোলনরত দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন— যদি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কোনো ঝামেলা হতো না। এতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামঞ্জস্য ও স্থিরতা বজায় থাকত।

    গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘‘অন্য কিছু দল, যারা একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করার কথা বলছেন, তাদের কথা শুনে আমাদের সুবিধা হয়েছে। কিন্তু যারা আগে থেকেই গণভোট ও নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট করার জন্য দাবি জানিয়েছিলেন, তাদের কথাও শোনা হয়নি। এ ভাবেই ঐকমত্য কমিশন মধ্যবর্তী ছেদে অবস্থিত হয়ে পড়েছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আমরা আজ এই ৮টি দল স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকারের দায়িত্ব এখন দ্রুত গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা। যদি আগে থেকে না বলা হয় বা সময়ে ঘোষণা না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নতুন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে।’’

    ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গোলাম পরওয়ার প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐক্যমত্য কমিশনের প্রধানের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘উনিই জাতিকে সংকটমুক্ত ও সংশয়হীন করার দায়িত্বে। রাজনীতির আকাশে যে অন্ধকার জমে আছে, সেটি দূর করে সঠিক পথে আলো দেখাতে পারবেন শুধু উনিই।’’

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ। তিনি বলেন, পরবর্তী দিনে, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর, পাঁচ দফা দাবি আদায়ের জন্য নির্বাচনি কমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং ৩ নভেম্বর বৈঠকের পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • জুলাই সনদের আইনি প্রতিষ্ঠা জরুরি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জুলাই সনদের আইনি প্রতিষ্ঠা জরুরি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার এক ফাঁকা বুলি নয়; এর জন্য অবশ্যই একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আগামী বছরের জন্য জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক সমঝোতার নয়, এটি একটি আইনি নীতিমালা এবং এর জন্য দৃঢ় আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এনসিপি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা যদি সরকার এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য খসড়া আদেশের প্রস্তাব দেখে সম্মতিকর স্বাক্ষর দেয়, সেটিই হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে একটি রূপরেখা সুপারিশ করেছে যা এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কমিশন দুটি পৃথক সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে—একটি সংবিধানবিরোধী সংস্কার, যা প্রজ্ঞাপন ও খসড়া সুপারিশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, এবং অন্যটি বিরতী সরকারকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রস্তাবিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব সংবিধানের সঙ্গে সংযুক্ত। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে দুটি আলাদা খসড়া সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমটি, প্রস্তাব-১, বাস্তবায়নের জন্য সরকারের এগিয়ে যাওয়া উচিত কারণ এতে উল্লেখ রয়েছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শেষ না হলে, গৃহীত খসড়া বিলই আইনে পরিণত হবে।

    এছাড়াও, সংবিধান সংশোধন বিলটি আইন আকারে কার্যকর করে গণভোটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করাও জরুরি বলে দাবি করেন তিনি। কোণঠাসা বা দ্বিধাবিধুর না হয়ে, সরকারের উচিত প্রস্তাব-১ অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করা।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কিছু ভাষাগত অস্পষ্টতা থাকলে সেগুলো সংশোধন করতে হবে, যাতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। প্রথম ঘোষণাটি গ্রহণের মাধ্যমে এই সনদের আইনি ভিত্তিও প্রতিষ্ঠিত হবে।

    সরকার যদি এই আইনি ভিত্তিসম্পন্ন খসড়া আদেশ অনুমোদন করে, তবে সনদে স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে এক লক্ষাধিক জনতার ওপর ভিত্তি করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারির প্রস্তাব রয়েছে।

    এই খসড়াগুলোর মধ্যে প্রথমটির বিধান অনুযায়ী—আগামী দেশের সংবিধান সংস্কার কমিটি ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতকৃত বিলই আইন হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রস্তাবের সূত্রে, এই সময়সীমার মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্ভব হয়।

  • জাতীয় নির্বাচনে ব্যত্যয় হলে দায় ইউনূস সরকারের – মির্জা ফখরুল

    জাতীয় নির্বাচনে ব্যত্যয় হলে দায় ইউনূস সরকারের – মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরও যদি জাতীয় নির্বাচনটি ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে এর পুরো দায়-দায়িত্ব নিতে হবে ড. ইউনূস সরকারকে। তিনি আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

  • নিষিদ্ধ না করলে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে

    নিষিদ্ধ না করলে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর দোষারোপ করে বলেছেন, যদি জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে এই দলটির মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে। তিনি warned করে বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকছে, যা দেশের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন যদি দেরি হয়ে যায়, তবে তার ফল সকলের জন্য বিপজ্জনক হবে। এটা মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাইলে দলগুলোকে একত্রিত হতে হবে।

    নুরুল হক নুর বলেন, শহিদদের চেতনা নিয়ে আমরা ব্যবসা করি, কিন্তু তাদের পরিবার সরাসরি কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না। তাদের চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও, অন্তর্বর্তী সরকার এই দায়িত্ব পালন করেনি। এখনাকেও আহত ও পরিবারগুলোর প্রয়োজন পূরণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা এই সরকারের অপরাধ। তিনি দাবি করেন, আগামী বাংলাদেশ হবে এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি শক্তিশালী ও মহান স্বাধীনতার স্মারক।

    তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, নির্বাচন যদি কোনও কারণে পিছিয়ে যায়, তবে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য পরিস্থিতি বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে। তিনি জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কিছু বিপথগামী জেনারেল দেশের স্বার্থে ক্ষতিকর। সেনাবাহিনী এসব দায় নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন।

    প্রসঙ্গত, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মন্তব্য করেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র অধিকার পরিষদ পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদ গঠন করে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের পক্ষে সোচ্চার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একসাথে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন চালিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে আমাদের সুযোগ রয়েছে, উন্নত ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    রাশেদ খান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা সবাই রাজনীতিতে মত-পার্থক্য থাকলেও ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। না গেলে, আবারও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে, যা ১/১১ এর ইতিহাসকে ফিরে আনতে চাচ্ছে, এর মাধ্যমে আবারও মনুন্দ্দীন-ফখরুদ্দিন সরকারের মতো অবস্থা তৈরি করতে চায়।

  • ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন পদ্ধতিতে যাওয়া ঠিক নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন পদ্ধতিতে যাওয়া ঠিক নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো এমন পদ্ধতিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় যা নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠতে পারে। রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কেউ যেন আমাদের এই প্রক্রিয়াটাকে কখনো অবৈধ বলে আখ্যা দিতে না পারে, সে জন্য এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। এটি শুধুমাত্র আজ বা আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘ ১০ বা ১৫ বছর পরও যেন এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠতে না পারে, সে জন্য আমাদের সুন্দর ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। আমাদের অপ্রতিরোধ্য সাফল্যকে এ রকম সাবধানে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ হলো জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ দলিল, যার বাস্তবায়নের জন্য আমরা সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য সরকার একটি নির্দিষ্ট ফোরাম, অর্থাৎ নির্বাচিত সংসদ, তৈরি করেছে। এখানে কোনও দলের দ্বিমত থাকার প্রশ্নই নয়। তবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি জাতীয় সংসদ বাধ্য হয়, তাহলে এর জন্য একটি প্রস্তাব নূন্যতম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বা সরকারের কাছ থেকে প্রস্তুত করতে হবে। সেই সুপারিশ পাওয়ার পরই আমরা জানব, কারা কি কি প্রক্রিয়ায় আইনত ভিত্তি রচনা করতে চাইছে।’ তিনি সবাইকে জানিয়ে দেন, যেন কেউ আইনানুগ প্রক্রিয়া অমান্য করে অবৈধ পথে না যায়। ‘আমরা চাই যেন সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাই। এর মাধ্যমে আমাদের সমাজকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব,’ বলেন সালাহউদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তা ফ্যাসিবাদের পুনরায় আবির্ভাবের পথ সুগম করে দেবে। এজন্য সকলকে একত্রে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি তাগিদ দেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে সবাই এক থাকব। পাশাপাশি, ফ্যাসিবাদ কায়েম হওয়া যেন কোনোভাবেই সম্ভব না হয়। সেই জন্য দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে সকল ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে দমন করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে জনপ্রিয়তা ও সংবিধান রক্ষা হয়।’ এবার, এই মন্তব্যগুলোতে তিনি গণতন্ত্রের জন্য সতর্কতা ও ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন, যা দেশের ভবিষ্যত শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।