Author: bangladiganta

  • নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুবার শপথ নিলেন এনসিপির

    নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুবার শপথ নিলেন এনসিপির

    অবশেষে নানা গুঞ্জনের পর সংসদ অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় ধাপের শপথটি সম্পন্ন করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় দলের তরুণ সদস্যরা সংসদে শপথ গ্রহণ করেন, যা নির্বাচন কমিশনের প্রধান এএমএম নাসির উদ্দিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

    এনসিপির সংসদ সদস্যরা হলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ ও আব্দুল্লাহ আল আমিন।শপথ নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের অন্যান্য এমপি। তারা একসঙ্গে দুই দফা শপথ গ্রহণ করেন। তবে এ সময় এনসিপির এমপিরা শপথে অংশ নেবেন না বলে কিছু গণমাধ্যমে খবর ছড়ায়। হান্নান মাসুদ ও আতিকুর ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তারা শপথে অংশ নেবে না। তবে শেষ পর্যন্ত তারা শপথ গ্রহণে অংশ নেন।

    শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় দুপুর ১টা ২২ মিনিটে, যখন সংসদ ভবনের লবিতে কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ গ্রহণের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা গেছে চিরচেনা গেঞ্জি পরে, আকতারকে কোট এবং নাহিদ ইসলামের পােলে শার্ট পরে শপথ নিতে। এই আয়োজনে সবার মধ্যে গৃহীত হয় বাংলাদেশের সংসদে নতুন সদস্যদের দৃঢ় প্রত্যয় ও আনুষ্ঠানিকতা।

  • বিএনপি জুলাই সনদ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি নিশ্চিতভাবে বছরের জুলাইয়ে প্রদত্ত অঙ্গীকারপত্র (জুলাই সনद) সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের বিপুল আস্থা ও সমর্থন দিয়েছে, তা পূরণে দল কঠোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদে নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এই সনদ স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে দল দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং দেশের উন্নয়নকে নতুন দিশায় পরিচালনার জন্য সংসদই হবে মূল মাধ্যম। প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও আইনি পরিবর্তন দিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ অনুমোদিত বা তার সদস্যদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই। এজন্য এমন কোনো কার্যক্রম অংশ নেয়া হয়নি বা অনুসরণ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সবাই সংবিধানের নিয়মনীতি মেনে চলছেন। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্র পরিচালনা পুরোপুরি সংবিধান অনুসারে চালানো হবে।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, নির্বাচনের বিজয়, শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা—all কিছুই আজকের সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং এভাবেই চলবে। এ ছাড়া, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে, এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    শপথের ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও নির্বাচনী ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পরে তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত সংসদই নেবে।

    তারেক রহমানের সংসদীয় নেতা নির্বাচনের পর তিনি জানান, বৈঠকে সবাই একমত হয়ে তাকে দলের নেতা নির্বাচিত করেছেন। একই সঙ্গে, তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যারা শপথ নিয়েছেন—সবার স্বাক্ষর রয়েছে এই সিদ্ধান্তে।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নিয়মের ভিত্তিতে, সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা পেতে অপসংস্কৃতি দমন করতে হবে। বিশেষ সুবিধা লাভ বা সরকারি প্লট গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে অবিলম্বে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে বদলাচ্ছে প্রথাগত ধারণা—সংসদ সদস্যরা যেন শুধু সুবিধাবঞ্চিত নয়, দেশের উন্নতিতে সত্যিকারভাবে অংশ নেয়।

  • সরকারের প্রধান দায়িত্ব ভূমিকা পালন করে আসামিদের ফেরত আনা ও বিচার সম্পন্ন করা

    সরকারের প্রধান দায়িত্ব ভূমিকা পালন করে আসামিদের ফেরত আনা ও বিচার সম্পন্ন করা

    জুলাই মাসে সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা সরকারের একান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সম্মেলন কক্ষে এ ব্যাপারে এক প্রেস ব্রিফingtে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিদেশ থেকে আনতে হবে এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এটাই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনওভাবেই যেন বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতি ও বাধাগ্রস্ত হয়।’

    তিনি বলেন, ‘জুলাই-অগাস্টে সংঘটিত গণহত্যার মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে পারেনি সরকার। এটি আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা শুধুমাত্র বিএনপি সরকারের ওপর আরোপ করা যায় না, বরং বর্তমান সরকারেরও দায়।’’

    এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে বিএনপি শপথ নিচ্ছে না, তার মানে তারা প্রমাণ করছে যে, যারা সংস্কারে সমর্থ হবে, তাদের সঙ্গে তারা পক্ষপাতিত্ব করবে। তারা শুরু থেকেই সংস্কারের বিরুদ্ধে ছিল। জনদাবিতে পড়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য প্রচার করেছে।’

  • সরকারি দল গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ

    সরকারি দল গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে, গণভোটে যারা হ্যাঁ’র পক্ষে গণরায় দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের দিন এবং মন্ত্রিসভার শপথের সময় থেকেই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা শুরু হয়েছে। সেই সময় তারা গণভোটে অংশ নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে হ্যাঁ’র ভোট দেওয়া সব মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সচেতনভাবে নির্বাচিত ত্রয়োদশ সংসদ এবং গণভোট ছিল দেশের জন্য এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি ছিল দেশের গণতন্ত্রের পুনর্বিবেচনা ও সংস্কারের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সড়ক থেকে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, নানা বিষয়বার কারণে সেটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যদিও ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠ ছিল, কিন্তু ফলাফলে কারচুপি পরিলক্ষিত হয়েছে। তারপরও দেশের স্বার্থে এবং স্থিতিশীলতার জন্য এই ফল মেনে নেওয়া হয়। এরপর তারা শপথ গ্রহণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু সেখানেও প্রতারণার আশংকা দেখা দেয়। তিনি বলেন, যেদিন শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হয়, ঠিক সেই দিনই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, যারা সংস্কার চাইছিল, গণভোটে ভোট দিয়ে যাদের প্রত্যাশা ছিল, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারের দল শপথ নেয়নি, যা খুবই দুঃখজনক।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল যে, সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা একই দিনে শপথ নেবেন এবং এক সঙ্গে কাজ করবেন। তবে কিছু ভুল ব্যাখ্যার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি অমান্য করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতারণা এবং গণরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তারা শপথ নেবেন এবং এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবেন। তিনি আরও বলেন, এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া বর্তমান জাতীয় সংসদ কোনো মূল্য রাখে না, তাই তাদের শপথ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

  • জামায়াতের আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ ও প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

    জামায়াতের আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ ও প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

    সরকারের বিরোধী দলকে পরিকল্পিতভাবে অ obedience করছি বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘সরকার যদি বিরোধীদলের পরামর্শ না মানে, তাহলে আন্দোলন ও প্রতিবাদ আরও কঠোরভাবে গড়ে তোলা হবে। কেউ যদি শুধু দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিকarputে জুলুমের শিকার হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হবো। আমরা চাই, সকলের অধিকার রক্ষা ও বিচার প্রতিষ্ঠা হোক।’’

    তিনি আরও জানান, সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে দেশের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হবে। জননেতাদের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব—এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এতিম শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা চাই এতিমদের মন থেকে মনিমুক্তা বের করে আনি। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’ তিনি এও বলেন, ‘‘অ Allah সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কাজ আমরা করব, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।’’

    একে অপরাধ হিসেবে দেখছেন, সম্প্রতি টেলিভিশনের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় প্রশ্নে সাংবাদিকদের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘এটি হল সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর নির্লজ্জ আঘাত। আমরা সরকারের কাছে প্রত্যাশা করব— তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে। অন্যথায় মনে করব, সরকার একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

    সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম ও কোরআনপ্রিয়। তারা কোরআনের চেতনায় বিশ্বাস করে ও জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে মানে।’’ এটাও উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে সবাই একযোগে কাজ করলে স্বস্তি আসবে।

    উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং থানা নেতৃবৃন্দ।

  • নোয়াখালীতে তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে দুই নিহত

    নোয়াখালীতে তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে দুই নিহত

    নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় অবিবার্তন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে পড়লে দুইজন নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায়, তবে এখনও আহত ও নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এর আগে সকালে, সাড়ে ১০টায়, ট্রাকটি ট্রান্সমিটার এলাকায় গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে কবিরহাট যাওয়ার পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে বলে ওসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

    একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

    ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তিনি জানান, এই দিনটি উদযাপনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের সমন্বিত এবং বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকালে শহীদ মিনার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, মহান শহীদ দিবসে ভাষা সৈনিকদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ শহীদ মিনারে উপস্থিত থাকবেন। এর জন্য ঢাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মোতায়েন থাকবেন। তিনি সবাইকে শৃঙ্খলা রক্ষা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

    ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, সফলতার সাথে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভোটাররা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোট দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অমর একুশে উদযাপনেও কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকছে না। এ জন্য শহীদ মিনারে নিয়মিত পুলিশ ও বিভিন্ন বিশেষ দল – সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, ক্রাইম সিন ইউনিট – সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারী এবং সাইবার মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুরো ঢাকা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করছি এবং চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শহীদ মিনারে প্রবেশের জন্য সাধারণ জনগণকে পলাশী মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং ও শহীদ মিনার রুট অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ বা প্রস্থান করা যাবে না। নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার থেকে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্তর বা চানখার পুল হয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেউ যদি ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য শহীদ মিনারে নিয়ে আসার চেষ্টা করে, তবে সেটি করতে দেওয়া হবে না। সবাই নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করে শহীদ মিনারে প্রবেশ ও প্রস্থান করবেন। আপনারা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যদের জন্য সুযোগ করে দিন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।

    নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে আজ শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে ডাইভারশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে আমাদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • তিন বিভাগে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে

    তিন বিভাগে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে

    চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা দুই দিনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, বিশেষ করে খুলনা বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। একইসঙ্গে বরিশাল বিভাগের প্রায় সব জেলা ও চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।

    অপর দিকে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে দেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা আগামী কয়েকদিন কিছুটা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আজ ২০ ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাব্য এই বৃষ্টিপাতের পর তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে এবং শুষ্ক আবহাওয়ার পরে স্বস্তি ফিরে আসতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

  • গাইবান্ধায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ২

    গাইবান্ধায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ২

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দ মোজাহিদপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ছিনতাইকারীর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তিন সদস্যের একটি ছিনতাইকারী দল ইদিলপুর ইউনিয়নের মাদারহাট ব্রিজের কাছে ছিনতাই করার চেষ্টা করে। তবে ওই এলাকায় অবস্থানকারী স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। ছিনতাইকারীরা দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু খোদ্দ মোজাহিদপুরে এসে ড্রাইভিং হারিয়ে মোটরসাইকেলটি পুকুরে পড়ে যায়। সেহরির সময় খবর ছড়িয়ে পড়লে, স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বলেন। গল্পের দুই সদস্য পুকুরে পড়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। অন্য একজন সদস্য অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলিম উদ্দিন জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে তাদের পরিচয় জানার জন্য বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

  • জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী Миржа ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি অব্যাহত, সমৃদ্ধ দেশ গড়া, যেখানে জনগণের ট্যাক্সের অর্থের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ চলছে। তিনি বলেছিলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের আস্থা অর্জন ও তাদের প্রতি জবাবদিহি করা, কারণ আমরা সবাই মিলেই দেশের ভবিষ্যত নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভায় তিনি এই কথা বলেন, যেখানে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর একটি উপস্থাপনাও দেওয়া হয় মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর নেতৃত্বে।

    মন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি সফল রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরগুলো অত্যন্ত অপরিহার্য। ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে সবাই যদি দলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে উন্নয়ন, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ নয়, বরং জনগণের বিশ্বাসও পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    মন্ত্রী আরো যোগ করেন, গ্রামে বসবাসরত মানুষগুলো কষ্টে রয়েছেন — এটি শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য সমাজ, সরকার ও আগ্রহী নাগরিকদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ধাপে ধাপে গ্রামীণ জনগণের সংকট কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

    এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত। সবার সহযোগিতায় উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে অটুট রেখে, জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা হলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে একটি অবিচ্ছিন্ন সামাজিক চুক্তি। তাই, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য এই মন্ত্রণালয়কে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সার্বিকভাবে, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিলে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন দ্রুত হবে। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগ অন্যতম চালিকা শক্তি হবে বলে তিনি বিশ্লেষণ করেন।