Author: bangladiganta

  • বিলিয়ন বিক্রিত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ক্রিস রিয়া আর নেই

    বিলিয়ন বিক্রিত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ক্রিস রিয়া আর নেই

    ব্রিটিশ মহান সংগীতশিল্পী ও গীতিকার ক্রিস রিয়া সোমবার (২২ ডিসেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

    ক্রিস রিয়া ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের মিডলসবরোতে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি ব্লুজ, পপ ও সফট রক সঙ্গীতের একজন প্রবাদপ্রতিম জাদুকর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ক্যারিয়ারে তিনি দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন এবং ২৫টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে তার অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে ৩০ মিলিয়নেরও বেশি কপি। তার কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্যা রোড টু হেল’, ‘অন দ্য বিচ’, ‘জোসেফিন’ এবং ‘লেটস ড্যান্স’।

    বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে বড়দিনের সময় তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়, যেখানে তার ক্রিসমাস গানের জন্য তিনি বেশ পরিচিত। ১৯৮৬ সালে লেখা ‘ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস’ গানটি আজ বড়দিনের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগীত হিসেবে পরিচিত। তার এর সময় তিনি এত বেশি অসুবিধার মধ্যেও গান লিখেছেন—তার হাতে কোনো রেকর্ড চুক্তি ছিল না, এমনকি ট্রেনের টিকিটের টাকা না থাকায় স্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে লন্ডন থেকে মিডলসবরো ফিরছিলেন।

    তার জীবন বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়েছে। ২০০১ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুর পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৬ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও তিনি গানের প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমেনি। জীবনের শেষ দিকে তিনি পপ সংগীতের বদলে ‘ডেল্টা ব্লুজ’ ক্যাটাগরিতে মনোযোগ দেন।

    তার মৃত্যুতে বিশ্বসংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর তিনি সুরের মাধ্যমে কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর থাকবেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী জোয়ান এবং দুই মেয়ে জোসেফিন ও জুলিয়াকে।

  • সালমান খান মাত্র ৬০ বছর বয়সে পা দিলেন

    সালমান খান মাত্র ৬০ বছর বয়সে পা দিলেন

    বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় তারকা সালমান খান আজ (২৭ ডিসেম্বর) তাঁর ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। এ বিশেষ দিনে তিনি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রীতি অনুসারে, এই জন্মদিন তিনি পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের নির্বাচিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে সাবেক ব্যক্তিগত পরিসরে পানভেলের একটি ফার্মহাউসে উদযাপন করে আসছেন।

    জাঁকজমকপূর্ণ বড় আয়োজনের পরিবর্তে, সালমানের এই জন্মদিনের উদযাপন অনেকটাই সরাসরি ও আন্তরিক। অতিথিদের তালিকা সচেতনভাবেই সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে মূলত ঘরোয়া পরিবেশে মানসিক ভাবেও কাছাকাছি থাকা যায়। এতে উপস্থিত আছেন তার পরিবারের सदस्य, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মী পরিচালকরা। সূত্রের খবর, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র আড্ডা, স্মৃতিচারণা এবং আন্তরিক সময় কাটানো, বড় ধরনের কোনো আয়োজন নয়।

    এছাড়াও, এই দিনটির অন্যতম আকর্ষণ হলো একটি বিশেষ নির্মিত ট্রিবিউট ভিডিও, যেখানে সালমান খানের তিন দশকের ক্যারিয়ারে তার সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন পরিচালক ও সহকর্মীরা ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন। তারা তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা, স্মরণীয় ঘটনার গল্প এবং সালমানের অভিনয়জীবনের বিবর্তন ও তার ভারতীয় সিনেমায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    ভারতীয় সিনেমার হিরো হয়েও, সালমানকে ভক্তরা ‘ভাইজান’ বলে ডাকে। এটি শুধুমাত্র একটি ডাকনাম নয়, বরং তার সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। তিনি যেন এক পরিবারের বড় ভাইয়ের মতো, যার মাধ্যমে অসংখ্য তরুণ ও নবাগত অভিনেতা বলিউডে প্রতিযোগিতামূলক যাত্রা শুরু করতে পেরেছেন। তার এই ভাইজান হওয়ার পেছনে প্রেম, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতা কাজ করে, যা তাকে শুধু নায়কই নয়, এক প্রজন্মের জন্য একজন দায়িত্বশীল অভিভাবকও করে তুলেছে।

    এই বছরের জন্যই এটি আরও গুরুত্বপুর্ণ কারণ সালমান খান হলেন বলিউডের ‘খান’ ত্রয়ীর মধ্যে শেষ ব্যক্তিটি, যিনি ৬০ বছরে পা রাখলেন। এর আগে এই বছরই ৬০ বছর পূর্ণ করেছেন আমির খান ও শাহরুখ খান। এই মুহূর্তটি প্রতীকীভাবেই বলিউডের এক যুগের অবসান সূচক, যেখানে তিন দশকেরও বেশি সময় সিনেমার ইতিহাসে আধিপত্য বিস্তার করে কেন্দ্রীয় অবস্থান ধরে রেখেছিল। একই সঙ্গে এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বয়স বাড়লেও সালমানের প্রাসঙ্গিকতা ও আবেদন অটুট রয়েছে। আর এই দিনটি যেমন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এক বিশেষ উপলক্ষ, তেমনি বলিউডের ইতিহাসেও এক মহৌদ্ধব মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।

  • ফরিদপুরে কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, জেমসের প্রতিক্রিয়া

    ফরিদপুরে কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, জেমসের প্রতিক্রিয়া

    ফরিদপুরের জিলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি ও পুনর্মিলনী উৎসবের শেষ দিনটি আনন্দের পরিবর্তে বিষাদে রূপ নিয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্কুলের গর্বের এই উৎসবে অংশ নিতে আসা হাজারো প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা জেমসের গানের মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও, ঠিক তখনই বিশৃঙ্খলার জন্ম হয়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য মূলত আয়োজকদের অপব্যবস্থা ও ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমস।

    সংবাদমাধ্যমে রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন, who is the spokesperson for the event and জেমস, জানান, তারা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফরিদপুরে পৌঁছেন এবং গেস্ট হাউসে অবস্থানকালে বিশৃঙ্খলার খবর পান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আয়োজকেরা অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। তখনই তারা ঢাকায় ফিরে আসেন।

    অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী জেমস নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণই আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা।’ এদিকে, একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, জেমস গম্ভীরভাবে অনুষ্ঠান স্থান থেকে বেরিয়ে তড়িঘড়ি গাড়িতে উঠছেন। তার সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের তিনি নিরাপত্তার বিষয়ে খেয়াল রাখছিলেন।

    অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানটি মূলত নিবন্ধিত দর্শকদের জন্য ছিল। তবে, জেমসের আগমনের খবর শুনে কয়েক হাজার অনিবন্ধিত দর্শক ভিড় জমান। তারা যাতে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেই জন্য চেষ্টা চালালে তারা গেটের সামনে ও রাস্তায় অবস্থান নেন। বাধা দিতে গেলে, দেয়ালে চেপে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন অনেকে। একপর্যায়ে স্কুলের প্রাঙ্গণ ও মঞ্চ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে; যার ফলে আয়োজক কমিটির অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন এবং ১০-১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনায় পুরো অনুষ্ঠানমণ্ডল বিশৃঙ্খলার কবলে পড়ে এবং একটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • ঢাকার জয়ে রাজশাহীর বিপিএল শুরু বাজেভাবে

    ঢাকার জয়ে রাজশাহীর বিপিএল শুরু বাজেভাবে

    ইমাদ ওয়াসিমের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি ঢাকা ক্যাপিটালসের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিতে থাকেন। একই সঙ্গে, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সালমান মির্জারা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পেল দেন। previous ম্যাচের নায়কদের—নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম—শুরুর দিকে ভালো খেললেও তারা বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। শেষের দিকের বিধ্বংসী ব্যাটে রাজশাহী ১৩২ রানের মোট পুঁজি সংগ্রহ করে। তবে এই লক্ষ্য তাড়ার জন্য ঢাকার জন্য সহজ ছিল না, কারণ রাজশাহীর বোলাররা তাই সহজে জেতার সুযোগ দেয়নি। আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাসির হোসেন, শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কল্যাণে জয় নিশ্চিত করে ঢাকা। রাজশাহিকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ঢাকা বিপিএলের এই আসরটি নিজেদের নামে করেন।

    খেলাটি শুরুতেই দুঃসংবাদ নিয়ে আসে ঢাকার জন্য, কারণ ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম তে সাইফ হাসানকে হারায় দলটি। এরপর উসমান খান ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের দলের জন্য দুর্দান্ত জুটিতে ঝোঁকান পরিস্থিতি। উসমান ১৫ বলে ১৮ রান করে ফিরে যান, আর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ১২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মামুনের হাফ সেঞ্চুরি করার সম্ভাবনা উড়িয়ে যায়, তিনি ৪৫ রান করে আউট হন।

    অভিজ্ঞ নাসির হোসেন ধীর গতির হলেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যান, ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। শেষদিকে, শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমান অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সাব্বির ২ ছক্কায় ১০ বলের মধ্যে ২১ রান করেন, অপর দিকে, শামীমের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। তাদের জুটির মাধ্যমে ১৮ বলে ৩৬ রান যোগ হয়। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন পাকিস্তানি স্পিনার মোহাম্মদ নাওয়াজ, যিনি ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া তানজিম সাকিব ও সন্দীপ লামিচানে একে একে উইকেট নেয়।

    এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী শুরুতেই ধাক্কা খায়, কারণ প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহানকে হারায়। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। অফ স্পিনার নাসিরের ব্রেকথ্রু পাওয়ার পর তানজিদ আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন, তবে ১৫ বলে ২০ রান করে বাঁহাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ইয়াসির আলী রাব্বী ভালো শুরু করলেও, প্রয়োজনের সময় ১৫ বলে ১৩ রান করে শামীমের হাতে ক্যাচ দেন।

    রাজশাহীর অধিনায়ক তামিম প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৩৭ রান করেন। মেহেরবের ব্যাটিংও ভালো থাকেনি, ২৩ বলে ২৪ রান করে জিয়াউর রহমানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ তুলে দেন। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মুশফিকুর রহিম শেষ পর্যন্ত ২৩ বলের মধ্যে ২৪ রান করতে পারেননি। শেষদিকে, নাওয়াজের ২৬ বলে ২৬ রানের ইনিংসেও রাজশাহী ১৩২ রান সংগ্রহ করে। ঢাকার জন্য তিনটি উইকেট নিয়েছেন স্পিনার ইমাদ, আর নাসির পেয়েছেন দুইটি উইকেট।

  • অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪৬৮ দিন পর ইংল্যান্ডের জয়ের স্বাদ

    অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪৬৮ দিন পর ইংল্যান্ডের জয়ের স্বাদ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শেষবার টেস্ট জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর তারা টানা ১৮টি ম্যাচে কোনো জয় পায়নি। তবে অবশেষে সেই দুঃখজনক জয়হীনতা শেষ হয়েছে। মেলবোর্নে চলমান অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টে বেন স্টোকসের দল হার মানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। যদিও এই ম্যাচের বেশিরভাগ খেলাই হয়নি, দিনশেষে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে নির্ধারিত ফল এসেছে। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জিতেছে।

    মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দলের মধ্যে এই টেস্টের চার ইনিংস মোট ৮৫২ বল খেলা হয়েছে। এর আগে পার্থে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়েছিল। সেখানে দুই দল মিলিয়ে খেলেছিল ৮৪৭ বল, অর্থাৎ চতুর্থ টেস্টের চেয়ে ৫ বল বেশি। এই জয় দিয়ে টানা ম্যাচ হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ইংল্যান্ড, পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হোয়াইটওয়াশের অপপ্রকাশ থেকে রেহাই পেয়েছে। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৫-০, ২০১৭-১৮ সালে ৪-০ এবং ২০২১-২২ সালে ৪-০ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

    প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দুই দলেরই প্রথম ইনিংস শেষ হয়। প্রথমে অস্ট্রেলিয়া ৪৫.২ ওভার ব্যাট করে ১৫২ রান সংগ্রহ করে। এরপর ইংল্যান্ড ১১০ রানে অলআউট হয়, ঠিক ২৯.৫ ওভার খেলেই প্রথম ইনিংস শেষ হয়। ফলে সে দিন শেষ বিকালে আহত দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে স্বাগতিকরা। দিনশেষে তাদের লিড ছিল ৪৬। আজ তারা ৮৬ রান করতে গিয়ে ১০ উইকেট হারায়। স্বাগতিক দলের সর্বোচ্চ রান করেন ট্রাভিস হেড, তাঁর ৪৬ রান, যা তিনি ৬৭ বলের ইনিংসে ৪টি চারে সাজিয়েছেন।

    অস্ট্রেলিয়ার এ জয়ে স্বদেশি কিংবদন্তি গ্যারি সোবারের রেকর্ড অ্যালান বোর্ডারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে স্টিভ স্মিথ শেষ পর্যন্ত ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর বর্তমান রান ৩৫৫৩, যা বোর্ডারকে ৫ রান পিছিয়ে। ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে দেখা যায় ১৯ রান। মোটে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন। ১৩২ রানে আলোর মূল অজির ইনিংস শেষ হয়, ৩৪.৩ ওভারে।

    বাংলাদেশের পেসার গাস অ্যাটকিনসন চোটের কারণে দুঃখজনকভাবে ৫ ওভারের বেশির ভাগ কাজ করতে পারেননি, তবে তিনি ১ উইকেট নিয়েছেন। অন্য পেসাররা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হলেও সফল হন। ব্রাইডন কার্স চার উইকেট শিকার করেন, স্টোকস ৩, আর জশ টাং ২ উইকেট নেন।

    ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ইংলিশরা শুরু করে বেশ আগ্রাসীভাবে। প্রথমে জ্যাক ক্রাউলি (২৬ বলে ৩৪) ও বেন ডাকেটের (২৬ বলে ৩৪) উদ্বোধনী জুটি গড়ে ৫১ রান। এরপর ওয়ানডাউনে টেলএন্ডার ব্রাইডন কার্সকে খেলতে দেখা যায়। তিনি ৬ রান করে আউট হলে, জুটি ভেঙে যায়। পরে জ্যাকব বেথেল আর হ্যারি ব্রুকের ছোট but গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে গন্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

    অবশেষে, লক্ষ্য অনেক দূরে মনে হলেও রুট, বেথেল ও স্টোকস দ্রুত অতিবেগে আউট হয়ে কাঁটা বাড়িয়ে দেয়। ব্রুক অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে। ব্রুক টেস্টে দ্রুততম ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন, তার জন্য তিনি ৩৪৬৮ বল খেয়েছেন। এর আগে, বেন ডাকেট ৩৪৭৪ বলের মাধ্যমে এই রেকর্ড করেন।

    মেলবোর্ন টেস্টের মাধ্যমে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার হারের ধস শেষ হয়। এই পরিস্থিতিতে, এই টেস্টে ইংল্যান্ডের পক্ষে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স করেন মিচেল স্টার্ক, জাই রিচার্ডসন এবং স্কট বোল্যান্ড, দু’জন করে উইকেট সংগ্রহ করে।

    এുവരെ বক্সিং ডে টেস্টে ভারতের পর ২০১৮ ও ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়া মাত্র তিনবার হেরেছে। এই সিরিজে, ইংল্যান্ডের রান তুলনা ৫.৫ গড়ে হয়েছে, যা অ্যাশেজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পার্থে, ইংলিশরা লক্ষ্য তাড়া করে ৭.২৩ রানের গড়ে ব্যাট করে জিতেছিল। এই টেস্টে দুই দল মোটই ৫৭২ রান করেছে, যা কোনো ব্যাটারের হাফসেঞ্চুরি ছাড়াই টেস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ মোট স্কোর। এর আগে, ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ৭৮৭ রান এবং ২০১৫ সালে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৫২ রান করেছে, যেখানে কেউ হাফসেঞ্চুরি করেননি।

  • ২১ শতকের সেরা ক্রীড়াবিদ মেসি, শীর্ষে আছেন যারা

    ২১ শতকের সেরা ক্রীড়াবিদ মেসি, শীর্ষে আছেন যারা

    নিজের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে লিওনেল মেসি জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা ও পুরস্কার। ২০২৫ সালের কাছাকাছি এসে তার মুকুটে যোগ হলো আরও এক গৌরবময় অর্জন। ফরাসি ভাষার কানাডীয় সংবাদমাধ্যম লে জার্নাল কুইবেক ঘোষণা করেছে, ২১ শতকের প্রথম ২৫ বছর মধ্যে সবচেয়ে সফল ক্রীড়াবিদ তিনি।মেসির এই স্থান অধিকারটি শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি বিভিন্ন ধরনের খেলার সাথে যুক্ত কিংবদন্তিদের মধ্যেও শীর্ষে উঠেছেন। ফুটবল থেকে শুরু করে অলিম্পিক, টেনিস, বাস্কেটবল ও অ্যাথলেটিক্স—সব ক্ষেত্রেই বিশ্বের প্রভাবশালী তারকারা এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আর শীর্ষে রয়েছেন অস্কারে অপেক্ষাকৃত স্তম্ভিত অর্জেন্টাইন মহাতারা মেসি।কলাবৃদ্ধির ফুটবল থেকে শুরু করে জাতীয় দলের জয়-জয়কার, সব ক্ষেত্রে তার সফলতা চোখে পড়ে। বার্সেলোনা দিয়ে শুরু করে পিএসজি, ইন্টার মিয়ামি ও আর্জেন্টিনা দলের হয়ে তিনি জিতেছেন অসংখ্য ট্রফি। দীর্ঘ অর্ধেকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি জিতেছেন তার কাক্সিক্ষত বিশ্বকাপ।ব্যক্তিগত অর্জনের ক্ষেত্রেও তার তুলনা মেলা ভার। তিনি ৮ বার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য স্থান লাভ করেছেন। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড রাখেন। বিভিন্ন লিগ, কাপ ও আন্তর্জাতিক শিরোপার সংকলন তার ঝুলিতে।এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন আমেরিকার ফুটবল মহাতারা টম ব্র্যাডি। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস ও ট্যাম্পা বে বুকানিয়ার্সের হয়ে তিনি জিতেছেন রেকর্ড ৭টি সুপার বোল ট্রফি, যা আগে কোনো ফুটবলার বা কোয়ার্টারব্যাক করতে পারেননি।তৃতীয় পজিশনে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপস। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অলিম্পিকে তিনি জয় করেছেন ২৮টি পদক, যার মধ্যে ২৩টি সোনা। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে তিনি এক আসরে ৮টি স্বর্ণপদক জিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেন।চতুর্থ স্থানে স্থান পেয়েছেন টেনিসের রাণী সেরেনা উইলিয়ামস। এরপর রয়েছেন সংগীতের কিংবদন্তি উসাইন বোল্ট, বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস, টেনিসের নোভাক জোকোভিচ, জিমন্যাস্টিকসের সিমোন বাইলস, বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্ট এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।পৃথিবীর বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনের এই তালিকাটি শুধুমাত্র ট্রফি বা পরিসংখ্যানের গল্প নয়, বরং এটি এক শতাব্দীতে কে নিজ খেলার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন তার স্বীকৃতি। এই দিক থেকে দেখা গেলে, লিওনেল মেসি শুধু ফুটবলেরই নয়, পুরো ক্রীড়াজগতের এক অনন্য প্রতিকৃতি ও আইকন।

  • নৌ-দুর্ঘটনায় তিন সন্তানসহ স্প্যানিশ কোচের মৃত্যু

    নৌ-দুর্ঘটনায় তিন সন্তানসহ স্প্যানিশ কোচের মৃত্যু

    স্পেনে ফুটবল জগতের জন্য শোকের এক অন্ধকার পর্ব শুরু হয়েছে। এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, ইন্দোনেশিয়ায় অবকাশযাত্রার সময় একটি নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল কোচ ফার্নান্দো মার্তিন ও তার তিন সন্তান।

    ফার্নান্দো মার্তিন ভ্যালেন্সিয়া সিএফ তরুণ দলের কোচ ছিলেন। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন জায়গা লাবুয়ান বাজো দ্বীপের আশেপাশে। একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভ্যালেন্সিয়া ক্লাব নিশ্চিত করেছে, এই মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনায় কোচ ও তার তিন সন্তান দুর্ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ইন্দোনেশিয়ার জেলায় ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডিতে মরতে হয়েছে আমাদের কোচ ফার্নান্দো মার্তিন এবং তার তিন সন্তানের। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।”

    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুক্রবার একটি নৌকা প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে দ্বীপের পাদার আইসল্যান্ড প্রণালীতে ১১ জন আরোহীসহ ডুবে যায়। শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধারকাজ চালানো হলেও, মার্তিন ও তার তিন সন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    চলতি বছরই ভ্যালেন্সিয়ার নারী দলের সাবেক কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মার্তিন। তার মৃত্যুতে ফুটবল প্রেমীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এই দুর্ঘটনার ফলে, মার্তিনের স্ত্রী ও তাদের এক কন্যা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, চারজন ক্রু সদস্য এবং একজন ট্যুর গাইড প্রাণে বেঁচে গেছেন।

    রিয়াল মাদ্রিদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই দু:জন ঘটনায় পুরো ফুটবল জগৎ গভীর শোকাহত।

  • উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    আইপিএলের ২০২৬ আসর শুরু হতে এখনও প্রায় তিন মাস বাকি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে ধর্মীয় নেতাদের একাংশ মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএলে খেলার বিরোধিতা করে হুমকি দিয়েছেন। বাংলাদেশি তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়ার পর, উজ্জয়িনীর কিছু ধর্মীয় নেতা এ বিরোধিতা শুরু করেন। মুখ্য পুরোহিত মহাবীর নাথ প্রকাশ্যে বলেছেন, হিন্দুদের ওপর বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হওয়া নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নীরব থাকায় তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন। তিনি আরো বলেন, এই বিষয়ে একাধিক ধর্মীয় সংগঠন তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বয়কটের আহ্বানও জানানো হয়েছে। এছাড়া, এই পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা কতদিন চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিষয়টি ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ দেখবে, এবং আইপিএলের সূচি ও দেশের ব্যস্ততা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মার্চ ও এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক সিরিজ রয়েছে, যেখানে মোস্তাফিজকে কয়েকদিনের জন্য দেশে ফিরতে হবে। সম্প্রতি তিনি দুবাইয়ে আইএলটি-টোয়েন্টি খেলে ফিরে এসেছেন, আর কাল তিনি রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএল ম্যাচে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, মোস্তাফিজের জন্য আইপিএলে খেলার ভবিষ্যত অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতি মানবে না সোমালিয়া

    সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতি মানবে না সোমালিয়া

    শুক্রবার ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলকে কখনোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। খবর এএনএনডোনো সূত্রে জানা গেছে, এই স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকার একে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, এই স্বীকৃতি সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, সংহতি এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য গুরুতর আঘাত। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় উল্লেখ করেছে, তাদের সংবিধান, জাতিসংঘের চুক্তি এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের আদর্শ অনুযায়ী সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতি অপ্রত্যাহারযোগ্য ও অ-আলোচনীয়। তারা আরও বলেছে, এই বেআইনি স্বীকৃতি তাদের দেশের উত্তরাঞ্চলের স্বাধিকার ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হেনেছে। জানানো হয়েছে, সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, আজ (শুক্রবার) সোমালিল্যান্ডকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল ইসরায়েলের দ্বারা প্রথমবারের মতো কোনো স্বাধীন প্রজাতিকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই সিদ্ধান্তটি সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি এটিকে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে তিনি বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা ইসরায়েলে স্বীকৃতি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের জন্য আন্তরিকতা নিয়ে স্বাগত জানাই এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। গত বছর নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহির অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এই লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জানান, দুই দেশ সম্পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে একমত হয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস প্রতিষ্ঠা অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেছেন, সম্পর্কের নানা দিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহিকে ইসরায়েল সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি অবস্থান বিবেচনায়, সোমালিয়ার সরকার ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে পক্ষপাতি রইেছে, বলেছে, তারা দখল, কঠোর নাগরিক স্থানচ্যুতি এবং অবৈধ বসতি নির্মাণের নিন্দা করে। তারা বিশ্বাস করে, এই স্বীকৃতি কখনোই ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারকে খর্ব করবে না। পাশাপাশি, তারা সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ঘনিভূত সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক তীব্রতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক অশান্তি প্রসারে সক্ষম।

  • প্রশংসায় ভাসছেন কাবার নিরাপত্তারক্ষী রায়ান

    প্রশংসায় ভাসছেন কাবার নিরাপত্তারক্ষী রায়ান

    সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় কাবা শরীফের সংলগ্ন মসজিদে এক যুবক আত্মহত্যার চেষ্টাকালে তাকে রক্ষা করে প্রশংসিত হয়েছেন নিরাপত্তা কর্মী রায়ান বিন সাঈদ বিন ইয়াহিয়া আল-আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) মসজিদের ভেতরে এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তখন দায়িত্বে থাকা রায়ান মুহূর্তের মধ্যে যুবকটিকে লাফিয়ে নামতে দেখে তাকে ধরতে ছুটে যান। ওই সময়ই তিনি নিজেও আহত হন। পরে সেই যুবককে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রশংসা পেয়েছেন রায়ান, যা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সউদ বিন নাঈফ শুক্রবার হাসপাতালে এসে তাকে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, যুবকটি লাফ দেওয়ার সময় রায়ান দ্রুত তাকে ধরে ফেলেছেন। যদি তিনি তা না করতেন, হয়তো ওই ব্যক্তি নিহত হতে পারতেন। আপাতত তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে এই ঘটনা দেশের সব স্তরে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনও বিশদ তথ্য প্রকাশ না করলেও, জানা গেছে যে, বেশিরভাগ সময় কাবা শয়তানের তৎপরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে নিরাপদ রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে এক সৌদি নাগরিক কাবায় নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী তা ঠেকিয়েছিল। তবে এর আগে ২০১৮ সালে তিনজন কাবা চত্বরে আত্মহত্যা করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে আবার একজন নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন। এই ঘটনার পরও, কাবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকছে, যাতে পবিত্র স্থানটি নিরাপদ থাকে।