ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি নিশ্চিতভাবে বছরের জুলাইয়ে প্রদত্ত অঙ্গীকারপত্র (জুলাই সনद) সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের বিপুল আস্থা ও সমর্থন দিয়েছে, তা পূরণে দল কঠোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদে নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এই সনদ স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে দল দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং দেশের উন্নয়নকে নতুন দিশায় পরিচালনার জন্য সংসদই হবে মূল মাধ্যম। প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও আইনি পরিবর্তন দিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ অনুমোদিত বা তার সদস্যদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই। এজন্য এমন কোনো কার্যক্রম অংশ নেয়া হয়নি বা অনুসরণ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সবাই সংবিধানের নিয়মনীতি মেনে চলছেন। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্র পরিচালনা পুরোপুরি সংবিধান অনুসারে চালানো হবে।
সালাহউদ্দিন আরও জানান, নির্বাচনের বিজয়, শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা—all কিছুই আজকের সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং এভাবেই চলবে। এ ছাড়া, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে, এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শপথের ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও নির্বাচনী ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পরে তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত সংসদই নেবে।
তারেক রহমানের সংসদীয় নেতা নির্বাচনের পর তিনি জানান, বৈঠকে সবাই একমত হয়ে তাকে দলের নেতা নির্বাচিত করেছেন। একই সঙ্গে, তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যারা শপথ নিয়েছেন—সবার স্বাক্ষর রয়েছে এই সিদ্ধান্তে।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নিয়মের ভিত্তিতে, সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা পেতে অপসংস্কৃতি দমন করতে হবে। বিশেষ সুবিধা লাভ বা সরকারি প্লট গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে অবিলম্বে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে বদলাচ্ছে প্রথাগত ধারণা—সংসদ সদস্যরা যেন শুধু সুবিধাবঞ্চিত নয়, দেশের উন্নতিতে সত্যিকারভাবে অংশ নেয়।
